আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফসল

মৌ চাষে মোয়াজ্জেমের সুদিন

ধামরাই (ঢাকা): ছোটো বেলা থেকে পড়াশোনায় ভালো করলেও চাকরির প্রতি কোনো ইচ্ছা ছিল না মোয়াজ্জেমের। তিনি ভাবতেন নিজেই একজন উদ্যোক্তা হবেন। কারো চাকরি করবেন না। তাই মাধ্যমিকে পড়াশোনার পাশাপাশি কিছু করবেন বলে ভাবতেন তরুণ মোয়াজ্জেম।

২০১২ সালে বিবিএ শেষ করার পর চাকরি নামক সোনার হরিণের পেছনে না ছুটেই মৌমাছি চাষ শুরু করেন মোয়াজ্জেম। কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়ায় মৌ চাষিদের দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রথমে দু’টি ও পরে ছয়টি মৌ-বক্স কিনে এনে মৌ চাষ শুরু করেন।

কিন্তু প্রশিক্ষণ ছাড়া মৌ চাষ করা সম্ভব নয় বিধায় ২০১৫ সালের মধ্যে তার সব মৌমাছির মৃত্যু হওয়ায় ভেঙে পড়েন তিনি।

হতাশ হয়ে তিনি ভেবেই নিয়েছিলেন আর মৌ চাষ করবেন না। কিন্ত না, কয়েক মাস পর সাতক্ষীরার এক মৌ চাষি আব্দুল আজিজের কাছে যান তিনি। সেখানে গিয়ে বিনা বেতনে শুধু প্রশিক্ষণের জন্য চার মাস মৌমাছির পরিচর্যার কাজ করেন। চারমাস পর বাড়ি ফেরার সময় আব্দুল আজিজ খুশি হয়ে মোয়াজ্জেমকে ছয়টি বক্স দেন।

সেই ছয়টি বক্স থেকে বেড়ে ২০১৭-১৮ বছরে ২১টি বক্স হয়। পরে ২০১৯ সালে এসে এখন মৌমাছিসহ ৫৩টি বক্স রয়েছে মোয়াজ্জেমের। প্রতিটি বক্সে প্রায় ৫০ হাজার মৌমাছি রয়েছে। ৫৩টি বক্সে ৫৩টি রানী মৌমাছি রয়েছে। মৌমাছিগুলো পরিচর্যার জন্য আনোয়ারা নামে এক তরুণকে তার সঙ্গে রেখেছেন। সকাল-সন্ধ্যা দুই জনে মৌমাছিগুলোর পরিচর্যা করেন।

মোয়াজ্জেমের বাড়ি ঢাকার সাভার থানার পাশে হলেও তিনি তার মৌমাছিদের নিয়ে ঘুড়ে বেড়াই দেশের বিভিন্ন জেলায়। বর্তমানে তিনি ধামরাইয়ের কুল্লা ইউনিয়নের ফোটনগরের একটি সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌমাছিদের নিয়ে অবস্থান করছেন।

মোয়াজ্জেমের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে প্রথমেই মনে পড়ে গেলো নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্যের ‘কাজের লোক’ কবিতার চারটি লাইন ‘মৌমাছি, মৌমাছি, কোথা যাও নাচি, নাচি, দাঁড়াও না একবার ভাই। ওই ফুল ফোটে বনে যাই মধু আহরণে দাঁড়াবার সময়তো নাই’।

মৌ চাষি মোয়াজ্জেম।  ছবি: সাগর ফরাজী

কথা হয় মোয়াজ্জেমের সঙ্গে। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, প্রথমদিকে প্রচুর হতাশা কাজ করতো। কিন্তু প্রশিক্ষণ নিয়ে আসার এক বছরের মধ্যই ঘুরে দাঁড়ায় জীবন চলার পথ। সেই পথের বাহন এখন মৌমাছির মতো ক্ষুদে একটি প্রাণী। এ পেশায় আমি খুশি ও স্বাবলম্বী।

