আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

কৃষি দিবানিশি

যে শহরে দিনের শুরু কোটি ফুলের সৌরভে

বিশ্বে ফুল বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র নেদারল্যান্ডসের ফ্লোরাহল্যান্ড। যেখানে আন্তর্জাতিক নিলামের মাধ্যমে প্রতিদিন বিকিকিনি হয় ২ কোটি ১০ লাখ ফুল।

রাজধানী আমস্টারডাম থেকে ১৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ফুল বিক্রয় ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র ফ্লোরাহল্যান্ড। যেখানে প্রতিদিনের সূচনা হয় ফুলের সৌরভ, রঙের মেলা আর বিশাল বাণিজ্য পরিধি দিয়ে।

১৩ হাজার কর্মীর কর্মতৎপরতায় মুখর হয়ে ওঠে এক বর্গকিলোমিটার আয়োজনের বিশাল এই ক্ষেত্র।

হল্যান্ডসহ ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ফুলের সমারোহ ঘটে বিশ্বের বৃহৎ এই ফুল বাণিজ্য কেন্দ্রে।

প্রতিষ্ঠানের টিম ম্যানেজার ইয়োর্গেন স্লোবে বলেন, এই প্রতিষ্ঠানে সব ধরনের কারিগরি সুযোগ সুবিধা রয়েছে। এই কোম্পানির ভেতর-বাইরে শতশত মানুষ কাজে নিয়োজিত থাকে।

বাণিজ্যের বাইরে বাগান থেকে সংগ্রহ করা ফুলের স্থায়ীত্ব পরীক্ষা, পৃথিবীব্যাপী ফুল চাষের হিসাব নিকাশও করা হয় এখানে।

কৃষি দিবানিশি

গরম পানি পান করলে কি ওজন কমে?

পানি পানের উপকারিতা কারও অজানা নয়। হালকা গরম পানি পান করলে যে অনেকরকম উপকার মেলে, একথাও সবার জানা। কিন্তু ঠান্ডা পানির বদলে গরম পানি পান করলে কি ওজন কমে? আমাদের শরীরের তাপমাত্রার চেয়ে কম তাপমাত্রার পানি পান করলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য শরীরকে অনেক বেশি শক্তি ব্যয় করতে হয়। যে কারণে পুষ্টির ঘাটতি হতে শুরু করে। আর ওজন বৃদ্ধি বা স্থুলতা হলো সেই অপুষ্টির ফল।

প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পানের রয়েছে অসংখ্য উপকারিতা। শুধু পানি পানেও যে ওজন কমে যায় অনেকখানি, এটাও কিন্তু প্রমাণিত। বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পানের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এতে করে অনেক অসুখ-বিসুখ থেকেও দূরে থাকা যায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, যখন তৃষ্ণা পাবে তখনই হালকা গরম পানি পান করলে এক বছরের কম সময়ের মধ্যে ১২ কেজি পর্যন্ত ওজন ঝরে যায়। তাই পানি পান করে ওজন কমাতে চাইলে তৃষ্ণা পেলে পান করতে হবে হালকা গরম পানি।

আমাদের শরীরে ঠান্ডা ও গরম দুই ধরনের পানির রয়েছে আলাদা প্রভাব। গরমের সময়ে অনেকেই ফ্রিজের ঠান্ডা পানি অনেকখানি পান করে ফেলেন। এটি শরীরের জন্য উপকারের বদলে ক্ষতি করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঠান্ডা খুব বেশি ঠান্ডা পানি পান করলে তা হজম শক্তি কমিয়ে দেয়। বদহজমের কারণে শরীরে মেদ জমতে থাকে দ্রুত। তাই সব সময় চেষ্টা করুন স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি পান করতে। আর ওজন কমানোর চেষ্টা করলে অবশ্যই হালকা গরম পানি।

গবেষণায় দেখা গেছে, খাওয়ার সময় ফ্রিজের ঠান্ডা পানি পান করলে খাবারে থাকা চর্বি পেটে গিয়ে কঠিন আকার ধারণ করে। যে কারণে দ্রুত জমা হতে থাকে চর্বি।

