আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফসল

রংপুর অঞ্চলে আগাম জাতের ধান আবাদ বাড়ছে

রংপুর অঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি (আগাম জাতের) আমন ধানের আবাদ বাড়ছে। মৌসুমের আগে ফলন পাওয়া ও বাজারের দাম বেশি পাওয়ায় কৃষকরা আগাম জাতের ধান আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। পাঁচ বছরে ধানের জমি বেড়েছে প্রায় ২৭ হাজার ৬৪ হেক্টর। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে (খরিপ-২ মৌসুমে) ৬৩ হাজার ১৯৭ হেক্টর আগাম ধানের আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের (২০২০-২১) চেয়ে ১৪ হাজার ৪৩৯ হেক্টর বেশি। গত বছর দফায় দফায় বন্যার কারণে কোথাও কোথাও আগাম ধানের আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এ বছর আবহাওয়া অনুকূল থাকায় ধানের ফলন ভালো পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কৃষকরা।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, ২০১৬-১৭ থেকে ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত পাঁচ বছরে এ অঞ্চলের পাঁচ জেলায় স্বল্পমেয়াদি ধানের আবাদ বেড়েছে প্রায় ২৭ হাজার ৬৪ হেক্টর। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ধানের আবাদ হয়েছিল ৩৬ হাজার ১৩৩ হেক্টর। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আবাদ হয়েছে ৪০ হাজার ৯৪৩ হেক্টর। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আবাদ হয়েছে ৪৬ হাজার ১২১ হেক্টর। ২০১৯-২০ অর্থবছরে আবাদ হয়েছে ৪৫ হাজার হেক্টর। ২০২০-২১ অর্থবছরে আবাদ হয়েছে মোট ৪৮ হাজার ৭৫৮ হেক্টর এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে ৬৩ হাজার ১৯৭ হেক্টর আগাম ধানের আবাদ হয়েছে।

জমিতে বীজ বপন থেকে ফলন পাওয়া পর্যন্ত আগাম জাতের ধানের সময় লাগে ১০০-১২০ দিন। আগাম ধানের জন্য মূলত জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বীজতলা তৈরি করতে হয়। বীজতলার বয়স ১৫-২৫ দিন অর্থাৎ চারার গড় বয়স ২০ দিন হলে জমিতে রোপণ করা হয়।

আমনের বেশকিছু হাইব্রিড ও উফশি জাত আগাম ধান হিসেবে কৃষকের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। উফশি জাতের মধ্যে আছে ব্রি ৩৩, ৩৯, ৫৬, ৫৭, ৬৬, ৬৯, ৭২, ৭৩, ৭৫ ও পূর্বাচী (স্থানীয় চায়না জাত), পারিজা, বিনা-১৬, ১৭, এছাড়া স্বর্ণার কিছু জাত। হাইব্রিড জাতের মধ্যে আছে বিএডিসির এসএল এইট এইচ, এসিআই, হিরা, ইস্পাহানি, ধানীগোল্ড, রূপসী বাংলা, সোনার বাংলা, জাগরণ, টিয়া, ময়না, আলোড়ন, সাথী, শক্তি, সম্পদ, ব্যাবিলন তিন পাতা অন্যতম।

নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার পূর্ব দলিরাম গ্রামের কৃষক মো. কাওসার জানান, তিনি এ বছর ৩৩ শতক জমিতে স্বল্পমেয়াদি হাইব্রিড জাতের ধান আবাদ করেছেন। ফলন ১২ মণের বেশি আশা করলেও সময়মতো সেচ ও সার প্রয়োগ করতে না পারায় পেয়েছেন আট মণ। খরচ হয়েছে প্রায় ৩ হাজার টাকা। প্রতি মণ ধান বিক্রি করেছেন ৮০০ টাকা দরে। বর্তমানে বাজারে গবাদি পশুর খাবার হিসেবে খড়ের চাহিদা থাকায় ভালো দাম পেয়েছেন। বর্তমানে আগাম আলু চাষ করার জন্য জমি প্রস্তুত করেছেন। পরে আলু তুলে ভুট্টা আবাদ করবেন।

