আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

মুরগি দিবসের শুভেচ্ছা

চিকেন ডে তথ্য
• অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার প্রতিবছর চিকেন ডে পালন করা হয়।
• মুরগির মাংসের বিভিন্ন ধরনের রেসিপি শেয়ার এবং রান্না করে খাওয়া হয় এই দিনে।
• কোনো কারণ ছাড়াই দিনটি পালন করা হয় বলে জানা যায়।
• মুরগির নামে বিভিন্ন ধরনের দিবস প্রচলিত আছে পৃথিবীতে।
• আন্তর্জাতিক মুরগি দিবস পালন করা হয় প্রতিবছর মে মাসের ৬ তারিখ।

অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার, আজ বিশ্ব মুরগি দিবস। পৃথিবীতে বহু দিবসের মধ্যে এটি একটি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, মুরগা দিবস নাই কেন? এ প্রশ্নের কোনো উত্তর জানা নেই। কিন্তু আজ মুরগি দিবস, ওয়ার্ল্ড চিকেন ডে।

এটা ঠিক যে অভিজাত মানুষদের দেশি মুরগির মাংস ছাড়া রুচিতে কুলায় না। আমি ব্যক্তিগতভাবে সব সময় অভিজাত হতে চেয়েছি, কিন্তু বউয়ের জন্য পারিনি। তিনি নাকি দেশি মুরগির শক্তপোক্ত মাংস খেতে পছন্দ করেন না। কী আর করা যাবে, বলেন। অভিজাত হবার বাসনা বাদ দিয়েছি

কিন্তু ছোটবেলায় দেখা রংবেরঙের পালকওয়ালা, লাল ঝুঁটির শক্তপোক্ত গড়নের মুরগার কথা ভুলতে পারি না আজও। কী স্মার্ট মাইরি! মাথা উঁচু করে যখন ভোরবেলা দীর্ঘস্বরে কুক্কুরু কু বলে ঘুম থেকে উঠতে বলত, বিরক্ত হলেও ঘুম থেকে উঠতেই হতো। হেমন্তের বিষণ্ন দুপুরে সেই লাল ঝুঁটি মুরগার দীর্ঘস্বরের ডাকে নিস্তব্ধতা খান খান হয়ে ভেঙে গেলে মনে হতো, চরাচরে জীবনের স্পন্দন আছে। ধীরে ধীরে আমাদের জীবন থেকে হারিয়ে গেল বিষণ্নতা ভোলানো লাল ঝুঁটির দেশি মুরগা। আহা!

যখন বড় হলাম, খুঁজে দেখতে দেখতে পেয়ে গেলাম একদিন। সেই লাল ঝুঁটির স্মার্ট মুরগা আমাদের একেবারে দেশীয় জাতের মুরগা। তার ভালো নাম রেড জঙ্গল ফাউল, সোজা কথায় বনমোরগ। বনে থাকা এই স্বাধীন মুরগা কেন কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগা মানুষের পোষ মেনেছিল, সে ভেবে চোখে জল আসে আমার। ঠিক যেভাবে আমার পোষা এক লাল ঝুঁটি মুরগাকে চোখের সামনে অসুখে ভুগে মরে যেতে দেখে বুক ফেটে কান্না এসেছিল।

এই স্মার্ট মুরগার আরেক জাতভাই আছে। প্রায় একই রকম দেখতে হলেও তার ঝুঁটি কিছুটা ভোঁতা আর ঢ্যাঙা ঠ্যাং দুখানা হলুদ হলুদ। এর নাম আচিল বা আসিল। মানে অজ্জিনিয়াল অর্থাৎ খাঁটি বঙ্গদেশীয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা থানা আর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানায় এ জাতের মুরগির জন্ম বলে জানা যায়। এখনো পাওয়া যায়।

এই দুই জাতের মুরগি ছাড়াও এক জাতের দেশি মুরগির কথা মনে পড়ে খুব। সে মুরগিকে দেখেই আমরা কোনো কোনো বন্ধুর নাম দিয়েছিলাম ‘গলা ছিলা’। ও মা, পরে দেখি সে মুরগির নামই আসলে ন্যাকেড নেক। পরিষ্কার বাংলা ভাষায় যাকে বলে গলা ছিলা। মাথায় লাল ঝুঁটি থাকলেও এটাকে কেন যেন অতটা ভালো লাগত না। কে জানে, কেন। গলা ছিলা বলেই হয়তো। কিন্তু সেটাও দেশি জাতের মুরগি।

দেশি জাতের মুরগির কথাই যখন বলছি তখন বলে রাখি বেশ স্মার্ট বনমোরগ, কিছুটা স্মার্ট আচিল এবং গলা ছিলা ছাড়াও কয়েক জাতের দেশি মুরগি আছে আমাদের। এগুলো হলো সিলেটের পাহাড়ি এলাকার হিলি, ফ্রিজেল বা উল্টা পালক, কাদাকনাথ বা কালা মাসি। তবে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা জানিয়েছেন, কাদাকনাথ বা কালা মাসি মুরগির উৎপত্তি ভারতের মধ্যপ্রদেশে হলেও এ দেশে এর অস্তিত্ব ছিল অতীতে।

