আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচন ২০২০: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কতোটা পূরণ করেছেন?

নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরজ্যে এক নির্বাচনী সমাবেশে ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরজ্যে এক নির্বাচনী সমাবেশে ডোনাল্ড ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণায় বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এসব প্রতিশ্রুতির কয়েকটি নিয়ে নির্বাচনের আগে ও পরে আলোচনা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা, মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর নির্মাণ ইত্যাদি।

২০১৬ সালের ওই নির্বাচনের পর হোয়াইট হাউজে মি. ট্রাম্পের চার বছর কেটে গেছে। তো এসব প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে কতোটা সফল হয়েছেন তিনি?

কর হ্রাস

পূরণ করেছেন

নির্বাচনের আগে তিনি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্পোরেট কর এবং কর্মজীবী নাগরিকদের বড় ধরনের কর হ্রাসের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

কী করেছেন: রিপাবলিকানদের কর পরিকল্পনা পাস হয় ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে। এর মাধ্যমে তিনি তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন ঠিকই কিন্তু এটি নিয়ে প্রচুর বিতর্ক হয়েছে। মি. ট্রাম্প কর্পোরেট ট্যাক্স ৩৫% থেকে কমিয়ে ১৫% শতাংশ করার কথা বলেছিলেন কিন্তু সেটা হয়েছে ২১%।

কর্মজীবী নাগরিকদের করও হ্রাস করা হয়েছে। তবে যে সবারই কমানো হয়েছে তা নয়। এতে ধনীদের তুলনায় দরিদ্ররাই বেশি লাভবান হয়েছেন। তবে যেসব রাজ্যে ডেমোক্র্যাট দলের সমর্থন বেশি সেরকম বেশিরভাগ রাজ্যে উচ্চ আয়ের লোকজনের কর বেড়ে গেছে।

প্যারিস চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
প্যারিস চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

প্যারিস জলবায়ু চুক্তি

পূরণ করেছেন

নির্বাচনের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প জলবায়ুর পরিবর্তনকে ভুয়া বলে প্রচারণা চালিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন প্যারিস চুক্তিতে যেসব শর্তের কথা বলা হয়েছে সেগুলো আমেরিকার অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।

কী করেছেন: এই চুক্তির বিরুদ্ধে তিনি দিনের পর দিন আক্রমণ চালিয়েছেন। প্রায় দুশোটি দেশ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি প্যারিস চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তবে চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়ার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে ৪ঠা নভেম্বর, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঠিক এক দিন পরে।

ইসলামিক স্টেটের ওপর বোমা হামলা

পূরণ করেছেন

আইওয়া অঙ্গরাজ্যে ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে নির্বাচনী প্রচারণার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে ইসলামিক স্টেটের ওপর তিনি এমন বোমা হামলা চালাতে চান যাতে চরমপন্থি এই গ্রুপটি ধ্বংস হয়ে যায়।

কী করেছেন: প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি আফগানিস্তানের ইসলামিক স্টেটের একটি ঘাটির ওপর অত্যন্ত শক্তিশালী বোমা নিক্ষেপ করেছিলেন। ইরাক ও সিরিয়া থেকে আইএসকে বিতাড়িত করার ব্যাপারেও তিনি কৃতিত্ব দাবী করেন। তিনি বলেছেন আইএস মোটামুটি পরাজিত হয়েছে। তবে এই এই প্রক্রিয়া বারাক ওবামার শাসনামলেই শুরু হয়েছিল।

আইএসের নেতা আবু বকর আল-বাগদাদি ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ডোদের চালানো এক অভিযানের সময় আত্মহত্যা করেন।

জেরুসালেমে মার্কিন দূতাবাস।
জেরুসালেমে মার্কিন দূতাবাস।

ইসরায়েলে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর

পূরণ করেছেন

নির্বাচনী প্রচারণায় মি. ট্রাম্প ইসরায়েলে মার্কিন দূতাবাস তেল আভিব থেকে জেরুসালেমে সরিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল এই শহরটিকে নিজেদের রাজধানী হিসেবে দাবি করে।

কী করেছেন: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০১৭ সালে জেরুসালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। একই সাথে মার্কিন দূতাবাসও তিনি নেওয়ার কথা বলেন। ২০১৮ সালের মে মাসে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ৭০তম বার্ষিকীতে জেরুসালেমে মার্কিন দূতাবাস খোলা হয়। দূতাবাসের জন্য সেখানে স্থায়ী ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্তও অনুমোদিত হয়েছে এবং ধারণা করা হচ্ছে এবছরের কোন এক সময়ে এই কাজ শুরু হবে।

সৈন্যদের দেশে ফিরিয়ে আনা

আংশিক পূরণ হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সৈন্যদের ফিরিয়ে আনা ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘ দিনের দাবি। নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি বলেছেন এই অঞ্চল পুরোপুরি বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে। তিনি বলেছেন সেখানে যে হাজার হাজার কোটি ডলার খরচ করা হয়েছে সেটা যুক্তরাষ্ট্রে করা হলে অনেক ভাল হতো। ২০১৩ সালে এক টুইটে তিনি বলেছিলেন, “যেসব আফগানকে আমরা প্রশিক্ষণ দিচ্ছি তারা আমাদের সৈন্যদের হত্যা করছে। সেখানে আমরা কোটি কোটি ডলারের অপচয় করেছি।” একই বছরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে সিরিয়ার যুদ্ধ থেকে বাইরে রাখার কথাও বলেছিলেন।

