আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

মুজিববর্ষে সারাদেশে এককোটি গাছ লাগাবে বন অধিদফতর

মুজিববর্ষে সারাদেশে এককোটি গাছ লাগাবে বন অধিদফতর
মুজিববর্ষে সারাদেশে এককোটি গাছ লাগাবে বন অধিদফতর

মুজিববর্ষে সারাদেশে এককোটি গাছ লাগাবে বন অধিদফতর। এরইমধ্যে চারা উৎপাদনের জন্য বন বিভাগ সারাদেশের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছে। ১৭ মার্চ থেকে সম্ভব না হলেও জুনের প্রথম সপ্তাহে বৃক্ষরোপণ অভিযানের সময় এই গাছ বিতরণ করা হবে। পরিবেশ রক্ষার স্বার্থেই এ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এককোটি চারার মধ্যে কিছু চারা নষ্ট হতে পারে, সেজন্য অতিরিক্ত আরও ২০ লাখ গাছের চারা উৎপাদন করা হবে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে জানা যায়, ফলদ, বনজ ও ঔষধিসহ বিভিন্ন রকমের গাছের চারা বিতরণ করা হবে। এক্ষেত্রে দেশীয় ফলের গাছকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। গত বছরের আগস্টে এককোটি ২০ লাখ চারা উৎপাদনের ব্যাপারে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সারাদেশের বনবিভাগ চারা উৎপাদনের কাজও শুরু করেছে। জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে মুজিববর্ষ উপলক্ষে আরও কিছু পরিকল্পনা নিয়েছে মন্ত্রণালয়। যার মধ্যে পরিবেশ অধিদফতর, বন অধিদফতর এবং সব বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়গুলো, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট, বন গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে র‍্যালি বের করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজনও করবে এই মন্ত্রণালয়। এছাড়া মুজিববর্ষ উদযাপনে জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে মিল রেখে ব্যানার ও ফেস্টুন তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। 

মুজিববর্ষ পালনে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন তার মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। সুন্দরবনসহ দেশের বনাঞ্চল রক্ষা ও বাড়াতে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি কঠোরভাবে আইন প্রয়োগে কার্যকর ব্যবস্থা নিতেও নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। 

বন অধিদফতরের অর্থ, বাজেট ও সাধারণ নির্দেশনা ইউনিটের সহকারী প্রধান বন সংরক্ষক অজিত কুমার রুদ্র বলেন, মন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এরইমধ্যে মুজিববর্ষ পালনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এককোটি ২০ লাখ চারা উৎপাদনেরও কাজ চলছে। গাছের চারা উৎপাদন ও বিতরণের কার্যক্রমটি বাস্তবায়নে কাজ করছে বন অধিদফতর।

চীন

বাম্পার ফলনেও চীনে খাদ্য অপচয় রোধের চেষ্টা যে কারণে

আমি চীনে আসি ২০১২ সালে, অগাস্টের মাঝামাঝিতে। বিমানবন্দরে আমাকে ও আমার স্ত্রীকে রিসিভ করেছিলেন চীন আন্তর্জাতিক বেতারের বাংলা বিভাগের পরিচালক ইয়ু কুয়াং ইয়ুয়ে আনন্দি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ‘মুক্তার কথা’-র মুক্তা। মুক্তার চীনা নাম ছাই ইয়ুয়ে। তাঁরা আমাদেরকে বিমানবন্দর থেকে সোজা নিয়ে এলেন আমাদের নতুন ঠিকানায়। ‘নতুন ঠিকানা’ মানে এক রুমের একটি ফ্ল্যাট। চীন আন্তর্জাতিক বেতারের খুব কাছেই সেটি।

পৌঁছতে পৌঁছতে সন্ধ্যা হয়েছিল, মনে আছে। চীনে সন্ধ্যা মানে ডিনার বা রাতের খাবারের সময়। ম্যাডাম আনন্দি আর মুক্তা আমাদের নিয়ে গেলেন রেস্টুরেন্টে। মেনু দেখে কিছু বোঝার উপায় নেই। কোন খাবারের কী স্বাদ তাও জানি না। খাবার পছন্দের দায়িত্ব তাই চাপিয়ে দিলাম আমার দুই নতুন চীনা সহকর্মীর ওপর। তারা অকৃপণভাবে খাবার অর্ডার করলেন। বেশ কয়েক পদ, পরিমাণও কম নয়। বলা বাহুল্য, চীনা জীবনের প্রথম দিনে আসল চীনা খাবার আমার ও আমার স্ত্রীর মুখে তেমন একটা রুচলো না।

