আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

সকালবেলা মায়ের হাতের ভাত খেয়ে কলেজে যেতাম। কলেজে দুটি শিঙাড়া খেয়ে সারা দিন কাটাতে হতো। সবশেষে রাতে বাসায় ফিরে আবার ভাত। সেই দিনের কথা ভাবলেও অবাক হয়ে যাই।

মায়ের আদরে স্নেহধন্য সেই মানুষটি আজ কোটিপতি। এমনি এমনি নয়, ব্যাংক থেকে ঋণ করেও নয়, মেধা খাটিয়ে। এটাই তাঁর পুঁজি। সঙ্গে যোগ হয়েছে উদ্যম আর নিরন্তর চেষ্টা। এই দুইয়ের সমন্বয়ে গড়ে তোলেন ছোট্ট একটি খামার। একই সঙ্গে চলে কৃষিকাজ। কাজের যোগফল মিলিয়ে প্রতিবছর মুনাফা করছেন ৩৬ লাখ টাকা।

এই কোটিপতির নাম সাহিদুল ইসলাম। ডাক নাম সাঈদ। বয়স কেবল ৪০ ছুঁয়েছে। লেখাপড়া শেষে চাকরি নয়, নিজ উদ্যোগে সাহিদুলের কিছু করার স্বপ্ন গাঁথা হয় রাজধানী ঢাকায় ছাত্রজীবনে।

‘সকালবেলা মায়ের হাতের ভাত খেয়ে কলেজে যেতাম। কলেজে দুটি শিঙাড়া খেয়ে সারা দিন কাটাতে হতো। সবশেষে রাতে বাসায় ফিরে আবার ভাত। সেই দিনের কথা ভাবলেও অবাক হয়ে যাই।’ 

মায়ের আদরে স্নেহধন্য সেই মানুষটি আজ কোটিপতি। এমনি এমনি নয়, ব্যাংক থেকে ঋণ করেও নয়, মেধা খাটিয়ে। এটাই তাঁর পুঁজি। সঙ্গে যোগ হয়েছে উদ্যম আর নিরন্তর চেষ্টা। এই দুইয়ের সমন্বয়ে গড়ে তোলেন ছোট্ট একটি খামার। একই সঙ্গে চলে কৃষিকাজ। কাজের যোগফল মিলিয়ে প্রতিবছর মুনাফা করছেন ৩৬ লাখ টাকা।

এই কোটিপতির নাম সাহিদুল ইসলাম। ডাক নাম সাঈদ। বয়স কেবল ৪০ ছুঁয়েছে। লেখাপড়া শেষে চাকরি নয়, নিজ উদ্যোগে সাহিদুলের কিছু করার স্বপ্ন গাঁথা হয় রাজধানী ঢাকায় ছাত্রজীবনে।

১৯৭৮ সালের ৮ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মশুরাকান্দা গ্রামে সাহিদুলের জন্ম। গ্রামটি সোনারগাঁয়ের পানাম নগরের খুব কাছে। বাবা জহিরুল ইসলাম ও মা মনোয়ারা বেগমের চার ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে সাহিদুল চতুর্থ। বাবা ছিলেন মশুরাকান্দার একটি মসজিদের ইমাম। তাঁর বাবার সংসার চালানোর সম্বল ছিল মাত্র ১৬ কাঠা জমি। তাই ছোটবেলা থেকে বেশ কষ্ট করেই পড়াশোনা করতে হতো তাঁকে। সে সময় মশুরাকান্দা গ্রামে পাকা রাস্তা ছিল না বললেই চলে। মেঠোপথ পাড়ি দিয়ে স্কুলে যেতে হতো সাহিদুলকে। স্টার মার্কসসহ প্রথম বিভাগে মাধ্যমিক পাস করেন। ভর্তি হন ঢাকার সিটি কলেজে। ১৯৯৬ সালে সিটি কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করে সুযোগ পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগে। ঢাকায় থাকার সময়ই জীবনের বাঁক ঘুরে যায় সাহিদুলের। সে কথাই শনিবার নিজের গ্রামের বাড়িতে বসে এই প্রতিবেদককে জানান তিনি।

টিউশনি করে টাকা জমানো শুরু
সাহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘কলেজে পড়ার সময় প্রতিদিন বাড়ি থেকে মোগরাপাড়ায় হেঁটে বাসস্ট্যান্ডে আসতে হতো। দুবার বাস বদল করে প্রায় আড়াই ঘণ্টায় সিটি কলেজে যেতে হতো। ইউনিভার্সিটিতে হলে থাকিনি। কারণ হলে থাকার জন্য রাজনীতিতে জড়াতে হতো। তাই মেসে থাকতাম। কিন্তু মেসের বাড়িওয়ালাদের আচরণে খুব কষ্ট হতো। সেই ক্ষোভ থেকে প্রতিজ্ঞা করি, ঢাকায় একটি বাড়ি আমি কিনবই। তবে চাকরি করে নয়, ব্যবসা করে বাড়ি করব।’

