আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফুল

রক্তরঙা রোজ ক্যাকটাস

চন্দ্রিমা উদ্যানে ফুটেছে রোজ ক্যাকটাস ফুল।
চন্দ্রিমা উদ্যানে ফুটেছে রোজ ক্যাকটাস ফুল

করোনাকালের ঈদ পেরিয়ে বৃষ্টিস্নাত সকাল। আগস্টের আবহে চন্দ্রিমা উদ্যানের প্রকৃতির এ এক অদ্ভুত বিষণ্নতা। কোনো গাছেই কোনো ফুল নেই। আগের মতো রোজ সকালে অনেক মানুষের জোর কদমে হাঁটা নেই। আছে কেবল চারদিকে প্রগাঢ় সবুজের আহ্বান। গাছের পাতা থেকে টুপটাপ করে বৃষ্টির কণা চুইয়ে পড়ছে সেসব ঘাসের ওপর। নেই খুব বেশি পাখিদের ডাকাডাকি, হকারদের আনাগোনা। ফুল দেওয়া শেষ করে নাগেশ্বরগাছগুলো এখন ফলভারানত। রাস্তার ধারে নতুন করে লাগানো হয়েছে কয়েকটা কেসিয়া ও জাকারান্ডার চারা।

দুই বছর আগেও চন্দ্রিমা উদ্যানে বেয়াড়াভাবে বেড়ে ওঠা ঝোপঝাড়ে বেশ কিছু বুনো ফুলের দেখা পেতাম। সেসব গাছ এখন পরিষ্কার করে ফেলা হয়েছে। নিবিড় বৃক্ষতরুর ঘন পত্রপল্লবে এখন কেবলই সবুজের মাখামাখি। একবারে পশ্চিম সীমানায় থাকা একটি নাগলিঙ্গমগাছের গা বেয়ে ফুটে রয়েছে অল্প কিছু ফুল।

এর মধ্যেও চন্দ্রিমা উদ্যানের একেবারে দক্ষিণ প্রান্তে মেমোরিয়াল হলের প্রবেশপথে একটি গাছে বেশ কয়েকটি ফুলের লাল কুঁড়ি উঁকি দিচ্ছে। অনেকবারই তা দেখেছি। সকালে কখনো ওগুলোকে ফুটতে দেখিনি। হঠাৎ এক দুপুরে গিয়ে সেসব কুঁড়ির ফুলগুলোকে দেখলাম ফুটে আছে। রক্তরঙা লাল ফুলগুলোর চেহারা অনেকটা বুনো গোলাপের মতো। কিন্তু গাছটা মোটেই গোলাপের মতো নয়। নরম আর রসাল ডালপালা। পুরু ভারী পাতা। ডালপালা ও পাতা ভাঙলে দুধের মতো কষ ঝরে। ডালের গায়ে তীক্ষ্ণ কাঁটা।

ডালের মাথায় একটি করে ফুল ফোটে। ফুলের উজ্জ্বল লাল রঙে আকৃষ্ট হয়ে দেখলাম খুদে খুদে মৌমাছি গুঞ্জন তুলে ওড়াউড়ি করছে। ফুলের মাঝখানে লাল একটি গোছায় কয়েকটা সরু ও খাটো সুতোর মতো পুরুষ কেশর। তার মাথায় খুদে বুটির মতো হলদে সাদা দানার পরাগধানী। কেন্দ্রস্থলে তারার মতো গর্ভমূল। এসব ধরে মৌমাছিটা লুটোপুটি খাচ্ছে।

এ ফুলে মৌমাছিরা আসে মধুর লোভে। ওরা তো মধু নিয়ে চলে যায়। আর ওদের ‘মাখব গায়ে ফুলের রেণু’ স্বভাবের কারণে ফুলটা গর্ভবতী হয়। বলধা গার্ডেনের একটা গাছে গত বছর ডিসেম্বরে দেখেছি রোজ ক্যাকটাসের বেশ কয়েকটা ফল। ফলগুলো ফানেলের মতো আকৃতির। পেকে হলুদ হয়ে নিষ্পত্র ডালের মাথায় দুলছিল। ভেতরে থাকে বীজ। বীজ থেকে চারা হয়। ডাল কেটেও চারা তৈরি করা যায়।