ফলাফল: বেশকিছু খাবার বেঁচে গেল। মনে আছে, মুক্তা বেঁচে-যাওয়া কিছু চিংড়ি প্যাক করে নিয়ে গিয়েছিলেন বাসায়। ম্যাডাম আমাকেও কিছু খাবার সঙ্গে করে বাসায় নিয়ে যেতে বলেছিলেন। আমি লজ্জায় ‘না’ করি। সেই লজ্জার কথা চিন্তা করলে আমার এখন হাসি পায়। বিগত ৮ বছরে আমি চীনাদের কাছ থেকে নতুন যাকিছু শিখেছি, তার একটি হচ্ছে রেস্টুরেন্টে খাওয়াশেষে উদ্বৃত্ত খাবার প্যাক করে বাসায় নিয়ে যাওয়া। অবশ্য, রেস্টুরেন্টে আমার খুব কমই খাওয়া হয়।

রেস্টুরেন্ট থেকে উদ্বৃত্ত খাবার প্যাক করে বাসায় নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা চীনাদের মধ্যে আজকাল বেড়েছে। সেদিন আমার এক চীনা সহকর্মীকে দেখলাম সকালে ক্যান্টিন থেকে কেনা নাস্তার একটা অংশ বিকেলে বাসায় নিয়ে যাচ্ছেন। আমি জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকাতেই একগাল হেসে বললেন: ‘খাদ্যের অপচয় রোধে ভূমিকা রাখছি।’ প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং খাদ্যের অপচয় রোধ করতে নতুন করে আহ্বান জানানোর পর চীনাদের মধ্যে এ ব্যাপারে সচেতনতা অনেক বেড়েছে। এই সচেতনতার কারণেই চীনাদের মধ্যে রেস্টুরেন্ট থেকে উদ্বৃত্ত খাবার বাসায় নিয়ে যাওয়ার প্রবণতাও বেড়েছে।

সম্প্রতি চীনে একটি জরিপ চালানো হয়। জরিপের ফল প্রকাশিত হয়েছে ‘চায়না ইয়ুথ ডেইলি’-তে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৯১.২ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা রেস্টুরেন্টে খাওয়ার পর উদ্বৃত্ত খাবার প্যাক করে বাড়ি নিয়ে যান। তাদের মধ্যে আবার ৩০.৯ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা কমবেশি যা-ই উদ্বৃত্ত থাকুক, বাসায় নিয়ে যান। আর ৬০.৩ শতাংশ বলেছেন, উদ্বৃত্ত খাবার যদি পর্যাপ্ত ও ভালো অবস্থায় থাকে, তবে তাঁরা তা প্যাক করে নিয়ে যান। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৯২ শতাংশ মনে করেন, খাদ্য সাশ্রয় করা একটা সদ্গুণ। আর ৮৫.৭ শতাংশ মনে করেন, খাদ্যের অপচয় রোধ করা জীবনমানের আধুনিক ধারণার সঙ্গে মানানসই।

চীনে ‘ফুড ব্যাংক’ কোনো নতুন ধারণা নয়। তবে, প্রেসিডেন্ট সি’র খাদ্যের অপচয় রোধের আহ্বানের পর ফুড ব্যাংকও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। চীনে প্রথম ‘ফুড ব্যাংক’-এর যাত্রা শুরু হয়েছিল শাংহাইয়ে, ২০১৪ সালে। এই ব্যাংক প্রায়-মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য বিভিন্ন সুপার মার্কেট থেকে দান হিসেবে গ্রহণ করে। বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের উদ্বৃত্ত খাদ্যও তারা সংগ্রহ করে। তারপর সেগুলো বিলিয়ে দেয় গরিবদের মাঝে। শুধু খাদ্যের অপচয় রোধ করা বা গরিবদের সাহায্য করাই এই ব্যাংকের একমাত্র উদ্দেশ্য নয়, পরিবেশ রক্ষা করাও তাদের কাজের একটা অন্যতম লক্ষ্য।

যাত্রা শুরুর পর এই ব্যাংকের শাখা বিস্তৃত হয়েছে চীনের কমপক্ষে ১১টি প্রদেশ বা প্রদেশ পর্যায়ের অঞ্চলে। বেইজিং, সিছুয়ান, সিনচিয়াং ও লিয়াওনিংয়েও আছে এই ফুড ব্যাংকের শাখা। ২০১৯ সালের শেষ নাগাদ পর্যন্ত এই ফুড ব্যাংক দেশব্যাপী প্রায় ৪৫ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের খাদ্য সংগ্রহ করে এবং প্রায় আড়াইশ অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি ও বিদ্যালয়ের মাধ্যমে সাড়ে সাত লাখ মানুষের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণ করেছে। বলা বাহুল্য, ফুড ব্যাংক সংগ্রহ না-করলে, খাবারগুলো নষ্ট হতো।

