আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বিশ্ব

‘মৃতদের রক্ষাকর্তা’, ভারতে বেওয়ারিশ লাশের অভিভাবক হয়ে উঠেছেন যিনি

 ছেলের মৃত্যুর পর মোহাম্মদ শরীফ বেওয়ারিশ মৃতদেহ সৎকার শুরু করেন
ছেলের মৃত্যুর পর মোহাম্মদ শরীফ বেওয়ারিশ মৃতদেহ সৎকার শুরু করেন

মোহাম্মদ শরীফ তার ছেলেকে কবর দেয়ার সুযোগ পাননি। তবে গত ২৭ বছর ধরে তিনি এমন হাজার হাজার পরিবারের সন্তানদের কবর দিয়ে আসছেন, যাদের মৃতদেহের কোনো দাবিদার নেই।

মোহাম্মদ শরীফের ছেলে যে মারা গেছে, পুলিশ তাকে এই তথ্যটি জানায় একমাস পরে। তবে শুধু এটুকুই, তার ছেলে কোথায় বা কীভাবে মারা গেছে তাও জানাতে পারেনি পুলিশ।

মোহাম্মদ শরীফ শুধু জানেন যে ১৯৯২ সালে একটি মসজিদ ভাঙ্গাকে কেন্দ্র করে হওয়া হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় ভারতজুড়ে যে ২ হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল, তাদের মধ্যে ছিল তার ছেলে মোহাম্মদ রইস।

২৫ বছর বয়সী রইসকে কোথায় কবর দেয়া হয়েছে, তাও জানে না তার বাবা।

“পুলিশ বলেছিল তার শরীর পচে গেছে”, প্রায় তিন দশক পর স্মৃতিচারণ করছিলেন মোহাম্মদ শরীফ। “আমরা তার মৃতদেহ দেখিনি, শুধু তার পোশাক পেয়েছি।”

তবে ঐ ঘটনার কয়েকদিন পর তিনি এমন একটি ঘটনা দেখেন যা তার জীবন আমূল পাল্টে দেয়।

“একদিন পুলিশ অফিসারদের দেখি নদীতে একটি লাশ ছুঁড়ে ফেলছে। দেখে আতঙ্কিত হই আমি”, আতঙ্কের সাথে সাথেই সম্পূর্ণ নতুন একটি বিষয় অনুধাবন করেন তিনি।

“হয়তো আমার ছেলের দেহও ওভাবেই কোনো নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছিল। সেদিন আমি নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করি, আজ থেকে আমি বেওয়ারিশ লাশেদের অভিভাবক। আমি এদের সৎকারের ব্যবস্থা করবো।”

এসব বেওয়ারিশ লাশ নানা কারণে জমা হয় ভারতে: এসব দেহ সড়ক বা ট্রেন দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া মানুষের যেমন হতে পারে, বাড়ি থেকে দূরের কোনো জায়গায় মারা যাওয়া মানুষের হতে পারে – আবার তীর্থযাত্রী, অভিবাসী, গৃহহীন বা সন্তানরা তাড়িয়ে দিয়েছে এমন বৃদ্ধদেরও হতে পারে।

আবার অনেক সময় অতি দরিদ্র ব্যক্তিরা হাসপাতালে মারা গেলে তাদের সৎকারের দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসে না কেউ।

 মোহাম্মদ শরীফ বলেন তার স্ত্রী কখনোই ছেলের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি
মোহাম্মদ শরীফ বলেন তার স্ত্রী কখনোই ছেলের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি

প্রশ্ন ওঠে, এই দেহগুলো নিয়ে কী করা হবে?

১৯৯২ সালে ভারতের অনেক জেলাতেই মর্গের সুবিধা ছিল না। কারো দাবি না করা বেওয়ারিশ লাশ দ্রুত কবর দেয়া এক ধরণের রীতিই ছিল।

এরকম লাশ কবর দেয়াই প্রথা ছিল। তবে উত্তর ভারতের কিছূ জায়গায় টাকা ও সময় বাঁচাতে বেওয়ারিশ লাশ নদীতেও ফেলে দেয়া হয়ে থাকে।

সবসময়ই মোহাম্মদ শরীফের পরিবারের সন্দেহ ছিল যে মোহাম্মদ রইসের দেহ গোমতী নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে। ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে – যখন উগ্রবাদী হিন্দুরা ষোড়শ শতাব্দীতে তৈরি করা অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ভেঙ্গে ফেলে – মোহাম্মদ শরীফের বাড়ি থেকে ৬৫ কিলোমিটার দূরের সুলতানপুরে কেমিস্ট হিসেবে কাজ করতেন মোহাম্মদ রইস।

অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ভাঙ্গাকে কেন্দ্র করে হওয়া সহিংসতার সময় নিখোঁজ হন রইস।

মোহাম্মদ শরীফ বলছিলেন, “আমার ছেলে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পর এক মাস পাগলের মত তাকে সবখানে খুঁজেছি। কোথাও না পেয়ে সুলতানপুরে আসি।”

তারা যেই ভয়টা পাচ্ছিলেন, কিছুদিন পরই তা সত্যি প্রমাণিত হয়। তাদের ছেলে মারা গেছে।

ঐ ঘটনার পর মোহাম্মদ শরীফ ও তার স্ত্রী মানসিকভাবে চরম আঘাত পান। মোহম্মদ রইসের মা এখনো হঠাৎ হঠাৎ বিষণ্ণতায় ভোগেন।

 শরীফ জানান, নিজের পরিবারের সদস্যের মতই অচেনা একজন ব্যক্তির সৎকার করেন তিনি
শরীফ জানান, নিজের পরিবারের সদস্যের মতই অচেনা একজন ব্যক্তির সৎকার করেন তিনি

ছেলের যথাযথ সৎকার করা সম্ভব না হওয়ার বিষয়টি তাদের কাছে অসহ্য বোধ হতে থাকে।

মোহাম্মদ শরীফ বলেন, “সেসময় আমি সিদ্ধান্ত নেই আমার জেলার একটা মরদেহও আমি সৎকার না করে নদীতে ফেলে দিতে দেবো না।”

ভারতের বর্ণ বৈষম্যপূর্ণ হিন্দু সমাজে যারা সবচেয়ে নিম্নবর্ণ, তাদেরকে সাধারণত মৃতদেহ পোড়ানো ও কবর দেয়ার মত কাজগুলো করতে বাধ্য করা হতো – ফলস্বরূপ তাদের ‘অচ্ছুত’ হিসেবেও বিবেচনা করা হতো।

কিন্তু ব্যক্তিজীবনে সাইকেল মেকানিক মোহাম্মদ শরীফ এসবের পরোয়া করেননি। তিনি পুলিশকে জানান যে সবার অপছন্দের এবং ঘৃণ্য এই কাজই তিনি করতে চান।

“কাজ করার প্রথম ফোনটি যখন আমি পাই, তখন আমার হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়। পোস্টমর্টেমের পর পুলিশ আমাকে দেহটি সৎকার করতে দেয়। আমার পরিস্কার মনে আছে, মৃতদেহের ঘাড় ছিল ভাঙ্গা।”

দ্রুতই তার কাজের পরিমাণ বেড়ে যায়। মরদেহ এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য চার চাকার একটি ঠেলাগাড়িও কেনেন তিনি।

‌সেসময় তার পরিবারের সদস্য, বন্ধুবান্ধব ও পরিচিতরা একটা বড় ধাক্কা খায়। ইসলাম ধর্মাবলম্বী হলেও মোহাম্মদ শরীফকে তার সাথে কাজ করা হিন্দু সহকর্মীদের মতই হেয় প্রতিপন্ন করা হতে থাকে।

“সেসময় আমার পরিবারের একজনও আমার ওপর সন্তুষ্ট ছিল না। তারা সবাই আমাকে বলে যে তুমি পাগল হয়ে গিয়েছ।”

“কেউ কেউ আমাকে ভয়ও পেত তখন। তারা মনে করতো আমার সংস্পর্শে এলে তারাও জীবাণূ দ্বারা সংক্রমিত হবে।”

 হিন্দু বর্ণপ্রথায় সবচেয়ে নিচু জাতি যাদের মনে করা হয়, তাদের বাধ্য করা হয় মরদেহ পুড়ানো ও সৎকারের কাজে
হিন্দু বর্ণপ্রথায় সবচেয়ে নিচু জাতি যাদের মনে করা হয়, তাদের বাধ্য করা হয় মরদেহ পুড়ানো ও সৎকারের কাজে

কিন্তু এতকিছু স্বত্ত্বেও মোহাম্মদ শরীফ তার প্রতিজ্ঞা থেকে সরেননি। তিনি পরিবারের সদস্যদের বিয়ের অনুষ্ঠানে যাননি, উৎসবের সময় আনন্দ উদযাপন করেননি, এমনকি কখনো কখনো প্রার্থনাও বাদ দিয়েছেন সম্পূর্ণ অপরিচিত মানুষদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করে দেয়ার জন্য। এই কাজই তাকে শান্তি দিত, তার ছেলের মৃত্যুর দু:খ ভুলে থাকার শক্তি যোগাতো।

