আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

ময়লা-বাণিজ্যে কাউন্সিলররা

রাজধানীর পশ্চিম আগারগাঁও এলাকায় বর্জ্য সংগ্রহ করত এ টু জেড মিডিয়া অ্যান্ড সোশ্যাল সার্ভিস সেন্টার। ২০ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি এ কাজ করে। গত মার্চ মাসে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের ছোট ভাই ও শেরেবাংলা নগর থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে কিছু ব্যক্তি এই বর্জ্য সংগ্রহের কাজ দখল করে নেয়।

২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলররা দায়িত্বে আসেন। গত ১১ মাসে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অন্তত ৬টি ওয়ার্ডে আগের লোকজনকে হটিয়ে কাউন্সিলরের লোকজন ময়লা সংগ্রহের কাজ দখল করে নিয়েছেন বলে জানতে পেরেছে প্রথম আলো।

যাঁদের হটিয়ে দেওয়া হচ্ছে তাঁদের অনেকেই ক্ষমতাসীন দল ও অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু কাউন্সিলর ও তাঁদের লোকজনের সঙ্গে ক্ষমতার দাপটে পেরে উঠছেন না তাঁরা।

২০০৯ সালে অবিভক্ত সিটি করপোরেশন একটি অফিস আদেশের মাধ্যমে বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহে মাসিক ফি সর্বোচ্চ ৩০ টাকা নির্ধারণ করে দেয়, যা আদতে কেউ মানছে না।

২০০৯ সালে অবিভক্ত সিটি করপোরেশন একটি অফিস আদেশের মাধ্যমে বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহে মাসিক ফি সর্বোচ্চ ৩০ টাকা নির্ধারণ করে দেয়, যা আদতে কেউ মানছে না। বর্তমানে বর্জ্য সংগ্রহে এলাকাভেদে বাসাপ্রতি মাসে ৮০-২৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। গুলশান, বনানীর মতো এলাকায় ৩০০ থেকে ৫০০ টাকাও আদায় করা হচ্ছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবদুল হামিদ মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঢাকার হোল্ডিংগুলোয় ফ্ল্যাট বা বাসার সংখ্যায় ভিন্নতা থাকে। তবে একটি হোল্ডিংয়ে গড়ে ৬ থেকে ৮টি করে ফ্ল্যাট বা বাসা রয়েছে বলে আমরা ধরে নিই।’

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০১৯ সালের খানা জরিপ অনুযায়ী, প্রতি খানায় গড়ে সদস্যসংখ্যা ৪ দশমিক ২ জন। আর বিশ্বব্যাংকের হিসাবে বর্তমানে ঢাকার জনসংখ্যা ১ কোটি ৮০ লাখ। সে হিসাবে ঢাকায় পরিবার রয়েছে ৪২ লাখ ৮৫ হাজার ৭১৪টি।

সিটি করপোরেশন ও বর্জ্য সংগ্রহকারীদের তথ্য অনুযায়ী, বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য পরিবহন সুবিধা নিচ্ছে রাজধানীর ৮০ শতাংশের মতো পরিবার। প্রতিটি ফ্ল্যাট বা পরিবার থেকে ময়লা বাবদ গড়ে ১৫০ টাকা করে ধরলে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ বাবদ মাসে প্রায় ৫১ কোটি টাকা আদায় হয়, বছরে যা প্রায় ৬১২ কোটি টাকা।বিজ্ঞাপন


এর আগে ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর প্রথম আলোতে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসেছিল দুই সিটিতে ৪৫০ কোটি টাকার মত ময়লা বাণিজ্য হয়। তখন দুই সিটির হিসাবে হোল্ডিং (স্থাপনা) ছিল প্রায় চার লাখের মতো। গত দেড় বছরে দুই সিটি করপোরেশন অভিযান চালিয়ে নতুন অনেক হোল্ডিংকে করের আওতায় এনেছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে হোল্ডিং সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ৬৩ হাজার।

এর মধ্যে উত্তর সিটিতে হোল্ডিং রয়েছে প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার। একটি হোল্ডিংয়ে গড়ে ৬টি ফ্ল্যাট বা বাসা এবং মাসে প্রতিটি বাসা থেকে গড়ে ১৫০ টাকা করে আদায় ধরলে বছরে প্রায় ৩৪০ কোটি টাকার বাণিজ্য করে ময়লা সংগ্রহকারীরা।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন প্রতিবছর যে গৃহকর আদায় করে, তার চার ভাগের ১ ভাগ নেয় পরিচ্ছন্নতা বাবদ। গত অর্থবছরে নগরবাসীর কাছ থেকে পরিচ্ছন্নতা কর আদায় করা হয়েছে ১১৬ কোটি টাকার বেশি।

