আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

তখন আর কতই–বা বয়স। বাবার সঙ্গে হাঁটে যাচ্ছি। বিকেলের দিকে রোদ একটু পড়ে এসেছে। বেশ একটা আলোছায়ার খেলা। এরই মধ্যে বৃষ্টি। কিন্তু এ বৃষ্টি ঠিক গায়ে লাগে না। জাম আর জামরুলের পাতায় স্ফটিক বিন্দুর মতো লেগে থাকে। যেন আঠা দিয়ে মতি বসানো। চুলের ওপর পড়েও ঠিক তেমনই হয়। মনে হয় আকাশ থেকে কেউ হিরের গুঁড়ো ছড়াচ্ছে।
বাবা বললেন, জানিস এই বৃষ্টিকে কী বলে।
—কী?
—ইলশেগুঁড়ি। এই বৃষ্টির গুঁড়ো গায়ে লাগলে তবেই ইলিশ ডিম পাড়ে। আর কিছুদিনের মধ্যেই ইলিশ ধরা বন্ধ হয়ে যাবে।
আরও বেশ কিছু কথা বললেন। যা কতক বুঝেছি তখন, কতক বুঝিনি। মনে আছে একটা ছড়ার কটা লাইন:
ইলশেগুঁড়ি! ইলশেগুঁড়ি
ইলিশ মাছের ডিম
ইলশেগুঁড়ি! ইলশেগুঁড়ি
দিনের বেলায় হিম।

বাবা পুরোটা ছড়াই বলেছিলেন। বলেছিলেন বৃষ্টির ফোঁটা গায়ে লাগলে ইলিশ সত্যিই উৎফুল্ল হয়ে ওঠে। তখন একটা শব্দ বেশ মনে ধরে ছিল—‘উলসে ওঠে মন’।
বড় হয়ে ছড়াটা অনেকবারই পড়েছি। তবে ইলিশের নামে কেবল আমার নয়, বলার অপেক্ষা রাখে না, আপামর বাঙালির মনই উলসে ওঠে।

সেদিন বাবার আক্ষেপও ছিল, যেমন থাকে অতীত আশ্রয়ী সব বাঙালির। আগের মতো এখন আর ইলিশের স্বাদ হয় না। আগে ইলিশ ভাজলে সারা পাড়ায় সেই সুবাস ছড়াত।
আর সেই সুখাদ্যের ঘ্রাণে শেওড়াগাছ থেকে পেতনি নেমে এসে নাকি সুরে ইলিশের টুকরো চাইত। বদলে তাকে নোড়া পুড়িয়ে ছ্যাঁকা দিলে সে পড়িমরি করে পালাত। সন্ধ্যাবেলা হারিকেনের চারপাশে গোল হয়ে বসে ‘পথের পাঁচালী’র অপুর মতো হাঁ করে মায়ের কাছে এসব গল্প শুনতে শুনতেই আমাদের বড় হয়ে ওঠা।

ইলিশ, ইস্টবেঙ্গল আর ভাগ্যকুলের পরম্পরা

কলকাতার কুমোরটুলিতে জন্ম ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের। বৃহত্তর ময়মনসিংহের টাঙ্গাইলের নাগরপুরের জমিদার সুরেশ চন্দ্র রায়চৌধুরীর অনুরোধে আর যাঁরা এই ক্লাবের প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসেন তাঁদেরই একজন ভাগ্যকুলের জমিদার যদুনাথ রায়। প্রথম কমিটিতেও তিনি ছিলেন। তবে তিনি একা নন, তাঁর পুরো পরিবার বলতে গেল ছিল ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে। এখনো সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। কেবল নামে নয়, পূর্ব বাংলার গর্বের প্রতীক ইলিশ হয় ইস্টবেঙ্গলের প্রতীক। পৃথিবীর আর কোনো ক্লাবের প্রতীক হিসেবে মাছ আছে কি না আমার জানা নেই। তবে একটা সময় পর্যন্ত ইস্টবেঙ্গল ও তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানের খেলায়, ইউরোপীয় ঢঙে যেটা এখন কলকাতা ডার্বি বলা হয়, ইস্টবেঙ্গল জিতলে কলকাতায় ইলিশের দাম বেড়ে যেত।

এবার ভাগ্যকুলের জমিদারদের ইলিশ পরম্পরার প্রসঙ্গে আসা যাক। আজও শারদীয়ায় ইলিশ-পরম্পরা রক্ষা করে চলেছেন তাঁরা। ভাগ্যকুলের রায়েরা এখনো পুজোর দিনগুলোতে ইলিশ খেয়েই কাটান বলে জানা যায়। তাদের ইলিশের নানা মেনুর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো, ইলিশের ডিমের ভাপা। পেঁয়াজ আর কাঁচা মরিচ দিয়ে মাখো মাখো ডিমভর্তা। জনৈক খাদ্যরসিক আবার একে কেভিয়ারের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