“আমার ছেলের মৃত্যুর শোক সামলাতে সাহায্য করতো ঐ কাজ। আমি প্রত্যেক মুহুর্তে তার কথা মনে করি।”

অনেকসময়ই পচা গলা, বিকৃত মরদেহের সৎকারের ব্যবস্থা করতে হয়েছে মোহাম্মদ শরীফকে।

“যখনই বাজেভাবে বিকৃত হয়ে যাওয়া কোনো দেহ দেখেছি, তা আমার ঘুমে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে। দু:স্বপ্ন দেখে রাত পার করেছি, ঘুমের ওষুধ খেয়েছি।”

মোহাম্মদ শরীফ সাধারণত একটি বিষয়েই জোর দিতেন। যথাযথভাবে সৎকার হচ্ছে কিনা।

তিনি যদি বুঝতেন যে লাশটি মুসলিম কোনো ব্যক্তির, তখন তার গায়ে একখণ্ড কাপড় জড়িয়ে প্রার্থনাবাক্য পাঠ করতেন। হিন্দু হলে সেটি দাহ করতে নিয়ে যেতেন তিনি।

মোহাম্মদ শরীফ ঠিক কতগুলো দেহ সৎকার করেছেন তার কোনো নিশ্চিত হিসাব নেই।

অযোধ্যা জেলা প্রশাসনের প্রধান অনুজ কুমার ঝা বিবিসিকে বলেন, “আমাদের একটা আনুমানিক ধারণা রয়েছে যে আমরা মোহাম্মদ শরীফকে আড়াই হাজারের মত দেহ সৎকার করতে দিয়েছি।”

তবে মোহাম্মদ শরীফ ও তার পরিবারের দাবি তিনি সাড়ে ৫ হাজারের বেশি মানুষের মরদেহ সৎকার করেছেন।

 মোহাম্মদ শরীফ এখনো নিয়মিত তার সাইকেল ঠিক করার দোকানে কাজ করেন
মোহাম্মদ শরীফ এখনো নিয়মিত তার সাইকেল ঠিক করার দোকানে কাজ করেন

এই কাজের জন্য কখনো কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা পাননি তিনি। আজ পর্যন্ত তিনি নিয়মিত তার সাইকেলের দোকানে কাজ করেন, যেখান থেকে তার দৈনিক আয় হয় ৩ মার্কিন ডলারের কাছাকাছি।

তবে সম্প্রতি তার অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। তার অত্মোৎসর্গের প্রতিদান পেয়েছেন তিনি। ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কারগুলোর একটির মাধ্যমে সম্মানিত করা হয়েছে তাকে।

এখন স্থানীয় দোকানদাররা তার কাজের খরচ বহন করেন।

বর্তমানে ৮০ বছর বয়সে মোহাম্মদ শরীফ দু’জন সহকারী রেখেছেন যারা তাকে সৎকারের কাজে সাহায্য করে।

“হিন্দু, মুসলিম দুই ধর্মের লোকই আমাকে সাহায্য করে। মানুষ আমাকে খাবার ও কম্বল দান করে। সম্প্রতি আমার একটি চোখের অপারেশন হয়েছে। সেসময় একেবারেই অপরিচিত এক ব্যক্তি আমাকে ডেকে ২০ হাজার রুপি দেয়।”

মোহাম্মদ শরীফের দুই ছেলে বা তাদের সন্তানদের কেউই তার মৃত্যুর পর অচেনা মানুষের মৃতদেহের সৎকার করবে না। কিন্তু মোহাম্মদ শরীফ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই কাজ করবেন।

“আমি না থাকলে পুলিশ হয়তো আবারো নদীতে লাশ ছুঁড়ে ফেলা শুরু করবে।”

কিন্তু মোহাম্মদ শরীফ বেঁচে থাকতে এই দৃশ্য দেখতে পারবেন না। তাই তাকে মানুষ বলে ‘মৃতদের রক্ষাকর্তা।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

অন্যান্য

এবার মোদির গুজরাটে পঙ্গপালের আক্রমন, গ্রামের পর গ্রাম ফসল নষ্ট

পঙ্গপালের হানায় উত্তরপূর্ব ভারতে হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল ধ্বংস হয়ে গেছে। গত ২৫ বছরের মধ্যে এটাই সবচেয়ে ভয়াবহ উপদ্রব বলে দাবি করেছেন বিশেষজ্ঞরা।কীটনাশক দিয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে পঙ্গপালের এই উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দেশটির কর্মকর্তারা। ফসলনাশক এই পতঙ্গ তাড়িয়ে দিতে ঢাক ব্যবহার করতে দেখা গেছে কৃষকদের।-খবর এএফপির