বাংলাদেশ রেস্টুরেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে, উত্তর সিটিতে তিন হাজারের বেশি রেস্তোরাঁ রয়েছে। প্রতিটি রেস্তোরাঁ থেকে বর্জ্য সংগ্রহ বাবদ মাসে কমপক্ষে ২ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। গুলশান–বনানীর মতো অভিজাত এলাকাগুলোয় চার হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। গড়ে প্রতি রেস্তোরাঁয় এক হাজার টাকা ধরলে তিন হাজার রেস্তোরাঁ থেকে মাসে আদায় হচ্ছে ৩০ লাখ টাকা। বছরে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে উত্তর সিটিতে বছরে অন্তত ৩৪৪ কোটি টাকার ময়লা-বাণিজ্য হচ্ছে।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন প্রতিবছর যে গৃহকর আদায় করে, তার চার ভাগের ১ ভাগ নেয় পরিচ্ছন্নতা বাবদ। গত অর্থবছরে নগরবাসীর কাছ থেকে পরিচ্ছন্নতা কর আদায় করা হয়েছে ১১৬ কোটি টাকার বেশি। কিন্তু সিটি করপোরেশন বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহ করে না। তারা ময়লা নেয় সেকেন্ডারি ট্রান্সফার সেন্টার–এসটিএস (বাসাবাড়ি থেকে সংগ্রহ করা বর্জ্য যেখানে জমা করা হয়) থেকে। আর বাসাবাড়ি থেকে এসটিএস পর্যন্ত ময়লা নেয় বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা, যা এখন মূলত কাউন্সিলরদের দখলে চলে যাচ্ছে।

ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র আতিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, গৃহকরের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা কর বাবদ যে টাকা নেওয়া হয়, তা মূলত সড়ক ঝাড়ু দেওয়া এবং এসটিএস থেকে ল্যান্ডফিল্ডে ময়লা পরিবহনের ব্যয়। তাঁর দাবি, পরিচ্ছন্নতা বাবদ উত্তর সিটির বছরে ব্যয় প্রায় ১২৫ কোটি টাকা। কিন্তু পরিচ্ছন্নতা কর আদায় হয় ৫০ কোটির মতো।

অবশ্য চট্টগ্রাম ও রাজশাহী সিটি করপোরেশন নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সরাসরি বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করে। এ জন্য নগরবাসীকে আলাদা কোনো টাকা দিতে হয় না। পাশের দেশ ভারতের কলকাতায় মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের কর্মীরা বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য নিয়ে যান। সে জন্য বাসিন্দাদের আলাদা কোনো ফি দিতে হয় না।

জোর খাটিয়ে কাজ দখল

পশ্চিম আগারগাঁওয়ের এ টু জেড মিডিয়া অ্যান্ড সোশ্যাল সার্ভিস সেন্টারের মালিক নাজমুল হক প্রথম আলোকে বলেন, গত মার্চে তাঁর ময়লা নেওয়ার কাজ বেদখল হয়ে গেলে জুন মাসে তিনি থানায় জিডি করেন। সেপ্টেম্বর মাসে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর চিঠি দেন। আবেদন করেন মেয়র বরাবর। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।

বাসাবাড়ির বর্জ্য সংগ্রহের কাজ কে পেল, কে পেল না, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। জনগণ সেবা পেল কি না, সেটা মুখ্য বিষয়।

আতিকুল ইসলাম, মেয়র. ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন

নাজমুল হকের দায়ের করা অভিযোগের বিষয়ে শেরেবাংলা নগর থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, নাজমুল যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তাঁর ভাই ছিল শীর্ষ সন্ত্রাসী। প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় ময়লা সংগ্রহের কাজ করত। এলাকার বাড়ি মালিক সমিতি নিজেরা এই ময়লা সংগ্রহের কাজ করতে সিটি করপোরেশনে আবেদন করে। নাজমুলের অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বাড়ি মালিক সমিতি এলাকার বর্জ্য সংগ্রহের কাজ করছে।

আসাদুজ্জামানের ভাই ডিএনসিসির ২৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফোরকান হোসেন। এ বিষয়ে কথা বলতে তাঁর মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হয়। কিন্তু কেউ ধরেননি।

ঢাকা উত্তরের ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের রানাভোলা, সিরাজ মার্কেট এলাকার বর্জ্য সংগ্রহ করতেন মো. শহীদ। সিটি নির্বাচনের পর স্থানীয় কাউন্সিলর নাছির উদ্দিন তাঁর লোকজনকে দিয়ে বর্জ্য সংগ্রহের কাজ করাচ্ছেন। শহীদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। বললে এলাকায় থাকতে পারব না।’

