আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ইসলাম

ফ্রান্স বিরোধী বিক্ষোভের মুখে ফরাসী সরকারের কাছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চিঠি

ঢাকায় কয়েকদিন ধরে ইসলামপন্থী দলগুলোর বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার স্পর্শকাতর বিষয়ে ফ্রান্সকে উস্কানিমূলক কিছু না করার পরামর্শ দিয়েছে।
ঢাকায় কয়েকদিন ধরে ইসলামপন্থী দলগুলোর বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার স্পর্শকাতর বিষয়ে ফ্রান্সকে উস্কানিমূলক কিছু না করার পরামর্শ দিয়েছে।

ফ্রান্সে ইসলাম এবং নবীর কার্টুন নিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্টের মন্তব্যের প্রতিবাদে বাংলাদেশে ইসলামপন্থী দলগুলো যে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে, সেই প্রতিবাদ বিক্ষোভের মুখে বাংলাদেশ সরকার স্পর্শকাতর বিষয়ে উস্কানি না দেয়ার পরামর্শ দিয়ে ফরাসী সরকারকে চিঠি পাঠিয়েছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বিবিসিকে বলেছেন, তিনি ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এই চিঠি পাঠিয়েছেন।

তবে ইসলামপন্থী দলগুলোর নেতারা বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার স্পষ্টভাবে নিন্দা জানাবে, সেটা তারা চান।

ইসলামপন্থী দলগুলো বাংলাদেশে ফ্রান্স বিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে কয়েকদিন ধরে।

তারা ফ্রান্সের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি জানিয়েছে।

তারা আরও দাবি করেছে, বাংলাদেশ সরকার যেনো ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের মন্তব্যের ব্যাপারে নিন্দা জানায়।

এমন প্রেক্ষাপটেই এখন বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

কী আছে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চিঠিতে:

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, তিনি চিঠিতে ফরাসী সরকারকে স্পর্শকাতর বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

“আমরা মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। তবে কাউকে আঘাত করে নয়। ফ্রীডম অব এক্সপ্রেশনের একটা লিমিটেশন আছে। আর আমরা বলেছি যে, স্পর্শকাতর ব্যাপারে কেউ যেন উস্কানি না দেয়।আরেকটি কথা আমরা বলেছি যে, একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকা উচিত। সেটা যে কোন ধর্ম বর্ণ বা গোষ্ঠীই হোক না কেন-তার উর্ধ্বে থেকে একে অপরকে শ্রদ্ধা করা উচিত। এ ব্যাপারে আগামীতে আরও সতর্ক হলে ভাল।”

একইসাথে তিনি ফ্রান্সে একজন শিক্ষককে গলা কেটে হত্যা এবং পরে হামলায় কয়েকজনের নিহত হওয়ার ঘটনার ব্যাপারে দু:খ প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেছেন, মত প্রকাশ করা বা কোন কারণে কাউকে হত্যার ঘটনা বাংলাদেশের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মি: মোমেন চিঠিতে ধর্ম বা স্পর্শকাতর বিষয়ে ফ্রান্সকে উস্কানিমূলক কিছু না করার পরামর্শ দিলেও ফরাসী প্রেসিডেন্টের মন্তব্যের ব্যাপারে নিন্দা জানাননি।

ফ্রান্স বিরোধী বিক্ষোভকারি অন্যতম দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, ফ্রান্সকে সতর্ক করে চিঠি দেয়ার বিষয়কে তারা ইতিবাচক হিসাবে দেখেন। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার স্পষ্টভাবে নিন্দা জানাবে- সেটা তারা চাইছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

“এটা আমরাও বলছি, উস্কানিমূলক এবং কোন অঘটন বা পরিবেশ নষ্ট করে এ ধরনের কোন আচরণ কারও থেকেই না হোক। এটা আমরাও চাই। সরকার এটা বলেছে, এটা ভাল দিক। এটা আমরা সমর্থন করি।”

তিনি আরও বলেছেন, “ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে তামাম দুনিয়ায় অশান্তি তৈরি হয়েছে, ফলে তার নিজেরই এখনই একটা সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করা উচিত। সে দায়িত্ব প্রেসিডেন্ট ম্যাঁক্রর নিজের। এটা আমরা বলছি। একইসাথে আমরা চাই, বাংলাদেশ সরকার যেন স্পষ্টভাবে নিন্দা এবং উদ্বেগ জানায়।”

সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

ফ্রান্স ইস্যুতে বাংলাদেশে হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণে ইসলামপন্থী দলগুলোর বিক্ষোভের খবর পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে। ফ্রান্সের রাজনীতিতেও বাংলাদেশ আলোচনায় এসেছে।

ফ্রান্সের বিরোধী নেত্রী মারি লো পেন বাংলাদেশ থেকে অভিবাসন নিষিদ্ধ করার দাবিও জানিয়েছেন।

অন্যদিকে দেশে ইসলামপন্থী দলগুলো ফ্রান্স বিরোধী শক্ত অবস্থানেই রয়েছে। ফলে দু’দিক থেকেই বাংলাদেশ সরকার চাপে পড়েছে কিনা- এই প্রশ্ন মানতে রাজি নন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মি: মোমেন।

তিনি বলেছেন, ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ কোন বক্তব্য নিয়ে বাংলাদেশ চিন্তিত নয়।

“এটা আমাদের কনসার্ন না। আমরা ফ্রিডমে বিশ্বাস করি। বহুলোক বহুকিছু দাবি করতে পারে। এটা আমাদের জন্য বড় কোন ইস্যু নয়।”

কিন্তু পরিস্থিতি ফ্রান্সের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের কোন প্রভাব পড়বে কিনা- এই প্রশ্নও মানতে রাজি নন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

“কোন প্রভাব পড়বে না। তারা খুব ভাল বন্ধু। আমাদের সাথে ফ্রান্সের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ট।”

মি: মোমেন আরও বলেছেন, বাংলাদেশে যেসব প্রতিবাদ বিক্ষোভ হচ্ছে, সেগুলো থেকে কোন সহিংস ঘটনা ঘটেনি। এমন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে-সেটা সরকার আশা করে।

  • সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

    সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

  • পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

  • ঢাকায় কয়েকদিন ধরে ইসলামপন্থী দলগুলোর বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার স্পর্শকাতর বিষয়ে ফ্রান্সকে উস্কানিমূলক কিছু না করার পরামর্শ দিয়েছে।

    ঢাকায় কয়েকদিন ধরে ইসলামপন্থী দলগুলোর বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার স্পর্শকাতর বিষয়ে ফ্রান্সকে উস্কানিমূলক কিছু না করার পরামর্শ দিয়েছে।

  • সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
  • পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।
  • ঢাকায় কয়েকদিন ধরে ইসলামপন্থী দলগুলোর বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার স্পর্শকাতর বিষয়ে ফ্রান্সকে উস্কানিমূলক কিছু না করার পরামর্শ দিয়েছে।

ইসলাম

আল্লাহ সুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন

আল্লাহ সুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন

ইসলাম শোষণমুক্ত সমাজব্যবস্থায় বিশ্বাস করে। সুদ হলো শোষণের হাতিয়ার। যে কারণে ইসলামে সুদ নিষিদ্ধ। আল কোরআনে আল্লাহতায়ালা একমাত্র সুদখোর ছাড়া আর কারও বিরুদ্ধে স্বয়ং যুদ্ধের ঘোষণা দেননি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘হে ইমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর আর সুদের যা কিছু অবশিষ্ট আছে তা সব পরিত্যাগ কর যদি তোমরা ইমানদার হয়ে থাক। আর যদি তোমরা তা না কর তাহলে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসুলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা শোনো।’ সুরা বাকারা, আয়াত ২। সুদ খাওয়া যে আল্লাহর কাছে কত বড় অন্যায় তা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করার জন্য উল্লিখিত আয়াতই যথেষ্ট। এ সুদব্যবস্থা সমাজে দরিদ্রতা, ঋণ পরিশোধে অক্ষমতা, অর্থনৈতিক স্থবিরতা বা সমস্যা, বেকারত্ব, বহু কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের দেউলিয়াত্ব ইত্যাদির মতো কত যে জঘন্য ক্ষতি ও ধ্বংসের দিকে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ঠেলে দিচ্ছে তা একমাত্র এ বিষয়ে গবেষণাকারীরাই যথাযথ উপলব্ধি করতে সক্ষম। একজন দিনমজুর সারা দিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে শরীরের ঘাম ঝরিয়ে যা উপার্জন করেন তা ব্যাংকে বা বিভিন্ন খাতে সুদ পরিশোধ করতে করতেই শেষ হয়ে যায়। সুদের ফলে সমাজে একটা লুটেরা শ্রেণির উদ্ভব ঘটে। কিছুসংখ্যক মানুষের হাতে অধিকাংশ অর্থসম্পদ পুঞ্জীভূত হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে সমাজের বা দেশের গরিব-দুঃখীরা ক্রমেই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। সম্ভবত এসব কারণেই আল্লাহতায়ালা সুদি-কারবারিদের বিরুদ্ধে নিজেই যুদ্ধের ঘোষণা করেছেন। সুদি-কারবারে জড়িত, মধ্যস্থতাকারী ও সহযোগিতাকারী- সবাইকে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অভিশাপ বা বদদোয়া করেছেন। জাবির (রা.) বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুদগ্রহীতা, সুদদাতা, সুদের লেখক আর সুদের সাক্ষীকে অভিশাপ বা বদদোয়া দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তারা সবাই সমান অপরাধী। আর এ কারণেই সুদের হিসাব-নিকাশ লেখা, সুদ কাউকে দেওয়া বা নেওয়ার ব্যাপারে সহযোগিতা করা, সুদি দ্রব্য গচ্ছিত বা আমানত রাখা আর সুদি মালপত্রের পাহারা দেওয়া সবই নাজায়েজ। মোট কথা, সুদের কাজে অংশগ্রহণ করা আর যে কোনোভাবে সুদের সাহায্য-সহযোগিতা করা সবই হারাম। সুদের কঠিন ভয়াবহতা সম্পর্কে আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘সুদের ৭৩টি দরজা বা স্তর রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে সহজ স্তরটি হলো আপন মায়ের সঙ্গে জেনা করার সমতুল্য। আর সবচেয়ে কঠিন স্তরটি হলো কোনো মুসলিম ব্যক্তিকে অপমান-অপদস্থ করা।’ আবদুল্লাহ বিন হানজালা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন, ‘কোনো লোক যদি ভালোভাবে জেনে-বুঝে সুদের এক টাকা খায়, তাহলে এটাই ৩৬ বার জেনা করার চেয়েও কঠিন পাপের কাজ হিসেবে গণ্য হবে।’ সুদ ধনী-গরিব-নির্বিশেষে সবার জন্য হারাম। সবাইকে তা পরিহার করতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

আসমানি কিতাব আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ

ইসলামি ডেস্ক: মানবজাতিকে পথপ্রদর্শন করতে আল্লাহ যুগে যুগে নবী-রাসুল প্রেরণ করেছেন। তাদের দান করেছেন ঐশী প্রত্যাদেশ, যাকে আসমানি কিতাব বলা হয়। ইসলামী বিশ্বাস অনুসারে প্রধান আসমানি কিতাব চারটি : তাওরাত, জাবুর, ইঞ্জিল ও কোরআন। এ ছাড়া আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন নবীকে এক শ সহিফা দান করেছেন। সব আসমানি কিতাব ও সহিফার ওপর ঈমান রাখা আবশ্যক। ইরশাদ হয়েছে, ‘(মুত্তাকি তারাই) যারা আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে এবং আপনার আগে যা অবতীর্ণ হয়েছে তার প্রতি ঈমান রাখে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ৪)

আসমানি কিতাব আল্লাহর অনুগ্রহ : নবী-রাসুলদের ওপর অবতীর্ণ কিতাব ও সহিফাগুলো আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। কেননা এর মাধ্যমে মানুষ তাঁর স্রষ্টার পরিচয় লাভ করে এবং তাঁর পথে চলার শক্তি অর্জন করে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আপনি আশা করতেন না যে আপনার ওপর কিতাব অবতীর্ণ হবে। এটা শুধু অপনার পালনকর্তার রহমত। অতএব আপনি অবিশ্বাসীদের সাহায্যকারী হবেন না।’ (সুরা কাসাস, আয়াত : ৮৬)

অন্যত্র আল্লাহ বলেন, ‘এটা কি তাদের জন্য যথেষ্ট নয় যে আমি আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যা তাদের কাছে পাঠ করা হয়, এতে অবশ্যই বিশ্বাসী লোকদের জন্য রহমত ও উপদেশ আছে।’ (সুরা আনকাবুত, আয়াত : ৫১)
নবী ও উম্মত সবার জন্য অনুগ্রহ : উল্লিখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফাসসিররা বলেন, আসমানি কিতাব যাঁর ওপর অবতীর্ণ হয়েছে এবং যে জাতির জন্য অবতীর্ণ হয়েছে সবার জন্য অনুগ্রহ। যেমনটি আয়াতের প্রথমাংশে বলা হয়েছে, ‘হে মুহাম্মদ, আপনি কখনো এ আশা করেননি যে আপনার ওপর কোরআন অবতীর্ণ হবে। কিন্তু আপনার প্রভুর দয়া আপনার ওপর তা অবতীর্ণ করার প্রয়োজন অনুভব করলেন যেন আপনি সারা বিশ্বের জন্য আল্লাহর রাসুল মনোনীত হন। এটি আপনার ওপর অনেক বড় নিয়ামত এবং সর্বোত্তম দান। সুতরাং এ নিয়ামত ও দানের কৃতজ্ঞতা আদায় করুন নৈকট্য অর্জনের মাধ্যমে।’ (আইসারুত তাফাসির : ৬/২৮৭)

আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, ‘কোরআন মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি সর্বোচ্চ নিয়ামত এবং তাঁর অসিলায় সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুগ্রহ।’ (তাফসিরে ইবনে কাসির : ৬/২৫৯)

অনুগ্রহ সমগ্র সৃষ্টির জন্য : আসমানি কিতাব এবং কিতাবের ধারক ও বাহক নবী-রাসুলরা সমগ্র সৃষ্টির জন্য অনুগ্রহ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি আপনাকে জগত্গুলোর জন্য রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি।’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত : ১০৭)[১] মমতা ব্যানার্জিকে গৃহবন্দী করার দাবি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতির ≣ [১] চট্টগ্রামে আম পাড়তে যেয়ে যুবকের মৃত্যু ≣ [১] আশরাফুলের ঝড়ো ব্যাটিংয়ের পর ইলিয়াস সানির ঘূর্ণিতে জিতল শেখ জামাল

উল্লিখিত আয়াতে আল্লাহ ‘আলম’ তথা জগতের বহুবচন ব্যবহার করেছেন। কোরআনের ব্যাখ্যাকাররা বলেন, আল্লাহর প্রতিটি সৃষ্টি একেকটি জগৎ। যেমন মানুষ, জিন, জলজ প্রাণী, স্থলজ প্রাণী, পাখি, উদ্ভিদ, জড় পদার্থ ইত্যাদি।

সমগ্র সৃষ্টির জন্য অনুগ্রহ যেভাবে : হাদিসে রাসুল (সা.)-কে সমগ্র সৃষ্টির জন্য রহমত বা অনুগ্রহ বলা হয়েছে। কেননা আল্লাহর জিকির ও ইবাদত হচ্ছে সমগ্র সৃষ্টি জগতের সত্যিকার রুহ বা প্রাণসত্তা। এ কারণেই যখন পৃথিবী থেকে সত্যিকার রুহ বিদায় নেবে এবং পৃথিবীতে আল্লাহর নাম উচ্চারণের মতো কেউ থাকবে না, কিয়ামত সংঘটিত হবে। আর নবী-রাসুলদের মাধ্যমেই পৃথিবীতে আল্লাহ নামের জিকির অব্যাহত থাকে।

রহমতপ্রাপ্তির শর্ত : আল্লাহর রহমত বা অনুগ্রহ লাভের শর্ত হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করা। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমি আল্লাহর প্রেরিত রহমত ও পথপ্রদর্শক। যাতে আমি (আল্লাহর আদেশ পালনকারী) এক সম্প্রদায়কে গৌরবের উচ্চাসনে আসীন করি এবং (আল্লাহর আদেশ অমান্যকারী) অপর সম্প্রদায়কে অধঃপতিত করে দিই।’ (তাফসিরে ইবনে কাসির : ৫/৩৮৬)

মানুষ নিজ দোষে অনুগ্রহ হারায় : আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহের দরজা সব মানুষের জন্য উন্মুক্ত করেছেন। কিন্তু মানুষ নিজের কর্মদোষে তা থেকে বঞ্চিত হয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘তুমি কি তাদের দেখোনি, যারা আল্লাহর অনুগ্রহকে কুফরিতে পরিণত করেছে এবং স্বজাতিকে সম্মুখীন করেছে ধ্বংসের আলয়ে।’ (সুরা ইবরাহিম, আয়াত : ২৮)। সুত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন,কালের কন্ঠ

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

উত্তরাধিকার সূত্রে পাওনা সম্পদে অনিয়মের কারণে অনেকেই হবে জাহান্নামের বাসিন্দা

আখিরুজ্জামান সোহান: উত্তরাধিকারে পাওয়া সম্পদ বণ্টণে আমাদের করনীয় এবং অবশ্য পালনীয় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ হযরত মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল আমিন।

১.ফরায়েযের জ্ঞানের আবশ্যকতাঃ মহান আল্লাহ এ পৃথিবীতে মানব জাতিকে সৃষ্টি করে জীবন পরিচালনা ও আখিরাতের জবাবদিহিতা সুন্দর করার জন্য দিয়েছেন তার নাযিল করা ঐশীগ্রন্হ কোরআন। যার মধ্যে রয়েছে সকল কিছুর ফায়সালা।

মহান আল্লাহর বানীঃ ربنا الذی اعطي كل شيء خلقه ثم هدی
আল্লাহ সকল কিছু সৃষ্টি করে তার পথ চলার ব্যবস্হা করেছেন।

পারিবারিক জীবনে সম্পদ বন্টন একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয়।যার মাধ্যমে অধিকার নিশ্চিৎ সম্ভব।এ বিষয়ে ইসলাম দিয়েছে পরিপূর্ন ফায়সালা। যা থেকে কেউ মাহরুম হবার সুযোগই নেই। আর এ বিষয়ে সকল মুসলিমের জানা কর্তব্য।অনেকে বলেন, জ্ঞান তিন প্রকার ক,কোরানের জ্ঞান খ, হাদিসের জ্ঞান ৩. মিরাস এর জ্ঞান।
রাসুল (সঃ)এর বানীঃ
تعلموا الفراءض فانها نصف العلم،،،
তোমরা ফারায়েযের (অংশবন্টন)জ্ঞান অর্জন কর, কারন তা হলো সকল জ্ঞানের অর্ধেক। (হাদিস)[১] ডিএনসিসির ২০২১-২০২২ অর্থবছরের ৪ হাজার ৮ শত ৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকার বাজেট পাশ: মেয়র আতিক ≣ [১] জিম্বাবুয়ে সফরে একদিন কোয়ারান্টাইনে থাকবে বাংলাদেশ ≣ [১] কুমিল্লার বুড়িচংয়ে আগুনে পুড়লো ৫টি বাস

