আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

শাকসবজি

যশোরে বিপাকে আলু চাষিরা

আলুখেত
আলুখেত

অধিকাংশ খেতের আলু গাছ শুকিয়ে যাচ্ছে ও গোড়ায় পচন দেখা দিয়েছে। এতে চাষিরা মারাত্মক ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন

যশোরে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় এ বছর আলুর ফলনে বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন চাষিরা।

৪৫ দিনের ব্যবধানে দুই দফা শৈত্যপ্রবাহ, মধ্যরাতে অসময়ের গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি ও তীব্র ঘন কুয়াশার কারণে আলু খেতে সমস্যা দেখা দিয়েছে।

লোকসানের আশঙ্কায় অনেক চাষিই এখন অপরিপক্ব আলু তুলে বাজারে নিয়ে বিক্রি করছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে যশোরের ৮ উপজেলায় প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে।

চাষের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আলু খেতে তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। তবে ফলনের শেষ মুহূর্তে তীব্র ঘন কুয়াশা ও দুই দফা মৃদু বৃষ্টির কারণে আলু খেত লেটব্লাইট রোগে নষ্ট হতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

অধিকাংশ খেতের আলু গাছ শুকিয়ে যাচ্ছে ও গোড়ায় পচন দেখা দিয়েছে। এতে চাষিরা মারাত্মক ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন।

তারা বলেছেন, ডিসেম্বরের শেষ সময়ে খেতে গাছের গোড়ায় যখন আলুর ফলন আসতে শুরু করে ঠিক তখনই যশোরাঞ্চলের ওপর দিয়ে শুরু হয় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। কয়েকদিনেও আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়ায় রোগের প্রদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

প্রতিটি খেতের আলু গাছ শুকিয়ে হলুদ বর্ণ হতে থাকে, বলেন তারা।

এ অবস্থায় কৃষি বিভাগের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে জমিতে ছত্রাকনাশক স্প্রে করে কিছুটা প্রতিকার পেলেও দুই সপ্তাহ পর আবারও শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়। লেটব্লাইট রোগ ফের দেখা দেওয়ায় অনেকে ভয়ে অপরিপক্ব আলু তুলে বাজারে নিয়ে বিক্রি করছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আর্দ্র অবস্থায় লেটব্লাইট রোগ দেখা দেয় এবং যদি উপযুক্ত ছত্রাকনাশক ব্যবহার না করা হয় তবে প্রথমবার এ রোগ দেখা দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যে এটি পুরো উদ্ভিদকে ধ্বংস করতে পারে।

কাণ্ডগুলো প্রায়শই নরম, পচা ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা আক্রান্ত হয় যা দ্রুত পাশের আলুগুলোকে দুর্গন্ধযুক্ত, পচার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে।

যশোর সদর উপজেলার নোঙরপুর মাঠের কয়েকজন কৃষক বলেন, কৃষি বিভাগের পরামর্শে জমিতে স্প্রে করা হলেও কাজ হচ্ছে না। কৃষকদের জন্য বিষয়টি উদ্ভট লাগছে।

আলু চাষি হাসমত আলী বলেন, এ বছর ধার-দেনা করে দুই বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি। শুরুতে গাছও হয়েছে খুব ভালো। কিন্তু এক সপ্তাহ ধরে সেগুলো রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আর ১৫ থেকে ২০ দিন পর এসব আলু তুলে বাজারে নিলে ফলন বেশি হতো। কিন্তু আলুর পচন ধরার ভয়ে আমরা আর খেতে রাখতে চাচ্ছি না।

যশোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক এমদাত শেখ জানান, তারা বিষয়টি অবগত আছেন।

তিনি বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকায় আলু খেত পরিদর্শন করেছি। কিছু কিছু খেতে এ ধরনের সমস্যা আছে। তবে এ পরিস্থিতিতে আমরা আলু খেতে ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দিয়েছি।”

