আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দ‍র্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ।

আপনার জিজ্ঞাসার ৬৭০তম পর্বে মৃত ব্যক্তির কুলখানি করা শরিয়ত সম্মত কি না, সে বিষয়ে নীলফামারি থেকে টেলিফোনে জানতে চেয়েছেন মতিকুর ইসলাম। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া।

প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিন, সাত দিন বা ৪০ দিনে কুলখানি করা কি ঠিক?

উত্তর : মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিন, সাত দিন বা ৪০ দিনে যে কুলখানির আয়োজন করা হয়, এই আয়োজনের কোনো ভিত্তি নেই ইসলামে। উত্তম হচ্ছে, মৃত ব্যক্তির জন্য সদকা করা, দান করা। মৃত ব্যক্তিকে সাহায্য করার জন্য সদকা করা হচ্ছে বিধান। এই ক্ষেত্রে যে আনুষ্ঠানিকতা করা হয় এগুলো মানুষের মন গড়া বিষয়। কিন্তু যদি কেউ এই ধরনের তারিখ নির্ধারণ না করে মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কাউকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করে, এটি করা জায়েজ। 

ইসলাম

বেহেশত মায়ের পায়ের নিচে

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ৪৫১টি হাদিস ইংরেজি অনুবাদ করে স্যার আবদুল্লাহ সোহরাওয়ার্দী ‘দ্য সেইংস অব মুহাম্মদ (সা.)’ নামে একটি সংকলন প্রস্তুত করেন। প্রকাশিত হয় ১৯০৫ সালে, লন্ডন থেকে। এতে ইসলাম ও মহানবী (সা.) সম্পর্কে তাঁর ছোট্ট দুটি রচনাও অন্তর্ভুক্ত হয়। প্রকাশের পরপর বইটি পাশ্চাত্য জগতে বেশ সাড়া জাগায়।বিজ্ঞাপন

রুশ সাহিত্যিক ও দার্শনিক লিও তলস্তয়ের মৃত্যুর পর তাঁর ওভারকোটের পকেটে বইটির একটি কপি পাওয়া গিয়েছিল। বাণীগুলোর নৈতিক মাধুর্য, সৌন্দর্য, সাধারণ জ্ঞান, প্রায়োগিক দিক ও চিন্তাশীলতা বিভিন্নভাবে মনকে আলোড়িত করে। বইটিতে ইসলামের আত্মিক ও ইহজাগতিক তাৎপর্য সংক্ষেপে অথচ সহজভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। বাংলায় অনূদিত বইটির প্রকাশক প্রথমা প্রকাশন।

প্রথম আলোর পাঠকদের জন্য এই বই থেকেই পাঁচটি হাদিস তুলে ধরা হলো। ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন আসজাদুল কিবরিয়া।
১. মৃতদের সম্পর্কে কোনো খারাপ কথা বোলো না।
২. নামাজ বিশ্বস্তদের (মুসলমান) জন্য মিরাজস্বরূপ।
৩. যে উদ্দেশ্যের প্রণোদনায় কাজ করা হয়, সে অনুসারে কাজের বিচার করা হয়।
৪. দুনিয়ার প্রতি আকর্ষণই সকল পাপের মূল।
৫. বেহেশত মায়ের পায়ের নিচে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

যেভাবে ধর্মীয় বিষয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়

খোলাফায়ে রাশেদিনের শেষ সময় থেকে মুসলিম বিশ্বে বিভিন্ন শ্রেণির বিভ্রান্ত দলের উদ্ভব হয়। তাদের বিভ্রান্তিকর কর্মকাণ্ডের ফলে ঈমানহারা হয়েছে বহু মানুষ। রাসুলুল্লাহ (সা.) ধর্মীয় বিষয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির ব্যাপারে বলেন, ‘পরবর্তী প্রত্যেক প্রজন্ম থেকে এই জ্ঞান এমন ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তিরা বহন করবে, যারা তাকে রক্ষা করবে প্রান্তিক চিন্তাধারীদের বিকৃতি থেকে, পথভ্রষ্টদের জালিয়াতি ও মূর্খদের ব্যাখ্যা থেকে।’ (মুসনাদে আহমদ)