নিশ্চিতভাবে বলতে পারবো না, তবে ধারণা করি, এই ‘ফুড ব্যাংক’-ও যাত্রা শুরু করেছিল প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের একটি আহ্বানের কারণে। ২০১২ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। আর ২০১৩ সালে খাদ্যের অপচয় রোধের আহ্বান জানান। কিন্তু তখন সেই আহ্বান তেমন একটা প্রচার পায়নি। তখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই ও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির অভ্যন্তরে সংস্কারের কাজ জোরেশোরে চলছিল। হতে পারে, এ কারণে খাদ্যের অপচয় রোধের বিষয়টি তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব পেয়েছিল। আর এ কারণে দেশে-বিদেশে সেটির খুব একটা প্রচারও হয়নি। কিন্তু এবার মহামারি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রেক্ষাপটে যখন তিনি খাদ্যের অপচয় রোধের আহ্বান জানালেন ও এ ব্যাপারে দৃঢ় নির্দেশনা জারি করলেন, তখন বিষয়টি দেশের ভিতরে ব্যাপক প্রচার পায়।

সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো খাদ্যের অপচয় রোধে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করে, শিক্ষাঙ্গনগুলোতে বিশেষ বার্তা প্রচারিত হতে থাকে, বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁ খাদ্যের অপচয়ের ব্যাপারে আরও সচেতন হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতেও এ নিয়ে তুমুল আলোচনা চলতে থাকে, শুরু হয় ‘চেটেপুটে খাও’ আন্দোলন। চীনে কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে, আর সেটা পাশ্চাত্যের সমালোচনার দৃষ্টিতে পড়বে না, তা তো হয় না! পাশ্চাত্যের কেউ কেউ বলতে শুরু করলেন যে, মহামারি ও বন্যার কারণে চীনে তীব্র খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে বা অচিরেই দেবে। আর সেকারণেই চীনের প্রেসিডেন্ট সি খাদ্যের অপচয় রোধের নির্দেশনা দিয়েছেন।

আপাত দৃষ্টিতে কারণটা সহিহ মনে হলেও, বাস্তবতা কিন্তু ভিন্ন। চীনে বিগত কয়েক বছরে খাদ্যশস্যের বাম্পার ফলন হয়েছে। ২০১৯ সালে চীনে রেকর্ড ৬৬ কোটি ৪০ লাখ টন খাদ্যশস্য উৎপন্ন হয়। আগের ১৫টি বছরও দেশটিতে খাদ্যশস্যের বাম্পার ফলন হয়েছে টানা। এমনকি, চলতি বছরের গ্রীষ্মকালে খাদ্যশস্য উৎপন্ন হয়েছে রেকর্ড ১৪ কোটি ২৮ লাখ টন, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ০.৯ শতাংশ বেশি। এদিকে, চীনে হেমন্তে খাদ্যশস্য উৎপন্ন হয় সারা বছরের মোট উৎপাদনের ৭০ শতাংশ। যেমনটি পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে, তাতে হেমন্তেও উৎপাদনের রেকর্ড ভাঙবে। মোদ্দাকথা, মহামারির এই বছরেও চীনে খাদ্যশস্যের বাম্পার ফলন হতে যাচ্ছে। হ্যাঁ, একথা ঠিক যে, বন্যায় বেশকিছু ফসলের ক্ষেত ভেসে গেছে। কিন্তু সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা আছে চীনের কৃষিখাতের। তাছাড়া, এবারের বন্যা যথেষ্ট দক্ষতার সঙ্গেই মোকাবিলা করা হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতি সীমিত রাখা সম্ভব হয়েছে।

এটা ঠিক যে, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি খাদ্যশস্য উৎপাদন করেও চীনকে বিদেশ থেকে খাদ্যশস্য আমদানি করতে হয়। মহামারির কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেই আমদানি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। নতুন করে খাদ্যশস্যের অপচয় রোধে প্রেসিডেন্ট সি’র নির্দেশনার পেছনে এটা একটা কারণ হতে পারে। মহামারি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। চীনে মহামারি নিয়ন্ত্রণে এলেও, বাইরের দুনিয়ায় মহামারির তাণ্ডব চলছে। কবে নাগাদ এই তাণ্ডব শেষ হবে বলা মুশকিল। মহামারি যতো দীর্ঘায়িত হবে, বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্যের সরবরাহ চেইনের ওপর তার নেতিবাচক প্রভাব তত বাড়বে। এ অবস্থায়, খাদ্যের অপচয় রোধ করা, খাদ্যের সাশ্রয় করা, আগের যে-কোনো সময়ের তুলনায় বেশি জরুরি। যথাসম্ভব ভবিষ্যতের আরও খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার এখনই সময়।