শাকসবজি

তিস্তার চরে পেঁয়াজের ব্যাপক ফলনের আশায় চাষিরা

তিস্তার চরে পেঁয়াজের ব্যাপক ফলনের আশায় চাষিরা
তিস্তার চরে পেঁয়াজের ব্যাপক ফলনের আশায় চাষিরা

যুগ যুগ ধরে সনাতন পদ্ধতিতে পেঁয়াজ চাষে কৃষকরা তেমন লাভবান হতে পারেননি। কিন্তু বর্তমানে আধুনিক পদ্ধতিতে উন্নত বীজ ও নতুন চাষ পদ্ধতি কৃষি কাজের সবকিছু বদলে দিয়েছে। অন্যদিকে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার পরামর্শ, এনজিও কর্মীদের সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় জৈব সার ব্যবহারে কৃষকরা সুফল পাচ্ছেন।

চলতি গ্রীষ্মকালীন ও রবি মৌসুমে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় তিস্তা নদীর বালুচরে জেগে ওঠা বালু চরে পেঁয়াজের বাম্পার ফলনের আশা করছেন চরাঞ্চলের কৃষকরা।

জানা গেছে, কয়েক বছর পেঁয়াজের সংকট এবং দাম বেশি হওয়ায় এসব চরাঞ্চলের কৃষক অন্যান্য ফসলের চেয়ে পেঁয়াজ চাষে বেশি আগ্রহী। এবছর পেঁয়াজ চাষ ও বাম্পার ফলনে উৎপাদিত পেঁয়াজ দিয়ে দেশের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হবে।

তিস্তার চরে পেঁয়াজের ব্যাপক ফলনের আশায় চাষিরা
তিস্তার চরে পেঁয়াজের ব্যাপক ফলনের আশায় চাষিরা

অন্যান্য বছরের তুলনায় গম ও তামাক চাষ না করে এবার চরাঞ্চলে শুধু পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকে পড়েছেন কৃষকরা। তাই সর্বগ্রাসী তিস্তা নদীর দুই কূলে জেগে উঠা চর সমূহে পেঁয়াজ চাষ করে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা।

উপজেলার ছাতনাই কলোনি, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানি ও ঝুনাগাছ চাপানীর তিস্তা নদীর চর ঘুরে দেখা গেছে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন। এসব চর এলাকার কৃষক বন্যায় রোপা আমন চাষে ক্ষতিগ্রস্থ হলেও পেঁয়াজ চাষে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন।

তিস্তার চরে পেঁয়াজের ব্যাপক ফলনের আশায় চাষিরা
তিস্তার চরে পেঁয়াজের ব্যাপক ফলনের আশায় চাষিরা

এসময় পেঁয়াজ চাষি আনারুল ইসলাম জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পেঁয়াজ ক্ষেতে কোনো আপদ দেখা যায়নি। পেঁয়াজ ঘরে তোলার সময় পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে রোপা আমনের ক্ষতি পেঁয়াজ দিয়ে পুষিয়ে নেওয়া যাবে।

অপর চাষি আকবর আলী বলেন, বর্তমান বাজার মূল্য স্থিতিশীল থাকলে পেঁয়াজ চাষিরা লাভবান হবেন। এছাড়াও চাষিরা আগামীতেও পেঁয়াজ চাষে আগ্রহী হবেন।

তিস্তার চরে পেঁয়াজের ব্যাপক ফলনের আশায় চাষিরা
তিস্তার চরে পেঁয়াজের ব্যাপক ফলনের আশায় চাষিরা

ডিমলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সেকেন্দার আলী জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় চলতি বছরে এ উপজেলায় ১৮০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছর ছিল ১৫০ হেক্টর জমিতে।

গত কয়েক বছর বাজারে পেঁয়াজের তীব্র সংকট এবং মূল্য বৃদ্ধি হওয়ায় সরকার উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ১৭৫ জন কৃষককে বিনা মূল্যে পেঁয়াজের বীজ ও সার সহায়তা করেছে। আশা করি দেশে মসলা জাতীয় ফসলের চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

