আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফল

রাজধানীতে মৌসুমী ফলের সমাহার

এখন রাজধানীর বাজারে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন মৌসুমী ফল। এবারের আয়োজন মৌসুমী ফল নিয়ে।

  • স্বাদে মিষ্টি আনারসের রয়েছে অনেক কদর। ছবি : মাহবুব আলম

    স্বাদে মিষ্টি আনারসের রয়েছে অনেক কদর। ছবি : মাহবুব আলম

  • এই সময়ে বাজারে কামরাঙা প্রচুর পাওয়া যায়। ছবি : মাহবুব আলম

    এই সময়ে বাজারে কামরাঙা প্রচুর পাওয়া যায়। ছবি : মাহবুব আলম

  • গ্রামের বনে-জঙ্গলে অনাদরে অবহেলায় প্রচুর ফলন হয় গাবের। রাজধানীতে এই গাবের বেশ কদর রয়েছে। ছবি : মাহবুব আলম

    গ্রামের বনে-জঙ্গলে অনাদরে অবহেলায় প্রচুর ফলন হয় গাবের। রাজধানীতে এই গাবের বেশ কদর রয়েছে। ছবি : মাহবুব আলম

  • ফলের রাজা আম। শুধু রাজধানীতে নয় এক দেশের সর্বত্র এখন আম পাওয়া যাচ্ছে। ছবি : মাহবুব আলম

    ফলের রাজা আম। শুধু রাজধানীতে নয় এক দেশের সর্বত্র এখন আম পাওয়া যাচ্ছে। ছবি : মাহবুব আলম

  • সুগন্ধময় রসালো ফল কাঁঠাল। দেশের প্রায় সব জেলাতেই এই ফল পাওয়া যায়। ছবি : মাহবুব আলম

    সুগন্ধময় রসালো ফল কাঁঠাল। দেশের প্রায় সব জেলাতেই এই ফল পাওয়া যায়। ছবি : মাহবুব আলম

  • সাদা রঙের সুদৃশ্য জামরুল সবার নজর কাড়ে। রসে ভরা এই ফল খেতেও সুস্বাদু। ছবি : মাহবুব আলম

    সাদা রঙের সুদৃশ্য জামরুল সবার নজর কাড়ে। রসে ভরা এই ফল খেতেও সুস্বাদু। ছবি : মাহবুব আলম

  • টক-মিষ্টি স্বাদের এই ফলের নাম লটকন। নরসিংদী জেলায় এই ফল বেশি জন্মে। ছবি : মাহবুব আলম

    টক-মিষ্টি স্বাদের এই ফলের নাম লটকন। নরসিংদী জেলায় এই ফল বেশি জন্মে। ছবি : মাহবুব আলম

  • রসালো ফল জাম। কবিতায় কবি এই ফল নিয়ে লিখেছেন, ‘পাকা জামের মধুর রসে রঙিন করি মুখ’। ছবি : মাহবুব আলম

    রসালো ফল জাম। কবিতায় কবি এই ফল নিয়ে লিখেছেন, ‘পাকা জামের মধুর রসে রঙিন করি মুখ’। ছবি : মাহবুব আলম

  • রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পাওয়া যাচ্ছে তালের শাস। এতে বেশ পুষ্টিগুণ রয়েছে। ছবি : মাহবুব আলম

    রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পাওয়া যাচ্ছে তালের শাস। এতে বেশ পুষ্টিগুণ রয়েছে। ছবি : মাহবুব আলম

  • স্বাদে মিষ্টি আনারসের রয়েছে অনেক কদর। ছবি : মাহবুব আলম
  • এই সময়ে বাজারে কামরাঙা প্রচুর পাওয়া যায়। ছবি : মাহবুব আলম
  • গ্রামের বনে-জঙ্গলে অনাদরে অবহেলায় প্রচুর ফলন হয় গাবের। রাজধানীতে এই গাবের বেশ কদর রয়েছে। ছবি : মাহবুব আলম
  • ফলের রাজা আম। শুধু রাজধানীতে নয় এক দেশের সর্বত্র এখন আম পাওয়া যাচ্ছে। ছবি : মাহবুব আলম
  • সুগন্ধময় রসালো ফল কাঁঠাল। দেশের প্রায় সব জেলাতেই এই ফল পাওয়া যায়। ছবি : মাহবুব আলম
  • সাদা রঙের সুদৃশ্য জামরুল সবার নজর কাড়ে। রসে ভরা এই ফল খেতেও সুস্বাদু। ছবি : মাহবুব আলম
  • টক-মিষ্টি স্বাদের এই ফলের নাম লটকন। নরসিংদী জেলায় এই ফল বেশি জন্মে। ছবি : মাহবুব আলম
  • রসালো ফল জাম। কবিতায় কবি এই ফল নিয়ে লিখেছেন, ‘পাকা জামের মধুর রসে রঙিন করি মুখ’। ছবি : মাহবুব আলম
  • রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পাওয়া যাচ্ছে তালের শাস। এতে বেশ পুষ্টিগুণ রয়েছে। ছবি : মাহবুব আলম

