আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

মৎস্য

রপ্তানি হচ্ছে শিং কই বোয়াল

বোয়াল, কই,শিং মাছ রপ্তানি হচ্ছে
বোয়াল, কই,শিং মাছ রপ্তানি হচ্ছে

বিশ্বের ৫০টির বেশি দেশে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করছে বাংলাদেশ। সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হচ্ছে চিংড়ি। তবে শিং, কই, বোয়াল, মলা, কাচকি, বাতাসি, রুপচাঁদা, ভেটকি, আইড়, পাবদা, টাকি ইত্যাদি মাছও রপ্তানি হচ্ছে। 

 তবে পাঁচ বছর আগের তুলনায় এ খাত থেকে রপ্তানি আয় কমছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, সদ্যবিদায়ী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৪ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা ৩১ লাখ টাকা (৫০ কোটি ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার) আয় করেছে। আগের অর্থবছরে আয় ছিল ৪ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরে আয় কমেছে ৫৬ কোটি টাকা। 

জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পাসের দিন গত ৩০ জুন সরকারি দলের কিশোরগঞ্জের সাংসদ মো. আফজাল হোসেনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান মৎস্য খাতের রপ্তানি আয়ের পাঁচ বছরের তথ্য দেন। 

মন্ত্রীর দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, পাঁচ বছর আগে অর্থাৎ ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল ৪ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা। এরপর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৪ হাজার ২৮২ কোটি টাকা এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪ হাজার ২৮৭ কোটি টাকা রপ্তানি আয় হয়।  প্রাকৃতিক উৎসের মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান এখন বিশ্বে তৃতীয়
উৎপাদন বাড়লেও কমছে রপ্তানির পরিমাণ ও আয়

রপ্তানি কমার কারণ জানতে চাইলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আশরাফ আলী খান সরাসরি কোনো জবাব দেননি। প্রতিমন্ত্রী ৪ জুলাই তাঁর কার্যালয়ে প্রথম আলোকে বলেন, রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য নতুন নতুন বাজার খোঁজা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবেই একটি দল যাবে রাশিয়া, যার নেতৃত্বে আছেন তিনি। 

সংসদকে মন্ত্রী জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, রাশিয়া ইত্যাদি দেশ বাংলাদেশের মৎস্য ও মৎস্যপণ্যের প্রধান আমদানিকারক দেশ। এ ছাড়া কানাডা, মেক্সিকো, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, মরিশাস, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, ইউক্রেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, মরক্কো, লেবানন, জর্ডান, ভিয়েতনাম ইত্যাদি দেশেও রপ্তানি করা হয়। আর প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে মৎস্য ও মৎস্যপণ্য রপ্তানি করা হয় ভারত, নেপাল, মালদ্বীপ ও মিয়ানমারে। 

আয় কমছে মানে বছর বছর রপ্তানির পরিমাণও কমছে। সংসদে উপস্থাপিত প্রতিমন্ত্রীর তথ্যেই উঠে আসে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৮৩ হাজার ৫২৪ টন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করেছিল। এরপর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৭৫ হাজার ৩৩৭ টন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৬৮ হাজার ৩০৫ টন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৬৮ হাজার ৯৩৫ টন এবং সদ্যবিদায়ী ২০১৮–১৯ অর্থবছরের ১১ মাসে ৬৮ হাজার ৬৫৫ টন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে। 

মৎস্য খাতের মোট রপ্তানির মধ্যে চিংড়ির পরিমাণই বেশি। সংসদে প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সদ্যবিদায়ী অর্থবছরের ১১ মাসে যে ৬৮ হাজার ৬৫৫ টন মৎস্য ও মৎস্যপণ্য রপ্তানি হয়েছে, তার মধ্যে ৩১ হাজার ১৫৮ টনই চিংড়ি। ১১ মাসের মোট রপ্তানি আয় ৩ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকার মধ্যে চিংড়ির মাধ্যমে আয় হয়েছে ২ হাজার ৯১৬ কোটি টাকা। বাকি ৩৫ হাজার ১৪৮ টন রপ্তানির মাধ্যমে আয় হয়েছে ৮৯৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা। 