টমেটোর বিভিন্ন রোগ দূর করার উপায়

টমেটোর বিভিন্ন রোগ দূর করার উপায়
টমেটোর বিভিন্ন রোগ দূর করার উপায়

টমেটো আমাদের দেশে সারাবছর পাওয়া গেলেও এটি মূলত শীতকালীন সবজি। দেশের বিভিন্ন স্থানে এখন এটি বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে। তবে টমেটো চাষিরা এর বেশ কয়েকটি রোগ নিয়ে বেশ সমস্যায় পড়েন। ফলে প্রত্যাশিত ফসল তারা ঘরে তুলতে পারেন না। তাই টমেটো চাষ করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু রোগ সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

বিভিন্ন রোগের জন্য এর ফলন অনেকটাই ব্যাহত হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে চাষিরা রোগ চিহ্নিত করলেও তা নির্মূল করার উপায় জানেন না। কোন রোগে কী সার, কোন কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয় সে সম্পর্কে বিজ্ঞানসম্মত ধারণা নেই অনেকেরই। যার ফলে দেখা যায় ফলন ভালো হলেও বেশির ভাগ টমেটোর গুণগত মান ভালো নয়। যার ফলে সঠিক দামও পাওয়া যায় না।

কৃষি বিভাগ টমেটোর প্রধান প্রধান রোগ ও তার প্রতিকার সম্পর্কে চাষিদের জন্য পরামর্শ দিয়েছে। তারা বলছেন উপযুক্ত সতর্কতা অবলম্বন করলে এসব রোগ অনেকটাই নির্মূল করা সম্ভব হবে।

টমেটোর প্রধান রোগগুলো হলো, জলদিধসা বা নাবিধসা, ব্যাকটেরিয়াজনিত ঢলে পড়া, ভাইরাস বা ফুটে রোগ, ছত্রাকজনিত ঢলে পড়া, পেছনে কালো দাগ, চারা ধসা বা চারা ঢলা রোগ। টমেটোতে নাবিধসা রোগই বেশি দেখা যায়।

ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে টমেটো ঢলে পড়ে যায়। এর থেকে সবজি বাঁচাতে সুসংহত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। এর জন্য শস্য পর্যায় অনুসরণ করা, জৈবসার প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার করা উচিত। প্রতি বিঘায় ৬০ থেকে ৮০ কেজি নিমখোল ব্যবহার করা দরকার। এছাড়া যে জমিতে এ ধরনের রোগ দেখা যায় সেখানে ধঞ্চে জাতীয় ফসলের চাষ করতে হবে।

টমেটোর অন্যতম রোগ ভাইরাস বা ফুটে রোগ। এ রোগ সাধারণত সাদা মাছির মাধ্যমে ছড়ায়। এর প্রধান প্রতিকার হলো বাহক এ মাছিগুলো দমন করা। এছাড়া কীটনাশক মেসনইমিডা কোপ্রিড ১৭.৮ শতাংশ এক মিলিমিটার নিয়ে সাড়ে সাত লিটার পানিতে গুলে স্প্রে করতে হবে। বীজতলা থেকে এর প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে।

টমেটোর বিভিন্ন রোগ দূর করার উপায়
টমেটোর বিভিন্ন রোগ দূর করার উপায়

কম পটাশযুক্ত বালুমাটিতে টমেটো চাষ করলে ছত্রাকজনিত ঢলে পড়া রোগ দেখা যায়। এজন্য জমিতে বেশি পরিমাণে পটাশ ও জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়া উপকারী ছত্রাক ট্রাইকোডারমা ভিরিডি জৈব সারের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

প্রায়ই দেখা যায় উন্নত জাত হওয়া সত্ত্বেও টমেটোর পেছন দিকে কালো কালো দাগ। নোনা মাটি, বেশি ভেজা বা বেশি শুকনো মাটি ও ক্যালসিয়ামের অভাবযুক্ত মাটিতে এ শারীরবৃত্তীয় অনিয়মজনিত রোগটি হয়। এর জন্য নিয়মিত ও নিয়ন্ত্রিত পানি সেচ দেয়া দরকার।