রংপুর জেলার কাউনিয়া উপজেলার চরগনাই এলাকার কৃষক মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, দুই বিঘা (৩৩ শতকে এক বিঘা) জমিতে ব্রি-৭৫ জাতের উচ্চফলনশীল ধান আবাদ করেছেন। অল্প সময়ের মধ্যে ফসল ঘরে তুলবেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ৪০ মণ ধান আশা করছেন। এখন পর্যন্ত আবাদে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। অধিকাংশ কৃষকের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, আগাম ধান আবাদ করলে ওই জমিতে পরে আগাম আলুসহ রবিশস্য করা সম্ভব হয়। ফলে ভালো দাম পাওয়া যায়। এছাড়া আশ্বিন-কার্তিক মাসে জমিতে তেমন ফসল না থাকায় অনেকের কাজ থাকে না। কিন্তু আগাম ধানের আবাদ বাড়ায় কৃষি শ্রমিকদের কাজে তেমন সমস্যা হচ্ছে না। রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলার মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আগাম ধানের কর্তন হয়েছে নীলফামারী জেলায়। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, চলতি মৌসুমে ১৩ হাজার ৮৯০ হেক্টরে স্বল্পমেয়াদি জাতের ধানের আবাদ হয়েছে। ১০ অক্টোবর পর্যন্ত কর্তনকৃত জমির পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৬১৫ হেক্টর। কৃষকরা ধান কর্তন করেই অতি আগাম আলু এবং রবিশস্য রোপন শুরু করেছেন। অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ায় কৃষকরা অধিক হারে আগাম ধান আবাদে মনোনিবেশ করেছেন। এবার বিঘাপ্রতি কৃষকরা ১৩-১৪ মণ ধান পাচ্ছেন বলে তিনি জানান।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মন্ডল বলেন, কৃষকরা যে ফসলে লাভবান হন, সে ফসল আবাদে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। গতবার কোথাও কোথাও বন্যার পানির জন্য আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষকরা ভালো ফলন পাবেন। জেলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৫০ হেক্টর জমির ধান কর্তন করা হয়েছে। আশা করা যায়, অল্পদিনের মধ্যে আগাম ধানের কর্তন সম্পন্ন হবে।

রংপুর অঞ্চলের অন্য তিন জেলা গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে আগাম ধানের আবাদ হয়েছে যথাক্রমে ৭ হাজার ৮০৭ হেক্টর, ৮ হাজার ১৫০ ও ৬ হাজার ৩২৮ হেক্টর। কর্তনকৃত জমির পরিমাণ হচ্ছে ২ হাজার ১৬৫ হেক্টর। এখন পর্যন্ত শুধু নীলফামারী ও রংপুর জেলায় আগাম জাতের ধান কর্তন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ফসল

ভালো ফলন, তবুও হতাশ পান চাষিরা!

কয়েকমাস ধরে প্রচুর বৃষ্টিপাতে উপকূলীয় জনপদ বরগুনার বেতাগীতে পানের ভালো ফলন হয়েছে। তবুও হাসি নেই চাষিদের মুখে। কারণ, ফলন ভালো হলেও সঠিক দাম পাচ্ছে না কৃষকরা। ঋণ করে পান পান চাষ করলেও এখন পান বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করতে পারছেন না।

উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জানা গেছে, বেতাগী পৌরসভাসহ সাতটি ইউনিয়নে ৭০ হেক্টর জমিতে এ বছর পান চাষ করেছেন চাষিরা। এ পেশার সঙ্গে সাড়ে ৬০০ পরিবার সম্পৃক্ত রয়েছে। পাইকারি ও খুচরাসহ ছোট বড় সব মিলিয়ে ৩১টি পানের বাজার রয়েছে।

চাষিরা জানান, শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি, অতিরিক্ত দামে খৈল, পাটকাঠী ও বাঁশের শলা ক্রয়সহ প্রয়োজনীয় উপকরণের বাজার ঊর্ধ্বমুখী হওয়া সত্ত্বেও স্থানীয় হাট-বাজারগুলোতে কম দামে পান বিক্রি করতে হচ্ছে। বর্তমানে এক হাজার টাকা এক পাই (২৪ চল্লি) মূল্যের পান এখন ১০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।