তিনি বলেন, পড়াশোনা শেষে করে হতাশায় পড়ে গিয়েছিলাম। কি করবো বুঝতে পারছিলাম না। দুই দুই বার মৌমাছি পালন করেও ব্যর্থ হয়ে গিয়েছিলাম। পরিবার থেকেও আর চাচ্ছিলো না এসব করি। পরে ভেবে নিলাম কারো দাসত্ব হয়ে কাজ করতে পারবো না। তাই প্রশিক্ষণ নিয়ে আবার নেমে পরলাম মৌ চাষে। ঘুরে দাঁড়ালো আমার সংসার। এখন আমি প্রতি বক্স থেকে সপ্তাহে ৪-৮ কেজি করে মধু সংগ্রহ কররি। প্রতি কেজি মধু ৩৫০-৪০০ টাকা পাইকারী ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। সেই সঙ্গে এখানে মধু চাষ দেখতে আসা দর্শনার্থীরাও ২ কেজি কিংবা ৩ কেজি করে মধু খুচরা দাম ৫০০ টাকায় কিনছেন।

সফল এই মধু চাষি আরও বলেন, অল্প সময়ে ফলনশীল সরিষা শীতকালে লাভের আশায় কৃষকরা চাষ করে। মৌমাছি থাকলে এই সরিষার ফলন বাড়ে পরাগায়নের মাধ্যমে। আমরা সরিষা ক্ষেতের পাশে সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখি মৌমাছিসহ মৌ চাষের বাক্স। এতে এক দিকে যেমন আমরা মধু পাচ্ছি। অন্যদিকে, সরিষা চাষিরা পাচ্ছে কমপক্ষে ১৫ শতাংশ বেশি ফলন। আমরা আর ১০-১২ দিন এখানে থাকবো পরে দক্ষিণ আঞ্চলের জেলাগুলোতে চলে যাবো।

ধামরাই উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আরিফুল হাসান বাংলানিউজকে বলেন, ধামরাইয়ে এ বছর সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৪ হাজার হেক্টর এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পাঁচ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন। সরিষায় এক প্রকার পোলেন গ্রিন থাকে ওই পোলেন গ্রিন মৌমাছির পায়ে এবং বুকে লেগে পরাগায়নের সৃষ্টি হয়, ফলে সরিষার প্রায় ১৫ শতাংশ ফলন বৃদ্ধি পায়। এবার ধামরাইয়ে ছয়টি স্থানে ১০ হাজার বক্স নিয়ে মৌচাষিরা মধু চাষ করছেন। এবার মধুর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ২.৫০ টন। মৌ চাষিদের তেমন কোনো বড় ধরনের পুঁজি লাগে না। তাদের বড় পুঁজি হচ্ছে প্রশিক্ষণ যা আমরা বিভিন্নভাবে মৌ চাষিদের দিয়ে আসছি।

ফসল

চার বছরের মধ্যে পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতায় রোড ম্যাপ

আগামী চার বছরের মধ্যে পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চায় বাংলাদেশ। এজন্য একটি রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়ন হলে দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমেই পেঁয়াজের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। কৃষি মন্ত্রণালয় ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর (ডিএই) থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন চাহিদার তুলনায় কম। এ কারণে আমদানির মাধ্যমে চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ করা হয়। আর পেঁয়াজ আমদানি মূলত ভারত নির্ভর। ভারত রফতানি বন্ধ করে দিলে অস্থির হয়ে ওঠে বাংলাদেশের পেঁয়াজের বাজার। এই প্রেক্ষিতে কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক গত ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কেন্দ্রীয় গবেষণা পর্যালোচনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়াতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এরপর পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য একটি রোডম্যাপের খসড়া প্রণয়ন করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। প্রথম খসড়াটি তিন বছর মেয়াদি। এটি উপস্থাপন করা হলে কৃষি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসে ডিএইকে পরিমার্জনের নির্দেশনা দেয়। সে অনুযায়ী ডিএই চার বছরের রোডম্যাপ প্রণয়ন করে। গত ২৩ নভেম্বর কৃষি মন্ত্রণালয়ে এক সভায় রোডম্যাপটি উপস্থাপন করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে একটি পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এটি এখনও আমরা চূড়ান্ত করতে পারিনি। এ নিয়ে কাজ করছি। আমরা চার বছরের মধ্যে পেঁয়াজের ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চাচ্ছি।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আসাদুল্লাহ বলেন, ‘আগামী চার বছরের মধ্যে আমরা পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবো ইনশাআল্লাহ। আমরা পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়াব, একই সঙ্গে ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে পেঁয়াজের যে ক্ষতি, সেটা কমিয়ে আনব। রোডম্যাপের অংশ হিসেবে পেঁয়াজে স্বংয়ংসম্পূর্ণতা আনতে বিভিন্ন কৌশল নেয়া হবে। আমরা চাষিদের পেঁয়াজ সংরক্ষণের বিষয়ে প্রশিক্ষণও দেব। হাইটেক পদ্ধতিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা চালু হবে।’

