আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফল

যেভাবে করবেন আমবাগান

বাড়ছে আমের চাষ। মানসম্পন্ন আম ফলাতে তাই দরকার আধুনিক উত্পাদন কৌশল। আম চাষিদের জানা দরকার কীভাবে জমি নির্বাচন, রোপণ দূরত্ব, গর্ত তৈরি ও সার প্রয়োগ, রোপণ প্রণালী, রোপণের সময়, জাত নির্বাচন, চারা নির্বাচন, চারা রোপণ ও চারার পরিচর্যা করতে হয়। মাটি ও আবহাওয়ার কারণে দেশের সব জেলাতে সব জাতের আম হয় না। আমের জন্য মাটির অম্লতা দরকার ৫.৫-৭.০। অনেক সময় দেখা যায় পাহাড়ি ও বরিশাল বিভাগের অনেক জেলাতে ফজলী, ল্যাংড়া, খিরসাপাত ও আশ্বিনা জাতগুলো ভাল হয়। সুতরাং কাঙ্ক্ষিত জাতটি নির্বাচিত জায়গায় হবে কিনা তা বিবেচনায় রাখতে হবে।



গভীর, সুনিষ্কাশিত, উর্বর দো-আঁশ মাটি আম চাষের জন্য ভাল। বর্ষায় পানি দাঁড়ায় না এমন উঁচু বা মাঝারী উঁচু জমি নির্বাচন করতে হবে। কয়েকবার চাষ ও মই দিয়ে জমি সমতল এবং আগাছামুক্ত করতে হবে। রোপণ দূরত্ব নির্ভর করে আমের জাতের উপর। দ্রুত বর্ধনশীল আমের জাত বা বড় আকৃতির গাছ হলে সাধারণত ১২ মিটার বা প্রায় ৪০ ফুট দূরত্বে লাগাতে হবে। এই দূরত্বে গাছ লাগালে এক বিঘা জমিতে প্রায় ৯টি গাছ লাগানো যাবে। মধ্যম আকৃতির গাছ হলে ১০ মিটার বা ৩৫ ফুট দূরত্বে লাগানো যাবে এবং দূরত্ব অনুসরণ করলে এক বিঘা জমিতে ১৩টি গাছ লাগানো যাবে। খাটো আকৃতির জাত যেমন- বারি আম-৩ (আম্রপলি) হলে ৬-৮ মিটার দূরত্বে লাগানো যাবে এবং এ দূরত্ব অনুসরণ করলে এক বিঘা জমিতে প্রায় ২০-২৭টি গাছ লাগানো যাবে। জাতভেদে আম গাছের রোপণ দূরত্ব ৬×৬ মিটার; ১০×১০ মিটার এবং ১২×১২ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। বর্গাকার, আয়তাকার, ত্রিভুজাকার বা ষড়ভুজাকার যে প্রণালীতে চারা রোপণ করা হোক না কেন, গাছ লাগানোর স্থানটি চিহ্নিত করে বর্ষা শুরুর আগেই সেখানে গর্ত করতে হবে। সাধারণত মে-জুন মাসে ৭৫-১০০ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও গভীরতায় গর্ত করতে হবে। গর্ত করার সময় গর্তের উপরের অর্ধেক অংশের মাটি একপাশে এবং নিচের অংশের মাটি অন্যপাশে রাখতে হবে। গর্ত থেকে মাটি উঠানোর পর ১০ দিন পর্যন্ত গর্তটিকে রোদে শুকাতে হবে। এরপর প্রতি গর্তে ১০ কেজি গোবর সার, ৫০০ গ্রাম টিএসপি, ২৫০ গ্রাম এমপি, ২৫০ গ্রাম জিপসাম, ৫০ গাম জিংক সালফেট এবং ১০ গ্রাম বোরিক এসিড উপরের অংশের মাটির সাথে মিশিয়ে মাটি ওলোট-পালোট করে গর্ত ভরাট করতে হবে। গর্ত ভরাটের সময় উপরের অর্ধেক অংশের মাটি দিয়ে গর্ত ভরাট না হলে প্রয়োজনে পাশ থেকে উপরের মাটি গর্তে দিতে হবে। তবে গর্তের নিচের অংশের মাটি দিয়ে গর্ত ভরাট করা যাবে না।

সুস্থ-সবল ও রোগমুক্ত চারা রোপণ করলে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যায়। রোপণের জন্য ৪-৫ ফুট উচ্চতা সম্পন্ন ২-৩টি ডাল বিশিষ্ট চারা নির্বাচন করতে হবে। ২-৩ বছর বয়সী ফাটল/ভিনিয়ার কলমের চারা বাগানে লাগানোর জন্য ভাল। গর্ত ভর্তি করার ১০-১৫ দিন পর পুনরায় গর্তের মাটি ভালভাবে উলোট-পালোট করে গর্তের মাঝখানে চারাটি সোজাভাবে লাগিয়ে তারপর চারদিকে মাটি দিয়ে গাছের গোড়া সমান্য চেপে দিতে হবে। চারা রোপণের সময় চারার গোড়ার বলটি যেন ভেঙে না যায় এবং চারা গোড়াটি প্রয়োজনের অতিরিক্ত মাটির নিচে ঢুকে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। রোপণের পর চারাটি খুঁটির সাথে বেঁধে দিতে হবে। বিকেল বেলায় চারা/কলম রোপণ করা ভাল। রোপণের পর বৃষ্টি না থাকলে কয়েকদিন সেচ দিতে হবে। গাছে নতুন পাতা বের হলে পাতাকাটা উইভিল পোকা আক্রমণ করতে পারে। কচি পাতার নিচের পিঠে মধ্যশিরার উভয়পাশে স্ত্রী পোকা ডিম পাড়ে। পরে স্ত্রী পোকা ডিমপাড়া পাতাটির বোঁটার কাছাকাছি কেঁটে দেয়। শেষে গাছটি পাতাশূন্য হয়ে যায়। কর্তিত কচি পাতা মাটি থেকে সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। গাছে কচি পাতা বের হওয়ার ৬ দিন এবং ১২ দিন পর প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম সেভিন অথবা যেকোনো কীটনাশক নির্দেশিত মাত্রায় সেপ্র করলে পোকার আক্রমণ হয় না।


বাজারজাত করার জন্য কোন জাতের আমের চাহিদা বেশি, গুণগতমান ভাল এবং বাজারমূল্য বেশি তা জানা দরকার। আমাদের দেশে বেশ কিছু উত্কৃষ্ট মানের আমের জাত (ল্যাংড়া, খিরসাপাত, হিমসাগর, ফজলী, গোপাল ভোগ ও বোম্বাই) রয়েছে। যেগুলো রঙিন না হলেও স্থানীয় বাজারে এর চাহিদা বেশি। কিন্তু এ জাতগুলো বিদেশে রফতানি করে তেমন মুনাফা পাওয়া যাবে না। কারণ বিদেশের বাজারে রঙিন ও হালকা মিষ্টি আমের চাহিদা বেশি। এর জন্য বারি আম-২ এবং বারি আম-৭ জাত দু’টি উপযুক্ত। তবে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতি বছর ফল দিতে সক্ষম এমন কয়েকটি জাত উদ্ভাবন করেছে। জাতগুলো হলো বারি আম-১,২,৩,৪,৫,৬,৭,৮। এ জাতের চারা দিয়ে বাগান করলে ভাল ফলনের পাশাপাশি লাভবান হওয়া যায়।

