আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

পুকুরে রঙিন মাছের প্রজনন পদ্ধতি জেনে নিন

পুকুরে রঙিন মাছের প্রজনন পদ্ধতি জেনে নিন
পুকুরে রঙিন মাছের প্রজনন পদ্ধতি জেনে নিন

খুব সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ফেন্সি কার্প গার্ডেনের সড়ক ধরে হাঁটছিলেন পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তবিবুর রহমান। হঠাৎ মাছের পানি ঝাঁপটানোর শব্দে দৃষ্টি যায় ফেন্সি গার্ডেনের দিকে। প্রথমে ভূমিকম্প ভাবলেও দীর্ঘ সময় পর তা বন্ধ হওয়ায় পাশের পুকুরে দৃষ্টি যায়। সেখানকার পানি ছিল শান্ত। খেয়াল করলেন মাছগুলো যেন লাফাচ্ছে। বড় কোনো ক্ষতির শঙ্কায় ঘাবড়ে যান তিনি।

মাছের এমন আচরণে হতবাক হয়ে অজানা শঙ্কায় মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন শ্রীপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার সাথে। তিনি দ্রুতই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। মাছের আচরণ দেখে অনেকটা উৎফুল্ল হয়ে জানালেন, এখন এ প্রজাতির মাছের প্রজননের সময়। তাই ঘর খুঁজছে (ডিম ছাড়ার উপযুক্ত স্থান) রঙিন মাছগুলো। খুব কম সময়ের মধ্যে মাছগুলোর জন্য ঘরের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেন। দ্রুতই পাশের একটি পুকুর থেকে কচুরিপানা এনে দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই শান্ত হয়ে যায় বিদেশি রঙিন মাছগুলো।

পুকুরে রঙিন মাছের প্রজনন পদ্ধতি জেনে নিন
পুকুরে রঙিন মাছের প্রজনন পদ্ধতি জেনে নিন

পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তবিবুর রহমান জানান, ২০১৩ সালে ইন্দোনেশিয়া থেকে কিছু রঙিন কই কার্প আনা হয়েছিল। একেকটি মাছ ৫-৭ কেজি পর্যন্ত হয়। এদের আয়ুষ্কাল ৫-৭ বছর। ফেন্সি কার্প গার্ডেনে লাল, কমলা, সাদাসহ কয়েক রঙের কই কার্প রয়েছে। উন্মুক্ত পানিতে এরা স্বাধীনভাবে ছুটে বেড়ায়। কোথাও খাবারের সন্ধান পেলে প্রতিযোগিতা শুরু করে দেয়। সেখানে দলে দলে ভেসে ওঠে এবং ছোটাছুটি করে ভিড় জমায়।

তিনি জানান, আমাদের দেশে বসন্তে ওই মাছের প্রজনন হতে দেখা গেছে। এ সময় স্ত্রী মাছের পেটে ডিম হয়। পুরুষ মাছে শুক্রাণু তৈরি হয়। প্রজননকালে পুরুষ ও স্ত্রী মাছ জলাশয়ের কিনারে প্রজননের জন্য জায়গা খুঁজতে থাকে। স্ত্রী মাছকে পুরুষ মাছ তাড়া করে বেড়ায়। তখন পানিতে বেশ শব্দ সৃষ্টি হয়।

পুকুরে রঙিন মাছের প্রজনন পদ্ধতি জেনে নিন
পুকুরে রঙিন মাছের প্রজনন পদ্ধতি জেনে নিন

তিনি আরও জানান, প্রজননকালে পুরুষ মাছ স্ত্রী মাছের পেটে আঘাত করে। একপর্যায়ে স্ত্রী মাছ ডিম ছেড়ে দেয়। পুরুষ মাছ ওই ডিমের ওপর শুক্রাণু ছেড়ে দেয়। এতে ডিম্বাণু নিষিক্ত হয়। অনেক সময় নিষিক্ত ওই ডিম পরিণত মাছে খেয়ে ফেলতে পারে। তাই ডিমগুলো পুকুরের অলাদা স্থানে রেখে যত্ন নিলে তা থেকে পোনা উৎপন্ন হবে।