নিজের ইচ্ছায় টাকা জমানো শুরু করেন। অসচ্ছল পরিবারে অর্থপ্রাপ্তির সুযোগ নেই। তাই উপার্জনের পথ হিসেবে বেছে নেন প্রাইভেট টিউশন। সাহিদুল বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় প্রচুর টিউশনি করেছি। নিজের জন্য খুব কম টাকাই খরচ করেছি। কিন্তু টাকা জমাতাম। তৃতীয় বর্ষে পড়ার সময় জমানো টাকা দিয়ে ২০০২ সালে ১০টি গরু কিনেছিলাম। আমাদের এলাকাটি কৃষিপ্রধান। স্থানীয় লোকজনের কাছে গরুগুলো বর্গা দিই। শর্ত ছিল লালনপালন করে ঈদুল আজহার সময় বিক্রি করা হবে। লাভের তিন ভাগের দুই ভাগ কৃষকের। বাকি এক ভাগ আমার। এভাবে বেশ কিছু টাকা আয় করি।’

মেধা আর চেষ্টার জোরে কোটিপতি
মেধা আর চেষ্টার জোরে কোটিপতি

টিউশনি আর গরু বিক্রির টাকায় ৬ শতাংশ জমি কেনেন সাহিদুল। তিনি বলেন, ‘২০০৩ সালে অনার্স পাস করে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) নামে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। ২০১০ সাল পর্যন্ত সেখানে চাকরি করি। যখন চাকরি ছেড়ে দিই, তখন আমার বেতন ছিল ৭০ হাজার টাকা। বেতনের টাকার বড় অংশও আমি সঞ্চয় করি। এই টাকায় গ্রামে বাবার ১৬ কাঠা জায়গায় ১৪টি গরু কিনে ছোট একটি খামার করি। ২০১১ সালে কোরবানির ঈদের শেষ দিকে হাটে গরুর বেশ দাম ছিল। সেই বছর কিছু লাভ হয়। পরের বছর আমার ৬ শতাংশ জমি বিক্রি করি সাত লাখ টাকায়। আমার পুঁজি আরও বেড়ে যায়। এভাবে প্রতিবছর গরুর সংখ্যা বাড়াতে থাকি।’

ভাগ্যের চাকা ঘুরতে থাকে সাহিদুলের
২০১৪ সাল থেকে ঈদের সময় ভারতীয় গরু আসা কমে যায়। সীমান্ত থেকে গরু আসা কমে যাওয়ায় সাহিদুল ইসলামের ভাগ্যের চাকা আরও দ্রুত ঘুরতে থাকে। তিনি জানান, ১৬ কাঠা পৈতৃক জমির পাশে তিন বিঘা জমি কিনে ফেলেন ওই সময়। সেখানে প্রায় এক শ গরু লালন-পালন করা যায়। কিন্তু শুধু গরু কিনলে চলবে না। এটি সঠিকভাবে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে লালন-পালন করা দরকার। এ জন্য গবাদিপশুর প্রচুর খাবার প্রয়োজন। গম-ভুসির দাম বেশি। পড়াশোনা করে, ইন্টারনেট ঘেঁটে ভুট্টার চাষ করা শুরু করেন। হাইব্রিড ভুট্টার চাষ করেন। এই হাইব্রিড ভুট্টা দিয়ে কর্ন সাইলেজ (গরু-ছাগলের খাদ্য) তৈরি করা হয় তাঁর খামারে।

কর্ন সাইলেজ দিয়ে নিজের গরুর খাদ্যের চাহিদা মেটান সাহিদুল ইসলাম। এখন তিনি বাণিজ্যিকভাবে কর্ন সাইলেজ উৎপাদন করে বিক্রি করছেন। সাহিদুল বলেন, প্রতিবছর ৭০টিরও বেশি গরু লালন-পালন করেন তিনি। ঈদুল আজহার প্রায় আট মাস আগে থেকে গরু সংগ্রহ করেন। ঈদ পর্যন্ত এসব গরু কিনতে ও পালন করতে ৫০ লাখ টাকা খরচ হয়। এই গরুগুলোকে খাবার হিসেবে নিজের জমির থেকে উৎপাদিত কর্ন সাইলেজ দেওয়া হয়। আবার ভুট্টা উৎপাদনে জমির সার হিসেবে এসব গরুর বর্জ্য ব্যবহার করেন। সবকিছু রিসাইক্লিং করা হয়। এ জন্য লাভের অঙ্কও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