কাউন্সিলর নাছির উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘শহীদ নামের লোকটিকে আমি চিনি না। আমার কাছে কখনো আসেনি।’ এলাকার লোকজন বর্জ্য নিয়ে তাঁর কাছেই অভিযোগ করে তাই আপাতত তাঁর (কাউন্সিলর) তত্ত্বাবধানেই বাসাবাড়ির বর্জ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।বিজ্ঞাপন

ময়লা-বাণিজ্যে কাউন্সিলররা
ফাইল ছবি

ক্ষমতার দাপটে পেরে ওঠেননি

ঢাকা উত্তরের ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের কামারপাড়া এলাকার ১০ বছর ধরে বর্জ্য সংগ্রহ করত পরিবেশ বন্ধু ক্লিনিং সার্ভিস। সিটি নির্বাচনের পর লিটন সিকদার ও মো. নাসির নামের দুই ব্যক্তি ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মারধর করে ময়লা সংগ্রহের কাজ দখল করে নেয়। লিটন ও নাসির কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে যুবরাজের লোক হিসেবে পরিচিত।

পরিবেশ বন্ধু ক্লিনিং সার্ভিসের সভাপতি নাগর আলী ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক লীগের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিষয়টি কাউন্সিলরকে জানালে তিনি বললেন, তোমরা অনেক দিন করছ। এখন আমার লোকজন করবে।’ এ বিষয়ে মেয়রের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেছেন নাগর আলী।

অভিযোগের বিষয়ে লিটন সিকদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আগে এলাকাটি ইউনিয়ন পরিষদ ছিল। এখন নতুন যে কাউন্সিলর হয়েছে, কাজ করতে তো তার অনুমতি লাগবে। আর যারা ময়লা নিত তারা ঠিকভাবে কাজ করত না।’ বর্তমানের পুরো ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডে বর্জ্য লিটন সিকদার সংগ্রহ করেন। দলীয় পদ না থাকলেও নিজেকে আওয়ামী লীগ কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন।

নাগরিকদের ভোগান্তির মতো বিষয়গুলোতে সিটি করপোরেশনের নজরদারির ঘাটতি রয়েছে। ময়লা সংগ্রহের কাজটি করার ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনগুলোর সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা এবং তার কঠোর তদারকি প্রয়োজন।

আকতার মাহমুদ , সভাপতি ,বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স

কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘লিটন সিকদার ও মো. নাসির কেউই আমার লোক না। আমি কাউকে বলিনি ময়লার কাজ নিতে। নাগর যে অভিযোগ করেছে, সেটা মিথ্যা।’ তিনি বলেন, এখন ভ্যান সার্ভিসের জন্য টেন্ডার হচ্ছে। এতে যারা পাবে, তারাই ময়লা সংগ্রহের কাজ করবে।

৭ নম্বর ওয়ার্ডের রূপনগর আবাসিক এলাকার ৬ থেকে ৮ এবং ১১ থেকে ২২ নম্বর সড়কের বর্জ্য সংগ্রহ করতেন আমীর আলী। তিনি ওয়ার্ড শ্রমিক লীগের সভাপতি। এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন তফাজ্জল হোসেন। নির্বাচনে আমীর আলী তফাজ্জল হোসেনের বিরোধী প্রার্থীর হয়ে কাজ করেন। নির্বাচনের পরপরই আমীর আলীর কাছ থেকে ময়লা সংগ্রহের কাজটি দখল করে নেয় কাউন্সিলরের লোকজন।
কাউন্সিলর তফাজ্জল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি বা আমার লোকজন তার কাজ বন্ধ করে দেয়নি। এর মধ্যে মধ্যস্বত্বভোগী কেউ আছে কি না, আমার জানা নেই।’

নারী কাউন্সিলরের কাজ দখলে নিলেন পুরুষ কাউন্সিলর

২৯ নম্বর ওয়ার্ডে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ময়লা সংগ্রহের কাজ করত দুস্থ মানুষের কথা (ভিওডি) নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি উত্তর সিটির সংরক্ষিত ২৯, ৩০ ও ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর শাহীন আক্তারের। এই ওয়ার্ডটি মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোড, জয়েন্ট কোয়ার্টার (আজিজ মহল্লা), হাজি চিনু মিয়া রোড (টিক্কাপাড়া) ও জান্নাতবাগ (বিজলি মহল্লা) নিয়ে গঠিত।

গত নির্বাচনে ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হন সলিম উল্লাহ্ ওরফে সলু। দায়িত্ব গ্রহণের চার মাসের মাথায় ময়লা নেওয়ার কাজটি দখলে নেন তিনি। গত অক্টোবর থেকে কাউন্সিলরের প্রতিষ্ঠান স্বপ্ন মানবিক কল্যাণ সংস্থা (স্বমকস) ময়লা সংগ্রহের কাজ করছে।

