আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

মৎস্য সম্পদের উন্নয়নে কমিটি গঠন

মৎস্য ও চিংড়ি সম্পদ উন্নয়ন ও প্রসারে প্রধানমন্ত্রীকে চেয়ারপারসন করে ২৯ সদস্যবিশিষ্ট ‘মৎস্য ও চিংড়ি সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি’ গঠন করেছে সরকার। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিবকে এ কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব (কমিটি ও অর্থনৈতিক) ড. আবু সালে মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী, ভূমিমন্ত্রী, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার), জননিরাপত্তা সচিব, অর্থ সচিব, শিল্প সচিব, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান, মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক, মেরিন ফিশারিজ একাডেমির অধ্যক্ষ, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান।

ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি, বাংলাদেশ শ্রিম্প এন্ড ফিশ ফাউন্ডেশনের সভাপতি, বাংলাদেশ হিমায়িত খাদ্য রফতানিকারক সমিতির সভাপতি, বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং জাতীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি।

এ কমিটিতে ‘সচিব’ বলতে সিনিয়র সচিব এবং ভারপ্রাপ্ত সচিবও অন্তর্ভুক্ত হবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে কমিটির কার্যপরিধির বিষয়ে বলা হয়েছে, এটি মৎস্য ও চিংড়ি সম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সার্বিক নীতি নির্ধারণ করবে।

পরিবেশবান্ধব ও লাগসই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অধিক পরিমাণে নিরাপদ মাছ চাষের লক্ষ্যে ভূমি ও পানির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য দিক-নির্দেশনা প্রদান করবে এ কমিটি। উপকূলীয় অঞ্চলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অন্তর্ভুক্ত এলাকায় পরিবেশসম্মত উপায়ে চিংড়ি ও মৎস্য চাষের উন্নয়ন ও প্রসারে দিক-নির্দেশনা প্রদান করবে।

কমিটির কার্যপরিধির ভেতর আরও রয়েছে, মৎস্য ও চিংড়ি সম্পদ উন্নয়ন ও প্রসারে সহায়ক অবকাঠামোগত উন্নয়ন। পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা প্রদান, মৎস্য ও চিংড়ি সম্পদ উপযোগী জলাশয়সমূহ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নিকট হস্তান্তর ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব অর্পণ বিষয়ক দিক-নির্দেশনা প্রদান।

মৎস্য ও চিংড়ি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নের সঙ্গে অন্যান্য প্রাসঙ্গিক জাতীয়/আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি বিবেচনা এবং সুনীল অর্থনীতি উন্নয়নের জন্য গবেষণা, সম্পদ আহরণ এবং কারিগরি দক্ষতা অর্জনসহ অন্যান্য বিষয়ে নীতি নির্ধারণ করবে এ কমিটি।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, কমিটি তাদের কার্যপরিধিভুক্ত কোনো বিষয়ে অন্য কোনো মন্ত্রণালয়/বিভাগ/দফতর সংশ্লিষ্ট থাকলে, সে মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী/সচিব/সংস্থার প্রধানকে সভায় আমন্ত্রণ জানাতে পারবে। কমিটির নিকট কোনো বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মতামতের প্রয়োজন অনুভূত হলে কমিটি সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে বিশেষজ্ঞগণকে সভায় অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানাতে পারবে। জাতীয় কমিটি বছরে কমপক্ষে একবার বৈঠকে মিলিত হবে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে।

পরিবেশ

স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে মামুনের অনন্য উদ্যোগ

স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে মামুনের অনন্য উদ্যোগ
স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে মামুনের অনন্য উদ্যোগ

বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন মাহমুদুল ইসলাম মামুন। সবুজ প্রকৃতি গড়ার স্বপ্ন দেখা এ তরুণ কষ্টার্জিত টাকায় গাছ কিনে বিতরণ করে আসছেন দীর্ঘ ৭ বছর ধরে। এছাড়া পাড়ায়-মহল্লায় বিভিন্ন বয়সী মানুষ জড়ো করে বই পড়ে শোনান। এ জন্য গড়ে তুলেছেন সান্ধ্য পাঠশালা। বিস্তারিত জানাচ্ছেন এস কে দোয়েল-

