আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বিশ্ব

রহস্যময়ী ক্লিওপেট্রার অজানা কাহিনী

বিউটি কুইন ক্লিওপেট্রা। কিন্তু কয়েনে তার যে ছবিটি ছিল সেখানে মোটেও আকর্ষণীয় দেখাচ্ছিল না তাকে। বেশ সাদামাটা চেহারার পুরুষালি নারী মনে হয়েছে তাকে। তবে সৌন্দর্যের উপমা দিতে গিয়ে ‘ক্লিওপেট্রার মতো সুন্দর’ বলা হয় অনেক সময়। কারণ তার নাম শুনলেই মানুষের মনে ভেসে উঠে খাড়া নাক, টানা চোখের নারীর কাল্পনিক ছবি।

মনে হতে পারে, একটি কয়েন দেখে তো আর চেহারা সম্পর্কে ধারণা করা যায় না। তবে, বিষয়টি একটি কয়েনে সীমাবদ্ধ না। এ পর্যন্ত যতগুলো কয়েনে ক্লিওপেট্রাকে পাওয়া গেছে, সবগুলোর সাদৃশ্য আছে। সবগুলোতেই ছুঁচালো নাক এবং থুঁতনি দেখা গেছে। খুব সাদামাটা চেহারায় পাওয়া গেছে তাকে, এলিজাবেথ টেইলরের মতো নয়। তাই হলিউডের ক্লিওপেট্রার যে চেহারা মানুষের কল্পনায় গেঁথে গেছে, বাস্তবের ক্লিওপেট্রা তার থেকে একেবারেই আলাদা বলে মনে করা হচ্ছে।কয়েন পোট্রেটগুলোকে ‘ভুল’ ভাবা যায় না কোনো মতেই। কারণ কয়েনগুলো সেই সময়কার। বিভিন্ন জায়গা থেকে কয়েনগুলো সংগ্রহ করা হলেও ধারণা করা হচ্ছে যে একটি অফিসিয়াল ছবি দেখে তৈরি করা হয়েছে সবগুলো। আর অফিশিয়াল সেই ছবি আঁকা হয়েছিল রানীকে সামনে বসিয়ে কোনো দক্ষ চিত্রকরের হাতে। তাই অনুমান করে আঁকার প্রশ্নই আসে না। ক্লিওপেট্রার বাবার যেসব ছবি কয়েনে দেখা গেছে, সেগুলোর সঙ্গেও কয়েনের ক্লিওপেট্রার চেহারার মিল আছে।

ক্লিওপেট্রার প্রেমিকদের সঙ্গেও কিন্তু মডার্ন কনসেপ্ট এর মিল নেই। প্রেমিক বলতেই যেমন সুদর্শন তরুণ মনে হয়, ব্যাপারটা সে রকম ছিল না। মধ্যবয়সী সিজারের মুখে ছিল বলিরেখা। মাথায় টাক ছিল। সেই টাক ঢেকে রাখা হতো মুকুটে। অ্যান্থনির থুঁতনি ঝুলে পড়েছিল। নাক ছিল ভাঙা। অর্থাৎ তারা কেউই সুদর্শন ছিলেন না।

কয়েনগুলোর বেশিরভাগই খ্রিষ্টপূর্ব ৩০ অব্দের মাঝামাঝি অথবা শেষের দিকে। তখন ক্লিওপেট্রার বয়স ছিল তিরিশের বেশী। হলিউড তাকে যতটা সৌন্দর্যপ্রেমী আবেদনময় নারী হিসেবে দেখিয়েছে, বাস্তবে তিনি এতটা ছিলেন না বলে ধারণা করা হয়। তবে তিনি অত্যন্ত ব্যক্তিত্ববান এবং শক্তিধর নারী ছিলেন। তাছাড়া খুব বুদ্ধিমান ছিলেন। প্রচণ্ড উচ্চাভিলাষ ছিল। খুব সহজেই সবার মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারতেন। নিজের মতে অটল থাকতেন এবং সবাইকে কীভাবে বশ করতে হয় সেটাও জানতেন। সম্মান করে তাকে অনেকে দেবীর সঙ্গেও তুলনা করেন।

ক্লিওপেট্রা আগাগোড়াই রহস্যে ঘেরা ছিলেন। মাত্র ৩৯ বছর তিনি বেঁচে ছিলেন। কিন্তু এই অল্প সময়ে তিনই গড়েছেন তার দৈনন্দিন জীবন, প্রেম, মৃত্যু সবকিছুতেই ছিল রহস্য। এই রহস্যই তার প্রতি আকর্ষণ তৈরি করছে যুগে যুগে।

