আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বিশ্ব

‘মৃতদের রক্ষাকর্তা’, ভারতে বেওয়ারিশ লাশের অভিভাবক হয়ে উঠেছেন যিনি

 ছেলের মৃত্যুর পর মোহাম্মদ শরীফ বেওয়ারিশ মৃতদেহ সৎকার শুরু করেন
ছেলের মৃত্যুর পর মোহাম্মদ শরীফ বেওয়ারিশ মৃতদেহ সৎকার শুরু করেন

মোহাম্মদ শরীফ তার ছেলেকে কবর দেয়ার সুযোগ পাননি। তবে গত ২৭ বছর ধরে তিনি এমন হাজার হাজার পরিবারের সন্তানদের কবর দিয়ে আসছেন, যাদের মৃতদেহের কোনো দাবিদার নেই।

মোহাম্মদ শরীফের ছেলে যে মারা গেছে, পুলিশ তাকে এই তথ্যটি জানায় একমাস পরে। তবে শুধু এটুকুই, তার ছেলে কোথায় বা কীভাবে মারা গেছে তাও জানাতে পারেনি পুলিশ।

মোহাম্মদ শরীফ শুধু জানেন যে ১৯৯২ সালে একটি মসজিদ ভাঙ্গাকে কেন্দ্র করে হওয়া হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় ভারতজুড়ে যে ২ হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল, তাদের মধ্যে ছিল তার ছেলে মোহাম্মদ রইস।

২৫ বছর বয়সী রইসকে কোথায় কবর দেয়া হয়েছে, তাও জানে না তার বাবা।

“পুলিশ বলেছিল তার শরীর পচে গেছে”, প্রায় তিন দশক পর স্মৃতিচারণ করছিলেন মোহাম্মদ শরীফ। “আমরা তার মৃতদেহ দেখিনি, শুধু তার পোশাক পেয়েছি।”

তবে ঐ ঘটনার কয়েকদিন পর তিনি এমন একটি ঘটনা দেখেন যা তার জীবন আমূল পাল্টে দেয়।

“একদিন পুলিশ অফিসারদের দেখি নদীতে একটি লাশ ছুঁড়ে ফেলছে। দেখে আতঙ্কিত হই আমি”, আতঙ্কের সাথে সাথেই সম্পূর্ণ নতুন একটি বিষয় অনুধাবন করেন তিনি।

“হয়তো আমার ছেলের দেহও ওভাবেই কোনো নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছিল। সেদিন আমি নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করি, আজ থেকে আমি বেওয়ারিশ লাশেদের অভিভাবক। আমি এদের সৎকারের ব্যবস্থা করবো।”

এসব বেওয়ারিশ লাশ নানা কারণে জমা হয় ভারতে: এসব দেহ সড়ক বা ট্রেন দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া মানুষের যেমন হতে পারে, বাড়ি থেকে দূরের কোনো জায়গায় মারা যাওয়া মানুষের হতে পারে – আবার তীর্থযাত্রী, অভিবাসী, গৃহহীন বা সন্তানরা তাড়িয়ে দিয়েছে এমন বৃদ্ধদেরও হতে পারে।

আবার অনেক সময় অতি দরিদ্র ব্যক্তিরা হাসপাতালে মারা গেলে তাদের সৎকারের দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসে না কেউ।

 মোহাম্মদ শরীফ বলেন তার স্ত্রী কখনোই ছেলের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি
মোহাম্মদ শরীফ বলেন তার স্ত্রী কখনোই ছেলের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি

প্রশ্ন ওঠে, এই দেহগুলো নিয়ে কী করা হবে?

