আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

দৈনন্দিন

করোনা ভাইরাস: রহস্যময় টি-সেলই কি কোভিডের বিরুদ্ধে আসল সুরক্ষা?

বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের রক্তে যে টি-সেল আছে তা দীর্ঘ কাল ধরে করোনাভাইরাস ঠেকাতে পারে
বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের রক্তে যে টি-সেল আছে তা দীর্ঘ কাল ধরে করোনাভাইরাস ঠেকাতে পারে

সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা যায় যে কোভিড-১৯ আক্রান্তদের দেহে যে এ্যান্টিবডি তৈরি হয় তা মাত্র তিন মাসের মধ্যে শরীর থেকে নেই হয়ে যেতে পারে।

অনেক বিজ্ঞানী বলেছিলেন করোনাভাইরাসে একবার সংক্রমিত হলে দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা খুব কম।

কিন্তু এর এ্যান্টিবডি যদি মাত্র তিন মাস স্থায়ী হয়, তাহলে তো একবার করোনাভাইরাস সংক্রমণের তিন মাস পরেই আপনি আবার আক্রান্ত হতে পারেন। করোনাভাইরাসকে চিরতরে দূর করার সম্ভাবনাও তাহলে এক বিরাট ধাক্কা খাচ্ছে।

কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন, তা নয়, তারা আশা রাখছেন মানুষের রক্তে যে ‘টি-সেল’ নামে রহস্যময় এক ধরনের শ্বেতকণিকা আছে – তার ওপর।

বলা হচ্ছে, টি-সেলও মানবদেহে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি করে এবং তা অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী হয়।

এমনকি, যার দেহে করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর কোন এ্যান্টিবডি তৈরি হয়নি – তার দেহেও টি-সেল করোনাভাইরাসকে চিনে রাখা এবং ধ্বংস করার ক্ষমতা অর্জন করে। একাধিক জরিপে এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ফ্রান্সিস ক্রিক ইনস্টিটিউটের একটি গবেষকদলের প্রধান এবং লন্ডনের কিংস কলেজের ইমিউনোরজির অধ্যাপক এ্যাড্রিয়ান হেডে বলছেন, ২০০২ সালে যে সার্স ভাইরাস (এটিও এক ধরণের করোনাভাইরাস) ছড়িয়েছিল – তাতে যারা আক্রান্ত হয়েছিলেন তাদের দেহে কয়েক বছর পরও গবেষকরা টি-সেলের অস্তিত্ব পেয়েছিলেন।

“তার মানে হলো এই লোকেরা সেরে ওঠার অনেক পরেও টি-সেল বহন করছিলেন – এবং এটা আমাদের চিন্তার সাথে মিলে যাচ্ছে।”

অনেকের দেহেই এ্যান্টিবডি নেই, কিন্তু টি-সেল আছে

বেশ কিছুকাল ধরেই এমন আভাস পাচ্ছিলেন বিজ্ঞানীরা।

তারা এমন বেশ কিছু কোভিড-১৯ রোগ পেয়েছেন – যারা কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছেন, তার পর সেরে উঠেছেন, কিন্তু বিস্ময়করভাবে তাদের দেহে কোন এ্যান্টিবডির অস্তিত্ব পাওয়া যায় নি।

টি সেল
টি সেল

এর পর এমন কিছু কোভিড-১৯ রোগীর সন্ধানও পাওয়া যেতে থাকে যাদের দেহের এ্যান্টিবডিগুলো কয়েক মাসের মধ্যেই অদৃশ্য হয়ে গেছে।

তখন বিজ্ঞানীদের ধারণা হয় যে করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করতে হলে তা হয়তো আসবে টি-সেলের মতো কিছু থেকে।

টি-সেল কী?