খামারিদের জন্য সাহিদুলের পরামর্শ হচ্ছে, খামারের কোনো খালি অংশ যেন ফেলে রাখা না হয়। পাঁচ কাঠা জমির ওপর খামার হলেও যে অংশটুকু খালি থাকে তাতে ওই খামারের গরুর জন্য হাইব্রিড ঘাসের চাষ সহজে করা যায়। জায়গা বেশি খালি থাকলে গরুর জন্য হাইব্রিড ভুট্টা তৈরি করা যায়। বছর শেষে এ থেকেও বড় অঙ্কের লাভ করা সম্ভব।

ভুট্টার পাশাপাশি হে নামের গাছ উৎপাদন করছেন সাহিদুল। কর্ন সাইলেজ ও হে খাওয়ালে গরু দ্রুত বৃদ্ধি পায়। মাংসের গুণগত মানও ভালো থাকে। তিনি বলেন, ‘কর্ন সাইলেজ ও হে খাওয়ালে দ্রুত হজম করতে পারে গরু-ছাগল। তাতে এদের শারীরিক গড়ন দ্রুত বাড়ে। মাংসে চর্বিও কম হয়। এই মাংস খেতে সুস্বাদু হয়।’

মেধা আর চেষ্টার জোরে কোটিপতি
মেধা আর চেষ্টার জোরে কোটিপতি

বছরে মুনাফা ৩৬ লাখ টাকা
আট বছর ধরে খামারে গরু লালন-পালন করে মাত্র একবার লোকসানের মুখে পড়েছিলেন সাহিদুল। তবে সেটি খুব কম ছিল বলে জানান। তিনি বলেন, ২০১২ সালে দেড় লাখ টাকা লোকসান হয়। তবে ২০১৫ সাল থেকে ৩০ লাখ টাকার বেশি লাভ করে আসছেন। সে সময় ২৫ বিঘা জমি লিজ নিয়েছিলেন। এই জমিতে হাইব্রিড ভুট্টার চাষ করেন। প্রতিবছর দুবার এই ভুট্টার চাষ হয়। বৃষ্টি কম হলে তিনবারও ফসল পাওয়া যায়। এই হাইব্রিড ভুট্টা থেকে কর্ন সাইলেজ পাওয়া যায়। ভুট্টাসহ গাছ কেটে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। পরে সংরক্ষণ করে কর্ন সাইলেজ তৈরি হয়। প্রতি কেজি কর্ন সাইলেজ উৎপাদনে তিন টাকা খরচ হয়। বিক্রি করেন ছয় টাকা দরে। নিজের গরুর চাহিদা মিটিয়ে প্রতিবছর ৪০০ টন কর্ন সাইলেজ দেশের বিভিন্ন খামারির কাছে বিক্রি করেন তিনি। এবার তাঁর লাভ হয়েছে ১২ লাখ টাকা।

লাভের আরও হিসাবের কথাও জানান সাহিদুল ইসলাম। বলেন, ‘আগস্ট মাসে কোরবানির ঈদের সময় ৭০টি গরু আমার খামার থেকে বিক্রি করে ১৫ লাখ টাকা মুনাফা করেছি। ২০১৭ সালেও লাভের পরিমাণ একই ছিল। এ ছাড়া প্রতি মাসে ১৫টি গরু জবাই করা হয় আমার নিজস্ব কসাইখানায়। এই মাংস বিভিন্ন সুপার শপে সরবরাহ করছি। এভাবে আরও ৭ লাখ টাকা লাভ হয়। সব মিলিয়ে ২০১৫ সাল থেকে প্রতিবছর খামার থেকে ৩৪ লাখ টাকা লাভ হয়েছে আমার। লাভের টাকায় একটি লিচুর বাগান করেছি। লিচু বিক্রি করে দুই লাখ টাকা লাভ হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন বছরে লাভ হচ্ছে ৩৬ লাখ টাকা।’