তবে ভাগ্যকুলের জমিদারই হোক আর সাধারণ মানুষ, নতুন উদ্ভাবনে বাঙালির জুড়ি মেলা ভার। এ ক্ষেত্রে ভর্তার কথা আসে সবার আগে। বাঙালির আরেক উদ্ভাবন ইলিশের মাথা আর লেজভর্তা। এটা মাওয়া ঘাটের রন্ধনশিল্পীদের আবিষ্কার। আর তা নাকি চেটেপুটে খাওয়ার মতো সুস্বাদু।

ইলিশে দৈবের বশে

সিন্ধু প্রদেশ জয় করে দিল্লি ফেরার পথে মারা গিয়েছিলেন খেয়ালি সম্রাট মোহাম্মদ বিন তুঘলক। এই মৃত্যুতে ছিল তাঁর খেয়ালিপনা। কারণ, নদীপথে যাওয়ার সময় তাঁর হঠাৎ মাছ খেতে ইচ্ছে হয়েছিল। এখন সুলতানের ইচ্ছে বলে কথা। তাই তাঁকে যথেচ্ছ মাছ খাওয়ানো হলো। আর তাতেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেন এবং পৃথিবীর মায়া কাটালেন। কিন্তু কী মাছ খেয়ে তাঁর পরপারের অতিথি হতে হয়েছিল, তা কোনো ইতিহাসবিদ লিখে যাননি। তবে আমাদের একমেবাদ্বিতীয়ম সৈয়দ মুজতবা আলীর ধারণা, ইলিশে দৈবের বশে তুঘলকের প্রাণবায়ু নিঃশেষ হয়েছে।

ইলিশে দৈবের বশে

সিন্ধু প্রদেশ জয় করে দিল্লি ফেরার পথে মারা গিয়েছিলেন খেয়ালি সম্রাট মোহাম্মদ বিন তুঘলক। এই মৃত্যুতে ছিল তাঁর খেয়ালিপনা। কারণ, নদীপথে যাওয়ার সময় তাঁর হঠাৎ মাছ খেতে ইচ্ছে হয়েছিল। এখন সুলতানের ইচ্ছে বলে কথা। তাই তাঁকে যথেচ্ছ মাছ খাওয়ানো হলো। আর তাতেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেন এবং পৃথিবীর মায়া কাটালেন। কিন্তু কী মাছ খেয়ে তাঁর পরপারের অতিথি হতে হয়েছিল, তা কোনো ইতিহাসবিদ লিখে যাননি। তবে আমাদের একমেবাদ্বিতীয়ম সৈয়দ মুজতবা আলীর ধারণা, ইলিশে দৈবের বশে তুঘলকের প্রাণবায়ু নিঃশেষ হয়েছে।

আলী ও ইলিশ

সৈয়দ মুজতবা আলী মনে করেন, ইলিশের আকর্ষণ ঐন্দ্রজালিক। ইলিশের কথা উঠলে মানুষের হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। তাঁর কথাই ঠিক। কারণ, হিতাহিত জ্ঞান যে থাকে না সে প্রমাণ তিনি নিজেই দিয়েছেন। এক পাঞ্জাবি অধ্যাপকের সঙ্গে খাওয়া নিয়ে আলোচনায় তিনি ইলিশের পক্ষে। সরু চালের ভাত আর গঙ্গার ইলিশই শ্রেষ্ঠ খাবার। আর অধ্যাপক বেচারা বিরিয়ানির দিকে। এরপর মুজতবা আলী রেগে গিয়ে নাকি ওই অধ্যাপকের সঙ্গে সাত দিন কথা বলা বন্ধ রেখেছিলেন।

ইলিশ তাঁর কাছে অমৃত। একটা আস্ত ইলিশ মাঝবরাবর ফেড়ে মসলা মাখিয়ে কলাপাতায় মুড়ে ভাপে সেদ্ধ করলে যেটা দাঁড়াবে তা স্বর্গীয়। এই পদ যেমন স্বাস্থ্যকর তেমনই উপাদেয়। একা আড়াই-তিন কেজির মাছ খেলেও কিছু হবে না। এই পরামর্শও তাঁর।

ইলিশ যখন পণ্যদূত

প্রচারণায়ও নানাভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ইলিশ। ইলিশের কথা এলে আমার সবার আগে মনে আসে একটি বিজলিবাতির বিজ্ঞাপন। একসময় ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল ‘মাছের রাজা ইলিশ। আর বাত্তির রাজা ফিলিপস।’

বেশ আগে পশ্চিম বাংলায় একটি বিজ্ঞাপন ছিল ‘দু হাজার টাকার ওপরে সোনার জিনিস কিনলে একটি ইলিশ মাছ ফ্রি।’