১৯৯২ সালে ভারতের অনেক জেলাতেই মর্গের সুবিধা ছিল না। কারো দাবি না করা বেওয়ারিশ লাশ দ্রুত কবর দেয়া এক ধরণের রীতিই ছিল।

এরকম লাশ কবর দেয়াই প্রথা ছিল। তবে উত্তর ভারতের কিছূ জায়গায় টাকা ও সময় বাঁচাতে বেওয়ারিশ লাশ নদীতেও ফেলে দেয়া হয়ে থাকে।

সবসময়ই মোহাম্মদ শরীফের পরিবারের সন্দেহ ছিল যে মোহাম্মদ রইসের দেহ গোমতী নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে। ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে – যখন উগ্রবাদী হিন্দুরা ষোড়শ শতাব্দীতে তৈরি করা অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ভেঙ্গে ফেলে – মোহাম্মদ শরীফের বাড়ি থেকে ৬৫ কিলোমিটার দূরের সুলতানপুরে কেমিস্ট হিসেবে কাজ করতেন মোহাম্মদ রইস।

অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ভাঙ্গাকে কেন্দ্র করে হওয়া সহিংসতার সময় নিখোঁজ হন রইস।

মোহাম্মদ শরীফ বলছিলেন, “আমার ছেলে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পর এক মাস পাগলের মত তাকে সবখানে খুঁজেছি। কোথাও না পেয়ে সুলতানপুরে আসি।”

তারা যেই ভয়টা পাচ্ছিলেন, কিছুদিন পরই তা সত্যি প্রমাণিত হয়। তাদের ছেলে মারা গেছে।

ঐ ঘটনার পর মোহাম্মদ শরীফ ও তার স্ত্রী মানসিকভাবে চরম আঘাত পান। মোহম্মদ রইসের মা এখনো হঠাৎ হঠাৎ বিষণ্ণতায় ভোগেন।

 শরীফ জানান, নিজের পরিবারের সদস্যের মতই অচেনা একজন ব্যক্তির সৎকার করেন তিনি
শরীফ জানান, নিজের পরিবারের সদস্যের মতই অচেনা একজন ব্যক্তির সৎকার করেন তিনি

ছেলের যথাযথ সৎকার করা সম্ভব না হওয়ার বিষয়টি তাদের কাছে অসহ্য বোধ হতে থাকে।

মোহাম্মদ শরীফ বলেন, “সেসময় আমি সিদ্ধান্ত নেই আমার জেলার একটা মরদেহও আমি সৎকার না করে নদীতে ফেলে দিতে দেবো না।”

ভারতের বর্ণ বৈষম্যপূর্ণ হিন্দু সমাজে যারা সবচেয়ে নিম্নবর্ণ, তাদেরকে সাধারণত মৃতদেহ পোড়ানো ও কবর দেয়ার মত কাজগুলো করতে বাধ্য করা হতো – ফলস্বরূপ তাদের ‘অচ্ছুত’ হিসেবেও বিবেচনা করা হতো।

কিন্তু ব্যক্তিজীবনে সাইকেল মেকানিক মোহাম্মদ শরীফ এসবের পরোয়া করেননি। তিনি পুলিশকে জানান যে সবার অপছন্দের এবং ঘৃণ্য এই কাজই তিনি করতে চান।

“কাজ করার প্রথম ফোনটি যখন আমি পাই, তখন আমার হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়। পোস্টমর্টেমের পর পুলিশ আমাকে দেহটি সৎকার করতে দেয়। আমার পরিস্কার মনে আছে, মৃতদেহের ঘাড় ছিল ভাঙ্গা।”

দ্রুতই তার কাজের পরিমাণ বেড়ে যায়। মরদেহ এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য চার চাকার একটি ঠেলাগাড়িও কেনেন তিনি।

‌সেসময় তার পরিবারের সদস্য, বন্ধুবান্ধব ও পরিচিতরা একটা বড় ধাক্কা খায়। ইসলাম ধর্মাবলম্বী হলেও মোহাম্মদ শরীফকে তার সাথে কাজ করা হিন্দু সহকর্মীদের মতই হেয় প্রতিপন্ন করা হতে থাকে।

“সেসময় আমার পরিবারের একজনও আমার ওপর সন্তুষ্ট ছিল না। তারা সবাই আমাকে বলে যে তুমি পাগল হয়ে গিয়েছ।”

“কেউ কেউ আমাকে ভয়ও পেত তখন। তারা মনে করতো আমার সংস্পর্শে এলে তারাও জীবাণূ দ্বারা সংক্রমিত হবে।”

