আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বিশ্ব

‘রঙ ফর্সা না কালো’ : গাত্রবর্ণ নিয়ে নিজ জাতির কাছেই যারা বৈষম্যের শিকার

দোকানে বিক্রি হচ্ছে ফেয়ার এন্ড লাভলির সামগ্রী
দোকানে বিক্রি হচ্ছে ফেয়ার এন্ড লাভলির সামগ্রী

গায়ের রঙ নিয়ে বৈষম্য মোটামুটি সব সমাজেই আছে।

একই জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে যাদের গায়ের রঙ একটু ফর্সা বা হালকা তারা একটু বেশি সুবিধা পেয়ে থাকে। বিশ্বের প্রায় সব সমাজে এর মারাত্মক প্রভাব থাকলেও এনিয়ে আলোচনা খুব কমই হয়।

হার্ষারিন কাউর বেড়ে উঠেছেন নিউজিল্যান্ডে। বড় হয়ে প্রথমবারের মতো তার পূর্ব পুরুষের দেশ ভারতে বেড়াতে গিয়ে একটা জিনিস দেখে তিনি খুবই অবাক হন। আর সেটা হলো গায়ের রঙ পরিবর্তন করার ব্যাপারে সামাজিক চাপ।

চারপাশে সিনেমার যেসব বিলবোর্ড লাগানো সেসব দেখে মনে হয় যাদের গায়ের রঙ ফর্সা বা হালকা শুধু সেসব নারী পুরুষরাই যেন এই শিল্পে সফল হতে পেরেছে।

টেলিভিশনেও ত্বকের যত্ন নেওয়ার যেসব সামগ্রীর বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয় সেগুলোতে জোর দিয়ে বলা হয় যেসব নারীর গায়ের রঙ ফর্সা তারা চাকরি, স্বামী ও সুখ খুঁজে পায়।

“নিউজিল্যান্ডে আমি কখনো গার্নিয়ে কিম্বা ল’রিয়াল কোম্পানিকে কখনো তাদের পণ্যের প্রচারণা চালাতে দেখিনি। কিন্তু ভারতে এনিয়ে সবখানেই বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে,” বলেন কাউর, যিনি ইন্সটাগ্রামে দ্য ইন্ডিয়ান ফেমিনিস্ট নামে জনপ্রিয় একটি পাতা পরিচালনা করেন।

ব্যাপক সমালোচনার মুখে ল’রিয়াল কোম্পানি ২০২০ সালের জুন মাসে ঘোষণা করে যে তারা ত্বক সংক্রান্ত তাদের সকল পণ্য থেকে “শাদা”, “ফর্সা” এবং “হালকা” এই শব্দগুলো তুলে নেবে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে গায়ের রঙ ফর্সা করার কথা বলে এসব পণ্যের বড় আকারের বাজার গড়ে উঠেছে।

এসব দেশের মানুষের গায়ের রঙ সাধারণত একটু কালো হয়। বিষুবরেখার কাছাকাছি অবস্থানের কারণে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা পেতে গায়ের এই রঙ প্রয়োজনীয়।

বৈষম্য ও কালারিজম

একই জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে যাদের গায়ের রঙ ফর্সা বা হালকা তাদের সঙ্গে বাকিদের যে বৈষম্য তাকে বলা হয় কালারিজম।

কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে প্রচুর আলোচনা হয়। তবে দক্ষিণ এশীয়দের মধ্যে এটা নিয়ে তেমন কথাবার্তা হয় না, যদিও এসব দেশে গায়ের রঙ নিয়ে অনেকে মানসিক যন্ত্রণায় ভোগেন, এমনকি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে থাকে।

আইভোরি কোস্টে রঙ ফর্সা করার বিজ্ঞাপন
আইভোরি কোস্টে রঙ ফর্সা করার বিজ্ঞাপন

তবে ২০২০ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে জর্জ ফ্লয়েডের হত্যাকাণ্ডের পর বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভ এবং বর্ণবাদ নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার সমাজেও লোকজন গায়ের রঙ সংক্রান্ত বৈষম্য বা কালারিজম নিয়ে আলোচনা করছে।

নেটফ্লিক্সের নতুন একটি রিয়েলিটি সিরিজ ‘ইন্ডিয়ান ম্যাচ-মেকিং’ নিয়েও বিতর্ক হচ্ছে যেখানে কাঙ্ক্ষিত পাত্র পাত্রী খুঁজতে গিয়ে ফর্সা পাত্রপাত্রীকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

এসব প্রতিবাদের মুখে লোকজন এখন এধরনের পণ্যের বিরুদ্ধে আগের চেয়ে আরো বেশি সোচ্চার হয়েছে।