একসময় গ্রামবাংলায় মুরগির মাংস বলা হতো না। বলা হতো, মুরগা খাইছি। মুরগি কম খাওয়ার কারণ ছিল সম্ভবত, তা থেকে ডিম ও বাচ্চা উৎপাদন করা। গত শতকের আশি বা নব্বইয়ের দশকে যারা গ্রামে বড় হয়েছে, তারা জানেন, মুরগি ছিল গ্রামীণ অর্থনীতির একটা অংশ। বাড়িতে প্রাকৃতিক পরিবেশে মুরগি পালন করার চল ছিল গ্রামে। সে মুরগি এবং তার ডিম বিক্রি করে আয় করত গ্রামের মানুষ। কিন্তু পোলট্রিশিল্পের অগ্রগতির হাত ধরে ধীরে ধীরে সে অবস্থা হারিয়ে গেছে।

যা–ই হোক, পৃথিবীতে কয়েক শ প্রজাতির মুরগি আছে। তবে ধারণা করা হয়, গৃহপালিত মুরগির পূর্বপুরুষ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় উদ্ভূত লাল বুনো মুরগি। খাদ্যের জন্য শতাব্দীর পর শতাব্দী বন্য বুনো মুরগি শিকারের পর মানুষ সম্ভবত চার হাজার বছরের অনেক আগে মুরগিকে গৃহপালিত করে। সম্ভবত তখন পূর্ব-এশিয়ার মধ্য দিয়ে মুরগি বিস্তার লাভ করে এবং খ্রিষ্টপূর্ব প্রায় এক হাজার বছর আগে পারস্যে পৌঁছায় (বাংলাপিডিয়া)।

মুরগি নিয়ে কথার কোনো শেষ নাই, মুরগির কথা বলা বৃথা তাই। এখন এই আধুনিক যুগে আমাদের জীবন ফার্মের মুরগিময়। কোনো দিন যদি বিকেলবেলা মুরগি ছাড়া অন্য কোনো মুখরোচক খাবারের খোঁজে বাইরে বের হন, তাহলে হতাশ হতে হবে। পাড়ার গলি থেকে শুরু করে বড় রাস্তার মোড় কিংবা ঝাঁ–চকচকে শপিং মল অথবা বাহারি নামের রেস্তোরাঁ—সবখানেই মুরগি আর মুরগি। রাস্তায় বের হলেই পোড়া মুরগির সুগন্ধ নাকে লাগে। এখন সম্ভবত বাঙালির জাতীয় খাবারই হয়ে গেছে, গ্রিল মুরগির ওপর সস্তার মেয়নেজ দিয়ে তন্দুর রুটি।

যাক গে সেসব কথা। আপনাদের রাজশাহী অঞ্চলের একটি মুরগির মাংসের রেসিপি দিয়ে রাখি। বাড়িতে রান্না করতে পারেন। রেসিপিটি দিয়েছেন নাজমা হুদা এবং এ রান্নার নাম মুরগি–নারকেলের নাড়ু।

দেশি মুরগি ১টি, নারকেল কোরানো ১টি, ময়দা ২ টেবিল চামচ, পেঁয়াজকুচি পৌনে এক কাপ, লবণ স্বাদমতো, এলাচি ২-৩টি, দারুচিনি ২ টুকরা, আদাবাটা ১ টেবিল চামচ, রসুনবাটা ১ টেবিল চামচ, জিরাবাটা ১ চা-চামচ, ধনেবাটা আধা চা-চামচ, মরিচবাটা ১ টেবিল চামচ, হলুদগুঁড়া ১ চা-চামচ, তেজপাতা ২টি, নাড়ু ভাজার জন্য তেল ২ কাপ।

নারকেল কুরে মিহি করে বেটে নিতে হবে। এবার এতে ময়দা, লবণ ও সামান্য এলাচির গুঁড়া দিয়ে মাখিয়ে চেপে চেপে গোল করে নাড়ু বানাতে হবে। তেল গরম হলে নাড়ু ছেড়ে হালকা বাদামি করে ভেজে নিতে হবে। এবার প্যানে তেল দিয়ে পেঁয়াজ ভেজে সব মসলা দিয়ে ভালোমতো কষাতে হবে। এরপর মুরগি দিয়ে কষাতে হবে, এবার এক কাপ পানি দিয়ে অল্প আঁচে সেদ্ধ করতে হবে। পানি শুকালে আবার ভালো করে কষাতে হবে। আবার ১ কাপ পানি দিয়ে মাঝারি আঁচে রান্না করে পানি কমে এলে নাড়ুগুলো ওপর দিয়ে বিছিয়ে দিতে হবে। এরপর ১০ মিনিট দমে রেখে দিতে হবে। তেল ওপরে উঠে এলে এবং অল্প ঝোল থাকতে নামিয়ে নিতে হবে।

শেষ করার আগে, শেষ করার আগে বলে রাখি। যা–ই করুন না কেন, কাউকে মুরগি বানাবেন না। তাতে মুরগির অপমান হয়। তিনি কষ্ট পান।