ফল

ভুট্টায় ভাগ্য বদলেছে চরবাসীর

ভুট্টায় ভাগ্য বদলেছে চরবাসীর

লালমনিরহাটের অধিকাংশ মানুষের জীবিকা নির্বাহের প্রধান অবলম্বন কৃষি। তার মধ্যে অন্যতম রবিশস্য ভুট্টা, যা সম্প্রতি এ অঞ্চলের ব্র্যান্ডিং পণ্য বলে পরিচিতি পেয়েছে। ভুট্টা চাষ বদলে দিয়েছে এ অঞ্চলের মানুষের জীবন জীবিকা।

এক সময় চরে মানুষ না খেয়ে কষ্টে দিন পার করত। কিন্তু গত ২৫ বছরে চর এলাকায় দৃশ্যপট বদলে গেছে। বালু মাটিতে ভুট্টা চাষ করে বদলে গেছে তাদের জীবন। গ্রামগুলোতে খড়ের ঘরের পরিবর্তে উঠেছে আধাপাকা ঘর। এখন আর না খেয়ে থাকতে হয় না তাদের।

লালমনিরহাটে এখন ভুট্টাই প্রধান অর্থকরী ফসল। ভুট্টার দানা মানুষের খাদ্য হিসেবে এবং ভুট্টা গাছ ও সবুজ পাতা উন্নতমানের গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়। হাঁস-মুরগি ও মাছের খাদ্য হিসেবেও এর যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে।

লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলাজুড়ে সবুজ পাতায় স্বপ্ন বুনছেন ভুট্টা চাষিরা। ইতোমধ্যে কোথাও কোথাও গাছে ফুল আসা শুরু হয়েছে। কোথাও তরতাজা হয়ে গাছ বেরিয়ে আসছে। কম সময়ে ও ভূগর্ভ স্তরের পানি কম ব্যবহার করতে রবিশস্য আবাদের জন্য কৃষকরা ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন।

তিস্তা ও ধরলা নদীর বুকে জেগে উঠেছে একাধিক চর। সেই চরে গড়ে উঠেছে বসতি। চলছে নানা জাতের ফসলের চাষাবাদ। তিস্তার বুকে সবচেয়ে বেশি চর জেগেছে জেলার হাতীবান্ধা উপজেলায়।

অন্যদিকে ধরলার বুকে সবচেয়ে বেশি চর জেগে উঠেছে লালমনিরহাট সদর উপজেলায়। এসব চরের বুকে মানুষের বসতির পাশাপাশি বিভিন্ন জাতের ফসল চাষ শুরু হয়েছে।

ধরলা নদীতে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ও কুলাঘাটে পাঁচটি চর জেগে উঠেছে। এর মধ্যে দুটি চরে জনবসতি গড়ে উঠেছে। তাছাড়া ধরলা, রত্না ও সানিয়াজান নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় নদীর বুকে বোরো ধান চাষের পাশাপাশি ভুট্টা চাষের ধুম পড়েছে। ভুট্টা চাষের ধুম পড়েছে তিস্তার নদীর বুকেও।

তিস্তার চরাঞ্চলে এ বছর আবহাওয়া অনুকূল ও ভুট্টায় পোকার আক্রমণ না থাকায় কৃষকরা বাম্পার ফলনের আশা করছেন।

ভুট্টা চাষে প্রতি বিঘায় প্রায় ৬-৭ হাজার টাকা খরচ হয়। এছাড়া আলুর জমিতে ভুট্টার আবাদ করলে খরচ একটু কম হয়। ভুট্টার পর ওই জমিতে ধান ও পাট আবাদও হয়।

প্রতি বিঘায় ভুট্টার ফলন আসে ৩৫-৪০ মণ। এছাড়া কমপক্ষে ২০-২৫ মণের মতো ফলন হয়। বাজারে নতুন ভুট্টার মণ ৬০০-৭০০ টাকা।

jagonews24

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, তিস্তা নদীতে পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়ন, হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান, সিঙ্গিমারী, গোড্ডিমারী, সিন্দুর্ণা, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, তুষভাণ্ডার, কাকিনা ইউনিয়ন, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়ন, লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুণ্ডা, খুনিয়াগাছ ও রাজপুর ইউনিয়নে ছোট-বড় প্রায় ৬৩টি জেগে ওঠা চরে ভুট্টার চাষ হচ্ছে।

কৃষকরা জানান, প্রতি বছর ছয় মাস পর পর ভুট্টা চাষ শুরু হয়। ভুট্টা চাষের শুরুতেই দাম বেড়ে যায় সার ও বীজের। এতে সাধারণ কৃষকরা স্থানীয় দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অংকের সুদ নিয়ে চাষ শুরু করেন। ফলন ভালো হলে ভালো, না হলে পথে বসতে হয় কৃষকদের।

এদিকে কৃষি ব্যাংকগুলো ভুট্টা চাষের ওপর ঋণ দিলেও সেই ঋণ তুলতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় কৃষকদের। ভুট্টা প্রক্রিয়াজাত কারখানা চালু হলে স্থানীয় বাজারে ভুট্টার দাম নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সেখানে এলাকার বেকার যুবকদের কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করে সচেতন মহল।

কৃষি বিভাগের পাশাপশি ভুট্টা চাষিদের স্বাবলম্বী ও বাজার নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে বেসরকারি বিভিন্ন এনজিও।