প্রান্তিক কৃষকরা জানায়, করোনায় পরিবহন সংকটের সুযোগে সিন্ডিকেট করে পাইকাররা পানের দাম কমিয়ে দিয়েছেন। আর পাইকাররা বলছেন- বর্তমানে বাজারে পানের চাহিদা আগের তুলনায় অনেক কম।

পৌরসভার ৩নম্বর ওয়ার্ডের কৃষ্ণ কান্ত ঘরামী জানান, ধার-দেনা ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে পান চাষ করেছি। শ্রমিমের মজুরি ও উপকরণের দাম বৃদ্ধি যাওয়া খরচ মিটাতে ন্যায্য দাম পাচ্ছি না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘কৃষকরা যাতে ন্যায্য মূল্য পান এজন্য আমাদের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সুহৃদ সালেহীন বলেন, ‘পানের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হবে। মধ্যসত্ত্বভোগীরা যাতে সুবিধ না নিতে পারে অতি শিকগিরই এব্যাপারে আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

জয়পুরহাটে ১৮৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে গ্রীষ্মকালীন মরিচ

হ্যাপি আক্তার: [২] জয়পুরহাট ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে গ্রীষ্মকালীন খরিপ-১ মৌসুমে এবার ১৮৫ হেক্টর জমিতে কাঁচা মরিচের চাষ হয়েছে। বাসস

[৩] জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, জয়পুরহাট জেলায় ২০২০-২০২১ খরিপ-১ মৌসুমে গ্রীষ্মকালীন আগাম জাতের ২০০ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে চাষ হয়ে

[৪] এছাড়া জেলায় শতিকালীন মৌসুমে ৩২০ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সোমবার পর্যন্ত জেলায় ২৮০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন মরিচের চাষ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ। যাতে মরিচের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৭৬ মেট্রিক টন মরিচ। বর্তমান বাজারে ওঠা রবি মৌসুমের মরিচের সঙ্গে যোগ হয়েছে খরিপ-১ মৌসুমের আগাম জাতের মরিচ ফলে দাম কিছুটা স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

[৫] জেলা শহরের নতুনহাট, মাছবাজার ও ক্ষেতলাল উপজেলার বটতলী বাজার ঘুরে দেখা যায় কাঁচা মরিচ পাইকারী বিক্রি হচ্ছে প্রকার ভেদে ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি। যদিও জেলা শহরের খুচরা বাজারে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে কাঁচা মরিচ।

[৬] জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ পরিচালক কৃষিবিদ বাবলু কুমার সূত্রধর জানান, আবহাওয়া ভালো থাকায় এবার মরিচের আবাদ ভালো হয়েছে। বাজারে আগাম জাতের মরিচের আমদানি কম হওয়ায় দাম একটু বেড়েছে তবে এটি বেশি দিন থাকবে না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

নন্দীগ্রামে কার্তিকের শুরুতেই কৃষকের ঘরে নতুন ধান

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় কার্তিক মাসের শুরুতেই কৃষকের ঘরে উঠতে শুরু করেছে নতুন ধান। ধানের ফলন ও দাম ভালো হওয়ায় কৃষকরাও বেশ খুশি। তারা বলছেন, জমি ফেলে রাখার চাইতে আগাম চাষ করে ঘরে তুলে সেই জমিতে রবিশস্য আলু অথবা সরিষা চাষ করবেন। অগ্রহায়ণ মাসের শুরু থেকে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হবে এই উপজেলায়।

জানা গেছে, নন্দীগ্রাম উপজেলায় আগাম চাষ করা বিনা-৭, বিনা-১৭ ও মিনিকেট ধানের চাষ করা হয় সবচেয়ে বেশি। চারা রোপণের ১০০ থেকে ১১০ দিনের মধ্যে ধান ঘরে তুলতে পারার কারণে এই অঞ্চলের কৃষকরা গত ৬ বছর ধরে এইসব ধানের চাষ করে আসছেন। আর মিনিকেট ধানের চাষ হয় দীর্ঘদিন ধরে। ধান চিকন হওয়ায় বিনা-৭ ও মিনিকেট ধানের চালের চাহিদাও রয়েছে ব্যাপক। উপজেলার ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, ২৫ ভাগ জমির ধান পাকতে শুরু করেছে। কার্তিক মাসে এ অঞ্চলে মাঠে তেমন কাজ না থাকায় শ্রমিক সংকটও নেই। এ কারণে মাঠে পেকে যাওয়া ধান কেটে ঘরে তুলছেন কৃষক।

