আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

তখন আর কতই–বা বয়স। বাবার সঙ্গে হাঁটে যাচ্ছি। বিকেলের দিকে রোদ একটু পড়ে এসেছে। বেশ একটা আলোছায়ার খেলা। এরই মধ্যে বৃষ্টি। কিন্তু এ বৃষ্টি ঠিক গায়ে লাগে না। জাম আর জামরুলের পাতায় স্ফটিক বিন্দুর মতো লেগে থাকে। যেন আঠা দিয়ে মতি বসানো। চুলের ওপর পড়েও ঠিক তেমনই হয়। মনে হয় আকাশ থেকে কেউ হিরের গুঁড়ো ছড়াচ্ছে।
বাবা বললেন, জানিস এই বৃষ্টিকে কী বলে।
—কী?
—ইলশেগুঁড়ি। এই বৃষ্টির গুঁড়ো গায়ে লাগলে তবেই ইলিশ ডিম পাড়ে। আর কিছুদিনের মধ্যেই ইলিশ ধরা বন্ধ হয়ে যাবে।
আরও বেশ কিছু কথা বললেন। যা কতক বুঝেছি তখন, কতক বুঝিনি। মনে আছে একটা ছড়ার কটা লাইন:
ইলশেগুঁড়ি! ইলশেগুঁড়ি
ইলিশ মাছের ডিম
ইলশেগুঁড়ি! ইলশেগুঁড়ি
দিনের বেলায় হিম।

বাবা পুরোটা ছড়াই বলেছিলেন। বলেছিলেন বৃষ্টির ফোঁটা গায়ে লাগলে ইলিশ সত্যিই উৎফুল্ল হয়ে ওঠে। তখন একটা শব্দ বেশ মনে ধরে ছিল—‘উলসে ওঠে মন’।
বড় হয়ে ছড়াটা অনেকবারই পড়েছি। তবে ইলিশের নামে কেবল আমার নয়, বলার অপেক্ষা রাখে না, আপামর বাঙালির মনই উলসে ওঠে।

সেদিন বাবার আক্ষেপও ছিল, যেমন থাকে অতীত আশ্রয়ী সব বাঙালির। আগের মতো এখন আর ইলিশের স্বাদ হয় না। আগে ইলিশ ভাজলে সারা পাড়ায় সেই সুবাস ছড়াত।
আর সেই সুখাদ্যের ঘ্রাণে শেওড়াগাছ থেকে পেতনি নেমে এসে নাকি সুরে ইলিশের টুকরো চাইত। বদলে তাকে নোড়া পুড়িয়ে ছ্যাঁকা দিলে সে পড়িমরি করে পালাত। সন্ধ্যাবেলা হারিকেনের চারপাশে গোল হয়ে বসে ‘পথের পাঁচালী’র অপুর মতো হাঁ করে মায়ের কাছে এসব গল্প শুনতে শুনতেই আমাদের বড় হয়ে ওঠা।

ইলিশ, ইস্টবেঙ্গল আর ভাগ্যকুলের পরম্পরা

কলকাতার কুমোরটুলিতে জন্ম ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের। বৃহত্তর ময়মনসিংহের টাঙ্গাইলের নাগরপুরের জমিদার সুরেশ চন্দ্র রায়চৌধুরীর অনুরোধে আর যাঁরা এই ক্লাবের প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসেন তাঁদেরই একজন ভাগ্যকুলের জমিদার যদুনাথ রায়। প্রথম কমিটিতেও তিনি ছিলেন। তবে তিনি একা নন, তাঁর পুরো পরিবার বলতে গেল ছিল ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে। এখনো সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। কেবল নামে নয়, পূর্ব বাংলার গর্বের প্রতীক ইলিশ হয় ইস্টবেঙ্গলের প্রতীক। পৃথিবীর আর কোনো ক্লাবের প্রতীক হিসেবে মাছ আছে কি না আমার জানা নেই। তবে একটা সময় পর্যন্ত ইস্টবেঙ্গল ও তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানের খেলায়, ইউরোপীয় ঢঙে যেটা এখন কলকাতা ডার্বি বলা হয়, ইস্টবেঙ্গল জিতলে কলকাতায় ইলিশের দাম বেড়ে যেত।