গাছটার নাম রোজ ক্যাকটাস। এ গাছকে ক্যাকটাস ভাবাই স্বাভাবিক, পরিবারও তা-ই বলে। কিন্তু সাধারণভাবে ক্যাকটাস বলতে আমরা যে ধরনের গাছকে বুঝি, রোজ ক্যাকটাস আবার তেমন নয়। ক্যাকটাসে সাধারণত পাতা থাকে না। থাকলেও খুব ছোট হয়। কিন্তু রোজ ক্যাকটাস গাছ সবুজ পত্রপল্লবে ঠাসা, কাণ্ড কাঁটাময়।

গাছটির উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Pereskia bleo, পরিবার ক্যাকটেসি। পেরেস্কিয়া গণের ১৭টি প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। এর মধ্যে পেরেস্কিয়া ব্লেও প্রজাতির উদ্ভিদ বাংলাদেশ, ভারত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া প্রভৃতি দেশে দেখা যায়। এ দেশে বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন পার্ক ও বাড়ির বাগানে গাছটি দেখা যায়। এ গাছের কিছু ভেষজ গুণ, জলশোধন ও পোকা তাড়ানোর ক্ষমতা আছে। গাছটির জন্ম ব্রাজিল ও মেক্সিকোর মধ্যবর্তী কোনো এক জায়গায়।

দৈনন্দিন

১৯৮ বছর পর…

বাংলাদেশের ভূখণ্ড থেকে ১৯৮ বছর পর খুঁজে পাওয়া গেল এ রকম প্রজাতির একটি অর্কিড

বাংলাদেশের বনবাদাড়ে ১৮৮ প্রজাতির অর্কিড জন্মে। এসব প্রজাতির মধ্যে ডেনড্রোবিয়াম গণের ২৭ প্রজাতির অর্কিড রেকর্ড করা হয়েছে। তবে অতীতে উদ্ভিদবিদ স্যার ডালটন হুকার এবং ডেভিড প্রেইনের ফ্লোরা অব ব্রিটিশ ইন্ডিয়া বেঙ্গল প্ল্যান্টস বইয়ে উল্লেখ করা অনেক প্রজাতির অর্কিড দ্বিতীয়বার দেখা যায়নি বাংলাদেশে। অনেক প্রজাতির নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। সাধারণত অতীতে রেকর্ড করা কোনো প্রজাতি যদি ১০০ বছর পর খুঁজে পাওয়া যায়, সেসব প্রজাতিকে ‘রিডিসকভারি’ প্রজাতি হিসেবে গণ্য করা হয়। বাংলাদেশের ভূখণ্ড থেকে ১৯৮ বছর পর খুঁজে পাওয়া গেল এ রকম প্রজাতির একটি অর্কিড। অর্কিড প্রজাতিটির বৈজ্ঞানিক নাম Dendrobium angulatum। ১৮২১ সালে ডিসিলভা প্রজাতিটির নমুনা তত্কালীন ব্রিটিশ বেঙ্গল থেকে সংগ্রহ করেছিলেন। সেই একমাত্র নমুনাটি সংগৃহীত আছে ইংল্যান্ডের কিউহার্বেরিয়ামে।