কিন্তু এটা একমাত্র কারণ নয়। প্রেসিডেন্ট সি ২০১৩ সালে খাদ্যের অপচয় রোধের আহ্বান জানিয়েছিলেন। হতে পারে, খাদ্যের অভাবসম্পর্কিত তার নিজের অভিজ্ঞতা তাকে সবসময়ই খাদ্যের অপচয়ের বিরুদ্ধে তাড়িত করে। তিনি মাত্র ১৬ বছর বয়সে পার্টির কর্মী হিসেবে গরিব গ্রামাঞ্চলে কাজ শুরু করেছিলেন। তাকে তখন গ্রামের সাধারণ কৃষকদের সঙ্গে মাঠে কাজ করতে হতো। তখন কাজের উপর নির্ভর করতো খাবারের পরিমাণ। শুরুতে তিনি নিজে বেশি কাজ করতে পারতেন না। ফলে তার ভাগ্যে কম খাবার জুটতো। তাকে প্রায়ই অভুক্ত অবস্থায় রাত কাটাতে হতো। পাশাপাশি, তিনি নিজের চোখে দেখেছেন গরিব কৃষকদের অভাব-অনটন; দেখেছেন তাদের দিনের পর দিন অনাহারে-অর্ধাহারে থাকার করুণ দৃশ্য। বোধকরি একারণেই খাদ্যের অপচয় তাকে পীড়া দেয়। সমৃদ্ধ চীনে যখন তিনি দেখেন, চারিদিকে বেশুমার খাদ্য নষ্ট করা হচ্ছে, তখন তিনি এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হবেন, এটাই তো স্বাভাবিক!

তবে, শুধু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাই তাকে খাদ্যের অপচয়ের বিরুদ্ধে মাঠে নামিয়েছে, তা আমার মনে হয় না। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি ও অন্যতম বড় দেশের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তার চোখের সামনে আছে বৈশ্বিক চিত্রটাও। এই চিত্রটা কিন্তু মোটেই প্রীতিকর নয়! বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (ফাও)-এর হিসাব অনুসারে, বিশ্বে উৎপাদিত খাদ্যের প্রায় ৩০ শতাংশ নষ্ট (লস্ট) ও অপচয় হয়, যার আনুমানিক ওজন ১৩০ কোটি টন ও মূল্য এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার তথা ৮৫ লাখ কোটি টাকা (বাংলাদেশের প্রায় ২৫টি বার্ষিক বাজেটের সমান!)। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর যে খাদ্য অপচয় হয়, তার মূল্য ১০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার।

ইউরোপে যে পরিমাণ খাদ্য অপচয় হয়, তা দিয়ে ২০ কোটি মানুষের এক বছরের ক্ষুধা নিবারণ করা সম্ভব। আর চীনে প্রতিবছর বিভিন্ন রোস্তোরাঁয় যে পরিমাণ খাবার অপচয় হয়, তার পরিমাণ দেড় থেকে দুই কোটি টন, যা দিয়ে ৩ থেকে ৫ কোটি মানুষের এক বছরের খাদ্যচাহিদা মিটতে পারে। আর এর বিপরীত চিত্রটা হচ্ছে: বিশ্বে প্রতিদিন প্রায় ৮২ কোটি মানুষ অভুক্ত বা অর্ধভুক্ত অবস্থায় রাত কাটায়। আরেক হিসাব মতে, বিশ্বে প্রতিদিন ৮ হাজার শিশু মারা যায় স্রেফ পুষ্টিহীনতায়।

এমন নয় যে, খাদ্যের অপচয় রোধ করা গেলে সেসব খাদ্যের সবটুকুই বিশ্বব্যাপী গরিব মানুষগুলোর প্লেটে চলে যাবে। পুরোটা না-হলেও, একটা অংশ তো অবশ্যই যাবে! শাংহাইয়ের ফুড ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো নষ্ট হওয়া খাদ্যের একটা অংশও যদি উদ্ধার করতে পারে, তবে সেটাও কম না। তা ছাড়া, খাদ্যের অপচয় মানে কিন্তু শুধু না-খেতে পেরে ফেলে দেওয়া নয়! অতিরিক্ত খেয়েও খাদ্যের অপচয় করা হয়। আর অতিরিক্ত খাদ্য মানে অতিরিক্ত ওজন, অতিরিক্ত ওজন মানে বিভিন্ন ধরনের অসুখ-বিসুখ; আর অসুখ-বিসুখ মানে কাজের দক্ষতা হ্রাস ও চিকিৎসার ব্যয় বৃদ্ধি।