রোডম্যাপ অনুযায়ী এবার পেঁয়াজের ফলন ২ লাখ টন বাড়ানোর পরিকল্পনা নেয়া হবে জানিয়ে মহাপরিচালক বলেন, ‘পরের বছর (২০২১-২২) ৩ লাখ ২২ হাজার টন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৩ লাখ ৫০ হাজার টন এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এক লাখ টন পেঁয়াজ অতিরিক্ত উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। সব ঠিকঠাক হলে ৪ বছর পর এখনকার তুলনায় পেঁয়াজের উৎপাদন ১০ লাখ টন বেশি হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে হেক্টরপ্রতি পেঁয়াজের উৎপাদন ১০ লাখ টনের মতো। উচ্চ ফলনশীল বীজ পেলে হেক্টরপ্রতি উৎপাদন ১৩ থেকে ১৪ লাখ টনে নিয়ে আসা যাবে। অন্যান্য দেশে তাই হচ্ছে। এতে আবাদের জমি বাড়ানোর প্রয়োজন নেই। আমরা সেদিকে যাচ্ছি। বীজের ক্ষেত্রেও আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার চেষ্টা করছি।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সরেজমিন উইং ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে পেঁয়াজ চাষের আওতায় জমির পরিমাণ ২ লাখ ৩৭ হাজার হেক্টর। এসব জমিতে মোট পেঁয়াজ উৎপাদন হয় ২৫ লাখ ৬৬ হাজার টন। উৎপাদিত পেঁয়াজের মধ্যে রবি ৮১ দশমিক ৫৬ শতাংশ, মুড়িকাটা ১৮ দশমিক ১৯ শতাংশ ও গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ০ দশমিক ১১ শতাংশ। হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ১০ দশমিক ৮২ টন।

২৫ লাখ টনের বেশি পেঁয়াজ উৎপাদিত হলেও এর মধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়। তাই উৎপাদন ১৯ লাখ টনের মধ্যে থাকে। বীজ ও অপচয় বাদে মোট চাহিদা ২৫ লাখ ৯৬ হাজার টন। ২৫ শতাংশ সংগ্রহোত্তর ক্ষতি বিবেচনায় উৎপাদন দরকার ৩৪ লাখ ৬১ হাজার টন। সে অনুযায়ী পেঁয়াজের ঘাটতি ৮ লাখ ৯৫ হাজার টন। প্রতি বছর মোটামুটি ১০ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়।

পেঁয়াজ আমদানির চিত্র

ডিএইর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দেশে ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৯০ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আমদানি হয় ১০ লাখ ৯৮ হাজার ৯২০ টন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১০ লাখ ৬৪ হাজার ৩৪০ টন এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আমদানি করা হয় ১০ লাখ ৯১ হাজার টন। গত অর্থবছরে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে ১০ লাখ ৭ হাজার ২২০ টন। আমদানি করা পেঁয়াজের প্রায় পুরোটাই ভারত থেকে এসেছে। আর সামান্য পরিমাণ এসেছে চীন, মিশর, পাকিস্তান ও মিয়ানমার থেকে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনআরবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৯৫ শতাংশ, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে শতভাগ, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশ ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে শতভাগ পেঁয়াজ এসেছে ভারত থেকে।

রোডম্যাপ অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে (২০২০-২১) ২৫ লাখ ৯৬ হাজার টন নিট চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৫ শতাংশ ক্ষতিসহ পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৪ লাখ ৬১ হাজার টন। উৎপাদনশীলতা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উৎপাদন বাড়বে ৬ লাখ ২৫ হাজার টন। ২ লাখ ৭০ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির মাধ্যমে চাহিদা পূরণ করা হবে।

গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ

পরের বছর (২০২০-২১) চাহিদা ধরা হয়েছে ২৬ লাখ ২৫ হাজার টন। ক্ষতিসহ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৩৫ লাখ টন। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৬৮ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এভাবে চতুর্থ বছরে কোনো পেঁয়াজ আমদানির প্রয়োজন হবে না। বরং পেঁয়াজ উদ্বৃত্ত থাকবে।

যেসব কৌশল নেয়া হবে

পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য বিভিন্ন কৌশল নেয়া হবে জানিয়ে ডিএই’র মহাপরিচালক বলেন, ‘উচ্চ ফলনশীল জাত এবং উন্নত পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা হবে। এজন্য প্রচলিত জাতের তুলনায় হেক্টরপ্রতি উৎপাদন বাড়ানো হবে। পেঁয়াজ চাষের এলাকা বাড়িয়ে বা ফসল প্রতিস্থাপন করে আবাদ সম্প্রসারণ করা হবে। ২০২০-২১ অর্থবছরে অনাবাদি এলাকা ও চরের জমি অন্তর্ভুক্ত করে সম্ভাব্য ১২ হাজার ১২ হেক্টর বর্ধিত জমি থেকে উৎপাদন বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সমন্বিত চাষাবাদ ও আন্তঃফসল চাষের উদ্যোগ নেব। এক্ষেত্রে আখ ও ভুট্টার সঙ্গে শীতকালীন পেঁয়াজ এবং আদা, হলুদ, কচুমুখীর সঙ্গে চাষ করা হবে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ। মুড়িকাটা পেঁয়াজ ও গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ানো হবে। দেশব্যাপী এক লাখ কৃষককে প্রতি এক শতক জমিতে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ৩ টন বীজ বিতরণ করা হবে।’

যথাযথ উপায়ে সংরক্ষণ না করায় নষ্ট হয় ৫০ থেকে ৯০ শতাংশ পেঁয়াজ

উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে পেঁয়াজের উন্নত জাতের বিকল্প নেই জানিয়ে ডিজি আসাদুল্লাহ বলেন, ‘বারি পেঁয়াজ-৪, বারি পেঁয়াজ-৫, বারি পেঁয়াজ-৬, লাল তীর কিং— এসব উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ সহজলভ্য নয়। এগুলো কৃষক পর্যায়ে নিয়ে যেতে কয়েকটা বছর সময় লাগবে।

উন্নত সংরক্ষণ ব্যবস্থায় কমবে ক্ষতি

বিশেষায়িত কোল্ড স্টোরেজে পেঁয়াজ সংরক্ষণের মাধ্যমে সংগ্রহোত্তর ক্ষতি কমিয়ে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা।

তারা বলছেন, বর্তমানে পেঁয়াজের যে সংরক্ষণ ব্যবস্থা তা সনাতন এবং মোটেও বিজ্ঞানসম্মত নয়। ব্যাপক ক্ষতির ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও পেঁয়াজকে হয় ঘরের চিলেকোঠায়, না হয় মাটির মেঝেতে বিছিয়ে, অথবা পাটের বস্তায় মার্চ থেকে নভেম্বর, অর্থাৎ চার থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সংরক্ষণের প্রাণান্তর চেষ্টা করা হয়। এ অবস্থায় পেঁয়াজের জাত বা জিনোটাইপ ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা উপযুক্ত না হওয়ায় ৫০ থেকে ৯০ শতাংশ পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়। এতে সংরক্ষণকালীন শরীরতাত্ত্বিক কারণে বিভিন্ন পর্যায়ে ওজন কমে যায় (যেমন- আর্দ্রতা কমে পেঁয়াজ সংকুচিত হয় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ, পচনে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ এবং অসময়ে অঙ্কুরিত হয়ে ২০ থেকে ৪০ শতাংশ নষ্ট হয়)। বিশেষ করে জুন ও জুলাই মাসে যখন অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বিরাজ করে, তখন পেঁয়াজ নষ্ট হয়।

তাই রোডম্যাপ অনুযায়ী বিশেষায়িত কোল্ড স্টোরেজে পেঁয়াজ সংরক্ষণের পদক্ষেপ নেয়া হবে। এছাড়া ক্ষতি কমাতে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