আম বাগানের আগাম পরিচর্যা

বাংলাদেশে যে ৭০টি ফল বাণিজ্যিকভাবে চাষ হয় তার মধ্যে আম অন্যতম। মোট ফল চাষের ৪০ ভাগ জমিতে আম চাষ হলেও দিনদিন এর পরিধি আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে বিভিন্ন অঞ্চলে ফলনের তারতম্য দেখা যায়। যেমন চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহীতে আমের ফলন অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে বেশি। উত্পাদনের বিভিন্ন পর্যায়ে একটু যত্নবান হলে ফলন কয়েকগুণ বাড়ানো যায়। আর তাই যত্ন নিতে হবে আম সংগ্রহের পর থেকেই। রোগাক্রান্ত ও মরা ডালপালা একটু ভাল অংশসহ কেটে ফেলতে হবে মৌসুমের পর। ডালপালা এমনভাবে ছাটাই করতে হবে যেন গাছের ভেতর পর্যন্ত সূর্যের আলো পৌঁছাতে পারে। গাছের ভেতরমুখি ডালে সাধারণত ফুলফল হয় না, তাই এ ধরনের ডাল কেটে ফেলতে হবে। বর্ষাকালে কাটা অংশগুলো থেকে নতুন কুশি গজাবে এবং পরের বছরে ওই নতুন কুশিগুলোতে ফুল আসবে। একটা কথা মনে রাখতে হবে- ডগার বয়স ৫ থেকে ৬ মাস না হলে ওই ডগায় সাধারণত ফুল আসে না। আগামী বছরে একটি গাছে কী পরিমাণ ফলন আসতে পারে তা আগস্ট মাসেই ধারনা পাওয়া যায়। এ সময়ের মধ্যে গাছে যত বেশি নতুন ডগা গজাবে ততই ভাল।

বছর অনুযায়ী সারের পরিমাণ দেয়া হল-


গোবর সার দিতে হবে রোপণের ১ বছর পর ২০, রোপণের ২ বছর পর ২৫, প্রতি বছর বাড়াতে হবে ৫ এবং ২০ বছর ও এর উর্ধ্বে ১২৫ কেজি প্রয়োগ করতে হবে। এভাবে ইউরিয়া রোপণের ১ বছর পর ২৫০, রোপণের ২ বছর পর ৩৭৫, প্রতি বছর বাড়াতে হবে ১২৫ এবং ২০ বছর ও এর উর্ধ্বে ২৭৫০ গ্রাম প্রয়োগ করতে হবে। টিএসপি রোপণের ১ বছর পর ১০০, রোপণের ২ বছর পর ২০০, প্রতি বছর বাড়াতে হবে ১০০ এবং ২০ বছর ও এর উর্ধ্বে ২১৫০ গ্রাম প্রয়োগ করতে হবে। এমপি রোপণের ১ বছর পর ১০০, রোপণের ২ বছর পর ২০০, প্রতি বছর বাড়াতে হবে ১০০ এবং ২০ বছর ও এর উর্ধ্বে ২১০০ গ্রাম প্রয়োগ করতে হবে। জিপসাম রোপণের ১ বছর পর ১০০, রোপণের ২ বছর পর ১৭৫, প্রতিবছর বাড়াতে হবে ৭৫ এবং ২০ বছর ও এর উর্ধ্বে ১৬০০ গ্রাম প্রয়োগ করতে হবে। জিংক সালফেট রোপণের ১ বছর পর ১০, রোপণের ২ বছর পর ১৫, প্রতি বছর বাড়াতে হবে ৫ এবং ২০ বছর ও এর উর্ধ্বে ১১০ গ্রাম প্রয়োগ করতে হবে। বোরিক এসিড রোপণের ১ বছর পর ৫, রোপণের ২ বছর পর ৭, প্রতি বছর বাড়াতে হবে ২ এবং ২০ বছর ও এর উর্ধ্বে ৫০ গ্রাম প্রয়োগ করতে হবে।

সব সার দু’কিস্তিতে প্রয়োগ করা ভাল। প্রথম অর্ধেক বর্ষার আগে এবং বাকিটা আশ্বিন মাসে অর্থাত্ বর্ষার পরে। যদি কোনো আমচাষি প্রথম কিস্তির সার প্রয়োগ না করেন তবে দ্বিতীয় কিস্তির সময় চাহিদার পুরো সারটাই প্রয়োগ করতে হবে। অনেক আমচাষি বাগানের ফজলি ও আশ্বিনা আম সংগ্রহ করার পর সার প্রয়োগ করেন যা মোটেই বিজ্ঞানসম্মত নয়। ফলন্ত গাছে গুঁড়ি থেকে ২-৩ মিটার দূরত্বে ৩০ সে.মি. প্রশস্ত ও ১৫-২০ সে.মি. গভীর করে চক্রাকার নালা কেটে তার ভেতর রাসায়নিক ও জৈব সার মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। অথবা দুপুরবেলা যতটুকু জায়গায় গাছের ছায়া পড়ে ততটুকু জায়গায় সার ছিটিয়ে কোঁদাল দিয়ে মাটি কুপিয়ে ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। সাধারণত আমগাছে ফল আসার পর গাছগুলো দুর্বল হয়ে যায়। ফলে গাছের প্রয়োজন হয় খাদ্যের। সার দেয়ার পর বর্ষা শুরু হলে গাছ তার প্রয়োজনীয় খাদ্য মাটি থেকে নিতে পারে।

আমবাগানে নিয়মিত সেচ দিতে হবে। তবে মাটিতে রস থাকলে সেচের দরকার হবে না। গবেষণায় দেখা গেছে, আমগাছে পরিবর্তিত বেসিন পদ্ধতিতে অর্থাত্ গাছের গোড়ার চারদিকে এক মিটার জায়গা সামান্য উঁচু রেখে দুপুরবেলা যতটুকু জায়গায় গাছের ছায়া পড়ে ততটুকু জায়গায় একটি থালার মত করে বেসিন তৈরি করে সেচ দিলে পানির পরিমাণ কম লাগে এবং বেশির ভাগ পানি গাছ গ্রহণ করতে পারে। বেসিন পদ্ধতির আরেকটি সুবিধা হল গাছের গোড়া পরিষ্কার থাকে ফলে আগাছা জন্মাতে পারে না। সেচ দেয়ার পর জায়গাটি কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে দিলে মাটিতে একমাস পর্যন্ত রস থাকবে। তবে আমগাছে ফুল আসার একমাস আগে সেচ না দেয়াই ভাল। এ সময় সেচ দিলে গাছে নতুন পাতা বের হবে এতে মুকুলের সংখ্যা কমে গিয়ে ফলন কমে আসবে।