রপ্তানির মাধ্যমে আয়
রপ্তানির মাধ্যমে আয়

মৎস্য প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০১৭–১৮ অর্থবছরে দেশে ৪২ লাখ ২০ টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৪২ লাখ ৭৭ হাজার টন মাছ উৎপাদন হয়েছে। আর বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মতে, মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) মৎস্য খাতের অবদান এখন ৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ। আগেরবার ছিল ৩ দশমিক ৬১ শতাংশ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) গত বছরের জুলাইয়ের তথ্য বলছে, প্রাকৃতিক উৎসের মাছে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান এখন তৃতীয়। প্রথম চীন ও দ্বিতীয় ভারত। 

মৎস্য উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের সঙ্গে কথা জানা গেছে, এ খাতে কোনো বিদেশি বিনিয়োগ নেই, অথচ বিদেশি বিনিয়োগ আসার সুযোগ রয়েছে। বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার বা বেসরকারি খাতের কারও চেষ্টা নেই। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মচারীরাও তা স্বীকার করেন। 

জানতে চাইলে বাংলাদেশ হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিকারক সমিতির (বিএফএফইএ) জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আশরাফ হোসেন বলেন, রপ্তানি কমার অন্যতম কারণ হচ্ছে মৎস্য খাত নিয়ে সরকারের সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাব। 

উদাহরণ দিতে অনুরোধ জানালে আশরাফ হোসেন পাল্টা প্রশ্নে বলেন, ‘পোনাকে মাছ হতে না দিলে উৎপাদন বাড়বে কীভাবে? আর উৎপাদন না বাড়লে রপ্তানি হবে কীভাবে? অন্যদিকে মাছ ধরার ট্রলার (একধরনের নৌকা) ব্যবস্থাপনাও ঠিক নেই। যেমন গভীর সমুদ্র থেকে মাছ ধরার লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে অনেক, কিন্তু লাইসেন্সধারীদের মাছ ধরতে দেওয়া হচ্ছে না।

পরিবেশ

জেলের জালে ধরা পড়েছে ৪ মণ ওজনের ডলফিন

লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নে ধরলা নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে প্রায় চার মণ ওজনের জীবিত একটি ডলফিন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মোগলহাট ইউনিয়নের ভারতীয় সীমান্তের গ্রুপ মণ্ডল এলাকায় ধরলা নদীতে ডলফিনটি জালে ধরা পড়ে।

স্থানীয়রা জানান, ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা গ্রুপ মণ্ডল এলাকায় ধরলা নদীতে মাছ ধরতে জাল ফেলে স্থানীয় জেলারা। এ সময় জালে আটকা পড়ে বিশাল আকারের একটি ডলফিন। খবর পেয়ে স্থানীয় উৎসুক জনতা ডলফিনটি দেখতে ভিড় জমায়। পরে জেলেরা ডলফিনটিকে ফুলবাড়ি উপজেলার বালারহাটে বিক্রির জন্য নিয়ে যান।

ডলফিনটি দেখতে আসা অ্যাডভোকেট সাব্বির বিথী ফয়সাল জানান, প্রায় চার মণ ওজনের ডলফিনটি দেখতে এসে স্থানীয়রা সবাই মিলে এটি কিনতে চেয়েছিলেন। কিন্তু জেলারা বালারহাটে তাদের নিজেস্ব ক্রেতা রয়েছে বলে বিক্রি করেননি।

এ বিষয়ে মোগলহাট ইউনিয়নে চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবিব সত্যতা নিশ্চিত করেন বলেন, ডলফিনটি আটকের পরে জেলেরা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলায় নিয়ে যান।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

মাছের আড়তে ইলিশের আধিক্য

মাছের আড়তে ইলিশের আধিক্য
মাছের আড়তে ইলিশের আধিক্য
মাছের আড়তে ইলিশের আধিক্য

ঈদুল আজহার ছুটির রেশ না কাটতেই মাছের আড়তগুলোতে প্রচুর পরিমণে ইলিশের দেখা মিলছে।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজার মাছের আড়ত ঘুরে বড় আকৃতির পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি আকারেরও প্রচুর ইলিশ দেখা গেছে।