বিভ্রান্তির চার কারণ

উল্লিখিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) তিনটি কারণ চিহ্নিত করেছেন, যার মাধ্যমে ধর্মীয় বিষয়ে বিভ্রান্তি ও বিকৃতি তৈরি হয়।

১. প্রান্তিকতা : ধর্মীয় বিষয়ে প্রান্তিকতা হলো কোনো বিষয়ে অতি শিথিলতা বা অতি কঠোরতা। উভয় শ্রেণি ইসলামী বিধি-বিধানের ব্যাপারে ভারসাম্য রক্ষা করে না। ইসলাম বিশ্বাস, ইবাদত ও মতাদর্শসহ সব বিষয়ে সব ধরনের প্রান্তিকতা পরিহারের নির্দেশ দিয়েছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘বলুন হে কিতাবিরা, তোমরা তোমাদের দ্বিনের ব্যাপারে অন্যায়ভাবে বাড়াবাড়ি করো না এবং যে সম্প্রদায় ইতিপূর্বে পথভ্রষ্ট হয়েছে, বহুজনকে পথভ্রষ্ট করেছে ও সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ কোরো না।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত : ৭৭)

২. জালিয়াতি : বিভ্রান্ত দলগুলো ইসলামের নামে এমন বহু কিছুর প্রচলন ঘটাতে চেয়েছে, যা কোনো স্থান ইসলামে নেই, যা পুরোপুরি ভিত্তিহীন। বিভ্রান্ত দলগুলোর জালিয়াতি ও অপপ্রচারে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার নামে মনগড়া কথা রচনা করল যা আমি বলিনি, সে যেন তার বাসস্থান জাহান্নামে নির্ধারণ করল।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ৩৪)

৩. মূর্খদের ব্যাখ্যা : ধর্মীয় বিষয়ে জ্ঞান না থাকার পরও সামাজিক অবস্থান, রাজনৈতিক ক্ষমতা ও জাগতিক বিষয়ে পাণ্ডিত্য থাকার কারণে কেউ কেউ ইসলামের বিধি-বিধানের ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করে। আর তা করতে দিয়ে তারা ভুল ও বিচ্যুতির শিকার হয়। পবিত্র কোরআনে এসব ব্যক্তির ব্যাপারে বলা হয়েছে, ‘অথচ এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই। তারা তো শুধু অনুমানেরই অনুসরণ করে। কিন্তু সত্যের মোকাবেলায় অনুমানের কোনোই মূল্য নেই।’ (সুরা নাজম, আয়াত : ২৮)

৪. বিদআত : দ্বিনের ব্যাপারে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপর মাধ্যম হলো বিদআত। ইসলামী পরিভাষায় বিদআত হলো এমন কোনো কিছুকে দ্বিন ও ইবাদত মনে করে পালন করা, যার ভিত্তি ইসলামী শরিয়তের স্বীকৃতি কোনো উৎস পাওয়া যায় না। মানুষ বিদআতকে ভালো মনে করলেও তার পরিণতি সব সময় মন্দ হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘বিষয়গুলোর মধ্যে নব-উদ্ভাবিত বিষয়গুলোই নিকৃষ্ট। প্রত্যেক নব-উদ্ভাবিত বিষয় বিদআত আর প্রত্যেক বিদআত বিভ্রান্তি, প্রত্যেক বিভ্রান্তি পথভ্রষ্টতা, যা জাহান্নামের কারণ।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ১৫৭৮)