ভিডিওতে দেখা গেছে, স্কুলছাত্রীরা স্টিলের প্লেট পিটিয়ে পঙ্গপাল তাড়ানোর চেষ্টা করছেন। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই উপদ্রব তাড়াতে বিকট শব্দ সহায়ক ভূমিকা রাখে।উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য গুজরাটে পঙ্গপালের হানায় অর্ধডজনের বেশি জেলায় ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকারের কর্মকর্তা পুনামচান্দ পারমার এমন দাবি করেছেন।

তিনি বলেন, একটি জেলায়ই বারো হাজার একরের ফসলে বিপর্যয় ঘটেছে। তবে কীটনাশক দিয়ে ২৫ শতাংশ পঙ্গপাল ধ্বংস করা হয়েছে।

এসব কীট পুরোপুরি ধ্বংস করতে আরও চার থেকে পাঁচদিন লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।তিনি দাবি করেন, পঙ্গপালের প্রাথমিক উড়াল পথ ছিল পাকিস্তান। কিন্তু বাতাসের দিক পরিবর্তন ও আর্দ্রতার কারণে সেগুলো উত্তর গুজরাটে হানা দিয়েছে।গুজরাটের আনন্দ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পতঙ্গতত্ত্ব বিভাগের প্রধান পি. কে. বোরাদ বলেন, গত দুই দশকের মধ্যে এটাই সবচেয়ে ভয়াবহ পঙ্গপাল আক্রমণ। এর আগে ১৯৯৪ এমন ব্যাপক বিধ্বংসী দৃশ্য দেখা গিয়েছিল।

রাজ্য কৃষি মন্ত্রী আর. সি. ফালদু বলেন, শুক্রবার থেকে কীটনাশক বহনকারী ১০০ ট্র্যাকটর আক্রান্ত গ্রামগুলোতে পাঠানো হয়েছে।ফসলধ্বংসকারী এই পতঙ্গের কবল থেকে মুক্তি পেতে কৃষকরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা ক্ষেতের চারপাশে হেঁটে বেড়াচ্ছেন, ঢাক পিটিয়ে তাদের তাড়াতে চেষ্টা করছেন। এক ব্যক্তি বলেন, আমরা গ্রামের সবকিছু হারিয়ে ফেলেছি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

অন্যান্য

কৃষককে ন্যায্য দাম দিলে দেশেই উৎপাদন বাড়বে


নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পেঁয়াজের বাজার আবার অস্থির। দু-তিন বছর পরপরই এ ধরনের একটি সমস্যা তৈরি হয়। কেন এ সমস্যা, সমাধানই-বা কী, তা নিয়ে কথা বলেছেন পুরান ঢাকার মসলাজাতীয় পণ্যের ব্যবসাকেন্দ্র শ্যামবাজারের ব্যবসায়ী রতন সাহা


পেঁয়াজের দাম লাফিয়ে বাড়ল। আবার দ্রুত কমল। এত ওঠানামার কারণ কী?

রতন সাহা: পেঁয়াজ আমদানির জন্য আমরা প্রায় পুরোটাই ভারতনির্ভর। বিকল্প হিসেবে অনেক দেশেই প্রচুর পেঁয়াজ পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু দেশের মানুষ ওই সব পেঁয়াজ খেতে অভ্যস্ত নয়। ফলে ভারত যখন রপ্তানি বন্ধ করে দিল, তখন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা মনে করেছিলেন, দেশে দাম অনেক বাড়বে। এ কারণে কেনার প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। এতে দাম বেড়ে যায়। কিন্তু এক দিন পরই দেখা গেল, দাম যতটা বেড়েছে, ততটা হওয়ার কথা নয়।

পেঁয়াজের উৎপাদন এবার কেমন হয়েছে?

রতন সাহা: আসলে পেঁয়াজ উৎপাদনের বাস্তবসম্মত কোনো হিসাব নেই। সরকারের বিভিন্ন সংস্থার হিসাবে পেঁয়াজ উদ্বৃত্ত। তারপরও দেখা যায় ঘাটতি। এটা ব্যবসার জন্য খুবই সমস্যা তৈরি করে। দেশে পেঁয়াজ কতটুকু হয়েছে, কতটুকু আমদানি হয়েছে, এসবের তথ্য সরকার যদি গণমাধ্যমে সময়-সময় তুলে ধরে, তাহলে ব্যবসায়ীরা আমদানির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এখন ব্যবসায়ীরা মূলত অন্ধকারে ব্যবসা করে। ধরেন, নতুন একজন ব্যবসায়ী পেঁয়াজ আমদানি শুরু করতে চান। তিনি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নেবেন কিসের ভিত্তিতে?