খামারিদের কাছে সাহিদুল ‘রোল মডেল’
নিজের সাফল্যকীর্তি সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন সাহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, খামারিদের পরামর্শ দিতে প্রতি মাসে দেশের একটি করে জেলায় যান তিনি। খামারিদের সঙ্গে কথা বলেন। কীভাবে তিনি লাভ করছেন তা অন্য খামারিদের কাছে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘অনেকে আমার কাছে আসছেন। আমি পরামর্শ দিচ্ছি। এর জন্য কোনো টাকা নিই না। আমার মনে হয়, এভাবে চললে অল্প কয়েক বছর পর বাংলাদেশ গরুর মাংস রপ্তানি করতে পারবে। তাই আমি ভবিষ্যৎ ভাবনা নতুন করে শুরু করেছি। সেটি হলো, নিজের খামারে গরুর প্রজনন কাজ শুরু করব। এ জন্য ব্রাহমা ও শাহিওয়াল জাতের বাছুরকে বেছে নিয়েছি। এই জাতের গরু দ্রুত বড় হয়। প্রচুর মাংস পাওয়া যায়।’

বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ ইমরান প্রথম আলোকে বলেন, ‘খামারিদের প্রধান খরচ হয় খাদ্যে। ৭০ শতাংশ খরচই হয় গরুর খাবারের জন্য। সাহিদুল খাবারের খরচ কমিয়ে ফেলার পদ্ধতি বের করেছেন। আমাদের সংগঠনে সাড়ে ছয় হাজার খামারি আছেন। ফেসবুকেও অসংখ্য অনুসারী রয়েছেন। সেই সব খামারির কাছে সাহিদুল রোল মডেল।’

যে স্বপ্ন নিয়ে কিছু করার জন্য উদ্যোগী হয়েছিলেন সাহিদুল, সেই স্বপ্নও পূরণ হয়েছে। ঢাকায় এখন তাঁর বাড়ি আছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে তিন কাঠা জমির ওপর দোতলা বাড়ি করেছেন। স্ত্রী কামরুন্নাহার, দুই মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে সাহিদুলের সংসার। দুই মেয়ে সাদিয়া ইসলাম (৯) ভিকারুননিসা নূন স্কুলের তৃতীয় শ্রেণিতে ও নাদিয়া ইসলাম (৬) একই স্কুলের প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। ছেলে মেহমেদ ইসলামের বয়স সাড়ে তিন বছর। বাবা এখন বেঁচে নেই। মা মনোয়ারা বেগম আছেন ভাইবোনের জন্য বৃক্ষছায়া হয়ে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

এগ্রোবিজ

পতিত জমিতে চিনাবাদাম চাষে লাভবান হচ্ছেন কৃষক

মেহেরপুর: পতিত ও অনুর্বর বেলে মাটির জমিতে চিনাবাদাম চাষ করে লাভবান হচ্ছেন মেহেরপুরের চাষিরা। ফলন ও বাজার দর ভালো এবং কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় দিন দিন এই এলাকায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বাদামের চাষ। 

সদর উপজেলার মদনাডাঙ্গা, শ্যামপুর, টেংগারমাঠ ও গোপালপুর গ্রামের অধিকাংশ জমির মাটি বেলে। ফলে এই এলাকার চাষিরা ধান, গম, পাটসহ অন্যান্য ফসল আবাদ করে খুব একটা লাভবান হতে পারেন না।

ধান কাটার পর এ সব জমি সাধারণত পতিত থাকে। এজন্য ৯০ দিনের ফসল হিসেবে অল্প খরচে বাদাম চাষ করছেন এলাকার চাষিরা।  

মেহেরপুর জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, জেলায় এবার বাদাম চাষ হয়েছে ১৫ হেক্টর জমিতে। এবার এক বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করতে চাষিদের খরচ হয়েছে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা সেক্ষেত্রে বাদামের ফলন হয়েছে ৬ থেকে ৭ মণ। আর এ  ফলনে প্রায় ২০ হাজার টাকা ঘরে তুলছেন তারা। বাজারে প্রতিমণ বাদাম বিক্রি হচ্ছে ২৭শ’ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত।  সদর উপজেলার মদনাডাঙ্গা গ্রামের বাদাম চাষি খাঁজা আহমেদ, কাওছার আলী ও ফিরোজ হোসেন বাংলানিউজকে জানান, এলাকার মাটি বেলে হওয়ায় সাধারণত সবজি, আলু ও অন্যান্য ফসল চাষ করার পর জমি পতিত থাকে। সে সময়ে চিনা বাদামের চাষ করা হয়। বাদাম চাষে খরচ কম এবং উৎপাদন ও বাজার দর ভাল। তাই দিন দিন চাষিরা তাদের পতিত জমিতে চিনা বাদামের চাষ শুরু করছেন।  

এছাড়া বাদাম ছাড়ানো, শুকানোসহ যাবতীয় কাজ করে থাকেন এখানকার নারীরা। বাদামের গাছ আবার শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করছেন গৃহিণীরা।  