কী করেছেন: ট্রাম্প প্রশাসন ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আফগানিস্তানে আরো ৩,০০০ সৈন্য মোতায়েনের কথা ঘোষণা করে। তিনি বলেন, বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন। সিরিয়াতে ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আন্তর্জাতিক জোটের নেতৃত্ব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তাতে অংশ নিয়েছে ২,০০০ মার্কিন সৈন্য।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে সিরিয়া থেকে সব মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করেন। তবে এখনও সেখানে ৫০০ সৈন্য মোতায়েন রয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি আফগানিস্তান থেকে আরো সৈন্য প্রত্যাহারের কথা বলেছেন। ইতোমধ্যে তাদের সংখ্যা ১৩,০০০ থেকে কমিয়ে করা হয়েছে ৮,৬০০।

একই সাথে তালেবানের সাথে শান্তি চুক্তি সম্পাদিত হলে ১৪ মাসের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সকল সৈন্য প্রত্যাহারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও নেটো সম্মত হয়েছে।

সৈন্য প্রত্যাহারের এসব সিদ্ধান্ত তার নিজের প্রশাসনের কর্মকর্তারাও সমালোচনা করেছেন। সিরিয়া থেকে সৈন্যদের দেশে নিয়ে আসার কথা ঘোষণা করার পর প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জেমস মাতিস পদত্যাগ করেন।

চীনের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি দূর করা ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি।
চীনের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি দূর করা ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি।

বাণিজ্য চুক্তি

আংশিক পূরণ হয়েছে

প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প নাফটা চুক্তিকে বিপর্যয়কর বলে উল্লেখ করেছিলেন। টিপিপি চুক্তির বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি। প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার।

কী করেছেন: ক্ষমতা গ্রহণের কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশিপ বা টিপিপি চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন। পরে তিনি বলেন, তাকে ভালো কিছু দেওয়া হলে তিনি এই চুক্তিতে আবারও যোগ দেওয়ার কথা বিবেচনা করবেন।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যে আলোচনার পর এই তিনটি দেশের মধ্যে বাণিজ্য সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। নাফটা চুক্তির পরিবর্তে এই চুক্তিটি কাজ করবে। অবশ্য পরে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা পরস্পরের বিরুদ্ধে অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ওপর শুল্ক আরোপ করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নতুন একটি বাণিজ্য চুক্তি করেছে।

কিন্তু এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র চীনের সাথে বাণিজ্য যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। দুটো দেশই এক অপরের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেছে। এই উত্তেজনা সত্ত্বেও দুটো দেশ ফেজ ওয়ান নামে একটি চুক্তি করেছে যার ফলে বাণিজ্য যুদ্ধ কিছুটা কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কয়েকটি মুসলিম প্রধান দেশের লোকজনের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কয়েকটি মুসলিম প্রধান দেশের লোকজনের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।

মুসলিমদের ওপর নিষেধাজ্ঞা

আংশিক পূরণ হয়েছে

মি. ট্রাম্প শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে সকল মুসলিমের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন এবিষয়ে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগ পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

কী করেছেন: প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি দুটো ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন যা পরে আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। কিন্তু তৃতীয় আরেকটি নিষেধাজ্ঞার তেমন অসুবিধা হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ছটি মুসলিম প্রধান দেশের নাগরিকদের ভ্রমণের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন সেটা কার্যকর হতে পারে। তবে এটিরও চূড়ান্ত সুরাহা হয়নি।

বর্তমানে যেসব দেশ থেকে লোকজনের আসার ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে সেগুলো হচ্ছে: ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সিরিয়া, ইয়েমেন, ভেনেজুয়েলা এবং উত্তর কোরিয়া।

জানুয়ারি মাসে আরো ছটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়: নাইজেরিয়া, ইরিত্রিয়া, সুদান, তাঞ্জানিয়া, কিরগিজস্তান এবং মিয়ানমার।

কিউবার সাথে সম্পর্ক

আংশিক পূরণ হয়েছে

নির্বাচিত হওয়ার আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন কিউবার সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা ও বাণিজ্যের ব্যাপারে বারাক ওবামার উদ্যোগ তিনি বাতিল করে দেবেন।

কী করেছেন: প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর মায়ামিতে তিনি বলেছিলেন “ওবামা প্রশাসনের এক-পাক্ষিক সমঝোতা” তিনি বাতিল করে দেবেন।

২০১৭ সালে তিনি বাণিজ্য ও ভ্রমণের ওপর কিছু বিধি-নিষেধ নতুন করে আরোপ করেন যা বারাক ওবামা তুলে নিয়েছিলেন। হাভানাতে দূতাবাস রেখে দিয়েছেন মি. ট্রাম্প কিন্তু সেখানে কোন রাষ্ট্রদূতের নাম ঘোষণা করা হয়নি।

দুটো দেশের মধ্যে কিছু কিছু ভ্রমণ এখনও চালু রয়েছে। তবে এমাসে ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা করেছে যে তারা দুটো দেশের মধ্যে ব্যক্তিগত বিমানের ফ্লাইট অক্টোবর থেকে স্থগিত করবে।

ওবামাকেয়ারে রোগীদের স্বাস্থ্য-বীমার কথা বলা হয়েছে।
ওবামাকেয়ারে রোগীদের স্বাস্থ্য-বীমার কথা বলা হয়েছে।