এছাড়া চাপানো সার হিসেবে ক্যান সার ব্যবহার করলে এবং দুই গ্রাম চুন প্রতি লিটার পানিতে গুলে স্প্রে করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।

জৈব সারের সাথে ট্রাইকোডারমা ভিরিডি নামক উপকারী ছত্রাক বীজতলায় বা মূল জমিতে ব্যবহার করলে চারা ধসা ও চারা ঢলে পড়া রোগ নির্মূল করা যায়। এছাড়া বীজ শোধন করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

অ্যারোপোনিক্স উপায়ে সব্জি চাষে দারুন লাভ

হাইড্রোপনিক্স উপায়ে (Hydroponic Method) সব্জি চাষ প্রায় অনেকেই জানেন | কিন্তু, আপনি কি জানেন অ্যারোপোনিক্স পদ্ধতিতে চাষাবাদ কি? অনেকেই ভেবে থাকেন এই দুই পদ্ধতি এক | আপাত দৃষ্টিতে এক লাগলেও, আছে সামান্য পার্থক্য | এই দুটি উপায়েই মাটি ছাড়া সব্জি চাষ সম্ভব | হাইড্রোপনিক্স উপায়ে মাটি ছাড়া জলের সাহায্যে বেড়ে ওঠে উদ্ভিদ এবং অ্যারোপোনিক্স পদ্ধতিতে জলের পরিমান কম থাকে ও বাতাসের মাধ্যম উদ্ভিদের বৃদ্ধি ঘটে | এই দুর্দান্ত কৌশলে সবজি চাষ করে আর্থিক দিক থেকেও লাভবান হওয়া যায় | যেখানে মাটির ঝামেলাও নেই আবার স্বল্প জল ব্যবহৃত হয়|

তবে, জেনে নিন অ্যারোপোনিক্স পদ্ধতির খুঁটিনাটি;

অ্যারোপোনিক্স পদ্ধতি কি (What is Aeroponics method)?-

প্রধানত, এটি হলো উদ্ভিদের শিকড়কে বাতাসে প্রকাশ করে উদ্ভিদের চাষাবাদ প্রক্রিয়া | এই পদ্ধতিতে  একটি উচ্চ-চাপযুক্ত, পুষ্টিকর সমৃদ্ধ কুয়াশা গাছগুলিকে খাওয়ানোর জন্য ব্যবহার করা হয় এবং শিকড়কে আরও সুষম জল, পুষ্টি এবং অক্সিজেন পরিপূরক সরবরাহ করে। উদ্ভিদগুলি কোনোরকম স্তর ব্যবহার না করেই জন্মায় |

অ্যারোপোনিক্স পদ্ধতি কিভাবে কাজ করে?

সাধারণত, এখানে বায়ুবিদ্যার নীতিকে কাজে লাগিয়ে চাষ করা হয় | তাই. বায়ুবিদ্যার মৌলিক নীতিটি হলো ঝুলন্ত উদ্ভিদ প্রজাতির বর্ধিত বা অর্ধ-উন্মুক্ত উদ্ভিদের ঝুলন্ত শিকড় ও তার কাণ্ডের নিচের অংশ জলের দ্রবণে নিমজ্জিত থাকে | এটি সম্পূর্ণ একটি স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া | বৃহত্তর উদ্ভিদের জন্য, আপনি গাছপালা এবং ফলের ওজনকে সমর্থন করতে কিছু ধরণের ট্রেলিস বা অন্য ধরণের উল্লম্ব সমর্থনও ব্যবহার করতে পারেন।

অ্যারোপোনিক্স পদ্ধতিতে সব্জি চাষ (Vegetables farming by Aeroponics method):