টি-সেল হচ্ছে মানুষের রক্তের মধ্যে থাকে এমন একটি রোগপ্রতিরোধী কোষ।

এর প্রধান কাজ হলো মানবদেহে কোন প্যাথোজেন (অর্থাৎ রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস) বা কোন সংক্রমিত কোষ ঢুকে পড়লে তাকে চিহ্নিত করা এবং মেরে ফেলা।

টি-সেলের ওপরের অংশে যে প্রোটিন থাকে তা দিয়ে সে অনুপ্রবেশকারীর গায়ের প্রোটিনের সাথে নিজেকে সেঁটে দেয় এবং তাকে ধ্বংস করে।

পুরোনো রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে করোনাভাইরাসের আবির্ভাবের আগে থেকেই তা প্রতিরোধী টি সেল ছিল
পুরোনো রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে করোনাভাইরাসের আবির্ভাবের আগে থেকেই তা প্রতিরোধী টি সেল ছিল

প্রতিটি টি সেলেরই বিশেষ ক্ষমতা আছে নির্দিষ্ট কিছু টার্গেটকে চিহ্নিত করার ।

এই টি-সেল মানবদেহে বছরের পর বছর ধরে সক্রিয় থাকে । ফলে এরা আগে আক্রমণ করেছিল এমন শত্রূদের “মনে রাখতে” পারে – তারা আবার অনুপ্রবেশ করেছে এমন টের পেলেই তাদের ওপর আক্রমণ চালায়।

টি-সেল ও কোভিড-১৯

একাধিক জরিপে দেখা গেছে – যারা কোভিড-১৯এ আক্রান্ত হয়েছেন তাদের অনেকের দেহে এই ভাইরাসকে আক্রমণ করেছে এমন টি-সেল পাওয়া যায়।

এমনকি যাদের দেহে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবার পর এ্যান্টিবডি পাওয়া যায়নি – তাদের রক্তেও টি-সেল পাওয়া গেছে।

তার মানে দাঁড়ায়, করোনাভাইরাস প্রতিরোধের ক্ষমতা আছে এমন লোকের সংখ্যা আসলে হয়তো আগে যা ভাবা হয়েছিল তার চেয়ে অনেক বেশি।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের টিকা রক্তে এ্যান্টিবডি ও টি সেল - দুটোই তৈরি করতে পারে
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের টিকা রক্তে এ্যান্টিবডি ও টি সেল – দুটোই তৈরি করতে পারে

সবচেয়ে অদ্ভূত ব্যাপার হলো – করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরুর অনেক বছর আগে নেয়া রক্তের নমুনাতেও এমন ধরণের টি-সেলের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে – যার কোভিড-১৯ ভাইরাসের প্রোটিন চিহ্নিত করার বিশেষ ক্ষমতা আছে।

তার মানে হলো, চীনে নতুন করোনাভাইরাসের আবির্ভাবের অনেক আগে থেকেই অনেক মানুষের দেহে এটিকে অন্তত: কিছুটা প্রতিরোধ করার ক্ষমতা ছিল।

এর অনুপাতও কম নয়: বিজ্ঞানীরা বলছেন, যারা এখনো করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হননি এমন মানুষদের ৪০ থেকে ৬০ শতাংশের দেহে এই টি-সেল পাওয়া গেছে।

তার মানে টি-সেল হয়তো কোভিড-১৯ সংক্রমণ প্রতিরোধক্ষমতার এক গোপন উৎস – যা এতদিন অজানা ছিল।

অধ্যাপক হেডে বলছেন, “আমরা কোভিড-১৯ রোগীদের দেখেছি, এবং যারা করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়েছেন কিন্তু হাসপাতালে যাবার দরকার হয়নি এমন লোকদেরও দেখেছি – এবং এটা একেবারেই স্পষ্ট হয়ে গেছে যে এক্ষেত্রে টি-সেল সক্রিয় হয়েছে।”

দেখা গেছে গুরুতর অসুস্থ কোভিড রোগীদের বেলায় টি-সেল কম কার্যকর
দেখা গেছে গুরুতর অসুস্থ কোভিড রোগীদের বেলায় টি-সেল কম কার্যকর