۞۞২. নিকটতম আত্নীয় কারাঃ
نصيب مما ترك الوالدان و الاقربون
অর্থাৎ, “মা-বাপ ও নিকটতম আত্মীয়-স্বজনরা যে ধন-সম্পত্তি রেখে গেছে তাতে পুরুষদের অংশ রয়েছে। আর মেয়েদেরও অংশ রয়েছে সেই ধন-সম্পত্তিতে, যা মা-বাপ ও নিকটতম আত্মীয়-স্বজনরা রেখে গেছে।” (নিসা ৭)
এখানেই শেষ নয়; ব্যাখ্যার মাঝখানেই কুরআন পরিস্কার ভাষায় জানিয়ে দিচ্ছেঃ
لا تدرون ايهم اقرب لكم نفعا فريضة من الله ان الله كان عليما حكيما
অর্থাৎ, “তোমরা জানো না তাদের কে কে উপকারের দিক দিয়ে তোমাদের বেশী নিকটবর্তী। এসব অংশ আল্লাহ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আর আল্লাহ অবশ্যই সকল সত্য জানেন এবং সকল কল্যানময় ব্যবস্থা সম্পর্কে অবগত আছেন।” (নিসা-১১)

আত্নীয়ের স্তরঃ
ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি = প্রথম স্তর
বাবা-দাদা = দ্বিতীয় স্তর
ভাই-বোন = তৃতীয় স্তর
চাচা-ফুফু, চাচাতো ভাই = চতুর্থ স্তর

۞۞৩.সমস্ত আমল বিফল যদি বন্টন ঠিক না থাকেঃ
تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ * وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيهَا وَلَهُ عَذَابٌ مُهِينٌ
অর্থ : এইসব আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুসরন করবে আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার তলদেশ দিয়ে নহর প্রবাহিত। তারা সেখানে স্থায়ী হবে এবং এটা মহা সাফল্য। আর যে আল্লাহ ও তার রাসূলের অবাধ্য হবে এবং নির্ধারিত সীমাকে( মিরাস) লঙ্ঘন করবে তাকে দোযখে নিক্ষেপ করবেন। সেখানে সে স্থায়ী হবে এবং সেখানে তার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি। সূরা নিসা-১৩-১৪

* রাসুল (সঃ)বলেন, একজন পুরুষ বা স্ত্রীলোক ষাট বছর পর্যন্ত ইবাদতে লেগে থেকেও মৃত্যুর সময় অসিয়তের ব্যাপারে কষ্ট ও ক্ষতিকর কাজ যদি করে থাকে, এর জন্য তার জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে যাবে।
তিরমিযি,ইবনে মাযাহ

۞۞৪.(ক.)নাতি কেন দাদার সরাসরি সম্পত্তির ওয়ারিস নয়ঃ
(খ)মৃত ছেলে বা মেয়ের সন্তানকে, দাদা নানার সম্পদ হতে কি আসলেই মাহরুম করা হয়েছে?
**নাতির সম্পদে দাদার কোনো অংশ নেই।এটি যেমন ঠিক।তেমনি দাদার সম্পদে বাবার আগের মৃত্যুতে নাতির কোনো অংশ নেই এটিও ঠিক।
ولا يرث ولد الابن مع الابن
অর্থ : ছেলে থাকাবস্থায় (মৃত) ছেলের সন্তানাদি কোন মীরাস পাবে না। (সহীহ বুখারী ২/৯৯৭)
তেমনি ভাবে,যেহেতু পিতা মারা গেছে দাদি জীবিত আছে, এখন দাদি মারা গেলে পিতা যে পরিমান সম্পদ পেত,আপনি সেই পরিমান সম্পদ পাবেননা।
কারন আপনার চাচা জীবিত আছে।
**চাচা ও ফুফু যদি দাদির মৃত্যুর পর আপনাকে সম্পদ দিতে রাজি না হয় তবে আপনি আইনের আশ্রয় নিলে তা জায়েয হবেনা।
والقربى من اى جهة كانت تحجب البعدى من اى جهة كانت (السراجى فى الميراث-
নিকটস্থ আত্মীয় থাকা অবস্থায় দূরবর্তী আত্মীয় কিছু পায় না।তারা মাহরুম হয়।
**কিন্তু ইসলাম এখানে ঠকায়নি। কারন সূরা নিসায় বন্টনের আগে এতিমকে খেয়াল রাখা ও তার অংশ বুঝে দিতে বলা হয়েছে। প্রশ্ন হলো নাতি কেন পাবেনা? অবশ্যই পাবে যা দাদা বা নানাকে খেয়াল করতে হবে। নাতি সরাসরি সম্পত্তির ওয়ারিস না হবার কারনে ইহসান করে সম্পদ হতে সর্বোচ্চ এক তৃতীয়াংশ দান বা অসীয়ত করতে পারবেন দাদা বা নানা। এখানে বুঝা গেল শুধু দান নয়, তার দিকে সার্বিক খেয়াল রাখার পন্হা শরীয়াত রেখেছে।

۞۞৫.(ক)জীবিত বাবার সম্পদে সন্তানের কতটুকু অধিকারঃ
(খ)সন্তানের সম্পদে পিতা মাতার কতটুকু অধিকারঃ
***পিতা মাতাকে সম্পদ লিখে দেয়া নয়,বরং তাদের প্রতি বিনয়ী, খেদমতের কথা বলা হয়েছে। যা চুড়ান্ত ফরয।।বাবা এককভাবে কোনো সন্তানকে সম্পদ জীবদ্দশায় দিতে পারবেননা, তেমনি সন্তান তার অর্জিত সম্পদ হতে তার বাবা মাকে লিখে দিতে পারবেনা। কারন” مما ترك”এ আয়াতের কার্যকারিতা থাকেনা।কারন সম্পদের সুষ্ট বন্টন একমাত্র মৃত্যুর পরই হয়। মৃত্যূর পূর্বে অংশ বন্টনই ধ্বংসের কারন হয়,কমবেশিতে রুপ নেয়।
কারন বাবা মার মত, মৃত সন্তানের সম্পদেও তাদের অংশ রয়েছে।
ولابويه لكل واحد منهما السدس مما ترك ان كان له ولد

মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকলে মৃত ব্যাক্তির মা বাব ৬ ভাগের এক ভাগ সম্পদ পাবে।
তবে সম্পদের মালিক, মৌলিক প্রয়োজনে যেমন অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসা, বাসস্হান,শিক্ষায় খরচ করতে পারেন। এক সন্তানের অর্জিত সম্পদ বাবা মা নিজের নামে করে নিয়ে, সব সন্তানকে তার ওয়ারিস করে দেয়া সম্পূর্ন অবৈধ।