নারী শ্রমিক সাহানা খাতুন ও জরিমন নেছা বাংলানিউজকে বলেন, আমরা বাদাম ছাড়ানো ও শুকানোর কাজ করে থাকি। এলাকার ২৫/৩০ জন নারী শ্রমিক এ কাজ করে আসছেন।  
গৃহিণী সাজেদা খাতুন ও জামেলা খাতুন জানান, বাদামের লতা জালানি হিসেবে বেশ ভাল। তাই লতাও বিক্রি হচ্ছে।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. আক্তারুজ্জামান বাংলানিউজকে জানান, চিনা বাদামের চাষ সাধারণত পতিত জমিতে হয়ে থাকে। এলাকার চাষিরা এই জমিতে বাদামের চাষ করে বাড়তি আয় করছেন। তাই বাদাম চাষ যাতে আরও সম্প্রসারিত হয় সেজন্য কৃষি বিভাগ চাষিদের বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছে।  

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

সিলেটে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষের সম্ভাবনা

সিলেট বিভাগের উচ্চমাত্রার অ্যাসিডিক জমিতে গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধাসহ বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষে ব্যাপক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কৃষি বিজ্ঞানিরা মৌলভীবাজারের আকবরপুরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে পরীক্ষামূলকভাবে ফুল চাষ করে সফল হয়েছেন। এ ফুল চাষ মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে ১০০ চাষিকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে কৃষি গবেষণা কেন্দ্র।

কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের তথ্যমতে, যশোরে বাণিজ্যিকভাবে গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধাসহ বিভিন্ন ধরনের ফুল চাষ হয়। যার বাজার দর প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। যশোরের ফুল সারাদেশের পাশাপাশি সিলেটেও আসে প্রচুর। সিলেটে ফুলের বাজার শত কোটি টাকার উপরে। কিন্তু সিলেটে ফুলের চাষ বাণিজ্যিকভাবে হয় না।

সিলেট বিভাগের মাটি অ্যাসিডিক হওয়ায় ফুল চাষ করা যাবে না, সেটাই ছিল প্রচলিক ধারণা। কিন্তু এ ধারণাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যদিয়ে ভুল প্রমাণ করেছেন মৌলভীবাজার আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের একদল গবেষক। মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এস এম শরিফুজ্জামানের নেতৃত্বে উচ্চমাত্রার অ্যাসিডিটিক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে ফুল চাষ করে সফল হয়েছেন তারা। এ পরীক্ষামূলক চাষে ফলনও হয়েছে ভালো। তাই সিলেট অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট অঞ্চলে অনেক জায়গা অনাবাদি ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। প্রবাসীরা দেশের বাইরে অবস্থান করায় তাদের অনেক জমি পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকে। এ জমিকে আবাদের আওতায় আনতে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষের উদ্যোগ নিয়ে আগ্রহী ১০০ চাষিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে আমন ধান কাটার পর এ অঞ্চলের অনেক জমি পতিত থাকে। ফলে ফুল চাষ করে অনাবাদি জমি থেকে কোটি টাকা উপার্জন সম্ভব।

বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মিরানা আক্তার সুমি জানান, চাষিরা প্রশিক্ষণ শেষে অনেক কিছু শিখেছেন। কী পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে হয়, তা জেনেছেন। ধানের চেয়ে যেহেতু ফুলের দাম বেশি, তাই ফুল চাষে তাদের আগ্রহ বাড়ছে।

ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. সরফ উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘ভালোভাবে জমি চাষ করে নির্দেশিত মাত্রায় জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হয়। অন্য ফসলের মতোই এর চাষ পদ্ধতি সহজ। বেড তৈরি করে ফুল চাষ করতে হয়। প্রতিটি বেডের দৈর্ঘ যে কোন মাপের হতে পারে। তবে প্রস্থে ১.২-১.৫ মিটার হলে ভালো।’

তিনি বলেন, ‘কলম (বীজ) লাগানো থেকে তিন মাস পর স্টিক সংগ্রহ শুরু হয়। সংগ্রহ করা যাবে পরবর্তী ২৫ দিন। গ্লাডিওলাস ৫টি জাতসহ মোট ১২টি প্রজাতির ফুলের পরীক্ষা করে আমরা সফল হয়েছি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