 হিন্দু বর্ণপ্রথায় সবচেয়ে নিচু জাতি যাদের মনে করা হয়, তাদের বাধ্য করা হয় মরদেহ পুড়ানো ও সৎকারের কাজে
হিন্দু বর্ণপ্রথায় সবচেয়ে নিচু জাতি যাদের মনে করা হয়, তাদের বাধ্য করা হয় মরদেহ পুড়ানো ও সৎকারের কাজে

কিন্তু এতকিছু স্বত্ত্বেও মোহাম্মদ শরীফ তার প্রতিজ্ঞা থেকে সরেননি। তিনি পরিবারের সদস্যদের বিয়ের অনুষ্ঠানে যাননি, উৎসবের সময় আনন্দ উদযাপন করেননি, এমনকি কখনো কখনো প্রার্থনাও বাদ দিয়েছেন সম্পূর্ণ অপরিচিত মানুষদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করে দেয়ার জন্য। এই কাজই তাকে শান্তি দিত, তার ছেলের মৃত্যুর দু:খ ভুলে থাকার শক্তি যোগাতো।

“আমার ছেলের মৃত্যুর শোক সামলাতে সাহায্য করতো ঐ কাজ। আমি প্রত্যেক মুহুর্তে তার কথা মনে করি।”

অনেকসময়ই পচা গলা, বিকৃত মরদেহের সৎকারের ব্যবস্থা করতে হয়েছে মোহাম্মদ শরীফকে।

“যখনই বাজেভাবে বিকৃত হয়ে যাওয়া কোনো দেহ দেখেছি, তা আমার ঘুমে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে। দু:স্বপ্ন দেখে রাত পার করেছি, ঘুমের ওষুধ খেয়েছি।”

মোহাম্মদ শরীফ সাধারণত একটি বিষয়েই জোর দিতেন। যথাযথভাবে সৎকার হচ্ছে কিনা।

তিনি যদি বুঝতেন যে লাশটি মুসলিম কোনো ব্যক্তির, তখন তার গায়ে একখণ্ড কাপড় জড়িয়ে প্রার্থনাবাক্য পাঠ করতেন। হিন্দু হলে সেটি দাহ করতে নিয়ে যেতেন তিনি।

মোহাম্মদ শরীফ ঠিক কতগুলো দেহ সৎকার করেছেন তার কোনো নিশ্চিত হিসাব নেই।

অযোধ্যা জেলা প্রশাসনের প্রধান অনুজ কুমার ঝা বিবিসিকে বলেন, “আমাদের একটা আনুমানিক ধারণা রয়েছে যে আমরা মোহাম্মদ শরীফকে আড়াই হাজারের মত দেহ সৎকার করতে দিয়েছি।”

তবে মোহাম্মদ শরীফ ও তার পরিবারের দাবি তিনি সাড়ে ৫ হাজারের বেশি মানুষের মরদেহ সৎকার করেছেন।

 মোহাম্মদ শরীফ এখনো নিয়মিত তার সাইকেল ঠিক করার দোকানে কাজ করেন
মোহাম্মদ শরীফ এখনো নিয়মিত তার সাইকেল ঠিক করার দোকানে কাজ করেন

এই কাজের জন্য কখনো কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা পাননি তিনি। আজ পর্যন্ত তিনি নিয়মিত তার সাইকেলের দোকানে কাজ করেন, যেখান থেকে তার দৈনিক আয় হয় ৩ মার্কিন ডলারের কাছাকাছি।

তবে সম্প্রতি তার অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। তার অত্মোৎসর্গের প্রতিদান পেয়েছেন তিনি। ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কারগুলোর একটির মাধ্যমে সম্মানিত করা হয়েছে তাকে।

এখন স্থানীয় দোকানদাররা তার কাজের খরচ বহন করেন।

বর্তমানে ৮০ বছর বয়সে মোহাম্মদ শরীফ দু’জন সহকারী রেখেছেন যারা তাকে সৎকারের কাজে সাহায্য করে।

“হিন্দু, মুসলিম দুই ধর্মের লোকই আমাকে সাহায্য করে। মানুষ আমাকে খাবার ও কম্বল দান করে। সম্প্রতি আমার একটি চোখের অপারেশন হয়েছে। সেসময় একেবারেই অপরিচিত এক ব্যক্তি আমাকে ডেকে ২০ হাজার রুপি দেয়।”

