আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

‘যশোরের যশ, খেজুরের রস’

যশোরের খেজুর রস ও গুড় এখনও অপ্রতিদ্বন্দী
যশোরের খেজুর রস ও গুড় এখনও অপ্রতিদ্বন্দী

এবারের রস সুমিষ্ট যার মৌ মৌ সুগন্ধ ছড়ায় চারদিকে। সুবাস আর স্বাদ নিতে ভিড় জমায় পিঁপড়া, মৌমাছি, পাখি, কাঠবিড়ালি। এই রসের নামই নলেন রস যা গাছিদের নৈপুণ্যে তৈরি এক বিস্ময়

আবহমানকাল থেকেই দেশবাসী পরিচিত- “যশোরের যশ, খেজুরের রস” প্রবচনটি সাথে। শীতের শুরুতে খেজুরের রস, গুড় আর পাটালির জন্যে দেশের মানুষ উদগ্রীব হয়ে থাকে এর স্বাদ-গন্ধ নিতে। আর শহরে থাকা আত্মীয়-স্বজনদের সমাগম ঘটে গ্রামের বাড়িতে, স্বজনদের কাছে। শীতের পিঠা-পায়েস খাওয়াই প্রধান উদ্দেশ্য।

গাছের সংখ্যা কমে যাওয়া, গাছিদের অনাগ্রহ ও ন্যায্যমূল্যের অভাবে কিছুটা ভাটা পড়েছে এই শিল্পে। নানা সংকটের মধ্যেও এই অঞ্চলের খেজুরের পাটালি আর গুড়ের উৎপাদন ও বিকিকিনি চলছে। এখানেই মেলে বিখ্যাত নলেন গুড়।

যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, যশোরের আট উপজেলায় সাত লাখ ৯১ হাজার ৫১৪টি খেজুরগাছ আছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি যশোর সদর, মণিরামপুর, শার্শা, চৌগাছা ও বাঘারপাড়া উপজেলায়। গত বছর জেলায় চার হাজার ৬৪ মেট্রিক টন গুড়-পাটালি ও প্রায় দুই হাজার ৫৬০ মেট্রিক টন রস উৎপাদন হয়েছে। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিয়ে এসব গুড়-পাটালি দেশের অন্যান্য জেলায়ও যাচ্ছে।

তবে জেলায় আগের মত খেজুর গাছ নেই, একইসাথে গাছির সংখ্যাও কমছে। অভিজ্ঞ গাছি ছাড়া রস সংগ্রহ করা যায় না। গাছিদের পরবর্তী প্রজন্ম খুব বেশি এই পেশায় আগ্রহী হচ্ছে না। সংকটের আরেকটি কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিশ্রম ও উৎপাদন খরচ অনুযায়ী গুড়- পাটালির ন্যায্য দাম না পাওয়া।

গাছিদের নৈপুণ্যে তৈরি এক বিস্ময় নলেন গুড়!

যশোরের খাজুরা এলাকার গুড়-পাটালির এমনই সুঘ্রাণ ছড়িয়েছে, যা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তৈরি গুড়-পাটালি এর কাছে একেবারেই নগণ্য।

এই এলাকাতেই পাওয়া যায় দেশসেরা নলেন গুড়। নলেন গুড় আসে এক বিশেষ ধরনের খেজুর রস থেকে। যা এই এলাকার মানুষের কাছে নলেন রস বলে পরিচিত। নলেন গুড় থেকে তৈরি হয় নলেন গুড়ের সন্দেশ, ক্ষীর-পায়েস।

আশ্বিনের শেষের দিকে গাছিরা খেজুরগাছকে প্রস্তুত করতে থাকেন রস আহরণের জন্যে। গাছের বাকল কেটে চেছে “গাছ তোলা” হয়। যেখান থেকে নেমে আসবে অমিয়ধারা-তা সাফ-সুতরো করতে থাকে গাছিরা। এক একজন সুদক্ষ স্বশিক্ষিত গাছি কোমরে মোটা দড়ি বেঁধে ধারাল গাছিদা দিয়ে পরম নৈপূণ্যে তা কাটে!  