নন্দীগ্রাম পৌরসভার পূর্বপাড়া গ্রামে কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ত্রিশ বিঘা জমিতে বিনা-৭ ও কাটারি জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। আষাঢ় মাসের শেষ সপ্তাহে চারা রোপণ করে কার্তিক মাসের শুরুতেই ধান কেটে ঘরে তুলছেন। প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয়েছে ৮ হাজার টাকা।

কালিকাপুর গ্রামের কৃষক রেজাউল হোসেন বলেন, বিনা-১৭, বিনা-৭ ও মিনিকেট জাতের ধান চাষ করেছেন। ধান কেটে জমিতে রবিশস্য আলু এবং সরিষা চাষ করা হবে। ধান চাষের জন্য প্রসিদ্ধ উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে আগাম জাতের নতুন ধান উঠতে শুরু করেছে। বিক্রি হচ্ছে ১০৫০ থেকে ৯৮০ টাকা মণ দরে।

এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি অফিসার আদনান বাবু বলেন, আমন মৌসুমে এবার ভালো ফলন হয়েছে। এই উপজেলায় ১৯ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৪৬৫ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের বিনা-৭ ও মিনিকেট ধানের চাষ হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

গাজীপুরে আখের বাম্পার ফলনে কৃষকরা খুশি

লেখক

জেলার কালীগঞ্জে আখ চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে ওই এলাকার কৃষকরা খুবই খুশি। তারা বাজারে ন্যায্য মূল্যও পাচ্ছেন ভালো। এতে কৃষকদের আখ চাষে আগ্রহ বাড়ছে।
স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গতবছর ৬০ হেক্টর জমিতে ৩ হাজার ৬১৪ টন আখের আবাদ হয়েছে। এ বছর তা বেড়ে ৬২ হেক্টর জমিতে ৩ হাজার ৭৩৫ টন আখের আবাদ হয়েছে।
উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নেই কমবেশি আখের চাষ হয়। তবে বাহাদুরসাদী, জামালপুর, মোক্তারপুর ও কালীগঞ্জ পৌরসভায় একটু বেশি চাষ হয়ে থাকে। এ উপজেলায় বিভিন্ন জাতের আখ চাষ হলেও ঈশ্বরদী ১৬ ও ৩৬, টেনাই, বিএসআরআই ৪১ ও ৪২ জাতের আখ বেশি চাষ হচ্ছে। দিন দিন আখ চাষে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে যে আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে, এ ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করবে।


এখন আখের ভরা মৌসুম। গরম কিংবা শীত যে কোনো ঋতূতেই পাওয়া যায় আখ। আর এই আখ বাংলাদেশে চিনি উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল। আখের রস হালকা থেকে গাঢ় সবুজ বর্ণের মিষ্টি তরল পানীয়। আখ বা আখের রস হলো প্রাকৃতিক মিনারেল ওয়াটার, যা আমাদের শুধু তৃষ্ণা নিবারণ করে না, বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধেও কার্যকরী ভূমিকা রাখে। আখ চাষে ৭/৮ মাসের মধ্যে বাজারজাত করা যায় এবং ফলনও পাওয়া যায় বলে এ ফসল চাষ করে অনেক কৃষক স্বাবলম্বী হচ্ছেন।
বাহাদুরসাদী ইউনিয়নের বাশাইর গ্রামের আখ চাষি আব্দুর রহমান জানান, তিনি গত বছর ১০ শতাংশ জমিতে আখের চাষ করেছেন। ওই পরিমাণ জমিতে চাষ করতে খরচ হয়েছিল ৩৪ হাজার টাকা। তিনি পাইকারী ৪০ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন। এবছর একই পরিমাণ জমিতে আখের চাষ করে ৪৪ হাজার টাকা খরচ করে তিনি ৫৫ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন।
একই ইউনিয়নের খলাপাড়া গ্রামের আরেক আখ চাষি ইসলাম সরকার বলেন, ‘আমি নিজেই সব কাজ করি। এজন্য খরচ খুব একটা হয় না। তবে ৯ শতাংশ জমিতে আমার মাত্র ১০/১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। গত বছর একই পরিমাণ জমিতে একই খরচে ৮০ হাজার টাকা বিক্রি করলেও এ বছর ওই জমির আখ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বিক্রি করেছি।’ একই গ্রামের আব্দুল বাতেন জানান, তিনি মাত্র ৫ শতাংশ জমিতে আখ চাষ করেছেন। গত বছরও তিনি একই পরিমাণ জমিতে আখ চাষ করেছেন। তবে ৩২ হাজার টাকা বিক্রি করলেও এ বছর বিক্রি করেছেন ৪০ হাজার টাকা।
উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নে দেউলিয়া গ্রামের আখ চাষি আবেদ আলী জানান, এবার প্রথম তিনি ৪ বিঘা জমিতে আখের চাষ করেছেন। গত বছর প্রতিবেশীকে দেখে আখ চাষে তিনি উদ্বুদ্ধ হন। ফলন এবং ন্যায্য মূল্যে খুশি বলেও জানান ওই আখ চাষি।


