আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

‘ভাঙা ঘরের বেড়ার ভেতর দিয়ে কুকুর ঢুকেছে। ঘরে থাকা খাবার খেয়ে গেছে। সারা দিন খেতে পই পই করে ছুটে এসে ঘরে খেতেও পারিনি।’ বলতে বলতে ঝাপসা হয়ে যায় পরিমল বানুর চোখ। গায়ে জড়ানোর ওড়নার কোনায় চোখ মোছেন।

তবে এখনকার পরিমল বানুর মুখে আছে সফলতার হাসি। অতীতের পরিশ্রম-কষ্টকে পুঁজি করে দেশের কৃষি খাতে তিনি নিয়ে এসেছেন আধুনিক কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের উত্তরণ। নিজের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে তিনি এখন একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা।

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার জানগ্রামে বাড়ি পরিমল বানুর। কিশোরী বয়সে বধূ হয়ে এসেছিলেন মোসলেম মণ্ডলের ঘরে। বাবার ঘরে দুই বিয়ে থাকায় অশান্তি ছিল। কিন্তু নিজের সংসার পেয়ে ছোট ছোট পায়ে শান্তি খুঁজতে শুরু করেছিলেন। সংসারে টানাপোড়েন থাকলেও স্বামী নিজের ট্রাক্টর চালিয়ে, জমি চষে আর ঘরের সঙ্গে বসানো চালের মিল চালিয়ে দিব্যি চলছিল সংসার। কিন্তু সেই সামান্য সুখও বেশি দিন কপালে থাকেনি পরিমল বানুর। জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন মোখলেস মণ্ডল। পরিমল বানুর কোলে রেখে গেলেন দুই ছেলে আর দুই মেয়ে। সবাই প্রায় পিঠাপিঠি। স্বামী হারিয়ে সন্তানদের নিয়ে খড়কুটোর মতো ভাসতে লাগলেন পরিমল বানু।  

২০০৪ সালে সেই সময়ে স্বামীর পুরোনো ট্রাক্টর চালিয়ে কিছু মাস কাটলেও ধারের দেনা-পাওনার মারপ্যাঁচে জড়িয়ে সেটাও হাতছাড়া হয়ে যায়। ঋণে কেনা গাড়ির টাকা পরিশোধ না করতে পারার জন্য সেটাও ধরে রাখতে পারছিলেন না পরিমল বানু। বড় ছেলে সাগরকে এ সময় দুবাইতে পাঠান কাজে। পরিবারের দিকে তাকিয়ে কিশোর সাগর পাড়ি জমান কষ্টের সেই পথে। এদিকে কোলে তখন ৭ বছর বয়সের আলামিন আর ৪ বছরের ছোট মেয়ে শান্তনা আক্তার ।

আলামিন ছোট হলেও সেই সময়ে পরিবারের হাল ধরা শুরু করেন। পুরোনো ট্রাক্টর নিয়েই ছোট্ট আলামিন মাঠে যেতেন। কিন্তু সে অর্থেও যেন সংসার অচল। সঙ্গে আছে সেই ট্রাক্টরটিরও ঋণ। সব ভেবে পরিমল বানু সেটিও বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিলেন। বিক্রির টাকা দিয়ে ধার-দেনা শোধ করে বছর ঘুরতেই ২০০৬ সালে স্থানীয় কৃষি অফিসে আবার নতুন ট্রাক্টরের জন্য আবেদন করেন তিনি। নতুন ট্রাক্টর পেয়ে একটু একটু করে আর্থিক সচ্ছলতার মুখ দেখতে শুরু করেন তিনি।

তবুও বাধা ছিল নানা রকম। শুরুতে সাধারণ কৃষকেরা কাজের জন্য এমন আধুনিক কৃষিযন্ত্র ব্যবহার করতে চাইতেন না। কিন্তু যখন তাঁরা বুঝতে পারলেন যে মেটালের এই ট্যাফে ট্রাক্টর ব্যবহার করে কম সময়ে জমি চাষাবাদ করা যায়, তখন তাঁরাও আগ্রহী হয়ে ওঠেন এই যন্ত্রে। নিজের জমির সঙ্গে সঙ্গে পরিমল বানু গ্রামের আরও কৃষকদের জমি চাষ করতে শুরু করেন। পরিমল বানুর ট্রাক্টর শিবগঞ্জের মাটি পেরিয়ে চষতে শুরু করে টাঙ্গাইল, নাটোর, দিনাজপুর, কুষ্টিয়ার জমি। দূর-দূরান্তের কৃষি পেশার মানুষ কৃষিতে এমন আধুনিক যন্ত্রাংশের ব্যবহার নিয়ে জানতে পরামর্শ নিতে আসেন পরিমল বানুর পরিবারের কাছে।

সাগর মায়ের এই উদ্যোগের কথা জানতে পেরে দেশে ফিরে আসেন। সহযোগী হন মায়ের এই ঘুরে দাঁড়ানোর সময়ের। প্রতি দুই বছর পরপর পুরোনো মডেলের ট্রাক্টর বিক্রি করে নতুন ট্রাক্টর কিনেছেন তাঁরা। আশপাশের গ্রামের মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছেন আধুনিক কৃষিযন্ত্র ব্যবহারে। ধীরে ধীরে পরিবারে সচ্ছলতা এনেছেন পরিমল বানু। বিয়ে দিয়েছেন তিন ছেলেমেয়ের। ছোট মেয়ে স্নাতক করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে। কুঁড়েঘরের বদলে এখন হয়েছে ইটের ঘর, নিজের চাষের কিছু জমি, গোয়ালে দুধেল গরু আর জমির ফসলে ভরেছে বাড়ির উঠান। গত ১৫ বছরে এ পর্যন্ত মেটালের আইশার ও ট্যাফে ব্র্যান্ডের মোট ১৪টি ট্রাক্টর কিনেছেন পরিমল বানু। সঙ্গে নিয়েছেন ২টি কম্বাইন হার্ভেস্টার। ইতিমধ্যে আরও একটি হার্ভেস্টারের জন্য আবেদন করেছেন তিনি।

নিজের সেই অসহায় সময়ের কথা এখনো ভোলেননি পরিমল বানু। কিন্তু মেটালের ট্রাক্টরের মতো আধুনিক কৃষিযন্ত্রই যেন তাঁকে নিয়ে গেছে সফলতার শিখরে। আগামী দিনে দেশের আরও অন্য প্রান্তে ছড়িয়ে যেতে চান তিনি। কৃষি পেশায় যেন এমন আধুনিক যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে আরও মানুষ উপকৃত হয়, তাঁর মতো যেন আরও মানুষ নিজেদের ভাগ্য বদলে নিতে পারেন, সেটারই স্বপ্ন দেখেন পরিমল বানু। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন, সময়ের চেয়ে যারা এগিয়ে থাকে, সাফল্য তাদের হাতেই ধরা দেয়। আর সেরা প্রযুক্তির ওপর যারা ভরসা রাখে, কৃষিকাজে তারাই হয় সমৃদ্ধ আগামীর সেরা কারিগর। সেই কৃষি ও কৃষকের উত্তরণের সঙ্গে মিশে থাকবে মেটাল।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