রস উৎপাদনে গাছিরা যে পরিশ্রম করে সে তুলনায় তাতের প্রাপ্তি খুবই কম
রস উৎপাদনে গাছিরা যে পরিশ্রম করে সে তুলনায় তাতের প্রাপ্তি খুবই কম

গাছতোলা শেষে গাছ কাটার পালা, অর্থাৎ রস বেরুনোর পথ তৈরি করা। নিপুণ হাতে গাছের উপরিভাগের নরম অংশকে অপরূপ সৌন্দর্যে কেটে গাছি সেখানে বসিয়ে দেন বাঁশের তৈরি নালা। গাছের কাটা অংশ থেকে চুইয়ে চুইয়ে রস এসে নল দিয়ে ফোটায় ফোটায় জমা হয় ঠিলেয় (হাঁড়ি) । প্রথম রস একটু নোনা। গাছি এক কাটের পর বিরতি দেন! কিছুদিন বিরতির পর আবার কাটেন। এবারের রস সুমিষ্ট যার মৌ মৌ সুগন্ধ ছড়ায় চারদিকে। সুবাস আর স্বাদ নিতে ভিড় জমায় পিঁপড়া, মৌমাছি, পাখি, কাঠবিড়ালি। এই রসের নামই নলেন রস যা গাছিদের নৈপুণ্যে তৈরি এক বিস্ময়। 

যশোরের নলেন গুড়-পাটালির জন্যে বিখ্যাত খাজুরা এলাকার গাছি আব্দুর জলিল (৫০) বলেন, ঝুঁকি নিয়ে গাছ কাটতে হয়। ভোরে গাছ থেকে রস নামানো খুব কঠিন কাজ। এরপর জ্বালিয়ে গুড়-পাটালি তৈরি করে বিক্রি করতে হয়। এতো কষ্ট করার পরও ভাল দাম পাওয়া যায় না। কষ্টের তুলনায় লাভ হয় না। এ জন্য আগের মত যেমন গাছ নেই, তেমনি গাছিও কমছে।

অনলাইনে গুড়-পাটালি বিক্রি

গত বছর থেকে যশোরে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে গুড়-পাটালি বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে। এতে বাজার কিছুটা সম্প্রসারণ হচ্ছে।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান কেনারহাটের উদ্যোক্তা নাহিদুল ইসলাম বলেন, “গত বছর বাঘারপাড়ার ৬০ জন গাছির সঙ্গে চুক্তি করেছিলাম। তাদের তৈরি সাত টন গুড় পাটালি দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করেছি। স্থানীয় বাজারের তুলনায় দাম বেশি দিয়েছি। নির্ভেজাল পণ্যের চাহিদা বেশি হওয়ায় দাম বেশি ছিল। ক্রেতাদের ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। এবার বাঘারপাড়ার পাশাপাশি কেশবপুর ও মণিরামপুরের প্রায দুইশ কৃষককে যুক্ত করছি। গত বছরের তুলনায় এবার দ্বিগুণ টার্গেট করছি। গুড় পাটালি বাজার সম্প্রসারণ করতে পারলে গাছিরা দাম বেশি পাবে “

কেনারহাট কেজিপ্রতি পাটালি ৩৯০ টাকা এবং গুড় ৩৫০ টাকা। দেশের যেকোনও স্থানে তারা সরবরাহ করছেন।

রসে নিপাহ ভাইরাস

নিপাহ ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে স্থানীয় কৃষকরা নিজস্ব প্রযুক্তিতে ব্যবস্থা নিয়েছেন। সেক্ষেত্রে তারা খেজুর গাছের গাছের পাতা ও ফাতা (পাতার গোড়া থেকে বিস্কুট রঙের চওড়া কাগজের মতো) বেঁধে দেন। এতে করে বাদুড়সহ যেকোনও পাখি সেই গাছের রস পানে বাধা পায়।

বাঘারপাড়া উপজেলার দোহাকুলা গ্রামের কৃষক হারুণ মোল্যা বলেন, “শুনিছি বাদুড় রস খাতি আইসে অসুক (রোগ) ছাড়াচ্ছে। এখন যে রস খাওয়ার জন্যি, সেই গাছের বাগলো (পাতা) চিরে নলের পাশতে ঠিলের মুক (মুখ) পর্যন্ত জড়ায়ে বাইন্দে রাখি। তাতে বাদুড় ক্যান, কোনও পাহি (পাখি) বসতি পারে না।”