চলতি মৌসুমেও এ অঞ্চলের কৃষকরা রেকর্ড পরিমাণ জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন। ২০১৯ সালের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ জমিতে এবার ভুট্টা চাষ করেন এখানকার কৃষকরা। বিশেষভাবে লালমনিরহাট, পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ভুট্টা চাষ করেন তারা।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, লালমনিরহাটে ২০২০-২১ অর্থবছরে রবি মৌসুমে ৩০ হাজার ২৪০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। চলতি অর্থবছর ভুট্টা চাষের জমির পরিমাণ আরও প্রায় দুই হাজার হেক্টর বেড়েছে। প্রতি বছর তামাক চাষ ছেড়ে দিয়ে ভুট্টা চাষের দিকে ঝুঁকছেন কৃষকরা।

jagonews24

এ বছর ভুট্টা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩০ হাজার ১০০ মেট্রিক টন। গত মৌসুমে এ অঞ্চল থেকে প্রায় দুই লাখ ৮২ হাজার টন ভুট্টা উৎপাদন হয়।

সরেজমিনে হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান এলাকায় কৃষক আফজাল হোসেন জানান, দীর্ঘ ২০ বছর ধরে কৃষি বিভাগের সহায়তায় উন্নতজাতের বীজ আবাদের ফলে আগের চেয়ে ভুট্টার ফলন এখন দ্বিগুণ। বর্তমানে প্রতি একর জমি থেকে প্রায় ১০০-১৪০ মণ ভুট্টা পাওয়া যায় এবং এর জন্য খরচ পড়ে ২০-২৫ হাজার টাকা। একরপ্রতি খরচ বাদে লাভ থাকে ৩৫-৪০ হাজার টাকা।

সানিয়াজান এলাকার নিজ শেখসুন্দর গ্রামের শাহাজাহান মন্ডল জানান, এ এলাকায় মানুষের অনেক কষ্ট ছিল। দিনমজুরি করে পরিবার নিয়ে তাদের চলতে হতো। ভুট্টার চাষ শুরু হলে এখানকার মানুষের দিন পরিবর্তন হতে শুরু করে। ভুট্টা চাষের পর থেকে আমরা অনেক উন্নত।

বড়খাতা বাজারের ভুট্টা ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম বলেন, আগাম জাতের ভুট্টার অধিক ফলন, দামও বেশি। প্রতি মণ ভুট্টা ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়।

তিনি আরও বলেন, এ এলাকার ভুট্টা কিনতে ঢাকা, কুষ্টিয়া, যশোরসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা আসেন। তাই কৃষকরা ভুট্টার দামও পান।

হাতীবান্ধা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওমর ফারুক জানান, ভুট্টা চাষের সময় কৃষকদের জমিতে ব্যাপকভাবে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হয়। চলতি মৌসুমে শীতের কারণে সেচ কম দেয়ায় চাষিদের খরচও কম হবে। তিনি তিস্তার চরাঞ্চলসহ জেলাজুড়ে ভুট্টার বাম্পার ফলনের আশা করছেন।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) মো. শামসুজ্জামান জাগো নিউজকে জানান, লালমনিরহাট জেলাজুড়ে ব্যাপক ভুট্টাচাষ হয়েছে। বিশেষ করে নদীর চরগুলোতে ভুট্টার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। জেলাজুড়ে আমাদের কৃষি অফিসাররা মাঠ পর্যায়ে গিয়ে ভুট্টাচাষের জন্য কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে আসছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

নিবন্ধন পেল রঙিন আম-ফলসা

জাতীয় বীজ বোর্ড থেকে নিবন্ধন পেয়েছে অপ্রচলিত দেশীয় ফল ফলসা। একইসঙ্গে নিবন্ধন পেয়েছে বিদেশ থেকে আসা একটি রঙিন আম। রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্র জাত দুটির নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছিল। এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে ফল দুটিকে নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে।

দেশে এই প্রথম ফলসা ফল নিবন্ধন পেল। এটি নাম পেয়েছে ‘বারি ফলসা-১’। আর রঙিন আমটির নাম হয়েছে ‘বারি আম-১৪’। তবে রঙিন আম এর আগেও নিবন্ধন পেয়েছে। নতুন নিবন্ধন পাওয়া জাতটি এসেছিল সৌদি আরব থেকে। আর ফলসাটি ছিল রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রেই।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফল গবেষণা কেন্দ্রের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা গোলাম মর্তুজা ‘লিয়েনে’ সৌদি আরব গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি আমবাগান নিয়ে গবেষণার কাজ করতেন। ২০১০ সালে তিনি ‘টমিএটকিনস’ জাতের আমগাছের ডাল সংগ্রহ করে আনেন। দেশে ফিরে তিনি সেটি রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রে দেন। এরপর ১০টি গাছে ওই ডালের কলম করা হয়।

সোমবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলীম উদ্দীন জানান, প্রথমে ১০টি গাছে কলম করা হলেও নয়টি গাছই মরে যায়। যত্নে মাত্র একটি গাছকে বাঁচিয়ে রাখা যায়। সেখান থেকে এখন চারটি মাতৃগাছ তৈরি করা হয়েছে। গত ১০ বছর ধরে গবেষণা করা হয়েছে। তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রায় প্রতিবছরই গাছে রঙিন আম পাওয়া গেছে।