অবশেষে কি খুঁজে পাওয়া গেল অ্যান্টনি-ক্লিওপেট্রার সমাধিস্থল? সেই সেনানায়ক মার্ক অ্যান্টনি, যিনি রোমের পূর্ব প্রান্তের রাজ্যগুলো দেখতেন আর মিসরের রানি ক্লিওপেট্রার সঙ্গে থাকতেন। দুই হাজার ৫০ বছর আগে মারা যান তাঁরা। বহু বছর ধরে প্রত্নতাত্ত্বিকরা খুঁজে চলেছেন তাদের সমাধি। অবশেষে নাকি সেই সমাধির খোঁজ পাওয়া গেল।

প্রত্নতত্ত্ববিদ জাহি হাওয়াস বলেন, আলেকজান্দ্রিয়া থেকে ১৮ মাইল দূরে প্রাচীন শহর তাপোসিরিস মাগনা, সেখানেই দুই ঐতিহাসিক ব্যক্তি শায়িত আছেন। একই সমাধিতে দুজনকে সমাহিত করা হয়েছিল। ইতিহাসে অ্যান্টনি-ক্লিওপেট্রার প্রেমের কথাই ফিরে এসেছে।

বিডি প্রতিদিন/২৫ জানুয়ারি ২০১৯/আরাফাত

পরিবেশ

বকের ঝাঁক

বকের ঝাঁক

>মাঠ থেকে আলু তোলার পর রোপণ করা মিষ্টিকুমড়ার গাছ বড় হয়ে গেছে। সেখানে সেচ দিচ্ছেন এক কৃষক। বগুড়া সদর উপজেলার তেলিহারা গ্রামের মাঠে বক পাখি নিয়ে ছবির গল্প।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

শামুকখোল

বাংলাদেশে বাস করা অনেক বড় পাখিদের মধ্যে শামুকখোল একটি। ঝাঁক বেঁধে চলে। প্রতিটি ঝাঁকে প্রায় ৪০ থেকে ৬০টি থাকে। শামুক খেতে পছন্দ করে বলেই ওরা শামুকখোল। ব্যাঙ আর মাছসহ অন্যান্য জলজ খাবারও খায়। বগুড়ার গাবতলী উপজেলার তল্লাতলা গ্রামের বড় কুমরুল বিলে খাবারের খোঁজে আসা এই পাখিদের নিয়ে এবারের ছবির গল্প

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

বিপন্ন ৩১ প্রজাতির আশ্রয় সুন্দরবন

বিশ্বজুড়ে বিপন্ন ৩১ প্রজাতির প্রাণী সুন্দরবনকে আশ্রয় করেই টিকে আছে। এর মধ্যে ১২ প্রজাতির প্রাণী সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এই বনে। ঝড়-জলোচ্ছ্বাস থেকে বাংলাদেশের উপকূলের মানুষকেই শুধু রক্ষা করছে না এই বন, বিপন্ন প্রাণীর শেষ আশ্রয়স্থলও হয়ে উঠেছে সুন্দরবন।

বিপন্ন প্রাণীদের মধ্যে অন্যতম বেঙ্গল টাইগার, মেছো বাঘ, ছোট মদনটাক, গ্রেট নট পাখি, মাস্ক ফিনফুট পাখি, রাজগোখরা, জলপাই রঙের কাছিম, দুই প্রজাতির ডলফিন (ইরাবতী ও গাঙ্গেয়), দুই প্রজাতির উদ্বিড়াল ও লোনাপানির কুমির। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের দুই অধ্যাপক মনিরুল এইচ খান ও আবদুল আজিজের গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থাগুলোর আন্তর্জাতিক জোট আইইউসিএন, বাংলাদেশের একাধিক প্রতিবেদনেও বিশ্বের অন্যতম জীববৈচিত্র্যপূর্ণ এলাকা হিসেবে সুন্দরবনের কথা বলা হয়েছে।

প্রকৃতি ও বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞরা সুন্দরবনের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য সৃষ্টির প্রধান কারণ হিসেবে এর সৃষ্টি প্রক্রিয়া ও ভৌগোলিক অবস্থানের কথা বলছেন। হিমালয় থেকে নেমে আসা মিষ্টি পানির প্রবাহের সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের লবণপানির মিশ্রণের ফলে এই বনে বিশেষ প্রতিবেশব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। কাদামাটিতে গড়ে ওঠা ওই বনটির ৫২ শতাংশই সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষিত, ফলে নানা হুমকি ও সমস্যা সত্ত্বেও এই বন এখন পর্যন্ত শুধু বাংলাদেশের বন্য প্রাণীদের জন্য, বিশ্বের প্রাণসম্পদের অন্যতম বড় আধার হিসেবে স্বীকৃত।