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বান্দরবানে পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইসাবেলা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে উদ্ভিদ গবেষক হিসেবে সাঙ্গু সংরক্ষিত বনে গিয়ে বনের মধ্যে একটি কেটে ফেলা গর্জনগাছের কাণ্ডের সঙ্গে এই অর্কিড খুঁজে পাই। তখন কোনো ফুল ছিল না, তাই প্রজাতি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পাতার ভিন্নতা দেখে আমি কয়েকটি অর্কিড নমুনা কেটে ফেলা গর্জনগাছের কাণ্ডসহ সংগ্রহ করি পরবর্তী সময়ে পর্যবেক্ষণের জন্য। ঢাকায় নিয়ে এসে বাসার বারান্দায় আলো-বাতাসময় জায়গায় পরিত্যক্ত কাণ্ডসহ গ্রিলের সঙ্গে বেঁধে রেখে প্রতিদিন পর্যবেক্ষণ করতে থাকি। ২০১৯ সালের মার্চ মাসের শেষ দিকে এটিতে ফুলের মঞ্জরি আসে এবং ৪ এপ্রিল প্রথম ফুল ফোটে। ফুল ফোটার পর এটিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। ছয়টি ফুল ফোটে ক্রমান্বয়ে, কিন্তু মাত্র একটি ফুল থেকে একটি ফল আসে মে মাসে। এক মাস পর ফলটি পরিপক্ব হয়ে ফেটে গিয়ে সাদা পাউডারের মতো বীজ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে বাতাসের মাধ্যমে।

সর্বশেষ ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ন্যাশনাল হার্বেরিয়াম থেকে প্রকাশিত চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের উদ্ভিদ নিয়ে মাঠপর্যায়ে জরিপ করা গবেষণাগ্রন্থ ভাস্কুলার ফ্লোরা অব চিটাগাং এন্ড চিটাগাং হিল ট্রাক্টস, ভলিয়ম-১ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে জরিপের সময় অর্কিডটি পাওয়া যায়নি। প্রজাতিটির বর্তমান অবস্থা অজানা। ২০১৭ সালে বাংলাদেশের অর্কিড নিয়ে প্রকাশিত একটি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধে এটিকে দেশ থেকে সম্ভাব্য হারিয়ে যাওয়া প্রজাতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তা ছাড়া ২০০৭ সালে এশিয়াটিক সোসাইটি থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশের উদ্ভিদ এবং প্রাণী বিশ্বকোষ, ভলিয়ম ১২ গ্রন্থে এটিকে মহাবিপন্ন প্রজাতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রজাতিটি বাংলাদেশে পুনরাবিষ্কার নিয়ে আমাদের একটি প্রবন্ধ ট্রপিক্যাল প্ল্যান্ট রিসার্চ নামক আন্তর্জাতিক পিয়ার রিভিউড জার্নাল–এ প্রকাশিত হয়েছে সম্প্রতি। প্রবন্ধটির সহযোগী লেখক হিসেবে আমার সঙ্গে আছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব এবং পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইসাবেলা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কবির বিন আনোয়ার এবং বাংলাদেশ জাতীয় হার্বেরিয়ামের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহবুবা সুলতানা।

২০১৯ সালের মার্চ মাসের শেষ দিকে এটিতে ফুলের মঞ্জরি আসে এবং ৪ এপ্রিল প্রথম ফুল ফোটে। ফুল ফোটার পর এটিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়

বাংলাদেশ ছাড়া এ অর্কিড মিয়ানমার, ভারতের আসাম, ভিয়েতনাম এবং থাইল্যান্ড থেকে রেকর্ড করা হয়েছে। এটি মূলত বৃষ্টিবহুল চিরহরিৎ বনের বড় গাছের কাণ্ডে ও শাখায় জন্মে। এটি পরাশ্রয়ী বিরুত। কাণ্ডের দৈর্ঘ্য ৪০ থেকে ১০০ সেমি। প্রতিটি শাখায় সর্বোচ্চ ১২টি পাতা থাকে। পাতা প্রশস্তভাবে সজ্জিত। ফলক রেখাকার থেকে আয়তাকার। পুষ্পমঞ্জরি একক পুষ্পযুক্ত। বাংলাদেশে এপ্রিল মাসে ফুল ধরে। এরা প্রায় ৯০০ মিটার উচ্চতায় জন্মাতে পারে। তবে সাঙ্গু বনের যেখানে পাওয়া গেছে, সে জায়গাটি সমুদ্রের সমতল থেকে ২৪৭ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত।