মোখলেছুরের শখের কফি চাষে সাফল্য

কফি চাষ করে সফলতা পেয়েছেন মোখলেছুর রহমান। বাড়ির পাশে গড়ে তুলেছেন অ্যারাবিকা জাতের কফির বাগান। গাছ রোপণের তিন বছর পর ফল আসতে শুরু করেছে। সেগুলো বিক্রি করে টাকাও আসছে বেশ।

মোখলেছুর রহমানের (৩৩) বাড়ি রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের গোয়ালবাড়ি গ্রামে। তারাগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে গ্রামটির অবস্থান। সম্প্রতি গোয়ালবাড়ি গ্রামে গিয়ে জানা যায়, মোখলেছুর রহমানের কফি চাষের আদ্যোপান্ত।

উপজেলা সদর থেকে কাঁচা-পাকা পথ ধরে মোখলেছুরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় তিনি বাড়িতে নেই। খোঁজ করতেই একজন আঙুল উঁচিয়ে দেখিয়ে দেন, ‘ওই যে মোখলেছুর কফিবাগানে কাজ করছেন।’ কিছু দূর এগোতেই দেখা যায়, নিজের বাগানে কফিগাছ থেকে ফল তুলছেন মোখলেছুর। সাংবাদিক পরিচয় শুনে বাগান থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি।

স্ত্রী ও দুই ছেলেমেয়ে নিয়ে মোখলেছুর রহমানের সংসার। বর্তমান তিনি একটি বেসরকারি কোম্পানির শোরুমের জেলা পরিদর্শক। চাকরির পাশাপাশি তিনি কফি চাষ করছেন।বিজ্ঞাপন

কফি চাষে শুরুর কথা জানতে চাইলে মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘২০১৬ সালে ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পারি, পার্বত্য অঞ্চলে কফির চাষ হচ্ছে। তখন আমার মনে হয়, পার্বত্য অঞ্চলের মতো তারাগঞ্জে উঁচু জমি আছে। এই উঁচু জমিতে কফি চাষ করা সম্ভব। এই ভাবনা থেকেই শখ করে কফি চাষের পরিকল্পনা করি। ২০১৭ সালের মে মাসে চট্টগ্রামের জাহানারা গ্রিন অ্যাগ্রো ফার্মের মাধ্যমে ভারত থেকে অ্যারাবিকা জাতের কফির চারা এনে রোপণ করি।’

মোখলেছুর রহমান জানান, তাঁর ২৮ শতক জমিতে ৪৫০টি কফিগাছ আছে। এ কফি চাষ করতে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তিন বছর পর প্রতিটি গাছেই ফল এসেছে। ফলনও ভালো হয়েছে। প্রতিটি গাছে দুই কেজি করে কফি ফল পাওয়া যাচ্ছে। ২০০ টাকা কেজি হিসেবে এ ফল চট্টগ্রামের কফি ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে এক লাখ টাকার কফি ফল বিক্রি হয়েছে। গাছে যে পরিমাণ কফি ফল আছে, তা বিক্রি হবে আরও ৮০ হাজার টাকা। বছরে একবার ফল পাওয়া যায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঊর্মি তাবাসসুম বলেন, কফি সাধারণত পাহাড়ি ফসল। উঁচু এবং যেখানে পানি জমে থাকে না, এমন সমতল জমিতে কফি চাষ করা যাবে। তারাগঞ্জের মাটি বেলে-দোআঁশ হওয়ায় এই মাটি কফি চাষের উপযোগী।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

‘বীজে ভেজাল’, গজায় না চারা

কৃষকদের অভিযোগ, স্থানীয়ভাবে কেনা পুরোনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ বীজ নতুন মোড়কে বাজারজাত করা হচ্ছে। সে বীজ থেকে চারা গজাচ্ছে না।

খুলনার বটিয়াঘাটা সদর ইউনিয়নের বলাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা অঞ্জলি মণ্ডল নিজের এক বিঘা মাছের ঘেরের চারপাশে সবজির বীজতলা তৈরি করেছেন। তাতে আছে ওলকপি, ফুলকপি ও টমেটোর বীজ। কিন্তু বীজতলার চারা রোপণ করতে পারেননি তিনি। কারণ, বাজার থেকে কেনা যে বীজ দিয়ে বীজতলা করেছিলেন, সেখানে খুব অল্প পরিমাণে চারা গজিয়েছে। সেগুলোও বেশ দুর্বল।