***অনেক বাবা আছেন শুধু এক সন্তান হতে মা বাবার প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরনের পরেও চাপ প্রয়োগ করে এক সন্তানের একক উপার্জিত টাকা নিয়ে বাবা নিজের জায়গায় বাড়ি, নিজের জায়গায় দোকান, নিজের সম্পদ রক্ষা করার মানসে নিজ একাউন্টে টাকা জমা রেখে অন্য সব বাকী ছেলে মেয়েদের সম্পত্তির পরিকল্পিত ওয়ারিস বানিয়ে গেলে অবশ্যই বাবাকে বড় গুনাহগার হতে হবে। কারন তিনি শুধু তার প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরনের জন্য নিতে পারেন কিন্তু অন্য সন্তানদের ওয়ারিস বানানোর জন্য নয়।

কিছু বাবা আছেন, ছেলেদের সবার আয়- ইনকাম এক জায়গায় নিজের নামে করে, সবাই সমান করে পাবে এ কথা বুঝিয়ে দেন। অথচ মৃত্যুর পর সম্পদ বন্টনে সন্তানদের সম্পত্তি বাহিরেও যেতে পারে।তাছাড়া সব সন্তানের আয়/রোযগার কখনই এক সমান হয়না। যা যুলুমের একটি নিকৃষ্ট পন্হা।
এমন বহু প্রবাসী জীবনের সবটুকু বিলিয়ে বাবা মার চাপে নিজের বৈধ অংশটুকু হারিয়ে ফেলে। যা স্পষ্টত যুলুম।জাহান্নামের পথ।

۞۞৬.সরাসরি ওয়ারিসকে সম্পত্তির ওয়াসিয়ত করা কি জায়েজ?
**বিশুদ্ধ সনদে হাদিসে, রাসুল (স) বলেন, আল্লাহ প্রত্যেক হকদারের হক পৌছিয়ে দিয়েছেন।সুতরাং এখন উত্তরাধিকারিদের জন্য কোনো ওসীয়ত নেই।
ইমাম মালিক,ইবনে হাম্বল,শাফেয়ি,আবু হানীফা,ইমাম বুখারি,তাউস, আতা,হাসান বসরি ( রহ) প্রমুখ উক্ত মত দিয়েছেন। ইমাম শাফেয়ি (রঃ) শেষে চুক্তি কথা উল্লেখ করেছেন।তবে সবার মত হলো অসিয়াত চলবেনা। (ইবনে কাছীর)
কোনো ধর্মেই দারিদ্র্যের ভিত্তিতে উত্তরাধিকার বণ্টনের বিধান নেই। যদি তা-ই হতো, তাহলে নির্দেশ হতো যে কেউ মারা গেলে তার স্বজনদের মধ্যে যে ব্যক্তি সবচেয়ে দরিদ্র, অভাবী ও প্রয়োজনগ্রস্ত সে মিরাস পাবে। তদ্রূপ একই বাবার দুই সন্তানের মধ্যে যদি একজন অত্যধিক দরিদ্র ও অন্যজন ধনী, সে ক্ষেত্রে কি এ কথা কেউ মেনে নেবে যে এখানে দরিদ্র ছেলেকে বাবার সম্পদ থেকে সব সম্পদ দিয়ে দেওয়া হবে। বাবার সব সন্তান এক রকম চাইলেও হবেনা। সে ক্ষেত্রে ছল চাতুরির আশ্রয় কোনো বাবা নিতে পারবেন না। আর স্বজনদের মধ্যে দরিদ্র কেউ না থাকলে পাড়া-প্রতিবেশীর মধ্যে যে বেশি অভাবগ্রস্ত তাকে দেবে। বরং এটি হবে ওয়ারিশদের ওপর স্পষ্ট জুলুম।

۞۞৭.(ক)বাবার টাকায় বিবাহের ব্যবস্হা না নিজ টাকায় উত্তমঃ
(খ)স্ত্রি ঘরে আনতে গিয়ে বাবার সম্পদ বিক্রি করে বিয়ে জায়েজ কি?
গ্রামের অধিকাংশ পরিবারে বাবার সম্পদে পূর্ননির্ভরতা নিয়ে বাবার জীবদ্দশায় পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করে বিয়ে পর্যন্ত করে অথচ নিজ যোগ্যতায় অর্থ যোগান সন্তান কে দেয়া উচিৎ ছিল,কারন বাবার সম্পত্তির ওয়ারিস হবে সন্তান মৃত্যুর পর। নামাজ যখন ফরয তখন হতে পুরুষের প্রয়োজনীয় চাহিদায় বাবাকে নয় পুরুষকেই যোগাড় শুরু করা কর্তব্য। বিয়ের কথা আল্লাহ কুরানে সমর্থ না থাকলে রোযার কথা বলেছেন
সন্তানকে বাবা এগিয়ে না দিলে কেমনে সে সমর্থবান হবে? তাহলে বিত্তশালি কি শুধু ধনী হতেই হয় তা কিন্তু নয়, গরিব হতেও অনেক ধনীর উপস্হিতি।আজ আত্ননির্ভরশীলতার অভাবেই আজ এ দূরাবস্হা।দাদার অংশে নাতির অংশ নেই, একথা আসতনা,যদি বালেগের যথোপযুক্ত কর্মস্পৃহা থাকত। কর্মস্পৃহা মানুষকে খারাপ কাজ থেকে রক্ষা করে।জীবদ্দশায় বাবার সম্পত্তিতে বাবার একক মালিকানা নিশ্চিৎ এবং এ ক্ষেত্রে যেমন সন্তানদের হস্তক্ষেপ করা যাবেনা, তেমনি সন্তানের একক সম্পদে বাবাও তার জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরনের বাহিরে কোনো সম্পদে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না, যা পুরোপুরি অবৈধ।

۞۞৮.মস্তিস্ক বিকৃত, পরমুখোপেক্ষী সন্তানের জন্য বাবার কি করনীয়ঃ
**অসিয়তের ব্যাপারে বুখারি /মুসলিমে এসেছে,, অসিয়ত আল্লাহর পথে হবে সর্বোচ্চ এক তৃতীয়াংশ। ওয়ারিস সম্পদশালি হোক বা না হউক।।কারন তুমি ওয়ারিসকে অন্যের দ্বারস্হ না করে সম্পদ শালী করে রেখে গেলে হবে উত্তম।
কোনো সন্তান যদি মস্তিস্ক বিকৃত, পংগু, অচল, মানসিক প্রতিবন্ধী হয় সে ক্ষেত্রে, বাকি সব ওয়ারিস কে ডেকে নিয়ে সবার পরামর্শে যদি ইতিবাচক হয়, তা সমাধান করতে পারবেন বাবা।