আমবাগানে জৈব পদার্থের ঘাটতি থাকলে ধৈঞ্চার চাষ করতে হবে। এতে বাগানে জৈব পদার্থসহ অন্যান্য সার যোগ হলে মাটির উত্পাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। আমগাছে ২/৩ ধরনের পরগাছা দেখা যায়। ছোট গাছের চেয়ে বড় গাছে পরগাছার আক্রমণ বেশি হয়। পরগাছার বীজ আমগাছের ডালে অঙ্কুরিত হয়ে বাড়তে থাকে এবং ডাল থেকে প্রয়োজনীয় পানি, খাদ্যরস, খনিজ পদার্থ ইত্যাদি শোষণ করে বেঁচে থাকে। পরগাছার কোনো শেকড় থাকে না। শেকড়ের মত এক ধরনের হস্টোরিয়া তৈরি করে। ডাল থেকে খাদ্য গ্রহণ করে। বর্ষাকালে পরগাছার বীজ বেশি বিস্তার লাভ করে।


আক্রান্ত ডাল পরগাছার গোড়াসহ কেটে ফেলতে হবে। কাটা স্থানে রোগের আক্রমণ যাতে না হয় তার জন্য বোর্দো পেস্টের প্রলেপ দিতে হবে। পরগাছায় ফুল ফল আসার আগেই এ কাজটি করতে হবে।

আমগাছে শতভাগ মুকুল আসা ভাল না। এতে ফলন ব্যাহত হয়। তাই শতভাগ মুকুলায়িত আমগাছের চারদিক থেকে ৫০% মুকুল ফোটার আগেই ভেঙে দিতে হবে। এতে ভাঙা অংশে নতুন কুশি গজাবে এবং পরবর্তী বছরে ওই সব ডগায় ফুল আসবে, আম আসবে।

বাড়ির আঙিনায়ও আমের চাষ করা যায়

জ্যৈষ্ঠ মাস হচ্ছে বাংলাদেশের মধুমাস। আর এই মধুমাসের মধুফল হল আম। এই আমকে ঘিরে হয়েছে বাঙালির অনেক ঐতিহ্য এবং নানা ধরনের খাবার। ইদানীং কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী এই ঐতিহ্যকে নষ্ট করে ফেলছে। বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ যেমন-কার্বামাইড ইথাইল, ইথিলিন এবং বিভিন্ন প্রকার হরমোন দিয়ে অপরিপকস্ফ ফলকে পাকিয়ে বাজারজাত করছে, যা মানুষের দেহের জন্য অনেক ক্ষতিকর। এতে ক্যান্সার, লিভার সিরোসিস, ক্ষুদা মন্দা, বন্ধ্যত্ব ইত্যাদি মারাত্মক রোগ হতে পারে। এছাড়াও জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে দিন দিন জমি কমে যাওয়ায় ফল গাছের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। বাঙালিদের এই ঐতিহ্যবাহী ফলকে টিকিয়ে রাখার জন্য বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এমএ রহিম নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তারই অংশ হিসেবে এরই মধ্যে ফলগাছ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বসতবাড়ির আঙ্গিনায় ও বাণিজ্যিকভাবে চাষোপযোগী বিভিন্ন উন্নত জাতের উচ্চ ফলনশীল বামন প্রকৃতির আমের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এছাড়াও বছরে দুই থেকে তিনবার ফলনশীল, পলিঅ্যামব্রায়োনিক, ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ডায়াবেটিক আমসহ বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের আমের জাত উদ্ভাবন করেছেন।



এফটিআইপি বাউ আম-১ (শ্রাবণী) : শ্রাবণী একটি নিয়মিত ফলধারণকারী নাবী জাতের আম। ফলের আকার মাঝারি ও কিঞ্চিত্ লম্বা। পাকা ফলের ত্বকের রং গাঢ় হলুদ, শাঁসের রং কমলাভ লাল, সুস্বাদু, রসালো ও মিষ্টি। খোসা সামান্য মোটা ও আঁটি পাতলা। এটি একটি মাঝারি বামন জাতের গাছ। বাংলাদেশের সবগুলো এগ্রো ইকোলজিক্যাল জোনে উত্পাদনযোগ্য। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে ফুল আসে এবং জুলাই মাসের শেষের দিকে ফল পাকতে শুরু করে। সুনিষ্কাশিত উর্বর দোআঁশ মাটি উত্তম। ফুল আসা থেকে ফল পরিপকস্ফ হতে প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস সময় লাগে। প্রতি বছর বর্ষার আগে ও পরে জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হবে। পোকামাকড় ও রোগবালাইয়ের জন্য নিয়মিত কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করতে হবে। হেক্সাগোনাল রোপণ পদ্ধতি উত্তম। ৫-৭ মিটার – ৫-৭ মিটার রোপণ দূরত্বে প্রতি হেক্টর ৩০০-৩৫০টি চারা রোপণ করা যায়। রোপণকাল থেকে ফল পেতে প্রায় এক বছর সয়ম লাগে। ফলে মাঝে মাঝে হালকা অ্যানথ্রাকনোজ রোগ দেখা যায়।

এফটিআইপি বাউ আম-২ (সিন্দুরী) : এটি নিয়মিত ফলধারণকারী ও বামন প্রকৃতির জাত। ফল আকারে ছোট ও গোলাকৃতি। গাছে থোকায় থোকায় আম ধরে। কাঁচা আম সবুজাভ সিঁদুরে রংয়ের হয়ে থাকে। পাকলে সিঁদুরে হলুদ রংয়ের হয়ে থাকে। রসালো এবং টক-মিষ্টি। শাঁসে কোনো আঁশ নেই। আমের আঁটি পাতলা কাগজের মতো। তাই এ জাতকে বীজবিহীন আম বলে। বাংলাদেশের সবগুলো এগ্রো ইকোলজিক্যাল জোনে উত্পাদনযোগ্য। উর্বর দোআঁশ মাটি এ ফল চাষের জন্য উত্তম। তবে বাংলাদেশের আবহাওয়ায় সব মাটিতে এ ফল চাষ করা যায়। ৫-৭ মিটার – ৫-৭ মিটার রোপণ দূরত্বে প্রতি হেক্টর ৩০০-৩৫০টি চারা রোপণ করা যায়। রোপণের পর প্রথম বছর থেকে ফল পাওয়া যায়, তবে গাছের মজবুত কাঠামো তৈরির জন্য প্রথম বছর মুকুল আসার পর মুকুল ভেঙ্গে দিতে হবে। এই আমে ভিটামিন সি বেশি পরিমাণে থাকে।

এফটিআইপি বাউ আম-৩ (ডায়াবেটিক) : জুন মাসের শেষের দিকে এই জাতের পাকা ফল পাওয়া যায় । ফুল আসা থেকে শুরু করে পরিপকস্ফ হতে ৫-৭ মাস সময় লাগে । ফলের আকার মাঝারি ও লম্বাটে প্রকৃতির । ফলের গড় ওজন ৫৫ গ্রাম । পাকা ফলের রং হলুদাভ । ফলে রসের পরিমাণ কম কিন্তু আঁশের পরিমাণ বেশি। ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত রোগীরা এ ফল খেতে পারে। এটি নিয়মিত ফলধারণকারী ও বামন প্রকৃতির জাত। গাছে প্রতি বছরই প্রধানত ২ বার ফুল ও ফল ধরে। প্রথমবার জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে এবং দ্বিতীয় বার মে-জুন মাসে ফুল আসে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে উত্পন্ন ফুল হতেই মুখ্য উত্পাদন পাওয়া যায় । সুনিষ্কাশিত উর্বর দোআঁশ মাটি এ আম চাষের জন্য উত্তম । দীর্ঘ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না, তবে খরা মৌসুমে সেচ প্রদান করতে হবে । ৫-৭ মিটর দূরে দূরে প্রতি হেক্টরে ৩০০-৩৫০টি চারা রোপণ করা যায় । রোপণকাল থেকে ফল পেতে প্রায় একবছর সময় লাগে ।