বিভ্রান্তি থেকে বাঁচার উপায়

উল্লিখিত বিভ্রান্তির চারটি কারণ পরিহারে ইসলামের নির্দেশনা হলো—

১. মধ্যপন্থা অবলম্বন করা : কঠোরতা ও শিথিলতার মতো প্রান্তিকতার বিপরীতে ইসলাম মধ্যপন্থা অবলম্বনের নির্দেশ দেয়। রাসুল (সা.) বলেন, তোমরা আমলে মধ্যপন্থা অবলম্বন করো, বাড়াবাড়ি করো না। সকাল-সন্ধ্যায় (ইবাদতের জন্য) বের হয়ে পড়ো এবং রাতের কিছু অংশেও। তোমরা অবশ্যই পরিমিতি রক্ষা করো। তাহলে গন্তব্যে পৌঁছতে পারবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৪৬৩)

২. দ্বিনচর্চায় সনদকে গুরুত্ব দেওয়া : দ্বিনচর্চায় সনদের গুরুত্ব দিলে বিভ্রান্ত মানুষের জালিয়াতি থেকে আত্মরক্ষা করা সহজ হবে। পূর্ববর্তী আলেমরা জ্ঞানচর্চায় ‘সনদ’ বা পরম্পরা রক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনে মোবারক (রহ.) বলেছেন, ‘সনদগ্রহণ (পরম্পরা রক্ষা) দ্বিনের অংশ। যদি সনদ না থাকত তবে যার যা ইচ্ছা সে তাই বলত।’ (ভূমিকা, সহিহ মুসলিম)

সুফিয়ান সাওরি (রহ.) বলেন, ‘সনদ মুমিনের হাতিয়ার। যার কাছে হাতিয়ার নেই তাকে যে কেউ হত্যা করতে পারে।’ (আল ওয়াদউ ফিল হাদিস : ২/২৯)

৩. গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি থেকে জ্ঞানার্জন : মূর্খ ব্যক্তিদের ভ্রান্ত ব্যাখ্যা পরিহার করতে হবে। এ বিষয়ে মুহাম্মদ ইবনে সিরিন (রহ.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই এ জ্ঞান দ্বিনের অংশ। সুতরাং কার কাছ থেকে তোমরা তোমাদের দ্বিন গ্রহণ করছ তা লক্ষ্য রাখো।’ (আল কামিল : ১/২৫৪)

আর ধর্মীয় জ্ঞানে পিছিয়ে থাকা ব্যক্তিদের প্রতি নির্দেশনা হলো ‘যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই তার অনুসরণ করো না; কান, চোখ, হৃদয়—তাদের প্রত্যেকটি সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে।’ (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত : ৩৬)

৪. কোরআন-সুন্নাহর অনুসরণ : ইসলাম বিদআতের পরিবর্তে কোরআন-সুন্নাহ অনুসরণের নির্দেশনা দিয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘রাসুল তোমাদের কাছে যা নিয়ে এসেছে তা অনুসরণ করো এবং যা থেকে নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকো। আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ শাস্তিদানে কঠোর।’ (সুরা হাশর, আয়াত : ৭)

বিভ্রান্তি থেকে দ্বিন যেভাবে রক্ষা পায়

নানাভাবে ধর্মীয় বিষয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হলেও আল্লাহ তাআলা ইসলামকে বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করেছেন। ইসলামে বিশুদ্ধতা রক্ষা পায় প্রধানত দুই ভাবে। এক. কোরআন-সুন্নাহ সংরক্ষণের মাধ্যমে। কেননা আল্লাহ সরাসরি কোরআনকে এবং তার ব্যাখ্যা হিসেবে সুন্নাহকে রক্ষা করেছেন। আর ইসলামের মূল ভিত্তি বা স্তম্ভ হলো কোরআন ও সুন্নাহ। কোরআন সংরক্ষণের ব্যাপারে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই তা সংরক্ষণকারী।’ (সুরা হিজর, আয়াত : ৯)