ওবামাকেয়ার

আংশিক পূরণ হয়েছে

মি. ট্রাম্পের যেসব নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নিয়ে সবচেয়ে বেশি কথাবার্তা হয়েছে তার একটি ওবামাকেয়ার। তার পূর্বসূরি বারাক ওবামা জনগণকে স্বাস্থ্য-বীমার আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে এই আইন তৈরি করেছিলেন যা ওবামাকেয়ার নামে পরিচিত। মি. ট্রাম্প বলেছিলেন নির্বাচিত হলে তিনি এটা বাতিল করে দেবেন।

কী করেছেন: রিপাবলিকানরা এই উদ্যোগকে অপছন্দ করেন। কিন্তু এই আইন বাতিল বা সংস্কার করতে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসন আইনের কিছু কিছু পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে।

আইনটি এখনও বলবত রয়েছে। এর বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি চলছে সুপ্রিম কোর্টে এবং ধারণা করা হচ্ছে ২০২১ সালের কোন এক সময়ে এবিষয়ে রায় ঘোষণা করা হতে পারে।

মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর।
মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর।

মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর

আংশিক পূরণ হয়েছে

ডোনাল্ড ট্রাম্পের যেসব প্রতিশ্রুতি নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক হয়েছে তার একটি ছিল মেক্সিকোর সাথে সীমান্তে দেয়াল তুলে দেওয়া। তিনি এও বলেছিলেন যে এই প্রাচীর নির্মাণে প্রয়োজনীয় খরচ দেবে মেক্সিকো।

কী করেছেন: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই দাবিকে গুরুত্ব দেয়নি মেক্সিকো। এবং পরে মি. ট্রাম্পও এবিষয়ে খুব বেশি সোচ্চার হননি।

ডেমোক্র্যাট দল এই পরিকল্পনার ঘোরতর বিরোধী। কিছু কিছু রিপাবলিকানও এই ঘোষণা থেকে বেকে বসেছেন।

মি. ট্রাম্প এজন্য ৫০০ কোটি ডলার চেয়েছিলেন যার বিরোধিতা করে ডেমোক্র্যাটরা। পরে তিনি প্রতিরক্ষাসহ আরো কিছু খাতের বরাদ্দ প্রাচীর নির্মাণের খাতে নিয়ে আসেন। এর বিরুদ্ধেও আইনগত চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে।

এবছরের মে মাস পর্যন্ত ১৯৪ মাইল দীর্ঘ প্রাচীর তোলা হয়েছে। তবে এর বেশিরভাগই তোলা হয়েছে আগের ভগ্নপ্রায় দেয়াল ঠিক করতে গিয়ে যা আগে থেকেই সেখানে ছিল। একবারে নতুন নির্মিত হয়েছে তিন মাইল।

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী শ্রমিকরা মাঠে কাজ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী শ্রমিকরা মাঠে কাজ করছেন।

অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কার

অগ্রগতি নেই

ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সমর্থকদের বলেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে যারা অবৈধভাবে বসবাস করে তাদেরকে দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে। দেশটিতে এরকম অভিবাসীর সংখ্যা এক কোটি ১৩ লাখ।

কী করেছেন: নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে তার গলার স্বর নরম হতে থাকে। নির্বাচিত হওয়ার পর এই সংখ্যাকে তিনি ২০ থেকে ৩০ লাখে নামিয়ে আনেন। তিনি বলেন, “যারা অপরাধী এবং যাদের অপরাধ করার রেকর্ড রয়েছে, যারা অপরাধী চক্রের সদস্য, মাদক ব্যবসায়ী” তাদেরকে বের করে দেওয়া হবে।

গত বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে মোট ২,৬৭,০০০ জনকে তাদের নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে যা তার আগের বছরের তুলনায় সামান্য কিছু বেশি। ওবামা প্রশাসনের আমলে ২০১২ সালে সর্বোচ্চ সংখ্যক অবৈধ অভিবাসীকে (৪,১০,০০০) যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

অভিবাসন সংক্রান্ত আইন সংস্কারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একটি পরিকল্পনা সুপ্রিম কোর্টে খারিজ হয়ে যায়। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া শিশু বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আগত ৬,৫০,০০০ জন অভিবাসীকে যে আইনে রক্ষা করার কথা বলা হয়েছে সেটি বাতিল করতে চেয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগ বাতিল করে দিয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ

পূরণ করেছেন

নির্বাচনের আগে মি. ট্রাম্প বলেছিলেন যে তিনি বিচারক খুঁজছেন এবং এরকম ২০ জনকে তিনি খুঁজে পেয়েছেন যারা দ্বিতীয় সংশোধনীকে সম্মান করবে।

কী করেছেন: তিনি দুজন বিচারক নিয়োগ দিয়েছেন- নীল গরসাচ এবং ব্রেট কাভানা। মি. গরসাচকে নিয়োগ দিতে সেনেটের আইনে পরিবর্তন আনতে হয়েছিল। তবে মি. কাভানার নিয়োগ নিয়ে অনেক বেশি বিতর্ক হয়েছে।

মি. কাভানার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল যা তিনি অস্বীকার করেছেন। পরে তিনি ৫০-৪৮ ভোটে নিয়োগ লাভ করেন। ১৮৮১ সালের পর এতো তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা কখনো হয়নি।