তিনি আরও জানান, আমটি জুলাই মাসের শেষে পাকে। আম পাকার আগেই মেরুন রঙ ধারণ করে। আমের গড় ওজন প্রায় ৫৫০ গ্রাম। এর ভক্ষণযোগ্য অংশ ৭৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ। গড় মিষ্টতা (টিএসএস) ২২ দশমিক ৮৩ শতাংশ। আমটি লম্বায় ১০ দশমিক ৮৩ সেন্টিমিটার ও প্রস্থ ৮ দশমিক ৪৯ সেন্টিমিটার। খোসা পাতলা ও মাংসল। নিবন্ধন পাওয়া জাতটির ধরণ ‘ইনব্রিড’।

jagonews24

ড. আলীম উদ্দীন, অন্যদিকে রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রে প্রায় ২০ বছর বয়সী একটি ফলসা ফলের গাছ আছে। ফলসা বাংলাদেশের একটি অপ্রচলিত ফল। আকারে ছোট টক-মিষ্টি স্বাদের এই ফলটি বাচ্চারা খুবই পছন্দ করে। ফলটি ভিটামিন আর মিনারেলে ভরপুর। গেল ১০ বছর ধরে এই ফলটিরও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়। তারপরই নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা হয়। নিবন্ধন পাওয়া ফলসার ফল বছরের মে-জুন মাসে খাবার উপযোগী হয়। তখন এর রঙ হয়ে ওঠে কাল বা বেগুনি। ফল হয় পাঁচ থেকে ১২ মিলিমিটার ব্যাসবিশিষ্ট।

তিনি জানান, নতুন এই ফলসা এবং রঙিন আম সারাদেশে চাষ করা সম্ভব। গত ৩১ ডিসেম্বর কৃষি মন্ত্রণালয়ের বীজ অনুবিভাগের মহাপরিচালক ও জাতীয় বীজ বোর্ডের সচিব নতুন এই আম ও ফলসার নিবন্ধন দেন। সার্থক হয় রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীদের গবেষণা ও পরিশ্রম। রোববার নিবন্ধনপত্র রাজশাহী আসে।

ড. আলীম উদ্দীন জানান, আম ও ফলসার নিবন্ধন পাওয়ায় তারা এখন যত বেশি সম্ভব চারা উৎপাদন করবেন। তারপর সরকারি নার্সারিগুলোতে দেবেন। রঙিন আমের চারা এখন চাষি পর্যায়ে খুব বেশি দেয়া সম্ভব না হলেও আগ্রহীদের অন্তত একটি করে তারা দিতে চান। এছাড়া ব্যক্তিমালিকানাধীন বিভিন্ন নার্সারিতেও দু-একটি করে দেয়া হবে, যেন জাতটি ছড়িয়ে পড়ে।

ধীরে ধীরে এটি সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে। আর ফলসার প্রচুর চারা করা সম্ভব বলেও জানান বিজ্ঞানী

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

৫ লাখ টাকার বরই বিক্রির আশা করছেন ফারুক

৫ লাখ টাকার বরই বিক্রির আশা করছেন ফারুক

দেখতে অনেকটা ছোট আকৃতির আপেলের মতো। রঙও আপেলের মতো সবুজ ও হালকা হলুদের ওপর লাল। খেতে অনেক মিষ্টি। এ বরই অনেকটা বাউকুলের মতো দেখা গেলেও এটি মূলত আপেল কুল। এ বছর খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় আপেল কুলের পাশাপাশি নতুন জাতের কাশ্মিরি আপেল কুল চাষে এসেছে সাফল্য। ভালো দাম পাচ্ছেন কৃষক।

পাঁচ বিঘা জমিতে কুল চাষ করেছেন ডুমুরিয়ার গুটুদিয়া গ্রামের কৃষক মো. ফারুক হোসেন। তিনি বলেন, এবছর কুল প্রথম বিক্রি করেছি ১৮০ টাকা কেজি করে। এখন ১৯০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। তাদের ফলন ও বিক্রি খুব ভালো। কৃষি অফিস থেকে তাদের সার্বিক সহযোগিতা করছে।

এ বছর উপজেলায় কুল চাষির সংখ্যা বেড়েছে। ফলনও বেড়েছে। কোনো প্রকার সমস্যা না হলে এবার ৫ লাখ টাকার কুল বিক্রি হবে বলে তিনি আশা করছেন।

স্থানীয় আরেক কৃষক তুষার বিশ্বাস। তিনি বলেন, কুল চাষের জন্য উপযুক্ত স্থানগুলোর মধ্যে ডুমুরিয়া অন্যতম। যেখান সূর্যের আলো পায়, সেসব জায়গায় আপেল কুল ভালো হয়।

jagonews24

ভিটা জমিতে যে কুলগুলো চাষ হয়, তার চেয়ে ঘেরের বেড়ির আইলে যে কুলটা হয়, সেই কুলের রং, স্বাদ, উৎপাদন ও বাজারের চাহিদা খুবই ভালো। কুল গাছ থেকে সংগ্রহ বাছাই ও প্যাকেজিং করে পরিবহনের মাধ্যমে ঢাকার কারওয়ান বাজারে আড়তে বিক্রি করেন তারা।