এ বিষয়ে কথা বলতে একাধিকবার কাউন্সিলর সলিম উল্লাহ্‌ মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। খুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর দেননি। ওয়ার্ডের সচিব ইফতেখারুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, স্বপ্ন মানবিক কল্যাণ সংস্থার সভাপতি কাউন্সিলর সলিম উল্লাহ্ বড় ভাই এম এ ওয়াদুদ। ওয়াদুদ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক ও কাউন্সিলরের উপদেষ্টা।

রাজধানীর মুক্তাঙ্গন এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।
রাজধানীর মুক্তাঙ্গন এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। 

কেন দখল-বেদখল

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ময়লা সংগ্রহে নিয়োজিত কর্মীরা জানান, যাঁরা বাসা থেকে প্রতিদিন ময়লা সংগ্রহ করেন তাঁদের মাসিক বেতন কমবেশি ৩ থেকে ৮ হাজার টাকা। আর আছে ভ্যান খরচ। যেমন কোনো কাউন্সিলর বা তাঁর লোকজন যদি ২ হাজার ফ্ল্যাটের ময়লা সংগ্রহ করেন আর ১৫০ টাকা করে মাসে আদায় করেন তাহলে তাঁর মাসিক আয় ৩ লাখ টাকা। এর জন্য ৪-৫টি ভ্যানগাড়ি আর ৮ জন কর্মী লাগবে। তাঁদের বেতন ও সামান্য ভ্যান খরচ বাদ দিলে বাকি টাকা লাভ। তিন ভাগের এক ভাগে খরচ ধরলেও মাসে লাভ ২ লাখ টাকা।

উত্তর সিটিতে ৩৪৪ কোটি টাকার যে বাণিজ্য, তা হয় মাত্র ৫৪টি ওয়ার্ডে। বছরে প্রতি ওয়ার্ডে ময়লার ব্যবসার পরিমাণ গড়ে ৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকার। ফলে ময়লা নিয়ে সামনে আরও বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


নতুন পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ

এ অবস্থায় নতুন নিয়মে দরপত্রের মাধ্যমে একটি ওয়ার্ডে একটি প্রতিষ্ঠানকে ময়লা সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়ার পথে যাচ্ছে উত্তর সিটি। প্রতিটি বাসার মাসিক ফি নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। উত্তর সিটির বোর্ড সভায় গত ২১ ডিসেম্বর এই প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।

মেয়র আতিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বাসাবাড়ির বর্জ্য সংগ্রহের কাজ কে পেল, কে পেল না, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। জনগণ সেবা পেল কি না, সেটা মুখ্য বিষয়। কিছু ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে নতুন ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে। সফলতা পেলে অন্য ওয়ার্ডে তা চালু করা হবে। নির্ধারিত ফির বেশি নিলে জনগণ অ্যাপের মাধ্যমে জানাতে পারবে। বেশি টাকা নিলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য সংগ্রহের কাজে যুক্ত তাঁদের অভিযোগ, বর্জ্য সংগ্রহের কাজটি ক্ষমতাসীন দলের নেতা–কর্মী ও কাউন্সিলরদের নিয়ন্ত্রণে দিতে সিটি করপোরেশন এমন উদ্যোগ নিচ্ছে। দরপত্রে অংশ নিতে আবেদনপত্রে ওয়ার্ড কাউন্সিলরের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করার এমন সন্দেহ পোক্ত হচ্ছে।

ইতিমধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে এই নিয়মে বর্জ্য সংগ্রহের কাজ চালু হয়েছে। অধিকাংশ ওয়ার্ডে কাজ পেয়েছে ক্ষমতাসীন দল ও কাউন্সিলরের লোকজন। এসব প্রতিষ্ঠানকে দোকানপ্রতি ৩০ টাকা এবং বাসাবাড়ি থেকে ১০০ টাকা করে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বেশির ভাগ এলাকায় ইচ্ছেমতো টাকা নিচ্ছে বলে অভিযোগ আছে।

নগরবিদদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি আকতার মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, নাগরিকদের ভোগান্তির মতো বিষয়গুলোতে সিটি করপোরেশনের নজরদারির ঘাটতি রয়েছে। ময়লা সংগ্রহের কাজটি করার ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনগুলোর সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা এবং তার কঠোর তদারকি প্রয়োজন।

পরিবেশ

জেনে নিন মাছের খাবার সংরক্ষণের সঠিক উপায়

আমাদের দেশে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। অনেক বেকার যুবক মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। লাভজনক হওয়ায় দিন দিন মাছ চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে মাছ চাষকে আরও বেশি লাভজনক করতে হলে প্রাকৃতিক খাদ্যের পাশাপাশি মাছকে অতিরিক্ত সম্পূরক খাদ্য দিতে হবে। আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষে যা খরচ হয় তার প্রায় শতকরা ৬০ ভাগই খরচ হয় খাদ্য ক্রয় করতে।

