আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফসল

ময়মনসিংহের গারো পাহাড়ের পাদদেশে চা চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ

ময়মনসিংহের গারো পাহাড়ের পাদদেশে চা চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ টিম সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

চা বোর্ডের আওতাধীন বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিটিআরআই) পরিচালক ড. মোহাম্মদ আলীসহ পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ টিম শনি ও রোববার বৃহত্তর ময়মনসিংহের শেরপুর জেলার শ্রীবর্দী, ঝিনাইগাতি, নকলা ও নালিতাবাড়ি এবং ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলায় সৃজিত ক্ষুদ্রায়তন চা বাগানসমূহ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন ও চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে বিশেষজ্ঞরা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সহজ উপায়ে কীভাবে লাভজনকভাবে চা আবাদ করা যায়, জমিতে চারা রোপণ, সার প্রয়োগ, গাছের পরিচর্যা, পাতা চয়ন, পোকামাকড়-রোগবালাই দমন ও কাঁচা চা পাতা দিয়ে হাতে চা তৈরি (হ্যান্ড মেড টি) ইত্যাদি বিষয়ে চাষিদের পরামর্শ প্রদান করেন। এছাড়া এ অঞ্চলে ভবিষ্যতে চা চাষ বৃদ্ধির বিষয়ে স্থানীয় উদ্যোক্তা ও আগ্রহীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।

ইতোমধ্যে পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলায় চা চাষে বিপ্লব সাধিত হয়েছে। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে ৮৬৮০ একর জমিতে বছরে ৯.৬ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদিত হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলের চা চাষ জাতীয় উৎপাদনে অবদান রাখার পাশাপাশি এ অঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যকরী ভূমিকা পালন করছে। সিলেট, চট্টগ্রাম ও পঞ্চগড়ের পর চায়ের চতুর্থ অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে যাচ্ছে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চল। দুটি পাতা একটি কুঁড়ির তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে এ অঞ্চল।

চা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৪ সনে প্রণীত চা নীতিতে দেশের উত্তরাঞ্চলে ও ময়মনসিংহের পাহাড়ি এলাকাসমূহে প্রথম চা আবাদের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রস্তাব করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ চা বোর্ড কর্তৃক সমগ্র বাংলাদেশে চা আবাদির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করে ১৭টি জেলা বিশেষ করে রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, জামালপুর, ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোনা, টাঙ্গাইলের মধুপুর, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার জেলায় মোট ১ লাখ ১ হাজার ৭২ হেক্টর চা চাষযোগ্য জমি চিহ্নিত করা হয়েছে।

অনেক বছর ধরেই শেরপুরসহ বৃহত্তর ময়মনসিংহে চা চাষের উপযুক্ততা নিয়ে কথা বলে আসছিলেন চা বিশেষজ্ঞারা। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহত্তর ময়মনসিংহের জেলাসমূহে চা চাষের সম্ভাবনা সরেজমিনে জরিপ করার জন্য বাংলাদেশ চা বোর্ড কর্তৃক একটি টিম সরেজমিনে পরিদর্শন ও মাটির নমুনা সংগ্রহ করে ২০০৪ সালের ১০ জানুয়ারি একটি সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন জমা দেন।

ওই জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, পাহাড়ি এ জনপদের মাটির গুণাগুণ ও আবহাওয়া চা চাষাবাদের অত্যন্ত উপযোগী। ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট (১১২০ একর); শেরপুর জেলার শ্রীবর্দী (১১৫০ একর), ঝিনাইগাতি (১৮৫৫ একর) ও নালিতাবাড়ি (২৫০০ একর); জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ (৬০০ একর) ও নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপূর (১৭৭০ একর) ও কলমাকান্দা (১০৫০ একর) উপজেলায় মোট ১০ হাজার ৪৫ একর জমিতে চা আবাদ সম্ভব।