অতি সম্প্রতি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষকদের আবিষ্কৃত যে টিকাটি প্রাথমিকভাবে “নিরাপদ এবং কার্যকর” বলে ঘোষিত হয় – সেটি মানবদেহে এ্যান্টিবডি এবং টি-সেল দুটোই উৎপন্ন করতে পারে বলে দেখা গেছে।

তবে টি-সেলের প্রতিরক্ষাও সবক্ষেত্রে কাজ করে না

সমস্যাটা হলো করোনাভাইরাসে যারা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন – তাদের ক্ষেত্রে কিন্তু টি-সেলের প্রতিরোধ তেমন কাজ করেনি।

অধ্যাপক হেডে বলছেন, এইডস রোগীদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, এইচআইভি ভাইরাস মানবদেহের টি-সেলগুলোকে মেরে ফেলছে। তবে কোভিড-১৯ ভাইরাসের হাতে টি-সেল মারা পড়ছে – এমন কোন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায় নি।

কিন্তু গুরুতর অসুস্থ কোভিড-১৯ রোগীদের ক্ষেত্রে টি-সেল কিছু করতে পারছে না কেন?

অধ্যাপক হেডে বলছেন, এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা এর উত্তর জানেন না।

অনেকে বলছেন, বয়স্ক মানুষদের রক্তে টি-সেলের সংখ্যা কমে যায়, এবং সেটাই হয়তো কোভিড-১৯এ তাদের গুরুতর আক্রান্ত হওয়া বা মারা যাবার কারণ।

কোভিড-১৯এ মারা যাওয়া রোগীদের মৃতদেহ ব্যবচ্ছেদ করে দেখা গেছে যে তাদের প্লীহা (স্প্লিন) এবং লসিকা গ্রন্থি (লিম্ফ গ্ল্যান্ড) গুলোতে এক ধরণের পচন ধরেছে – যাকে বলে নেক্রোসিস।

এটা গুরুত্বপূর্ণ – কারণ মানবদেহের ঠিক এই অংশগুলোতেই টি-সেল বাস করে।

  • দেখা গেছে গুরুতর অসুস্থ কোভিড রোগীদের বেলায় টি-সেল কম কার্যকর

    দেখা গেছে গুরুতর অসুস্থ কোভিড রোগীদের বেলায় টি-সেল কম কার্যকর

  • অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের টিকা রক্তে এ্যান্টিবডি ও টি সেল - দুটোই তৈরি করতে পারে

    অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের টিকা রক্তে এ্যান্টিবডি ও টি সেল - দুটোই তৈরি করতে পারে

  • পুরোনো রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে করোনাভাইরাসের আবির্ভাবের আগে থেকেই তা প্রতিরোধী টি সেল ছিল

    পুরোনো রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে করোনাভাইরাসের আবির্ভাবের আগে থেকেই তা প্রতিরোধী টি সেল ছিল

  • টি সেল

    টি সেল

  • বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের রক্তে যে টি-সেল আছে তা দীর্ঘ কাল ধরে করোনাভাইরাস ঠেকাতে পারে

    বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের রক্তে যে টি-সেল আছে তা দীর্ঘ কাল ধরে করোনাভাইরাস ঠেকাতে পারে

  • দেখা গেছে গুরুতর অসুস্থ কোভিড রোগীদের বেলায় টি-সেল কম কার্যকর
  • অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের টিকা রক্তে এ্যান্টিবডি ও টি সেল - দুটোই তৈরি করতে পারে
  • পুরোনো রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে করোনাভাইরাসের আবির্ভাবের আগে থেকেই তা প্রতিরোধী টি সেল ছিল
  • টি সেল
  • বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের রক্তে যে টি-সেল আছে তা দীর্ঘ কাল ধরে করোনাভাইরাস ঠেকাতে পারে
সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

দৈনন্দিন

করোনায় ফুসফুস ভালো রাখার জাদুকরী পাঁচ সহজ উপায়!