জৈব

জৈব পদ্ধতিতে ফসলের রোগ পোকা নিয়ন্ত্রণ

সবুজ বিপ্লবের সময়ে পেস্টিসাইড ব্যবহারকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জীব বৈচিত্র্য, মাটির স্বাস্থ্য ও ফসলের গুণমানতা। এখন ভেবে দেখার সময় এসেছে, এত রাসায়নিক পেস্টিসাইড ব্যবহার করা কি ঠিক হচ্ছে? এ প্রশ্ন শুধু ভারতে নয়, সারাবিশ্বের কৃষকসমাজ ও শস্যবিজ্ঞানীদের কাছে। তাই মনে হয় জৈব নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্ব দিয়ে সুসংহত রোগ পোকা নিয়ন্ত্রণ আগামী দিনে একমাত্র সমাধানের রাস্তা হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।

চলমান খরিফ মরসুমে আমাদের রাজ্যে প্রধানত ধান, খরিফ পেঁয়াজ, জুট, ইক্ষু, তিল ইত্যাদি ফসলের চাষ হয়ে থাকে। এ রাজ্যে ধানে ঝলসা রোগের আক্রমণ একটি গুরুতর বিষয়।

জৈব পদ্ধতিতে এই রোগ দমন করার একটি সহজ উপায় রয়েছে। ৫০ মিলিলিটার কেরোসিন তেলে ৮৫ গ্রাম থেঁতলানো রসুন মিশিয়ে ২৪ ঘণ্টা রেখে দিতে হবে। এরপর ৯৫০ মিলি. জল ও ১০ মিলি. তরল সাবান মিশিয়ে ভালোভাবে নেড়ে নিয়ে বোতলে রেখে দিতে হবে। ১৯ লিটার জলের সাথে ১ ভাগ মিশ্রণ মিশিয়ে সকালে/বিকেলে স্প্রেয়ার দিয়ে আক্রান্ত গাছে স্প্রে করতে হবে।

এই মিশ্রণটি আমেরিকান বোল ওয়ার্ম, আর্মি ওয়ার্ম, পেঁয়াজ-এর চিরুনি পোকা, আলুর টিউবার মথ, রুট নট নিমাটোড (কৃমি), আখের কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা, ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ, ডাউনি মিলডিউ ও ধানের ঝলসা রোগ প্রতিরোধে খুবই কার্যকরী।

এছাড়া বিভিন্ন ধরণের পাতা খেকো পোকা ও জাব পোকা নিয়ন্ত্রণে ১ কেজি পেঁয়াজ থেঁতো করে ১ লিটার জলের সাথে মিশিয়ে ২৪ ঘণ্টা রেখে দেবার পর কচলিয়ে রস নিংড়ে নিতে হবে। প্রাপ্ত নির্যাসের সাথে ১০ লিটার জল মিশিয়ে আক্রান্ত ফসলে স্প্রে করতে হবে।

জৈব সার প্রয়োগ ও জৈব কীটনাশক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফসলের উৎপাদন খরচ শতকরা ২৫-৩০ শতাংশ হ্রাস করা সম্ভব। উচ্চ পুষ্টিমানসম্পন্ন প্রযুক্তিতে উৎপাদিত জৈব সার, শাকসব্জী ও অন্যান্য ফসলের প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়াম-এর সাথে অণুখাদ্যের যোগান দেয়।

জৈব পদ্ধতিতে উৎপন্ন কীটনাশক ও ছত্রাকনাশকগুলি ফসলে কোনওরকম দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ব্যতিরেকে, পোকা ও রোগ দমনে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এতে মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকে ও উর্বরতা দীর্ঘমেয়াদী হয়। উৎপাদিত ফসল হয় স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ।

বন্ধুপোকা মাকড়ের (পরজীবি ও পরভোজী) সংরক্ষণের জন্য জমির পাশে অব্যবহৃত জায়গায় ত্রিধারা, উঁচুটি, শালিঞ্চে ইত্যাদি আগাছা জাতীয় গাছের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।

দূরদর্শী পদক্ষেপের মাধ্যমে রাসায়নিক কৃষি বর্জন করে প্রাণ বৈচিত্র্য নির্ভর জৈব কৃষির মাধ্যমে খাদ্যে সার্বভৌমত্ব আনা সম্ভব। তাই জৈব কৃষির পথে ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়ে কৃষিবিষমুক্ত, স্বাস্থ্যসম্মত সমাজ গড়ে তোলাই বাঞ্ছনীয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