‘ফেয়ার এন্ড লাভলি’

কোন কোন কোম্পানি এসব প্রতিবাদে সাড়া দিয়েছে। ফেয়ার এন্ড লাভলি ব্র্যান্ডের মালিক কোম্পানি ইউনিলিভার ঘোষণা করেছে ত্বক সংক্রান্ত তাদের যেসব পণ্য আছে সেগুলো থেকে “সুন্দর”, “ফর্সাকারী” এবং “রঙ হালকা করে” এধরনের কথা সরিয়ে নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ফেয়ার এন্ড লাভলির নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম দেওয়া হবে গ্লো এন্ড লাভলি।

কোম্পানির একজন মুখপাত্র বলছেন, ব্রান্ডের নাম পরিবর্তনের জন্য যা যা করা দরকার সেগুলো ইতোমধ্যেই করা হচ্ছিল কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর কারণে এই প্রক্রিয়া আরো ত্বরান্বিত হয়েছে।

এর মধ্যে ফেয়ার এন্ড লাভলির পণ্য দোকানের শেল্ফ থেকে সরিয়ে নেয়ারও আবেদন জানিয়েছে অনেকে। এই মর্মে একটি পিটিশনও শুরু হয়েছে।

এধরনের পণ্য বিক্রি অব্যাহত রেখে বর্ণবাদের সমালোচনা করায় ইউনিলিভারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যালেন জোপেরও নিন্দা জানানো হচ্ছে সোশাল মিডিয়ায়।

উল্লেখ্য যে ইউনিলিভার তাদের পণ্য বিক্রি করে বছরে আড়াইশো মিলিয়ন পাউন্ড আয় করে থাকে।

একই সাথে ফেয়ার এন্ড লাভলির নাম পরিবর্তন করে গ্লো এন্ড লাভলি করার সিদ্ধান্তে ইউনিলিভারের প্রশংসাও করছে কেউ কেউ। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নাম পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়। কারণ এই পণ্যগুলো এখনও বাজারে রয়ে গেছে।

নতুন নামেরও সমালোচনা

“আমি জানি না এটি ভিন্ন কিছু কিনা। আমি তাদের প্রশংসা করি কারণ তারা নাম বদল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সম্ভবত এটিই সবচেয়ে পরিচিত ব্র্যান্ড। তবে আমি নতুন নাম গ্লো এন্ড লাভলি দেখে হতাশ হয়েছি। কারণ গ্লো হচ্ছে ফর্সাকারীর মতোই আরেকটি শব্দ,” বলেন নিক্কি খান্না, ভারমন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজ বিজ্ঞানের অধ্যাপক, যিনি গায়ের রঙ এর কারণে বৈষম্য নিয়ে ২০ বছর ধরে গবেষণা করছেন।

“গ্লো শব্দটি বলতে যা বোঝায় এবং বছরের পর বছর ধরে তারা যেসব বিজ্ঞাপন প্রচার করেছে তার অর্থ একই। এতে রঙ ফর্সা করাকেই বোঝানো হচ্ছে। আমি আশা করবো তারা এতে পরিবর্তন আনবে। এই পরিবর্তন মানে এসব পণ্য পুরোপুরি সরিয়ে ফেলা।”

কালারিজমের পরিণতি

এবিষয়ে যদিও খুব বেশি গবেষণা হয়নি, তার পরেও কয়েকটি সমীক্ষায় দেখা গেছে কালারিজমের ফলে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে থাকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব পড়ে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে এশীয়-আমেরিকান নারীদের বিষণ্ণতার সাথে গায়ের রঙ কালো হওয়ার কুসংস্কারের সম্পর্ক রয়েছে।

দোকানে সজ্জিত প্রসাধনী সামগ্রী
দোকানে সজ্জিত প্রসাধনী সামগ্রী

“ইতিহাসে দেখা যায় যে অনেক সমাজেই গায়ের রঙ কালো হওয়াকে খারাপ বিষয় হিসেবে দেখা হয়। ধরে নেওয়া হয় যে তারা ‘নোংরা’ এবং ‘কম শিক্ষিত।’ সময়ের সাথে সাথে বিভিন্ন সংস্কৃতিতে এই ধারণাই চলে এসেছে,” বলেন এলিজিয়া ট্র্যান, অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং এই গবেষণার সাথেও তিনি যুক্ত ছিলেন।

“দক্ষিণ এশীয় সমাজে এরকম বহু বছর ধরেই চলে আসছে। সেখানে জাতপাতের সাথে সামাজিক অবস্থানের একটা সম্পর্ক রয়েছে।”