এফটিআইপি বাউ আম-৪: এটি নিয়মিত ফল ধারণকারী জনপ্রিয় একটি জাত। জুন মাসের দিকে এই জাতের ফল পাকা শুরু হয় আর ফুল আসা থেকে ফল পরিপক্ক হতে প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস সময় লাগে। পাকা ফলের ত্বকের রঙ হালকা সবুজ। শাঁসের রঙ কমলা, সুগন্ধযুক্ত, রসালো এবং বেশ মিষ্টি। শাঁসে কোনো আঁশ নেই। খোসা পাতলা এবং আঁটি খুবই ছোট (ফলের ৯.৭৬%)। এ জাতের আম সারা বছর লাগানো যায়। বোঁটা শক্ত হওয়ায় ঝড়ো হাওয়াতে ঝরে পড়ার সম্ভাবনা কম থাকে। ৭-৮ মিটার দূরে দূরে প্রতি হেক্টরে ২০০-২২০টি চারা রোপণ করা যায়।

এফটিআইপি বাউ আম-৬ (পলিএ্যাম্বব্রায়নী): গাছ বামন আকৃতির এবং নাবী জাত। পাঁচ বছরের একটি গাছ হতে গড়ে ১০০-৩০০টি ফল পাওয়া যায়। একটি বীজ হতে গড়ে ৫-৮টি চারা পাওয়া যায়, এর মধ্যে একটি চারা জাইগোটিক বাকিগুলো নিউসেলাস। প্রতি বছরই ফল পাওয়া যায়। অর্ধেক ড্রামে বাড়ির ছাদেও চাষ করা যায়। ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে ফুল আসে এবং জুলাই-আগস্ট মাসে ফল পরিপক্ক হয়। জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ দোআঁশ মাটি উত্তম। পাঁচ বছরের একটি গাছ হতে ৩০-৪০ কেজি ফলন পাওয়া যায় এবং বছর প্রতি ২০-৩০ কেজি করে বাড়তে থাকে। পূর্ণবয়স্ক গাছে ২৫-৩০ টন/হেক্টরে ফল পাওয়া যায়। এই আমগাছ বাণিজ্যিকভাবে আম উৎপাদন এবং পলিএ্যাম্বব্রায়নী হওয়ায় নার্সারিতে চারা উৎপাদন করার জন্য উত্তম।

এফটিআইপি বাউ আম-৯ (সৌখিন চৌফলা): জাতটি নিয়মিত ফলধারণকারী। এটি একটি বামন জাতের গাছ। বছরে ৩-৪ বার ফল দেয়। এটি সৌখিন ফল চাষিদের জন্য, যা ছাদে বা টবে চাষ করা যায়। বাণিজ্যিকভাবেও লাগানো যায়। পলিব্যাগে চারা থাকলে সারা বছর গাছ লাগানো যায়। সুনিষ্কাশিত উর্বর দোআঁশ মাটি উত্তম। ফুল আসা থেকে ফল পরিপক্ক হতে প্রায় পাঁচ মাস সময় লাগে। প্রতি হেক্টরে ৭০০-৮০০টি চারা রোপণ করা যায়। রোপণকাল থেকে ফল পেতে ছয় মাস সময় লাগে।

এফটিআইপি বাউ আম-১০ (সৌখিন-২): এটি একটি মাঝারি বামন জাত। সারা বছর জাতটি লাগানো যায়। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে ফুল আসে এবং মে-জুন মাসে ফল পরিপক্ক হয়। আবার জুলাই-আগস্ট মাসে ফল আসে এবং নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে ফল পাকে। রোপণকাল থেকে ফল পেতে এক বছর সময় লাগে। তেমন কোনো রোগবালাই দেখা যায় না। প্রথম বছর ১০-১৫টি এবং দ্বিতীয় বছরে ৩০-৫০টি পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। এই জাতের গাছ বাণিজ্যিকভাবে লাগানো ঠিক হবে না। তবে বাড়ির আঙিনায় ও ছাদে লাগানোর জন্য উত্তম।
উল্লেখ্য, বাউ আমের চারা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্ম প্লাজম সেন্টারসহ দেশের বিভিন্ন নার্সারিতে পাওয়া যায়।

ফল

রাজশাহীর বাজারে সময়ের আগেই গোপালভোগ!

রাজশাহীর বাজারে সময়ের আগেই উঠেছে জাতআম খ্যাত ‘গোপালভোগ’। তবে, এই আম নামানোর কথা আগামী ২০ মে থেকে।

অর্থাৎ সময়েরও প্রায় দুই সপ্তাহ আগে এই আম গাছ থেকে ভাঙা হয়েছে। আর তাই বাজারেও মিলছে পাকা রঙের গোপালভোগ আম।

এতে আমের রাজধানীতে থাকা মানুষের মধ্যে এই আম নিয়ে দেখা দিয়েছে মিশ্র-প্রতিক্রিয়া। এখনই বাজারে এই আম খাবেন না খাবেন না; তা নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগছেন অনেকেই।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রচণ্ড গরমের কারণে অনেকটা আগেই পেকে গেছে গোপালভোগ আম। তাই কোনো রকম রাসায়নিক ছাড়াই বিক্রি করার জন্য তারা পাকা আম বাজারে তুলেছেন। এটি নিঃসন্দেহে স্বাস্থ্যসম্মত। 

রাজশাহী জেলা প্রশাসন বলছে, সাধারণত ২০/২৫ মে মাসের আগে গোপালভোগ খাওয়ার জন্য উপযুক্ত হয় না। যে কারণে তারা এবছর গোপালভোগ আম নামানোর জন্য ২০ মে তারিখ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এই সময়ের আগে এই আম পরিপক্ক হয় না। তাই বাজারে অপরিপক্ক আম পেলে যাচাই-বাছাই করে শিগগিরই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

এদিকে শনিবার (৮ মে) দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর সাহেব বাজার জিরোপয়েন্ট, বড় মসজিদের সামনে এবং সাহেব বাজার কাঁচাবাজারের সামনে এই গোপালভোগ আম বিক্রি করতে দেখা গেছে।

অনেকে ভ্যানে করে আম বিক্রি করছেন। অনেকেই আবার অন্যান্য ফলের সঙ্গেও আম বিক্রি করছেন। ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে এই আম বিক্রি হচ্ছে। বলা চলে তারা কেউই জেলা প্রশাসনের ‘ম্যাংগো ক্যালেন্ডার’ মানছেন না। অনেক চাষি ও ব্যবসায়ী আম পাকার নির্দিষ্ট সময়ের আগেই আম ভাঙছেন। ফলে এই অপরিপক্ক আমই এখন খেতে হচ্ছে ভোক্তাদের। মনের মধ্যে নানান দ্বিধা-দ্বন্দ্ব থাকলেও নতুন ফল হিসেবে অনেকেই শখ করে ছেলে-মেয়ের জন্য এই আম কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। 