  • মুরগি দিবসের শুভেচ্ছা

    মুরগি দিবসের শুভেচ্ছা

  • মুরগি দিবসের শুভেচ্ছা

    মুরগি দিবসের শুভেচ্ছা

  • মুরগি দিবসের শুভেচ্ছা

    মুরগি দিবসের শুভেচ্ছা

  • মুরগি দিবসের শুভেচ্ছা

    মুরগি দিবসের শুভেচ্ছা

  • মুরগি দিবসের শুভেচ্ছা

    মুরগি দিবসের শুভেচ্ছা

  • মুরগি দিবসের শুভেচ্ছা

    মুরগি দিবসের শুভেচ্ছা

  • মুরগি দিবসের শুভেচ্ছা
  • মুরগি দিবসের শুভেচ্ছা
  • মুরগি দিবসের শুভেচ্ছা
  • মুরগি দিবসের শুভেচ্ছা
  • মুরগি দিবসের শুভেচ্ছা
  • মুরগি দিবসের শুভেচ্ছা

দৈনন্দিন

উপকারী ফুলকপির পাঁচ পদ

চলছে শীতকাল। বাজারে গেলেই এখন দেখা যায় টাটকা ফুলকপি। বিভিন্ন পুষ্টিগুণে ভরপুর এ সবজিটি আমাদের রান্নাঘরে দীর্ঘদিনের বন্ধু। ভেজে, ভাপিয়ে, ঝোল ঝোল করে, অন্যান্য সবজির সঙ্গে মিশিয়ে, বিভিন্নভাবেই খাওয়া যায় এটি। ফুলকপিতে থাকা বিভিন্ন খাদ্য উপাদান আমাদের সর্দি-কাশি, জ্বর জ্বর ভাব থেকে যেমন বাঁচায়, তেমনি বাঁচায় অকালে দাঁত লাল হয়ে যাওয়া, মাড়ি দুর্বল হয়ে যাওয়া থেকেও। এ ছাড়া এটি ওজন কমাতে সহায়তা করে।

তাই এই শীতকালে যত ইচ্ছা ফুলকপি খান। এখন এটি দামেও সস্তা। রেসিপি দিয়েছেন কবিতা গোস্বামীজিনাত নাজিয়া

ফুলকপির ফুলকারি

উপকরণ:

মাঝারি আকারের ফুলকপি ১টি, আলু ২টি, তেল ১ কাপ, ঘি ২ টেবিল চামচ, জিরা ২ চা-চামচ, শুকনা মরিচ ২টা, তেজপাতা ২টা, জিরাবাটা ১ টেবিল চামচ, আদাবাটা ১ টেবিল চামচ, ধনেগুঁড়া ১ চা-চামচ, চিনি ১ টেবিল চামচ, কাজু বাদামবাটা ২ টেবিল চামচ, দুধ ২ কাপ, কাঁচা মরিচবাটা ১ টেবিল চামচ, শুকনা মরিচের গুঁড়া ১ চা-চামচ, হলুদগুঁড়া ১ চা-চামচ, গরমমসলার গুঁড়া ১ চা-চামচ, পানি পরিমাণমতো, সাজানোর জন্য কিশমিশ ও ভাজা কাজুবাদাম।

প্রণালি

ফুলকপির ফুলগুলো সমানভাবে কেটে লবণপানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রেখে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন। এরপর লবণ ও হলুদ দিয়ে মেখে নিন।

কড়াইয়ে তেল গরম করে তাতে লবণ-হলুদ মাখানো ফুলকপির টুকরা লাল করে ভেজে তুলে নিতে হবে। ওই তেলে শুকনা মরিচ, জিরা, তেজপাতা ফোড়ন দিয়ে আলু ভাজতে হবে। লবণ ও হলুদ দিয়ে এরপর জিরা, ধনে, আদাবাটা, কাঁচা মরিচবাটা, শুকনো মরিচগুঁড়া, চিনি এবং অল্প পানি দিয়ে কষাতে হবে। কপি নরম হয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তারপর দুধ দিয়ে কিছুক্ষণ রেখে কাজুবাদামবাটা, গরমমসলা দিয়ে ঢেকে রাখুন। ঝোল ঘন হয়ে এলে পরিবেশনের পাত্রে ঢেলে ভাজা কাজু দিয়ে সাজিয়ে নিন।

মালাই ফুলকপি

উপকরণ:

ফুলকপি ১টি, আদা ও রসুনবাটা ১ টেবিল চামচ করে, কাজুবাদামবাটা ২ টেবিল চামচ, পেঁয়াজকুচি ১ কাপ, টমেটোকুচি আধা কাপ। হলুদ, মরিচ ও ধনেগুঁড়া আধা চা-চামচ করে। এলাচ ও কাঁচা মরিচবাটা আধা চা-চামচ করে। তেজপাতা ও দারুচিনি ২-৩টি করে, দুধ দেড় কাপ, ক্রিম আধা কাপ, ঘি আধা কাপ, টক দই আধা কাপ, চিনি ও লবণ স্বাদমতো, কিশমিশ অল্প পরিমাণে।

প্রণালি

ফুলকপির ফুল ছাড়িয়ে নিন। প্যানে অল্প ঘি দিয়ে ফুলগুলো ভেজে তুলে রাখুন। এবার এতে বাকি ঘি দিয়ে তেজপাতা ফোড়ন দিয়ে পেঁয়াজকুচি ভেজে নিন। এতে কাজুবাদাম ছাড়া অন্য সব বাটা ও গুঁড়া মসলা দিয়ে কষিয়ে নিন। তিন মিনিট পর দই দিন। আরেকটু কষিয়ে অল্প দুধ দিন। মসলা ভাজা-ভাজা হলে টমেটো ও ভাজা ফুলকপি দিয়ে আবার একটু দুধ দিয়ে কষান। একটু পর বাকি দুধ দিয়ে ঝোল ঝোল করে নিন। ফুটে উঠলে অল্প দুধে কাজুবাদামবাটা গুলে দিন। এই রান্নায় পানি দেওয়া যাবে না। ফুলকপি সেদ্ধ হয়ে এলে ক্রিম দিয়ে অল্প আঁচে কিছুক্ষণ রেখে চিনি ও কিশমিশ দিয়ে নামান।