করোনায় ফুসফুস ভালো রাখার জাদুকরী পাঁচ সহজ উপায়!
করোনায় ফুসফুস ভালো রাখার জাদুকরী পাঁচ সহজ উপায়!

দিন দিন বাড়ছে করনায় আক্রান্তের সংখ্যা। সেই সঙ্গে মৃত্যুর মিছিলে নাম লেখাচ্ছে লাখো মানুষ। নিশ্চয়ই জানেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে ফুসফুসে সংক্রমণ হয়। আর মানবদেহের রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থার অন্যতম অঙ্গ ফুসফুস।

ফুসফুসে সংক্রমণ মানেই শ্বাসকষ্ট, যার ফলে রোগীর মৃত্যুও ঘটে। তাই এই কঠিন সময়ে আমাদের অবশ্যই উচিত ফুসফুসকে সুস্থ রাখা। ফুসফুস সুস্থ রাখার বিষয়ে খাবারের রয়েছে বিশেষ ভূমিকা। যা আমাদের ফুসফুসকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। হাতের কাছেই এমন কিছু সহজ খাবার আছে যা আমাদের ফুসফুসকে সুস্থ রাখবে। চলুন জেনে নেয়া যাক বিস্তারিত- 

কী খেতে হবে?

> পুষ্টিবিদদের মতে, শাক-সবজি, আলু, পটল, কুমড়া-গাজর বেশি করে খান। খোসা না ছাড়িয়ে তরকারি করে খেতে পারলে আরো ভালো।

> আটার রুটি, ব্রাউন রাইস, কিনোয়া, বার্লি ইত্যাদি খান। এতে ফুসফুসের ক্ষতি যেমন কম হবে, ওজন ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

> এছাড়া পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার ফুসফুসের জন্য ভালো। তাই সবুজ শাক, টমেটো, বিট, আলু, কলা খান নিয়মিত। আর প্রোটিনের জন্য মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, দই, ডাল, ছোলা ইত্যাদি।

> ফুসফুসের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ঠিক রাখতে দিনে ২ থেকে ৩ লিটার পানি অবশ্যই পান করতে হবে।

যেসব খাবার খাবেন

কয়েকটি বিশেষ খাবার রয়েছে যা ফুসফুসের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। আসুন জেনে নেয়া যাক এমন কিছু খাবার সম্পর্কে-

আদা

আদা কুচি নিয়মিত খেলে ফুসফুস ভালো থাকে।

কাঁচা মরিচ

কাঁচা মরিচ খেলে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়। সংক্রমণের আশঙ্কা কমে।

হলুদ

হলুদের কারকিউমিন প্রদাহ কমায়। এতে ফুসফুস ভালো থাকে।

পেঁয়াজ ও রসুন

পেঁয়াজ ও রসুন প্রদাহের প্রবণতা কমায় ও সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি জোগায়। ‘জার্নাল অব ক্যানসার এপিডেমিওলজি’ ও ‘বায়োমার্কারস অ্যান্ড প্রিভেনশন’-এ প্রকাশিত প্রবন্ধে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, যেসব ধূমপায়ী কাঁচা রসুন খান তাদের ফুসফুসের বিভিন্ন অসুখে ভোগার আশঙ্কা প্রায় ৪০ শতাংশ কমে যায়।

ফল ও সবজি

আপেল, পেয়ারা, শসা, সফেদা ইত্যাদি ফল ফুসফুসের জন্য খুবই ভালো। আপেল ও বাতাবি লেবুর ফ্ল্যাভেনয়েড ও ভিটামিন সি ফুসফুসের কার্যকারিতা বাড়ায়। এছাড়া গাজর, কুমড়া, বেল পেপারে থাকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি। সারা শরীরের পাশাপাশি ফুসফুসের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এসব সবজি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

সেমাইয়ের দুই পদ

সেমাইয়ের দুই পদ
সেমাইয়ের দুই পদ

ঈদ মানেই নানা মিষ্টি স্বাদের খাবার। আর সেই তালিকায় সেমাই তো থাকবেই! সেমাইয়ের সুস্বাদু সব পদ জিভে জল আনবেই! ঈদের সকালে সেমাই দিয়ে তৈরি করতে পারেন ব্যতিক্রম স্বাদের দুই পদ। চলুন জেনে নেয়া যাক রেসিপি-