এবার ভাগ্যকুলের জমিদারদের ইলিশ পরম্পরার প্রসঙ্গে আসা যাক। আজও শারদীয়ায় ইলিশ-পরম্পরা রক্ষা করে চলেছেন তাঁরা। ভাগ্যকুলের রায়েরা এখনো পুজোর দিনগুলোতে ইলিশ খেয়েই কাটান বলে জানা যায়। তাদের ইলিশের নানা মেনুর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো, ইলিশের ডিমের ভাপা। পেঁয়াজ আর কাঁচা মরিচ দিয়ে মাখো মাখো ডিমভর্তা। জনৈক খাদ্যরসিক আবার একে কেভিয়ারের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

তবে ভাগ্যকুলের জমিদারই হোক আর সাধারণ মানুষ, নতুন উদ্ভাবনে বাঙালির জুড়ি মেলা ভার। এ ক্ষেত্রে ভর্তার কথা আসে সবার আগে। বাঙালির আরেক উদ্ভাবন ইলিশের মাথা আর লেজভর্তা। এটা মাওয়া ঘাটের রন্ধনশিল্পীদের আবিষ্কার। আর তা নাকি চেটেপুটে খাওয়ার মতো সুস্বাদু।

ইলিশে দৈবের বশে

সিন্ধু প্রদেশ জয় করে দিল্লি ফেরার পথে মারা গিয়েছিলেন খেয়ালি সম্রাট মোহাম্মদ বিন তুঘলক। এই মৃত্যুতে ছিল তাঁর খেয়ালিপনা। কারণ, নদীপথে যাওয়ার সময় তাঁর হঠাৎ মাছ খেতে ইচ্ছে হয়েছিল। এখন সুলতানের ইচ্ছে বলে কথা। তাই তাঁকে যথেচ্ছ মাছ খাওয়ানো হলো। আর তাতেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেন এবং পৃথিবীর মায়া কাটালেন। কিন্তু কী মাছ খেয়ে তাঁর পরপারের অতিথি হতে হয়েছিল, তা কোনো ইতিহাসবিদ লিখে যাননি। তবে আমাদের একমেবাদ্বিতীয়ম সৈয়দ মুজতবা আলীর ধারণা, ইলিশে দৈবের বশে তুঘলকের প্রাণবায়ু নিঃশেষ হয়েছে।

ইলিশে দৈবের বশে

সিন্ধু প্রদেশ জয় করে দিল্লি ফেরার পথে মারা গিয়েছিলেন খেয়ালি সম্রাট মোহাম্মদ বিন তুঘলক। এই মৃত্যুতে ছিল তাঁর খেয়ালিপনা। কারণ, নদীপথে যাওয়ার সময় তাঁর হঠাৎ মাছ খেতে ইচ্ছে হয়েছিল। এখন সুলতানের ইচ্ছে বলে কথা। তাই তাঁকে যথেচ্ছ মাছ খাওয়ানো হলো। আর তাতেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেন এবং পৃথিবীর মায়া কাটালেন। কিন্তু কী মাছ খেয়ে তাঁর পরপারের অতিথি হতে হয়েছিল, তা কোনো ইতিহাসবিদ লিখে যাননি। তবে আমাদের একমেবাদ্বিতীয়ম সৈয়দ মুজতবা আলীর ধারণা, ইলিশে দৈবের বশে তুঘলকের প্রাণবায়ু নিঃশেষ হয়েছে।

আলী ও ইলিশ

সৈয়দ মুজতবা আলী মনে করেন, ইলিশের আকর্ষণ ঐন্দ্রজালিক। ইলিশের কথা উঠলে মানুষের হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। তাঁর কথাই ঠিক। কারণ, হিতাহিত জ্ঞান যে থাকে না সে প্রমাণ তিনি নিজেই দিয়েছেন। এক পাঞ্জাবি অধ্যাপকের সঙ্গে খাওয়া নিয়ে আলোচনায় তিনি ইলিশের পক্ষে। সরু চালের ভাত আর গঙ্গার ইলিশই শ্রেষ্ঠ খাবার। আর অধ্যাপক বেচারা বিরিয়ানির দিকে। এরপর মুজতবা আলী রেগে গিয়ে নাকি ওই অধ্যাপকের সঙ্গে সাত দিন কথা বলা বন্ধ রেখেছিলেন।