মাছের খাবার তৈরী:

সম্পূরক খাদ্য হিসাবে আমাদের দেশে সচরাচর যে উপাদানগুলো ব্যবহার করা হয় তা হলো,- চালের কুঁড়া, গমের ভুসি, সরিষার খৈল, তিলের খৈল, ফিশমিল, গরু-ছাগলের রক্ত ও নাড়ি-ভুঁড়ি। এ ছাড়া জলজ উদ্ভিদ যেমন,- কচুরিপানা, ক্ষুদিপানা ইত্যাদি। এসব উপাদান প্রয়োজনমতো মিশিয়ে চাষিরা মাছের খাদ্য তৈরি করেন। কারখানায় তৈরি বাণিজ্যিক খাদ্যও মাছের খামারে ব্যবহার করা যায়। যে ধরনের খাদ্যই মাছ চাষের পুকুরে ব্যবহার করা হোক না কেন তার গুণগতমান ভালো হওয়া আবশ্যক।

খাবারের গুণগতমান ভালো না হলে সুস্থসবল পোনা ও মাছ পাওয়া যাবে না। অন্যদিকে মাছ সহজেই রোগাক্রান্ত হবে এবং মাছের মৃত্যুহার বেড়ে যাবে। আবার মাছের বৃদ্ধিও আশানুরূপ হবে না। খাদ্যের গুণগতমান ভালো রাখার জন্য যথাযথ নিয়মে খাদ্য উপকরণ বা তৈরি খাদ্য সংরক্ষণ ও গুদামজাতকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই নিয়ম মেনে খাদ্য সংরক্ষণ ও গুদামজাতকরণের দিকে নজর দিতে হবে।

মাছের খাদ্যে আর্দ্রতার পরিমাণ ১০% এর বেশি থাকলে ছত্রাক বা পোকা-মাকড় জন্মাতে পারে। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৬৫% এর বেশি থাকলে খাদ্যে ছত্রাক বা পোকামাকড় জন্মাতে পারে। অতিরিক্ত তাপমাত্রায় খাদ্যের পুষ্টিমান নষ্ট হয়। পোকামাকড়সমূহ ২৬-৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় জন্মাতে পারে। সেই সঙ্গে এরা খাদ্য খেয়ে ফেলে ও তাদের মলমূত্র দ্বারা ব্যাকটোরিয়া ছড়াতে পারে।

সূর্যালোকে খোলা অবস্থায় খাদ্য রাখলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে কিছু কিছু ভিটামিন নষ্ট হয়ে যায়। খোলা অবস্থায় খাদ্য রাখলে বাতাসের অক্সিজেন খাদ্যের রেন্সিডিটি (চর্বির জারণ ক্রিয়া) ঘটাতে পারে যা খাদ্যের গুণগতমানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে । অক্সিজেন ছত্রাক ও পোকা-মাকড় জন্মাতেও সহায়তা করে।

খাদ্য সংরক্ষণের সঠিক নিয়ম:-

শুকনো খাদ্য ও খাদ্য উপাদান, খাদ্য বায়ুরোধী পলিথিনের বা চটের অথবা কোনো মুখ বন্ধ পাত্রে ঠান্ডা ও শুষ্ক জায়গায় সংরক্ষণ করতে হবে। মাঝে মাঝে এই খাদ্য পুনরায় রোদে শুকিয়ে নিলে ভালো হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

পলিমালচ ব্যাবহার করে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির উপায়

বর্ষাতে উঁচু জমিতে একটু উঁচু করে মাল্চিং করে জল নিকাশী ভালোভাবে করলে চমৎকার স্মার্ট পদ্ধতিতে আগাছার সমস্যা মিটিয়ে সবজি পাবেন। বিশেষ করে এই মাল্চে কনজারভেশন হবার জন্য উৎপাদনও দেড়গুণ বেড়ে যায়। আর এর সাথে ড্রিপ ব্যবস্থা চালু থাকলে দুগুন ফলন অনায়াসে সম্ভব। পলিমাল্চ সম্ভব না হলে প্রাক গ্রীষ্মের জমিতে বাওয়া সবজি বা শীতের সবজিতে খড় বা ফসলের অবশেষ ইত্যাদি দিয়ে মাল্চেও বেশ কিছুটা লাভ পাওয়া সম্ভব।

বিভিন্ন প্রকার জৈব (খড়, ঘাস, গাছের পাতা, কাঠের গুঁড়ো, ফসলের খোসা ইত্যাদি) এবং অজৈব (প্লাস্টিক, পলিথিন,পাথর, বালি ইত্যাদি) পদার্থ দিয়ে চাষের জমির উপরিভাগকে ঢেকে দেওয়ার পদ্ধতিকে আচ্ছাদন বলা হয়।