মোহাম্মদ শরীফের দুই ছেলে বা তাদের সন্তানদের কেউই তার মৃত্যুর পর অচেনা মানুষের মৃতদেহের সৎকার করবে না। কিন্তু মোহাম্মদ শরীফ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই কাজ করবেন।

“আমি না থাকলে পুলিশ হয়তো আবারো নদীতে লাশ ছুঁড়ে ফেলা শুরু করবে।”

কিন্তু মোহাম্মদ শরীফ বেঁচে থাকতে এই দৃশ্য দেখতে পারবেন না। তাই তাকে মানুষ বলে ‘মৃতদের রক্ষাকর্তা।’

বিশ্ব

অক্সিজেন শূন্য হতে যাচ্ছে পৃথিবী!

লেখক

অতিরিক্ত মিথেন গ্যাস নিঃসরণ আর স্বল্প অক্সিজেনে প্রাণের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে পৃথিবীর জন্য। বিবর্ণ হতে শুরু করবে সবুজ আর নীল এই গ্রহ। কোটি বছর পড়ে সৌরজগতের এই গ্রহে প্রাণের কোন অস্তিত্বই থাকবে না। এমন পূর্বাভাস বিজ্ঞানীদের।


বিজ্ঞানীরা জানান, ২৪০ কোটি বছর আগে পৃথিবী যেমন ছিল, তেমন রূপই ধারণ করবে। পৃথিবীতে আর প্রাণের অস্তিত্ব থাকবে না। মানুষ তো থাকবেই না, থাকবে না অন্য কোনো উদ্ভিদ বা প্রাণির অস্তিত্বও।



যত দিন যাচ্ছে, ততই মানুষের বাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে এই পৃথিবী। সব কিছু এখন স্বাভাবিক, সুন্দর মনে হলেও এমন দিন আসবে, যখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে শ্বাস নেওয়ার মতো বাতাস, অক্সিজেন থাকবে না। বাস্তবে পৃথিবীকে ঘিরে থাকবে না কোনো বায়ুমণ্ডলই। সূর্যের প্রচণ্ড তাপে এবং ক্ষতিকর বিকিরণে ধ্বংস হয়ে যাবে ওজনস্তর। ফলে অক্সিজেন নির্ভর প্রাণের পক্ষে টিকে থাকা যেমন অসম্ভব হবে, তেমনি অসম্ভব হয়ে পড়বে উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণও। মানুষ তো বটেই, অল্প কিছু অণুজীব ছাড়া কোনো প্রাণী বা উদ্ভিদ বাঁচতে পারবে না এই গ্রহে। ২৪০ কোটি বছর আগের পরিস্থিতি যে রকম ছিল, পৃথিবী আবার ফিরে যাবে সেই অবস্থায়। পৃথিবী তখন ভরে যাবে অত্যন্ত বিষাক্ত মিথেন গ্যাসে।


পৃথিবীতে কমছে অক্সিজেনের পরিমাণ। গ্রিনহাউসের কারণে পৃথিবী আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাবে। অক্সিজেনের ওপর প্রতি সেকেন্ডে মানুষ আর প্রাণিরা নির্ভরশীল। কোটি বছর পর আর এই অক্সিজেনই থাকবে না পৃথিবীতে। পৃথিবী হয়ে যাবে মঙ্গলের মতো পাথুরে একটি গ্রহ। সমুদ্রের সব পানি বাষ্প হয়ে যাবে। সূর্যের তাপ বাড়ছে, বাড়ছে পৃথিবীতে কার্বন-ডাই-অক্সাইড। পৃথিবীকে রক্ষা করা ওজন স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এই ওজন স্তর না থাকলে সূর্যের তাপ পৃথিবীতে প্রবেশে কোন বাঁধা থাকবে না। ২০০ কোটি বছরের মধ্যেই পৃথিবীর সমুদ্রগুলো শুষে নেবে সূর্য।





সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, অক্সিজেন এতো আশঙ্কাজনকহারে কমে যাবে, যে পৃথিবীতে কোনো প্রাণিই বেঁচে থাকবে না।