ইলিশ তাঁর কাছে অমৃত। একটা আস্ত ইলিশ মাঝবরাবর ফেড়ে মসলা মাখিয়ে কলাপাতায় মুড়ে ভাপে সেদ্ধ করলে যেটা দাঁড়াবে তা স্বর্গীয়। এই পদ যেমন স্বাস্থ্যকর তেমনই উপাদেয়। একা আড়াই-তিন কেজির মাছ খেলেও কিছু হবে না। এই পরামর্শও তাঁর।

ইলিশ যখন পণ্যদূত

প্রচারণায়ও নানাভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ইলিশ। ইলিশের কথা এলে আমার সবার আগে মনে আসে একটি বিজলিবাতির বিজ্ঞাপন। একসময় ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল ‘মাছের রাজা ইলিশ। আর বাত্তির রাজা ফিলিপস।’

বেশ আগে পশ্চিম বাংলায় একটি বিজ্ঞাপন ছিল ‘দু হাজার টাকার ওপরে সোনার জিনিস কিনলে একটি ইলিশ মাছ ফ্রি।’

এখানেই শেষ নয়। বরং আরও আগের কথা। এক থিয়েটার কোম্পানির মালিক দর্শক টানতে শো শেষে একটি করে ইলিশ দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বিজ্ঞাপন দেন। তাতে লেখা ছিল ‘অভিনয় দেখিতে আসিবার সময় গৃহিণীকে বিশেষ করিয়া বলিয়া আসিবেন যেন শেষ রাত্রে উনানে আগুন দিয়া তৈল প্রস্তুত রাখেন। অভিনয় দেখিবার পর, বাড়ি গিয়া গরম গরম ইলিশ মাছ ভাজা খাইয়া মন-রসনা তৃপ্তি সাধন করিবেন।’

একসময় এটাও বলতে শোনা গেছে ‘মাইরের সেরা পুলিশ, মাছের সেরা ইলিশ।’
১৯৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তানের নির্বাচনে জনপ্রিয় হয়েছিল একটি ছড়া ‘ইলিশ মাছের তিরিশ কাঁটা, বোয়াল মাছের দাড়ি/ ইয়াহিয়া খান ভিক্ষা করে/ শেখ মুজিবের বাড়ি।’

ইলিশ ও গোপাল ভাঁড়

ইলিশ নিয়ে কথা হবে আর সেখানে গোপাল ভাঁড় থাকবে না, তা কি হয়? একবার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র গোপাল ভাঁড়কে বললেন, গোপাল তুমি যদি নদীর পাড় থেকে এক জোড়া ইলিশ কিনে সোজা রাজদরবারে চলে আসতে পারো, কারও কোনো প্রশ্নের মুখের না পড়ে, তাহলে তোমাকে পুরস্কৃত করা হবে।

শুনে তো গোপাল এককথায় রাজি। কারণ, এ আর এমন কী কঠিন কাজ। অতএব রাজার চ্যালেঞ্জ নিয়ে গোপাল ঠিকই এক জোড়া ইলিশ কিনে কানকোর মধ্যে দিয়ে রশি ঢুকিয়ে হাঁটা ধরলেন রাজবাড়ির দিকে। তবে তার আগে নিজের ধুতিটা তুলে মুখ ঢেকে নিলেন। রাস্তায় তাকে দেখে কেউ আর টুঁ শব্দটি করল না। বরং কেউ হেসে গড়াল। কেউ আবার গম্ভীর হলো। মেয়েরা যে যেখানে ছিল মুখ ফেরাল। অনেকে কানাঘুষা করল, ‘দেখো, দেখো, পাগল আবার ইলিশ কিনেছে।’