আমরা দেখছি, পেঁয়াজ উৎপাদন কয়েক বছর ধরে একই জায়গায় আছে। খুব বেশি বাড়ছে না কেন, আপনার কী মনে হয়?

রতন সাহা: দেখা যায়, এ দেশে মৌসুম যখন শুরু হয়, তখন ভারতীয় পেঁয়াজ অবাধে আমদানি হয়। এতে কৃষক দাম পান না। এ বছরও মৌসুমের শুরুতেই পেঁয়াজের দাম খুব কম ছিল। কৃষককে যদি ন্যায্যমূল্যের নিশ্চয়তা দেওয়া যেত, তাহলে দেশেই প্রচুর উৎপাদিত হতো। হয়তো সামান্য কিছু আমদানি করতে হতো। তবে এতটা ঘাটতি থাকত না।

ন্যায্যমূল্যের জন্য করণীয় কী?

রতন সাহা: মৌসুমের সময় আমদানি বন্ধ করে দিতে হবে অথবা শুল্ক আরোপ করতে হবে। যখন কৃষক ৫ টাকা, ৮ টাকা, ১০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি করেন, তখন তো কেউ খোঁজও নেয় না। দাম না পেয়ে কৃষক নিরাশ হন, পরের বছর আর উৎপাদন করতে চান না। তাঁদের অন্তত উৎপাদন খরচটুকু ওঠানোর নিশ্চয়তা দেওয়া উচিত।

আগে তো শ্যামবাজারের অনেক ব্যবসায়ী পেঁয়াজ আমদানি করতেন। তাঁদের অবস্থা কী?

রতন সাহা: অনেকেই ব্যাপক লোকসান দিয়ে আমদানি ছেড়ে দিয়েছেন। এখন আমদানি করে মূলত স্থলবন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসায়ীরা। পেঁয়াজ আমদানি অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। ধরেন, ভারত এক মাস পর পেঁয়াজ রপ্তানি উন্মুক্ত করে দিল। এতে যাঁরা মিসর ও তুরস্ক থেকে আমদানির উদ্যোগ নিয়েছেন, তাঁরা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়বেন। কারণ, ভারতীয় ও দেশি পেঁয়াজ থাকলে ক্রেতারা মিসর ও তুরস্কের পেঁয়াজ কোনোভাবেই কিনবেন না।

ভারতে কি নতুন মৌসুম আসছে?

রতন সাহা: এক মাস পরই মহারাষ্ট্রের নাসিকের পেঁয়াজ উঠবে। বন্যায় ওই পেঁয়াজ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারপরও মৌসুম শুরু হলে দাম কমবে। মিসর থেকে এখন যদি কেউ পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নেয়, সেটা আসতে ৪০ দিনের মতো লাগবে।

এখন যে বাজারে অভিযান চলছে, তার প্রভাব কতটুকু?

রতন সাহা: সাময়িক হয়তো একটা প্রভাব পড়ছে। কিন্তু আতঙ্ক ছড়ালে ব্যবসায়ীরা আমদানির ঝুঁকি না-ও নিতে পারেন। কেউ যদি সিদ্ধান্ত নেন, তিনি দুই মাস আমদানি করবেন না, তাহলে কারও কিছু বলার থাকবে না। এতে বাজারে কিন্তু সংকট তৈরি হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক পেঁয়াজ আমদানিতে ব্যাংকঋণের সুদহার কমিয়েছে। এর সুফল কতটুকু পাওয়া যাবে?

রতন সাহা: এর তেমন একটা সুফল পাওয়া যাবে বলে আমার মনে হয় না। আমদানিকারকেরা কম সুদে ঋণ পেলে হাতখরচ কিছুটা কমবে। বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে না।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ঢাকায় ৪৫ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি করছে। সেটা কি দাম কমাতে ভূমিকা রাখতে পারছে?

রতন সাহা: টিসিবির পেঁয়াজের দাম কম। তবে পরিমাণ খুবই নগণ্য। ভালো হতো যদি সরকার মিসর বা তুরস্কের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সরকারিভাবে পেঁয়াজ আমদানি করত।

দেশে নতুন মৌসুমের পেঁয়াজ কত দিন পর আসবে?