ফুলকপির ফুলবাহার

উপকরণ:

ছোট করে কাটা ফুলকপির ফুল ৩ কাপ, কালোজিরা ১ চা-চামচ, শুকনো মরিচ ২-৩টি, মাখন ৪ টেবিল চামচ, আদা ও রসুনকুচি ১ টেবিল চামচ করে। টমেটো সস ৩ টেবিল চামচ, সয়া সস ২ টেবিল চামচ। লবণ, পানি, কাঁচা মরিচকুচি পরিমাণমতো, জিরার গুঁড়া সামান্য, ধনেপাতা সামান্য।

প্রণালি

অল্প মাখনে ফুলগুলো এক মিনিট ভেজে নামান। এবার মাখনে শুকনা মরিচ ও কালোজিরা ফোড়ন দিয়ে আদা ও রসুনকুচি ভেজে নিন। এতে ফুলগুলো দিয়ে লবণ দিন। আধা সেদ্ধ হয়ে এলে সস ও সয়া সস দিয়ে পাঁচ মিনিট ঢেকে দিন। ফুলকপি সেদ্ধ হয়ে মাখা মাখা হলে কাঁচা মরিচকুচি, ধনেপাতাকুচি ও জিরার গুঁড়া দিয়ে অল্প আঁচে কিছুক্ষণ রেখে দিন। ওপরে একটু মাখন দিয়ে নামান।

মচমচে ফুলকপি

উপকরণ:

ফুলকপির ফুল ১০-১২টি, সবুজ ক্যাপসিকাম ১টি, গাজর ১টি, আলু ১টি, ডিম ২টি, কর্নফ্লাওয়ার ও চালের গুঁড়া আধা কাপ করে, গোলমরিচের গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, চাট মসলার গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, লবণ, পানি, কাঁচা মরিচকুচি পরিমাণমতো, আদা ও রসুনকুচি ১ চা-চামচ করে, টমেটো সস, চিলি সস ও সয়া সস ২ টেবিল চামচ করে, মাখন আধা কাপ, ভাজার জন্য তেল পরিমাণমতো।

প্রণালি

ফোটানো লবণপানিতে ফুলকপিগুলো এক মিনিট ফুটিয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। একইভাবে লম্বা করে কেটে আলু, ক্যাপসিকাম ও গাজর অল্প সেদ্ধ করে নিন। এবার ফুলকপিতে ডিম, কর্নফ্লাওয়ার, চালের গুঁড়া, গোলমরিচ ও চাট মসলা দিয়ে ভালোভাবে মেখে ডুবোতেলে ফুলগুলো ভেজে তুলে রাখুন। এবার ওই প্যানে মাখন গরম করে আদা ও রসুন ফোড়ন দিয়ে সস ও কাঁচা মরিচকুচি দিয়ে অল্প পানি দিয়ে কষান। কষানো হলে সেদ্ধ সবজি দিয়ে কিছুক্ষণ ঢেকে রেখে ভাজা ফুলকপি দিয়ে হালকা হাতে নেড়ে নিন। নামিয়ে পরিবেশন করুন।

ফুলকপির রাজ কোফতা

উপকরণ:

কুচি করা ফুলকপি ৪ কাপ, গরু বা খাসির মাংসের কিমা বাটা ১ কাপ, মিহি পেঁয়াজকুচি ১ কাপ, আদাকুচি ১ চা-চামচ। কাঁচা মরিচকুচি, ধনেপাতাকুচি ও লবণ স্বাদমতো। গোলমরিচ গুঁড়া ও চাট মসলার গুঁড়া ১ টেবিল চামচ করে। টমেটোকুচি আধা কাপ, ব্রেড ক্রাম্ব ও কর্নফ্লাওয়ার আধা কাপ বা পরিমাণমতো। ডিম ২টি, কাজুবাদাম ও কিশমিশকুচি ২ টেবিল চামচ করে, ভাজার জন্য তেল পরিমাণমতো।

প্রণালি

তেল ছাড়া সব উপকরণ ফুলকপির সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। হাতে অল্প তেল নিয়ে কোফতা বানিয়ে ডুবোতেলে মচমচে করে ভেজে তুলুন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

ওষধি উদ্ভিদ কালমেঘ চাষে ব্যাপক আয়

ওষধি উদ্ভিদ কালমেঘ নিয়ে মোটামুটি সবাই বর্তমানে ওয়াকিবহাল। বীরুৎ-জাতীয় এই উদ্ভিদের ভেষজ গুণ প্রচুর পরিমানে থাকায় বর্তমানে আমাদের রাজ্যে কালমেঘ চাষ প্রচুর পরিমানে হচ্ছে। শারীরিক সমস্যা দূর করতে কালমেঘের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কালমেঘ পাতার রস রক্ত আমাশা দূর করা ছাড়াও, কৃমির সমস্যা রোধ করতেও ভীষণ কার্যকরী। মূলত বীজ থেকে এই কালমেঘের চাষ হয়। জন্ডিস, কৃমি, ম্যালেরিয়া, ব্রঙ্কাইটিস, যকৃতের সমস্যার জন্য কালমেঘ খুবই উপকারী। সর্দি-কাশি ও চামড়ার রোগ দূর করতেও কালমেঘের যথেষ্ট অবদান রয়েছে। জুন-জুলাই মাসে মূলত এই ফসলের চাষ হয় এবং মার্চ-ফেব্রুয়ারি মাস নাগাদ এর বীজ সংগ্রহ করা হয়।