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার আজিজনগর গ্রামের সন্তান মামুন। বাবা আজহারুল ইসলাম পঞ্চগড় চিনিকলের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী। মা মাহমুদা বেগম গৃহিণী। দুই ভাইয়ের মধ্যে মামুন ছোট। তিনি রংপুর কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ছাত্র জীবন শেষে চাকরি না করে হয়েছেন বই ও গাছের ফেরিওয়ালা। তিনি মনে করেন, উচ্চশিক্ষা নিলেই যে চাকরি করতে হবে, তা নয়। শিক্ষিত মানেই আলোর প্রদীপ। সে আলোর প্রদীপ ছড়াতেই উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে মামুনের অনন্য উদ্যোগ
স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে মামুনের অনন্য উদ্যোগ

হতদরিদ্র, মধ্যবিত্ত শ্রেণির পরিবারের স্কুলপড়ুয়ারা মামুনের কাছে পড়ালেখা শেখে বিনামূল্যে। প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখা শেখানোর পাশাপাশি সবুজ প্রকৃতি গড়ার পদ্ধতিও শেখান। গাছ উপহার দেন সবাইকে। এ স্বপ্ন নিয়ে ২০১৩ সাল থেকে তেঁতুলিয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মানুষের মাঝে গাছ বিতরণ করে আসছেন মামুন।

নিজ গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী ১০ গ্রামে কয়েক হাজার গাছ লাগান মামুন। এছাড়া ঢাকা, রংপুর, ঠাকুরগাঁও যখন যে শহরে যান, সে শহরেই গাছ লাগান। বই নিয়ে কথা বলেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসির কাছে গিয়েও সাহিত্যপাঠ আবশ্যক করার অনুরোধ করেন তিনি।

স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে মামুনের অনন্য উদ্যোগ
স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে মামুনের অনন্য উদ্যোগ

শুধু গাছপাগলই নন, শিশু কিশোর ও তরুণদের বইও উপহার দেন তিনি। নিজেও লিখেছেন উপন্যাস। ২০১৪ সালে একুশে বইমেলায় জননী প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয় ‘লাল ফিতায় অমিয়’ নামে একটি উপন্যাস। শিশু-কিশোরদের গল্প, উপন্যাস, রম্য, সায়েন্স ফিকশনসহ নানা রকম বই উপহার দেন।

নিজের টাকায় গাছের চারা ও বই বিতরণ করতে মামুন টাকা পান কোথায়? এমন প্রশ্নের জবাবে মামুন বলেন, ‘এসব কাজের জন্য আমি বাড়িতে হাঁস-মুরগির খামার গড়ে তুলেছি। ডিম ও বাচ্চা বিক্রির টাকা দিয়ে গাছের চারা ও বই কিনি। পারিবারিক চা-বাগানেও কাজ করি। আমার এ কাজে উৎসাহ দিতে বাবা-মা সহযোগিতা করেন।’

স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে মামুনের অনন্য উদ্যোগ
স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে মামুনের অনন্য উদ্যোগ

বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও গাছ উপহার দিতে চান মামুন। এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠিও পাঠিয়েছেন। ফুল, ফলদ ও বনজ গাছের চারা উপহার দিয়েছেন এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের। দেশবরেণ্য সাহিত্যিক সেলিনা হোসেনসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করে গাছের চারা ও বই উপহার দিয়েছেন। বন্ধু-বান্ধবদের দাওয়াতসহ সামাজিক অনুষ্ঠান ও কর্মসূচিতেও বই ও গাছের চারা উপহার দিচ্ছেন।

মামুনের এ কাজ সম্পর্কে মা মাহমুদা বেগম বলেন, ‘নিজের কাজের পাশাপাশি মানুষের উপকার করছে সে। পরোপকারী এমন ছেলেকে নিয়ে সত্যিই আমি গর্বিত। টাকা ছাড়া নাকি স্বপ্ন দেখা যায় না। কিন্তু আমার ছেলেটা তেমন টাকা ছাড়াই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে কাজ করছে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

শ্রীমঙ্গলে ধরা পড়ল ‘বিচিত্ররঙা উড়ন্ত কাঠবিড়ালি’