এই পদ্ধতিতে আপনি আপনার ছাদ-বাগানে খুব সহজেই শাক-সব্জি, ফল-মূল চাষ করতে পারেন | সম্পূর্ণ বিষমুক্ত সব্জি উৎপাদন হয় | এখানে কোনো রাসায়নিক স্যারের ব্যবহার হয়না | মাটির পরিবর্তে নুড়ি, পাথর নেওয়া হয় | লাউ, কুমড়ো, টমেটো প্রায় সব সব্জি চাষ করা হয় এই পদ্ধতি অবলম্বনে | মাছের চাষের সময় যে বর্জ্য উৎপাদিত হয় তা পাইপের মাধ্যমে চলে আসে সব্জি চাষের মধ্যে | এটাই সব্জির খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয় |

এই পদ্ধতিতে কোনো কিছুই নষ্ট হয়না | অনেক কৃষকরাই এই পদ্ধতিতে চাষ করে অনেক লাভবান হয়েছেন | একই সময়ে, বায়বীয় যন্ত্রপাতি নিজেই একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য এটি মাটি বিহীন এবং শুধুমাত্র সংক্ষিপ্ত সমর্থন কাঠামো অন্তর্ভুক্ত। উদ্ভিদ এবং সহায়তার মধ্যে একটি ন্যূনতম মিথস্ক্রিয়া ফলে গাছের 100% বায়ুর সংস্পর্শে আসতে দেয়। তদতিরিক্ত, হ্রাস করা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা শিকড়গুলির প্রাকৃতিক প্রসারণ বা বিশুদ্ধ জলে তাদের প্রবেশে বাধা দেয় না।

অ্যারোপোনিক্স পদ্ধতিতে উদ্ভিদের রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব:

এই পদ্ধতিতে উৎপাদিত শাক-সব্জি সম্পূর্ণ জৈব | প্রধানত, এই পদ্ধতিতে চাষ রোগজীবাণু অনেকটাই কম হয় |উদ্ভিদ থেকে উদ্ভিদ যোগাযোগের পদ্ধতি প্রকৃতির দ্বারা মারাত্মকভাবে সীমাবদ্ধ থাকে যার থেকে রোগজীবাণু সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা খুব সহজ। এ্যারোপোনিক্সের কোনও সমস্যা নয় কারণ অন্যের স্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে আগে সংক্রামিত উদ্ভিদটি সমর্থন কাঠামো থেকে দ্রুত সরিয়ে ফেলা যায়। তার উপরে, প্রয়োজনে বাষ্পীকরণের প্রতিটি নাড়ি জীবাণুমুক্ত হতে পারে |অ্যারোপোনিকস এক নতুন ধরণের জৈব চাষের জন্ম দেয় যা সম্ভবত ভবিষ্যতের প্রজন্মের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ |

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

ওজন নিয়ন্ত্রণে ফুলকপির ভাত

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার মাধ্যমে সুস্থ ও সুন্দর দেহ-মন অর্জন করা এবং বজায় রাখার তাগিদ এখন সারা বিশ্বে সবার মধ্যেই। হৃদ্‌রোগ, ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ থেকে শুরু করে শরীরের ব্যথাবেদনা, হাড়ক্ষয়, বাতের সমস্যা—এসব রোগের প্রতিরোধ ও চিকিৎসায়ও ওজন কমানো ও নির্দিষ্ট মাত্রায় রাখার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। এমনকি করোনা মহামারিতেও দেখা যাচ্ছে মরবিড অবেসিটি বা বিপজ্জনক রকমের বেশি ওজন এই রোগের ভয়াবহতা ও প্রকারান্তরে মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় কয়েক গুণ।বিজ্ঞাপন