মাটি ও জলবায়ু: (Soil and Climate)

যে কোনও ধরণের জলবায়ুতেই এই গাছের চাষ সম্ভব যেমন, তেমনই বিভিন্ন মাটিতেও এটি বেড়ে উঠতে পারে। তবে বেলে-দোআঁশ মাটি এই চাষের জন্য আদর্শ৷ কালমেঘ চাষের আগে জমি ভালো করে কর্ষণ করে নিতে হবে। ১৫ সেন্টিমিটার দূরত্ব রেখে কালমেঘের বীজ বপন করা উচিত। ঠান্ডা আবহাওয়ায় মূলত কালমেঘের চাষ ভালো হয়।

সার প্রয়োগ ও সেচ (Fertilizer and Irrigation)

প্রথমে মাটি, বালি, জৈব সার মিশিয়ে বীজের জন্য মাটি প্রস্তুত করে নেওয়া উচিত। বীজ থেকে চারা বেরোলে তা চাষের জমিতে পোঁতা হয়।  কালমেঘের ভালো ফসলের জন্য জমিতে গোবর সার ব্যবহার করেন অনেকে।  মূলত বর্ষাকালে এটি চাষ করা হয় তাই সেচ কার্যের তেমন প্রয়োজনীয়তা পড়ে না৷ তবে প্রথম প্রথম তিন-চার দিন পর পর প্রয়োজনাসুরে জল দিতে হয়।  এরপর আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী সপ্তাহে সপ্তাহে জলসেচ দেওয়া যেতে পারে৷

পরিচর্যা (Caring)

অন্যান্য চাষের মতন কালমেঘেরও পরিচর্যা করা উচিত। আগাছা থাকলে তা যত্নের সঙ্গে কেটে দেওয়া উচিত। মনে রাখতে হবে জমিতে যাতে জল না জমে। চারা রোপনের তিন মাসের মাথায় ফসল সংগ্রহ করে নেওয়া উচিত। বাজারে কালমেঘের প্রচুর পরিমানে চাহিদা থাকায়, এই চাষ করে কৃষকরা অধিক উপার্জন সহজেই করতে পারবেন।

পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, অসম, তামিলনাড়ু, মধ্যপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশে কালমেঘের চাষ প্রচুর পরিমানে হয়। কৃষকরা এই ওষধি উদ্ভিদ চাষ করে ভালোই উপার্জন করছেন, তা এই রাজ্যগুলিতে কালমেঘের ব্যাপক চাষই প্রমাণ করে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

বাড়ছে মিল্কফিশ চাষ, জেনে নিন এর সহজ চাষ পদ্ধতি

আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজারে মাছের অন্যতম জনপ্রিয় জাত মিল্কফিশ। এটি তাজা বা প্রক্রিয়াজাত করা হয়। চিনিডে পরিবারে মিল্কফিশ একমাত্র প্রজাতি। মিল্কফিশ শুধুমাত্র সম্পূর্ণ লবণাক্ত জলে ডিম পাড়ে। যদি আপনি একটি পুকুরে মিল্কফিশ বাড়াতে চান তবে আপনাকে পুকুরের ছাড়ার জন্য সমুদ্র থেকে পোনাদের ধরতে হবে।

জায়গা নির্বাচন(Site selection):

যে কোনও উন্নত ও কার্যকর ব্র্যাকিশ জলের মাছের খামারে মিল্কফিশ চাষ শুরু করা যেতে পারে। সর্বনিম্ন ০.৮ থেকে ১ মিটার জলের গভীরতা থাকতে হবে; ১০ থেকে ৩০ পিপিটি এর সর্বোত্তম লবণাক্ততা, ২০ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের তাপমাত্রা, সারা বছরে ৪.০ থেকে ৫.০ পিপিএমের জল পিএইচ মান ৭.৫ থেকে ৮.৫ ডিগ্রি অক্সিজেন (ডিও) সহ মানের জল প্রয়োজন | পুকুরের মাটি বেলে বা  কাদামাটি হতে হবে। বাজারে পৌঁছানোর জন্য মিল্কফিশ চাষের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহও প্রয়োজনীয়।

মিল্কফিশের জন্য বীজ সংগ্রহ(Seed collection):

মিল্কফিশ পুকুর এবং সীমাবদ্ধ জলে প্রজনন করে না; হ্যাচারি প্রযুক্তির উন্নয়ন কঠিন ছিল। যদিও এই প্রজাতিতে প্ররোচিত প্রজনন সফলভাবে পরিচালিত হয়েছে, চূড়ান্ত বেঁচে থাকার হার কম হয়েছে এবং হ্যাচারি অপারেশনগুলি অর্থনৈতিক নয়। ভারতে ওড়িশা, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, কেরালা এবং কর্ণাটক উপকূলে ২ থেকে ৭ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের মিল্কফিশের বীজ দেখা যায়। শান্ত উপকূলীয় জলের প্রয়োজন যেখানে তাপমাত্রা প্রায় ২৩  থেকে ২৫  ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং লবণাক্ততা ১০ থেকে ৩২ পিপিটির মধ্যে পরিবর্তিত হয়।