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো গত ডিসেম্বর মাসে এক প্রতিবেদনে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যকে বিশ্বের জন্য অসামান্য সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
সুন্দরবনের বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী রক্ষায় সরকার বিভিন্ন প্রকল্প নিয়েছে বলে জানান প্রধান বনসংরক্ষক মোহাম্মদ সফিউল আলম চৌধুরী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সুন্দরবন থেকে সম্পদ আহরণ ও পর্যটক প্রবেশের বিষয়টি এখন সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। এতে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য আরও সমৃদ্ধ হবে।

১০ হুমকি
সর্বশেষ ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ইউনেসকোর পক্ষ থেকে সুন্দরবনের জন্য ১০টি হুমকি চিহ্নিত করা হয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়া, দূষণ, অবৈধ তৎপরতা ও পশুর নদের খননকে অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সংস্থাটি বলছে, সুন্দরবন হচ্ছে পৃথিবীর একমাত্র শ্বাসমূলীয় বন, যেখানে এখনো পলি পড়ে পড়ে নতুন ভূমির গঠন হচ্ছে। এসব ভূমিতে প্রাকৃতিকভাবেই শ্বাসমূলীয় বনভূমি গড়ে উঠছে। সুন্দরবনের অন্য অঞ্চলগুলো থেকে সেখানে হরিণ, সাপ, বাঘের মতো প্রাণীরা এসো বসতি গড়ছে।

>

ইউনেসকো সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যকে বিশ্বের জন্য অসামান্য সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেছে

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা অনেক কিছু সৃষ্টি করতে পারব। পদ্মা সেতু বানাতে পারব, নতুন নতুন শহর গড়ে তুলতে পারব। কিন্তু আরেকটা সুন্দরবন গড়ে তোলা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের উপকূলে এ পর্যন্ত যত ঝড় আঘাত করেছে, তার অর্ধেকের বেশি সুন্দরবনের ওপর দিয়ে গেছে। ফলে এই বন বারবার আমাদের জীবন ও জীবিকা রক্ষা করে গেছে। একই সঙ্গে এর অপরূপ প্রতিবেশব্যবস্থার কারণে বিশ্বের বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য অন্যতম বড় আশ্রয়স্থল হয়ে আছে এই বন।’

বিশ্বের বিপন্ন প্রজাতিরা কেমন আছে
মেছো বাঘ দেখতে বেঙ্গল টাইগারের চেয়ে কিছুটা ছোট, আবার বিড়ালের চেয়ে বেশ বড়। এই প্রাণী একসময় দেশের বনে তো বটেই, গ্রামের ঝোপঝাড়েও দেখা যেত। এই প্রাণী এখন শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বজুড়ে বিপন্ন প্রাণীর তালিকায় ঢুকে পড়েছে। এই তালিকায় আরও নাম আসবে বেঙ্গল টাইগার, দুই প্রজাতির ডলফিন, মদনটাক ও গ্রেট নটের মতো পাখি। রাজগোখরার মতো সাপ ও উদবিড়ালের মতো জলজ প্রাণী। জলপাই রঙের কাছিমও বিশ্বজুড়ে বিপন্ন। এরা সবাই সুন্দরবনের বাসিন্দা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আবদুল আজিজ প্রথম আলোকে বলেন, সুন্দরবনের বন্য প্রাণীর জন্য এখন সবচেয়ে বড় হুমকি মিঠাপানির সরবরাহ কমে যাওয়া এবং লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়া। ইরাবতী ডলফিন সম্প্রতি মোংলায় দেখা গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি লবণপানির ডলফিন। লবণাক্ততা বাড়লে তা সুন্দরবনের মিঠা ও মিশ্র পানিতে টিকে থাকতে পারে, এমন প্রাণীদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে।

বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলেন, সুন্দরবনে দুই প্রজাতির প্রায় ৩০০টি উদবিড়াল রয়েছে। কোনো একটি সুনির্দিষ্ট বনের মধ্যে এত উদবিড়াল থাকা বিরল ঘটনা। ১৯০টি লোনাপানির কুমির রয়েছে এই বনে, যা বাংলাদেশের বেশির ভাগ এলাকা থেকে বিপন্ন হয়ে শুধু সুন্দরবনে টিকে আছে।