এছাড়াও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিন্ম আদালতগুলোতে ২০০ রক্ষণশীল বিচারক নিয়োগ দিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিযোগ নেটোর সদস্য দেশগুলো প্রয়োজনীয় অর্থ দিচ্ছে না।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিযোগ নেটোর সদস্য দেশগুলো প্রয়োজনীয় অর্থ দিচ্ছে না।

নেটো ত্যাগ

বাতিল

ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক জোট নেটোর উদ্দেশ্য নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলছেন এই জোট “সেকেলে” হয়ে গেছে। নেটোর সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালন করছে কিনা এবং তারা প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান দিচ্ছে কিনা এসব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। এবং এবিষয়ে তিনি বরাবরই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

কী করেছেন: নির্বাচিত হওয়ার পর ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে নেটোর মহাসচিবকে হোয়াইট হাউজে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেসময় তিনি তাকে বলেছিলেন এই জোটের গুরুত্ব কমে গেছে। তিনি বলেন, “এটি এখন আর সেকেলে নয়।”

ওই বছরের জুলাই মাসে নেটোর সম্মেলনের প্রতি পুনরায় তার সমর্থনের কথা জানান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে তিনি বলেছেন মিত্র দেশগুলো বাজেটের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ না দিলে যুক্তরাষ্ট্র এই জোট ছেড়ে চলে যেতে পারে।

তিনি বলেন কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো যথেষ্ট পরিমাণে খরচ করছে না। অতি সম্প্রতি তিনি বলেছেন যে জার্মানি থেকে ১২,০০০ সৈন্য ফিরিয়ে আনা হবে।

নির্যাতন

বাতিল

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন নির্বাচিত হলে পানিতে মুখ ডুবিয়ে স্বীকারোক্তি আদায়ের যে কৌশল তাতে তিনি অনুমোদন দেবেন। এই কৌশল ওয়াটারবোর্ডিং নামে পরিচিত। মি. ট্রাম্প বলেছিলেন, “নির্যাতনে কাজ হয়।”

কী করেছেন: নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি তার এই পরিকল্পনা স্থগিত করেছেন। সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জেমস মাতিস এবং সিআইএর তৎকালীন পরিচালক মাইক পম্পিও (বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী) এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন।

হিলারি ক্লিটনের বিচার করার কথা বলেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
হিলারি ক্লিটনের বিচার করার কথা বলেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

হিলারি ক্লিনটনের বিচার

বাতিল

হিলারি ক্লিনটন যখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন তখন তার ব্যক্তিগত ইমেইল ব্যবহারের অভিযোগে তার বিচার করার কথা বলেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বলেছিলেন নির্বাচিত হলে তিনি তাকে জেলে পাঠাবেন। ২০১৬ সালের নির্বাচনে মি. ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন।

যা করেছেন: নির্বাচিত হওয়ার সাথে সাথেই এবিষয়ে তিনি তার সুর পরিবর্তন করে ফেলেন। যাকে তিনি একসময় “জঘন্য নারী” বলে উল্লেখ করেছিলেন পরে তার সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন “আগে তিনি এ সম্পর্কে খুব বেশি চিন্তা ভাবনা করেন নি।”

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য তার কাছে আরো কিছু বিষয় আছে।

  • হিলারি ক্লিটনের বিচার করার কথা বলেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    হিলারি ক্লিটনের বিচার করার কথা বলেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

  • প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিযোগ নেটোর সদস্য দেশগুলো প্রয়োজনীয় অর্থ দিচ্ছে না।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিযোগ নেটোর সদস্য দেশগুলো প্রয়োজনীয় অর্থ দিচ্ছে না।

  • যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী শ্রমিকরা মাঠে কাজ করছেন।

    যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী শ্রমিকরা মাঠে কাজ করছেন।

  • মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর।

    মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর।

  • ওবামাকেয়ারে রোগীদের স্বাস্থ্য-বীমার কথা বলা হয়েছে।

    ওবামাকেয়ারে রোগীদের স্বাস্থ্য-বীমার কথা বলা হয়েছে।

  • প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কয়েকটি মুসলিম প্রধান দেশের লোকজনের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কয়েকটি মুসলিম প্রধান দেশের লোকজনের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।

  • চীনের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি দূর করা ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি।

    চীনের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি দূর করা ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি।

  • জেরুসালেমে মার্কিন দূতাবাস।

    জেরুসালেমে মার্কিন দূতাবাস।

  • প্যারিস চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

    প্যারিস চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

  • নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরজ্যে এক নির্বাচনী সমাবেশে ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরজ্যে এক নির্বাচনী সমাবেশে ডোনাল্ড ট্রাম্প।

  • হিলারি ক্লিটনের বিচার করার কথা বলেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
  • প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিযোগ নেটোর সদস্য দেশগুলো প্রয়োজনীয় অর্থ দিচ্ছে না।
  • যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী শ্রমিকরা মাঠে কাজ করছেন।
  • মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর।
  • ওবামাকেয়ারে রোগীদের স্বাস্থ্য-বীমার কথা বলা হয়েছে।
  • প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কয়েকটি মুসলিম প্রধান দেশের লোকজনের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।
  • চীনের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি দূর করা ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি।
  • জেরুসালেমে মার্কিন দূতাবাস।
  • প্যারিস চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
  • নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরজ্যে এক নির্বাচনী সমাবেশে ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ফল