জল সরবরাহ ও হ্যাচারি উৎপাদন(Water supply):

ফিশপন্ড সাইটের উপযুক্ততার জন্য জল সরবরাহ হ’ল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় | সাধারণত, জল সরবরাহ একটি নদী, সমুদ্র, বা খাঁড়ি থেকে আসে। এটি অবশ্যই সারা বছর ধরে পুকুরের প্রয়োজনীয়তার গুণমান এবং পরিমাণ পূরণ করতে হবে। যদি জলের উৎস দূষিত হয় এবং আয়তন অপর্যাপ্ত হয় তবে মাছ চাষ করা ব্যৰ্থ হবে |

হ্যাচারি অপারেশনগুলি আধা-নিবিড় (কম মজুদ ঘনত্ব, ন্যূনতম জল বিনিময়, উচ্চ ভলিউম ট্যাঙ্ক, মিশ্র খাদ্যের সাথে খাওয়ানো) বা নিবিড় (উচ্চ স্টকিং ঘনত্ব, উচ্চ ভলিউম ট্যাঙ্ক, দৈনিক খাওয়ানো এবং জল বিনিময়) সিস্টেম ব্যবহার করে, যার গড় বেঁচে থাকার হার ৩০% (মজুদ করা সদ্য-ফুটে থাকা লার্ভা থেকে)। ডিম ছাড়ার পর, লার্ভা আদর্শভাবে ৫০/লিটারে হ্যাচারি ট্যাঙ্কে রাখা হয় (ফাইবারগ্লাস, কংক্রিট, ক্যানভাস, অথবা পলিপ্রোপিলিন-আচ্ছাদিত মাটির ট্যাঙ্ক) ক্লোরেলার সাথে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোটিফার খাওয়ানো হয় এবং পরবর্তীতে মোট চিংড়ি দিয়ে ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ।

মাছ সংগ্রহ(Harvest):

পুকুরগুলি সম্পূর্ণ নিষ্কাশন করা বা পুরো নেট খাঁচার কাঠামো বন্ধ করে দেওয়া, সাইনিং বা কলমে গিলনেটের ব্যবহার)। এই পর্যায়ে ২৫০ থেকে ৫০০ গ্রামের মাছ পাওয়া যায় |

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

নির্দিষ্ট পুঁজিতে মিশ্র চাষে কৃষকদের ব্যাপক আয়ের সুযোগ

বর্তমান যুগে খাদ্যসামগ্রীর চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে | অন্যদিকে, চাষযোগ্য জমি এবং জলাশয়ের পরিমান কমছে | তাই এহেন  অবস্থায়, মিশ্র চাষ (Mixed Farming) একমাত্র উপায়| বর্তমান যুগে দাঁড়িয়ে এই মিশ্র চাষ বেশ লাভজনক | মিশ্র চাষ বলতে বোঝায় বিভিন্ন প্রকার প্রাণী ও উদ্ভিদের চাষের মধ্যে সমন্বয়সাধন, যার ফলে একটি প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট অপ্রয়োজনীয় পদার্থ অন্য প্রক্রিয়ায় মূল্যবান উপাদান হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে অপ্রয়োজনীয় পদার্থের চক্রাকার আবর্তন ঘটায়।

script data-ad-client=”ca-pub-3140114751019908″ async=”” src=”https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js”>

ধরে নেওয়া যাক, কোনো এক কৃষকের জমি এবং পুকুর আছে | সেখানে মাছ চাষ হচ্ছে যেমন তেমনি আছে হাঁসের দল | আবার, পাড়ে চড়ছে দেশি মুরগি | হাঁস-মুরগির মল পুকুরে মাছের খাদ্যের জোগান দিচ্ছে। আবার ছাগল ও গরু চাষও হচ্ছে সেখানেই এক কোণে। যার বর্জ্য ব্যবহার হচ্ছে পুকুর পাড়ের সব্জি চাষে সার হিসাবে। একসঙ্গে একই জায়গায়, এভাবে চাষ করে অনেকটাই খরচ কমানো সম্ভব || সাথে, গ্রামীণ অর্থনীতির ব্যাপক পরিবর্তন ঘটছে |

script data-ad-client=”ca-pub-3140114751019908″ async=”” src=”https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js”>

মিশ্র চাষের উদ্দেশ্য (Objective of integrated farming):

এই মিশ্র চাষের প্রধান উদ্দেশ্যই হলো প্রাকৃতিক পরিবেশে সৃষ্ট কোনো বর্জ্য পদার্থ না, একের বর্জ্য অন্যের প্রয়োজনে ব্যবহার হবে | কোনো কিছুই এখানে বাদ দেওয়া যায়না | এই যে আবর্তন, এটাই হলো এই চাষের মূল উদ্দেশ্য | এই তত্ত্বকেই কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন প্রকার উদ্ভিদ ও প্রাণির চাষের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা হচ্ছে | এই প্রক্রিয়ার ফলস্বরূপ, একজনের সৃষ্ট বর্জ্য অন্যজনের সার বা খাবার হিসাবে ব্যাবহৃত হচ্ছে | অনেক চাষ এক জায়গায় হয় বলে এই পদ্ধতিতে জমি কম লাগে। বহুমুখী উৎপাদন হয় বলে এই পদ্ধতিতে চাষ করে লাভের পরিমান বেশ ভালোভাবেই বাড়ানো যায় |

script data-ad-client=”ca-pub-3140114751019908″ async=”” src=”https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js”>