এগ্রোটেক

কৃষিতে আধুনিক পদ্ধতি যেভাবে এলো

মনিরুজ্জামান কবির

অরণ্যচারী ও যাযাবর জনগোষ্ঠীকে আধুনিক সমাজ স্রোতে যুক্ত করেছিল কৃষি। প্রথমদিকে কৃষি ছিল বন-জঙ্গল ঘুরে ঘুরে ফসল সংগ্রহ ও পশু-পাখি শিকার করে জীবিকা নির্বাহ। পরে যখন গুহাবাসী দেখলো ফসলের বীজ থেকে নতুন ফসল জন্মে এবং সে ফসল থেকে অনুরূপ ফলন পাওয়া যায়, বন্য পশু-পাখি পোষ মানে- তখনই মূলত আধুনিক কৃষির সূচনাকাল। প্রথমদিকে কৃষকরা জমিতে কৃষিকর্ম ও বন্য পশু-পাখি পোষ মানিয়ে নিজেদের পরিবারের চাহিদা মেটাতো। যে উর্বর ভূমিতে ফসল উৎপাদন হতো, সেখানে মানববসতির গোড়াপত্তন ঘটতো। সে সঙ্গে স্থায়ী সমাজ ও পরিবার কাঠামোর বিকাশ ঘটতো।

পরিবারের খাদ্য চাহিদার নিশ্চয়তায় পরে সমাজের একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠী আধুনিক সভ্যতার বিনির্মাণ ও শিল্প বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়েছিল। আদিম, মধ্য এবং আধুনিক যুগে কৃষি ক্ষেত্রে নিত্যনতুন কলাকৌশল ও যন্ত্রপাতির আবিষ্কারে কৃষির বিকাশ বর্তমান অবস্থায় রয়েছে।

১০ হাজার বছর আগে মিসর, মধ্যপ্রাচ্য ও ভারতবর্ষের উর্বর ভূমিতে সর্বপ্রথম কৃষিকাজ শুরু হয়। আদিমানুষ তখন বন্য ফসলের বীজ পরিকল্পনামাফিক বপন ও ফসল সংগ্রহের কলাকৌশল আয়ত্ত করতে পেরেছিল। স্বাধীনভাবে কৃষির উন্নয়ন ঘটেছিল উত্তর-পশ্চিম চীন, আফ্রিকা, নিউগিনি ও আমেরিকার কিছু অংশে। এ অঞ্চলে বসবাসকারী জনগোষ্ঠী প্রথমে গম ও কর্নের এবং পরে বার্লি, মটর, মসুর ও ছোলার আবাদ করতো।

খ্রিস্টপূর্ব সাত হাজার বছর আগে মিসরের কিছু অংশ ও ভারতবর্ষের বেলুচিস্তানে ক্ষুদ্র পরিসরে গম ও বার্লির চাষাবাদ শুরু করে এ অঞ্চলের আদিবাসীরা। তখন আদিবাসী গোষ্ঠীগুলোর চাষাবাদ মূলত পারিবারিক চাহিদা মেটানোই মুখ্য ছিল। খ্রিস্টপূর্ব ছয় হাজার বছর আগে মধ্যম আকারে কৃষির সূচনা ঘটে নীল নদের তীরকে ঘিরে। সে সময়ে দূরপ্রাচ্যের দেশগুলো নিজেদের প্রয়োজনে ধান, গম মৌলিক ফসলগুলোর আবাদ শুরু করে। চীন ও ইন্দোনেশিয়ার কৃষকরা কচু, শিম, মুগডাল, সয়াবিন, আজুকির চাষাবাদ শুরু করে। তখন কার্বোহাইড্রেডের চাহিদা মোটামুটি পূরণ হলে মানুষ অন্যান্য চাহিদা পূরণের জন্য সংঘবদ্ধ হয়।

সংঘবদ্ধ মানুষ প্রোটিনের চাহিদা পূরণের জন্য নদী, খাল, বিল ও সমুদ্র সৈকত থেকে জাল দিয়ে মাছ শিকার শুরু করে। নতুন পদ্ধতিতে চাষাবাদ ও মাছ শিকার অতিমাত্রায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির সূচনা করে, যা বর্তমানেও অব্যাহত রয়েছে। পাঁচ হাজার খ্রিস্টপূর্বে টাইগ্রিস এবং ইউফ্রেটিস অঞ্চলে বিশাল এলাকাজুড়ে চাষাবাদ করার জন্য কিছু মৌলিক পদ্ধতির উদ্ভাবন করা হয়েছিল। পদ্ধতিগুলো হলো একক ফসল চাষ, জমিতে সেচ দেয়া, শ্রমশক্তি ব্যবহার করা ইত্যাদি। এ অঞ্চলের কৃষকরা কৃষিকর্মের পাশাপাশি বন্য গরু ও ভেড়ার জাত পোষ মানায়। বিশাল পরিমাণে পোষ মানানো এসব পশু-পাখি তারা ব্যবহার করতো মাংস ও তন্তুর চাহিদা মেটাতে। তখন দক্ষিণ আমেরিকার পাহাড়ের ঢালুতে আলু, টমেটো, মরিচ, স্কোয়াশ ও কিছু প্রজাতির শিম, তামাক জাতের চাষ শুরু হয়।

দক্ষিণ গ্রিসের কৃষকরা তাদের অনুর্বর ভূমিতে নতুন চাষাবাদের কলাকৌশল তৈরি ও প্রয়োগ করে উচ্চ ফলন পায়। রোমানরা খাদ্যশস্য নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে কিছু পরিমাণ বিক্রি শুরু করে।

মধ্যযুগে উত্তর আফ্রিকা ও পূর্বের মুসলিম কৃষকরা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সেচের পদ্ধতি উদ্ভাবন করে এবং তা পরে বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দেয়। মাটির নিচ থেকে পানি উত্তোলন যন্ত্র, ডোবা, কৃত্রিম জলাধার কৃষিজমিতে সেচের জন্য বহুল ব্যবহৃত হতে শুরু করে। মধ্যযুগে তারা অঞ্চলভিত্তিক চাষাবাদ পদ্ধতি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে আখ, লেবুজাতীয় ফসল, তুলা, সাফরান ইত্যাদি ফসল খাপ খাওয়ানোর ওপর বই প্রকাশ করে। মুসলমানরা লেবু, কমলা, কলার জাত স্পেন থেকে এনে চাষাবাদ শুরু করে। মধ্যযুগে এক জমিতে তিন ফসল ক্রমপরিবর্তন চাষাবাদ পদ্ধতি উদ্ভাবিত হয়। চীন তখন চাষাবাদ পদ্ধতি সহজতর করার জন্য মোলবোর্ড চাষাবাদ যন্ত্র উদ্ভাবন করে। মোলবোর্ড চাষাবাদ যন্ত্র পরে চাষাবাদ প্রক্রিয়া সহজ করে দেয় এবং ফলন বৃদ্ধি করে।