ইলিশের তেল, কমলবাবুর মশকরা আর উতোরচাপান

ইলিশের তেলের কথা এলে কমলকুমার মজুমদারের প্রসঙ্গ আসতে বাধ্য। তিনি অবশ্য পদ্মার ইলিশকে পাত্তা দিতে নারাজ। তাঁর মতে পদ্মা নয়, গঙ্গার ইলিশই উপাদেয়। এর কারণ হিসেবে তাঁর ব্যাখ্যা, আরে গঙ্গার ইলিশ দুই শ বছর কোম্পানির (ব্রিটিশের) তেল খেয়েছে না। তেলতেলে তো হবেই। তাই স্বাদ হবে না কেন।
সাহিত্যিক লীলা মজুমদারের সাফ কথা, কাঁচা ইলিশের ঝোল রাঁধুক তো ঘটিরা! চাপানেও কম যান না আরেক লেখিকা জ্যোৎস্না দত্ত, ঘটিদের উদ্ভাবন দই ইলিশ। পূর্ববঙ্গে তো দইয়ের চলই নেই।

ইলিশ দারুণ পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ। প্রতি ১০০ গ্রাম ইলিশে আছে ২১ দশমিক ৮ গ্রাম প্রোটিন, ২৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ১৮০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ৩ দশমিক ৩৯ গ্রাম শর্করা, ২ দশমিক ২ গ্রাম খনিজ ও ১৯ দশমিক ৪ গ্রাম চর্বি। এ ছাড়া আছে নানা ধরনের খনিজ, খনিজ লবণ, আয়োডিন ও লিপিড। ইলিশের খাদ্যশক্তির পরিমাণও অন্যান্য প্রাণিজ প্রোটিনের চেয়ে বেশি। ১০০ গ্রামে ২৭৩ কিলোক্যালরি। ইলিশে ভিটামিন এ ও ডি রয়েছে। আছে অ্যামাইনো, ভ্রূণের উপযুক্ত বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। আর হৃদ্‌রোগ হ্রাসে ইলিশের তেল অত্যন্ত উপকারী। কারণ, এতে রয়েছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। আর এই ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের ইপিএ আবার করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে সক্ষম। তাহলে জমিয়ে ইলিশ খাওয়া যেতেই পারে।

এই লকডাউনে নদী দূষণ থেকে রেহাই পাওয়ায় ইলিশের আকারও অন্যবারের তুলনায় বেশ বড়সড়ই হয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা প্রয়োজন, ইলিশ মঙ্গলের প্রতীক। শাস্ত্রেও রয়েছে তাঁর গুণবর্ণন, ‘ইল্লিশো মধুর/ স্নিগ্ধো রোচনো/ বহ্নিবর্জনঃ/ পিত্তিকৃৎ কফকৃৎ/ কিঞ্চিল্লঘু ধর্মোহ নিলাজহঃ।’ এর অর্থ, ইলিশ মাছ স্বাদে মধুর, রুচিবর্ধক, বলবর্ধক, অম্ল দূর করে, পিত্ত দূর করে, বাত কমায়; আর তা পুষ্টিকরও।

ফেলনা নয় কিছুই

ইলিশের কিছুই ফেলনা নয়। ইদানীং ইলিশের আঁশ সুন্দর করে পরিষ্কার করে চিপসের মতো করে ভেজে খাওয়া হচ্ছে। ইলিশের যকৃৎ তো আগে থেকেই খাওয়ার চল রয়েছে। যেটাকে বলা হয় লুকা। আর এই লুকার পাতুড়িও হয়। আবার লুকার তেল দিয়ে মুড়ি মেখে খাওয়া কোনো কোনো অঞ্চলের ডেলিকেসি। ইলিশ মানুষকে সত্যিই বিহ্বল করে। এ যেন স্বর্গের অপ্সরা! ঋষির ধ্যান ভাঙাতে ওস্তাদ। এখানেই বলে রাখি, ইলিশের কাঁটা অন্য মাছের তুলনায় আলাদা। আর একটা এক কেজি ওজনের ইলিশের শরীরে অন্তত ১০ হাজার কাঁটা থাকে।