রস থেকে পাটালি বা গুড় তৈরির কাজ নিজ বাড়িতেই করেন গাছিরা।
রস থেকে পাটালি বা গুড় তৈরির কাজ নিজ বাড়িতেই করেন গাছিরা।

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. দিলীপ কুমার রায় বলেন, খেজুর রসে নিপাহ ভাইরাস ছড়ায় মূলত বাদুড়ের লালা, বিষ্ঠা ও প্রস্রাবের মাধ্যমে। বাদুড় যখন খেজুর গাছের নলিতে বসে রস পান করে, সেই সময় তার লালা, বিষ্ঠা ও প্রস্রাব রসের ভাড়ে যায়। তবে, রস যদি একটু জ্বালিয়ে পান করা যায়, তবে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই।

সিভিল সার্জন বলেন, এর এন্টিভাইরাল কোনও ওষুধ নেই। আক্রান্ত রোগীদের সাধারণ চিকিৎসা দেওয়া হয়। যেহেতু স্পেসিফিক ওষুধ নেই, সেক্ষেত্রে এই রোগে আক্রান্তদের ৬০ থেকে ৭০ ভাগ মারা যায়। তাই সতর্কতাই বেশি জরুরী।

গুড়-পাটালিতে চিনি

অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের খপ্পরে পড়ে যশোরের বিখ্যাত খেজুরের পাটালির সুনাম হারাতে বসেছে। শীত মৌসুমে শহরের অলি-গলি ও দোকানে যে পাটালি-গুড় পাওয়া যায়, তার বেশিরভাগই ভেজাল। কম দামের চিনি মিশিয়ে খেজুরের পাটালি বলে তিনগুণ বেশি দামে বিক্রি করা হয়।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খেজুরের রস যখন জ্বালানো হয়, সেই সময় আখের গুড়ের “মুচি” (পাটালির মতো শক্ত) ও পুরনো গুড় (উলা গুড়) সঙ্গে মিশিয়ে ঘন করা হয়। এরপর তাতে চিনি মিশিয়ে “বীজ” মেরে পাটালি তৈরি করা হয়। পাটালির গন্ধ করতে তাতে বিশেষ কেমিক্যাল ব্যবহার করে তারা। এরপর সেই পাটালি বা গুড়কে খাঁটি বলে ক্রেতাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। ৫০ টাকার কেজি দরের চিনি আর ৭০ টাকা দরের আখের গুড়ের মুচি দিয়ে তৈরি এসব পাটালি দুইশ’ থেকে আড়াইশ’ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।

যশোরের বসুন্দিয়া এলাকার কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের এলাকায়ও বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী রয়েছে, যারা এই ভেজাল পাটালি তৈরি করে। তারা কমদামে উলা গুড় কিনে তাতে চিনি, সেন্ট আর পাটালির রঙ ঠিক রাখতে একটি কেমিক্যাল ব্যবহার করে।

আছেন অনেক সৎ গাছি

প্রায় ৪০ বছর গুড়-পাটালি উৎপাদনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার দোহাকুলা গ্রামের কৃষক হারুণ মোল্যা (৬৮)। তিনি বলেন, “আমার ৭০টি খেজুর গাছ আছে। প্রতিদিন ১০টি করে গাছ কাটি আমি। ৫-৬ খান (ভাড়) রস হয়। এখন বেশিরভাগ দিনই কাঁচারস বিক্রি করি। আজও বেঁচেছি দুই ঠিলে (ভাড়) ২৪০ টাকায়।”

তিনি বলেন, “তিন মেয়ে আর নাতি-পুতি এসেছিল। যাওয়ার সময় তারা ৫ কেজি করে পাটালি নিয়ে গেছে। ছোটমেয়েকে একটু বেশি দিতে হবে, জানিয়ে গেছে।”

পরম মমতায় পাটালি তৈরি করছেন এক গাছিবধূ
পরম মমতায় পাটালি তৈরি করছেন এক গাছিবধূ

জীবনে কখনও হারাম খাইনি জানিয়ে তিনি বলেন, “শুনেছি এখন কেউ কেউ গুড়-পাটালিতে চিনি দিয়ে তা বিক্রি করছে। আমি কখনোই এসব করিনি, করবোও না।”