এক হিসাব মতে, চীনের ৩০ কোটি মানুষ অতিরিক্ত ওজনদার। যুক্তরাষ্ট্রে তো ওবিসিটি আরেকটি মহামারির মতো। শুনেছি, বাংলাদেশের মতো গরিব দেশেও অতিরিক্ত ওজন সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। মুসলিমঅধ্যুষিত মধ্যপ্রাচ্যেও এই সমস্যা প্রকট। অথচ ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা) বলেছেন: ‘তোমরা যখন খাবে তখন পেটের তিন ভাগের এক ভাগ খাদ্য দিয়ে পূর্ণ করবে, এক ভাগ পানি দিয়ে পূর্ণ করবে, এবং বাকি এক ভাগ খালি রাখবে।’ তিনি আরও বলেছেন: ‘পেটে খানিকটা ক্ষুধা থাকতে খাওয়া বন্ধ কর।’

খাদ্যের অপচয় ও নষ্টের পরিবেশগত মূল্যও কিন্তু কম নয়! এক হিসেব অনুসারে, বিশ্বে প্রতিবছর যে-পরিমাণ খাদ্য অপচয় ও নষ্ট হয়, তা উৎপাদন করতে ৮ শতাংশ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ করতে হয়। অন্যভাবে বললে, প্রতিবছর যে পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস পৃথিবীবাসী নিঃসরণ করে থাকে, তার ৮ শতাংশ নিঃসরণ হয় অপচয় ও নষ্টকৃত খাদ্যের উৎপাদনের সময়।

২০১৩ সালে প্রেসিডেন্ট সি খাদ্যের অপচয় রোধের ডাক দিয়েছিলেন বোধকরি এই বৈশ্বিক চিত্রটাকে সামনে রেখেই। তখন বিষয়টা নিয়ে তেমন একটা আলোচনা হয়নি। আমি তখন চীনে নতুন এসেছি। এ নিয়ে আলোচনা শুনেছি বলে মনে পড়ে না। কিন্তু এখন চীনের সর্বত্র এ নিয়ে শুধু আলোচনা চলছে, তা নয়, সমাজের সকল পর্যায়ে চলছে খাদ্য অপচয় রোধে বিভিন্ন চেষ্টা। কিন্তু এই চেষ্টা চলা উচিত বিশ্বব্যাপী। বাংলাদেশেও খাদ্যের অপচয় হয়; বাংলাদেশেও কিছু প্রতিষ্ঠান আছে যারা উদ্বৃত্ত খাদ্য সংগ্রহ করে শাংহাইয়ের ফুড ব্যাংকের মতোই গরিবদের মাঝে বিলিয়ে দেয়। এ ধরনের কাজ আরও হওয়া দরকার।

পাশাপাশি, একটা সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠতে পারে দেশজুড়ে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমগুলো ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। না, খাদ্যের অপচয় রোধে শুধু চীনা প্রেসিডেন্টই ডাক দিয়েছেন, তা নয়, ডাক দিয়েছে খোদ জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (ফাও)-ও। সংস্থাটি চলতি বছরের ২৯ সেপ্টেম্বরকে ‘প্রথম আন্তর্জাতিক খাদ্য নষ্ট ও অপচয়বিরোধী প্রচারণা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। দেখার বিষয় এই দিবস বিশ্বব্যাপী কতোটা জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে পারে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

‘আড়াই হাজার বছর’ আগের ১৩ অক্ষত কফিন মিলল মিশরে

লেখক

‘আড়াই হাজার বছর’ আগের ১৩ অক্ষত কফিন মিলল মিশরে
‘আড়াই হাজার বছর’ আগের ১৩ অক্ষত কফিন মিলল মিশরে

মিশরে এক সমাধিক্ষেত্র থেকে ১৩টি অক্ষত কফিন উদ্ধার করা হয়েছে। সম্প্রতি দেশটির পুরাতত্ত্ববিদরা কয়েক হাজার বছরের পুরনো ওই ১৩ অক্ষত কফিনের সন্ধান পান।  সাহারা মরুভূমির গভীরে সাক্কারা নামের একটি সমাধিক্ষেত্র থেকে এই কফিনগুলো উদ্ধার করা হয়।