অঞ্জলি মণ্ডল বলেন, আগাম চারা দিয়ে মৌসুমের শুরুতে ফলন তুলতে পারলে ভালো দাম পাওয়া যায়। এ কারণে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে সবজির বীজতলা করেন। বাজার থেকে ভালো কোম্পানির বীজই কিনেছিলেন। কিন্তু ওই বীজ থেকে চারা গজায়নি।

কৃষকেরা জানিয়েছেন, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের শতাধিক কৃষক এ ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আর এই উপজেলার কৃষকদের নিয়ে কাজ করা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান লোকজ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৫০ জন কৃষক এরই মধ্যে তাঁদের কাছে বীজ নিয়ে সরাসরি অভিযোগ করেছেন। লোকজের সমন্বয়কারী পলাশ দাস মনে করছেন, পুরোনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ বীজ নতুন মোড়কে বাজারজাত করায় সে বীজ কিনে কৃষকদের এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে।বিজ্ঞাপন

উপজেলার কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেন, মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল বীজে স্থানীয় বাজার ছেয়ে গেছে। স্থানীয় পর্যায় থেকে বীজ সংগ্রহ করে তা বিভিন্ন নামীদামি কোম্পানির নামে মোড়কজাত করে বাজারে ছাড়া হচ্ছে। অন্যদিকে উচ্চফলনশীল (হাইব্রিড) বলা হলেও ফলন কম হয়। অন্যান্য বছরও কৃষকেরা এমন ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তবে এবার ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি।

বটিয়াঘাটা উপজেলার একটি বৈশিষ্ট্য হলো এখানকার কৃষিকাজের বেশির ভাগই নিয়ন্ত্রণ করেন নারীরা। সদর ইউনিয়নের ধলাবুনিয়া গ্রামের নীলিমা মণ্ডলও বীজ নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন। তিনিও আগে সবজি পাওয়ার আশায় বীজতলা করেছিলেন। এক হাজারেরও বেশি বীজের মধ্যে তাঁর বীজতলায় চারা গজিয়েছে মাত্র ২৫ থেকে ৩০টি।

নীলিমা মণ্ডল বলেন, বাজার থেকে চারা কিনলে তা মনের মতো হয় না। এতে বীজতলায় চারা উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু বীজতলার চারা দেখে হতাশ হয়ে আগের মতো বাজার থেকে চারা কিনে রোপণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ব্রি-২৩ নিয়েও অভিযোগ

বাটিয়াঘাটা উপজেলার গঙ্গারামপুর ইউনিয়নের হাজরাতলা বিলে ১ একরের মতো জমিতে ব্রি-২৩ জাতের ধান লাগিয়েছেন কৃষক অমর রায়। তাঁর ওই জমিতে গিয়ে দেখা যায়, কিছু কিছু গাছ থেকে কেবল শিষ বের হচ্ছে, আবার কিছু কিছু গাছের ধান পেকে যাওয়ার উপক্রম। গাছগুলোও বিলের অন্যান্য ধানের চেয়ে অপেক্ষাকৃত দুর্বল।

অমর রায় বলেন, বটিয়াঘাটার মাটির প্রকৃতি ও আবহাওয়ার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হওয়ায় ওই এলাকায় ব্রি-২৩ জাতের ধানের উৎপাদন বেশ ভালো হয়। এতে ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে ওই জাতের ধান লাগাচ্ছেন তিনি। সরকারি প্রতিষ্ঠানের বীজ না পাওয়ায় বাজার থেকে অন্য কোম্পানির বীজ সংগ্রহ করেছিলেন। বীজে ভেজাল থাকার কারণেই এমনটা হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বটিয়াঘাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, সবজির বীজের ব্যাপারে তাঁদের কাছে এখনো কেউ অভিযোগ করেননি। তবে ব্রি-২৩ জাতের ধান নিয়ে অনেক অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত মৌসুমে কারেন্ট পোকার আক্রমণের কারণে বীজের এমন অবস্থা হতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

পৃথিবীর সব থেকে দামি যে ফসল!