পরবর্তীতে বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলায় চা আবাদ সম্প্রসারণের জন্য প্রকল্প গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ চা বোর্ড কর্তৃক গঠিত একটি টিম সরেজমিনে তথ্য উপাত্ত যাচাই করে ২০১৯ সালে ৩০ সেপ্টেম্বর একটি প্রতিবেদন জমা দেন। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, ময়মসিংহের মুক্তাগাছা (৩০০ একর), ফুলবাড়িয়া (৫০০ একর), ভালুকা (৪০০ একর) ও টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর (৬০০ একর), ঘাটাইল (৫০০ একর), সখিপুর (৫০০) অর্থাৎ উক্ত উপজেলাসমূহে আরও ২৮০০ একর ভূমিতে ক্ষুদ্রায়তন চা আবাদের সম্ভাবনা রয়েছে।

অর্থাৎ বৃহত্তর ময়মনসিংহের পাঁচটি জেলার ১৫টি উপজেলায় মোট ১৩ হাজার ৬৪৫ একর জমিতে চা আবাদ সম্ভব। উক্ত জমি চা আবাদের আওতায় আনা হলে বছরে এ অঞ্চল থেকে ১৬.৩৭ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদিত হবে।

এ অঞ্চলের চা আবাদের সম্ভাবনাকে বাস্তব রূপ দিতে বেশ কয়েকজন স্থানীয় উদ্যোক্তা এগিয়ে এসেছেন। শেরপুর জেলায় চা চাষের সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেয়ার চেষ্টা করছেন বেসরকারি উদ্যোক্তা আমজাদ হোসেন ফনিক্সের ‘গারো হিলস টি কোম্পানি’। তারা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর লোকজনকে এর মধ্যেই চা চাষে উদ্বুদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছেন।

বাণিজ্যিকভাবে চা চাষের লক্ষ্যে এরই মধ্যে স্থানীয় ২৭ জন কৃষকের মাঝে ২৭ হাজার উন্নত জাতের চা চারা বিতরণ করা হয়েছে।

২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে চায়ের চারার রোপণ। ইতোমধ্যে শেরপুরের শ্রীবর্দী উপজেলায় ছয়জন, নালিতাবাড়ি উপজেলায় তিনজন, ঝিনাইগাতি উপজেলায় ১৩ জন, নকলা উপজেলায় চারজন, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় একজন কৃষক অর্থাৎ মোট ২৭ জন কৃষক ৫.৩১ একর জমিতে চা চাষ শুরু করেছেন।

চা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ চা বোর্ড কর্তৃক বৃহত্তর ময়মনসিংহের গারো হিলের পাদদেশে চা চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ চা বোর্ড কর্তৃক ৭৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১২৩৫ একর জমিতে চা চাষ সম্প্রসারণের জন্য ‘বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলায় ক্ষুদ্রায়তন চা চাষ সম্প্রসারণ’ শিরোনামে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

  • ময়মনসিংহের গারো পাহাড়ের পাদদেশে চা চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ

    ময়মনসিংহের গারো পাহাড়ের পাদদেশে চা চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ

  • ময়মনসিংহের গারো পাহাড়ের পাদদেশে চা চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ

    ময়মনসিংহের গারো পাহাড়ের পাদদেশে চা চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ

  • ময়মনসিংহের গারো পাহাড়ের পাদদেশে চা চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ

    ময়মনসিংহের গারো পাহাড়ের পাদদেশে চা চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ

  • ময়মনসিংহের গারো পাহাড়ের পাদদেশে চা চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ
  • ময়মনসিংহের গারো পাহাড়ের পাদদেশে চা চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ
  • ময়মনসিংহের গারো পাহাড়ের পাদদেশে চা চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ

ফসল

ফসল রক্ষা বাঁধে ইউএনওর অভিযান, দুটি নিষিদ্ধ জাল জব্দ

সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলার চন্দ্র সোনার থাল হাওরের হুলাসখালী ফসল রক্ষা বাঁধে অভিযান চালিয়ে বাঁধটির কেটে দেওয়া স্থান থেকে দুটি নিষিদ্ধ ভিম জাল জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল শনিবার রাত পৌনে আটটার দিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মুনতাসির হাসান।

উপজেলা প্রশাসন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চন্দ্র সোনার থাল হাওরের হুলাসখালী ফসল রক্ষা বাঁধটি সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীনে আছে। প্রায় চার সপ্তাহ আগে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে রাতের আঁধারে এই ফসল রক্ষা বাঁধটির ১৫ থেকে ২০ ফুট স্থান কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা। এর সপ্তাহখানেক পর থেকে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল বাঁধের কাটা স্থানে লোকজন নিয়োজিত করে ভিম জাল পেতে সেখান থেকে লাখ লাখ টাকার মাছ শিকার করে আসছিল।বিজ্ঞাপন

অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ কেটে ফেলার কারণে আসন্ন বোরো মৌসুমে জমিতে সেচকাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকেরা। এ অবস্থায় গতকাল রাত পৌনে আটটার দিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, থানা-পুলিশ ও পাউবোর এক উপসহকারী প্রকৌশলীকে নিয়ে ওই বাঁধে অভিযানে যান ইউএনও মো. মুনতাসির হাসান। অভিযানে গিয়ে সেখান থেকে তিনি দুটি ভিম জাল জব্দ করেন। এ ছাড়া ওই ফসল রক্ষা বাঁধের অন্য কোনো স্থান মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে যাতে কেউ কেটে না দিতে পারে, সে জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) পক্ষ থেকে গ্রাম পুলিশ দিয়ে বাঁধ রক্ষায় পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ওই বাঁধ থেকে জব্দ করা দুটি ভিম জাল উপজেলার মহদীপুর লঞ্চঘাটে এনে ওই দিন রাত সাড়ে আটটার দিকে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এ সময় ইউএনও ছাড়া অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউপির চেয়ারম্যান আমানুর রাজা চৌধুরী, সুনামগঞ্জ পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী ও উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যসচিব মো. ইমরান হোসেন, ধরমপাশা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোহেল মাহমুদ প্রমুখ।

সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউপির চেয়ারম্যান আমানুর রাজা চৌধুরী বলেন, ‘মাছ শিকারের জন্য এই বাঁধের অন্য কোনো স্থান যাতে কেউ কেটে দিতে না পারে, সে জন্য আমি শনিবার রাত থেকে পালাক্রমে গ্রাম পুলিশ দিয়ে বাঁধ রক্ষায় পাহারার ব্যবস্থা করেছি।’

উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্যসচিব এবং সুনামগঞ্জ পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ইমরান হোসেন বলেন, ‘স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর কাছ থেকে বাঁধ কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করছি। এ নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ইউএনও মো. মুনতাসির হাসান প্রথম আলোকে বলেন, এখানকার অধিকাংশ মানুষই হাওরের একমাত্র বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল। ফসল রক্ষা বাঁধ কেটে সরকারি সম্পদ বিনষ্ট করার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

ধান কাটা উৎসব

অগ্রহায়ণ মাস। দেশজুড়ে চলছে নবান্ন উৎসব। ধান কেটে বাড়ি নিতে কৃষিশ্রমিকেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। বাড়ির উঠানে চলছে মাড়াইয়ের কাজ। করোনার এই মহামারিতে আশানুরূপ ধান পেয়ে কৃষকেরা দারুণ খুশি। ঘরে ঘরে এখন নবান্নের আনন্দ। সাজ সাজ রব পাড়াগাঁয়ে। সারা দেশ থেকে ফটোসাংবাদিকদের ক্যামেরায় তারই চিত্র।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

হাওরে পানি কমছে ধীরে, বীজতলা তৈরি নিয়ে শঙ্কা

ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে পানি। সম্প্রতি খালিয়াজুরি উপজেলার গোবিন্দডুবি হাওরে
ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে পানি। সম্প্রতি খালিয়াজুরি উপজেলার গোবিন্দডুবি হাওরে

নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে ধীরগতিতে পানি কমার কারণে বীজতলা তৈরি করতে পারছেন না কৃষকেরা। এতে বোরো আবাদের চাষ দেরিতে শুরু হতে পারে। এ কারণে ফলন কমে যাবে। আবার আগাম বন্যায় ফসলহানিও হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।