এক সপ্তাহ গাছ কাটলে যে রস পাওয়া যায়, তা দিয়ে তিনি ২৫ থেকে ৩০ কেজি গুড়-পাটালি তৈরি করতে পারেন বলে জানান। তার পাটালি দুইশ’ টাকা আর গুড় দেড়শ’ টাকায় গ্রামেই বিক্রি হয়ে যায়।

বাঘারপাড়া পৌরসভার মধ্যপাড়া এলাকার কৃষক শমসের আলী (৬৫) বলেন, ১২০টি গাছ আমার। পাঁচ দিন পর গাছ কাটি। এক ছেলে, অনার্স পড়ে। সে গাছ কাটতে পারে না, কখনো যায়নি আমার সঙ্গে। কাঁচা রস প্রতি ঠিলে দেড়শ’ টাকা দরে বিক্রি করে দেই। ঢাকার থেকে অর্ডার আসে, পাটালি আড়াইশ’ টাকা করে বিক্রি করি। কোনও প্রকার ভেজালের সঙ্গে আমরা নেই।

যা বলছে কর্তৃপক্ষ

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপ-পরিচালক ইমদাদ হোসেন শেখ বলেন, “যশোরের ঐতিহ্য খেজুর গাছ বেশ কমে গেছে। সরকারিভাবে খেজুর গাছ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান প্রজন্ম এই খেজুরগাছের গুড় সংগ্রহের প্রতি বেশি উৎসাহী নয়। এজন্য কিছুটা গাছ কমেছে।”

যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ বলেন, “খেজুরের গুড় উৎপাদনে যশোর বিখ্যাত। এই জেলার গুড়ের সুনাম ও চাহিদা আছে। খেজুর গুড়কে ব্র্যান্ডিং করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “ভেজালমুক্ত গুড় পাটালি যাতে তৈরি হয়, সেই ব্যাপারে আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে। যারা গুড় পাটালি তৈরি করে, তাদের সহায়তায় কাজ করছি। ভেজালমুক্ত পণ্য উৎপাদনে তাদের উৎসাহিত করছি।”

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

মন্তব্য এর উত্তর দিন

এগ্রোবিজ

বেগুনের কেজি ৮ টাকা, চাষিরা হতাশ

বেগুনের কেজি ৮ টাকা, চাষিরা হতাশ
বেগুনের কেজি ৮ টাকা, চাষিরা হতাশ

চলতি মাসে যশোরের শার্শা উপজেলায় বেগুন চাষিরা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন। উৎপাদন বেশি হলেও বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় চরম হতাশায় পড়েছেন তারা। এছাড়া চলতি মৌসুমে বেগুনে পোকার আক্রমণের সাথে সাথে অপরিকল্পিত কীটনাশক ব্যবহার করায় খরচ ও লোকসানের ভাগ বেশি হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা।

সাদা পোকা (হোয়াইট ফ্লাই) পাতার রস শুষে নেওয়ায় পাতা কুঁকড়ে গাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। নলি পোকা বেগুনের মধ্যে ছিদ্র করে ঢুকে পড়ছে। এ অবস্থায় লোকসানের আশঙ্কায় কীটনাশক ব্যবহার করছেন চাষিরা। তাতে মানুষের শরীরে রোগ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

বাজারের কীটনাশকের বিষাক্ততা কৌটার গায়ে লাল, নীল, হলুদ ও সবুজ চিহ্ন দিয়ে উল্লেখ করা থাকে। লাল হীরক চিহ্ন মানে সেটির ব্যবহার সীমাবদ্ধ। হলুদ, নীল, সবুজ মানে সেটি নিরাপদ। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে চাষিরা লোকসানের আশঙ্কায় বিষাক্ত কীটনাশকগুলোই ব্যবহার করেন। এ ধরনের কীটনাশকের বিষক্রিয়া বেগুন ও অন্য সবজির মধ্যে অন্তত ১৫ দিন থেকে ৬ সপ্তাহ থাকে। এ সময়ের মধ্যে সেই সবজি বাজারে বিক্রি করলে, তা খেয়ে অসুস্থ হতে পারেন লোকজন।