নিয়মিত হালকা গরম পানি পান করলে শরীরের সবকিছুই থাকে নিয়ন্ত্রণে। কিডনি তো ভালো থাকেই, ভালো রাখে হার্টও। ফলে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক থাকে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

কৃষি দিবানিশি

কৃষির পুনর্বাসনে কর্মকর্তাদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা

চলমান বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি খাত। এ খাতের ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সব কর্মকর্তাকে তৎপর থাকতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, দিন দিন বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। কৃষিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বাড়ছে। বন্যার পানি নেমে গেলে জরুরিভিত্তিতে কৃষি পুনর্বাসন ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কাজ করতে হবে।

মন্ত্রী আমনের জন্য দ্রুত বিকল্প বীজতলা তৈরিরও নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, বীজ, সারসহ কৃষি উপকরণের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। এসব বীজ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে বিতরণ করে দ্রুত নতুন বীজতলা তৈরি করতে হবে।

এছাড়া রবি মৌসুমের জন্যও ব্যাপক আগাম প্রস্তুতির কথা জানান কৃষিমন্ত্রী। সেজন্য কর্মকর্তাদের অত্যন্ত তৎপর, সজাগ ও সক্রিয় থাকতে হবে।

কৃষিমন্ত্রী বুধবার তার সরকারি বাসভবন থেকে কৃষি মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্থ সংস্থার মধ্যে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অনলাইনে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বন্যায় ক্ষতি কমাতে ইতোমধ্যে কৃষির সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সবধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২৮টি জেলার চাষিদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বীজ, সারসহ বিভিন্ন প্রণোদনা কার্যক্রম বেগবান, তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য ১২টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা ঈদের পরদিন থেকে বন্যাপ্লাবিত এলাকার কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিতভাবে অনলাইন মিটিং ও সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে মাঠের সব কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি ও মনিটরিং করবেন— এমন নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।

সচিব মো. নাসিরুজ্জামান বলেন, কৃষির সব কর্মকর্তা-কর্মচারী মহামারি করোনার প্রকোপের শুরু থেকেই খাদ্য উৎপাদনের বর্তমান ধারা অব্যাহত রাখা এবং তা আরও বাড়াতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও চলমান বন্যার কারণে কৃষিতে ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায়ও তারা কৃষকের পাশে থেকে কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।

তিনি বলেন, আমনের বীজতলা তৈরিতে সবধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেই বীজতলা তৈরি করা হবে।

সভায় কৃষি মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্থ ১৭টি সংস্থা/দফতরের মধ্যে ২০২০-২১ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান। সঞ্চালনা করেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. আরিফুর রহমান অপু। বিশেষজ্ঞ পুলের সদস্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন সচিব ড. এস এম নাজমুল ইসলাম, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার মণ্ডল, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক মো. হামিদুর রহমান, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংস্থাপ্রধানগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। গত ২৬ জুন থেকে বন্যা শুরু হয়, এরপর পরিস্থিতির কিছু উন্নতি হলেও ১১ জুলাই থেকে দ্বিতীয় দফায় পানি বাড়ে। সর্বশেষ ২১ জুলাই থেকে তৃতীয় দফায় পানি বাড়ছে। এই বন্যা আরও কিছুদিন থাকতে পারে বলে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছে।

প্রথম পর্যায়ের বন্যায় প্রায় ৩৪৯ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘বন্যায় আউশ, আমন, সবজি, পাটসহ বেশ কিছু ফসলের অনেক ক্ষতি হয়েছে। বিকল্প বীজতলা তৈরি, ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে বিকল্প ফসল চাষের ব্যবস্থা, নিয়মিতভাবে আবহাওয়া মনিটরিংসহ প্রস্তুতি চলছে যাতে বন্যার কারণে ফসলের ক্ষতি মোকাবিলা করা যায়।’