দুই. সচেতন আলেম সমাজের মাধ্যমে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘পরবর্তী প্রত্যেক প্রজন্ম থেকে এই জ্ঞান এমন ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তিরা বহন করবে, যারা তাকে রক্ষা করবে প্রান্তিক চিন্তাধারীদের বিকৃতি থেকে, পথভ্রষ্টদের জালিয়াতি ও মূর্খদের ব্যাখ্যা থেকে।’ (মুসনাদে আহমদ)

আল্লাহ সবাইকে বিভ্রান্তির হাত থেকে রক্ষা করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

প্রিয় নবী মেহমানের সঙ্গে যেমন ব্যবহার করতেন

আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) মেহমানদেরকে খুব গুরুত্ব দিতেন। তিনি ছিলেন অতিথি পরায়ণ। অতিথিদের সামনে তিনি সদা হাস্যোজ্জ্বল থাকতেন। যে কোনো মেহমানকেই জানাতেন সাদর আমন্ত্রণ ও উষ্ণ অভ্যর্থনা। ধর্ম-বর্ণ ও শত্রু-মিত্রের পার্থক্য তিনি করেননি কখনোই।

অতিথিদের কাছ থেকে কোনো অসৌজন্যতা প্রকাশ পেলেও ধৈর্য ধরতেন। আদর-আপ্যায়নের যেন কোনো ত্রুটি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতেন।

বিদায়বেলায় মেহমানের হাতে তুলে দিতেন উপহার-উপঢৌকন। তার আন্তরিক আতিথেয়তায় অতিথিরা মুগ্ধ-বিস্মিত হতো। সেই মুগ্ধতা অনেক মেহমানকে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করেছে।

আতিথেয়তার ফজিলত
আতিথেয়তার ফজিলত বর্ণনা করে রাসূল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে সে যেন তার মেহমানের সমাদর করে। (মুসলিম, হাদিস : ৭৯)

সালমান ফারসি (রা.) বলেন, একবার আমি রাসূল (সা.) এর কাছে এলাম। একটি বালিশে হেলান দিয়ে তিনি বসা ছিলেন। আমাকে দেখে তিনি বালিশটি আমার দিকে এগিয়ে দিলেন। বললেন, ‘সালমান, যখন কোনো মুসলমান তার ভাইয়ের কাছে আসে তখন তার সম্মানে যদি একটি বালিশও সে এগিয়ে দেয়, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন।’ (হায়াতুস সাহাবা, পৃষ্ঠা : ৪৪৬)

সর্বজনীন আতিথেয়তা
রাসূল (সা.) এর আতিথেয়তায় শর্তের কোনো বেড়াজাল ছিল না। ধনী-দরিদ্রের তফাত ছিল না। মুসলিম-অমুসলিমের তারতম্য ছিল না। শত্রু-মিত্রের কোনো ফারাক ছিল না। রাসূল (সা.) বলেন, ‘যে অলিমায় শুধু ধনীদের আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং গরিবদের বাদ দেয়া হয়, তা সবচেয়ে নিকৃষ্ট খাবার।’ (বুখারি, হাদিস : ৪৭৯৯)

সাহাবি রুশদ ইবনে আবদুর রহমান বলেন, ‘ইসলাম গ্রহণের আগে আমি রাসূল (সা.) এর মেহমান হয়েছিলাম। তিনি আমার খোঁজখবর নিলেন। তার কাছে আমাকে বসালেন। যতক্ষণ আমি তার কাছে ছিলাম ততক্ষণ তার আতিথেয়তায় মুগ্ধ হলাম। তার এই অসাধারণ আতিথেয়তায় সন্তুষ্ট হয়ে আমি ইসলাম গ্রহণ করলাম।’ (হায়াতুস সাহাবা, পৃষ্ঠা : ৪৪৭)