চাষিরা বলেন, ‘কীটনাশকে কতটা বিষ, তা নিয়ে গবেষকরা ভাবুক। এখন বেগুনে পোকার আক্রমণ। তার মধ্যে বাজারে তিন দিন আগে বেগুন পাইকারি ৩-৪ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। ২৯ জানুয়ারি স্থানীয় বাজারে পাইকারি বিক্রি হয়েছে ৬-৮ টাকা কেজিতে। কীটনাশক ব্যবহারে অনেক খরচ। সব মিলিয়ে আমরা খুব হতাশায় পড়েছি।’

চাষিরা আরও বলেন, ‘বেগুন খোলা বাজারে ১৫-২০ টাকা কেজি হলেও আমরা পাচ্ছি মাত্র ৬-৮ টাকা। আমাদের কাছ থেকে কিনে নিয়ে তারা উচ্চমূল্যে বিক্রি করছে। অথচ মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আমরা সবজি উৎপাদন করে লসের মধ্যে আছি। ন্যায্য দামটুকু পাচ্ছি না।’

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সৌতম কুমার শীল বলেন, ‘কীটনাশক ব্যবহার নিয়ে যতটা অজ্ঞতা সবজি চাষে আছে, তা অন্য কোনো চাষে নেই। এ নিয়ে চাষিরা সচেতন না হলে ফসলের রোগ আটকাতে গিয়ে মানুষের শরীরে ভয়ঙ্কর বিষ ছড়াবে। এখনো বহু চাষি তা বুঝতে চায় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এছাড়া বিষযুক্ত বেগুন কিনে বাড়িতে ফুটানো পানিতে লবণ মিশিয়ে ১৫ থেকে আধাঘণ্টা ভিজিয়ে রাখলে প্রায় ৯০ শতাংশ বিষমুক্ত হতে পারে। চলতি মৌসুমে যশোরের শার্শায় ২৫০ হেক্টর জমিতে বেগুনের চাষ হয়েছে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

টমেটো বিক্রি করে ২ কোটি টাকা আয়

 টমেটো বিক্রি করে ২ কোটি টাকা আয়
টমেটো বিক্রি করে ২ কোটি টাকা আয়

পাবনার সুজানগরে পদ্মার চরে শীতকালীন টমেটো চাষ করে ভাগ্য বদলে গেছে কয়েকশ’ কৃষকের। ওই চরে এবার শুধু টমেটো বিক্রি করে ২ কোটি টাকা আয় করবেন কৃষকরা। এতে একসময় সংসারে অভাব-অনটন থাকলেও এখন কৃষকদের সংসারে স্বচ্ছলতা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, সুজানগর উপজেলা মূলত পেঁয়াজ চাষের জন্য সমৃদ্ধ এলাকা। দেশের মধ্যে ২য় বৃহত্তম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলা পাবনা। জেলার মধ্যে সুজানগরে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়ে থাকে সবচেয়ে বেশি। উপজেলার সাগরকান্দী ইউনিয়নের খলিলপুর, চরখলিলপুর এবং কালিকাপুর গ্রামে রয়েছে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল। সেসব চরাঞ্চলের জমিতে ধান-পাট তেমন ভালো হয় না। কৃষকরা বেশিরভাগ সময় সেসব জমিতে ধান-পাট চাষ করে লোকসানে পড়েন।

সূত্র আরও জানায়, ওই জমিতে প্রথমবারের মত শীতকালীন টমেটো চাষ করে সফল হয়েছেন চাষিরা। এ বছর প্রায় ৩শ কৃষক মিন্টু সুপার ও হিরো সুপারসহ বিভিন্ন জাতের হাইব্রিড টমেটো চাষ করেন। অনুকূল আবহাওয়া আর সঠিক সময়ে সার-কীটনাশক দেওয়ায় অধিকাংশ জমিতে টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে।

 টমেটো বিক্রি করে ২ কোটি টাকা আয়
টমেটো বিক্রি করে ২ কোটি টাকা আয়

খলিলপুর গ্রামের চাষি ইয়াছিন আলী বলেন, ‘এ বছর প্রতিবিঘা জমিতে ১২০-১৩০ মণ পর্যন্ত ফলন হয়েছে। বাজারে টমেটোর দামও বেশ ভালো।’

কালিকাপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল আজিজ মণ্ডল বলেন, ‘১ বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করতে সার, বীজ ও শ্রমিকসহ খরচ হয় ১০-১২ হাজার টাকা। বাজারে প্রতি মণ টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৭-৮শ টাকা দরে। উৎপাদন খরচ বাদে প্রতিবিঘা জমির টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৮০-৮৫ হাজার টাকা।’

কৃষক আক্কাছ আলী বলেন, ‘আগে সংসারে অভাব-অনটন ছিল। চরাঞ্চলের ওই জমিতে চাষ করা টমেটো বিক্রি করে বর্তমানে সংসার বেশ ভালোভাবে চলছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ময়নুল হক সরকার বলেন, ‘প্রথমবারের মতো কৃষকরা চরের খাস জমিতে টমেটো চাষ করে চমক দেখিয়েছেন। এতে কৃষকের ভাগ্য বদলে গেছে। এরপর থেকে টমেটো চাষে কৃষকদের সাপোর্ট দেওয়া হবে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

চাকরি না পেয়ে কলা চাষ, স্বপ্ন শেষ করে দিল দুর্বৃত্তরা

চাকরি না পেয়ে কলা চাষ, স্বপ্ন শেষ করে দিল দুর্বৃত্তরা
চাকরি না পেয়ে কলা চাষ, স্বপ্ন শেষ করে দিল দুর্বৃত্তরা

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় আবু তালেব নামের এক চাষির ১২০টি কলাগাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার রাতে উপজেলার কুটুরিপাড়া দক্ষিণ মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

এতে চাষির ৭০-৮০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষি আবু তালেব সরদার ওই গ্রামের মৃত আবু তাহের সরদারের ছেলে।

ক্ষতিগ্রস্ত চাষি আবু তালেব সরদার বলেন, লেখাপড়া শেষ করে কোনো চাকরি না পেয়ে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া কুটুরিপাড়া মাঠে ১০ শতক জমিতে ১২০টি কলাগাছ লাগাই। প্রতিটি কলাগাছে বড় বড় সাইজের কলা ধরেছে। কলাগুলো বাজারে বিক্রি করলে ৭০-৮০ হাজার টাকা পেতাম। কিন্তু শনিবার রাতে বাগানের ৮০টি কলাগাছ কেটে ফেলে দুর্বৃত্তরা। বাকি ৪০টি গাছের কলা কেটে মাটিতে ফেলে রেখে যায় তারা।

আবু তালেব আরও বলেন, আমার সঙ্গে কারও শত্রুতা নেই। কারা এমন কাজ করেছে আমি জানি না। আমার এতদিনের স্বপ্ন শেষ করে দিল তারা। এসব কথা বলে কেঁদে ফেলেন আবু তালেব।

নলডাঙ্গা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, এ ঘটনায় থানায় এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

বেড়েছে ধানের দাম, তবুও লোকসানের ভয়

বেড়েছে ধানের দাম, তবুও লোকসানের ভয়
বেড়েছে ধানের দাম, তবুও লোকসানের ভয়

লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে ইরি-বোরো চাষাবাদে ব্যস্ত নওগাঁর চাষিরা। শীতের মৌসুমে কয়েক দফা বৃষ্টি, ঘন কুয়াশা, শীত ও আবহাওয়া বিপর্যয়ে বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেরিতে শুরু হয়েছে চাষাবাদ। কৃষকরা বলছেন, বর্তমানে তাদের ঘরে ধান নেই। বাজারে যা বিক্রি হচ্ছে তা বড় বড় ব্যবসায়ীদের। সরকার ধান কিনলেও তা পর্যাপ্ত নয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, গত বছর বোরো মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ২৭৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল। এ বছর ১ লাখ ৮০ হাজার ৩৬০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হচ্ছে। চলতি রোপা-আমন মৌসুমে জেলায় প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছিল।