টি ব্যাগের ব্যবসা করে আয় করুন প্রচুর অর্থ

চা পানীয়টি আমাদের দেশে খুবই জনপ্রিয় একটি পানীয়। প্রিয়জনের সাথে বৈঠক থেকে শুরু করে সারাদিনের ক্লান্তি দূর করা সবেতেই চা (Tea) আমাদের নিত্যসঙ্গী। তবে এখন মানুষ আগের তুলনায় অনেক বেশী স্বাস্থ্য সচেতন। সাধারণ চায়ের জায়গায় এসেছে, গ্রীণ টি, হার্বাল টি, লেমনগ্র্যাস টি, ব্লু টি ইত্যাদি। আর প্রকারভেদের সাথে বৃদ্ধি পেয়েছে টি ব্যাগের গুরুত্ব। কারণ এটি খুব অল্প সময়ে তৈরি করা যায় এবং যে কোন স্থানে এর থেকে চা বানানো যায়। অফিস ও হোটেলগুলিতে এর যথেষ্ট চাহিদাও রয়েছে। তাই টি ব্যাগ তৈরীর ব্যবসাটি হয়ে উঠতে পারে আপনার জন্য লাভদায়ক।

চা উৎপাদনকারী দেশ গুলির মধ্যে অংশ নেয় চীন, ভারত , কেনিয়া , শ্রীলঙ্কা , জাপান , ইন্দোনেশিয়া , ভিয়েতনাম, তানজেনিয়া , মালয়, বাংলাদেশ, তার্কী এবং চা পানকারী দেশ গুলির মধ্যে ইংল্যান্ড, জর্মানী, কানাডা ও আমেরিকার বেশ নাম রয়েছে।

এ কারণে বেশিরভাগ সংস্থা টি ব্যাগ বিক্রি শুরু করেছে। আপনি যদি নতুন ব্যবসা করার পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে আপনি টি ব্যাগ মেকিং ব্যবসা শুরু করতে পারেন। এটির মাধ্যমে আপনি খুব ভাল অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। যিনি তৈরী করেন, তার থেকে নিয়ে এসে আপনি বাইরে বিক্রি করতে পারেন, এতে আপনার বিনিয়োগের দরকার পড়বে না। কিন্তু যদি বেশী লাভ করতে চান, তবে বিনিয়োগ করে নিজের ব্যবসা শুরু করুন।

টি ব্যাগ ব্যবসা শুরু করার জন্য জায়গা (How to start) –

এটি শুরু করার জন্য আপনি কোনও জায়গা ভাড়া নিতে পারেন। আপনার নিজের জমি থাকলে ব্যবসার জন্য সুবিধা হবে। এমন জায়গা চয়ন করুন, যেখানে মানুষের সমাগম রয়েছে। টি ব্যাগ তৈরীর জন্য আপনাকে মেশিন ইনস্টল করতে হবে।

চা ব্যাগ ব্যবসায় বিনিয়োগ –

আপনি যদি বড় আকারে ব্যবসা শুরু করতে চান, তবে আপনাকে বেশী অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে। এর মেশিনটি যথেষ্ট ব্যয়বহুল, সুতরাং বেশী পরিমাণ রাশি বিনিয়োগের দরকার রয়েছে এই ব্যবসায়, তবে আপনি যদি ব্যাংক থেকে লোণ নেন, তবে আপনি ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করে ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

চা ব্যাগ তৈরিতে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল –

ফিল্টার পেপার –

এর ভিতরে চায়ের পাতা স্টোর করতে হবে। এই কাগজটি সুক্ষ ছিদ্রযুক্ত এবং পাতলা, পাশাপাশি সহজে ভিজে যায় না, তাই এই কাগজটি চা ব্যাগ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

চা পাতা –

আপনি যেমন প্রকারের ব্যাগ বিক্রি করতে চান, তেমন চা পাতা কিনতে হবে।

বিভিন্ন প্রকারের চা –

সাধারণ চা, গ্রীণ টি, উলং টি, ব্ল্যাক টি, হার্বাল টি

চা ব্যাগগুলিতে চা পাতা পূরণ করার প্রক্রিয়া –

চা ব্যাগ তৈরীর মেশিনের সাহায্যে প্রস্তুত চা পাতাগুলি ফিল্টার পেপারে পূরণ করতে হয়। সাধারণত প্রায় ২-৪ আউন্স চা পাতা একটি টি ব্যাগে ভরা হয়। এর পরে, একটি প্যাকিং মেশিনের সাহায্যে ব্যাগটি সিল করা হয়। টি ব্যাগের সাথে একটি সুতো সংযুক্ত থাকে।

চা ব্যাগ ব্যবসায় থেকে লাভ –

আপনি চায়ের পাতার গুণমান অনুযায়ী ব্যাগের দাম নির্ধারণ করতে পারেন। এই ব্যবসা থেকে খুব ভাল লাভ করা যায়। এর আরও বিক্রয়ের জন্য, আপনি বাজারে পাইকারের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। এগুলি ছাড়াও আপনি হোটেল বা অফিসের লোকের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। এই ব্যবসা আপনাকে মাসে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন দিতে পারে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ছাদকৃষি