ভারতীয় বিয়ে শাদি

ভারতীয় সমাজে গায়ের রঙ নিয়ে এই বৈষম্য অনেক বেশি প্রকাশ পায় বিয়ে শাদির ঘটনায়। এসময় সাধারণত মুরুব্বিরা গায়ের রঙ-এর বিষয়টি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে সাধারণত পিতামাতারা তাদের সন্তানদের বিয়ে ঠিক করেন। সম্ভাব্য পাত্র পাত্রী ও তাদের পরিবার দেখেই তারা বর ও কণে পছন্দ করে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে তাদের অনুমতির পরেই বিয়ে সম্পন্ন হয়।

তবে সময়ের সাথে সাথে এখন তরুণ তরুণীদের নিজেদের পছন্দে জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার প্রবণতাও বাড়ছে, যাকে বলা হয় লাভ ম্যারেজ বা প্রেম করে বিয়ে।

কখনও কখনও এনিয়ে পরিবারের সঙ্গে তাদের বিরোধের ঘটনাও ঘটে।

ভারতে পারিবারিক-ভাবে যেসব বিয়ে হয় তার ওপর চালানো এক গবেষণায় দেখা গেছে যে হবু শাশুড়িরা যেসব মেয়ের গায়ের রঙ কালো তাদেরকে পুত্রবধূ হিসেবে গ্রহণ করতে চান না। ঘরে তোলার জন্য তারা ফর্সা রঙের মেয়েদেরকেই প্রাধান্য দেন।

পারিবারিক বিয়ের বিজ্ঞাপন

গবেষণার এসব ফলাফলে বিস্মিত হওয়ার মতো কিছু নেই।

পরিবারের উদ্যোগে যেসব বিয়ে হয় এবং তার জন্য পত্রিকায় দেওয়া ‘পাত্র চাই’ ‘পাত্রী চাই’ বিজ্ঞাপনের মধ্যেও সেটা পরিষ্কার। সেখানে দশকের পর দশক ধরে ফর্সা মেয়েদেরকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

পাত্রীর পরিবার থেকে দেওয়া বিজ্ঞাপনেও মেয়ের রঙ যে ফর্সা সেটি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়ে থাকে।

পাত্র পাত্রী সন্ধান করার যেসব ওয়েবসাইট আছে সেখানেও ত্বকের রঙ এর কথা উল্লেখ করে ফিল্টার করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সেখানে জানতে চাওয়া হয় আপনি ‘ফর্সা’, ‘গমের মতো’ নাকি ‘শ্যামলা’ কোন ধরনের পাত্রী চান। এসব সিলেক্ট করে করে আপনি আপনার পছন্দের মতো জীবনসঙ্গী খুঁজে নিতে পারেন।

বলিউড মুভির পোস্টারে ফর্সা নায়ক নায়িকা
বলিউড মুভির পোস্টারে ফর্সা নায়ক নায়িকা

স্কিন ফিল্টার

“পত্র পত্রিকার বিজ্ঞাপনে গায়ের রঙ এর কথা উল্লেখ করা হতো পাত্র-পাত্রী বাছাইর এর ক্ষেত্রে ফিল্টারিং এর জন্য। তাতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। মানুষের মতো কোম্পানিরও পরিবর্তন ঘটেছে। চার থেকে পাঁচ বছর আগে আমরা এই স্কিন ফিল্টার পরিহারের সিদ্ধান্ত নেই,” বলেন আধিশ জাভেরি, শাদিডটকমের মার্কেটিং বিভাগের পরিচালক।

কিন্তু স্কিন ফিল্টারের এই ছায়া ওয়েবসাইটে রয়ে গেছে: ব্যবহারকারীরা সেখানে গিয়ে পাত্র পাত্রীর স্কিন টোন বা গায়ের রঙ সিলেক্ট করতে পারেন।

এই খবরটি যখন উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় নারীদের একটি ফেসবুক গ্রুপের কাছে গিয়ে পৌঁছালো তারা বিষয়টি শাদিডটকমের নজরে আনার জন্য সাথে সাথেই এর বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাতে শুরু করে দিল।

“২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমরা দেড় হাজার স্বাক্ষর পেয়ে গেলাম,” বলেন হেতাল লাখানি, টেক্সাসে ডালাসের একজন বাসিন্দা যিনি এই পিটিশন শুরু করেছিলেন।

“এর পর শাদিডটকম ফিল্টারটি উঠিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়।”

সাংস্কৃতিক পরিবর্তন

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে অতীতে গায়ের রঙ নিয়ে বৈষম্য বা কালারিজমের বিষয়ে খুব একটা নজর দেওয়া হয়নি। কিন্তু বর্তমানে সোশাল মিডিয়া ও ইন্টারনেটের কারণে এই মানসিকতায় পরিবর্তন ঘটছে।