বন্য প্রাণী গবেষকেরা বলছেন, সুন্দরবনে ২০০টি ইরাবতী ডলফিন ও ১৬০টি গাঙ্গেয় ডলফিন রয়েছে। এই দুই প্রজাতির ডলফিনের সংখ্যা পৃথিবীর মধ্যে সুন্দরবনেই সবচেয়ে বেশি। পরিযায়ী পাখি গ্রেট নট ও চামচঠুঁটো বাটানও বিশ্বজুড়ে বিপন্ন। এই পাখিরা সুন্দরবনে ভালোভাবেই টিকে আছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনিরুল এইচ খান প্রথম আলোকে বলেন, বিপন্ন প্রাণীদের রক্ষা করতে হলে সবার আগে সুন্দরবনকে রক্ষা করতে হবে। এই বনের চারপাশে গড়ে ওঠা শিল্পকারখানা ও তার দূষণ বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে উজান থেকে মিঠাপানির সরবরাহ বাড়ানোর জন্য উদ্যোগ নিতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

কালোমাথা জলকবুতর

প্রজনন মৌসুমে এই পাখিটির ঘাড়, গলা, মাথা ও কপাল তেলতেলে-কুচকুচে কালো হয়ে যায়। মনে হতে পারে যে পাখিটি কালো মুখোশ পরেছে। কানপট্টি অদৃশ্য, চোখের ভেতরের বৃত্ত হলুদাভ-লালচে, মণি কালো। ঘাড়, বুক, পেট ও পেটের দুপাশসহ পেট ও লেজের দুপাশ শাপলা-সাদা। ঠোঁট টুকটুকে লাল, পা লালচে। ডানার প্রান্তের ওড়ার মূল পালকগুলোর অগ্রভাগ কালো।

ডিম-ছানা তোলার পরে এই কালো রং ধীরে ধীরে নিষ্প্রভ হতে শুরু করে। যদিও বাংলাদেশে আসার পরেও কিছু কিছু পাখির কালো রংটা নজরে পড়ে। পরে মাথা, ঘাড়, গলা, বুক ও পেট সাদা হয়ে যায়। দেখা যায় কানের গোলাকার কালো পট্টি। ঠোঁট টুকটুকে লাল থাকলেও অগ্রভাগ কালো হয়। লেজের অগ্রপ্রান্তও কালো হয়। পা লালই থাকে। পৌষ-মাঘে পাখিটির ডানার প্রান্তের ও গোড়ার দিকে চমৎকার কালো কালো রেখা ও কালো কালো ছিটছিট দেখা যায়। ঘাড়ের কাছে একটি অস্পষ্ট কালচে রেখা ফোটে।

কবুতরসদৃশ শীতের পরিযায়ী এই পাখিটির নাম ‘কালোমাথা জলকবুতর’। গাংকৈতর ও গঙ্গা কৈতর নামেও পরিচিত। ইংরেজি নাম Black-headed Gull. বৈজ্ঞানিক নাম larus ridibundus. দৈর্ঘ্য ৩৮-৪৩ সেমি।

মাছখেকো এই পাখিদের চারণের ক্ষেত্র হলো নদী, সমুদ্রতীর, হাওর-বাঁওড়, বিল-ঝিল ও হ্রদ। উড়ে উড়ে জলের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রেখে এগোয়। সুন্দরবন ও এর লাগোয়া হাওর, বিল ও নদীতে বেশি দেখা যায়। লঞ্চ ও ট্রলারের পেছনে প্রবল বেগে যে জল ছুটে ঢেউয়ের সৃষ্টি করে, তাতে মাছও ভেসে ওঠে। নজরে পড়ামাত্রই তিরবেগে সেসব মাছ ধরার জন্য ডাইভ মারে।

বড়েলদের কেউ কেউ অনেক সময় বড়শিতে ছোট মাছ গেঁথে জোরসে ছুড়ে দেয় শূন্যে। এরা দ্রুত ধেয়ে এসে টোপ গিলতেই মারো জোরসে টান ছিপে, ব্যস! মাছের বদলে পাখি শিকার। সুন্দরবনের বনজীবীদের কেউ কেউ বড়শিতে এই পাখি ধরে মাংস খায়। হাওর-বাঁওড়েও এই প্রথা চালু ছিল, অল্প হলেও আজও তা আছে।

মাছ ছাড়াও এরা খায় বিভিন্ন ধরনের জলপোকা, জলকাদার তলায় থাকা সুতোপোকা, কিছু ক্ষুদ্র শস্যবীজ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