চারপাশে নীলের আভা। অদ্ভতু সুন্দর হয়ে উঠেছে ভূস্বর্গ। উপত্যকার এই সৌন্দর্য যেন দেশের সমস্ত সমস্যার কথা ভুলিয়ে দেয়। করোনার এই আবহেও কাশ্মীরের চাষীরা কিছুটা আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন।

২৭ অক্টোবর কেশর দিবস। ওই দিন থেকেই কাশ্মীরের হাজার হাজার একর জমি থেকে কেশরের ফুল তুলতে শুরু করেন চাষীরা। অক্টোবর মাসে কাশ্মীরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল কেশর ফুলের আভায় নীলিয়ে ওঠে।১ লাখ ৬০ হাজার থেকে তিন লাখ রুপি প্রতি কেজি দরে বিক্রি হয় এই কেশর। তাই এই ফসলকে পৃথিবীর সব থেকে দামি ফসল বলা হয়। ভারতে কেশরের চাষ শুধুমাত্র কাশ্মীরেই হয়।

দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার পাম্পোর শহর কেশর শহর হিসাবে পরিচিত। শ্রীনগর থেকে ২০ কিমি দূরে জম্মু-কাশ্মীর মহাসড়কের ধারে অবস্থিত এই শহর। এই শহরের চাষীরা এখন ফুল থেকে কেশর আলাদা করতে ব্যস্ত।

সেপ্টেম্বর মাস থেকে কেশরের কন্দ লাগানো হয়। অক্টোবরের মধ্যে তা থেকে ফুল হয়। বেগুনি রঙের হয় সেই ফুল। তা থেকে স্টিগমা বের করা হয়। পাম্পোর ছাড়াও কিস্তবাড় জেলাতেও কেশরের চাষ হয়। এই বছর ৩ হাজার ৭১৫ হেক্টর জমিতে কেশরের চাষ হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

আমন ধান মাটিতে হেলে পড়ায় দিশেহারা কৃষক

শনিবার (২১ নভ্ম্বের) সকাল থেকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হওয়ায় ছিলো কুয়াশাও। সকাল ৮টা থেকে শুরু হয় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। সেই সাথে ছিল হাল্কা বাতাস। ঘণ্টাখানেক এমন অবস্থায় ঝালকাঠি জেলায় আবাদকৃত আমন ধান মাটিতে হেলে পড়েছে।

গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির সাথে হাল্কা বাতাস, সন্ধ্যার পূর্বেও এমন আবহাওয়া ছিল। জেলার ৪ উপজেলার শতশত হেক্টর জমির আমন ধান মাটিতে হেলে পড়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক। চরম দুশ্চিন্তা ও হতাশায় সময় পার করছেন কৃষকরা।

এরপূর্বে ঝালকাঠি জেলার সর্বত্র আমন ধানে খোলপচা ও পাতামোড়ানো রোগের আক্রমণ দেখা দেয়। ফসল রক্ষায় কীটনাশক দিয়েও তেমন উপকার পাচ্ছেন না কৃষকেরা। সেই সাথে রয়েছে ইঁদুরের উপদ্রবও। সবমিলিয়ে কৃষকরা এখন আমনের ফলন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দিন কাটাচ্ছে।

সদর উপজেলার ছত্রকান্দা, বৈদারাপুর, গাবখান, বেরপাশা, দেউলকাঠি, রাজাপুর উপজেলার নারিকেল বাড়িয়া, শুক্তাগড়, কাঠিপাড়া, পাড়গোপালপুর গ্রামে ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

রাজাপুর উপজেলার নারিকেল বাড়িয়া গ্রামের কৃষক শাহ আলম খলিফা জানান, একাধিকবার প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে ৩বিঘা জমিতে আমন ধানের আবাদ করা হয়েছে। প্রতিবছরের চেয়ে এবছর চাষাবাদে খরচও হয়েছে আড়াইগুণ। এতো অতিরিক্ত খরচ, তারপরেও শেষ সময়ে আমন বীজ ভালোই হয়েছিল।

ভালো ফসলের আশায় ধানের জমিতে দেয়া হয়েছিলো পরিমাণমতো সারও। কিন্তু শনিবার সকালের এবং শেষ বিকেলে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির সাথে হাল্কা বাতাস হওয়ায় ধান মাটিতে হেলে পড়েছে।