রতন সাহা: দেশে মৌসুম শুরু হতে এখনো এক মাসের বেশি সময় বাকি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কৃষক থেকে সফল উদ্যোক্তা খুলনার মঞ্জুর

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে ফল খুব একটা ভালো হয়নি। তবু উচ্চশিক্ষার জন্য স্নাতকে ভর্তি হন। কিন্তু লেখাপড়ার এ ফল নিয়ে খুব বেশি দূর যে এগোনো যাবে না, নিজের মধ্যেই এমন ধারণা তৈরি হয় খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার টিপনা গ্রামের তরুণ শেখ মঞ্জুর রহমানের। তাই লেখাপড়ার আনুষ্ঠানিক পাট চুকিয়ে মনোনিবেশ করেন কৃষিকাজে। সেখানে পেলেন সফলতা। প্রথমে শুরু করেন মাছ ও ধান চাষ। এরপর শুরু করেন বীজ উৎপাদন ও বিপণন।

এখন মঞ্জুর বোরো ধান, আমন, সরিষা, তিল, মাষকলাইসহ নানা ধরনের সবজির বীজ উৎপাদন ও প্যাকেটজাত করে তা বাজারজাত করছেন। তাঁর উৎপাদিত এ বীজ ডুমুরিয়ার গণ্ডি ছাড়িয়ে পাশের জেলা ও উপজেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। এখন প্রতিবছর শুধু ১২ মেট্রিক টন বোরো বীজই উৎপাদন ও বাজারজাত করছেন মঞ্জুর। তাতে সব মিলিয়ে খরচ বাদে তাঁর বার্ষিক মুনাফা ৬ লাখ টাকার ওপরে।

সম্প্রতি শেখ মঞ্জুর রহমানের সঙ্গে কথা হয় । তিনি জানান, ২০০৬ সালে এইচএসসি পাসের পর স্নাতকে ভর্তি হন। তখনই মনস্থির করেন কৃষিকাজকে পেশা হিসেবে নেওয়ার। প্রথমে বাবার কিছু জমি নিয়ে শুরু করেন মাছের ঘের। এরপর তরুণ মঞ্জুরের মাথায় আসে মাছের ঘেরে ধান চাষের। যেই চিন্তা, সেই কাজ। শুরু করেন ধান চাষ। প্রথমবারই ভালো ধান হয়। তবে বাজারে ধানের দাম কম থাকায় সেবার লোকসান হয় তাঁর। তা সত্ত্বেও পরেরবার আবারও ধান চাষের উদ্যোগ নেন। এবার সংকট দেখা দেয় ভালো বীজের। বাজারে ভালো বীজের সংকট দেখে মঞ্জুরের মাথায় প্রশ্ন জাগে, সরকার ও বিভিন্ন কোম্পানি যে বীজ বিক্রি করে, তা কোথা থেকে আসে।

এ প্রশ্নের উত্তর জানতে শরণাপন্ন হন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদে পড়ুয়া তাঁর বড় ভাইয়ের কাছে। জানতে পারেন কীভাবে মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদন করা যায়, কীভাবে বীজ উৎপাদনের লাইসেন্স পাওয়া যায়, সেসব বিষয়। এরপর নিজের অভিজ্ঞতা ও কৃষি বিভাগের পরামর্শে শুরু করেন বীজ উৎপাদন।

তরুণ মঞ্জুর বলেন, ‘বীজ উৎপাদনের পর তা আমার নিজের দোকানে রেখে বেচতে শুরু করি। কৃষকও তাঁর বীজ ব্যবহার করে ভালো ফলন পেতে শুরু করেন। এর মধ্যে ২০১৩ সালে জাতীয় বীজ বোর্ডের বীজ উইং থেকে উৎপাদনের নিবন্ধন নিই।’

বর্তমানে শেখ এগ্রো নামে প্যাকেটজাত বীজ বিক্রি করেন মঞ্জুর। পাশাপাশি নিজেই গড়ে তুলেছেন বীজ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র। তাই এখন আর তাঁর উৎপাদিত বীজ অন্য কোনো প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে নিতে হচ্ছে না। চলতি মৌসুমে ব্রি ২৮, ৫৮, ৬৭ জাতের ১০ টন ভিত্তি বীজ এবং আমন ব্রি ৮৭, ৪৯, ৭৫ জাতের ২ টন মানঘোষিত বীজ তিনি বিপণন করেছেন। এ ছাড়া তাঁর কাছে এখন ৫০০ কেজি সরিষা, ২০০ কেজি তিলবীজ বিক্রির জন্য প্রস্তুত আছে। আর মাঠে বীজের জন্য লাগানো মাষকলাইয়ে ফুল এসেছে।

মঞ্জুরের গ্রামের আবদুর রশিদ গাজী বলেন, ‘তার কাছ থেকে বীজ নিয়ে কখনো ঠকিনি। সবচেয়ে বড় কথা, আমরা তাকে সব সময় কাছে পাই। বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সে আমাদের সহায়তা করে। কিছু বাকিতেও বীজ-কীটনাশক কেনা যায়।’