এখানেই শেষ নয়। বরং আরও আগের কথা। এক থিয়েটার কোম্পানির মালিক দর্শক টানতে শো শেষে একটি করে ইলিশ দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বিজ্ঞাপন দেন। তাতে লেখা ছিল ‘অভিনয় দেখিতে আসিবার সময় গৃহিণীকে বিশেষ করিয়া বলিয়া আসিবেন যেন শেষ রাত্রে উনানে আগুন দিয়া তৈল প্রস্তুত রাখেন। অভিনয় দেখিবার পর, বাড়ি গিয়া গরম গরম ইলিশ মাছ ভাজা খাইয়া মন-রসনা তৃপ্তি সাধন করিবেন।’

একসময় এটাও বলতে শোনা গেছে ‘মাইরের সেরা পুলিশ, মাছের সেরা ইলিশ।’
১৯৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তানের নির্বাচনে জনপ্রিয় হয়েছিল একটি ছড়া ‘ইলিশ মাছের তিরিশ কাঁটা, বোয়াল মাছের দাড়ি/ ইয়াহিয়া খান ভিক্ষা করে/ শেখ মুজিবের বাড়ি।’

ইলিশ ও গোপাল ভাঁড়

ইলিশ নিয়ে কথা হবে আর সেখানে গোপাল ভাঁড় থাকবে না, তা কি হয়? একবার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র গোপাল ভাঁড়কে বললেন, গোপাল তুমি যদি নদীর পাড় থেকে এক জোড়া ইলিশ কিনে সোজা রাজদরবারে চলে আসতে পারো, কারও কোনো প্রশ্নের মুখের না পড়ে, তাহলে তোমাকে পুরস্কৃত করা হবে।

শুনে তো গোপাল এককথায় রাজি। কারণ, এ আর এমন কী কঠিন কাজ। অতএব রাজার চ্যালেঞ্জ নিয়ে গোপাল ঠিকই এক জোড়া ইলিশ কিনে কানকোর মধ্যে দিয়ে রশি ঢুকিয়ে হাঁটা ধরলেন রাজবাড়ির দিকে। তবে তার আগে নিজের ধুতিটা তুলে মুখ ঢেকে নিলেন। রাস্তায় তাকে দেখে কেউ আর টুঁ শব্দটি করল না। বরং কেউ হেসে গড়াল। কেউ আবার গম্ভীর হলো। মেয়েরা যে যেখানে ছিল মুখ ফেরাল। অনেকে কানাঘুষা করল, ‘দেখো, দেখো, পাগল আবার ইলিশ কিনেছে।’

ইলিশের তেল, কমলবাবুর মশকরা আর উতোরচাপান

ইলিশের তেলের কথা এলে কমলকুমার মজুমদারের প্রসঙ্গ আসতে বাধ্য। তিনি অবশ্য পদ্মার ইলিশকে পাত্তা দিতে নারাজ। তাঁর মতে পদ্মা নয়, গঙ্গার ইলিশই উপাদেয়। এর কারণ হিসেবে তাঁর ব্যাখ্যা, আরে গঙ্গার ইলিশ দুই শ বছর কোম্পানির (ব্রিটিশের) তেল খেয়েছে না। তেলতেলে তো হবেই। তাই স্বাদ হবে না কেন।
সাহিত্যিক লীলা মজুমদারের সাফ কথা, কাঁচা ইলিশের ঝোল রাঁধুক তো ঘটিরা! চাপানেও কম যান না আরেক লেখিকা জ্যোৎস্না দত্ত, ঘটিদের উদ্ভাবন দই ইলিশ। পূর্ববঙ্গে তো দইয়ের চলই নেই।

ইলিশ দারুণ পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ। প্রতি ১০০ গ্রাম ইলিশে আছে ২১ দশমিক ৮ গ্রাম প্রোটিন, ২৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ১৮০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ৩ দশমিক ৩৯ গ্রাম শর্করা, ২ দশমিক ২ গ্রাম খনিজ ও ১৯ দশমিক ৪ গ্রাম চর্বি। এ ছাড়া আছে নানা ধরনের খনিজ, খনিজ লবণ, আয়োডিন ও লিপিড। ইলিশের খাদ্যশক্তির পরিমাণও অন্যান্য প্রাণিজ প্রোটিনের চেয়ে বেশি। ১০০ গ্রামে ২৭৩ কিলোক্যালরি। ইলিশে ভিটামিন এ ও ডি রয়েছে। আছে অ্যামাইনো, ভ্রূণের উপযুক্ত বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। আর হৃদ্‌রোগ হ্রাসে ইলিশের তেল অত্যন্ত উপকারী। কারণ, এতে রয়েছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। আর এই ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের ইপিএ আবার করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে সক্ষম। তাহলে জমিয়ে ইলিশ খাওয়া যেতেই পারে।