বাংলার মাটিতে বাড়ছে বিদেশি ফলের চাষ

ঢাকা: বাংলাদেশের মাটিতে দিন দিন বাড়ছে বিদেশি ফলের চাষ। অনুকূল আবহাওয়া, কৃষি মন্ত্রণালয়ের পর্যাপ্ত সেবা ও স্থানীয় উদ্যোক্তা-চাষিদের উদ্যোগে এগিয়ে যাচ্ছে এই খাত। সব প্রতিবন্ধকতা জয় করে উল্টো বিদেশি ফল বিদেশে রপ্তানির কথা ভাবছে সরকার।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বেশ কয়েকজন বিদেশি ফলচাষির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে ড্রাগন ফল চাষের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশে শুরু হয় বিদেশি ফলের চাষ। বর্তমানে ড্রাগন ফলের পাশাপাশি স্ট্রবেরি, রাম্বুটান, অ্যাভোকাডো, পার্সিমন, টক আতা, প্যাসন ফলসহ নাশপাতি, আলু বোখারা ও পিচের মতো বিদেশি ফল চাষ হচ্ছে দেশে।


দেশের প্রায় সব অঞ্চলেই চাষ করা যায় এসব ফলের কোনো না কোনোটি। উত্তরবঙ্গ ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় চাষ হচ্ছে ড্রাগন ফল। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে চাষ হচ্ছে রাম্বুটান। রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, পাবনা, নাটোরের মতো জেলাগুলোতে ব্যাপক চাষ ও ফলন হচ্ছে স্ট্রবেরির। আর সিলেট, চট্টগ্রাম ও ঢাকার উঁচু এলাকাগুলোতে ভালো ফলন হয় অ্যাভোকাডোর।

বিদেশি ফল চাষ করে সফলতাও পাচ্ছেন দেশি চাষি ও উদ্যোক্তারা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার্বিক সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ নিয়ে আনুষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত তরুণরাও আগ্রহী হচ্ছেন এ খাতে ক্যারিয়ার গড়তে। তেমনই দুই উদ্যোক্তা গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মামা-ভাগ্নে আতাউর রহমান ও আবদুল আজিজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাট চুকিয়ে চাকরি-বাকরির বদলে দু’জনে মিলে শুরু করেন বিদেশি ফলের চাষ। পরামর্শ নেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কৃষি বিশেষজ্ঞের। ২০১৩ সালে স্ট্রবেরির চাষ শুরু করে সেবছরই আয় করেন ১১ লাখ টাকা।
ড্রাগন ফল।  ছবি: ডিএইচ বাদল নিজেদের উদ্যোগ সম্পর্কে আতাউর রহমান বলেন, বাবা কৃষক ছিলেন্। ছোটবেলায় তার সঙ্গে কাজ করতে করতে কৃষি নিয়ে আগ্রহ জন্মায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পর ভাগ্নে আজিজকে নিয়ে শুরু করলাম এই বিদেশি ফলের চাষ। প্রথমে কিছুটা সন্দিহান ছিলাম তবে বাজারে যখন এর চাহিদা দেখলাম তখন আত্মবিশ্বাস পেয়েছি। বছর ঘুরতেই যখন ভালো অংকের লাভ আসা শুরু করলো তখন এটা নিয়ে দ্বিতীয়বার আর ভাবিনি। এই খাতেই কাজ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই।

এদিকে দেশি ফল চাষের পাশাপাশি বিদেশি ফলের চাষ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ। সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশে রপ্তানি হচ্ছে দেশীয় ফলমূল। তারই ধারাবাহিকতায় দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশি ফল বিদেশেই রপ্তানি করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে অধিদপ্তরের। আর সেকারণেই চাষিদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান কৃষিতথ্য সেবা বিভাগের পরিচালক ও কৃষিবিদ ড. মো. নুরুল ইসলাম।


বাংলানিউজকে নুরুল ইসলাম বলেন, ফলের জন্য প্রথমত দরকার আবহাওয়া। আবহাওয়া যদি ম্যাচ না করে তাহলে হবে না। আমাদের জন্য সৌভাগ্য যে, আমাদের দেশের আবহাওয়া বেশ কয়েকটি সুস্বাদু ও চাহিদাসম্পন্ন বিদেশি ফলের চাষের জন্য সহায়ক।


কৃষিতথ্য সেবা দপ্তর বলছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশে উৎপাদিত ফলের পরিমাণ ছিল ১২১ দশমিক ১৩ লাখ মেট্রিক টন। সঠিক হিসাব না থাকলেও, এর মধ্যে প্রায় দুই শতাংশ বিদেশি ফল রয়েছে। এই সংখ্যা আরও বাড়াতে ইতোমধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে ‘ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন’ শীর্ষক এক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ১৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৫ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্প শেষ হবে ২০২০ সালে। প্রকল্পের আওতায় এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় লাখ কৃষককে বিদেশি ফল চাষে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। কৃষি বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ২০২০ সালে এসে এই প্রকল্প থেকে দারুণ ইতিবাচক ও সম্ভাবনাময় ফলাফল মিলবে।


অন্যদিকে ‘সারা বছর ফল উৎপাদন’ শীর্ষক আরেকটি প্রকল্প চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। চালুর পর ২০২৬ সালে গিয়ে শেষ হবে এ প্রকল্প। এ বিষয়ে কৃষিবিদ মো. নুরুল ইসলাম বলেন, বিদেশি ফল চাষের দু’টি বড় উপকারিতা রয়েছে। এক, পুষ্টিগুণসম্পন্ন বিদেশি ফল কম দামেই দেশে উৎপাদন করা যাচ্ছে। ফলে লাভবান হচ্ছে দেশের জনগণ। দুই, বিদেশি ফল চাষে আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে অর্থনৈতিক দিকগুলো।  