প্রজাতিটির উদ্যানতাত্ত্বিক গুরুত্ব রয়েছে। প্রজাতিটির কোনো ইংরেজি নাম জানা নেই। বাংলা নামও নেই। বাংলাদেশে অর্কিড প্রজাতি নিয়ে মাঠপর্যায়ে জরিপ ও গবেষণা করা দরকার।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

ঘুষ না দেওয়ায় ১০ বিঘা জমির ফুল বাগান ধ্বংস!

লেখক

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার মঙ্গলবাড়ি এলাকায় প্রায় ১০ বিঘা জমির ওপর তৈরি দুটি ফুল বাগানের গাছ কেটে উজাড় করার অভিযোগ উঠেছে। 

ভুক্তভোগী জাকারিয়া মণ্ডলের অভিযোগ, মঙ্গলবাড়ি শহীদ আব্দুল জব্বার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে দিনের বেলায় প্রকাশ্যে এ তাণ্ডব চালানো হয়। এতে তার প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় বাগান মালিক জাকারিয়া থানায় অভিযোগ করার পর ওই শিক্ষকও পাল্টা অভিযোগ দিয়েছেন।

জানা গেছে, মঙ্গলবাড়ি শহীদ আব্দুল জব্বার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ বিঘা জমি প্রতি বছর ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে লিজ নিয়ে আট বছর ধরে ফুল চাষ করে আসছিলেন পাশের জয়পুরহাট সদর উপজেলার আমদই গ্রামের জাকারিয়া মণ্ডল। লিজের মেয়াদ শেষে হয়ে গেছে বলে গত ১৩ অক্টোবর দুটি বাগানের সব গাছ কেটে দখলমুক্ত করেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক আজাদ।

জাকারিয়া মণ্ডলের অভিযোগ, লিজের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই লিজ নবায়নের জন্য স্কুলে যোগাযোগ করলে প্রধান শিক্ষক তার কাছে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ না দেওয়ায় লিজ নবায়ন নিয়ে টালবাহানা শুরু করেন। একপর্যায়ে তার বাগানই সাবাড় করে দেওয়া হয়। এতে তার বিরাট আর্থিক ক্ষতিসহ বাগানে কাজ করা শত শত নারী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, দুই বছর আগে লিজের মেয়াদ শেষ গেছে। তারপরও জাকারিয়া জমি ছাড়ছিল না। এ নিয়ে তাকে উকিল নোটিশও করা হয়েছে। জমি দখলমুক্ত করতেই ফুলগাছ কেটে ফেলা হয়েছে।

ধামইরহাট থানার ওসি আবদুল মমিন জানান, উভয়পক্ষ অভিযোগ দায়ের করেছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

প্রতিদিন বাগানেই নষ্ট হচ্ছে দেড় কোটি টাকার ফুল

লেখক

চুয়াডাঙ্গার চরেরমাঠে এক শ্রমিক ফুল কেটে ফেলে দিচ্ছেন।
চুয়াডাঙ্গার চরেরমাঠে এক শ্রমিক ফুল কেটে ফেলে দিচ্ছেন।

গ্লাডিওলাস, জারবেরা, গোলাপ, গাদা এবং রজনীগন্ধাসহ ২০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের ফুল চাষ করেছেন চুয়াডাঙ্গার কেদারগঞ্জের মৎস্য ভবন সড়কের চাষী আলম আলী। প্রতিদিন গড়ে ২৫-৩০ হাজার টাকার ফুল বিক্রি করতেন তিনি। করোনার কারণে বন্ধ রয়েছে ফুল বিক্রি। এ পরিস্থিতিতে প্রতিদিন শ্রমিক দিয়ে ফুল কেটে ফেলে দিতে হচ্ছে তাকে। একদিকে ফুল নষ্ট ও শ্রমিকের খরচ, অন্যদিকে বাগান রক্ষণাবেক্ষণের নিয়মিত ব্যয়; সবমিলিয়ে চোখে অন্ধকার দেখছেন আলম আলী।