*৯. মেয়ে বা বোনকে বঞ্চিত করাঃ বিভিন্ন বাহানা তুলে অনেক বাবা মেয়েদের, অনেক ভাই, বোনদের সম্পদ হতে বঞ্চিত করে।
للذكر مثل حظ الانثيين،،،(নিসা)
নারি পুরুষের পাবে অর্ধেক।এর মানে নারিকে ঠকানো নয়,

(ক)বরং একজন নারি প্রথমে বাবা,না থাকলে ভাই,না থাকলে চাচা/মামা, না থাকলে স্বামী,না থাকলে ছেলে,না থাকলে এমন নিকটতম কোনো মুহরিম পুরুষ এমন যেকোনো একজনের দায়িত্বে আজীবন থাকবে।তার সার্বিক দেখার দায়িত্ব পুরুষের। কিন্তু পুরুষ তা নয়।পুরুষ সম্পূর্ন নিজের উপর নির্ভরশীল।
(খ)তার সন্তানদের সব ভোরন পোষনও নারির দায়িত্বে নয়,তা সন্তানের বাবার যা পালন করা ফরয।
(গ)বিয়ের সময় এককালীন মোহরানা,যা মালিকানা একক নারি।
(ঘ)বিয়ের সংগে সংগে স্ত্রীর সকল ভোরন পোষন স্বামির জন্য ফরয। শশুর পক্ষকে চাপ দিয়ে স্ত্রীর খরচ নেয়া এক নিকৃষ্ট,নির্লজ্জতা, গর্হিত কাজ।

এখন বাবার সম্পদে পুরুষের অর্ধেক একজন নারি পাবে এজন্য যে, তার (নারি) সম্পদ প্রাপ্তির খাত পুরুষের চেয়ে অনেক বেশী। অথচ তার (নারির) সারা জীবন কোনো খরচ নেই।এটিই হলো নারির সম্পদের অধিকার। কিন্তু পরিতাপের বিষয়,সমাজের অনেকেই বোনকে ভাই, মেয়েকে বাবা চরমভাবে সম্পদ হতে মাহরুম করে থাকেন। মৃত্যুর পূর্বেই কাউকে বেশি লিখে দেয়া। অথবা পিতার মৃত্যুর পর বোনদের সাথে ভাইদের হুমকি-ধামকি আচরন।অথবা জমি প্রদানে গড়িমসি করে নিজ নামে করে নেয়ার অবৈধ ফিকির এমন অনেক ভাই সমাজে আছেন।যা জাহান্নামের পথ।জমি নির্বাচনে নিম্নমানের জমি বোনদের জন্য বরাদ্দ করা।জমি নিলে বোনদেরকে সম্পর্ক নষ্টের হুমকি দেয়া। যা একেবারেই জাহান্নামের কাজ। এ জাতিয় অপরাধের সাথে অনেক সচেতন মানুষও জড়িত, যা অকল্পনীয়।

**কিয়ামতে কেউ কারও বোঝা বহন করবেনা
لاتزر وازرة وزر اخری(কোরআন)
ভাই-বোন, বাবা-সন্তান,কিয়ামতের দিন পরস্পর পরস্পরের বিরোধি হয়ে যাবে হক(সম্পদ) নষ্টের কারনে, কারন প্রথম বিচার শুরু হবে হক নিয়ে।
اول مايقضی بين الناس يوم القيامة الدماء”
আসুন মৃত্যুর পূর্বের সর্বশেষ কাজটি( মিরাস /বন্টন) যেনো কোনো ক্রমেই ভূল না হয়।যদি কেউ কারও থেকে অতিরিক্ত নিয়ে থাকি তা,ভাই থেকে ভাই, বোন থেকে ভাই, বাবা হতে সন্তান, সন্তান হতে বাবা, জীবিত থাকতেই তা পরিশোধ করি।বুঝিয়ে দেই যার যার সকল পাওনা। কারন চোখে দেখা যায়না এমন বিষয়েরও বিচার হবে হাশর মাঠে(مثقال ذرة)।।হাদীসের দৃষ্টিতে,প্রতিটি মুহুর্তের জন্য বৈধ ওসিয়াত নামা প্রস্তুত রাখতে হয়।এমনকি ওসিয়তনামা বালিশের নীচে রাখতে হয়,যেনো সমাধানে কোনো সমস্যা না হয়। কারন এসব কারনে অনেকেই অনায়াসে জাহান্নামে যাবে, নামাজ,রোযা দিয়ে তা ঠেকাতে পারবেনা। কারন এ গুলো হক লংঘিত গুনাহ।মহান আল্লাহর আয়াতের বিরুদ্ধে সংগঠিত গুরুতর অপরাধ।কারন কিছু নফল বাদ দিলে রেহাই থাকলেও ফরয লংঘনে কোনো উপায় নেই। মহান আল্লাহ আমাদের প্রতিটি হুকুম মেনে চলার বিশেষত হক বা অধিকার সম্পর্কিত বিষয় মেনে চলার তৌফিক দান করুন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

শয়তানের ফেতনা ও ধোঁকা থেকে বাঁচার ছোট্ট আমল

শয়তানের সবচেয়ে পছন্দনীয় কাজ হলো মানুষের মাঝে ফেতনা সৃষ্টি করা। কুরআনের ভাষায় ফেতনা হত্যার চেয়েও জঘন্য অপরাধ। আর এ কাজেই শয়তান সবচেয়ে বেশি খুশি হয়। তাহলে শয়তানের বেশি খুশি হওয়া কাজ ‘ফেতনা’ থেকে বাঁচার উপায় কী?

ছোট্ট একটি আমল তাউজ। ছোট্ট এ আমলেই শয়তানের সব বড় বড় ক্ষতি ও ধোঁকা থেকে মুক্তির সুসংবাদ দিয়েছেন স্বয়ং বিশ্বনবি। তাহলো-
أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ
উচ্চারণ : ‘আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বানির রাঝিম’
অর্থ : ‘বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।’

আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমের ৯টি সুরার ৯ স্থানে ঘোষণা করেছেন- ‘আর শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য দুশমন।’ আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতকে সতর্ক করতে শয়তানের সবচেয়ে খুশি হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন হাদিসের বর্ণনায়। যাতে মানুষ শয়তানের এ জঘন্য আক্রমণ ও ধোঁকা থেকে বেঁচে থাকতে পারে। তাহলো-

হজরত জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘শয়তান পানির ওপর তার সিংহাসন স্থাপন করে, তারপর (সারা দুনিয়াব্যাপী) তার বাহিনী পাঠিয়ে দেয়। আর (ওই শয়তান) সবচেয়ে বেশি নৈকট্যপ্রাপ্ত, যে (মানুষের মাঝে) সবচেয়ে বেশি ফেতনা সৃষ্টি করে। শয়তান সিংহাসনে বসে সবার ঘটানো ফেতনার বর্ণনা শোনে।