এই লকডাউনে নদী দূষণ থেকে রেহাই পাওয়ায় ইলিশের আকারও অন্যবারের তুলনায় বেশ বড়সড়ই হয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা প্রয়োজন, ইলিশ মঙ্গলের প্রতীক। শাস্ত্রেও রয়েছে তাঁর গুণবর্ণন, ‘ইল্লিশো মধুর/ স্নিগ্ধো রোচনো/ বহ্নিবর্জনঃ/ পিত্তিকৃৎ কফকৃৎ/ কিঞ্চিল্লঘু ধর্মোহ নিলাজহঃ।’ এর অর্থ, ইলিশ মাছ স্বাদে মধুর, রুচিবর্ধক, বলবর্ধক, অম্ল দূর করে, পিত্ত দূর করে, বাত কমায়; আর তা পুষ্টিকরও।

ফেলনা নয় কিছুই

ইলিশের কিছুই ফেলনা নয়। ইদানীং ইলিশের আঁশ সুন্দর করে পরিষ্কার করে চিপসের মতো করে ভেজে খাওয়া হচ্ছে। ইলিশের যকৃৎ তো আগে থেকেই খাওয়ার চল রয়েছে। যেটাকে বলা হয় লুকা। আর এই লুকার পাতুড়িও হয়। আবার লুকার তেল দিয়ে মুড়ি মেখে খাওয়া কোনো কোনো অঞ্চলের ডেলিকেসি। ইলিশ মানুষকে সত্যিই বিহ্বল করে। এ যেন স্বর্গের অপ্সরা! ঋষির ধ্যান ভাঙাতে ওস্তাদ। এখানেই বলে রাখি, ইলিশের কাঁটা অন্য মাছের তুলনায় আলাদা। আর একটা এক কেজি ওজনের ইলিশের শরীরে অন্তত ১০ হাজার কাঁটা থাকে।

তথ্যঋণ:
ইলিশ পুরাণ, দিগেন বর্মন
ভোজন শিল্পী বাঙালী, বুদ্ধদেব বসু
মছলিশ, আলপনা ঘোষ
পাক-প্রণালী, বিপ্রদাস মুখোপাধ্যায়
বাঙালি চার সহস্র বছরের খ্যাদ্যাভাস ও খাদ্যাচার: বিবর্তন ও অনুসন্ধান, প্রবন্ধ শুভদীপ বোয়াল, সপ্তডিঙা, বিশ্বকর্মাপূজা সংখ্যা ২০১৯।

ফল

নারিকেলে চাঙ্গা লক্ষ্মীপুরের গ্রামীণ অর্থনীতি

লক্ষ্মীপুর: মেঘনা উপকূলে লক্ষ্মীপুর জেলার অবস্থান। এ জনপদের বেশির ভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। এখানকার ভূমিতে সয়াবিন, ধান ও সুপারির পাশাপাশি প্রচুর নারিকেল উৎপাদন হয়। এক বছরে নারিকেল উৎপাদন হয়েছে ৪৬ হাজার ৬২০ মেট্রিক টন। যার বাজার মূল্য প্রায় ১২৫ কোটি টাকা।

গ্রামীণ অর্থনীতি উন্নয়নে নারিকলের চাষ, উৎপাদন, ক্রয়-বিক্রয় জীবনযাত্রার মানে গতি এনেছে। কর্মসংস্থানসহ জীবিকা নির্বাহে ভূমিকা রাখছে এ নারিকেল।

উন্নয়ন হয়েছে আর্থ-সামাজিক অবস্থার। এতে চাঙ্গা হয়েছে গ্রামীণ অর্থনীতি।

লক্ষ্মীপুরের এমন কোনো বাড়ি নেই যে বাড়িতে অর্থকারী ফসলের গাছ নেই। বাগানে সারি সারি গাছ ছাড়াও বাড়ির আঙ্গিনা কিংবা বসতঘরের আশেপাশে-পুকুরপাড়ে দেশীয় জাতের নারিকেল গাছ দেখা যায়। সারা বছর ধরে ওইসব গাছ থেকে নারিকেল সংগ্রহ করা হয়।

উৎপাদিত নারিকেল পারিবারিক চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি করা হয় দেশের বাজারে। মুখরোচক নানা পদের সুস্বাদু খাবার তৈরিতে নারিকেলের ব্যবহার হয়ে আসছে। এছাড়া তেল উৎপাদন ও শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে নারিকেলের প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

কৃষি নির্ভর জনপদে কোনো শিল্পকারখানা না থাকায় এখানকার বেশিরভাগ মানুষ জমির ফসল ও বাড়ির আশেপাশে উৎপাদিত নারিকেলের ওপর নির্ভরশীল। এমন অসংখ্য পরিবার আছে যাদের বাড়ির ১৫/২০টি নারিকেল গাছ তাদের সংসার খরচ চালাতে সহায়তা করছে। অপরদিকে, যাদের নারিকেলের বাগান তাদের আয় লাখ লাখ টাকা।