শত্রু যখন অতিথি
আরবের মুহারিব গোত্র খুবই উগ্র ছিল। কট্টর ইসলামবিরোধী ছিল। ইসলামের মাধুর্যে মুগ্ধ হয়ে যখন মানুষ দলে দলে মদিনায় আসতে লাগল তখন মুহারিব গোত্রেরও ১০ জন লোক মদিনায় এলো। রাসূল (সা.) তাদের অভ্যর্থনা-আপ্যায়নের জন্য বেলাল (রা.) কে দায়িত্ব দেন। সকাল-বিকাল তাদের আহারের সুব্যবস্থা করেন। এতে তারা মুগ্ধ-বিস্মিত হলো এবং ইসলাম গ্রহণ করে নিজ দেশে ফিরে গেল। (আসাহহুস সিয়ার, পৃষ্ঠা : ৪৪৪)

অতিথির অসৌজন্যতায় ধৈর্য ধারণ
অতিথিদের নানা দুর্ব্যবহারে তিনি সহনশীলতার পরিচয় দিতেন। তাদের অসৌজন্যতা নীরবে সয়ে যেতেন। ক্ষমার চাদরে ঢেকে দিতেন তাদের। একটু কটুবাক্যও তিনি কখনো বলতেন না। অন্যদেরও কঠোরভাবে নিষেধ করতেন। এক গ্রাম্য লোক নবিজি (সা.) এর কাছে এলো। হঠাৎ সে মসজিদ-ই-নববীর ভেতরেই প্রস্রাব করতে লাগল। সাহাবায়ে কেরাম তাকে বাধা দিতে গেলে রাসূল (সা.) বললেন, ‘তাকে ছেড়ে দাও এবং তার প্রস্রাবের ওপর এক বালতি পানি ঢেলে দাও। তোমরা কঠোর হওয়ার জন্য নয়, বরং নম্র ব্যবহারের জন্য প্রেরিত হয়েছ। ‘ (বুখারি, হাদিস : ২২০)

মেহমানের খাতির-যত্ন ও আপ্যায়ন
অতিথির আদর-আপ্যায়ন ও খাতির-যত্নে রাসূলের কোনো সংকোচবোধ ছিল না। তিনি মেহমানের সঙ্গে একই পাত্রে বসে খেতেন। মেহমান তৃপ্তিসহকারে খেয়ে না ওঠা পর্যন্ত তিনি উঠতেন না। বসে থাকতেন। ভালো খাবারগুলো মেহমানের দিকে এগিয়ে দিতেন। নিজের পরিবারকে অভুক্ত রেখে তিনি
মেহমানদের খাওয়াতেন।

আসহাবুস সুফফা ছিলেন রাসূল (সা.) এর নিত্য মেহমান। তিনি তাদের খাতির-যত্নের কোনো কমতি রাখেননি। অন্য মেহমানদের তিনি আসহাবুস সুফফার সঙ্গে মসজিদ-ই-নববীতে থাকার ব্যবস্থা করতেন। তা ছাড়া দুই নারী সাহাবি রামলা ও উম্মে শরিক (রা.) এর ঘরেও মেহমানদের থাকার বিশেষ ব্যবস্থা ছিল। (শারহুল মাওয়াহিবিল লাদুন্নিয়্যাহ, খন্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৮০)

এতেও সংকুলান না হলে তিনি সাহাবাদের মধ্যে মেহমানদের বণ্টন করে দিতেন। তাদের খাতির-যত্নের তাগিদ দিতেন। সাহাবারাও তাদের সমাদর করতেন।

মক্কা বিজয়ের পর মদিনায় অতিথির কোনো অভাব ছিল না। রাসূল (সা.) নিজেই তাদের খেদমত আঞ্জাম দিতেন। আর সাহাবি বেলাল (রা.) কে রাষ্ট্রীয় মেহমানদের বিশেষ তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে নিযুক্ত করেন। (সীরাতুন নবী, খন্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৫০৪)