১০ দিন আগে আলম আলীকে ছয় বিঘার গাদা, এক বিঘার গ্লাডিওলাস গাছ কেটে ফেলতে হয়েছে। মার্চ থেকে এ পর্যন্ত তারা অন্তত ১৫ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। ফুল চাষই তার উপার্জনের একমাত্র উৎস। বর্তমান অবস্থা থেকে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবেন তা নিয়ে পড়েছেন দুশ্চিন্তায়। বললেন, ‘সব শেষ হয়ে গেল। এক টাকাও রোজগার নেই, খরচ আছে। চোখে অন্ধকার দেখছি।’

শুধু এই একজন চাষী নন, তার মতো দেশের দেড় লাখ ফুলচাষী আছেন মহাসংকটে। জমি থেকে প্রতিদিন ফুল কেটে ফেলে দিতে হচ্ছে। রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বহন করতে না পেরে গাছ কেটে ফেলতে হয়েছে হাজার হাজার বিঘা জমির। চাষী ছাড়াও শ্রমিক, পরিবহন, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের সাড়ে ২৮ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয় ফুল ব্যবসা ঘিরে। তারাও বেকার হয়ে গেছেন। ফুলচাষীরা সরকারের কাছে অনুদান অথবা স্বল্পসুদে ঋণ দাবি করেছেন।

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক বাবুল প্রসাদ সমকালকে জানান, সারাদেশে দেড় লাখ ফুলচাষী আছেন। ফুলের আবাদ হয় ২৫ হাজার একর জমিতে। চাষী ছাড়াও ফুলের সঙ্গে শ্রমিক, ব্যবসায়ীসহ আরও সাড়ে ২৮ লাখ মানুষ যুক্ত। চাষী থেকে শুরু করে ফুলের খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত প্রতিদিন এ খাতে গড়ে লেনদেন হয় প্রায় তিন কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রান্তিক চাষীরা ফুল বিক্রি করে পান দেড় কোটি টাকা। করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন চাষীরা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরও অনেক চাষী ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন কি-না তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

বাবুল প্রসাদ বলেন, ২৬ মার্চ ও পহেলা বৈশাখ- এই দু’দিনে ২০-২২ কোটি টাকার ফুল বেচাকেনা হতো। এবার সেটা হয়নি। সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি ফুলচাষীদের টিকিয়ে রাখতে অনুদান বা স্বল্পসুদে ঋণ দাবি করেন।

ফুল ব্যবসায়ীরা জানান, যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, রংপুর ও নাটোরসহ দেশের ২৪ জেলায় ফুলচাষ হয়। এ ছাড়াও বিভিন্ন জেলায় কিছু জমিতে ফুল চাষ হয়। সবচেয়ে বেশি ফুলচাষী যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও মানিকগঞ্জে। দেশি ফুলের পাশাপাশি বিদেশি নানা জাতের ফুল চাষ করেন তারা। 

ফুলের বড় মার্কেট রাজধানীর শাহবাগ ও আগারগাঁওয়ে। প্রতিদিন এই দুটি মার্কেটে ৬০-৭০ লাখ টাকার ফুল কেনাবেচা হয়। এ ছাড়াও বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে ফুলের পাইকারি মার্কেট আছে। ফুল মার্কেটের শ্রমিকরাও দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন।

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ন্যাপা ইউনিয়নে কোদাল দিয়ে ফুলগাছ উপড়ে ফেলছেন শ্রমিকরা।
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ন্যাপা ইউনিয়নে কোদাল দিয়ে ফুলগাছ উপড়ে ফেলছেন শ্রমিকরা।