চলতি বছরও এখানে নারিকেলের বাম্পার ফলন হয়েছে। নারিকেল কেনা-বেচায় এখন সরগরম লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন হাটবাজার। রাস্তার মোড়ে বসেও নারিকেল কেনা-বেচা করছেন অনেকে। এছাড়া ব্যবসায়ীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারিকেল কিনেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ছাড়াও জেলার বাইরের ব্যবসায়ীরা এসে লক্ষ্মীপুর থেকে নারিকেল কিনছেন। ওইসব নারিকেল নদী ও সড়ক পথে দেশের বিভিন্নস্থানে সরবরাহ করেন। প্রতিদিন লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন হাটবাজারে লাখ লাখ টাকার নারিকেল বিক্রি হয়ে থাকে।

জেলার হাট-বাজারে সাপ্তাহিক দুইদিন হাট বসে। হাটের দিনগুলোতে বিক্রির জন্য নারিকেল উঠানো হয়। নিম্ন আয়ের লোকজন নারিকেল বিক্রি করে প্রয়োজনীয় সদাই কিনে বাড়ি ফিরেন।

নারিকেলের প্রধান মোকামগুলা হলো- সদর উপজেলার দালাল বাজার, রসুলগঞ্জ, চন্দ্রগঞ্জ, মান্দারী, রায়পুর উপজেলার হায়দরগঞ্জ, রামগঞ্জ শহর, কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট, রামগতির আলেকজান্ডার।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়নের বাসিন্দা দিনমজুর আনোয়ার উল্লাহ বলেন, তার বাড়িতে ১৫টি নারিকেল গাছ আছে। প্রতিহাটে তিনি নারিকেল বিক্রি করতে পারেন। এভাবে সারা বছর নারিকেল বিক্রির টাকায় তার সংসার চলে।

কমলনগর উপজেলার নারিকেল ব্যবসায়ী মঞ্জুর আলম বলেন, ব্যাপক চাহিদা থাকায় নারিকেল ব্যবসা লাভজনক। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে এ ব্যবসা করছেন। এতে তিনি ব্যবসায়ীকভাবে সফল হয়েছেন।

তবে স্থানীয়ভাবে নারিকেলভিত্তিক কল কারখানা গড়ে না উঠায় ও অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।



জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুরে ২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে নারিকেলের আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ১ হাজার ৪০০, রায়পুরে ৩৭০, রামগঞ্জে ৫২০, রামগতিতে ১৬০ ও কমলনগরে ৩৫০ হেক্টর জমিতে নারিকেল গাছ রয়েছে। জেলায় এক বছরে নারিকেল উৎপাদন হয়েছে ৪৬ হাজার ৬২০ মেট্রিক টন। যার দাম প্রায় ১২৫ কোটি টাকা। এছাড়া অন্তত ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার নারিকেলের ছোবড়া বিক্রি হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. বেলাল হোসেন খান বলেন, নারিকেল উৎপাদের জন্য লক্ষ্মীপুরের আবহাওয়া ও মাটি উপযোগী। এখানে নারিকেলের বাম্পার ফলন হয়। ভালা ফলন পেতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

একদিকে আম অন্যদিকে মুকুল

নওগাঁ: আষাঢ়ের বৃষ্টিতে যেনো স্নান করছিল আমের মুকুলগুলো। আবার সেই গাছের অন্যদিকে চলতি মৌসুমের আমও ধরে আছে বেশকয়েকটি। গাছের একদিকে ঝুলছে আম অন্যদিকে মুকুল। এমন দুর্লভ দৃশ্যের দেখা মিলেছে নওগাঁ পুলিশ সুপারের বাসভবন চত্বরে।

মুলত এ আম গাছের নাম কেউই জানে না। তবে আঞ্চলিকভাবে একে বারোমাসি আম গাছ বলে চিনে সবাই।

একেকটি আমের ওজন আড়াই থেকে ৩০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে।  

নওগাঁর পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন বাংলানিউজকে জানান, বছরের দু’বার গাছটি থেকে আম সংগ্রহ করেন তিনি। আমগুলো দেখতেও যেমন সুন্দর খেতেও বেশ মিষ্টি। তবে বছরের প্রথমবার গাছটিতে যে পরিমাণ আম পাওয়া যায়, সেই তুলনায় দ্বিতীয়বার ফলন কিছুটা কম হয়।  
গাছের একদিকে আম অন্যদিকে মুকুল।  ছবি: বাংলানিউজ


নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মনোজিদ কুমার বাংলানিউজকে জানান, বারোমাস আম পাওয়া যায় বাংলাদেশে এধরনের আম গাছের সংখ্যা খুব কম। তবে প্রথম মুকুলে যে পরিমাণ আমের ফলন হয়, পরের মুকুলে আর সেই পরিমাণ ফলন হয় না। তবে এই আম গাছগুলো নিয়ে রাজশাহী আম গবেষণা কেন্দ্রে গবেষণা চলছে। তারা গবেষণা করছেন কীভাবে বছরের দু’বার সমান পরিমাণ আম ফলানো যায়।  

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

সুবিধা পেলে আখ চাষে ফিরতে চায় কৃষক

কুষ্টিয়া: বাংলাদেশের অর্থকরী ফসলের মধ্যে আখ অন্যতম। এক সময় কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকায় চাষ হতো চিনি তৈরির এ কাঁচামাল। এরই সুবাদে কুষ্টিয়ায় চিনিকল স্থাপন করা হয়। প্রথম দিকে কৃষকরা ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আখ চাষ করলেও এখন আর তাদের আখ চাষ করতে দেখা যায় না। 

আখের অভাবে প্রায় বন্ধ কুষ্টিয়ার চিনিকল। বর্তমানে আখের জমিতে চাষ হচ্ছে বিষ বৃক্ষ তামাক।

তামাক চাষে পরিশ্রম বেশি হলেও নানা সুবিধার কারণে কৃষক ঝুঁকে যাচ্ছে তামাক চাষে। তবে আখ চাষে সুযোগ-সুবিধা পেলে কৃষকরা আবারো তাদের জমিতে আখ চাষ করবেন বলে জানিয়েছেন।  

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তামাক চাষি দুলাল আলী বাংলানিউজকে বলেন, আমার যে জমিতে আখ চাষ করতাম সেখানে এখন তামাকের চাষ করি। মিলের দালাল আর কর্মকর্তাদের অত্যাচারের জন্য আখ চাষ ছেড়ে দিয়েছি। মিলে আখ দিতে অসুবিধা, ঠিকমতো ওজন দিত না, ফুরজি (মিলে আখ দেওয়ার ট্রিপ) পাওয়া যেত না, একজনের টাকা আরেকজন তুলে নিত, কৃষকদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতো।

এছাড়া আখ একটি দীর্ঘমেয়াদী ফসল তাই এর চাষ কমে যাচ্ছে। তবে চিনি কল যদি আমাদের সুযোগ-সুবিধা দেয় তাহলে আমরা আবার তামাকের পরিবর্তে আখের চাষ করবো।  

আখ চাষি দিলীপ কুমার বাংলানিউজকে বলেন, মিল সংশ্লিষ্টরা আমাদের আখ নিতে চায় না। তারা তাদের দালালদের কাছ থেকে আখ নেয়। আমরা মিলে আখ দিয়ে ঠিকমতো টাকাও পাই না। মিল কর্তৃপক্ষ যদি আমাদের আখ কেনার এবং ঠিকমতো টাকা দেওয়ার নিশ্চিয়তা দেয় তাহলে আমরা আবার আখ চাষ শুরু করবো।  

আখ চাষি খেপা আলী বাংলানিউজকে জানান, তামাকের চাইতে আখে খরচ ও পরিশ্রম তুলনামূলকভাবে কম। তবে তামাক চাষে কোম্পানি লোন দেয়, সহজেই তামাক কিনে নিয়ে যায় এবং টাকা পরিশোধ করে। তাই তামাকের ওপরে কৃষকদের বেশি ঝোঁক। যদি আখ চাষিদের স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়া হয় তাহলে আখ চাষ করতে আগ্রহী হবে কৃষকরা।  

কুষ্টিয়া চিনি কলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল কাদের বাংলানিউজকে বলেন, আমরা চিনির উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কৃষকদের আখ চাষে উৎসাহিত করে যাচ্ছি। তাদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করছি। ডিজিটাল পদ্ধতিতে এসএমএস এর মাধ্যমে সরাসরি চাষির কাছ থেকে আখ ক্রয় এবং শিউর ক্যাশের মাধ্যমে টাকা পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আশা করছি চাষিরা আবারো আখ চাষে উৎসাহিত হবে।  

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

দুই প্রজাতির মিষ্টি বাঙ্গি উদ্ভাবনে অভাবনীয় সাফল্য

রাজশাহী: শুরুটা হয়েছিল নয় বছর আগে। এক জাপানি বন্ধুর পরামর্শে সেদেশে উৎপাদিত ‘রাগবি’ ও ‘মাস্কমেলন’ নামের বিশেষ প্রজাতির মিষ্টি বাঙ্গির বীজ এনে এখানে চাষের উদ্যোগ নেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মনজুর হোসেন।