রাজশাহী সাহেববাজার এলাকার ফল ব্যবসায়ী শাহীন আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, এখন যে আম নামছে আর যা বিক্রি হচ্ছে তা কেমিক্যাল বা রাসায়নিক মেশানো। গোপনে গাছ থেকে পাড়া হচ্ছে। এরপর তা গ্রাম থেকে রাজশাহী শহরে চলে আসছে। এজন্য প্রকৃত ফল ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের ভয়ে সময়ের আগে আম বাজারে উঠাচ্ছেন না। কারণ ধরা পড়লে জরিমানা গুনতে হবে।  

এর আগে অনেকের জরিমানা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রাজশাহীর সাহেববাজারে ভ্যান করে আম নিয়ে আসা শাজাহান বাংলানিউজকে বলেন, এই আমি কোনো কেমিক্যাল বা রাসায়নিক মেশানো হয়নি। এবার রাজশাহীতে প্রচণ্ড তাপদাহ বয়ে যাচ্ছে। এ কারণে সময়ের আগেই পেকে যাচ্ছে আম। আবার আগাম জাতের আম রয়েছে। সেগুলো এখন পাকতে শুরু করেছে। এই আমগুলো গাছপাকা এবং সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসম্মত বলেও তিনি দাবি করেন। 

রাজশাহী ফল গবেষণাকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আব্দুল আলিম বাংলানিউজকে বলেন, ভালো আম পেতে আরও একটু অপেক্ষা করতে হবে। আমচাষি, ব্যবসায়ী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও ফল গবেষণাকেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট সবাই বসে একমত হওয়ার পরই রাজশাহী জেলা প্রশাসন এবছরও গাছ থেকে আম ভাঙার সময় বেঁধে দিয়েছে। সেই সময় অনুযায়ী গাছ থেকে আম ভাঙা হলে এবং সেই আম বাজারজাত এবং খাওয়া হলে কোনো ঝুঁকি নেই বলেও মন্তব্য করেন এই বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা।

এদিকে বাজারে সময়ের আগেই আম বিক্রির ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিজিত সরকার বলেন, বেঁধে দেওয়া সময়ের আগে কোনোভাবেই আম নামানো যাবে না। যদি কেউ সময়ের আগে গাছ থেকে অপরিপক্ক আম ভাঙেন এবং বাজারে বিক্রি করেন তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিগগিরই তারা বাজার মনিটরিং করে এ বিষয়টি দেখবেন বলেও উল্লেখ করেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

ছাদে আমের কলমের চারা বাগান

আম বাংলাদেশে খুবই জনপ্রিয় একটি ফলের নাম । আমকে ফলের রাজা বলা হয় । সারা দেশেই এর চাষ হলেও বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলের প্রধান অর্থকরী ফসল হল এই আম । বাংলাদেশে অনেক জাতের আমের চাষ হয়ে থাকে । তবে এর মধ্যে ভাল জাতের আমের চাষ রাজশাহী অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ । শহরের বাসিন্দারা ছাদে দুচারটা আম গাছ লাগিয়ে শখ মিটাতে পারেন ।

ছাদের উপযোগী জাতঃ সব জাতের আমই ছাদে চাষ করা সম্ভব ।

তবে ফলন বেশী হয় ছাদের জন্য এমন কিছু জাত নির্বাচন করা উচিৎ । এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভাল হয় বারি আম -৩ জাতটি । গাছ ছোট আকৃতি, ফল মাঝারি এবং খেতে বেশ সুস্বাদু । যার আরেক নাম আম্রপালি । মোটামুটি প্রতিবছরই ফল দেয় বিধায় ছাদে লাগানোর ক্ষেত্রে আম্রপালিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া উচিৎ । তাছাড়াও বাউ আম – ১, ২, ৩, ৬, ৭, লতা বোম্বাই ইত্যাদি বামন জাতের আম ছাদের জন্য বেশ উপযোগী । চাষ পদ্ধতিঃ ছাদে আমের কলমের চারা লাগানোর জন্য ২০ ইঞ্চি কালার ড্রাম বা টব সংগ্রহ করতে হবে । ড্রামের তলায় ৩-৫ টি ছিদ্র করে নিতে হবে । যাতে গাছের গোড়ায় পানি জমে না থাকে । টব বা ড্রামের তলার ছিদ্রগুলো ইটের ছোট ছোট টুকরা দিয়ে বন্ধ করে দিতে হবে । এবার ২ ভাগ দোআঁশ মাটি, ১ ভাগ গোবর, ৪০-৫০ গ্রাম টি,এস,পি সার, ৪০-৫০ গ্রাম পটাশ সার, ১ কেজি কাঠের ছাই, ১কেজি হাড়ের গোড়া ও হাফ কেজি সরিষার খৈল একত্রে মিশিয়ে ড্রাম বা টব ভরে পানিতে ভিজিয়ে রেখে দিতে হবে ১৫ দিন ।

অতঃপর মাটি কিছুটা খুচিয়ে দিয়ে আবার ৪-৫ দিন এভাবেই রেখে দিতে হবে । যখন মাটি কিছুটা ঝুরঝুরে হবে তখন একটি  সুস্থ সবল কলমের চারা উক্ত টবে রোপন করতে হবে ।  চারা গাছটিকে সোজা করে লাগাতে হবে । সেই সাথে গাছের গোড়ায় মাটি কিছুটা উচু করে দিতে হবে এবং মাটি হাত দিয়ে চেপে চেপে দিতে হবে । যাতে গাছের গোড়া দিয়ে বেশী পানি না ঢুকতে পারে । একটি সোজা কাঠি দিয়ে গাছটিকে বেধে দিতে হবে । চারা লাগানোর পর প্রথমদিকে পানি কম দিতে হবে । আস্তে আস্তে পানি বাড়াতে হবে । টবের গাছটিকে এমন জায়গায় রাখতে হবে যাতে প্রায় সারাদিন রোদ লাগে ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

অনুন্নত জাতের আম গাছকে উন্নত জাতে পরিবর্তনের পদ্ধতি

বর্তমানে বাংলাদেশে ৭০টি ফল বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ হচ্ছে। এর মধ্যে আম স্বাদে ও গন্ধে খুবই আকর্ষণীয় ফল। ফলের গুণগতমান ও বহুবিধ ব্যবহারের কারণে প্রায় সব মানুষের কাছে এটি সমানভাবে সমাদৃত। ভারতীয় উপমহাদেশে এই জন্য আমকে ফলের রাজা বলা হয়। ভাল বা উন্নতজাতের আমের চাহিদা দেশব্যাপী। বর্তমানে বাংলাদেশের সকল জেলাতেই আমের চাষাবাদ হচ্ছে।