জৈব আচ্ছাদন এর সুবিধা (Advantages of Organic Poly Munch) –

  • জৈব আচ্ছাদন ব্যবহারের ফলে সূর্যরশ্মি প্রতিফলিত হয় ফলে মাটির অনুকূল তাপমাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
  • জৈব আচ্ছাদন এর উপকরণ মাটির ভৌত-রাসায়নিক এবং জৈব চরিত্রের মান উন্নয়ন করে, মাটি ঝুরঝুরে হয় এবং মাটির মধ্যে উপকারী অণুজীবের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এমনকি মাটির জৈব কার্বনের পরিমান বৃদ্ধি করে যার ফলে গাছের শেকড়ের বৃদ্ধি ভালো হয়।
  • আচ্ছাদন ব্যবহারের ফলে মাটি থেকে বাষ্পীভবনের হার নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে এবং জলের অপচয় কম হয়। সরাসরি সূর্যালোক প্রবেশ করতে না পারার জন্য এটি উষ্ণ এবং শুষ্ক আবহাওয়ার জন্য খুবই উপযোগী।
  • আগাছা নিয়ন্ত্রণে আচ্ছাদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কারন চাষের জমির উপরিভাগ আচ্ছাদন উপাদান দিয়ে ঢাকা থাকার ফলে সূর্যালোক সরাসরি মাটিতে প্রবেশ করতে পারে না।
  • জৈব আচ্ছাদন ব্যবহারের ফলে মাটির ক্ষয় কম হয় এবং জল ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

জৈব আচ্ছাদনের সীমাবদ্ধতা (Limitations of organic cover) –

  • অনেকে সুবিধা থাকা সত্ত্বেও জৈব আচ্ছাদন এর বেশকিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে; যেমন –
  • জৈব আচ্ছাদন মাটির মধ্যে খুব বেশি আর্দ্রতা বজায় রাখে, যার ফলে খারাপ জলনিকাশি ব্যবস্থাযুক্ত জমিতে গাছের শেকড়ের চারপাশে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়, যা গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত করে।
  • যদি গাছের কাণ্ডের খুব কাছাকাছি বা সংস্পর্শে আচ্ছাদন উপাদান ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তবে রোগ-পোকার আক্রমণ বেশী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • কিছু কিছু জৈব আচ্ছাদন -এর উপকরণ এর মধ্যে আগাছার বীজ থাকে, যা চাষের জমিতে ব্যবহারের ফলে আগাছার সংখ্যা বৃদ্ধি করে এবং ফসলের ক্ষতি করে।
  • এই আচ্ছাদন ব্যবহার করে খরা প্রবণ অঞ্চলে অধিক ফসল উৎপাদন করা সম্ভব।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

বিশেষ কলম পদ্ধতিতে ও বীজ থেকে চারা তৈরির মাধ্যমে কাজু বাদাম চাষ

কাজু গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Anacardium occidentale। কাজু বাদাম (Cashew Nut) অত্যন্ত সুস্বাদু একটি বাদাম।  ধান চাষের চেয়ে বাদাম চাষ সহজ ও পরিশ্রম কম হওয়ায় এবং কম দামে বীজ পাওয়ায় অনেক কৃষকেরা এর চাষ করে থাকে। কাজু বাদাম গাছ ৬০-৭০ বছর পর্যন্ত বাঁচে এবং ৫০-৬০ বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। 

আমাদের দেশে একটি অর্থকারী ফসল (Cash crop) হিসেবে কাজু বাদাম চাষ হতে পারে সমৃদ্ধির নতুন দিগন্ত।

বিবিধ পুষ্টিপদার্থ (Nutrition) –

যেমন তামা, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, দস্তা, ফসফরাস, আয়রন, সেলেনিয়াম, থায়ামিন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিপদার্থ ভিটামিন কে, ভিটামিন বি৬ ইত্যাদিতে ঠাসা কাজু বাদাম।

এর ১ আউন্স বা প্রায় ২৮.৩ গ্রাম কাজু বাদাম থেকে মোটামুটিভাবে ১৫৭ গ্রাম ক্যালরি, ৫.১৭ গ্রাম প্রোটিন, ১২.৪৩ গ্রাম ফ্যাট, ৮.৫৬ গ্রাম শর্করা, ০.৯ গ্রাম ফাইবার, ১.৬৮ গ্রাম চিনি পাওয়া যায়।

কাজু বাদাম চাষ পদ্ধতি (Cultivation Process) – 

রোপন –

বীজ এবং কলম উভয় পদ্ধতিতেই কাজু বাদামের বংশ বিস্তার করা যায়। কলমের মধ্যে গুটি কলম, জোড় কলম, চোখ কলম ইত্যাদি প্রধান। বীজ থেকে পলি ব্যাগে চারা তৈরি করে কিংবা কলম প্রস্তুত করে জমিতে রোপণ করতে হবে। 