ডুমুরিয়ার শোলমারি গ্রামের কৃষক হোসেন সরদার এ বছর তার জমিতে ব্যাপক পরিমাণের কুল চাষ হয়েছে। তিনি ১৮ বছর ধরে কুল চাষ করছেন। ফলন বেশি হওয়াতে ফলের ওজনে তার গাছ ঝুঁকে পড়েছে। তিনি বলেন, শীতের কারণে তার কুল ভালো হয়েছে। এবার তিনি দুই বিঘা জমিতে কুলের চাষ করেছেন। আশা করছেন এবার চার লাখ টাকার কুল বিক্রি হবে।

ডুমুরিয়ার জিলেরডাঙ্গী গ্রামের মৎস চাষি নিমাই চন্দ্র তার নিজস্ব মৎস ঘেরের বেড়িতে প্রায় একশত আপেল কুলের গাছ রোপণ করেন। তিনি বলেন, শীতের কারণে তার কুল ভালো হয়েছে। এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি কুল বিক্রয় হবে বলে তিনি আশা করেন।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, ডুমুরিয়ায় এবার ১০০ হেক্টর জমিতে কুল চাষ হয়েছে। অধিকাংশ কুলই ঘেরের পাড়ে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ উপায়ে উৎপাদন হয়েছে। এখানের উৎপাদিত কুল দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। এখান থেকে ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার কুল দেশের বিভিন্ন মার্কেটে বিক্রি হয়।

এখানে যে জাতগুলো করা হয়েছে তার মধ্যে আপেল কুল, বাউকুল, নারকেল কুল। ইতোমধ্যে আপেল কুল ও কাশ্মিরি আপেল কুলের হারভেস্টিং (গাছ থেকে কুল সংগ্রহ) চলছে। এখান থেকে কুল সরাসরি ঢাকায় যাচ্ছে। এ বছর কুলের বাজার মূল্য বেশ ভালো।

jagonews24

তিনি আরো বলেন, দক্ষিণাঞ্চল লবণাক্ত এলাকা। কুল লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে। এ উপজেলায় ঘেরের পাড়ে ও বাণিজ্যিকভাবে আরো বাগান তৈরি হচ্ছে। তারা কৃষকদের বিভিন্ন সহযোগিতা ও পরামর্শ দিচ্ছেন। কৃষকদের মাঠের যে সমস্যাগুলো হচ্ছে, সেগুলো মাঠে গিয়ে সমাধান করার চেষ্টা করছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলা ১০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের কুল চাষ হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে পাঁচ হেক্টর বেশি। এ বছর এ উপজেলা থেকে এক কোটি টাকার কুল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

যে কারণে ফল গাছের অঙ্গ ছাঁটাই করবেন

যে কারণে ফল গাছের অঙ্গ ছাঁটাই করবেন

ফল গাছে প্রচুর পরিমাণে ফুল-ফল উৎপাদনক্ষম শাখা-প্রশাখার সংখ্যা বাড়ানো এবং ফলের গুণগতমান বৃদ্ধি করতে ছাঁটাইয়ের বিকল্প নেই। আমাদের দেশের শহর-নগর-গ্রামে যেদিকেই তাকানো যায় ফলের গাছ চোখে পড়বেই। এসব গাছের অধিকাংশই প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা। খুব কমসংখ্যক ফলগাছ অঙ্গ ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে বৃদ্ধির সুযোগ পায়। ফলগাছ রোপণই আসল কথা নয়।

রোপণ থেকে শুরু করে ফল ধারণ পযর্ন্ত ফল গাছের বিভিন্ন অঙ্গ ছাঁটাই ফল গাছ ব্যবস্থাপনার একটি অন্যতম কাজ। মূলত দুটি উদ্দেশ্যে ফল গাছের অঙ্গ ছাঁটাই করা হয়। প্রথমত, অফলন্ত ফলগাছকে একটি নিদির্ষ্ট আকার আকৃতি দেয়া, দ্বিতীয়ত, অফলন্ত ও ফলন্ত ফলগাছের অপ্রয়োজনীয় দুবর্ল, চিকন, নরম, ভাঙ্গা ও মরা ডাল-পালা এবং রোগ ও পোকা আক্রান্ত ডালপালা ছাঁটাই করে গাছের ভেতরের দিকে আলো-বাতাস চলাচল স্বাভাবিক রাখা। এ দুটি উদ্দেশ্য ছাড়াও আরো কিছু কারণে ফল গাছ ছাঁটাই করতে হয়। যেমন-

jagonews24

১. ফলগাছটি যদি মাতৃর্গাছ হয়, তাহলে ভবিষ্যতে ফলগাছ থেকে বেশি পরিমাণে সায়ন উৎপাদন করা।
২. ফল গাছে প্রচুর পরিমাণে ফুল-ফল উৎপাদনক্ষম শাখা-প্রশাখার সংখ্যা বাড়ানো এবং ফলের গুণগতমান বৃদ্ধি করা।
৩. ঝড় বা প্রবল বাতাসে যেন ফলগাছ সহজে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে জন্য গাছকে সুগঠিত ও মজবুত অবকাঠামো প্রদান করা।

৪. ফল গাছের বিভিন্ন পরিচর্যার যেমন- বালাইনাশক স্প্রে করা, সায়ন সংগ্রহ করা ইত্যাদি কাজ সহজ করা।
৫. যেসব ফল গাছে ফল ধারণ সমস্যা আছে, সেসব গাছের ফল ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে নতুন শাখা-প্রশাখা গজানোর ব্যবস্থা করা।