কালীগঞ্জ পৌর এলাকার ঘোনাপড়া গ্রামের আক্তার হোসেন বলেন, ‘প্রতিবেশী দুলাল হোসেন, মাজু মিয়া, পনির হোসেন, আকরাম হোসেন মিলে স্থানীয় একজনের কাছ থেকে ৪ বিঘা জমি বর্গা হিসেবে নিয়ে আমরা ৫ জন মিলে আখের চাষ করছি। তবে ফলন এবং ন্যায্য মূল্যে আমরা সবাই খুশি।’
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. সাইফুল ইসলাম জানান, আখের রসে ক্লান্তি দূর করার পাশাপাশি ত্বকের জন্যও এটি সমান কার্যকরী। এছাড়াও আখের রসকে প্রাকৃতিক এনার্জি ড্রিংকসও বলা হয়। আখের রস গর্ভবতী নারীদের খাদ্য তালিকায় যুক্ত করলে উপকার লাভ করা যায়। এটি গর্ভধারণে সাহায্য ও নিরাপদ গর্ভাবস্থা নিশ্চিত করে। আখের রসে প্রচুর ফলিক এসিড বা ভিটামিন বি ৯ থাকে, যা স্পিনা বিফিডার মতো জন্মগত ত্রুটি থেকে সুরক্ষা দেয়।
এছাড়াও নারীর ডিম্বস্ফোটনের সমস্যা কমায় এবং গর্ভধারণের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে। দাঁত ক্ষয়ের পাশাপাশি নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধের সমস্যাও আখের রস পান করার মাধ্যমে পূরণ করা যায়। রসে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের মতো খনিজ উপাদান থাকে, যা দাঁতের এনামেল গঠনে সাহায্য করে। শিশুরা যদি আখ চিবিয়ে রস পান করে, তাহলে দাঁতের সমস্যা কম হয়। আখের রসে ক্যালসিয়াম থাকে, যা দাঁত ও হাড়ের শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। পেটের সমস্যায় আখ খুব উপকারী।


কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ফারজানা তাসলিম বলেন, ‘উপজেলার যেসব এলাকায় আখ চাষ বেশি হচ্ছে, স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ওই এলাকার আখ চাষিদের প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনী দেয়াসহ আখ মাড়াই যন্ত্র দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি আখ লাগানো থেকে শুরু করে উঠানো পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে-ধাপে সার প্রয়োগ ও রোগ-বালাই নিয়ে পরামর্শ দিচ্ছে মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

ফাতেমা জাতের ধানে বিঘায় ফলন ৫০ মণ

নওগাঁর মান্দায় ‘ফাতেমা’ জাতের ধান ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এর প্রতিটি শীষে পাওয়া গেছে প্রায় ১ হাজার ধান। দেশে উৎপাদিত প্রচলিত জাতের ধানের চেয়ে এ ধানের ফলন প্রায় তিনগুণ। 