‘একদিকে যেমন কর্মসংস্থান বাড়ছে অন্যদিকে পরিকল্পনা করে এগোলে বিদেশেই বিদেশি ফল রপ্তানির আরেকটি বড় সুযোগ তৈরি হতে পারে। আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে নতুন কিছু করে দেখানোর আগ্রহ রয়েছে। অনেকেই আছেন যারা তরুণ ও এই খাতে কাজ করছেন বা করতে আগ্রহী। তাদের মধ্যে দারুণ কিছু করে দেখানোর তাগিদ রয়েছে। আমরা সেটিকে যতটা সম্ভব সাহায্য করতে চাই।  

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

মাল্টা চাষে স্বাবলম্বী ঘোড়াঘাটের আবু সায়াদ

দিনাজপুর: পাহাড়ি ফল হিসেবে পরিচিত মাল্টা। তবে সমতল ভূমিতেও এ ফলের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বরেন্দ্র অঞ্চলের ‘শস্য ভান্ডার’খ্যাত দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে মাল্টার। ‘মাটির গুণাগুণ ঠিক থাকলে সমতল এলাকাতেও মাল্টা চাষ করে লাভবান হতে পারেন যে কেউ-ই’-এমনটিই জানিয়েছেন দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার সফল মাল্টাচাষি কাজী আবু সায়াদ চৌধুরী।

বর্তমানে আমাদের দেশে অনেক জনপ্রিয় ও সহজলভ্য একটি ফল হচ্ছে মাল্টা। এ ফলটি সারা বছরই পাওয়া যায়।

তাছাড়া দামেও বেশ সস্তা। পাশাপাশি বিভিন্ন ভিটামিনসহ মাল্টার অনেক পুষ্টিগুণও রয়েছে।  

মাল্টা চাষ করে সফল হয়ে এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ঘোড়াঘাট উপজেলার গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা কাজী আবু সায়াদ চৌধুরী। তার বাগানে থাকা প্রত্যেক গাছেই ঝুলছে থোকা থোকা মাল্টা।  

সায়াদ চৌধুরীর বাগানে শতাধিক মাল্টা গাছ রয়েছে। শুধু তাই নয়, মাল্টার পাশাপাশি তার বাগানে আরও রয়েছে লেবু, পেঁপে ও লিচু গাছ। কাজী আবু সায়াদের সফলতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এলাকার বেকার যুবকরাও ঝুঁকছেন মাল্টা বাগান গড়ে তোলার দিকে।

২০১৭ সালে আগস্টে ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় উপজেলার পালশা ইউনিয়নের বিলপাড়া গ্রামে পৈত্রিক দেড় একর পরিমাণ পরিত্যক্ত পুকুর পাড়ের পশ্চিম পাশের দুই বিঘা জমিতে মাল্টা গাছের (বারি-১) চারা রোপণ করেন কাজী আবু সায়াদ চৌধুরী। প্রায় দুই বছরেই মাল্টা গাছে ফল ধরেছে। বাগানে গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন সাইজের মাল্টা। সবুজ পাতার আড়ালে কিংবা পাতা ঝরা ডালেও ঝুলছে থোকা থোকা মাল্টা।  

মাল্টাচাষি কাজী আবু সায়াদ চৌধুরীর সঙ্গে কথা হয় বাংলানিউজের। তিনি জানান, প্রথম গাছে মাল্টা ধরার পর থেকে ফল চাষের মাধ্যমে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের স্বপ্ন জাগে তার। এখন চলছে স্বপ্ন পূরণের পালা। স্থানীয় কৃষকরা এসব ফলমূল চাষে এগিয়ে এলে মাল্টাসহ বিভিন্ন ফলের চাহিদা মেটানো সম্ভব। ফলগুলো সুমিষ্ট হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

তিনি আরও জানান, গত বছরের চেয়ে চলতি মৌসুমে মাল্টা ফলন ভালো হয়েছে। প্রতি কেজি মাল্টা ১১০ থেকে ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়।

ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এখলাস হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, ঘোড়াঘাটসহ দিনাজপুর জেলায় ধান চাষের পাশাপাশি মাল্টা চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। ধান উৎপাদনের চেয়ে মাল্টা চাষে ১০ গুণ বেশি লাভবান হতে পারে এ অঞ্চলের কৃষক।  

‘কম খরচে ফলজ বাগান তৈরি করে এখানকার কৃষকেরা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারে,’ যোগ করেন তিনি।  

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বিশ্ব

মাটি খুঁড়ে মিলছে ‘হিরা’, গুঞ্জনে গ্রামে তোলপাড়

উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্য নাগাল্যান্ডের প্রত্যন্ত গ্রামে হঠাৎ গুঞ্জন উঠল ‌‘হীরক ভাণ্ডারের’ সন্ধান মিলেছে। মাটি খুঁড়লেই উঠে আসছে হিরের টুকরো। সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন খবর ছড়িয়ে পড়তেই কাতারে কাতারে গুপ্তধন সন্ধানী ভিড় করলেন ওয়ানচিং গ্রামে।