তথ্যঋণ:
ইলিশ পুরাণ, দিগেন বর্মন
ভোজন শিল্পী বাঙালী, বুদ্ধদেব বসু
মছলিশ, আলপনা ঘোষ
পাক-প্রণালী, বিপ্রদাস মুখোপাধ্যায়
বাঙালি চার সহস্র বছরের খ্যাদ্যাভাস ও খাদ্যাচার: বিবর্তন ও অনুসন্ধান, প্রবন্ধ শুভদীপ বোয়াল, সপ্তডিঙা, বিশ্বকর্মাপূজা সংখ্যা ২০১৯।

দৈনন্দিন

করোনা হলে কখন উপুর করে শোয়াতে হবে

করোনা হলেও মানুষ খুব বেশি হাসপাতালে যাওয়ার চিন্তা করছেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বাড়িতেই চলছে করোনা রোগীর চিকিৎসা।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, করোনাভাইরাস যেহেতু শ্বাসনালীর মাধমে ফুসফুসকে আক্রান্ত করে থাকে, তাই শ্বাসকষ্টের সমস্যা হয়ে থাকে। যখন স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিয়ে সমস্যা হয়, তখন রোগীকে উপুড় করে শোয়ানো হলে কষ্ট কিছুটা কমে।  

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শ্বাসকষ্টের সমস্যা তীব্র হলে এভাবে শোয়ানো হয় রোগীকে।  কারণ উপুর হয়ে শোয়া অবস্থায় ফুসফুসের অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ে। করোনা আক্রান্ত রোগীর ফুসফুসে সংক্রমণ হলে শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়। শরীর থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড অপসারণের কাজটাও সঠিকভাবে হয় না। ফলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দুর্বল ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্যই রোগীকে উপুড় করে শোয়ানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।  

এছাড়াও উপুড় হয়ে শোয়ার ফলে শ্বাস-প্রশ্বাস বাড়ে ও ইনফেকশনের প্রবণতাও কমে।

মনে রাখতে হবে করোনা আক্রান্ত রোগীকে উপুড় করে শোয়াতে সমস্যা হলে ডান বা বাঁ পাশে কাত করে শোয়াতে হবে। কখনোই চিত করে শোয়ানো যাবে না।  

তবে ঘুমানোর সময় একটানা উপুড় করে শোয়ানো ঠিক না। জেগে থেকে বিশ্রাম নেওয়ার সময় এভাবে শোয়ালে উপকার পাওয়া যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

তারকা রেস্টুরেন্টের শর্মা এবার বাড়িতেই

মহামারি করোনার কারণে বাইরে থেকে খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে এসেছে আমাদের। কিন্তু মাঝে মাঝে তো কিছু স্পেশাল খাবার খেতে ইচ্ছে করতেই পারে।

এই যেমন অনেক দিন হয়তো শর্মা খাওয়া হচ্ছে না।  
এবার হবে, তাও আবার ঘরের তৈরি। কে তৈরি করবে? কেন, আপনি। বেশ সহজ জেনে নিন রেসিপি: 

উপকরণ 
পুরের জন্য: যেকোনো মাংস কিমা অথবা ছোট টুকরো করে কাটা ৫০০ গ্রাম, দই এক কাপ, ভিনেগার দুই টেবিল চামচ, পেঁয়াজ বাটা ও পেঁয়াজ কুচি দুই টেবিল চামচ করে, রসুন এক চা চামচ, ধনে গুঁড়া দেড় চা চামচ, জিরা গুঁড়া ১ চা চামচ, কাঁচা মরিচ ৩-৪টা এলাচ-দারুচিনি, লবণ পরিমাণমতো, লেবু একটি।

প্রস্তুত প্রণালী: সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে ঢেকে ফ্রিজে একঘণ্টা রাখুন।


পাত্রে অল্প তেল দিয়ে পেঁয়াজ কুঁচি ছাড়ুন। পেঁয়াজ ভাজা হলে মিশ্রণটি দিয়ে রান্না করে নিন।
সসের জন্য: রসুন চারটি, লবণ স্বাদমতো, তেল এক কাপ, ডিমের সাদা অংশ দু’টি, লেবুর রস এক চা চামচ।

প্রণালী: রসুন, লবণ আর তেল একসাথে ব্লেন্ড করে তারপর ডিমের সাদা অংশটা ঢেলে দিন তেল একটু লেবুর রস ব্লেন্ডার চলতে থাকা অবস্থায় ঢেলে দিন। হয়ে গেল গার্লিক সস।