চারা রোপণের আগে ৭-৮ মিটার দূরত্ব বজায় রেখে ১ ঘনমিটার আয়তনের গর্ত তৈরি করতে হবে। গর্তে সবুজ সার এবং পরিমাণমত ইউরিয়া ও টিএসপি সার মাটির সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে ১৫ দিন পর চারা লাগাতে হবে। চারা গজালে একটি সতেজ চারা রেখে বাকি চারা তুলে ফেলতে হয়। বীজের পরিবর্তে চারা তৈরি করে নিয়েও রোপণ করা যায়। হেক্টর প্রতি প্রয়োজনীয় চারার সংখ্যা ২৪৫-৩৩৫ টি।

সার –

কাজু বাদাম গাছে খুব একটা সার দেয়ার প্রয়োজন হয় না। ভাল ফলনের জন্য প্রতি ফলন্ত গাছে গোবর-৪০কেজি, ইউরিয়া-১কেজি, টি.এস.পি.-১কেজি এবং এম.পি.সার ১কেজি প্রয়োগ করা প্রয়োজন। এ ছাড়া পাতা শোষক পোকা ও পাতা কাটা পোকা প্রভৃতি কাজু বাদামের ক্ষতি সাধন করে। তাই পরিমিত পরিমাণে কীটনাশক প্রয়োগ করে কীটপতঙ্গ দমন করা যায়।

পরিচর্যা:

আগাছা পরিষ্কার করা, মরা অপ্রয়োজনীয় ডাল ছাটাই করা এবং সাথী ফসল চাষ করা প্রয়োজন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

জয়পুরহাটে পোকায় খাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আয়মারসুলপুর ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকায় ফসলের মাঠে আমন ধানে কারেন্ট পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। কীটনাশক ছিটিয়েও পোকাড় আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষা করতে পারছে না কৃষক। আশানুরূপ ফলন না হওয়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পরেছেন এলাকার কৃষকরা। 

কৃষি বিভাগের দাবি, কৃষকের সব রকমের পরামর্শ প্রদান ও সার্বিক সহযোগিতায় কাজ করছেন উপজেলা কৃষি বিভাগ।উপজেলার আয়মারসুলপুর ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামের কৃষক জহুরুল ইসলাম বলেন, কারেন্ট পোকার আক্রমণে কৃষকের আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলার দরপাল গ্রামের কৃষক বিনয় চন্দ্র বলেন, আমরা কৃষকরা সারাদিন মাঠে ফসলের পরিচর্যা করি। ফসলে পোকার আক্রমণ বা রোগবালাই দমনে কোনো ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে এসব পরার্মশ দেওয়ার জন্য কৃষি অফিসের কাউকে মাঠে ঠিকমত পাই না।

আগাইর গ্রামের কৃষক লিটন আরমান বলেন, এ বছর ৪ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছি। ফলন ভাল হওয়ায় বিঘা প্রতি ২০ মণ ধান পাওয়ার আশা থাকলেও কারেন্ট পোকাড় আক্রমণে অর্ধেক ধানও ঘরে তুলতে পারব না বলে মনে হচ্ছে। তারও অভিযোগ পরামর্শের জন্য কৃষি অফিসের কাউকে না পেয়ে নিজেই কীটনাশক ব্যবহার করি।

এ বিষয়ে আয়মারসুলপুর ইউনিয়নে দায়িত্বরত কৃষি উপ-সহকারী ফজলে রাব্বী বলেন, এত বড় ইউনিয়নে আমি একা দ্বায়িত্ব পালন করছি। যে কৃষক তার ফসলের সমস্যার কথা জানায় সঙ্গে সঙ্গে সরেজমিনে গিয়ে পরামর্শ দেই। 

পাঁচবিবি উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ লুৎফর রহমান এ বিষয়ে বলেন, বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

নওগাঁয় খেজুর রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা

নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় রেল লাইনের দু‘পাশে তাকালেই চোখে পড়ে সারি সারি অসংখ্য খেজুর গাছ। শীতের আগমনী বার্তার সাথে সাথে খেজুর রস সংগ্রহে ব্যাস্ত হয়ে পড়েছে গাছিরা। বৈচিত্রপূর্ণ ছয়টি ঋতুর দেশ আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ। এক একটি ঋতুর রয়েছে এক একটি বৈশিষ্ট্য। ঋতু বৈচিত্রে এখন রাতের শেষে কুয়াশা জানান দিচ্ছে শীতের আগমন বার্তা। আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্য খেজুর রস সংগ্রহে উপজেলার প্রতিটি গ্রামে গ্রামে খেজুর রস সংগ্রহের জন্য গাছিরা খেজুর গাছ কাটার কাজে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। আর মাত্র কয়েক দিন পর রস সংগ্রহ করে রস থেকে লালি ও গুড় তৈরির পর্ব শুরু হয়ে চলবে প্রায় মাঘ মাস পর্যন্ত। খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের প্রস্তুতি উপজেলার প্রতিটি গ্রামে চোখে পড়ছে। খেজুর রস ও গুড়ের জন্য আত্রাই উপজেলা এক সময় খ্যাতি ছিল। সময়ের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম বাংলার প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী খেজুরের গুড়। 