এবার সাত বিঘা জমিতে ফুল চাষ করেছিলেন ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বাকশপোতা গ্রামের ফুলচাষী জিকু মণ্ডল। করোনায় টানা ছুটিতে ফুল বিক্রি না হওয়ায় প্রতিদিন ফুল কেটে ফেলে দিতে হচ্ছে। ফুল কাটতে শ্রমিক খরচ এবং গাছের রক্ষণাবেক্ষণে সপ্তাহে ৫-৭ হাজার টাকা খরচ করতে হয়। এ কারণে গত সপ্তাহে গাদা ও চন্দ্রমল্লিকা গাছ কেটে ফেলে জমিতে চাষ দিয়েছেন। 

তিনি বলেন, গাদা ও মল্লিকা চাষে তার আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। মার্চ-এপ্রিলে তিনি অন্তত ১০ লাখ টাকার ফুল বিক্রি করতেন। এখন পথে বসার অবস্থা হয়েছে।

যশোরের মনিরামপুরের বাইশা গ্রামের আকবর আলী বলেন, তার সাড়ে তিন বিঘা জমিতে গ্লাডিওলাস ও রডস্টিক যখন বিক্রির সময় এলো, ঠিক তখনই গাড়ি চলাচল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেল। একট ফুলও বেচতে পারেননি। গাছ উপড়ে ফেলেছেন। এখন ওই জমিতে পাট বোনার চিন্তাভাবনা করছেন।

ঝিনাইদহের মহেশপুর থানার মুণ্ডমালা গ্রামের ফুলচাষী ওয়াজ্জেল হোসেন গাদা, রজনীগন্ধা ও চন্দ্রমল্লিকা চাষ করেছেন সাড়ে আট বিঘা জমিতে। বিক্রি বন্ধ থাকায় গত সপ্তাহে চন্দ্রমল্লিকার গাছ কেটে ফেলেছেন। এ চাষে খরচ হয়েছিল এক লাখ ২০ হাজার টাকা। 

ওয়াজ্জেল স্থানীয় ন্যাপা মোড়ের ফুলবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি। তিনি বলেন, ন্যাপা, শ্যামকুর ও কাজীরবেড়- এই তিন ইউনিয়নে ৯ শতাধিক ফুলচাষী প্রায় ছয়শ’ একর জমিতে ফুলের আবাদ করেন। মার্চের মাঝামাঝি থেকে বিক্রি একেবারেই বন্ধ। কয়েকশ’ বিঘা জমির ফুল গাছ উপড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ফুলচাষিরা ধ্বংসের মুখে। অভাব-অনটনে আছেন তারা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

দেশে দেশে ফুলের ভাষা

আসছে বসন্ত। আসছে ফুলের দিন। প্রাচীন যে ফুলের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা, ধারণা করা হয় তার বয়স ১৩ কোটি বছর! আর পৃথিবীর বুকে আধুনিক মানুষের পদচারণ শুরু হয়েছিল মাত্র ৩ লাখ ১৫ হাজার বছর আগে। অর্থাৎ মানুষের আবির্ভাব ঘটেছিল ফুলের পৃথিবীতে, ফুলেল অভ্যর্থনায়। সেই থেকে আজ অবধি মানুষের ফুল নিয়ে বিস্ময় কাটেনি; আজও ফুলের প্রতি অপ্রতিরোধ্য আকর্ষণ অনুভব করে মানুষ। ধীরে ধীরে পৃথিবীতে মানুষের বয়স যত বেড়েছে, জীবনযাপনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ফুলের ব্যবহারও তত বেড়েছে। শ্রদ্ধায়, ভালোবাসায়, প্রেমে, বন্ধুত্বে ফুল হয়ে উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। আমাদের দেশে তো বটেই, প্রতিটি প্রাচীন সভ্যতার মানুষ ফুলকে দেখেছে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে।