৬. এক বছর পর পর যেসব গাছে ফল ধরে সেসব গাছের একান্তর ক্রমিক ফলনের প্রভাব কমানো বা ফল ধরার ব্যবস্থা করা।
৭. যেসব শাখা-প্রশাখা অন্য শাখা-প্রশাখার ভেতরে ঢুকে যায় বা নিন্মমুখী হয় সেগুলো ছাঁটাই করে গাছকে ঝোপালো অবস্থা থেকে মুক্ত রাখা।

jagonews24

ফল গাছের বিভিন্ন অঙ্গ যেমন,- ডাল, পাতা, ছাল বা বাকল, ফুল, ফল ও শিকড় বিভিন্ন কৌশলে ভিন্ন ভিন্ন ফল গাছের বিভিন্ন বয়সে জাত ও বৃদ্ধির স্বভাব অনুযায়ী ছাঁটাই করতে হয়। ফল ধরার আগেই ফল গাছের কাঠামোগত আকৃতি গড়ে তোলার উদ্দেশ্য হচ্ছে গাছের শীর্ষ ছাঁটাই করে গাছকে খাটো রাখা।

এতে গাছে সার প্রয়োগ, সেচ প্রদান, স্প্রে করা এবং সহজে ফল সংগ্রহসহ অন্যান্য পরিচর্যা করা যায়। এ ছাড়া গাছে যদি ৪ থেকে ৭টি শাখা-প্রশাখা থাকে তাহলে গাছ যান্ত্রিকভাবেও দৃঢ় ও খোলা-মেলা হয়।

গাছের ভেতরের দিকে এমন কিছু শাখা-প্রশাখা গজায় যেগুলো থেকে কোন ফলন পাওয়া যায় না, সেগুলোও ছাঁটাই করা উচিত। কোন কোন ফল গাছের গোড়ার দিকে কিছু কিছু কুশি বা নতুন শাখা বের হতে দেখা যায়, সেগুলো নিয়মিতভাবে ছাঁটাই করতে হয়। যেমন- ডালিম, পেয়ারা, লেবু ও কাঁঠাল গাছের গোড়ায় দুই-তিন সপ্তাহ পর পর বের হওয়া কুশিগুলো ছাঁটাই করতে হয়।

ছাঁটাই করার সময় লক্ষ্য রাখতে হয়, গাছের সতেজতা কেমন, বয়স কত এবং জাত ও বৃদ্ধির স্বভাব কেমন। কম বয়সী ফল গাছে যথাসম্ভব কম ছাঁটাই বা হালকা ছাঁটাই করতে হয়। তবে কম বা বেশি যে বয়সেরই হোক না কেন গাছে মরা বা ডাঙ্গা এবং রোগ-পোকা আক্রান্ত শাখা-প্রশাখা ছাঁটাইয়ের সময় কিছুটা সুস্থ অংশসহ ছাঁটাই করতে হয়। মূল কাণ্ড এবং মোটা শাখা কখনোই ছাঁটাই করা ঠিক নয়।

বড় মোটা শাখা কাটার সময় নিদির্ষ্ট জায়গা থেকে প্রায় ১ ফুট বা ৩০ সেন্টিমিটার দূরে নিচের দিক থেকে কাটা শুরু করতে হয়। কাটার গভীরতা নিভর্র করে কাটা শাখার অংশ নিচের দিকে বেঁকে আসা পযর্ন্ত। এর পর শাখার উপরের দিকে প্রথম কাটার স্থান থেকে ১ ইঞ্চি বা আড়াই সেন্টিমিটার দূরে দ্বিতীয় কাটা দিতে হয়। এতে কাটা শাখা বাকল বা ছালের সাথে ঝুলে থাকে না।

jagonews24

কাটা জায়গায় আলকাতরা বা ছত্রাকনাশক লাগাতে হয়। চিকন শাখাও নিচের দিক থেকে কাটলে অকতির্ত অংশের ছাল বা বাকল উঠে আসে না। কাটার সময় সুস্থ-সবল কুঁড়ি বা পবর্সন্ধির ঠিক উপরেই শাখা কাটা উচিত। তবে গাছের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের জন্য শাখার কুঁড়ি বা পবর্সন্ধির নিচেই কাটতে হয়।

ফল গাছ ছাঁইয়ের জন্য নিদির্ষ্ট সময় ও মৌসুমের প্রতি অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হয়। কারণ অসময়ে ছাঁটাই করলে সুফল পাওয়ার বদলে গাছে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত ফলন নাও পাওয়া যেতে পারে। বষার্র শেষে এবং শীতের আগে ফল গাছে ছাঁটাই করা উচিত। তবে ফল সংগ্রহের পরই ছাঁটাই করা সবচেয়ে ভালো।

গাছে ফুল আসার আগে আগে বা ফল ধরা অবস্থায় শাখা-প্রশাখা ছাঁটাই করা ঠিক নয়। তবে নিদির্ষ্টসংখ্যক ফলধারণ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত ফুল ও ফল ছাঁটাই করা যেতে পারে। এ ছাড়া খরা, দীর্ঘ শুকনো মৌসুম বা শীতের সময় কখনোই ছাঁটাই করা উচিত নয়। বষার্র সময় বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে ছাঁটাই না করাই ভালো।