চাষিরা জানান, গত কয়েক বছরে ধানের আবাদ করে লোকসানে পড়েছেন চাষিরা। গত বছর বোরো ধান ঘরে ওঠার আগেই ফনীর প্রভাবে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়। একদিকে ধানের উৎপাদন কম, অন্যদিকে শ্রমিকের মূল্য বৃদ্ধি এবং বাজারে ধানের দাম কম হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন কৃষকরা। প্রতিবিঘা জমিতে আবাদ করতে ১২-১৪ হাজার টাকা খরচ হয়। বিঘাপ্রতি ফলন হয়েছিল ১৫-১৯ মণ।

অপরদিকে সার, ওষুধ ও কাটা-মাড়াইসহ আমন ধানের আবাদ করতে প্রায় ৮-৯ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। এ বছর ফলনও ভালো হয়েছে। বিঘাপ্রতি প্রায় ১৮-২২ মণ। প্রথমদিকে কারেন্ট পোকার আক্রমণ দেখা দিলেও পরে কীটনাশক প্রয়োগে রক্ষা পায়। সরকার ২৬ টাকা কেজি দরে আগাম আমন ধান কেনার ঘোষণা দিয়েছিল। তবে খোলা বাজারে দাম নিয়ে সারা বছরই দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। বর্তমানে বাজারে জিরাশাইল ১০৩০-১০৪০ টাকা, কাটারি ১১০০-১১৫০ টাকা, চিনিগুড়া ১৯০০-১৯৫০ টাকা, আমন স্বর্ণা-৫, ৭২০-৭৪০ টাকা। গত ১৫ দিনে প্রতিমণ ধানে ৫০-১০০ টাকা বেড়েছে।

বেড়েছে ধানের দাম, তবুও লোকসানের ভয়
বেড়েছে ধানের দাম, তবুও লোকসানের ভয়

বদলগাছী উপজেলার ভাতশাইল গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে আছে। পানি, সেচ ও হাল চাষ করে জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে। তবে অতিরিক্ত শীতের কারণে বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে আবারও বীজ রোপণ করতে হয়েছে। যে কারণে রোপণের কাজ ধীর গতিতে হচ্ছে।’

চাকরাইল গ্রামের কৃষক আলতাব হোসেন বলেন, ‘গত বছর বোরো ধানের আবাদ করতে গিয়ে খরচ বেশি ও ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সরকার যে ধান কিনছেন, তা পর্যাপ্ত না। যে কারণে খোলা বাজারে কম দামে বিক্রি করতে হয়। সরকারের উচিত কৃষকদের ধানের দাম দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা। বেশি ধান কিনলেও কৃষকরা উপকৃত হবে।’

বেড়েছে ধানের দাম, তবুও লোকসানের ভয়
বেড়েছে ধানের দাম, তবুও লোকসানের ভয়

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্ভিদ) মো. মাহবুবার রহমান বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধান রোপণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৫৫ শতাংশ জমি রোপণ হয়েছে। শীতের কারণে বীজতলা সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কৃষকরা পরবর্তীতে পুষিয়ে নিয়েছেন।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

মধু চাষে সাড়ে চার লাখ কৃষক

মধু চাষে সাড়ে চার লাখ কৃষক
মধু চাষে সাড়ে চার লাখ কৃষক

মধু চাষের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে চার লাখ কৃষক জড়িত। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মধু চাষের কারণেই আজ এত কৃষকের কর্মসংস্থান হয়েছে, যা ১০ বছর আগেও ছিল না। এসব কৃষক বছরে গড়ে ৮০০ থেকে ৯০০ টন মধু উৎপাদন করেন। একসময় গ্রামে কৃষিকাজ করে যাদের সংসার চলত না তারা এখন মধু চাষ করছেন। মধু উৎপাদন করে তাদের সংসার ভালো চলছে। দেশের অনেক এলাকায় মধু চাষ গ্রামীণ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে  ও রাজধানীতে চলা জাতীয় মৌমেলায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ এগ্রিকালচার রিচার্স কাউন্সিল (বিএআরসি) প্রাঙ্গণে চলছে এই মেলা। সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) তিন দিনব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। চতুর্থবারের মতো এ মেলার আয়োজন করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে। মেলা চলবে ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