নয় বছর ধরে বেশ কয়েকবার তিনি জাপানি বাঙ্গির পরীক্ষামূলকভাবে চাষও করেন। কিন্তু মাটি ও আবহাওয়া উপযোগী না হওয়ায় বীজগুলো নষ্ট হয়ে যায়।

এরপর থেকেই বাংলাদেশের আবহাওয়া উপযোগী মিষ্টি জাতের বাঙ্গি উদ্ভাবনের জন্য গবেষণা শুরু করেন তিনি। দীর্ঘ নয় বছরের নিরলস গবেষণার পর তিনি মিষ্টি বাঙ্গি উদ্ভাবন করেছেন। স্বাদে অতুলনীয় এ বাঙ্গির নাম দিয়েছেন ‘সোনালি বাঙ্গি’।

বাংলাদেশে উৎপাদিত বাঙ্গির মিষ্টতা নেই বললেই চলে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ফলটি খরমুজ, ফুটি, কাঁকুড় বিভিন্ন নামে পরিচিত। তবে কুমড়াগোত্রীয় গ্রীষ্মকালীন এ ফলটি একে তো স্বাদেও মিষ্টি নয়, আবার পরিপক্ব হলেই ফেটে যায়। মিষ্টি না হওয়ায় সাধারণত গুড় বা চিনি দিয়ে খাওয়া হয়। তবে এ ধারণা পাল্টে দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ব্যায়োলজিক্যাল সায়েন্সেসের (আইবিএসসি) পরিচালক অধ্যাপক মনজুর হোসেন। তার উদ্ভাবিত এই সোনালি বাঙ্গির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো চিনির মতো মিষ্টি আর ফেটে না যাওয়া।

অধ্যাপক মনজুর হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, দেশীয় প্রজাতির বাঙ্গির সঙ্গে দু’টি জাপানি প্রজাতির বাঙ্গির জীবন সন্নিবেশনের মাধ্যমে দু’টি বিশেষ প্রজাতির বাঙ্গি উদ্ভাবিত হয়েছে। জাপানি ‘রাগবি’ প্রজাতির সঙ্গে দেশীয় বাঙ্গির সংকরায়নের মাধ্যমে উদ্ভাবিত হয়েছে ‘সোনালি বাঙ্গি’। এছাড়া, জাপানি ‘মাস্কমেলন’ প্রজাতির সঙ্গেও দেশীয় বাঙ্গির সংকরায়নের মাধ্যমে তিনি আরও একটি প্রজাতির বাঙ্গি উদ্ভাবন করেছেন। তবে এই প্রজাতির বাঙ্গির এখনও নামকরণ করা হয়নি।

পাকা মিষ্টি বাঙ্গির গায়ের রং সোনালি হওয়ায় তিনি উদ্ভাবিত বাঙ্গির নাম দিয়েছেন ‘সোনালি বাঙ্গি’। প্রথম অবস্থায় ফলটি হয় গাঢ় সবুজ রঙের। আকৃতি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এর গায়ের রং পরিবর্তন হয়ে সোনালি বর্ণ ধারণ করে। ছোট অবস্থায় দেখতে মাল্টা বা কমলার মতো এবং পরিপূর্ণ বাঙ্গিগুলো দেখতে একটি ছোট আকারের মিষ্টি কুমড়ার মতো। প্রতিটি বাঙ্গিই আধা কেজি থেকে প্রায় এক কেজি হয়।

রাজশাহী মহানগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় অধ্যাপক মনজুর কাদেরের গবেষণাগারে গিয়ে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে সোনালি বাঙ্গির চারা রোপণ করা হয়েছে। কিছু কিছু গাছে সোনালি বাঙ্গি ঝুলে আছে। বাঙ্গিগুলো আকার বড় আকারের কমলার মতো।

তিন শতক জায়গায় এই সোনালি বাঙ্গির চাষ করছেন অধ্যাপক মনজুর।

চাষ পদ্ধতির বিষয়ে অধ্যাপক মনজুর কাদের বলেন, ‘সোনালি বাঙ্গির’ চাষ পদ্ধতি ভিন্ন। এ বাঙ্গি মাটিতে চাষ করা যাবে না। মাটি থেকে চার-পাঁচ ফুট উচ্চতায় মাচা করে ফলটি চাষ করতে হয়। চাষের জন্য আলাদা কোনো মাটির প্রয়োজন নেই। সাধারণ বাঙ্গিগুলো যে মাটিতে চাষ করা হয় এ বাঙ্গিও সেই মাটিতে চাষ করা যাবে। চাষের খরচ সাধারণ বাঙ্গির তুলনায় কিছুটা বেশি। প্রতি বিঘা জমিতে খরচ পড়বে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা।

সোনালি বাঙ্গি উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনি রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন অধ্যাপক মনজুর হোসেন।  