পুরুষদের টার্গেট করেও বাজারে এধরনের পণ্য ছাড়া হচ্ছে
পুরুষদের টার্গেট করেও বাজারে এধরনের পণ্য ছাড়া হচ্ছে

এবিষয়ে একটি বই লিখেছেন ভারতীয়-আমেরিকান নারী নিক্কি খান্না: এশিয়ান আমেরিকান উইমেন অন স্কিন কালার এন্ড কালারিজম। তাতে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন নারীর এসংক্রান্ত ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি বলেছেন, “কালারিজমের মতো বিষয়ের ওপর আলোচনা আজকের ডিজিটাল জগতে কীভাবে বদলে যাচ্ছে তার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ এই বই।”

সোশাল মিডিয়ায় প্রচারণা

নিক্কি খান্না এই প্রকল্পটি শুরু করেছিলেন ২০১৭ সালে ফেসবুকে এসংক্রান্ত অভিজ্ঞতা শেয়ার করার আহবান জানিয়ে।

তিনি বলেন, “সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে আমি আমি আমার নিজের নেটওয়ার্কের বাইরের নারীদের কাছে পৌঁছাতে পেরেছি।।”

নিক্কি খান্না জানান, শুরুতে তিনি অবাক হয়েছিলেন কালারিজম যে এশীয় নারীদের জন্য একটি সমস্যা সেবিষয়ে তাদের কোন ধারণা ছিল না।

কিন্তু পরে এই ধারণায় পরিবর্তন ঘটেছে। তাতে বড়ো ধরনের ভূমিকা রেখেছে সোশাল মিডিয়াতে চলা বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা। তার মধ্যে রয়েছে ডার্ক ইজ বিউটিফুল বা কালোই সুন্দর এবং হ্যাশট্যাগ দিয়ে ব্রাউন ইজ বিউটিফুল – এধরনের ক্যাম্পেইন।

সেখানে দক্ষিণ এশীয় নারীরা এবিষয়ে কথা বলার সুযোগ পায় এবং এক পর্যায়ে নিরবতা ভেঙে তারা মুখ খুলতে শুরু করে।

সোশাল মিডিয়া যে শতাব্দী-প্রাচীন এসব বিশ্বাস ভেঙে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে সেবিষয়ে এলিজিয়া ট্র্যানও একমত।

কালারিজমের কথা যারা তুলে ধরছেন তাদের বেশিরভাগই নতুন প্রজন্মের। তারা বুঝতে পারছেন গায়ের রঙ নিয়ে যে বৈষম্য তাতে জেনারেশন গ্যাপের ভূমিকা রয়েছে।

“সামান্য একটু আলোচনা, অল্প কিছু কথাবার্তা- এসব অনেক বড় বিষয়। এসবের মাধ্যমে আমরা সমাজের অনেক কুসংস্কার থেকে বের হয়ে আসতে পারবো,” বলেন এলিজিয়া ট্র্যান।

  • পুরুষদের টার্গেট করেও বাজারে এধরনের পণ্য ছাড়া হচ্ছে

    পুরুষদের টার্গেট করেও বাজারে এধরনের পণ্য ছাড়া হচ্ছে

  • বলিউড মুভির পোস্টারে ফর্সা নায়ক নায়িকা

    বলিউড মুভির পোস্টারে ফর্সা নায়ক নায়িকা

  • দোকানে সজ্জিত প্রসাধনী সামগ্রী

    দোকানে সজ্জিত প্রসাধনী সামগ্রী

  • আইভোরি কোস্টে রঙ ফর্সা করার বিজ্ঞাপন

    আইভোরি কোস্টে রঙ ফর্সা করার বিজ্ঞাপন

  • দোকানে বিক্রি হচ্ছে ফেয়ার এন্ড লাভলির সামগ্রী

    দোকানে বিক্রি হচ্ছে ফেয়ার এন্ড লাভলির সামগ্রী

  • পুরুষদের টার্গেট করেও বাজারে এধরনের পণ্য ছাড়া হচ্ছে
  • বলিউড মুভির পোস্টারে ফর্সা নায়ক নায়িকা
  • দোকানে সজ্জিত প্রসাধনী সামগ্রী
  • আইভোরি কোস্টে রঙ ফর্সা করার বিজ্ঞাপন
  • দোকানে বিক্রি হচ্ছে ফেয়ার এন্ড লাভলির সামগ্রী