আমাদের দেশে বিভিন্ন মৌসুমে বিভিন্ন ফল পাওয়া যায়। এসব ফল গাছ থেকে সংগ্রহ করার পর অথবা শীতের আগেই অথবা যদি প্রয়োজন দেখা দেয়, তাহলে অঙ্গ ছাঁটাই করা হয়। এতে সুস্থ-সবল ফল গাছ থেকে ভালো ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। কয়েকটি জনপ্রিয় ও প্রচলিত ফলগাছের অঙ্গ ছাঁটাই সম্পর্কে সবারই কিছুটা ধারণা থাকা প্রয়োজন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

ফলগাছের বিভিন্ন সমস্যা দূর করবেন যেভাবে

ফলগাছের বিভিন্ন সমস্যা দূর করবেন যেভাবে

দেশের সব জায়গায়ই মৌসুমি ফলগাছে অনেক রোগ ও পোকা-মাকড়ের সমস্যা ছাড়াও বেশকিছু সাধারণ সমস্যা দেখা যায়। সেসব সমস্যার মধ্যে প্রধান প্রধান কিছু সমস্যা ও তার প্রতিকারে কী করণীয় সেসব বিষয়ে জানা থাকলে সহজেই প্রতিরোধ করা যায়।

বাংলাদেশে জনপ্রিয় ফলের মধ্যে আম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, কুল, নারিকেল, কলা, পেঁপে, লেবু, আমড়া, বেল, কতবেল, জামরুল, লটকন, জলপাই অন্যতম। এসব ফলে সাধারণত যেসব সমস্যা দেখা যায় সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- অনিয়মিত ফল ধারণ, ফল ঝরেপড়া রোগ এবং পোকা-মাকড়ের উপদ্রব।

বাংলাদেশে প্রায় ৫০ ধরনের দেশি-বিদেশি ফলের চাষ হয়। এসব ফলের অর্ধেকেরও বেশি ফল পাওয়া যায় গরমকালে অর্থাৎ এপ্রিল মাস থেকে শুরু করে আগস্ট মাস পর্যন্ত সময়ের মধ্যে। বর্ষার পর শীতের শুরুতে বা শীতেও বেশকিছু ফল পাওয়া যায়। আবার এ সময়ের মধ্যে গরমকালের ফলগাছগুলোয় মুকুল বা ফুল বা কুঁড়ি আসাও শুরু হয়।

এসব ফলগাছে অনেক রোগ ও পোকা-মাকড়ের সমস্যা ছাড়াও আরো বেশকিছু সমস্যা দেখা যায়। সেসব সমস্যার মধ্যে প্রধান কিছু সমস্যা ও সমস্যার প্রতিকারে কি কি করণীয় সে বিষয়ে জানা থাকলে সহজেই প্রতিরোধ করা যায়।

অনিয়মিত ফল ধারণ সমস্যাটি প্রধানত দেখা যায় আমগাছে। নিয়মমাফিক ছাঁটাই ও সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ এবং প্রয়োজনীয় সেচ প্রদান করে এ সমস্যা অনেকটাই দূর করা যায়। কোথাও কোথাও বিশেষ কিছু হরমোন ব্যবহার করে প্রতি বছর ফল ধরানোর ব্যবস্থা করা হয়। এটি একটি সাময়িক ব্যবস্থা, এতে গাছের বেশ ক্ষতি হয় ও দ্রুত গাছ ফল ধারণক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ না করলে বা মাটিতে বোরনের ঘাটতি হলে বা মাটিতে রসের অভাব হলে বা বাতাসের আর্দ্রতা কম ও তাপমাত্রা বেশি হলে অনেক সময় ফলের মুকুল ও গুটি ঝরা সমস্যা দেখা যায়। আম, লিচু, পেয়ারায় ফল ঝরা সমস্যা বেশি দেখা যায়। বোরনের অভাবে পেঁপে, নারিকেলের গুটিও ঝরে পড়ে। প্রতি লিটার পানিতে ১ থেকে ২ মিলিলিটার হারে বোরিক এসিড বা সলুবর মিশিয়ে স্প্রে করলে সুফল পাওয়া যায়।

নারিকেলের ভেতরে অনেক সময় পানি হয় না বা নারিকেল ফেটে যায়। এটি গাছে পটাশের অভাবজনিত কারণে হয়। নিয়মিত বছরে দুবার সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগের সময় পটাশ কিছু পরিমাণে বেশি প্রয়োগ করলে এ সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায়। বিভিন্ন ফলে বিভিন্ন রোগের কারণে ফল উৎপাদন কমে যায় বা ফলনে বিপর্যয় দেখা দেয়।

ফলগাছের কচি পাতায় ফোস্কা পড়া রোগ বা এনথ্রাকনোজ রোগ দেখা দিলে কচি পাতা কালো হয়ে কুঁকড়ে যায় এবং গাছের শাখার বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়। আম, কাঁঠাল, পেয়ারা, কলায় এনথ্রাকনোজ রোগ দেখা যায়। এ রোগে প্রথমে পাতা আক্রান্ত হলেও পরে তা কচি শাখা বা ডালে আগামরা ও পরে ফলে ফলপচা হিসেবে দেখা যায়। মেনকোজেব বা প্রপিকোনাজল জাতীয় ছত্রাকনাশক স্প্রে করে এ রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