শ্রীপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আশরাফুল্লাহ জানান, ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্য মার্চ মাসে এরা প্রজনন করে। প্রতিটি মাছ ২-৩ হাজার ডিম দেয়। ডিমসহ কচুরিপানাগুলো পুকুরের পানিতে আলাদা করে হ্যাচিং নেটের ভেতরে রাখা হয়। এর ৭২ ঘণ্টা পর ডিমগুলো ফুটে পোনা তৈরি হয়।

তিনি জানান, এক কেজি ওজনের প্রতিটি মাছ ৩-৪ হাজার টাকা। ২০-৩০ দিন বয়সী পোনা মাছ ২শ’ থেকে ১ হাজার টাকা বিক্রি হয়। ১ বছর বয়সী মাছ প্রজননক্ষম হয়। খাওয়ার চেয়ে অ্যাকুরিয়ামে পালনের জন্য এ মাছের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

যোগাযোগ: এ ব্যাপারে সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ করতে ফিস এক্সপার্ট লিমিটেড এর ০১৭১২৭৪২২১৭ নম্বরে। 

এগ্রোবিজ

হারিয়ে যাচ্ছে বোয়াল, চাষ করবেন যেভাবে

 হারিয়ে যাচ্ছে বোয়াল, চাষ করবেন যেভাবে
হারিয়ে যাচ্ছে বোয়াল, চাষ করবেন যেভাবে

বোয়াল মাছ এখন বিপন্ন প্রায়। তবে বেশি বেশি চাষ করেই এর বংশ রক্ষা করা সম্ভব। কেননা প্রাকৃতিক অভয়াশ্রম নষ্ট হওয়ায় মাছটি আগের মত পাওয়া যায় না। তবে বোয়াল একটি রাক্ষুসে স্বভাবের মাছ। কাজেই এ মাছকে প্রজননের আওতায় এনে উৎপাদন করতে কয়েকটি বিশেষ দিকে খেয়াল রাখতে হয়।

বোয়াল মাছ মধ্য এপ্রিল থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত ডিম দেয়। প্রজননের সময় খুব সহজেই পুরুষ ও স্ত্রী মাছকে শনাক্ত করা যায়। প্রজনন মৌসুমে স্ত্রী মাছের পেটভর্তি ডিম থাকে আর পুরুষ মাছের পেট সাধারণ মাছের মত থাকে। তাছাড়া পুরুষ মাছের পেটে চাপ দিলে সাদা মিল্ট বের হয়। এভাবেই বোয়ালের পুরুষ-স্ত্রী শনাক্ত করা যায়।

বোয়াল মাছকে পিজি হরমোন দিয়ে ইঞ্জেকশন করলেই ডিম দিয়ে থাকে। প্রথম ডোজের সময় শুধু স্ত্রী মাছকে ইঞ্জেকশন দিতে হয়। ডোজের মাত্রা ২ মিগ্রা বা কেজি। ৬ ঘণ্টা পর দ্বিতীয় ডোজ দিতে হয় ৪ মিগ্রা বা কেজি।

দুটি পদ্ধতিতে বোয়ালের ডিম সংগ্রহ করা যায়। বোয়াল মাছকে পিজি হরমোন ইঞ্জেকশন দেওয়ার পর পুরুষ ও স্ত্রী মাছকে আলাদা আলাদা হাউসে রাখতে হয়। দ্বিতীয় ডোজের ৬ ঘণ্টা পর সাধারণত বোয়াল মাছ ডিম দিয়ে থাকে। খেয়াল রাখতে হবে, যখনই ২-১টি ডিম বের হবে; তখনই মাছগুলোকে একে একে হাউস থেকে তুলে আনতে হবে।