এগ্রোবিজ

সীমান্তে আটকে থাকা পেঁয়াজের ট্রাক ছাড়ার অনুমতি দিল ভারত

অবশেষে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সীমান্তে আটকে থাকা পেঁয়াজবোঝাই ট্রাক বাংলাদেশে রপ্তানির জন্য শুল্ক বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকার। গতকাল সন্ধ্যায় এ নির্দেশ দেওয়া হয়।  
ভারতে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি এবং উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় গত সোমবার এক নির্দেশে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারত সরকারের বাণিজ্য বিভাগের বৈদেশিক বাণিজ্য শাখা। নিষেধাজ্ঞার ফলে পশ্চিমবঙ্গের বেনাপোল-পেট্রাপোল, ঘোজাডাঙ্গা, মহদিপুর, হিলিসহ বিভিন্ন স্থল সীমান্তে আটকে পড়ে প্রায় এক হাজার পেঁয়াজবোঝাই ট্রাক।

পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় ক্ষুব্ধ হন ভারতের রপ্তানিকারক ও বাংলাদেশের আমদানিকারকেরা। উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান। বাংলাদেশ থেকেও পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অনুরোধ আসে।

এদিকে দিল্লিতে গতকাল ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সীমান্তে যেসব পেঁয়াজবোঝাই ট্রাক বাংলাদেশে রপ্তানির পথে আটকে পড়েছে, সেসব ট্রাক অবিলম্বে ছেড়ে দেওয়ার। এ–সংক্রান্ত নির্দেশও দেওয়া হয় ভারতের শুল্ক বিভাগকে।
নির্দেশনায় বলা হয়, ভারত সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে দৃঢ় রাখার জন্য ২৫ হাজার টন পেঁয়াজ বাংলাদেশে রপ্তানির বিশেষ অনুমতি দিয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

শীতের সবজি যাচ্ছে বিদেশে

শীতের সবজি যাচ্ছে বিদেশে

ঠাকুরগাঁওয়ের মাঠজুড়ে এখন সবজি আর সবজি। ফুল ও বাঁধাকপি, মুলা, করলা, বেগুনসহ নানা তরিতরকারি। খেত থেকে তুলে সড়কের পাশে স্তূপ করে রাখছেন কৃষক-শ্রমিকেরা। সেখান থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন পাইকারেরা। ট্রাকে করে এ সবজি চলে যাচ্ছে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায়। রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও।

কৃষকেরা জানান, ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকেরা একটু আগেভাগে শীতের সবজির চাষ শুরু করেন। এবার অনেক কৃষক সবজি আবাদ করছেন। ফলন ভালো হয়েছে। দামও পাওয়া যাচ্ছে বেশ। এখন সবজিতে বাজার ভরে গেছে। উদ্বৃত্ত সবজি যাচ্ছে বাইরের জেলায়, এমনকি বিদেশেও।

সবজি থেকে শুধু কৃষকেরাই লাভবান হচ্ছেন, তা নয়। এলাকার অনেক নারীও নিয়মিত কাজ পাচ্ছেন। এ বিষয়ে বড়দ্বেশ্বরী গ্রামের মাহমুদা বেগম বলেন, কিছুদিন আগে এলাকায় নিয়মিত কাজ ছিল না। এখন সবজি খেতে সারা বছরই কাজ পাওয়া যায়। এতে তাঁর সংসার খরচ স্বাচ্ছন্দ্যে চলে যায়।

গত কয়েক দিন সদর উপজেলার বড়দেশ্বরী, পাটিয়াডাঙ্গী, আকচা, গড়েয়া ও নারগুন এবং রানীশংকৈলের রাউতনগর, নেকমরদসহ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, খেতে নানা জাতের শাকসবজি। কৃষক ও শ্রমিকেরা খেত থেকে সবজি তুলে সড়কের পাশে স্তূপ করে রাখছেন। সেখান থেকে পাইকারেরা নগদ টাকায় তা কিনে নিচ্ছেন। পরে তাঁরা সেগুলো ট্রাকে করে পাঠিয়ে দিচ্ছেন বিভিন্ন জেলায়।

সদর উপজেলার চামেশ্বরী গ্রামের মেহেদী আহসান উল্লাহ চৌধুরী ১৪ বিঘা জমিতে জৈব পদ্ধতিতে করলা, লাউ, শসা ও বেগুনের আবাদ করেছেন। কৃষিতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য তিনি ২০১৮ সালে ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার’ পেয়েছেন। তিনি বলেন, বাজারে জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত সবজির চাহিদা একটু বেশি। এ মৌসুমে সবজি চাষ করে তাঁর পাঁচ লাখ টাকার ওপরে আয় হয়েছে। তাঁর উৎপাদিত সবজি দেশের বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি এজেন্সির মাধ্যমে ইংল্যান্ড, দুবাই, বাহরাইন, সৌদি আরব, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা, হংকংসহ ১০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