কাঠবিড়ালির অনেক জাত-উপজাতের মধ্যে দুর্লভ এবং বিপন্ন প্রজাতির একটি জাত ‘বিচিত্ররঙা উড়ন্ত কাঠবিড়ালি’। এরা এক লাফে ২০০ ফুট দূরত্বে যেতে পারে। বিরল এই প্রাণীর একটি বাচ্চাকে অসুস্থ অবস্থায় বুধবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের বাংলাদেশ বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে। সুস্থ হলে এটিকে লাউয়াছড়ায় অবমুক্ত করা হবে।

বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের তথ্য মতে, বিপন্ন ও বিরল এই প্রাণীকে কেউ কেউ ‘উড়ুক্কু কাঠবিড়ালি’ কেউবা ‘উড়ন্ত কাঠবিড়ালি’ বলে থাকেন। এদের দেহ মাথাসহ দৈর্ঘ্য ২৫ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার এবং লেজ ২৫ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে। কান তুলনামূলকভাবে বড়, চ্যাপ্টা লেজ, দেহের পার্শ্বে কালচে-বাদামি এবং নিচের অংশ সাদা। লেজ ধূসর থেকে ধূসর বাদামি, লেজের গোড়া ফ্যাকাশে, আগা গাঢ় রঙের। পা গাঢ় বাদামি।

উড়ন্ত কাঠবিড়ালি সম্পর্কে বন্যপ্রাণী সেবক ও সংরক্ষক তানিয়া খান জাগো নিউজকে জানান, গাছে এদের বসবাস। গাছে খায় গাছেই ঘুমায়। দিনের বেলা চলাচল করে না, এরা নিশাচর। মাটিতে তেমন নামে না। গাছের ফল, বিভিন্ন গাছের আঠালো রস, শিকড়, কুঁড়ি, পাতা ইত্যাদি খেয়ে বেঁচে থাকে। মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া, কুরমা বনবিটে এদের দেখা যায়। বিচিত্ররঙা উড়ন্ত কাঠবিড়ালি এক গাছ থেকে অন্য গাছে ১৫০ থেকে ২০০ ফুট দূরত্বে লাফাতে পারে। এর ইংরেজি নাম ‘Particolored Flying Squirrel’ এবং বৈজ্ঞানিক নাম ‘Hylopetes alboniger’।

শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেব জানান, কাজল হাজরা নামের এক যুবকক গত ১৪ জুলাই অসুস্থ অবস্থায় এই প্রাণীটিকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে দুধ, পানি, ফল খাইয়ে কয়েক দিন রেখে কিছুটা সুস্থ করে আজ বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের কাছে দিয়েছে। সুস্থ হলেই প্রাণীটি অবমুক্ত করা হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

লোকালয়ে অজগর

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সদর ইউনিয়নের ইছবপুরের লোকালয় থেকে একটি অজগর উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ইছবপুর এলাকার আফতাব মিয়ার বাড়ি থেকে ওই অজগরটিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত অজগরটিকে শ্রীমঙ্গলস্থ বাংলাদেশ বন্যপ্রাণি সেবা ফাউন্ডেশনে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানায়, অনেকদিন ধরে এই অজগরটি আফতাব মিয়ার বাড়িতে এসে তার বাড়িতে থাকা মুরগীগুলো খেয়ে ফেলতো। একইভাবে মঙ্গলবার সকালে মুরগী খাওয়ার জন্য সাপটি আসলে বাড়ির লোকেরা অজগর সাপটিকে দেখে, মেরে তাড়িয়ে দেয়ার জন্য লাঠি দিয়ে তার শরীরে আঘাত করতে থাকে। লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে অজগরটি মাটিতে পড়ে থাকে। পরে খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণি সেবা ফাউন্ডেশনের লোকেরা অজগরটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেব বলেন, অজগরটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমরা এটিকে সুস্থ করে তুলতে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রাণিটি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠলে আমরা এটিকে লাউয়াছড়া বনে ছেড়ে দিয়ে আসবো।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

বিপন্ন প্রজাতির ৮ কালো গণ্ডারের মৃত্যু কেনিয়ায়

কেনিয়ার জাতীয় পার্কে স্থানান্তর করা বিপন্ন প্রজাতির ৮টি কালো গণ্ডার মারা গেছে। মাত্র এক সপ্তাহ আগেই প্রাণীগুলোকে সেখানে নিয়ে আসা হয়। বিপন্ন প্রজাতির এই গণ্ডারের বিলুপ্তি ঠেকাতে নাইরোবি ও নাকুরু থেকে দেশটির জাতীয় পার্কে আনা হয়। মোট ১১টি গণ্ডারকে জাতীয় পার্কে স্থানান্তর করা হয়েছিল।