প্রাচীন গ্রিকদের পুষ্পপ্রীতি 

ফুলের রং এবং সৌন্দর্যের জন্য গ্রিসের পৌরাণিক কাহিনিতে ফুলের কথা বিশেষ স্থান পেয়েছে। কিছু কিছু ফুলের নামকরণেও সেসব কাহিনির চরিত্রকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। গ্রিক ঐতিহ্যে ফুলের গুরুত্ব কেবল যে কল্পকাহিনিতেই স্থান পেয়েছে, তা-ই নয়। প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে তাদের সমাজে ফুল উপহার দেওয়ার প্রচলন ছিল এবং আজও তা গ্রিকদের সংস্কৃতির একটি জনপ্রিয় ও প্রচলিত প্রথা। প্রাচীনকালে তারা দেব-দেবীর উদ্দেশে পবিত্রতা এবং পুনর্জন্মের প্রতীক হিসেবে ফুল উৎসর্গ করত। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গ্রিকদের দৃষ্টিভঙ্গি অনেকটা বদলে গেছে। বর্তমানে সুন্দরের বন্দনায়, অনুভূতি প্রকাশে ফুল উপহার এক বাঙ্​ময় ব্যঞ্জনায় উন্নীত হয়েছে। অপার্থিব দেব-দেবীর স্থান চলে গেছে পার্থিব দেব-দেবী, প্রিয়জন-পরিজনদের দখলে। বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে ফুল উপহার দেওয়া বর্তমান গ্রিক সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য প্রথা। 

প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতায় ফুল 

প্রাচীন মিসরীয়রাও তাদের বিশ্বাস এবং ঐতিহ্যে ফুলকে বিশেষ মর্যাদায় উপস্থাপন করেছিল। নীল নদের অববাহিকায় যেসব বাহারি রঙের ও সুঘ্রাণের ফুল ফুটত, সাধারণ লোকজন তাদের প্রিয়জনদের বিভিন্ন পালাপর্বে তা উপহার দিত। যুদ্ধে যাওয়ার আগে ফেরাউনরা তাদের রথগুলোকে ফুল দিয়ে সাজিয়ে নিত। যুদ্ধ থেকে বিজয়ী সেনা, সেনাপতিরা যখন ফেরত আসে, তখনো তাদের ফুল দিয়ে সাদরে বরণ করা হতো, যেমন করা হতো গ্রিক যোদ্ধাদের। 

মিসরের পৌরাণিক কাহিনি ঘাঁটলে দেখা যায় যে আনন্দ অনুষ্ঠানে প্রাচীন মিসরীয়রা পদ্ম ফুলের গান গাইত এবং এই ফুলের আরাধনার জন্য উৎসবের আয়োজন করত। পদ্ম ফুল ভোরে ফোটে এবং রাতে এই ফুলের পাপড়ি আবারও গুটিয়ে কুঁড়ির মতো হয়ে যায় বলে মিসরীয়রা এই চমৎকার ফুলটিকে পুনর্জন্মের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করত। নীল পদ্মের খুব সুন্দর এবং তীব্র ঘ্রাণ রয়েছে। তাই প্রাচীন মিসরীয় শিল্পীরা নীল পদ্মে ঘেরা মৃত ব্যক্তির ছবি আঁকত, উপহার দিত। ফুল ছিল আধুনিক মিসরীয়দের মতো প্রাচীন মিসরীয় সংস্কৃতিতে অপরিহার্য বস্তু। 

অটোমান সাম্রাজ্য 

অভিব্যক্তি, অনুভূতি প্রকাশে ফুল উপহারের প্রচলন অটোমান সাম্রাজ্যে। ফুলপ্রেমীরা ফুল উপহার দিয়ে প্রিয়জনকে পৌঁছাত বিশেষ বার্তা। ফুলগ্রহীতা নির্দিষ্ট ফুল, ফুলের সংখ্যা এবং সেই ফুল সাজানোর ধরন দেখে বার্তাটি বুঝতে পারত। সে সময়টি ছিল ১৬০০ সালের দিকে। ইউরোপ, এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংস্কৃতিতেও ফুল উপহার দেওয়ার মাধ্যমে বিশেষ বার্তা পাঠানোর রেওয়াজ ছিল। 