১৪৯২ সালের পরে স্থানীয় ফসলের জাত ও পোষা প্রাণী এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে স্থানান্তর ঘটে। টমেটো, ভুট্টা, আলু, তামাক ইত্যাদি প্রধান ফসল অগ্রসর অঞ্চল থেকে অনগ্রসর অঞ্চলে আগমন ঘটে। অন্যদিকে গম, মসলা, কফি ও আখ অনগ্রসর থেকে অগ্রসর অঞ্চলে আগমন ঘটে। কলাম্বিয়ান আমেরিকায় কিছু কুকুরের জাত পালন করা হতো, যা বিভিন্ন কাজকর্মের উপযুক্ত ছিল না। তাই পশ্চাৎপদ অঞ্চল থেকে তারা কিছু কুকুর ও ঘোড়ার জাত আমদানি করে। ঘোড়া ও কুকুরের জাতগুলো পশ্চিমাঞ্চলে কৃষি উৎপাদনে ভূমিকা রাখে। ষোড়শ শতাব্দীতে পর্তুগিজ কর্তৃক চাষ সূচনাকারী আলু উত্তর ইউরোপের প্রধান খাদ্যশস্যে পরিণত হয়। সে সময়ে ভুট্টা আফ্রিকার স্থানীয় খাদ্যশস্যের জায়গা দখল করে নেয়।

অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথমদিকে গঠন বা প্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে কৃষিকৌশল, যন্ত্রপাতি, বীজ ও মাঠ ফসলের নামকরণ করা হয় এবং তাদের গঠনগত পরিবর্তন গঠতে থাকে। এ সময় মধ্যযুগ থেকে কয়েকগুণ মাঠ ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষে এবং ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে ট্রাক্টর ও উন্নত কলাকৌশল ব্যবহার করে আমেরিকা, ইসরাইল, জার্মানি ও অগ্রসর দেশ প্রতি একর ভূমি ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ফলন ফলায়। হেবার বোস পদ্ধতি ব্যবহার করে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট উৎপাদন ফসল উৎপাদনের সব প্রতিবন্ধকতা দূর করে কৃষিতে ফলন বৃদ্ধিতে বিপ্লব ঘটায়। ফলন বৃদ্ধি, সার, কীটনাশক, জাত উন্নতকরণ, যন্ত্রপাতির ব্যবহার, পানি দূষণ এবং কৃষিতে ভর্তুকি গত শতাব্দীর আলোচিত বিষয় ছিল।

সাম্প্রতিককালে উন্নত দেশগুলো পরিবেশের ওপর কৃষির বিরূপ প্রতিক্রিয়ার কথা চিন্তা করে জৈব কৃষির সূচনা করছে। নতুন নতুন ফসলের জাত ও কলাকৌশল উদ্ভাবনের কারণে বিংশ শতাব্দীর শেষদিকে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষির বিপ্লব ঘটতে থাকে। আমেরিকা তাদের সাবিনের জাত উন্নয়নের জন্য চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে জার্মপ্লাজম সংগ্রহ করে। এবং চীন ও জাপান বিভিন্ন ফল ও নাটজাতীয় ফসলের জার্মপ্লাজম সংগ্রহ করে। ২০০৫ সালে কৃষির সবচেয়ে বেশি উৎপাদন ছিল চীনে। বর্তমানে সারা পৃথিবীর উৎপাদনের এক-ষষ্ঠাংশের নিয়ন্ত্রণকারী দেশ হলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত এবং আমেরিকা।

বর্তমানে আমেরিকার প্রতি হেক্টর জমিতে উৎপাদন ১৯৪৮ সালের উৎপাদন থেকে আড়াই গুণের বেশি। বর্তমানে সারাবিশ্বে রপ্তানিকৃত খাদ্যশস্যের নব্বই ভাগ আসে আমেরিকা, কানাডা, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, আর্জেন্টিনা এবং থাইল্যান্ড থেকে। পানির দুষ্প্রপ্যতার জন্য মধ্য আকারের দেশ আলজেরিয়া, ইরান, মিসর, মেক্সিকো এবং উন্নয়নশীল কিছু দেশের খাদ্যশস্য আমদানি করতে হচ্ছে। পরিবেশ ও মানব শরীরের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার জন্য জিএমও এবং হাইব্রিড ফসল নিয়ে বিতর্ক চলছে। অন্যদিকে সারাবিশ্বে খাদ্যের চাহিদা মেটাতে ফসলের উন্নত জাত উৎপাদন কৃষি ও জিন বিজ্ঞানীদের গবেষণা অব্যাহত রয়েছে। একদিকে আমেরিকা ও আফ্রিকার বায়োফুয়েলের উৎপাদন প্রক্রিয়া খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকিতে ফেলছে, অন্যদিকে কিউবাসহ লাতিন আমেরিকার জৈব কৃষি চাষ প্রযুক্তি পরিবেশের জন্য আশাব্যঞ্জক।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

অ্যাকোয়াপনিকস: মাছ চাষ ও মাটি ছাড়া সবজি আবাদ করার যে সমন্বিত পদ্ধতি বাংলাদেশে জনপ্রিয় হচ্ছে

ড্রামে মাছ আর উপরে সবজি
অ্যাকোয়াপনিকস বাগানে করল্লার চাষ
অ্যাকোয়াপনিকস বাগানে করল্লার চাষ

ছোট একটি জায়গায় কেবল একটি অবকাঠামো ব্যবহার করে মাছ এবং সবজি চাষের একটি পদ্ধতি বাংলাদেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এবং বিশেষ করে তরুণ উদ্যোক্তাদের অনেকেই এখন এটা ব্যবহার করছেন।

এই পদ্ধতিটি পরিচিত অ্যাকোয়াপনিকস হিসেবে, যেখানে মাটি ছাড়াই সবজি উৎপাদন হয়।

বাংলাদেশ সরকারের কৃষি তথ্য সার্ভিস বলছে, অ্যাকোয়াপনিকস হলো মাছ ও সবজি চাষের একটি সমন্বিত পদ্ধতি।

আর বাংলাদেশে এ পদ্ধতির অগ্রদূত হিসেবে বিবেচনা করা হয় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য চাষ বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক এম এ সালামকে।

তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আরও আগে থেকেই অ্যাকোয়াপনিকস পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে।

অধ্যাপক সালাম মনে করেন যে বাংলাদেশে যেহেতু চাষযোগ্য জমির পরিমান ক্রমশই কমে আসছে, তাই এ দেশে অ্যাকোয়াপনিকস-এর একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যত রয়েছে মাছ চাষ ও সবজি আবাদের ক্ষেত্রে।

“যারা ছাদ বাগান করেন বা অল্প জায়গায় মাছ চাষ বা সবজি আবাদ করেন, তাদের জন্য এটি একটি দারুণ বিষয়। একই জায়গায় মাছ ও সবজির ফলন করা সম্ভব এবং তাও একেবারে কম খরচে,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

অধ্যাপক সালাম সেই ২০১০ সালে নিজের বাড়ির ছাদে সবজি চাষ শুরু করেছিলেন, আর পরে এর সাথে ২০১১ সালে যোগ করেন মাছ। তবে অ্যাকোয়াপনিকস পদ্ধতি তাকে যে সাফল্য এনে দিয়েছে, তা তাকে তাকে কৃষিক্ষেত্রে পদকও এনে দিয়েছে।

অ্যাকোয়াপনিক কী?