তবে ইলিশের প্রাচুর্য থাকলেও বড় ও ছোট আকৃতির ইলিশের দামে বেশ পার্থক্য রয়েছে। তবে আড়তদাররা বলছেন, ইলিশের আমদানি বেশি থাকায় এবার দাম কম।

মামুন নামে আড়তের এক মাছ ব্যবসায়ী জানান, ইলিশের আমদানি আছে মোটামুটি। তার কাছে দেড় থেকে ২ কেজি ওজনের ইলিশ রয়েছে। দেড় থেকে দুই কেজি ওজনের ইলিশ প্রতিকেজি ২ হাজার থেকে ২২০০ টাকা দরে দাম চাচ্ছেন তিনি।

নোমান নামে আরেক ব্যবসায়ী জানান, এই মৌসুমে ইলিশের আমদানি বেশিই থাকে। সাধারণ সময়ে এই ইলিশের (দেড় থেকে ২ কেজি ওজন) দাম ২৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা কেজি থাকে।

তিনি জানান, আমদানি থাকায় মাছের দাম কিছুটা কম। তাই ঈদের ছুটি থাকলেও বাজারে ক্রেতা আছে।

এদিকে, বড় ইলিশের দাম মোটামুটি বেশি হলেও দাম কম ছোট ইলিশের। ৪০০ গ্রাম থেকে শুরু করে কিছু বড় ওজনের ইলিশের প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকা দরে।

এ তথ্য জানিয়েছে আলম নামে এক ব্যবসায়ী আরও জানান, বাজারে অন্যান্য মাছ তুলনামূলক কম থাকায় এখন ইলিশের কদর বেশি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

ইলিশের স্বত্ব পেল বাংলাদেশ

ইলিশের স্বত্ব পেল বাংলাদেশ
ইলিশের স্বত্ব পেল বাংলাদেশ

জামদানির পর এবার দেশের দ্বিতীয় ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিওগ্রাফিক্যাল ইনডিকেশন (জিআই) পণ্য হিসেবে নিবন্ধন স্বীকৃতি পেয়েছে জাতীয় মাছ ইলিশ। ফলে এখন থেকে ইলিশ বাংলাদেশের নিজস্ব পণ্য হিসেবে সারা বিশ্বে পরিচিত হবে।

এরই মধ্যে জিআই পণ্য হিসেবে ইলিশ নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে মৎস্য অধিদফতর কর্তৃপক্ষের কাছে ইলিশের জিআই নিবন্ধনের সনদ তুলে দেয়া হবে বলে জানিয়েছে পেটেন্ট ডিজাইন ও ট্রেড মার্কস অধিদফতর।

জানা গেছে, মৎস্য অধিদফতর রুপালি ইলিশকে জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধনের জন্য পেটেন্ট ডিজাইন ও ট্রেডমার্ক অধিদফতরে আবেদন করে। এরপর বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ১ জুন গেজেট প্রকাশ করা হয়।

প্রচলিত আইন অনুযায়ী গেজেট প্রকাশিত হওয়ার দুই মাসের মধ্যে দেশ বা বিদেশ থেকে এ বিষয়ে আপত্তি জানাতে হয়। কিন্তু কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে আপত্তি উত্থাপন করেনি। ফলে ইলিশের স্বত্ব লাভ করেছে বাংলাদেশ।

ওয়ার্ল্ড ফিশের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিশ্বের মোট ইলিশের ৬৫ শতাংশ উৎপাদিত হয় বাংলাদেশে। সেই সঙ্গে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে ইলিশের উৎপাদন বাড়ছে।

এছাড়া ভারতে ১৫ শতাংশ, মিয়ানমারে ১০ শতাংশ, আরব সাগর তীরবর্তী দেশগুলো এবং প্রশান্ত ও আটলান্টিক মহাসাগর তীরবর্তী দেশগুলোতে বাকি ইলিশ পাওয়া হয়।