কিছুদিন আগেও বিভিন্ন এলাকার অধিকাংশ বাড়িতে, ক্ষেতের আইলে, ঝোপ-ঝাড়ের পাশে ও রাস্তার দুই ধার দিয়ে ছিল অসংখ্য খেজুর গাছ। কোন পরিচর্যা ছাড়াই অনেকটা প্রাকৃৃতিকভাবে বেড়ে উঠতো এসব খেজুর গাছ। প্রতিটি পরিবারের চাহিদা পূরন করে অতিরিক্ত রস দিয়ে তৈরি করা হতো সুস্বাদু খেজুরের গুড়। গ্রামীন জনপদে সাধারণ মানুষের সচেতনতার অভাবে পুকুরের পাড়ে রাস্তার ধারে পরিবেশ বান্ধব খেজুর গাছ এখন আর তেমন চোখে পড়ে না। ইটভাটার রাহু গ্রাসে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার বেশি হওয়ার কারণে যে পরিমাণ গাছ চোখে পড়ে তা নির্বিচারে নিধন করায় দিনদিন খেজুর গাছ কমছেই। এখনও শীতকালে শহর থেকে মানুষ দলে দলে ছুটে আসে গ্রাম বাংলার খেজুর রস খেতে। এক সময় সন্ধ্যাকালীন গ্রামীণ পরিবেশটা খেজুর রসে মধুর হয়ে উঠতো। রস আহরণকারী গাছিদের প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা যেত সে সময়ে। রস জ্বালিয়ে পাতলা ঝোলা, দানা গুড় ও পাটালি তৈরি করতেন। যার সাধ ও ঘ্রাণ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখন অবশ্যই সে কথা নতুন প্রজন্মের কাছে রূপকথা মনে হলেও বাস্তব। যত বেশি শীত পড়বে তত বেশি মিষ্টি রস দেবে খেজুর গাছ। এ গাছ ৮ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত রস দেয়। এটাই তার বৈশিষ্ট্য। শীতের পুরো মৌসুমে চলে রস, গুড়, পিঠা, পুলি ও পায়েস খাওয়ার পালা। এছাড়া খেজুরর পাতা দিয়ে আর্কষণীয় ও মজবুত পাটি তৈরি হয়। এমনকি জ্বালানি কাজেও ব্যাপক ব্যবহার। কিন্তু জয়বায়ু পরিবর্তন, কালের বির্বতনসহ বন বিভাগের নজরদারি না থাকায় বাংলার ঐতিহ্যবাহি খেজুর গাছ এখন উপজেলাজুড়ে বিলুপ্তির পথে।নাটোরের লালপুর উপজেলা থেকে আসা গাছি কালাম মিঞা জানান, আমরা পেশাগত কারণে প্রায় প্রতি বছরেই আত্রাই উপজেলার বজ্রপুর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস এর জমিতে তাবু গেড়ে ওই এলাকার খেজুর গাছ মালিকদের কাছ থেকে ৪ মাসের জন্য গাছ ভেদে ৫ থেকে ৭ কেজি করে খেজুরের গুড় দিয়ে গাছগুলো আমরা নেই। চাহিদা মত খেজুর গাছ না পাওয়ার কারণে রস কম হওয়ায় আশানুরূপ গুড় তৈরি করতে পাড়ি না। তারপরও এ বছর প্রায় ২শ’টির বেশি খেজুর গাছের মালিকদের সাথে চুক্তি করেছি। বর্তমান বাজারে আখের গুড় চিনি যে মূল্যে বেচাকেনা হচ্ছে তার চেয়ে মানসম্পন্ন খেজুরের গুড়ের দাম এ বছর কিছুটা বেশি হবে এমনটাই আসা করছেন গাছিরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাউছার হোসেন জানান, বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলেই খেজুর গাছ প্রায় বিলুপ্তির পথে। গাছিদের খেজুর গাছ কাটার কাজটি শিল্প আর দক্ষতায় ভরা। ডাল কেটে গাছের শুভ্র বুক বের করার মধ্যে রয়েছে কৌশল, রয়েছে ধৈর্য ও অপেক্ষার পালা। এ জন্য মৌসুমে আসার সাথে সাথে দক্ষ গাছিদের কদর বাড়ে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com