এ উপজেলার ইয়াকুবপুর গ্রামের রজনীকান্ত রায় বলেন, ‘এ বছর এক একর জমিতে লাল ও নাপাশাক লাগিয়েছি। এ পর্যন্ত বিক্রি করে ৯০ হাজার টাকা পেয়েছি। খেতে যে পরিমাণ শাক আছে, তা বিক্রি করে কমপক্ষে আরও লাখখানেক টাকা পাওয়া যাবে।’

একই উপজেলার নারগুন এলাকার মো. সামসুদ্দিন চার বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করেছেন। প্রতিমণ বেগুন উৎপাদনে খরচ হয়েছে ৫০০ টাকা, বিক্রি হচ্ছে এক হাজার টাকার ওপর।

গত মঙ্গলবার শহরের সবজি আড়তে এক মণ বেগুন নিয়ে এসেছিলেন নারগুন গ্রামের হুরমত আলী। তিনি বলেন, কেজিপ্রতি ২০ টাকা দরে পাইকারি ব্যবসায়ীর কাছে সব বেগুন বিক্রি করে দিয়েছেন। এ দরে বেগুন বিক্রি করে খুশি তিনি। বললেন, যে দরে বেগুন বিক্রি হচ্ছে, তাতে ভালো লাভ থাকবে।

রানীশংকৈলের রাউতনগর গ্রামে সড়কের পাশে ফুলকপি ও বেগুন কিনছিলেন ঢাকা থেকে আসা পাইকার আবদুল জব্বার। তিনি বলেন, মুঠোফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে তিনি ঢাকার শ্যামবাজারের সবজির দর জেনে নেন। এরপর ওই দামের চেয়ে কিছুটা কমে খেতের পাশ থেকে সবজি কিনে নেন। এতে সবজি পরিবহনের খরচ ও লাভের টাকা উঠে যায়। তিনি আরও জানান, কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি মণ ফুলকপি ১ হাজার ২০০ টাকা দরে কিনেছেন। শ্যামবাজারে এক ট্রাক ফুলকপি বিক্রি করে কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকা হাতে থাকে।

এ উপজেলার রাউতনগর গ্রামের মাইকেল টুডু লাখ দু-এক টাকা খরচ করে চার বিঘা জমিতে ফুলকপি আবাদ করেছেন। উৎপাদিত ফসল খেত থেকে বিক্রি করেই পেয়েছেন চার লাখ টাকার ওপরে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর ঠাকুরগাঁওয়ে ৭ হাজার ২৪৮ হেক্টর জমিতে শীতের সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৫৬ হাজার ৭৫৭ মেট্রিক টন।

জানতে চাইলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফতাব হোসেন বলেন, এ জেলার উৎপাদিত সবজি স্থানীয় প্রয়োজন মিটিয়ে শুধু দেশের বিভিন্ন জায়গায় নয়, বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

সব সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী

উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় সবজির পাইকারি মোকাম বগুড়ার মহাস্থান হাটে সবজির বাজার এখন বেশ চড়া। হাটে শীতের নতুন সবজি উঠলেও তা নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে কেনা কঠিন।

মহাস্থান হাটে গতকাল রোববার পাকড়ী জাতের নতুন আলু বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ২০০ টাকা করে। এর প্রভাব পড়েছে পুরোনো আলুর বাজারেও। পুরোনো আলুর দাম গত তিন দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি ২ থেকে ৩ টাকা বেড়ে ২২ থেকে ২৯ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। পাতা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা কেজি দরে। সবচেয়ে বড় আগুন লেগেছে শসার বাজারে। গতকাল প্রতি কেজি শসা ২০০ টাকা করে বিক্রি হয়েছে। দুই দিন আগেও শসা বিক্রি হয়েছে ৭ টাকা কেজি দরে। অন্যান্য সবজির দামও ঊর্ধ্বমুখী।

সারা দেশে পেঁয়াজের দাম এখন প্রধান আলোচনার বিষয় হলেও এই হাটে এই পণ্যটি তেমন বিক্রি হয় না। এটি মূলত মৌসুমি সবজির পাইকারি মোকাম। হঠাৎ প্রায় সব সবজির ঊর্ধ্বমুখী দাম প্রসঙ্গে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, সম্প্রতি প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উত্তরাঞ্চলে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃষ্টিতে অনেক সবজির আবাদ নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে উৎপাদনে ঘাটতি পড়েছে।

গতকাল মহাস্থান হাট ঘুরে জানা গেছে, দুই দিনের ব্যবধানে ফুলকপি ও মুলার দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। বেড়েছে অন্যান্য সবজির দাম। 

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ কম থাকায় সবজির দাম দুই দিন ধরে বেড়েছে। কৃষকেরাও সরবরাহ কম থাকার বিষয়টি জানিয়েছেন।

আবদুস সালাম নামে হাটের এক ক্রেতা বলেন, ‘ক্রমাগতভাবে দেশে বিভিন্ন দ্রব্যের দাম সাধারণ মানুষের হাতের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এখন পেঁয়াজের বাজারে আগুন। আলুতে হাত দেওয়া যাচ্ছে না। এক কেজি শসার দাম ২০০ টাকা। এটা কল্পনা করা যায়!’