রুটির জন্য: ময়দা দুই কাপ, ইস্ট দুই চা চামচ, গরম পানি আধা কাপ।

লবণ পরিমাণ মতো। চিনি এক চা চামচ।

প্রণালী:  ইস্ট ১/২ কাপ পানিতে মিশিয়ে চিনি দিয়ে ১০-১৫ মিনিট রেখে দিন। একটি পাত্রে ময়দা ও লবণ মিশিয়ে এতে ইস্ট ও পানি দিয়ে মিশিয়ে ভালোভাবে মেখে নিন।  এবার খামির একটু গরম জায়গায় আধাঘণ্টা রেখে দিন, ফুলে উঠবে। ওভেনে ১৮০ ডিগ্রিতে ১০ মিনিট প্রি-হিট দিয়ে মোটা রুটি বানিয়ে ৪ মিনিট বেক করুন। চাইলে চুলায় ফ্রাইপ্যানেও একটু সময় নিয়ে রুটি তৈরি করে নিতে পারেন।

সবশেষে শসা, টমেটো, পেঁয়াজ ও ধনে পাতা কুচি রুটির ওপর কিমা দিন, এরপর গার্লিক সস দিন। এবার রুটি রোল করে পরিবেশন করতে পারেন। অথবা রুটির মাঝে কেটে পকেটের মতো তৈরি করে কিমার মিশ্রণ ভেতরেও দিয়ে দিতে পারেন।  

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

বটিয়াঘাটায় উদ্ধার ৫৩ সন্ধি কচ্ছপ ঘোড়াদিঘীতে অবমুক্ত

বটিয়াঘাটায় উদ্ধার ৫৩ সন্ধি কচ্ছপ ঘোড়াদিঘীতে অবমুক্ত

বাগেরহাট: খুলনার বটিয়াঘাটা থেকে উদ্ধার করা ৫৩টি সন্ধি কচ্ছপ বাগেরহাটের বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদ সংলগ্ন ঘোড়াদিঘীতে অবমুক্ত করা হয়েছে।  

বুধবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে ঘোড়াদিঘীর ঘাটে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক আনম ফয়জুল হক কচ্ছপগুলো অবমুক্ত করেন।

এসময় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (বন্যপ্রাণী) নির্মল কুমার পাল, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, খুলনার মৎস্য বিশেষজ্ঞ মফিজুর রহমান চৌধুরী, বাগেরহাট প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাস্টোডিয়ান মো. জায়েদ, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, খুলনার পরিদর্শক রাজু আহমেদসহ বন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।  

বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (বন্যপ্রাণী) নির্মল কুমার পাল বলেন, বটিয়াঘাটা থেকে উদ্ধার করা কচ্ছোপগুলোকে ষাটগম্বুজ মসজিদ সংলগ্ন ঘোড়াদিঘীতে অবমুক্ত করা হয়েছে। দিঘীতে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস করতে পারবে। তবে এগুলোকে সংরক্ষণের জন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে। 

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আনম ফয়জুল হক বলেন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় জেলা প্রশাসন সব সময় সোচ্চার। ভবিষ্যতেও আমরা সোচ্চার থাকব। এর অংশ হিসেবে কচ্ছপগুলো অবমুক্ত করা হলো। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, বন বিভাগসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একযোগে কাজ করে এ অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাজ করবো।

মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে বটিয়াঘাটা উপজেলার বাজারমাছ থেকে কচ্ছপগুলো উদ্ধার করেন বণ্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, খুলনার সদস্যরা। আহরণ নিষিদ্ধ কচ্ছপ বিক্রির দায়ে নিরাপদ সরকার নামে এক ব্যবসায়ীকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নজরুল ইসলাম।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

তীব্র শীতে নষ্ট হচ্ছে রসুন ও পেঁয়াজের ক্ষেত

নীলফামারী: এবারের শীতে মানুষ, গবাদি পশু কষ্টে পড়েছে। তীব্র শীতে নষ্ট হচ্ছে কৃষকের হাড় ভাঙা পরিশ্রমে বোনা ফসল।