সরকারের কৃষি তথ্য সার্ভিস বলছে যে অ্যাকোয়াপনিকস হলো টেকসই একটি খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা।

এতে মাছ চাষ থেকে আসা ময়লা তথা দূষিত পানি গাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং সেখান থেকে স্বচ্ছ পরিষ্কার পানি পুনরায় মাছের ট্যাংকে ফিরে আসে।

এখানে লক্ষণীয় যে, এ পদ্ধতিতে মাটি ছাড়াই সবজি উৎপাদন করা যায় এবং ব্যাকটেরিয়া পানির সমুদয় বর্জ্য, ময়লা ইত্যাদি তাৎক্ষণিকভাবে দূরীভূত করে – যেভাবে প্রাণীর কিডনি ও লিভার এ কাজটি সম্পন্ন করে থাকে।

অধ্যাপক সালাম বলছেন যে এটি পুরোপুরি একটি প্রাকৃতিক পদ্ধতি।

তিনি বলেন, মূলত মাটি ছাড়া পানিতে গাছপালা ও শাক-সবজি উৎপাদন করার একটি কৌশল হলো অ্যাকোয়াপনিকস। এখানে প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া অনুঘটক হিসাবে কাজ করে মাছের বর্জ্য থেকে গাছকে নিজের খাদ্য উৎপাদনে সহায়তা করে থাকে।

একবার সিস্টেম দাড়িয়ে গেলে পরে আর খরচ নেই বলে জানাচ্ছেন এম এ সালাম
একবার সিস্টেম দাড়িয়ে গেলে পরে আর খরচ নেই বলে জানাচ্ছেন এম এ সালাম

যেভাবে কাজ করে এই পদ্ধতি

অধ্যাপক সালাম জানান, হাইব্রিড এই পদ্ধতি একবার স্থাপন করা গেলে এরপর আর খুব একটা রক্ষণাবেক্ষণের দরকার হয় না।

তার মতে, অ্যাকোয়াপনিকসের প্রাথমিক মূলনীতি হলো মাছ বর্জ্য উৎপাদন করে গাছকে খাদ্যের জোগান দেয় আর গাছপালা মাছের জন্য পানি পরিষ্কার করে – এইভাবে এটি একটি ক্রমাগত চক্র তৈরি করে চলতে থাকে।

তিনি বলেন, যখন মাছ বর্জ্য (অ্যামোনিয়া) উৎপাদন করে, তখন ব্যাকটেরিয়া তাকে নাইট্রেটে পরিণত করে। একটি পাম্প তারপরে এই পানি বহন করে গাছের ট্রেতে নিয়ে যায়। গাছ ওই পানি থেকে নাইট্রোজেন গ্রহন করে পানি পরিষ্কার করে এবং ওই পরিষ্কার পানি আবার মাছের ট্যাঙ্কে ফিরে আসে, যা মাছের জন্য নিরাপদ পানি হিসেবে বিবেচিত হয়।

“এই চক্রটি বারবার নিজেকে পুনরাবৃত্তি করে”, বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলছিলেন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক।

“একদিকে মাছ যেমন ব্যাকটেরিয়ার জন্য পুষ্টি সরবরাহ করে, অন্যদিকে ব্যাকটেরিয়া মাছের বর্জ্য ভেঙ্গে নাইট্রেট তৈরি করে গাছের খাদ্যের যোগান দেয়। গাছ আবার পানি পরিষ্কার করে মাছের বসবাস নিরাপদ করে তোলে”।

অ্যাকোয়াপনিকস কোন বর্জ্য উৎপাদন করে না
অ্যাকোয়াপনিকস কোন বর্জ্য উৎপাদন করে না

অ্যাকোয়াপনিকসের বৈশিষ্ট্য:

বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাকোয়াপনিকস পদ্ধতিতে মাছ ও সবজি চাষ করে নিচের সুবিধাগুলো পাওয়া যায় –

* সহজ প্রযুক্তি ও সম্পূর্ণ পরিবেশ বান্ধব

* অ্যাকোয়াপনিকস কোন বর্জ্য উৎপাদন করে না

* জৈব খাদ্য উৎপাদন পদ্ধতি হওয়ায় পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদনের সুযোগ

* কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সবজি উৎপাদন সম্ভব

* পলিথিন দিয়ে ঘর তৈরি করে সারা বছরই মাছ ও সবজি চাষ করা যায়

* পানি সাশ্রয়ী

* অনুর্বর মাটির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারে

* অনুর্বর এবং পতিত জমির সদ্ব্যবহার করে

* পদ্ধতিটি প্রাকৃতিক এবং সারের উৎসস্থল

* খাদ্য পরিবহনজনিত দূষণ হ্রাস করে

* একবার সিস্টেম দাড়িয়ে গেলে পরে আর খরচ নেই

* যে কোন এলাকায় ও যে কোনো আবহাওয়ায় এটি করা সম্ভব

* কোন ধরণের সার ক্রয়-বিক্রয় বা গুদামজাতের দরকার হয় না

অধ্যাপক এম এ সালাম প্রথম অ্যাকোয়াপনিকসের চর্চা শুরু করেন বাংলাদেশে
অধ্যাপক এম এ সালাম প্রথম অ্যাকোয়াপনিকসের চর্চা শুরু করেন বাংলাদেশে

অ্যাকোয়াপনিকসের চ্যালেঞ্জ:

তবে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই কেবল অ্যাকোয়াপনিকসে সাফল্য পাওয়া যেতে পারে। এগুলো হলো –

* নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা

* প্রযুক্তি-নির্ভর পদ্ধতি, তাই এ সম্পর্কে ভালোভাবে জানা

* যন্ত্রপাতি সময়মত রক্ষণাবেক্ষণ ও পরীক্ষা করা

* মাছকে ঠিক মতো খাবার দেয়া

* মাছ ও সবজি দ্রুততম সময়ে বাজারজাতের ব্যবস্থা

কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সবজি উৎপাদন সম্ভব
কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সবজি উৎপাদন সম্ভব

উৎপাদন কেমন হয়?

কৃষি তথ্য সার্ভিস বলছে, অ্যাকোয়াপনিকস পদ্ধতিতে চাষের জন্য তেলাপিয়া মাছই সবচেয়ে উপযোগী, কারণ এই মাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং এগুলো অধিক ঘনত্বেও চাষ করা সম্ভব।

এতে করে দুই হাজার লিটারের একটি ট্যাংক থেকে আট মাসেই ১০০-১২০ কেজি তেলাপিয়া উৎপাদন সম্ভব। এর সাথে পুরো বছর ধরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে টমেটো, লেটুস, কচু ও পুদিনা ইত্যাদি ফসল উৎপাদন করাও সম্ভব।

অধ্যাপক এম এ সালাম বিবিসি বাংলাকে অবশ্য বলেন যে তেলাপিয়ার পাশাপাশি কই মাছের চাষের জন্যও দারুণ কার্যকর অ্যাকোয়াপনিকস পদ্ধতি, আর এর সঙ্গে থাকতে পারে যে কোন ধরণের সবজি।

তিনি জানান, পুকুরে বা অন্য পদ্ধতিতে চাষের চেয়ে দশগুনের বেশি পরিমাণ মাছ উৎপাদন হতে পারে অ্যাকোয়াপনিকস পদ্ধতিতে।

অধ্যাপক এম এ সালাম বলেন, যে কোন এলাকায় ও যে কোনো আবহাওয়ায় এটি করা সম্ভব
অধ্যাপক এম এ সালাম বলেন, যে কোন এলাকায় ও যে কোনো আবহাওয়ায় এটি করা সম্ভব

অন্য উদ্যোক্তারা যা বলছেন

তিন বছর ধরে মিরপুরে নিজের বাড়ির ছাদে অ্যাকোয়াপনিকস পদ্ধতি সবজি ও মাছ চাষ করছেন বাংলাদেশ বিমানের সাবেক কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান।