ভিক্টোরীয় সময়কাল 

১৮ শতকের প্রথম দিকে পত্রপত্রিকার প্রচার-প্রসার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ভিদের প্রতি মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। এর ফলে তুর্কিদের ফুলের মাধ্যমে সাংকেতিক বার্তা প্রদানের ধারণা ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে আমেরিকার উদ্ভিদপ্রেমীদের মনোযোগ আকর্ষণ করে। সে সময়টা ছিল ভিক্টোরীয় যুগ। ইউরোপে এ সময় মনের সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা, বাসনার শিল্পসম্মত প্রকাশের উপায় হিসেবে ফুল উপহার দেওয়া হতো। এটা ছিল স্বীকৃত এবং প্রথাসিদ্ধ উপায়। আবেদন, নিবেদন যা মুখে বা লিখে প্রকাশ করলে মাধুর্য হারায়, তার জন্য ফুল উপহার দিলে রুচি, শিল্পবোধ আলাদা মাত্রায় উজ্জ্বল হয়, মর্মার্থ মর্মে পৌঁছে। ফুলের রূপ, বিন্যাসশৈলী, গড়ন, রং এবং মৌসুমের ওপর ভিত্তি করে একেকটি ফুলকে আলাদা করে সাজিয়ে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ বা বার্তার প্রতীক হিসেবে ব্যবহারের প্রচলন তাদের সংস্কৃতিতে স্থায়ী আসন করে নিয়েছে। 

বাংলাদেশ

আমাদের সমাজে ফুলকে দেখা হয় পবিত্রতা ও শুদ্ধতার প্রতীক হিসেবে। পৃথিবীর অন্যান্য সংস্কৃতির মতো আমাদের দেশেও ফুল উপহার দেওয়া হয় শ্রদ্ধা, সম্মান, ভালোবাসা প্রকাশের জন্য। 

আমাদের দেশে ফুলের প্রাচুর্য থাকলেও ব্যবহারের বৈচিত্র্য তেমন নেই। ব্যক্তিগত পর্যায়ে ফুল উপহার দেওয়ার চর্চা সাধারণ মানুষের মধ্যে তেমন একটা দেখা যায় না। তবে বসন্তবরণ, ভালোবাসা দিবস ইত্যাদি অনুষ্ঠানের প্রসারের ফলে ফুল উপহার দেওয়ার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। 

একসময় আমাদের দেশে শুধু গোলাপ ফুল উপহার হিসেবে দেওয়া হতো। এই প্রথা সম্ভবত গড়ে উঠেছিল মোগলদের কারণে। উপহার হিসেবে গোলাপের সেই আবেদন এখনো আছে। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রজনীগন্ধা, গ্ল্যাডিওলাস, জারবেরা, দোলনচাঁপা। বসন্তদিনে এসব ফুল দিয়ে সাজানো ফুলের একটি তোড়া প্রিয়জনের হৃদয়ে দোলা দেবে বৈকি!

লেখক: অনুজীববিজ্ঞানী, বর্তমানে ফ্রান্সের বিচার বিভাগে বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

শিমুল ফুলে পাখির মেলা

ফাগুন আসতে আর বেশি দেরি নেই। টকটকে লাল শিমুল ফুলে ভরা গাছে তারই পদধ্বনি। পাখিরাও যেন শুনেছে সে ধ্বনি। তাই শিমুল ফুলে বেড়েছে তাদের আনাগোনা। বগুড়া শহরের চেলোপাড়া ফতেহ আলী সেতু এলাকার শিমুলগাছের সৌন্দর্য।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com