ওজন নিয়ন্ত্রণে লো কার্ব ডায়েট ও কলিফ্লাওয়ার রাইস

কলিফ্লাওয়ার রাইস বা ফুলকপির ভাত
কলিফ্লাওয়ার রাইস বা ফুলকপির ভাত

নিজের শরীর স্লিম আর ফিট রাখতে যুগে যুগে বহু বিশেষায়িত ডায়েট বা নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের দ্বারস্থ হয়েছে মানুষ। এরই ধারাবাহিকতায় কম শর্করা গ্রহণের মূলমন্ত্র নিয়ে বহু ধরনের লো কার্ব ডায়েট অনুযায়ী খাদ্য গ্রহণ করে অনেকেই দ্রুত সুফল পেয়েছে। এসব লো কার্ব ডায়েটের মধ্যে আছে একসময়ে সাড়া জাগানো এটকিন্স ডায়েট, প্যালেও ডায়েট আর হাল আমলে সবার মুখে মুখে ফেরা বিখ্যাত কিটোজেনিক ডায়েট বা কিটো ডায়েট। কম শর্করাযুক্ত খাবারের সমন্বয়ে করা লো কার্ব ডায়েট মানে কিন্তু না খেয়ে থাকা নয়। এ ক্ষেত্রে শর্করাজাতীয় খাবারের বিকল্প বিভিন্ন খাবার খেয়ে অত্যন্ত কার্যকরভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। তবে আমাদের মতো ভেতো বাঙালিসহ আরও যেসব দেশের মানুষ ভাত না খেয়ে থাকতে পারে না, তাদের জন্য ভাতের এক চমৎকার বিকল্প কলিফ্লাওয়ার রাইস বা ফুলকপি ভাত।

কলিফ্লাওয়ার রাইস কী

গোটা ফুলকপি কুরিয়ে বা গ্রেট করে দানাদার চালের মতো তৈরি করে তা ভাতের বিকল্প কলিফ্লাওয়ার রাইস হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সবজি কুরানোর যন্ত্রে হাতে গ্রেট করে অথবা ব্লেন্ডারে হালকাভাবে ফুলকপির ফুলগুলো ব্লেন্ড করে নিলেই হয়ে গেল ফুলকপির চাল। এবার এই চাল দিয়ে অনায়াসে রান্না করা যায় ফ্রাইড রাইস, পোলাও, বিরিয়ানি। নিজস্ব খুব কড়া কোনো স্বাদ, গন্ধ, বর্ণ না থাকায় চাল দিয়ে তৈরি করতে হয়—এমন যেকোনো রেসিপিতেই সুন্দরভাবে খাপ খেয়ে যায় কলিফ্লাওয়ার রাইস।আরও পড়ুনচাল ছাড়াই ফ্রায়েড রাইস

কলিফ্লাওয়ার রাইসের ইতিকথা

সেই ১৮৬৩ সালে লো কার্ব বা কম শর্করার ডায়েটের ওপরে বই লিখে ওজন সচেতন মানুষের মনে সাড়া জাগিয়েছিলেন ব্রিটিশ এক ফিটনেস এক্সপার্ট। এরপর ২০০২ সালের দিকে ব্যায়ামবিজ্ঞানী লরেইন কোর্ডেনের ‘প্যালেও ডায়েট’ বইয়ে প্রথম চালের ভাতের বদলে কলিফ্লাওয়ার রাইস খাওয়ার ব্যাপারে পরামর্শ দেওয়া হয়। আর এখন তো কলিফ্লাওয়ার রাইস সারা বিশ্বেই সমাদৃত।বিজ্ঞাপন

কলিফ্লাওয়ার রাইস বনাম চালের ভাত

দানাদার ও সাদা ফুলকপি ভাত দেখতে ও খেতে কিছুটা হলেও ভাতের আমেজ দেয় আমাদের। অথচ এক কাপে ভাতের তুলনায় প্রায় ৮০ ভাগ কম ক্যালরি থাকে ফুলকপির ভাতে। নেট শর্করার পরিমাণও ভাতের তুলনায় প্রায় ১৮ ভাগের ১ ভাগ। এ ছাড়া ফুলকপির পুষ্টিগুণের ব্যাপারটা তো আছেই!