উপজেলার গণেশপুর ইউনিয়নের দোশতীনা গ্রামের শৌখিন কৃষক অ্যাডভোকেট আশরাফুল ইসলাম বশিরের ওই ধান দেখতে এবং কিনতে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন। নতুন জাতের এ ধান উৎপাদনে তিনি সাফল্য পেয়েছেন। লাভজনক হওয়ায় তার মতো এলাকার অনেকেই এ জাতের ধান চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এত অধিক ফলনশীল জাতের ধান দেশের আর কোথাও আছে বলে তাদের জানা নেই। ‘ফাতেমা’ জাতের এ ধান নিয়ে গবেষণার কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন ও মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট। 

দেখতে ব্রি-২৮ ধানের মতো এর জাতের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে বশির জানান, অন্য ধানের মতোই এ ধানের চাষ পদ্ধতি। আউশ, আমন ও বোরো তিন মৌসুমেই এ ধানের চাষ করা যায়। তবে বোরো মৌসুমে এর ফলন সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে। 

তিনি বলেন, গাছের উচ্চতা প্রায় পাঁচ ফিট। যা অন্য ধানের তুলনায় বেশি। গাছগুলো শক্ত হওয়ায় হেলে পড়ে না। আর একেকটি ধানের শীষে ৭৫০-১০০০টি করে ধান হয়। যা সাধারণ ধানের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ বেশি। ফলে এর উৎপাদনও অনেক বেশি। চলতি মৌসুমে তিনি দেড় বিঘা জমিতে প্রায় ৭৫ মণ ধান পেয়েছেন। এ ধানে রোগ ও পোকামাকড়ের হার তুলনামূলক কম। এ ছাড়া চাল খুব চিকন। ভাতও সুস্বাদু। 

তিনি আরও জানান, বীজপাতা তৈরি করার পর ১৫০ থেকে ১৫৫ দিনের মধ্যে ধান কাটা যায়। এই ধান ঝড়, খড়া এবং লবণাক্ততা সহনীয়। ওই জাতের প্রতিটি ধান গাছের দৈর্ঘ্য ১১৫ থেকে ১৩০ সেন্টিমিটার, গুছি গড়ে আটটি, প্রতিটি ধানের ছড়ার দৈর্ঘ্য ৩৬ সেন্টিমিটার, গড়ে দানার সংখ্যা প্রায় ১ হাজার। 

জানা গেছে, বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার বেতাগা ইউনিয়নের চাকুলিয়া গ্রামে লেবুয়াত শেখ (৪০) নিজেদের জমিতে ২০১৬ সালে প্রথম ওই ধান চাষ করেন। ওই বছর বোরো মৌসুমে তার বাড়ির পাশে জমিতে হাইব্রিড আফতাব-৫ জাতের ধান কাটার সময় তিনটি ভিন্ন জাতের ধানের শীষ তিনি দেখতে পান। ওই তিনটি শীষ অন্যগুলোর চেয়ে অনেক বড় এবং শীষে ধানের দানার পরিমাণও অনেক বেশি ছিল। এরপর ওই ধানের শীষ তিনটি বাড়িতে এনে শুকিয়ে বীজ হিসেবে ব্যবহার করে এ ধান চাষ শুরু করেন। তিনি তার মায়ের নামানুসারে নাম না জানা এ ধানের নাম রাখেন ‘ফাতেমা ধান’। 

বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কৃষক লিটন, রঞ্জু, মামুন, আতাব আলী জানান, অনেক ফলন হচ্ছে শুনে তারা কৃষক বশিরের এ ধান দেখতে এসেছেন এবং তার কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করেছেন। আগামীতে তারা এ ধান চাষ করবেন। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক ছামসুল ওয়াদুদ বলেন, ওই ধানের ফলন শুধু দেশ নয়, গোটা বিশ্বকে তাক লাগাতে পারে। এত বেশি ফলন পাওয়া যায়, এমন কোনো জাতের ধান দেশে আছে বলে আমার জানা নেই। এ ধান খড়া ও লবণ সহ্যকারী এবং সারা দেশে চাষের উপযোগী। সারা দেশে ওই ধান চাষ করা যাবে। এ ধান যদি সারা দেশে চাষ করা যায় তাহলে বার্ষিক উৎপাদন ৫ কোটি টন ছাড়িয়ে যাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com