কিন্তু ভাল ও মানসম্পন্ন আম সকল জেলাতে উৎপাদন হয় না। কারণ হিসেবে দেখা যায়, মাটি ও আবহাওয়াগত অবস্থা, আমের জাত ও বাগান ব্যবস্থাপনা উলেস্নখযোগ্য। আমের রাজধানী চাঁপাই নবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, দিনাজপুর, মেহেরপুর ও ঠাকুরগাঁ জেলাতে ভাল জাতের আম উৎপাদন হয়। অন্যান্য জেলাগুলোতে বেশিরভাগ আম গাছ বীজ থেকে হওয়া বা গুটি প্রকৃতির। ফলে বীজের গাছ হতে ভাল জাতের আম পাওয়া সম্ভব নয়, যার জন্য প্রতি বছর বিভিন্ন বয়সের আম গাছ চাষিরা কেটে ফেলেন। কিন্তু অতি সহজেই টপ ওয়ারকিং এর মাধ্যমে অনুন্নত জাতকে উন্নত জাতে পরিবর্তন করা যায়। এছাড়াও ভাল জাতের আমের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৪০ ভাগ আম গাছই গুটি প্রকৃতির। যদি এই গুটি গাছগুলোকে এই পদ্ধতির মাধ্যমে উন্নত জাতে পরিবর্তন করা সম্ভব হয় তাহলে খুব অল্প সময়ে দেশে আমের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।

এই পদ্ধতিতে জাত পরিবর্তনের জন্য প্রথমে অনুন্নত জাতের গাছটির উপরের অংশ কর্তন করা হবে। বছরের সব সময় এই কর্তনের কাজটি করলে সুফল পাওয়া যাবে না। গবেষণায় দেখো গেছে, বর্তমান সময় এবং ফেব্রুয়ারি মাসে কর্তনের কাজটি করলে ভাল হয়। গাছ কর্তনের পরে গাছে সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা করতে হবে। সাধারণত দেখা যায়, ডাল কর্তনের ৩০ থেকে ৪৫ দিন পর নতুন শাখা বের হয়। তবে মাটির অবস্থাভেদে এই সময় কম বেশি হতে পারে। প্রথমে দেখা যায়, কর্তিত অংশ হতে অসংখ্য নতুন কুশি বের হয়। সুস্থ সবল ও রোগমুক্ত শাখাগুলো রেখে বাকিগুলো ভেঙে ফেলতে হবে। গাছের বয়স অনুযায়ী ৫০ থেকে ১০০টি শাখা রাখতে হবে। এই সময় নতুন কুশিতে এ্যানথ্র্যাকনোজ রোগের আক্রমণ দেখা দিতে পারে।

এই রোগের আক্রমণ দেখা দিলে ছত্রাকনাশক নির্দেশিত মাত্রায় ২/৩ বার ১৫ দিন পর পর সপ্রে করতে হবে। পাতা কাটা উইভিল বা থ্রিপসের আক্রমণ হলে সুমিথিয়ন ৫০ ইসি/ডায়াজিনন ৫০ ইসি প্রতি লিটার পানিতে ২ মিলি হারে সপ্রে করতে হবে। ছাঁটাইকৃত ডালে যে কুশি বের হবে সেগুলো মে-জুলাই মাস পর্যন্ত কলম করা যাবে। ক্লেফ্ট এবং ভিনিয়ার এই দুই পদ্ধতিতে কলম করা যায়। তবে কলম করার সময় ভিনিয়ার পদ্ধতিতে কলম করা উত্তম। অন্য পদ্ধতিতে সফলতার হার কম হবে। প্রত্যেকটি ডালে ভিন্ন জাত দ্বারা কলম করা সম্ভব তবে খুব বেশি জাতের কলম না করাই ভাল। কলম করার পর মূল গাছের শাখা-প্রশাখা বের হলে তা ভেঙে ফেলতে হবে। নতুন জাতে পরিবর্তিত গাছে তৃতীয় বছর হতে আম উৎপাদন শুরু হয় এবং চতুর্থ বছর হতে ভাল ফলন দিতে শুরু করে। গাছের বয়স ১০ থেকে ৪৫ বছর হলে পদ্ধতিটি প্রয়োগ করলে ভাল ফলাফল পাওয়া যাবে। তবে গাছের বয়স কম হলে ডগা না কেঁটে সরাসরি কলম বাঁধা যায়। ফলে অতি অল্প সময়ে বর্ধিত জনসংখ্যার জন্য অতিরিক্ত আমের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

রাসায়নিক মুক্ত আম চেনার ৮টি উপায়

আজকাল সব কিছুতেই ভেজাল আর ফল/ সবজি মানেই হচ্ছে রাসায়নিক। তাহলে এখন উপায়? কি করে চিনবেন রাসায়নিক মুক্ত আম? কেনার সময় ক্রেতা যদি একটু সচেতন থাকেন, তাহলেই কিন্তু চিনে নেয়া সম্ভব রাসায়নিক মুক্ত আম। আসুন জেনে নেই।6px;”>১)প্রথমেই লক্ষ্য করুন যে আমের গায়ে মাছি বসছে কিনা। কেননা ফরমালিন যুক্ত আমে মাছি বসবে না।২)আম গাছে থাকা অবস্থায়, বা গাছ পাকা আম হলে লক্ষ্য করে দেখবেন যে আমের শরীরে এক রকম সাদাটে ভাব থাকে। কিন্তু ফরমালিন বা অন্য রাসায়নিকে চুবানো আম হবে ঝকঝকে সুন্দর।৩)কারবাইড বা অন্য কিছু দিয়ে পাকানো আমের শরীর হয় মোলায়েম ও দাগহীন। কেননা আম গুলো কাঁচা অবস্থাতেই পেড়ে ফেলে ওষুধ দিয়ে পাকানো হয়। গাছ পাকা আমের ত্বকে দাগ পড়বেই।৪)গাছপাকা আমের ত্বকের রঙে ভিন্নতা থাকবে। গোঁড়ার দিকে গাঢ় রঙ হবে, সেটাই স্বাভাবিক।

কারবাইড দেয়া আমের আগাগোড়া হলদেটে হয়ে যায়, কখনো কখনো বেশি দেয়া হলে সাদাটেও হয়ে যায়।৫) হিমসাগর ছাড়াও আরও নানান জাতের আম আছে যারা পাকলেও সবুজ থাকে, কিন্তু অত্যন্ত মিষ্টি হয়। গাছপাকা হলে এইসব আমের ত্বকে বিচ্ছিরি দাগ পড়ে। ওষুধ দিয়ে পাকানো হলে আমের শরীর হয় মসৃণ ও সুন্দর।৬) আম নাকের কাছে নিয়ে ভালো করে শুঁকে কিনুন। গাছ পাকা আম হলে অবশ্যই বোটার কাছে ঘ্রাণ থাকবে। ওষুধ দেয়া আম হলে কোনও গন্ধ থাকবে না, কিংবা বিচ্ছিরি বাজে গন্ধ থাকবে।৭) আম মুখে দেয়ার পর যদি দেখেন যে কোনও সৌরভ নেই, কিংবা আমে টক/ মিষ্টি কোনও স্বাদই নেই, বুঝবেন যে আমে ওষুধ দেয়া।৮) আম কেনা হলে কিছুক্ষণ রেখে দিন। এমন কোথাও রাখুন যেখানে বাতাস চলাচল করে না। গাছ পাকা আম হলে গন্ধে মৌ মৌ করে চারপাশ। ওষুধ দেয়া আমে এই মিষ্টি গন্ধ হবেই না।আম সম্পর্কে নতুন করে কি কিছু বলার আছে? না নেই। এখন তো আমেরই মৌসুম চলছে। যিনি কি-না মোটেই আম ভালোবাসেন না, এ মৌসুমে তিনিও একবার হলেও চেখে দেখেন। ভারতীয় উপমহাদেশে আম কয়েক হাজার বছর ধরে চাষাবাদ চলছে।তবে পৃথিবীতে প্রায় ৩৫ প্রজাতির আম আছে। এ দেশেও আমের বিভিন্ন জাতের দেখা পাওয়া যায়।কিন্তু কেবল দেখা পেলে কী হবে? আজকাল সব কিছুতেই ভেজাল আর ফল-সবজি মানেই হচ্ছে কেমিক্যালযুক্ত। তাহলে এখন উপায়? কী করে চিনবেন রাসায়নিকমুক্ত আম? কেনার সময় ক্রেতা যদি একটু সচেতন থাকেন, তাহলেই কিন্তু চিনে নেওয়া সম্ভব রাসায়নিক মুক্ত আম। আসুন জেনে নিই।