মিস্টার রহমান বিবিসি বাংলাকে জানান যে তিনি তেলাপিয়া মাছ চাষের সাথে সবজি হিসেবে ধুন্ধুল, চিচিঙ্গা, লাউ, ঢেঁরস, শিম, কচুশাক, পালংশাক ও কলমিশাক আবাদ করেন।

“ঠিকভাবে যত্ন নিলে দারুণ ফল পাওয়া যায়। আমার আটশো’ লিটারের দু’টি ড্রামে মাছ আছে। ভালোভাবে খাবার দিলেন ৩/৪ মাসেই মাছ প্রত্যাশিত আকার নেয়। আসলে এটিই আগামীর কৃষি হিসেবে জনপ্রিয় হবে,” বলছিলেন তিনি।

তিনি জানান, তার জানা মতে আরও অনেকেই এখন এ পদ্ধতিতে চাষাবাদে এগিয়ে আসছেন, এমনকি দু’একটি প্রতিষ্ঠানও এই পদ্ধতিতে উৎপাদিত পণ্য বাজারে আনতে শুরু করেছে।

যে কোন ধরণের সবজি হতে পারে অ্যাকোয়াপনিকস পদ্ধতিতে
যে কোন ধরণের সবজি হতে পারে অ্যাকোয়াপনিকস পদ্ধতিতে

অ্যাকোয়াপনিকসের যত পদ্ধতি:

বাংলাদেশ সরকারের কৃষি তথ্য সার্ভিসের ওয়েবসাইটে অ্যাকোয়াপনিকস পদ্ধতিগুলো সম্পর্কে বেশ কিছু পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

পুকুরে মাচা পদ্ধতি: এ পদ্ধতিতে বাঁশের চটি দিয়ে মাচা তৈরি করা হয়। মাচাটি প্রতিটি আধা লিটার পানি ভর্তি চল্লিশটি বোতল দিয়ে ভাসিয়ে রাখতে হয়। এরপর বোতলের তলায় অনেক ছিদ্র করে তার মধ্যে নারিকেলের ছোবড়া ও নুড়ি পাথর স্তরে স্তরে সাজিয়ে তাতে সবজির চারা লাগিয়ে মাছের পুকুরে স্থাপন করতে হয়।

প্রতিটি মাচায় চারটি করে কচু, পুদিনা, কলমিশাক, ঢেঁড়স ও টমেটোর সর্বমোট ২০টি চারা ব্যবহার করা যায়।

প্লাস্টিকের ড্রাম পদ্ধতি: এ পদ্ধতিতে প্লাস্টিকের ড্রাম লম্বালম্বিভাবে কেটে অর্ধেক করে নুড়ি পাথর ও মাটি স্তরে স্তরে সাজিয়ে কচু, পেঁপে ও বেগুনের চারা রোপণ করা হয়। এ ক্ষেত্রে মাছের ট্যাংকের ময়লা পানি পাম্প করে প্রতিদিন দু’বার ড্রামের নুড়ি পাথরের মাঝে সরবরাহ করা হয়।

এ প্রক্রিয়ায় গাছের শেকড় প্রয়োজনীয় খাদ্য সংগ্রহ করে এবং পরিষ্কার পানি পুনরায় মাছের ট্যাংকে ফিরে আসে। এ পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন অন্য যে কোনো পদ্ধতির চেয়ে ফলপ্রসূ ও আশাব্যঞ্জক প্রতীয়মান হয়েছে বলে কৃষি তথ্য সার্ভিস বলছে।

ড্রামে মাছ আর উপরে সবজি
ড্রামে মাছ আর উপরে সবজি

আলনা পদ্ধতি: এ পদ্ধতিতে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বোতল ভবনের ছাদে আলনায় স্থাপন করা হয়। সাড়ে পাঁচ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট একটি কাঠের আলনায় আনুভূমিকভাবে ৬টি, উপরে নিচে তিন সারিতে ১৮টি এবং উভয় পাশে মোট ৩৬টি বোতল সাজিয়ে রাখা হয়।

বোতলগুলোর ছিপির ভেতরে এক টুকরো স্পঞ্জ দিয়ে তার ওপর নুড়ি পাথর বসিয়ে প্রতি বোতলে দু’টি করে সবজির চারা রোপণ করতে হয়। এতে একটি আলনায় ৩৬টি বোতলে ৭২টি চারা লাগানো যায়।

এভাবে ৫০০ লিটার পানির ট্যাংকে ৩৫০ লিটার পানি দিয়ে তাতে ৬০টি তেলাপিয়া মাছ মজুদ করা যায়।

গ্যালভানাইজড পদ্ধতি: এ পদ্ধতিতে গ্যালভানাইজড পাত দ্বারা ৫”x২”-৫”x১০” আকারের ট্রে তৈরি করে সেখানে পানি নির্গমনের জন্য একটি ৪ ইঞ্চি লম্বা পাইপ স্থাপন করা হয়। এরপর পানিভর্তি একটি ট্রের সাহায্যে ভাসমান মাচা পদ্ধতিতে এবং অপর একটিতে নুড়ি পাথর সাজিয়ে সবজি চাষ করা হয়।

ট্রেগুলোকে একটি ভাসমান বাঁশের মাচার ওপর রাখা হয়। ভাসমান মাচা পদ্ধতিতে চারটি করে টমেটো, লেটুস ও পুদিনার চারা একটি শোলার পাতের মাঝে রোপণ করা হয়। অন্যদিকে, নুড়ি পাথরের ট্রেতে কচু, টমাটো, লেটুস ও কলমিশাক রোপণ করে যথা নিয়মে মাছের ট্যাংকের পানি সরবরাহ করা হয়।

এভাবে আরও কিছু পরিচর্যা করার পর উভয় পদ্ধতিতেই সবজির চারা দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পায় বলে কৃষি তথ্য সার্ভিস জানিয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

ধান কতটুকু কাটা হলো, জানা যাবে স্মার্টফোনে

  • জাপানের ইয়ানমারের স্মার্ট অ্যাসিস্ট রিমোট প্রযুক্তির কম্বাইন হারভেস্টার দেশে এনেছে এসিআই মোটরস।
  • কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে ফসল চাষ, সেচ, নিড়ানি ও কীটনাশক প্রয়োগে ৯৫ শতাংশ যান্ত্রিকীকরণ হয়েছে।
  • কৃষি যান্ত্রিকীকরণে তিন হাজার কোটি টাকার প্রকল্পটি পাস হয়েছে। এর আওতায় দুই হাজার কোটি টাকার মতো রাখা হয়েছে কৃষিযন্ত্রে ভর্তুকি বাবদ।

কৃষিযন্ত্র ব্যবহারে বাংলাদেশ নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। এক থেকে দেড় দশক আগেও দেশের কৃষিকাজে শুধু পাওয়ারটিলার ও ডিজেল ইঞ্জিনের ব্যবহার ছিল। সময়ের ব্যবধানে সেখানে যুক্ত হয়েছে ট্রাক্টর, কম্বাইন হারভেস্টার ও রাইস ট্রান্সপ্ল্যান্টার ইত্যাদি যন্ত্রপাতি।