কেনিয়ার পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক মুলি মুইয়া বলেন, বিপন্ন এ প্রাণীটির মৃত্যুহার অকল্পনীয়। মৃত্যুর কারণ জানতে প্রাণীগুলোর ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্ট তৈরির কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

নতুন পরিবেশে সল্ট পয়জনিংয়ের কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে এ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানান মুইয়া।

কেনিয়ার বন্যপ্রাণী বিষয়ে কাজ করা ওয়াইল্ডলাইফডিরেক্ট এক বিবৃতিতে এক সঙ্গে এতগুলো গণ্ডারের মৃত্যুর ঘটনাকে সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এক ধরনের বড় ট্রাজেডি বলে আখ্যায়িত করেছে। পাশাপাশি সংস্থাটি এসব প্রাণী স্থানান্তরের সময় স্বচ্ছ ও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

ওয়াইল্ডলাইফডিরেক্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পাওলা কাহুমবু সিএনএনকে জানান, এটা একটা দুর্যোগ। সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে এসব প্রাণী স্থানান্তরের সময় এভাবে এত মৃত্যুর ঘটনা আগে ঘটেনি। এ অপারেশনে ৮০ শতাংশ গণ্ডারেরই মৃত্যু হয়েছে।

তিনি বলেন, এক সপ্তাহেরও কম সময়ের ব্যবধানে আমরা এক শতাংশ বিপন্ন প্রজাতির এই প্রাণীটিকে হারিয়েছি। আমরা আগে এভাবে যত প্রাণী রক্ষা করেছি, এবার সংরক্ষণ করতে গিয়ে মারা গেল তার দশগুণ।

কাহুমবুর মতে, গণ্ডার স্থানান্তর করা অত্যন্ত জটিল একটি কাজ। অনেকটা স্বর্ণমুদ্রা স্থানান্তরের মতো। এর জন্য দরকার হয় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন, চিন্তা-ভাবনা ও নিরাপত্তার। কারণ, পৃথিবীতে এ প্রাণীর সংখ্যা বিরল।

কাহুমবু বলেন, ‘আমরা বাকি তিনটা নিয়ে এখন শঙ্কিত। তাদের আমরা বাঁচাতে পারব কি না, এ নিয়ে আমরা সন্দীহান। তারা এখন খুবই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কারণ, তারা এখন যে পরিবেশে আছে, সেই পরিবেশে থেকে আটটিই মারা গেছে।’

ধারণা করা হচ্ছে, স্বাদু পানি থেকে নিয়ে আসা নতুন পরিবেশে লবণাক্ত পানিতে খাপ খাওয়াতে না পারায় প্রাণীগুলোর মৃত্যু হয়েছে। মুইয়া আরও জানান, এ ঘটনার সাথে কোনো কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় পর্যায়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়া মাত্রই এটা জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।

একসঙ্গে এতগুলো বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী মারা যাওয়ার ফলে দেশটিতে ট্রান্সলোকেশন পদ্ধতি স্থগিত রাখা হয়েছে। দেশটির বন্যপ্রাণী বিষয়ক মন্ত্রীর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা সিএনএন জানায়, ২০০৫ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত কেনিয়া মোট ১৪৯টি এই প্রজাতির গণ্ডার এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় স্থানান্তর করেছে। এর মধ্যে মারা গেছে আটটি।

পশু সংরক্ষণবাদীরা বলছেন, পৃথিবীতে ৫ হাজারের মতে কৃষ্ণ গণ্ডার রয়েছে। এর মধ্যে কেনিয়ায় রয়েছে ৫৪০টি। চোরা শিকারীদের কারণে প্রাণীটির সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। ওষুধ তৈরির উপাদান হিসেবে এশিয়াতে কৃষ্ণ গণ্ডারের শিংয়ের বেশ চাহিদা রয়েছে। এসব কারণে সাত বছর আগে পশ্চিমা কৃষ্ণ গণ্ডারকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