ডুমুরিয়ার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, বর্তমানে মঞ্জুর একজন সফল কৃষকের পাশাপাশি সফল ব্যবসায়ীও। ব্যক্তি উদ্যোগে কৃষক পর্যায়ে উন্নত মানের বীজ উৎপাদনের তেমন নজির এখানে নেই। অথচ মঞ্জুর বীজ উৎপাদনের পাশাপাশি নিজের উদ্যোগে বীজ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রও তৈরি করেছেন। কৃষক থেকে ব্যবসায়ী হয়ে ওঠার এ নজির সত্যিই অনন্য।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

সবজি চাষে ঝুঁকছেন কৃষকেরা

‘সময়মতো পানি দাও, সার দাও আরও কত ঝামেলা, তাই দুই বিঘা জমিতে আমন ধান আবাদ না করে সবজি চাষ করছি। এতে ঝামেলা কম, লাভও বেশি।’ কথাগুলো বলছিলেন নওগাঁর সদর উপজেলার শালেবাজ গ্রামের চাষি আবদুল মজিদ।

শুধু মজিদই নন, গত কয়েক মৌসুমে ধান চাষ করে লোকসান গোনার পর অনেক চাষিই এখন ধান চাষ না করে সবজি চাষের দিকে ঝুঁকছেন। নওগাঁ সদর, বদলগাছী, মান্দা, ধামইরহাট ও মহাদেবপুর উপজেলায় এ বছর ব্যাপক হারে সবজি চাষ হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম ভালো পাওয়ায় খুশি চাষিরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় থেকে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে জেলায় ৮ হাজার ৭১০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ হয়েছে। গত বছর জেলায় সবজি আবাদ হয়েছিল ৭ হাজার ৮৬৫ হেক্টর জমিতে। এ বছর নওগাঁয় সবজির আবাদ বেড়েছে ৮৪৫ হেক্টর জমিতে। জেলায় এ বছর আমন ধান আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে, যেখানে গত বছর আবাদ হয়েছিল ১ লাখ ৯৫ হাজার হেক্টর জমিতে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নওগাঁর সদর উপজেলার বক্তারপুর, কীর্ত্তিপুর, তিলকপুর, বর্ষাইল ইউনিয়ন, বদলগাছীর বালুভরা, পাহাড়পুর, মিঠাপুর, বিলাশবাড়ি, কোলা, আধাইপুর ইউনিয়ন, মহাদেবপুরের সদর ইউনিয়ন, চেরাগপুর, রাইগা, চান্দাশ, উত্তরগ্রাম এলাকায় ধানের পাশাপাশি বিস্তীর্ণ জমিতে ব্যাপক হারে সবজির চাষ হয়েছে। এসব জমিতে ফুলকপি, বাঁধাকপি, করলা, মরিচ, বেগুন, টমেটোসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ হয়েছে। অথচ দুই-তিন বছর আগেও এসব জমিতে সবজির চাষ এত হতো না।

চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৭ সালের পর থেকে বোরো ও আমন ধান আবাদ করে ন্যায্যমূল্যে না পাওয়ায় কৃষকদের ব্যাপক লোকসান গুনতে হয়েছে। ধান আবাদ করে লাভের মুখ দেখতে গিয়ে উল্টো অনেক কৃষক ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকেরা ধান চাষে উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন। এই লোকসান থেকে বাঁচতে অনেক কৃষক আস্তে আস্তে সবজি চাষের দিকে ঝুঁকছেন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের কৃষক যাঁরা সাধারণত নিজেরা শ্রম দিতে পারেন, এমন কৃষকেরা ধান চাষ ছেড়ে দিয়ে সবজি চাষের দিকে বেশি ঝুঁকছেন।

বক্তারপুর ইউনিয়নের চাকলা গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, তাঁর চার বিঘা আবাদি জমে রয়েছে। সবজি চাষের জন্য এবার দেড় বিঘা জমিতে ধান চাষ করেননি। ওই দেড় বিঘা জমিতে তিনি শীতের আগাম শিম ও ফুলকপি চাষ করেছেন। অথচ বিগত বছরগুলোতে শহিদুল তাঁর চার বিঘা জমিতে ধান আবাদ করতেন।

শহিদুল বলেন, বাজারে এখন নতুন ধানের দাম মণপ্রতি সর্বোচ্চ ৭১০ টাকা। আড়াই বিঘা জমিতে খুব বেশি হলে ৫০ মণ ধান পাওয়া যাবে। ৫০ ধান বিক্রি করে আসবে ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা। অথচ দেড় বিঘা জমিতে লাগানো শিম ও ফুল কপি বিক্রি করে তাঁর ৪০ হাজার টাকা এসেছে। আরও দুই-তিন মাস তিনি এই সবজি বিক্রি করতে পারবেন।