প্রথমেই লক্ষ করুন যে আমের গায়ে মাছি বসছে কি-না।

ফরমালিনযুক্ত আমে মাছি বসে না।আম গাছে থাকা অবস্থায়, বা গাছ পাকা আম হলে লক্ষ করে দেখবেন যে আমের শরীরে এক রকম সাদাটে ভাব থাকে। কিন্তু ফরমালিন বা অন্য রাসায়নিকে চুবানো আম হবে ঝকঝকে সুন্দর।কারবাইড বা অন্য কিছু দিয়ে পাকানো আমের শরীর হয় মোলায়েম ও দাগহীন। কেননা আমগুলো কাঁচা অবস্থাতেই পেড়ে ফেলে ওষুধ দিয়ে পাকানো হয়। গাছ পাকা আমের ত্বকে দাগ পড়বেই।গাছপাকা আমের ত্বকের রঙে ভিন্নতা থাকবে। গোঁড়ার দিকে গাঢ় রঙ হবে, সেটাই স্বাভাবিক। কারবাইড দেওয়া আমের আগাগোড়া হলদেটে হয়ে যায়, কখনও কখনও বেশি দেওয়া হলে সাদাটেও হয়ে যায়।হিমসাগর ছাড়াও আরও নানান জাতের আম আছে যা পাকলেও সবুজ থাকে, কিন্তু অত্যন্ত মিষ্টি হয়। গাছপাকা হলে এইসব আমের ত্বকে বিচ্ছিরি দাগ পড়ে। ওষুধ দিয়ে পাকানো হলে আমের শরীর হয় মসৃণ ও সুন্দর।আম নাকের কাছে নিয়ে ভালো করে শুঁকে কিনুন। গাছ পাকা আম হলে অবশ্যই বোটার কাছে ঘ্রাণ থাকবে। ওষুধ দেওয়া আম হলে কোনো গন্ধ থাকবে না, কিংবা বিচ্ছিরি বাজে গন্ধ থাকবে।আম মুখে দেওয়ার পর যদি দেখেন কোনো সৌরভ নেই, কিংবা আমে টক-মিষ্টি কোনো স্বাদই নেই, বুঝবেন যে সে আমে ওষুধ দেওয়া।বাংলাদেশে বিভিন্ন জাতের ফল আছে। তবে আমের মতো এত সুস্বাদু ফল আর নেই। আমের যেমন ঘ্রাণ, তেমনি মজাদারও বটে। তাই তো বলা হয়, ফলের রাজা আম।আম দিয়ে বানানো হয় চাটনি, আচার, আমসত্ত্ব, জুস। আমাদের দেশে ল্যাংড়া, গোপালভোগ, ক্ষীরশাপাত, কাঁচা

মিষ্টি, হিমসাগর, আম্রপালি, খিরসাগর, ফজলি, কিষাণভোগ, মোহনভোগ, মিছরিভোগ, গুঁটি, লখনা, আশ্বিনাসহ আমাদের দেশে কয়েক শ‘ প্রজাতির আম রয়েছে।বাংলাদেশের সব অঞ্চলে আমের চাষ হলেও উন্নত জাতের আম হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নওগাঁ ও দিনাজপুর এলাকায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট বাজারকে আমবাজারের রাজধানী বলা হয়। এ ছাড়া শিবগঞ্জ, ভোলাহাট, আলীনগর, রহনপুর এলাকায় আমের বড় বাজার বসে। এখান থেকে আম ব্যবসায়ীরা আম কিনে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি করেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

সবুর করুন, সুস্বাদু আম আসছে…

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফলের দোকানে বিক্রি হচ্ছে পাকা আম। ফুটপাতে, ঝুড়িতে, ভ্যানে করেও বিক্রি হচ্ছে ভূরি ভূরি পাকা আম। ক্রেতারা আম কিনছেন। অনেক ক্রেতা বলছেন আম সুস্বাদু নয়। ভেতরে নরম হলেও নেই পাকা আমের স্বাদ। অনেক বিক্রেতার দাবি, এগুলো রাজশাহীর আম। তবে আম গবেষকেরা বলছেন, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁর সুস্বাদু আমের জন্য অপেক্ষা করতে হবে চলতি মাসের শেষ পর্যন্ত। মে মাসের শেষ ও জুনের প্রথম দিকে পাওয়া যাবে এই আম।

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার জগন্নাথপুর, বসুন্ধরা রোডে ঝুড়িভর্তি পাকা আম বিক্রি করছিল কিশোর  শরিফুল ইসলাম। কী জাতের আম ও দাম কত জানতে চাইলে বলল, এটা গোবিন্দভোগ। কেজি প্রতি দাম ১৫০ টাকা।  

মো. হারুন নামের এক ক্রেতা  বললেন, এখন যে আম পাওয়া যাচ্ছে, তাতে একদম টেস্ট নেই। তিনি জানান, তিন দিন আগে ২০০ টাকা কেজি দরে আম কিনেছিলেন। কাটার পর দেখেন ভেতরে নরম, খাওয়াই যায় না।

বিক্রেতা শরিফুল জানাল, কয়েক দিন ধরে সে কারওয়ান বাজার থেকে কিনে এনে পাকা আম বিক্রি করছে। প্রতিদিন প্রায় ২০ কেজি করে পাকা আম বিক্রি হচ্ছে তার।

মো. জসিম নামের আরেক আম বিক্রেতা তাঁর আমগুলোকে রাজশাহীর বলে দাবি করলেন। দাম চাইলেন আরও বেশি, প্রতি কেজি ২০০ টাকা। ‘আম তো পাকেইনি, রাজশাহীর আম পেলেন কোথায়?’ বলতেই জসিম বলেন, ‘আরও ১৫ দিন আগে থাইকা পাকা আম আসা শুরু করছে।’