এবার স্ত্রী মাছের পেটে আস্তে করে চাপ দিলেই ডিম বের হবে। স্ত্রী মাছের ডিম বের করার পর তাৎক্ষণিকভাবে পুরুষ মাছের পেটে চাপ দিয়ে মিল্ট বের করে ডিমের উপর পাখির পালক দিয়ে ভালোভাবে মেশাতে হবে।

এরপর ডিমগুলোকে ২-৩ বার বিশুদ্ধ পানিতে পরিষ্কার করে ৩-৪ ইঞ্চি উচ্চতার পানির হাউসে রাখতে হবে। চিকন প্লাস্টিক পাইপকে ছিদ্র করে ঝর্ণার ব্যবস্থা করতে হবে। এভাবে ২০-২২ ঘণ্টার মধ্যেই ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে বের হবে।

 হারিয়ে যাচ্ছে বোয়াল, চাষ করবেন যেভাবে
হারিয়ে যাচ্ছে বোয়াল, চাষ করবেন যেভাবে

অন্যভাবে, পুরুষ ও স্ত্রী মাছকে হরমোন ইঞ্জেকশন দিয়ে একসাথে একটি বড় হাউসে ছেড়ে দিতে হবে। তাতে দ্বিতীয় ডোজের ৬ ঘণ্টার মধ্যেই প্রাকৃতিকভাবে এরা ডিম পারবে। ডিম পারা শেষ হলে ব্রুডমাছগুলোকে সর্তকতার সাথে সরিয়ে নিতে হবে। তারপর হাউসের পানি কমিয়ে ৩-৪ ইঞ্চি রেখে ছিদ্রযুক্ত পাইপ দিয়ে পানির ঝরনা দিতে হবে। এখানেও ২০-২২ ঘণ্টার মধ্যে ডিম থেকে বাচ্চা বের হবে।

তবে বোয়াল মাছের পোনা খুবই রাক্ষুসে। ডিম থেকে ফোটার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই একটি আরেকটিকে খেতে শুরু করে। অন্য মাছের রেণু পোনা ডিমের কুসুম বা ক্ষুদ্র আকৃতির প্ল্যাংকটন খেলেও বোয়ালের পোনা ডিমের কুসুম বা কোনো ধরনের প্ল্যাংকটন খায় না। সে ক্ষেত্রে তাদের জীবিত অবস্থায় মাছের রেণু বা পোনাকে খেতে দিতে হয়। এভাবে ৮-১০ দিনেই ২ ইঞ্চি সাইজের পোনায় পরিণত হয়।

বোয়াল মাছ এককভাবে চাষ করা যায় না। একটি আরেকটিকে খেতে খেতে শেষ পর্যন্ত আর বাকি থাকে না। তা ছাড়া কৃত্রিম খাবার না খাওয়ায় মাছগুলো খুব একটা বড়ও হয় না। তাই এদের বিভিন্ন মাছের সাথে চাষ করে ভালো ফল পাওয়া যায়। মজুদ ঘনত্ব মিশ্রচাষে প্রতি ৫ শতাংশে ১টি মাছ।

মাছ ছাড়ার সময় একটি দিকে খেয়াল রাখতে হবে, বোয়ালের পোনা যেন কোনো অবস্থায়ই পুকুরের অন্যান্য মাছের আকারের সমান না হয়। সে ক্ষেত্রে অন্যান্য মাছের ওজন যখন ১৫০-২০০ গ্রাম ওজন হবে; সেখানে ২ ইঞ্চি সাইজের বোয়ালের পোনা ছাড়তে হবে। আর তা না হলে বোয়াল দ্রুত বড় হয়ে অন্যান্য মাছ খেয়ে ফেলতে পারে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

বাংলাদেশে জিঙ্ক রাইস আপডেট

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

উত্তরের কৃষকরা বন্যার বিরুদ্ধে লড়াই করে

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

প্রাচীন খামার লেন ফার্মগুলি খরা দীর্ঘায় দাঁড়িয়ে আছে

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

তথ্য মহিলারা তথ্য-পরিষেবা বিপ্লব নিয়ে আসে

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com