আধুনিক কৃষিযন্ত্রের তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন কম্বাইন হারভেস্টারের স্মার্ট অ্যাসিস্ট রিমোট সিস্টেম প্রযুক্তি। যা বাংলাদেশে এনেছে এসিআই মোটরস ও জাপানের ইয়ানমার অ্যাগ্রিবিজনেস। এটি ব্যবহারে হারভেস্টারের মালিক খুব সহজেই যন্ত্রটির অবস্থান জানতে পারবেন। সেই সঙ্গে কতটুকু জমির ধান কাটা হয়েছে, কতটুকু সময় চালানো হয়েছে, যন্ত্রে কোনো ধরনের সমস্যা হচ্ছে কি না অথবা কোনো সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা আছে কি না ইত্যাদি সহজেই জানা যাবে। মূলত মোবাইলে একটি অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে এসব তথ্য পাবেন হারভেস্টারের মালিক।

কৃষিযন্ত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কৃষিযন্ত্র ব্যবহারে ভিন্নতা আসে। বাংলাদেশে যেহেতু মাথাপিছু আয় বাড়ছে, সেহেতু কৃষি খাতে শ্রমিকসংকট তৈরি হচ্ছে। ফলে নতুন ধরনের কৃষিযন্ত্র ব্যবহারে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের। পাশাপাশি সরকারও কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারে উৎসাহ দিচ্ছে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএইউ) গবেষণা অনুযায়ী, কৃষিযন্ত্রের বাজারের প্রবৃদ্ধি বছরে ২০ শতাংশের কাছাকাছি। সেচযন্ত্র, ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার, ট্রান্সপ্ল্যান্টার, হারভেস্টার, মাড়াই যন্ত্র ইত্যাদির বড় অংশ আমদানি করা হয়। দেশেও কৃষিযন্ত্র তৈরির বেশ কিছু কারখানা গড়ে উঠেছে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক উপাচার্য এম এ সাত্তার মণ্ডল এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশের কৃষি যান্ত্রিকীকরণ এখন পর্যন্ত বেশ দক্ষতার সঙ্গে এগিয়েছে। ভবিষ্যতে উৎপাদন বৃদ্ধি ও ব্যয় সাশ্রয় করে কৃষিকে অধিক পরিমাণে লাভজনক করতে আরও আধুনিক যন্ত্রপাতির দিকে যেতে হবে। তিনি বলেন, আধুনিক যন্ত্রপাতি যত আসবে, তত শিক্ষিত ও চৌকস তরুণেরা তত বেশি কৃষিতে আসবেন। বিনিয়োগ বাড়বে। এটি খুবই ভালো লক্ষণ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে ফসল চাষ, সেচ, নিড়ানি ও কীটনাশক প্রয়োগে ৯৫ শতাংশ যান্ত্রিকীকরণ হয়েছে। আর চারা রোপণের ক্ষেত্রে ২ শতাংশ এবং শস্য কর্তন, মাড়াই ও বস্তা ভরার ক্ষেত্রে যান্ত্রিকীকরণ মাত্র ৫ শতাংশ।

বাংলাদেশের প্রধান ফসল ধান। সেই ধান উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে তৃতীয়। উন্নত দেশগুলোতে ধান উৎপাদনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ট্রাক্টর, হারভেস্টার, রাইস ট্রান্সপ্ল্যান্টার ও ড্রোন ব্যবহার হচ্ছে। সেখানে বাংলাদেশে শস্য কর্তন, মাড়াইকরণ ও বস্তাবন্দী করতে কম্বাইন হারভেস্টারের ব্যবহার জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এসিআই মোটরসের হাত ধরে বাংলাদেশে কম্বাইন হারভেস্টারের যাত্রা শুরু হয়। এসিআই বিশ্বখ্যাত ইয়ানমার জাপানের কম্বাইন হারভেস্টার কৃষকদের সরবরাহ করে আসছে।

স্মার্ট অ্যাসিস্ট রিমোট সিস্টেম ব্যবহারের ফলে কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে আগের থেকেও দক্ষতার সঙ্গে সেবা দিতে পারবেন উদ্যোক্তারা। এতে করে কৃষকের খরচ কমে যাবে।

বিএইউর কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক মঞ্জুরুল আলম

নতুন প্রযুক্তি

এসিআই জানায়, স্মার্ট অ্যাসিস্ট রিমোট সিস্টেম কৃষকদের জন্য একটি সম্পূর্ণ সমাধান। জিপিএস ও যোগাযোগ টার্মিনাল ব্যবহার করে স্মার্ট অ্যাসিস্ট রিয়েল টাইমে অপারেটিং অবস্থার বিস্তৃত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে। সেই তথ্য-উপাত্ত ওই কৃষিযন্ত্রে সংরক্ষিত হয়, যা কার্যক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। একই সঙ্গে তা হারভেস্টারের ক্ষতি হওয়া রোধ করে। এই প্রযুক্তি যন্ত্রের সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনাকে সহজ করে। যন্ত্রের জীবনচক্রে ব্যয় কমাতে ভূমিকা রাখে।

অনেক সময় যন্ত্রটি এলাকার বাইরে অন্যত্র নিয়ে গেলে সেটি কোনো অবস্থায় আছে, তা জানতে পারেন না স্বত্বাধিকারী। এ ক্ষেত্রে যন্ত্রের সঙ্গে যিনি থাকেন, তাঁর তথ্যের ওপর নির্ভর করতে হয় মালিককে। স্মার্ট অ্যাসিস্ট রিমোট সিস্টেম থাকলে হারভেস্টারের স্বত্বাধিকারী জানতে পারবেন, তাঁর যন্ত্রটি কোথায় আছে। সেই সঙ্গে হারভেস্টারটি অলস বসে আছে কি না, কত ঘণ্টা চলছে, কৃষক কতটুকু জমির ধান বা গম কেটেছেন, তা–ও জানতে পারবেন। হারভেস্টারটিতে কোনো ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটির সম্মুখীন হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার তথ্য পেয়ে যাবেন স্বত্বাধিকারী।

বিএইউর কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক মঞ্জুরুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, স্মার্ট অ্যাসিস্ট রিমোট সিস্টেম ব্যবহারের ফলে কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে আগের থেকেও দক্ষতার সঙ্গে সেবা দিতে পারবেন উদ্যোক্তারা। এতে করে কৃষকের খরচ কমে যাবে।

সরকার কৃষির যান্ত্রিকীকরণে তিন হাজার কোটি টাকার নতুন একটি প্রকল্প নিয়েছে উল্লেখ করে সুব্রত রঞ্জন আরও বলেন, নতুন প্রযুক্তির হারভেস্টারটি কিনতে হাওরে ৭০ শতাংশ ও অন্য এলাকায় ৫০ শতাংশ ভর্তুকি পাওয়া যাবে। একটি হারভেস্টারের দাম ৩০ লাখ টাকার মতো রাখবে এসিআই।

জানতে চাইলে এসিআই মোটরসের নির্বাহী পরিচালক সুব্রত রঞ্জন দাস বলেন, নতুন প্রযুক্তির হারভেস্টারটির সুবিধা প্রথমত, এটি কতটুকু জমির ধান কেটেছে, তা দূর থেকেই জানতে পারবেন এর মালিক। দ্বিতীয়ত, হারভেস্টারটি কোনো কারণে মেরামত প্রয়োজন হলে তা আগেই জানা যাবে। এতে মেরামতসেবা পাওয়া ও দেওয়া সহজ হবে। তৃতীয়ত, সরকার জানতে পারবে কোন এলাকায় কতগুলো হারভেস্টার কাজ করছে। কোনো এলাকায় হারভেস্টার কম থাকলে সেখানে জরুরি প্রয়োজনে পাঠানো যাবে।