অধ্যাপক মনজুর হোসেন বলেন, বাঙ্গি যে কতটা মিষ্টি হতে পারে সেটা অনেকে কল্পনা করতে পারেনি। জাপানি কাতো কেউকির পরামর্শে কাজ শুরু করেছিলাম। দীর্ঘদিন গবেষণার ফলে মিষ্টি জাতের এই বাঙ্গি উদ্ভাবন করতে পেরেছি। আমার বিশ্বাস অদূর ভবিষ্যতে এর মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক মূদ্রা অর্জন করবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

এ বিশ্বে স্কটল্যান্ডই প্রথম…

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে মেয়েদের ঋতুস্রাবকালীন প্রয়োজনীয় পণ্য বিনামূল্যে সরবরাহে আইন পাস করেছে স্কটল্যান্ড সরকার। মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) দেশটির পার্লামেন্টে সর্বসম্মতভাবে ‘পিরিয়ড প্রোডাক্টস (ফ্রি প্রভিসন) বিল’ পাস হয়।

এ আইনের মাধ্যমে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে যে, এখন থেকে যদি কারো ঋতুস্রাবকালীন কোনো পণ্যের (যেমন: তুলা ও স্যানিটারি প্যাড) প্রয়োজন হয়, তাহলে তিনি যেন সেগুলো বিনামূল্যে ও সহজে সংগ্রহ করতে পারেন।

বিলটি উত্থাপন করেন স্কটিশ পার্লামেন্টের সদস্য মনিকা লেনন। ২০১৬ সাল থেকে তিনি মেয়েদের ‘পিরিয়ড পোভার্টি’ দূরীকরণে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন।

মনিকা লেনন বলেন, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এর আগে তৈরি সব আইনের মতোই এটি পাস করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। কারণ মহামারির কারণে মেয়েদের ঋতুস্রাব থেমে থাকে না। এছাড়া এ সময় প্রয়োজনীয় তুলা, প্যাড ও অন্যান্য পণ্যগুলো সহজে পাওয়ার ব্যবস্থার বিষয়টি কখনোই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেনি।

মেয়েদের ঋতুসাব সাধারণত তিন থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এ সময় তুলা, প্যাড ও অন্যান্য পণ্য কিনতে যে খরচ তা বহন করতে অনেক মেয়েকেই হিমশিম খেতে হয়। কারণ প্রতিটি দেশেই স্যানিটারি পণ্যের মূল্য বেশ চড়া, যার জন্য প্রতিমাসে একটি বড় অর্থ এ খাতে খরচ করতে হয় মেয়েদের।

দুই হাজার নারীর ওপর পরিচালিত ইয়ং স্কট-এর এক জরিপে দেখা গেছে, স্কটল্যান্ডের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ঋতুস্রাবকালীন প্রয়োজনীয় পণ্য পেতে উত্তরদাতাদের মধ্যে চারজনে একজন মুশকিলে পড়েন বলে জানান।

গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যে শতকরা ১০ শতাংশ মেয়ের ঋতুস্রাবকালীন প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার সামর্থ্য নেই। এছাড়া ১৫ শতাংশ মেয়েকে এসব পণ্য পেতে ভোগান্তি পোহাতে হয় এবং দামের কারণে ১৯ শতাংশ পেয়ে যথাযথ পণ্য ব্যবহার করতে পারেন না।

গবেষকরা বলছেন, তরুণীদের জন্য এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ১৪ থেকে ২১ বছর বয়সী ৭১ শতাংশ মেয়ে ঋতুস্রাবকালীন প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে বিব্রত বোধ করেন।

গবেষকরা আরও বলছেন, মেয়েদের পড়াশোনার ওপর ঋতুস্রাব যে প্রভাব ফেলে তা এ ধরনের আইন প্রতিরোধ করবে। কারণ, ঋতুস্রাবের সময় প্রায় অর্ধেক মেয়ে স্কুলে আসতে পারে না।

বিলটি পাস হওয়ার পর স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টারজিওন এক টুইট বার্তায় বলেন, যুগান্তকারী আইনটির পক্ষে ভোট দিতে পেরে গর্ববোধ করছি। এর মাধ্যমে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে স্কটল্যান্ড সরকার মেয়েদের ঋতুস্রাবকালীন প্রয়োজনীয় পণ্য যা তাদের এ সময় জরুরি, সেগুলো বিনামূল্যে ও সহজ সরবরাহ নিশ্চিতে আইন তৈরি করলো। এটি নারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

এর আগে গত বছরে স্কুলে মেয়েদের বিনামূল্যে স্যানিটারি পণ্য সরবারহের উদ্যোগ নেয় ইংল্যান্ড। এ বছরের প্রথম দিকে নিউজিল্যান্ডও একই পদক্ষেপ নেয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com