এদিকে চলমান বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক কৃষকদের চার স্তরে ৭ কোটি ১৯ লাখ ৮ হাজার টাকার প্রণোদনা দেবে সরকার। কমিউনিটিভিত্তিক রোপা আমন ধানের চারা উৎপাদন, ভাসমান বেডে রোপা আমন ধানের চারা উৎপাদন, রোপণ যন্ত্রের (ট্রান্সপ্ল্যান্টার) মাধ্যমে রোপণের জন্য ট্রেতে নাবী জাতের আমন ধানের চারা উৎপাদন ও তা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণ এবং মাসকলাইয়ের বীজ বিতরণ— এ চারটি মাধ্যমে ৮৮ হাজার ৩১ জন কৃষককে প্রণোদনা দেয়া হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২ কোটি ১৪ লাখ টাকার কমিউনিটিভিত্তিক রোপা আমন ধানের চারা পাবেন ৩৫ হাজার ১৬৬ জন কৃষক। ভাসমান বেডে রোপা আমন ধানের চারা উৎপাদন ও বিতরণে এক হাজার ২৬৫ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পাবেন ৬৯ কোটি টাকার প্রণোদনা। এছাড়া রোপণ যন্ত্রের মাধ্যমে রোপণের জন্য ট্রেতে নাবী জাতের আমন ধানের চারা উৎপাদন করে তা এক হাজার ৬০০ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে, এতে সরকারের ব্যয় হবে ৫৪ লাখ ৮ হাজার টাকা। ৫০ হাজার কৃষককে বিনামূল্যে মাসকলাইয়ের বীজ বিতরণ করা হবে, এতে ব্যয় হবে ৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

বুধবার সরকারের এক তথ্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, অতিবর্ষণের কারণে সৃষ্ট বন্যায় দেশের ৩১ জেলায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে মানবিক সহায়তা হিসেবে বিতরণের জন্য এখন পর্যন্ত ১২ হাজার ৭১০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে সাত হাজার ৬৩০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ হয়েছে।

দেশের বন্যাকবলিত জেলাসমূহ হচ্ছে- ঢাকা, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, মুন্সিগঞ্জ, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, জামালপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, রংপুর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জ। বন্যাকবলিত উপজেলার সংখ্যা ১৫৪ এবং ইউনিয়ন ৯১৭টি। পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা ১০ লাখ ২১ হাজার ৮৩৪ এবং ক্ষতিগ্রস্ত লোক সংখ্যা ৪৮ লাখ ৫৬ হাজার ৬২৮ জন।

বন্যায় এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৪১ জন। এর মধ্যে জামালপুরে ১৫, লালমনিরহাটে ১, সুনামগঞ্জে ৩, সিলেটে ১, কুড়িগ্রামে ৯, টাঙ্গাইলে ৪, মানিকগঞ্জে ২, মুন্সীগঞ্জে ১, গাইবান্ধায় ১, নওগাঁয় ২ এবং সিরাজগঞ্জে ২ জন রয়েছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

পিরোজপুরে গ্রামে গ্রামে মিষ্টি মাল্টার বাগান

পিরোজপুর জেলা সদরের গ্রামে গ্রামে গড়ে উঠেছে মাল্টার বাগান। সাধারণ কৃষক ও উদ্যোক্তারা গৃহস্থ ভিটায় মাল্টা বাগান করে অল্পদিনেই লাভ করছেন কাঙ্ক্ষিত সাফল্য।

কৃষি বিভাগের আশা, দক্ষিণের ওই এলাকাগুলোতে সবচেয়ে লাভজনক কৃষি উদ্যোগ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে মাল্টা বাগান। 

ডাকাতিয়া গ্রামের প্রান্তিক কৃষক রেবতি সিকদার। কৃষির আয়ে সংসার চলে না। তাই বছরের বেশিরভাগ সময় করতে হয় অন্যান্য কাজ।

তিনিই বসতভিটার ১০ কাঠা জমিতে বছর তিনেক আগে লাগান ১৫০টি মাল্টা গাছ। যে গাছগুলো এবার ফলে পূর্ণ, সে সঙ্গে রেবতির জীবন ভরে গেছে উন্নতি ও সমৃদ্ধির স্বপ্নে।