কৃষকেরা জানান, হাওরপারের মানুষের একমাত্র ফসল বোরো। এর ওপর কৃষকদের সারা বছরের সংসার খরচ, চিকিৎসা, আচার-অনুষ্ঠান ও সন্তানদের পড়ালেখা নির্ভর করে। কিন্তু এবার পানি নিষ্কাশনের ধীরগতির কারণে এখনো বীজতলা তৈরি করা যাচ্ছে না। অন্য বছর নভেম্বরের শেষ দিকে বীজতলা তৈরি করে বপন করা হয়। ডিসেম্বরের শেষের দিকে খেতে চারা রোপণ শুরু হয়। কিন্তু এ বছর দেরি হতে পারে। সঠিক সময়ে বীজ বপন ও চারা রোপণ করতে না পারলে আগাম বন্যায় ফসলহানির আশঙ্কা থাকে।বিজ্ঞাপন

খালিয়াজুরীর বোয়ালি গ্রামের বিধান সরকার বলেন, দেরিতে বীজ বপন করলে জমিতে চারা লাগাতেও সময় লাগবে। এ সময় শীত চলে আসবে। ভালো চারা না হলে ভালো ফসলও হয় না। আবার ফসল পাকতে দেরি হওয়ায় আগাম বন্যায় ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, হাওরে ২৭১ দশমিক ৮৪ কিলোমিটার ডুবন্ত (অস্থায়ী) বাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে খালিয়াজুরীতে রয়েছে ১৮১ কিলোমিটার। এসব বাঁধের ওপরও কৃষকদের প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল নির্ভর করে। এই ফসল রক্ষা বাঁধগুলো উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) মেরামত করে থাকে। এবার পানি না কমায় বাঁধের জরিপকাজ শুরুতে দেরি হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

পেঁয়াজ চাষে ২৫ কোটি টাকা প্রণোদনা

লেখক

উৎপাদন বাড়াতে পেঁয়াজ চাষিদের বীজ কিনে দেবে সরকার। আগামী মৌসুমে চাষের জন্য ২৫ কোটি টাকার বীজ সরবরাহ করা হবে। গতকাল সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয় পেঁয়াজ চাষিদের প্রণোদনা হিসেবে বীজ কিনে দেওয়ার জন্য এই অর্থ অনুমোদন করেছে। শিগগিরই কৃষি মন্ত্রণালয় চাষিদের কাছে বীজ পৌঁছে দেবে। কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে কৃষি সচিব মেজবাহুল ইসলাম সমকালকে বলেন, চাষিদের প্রণোদনা হিসেবে পেঁয়াজের বীজ কিনে দেওয়া হবে। এজন্য অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। আগামী মৌসুম শুরুর আগেই বীজ সংগ্রহ করে চাষিদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

সংশ্নিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী চার বছরে পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এজন্য এ বছরই ১২ হাজার ১২ হেক্টর জমিতে চাষ বাড়ানো হচ্ছে। আগামী মৌসুমে দুই লাখ ৫০ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষ করা হবে। পর্যায়ক্রমে চাষ আরও বাড়ানো হবে। চেষ্টা রয়েছে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর। বর্তমানে প্রতি হেক্টরে ১০ দশমিক ৭৯ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। আগামী মৌসুমে এই পরিমাণ বাড়িয়ে ১১ টন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আগামী মৌসুম থেকে ২৯ লাখ পাঁচ হাজার ৫৪০ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হবে বলে আশা করছে মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া চাষিদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ও উন্নত দেশের পেঁয়াজ কাটা ও সংগ্রহ পদ্ধতির ভিডিও দেখিয়ে দক্ষতা বাড়ানো হবে। যাতে সংগ্রহকালীন সময়ে পচে ও শুকিয়ে নষ্ট হওয়ার পরিমাণ কমবে। এ ছাড়া গ্রীষ্ফ্মকালীন পেঁয়াজ চাষের উদ্যোগ রয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়ের। মন্ত্রণালয় আগামী গ্রীষ্ফ্মে পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে এ ধরনের পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্য নিয়েছে। তবে গ্রীষ্ফ্মকালীন পেঁয়াজ চাষের জন্য প্রয়োজনীয় বীজ মন্ত্রণালয়ের হাতে নেই। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মেহেরপুর জেলা থেকে মাত্র এক টন বীজ পাওয়ার আশা করছে। এই বীজ পাওয়া গেলে ২৫০ থেকে ৩০০ হেক্টর জমিতে রোপণ করা যাবে। তবে মন্ত্রণালয়ের চেষ্টা রয়েছে, ভারতের রাজস্থান থেকে এ জাতীয় বীজ আমদানি করার। উল্লেখ্য, প্রতি হেক্টর জমিতে চাষের জন্য সাড়ে সাত কেজি থেকে সর্বোচ্চ ১০ কেজি পর্যন্ত বীজ লাগে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হাসানুজ্জামান কল্লোল সমকালকে বলেন, এর আগে কৃষকদের বীজ দেওয়া হয়নি। এখন যেহেতু সরকার পেঁয়াজ চাষে উৎসাহিত করছে, সেজন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সার দেওয়ারও উদ্যোগ রয়েছে।