এক কাপে ভাতের তুলনায় প্রায় ৮০ ভাগ কম ক্যালরি থাকে ফুলকপির ভাতে
এক কাপে ভাতের তুলনায় প্রায় ৮০ ভাগ কম ক্যালরি থাকে ফুলকপির ভাতে

কলিফ্লাওয়ার রাইসের উপকারিতা

কলিফ্লাওয়ার রাইসের উপাদান হচ্ছে গোটা তাজা ফুলকপি। শীতকালের এই ভরা মৌসুম মানেই ফুলকপির বড়া, ফুলকপির তরকারি, ফুলকপির শিঙাড়া। কিন্তু এই অভিনব কলিফ্লাওয়ার রাইস খেলে কম শর্করা খাওয়ার উপকারের পাশাপাশি ফুলকপির অনন্য পুষ্টিগুণ পাব বাড়তি পাওনা হিসেবে। ফুলকপির গুণের কথা তো বলে শেষই করা যায় না। তাও দেখে নেওয়া যাক এর প্রধান উপকারিতা আর উপযোগিতাগুলো।

পুষ্টিকর সবজি ফুলকপিতে আছে অপ্রত্যাশিত পরিমাণে ভিটামিন সি। তবে উচ্চতাপে নষ্ট হয়ে যায় বলে একমাত্র কাঁচা কলিফ্লাওয়ার রাইসেই যথার্থ ভিটামিন সি পাওয়া যায়। তবে পানি না দিয়ে অল্প তাপে তাড়াতাড়ি নেড়েচেড়ে কোরানো ফুলকপি স্টারফ্রাই করলেও কিছুটা অক্ষুণ্ন থাকে ভিটামিন সি। এ ছাড়া এতে আছে যথেষ্ট ভিটামিন বি৬, ভিটামিন কে, ম্যাংগানিজ ও পটাশিয়াম। তবে কোলিন নামের আধুনিক কালে আবিষ্কৃত এক বিশেষ পুষ্টি উপাদান উদ্ভিজ্জ উৎসের মধ্যে একমাত্র ফুলকপিতেই পাওয়া যায় খুবই ভালো পরিমাণে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই কোলিন আমাদের হার্ট, লিভার, মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উপকারী। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো, ক্যানসার গবেষণায় উঠে এসেছে, ব্রকলি ও ফুলকপির বিশেষ অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট ক্যানসারের জন্য দায়ী কারসিনোজেনের বিরুদ্ধে ভালো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম।

ফুলকপি ভাতের মূল উপাদান ফুলকপি
ফুলকপি ভাতের মূল উপাদান ফুলকপি

আমাদের বাঙালি স্বাদগ্রন্থির পরিপূর্ণ সন্তুষ্টি আর গলা অবধি উদরপূর্তির অভ্যাসের নিরিখে দেখতে গেলে ফুলকপি ভাতের ভবিষ্যৎ আপাতদৃষ্টিতে খুব উজ্জ্বল মনে না হলেও বাস্তবতা কিন্তু অন্য কথা বলে। কলিফ্লাওয়ার রাইসের ফাইবার আর পানির উপস্থিতির কারণে ভাতের বদলে খেলে কিছুটা হলেও পেট ভরে আর তৃপ্তি মেলে। আর বর্তমান সময়ে যখন অতিরিক্ত ওজনের ফলে বিভিন্ন মারাত্মক রোগ বেড়েই চলছে হু হু করে আমাদের দেশে, তখন শর্করার বিকল্প হিসেবে এই ফুলকপি ভাতের গুরুত্ব ও আবেদন স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে অবশ্যই বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, বিশেষত পশ্চিমা দেশগুলোয় এর জনপ্রিয়তার কারণেও আমরা ধীরে ধীরে এই কিটোজেনিক লো কার্ব রাইসের দিকে আগ্রহী হচ্ছি। হয়তো অদূর ভবিষ্যতে আমাদের সমাজের ফিটনেস–সচেতন মানুষের প্লেটেও ঘরে ঘরে নিত্যদিন শোভা পাবে ফুলকপি চালের পোলাও অথবা ফ্রাইড কলিফ্লাওয়ার রাইস।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