সরকার কৃষির যান্ত্রিকীকরণে তিন হাজার কোটি টাকার নতুন একটি প্রকল্প নিয়েছে উল্লেখ করে সুব্রত রঞ্জন আরও বলেন, নতুন প্রযুক্তির হারভেস্টারটি কিনতে হাওরে ৭০ শতাংশ ও অন্য এলাকায় ৫০ শতাংশ ভর্তুকি পাওয়া যাবে। একটি হারভেস্টারের দাম ৩০ লাখ টাকার মতো রাখবে এসিআই।

কৃষি যান্ত্রিকীকরণে তিন হাজার কোটি টাকার প্রকল্পটি পাস হয়েছে। এর আওতায় দুই হাজার কোটি টাকার মতো রাখা হয়েছে কৃষিযন্ত্রে ভর্তুকি বাবদ। এ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ অনুবিভাগ) মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল প্রথম আলোকে বলেন, আগামী বোরো মৌসুম থেকেই কার্যক্রম শুরু হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

যান্ত্রিকীকরণে মাঠ পর্যায়ে কৃষি প্রকৌশলী নিয়োগ হবে: কৃষিমন্ত্রী

লেখক

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক
কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, কৃষিকে আধুনিকীকরণ ও অধিকতর লাভজনক করতে যান্ত্রিকীকরণে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। কৃষির যান্ত্রিকীকরণে সম্প্রতি ৩ হাজার ২০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। এছাড়া ইতোমধ্যে ‘জাতীয় কৃষি যান্ত্রিকীকরণ নীতিমালা ২০২০’ প্রণয়ন করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষি প্রকৌশলী নিয়োগের জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে কৃষি প্রকৌশল উইং স্থাপনে কৃষি মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

বুধবার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তবায়নাধীন ‘অ্যাপ্রোপ্রিয়েট স্কেল মেকানাইজেশন ইনোভেশন হাব-বাংলাদেশ (আসমি) প্রকল্প আয়োজিত ‘লাগসই কৃষি যন্ত্রপাতি : বাংলাদেশে টেকসই খাদ্য নিরাপত্তার চাবিকাঠি’ শীর্ষক বার্ষিক কর্মশালার উদ্বোধনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ধানের চারা রোপণের সময় শ্রমিক সংকট, বাড়তি মজুরি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ একদিকে যেমন উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি করে অপরদিকে উৎপাদন ব্যাহত করে। এতে ধানের উৎপাদন খরচও বেড়ে যায়। ফলে কৃষিকে লাভজনক করতে অঞ্চলভিত্তিক কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় স্থানীয়ভাবে কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরিতে গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, যাতে বাংলাদেশ আগামী দিনে শুধুমাত্র আমদানিকৃত কৃষি যন্ত্রপাতির ওপর নির্ভর না করে। সেজন্য আমরা স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দিচ্ছি। এক্ষেত্রে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সরকারী সম্প্রসারণ প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে যৌথভাবে লাগসই দেশীয় কৃষি যন্ত্রপাতি উদ্ভাবনে গবেষণা, উদ্ভাবিত যন্ত্রের উন্নয়ন ও জনপ্রিয়করণের কাজ করতে হবে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং আমেরিকার কানসাস স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় যৌথভাবে ‘ফিড দ্য ফিউচার’ কর্মসূচি ও ইউএসএআইডি এর অর্থায়নে ‘অ্যাপ্রোপ্রিয়েট স্কেল মেকানাইজেশন ইনোভেশন হাব-বাংলাদেশ (আসমি)’ গত চার বছর গবেষণা প্রকল্প বাংলাদেশে বাস্তবায়ন করেছে। চাহিদামত উন্নত কৃষিযন্ত্রপাতি উদ্ভাবন করে ফসলের মূল্য নির্ণয়ে সময়, শ্রম ও অর্থ সাশ্রয়ের জন্য লাগসই যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এই গবেষণার মূল লক্ষ্য।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ও আসমি-বাংলাদেশ প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. মঞ্জুরুল আলম। এতে সভাপতিত্ব করেন আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়ের অধ্যাপক ও অ্যাপ্রোপ্রিয়েট স্কেল মেকানাইজেশন কনসর্টিয়ামের পরিচালক প্রশান্ত কুমার কলিতা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

দুর্নীতি বন্ধে চালু হচ্ছে ডিজিটাল পদ্ধতি

লেখক

দুর্নীতি বন্ধে চালু হচ্ছে ডিজিটাল পদ্ধতি
দুর্নীতি বন্ধে চালু হচ্ছে ডিজিটাল পদ্ধতি

ধান-চাল সংগ্রহ ও বিতরণে দুর্নীতি বন্ধে ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করছে সরকার। এ জন্য মিল মালিকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা সিদ্ধ ও আতপ চালের বস্তায় দেওয়া হবে ডিজিটাল সিল। একইভাবে এখন থেকে ওএমএস, খাদ্যবান্ধব টিআর, কাবিখা, ভিজিডি, ভিজিএফ, জিআর, ইপি-ওপিসহ বিভিন্ন খাতে খাদ্য অধিদপ্তরের চালের বস্তার গায়ে দেওয়া হবে বিতরণকৃত স্টেনসিল মার্ক। আগামী বুধবার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণের মাধ্যমে দেশব্যাপী ডিজিটাল এ পদ্ধতি চালু করা হবে। আগামী আমন মৌসুম থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে শুরু হবে সংগ্রহ কার্যক্রম। সংশ্নিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, খাদ্য অধিদপ্তরের বিতরণ করা চালের বস্তায় অমোচনীয় লাল কালির এই স্টেনসিলই বলে দেবে ওই চাল কোন জেলা, উপজেলা, খাত, মাস, সন, এলএসডি ও সিএসডি বা কোন প্রতিষ্ঠানের। ফলে কোথাও চুরির চাল ধরা পড়লে ডিজিটাল সিল দেখেই বোঝা যাবে কারা এর সঙ্গে জড়িত। বর্তমানে বস্তার গায়ে ‘শুধু খাদ্য অধিদপ্তরের জন্য তৈরি’ লেখা থাকে। ফলে চুরির চাল কোন জেলা-উপজেলার বা কোন গুদামের, তা কেউ স্বীকার করে না। ধরা পড়ে না মূল অপরাধী। একই সঙ্গে মিল মালিকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা সিদ্ধ ও আতপ চালের বস্তায় দেওয়া হবে স্পষ্ট ডিজিটাল সিল। এ সিলে থাকবে মিলের নাম-ঠিকানা, সংগ্রহের মৌসুম, খাদ্যগুদাম, জেলার নাম ও উৎপাদনের সময়। তথ্যবহুল ও স্পষ্ট ডিজিটাল এই সিল দেখে সহজেই বোঝা যাবে, কোন বস্তার চাল কোন মিল মালিকের। ফলে কোনো মিল মালিক খারাপ বা পচা চাল সরকারের কাছে বিক্রি করলে পরবর্তী সময়ে সহজে তা চিহ্নিত করা যাবে। বর্তমানে চাল সংগ্রহের বস্তায় অস্পষ্ট ছোট একটি সিল দেওয়া হয় এবং অল্প দিনের মধ্যে মুছে যায়। তাই সরবরাহকৃত চাল খারাপ বা পচা হলে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারাও সঠিক অপরাধীকে শনাক্ত করতে পারেন না। মিল মালিকরাও স্বীকার করেন না।