সেমাইয়ের দুই পদ
সেমাইয়ের দুই পদ

স্পেশাল দুধ সেমাই

উপকরণ:
তরল দুধ ২ লিটার
সেমাই ২৫০ গ্রাম
গুঁড়া দুধ ৫ টেবিল চামচ
চিনি স্বাদমতো
এলাচ ও দারুচিনি কয়েকটি
লবণ স্বাদমতো
কিসমিস ও বাদাম কুচি ইচ্ছামতো
ঘি দুই টেবিল চামচ
দুধের সর বা মালাই আধা কাপ।

প্রণালি:
দুই লিটার দুধকে জ্বাল দিয়ে সোয়া এক লিটার করে নিতে হবে। এবার এলাচ ও দারুচিনি দিয়ে জ্বাল দিন। উপরে ঘন সর জমবে, সেটাকে তুলে রাখুন আলাদা করে। এবার দুধে চিনি মেশান। আলাদা পাত্রে খানিকটা দুধ তুলে নিয়ে সেই দুধের সঙ্গে পাউডার মিল্ক গুলিয়ে নিন। গোলানো গুঁড়া দুধ আবার বাকি দুধের সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে। এবার স্বাদ অনুযায়ী লবণ দিয়ে নাড়তে থাকুন। দুধ ফুটে উঠলে বাদামী করে ভেজে রাখা সেমাই দিয়ে একটু নেড়ে নিন। দুই মিনিট চুলায় রেখে নামিয়ে নিতে হবে। তারপর সেমাইয়ের ওপর দুধের সর আর কিসমিস, বাদাম দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন। ব্যাস তৈরি হয়ে গেল ঈদের সকালের স্পেশাল স্বাদের দুধ সেমাই।

সেমাইয়ের দুই পদ
সেমাইয়ের দুই পদ

সেমাই সন্দেশ

উপকরণ
লাচ্ছা সেমাই ২ কাপ
কনডেন্স মিল্ক ১ কাপ
ঘি ২ টেবিল চামচ
এলাচ গুঁড়া সামান্য
মাওয়া পরিমাণমতো
বাদাম/ কিসমিস (সাজানোর জন্য)

প্রণালি:
প্যানে ঘি হালকা গরম করে লাচ্ছা সেমাইগুলো অল্প আচে ভেজে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন সেমাই পুড়ে না যায়। এবার কনডেন্স মিল্ক আর এলাচ গুঁড়া দিয়ে কিছুক্ষণ নেড়ে সন্দেসের ঘনত্ব আসলে চুলে থেকে নামিয়ে ঘি মাখানো একটা সমান থালায় বিছিয়ে মাওয়া গুঁড়া ওপর দিয়ে ছিটিয়ে দিতে হবে। সন্দেশটা একটু ঠান্ডা হলে চাকু দিয়ে পছন্দমত শেপে কেটে বাদাম বা কিসমিস দিয়ে পরিবেশন করতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

গরুর মাংসের শাহী রেজালা তৈরির সহজ রেসিপি

গরুর মাংসের শাহী রেজালা তৈরির সহজ রেসিপি
গরুর মাংসের শাহী রেজালা তৈরির সহজ রেসিপি

শাহী খাবার মানেই রাজকীয় একটা আমেজ। গরুর মাংসের শাহী রেজালা ভীষণ লোভনীয় একটি খাবার। এর সুঘ্রাণেই জিভে জল চলে আসতে বাধ্য। পোলাও কিংবা পরোটার সঙ্গে খেতে বেশ লাগে এই রেজালা। চলুন রেসিপি জেনে নেয়া যাক-