সংশ্নিষ্টরা জানিয়েছেন, বাড়তি চাষ, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, নষ্ট থেকে বাঁচানোর মাধ্যমে দুই লাখ ১০ হাজার টন পেঁয়াজ উৎপাদন বাড়বে। আর গ্রীষ্ফ্মকালীন চাষ ঠিকভাবে করা গেলে আরও ৪২ হাজার টন উৎপাদন হবে। গত দুই বছর আমদানি নির্ভরতার কারণে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা দেখা যায়। দেশের চাহিদা মেটাতে বছরে প্রায় ১০ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। যার সিংহভাগ আসে পার্শ্ববর্তী ভারত থেকে। দু’বছর ধরে দেশটি অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যের রপ্তানি বছরের একটি সময় বন্ধ রাখছে। এতে বাংলাদেশের বাজারে সরবরাহ কমে দাম বেড়ে যাচ্ছে। মিয়ানমার, চীন, পাকিস্তান, মিসর, তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আমদানি করেও বাজার সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। গত বছর পেঁয়াজের দাম ৩০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। এ বছর ভারত রপ্তানি বন্ধের পরপরই ১০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। পরে অভ্যন্তরীণ সরবরাহ বাড়ানোর মাধ্যমে দাম কিছুটা কমলেও এখনও ৬৫ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ রকম পরিস্থিতিতে সরকার এ পণ্যটিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করার উদ্যোগ নিয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

বোরো বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত চলনবিলের কৃষকরা

লেখক

করোনাকালীন সময়ে অতিরিক্ত খাদ্যশস্য উৎপাদনে বোরো আবাদকে সামনে রেখে চলনবিলের কৃষকরা বোরো বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বীজতলা তৈরি ও বীজ ছিটানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন তারা।

কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর চলনবিলের সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, পাবনার ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, চাটমোহর, নাটোরের সিংড়া, গুরুদাসপুর ও নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা রুহাই গ্রামের কৃষক আয়নাল হোসেন জানান, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠে বোরো আবাদের জন্য তারা বোরো বীজতলা তৈরি করছেন। ইতিমধ্যেই যে সকল জমিতে রবিশষ্য আবাদ হচ্ছে না সে সকল জমিতে প্রথমদিকে পৌষ মাসের শুরুতেই যাতে ধান রোপন করা যায় সে জন্য তারা দ্রুতগতিতে বীজতলায় বীজ ছিটাচ্ছেন।

তাড়াশের লালুয়ামাঝিড়া গ্রামের কৃষক ফরহাদ হোসেন জানান, চলনবিলের প্রত্যন্ত এলাকার আবাদী জমির জন্য ইতিমধ্যেই প্রায় ৪০-৫০ ভাগ বোরো বীজতলায় বীজ ছিটানো হয়েছে। যা আগামী এক মাসের মধ্যে বীজতলা থেকে বীজ তুলে জমিতে লাগানো সম্ভব হবে। 

এদিকে স্থানীয় বীজ ব্যাবসায়ীরা জানান, বর্তমানে চলনবিলের হাঁট-বাজারে বোরো বীজের বিক্রি বেড়ে গেছে। আর স্থানীয় কৃষকরা বলেন, বোরো বীজের মূল্য তাদের নাগালের মধ্যেই রয়েছে। ফলে এলাকায় বোরো বীজের কোনো সংকট নেই।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ লুৎফুলন্নাহার লুনা জানান, চলনবিলের ফসলি মাঠে বোরো বীজতলা তৈরিতে কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। বোরো বীজের কোনো সংকট না থাকায় এ বছর চলনবিল অঞ্চলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে বোরো আবাদ করা সম্ভব হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com