এর আগে গত বছরের নভেম্বরে দেশের প্রথম জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধন সনদ পায় ঐতিহ্যবাহী জামদানি শাড়ি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

ইলিশ আহরণে ছাড়াবে রেকর্ড, অপেক্ষা আর দু-একদিন

ইলিশ আহরণে ছাড়াবে রেকর্ড, অপেক্ষা আর দু-একদিন
ইলিশ আহরণে ছাড়াবে রেকর্ড, অপেক্ষা আর দু-একদিন

সমুদ্রে ইলিশ মাছ ধরার ওপর আরোপিত দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে প্রায় এক সপ্তাহ হলো। বঙ্গোপসাগরে ইলিশ শিকারে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলেরা। দু-একদিনের মধ্যেই ট্রলারভর্তি মাছ নিয়ে ফিরে আসবেন তারা। জেলেদের ফিরে আশার অপেক্ষায় আছেন আড়তদার, মহাজন এবং জেলে পরিবারের লক্ষাধিক সদস্য।

অভিজ্ঞতার আলোকে মৎস্য বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, এবার জেলেদের জালে বেশি এবং বড় আকারের ইলিশ ধরা পড়বে। কারণ এ বছর করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে টানা ৬৬ দিন বরিশাল-ঢাকা নৌপথে বন্ধ ছিল লঞ্চ চলাচল। নদীর তীরবর্তী অনেক শিল্পকারখানাও বন্ধ ছিল এ সময়। ফলে বাতাসে দূষণের মাত্রা কমে যায়। যান্ত্রিক নৌযান চলাচল এবং বেশিরভাগ শিল্পকারখানা বন্ধ থাকায় বরিশাল বিভাগের নদ-নদীর পানিও অনেক কম দূষণ হয়। এসব কারণে সাগরেও দূষণ কমে। অনেকটা অবাধে নদ-নদী ও সমুদ্রে বিচরণ করতে পারে ইলিশ। পাশাপাশি বেড়ে ওঠার পর্যাপ্ত সময়ও পায়। তাই এবার ইলিশের বংশবৃদ্ধি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়াবে— এমনটি মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সাগরের আবহাওয়াও এ বছর বেশ ভালো রয়েছে। বৃষ্টি হওয়া এবং তাপমাত্রা ৩০ থেকে ৩৫ ডিগ্রির আশপাশে থাকার মানে হলো, জালে ইলিশ ধরা পড়ার আদর্শ আবহাওয়া। এসব দিক বিবেচনা করে ইলিশ উৎপাদনে আশার আলো দেখছেন বাংলাদেশ মৎস্য অধিদফতর, মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং মাছবিষয়ক সংস্থাগুলোর গবেষক ও জেলেরা।

তাদের তথ্য অনুযায়ী, এবার ইলিশের উৎপাদন ছাড়িয়ে যাবে অতীতের সব রেকর্ড।

উপকূলের নদ-নদীতে ইলিশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দেশের আট জেলায় ‘ইকো ফিশ’ নামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে মৎস্য অধিদফতর। এর আওতায় ইলিশের বংশবিস্তার, প্রজননকাল নির্ধারণসহ নানা দিক নিয়ে গবেষণা করা হচ্ছে। ‘ইকো ফিশ’ প্রকল্পের সহযোগী গবেষক বলরাম মহালদার বলেন, ‘জেলে, যান্ত্রিক নৌযান ৬৬ দিন বন্ধ এবং লকডাউনের কারণে তখন বায়ুর পাশাপাশি জলও হয়ে উঠেছিল নির্মল। দূষণের মাত্রাও কমে গিয়েছিল। এই দূষণমুক্ত পরিবেশ ইলিশদের বংশ বিস্তারে সহায়ক হয়েছে। নির্বিঘ্নে সাঁতার কেটেছে মাছেদের দল। দূষণ কমেছে সাগরের জলেও। তাই প্রজননের ঋতুতে মিষ্টি ও দূষণহীন জল পেয়ে ইলিশের ঝাঁক বেশি আসবে। গত বছরের চেয়ে এবার বেশি ইলিশ উৎপাদন হবে বলে আশা করছি। তাই, লকডাউন বেশকিছু মানুষের কাছে অভিশাপ হলেও ইলিশ শিকারীদের কাছে আশীর্বাদ হতে পারে।’