রেবতি সিকদার বলেন, প্রায় ৫০০ মাল্টা ধরেছে বাগানের তিন বছরের গাছগুলোতে। আমার বাগানে দুই জাতের মাল্টা রয়েছে। বারিজাত ১ ও ইন্ডিয়ান মালটা। আমি প্রায় ৭০ হাজার টাকার বিক্রি করেছি। এই পিরোজপুর, বাগেরহাট এবং ঢাকাতেও পাঠিয়েছি এই বাগানের ফল। 

মাল্টা নামের ফলটি টক না মিষ্টি? এ প্রশ্নের জবাবে সাধারণ মানুষের ভোট যখন পড়ে টকের দিকেই, রেবতি সিকদারের বাগানের মাল্টা যেন পাল্টে দেয় এ সংজ্ঞা।

এলাকাবাসী জানায়, মোটেও টক নয় রেবতি সিকদারের বাগানের মালটা অনেক মিষ্টি।  

সুমিষ্ট মাল্টার এই জাতটি বাংলাদেশে কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট উদ্ভাবিত জাতটি বারি-১ জাতের। যেটি সম্প্রসারণে ভূমিকা রয়েছে কৃষি বিভাগের।

পিরোজপুর কৃষি সদরের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান ওয়ারিসুল কবীর বলেন, প্রকল্প সহযোগিতা ও উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে এবছর ৪০-৫০টি নতুন বাগান তৈরি হয়ে গেছে। আমরা মূলত তাদের চারা সরবরাহ করি ও সার সরবরাহ করি।

ডাকাতিয়া ও আশেপাশের ১০/১২ টি গ্রামে এখন গড়ে উঠেছে ৬২টি মাল্টা বাগান। যার সামান্য জমি আছে সেই এখন স্বপ্ন দেখছে মাল্টা বাগান করে ভাগ্য পাল্টে দেয়ার।

দেশেই মাল্টা উৎপাদনে এক নতুন সম্ভাবনার কথা জানান দিচ্ছে রেবতি সিকদারের এই মাল্টা বাগান। এই কৃষকসহ অন্যান্য কৃষক যাদের মধ্যে মাল্টা সরবরাহ হয়েছে এরই মধ্যে এবং কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ মনে করছে এই এলাকা একসময় মাল্টা উৎপাদনের জন্য অঞ্চল হিসেবে ঘোষিত হবে। এবং মাল্টা চাষে এই এলাকা এগিয়ে যাবে অনেক দূর।   

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

ষড়ঋতুর দেশে কৃষকের স্বপ্নসাধ ধানকে ঘিরে

ষড়ঋতুর বাংলাদেশে ভূমি বৈচিত্র আর প্রকৃতির ভিন্নতা সবসময় মানুষকে স্বপ্ন দেখায় পরিবর্তনের। জলবায়ুর সঙ্গে পাল্টেও যায় জীবনযাত্রা। হতাশার দিন পেরিয়ে স্বপ্ন ঠিকই ধরা দেয় ভূমি আর আকাশের পানে চেয়ে থাকা মানুষগুলোর।

বাংলা নববর্ষে রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চল থেকে এমন পরিবর্তনের চিত্র দেখা গেছে।

সূর্য ঠিকই উত্তাপ ঢালছে আগের চেয়ে ঢের শক্তি নিয়ে, তেতে উঠছে প্রকৃতি। কিন্তু এর মাঝেও কয়েক বছর আগে এই সময়ে রাজশাহী বরেন্দ্র অঞ্চলে যে রুক্ষতা ছিলো, তা যেনো মিলিয়ে গেছে এখন।

অনুকূল সেচ পেয়ে মাঠের পর মাঠ হয়ে উঠছে সবুজ। এর সাথে সতেজ হয়ে উঠছে প্রান্তিক জন-জীবন। নাগরিক জীবনের উপভোগের ক্ষেত্রগুলো জায়গা করে নিচ্ছে সেখানেও। প্রত্যন্ত গ্রামে পালিত হচ্ছে ছেলে-মেয়েদের জন্মদিন অনুষ্ঠান। 