উপকরণ:
গরুর মাংস-১ কেজি
আদা বাটা-১ টেবিল চামচ
রসুন বাটা- ১ চা চামচ
ধনে বাটা- ১ চা চামচ
জিরা বাটা- ১ চা চামচ
হলুদ গুঁড়া- ১/২ চা চামচ
পেঁয়াজ তুচি- ১ কাপ
পোস্তদানা বাটা- ১ টেবিল চামচ
টক দই- ১/২ কাপ
কাঁচা মরিচ (আধাফালি)- ১৫-২০টি
কিসমিস- ২ টেবিল চামচ
গরম মসলা ১ চা চামচ
ঘি- ১/২ কাপ
তেল- ১/২ কাপ
মাওয়া- ২ টেবিল চামচ
গোলাপজল- ১ টেবিল চামচ।

প্রণালি:
তেল, ঘি, পেঁয়াজ, কাচামরিচ, কিসমিস ছাড়া মাংস ছোট টুকরা করে সব মশলা মাখিয়ে ৫-৬ ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে দিতে হবে। হাঁড়িতে তেল ঘি দিয়ে পেঁয়াজ বেরেস্তা করে তুলে নিয়ে মাংস দিয়ে কষাতে হবে। এরপর বেরেস্তা মেশাতে হবে। কষানো হলে ২-৩ কাপ পানি দিয়ে ঢেকে সিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত অল্প আঁচে রেখে দিতে হবে। ব্যস, তৈরি হয়ে গেল গরুর মাংসের শাহী রেজালা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

কলিজা দিয়ে ভুনা খিচুড়ি রাঁধবেন যেভাবে

কলিজা দিয়ে ভুনা খিচুড়ি রাঁধবেন যেভাবে
কলিজা দিয়ে ভুনা খিচুড়ি রাঁধবেন যেভাবে

ভুনা খিচুড়ি এমনিতেই সুস্বাদু একটি খাবার। তার সঙ্গে যদি কলিজা ভুনা যোগ হয় তবে তো কথাই নেই। তবে সঠিক রেসিপি জানা না থাকলে খিচুড়ি সুস্বাদু হবে না। চলুন জেনে নেয়া যাক সুস্বাদু ভুনা খিচুড়ি রান্নার রেসিপি-

উপকরণ: ১
পোলাওয়ের চাল ৪০০ গ্রাম
ভাজা মুগ ডাল ২৫০ গ্রাম
আদাবাটা ২ টেবিল চামচ
রসুন ১ চা চামচ
পেঁয়াজ বেরেস্তা ১ কাপ
গরম মশলার গুঁড়া (দারুচিনি, এলাচ ও লবঙ্গ) ১ টেবিল চামচ
তেজপাতা ২টি
কাঁচা মরিচ ৪-৫টি
লবণ স্বাদমতো
ঘি আধা কাপ
তেল ও পানি পরিমাণমতো।

উপকরণ: ২
কলিজা ভুনা:
খাসির কলিজা ৫০০ গ্রাম
আলু (মাঝারি) ২টি
পেঁয়াজকুচি ২ টেবিল চামচ
আদাবাটা ১ চা-চামচ
মরিচগুঁড়া ১ চা-চামচ
হলুদগুঁড়া ১ চা-চামচ
দারুচিনি ২ টুকরা
এলাচ ৪টি (থেঁতো)
তেজপাতা ২টি
লবণ স্বাদমতো ও তেল ৩ টেবিল চামচ।

প্রণালি: ১
কলিজা ডুমো করে কেটে ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরাতে হবে। আলু ডুবো করে কেটে হলুদ ও লবণ মেখে ভেজে তুলে রাখুন। এবার প্যানে তেল দিয়ে সব মসলা কষিয়ে তাতে কলিজা ও আলু দিয়ে একটু নাড়াচাড়া করে ১ কাপ পানি দিয়ে ঢেকে দিয়ে হবে। কলিজা ভুনা করে নামিয়ে নিন।