ইলিশের এই গবেষক আরও বলেন, এখন নিম্নচাপের কোনো সতর্কবার্তা নেই। সেজন্য মৎস্যজীবীরা গত ২৩ জুলাই গভীর রাত থেকেই সমুদ্রের দিকে যেতে শুরু করেন। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে দু-তিনদিনের মধ্যেই বাজারে চলে আসবে বঙ্গোপসাগরের রুপালি ইলিশ। আমরা আশাবাদী, মৎস্যজীবীরা এবার বড় সাইজের এবং প্রচুর পরিমাণ ইলিশ ধরে ফিরবেন।

ইলিশ আহরণে ছাড়াবে রেকর্ড, অপেক্ষা আর দু-একদিন
ইলিশ আহরণে ছাড়াবে রেকর্ড, অপেক্ষা আর দু-একদিন

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার আলিপুর-মহিপুর বেসরকারী মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের আড়তদার শাহ আলম জানান, সাগরে দুই মাস মাছ ধরা বন্ধ ছিল। বেকার হয়ে পড়েছিল মৎস্যজীবী ও বন্দরের কয়েক হাজার শ্রমিক। তবে ২৩ জুলাই রাত থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে। ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে সাগরে মাছ শিকারে গেছেন কয়েক হাজার জেলে। এখন তাদের ফেরার অপেক্ষা শুধু।

আড়তদার শাহ আলম জানান, উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে অন্তত ১০০ আড়ত আছে। লাভের আশায় মৎস্য খাতে লাখ লাখ টাকা লগ্নি করেছেন এখানকার শত শত আড়তদার-মহাজন। পাশাপাশি মৎস্যজীবী ও বন্দরের কয়েক হাজার শ্রমিকের পরিবার তাদের জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। সবার একটাই আশা, ট্রলারভর্তি করে জেলেরা ইলিশ নিয়ে ফিরবেন।

আড়তদার শাহ আলম বলেন, সাগরে ইলিশ শিকারে যাওয়া কয়েকজন জেলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ সম্ভব হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, দু-তিন ধরে তারা সাগরে জাল ফেলে প্রচুর ইলিশ পাচ্ছেন। ইলিশ নিয়ে দু-একদিনের মধ্যেই তারা ফিরবেন।

মৎস্য অধিদফতরের বরিশাল জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তা (ইলিশ) ড. বিমল চন্দ্র দাস জানান, সাগরে নির্দিষ্ট সময় মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন, অভয়াশ্রমগুলোতে জাটকা ধরা বন্ধ এবং নিষিদ্ধ সময়ে মা ইলিশ ধরা বন্ধের কারণে ইলিশের উৎপাদন দিনে দিনে বেড়েছে। তবে এবার করোনার কারণে টানা ৬৬ দিন বরিশাল-ঢাকা নৌপথে বন্ধ ছিল লঞ্চ চলাচল। দেশের ছয়টি অভয়াশ্রমের চারটি বরিশাল বিভাগে। ওই সময়ে লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় অভয়াশ্রম চারটিসহ বিভাগের বিভিন্ন নদ-নদীতে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ অবাধে বিচরণ করতে পেরেছে। পাশাপাশি লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় পানিতে দূষণ কমেছে। সাগরেও দূষণ কমেছে। এতে ইলিশের বংশবিস্তার ও প্রজননসহ সবকিছুই বাড়বে বলে ধারণা করছি।