তাহলে এসব আম কোথা থেকে আসছে? জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের (এটিকে আম গবেষণা কেন্দ্রও বলা হয়) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জমির উদ্দিন বলেন, এ সময়ে বাজারে যেসব আম আসে, তা ভারত থেকে আসা আম। এই সময়ে দেশি জাতের আম তেমন নেই বাজারে। বেশির ভাগই ভারত থেকে আসা এই আমগুলোর দামও বেশি, খেতেও সুস্বাদু নয়। মার্চ-এপ্রিল মাসের দিকে এ আমগুলোকে বাজারে উঠতে দেখা যায়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালচার উইংয়ের উপপরিচালক (ফল ও ফুল) মো. আমিনুল ইসলামও জানালেন, আর দিন দশেকের মধ্যেই বাজারে আম আসা শুরু করবে। সাতক্ষীরায় আগেভাগে আম এলেও সেগুলো এখনো বাজারে দেখা যাচ্ছে না বললেই চলে। তবে অনেকে সাতক্ষীরা থেকে সরাসরি নিয়ে আসছেন।

বিক্রেতা মো. জসিমের দাবি আমগুলো রাজশাহীর
বিক্রেতা মো. জসিমের দাবি আমগুলো রাজশাহীর

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক মো. মোক্তার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখনকার আমগুলোর স্বাদ–গন্ধ নেই। ক্রেতাদের বলব, যে সময়ের জিনিস, সে সময়ে খাওয়ার চেষ্টা করুন। ক্রেতা না কিনলে এসব আম বাজারে আসবে না। আমগুলো অপরিপক্ব। আম কাটলেই দেখা যায় ভেতরের আঁটি পরিপক্ব নয়, নরম।’

সুস্বাদু-পাকা আম কখন পাবেন?

ব্যানানা আমের সঙ্গে উদ্যোক্তা সোহেল রানা
ব্যানানা আমের সঙ্গে উদ্যোক্তা সোহেল রানা

আম গবেষকেরা জানিয়েছেন, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় সাতক্ষীরায় আগাম আম দেখা যায়। সাধারণত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে সাতক্ষীরায় বোম্বাই, গোপালভোগ, ক্ষীরসাপাত গাছ থেকে পাড়া শুরু হয়। এটি শিগগিরই ব্যাপকভাবে বাজারে আসবে।

এর দুই সপ্তাহ পর থেকে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ থেকে ওই জাতের আমগুলো গাছ থেকে পাড়া শুরু হয়। মে মাসের শেষ থেকে জুনের প্রথম সপ্তাহে হিমসাগর ও ল্যাংড়া আম গাছ থেকে পাড়া শুরু হয়। এ দুটি জাতের আম কিছুটা দীর্ঘসময় ধরে পাওয়া যায়। জুনের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে আম্রপালি, হাঁড়িভাঙা, সূর্যপুরি আম গাছ থেকে তোলা শুরু হবে। জুনের শেষের দিকে আসবে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত নতুন জাতের বাউ আম-১৪ বা ব্যানানা ম্যাংগো। জুলাইয়ের শুরুতে আসবে ফজলি আম। বারি আম-৪ আসবে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে। সবশেষে জুলাইয়ের শেষের দিকে আসবে আশ্বিনা জাতের আম। তবে বেশি লাভের আশায় আমচাষিরা নির্ধারিত সময়ের এক-দুই সপ্তাহ আগে ফজলি ও আশ্বিনা আম গাছ থেকে পেড়ে ফেলেন।বিজ্ঞাপন

বিক্রি হচ্ছে আম
বিক্রি হচ্ছে আম

নওগাঁর সাপাহার উপজেলার একজন উদ্যোক্তা সোহেল রানা। নিজের উদ্যোগে তৈরি বরেন্দ্র অ্যাগ্রো পার্কে জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে তিনি আম পাড়া শুরু করবেন। গাছে ঝুলতে থাকা কাঁচা আমের ছবি তিনি ফেসবুকে পোস্ট করা শুরু করেছেন। প্রথম আলোকে জানালেন, গত বছর ১৪০ বিঘার জমির ওপর ল্যাংড়া, হিমসাগর, নাকফজলি, আম্রপালি, বারি-৪, ব্যানানা, গৌড়মতি জাতের আম উৎপাদন করেছিলেন। আম বিক্রি হয়েছিল ৩৫ লাখ টাকার। এবার আরও বেশি জমিতে আমগাছ লাগিয়েছেন। তিনি বললেন, ‘গোপালভোগ পাকে মে মাসের শেষে। এবার খরার কারণে আমের বৃদ্ধি ধীরগতিতে হচ্ছে। এ কারণে গাছ থেকে তুলতে আরও বেশি সময় লাগতে পারে।’

সোহেল রানার মতো অনেক আম উদ্যোক্তা এখন ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে আমের আগাম অর্ডার নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
চীনা রকেট: পৃথিবীকে কেন্দ্র করে মহাকাশে ঘুরছে দুইশ ‘টাইম বোমা’

চীনা রকেট: পৃথিবীকে কেন্দ্র করে মহাকাশে ঘুরছে দুইশ ‘টাইম বোমা’

জামালপুরের ছোট্ট মেয়ে আসিয়ার সুখের স্বপ্ন কি পূরণ হবে?

জামালপুরের ছোট্ট মেয়ে আসিয়ার সুখের স্বপ্ন কি পূরণ হবে?

ঢাকার উত্তরখানে মরিয়ম বেগম হেনার ছাদকৃষি,পর্ব ১৮২

ঢাকার উত্তরখানে মরিয়ম বেগম হেনার ছাদকৃষি,পর্ব ১৮২

দৃষ্টিনন্দন কোলন সেন্ট্রাল মসজিদে গম্বুজের পুরোটাই কাঁচ আর কংক্রিটের

দৃষ্টিনন্দন কোলন সেন্ট্রাল মসজিদে গম্বুজের পুরোটাই কাঁচ আর কংক্রিটের

চাকরি ছেড়ে কৃষিকাজে যেভাবে অভাবনীয় সফলতা পেলেন মানিক

চাকরি ছেড়ে কৃষিকাজে যেভাবে অভাবনীয় সফলতা পেলেন মানিক

মায়ার বন্ধন আর মানবতার এক স্বর্গ ভ্যালেরি এন টেইলরের সিআরপি

মায়ার বন্ধন আর মানবতার এক স্বর্গ ভ্যালেরি এন টেইলরের সিআরপি

ঢাকার উত্তরখানে মেহেরুন্নেসার ছাদকৃষি,পর্ব ১৮১

ঢাকার উত্তরখানে মেহেরুন্নেসার ছাদকৃষি,পর্ব ১৮১

যুক্তরাষ্ট্রে মারুফা হায়াৎ ও মোহ. হায়াৎ আলী দম্পতির আঙিনা কৃষি,পর্ব ৭৮

যুক্তরাষ্ট্রে মারুফা হায়াৎ ও মোহ. হায়াৎ আলী দম্পতির আঙিনা কৃষি,পর্ব ৭৮

আশানুরূপ ইলিশ না পেলেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে আড়তে

আশানুরূপ ইলিশ না পেলেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে আড়তে

‘লাউড়ের রাজধানী’ এখন ‘কাঁঠালের রাজ্য’

‘লাউড়ের রাজধানী’ এখন ‘কাঁঠালের রাজ্য’

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com