একজন এসে বলে আমি অমুক কাজ করেছি, শয়তান বলে তুমি তেমন কোনো কাজ করনি। এভাবে শয়তান তার পাঠানো অন্যদের (শয়তানের) মন্দ কাজের বিবরণ শুনতে থাকে।
অতঃপর একজন এসে বলে- ‘আমি অমুকের সঙ্গে ধোঁকার আচরণ করেছি, এমনকি স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করেছি। এ (ফেতনার) কথা শুনে শয়তান তাকে তার কাছাকাছি (বুকে) টেনে নেয়। আর বলে তুমিই বড় কাজ করেছ। হাদিস বর্ণনাকারী আমাশ বলেন, আমার মনে হয় তিনি বলেছেন, অতপর শয়তান তাকে তার বুকের সঙ্গে জড়িয়ে নেয়।’ (মুসলিম)

শয়তানের সব ফেতনা ও ধোঁকা থেকে বাঁচার উপায়
শয়তানের সব ফেতনা ও ধোঁকা থেকে বাঁচার কার্যকরী আমল ও দোয়া রয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শয়তানের সব ফেতনা থেকে ‍মুক্ত থাকতে ছোট ছোট আমলের কথা বলেছেন। তাহলো-
> তাউজ
أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ
উচ্চারণ : ‘আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বানির রাঝিম’
অর্থ : ‘বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।’
নিয়ম : ফেতনা বা অন্যায়ের সঙ্কল্প মনে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তাউজ (আউজুবিল্লাহ…) পড়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে শয়তানের ফেতনা ও ধোঁকা থেকে আশ্রয় চাওয়া।

> সবসময় ইসতেগফার পড়া-
১. أَستَغْفِرُ اللهَ
উচ্চারণ : ‘আস্তাগফিরুল্লাহ।’
অর্থ : আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

নিয়ম : প্রতি ওয়াক্ত ফরজ নামাজের সালাম ফেরানোর পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ইসতেগফারটি ৩ বার পড়তেন।’ (মিশকাত)
২.- أَسْتَغْفِرُ اللهَ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ : ‘আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি।‘
অর্থ : আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর দিকেই ফিরে আসছি।

নিয়ম : এ ইসতেগফারটি প্রতিদিন ৭০/১০০ বার পড়া। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতিদিন ৭০ বারের অধিক তাওবাহ ও ইসতেগফার করতেন।’ (বুখারি)

৩. رَبِّ اغْفِرْ لِيْ وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ (أنْتَ) التَّوَّابُ الرَّحِيْمُ
উচ্চারণ : ‘রাব্বিগ্ ফিরলি ওয়া তুব আলাইয়্যা ইন্নাকা (আংতাত) তাওয়্যাবুর রাহিম।’
অর্থ : ‘হে আমার প্রভু! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তাওবাহ কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি মহান তাওবা কবুলকারী করুণাময়।’

নিয়ম : রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে বসে এক বৈঠকেই এই দোয়া ১০০ বার পড়েছেন।’ (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, মিশকাত)

৪. أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ : ‘আস্‌তাগফিরুল্লা হাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলায়হি।’
অর্থ : ‘আমি ওই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, যিনি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোনো মাবুদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী এবং তাঁর কাছেই (তাওবাহ করে) ফিরে আসি।’

নামাজের শেষ বৈঠকে নিয়মিত এ দোয়া পড়া-
হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবাদেরকে এই দোয়াটি এভাবে শেখাতেন, যেভাবে কুরআনের সুরা শেখাতেন। তিনি বলতেন-
اَللَّهُمَّ اِنِّىْ أعُوْذُبِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّم- وَأعُوْذُبِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ- وَ أَعُوْذُبِكَ مِن فِتْنَةِ الْمَسِيْحِ الدَّجَّالِ – وَ أَعُوْذُبِكَ مِن فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَ فِتْنَةِ الْمَمَاتِ – اَللَّهُمَّ اِنِّىْ أعُوْذُبِكَ مِنْ الْمَأْثَمِ وَ الْمَغْرَم
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন আজাবি ঝাহান্নাম। ওয়া আউজুবিকা মিন আজাবিল ক্ববর। ওয়া আউজুবিকা মিন ফিতনাতিল মাসীহিদ দাঝ্‌ঝাল। ওয়া আউজুবিকা মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামাত। আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল্ মাছামি ওয়া মিনাল মাগরাম।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে জাহান্নামের আজাব থেকে আশ্রয় চাই, কবরের আজাব হতে আশ্রয় চাই। আশ্রয় চাই দাজ্জালের ফিতনার পরীক্ষা থেকে। তোমার কাছে আশ্রয় চাই জীবন ও মৃত্যুর পরীক্ষা থেকে এবং তোমার কাছে আশ্রয় চাই পাপ ও ঋণের বোঝা থেকে।’ (বুখারি, মুসলিম, মিশকাত)

বিশেষ করে হজরত মুসা আলাইহিস সালামের বিখ্যাত ইসতেগফার পড়া। যা কুরআনুল কারিমে মহান আল্লাহ তুলে ধরেছেন-
رَبِّ إِنِّى ظَلَمْتُ نَفْسِى فَٱغْفِرْ لِى
উচ্চারণ : ‘রাব্বি ইন্নি জলামতু নাফসি ফাগফিরলি’ (সুরা কাসাস : আয়াত ১৬)
অর্থ : হে আমার রব! নিশ্চয় আমি আমার নফসের উপর জুলুম করেছি। সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।’

মনে রাখা জরুরি
দুনিয়া হলো আখেরাতের কর্মক্ষেত্র। শয়তানের প্রতারণা ও ধোঁকা অতিক্রম করে কে বেশি সফল? নেক আমল করায় কে উত্তম?- তা জানার জন্য আল্লাহ তাআলা মানুষকে দুনিয়ার এ পরীক্ষাগারে পাঠিয়েছেন। আর মানুষের পেছনে পেছনে শয়তানও এ মর্মে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে, সে মানুষ সর্বনাশ করেই ছাড়বে।