বিদায়কালে উপহার দেয়া
বিদায়কালে রাসূল (সা.) মেহমানদের পথখরচ ও উপহার দিতেন। কখনো পর্যাপ্ত উপহার দিতে না পারলে অল্প হলেও দিতেন এবং মেহমানের কাছে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টি কামনা করতেন। কখনো বিশেষ সাহাবিকে বলে দিতেন, যাতে তিনি তাদের পথখরচ দিয়ে দেন। অন্যান্য উপহার তো থাকতই। বিশেষত যখন কেউ তার কাছে উপহার নিয়ে আসত তখন তিনি তা গ্রহণ করতেন এবং তাকে বিদায়কালে নিজের পক্ষ থেকে অবশ্যই উপহার দিতেন। হারিস ইবনে আউফের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধিদল রাসূলের মেহমান হলো। বিদায়কালে রাসূল (সা.) তাদের প্রত্যেককে ১০ উকিয়া পরিমাণ রুপা দিলেন। সাহাবি হারিসকে দিলেন ১২ উকিয়া পরিমাণ। (আসাহহুস সিয়ার, পৃষ্ঠা : ৪৪৩)

প্রিয় নবিজি (সা.) এর আতিথেয়তা মুসলমানদের অনুপম আদর্শ। আধুনিক যুগেও এসব সুন্নাহই আভিজাত্যের নিদর্শন। এসব সুন্নাহ থেকে মুসলমানরা নিত্য দূরে সরে যাচ্ছে। তাই আসুন, মেহমানের সমাদর করি। তাদের খাতির-যত্নে ও আদর-আপ্যায়নে সুন্নতের অনুসরণ করি। ইসলামের সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিই পৃথিবীময়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

শুকরিয়া সিজদা দাঁড়িয়ে না বসে দিতে হয়?

লেখক

শুকরিয়া সিজদা দাঁড়িয়ে না বসে দিতে হয়?

নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দ‍র্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ।

আপনার জিজ্ঞাসার ৬৬৯তম পর্বে শুকরিয়া সিজদা দাঁড়িয়ে না বসে দিতে হয়, সে বিষয়ে ফেনী থেকে টেলিফোনে জানতে চেয়েছেন তাহমিদা। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া।

প্রশ্ন : শুকরিয়া সিজদার নিয়ম কী? এটা দাঁড়িয়ে না বসে দিতে হবে?

উত্তর : শুকরিয়া সিজদা হচ্ছে, একটি সিজদা দেওয়ার নাম। দাঁড়ানো অবস্থায় এই সিজদা দেওয়া উত্তম। যদি কেউ বসে থাকেন, তাহলে তিনি বসে থেকেও দিতে পারবেন। একটি সিজদা দেবেন এবং এই সিজদাতে আপনি দোয়াও করতে পারবেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

সন্তানরা মায়ের সম্পত্তির ভাগ কীভাবে পাবে?

লেখক

সন্তানরা মায়ের সম্পত্তির ভাগ কীভাবে পাবে?

নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দ‍র্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ।

আপনার জিজ্ঞাসার ৬৬৯তম পর্বে সন্তানরা মায়ের সম্পত্তির ভাগ কীভাবে পাবে, সে বিষয়ে মিরপুর থেকে টেলিফোনে জানতে চেয়েছেন মাহমুদা। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া।

প্রশ্ন : ছেলেমেয়েরা বাবার সম্পত্তি দুই ভাগ আর একভাগ পায় কিন্তু মায়ের সম্পত্তি কীভাবে ভাগ হবে?

উত্তর : বাবার সম্পত্তি যেভাবে ভাগ হবে, মায়ের সম্পত্তিও সেভাবে ভাগ হবে। দুই সম্পত্তির মধ্যে আলাদা কোনো বিধান নেই। ২:১ এভাবে ছেলেরা দুইভাগ এবং মেয়েরা একভাগ পাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com