চলতি সপ্তাহের গোড়ায় নাগাল্যান্ডের মন জেলার এই গ্রামে টিলার ওপরের জঙ্গল পরিষ্কার করার সময় মাটির নিচে বেশকিছু স্ফটিকের টুকরো খুঁজে পান কয়েকজন গ্রামবাসী। তাদের মুখ থেকে খবর ছড়িয়ে পড়ে পুরো গ্রামে। সকলেই ধরে নেন, ওই স্ফটিক নির্ঘাত হিরের টুকরো। সঙ্গে সঙ্গে হুড়োহুড়ি পড়ে যায় গ্রামে। সকলেই কোদাল-বেলচা-গাঁইতি কাঁধে পৌঁছে যান টিলার উপরের জঙ্গলে। শুরু হয় মাটি খুঁড়ে গুপ্তধন উদ্ধারের চেষ্টা।এদিকে অত্যুৎসাহীরা সেই ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার সঙ্গে সঙ্গে হিরে আবিষ্কারের গল্প ছড়িয়ে পড়ে দাবানলের মতো। তার জেরে ওয়ানচিং গ্রামে ভিড় জমতে শুরু করে হিরে সন্ধানীদের। বাধ্য হয়ে বহিরাগতদের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়ানচিং গ্রাম পঞ্চায়েত। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সংক্রান্ত পোস্টের ওপরেও জারি হয়েছে কড়া বিধি-নিষেধ। 

এ দিকে মন জেলার প্রত্যন্ত গ্রামের এই খবর পৌঁছেছে প্রশাসনের কানেও। উদ্ধার হওয়া স্ফটিকগুলো সত্যিই হিরে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ওয়ানচিং গ্রামের উদ্দেশে শুক্রবার রওনা হয়েছেন চার ভূতাত্ত্বিক। ৩০ নভেম্বর অথবা ১ ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের গ্রামে পৌঁছানোর কথা। সরেজমিনে তদন্তের পরে তারা রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট জমা দেবেন।

মন জেলার ডেপুটি কমিশনার জানিয়েছেন, মাটির তলা থেকে উদ্ধার হওয়া স্ফটিক আদৌ হিরে কি না, তাই নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। তবে হিরে না হলেও স্ফটিকগুলো কোয়ার্টজ জাতীয় পাথরের ভগ্নাবশেষ বলে তিনি মনে করছেন। বিভিন্ন কাজে সহায়ক হওয়ায় তার মূল্যও কম নয় বলে তার দাবি। ফলে তাতে উপকৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে স্থানীয়দের, মনে করছেন ডেপুটি কমিশনার। যদিও বিশেষজ্ঞরা অনুসন্ধান না করা পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য ভিত্তিহীন হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে নাগাল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক জি টি থং জানিয়েছেন, ‘পাথরগুলো সাধারণ কোয়ার্টজ স্ফটিক। নাগাল্যান্ডের বিভিন্ন প্রান্তে হামেশাই এই স্ফটিকের দেখা পাওয়া যায়।’ তার মতে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কেউ সরল গ্রামবাসীদের ভুল বুঝিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। মন জেলা বা ওই অঞ্চলে এর আগে হিরের খোঁজ পাওয়া যায়নি বলেও জানান এই অধ্যাপক।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বিশ্ব

সমুদ্র সৈকতে হাঙরের আক্রমণ, প্রাণ হারালেন বৃদ্ধ

সৈকতে ছুটি কাটাতে চেয়েছিলেন। আর সেই ছুটি শেষ পর্যন্ত মৃত্যু ডেকে আনলো। কারণ হাঙরের আক্রমণে প্রাণ গেল বৃদ্ধের। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর-পূর্ব অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় ক্যাবেলা বিচে।

জানা গেছে, অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পশ্চিম উপকূলের এই ক্যাবেলা সমুদ্র সৈকত দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে দারুণ পছন্দের একটি জায়গা। এদিন সেখানে ঘুরতে গিয়ে হাঙরের আক্রমণের মুখে পড়েন ওওই বৃদ্ধ। বিষয়টি দেখতে পেয়ে সৈকতে বেড়াতে আসা অন্যান্য পর্যটকরা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেও অতিরিক্ত আঘাতের কারণে শেষপর্যন্ত মারা যান তিনি। এই বিষয়ে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ান পুলিশের তরফে একটি বিবৃতি দিয়ে ওই ব্যক্তির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসন।

২২ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত অস্ট্রেলিয়ার ব্রোম শহরের এই সাদা বালির সৈকতে হাঙরের আক্রমণের ঘটনা খুবই বিরল। তবে চলতি বছরে এই নিয়ে আটবার হাঙরের আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে এই সৈকতে।

যদিও অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, জনপ্রিয় এই সৈকতটি বছরে এক-দুইবার বন্ধ করা হয়। কেননা অনেক সময় লবনাক্ত জলের কুমিরগুলি সৈকতের কাছাকাছি চলে আসায় পর্যটকদের সুরক্ষার কথা ভেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বিশ্ব

লর্ড মাউন্টব্যাটেন

ভারত ভাগের নাটের গুরু ছিলেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে মতপার্থক্য দানা বেঁধে উঠলে লর্ড মাউন্টব্যাটেন পরিস্থিতির সুযোগ নেন। নির্বাহী পরিষদের সদস্যদের তীব্র মতপার্থক্যের সুযোগে তিনি ধীরে ধীরে পূর্ণ ক্ষমতা নিজের কাছে নিয়ে নেন। লর্ড মাউন্টব্যাটেন বলেন, একমাত্র ভারত বিভক্ত হলে সমস্যার সমাধান হতে পারে।