মিশরের রাজধানী কায়রো থেকে ৩০ কি.মি. দূরে এই সমাধিক্ষেত্রটির অবস্থান। এই অক্ষত কফিনগুলো নিয়ে এখন চলছে বিস্তর গবেষণা। 

আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়, গবেষকদের ধারণা- কফিনগুলো প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে সিল করে দেওয়া হয়েছিল। এতদিন পরেও সেগুলি যথেষ্ট ভালো অবস্থায় রয়েছে। এমনকি কাঠের ফ্রেমগুলোর গায়ে রংও ভাল অবস্থাতেই রয়েছে। এছাড়াও ওই সামধিক্ষেত্র থেকে কয়েক হাজার সারকোফ্যাগাস পাওয়া গেছে। বোতলাকৃতি, মানুষের মতো নক্সাযুক্ত এই সিল করা পাত্রগুলি আগে অন্তেষ্টিক্রিয়ার সময় ব্যবহার হতো।

মিশরের পর্যটন মন্ত্রণালয় জানায়, এগুলো একটির উপর আর একটি সাজিয়ে রাখা হয়েছিল। ভূমি থেকে প্রায় ১১ মিটার নিচে কফিনগুলো পাওয়া গেছে। এ প্রসঙ্গে দেশটির পর্যটনমন্ত্রী খালেদ আল-আনানি বলেন, ‘এটা একটা অন্য রকম অনুভূতি, যখন নতুন পুরাতাত্ত্বিক কিছু খুঁজে পাওয়া যায়।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

ঘূর্ণিঝড় স্যালির তাণ্ডব, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ৫ লাখের বেশি মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলে তাণ্ডব চালিয়েছে ঘূর্ণিঝড় স্যালি। এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ক্যাটাগরি দুই মাত্রার শক্তি নিয়ে স্থানীয় সময় বুধবার সকালে উপসাগরীয় উপকূলে আছড়ে পড়ে গ্রীষ্মমন্ডলীয় এই ঝড়। ফ্লোরিডার পেনসাকোলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এই ঝড়ের তাণ্ডবে অনেক স্থানে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। প্রায় ৫ লাখের বেশি মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।

বুধবার আঘাত হানার পর এই ঝড়ের শক্তি কিছুটা কমেছে। ঝড়ের কারণে ভারী বৃষ্টিপাতে বেশ কিছু স্থানে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে।

পেনসাকোলার দমকল বাহিনীর প্রধান গিনি ক্রেনর সিএনএন-কে বলেন, চার মাসে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয় এই ঝড়ে চার ঘণ্টাতেই সেই পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে।

স্যালি আঘাত হানার সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১০৫ মাইল বা ১৬৯ কিলোমিটার। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উত্তর-মধ্যাঞ্চলের উপসাগরীয় উপকূলে বন্যা হতে পারে বলে আগেই সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি)।

এছাড়া অন্তত দুই ফুট (৬০ সেমি) বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। উপসাগরীয় উপকূলে আছড়ে পড়ার পর ঘূর্ণিঝড় স্যালি ঘণ্টায় তিন মাইল বেগে আলাবামা-ফ্লোরিডা সীমান্তের দিকে অগ্রসর হয়েছে।

এর প্রভাবে সৃষ্ট ঝড়ো বাতাস ও বৃষ্টিপাত মিসিসিপি থেকে ফ্লোরিডা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে জানিয়েছে এনএইচসি। ঘূর্ণিঝড় থেকে নিরাপদ থাকতে আগেই উপকূলবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। ওই অঞ্চলের বন্দর, স্কুল, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

ত্রিপুরায় প্রথমবার হবে বন্য হাতির সংখ্যা জরিপ

ত্রিপুরায় প্রথমবার হবে বন্য হাতির সংখ্যা জরিপ
ত্রিপুরায় প্রথমবার হবে বন্য হাতির সংখ্যা জরিপ

আগরতলা (ত্রিপুরা): ত্রিপুরা রাজ্যের বন্য হাতির সংখ্যার জরিপ এবং তাদের ধ্বংস হয়ে যাওয়া আবাস পুনরায় তৈরির লক্ষ্যে বন দফতর বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে। এজন্য অন্য রাজ্য থেকে নিয়ে আসা হবে হাতি বিশেষজ্ঞ দল।

বাংলানিউজকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা জানালেন ত্রিপুরা সরকারের বন ও জনজাতি কল্যাণ দফতরের মন্ত্রী মেবার কুমার জমাতিয়া।