এ বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার সমকালকে বলেন, প্রায় সময়েই দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি চাল চোর ধরা পড়ছে। করোনাকালের মহাদুর্যোগের সময়েও অনেক চাল চুরি হয়েছে। অনেক মিল মালিক গুদামে পচা চাল দিচ্ছে। কিন্তু প্রকৃত অপরাধীদের ধরার কোনো উপায় ছিল না। চাল-ধান সংগ্রহ ও বিতরণে দুর্নীতি বন্ধ করতে ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্য বিভাগের দুর্নীতি বন্ধে পর্যায়ক্রমে সব ক্ষেত্রেই ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করা হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও অনুমোদন দিয়েছেন।

খাদ্য বিভাগের সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে সরকারি চাল চুরিতে জড়িত অনেকে ধরা পড়ছে। এসব অপরাধের সঙ্গে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, খাদ্য বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত। চুরির চালের বস্তা ধরা পড়লেও সংশ্নিষ্টরা নানা অজুহাতে বলেন, এটা তার গুদামের চাল নয় অথবা পাশের উপজেলা বা জেলার। নানা ধরনের ফাঁকফোকর দিয়ে আসল অপরাধীরা বেরিয়ে যায়। আবার অনেক চাল ব্যবসায়ী খাদ্যগুদামের বস্তায় চাল রাখায় বা সরকারি অনুদানের চাল সংশ্নিষ্টদের কাছ থেকে কেনার পর হয়রানির শিকার হন। কারণ, ব্যবসায়ীরা কোন ব্যক্তি বা খাতের চাল কিনেছেন তা বস্তা দেখে চিহ্নিত করার উপায় ছিল না। ফলে ভ্রাম্যমাণ আদালত চাল ব্যবসায়ীদের কাছে খাদ্যগুদামের চালের বস্তা পেলে চাল কেনার কাগজপত্র দেখতে চাইতেন। কোনো ব্যবসায়ী চাল কেনার পরও যথাযথ কাগজ দেখাতে না পারলে হয়রানির শিকার হতেন। এখন থেকে দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলা, সিএসডি-এলএসডির সুনির্দিষ্ট কোড নম্বর অমোচনীয় লাল কালিতে চালের বস্তার গায়ে লেখা থাকবে। বস্তা উৎপাদনের মাস, সন এবং খাতের নাম দেখে বোঝা যাবে, ব্যবসায়ীরা চালের বস্তা কোথায় পেয়েছেন।

খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সারোয়ার মাহমুদ সমকালকে বলেন, এলএসডি ও সিএসডি থেকে খাদ্যশস্য বিতরণকালে খাতভিত্তিক ‘বিতরণকৃত’ স্টেনসিল না দিলে সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শ্রমিক-ঠিকাদাররা অনেক সময় শ্রমিকদের অতিরিক্ত কাজের বিল পরিশোধ করেন না। এ জন্য সিল দিতে কোনো ধরনের ভুল হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ খাতে মাস্টাররোলে শ্রমিক নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলে স্টেনসিল মার্ক দেওয়ার জন্য মাস্টাররোলে শ্রমিক নিয়োগ করা হবে।

জানা গেছে, স্টেনসিল দেওয়ার কাজ শ্রম হস্তার্পণ ঠিকাদার দ্বারা নিয়োজিত শ্রমিকদের দ্বারা পূর্বনির্ধারিত কাজের অতিরিক্ত হিসেবে সংযুক্ত করে সম্পাদনের ব্যবস্থা করতে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকদের চিঠি দিয়েছে খাদ্য অধিদপ্তর। শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ-সংক্রান্ত বিল সংশ্নিষ্ট বিষয় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকরা মনিটর করবেন। এ কাজে নিয়োজিত শ্রমিককে অবশ্যই অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন হতে হবে।

খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (চলাচল, সংরক্ষণ ও সাইলো) আব্দুল্লাহ আল মামুন সমকালকে বলেন, এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চূড়ান্ত হয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালের বস্তার গায়ে ডিজিটাল স্টেনসিল দেওয়ার মাধ্যমে ডিজিটাল এ পদ্ধতি দেশব্যাপী শুরু হবে। এর পর আগামী আমন মৌসুমে মিল মালিকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা চালের বস্তায় দেওয়া হবে ডিজিটাল সিল।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুবীর নাথ চৌধুরী সমকালকে বলেন, গত বছরের ডিসেম্বরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় খাতভিত্তিক চালের বস্তায় বিতরণকৃত স্টেনসিলের পাইলটিং শুরু হয়। ছয় মাস পাইলটিং শেষে এখন পুরোদেশে শুরু হচ্ছে। ইতোমধ্যে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংগ্রহের পাইলটিংও সফলভাবে শেষ হয়েছে।

জানা গেছে, বিতরণ করা স্টেনসিলটি অবশ্যই কম্পিউটার কম্পোজ করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই অমোচনীয় রং ছাড়া অন্য রং ব্যবহার করা যাবে না। সিলটির হাতলওয়ালা কাঠের ফ্রেম (৮ দশমিক ২৫ ও ৪ দশমিক ২৫ ইঞ্চি) ও রাবার স্ট্যাম্প (৮ ও ৪ ইঞ্চি) দিয়ে তৈরি করতে হবে। আধা লিটার শতভাগ লাল রঙের সঙ্গে ২ লিটার ফ্লেক্সো থিনার মিশিয়ে লাল রঙের মিশ্রণ তৈরি করতে হবে এবং ট্রের মধ্যে রাখা ফোমে রঙের মিশ্রণ ঢেলে রাবারস্ট্যাম্পে ছাপ দিয়ে বিতরণকৃত খাদ্যশস্যের বস্তায় স্টেনসিল মার্ক দিতে হবে। আর সংগ্রহের ডিজিটাল স্টেনসিলের স্ট্ক্রিনপ্রিন্টের ভেতরের সীমানার মাপ হবে ১৬ ু ১৪ ইঞ্চি। মূল অক্ষর ও সংখ্যার আকার ১ দশমিক ২৫ থেকে ১ থেকে দশমিক ৫ ইঞ্চি হবে। স্ট্ক্রিনপ্রিন্টের ওপর রং ঢেলে দেওয়ার জন্য কাঠের সঙ্গে রাবার যুক্ত করে একটি কাঠের হ্যান্ডল তৈরি করতে হবে। বালতিতে ৫ লিটার পানি দিয়ে তার মধ্যে ৩০ গ্রাম বা দুই চা চামচ সবুজ রং মেশাতে হবে। এর পর ১৫০ মিলি সাদা গাম ঢেলে ৮ থেকে ১০ মিনিট ভালোভাবে নাড়তে হবে, যাতে সবুজ রঙের গাড় মিশ্রণ তৈরি হয়। এর পর বস্তার ওপর ডিজিটাল সিল দেওয়া যাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com