‘শুধু তাই নয়, হারিয়ে যাওয়া দেশীয় প্রজাতির অনেক মাছই আবার নতুন করে নদীতে ফিরে এসেছে। অভিজ্ঞতা বলছে, এবার বেশি ইলিশ পাওয়া যাবে। আমাদের ধারণা ইলিশ উৎপাদনে এবার বিগত দিনের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।’

ড. বিমল চন্দ্র দাস জানান, কয়েক বছর ধরেই দেশের মোট ইলিশের ৬৬ ভাগের বেশি আহরিত হচ্ছে বরিশাল বিভাগ থেকে। এ বিভাগ থেকে গতবার আহরিত হয়েছিল তিন লাখ ৩২ হাজার ২৫ মেট্রিক টন। বরিশাল বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইলিশের জোগান দেয় ভোলা, বরগুনা ও পটুয়াখালী। বিভাগে জেলের সংখ্যা তিন লাখ ৫২ হাজার ৭২৪ জন। এর মধ্যে প্রায় দুই লাখ জেলের বসবাস ভোলা, বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলায়। ওই তিন জেলার বেশির ভাগ জেলে সাগর মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর প্রায় ১০ হাজার ইঞ্জিনচালিত নৌযানে সাগরে গেছেন অর্ধ লক্ষাধিক জেলে। এখন তাদের ইলিশ নিয়ে ফেরার পালা। এছাড়া ট্রলারমালিক, শ্রমিক ও পাইকারসহ মৎস্য ব্যবসা সংশ্লিষ্ট কয়েক লাখ মানুষের আয়ের অন্যতম উৎস ইলিশ ঘিরেই। তাই ইলিশ উৎপাদন বেশি হলে এর সুফল পাবেন তারা।

ইলিশ আহরণে ছাড়াবে রেকর্ড, অপেক্ষা আর দু-একদিন
ইলিশ আহরণে ছাড়াবে রেকর্ড, অপেক্ষা আর দু-একদিন

বরিশাল পোর্টরোড আড়তদার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অজিত কুমার দাস মনু জানান, মোকামে ইলিশের সরবারহ বেড়েছে। দুই সপ্তাহ আগে প্রতিদিন গড়ে ২৫০ মণের মতো ইলিশ আমদানি হতো। সেখানে গত এক সপ্তাহে ইলিশ আমদানি প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত ৪৫০ মণের বেশি ইলিশ আমদানি হয়েছে। তবে সাগরের ইলিশ এখনও আসতে শুরু করেনি। সাগর থেকে জেলেরা ফিরতে শুরু করলে প্রতিদিন হাজার হাজার মণ ইলিশ আমদানির আশা করছি।

তিনি আরও জানান, ইলিশের মৌসুম কেবল শুরু হয়েছে। তবে উজানে নদ-নদীতে প্রচুর স্রোত বইছে সাগরের দিকে। স্রোতের বাধার কারণে ইলিশ নদীতে আসতে পারছে না। এ কারণে নদ-নদীতে ইলিশ তেমন মিলছে না। সাগরের মোহনায় ইলিশ মিলছে। সামনে পূর্ণিমার জো। এরপর থেকে নদ-নদী ও সাগরে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়বে বলে আশা করছি। তখন দামও কমে যাবে।

দামের বিষয়ে অজিত কুমার দাস মনু জানান, বৃহস্পতিবার পোর্ট রোড মোকামে দেড় কেজি সাইজের ইলিশের মণ বিক্রি হয়েছে ৪৫ হাজার টাকায়। সে হিসাবে প্রতি কেজি ইলিশের পাইকারি দাম পড়ে এক হাজার ১২৫ টাকা। এক কেজি সাইজের ইলিশের মণ বিক্রি হয়েছে ৩৬ হাজার টাকায়। সে হিসাবে প্রতি কেজির দাম পড়েছে ৯০০ টাকা। রফতানিযোগ্য এলসি আকারের (৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম) প্রতি মণ ২৮ হাজার টাকা। সে হিসাবে প্রতি কেজি ইলিশের পাইকারি দাম পড়ে ৭০০ টাকা। হাফ কেজি বা ভেলকা আকারের (৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম) ২৪ হাজার টাকা। কেজিপ্রতি এই ইলিশের পাইকারি দাম পড়ে ৬০০ টাকা। গোটরা আকারের (২৫০ গ্রাম থেকে ৩৫০ গ্রাম) প্রতি মণ ১৬ হাজার টাকা, কেজিপ্রতি পাইকারি দাম দাঁড়ায় ৪০০ টাকায়। জাটকা প্রতি মণ পাইকারি বিক্রি হয়েছে ১৪ হাজার টাকায়। সে হিসাবে প্রতি কেজি জাটকার পাইকারি দাম পড়ে মাত্র ৩৫০ টাকা।