মঙ্গলবার মেলা ঘুরে দেখা গেছে, আদিল মৌ খামার, সুন্দরবন বি অ্যান্ড হানি ফার্ম, সজীব মৌ খামার, সোনারগাঁও মৌ খামার, মৌচাক এগ্রো ফুড, সলিড মধু, তাওহিদ মধু, আজাদ মোল্লার মধু, আল্লার দান মৌ খামারসহ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে মধু চাষিরা তাদের উৎপাদিত মধু নিয়ে মেলায় এসেছেন। শুধু চাষিরাই নন। দেশের নামিদামি ব্রান্ড এপি, ডাবর হানি, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, কৃষি তথ্য সার্ভিস ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরসহ মোট ৭৪ টি স্টল স্থান পেয়েছে এ মেলায়। মেলার দ্বিতীয় দিনে দর্শনার্থীদের সমাগম ছিল জোখে পড়ার মতো।

মধু চাষে সাড়ে চার লাখ কৃষক
মধু চাষে সাড়ে চার লাখ কৃষক

দেশে মধু উৎপাদন প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক জাগো নিউজকে বলেন, ‘কৃষির আধুনিকায়ন ও বাণিজ্যিকীকরণে মধু একটি নতুন সংযোজন, যা আমাদের রফতানি বহুমুখীকরণে সহযোগিতা করবে। আগে মধু সীমিত আকারে উৎপাদন হলেও এখন বাণিজ্যিকভিত্তিতে উৎপাদন শুরু হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘পুষ্টিচাহিদা নিশ্চিত করতে মধু একটি অন্যন্য খাদ্য। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে মৌমাছি পালন, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের বিরাট সম্ভাবনা রয়েছে। মধু চাষ সম্প্রসারণ পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি পরাগায়ণের মাধ্যমে ফল ও ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সূত্র মতে, সারাদেশে মধু চাষ করেন চার লাখ, ২২ হাজার ৬৩৬ জন কৃষক। এ ছাড়া তালিকার বাইরেও অনেকে চাষ করছে। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ১০২২ দশমিক ৩০৬ টন, ১৬-১৭ তে ১০৫৬ দশমিক ৯৪৯, ১৭-১৮ তে ৭৪৩ দশমিক ৯৬৩ ও ১৮-১৯ অর্থবছরে ৮৯৬ দশমিক ৫৭১ টন মধু উৎপাদন হয়েছে।

মধু চাষে সাড়ে চার লাখ কৃষক
মধু চাষে সাড়ে চার লাখ কৃষক

মেলায় স্টল নিয়ে মধু বিক্রি করছে দামি ব্র্যান্ড এপি। এ স্টলে জাপানে মধু রফতানির বিষয়টি বিশাল ব্যানারে স্পষ্ট করে লেখা আছে। কথা হয় এপির কর্মকর্তা রিয়াজুল হাসানের সঙ্গে। জাপানে মধু রফতানি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা এবার জাপানে ৪০০ টন মধু রফতানির অর্ডার পেয়েছি। দেশের চাষিদের অধিকাংশ মধু আমরা কিনে নেই। এগুলো মেশিনের মাধ্যমে পিউরিফাইন করে রফতানি করতে হয়। যারা ভালো মধু উৎপাদন করেন, তাদের মধুই আমরা কিনি।’

তিনি বলেন, ‘এখনও ৫০০ টন মধু আমাদের মজুদ রয়েছে।’

আদিল মৌ খামারের মালিক আহসান হাবিব খোকন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমার প্রিন্টিংয়ের ব্যবসা আছে। তারপরও বিসিক থেকে ট্রেনিং নিয়ে মধু চাষ শুরু করি। ধীরে ধীরে এ ব্যবসা ভালো লাগতে শুরু করে। কারণ, মানুষকে একটা ভালো জিনিস খাওয়াতে পারছি। প্রিন্টিং ব্যবসার মধ্যে ভেজাল ও দুই নম্বরি আছে। ফলে ওই ব্যবসা করে শান্তি পাই না। কিন্তু মধু উৎপাদনের ব্যবসা করে আমি বেশ শান্তি পাই। কারণ, ভেজালের এই যুগে মানুষকে একটা ভালো খাবার দিতে পারছি।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com