মাটির ঘরের স্থলে জায়গা করে নিচ্ছে ইট-সিমেন্টের ঘর।

অন্য সব এলাকার উদ্যোক্তা কৃষক পরিবারের মতো এখানেও প্রান্তিক কৃষক পরিবারগুলোতে ধরা দিয়েছে সুখ আর শান্তির স্বপ্ন।

খেতে পানি ঢুকলে কৃষকও পানি পায় তার জীবনে। যোগ হয় ফসলি স্বপ্ন। কিন্তু বাঙালি জীবনে শস্যের সূচনায় থাকে ধান। আজকের কৃষক পেতে চায় ধান, ধানের মূল্য।

নববর্ষে কৃষকের চাওয়া ভালো হোক ধান, বাড়ুক এর মূল্য।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

কৃষি দিবানিশি

আউশ পাল্টে দিয়েছে উত্তরের কৃষিচিত্র

চার ফসলি শস্যাবর্তন অনুসরণ করায় উত্তরাঞ্চলের উঁচু এলাকাগুলোর কৃষিচিত্র
পাল্টে গেছে। একটি স্বল্পমেয়াদী আউশ ধানের কল্যাণে বন্যা ও ফসলশূন্য সময়ে এসেছে নবান্নের আনন্দ। ওই চিত্র সারাদেশের কৃষির জন্যই জানান দিচ্ছে এক শুভবার্তা।

বন্যার পানি কেবল নামছে উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে। নিচু এলাকার বহু কৃষক হারিয়েছেন ক্ষেতের ফসল, আমন বীজতালা। পানি নামা ক্ষেতে অনেকে রোপন শুরু করেছেন আমন চারা।

এই সময়ের উত্তরের কয়েক হাজার কৃষকের ঘরে এসেছে আউশের নবান্ন। কমপক্ষে ৮ হাজার হেক্টর জমিতে দোল খাচ্ছে পাকা ধানের সোনালী শীষ। কৃষকদের চোখে-মুখে দিন পাল্টানোর তৃপ্তি।

কৃষকরা বলছে, এক বিঘায় চারটি ফসলের খরচ হয়েছ প্রায় ১৪ হাজার ৭০ টাকার মত। বিক্রি করতে গিয়ে পেয়েছি ২৯ হাজার ৩০ টাকা। প্রায় ১৫ হাজার ৭০ টাকা লাভ। বছর দুয়েক আগেও কৃষক এই দিনটির কথা ভাবতেও পারেনি। স্বল্পমেয়াদী আউশের জাত হাতে পাওয়ার পর দুই-তিন মৌসুমেই পাল্টে গেছে পুরো চিত্র।

২০০৮ সাল থেকে আউশের স্বল্পমেয়াদী স্থানীয় জাত পারিজা নিয়ে কাজ চলছে গবেষণা পর্যায়ে। তারপর বঙ্গবন্ধুু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে এটি পৌঁছে গেছে স্থানীয় উন্নয়ন সংগঠনের হাতে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চারফসলি ধারাটি জাতীয় কৃষি পরিকল্পনা যুক্ত করার কথা।

বাংলাদেশ বিশ্ব ব্যাংকের কৃষি বিশেষজ্ঞ ও কনসালট্যান্ট ড.এম জি নিয়োগী বলেন, জাতীয়ভাবে এ প্রকল্পকটি অন্তর্ভুক্ত করলে ১৮ লক্ষ টন অতিরিক্ত খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে। 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর ড. মঈনুল হক বলেন, দেশের অনন্যা অঞ্চল বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলেও চারফসলি উৎপাদন সম্ভব। উত্তরের একসময়ের মঙ্গাপীড়িত মানুষ আবারো স্বপ্ন দেখছে শস্যভান্ডার হিসেবে তাদের সুখ্যাতিকে ফিরিয়ে আনার।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com