সহজ পদ্ধতিতে টবে করুন কদবেল চাষ

ছেলে থেকে বুড়ো সবারই প্রিয় টক ঝাল কদবেল। কদবেলের আচার, কদবেল মাখা সকলেরই অত্যন্ত পছন্দের। যারা বাগান করতে পছন্দ করেন, বিশেষত টবে, তাদের জন্য কদবেল এক আদর্শ ফল। কদবেলের আকার অনেকটা টেনিস বলের মতো। শরতের শুরুতে কদবেল বাজারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। এই ফলের মন মাতানো স্বাদ বিশেষ করে মহিলাদের ভীষণই পছন্দের।

টবে কদবেল চাষের পদ্ধতি (Farming Process)

মন কাড়া স্বাদের জন্য পাকা কদবেল সবার কাছেই অত্যন্ত প্রিয়। কদবেল গাছে ফুল আসে মার্চ-এপ্রিল মাস নাগাদ। তবে ফল পাকতে সময় লাগে সেপ্টেম্বর-অক্টবর। টবে রোপনের জন্য কদবেলের কলমের চারা বেশি ভালো। কলমের চারা থেকে কয়েক বছরের মধ্যে ফুল-ফল ধরে। ছাদের টবে এই গাছের চাষ সহজেই করা যায়। জোড় কলম করে এর কলম তৈরি করা যায়। এ গাছের চাষাবাদ অনেকটা বেলের মতোই।

মাটি তৈরি (Land Preparation)

হাফ ড্রামে অথবা টবে পাঁচ সেন্টিমিটার পুরু করে ইটের খোয়া বিছিয়ে তার ওপর ১০ সেন্টিমিটার বালির স্তর দিতে হবে। ড্রামের তলার দিকে জল বার করে দেওয়ার জন্য ছিদ্র রাখতে হবে। এবার তিন ভাগ দো-আঁশ মাটির সাথে দুই ভাগ গোবর সার, ড্রামপ্রতি ২০০ গ্রাম এমওপি (পটাশ) সার, ২৫০ গ্রাম টিএসপি (ফসফেট) সার, ১ কেজি হাড়ের গুঁড়ো, ৫০ গ্রাম জিপসাম সার, ২০ গ্রাম ম্যাগেনেসিয়াম সালফেট (ম্যাগসাল) সার ও ১০ গ্রাম দস্তা সার মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে ড্রামে বা টবে ভরে হালকা করে জল দিয়ে মাটি ভিজিয়ে এক থেকে দুই সপ্তাহ রেখে দিতে হবে।

ড্রাম বা টবের ঠিক মাঝখানে কদবেলের কলম বসিয়ে কলমের গোড়ার মাটি শক্ত করে চেপে দিতে হবে। কলম লাগানোর পর গাছের গোড়ায় জল দিতে হবে। সোজা ভাবে কলম রাখতে গেলে, গোড়ার কাছাকাছি কাঠি পুঁতে তার সাথে কলম বেঁধে দিলে ভালো। শীতকাল ছাড়া বছরের যেকোনও সময় কদবেলের কলম লাগানো যায়। ছাদের ওপর রোদের মধ্যে কদবেলের গাছ রাখা উচিত। এতে গাছের ভালোই হবে।

ফলন এবং পরিচর্যা (Caring)

কলমের গাছে ফুল ফাল্গুন-চৈত্র মাসে নাগাদ আসে। শরৎকালে ফল পেকে যায়। ডালপালা ফল সংগ্রহ করার সময় কিছু ছেঁটে দেওয়া উচিত। এর ফলে পরের বছর ফলন ভালো হবে। কদবেল গাছে ফুল-ফল ভালো আনার জন্য প্রতি বছর ফল তোলা শেষ হলে গাছের গোড়ার মাটিতে ড্রামপ্রতি ১৫০ থেকে ২৫০ গ্রাম ইউরিয়া সার, ১০০ গ্রাম এমওপি সার, ১০০ গ্রাম টিএসপি সার দুই কেজি প্যাকেটের কম্পোস্ট সারের সাথে মিশিয়ে গোড়ার মাটি নিড়িয়ে তার সাথে মিশিয়ে সেচ দিতে হবে।

গাছের বৃদ্ধি ভালো হলে বছরে একবার সার দিলে হবে না। বর্ষাকালের আগেও ঠিক একই ভাবে পুনরায় সার দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে টব বা ড্রামের মাটি যাতে না শুকিয়ে যায়। টবের মাটি কখনো শুকিয়ে গেলে নিয়ম করে সেচ দিয়ে নিতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com