ফুলকপির ১০ পুষ্টিগুণ

পুষ্টিগুনে ভরপুর সবজি ফুলকপি। শীতকাল হল এই সবজিটি উৎপাদনের মূল সময়কাল। যদিও বর্তমানে ফুলকপি সারা বছর পাওয়া যায়। তবে স্বাদের কথা বিবেচনা করলে শীতকালের ফুলকপি স্বাদে উৎকৃষ্ট। আমাদের দেশে ফুলকপি সাদা এবং হালকা হলুদ বা বাদামী বর্নের পাওয়া গেলেও বাইরের দেশে সাদা,হলুদ বা পার্পল বর্ণেরও পাওয়া যায়।

প্রতি ১০০ গ্রাম ফুলকপিতে ক্যালরি রয়েছে ৩১, প্রোটিন ৩.৩ গ্রাম, ফ্যাট ০.৮ গ্রাম, ফাইবার ১.১ গ্রাম, শর্করা ০.৮ গ্রাম। সুতরাং বুঝতেই পারছেন দামে বেশ সস্তা হলেও পুষ্টিগত দিক দিয়ে খুবই উপকারি ফুলকপি। পাশাপাশি,স্বাদের দিক থেকেও দারুণ সুস্বাদু। আর এই সবজিটিতে নানাভাবে রান্না করে খাওয়া যায়। ফুলকপি মাংসের সাথে, ডালের সাথে, চাপ বা কাবাব হিসাবে, মাছের সাথে ঝোল বা স্যুপ বা সালাদ অনেক ভাবে খাওয়া যায়।ফুলকপির বিশেষ কিছু গুণ আছে, যা সবার জেনে রাখা ভালো-

১. কোলস্টেরল কমায়: এতে প্রচুর ফাইবার আছে, যা শরীরে কোলস্টেরলের মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

২. ওজন কমাতে: গবেষণায় দেখা গেছে, ফুলকপি মস্তিষ্ক ভালো রাখে, ওজন কমায় এবং সর্দি-কাশিসহ নানা রোগ প্রতিরোধ করে।

৩. হাড় ও দাঁত শক্ত করে: ফুলকপিতে রয়েছে দাঁত ও মাড়ির উপকারী ক্যালসিয়াম ও ফ্লোরাইড। এর ক্যালসিয়াম হাড় শক্ত করে।

৪. ক্যানসার প্রতিরোধ করে: মারাত্মক ক্যানসার প্রতিরোধ করতে পারে ফুলকপি। এতে আছে সালফোরাপেন, যা ক্যানসার কোষকে মেরে টিউমার বাড়তে দেয় না। স্তন ক্যানসার, কোলন ও মূত্রথলির ক্যানসারের জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়ার ক্ষমতাও আছে ফুলকপির।

৫. হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য উপকারী: ফুলকপি হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য ভালো। এতে যে সালফোরাপেন আছে, তা হৃদ্‌রোগের বিরুদ্ধে লড়তে পারে।

৬. রোগ প্রতিরোধ করে: ফুলকপিতে আছে ভিটামিন ‘বি’, ‘সি’ ও ‘কে’, যা এ সময়ের সর্দি, ঠান্ডা, কাশি জ্বর ভাব, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, গা-ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া ফুলকপির আরও সব প্রয়োজনীয় উপাদান রোগ প্রতিরোধেও অংশ নেয়।

৭. শক্তি জোগায়: এই সবজিতে আছে প্রচুর আয়রন। রক্ত তৈরিতে আয়রন রাখে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। গর্ভবতী মা ও অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করা মানুষের জন্য ফুলকপি অত্যন্ত জরুরি।

৮. চুল ও ত্বকের জন্য উপকারী: কম ক্যালরিযুক্ত ও উচ্চমাত্রার আঁশসমৃদ্ধ ফুলকপি চুল ভালো রাখে। ত্বকের সংক্রমণও প্রতিরোধ করে।

৯. পরিপাকতন্ত্র ভালো রাখে: ফুলকপি পরিপাকতন্ত্রকে ভালো রাখতে সাহায্য করে।

১০. দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়: চোখের যত্নে ফুলকপির কোনো তুলনা হয় না। ফুলকপিতে থাকা ভিটামিন ‘এ’ চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়। চোখ সুস্থ রাখতে বেশি করে ফুলকপি খাওয়া উচিত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com