বিভিন্ন প্রকার মিশ্র চাষের উদাহরণ (Types of integrated farming):

সাধারণত, বিভিন্ন ধরণের সংহত চাষ বা ইন্টিগ্রেটেড ফার্মিং করা যায় | যেমন, গবাদি পশুর সঙ্গে মাছ-সব্জির চাষ করা যেতে পারে, আবার হাঁস-মুরগির সঙ্গে মাছ-সব্জির চাষ করা যেতে পারে, ধান সংলগ্ন জমিতে মাছ-হাঁস চাষ করেন অনেকে, আবার বিভিন্ন প্রাণির (গরু-ছাগল-শুয়োর-হাঁস-মুরগি) সংহত চাষও করা যায় | যেমন,

মাছ চাষ ও শুয়োর এবং ছাগল পালন:

একসাথে ছাগল, শুয়োর এবং মাছ চাষ করা যায় | ছাগল ও শুয়োরের মল থেকে উচ্চ মানের সার তৈরি হয়। মাছের খাবার হিসাবে এটি যেমন কাজে লাগে তেমনই পুকুরে ফেললে উর্বর পাঁক তৈরি হয়। যা পরে শাক-সব্জির সার হিসাবে ব্যবহার করা যায়। সরাসরি মলকেও সার হিসাবে দেওয়া যায় সব্জি চাষে। ৩৫-৪০টি দেশীয় ঘুঙরু জাতের শুয়োর বা ছাগল এক হেক্টর জলাশয়ের জন্য যথেষ্ট। এক্ষেত্রে সবুজ ঘাস বা কন্দ জাতীয় ফসল পুকুর পাড়ে চাষ করলে ছাগল ও শুয়োরের খাবার বাইরে থেকে কিনতে হয় না।

script data-ad-client=”ca-pub-3140114751019908″ async=”” src=”https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js”>

হাঁস পালন ও মাছ চাষ:

একসাথে হাঁস ও মাছ চাষ করা বেশ সুবিধাজনক |হাঁসের জন্য জীবাণুমুক্ত পরিবেশ দেয় পুকুরের মাছ। অন্য দিকে হাঁস পুকুরের অনিষ্টকারী কীটপতঙ্গ ও গুগলি খেয়ে মাছেদের  সুবিধা করে। হাঁস পুকুরে ডুব দিয়ে গুগলি তুলে খাবার সময় যে আলোড়নের সৃষ্টি হয়, তার ফলে তলদেশে জমে থাকা গ্যাস বেরিয়ে যায়। অনেক সময় মাটিতে আবদ্ধ প্রয়োজনীয় খাদ্যোপাদানের মুক্তি ঘটে। হাঁসের চলাফেরায় জলে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়ে। হাঁসের মল সরাসরি পুকুরে পড়ে মাছের প্রাকৃতিক খাদ্যকণার উৎপাদন বাড়ায়। হাঁসের মলে (শুষ্ক ওজনের ভিত্তিতে) নাইট্রোজেন থাকে ২.১৫ শতাংশ, ফসফরাস ১.১৩ শতাংশ এবং পটাশিয়াম ১.১৫ শতাংশ। ব্যবহারিক দিক থেকে দেখলে হাঁসপালন অনেক বেশি লাভজনক। কারণ হাঁস ২-৩ বছর পর্যন্ত ডিম পাড়ে। দেশি হাঁসের ডিম পাড়ার ক্ষমতা বছরে ১২০-১৩০টি। খাকি ক্যাম্পবেল হাঁস বছরে ২৮০-৩০০টি পর্যন্ত ডিম পাড়ে। পুকুর থেকে নিজেদের খাদ্য নিজেরাই সংগ্রহ করে নেয় হাঁসেরা। রোগব্যাধিও মুরগির তুলনায় কম। এতে কৃষকদের পকেট ভরে ভালো করে |

মাছ, সব্জি চাষ ও গরু পালন:

script data-ad-client=”ca-pub-3140114751019908″ async=”” src=”https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js”>

আবার , গরু, মাছ ও শাক-সব্জি একসাথে চাষ করা যায় | গোবর ও গোমূত্রে প্রচুর পরিমাণে নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশ ও জৈব পদার্থ থাকে। যা মাছ চাষ এবং শাক-সব্জি চাষে জৈব সার হিসাবে ব্যবহার করে চাষের খরচ কমানো যায়। এক্ষেত্রে গোয়ালঘর পুকুরপাড়ে করতে হবে, যাতে গোবর সহজে পুকুরে ফেলা যায়। পুকুর পাড়ে সবুজ ঘাস ও অন্য শাকসব্জি গরুর খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করা হয়।

মুরগি ও মাছ চাষ:

মুরগির মল উৎকৃষ্ট জৈব সার। যা পুকুরে দিয়ে পুকুরের জৈব উৎপাদন বাড়ানো যায়। আবার সরাসরি মাছের খাদ্য হিসাবেও ব্যবহৃত হয়। একটি মুরগি বছরে ১৫ কেজি কম্পোস্ট সার দেয়। ৫০০-৬০০টি মুরগি এক হেক্টর পুকুরের জন্য যথেষ্ট।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কেমন হবে আগামীর কৃষি:

বিভিন্ন কৃষি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানে কৃষিবিদদের নিরলস পরিশ্রমের ফলে আমরা পেয়েছি অধিকাংশ ফসলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক উন্নত ফলনশীল জাত। এর ফলে বেড়েছে ফসলের উৎপাদন ক্ষমতা এবং দেশের মোট খাদ্য উৎপাদন।

বর্তমানে যেভাবে সরকারী এবং বেসরকারীভাবে কৃষির উপর গুরুত্ব প্রদান করা হচ্ছে তাতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্নতা অর্জন করবে ইনশাল্লাহ।

যদিও আমাদের কৃষি আমার মতে সঠিক পথেই এগোচ্ছে, কিন্তু কথা হলো আগামী দিনে কেমন হবে আমাদের কৃষি। আমাদের কৃষি উৎপাদন কি দিন দিন বাড়তেই থাকবে? বিজ্ঞান সম্মত উত্তর হবে বাড়তেই থাকবে না কিন্তু আরো উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব। কেননা আমাদের ফসলের জাত সমূহের উৎপাদন ক্ষমতা উপযুক্ত পরিবেশে আরো বেশি। প্রশ্ন এখানেই যে, আমরা চাষাবাদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ কি ধরে রাখতে পারব? প্রতিবছর কৃষি জমি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাচ্ছে বাড়ি-ঘর ও শিল্প কারখানা নির্মানের জন্য। নিবিড় চাষাবাদের ফলে আমাদের মাটির উর্বরতা ও উৎপাদন ক্ষমতা আশংকাজনক হারে কমে যাচ্ছে। চাষযোগ্য জমিতে লবনাক্ততা বাড়ছে দিন দিন। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব পড়ছে কৃষির উপর, ফলে উৎপাদন দিন দিন কমছে। এসব সমস্যার বাহিরে যে সমস্যা আমাদের জন্য অদূর ভবিষ্যতে প্রকট হয়ে দাড়াবে তা হলো আর্সেনিক বিষাক্ততা।

জমিতে ফসল ফলানোর জন্য শতকরা ৫ ভাগ জৈব পদার্থ থাকা জরুরী। কিন্তু আমাদের দেশের অধিকাংশ জমিতে এর পরিমাণ মাত্র শতকরা ২ ভাগ এর কাছাকাছি। এছাড়াও আমাদের মাটিতে গাছের বিভিন্ন খাদ্য উৎপাদন এর পরিমাণ আশংকাজনক হারে কমে গেছে। ৯০ এর দশকে আমাদের জমিতে মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট সার প্রয়োগ করার প্রয়োজন ছিল না, কিন্তু এখন আমাদের জিংক, বোরন সার জমিতে প্রয়োগ করতে হচ্ছে এবং আশংকা করা হচ্ছে যে, অদূর ভবিষ্যতে মাটি থেকে গ্রহণকৃত ১৪টি খাদ্য উৎপাদনের অধিকাংশ সার হিসেবে প্রয়োগ করতে হবে। এর ফলে আমাদের জমির উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাবে।

বাংলাদেশের ২০ ভাগ অঞ্চল উপকূলীয় এবং দেশের চাষযোগ্য জমির ৩০ ভাগ এই উপকূলীয় অঞ্চলে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো যে, আমাদের অধিকাংশ উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার পরিমান দিন দিন বাড়ছে। ফলে এসব অঞ্চলে উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। উপকূলীয় অধিকাংশ অঞ্চলে শুধুমাত্র কিছু স্থানীয় লবণাক্ততা সহিষ্ণু জাত বছরে একবার চাষ করা হয়। ফলে আশানুরুপ ফলনও পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এসব কিছু ছাড়িয়ে আর্সেনিক বিষাক্ততা আমাদের কৃষির জন্য। স¤প্রতি এক গবেষনা সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশের ৬১টি জেলায় আর্সেনিক পাওয়া গেছে। অপরিকল্পিতভাবে ভুগর্ভস্থ পানি উত্তোলন এই আর্সেনিক দূষণের প্রধান কারণ। কৃষিবিদদের জন্য চিন্তার কারণ হলো যে, আর্সেনিক দূষিত পানি দ্বারা যে সকল ফসলে সেচ প্রদান করা হয় সেসব ফসলের খাদ্যপোযোগী অংশে থাকে আর্সেনিকের উপস্থিতি।

অতি সমপ্রতি আমরা পাটের জিনোম আবিষ্কার করেছি। এ থেকে প্রতীয়মান হয়ে যে, গবেষণা ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পিছিয়ে নেই। কিন্তু এসব সমস্যা মোকাবেলায় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সরকারের কৃষি বান্ধব নীতিমালা এবং গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের বরাদ্দ নিশ্চিত করা। আমার বিশ্বাস প্রয়োজনীয় সকল সুযোগ সুবিধা পেলে আমাদের কৃষি গবেষকরা এসব সমস্যা সাফল্যের সাথে মোকাবেলা করে কৃষিকে আমাদের কাঙ্খিত লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com