শিবগঞ্জের ডোমনপুকুর এলাকার কৃষক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, এবার আগাম সবজির উৎপাদন খারাপ হয়েছে। নতুন করে কিছু সবজি এর মধ্যে বাজারে উঠবে। তখন দাম কমতে পারে। বাজারের অন্তত ২০ জন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার বৃষ্টির কারণে তাঁদের অনেকের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তবে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবুল কাশেম আজাদ উৎপাদন কমের বিষয়টি মানতে চাননি। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বৃষ্টির পরেই চাষিরা সবজির চাষ বড় আকারে শুরু করেছেন। সেই সবজি বাজারে আসা শুরুও হয়েছে। ফলে বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কম হওয়ার কথা নয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক

আচমকা পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত কি রাজনৈতিক? প্রশ্নটা সরাসরি তুলে দিয়েছে অল ইন্ডিয়া কিষান সভা। কমিউনিস্ট প্রভাবিত এই কৃষক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অজিত নাভালের অভিযোগ, বিহার বিধানসভা ভোটের আগে সরকার পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে। তাই রপ্তানি নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস দলের (এনসিপি) নেতা শারদ পাওয়ারও। কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলকে তিনি বলেছেন, অবিলম্বে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হোক। না হলে আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের ভাবমূর্তিই শুধু নষ্ট হবে না, পাকিস্তানের বিপুল লাভ হবে।

দেশে পেঁয়াজের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় গত সোমবার কেন্দ্রীয় সরকার পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্ত পেঁয়াজ উৎপাদকদের ক্ষুব্ধ করেছে। বর্ষায় ফসলের মারাত্মক ক্ষতির পর সবে কৃষকেরা কিছুটা দাম পেতে শুরু করেছিলেন। রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেলে পেঁয়াজের বাড়তি দাম কমে যাবে। তাতে পেঁয়াজচাষিদের ক্ষতি মিটবে না। এ বছর বর্ষায় মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট ও কর্ণাটকে পেঁয়াজ চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

শারদ পাওয়ার গতকাল মঙ্গলবার পেঁয়াজ নিয়ে একাধিক টুইট করেন। তাতে তিনি এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। পাওয়ার বলেন, রাজ্যের পেঁয়াজচাষিরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। সমস্যার কথা বলেছেন। বিষয়টি তিনি বাণিজ্যমন্ত্রীকেও জানিয়েছেন। শারদ পাওয়ার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের আরজি জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীকে বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চল, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায় ভারতের অবস্থান এর ফলে নষ্ট হবে। উপকৃত হবে পাকিস্তান।

ভারতের বৃহত্তম পাইকারি পেঁয়াজের বাজার মহারাষ্ট্রের লাসালগাঁও। সেখানে মার্চ থেকে সেপ্টেম্বরে পেঁয়াজের পাইকারি দাম কেজিতে ২০ থেকে বেড়ে ৩৫–৪০ রুপি হয়ে যায়। এতে চাষিরা তাঁদের ক্ষতি কিছুটা মেটাতে পারছিলেন। রপ্তানি বন্ধ হওয়ায় এখন দেশে পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল হয়ে যাবে। চাষিদের উপকার হবে না।

কমিউনিস্ট সংগঠন অল ইন্ডিয়া কিষান সভা এই সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বলে মনে করছে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অজিত নাভালে বলেছেন, এই সিদ্ধান্তে শুধু মহারাষ্ট্র নয়, সারা দেশের সব পেঁয়াজচাষি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কৃষকেরা এখন রাস্তায় নেমে রপ্তানি বন্ধের প্রতিবাদ করছেন। সবাই বুঝতে পারছেন, বিহারের ভোটের দিকে তাকিয়েই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ, ভোটের আগে সরকার চাইছে না পেঁয়াজের দাম বাড়ুক।

রপ্তানি বন্ধের আগে দেশে খুচরা বাজারে পেঁয়াজের কেজি মানভেদে ৪০–৪৫ রুপিতে দাঁড়িয়েছিল। গত বছর দাম দ্বিগুণ বেড়ে গিয়েছিল। তখনও সরকার রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছিল। বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ কেনে ভারতের কাছ থেকে। গত বছর হুট করে রপ্তানি বন্ধ হওয়ার পর অক্টোবরে ভারত সফরে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে সময় তিনি পেঁয়াজের প্রসঙ্গটি তুলেছিলেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