বিশেষ করে আলু, রসুন ও পেঁয়াজের ক্ষতি কৃষকরা পুষিয়ে নিতে পারবেন না। শীত ও মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের কারণে মাঠের পর মাঠের পেঁয়াজ আর রসুনের পাতার আগা বাদামী হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে (স্টেমফাইলিয়াম লিফ ব্লাইট রোগ)

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ি, কামারপুকুর, পার্শ্ববর্তী খানসামার প্ল্যান বাজার, দুহশুহ, ফতেজংপুর,  মারগাঁও চিরিবন্দর বিভিন্ন  এলাকা ঘুরে এমন চিত্রই দেখা যায়। সেখানকার কৃষক ফয়েজ উদ্দিন, আবু তালেব, রতন মিয়া জানান, আলু, রসুন ও পেঁয়াজ বোনার পর পরই শুরু হয় তীব্র শীত ও মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। 

শীতের তীব্রতা সহ্য করতে না পেয়ে আলু ক্ষেতে দেখা দেয় ছত্রাক জনিত পচন রোগ। কৃষকরা বালাইনাশক ওষুধ স্প্রে করলেও খুব কাজ একটা হয়নি তাতে। বিশেষ করে রসুন ও পেঁয়াজের পাতাগুলো কুঁকড়ে গেছে। ফলে এ বছর উৎপাদনে টান পড়তে পারে বলে জানান তারা।  

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, রসুন ও পেঁয়াজের উৎপাদন কম হলেই দাম বাড়বে। ফলে কৃত্রিম সংকটও সৃষ্টি হতে পারে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

শত্রুতার জেরে পুকুরে বিষ, ভেসে উঠলো লক্ষাধিক টাকার মাছ

রাজবাড়ী: রাজবাড়ী সদর উপজেলার মূলঘর ইউনিয়নের রশোরা গ্রামে একটি মৎস্য খামারে বিষ দিয়ে মাছ মেরে ফেলা হয়েছে।

শনিবার (১৩ মার্চ) দিবাগত গভীর রাতে ইতালী প্রবাসী মো. ইখতেখায়রুল আলম তুহিনের মৎস্য খামারে এ ঘটনা ঘটেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পুকুরে অনেক মাছ মরে ভেসে উঠেছে।  
খামারের কেয়ারটেকার মো. ওমর আলী তুহিন জানান, খামারের মালিক ইতালীতে থাকেন। মৎস্য খামার তিনি দেখাশোনা করেন। বেশ কিছুদিন ধরে এলাকার মাদকসেবী হিসেবে পরিচিত আবুল বাসার শেখ বিভিন্ন ভাবে তাদের খামারের পুকুর থেকে মাছ চুরি করে আসছিলো। এ ব্যাপারে তাকে নিষেধ করা হলো সে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। ৮/১০ দিনের ব্যবধানে দুটি পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ মেরে ফেলে। এতে লাখ লাখ টাকার মাছ মরে গেছে।

তিনি আরো জানান, এ ঘটনার সঙ্গে তাদের বাসার ৪/৫ জন জড়িত আছে।
এ ব্যাপারে মোবাইল ফোনে মো. ইখতেখায়রুল আলম তুহিনের সঙ্গে কথা বল্লে তিনি জানান, বাসার ও তার সাঙ্গোপাঙ্গোরা এলাকায় চুরির সঙ্গে জড়িত। তারা মাদকসেবী হিসেবেও পরিচিত। বাসারের বিরুদ্ধে মাদক মামলা রয়েছে। সে তার পুকুরের মাছ চুরি করে বাজারে বেচে মাদক সেবন করে বলে জানা আছে। তিনি এর প্রতিকার চান।

চিলতি মাসের ৯ তারিখে মো. ইখতেখায়রুল আলম তুহিনের স্ত্রী ফারজানা নাসরিন রাজবাড়ী সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেন। এতে উল্লেখ করেন, আবুল বাসার ও এলাকার বেশ কয়েক জন ছেলে তাদের মৎস্য খামার থেকে জাল দিয়ে মাছ চুরি করে নিয়ে যায়। পরে তাদের নিষেধ করলে জীবননাশের হুমকি দেয়।  

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com