নাসার ’নেক্সাস ফর এক্সোপ্ল্যানেট সিস্টেম সায়েন্সের’ গবেষণায় উঠে এসেছে এসব তথ্য। গবেষণাটির মূল গবেষক হচ্ছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির ভূবিজ্ঞানী অধ্যাপক ক্রিস রেনহার্ড ও জাপানের তোহো বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞানী অধ্যাপক কাজুমি ওজাকি জাবি।
তাদেন গবেষণা বলছে, পৃথিবীতে শুধু অণুজীব টিকে থাকবে। ওজন স্তর না থাকলে পৃথিবী আর কোন প্রাণির জন্য বাসযোগ্য থাকবে না। জলবায়ু পরিবর্তন যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরেই থাকে, আগামী ১০০ কোটি বছরের মধ্যেই পৃথিবী অক্সিজেনশূন্য হয়ে যাবে। এরমধ্যে সূর্যের বয়স হবে। কার্বন-ডাই-অক্সাইডের ঘাটতি হলে গাছের জন্য টিকে থাকা কষ্ট হবে। গাছও পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে অক্সিজনে সরবরাহ করতে পারবে না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বিশ্ব

স্বর্ণের চেয়েও দামি, এক কাপ চায়ের মূল্য সাড়ে আট লাখ টাকারও বেশি!

এবার স্বর্ণের চেয়েও দামি চায়ের সন্ধান মিলেছে। যার এক গ্রামের দাম স্বর্ণের এক গ্রামের দামের থেকে ৩০ গুণ বেশি। এর এক কাপ চায়ের দাম সাড়ে সাত লাখ রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে আট লাখ টাকারও বেশি)। শুনলে খটকা লাগলেও ঘটনা সত্যি। বিশ্বের অন্যতম দামি এই চায়ের নাম ‘দা হোং পাও’। 

খুব বিরল জাতের এই চা উৎপন্ন হয় চীনের ফুজিয়ান প্রদেশের উয়ি পর্বতে। সারা বিশ্বের মধ্যে একমাত্র চীনে এই চায়ের ছ’টি গাছ রয়েছে। বিরল এবং উৎকৃষ্ট গুণমানের জন্য দা হোং পাও-কে চায়ের রাজা বলা হয়। ২০০৬-এ চীন সরকার প্রায় ১১৭ কোটি টাকার বিমা করিয়েছে এই ছ’টি চা গাছের। এক কেজি এই চায়ের দাম প্রায় ৮ কোটি ৩০ লক্ষ রুপি। তিনশো বছর ধরে এই চায়ের চাষ হচ্ছে চীনে।জানা গেছে, মূল্যবান এই চায়ে ক্যাফিন, থিওফিলিন, পলিফেনলস এবং ফ্ল্যাবোনয়েড আছে। স্বাস্থ্যের পক্ষে যা খুব উপকারী। প্রতি দিন এই চা খেলে ত্বক ভাল থাকে। মাটির পাত্রে বিশুদ্ধ পানিতে এই চা বানাতে হয়। সুগন্ধের জন্যও এই চায়ের দাম এত বেশি। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

পেঁয়াজের দাম কমেছে খুলনায়

শুক্রবার খুলনার খুচরা ও পাইকারি বাজারে এমন চিত্র দেখা যায়।
চার দিন আগে খুলনার বাজারগুলোতে হু হু করে বেড়েছিল পেঁয়াজের দাম। সে সময় দেশি পেঁয়াজের দাম খুচরা বাজারে ৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ৭০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।


পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা জানান, বার্মা থেকে পেঁয়াজ আসতে শুরু করেছে। সরবরাহ বৃদ্ধির কারণে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। ২১ দিনের মধ্যে আরও কমবে।
তবে কেউ কেউ বলছেন, আসন্ন দুর্গাপূজার কারণে ভারতে থেকে পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে না। যে কারণে দাম বেড়েছিল। পেঁয়াজ এখন ভারত নির্ভর পণ্য। আমাদের দেশে যে পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদন হয় তা দিয়ে দেশের মানুষের চাহিদা মেটানো অসম্ভব। ভারত পেঁয়াজ দেওয়া বন্ধ করে দিলে এ পণ্যটির দাম বেড়ে যায়।