আম ও কাঁঠাল গাছের পাতা লাল মরিচা রোগে প্রথমে বাদামি রং ধারণ করে পরে কালো হয়ে ছোট ছোট ছিদ্র হয়ে যায়। কপার যুক্ত ছত্রাকনাশক স্প্রে করে লালমরিচা রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ফলগাছে সাদাগুঁড়া রোগ বেশ সমস্যার সৃষ্টি করে। আম ও কুল গাছে যখন ফুল আসে এবং ফল যখন কচি অবস্থায় থাকে তখন সাদাগুঁড়া রোগে ফলের বেশ ক্ষতি হয়ে থাকে। ৮০% সালফার জাতীয় ছত্রাকনাশক স্প্রে করে এ রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

কাঁঠালের মুচিপচা একটি সাধারণ সমস্যা মনে হলেও অনেক সময় এ কারণে গাছে কাঁঠালের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়। আসলে পুরুষ মুচিগুলোতে একটা নির্দিষ্ট সময় পরে পরাগরেণু নষ্ট হয়ে পচন শুরু হয়। কাঁঠাল গাছে বয়স অনুযায়ী সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ এবং ফল সংগ্রহের পর পুরোনো মরা, চিকন ও গাছের ভেতরের দিকের ডাল হালকা ছাঁটাই করলে গাছে পুরুষ ও স্ত্রী মুচি মোটামুটি একই সময়ে আসে এবং পরাগায়নের মাধ্যমে ফল ধারণ হয়।

এ ছাড়া নির্দিষ্ট সময়ের পর পচামুচি গাছ ও গাছের নিচ থেকে সংগ্রহ করে পুঁতে ফেলতে হয়। পেয়ারা, লেবু ফল স্ক্যাব ও ক্যাংকার রোগে আক্রান্ত দেখা যায়। স্ক্যাব ও ক্যাংকার রোগে ফলে দাগ পড়ে ও ক্ষত তৈরি হয়। এতে ফলের বাজারমূল্য কমে যায়। কপার যুক্ত ছত্রাকনাশক স্প্রে করে লালমরিচা রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

আম, কাঁঠাল, লিচু, কুল, ডালিম ও পেয়ারাসহ অনেক ফলেই ফল ছিদ্রকারী পোকার উপদ্রব দেখা যায়। ফল যখন ছোট থাকে তখন পোকা ফলের গায়ে ডিম পেড়ে যায় এবং ডিম থেকে কীড়া বের হয়েই কচি ফলের ভেতরে ঢুকে শাঁস খেয়ে নষ্ট করে। গাছের মরা বাকল, ডাল ও গাছের নিচের আবর্জনার মধ্যে এ পোকার কীড়া সুপ্তকাল কাটায়।

এ জন্য ফল সংগ্রহের পর ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে গাছের ভেতরে আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করলে এবং গাছের নিচের আবর্জনা ও আগাছা পরিষ্কার করলে এ পোকার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কচি ফল আক্রান্ত হলে ও ঝরে পড়লে গাছে প্রতি লিটার পানির সঙ্গে ২ মিলিলিটার হারে ফেনিট্রথিয়ন জাতীয় কীটনাশক ১৫ দিন পর পর দুইবার স্প্রে করতে হয়। কাঁঠাল গাছে এ সমস্যা দেখা দিলে ঘন হয়ে থাকা কাঁঠাল ফল ছাঁটাই করে পাতলা করে দিলে এ পোকার আক্রমণ কমে।

আম যখন পুষ্ট হয় তখন ফলে মাছি ও পোকার আক্রমণ দেখা যায়। এ মাছি ও পোকার আক্রমণে প্রায় সংগ্রহযোগ্য আম নষ্ট হয়ে যায়। নষ্ট বা পোকা আক্রান্ত ফল সংগ্রহ করে মাটিতে গর্ত করে পুঁতে ফেলতে হয়। বিষটোপ বা ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে এ পোকা কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। গ্রীষ্মকালে গরম বেশি পড়লে লিচু ও নারিকেল গাছে মাকড়ের সমস্যা দেখা যায়।

লিচুর পাতা বাদামি রংয়ের হয়ে কুঁকড়ে যায়। পাতার নিচের দিকে মখমলের মতো হয়। ৮০% সালফার জাতীয় ছত্রাকনাশক স্প্রে করলে মাকড় নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কলার বিটল পোকা থেকে ফলকে রক্ষা করতে কাঁদি বের হওয়ার পর পরই ফলের কচি অবস্থায় সাদা বা নীল রংয়ের পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিতে হয়।

পেয়ারা গাছের পাতার নিচে সাদামাছি পোকা জালের মতো আস্তরণ তৈরি করে পাতা থেকে রস চুষে খায়। এতে পাতা বিবর্ণ হয়ে ঝরে পড়ে ও গাছ দুর্বল হয়। আক্রান্ত গাছে ফুল ও ফল কম হয়। প্রাথমিক অবস্থায় পাতা ছিঁড়ে পায়ের তলায় পিষে এ পোকা মেরে ফেলা যায়। আক্রমণ বেশি হলে সামান্য কেরোসিন মিশ্রিত পানি পাতার নিচের দিকে খুব জোরে স্প্রে করে এ পোকা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এ পোকা আলোক ফাঁদ স্থাপন করেও মেরে ফেলা যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com