পাকড়া মাছরাঙা

ওরা যেন মুখোমুখি হয়ে শূন্যে নৃত্য করছে অপরূপ সুন্দর দৃশ্য রচনা করে। শান্ত জলে ওদের ছায়া নাচছে। ধ্যান-জ্ঞান এখন মাছ, মোক্ষম সুযোগ এলেই উপুড় হয়ে ডাইভ মারবে তিরগতিতে, লম্বা-চোখা ঠোঁটের ফাঁকে চেপে ধরবে শিকার।

একটি পাখি চোখের পলকে ডাইভ মারল, টর্পেডোর মতো জলের তলায় চলেও গেল, উঠল ঠোঁটের ফাঁকে একটি ছোট শোলমাছ নিয়ে। মাছটি তড়পাচ্ছে, পাখিটিও হোভারিং করতে করতে ঘাড়-মাথায় ঝাঁকুনি তুলে মাছটিকে মেরে গিলে ফেলল। তারপরে টুপ করে জলে ঠোঁট চুবিয়ে জল পান করে আবার সঙ্গীর পাশে গিয়ে শুরু করল হোভারিং। একটু ডানে-বাঁয়ে বা সামনে সরছে বটে পাখি দুটি, কিন্তু চোখ পানির দিকেই।

এদের প্রধান খাদ্য মাছ। তবে জলসাপের বাচ্চা, কুঁচের বাচ্চা, ব্যাঙাচি, কাঁকড়ার বাচ্চাসহ নানান রকম জলজ পোকামাকড়ও খায়। বাসায় ডিম না থাকলে পুরুষ ও মেয়ে পাখি জোড়ায় জোড়ায় চলে, কেউ কাউকে রেখে দূরে যায় না। পালা করেই ডিমে তা দেয় এরা, পালা করেই ছানাদের খাওয়ায়। ডিম পাড়ে পাঁচ-ছয়টি, সাতটিও দেখা যায় ক্বচিৎ। ডিম ফুটে ছানা হয় ১৯-২২ দিনে। একনজরে পাখিটি সুন্দর সাদা-কালো রঙে চিত্রিত, উড়লে যেন ওদের শরীর থেকে সাদা-কালো দ্যুতি ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে, শরীরে রোদের আলো পড়লে ওই সাদা-কালো ও সাদা সাদা ছিট যেন ঝলকায়।

পাখিটির নাম পাকড়া মাছরাঙা। ডোরাকাটা মাছরাঙাসহ আরও কয়েকটি স্থানীয় নাম আছে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায়। ফকিরহাট-বাগেরহাটে এটি ‘ছিটে মাছরাঙা’ নামে পরিচিত। চোখের ওপর দিয়ে সাদা রেখা মাথার পেছন পর্যন্ত বয়ে গেছে, চোখে যেন কাজল লেপ্টানো, ঘাড়-গলা-বুক-পেট ও ডানার তলদেশ কার্পাস তুলার মতো সাদা। ওড়ার পালকের প্রান্ত কালো। বুক, পেটের দুপাশ ও নিচের লেজের একটু ওপরে কালো ছোপ আছে। মাথার পেছন দিকে সাদা-কালো রঙের ছোট ঝুঁটি আছে। উত্তেজিত হলে বা বুকে প্রেম জাগলে ওই ঝুঁটি জেগে ওঠে। ঠোঁট ও পা স্লেটের মতো কালো।

অন্যান্য মাছরাঙার বাসার বৈশিষ্ট্য একটু ভিন্ন। তিন-চার ফুট গভীর সুড়ঙ্গ খুঁড়ে আচমকা ঊর্ধ্বমুখী হয়ে আরও ফুটখানেক গর্ত খুঁড়ে তারপরে ডানে-বাঁয়ে আরও এগিয়ে তৈরি করে ডিম-ছানার চেম্বার। খুঁজে পেলে বিষধর সাপের খোলসের অংশবিশেষ ঝুলে থাকতে দেখা যায় বাসার প্রবেশমুখে। চোখা ঠোঁট দিয়ে সুড়ঙ্গের মুখে সাপের খোলসের এক পাশ পুঁতে দেয়। এটা শত্রুদের ভয় দেখানোর জন্য অভিনব কৌশলই বটে! এদের ইংরেজি নাম Pied Kingfisher। বৈজ্ঞানিক নাম Ceryle rudius। দৈর্ঘ্য ৩১ সেমি। ওজন ৬৮-১১০ গ্রাম।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com