এরপর যদি ভারী বর্ষণ এবং পানি বৃদ্ধি না হয় তাহলে ধানের ক্ষতি কম হবে। আর যদি আবহাওয়া খারাপ হয় তাহলে সব ধানই চিটা হয়ে যাবে। দরিদ্র কৃষকের এমন খরচের পরে যদি কাঙ্ক্ষিত ফলন না হয় তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তা ও হতাশায় পড়েছেন কৃষক শাহ আলম খলিফা।

শুক্তাগড় ইউনিয়নের ঘিগড়া গ্রামের কৃষক আক্কাস আলী তালুকদার জানান, নয় কাঠা জমিতে আমনের আবাদ করেছি। বীজের চেহারা পরিবর্তনের সাথে সাথেই পাতামোড়া ও খোলপচা রোগ দেখা দিয়েছে। তিনি মরা ধানের ছোপা ও মোড়ানো পাতার ভেতরে পোকার অসংখ্য সাদা ডিম থেকে ছোট ছোট লম্বাকৃতির পোকা হয়ে ধানের পাতা মরে যাচ্ছিল।

কৃষি বিভাগ ও দোকানদারের পরামর্শে কীটনাশক ওষুধ স্প্রে করায় পোকার দমন হয়েছে। কিন্তু এখন গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির সাথে হাল্কা বাতাসের কারণে ধান মাটিতে লুটিয়ে (হেলে) পড়ায় মাথায় যেন ঠাডা (বজ্রপাত) পড়েছে।

সদর উপজেলার বৈদারাপুর গ্রামের কৃষক চান মিয়া জানান, তিনি দেড় বিঘা জমিতে আমন ধান আবাদ করেছেন। দফায় দফায় বন্যা কাটিয়ে মূল খরচের চেয়ে অতিরিক্ত খরচ করে বীজ ফলাতে অনেক কষ্ট হয়েছে। যখনই বীজ ভালো হয়ে উঠছিলো তখনই খেতে খোলপচা ও পাতামোড়ানো রোগ দেখা দেয়। উপজেলা কৃষি অফিসে গিয়ে পরামর্শ নিয়ে কীটনাশক স্প্রে করায় কিছুটা পানোজ (চেহারার পরিবর্তন) ফিরছে। বীজে ধান আসতে শুরু করেছে। এমন সময় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির সাথে হাল্কা বাতাস হওয়ায় অধিকাংশ ফসলই মাটিতে হেলে পড়েছে। এখন কি করবো তা বুঝতেছি না।

দেউলকাঠি গ্রামের পরিমল মন্ডল জানান, ৩বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করেছি। প্রায় মাসখানেক পূর্বে সার দিয়েছি। বীজ এখন ঘনসবুজ আকৃতির হয়ে ওঠে ধান আসতে শুরু করছে। কয়েকদিনের মধ্যেই ধানের ছড়ার প্রাথমিক শস্য আসবে। এমন অবস্থায় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির সাথে হাল্কা বাতাসের কারণে ধান সব মাটিতে নুয়ে পড়েছে।

জেলা কৃষি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ফজলুল হক জানান, এ বছর জেলায় ৪৮ হাজার হেক্টর জমিতে আমন আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। মৌসুমের শুরুতেই কয়েকদফা বন্যা, অতিবৃষ্টিতে বীজতলা নষ্ট, রোপণকৃত আমনের চারা পচে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছিল।

চাহিদার চেয়েও এক হাজার হেক্টরে অতিরিক্ত বীজতলা এবং ১২০টি বেডে ভাসমান বীজতলা করায় বীজের সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি। কোনো কোনো এলাকায় খোলপচা ও পাতামোড়ানো রোগ স্বল্পাকারে দেখা দিয়েছিলো, তা প্রতিরোধে কৃষকদের পরামর্শ দেয়ার মাধ্যমে প্রতিকার হয়েছে।

শনিবারের গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির সাথে হাল্কা বাতাস হওয়ায় ধান মাটিতে হেলে পড়েছে। এরপর যদি ভারী বর্ষণ এবং পানি বৃদ্ধি না হয় তাহলে ধানের ক্ষতি কম হবে। আর যদি আবহাওয়া খারাপ হয় তাহলে সব ধানই চিটা হয়ে যাবে। এ অবস্থায় যদি প্রণোদনা আসে তাহলে সুষম বণ্টন করে দেয়া হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com