ময়লাপোতাস্থ সন্ধ্যা বাজারের সুমী স্টোরের মালিক কাউসার আলী হোসেন বলেন, দেশি জাতের পেঁয়াজ ৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ৭০ টাকায় উঠেছিল। এখন সেই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৭ টাকা কেজি দরে।
পাইকারি পেঁয়াজ বিক্রেতা খুলনার বড় বাজারের মেসার্স ফরাজী ট্রেডিংয়ের স্বত্ত্বাধিকারী মো. মিলন ফরাজী বলেন, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ভারতীয় পেঁয়াজের পাইকারি দাম ছিল কেজি প্রতি ৩৪-৩৬ টাকা। যা শনিবার বিক্রি হয়েছে ৪০-৪২ টাকা। সোম ও মঙ্গলবার সেই পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪৭-৪৮ টাকায়। অনুরূপ ভাবে ৩৮-৩৯ টাকা কেজি দরের দেশি পেঁয়াজ ৬০-৬২ টাকায় বিক্রি হয়েছে। যা বুধবারও অব্যাহত ছিল। বৃহস্পতিবার থেকে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে।


তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার মিয়ানমারের থেকে পেঁয়াজ এসেছে। যে কারণে ২-৩ টাকা কেজি দরে দাম কমে গেছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বিশ্ব

ফের জ্বলে উঠলো বিদ্যুতবিহীন লেবানন

লেবাননে জ্বালানির স্বল্পতা থাকায় ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুতবিহীন হয়ে পড়ে পুরো দেশ। পরে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থায়নের পরপরই বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে বন্ধ হয়ে থাকা দেশটির বৃহত্তম দুই বিদ্যুৎকেন্দ্র। 

দেশটির জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেইর আম্মার ও জাহরানির বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুতবিহীন হয়ে পড়েছে পুরো লেবানন। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গতকাল রবিবার প্রয়োজনীয় জ্বালানি কিনতে লেবানন সরকারকে একশ’ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিয়েছে ।এদিকে, আমদানি না হওয়া পর্যন্ত নিজেদের মজুত থেকে জ্বালানি দিয়ে সহায়তা করতে রাজি হয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। 

এছাড়াও গত মাসে ইরান থেকে জ্বালানি আমদানি করে হিজবুল্লাহ। এরপরও লেবাননের জ্বালানি সংকটের কোনও সমাধান হয়নি। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

পদ্মায় ইলিশ মাছ নিধনের অপরাধে ৩২ জেলেকে দণ্ড

সরকারী নিষেধাজ্ঞা লংঘন করে মাদারীপুরের শিবচরে পদ্মায় ইলিশ মাছ নিধনের অপরাধে ৩২ জন জেলেকে ১ বছর করে কারাদন্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত।

মৎস বিভাগ ও পুলিশের একটি টিম শুক্রবার গভীররাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত পদ্মা নদীর বিভিন্ন স্থানে ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান চালিয়ে ৩২ জনকে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালত এ সাজা প্রদাণ করেন। এসময় ইলিশ মাছ ক্রয়ের অপরাধে ৩ নারী ক্রেতাকে মোট ২৫ হাজার টাকা আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে।

অভিযানকালে জব্দকৃত প্রায় ৩০ হাজার মিটার জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংশ করা হয় ও ২০ কেজি ইলিশ বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।

ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম রকিবুল হাসান বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় পদ্মার বিভিন্ন পয়েন্টে প্রতিনিয়ত আমাদের অভিযান চলছে এবং অব্যাহত থাকবে।

মাদারীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র ওঝাঁ জানান, এর আগে ৩৮ জেলেসহ এ পর্যন্ত ৭০ জন জেলেকে এক বছরের দণ্ড দেয়া হয়। এরপরও অপরাধ অব্যাহত থাকলে আরো কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। কোনভাবেই অপরাধীকে ছাড় দেয়া হবে না। আমরা মা ইলিশ রক্ষা করতে পারলে সারা বছর ইলিশ খেতে পারবো বলে কর্মকতার্র অভিমত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com