মৎস্য অধিদফতর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক আজিজুল হক জানান, নিরাপদ প্রজননে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ায় প্রতি বছরই ইলিশের উৎপাদন বাড়ছে। দেশে এবার এক লাখ মেট্রিক টন ইলিশ বেশি আহরণের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগেই ৬০ থেকে ৭০ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ বেশি আহরিত হবে বলে আশা করছি।

সাগর কিংবা নদী, যেখানেই ধরা পড়ুক না কেন, এই মৌসুমে ইলিশ উৎপাদন বাড়বে জানিয়ে আজিজুল হক আরও বলেন, দেশে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মোট ইলিশ আহরিত হয় পাঁচ লাখ ১৭ হাজার ১৮৮ মেট্রিক টন। চলতি অর্থবছরে তা আরও বাড়বে। ধারণা করা হচ্ছে, এ বছর ইলিশ উৎপাদনে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। দেশে এবার ছয় লাখ মেট্রিক টনের বেশি ইলিশ আহরিত হবে বলে আশা করছি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

জেলের জালে ৩ কেজি ওজনের রাজা ইলিশ

জেলের জালে ৩ কেজি ওজনের রাজা ইলিশ
জেলের জালে ৩ কেজি ওজনের রাজা ইলিশ

ভোলায় জেলের জালে ধরা পড়েছে তিন কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের রাজা ইলিশ। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১০-১২ হাজার টাকা। তবে ওই ইলিশটি মনপুরা উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের জেলে কাদির মাঝি ভালোবেসে তার পছন্দের ব্যক্তি ইউপি চেয়ারম্যান অলি উল্লা কাজলকে উপহার দিয়েছেন।

জেলে কাদের মাঝি জানান, উপজেলার চরনিজাম এলাকার বঙ্গোপসাগর মোহনায় মেঘনা নদীতে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে তার জালে অনেকগুলো ইলিশ ধরে পড়ে। তার সঙ্গে উঠে আসে ৩ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের রাজা ইলিশটি। মাছটি পেয়ে অনেক খুশি তিনি।

কাদের মাঝি বলেন, বাজারে মাছটি বিক্রি করলে ১০-১২ হাজার টাকা পেতাম। কিন্তু মাছটি আমি আমার পছন্দের মানুষ দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অলি উল্লা কাজলকে উপহার দিয়েছি।

চেয়ারম্যানকে মাছ উপহার দেয়ার কারণ জানতে চাইলে জেলে কাদের মাঝি বলেন, চেয়ারম্যান অলি উল্লা কাজল একজন সৎ ও ভালো মানুষ। তিনি সব সময় মানুষের উপকারে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। তাই আমি তাকে এ সামান্য উপহার দিয়েছি।

দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান অলি উল্লা কাজল বলেন, মাছটি আমাকে জেলে কাদের মাঝি ভালোবেসে উপহার দিয়েছে। কিন্তু আমি বেশি খুশি হতাম যদি সে মাছটি বাজারে বিক্রি করে লাভবান হতো।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এসএম আজাহারুল ইসলাম জানান, গত কয়েক দিন ধরে বৃষ্টির কারণে সাগর থেকে বড় বড় ইলিশ ঝাঁকে ঝাঁকে নদীতে ছুটে আসছে। যে কারণে বর্তমানে জেলেরা নদীতে প্রচুর ইলিশ পাচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com