এক রাতেই পেঁয়াজের দাম বাড়ল ১০-২০ টাকা

  • রাজধানীর বাজারে এক রাতের ব্যবধানে কেজিতে প্রায় ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে দেশি পেঁয়াজের দাম।
  • রাজধানীর অন্যতম বড় পাইকারি বাজার কারওয়ান বাজারে গিয়ে দেখা যায় প্রতি পাল্লা (১ পাল্লা= ৫ কেজি) পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়।
  • সকালে মালিবাগ বাজারে গিয়েও দেখা যায়, ১ কেজি পেঁয়াজ ৯০ টাকা চাইছেন বিক্রেতা।

রাজধানীর বাজারে এক রাতের ব্যবধানে কেজিতে প্রায় ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে দেশি পেঁয়াজের দাম। আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর অন্যতম বড় পাইকারি বাজার কারওয়ান বাজারে গিয়ে দেখা যায় প্রতি পাল্লা (১ পাল্লা= ৫ কেজি) পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়। কোনো কোনো বিক্রেতা এক পাল্লা ৪৫০ টাকাও চাইছে।

সকালে মালিবাগ বাজারে গিয়েও দেখা যায় একই পরিস্থিতি। ১ কেজি পেঁয়াজ ৯০ টাকা চাইছেন বিক্রেতা। জানতে চাইলে সব বিক্রেতারই একই কথা জানালেন, ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করেছে। ভারত থেকে পেঁয়াজ আসবে না তাই দাম বেড়েছে।

তবে বাজার ঘুরে দেখা গেল, ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের দামও এক রাতের মধ্যে বেড়েছে। এক পাল্লা বিক্রি হচ্ছে ২৯০ থেকে ৩০০ টাকায়।

এই দামেই অনেককে দেখা গেল পেঁয়াজ কিনতে। কারওয়ানবাজারে এক ক্রেতা জানালেন দাম আরও বাড়তে পারে তাই সকালেই পেঁয়াজ কিনতে এসেছেন তিনি।

গতকাল পেঁয়াজ রপ্তানি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধের ঘোষণা করেছে ভারত। গতকাল সোমবার দিনভর দেশের তিনটি প্রধান স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আসেনি। পরে রাতে ভারত সরকারের রপ্তানি বন্ধের নির্দেশনা দেশটির আমদানিকারকদের হাতে আসে।

এদিকে গতকাল বিকেল থেকেই অস্থির হয়ে পড়ে রাজধানীর পেঁয়াজের বাজার। রাজধানীর মসলাজাতীয় পণ্যের বড় পাইকারি বাজার শ্যামবাজারে গতকাল বিকেলের পর থেকে পেঁয়াজ বিক্রি কার্যত বন্ধ হয়ে যায় বলে জানান সেখানকার ব্যবসায়ীরা। আর কারওয়ান বাজারের আড়তে বেলা ৩টার দিকে যে দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৫৬ টাকা ছিল, সন্ধ্যা ৭টায় তা ওঠে ৭০ টাকায়। আর একই বাজারে ৪২ টাকা কেজির ভারতীয় পেঁয়াজ রাত ১০টায় হয়ে যায় ৫৬ টাকা।

আজ সকালে সেই দাম আরও বেড়েছে। এক কেজি ৯০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে।

গত বছরও ভারতের রপ্তানি বন্ধের ঘোষণায় অস্তির হয়ে ওঠে দেশের পেঁয়াজের বাজার। গত বছর ৩০ সেপ্টেম্বর রপ্তানি নিষিদ্ধ করে ভারত। এতে বাজারে হুহু করে বাড়তে শুরু করে দাম। দেশের বাজারে পেঁয়াজের দামে শতক হয়, দ্বিশতক হয়। বাংলাদেশ চাহিদা মেটাতে যতটুকু পেঁয়াজ আমদানি করে, তার ৯০ শতাংশের বেশি আসে ভারত থেকে। ভারত বন্ধ করে দিলেই কেবল ব্যবসায়ীরা অন্য দেশে পেঁয়াজ খুঁজতে শুরু করেন। বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি হয় পেঁয়াজ। পরে ভারত রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিল গত মার্চ মাসে। এরপর থেকে আমদানি হচ্ছিল।

এদিকে গতকাল পেঁয়াজের আমদানি শুল্ক কমানোর আবেদন নাকচ করল এনবিআর। কিছুদিন আগে পেঁয়াজের ওপর ৫% আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গতকাল তা নাকচ করে এনবিআর।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com