মাওলানা আজাদ লিখেছেন, লর্ড মাউন্টব্যাটেন উভয় পক্ষকে বোঝান যে পাকিস্তানের সৃষ্টি না হয়ে উপায় নেই। মাউন্টব্যাটেন কংগ্রেসের সিনিয়র নেতাদের মনে পাকিস্তান সৃষ্টির বীজ বপন করেন। আর ভারতীয় নেতাদের মধ্যে সরদার বল্লভভাই প্যাটেল মাউন্টব্যাটেনের এ ধারণা সবার আগে গ্রহণ করেন।অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, ভারতবর্ষ ভাগ করার জন্য সরদার প্যাটেল আগে থেকেই মানসিকভাবে অর্ধেক তৈরি ছিলেন। প্যাটেল ধরে নেন, মুসলিম লীগের সঙ্গে কাজ করা যাবে না। সরদার প্যাটেল একপর্যায়ে জনসম্মুখে বলেই ফেলেন, মুসলিম লীগের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য তিনি ভারত ভাগ করতেও রাজি আছেন। এ কথা বলা অত্যুক্তি হবে না যে সরদার প্যাটেলই ছিলেন ভারতভাগের স্থপতি।

ভারতবর্ষ বিভক্ত করার ফরমুলা বিষয়ে সরদার প্যাটেল মনস্থির করার পর লর্ড মাউন্টব্যাটেন মনোযোগ দেন জওহরলাল নেহরুর দিকে। এ ধরনের ফরমুলার কথা শুনে প্রথমে নেহরু খুবই রাগান্বিত হন। কিন্তু লর্ড মাউন্টব্যাটেন তাঁকে ভারতবর্ষ ভাগ করার বিষয়ে ক্রমাগত বোঝাতে থাকেন। এ বিষয়ে নেহরুর রাগ প্রশমিত না হওয়া পর্যন্ত মাউন্টব্যাটেন তাঁর তৎপরতা চালাতে থাকেন। কিন্তু ভারত ভাগ করার বিষয়ে জওহরলাল নেহরু শেষ পর্যন্ত কীভাবে রাজি হলেন? মাওলানা আজাদ মনে করেন এর দুটি কারণ আছে।

প্রথমত, জওহরলাল নেহরুকে রাজি করানোর বিষয়ে মাউন্টব্যাটেনের স্ত্রীর একটি বড় প্রভাব ছিল। লেডি মাউন্টব্যাটেন ছিলেন খুবই বুদ্ধিমতী। এ ছাড়া তাঁর মধ্যে আকর্ষণীয় ও বন্ধুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় ছিল যার মাধ্যমে তিনি অন্যদের আকৃষ্ট করতে পারতেন। লেডি মাউন্টব্যাটেন তাঁর স্বামীকে খুব শ্রদ্ধা করতেন এবং অনেক সময় যাঁরা প্রথমে তাঁর স্বামীর কাজের সঙ্গে একমত হতে পারতেন না, তাঁদের কাছে স্বামীর চিন্তা-ভাবনা পৌঁছে দিয়ে তাদের সম্মতি আদায় করতেন। ভারত ভাগ করার পেছনে নেহরুর রাজি হওয়ার আরেকটি কারণ ছিলেন কৃষ্ণ মেনন। এই ভারতীয় ব্যক্তি ১৯২০-এর দশক থেকে লন্ডনে বসবাস করতেন। কৃষ্ণ মেনন ছিলেন জওহরলাল নেহরুর একজন বড় ভক্ত এবং নেহরুও কৃষ্ণ মেননকে খুবই পছন্দ করতেন।

কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের সমন্বয়ে ভারতবর্ষে যখন অন্তর্র্বর্তী সরকার গঠিত হয় তখন নেহরু কৃষ্ণ মেননকে লন্ডনে হাইকমিশনার নিয়োগ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কৃষ্ণ মেননের বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের আপত্তি ছিল। কারণ ১৯৩০-এর দশকের প্রথম দিকে ব্রিটেনের লেবার পার্টির একটি প্রতিনিধি দলের সদস্য হয়ে কৃষ্ণ মেনন ভারত সফর করেন।

১৯৪৬ সালের দিকে কৃষ্ণ মেনন যখন আবার ভারতে আসেন তখন লর্ড মাউন্টব্যাটেন বুঝতে পারেন যে ভারত ভাগ করার বিষয়ে কৃষ্ণ মেননের মাধ্যমে মিস্টার নেহরুকে রাজি করানো যাবে।

মাওলানা আজাদ যখন জানতে পারেন ভারত ভাগ করার বিষয়ে জওহরলাল নেহরু ও সরদার প্যাটেল মোটামুটি একমত তখন তিনি ভীষণ হতাশ হন। মাওলানা আজাদ মনে করতেন, ভারত বিভক্ত হলে তা শুধু মুসলমানের জন্যই নয়, পুরো ভারতের জন্যই খারাপ হবে। তাঁর দৃষ্টিতে ভারতবর্ষের মূল সমস্যা ছিল অর্থনৈতিক। সাম্প্রদায়িক সমস্যা কোনো বড় সমস্যা ছিল না। ভারত ভাগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিতে সরদার প্যাটেল ও জওহরলাল নেহরুকে বোঝানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেন মাওলানা আজাদ। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। ভারত ভাগের বিষয়ে সরদার প্যাটেল এতটাই অনড় ছিলেন যে তিনি অন্য কারও মতামত শুনতেও রাজি ছিলেন না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com