বিপন্ন কৃষ্ণ গণ্ডার রক্ষায় কাজ করা সংরক্ষণবাদী গ্রুপ সেভ দ্য রাইনো বলছে, সারা পৃথিবীতে পাঁচ প্রজাতির গণ্ডার হুমকির মুখে রয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

দেশ বন্যামুক্ত হতে আরও ৭ থেকে ১০ দিন

দেশ বন্যামুক্ত হতে আরও ৭ থেকে ১০ দিন
দেশ বন্যামুক্ত হতে আরও ৭ থেকে ১০ দিন

জুনের শেষের দিকেই দেশ বন্যা পরিস্থিতির শিকার হয়। এই পরিস্থিতিতেই কেটে গেল জুলাই, চলছে আগস্টের প্রথম সপ্তাহ– এই পুরো সময়ই বন্যার কবলে রয়ে গেছে দেশ। দেশ পুরোপুরি বন্যামুক্ত হতে আরও ৭ থেকে ১০ দিন লাগতে পারে।

সোমবার (৩ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাগো নিউজকে এ তথ্য জানান বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আলরাজি।

তিনি বলেন, ‘২৯, ৩০, ৩১ জুলাই বৃষ্টির একটা ধাপ গেছে। এ বৃষ্টি হওয়াতে পানি স্থিতিশীল ছিল। এখন সামনে বৃষ্টি নেই। এখন পানি কমা শুরু করবে। ক্রমান্বয়ে বন্যার এখন উন্নতি হবে। কুড়িগ্রামে এখন বিপৎসীমার ৩৯ সেন্টিমিটারের উপরে আছে, সেটা নামতে আগস্টের প্রথম সপ্তাহ লেগে যাবে। সিরাজগঞ্জের সারিয়াকান্দিতে বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।’

আলরাজি বলেন, ‘এখন প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার করে পানি নামা শুরু করবে। তাতে এই প্রথম সপ্তাহ পুরোটা লাগবে বন্যা কমতে। বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার নিচে নেমে গেলে বন্যা স্বাভাবিক অবস্থায় চলে এসেছে বলা যাবে। মানে এখন যে জলাবদ্ধতা বা নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত আছে, এই পানিগুলো নেমে যাবে। আশা করছি, ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে দেশ পুরোপুরি বন্যা মুক্ত হবে। তবে তার আগেও হয়ে যাতে পারে।’

দেশ বন্যামুক্ত হতে আরও ৭ থেকে ১০ দিন
দেশ বন্যামুক্ত হতে আরও ৭ থেকে ১০ দিন

ঢাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যেহেতু বড় নদীগুলোর পানি কমে আসছে, ঢাকার আশপাশের নদীগুলোর পানিও কমে আসবে। এখন তো ঢাকায় বন্যা স্থিতিশীল অবস্থায় আছে। হয়তো দুই কমল বা দুই বাড়ল। ৫ থেকে ৬ আগস্ট থেকে পানি কমা শুরু হয়ে যাবে। তারপর পানি একেবারে বিপৎসীমার নিচে নেমে যেতে যে সময় লাগে আর কী। অর্থাৎ, ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ঢাকাও বন্যা মুক্ত হবে আশা করি।’

অন্যদিকে ১ আগস্ট এক পূর্বাভাসে আগামী ১০ দিনের (১০ আগস্ট পর্যন্ত) বিষয়ে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলেছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি ৭ আগস্টের মধ্যে কমতে পারে। আগামী ৭ দিনে কুড়িগ্রাম, বগুড়া, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, টাঙ্গাইল ও মানিকগঞ্জ জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি বাড়তে পারে। রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ পয়েন্ট, মুন্সিগঞ্জ জেলার ভাগ্যকূল পয়েন্ট এবং শরীয়তপুর জেলার সুরেশ্বর পয়েন্টে আগামী ৭ দিন পানি ক্রমান্বয়ে কমতে পারে। যার ফলে আগামী ৭ দিনে এসব জেলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। ঢাকার চারপাশের নদীর পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে। নারায়ণগঞ্জে লক্ষ্যা নদীর পানি আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত স্থিতিশীল থাকতে পারে। তারপর কমে বিপৎসীমার নিচে চলে আসতে পারে। যার ফলে জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি আগামী ৪ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com