প্রায় ৬৫ শতাংশের বেশি বনভূমিত ও পাহাড়ি এলাকায় ঘেরা উত্তরপূর্ব ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের জঙ্গলে অন্যান্য বন্যপ্রাণীর সঙ্গে রয়েছে বন্য হাতিও। রাজ্যের জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে অনেকেই এখন পাহাড়ি এলাকায় ঘর-বাড়ি তৈরি করে বসবাস ও চাষবাস করছেন। এর ফলে বন্য হাতির প্রাকৃতিক বিচরণ ভূমি নষ্ট হয়েছে। তাই খাদ্যের খোঁজ করে প্রায়শই বন্য হাতি জনপদে চলে আসে এবং আক্রমণ চালায় বাড়ি-ঘরসহ ফসলের ক্ষেতে। ফলে হাতি ও মানুষের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।

এমন ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে রাজ্যের খোয়াই জেলার অন্তর্গত কল্যাণপুর ঘিলাতলী, চেবরী, মহারানীসহ আশেপাশের বিভিন্ন জনপদে। মূলত ত্রিপুরা রাজ্যের খোয়াই জেলার আঠারোমুড়া পাহাড় এবং তার আশেপাশের বনভূমিতে বন্য হাতিদের প্রাকৃতিক বিচরণ ক্ষেত্র রয়েছে। কিন্তু এই সকল এলাকায় এখন জনবসতি গড়ে ওঠায় হাতিদের বিচরণসহ খাবারের সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাই বন্য হাতির দল লোকালয়ে নেমে আসে। দীর্ঘকাল ধরে এই সমস্যা চলছে।

বন্য হাতি ও মানুষের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব চলছে তা দূর করতে উদ্যোগ নিয়েছে ত্রিপুরা সরকারের বন দফতর। কী করে হাতিদের প্রাকৃতিক আবাসকে আবার নতুন করে গড়ে তোলা যায় এবং রাজ্যে বর্তমানে কতগুলো বন্য হাতি রয়েছে তা গণনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এরই প্রেক্ষিতে বন দফতর পশ্চিমবঙ্গ এবং রাজস্থান থেকে হাতি বিশেষজ্ঞ আনার পরিকল্পনা নিয়েছে। ইতোমধ্যে এই দুই রাজ্যের অভিজ্ঞ বেশ কয়েকজন হাতি বিশেষজ্ঞের সঙ্গে সরকার কথা বলেছে বলেও জানান মন্ত্রী মেবার কুমার জমাতিয়া।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বন্য হাতির গণনাসহ কী করে আবার হাতিদের প্রাকৃতিক আবাস ফিরিয়ে দেওয়া যায় সেই বিষয়ে কাজ শুরু হয়ে যেত। কিন্তু করোনা অতিমারির কারণে এই প্রক্রিয়া কিছুটা পিছিয়ে গেছে। তবে আগামী আগস্ট মাসের মধ্যে বহিঃরাজ্যের বিশেষজ্ঞের একটি দল রাজ্যে এসে হাতি গণনা এবং আবাস সংক্রান্ত জরিপ শুরু করবে। এবারে প্রথম ত্রিপুরা রাজ্যের হাতি জরিপের কাজ করা হবে।

ত্রিপুরা রাজ্যের আঠারোমুড়া পাহাড়ের এলিফ্যান্ট করিডর তথা বন্য হাতির অভয়ারণ্যের মধ্য দিয়ে চলে গেছে ৮ নম্বর জাতীয় সড়ক, যা আসাম হয়ে ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সড়কপথে ত্রিপুরাকে সংযুক্ত করেছে। এলিফ্যান্ট করিডোরের উপর দিয়ে চলে যাওয়া সড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের নিরাপত্তায় বন দফতর থেকে ইতোমধ্যে করিডোরের বিভিন্ন জায়গায় গাড়ির গতিসীমা নিয়ন্ত্রণসহ সতর্কতা সম্বলিত সাইনবোর্ড টাঙিয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