প্রণালি: ২
পোলাওয়ের চাল ও ডাল ধুয়ে পানি ঝরান, হাঁড়িতে তেল দিয়ে তাতে তেজপাতা, আদাবাটা, রসুনবাটা, চাল-ডালের মিশ্রণ অর্ধেক পেঁয়াজ বেরেস্তা, লবণ ও পরিমাণমতো গরম পানি দিয়ে একটু নেড়ে ঢেকে দিন। যদি ১ কাপ চাল-ডালের মিশ্রণ হয়, তবে দেড় কাপ গরম পানি দিতে হবে।

নামানোর আগে ভুনা করা কলিজা গরমমসলার গুঁড়া, কাঁচা মরিচ দিয়ে পাঁচ মিনিট দমে রেখে ওপরে পেঁয়াজ বেরেস্তা ও ঘি ছড়িয়ে সালাদ বা আচারের সঙ্গে পরিবেশন করুন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

গরুর মাংস দিয়ে সহজে বিরিয়ানি রান্নার রেসিপি

গরুর মাংস দিয়ে সহজে বিরিয়ানি রান্নার রেসিপি
গরুর মাংস দিয়ে সহজে বিরিয়ানি রান্নার রেসিপি

রেসিপি জানা থাকলে গরুর মাংসের বিরিয়ানির থেকে সহজ রান্না আর হয় না। এর স্বাদ তো প্রায় সবারই জানা। সুস্বাদু এই খাবারটি রাঁধতে চাইলে জেনে নিন সহজ রেসিপি-

উপকরণ
গরুর মাংস- ১ কেজি
পোলাওর চাল- ১ কেজি
বিরিয়ানি মসলা- ৩ টেবিল চামচ
এলাচ ও দারুচিনি বাটা- ১ টেবিল চামচ
আদা বাটা- ১ টেবিল চামচ
রসুন বাটা- ১ টেবিল চামচ
পেয়াজকুচি- ১ কাপ
তেল- ১ কাপ
আলু- ১ কাপ (কিউব করে কাটা)
কিচমিচ- ১০-১৫ টি
পানি- যতটুকু চাল তার দ্বিগুণ পানি লাগবে
তেজপাতা- ৩ টি
লবণ- স্বাদমতো
জিড়া গুড়া- ১ টেবিল চামচ
গোলাপ জল- ১ চামচ
কেওরা জল- ১ চামচ।

প্রণালি:
প্রথমে মাংসকে ছোট ছোট টুকরো করে ধুয়ে নিতে হবে। এখন যে পাত্রে চাল ও মাংস জায়গা হবে এমন একটি বড় পাত্র নিতে হবে। পাত্রটি চুলায় বসিয়ে তেল দিয়ে গরম করে নিতে হবে। তেল গরম হয়ে আসলে পেঁয়াজকুচি ও তেজপাতা দিয়ে দিতে হবে।

পেঁয়াজ যখন হালকা বাদামি কালার আসবে তখন আদা বাটা, রসুন বাটা, জিড়ার গুঁড়া, ও স্বাদমতো লবণ দিয়ে একটু কষিয়ে নিতে হবে। যখন মসলা কষে আসবে তখন ধুয়ে মাংস দিয়ে সেদ্ধ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। যখন মাংস মোটামুটি সিদ্ধ হয়ে আসবে তখন আলু দিয়ে একটু সিদ্ধ করে নিতে হবে।

তারপর বিরিয়ানি মসলা দিয়ে একটু নাড়তে হবে। এখন পোলাওর চাল ধুয়ে এই মাংস ও আলুর মধ্যে দিয়ে একটু ভাজতে হবে। যখন পানি শুকিয়ে চাল ভাজা ভাজা হবে তখন আগে থেকে করে রাখা গরম পানি দিয়ে দিতে হবে।
যখন গরম পানি কমে মাখা হয়ে আসবে তখন চুলার আঁচ কমিয়ে ধমে রাখতে হবে।

এরপর এই চালের উপর গোলাপ জল ও কেওরা জল দিয়ে চালগুলোকে নেড়ে আবার ২ মিনিটের মত দমে রাখতে হবে। ২ মিনিট পর চুলা বন্ধ করে আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে। এরপর পরিবেশনের পালা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com