সদর উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামের মিলটন সরদার বলেন, ধান চাষের চেয়ে সবজি চাষে খরচ কম, লাভ বেশি। ধানের দাম না পাওয়ায় এলাকার অনেক কৃষক ধান আবাদ ছেড়ে দিয়ে সবজি চাষে ঝুঁকছেন। ন্যায্যমূল্য না পেলে ধীরে ধীরে ধানের আবাদ আরও কমবে।

পাহাড়পুর গ্রামের খবির উদ্দিন নামের আরেক কৃষক বলেন, ‘গত বছরের চেয়ে এ বছর আমি বেশি জমিতে সবজি আবাদ করেছি। ইতিমধ্যে আমার খেতের ফুলকপি, বাঁধাকপি ও পালংশাক ওঠা শুরু করেছে। বাজারে দামও ভালো।’

সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা এ কে এম মফিদুল ইসলাম বলেন, নওগাঁ সদর উপজেলার মাটি সবজি চাষের জন্য খুবই উপযোগী। বিশেষ করে বর্ষাইল, বক্তবার, তিলকপুর ও কীর্ত্তিপুর এলাকায় ব্যাপক হারে সবজি চাষ হচ্ছে এবং বছর বছর সবজি চাষ বাড়ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নওগাঁর উপপরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, সবজির আবাদ বাড়ার বিষয়টি খুবই ইতিবাচক। গত কয়েক মৌসুম ধরে ধানের দামটা অস্বাভাবিক কম ছিল। এ জন্য কৃষকেরা সবজির দিকে বেশি ঝুঁকছেন। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের কম খরচে অধিক লাভ হয় এমন ফসল আবাদে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

রুপালি ফসলে সোনালি দিন

বাংলাদেশের রুপালি ফসল মাছ। বাঙালির অতি প্রিয় খাবার। এই উপমহাদেশে ৩৫০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ থেকে মাছের চাষ হয় বলে জানা যায়। ১৯৬৭ সালে কার্পজাতীয় মাছের কৃত্রিম প্রজনন শুরুর পর এ দেশে মৎস্য চাষ ও উন্নয়নের গতি বৃদ্ধি পায়। একসময় কার্পজাতীয় মাছ চাষ করাই ছিল উদ্দেশ্য। কিন্তু বর্তমানে পাঙাশ, তেলাপিয়া, থাই কই, পাবদা, গুলশা, শিং, মাগুরসহ হরেক রকমের মাছ চাষ হচ্ছে। প্রাকৃতিক উৎসের মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়।

মাছ চাষের পাশাপাশি আরেক সফলতার চাবিকাঠি হলো মাছ আহরণ। এ বছর প্রায় ৫ লাখ মেট্রিক টন ইলিশ আহরিত হচ্ছে। ইলিশ (জাটকা) রক্ষায় বছরে প্রায় ৩৯ হাজার ৭৮৭ মেট্রিক টন খাদ্যসহায়তা দেওয়া হয়। এ ছাড়া ২২ দিনের মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৭০৯টি পরিবারকে ৭ হাজার ৯১৪ দশমিক ১৮ মেট্রিক টন খাদ্যসহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের ইলিশ ২০১৭ সালে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

বাংলাদেশ চিংড়ি রপ্তানি করে ২০১৬–১৭ অর্থবছরে আয় করে ৩ হাজার ৬৮২ দশমিক ২৬ কোটি টাকা। ২০১৫ সাল থেকে বিনা সার্টিফিকেটে বিশ্বে চিংড়ি ও মৎস্যপণ্য রপ্তানি করতে পারে বাংলাদেশ, যা এশিয়া মহাদেশে বিরল দৃষ্টান্ত।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাছ চাষে ট্যাক্স হলিডে প্রবর্তন, মৎস্যখাদ্য কাঁচামালের শুল্ক মওকুফ, জেলেদের জন্য আইডি কার্ড চালু, জাটকা রক্ষায় জেলে পরিবারকে ৪০ কোটি করে খাদ্যসাহায্য প্রদান, মা ইলিশ রক্ষা অভিযান, মাছ আহরণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা, মাছের অভয়াশ্রম স্থাপনসহ নানা কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে। চাষিদের শ্রম ও ঘাম এবং জেলেদের ত্যাগ স্বীকারের মধ্য দিয়েই এই সাফল্য এসেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার দেওয়া হিসাবমতে, স্বাদু পানির মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। মাছ চাষে পঞ্চম এবং সামুদ্রিক মাছ উৎপাদনে আমরা ১১তম।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com