বাঘের সংখ্যা বাড়াতে যে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন

রয়েল বেঙ্গল টাইগার
রয়েল বেঙ্গল টাইগার

ঢাকা: বর্তমানে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে প্রায় ১১৪টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার আছে। আবাসস্থল উজাড় ও অবৈধ চোরা শিকারের ফলে বাংলাদেশের জাতীয় পশু ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করা এই বাঘ এখন ‘বিপদাপন্ন’ অবস্থায়।বর্তমানে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে বাঘের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ৮৯০টি। বাঘের সংখ্যা বাড়াতে না পারলে আগামী কয়েক দশকে পৃথিবী থেকে বাঘ বিলুপ্ত হবার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বুধবার (২৯ জুলাই) দেশে ‘বাঘ বাড়াতে করি পণ, রক্ষা করি সুন্দরবন’ প্রতিপাদ্য ধারণ করে বিশ্ব বাঘ দিবস-২০২০ পালিত হয়েছে। বিশ্ব বাঘ সম্মেলনে ২০২২ সালের মধ্যে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বন বিভাগের সহযোগিতায় ২০১৯ সালে সুন্দরবনে বাঘের ধারণ ক্ষমতা নিয়ে একটি গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ। সুন্দরবনে সর্বশেষ চালানো জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশে ১১৪টি বাঘ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের আয়তন এবং ঘনত্ব অনুযায়ী অন্তত ২০০টি বাঘ থাকার কথা।  

পরিবেশবিদ, জীববিজ্ঞানী এবং বাঘ গবেষকদের মতে, আবাসস্থল ধ্বংস, চোরা শিকার, চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি বাঘের সংখ্যা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ।  

সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বাড়াতে কী উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আবদুল আজিজ বাংলানিউজকে বলেন, সুন্দরবন এবং বাঘ একে অপরের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। বাঘ বাড়ানোর জন্য যেমন সুন্দরবন সংরক্ষণ প্রয়োজন, ঠিক একইভাবে সুন্দরবন রক্ষা করতেও বাঘের সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন। বাঘ বাগানের মালীর ন্যায় ভূমিকা পালন করে। মালী যেমন বাগানের ডালপালা ছেটে, অপ্রয়োজনীয় গাছ কেটে ফেলে এবং বাগানকে রক্ষা করে, বাঘও ঠিক তেমন করে সুন্দরবনকে রক্ষা করে। বাঘের আবাসস্থল হচ্ছে সুন্দরবন, বাঘের সংখ্যা বাড়াতে হলে সুন্দরবনকে সংরক্ষণ করাটাও অনেক জরুরি।

এ গবেষক আরও বলেন, সুন্দরবনের মাঝখান দিয়ে পশুর, শিবশাসহ আরও অনেক বড় বড় নদী প্রবাহিত হয়েছে। এই নদীগুলোর কারণে বন অনেকটা ভাগ হয়ে গেছে। যেটাকে বলে বন বিভাজন (ফরেস্ট ফ্রাগমেন্টেশন)। অপরদিকে এসব নদী দিয়েই বড় বড় বাণিজ্যিক নৌজাহাজ চলাচল করে। নদীগুলোতে রাতে জাহাজ অবস্থান করার সময় বাতি জালিয়ে রাখা, শব্দদূষণ এবং নানা রকম কার্যক্রম করতে দেখা যায়, ফলে বাঘের চলাচল অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আলো বাঘের চলাচলে বাঁধার সৃষ্টি করে। বাঘের পপুলেশন যত কম হয়, জেনেটিক্যাল ডাইভারসিটি তত কম হয়।  

‘জেনেটিক্যাল ডাইভারসিটি কমে গেলে দীর্ঘমেয়াদে বাঘের টিকে থাকার সক্ষমতা কমে যায়, বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে। সুতরাং জেনেটিক্যাল ডাইভারসিটি বাড়ানো উচিত। আমার পরামর্শ হচ্ছে, সাতক্ষীরার একটি বাঘ যদি লোকালয়ে চলে আসে, আমরা যদি সেটাকে উদ্ধার করতে পারি, তাহলে সেটাকে খুলনার সুন্দরবন অংশে ছেড়ে দিতে পারি, তাহলে বাঘের জেনেটিক্যাল ডাইভারসিটি বাড়বে। এছাড়াও রাতের বেলা যে জাহাজগুলো চলাচল করবে, সেগুলোকে একটি নির্দিষ্ট স্থানে রেখে শব্দ এবং আলো নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা। যেন রাতের বেলা বাঘ নদীগুলো দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে। ’ 

বাঘ বাড়ানোর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে এ অধ্যাপক বলেন, বিশ্ব বাঘ সম্মেলনে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করার যে অঙ্গীকার, সেটা করতে হলে আমাদের প্রথম কাজ হবে বাঘের চোরা শিকার বন্ধ করা। গবেষণায় দেখা যায়, চোরা শিকার বন্ধ করতে পারলে বাঘের সংখ্যা আপন গতিতেই বাড়বে। একই সাথে বাঘের আবাসস্থল সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি সুন্দরবনের দূষণ এবং জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে বাঘের সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করা যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com