মহান আল্লাহ বান্দার প্রতি এতই দয়াশীল ও ক্ষমাকারী যে, বান্দা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে কিংবা তাওবাহ করলেই তিনি বান্দাকে ক্ষমা করে দেবেন। আল্লাহর দরবারে উত্তম আমলকারী হিসেবে বিবেচিত হবেন। কুরআনের ঘোষণায় তা প্রমাণিত-
‘যিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু ও জীবন; যাতে তোমাদের পরীক্ষা করে দেখতে পারেন, উত্তম আমল বা কর্ম সম্পাদনে কে উত্তম? আর তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।’ (সুরা মুলক : আয়াত ২)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে শয়তানের যাবতীয় ফেতনা থেকে হেফাজত করুন। হাদিসে বর্ণিত ঘটনা স্মরণ করে অন্যায় ও ফেতনার সম্মুখীন হলে বেশি তাউজ পড়ে শয়তানের আক্রমণ থেকে হেফাজত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

অজুর পর দুই রাকাআত নামাজ পড়ার ফজিলত

নামাজসহ অনেক ইবাদত-বন্দেগির জন্য অজু করা শর্ত। অজু ছাড়া অনেক ইবাদত করা মারাত্মক গোনাহ। বিশেষ করে নামাজের জন্য ৪টি ফরজ নির্দেশনা মেনে অজু করতে হয়। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অজুর পর দুই রাকাআত নামাজ পড়ার কথা বলেছেন। অজুর পর দুই রাকাআত নামাজ পড়ার মর্যাদা কী? এ নামাজ সম্পর্কে হাদিসের নির্দেশনাই বা কী?

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অজুর পর দুই রাকাআত নামাজ পড়ার বিশেষ ফজিলত বর্ণনা করেছেন। এ নামাজকি অজু করার সঙ্গে সঙ্গেই পড়তে হবে না বিলম্ব হলেও চলবে? অজুর পর এ নামাজ সম্পর্কে হাদিসের একাধিক বর্ণনা থেকে যা জানা যায়; তাহলো-

১. হজরত ওসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর মুক্ত করে দেওয়া গোলাম হজরত হুমরান রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, তিনি হজরত ওসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুকে দেখেছেন যে, ওসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু (অজুর জন্য) পানির পাত্র আনতে নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তিনি দুই কব্জির ওপর তিনবার পানি ঢেলে উভয়টি (হাত কব্জি পর্যন্ত) ধুয়ে নিলেন। তারপর তাঁর ডান হাত পাত্রের ভেতর প্রবেশ করিয়ে কুলি ও নাক পরিষ্কার করলেন। তারপর তাঁর মুখমণ্ডল তিনবার ধুয়ে নিলেন। দুই হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুয়ে নিলেন। তারপর মাথা মাসেহ করলেন। এরপর উভয় পা তিনবার ধুয়ে নিলেন। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

 مَنْ تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ لاَ يُحَدِّثُ فِيهِمَا نَفْسَهُ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ

যে ব্যাক্তি আমার মত অজু করে এমনভাবে দুই রাকাআত নামাজ আদায় করবে, সে যাতে মনে মনে ভিন্ন কোনও চিন্তা-ভাবনা না করবে; তার আগের সব গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (মুসলিম)

২. হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের নামাজের সময় বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন-

‏ يَا بِلاَلُ حَدِّثْنِي بِأَرْجَى عَمَلٍ عَمِلْتَهُ عِنْدَكَ فِي الإِسْلاَمِ مَنْفَعَةً فَإِنِّي سَمِعْتُ اللَّيْلَةَ خَشْفَ نَعْلَيْكَ بَيْنَ يَدَىَّ فِي الْجَنَّةِ

‘হে বেলাল! তুমি আমাকে বল, ইসলামের পর তুমি এমন কোনো আমল করেছ; যার উপকারের ব্যাপারে তুমি বেশি আশাবাদী? কেননা আজ রাতে (মেরাজের রাতে) আমি জান্নাতে আমার সামনে তোমার জুতার আওয়াজ শুনেছি। বর্ণনাকারী বলেন, বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন-

مَا عَمِلْتُ عَمَلاً فِي الإِسْلاَمِ أَرْجَى عِنْدِي مَنْفَعَةً مِنْ أَنِّي لاَ أَتَطَهَّرُ طُهُورًا تَامًّا فِي سَاعَةٍ مِنْ لَيْلٍ وَلاَ نَهَارٍ إِلاَّ صَلَّيْتُ بِذَلِكَ الطُّهُورِ مَا كَتَبَ اللَّهُ لِي أَنْ أُصَلِّيَ ‏

ইসলামের মধ্যে এর চেয়ে বেশি লাভের আশা আমি অন্য কোনো আমলে করতে পারি না যেআমি দিন-রাত যখনই পূর্ণ অজু করিতখনই আল্লাহ তাআলা আমার ভাগ্যে যতক্ষণ লিখেছেনততক্ষণ ওই অজু দিয়ে নামাজ আদায় করে থাকি।’ (মুসলিম)

প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসের আলোকে বুঝা যায়, অজুর পর ২ রাকাআত নামাজ পড়ার মর্যাদা ও ফজিলত অনেক বেশি। তবে হাদিস বিশারদ ও ইসলামিক স্কলারগণ এ ২ রাকাআত নামাজ পড়াকে মোস্তাহাব বলেছেন।

১. হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তাহিয়্যাতুল অজু সংক্রান্ত হাদিস উল্লেখ্য করার পর বলেন, ‘এই হাদিসে অজুর পরপরই দুই রাকাআত নামাজ আদায় করা মোস্তাহাব হওয়ার দলিল রয়েছে।’

২. ইমাম নববি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ‘একাধিক বিশুদ্ধ হাদিস থাকায় প্রমাণিত হয়, অজুর পরপরই দুই রাকাত নামাজ পড়া মোস্তাহাব।’ (আল মাজমু শারহিল মুহাযযাব)

৩. শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-

وَيُسْتَحَبُّ أَنْ يُصَلِّيَ رَكْعَتَيْنِ عَقِبَ الْوُضُوءِ وَلَوْ كَانَ وَقْتَ النَّهْيِ ، وَقَالَهُ الشَّافِعِيَّةُ ” انتهى . (الفتاوى الكبرى)

‘অজুর পরপরই দুই রাকাআত নামাজ পড়া মোস্তাহাব যদিও তা নিষিদ্ধ সময়ে হয়। শাফেয়ীগণও এমনটি বলেছেন।’ (আল ফাতাওয়া আল কুবরা)

৪. আল্লামা জাকারিয়া আল আনসারি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ‘যে ব্যক্তি অজু করবে তার জন্য অজুর পরপরই দুই রাকাআত নামাজ পড়া মোস্তাহাব; তা যে কোনও সময় হোক না কেন।’ (আসনাল মাতালিব)

৫. হজরত তানাজি শাফেঈ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ‘এই হাদিস থেকে অজু শেষ করার পর এবং দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান ও অমনোযোগী (অন্য কাজে ব্যস্ত) হওয়ার আগে অজুর দুই রাকাআত সুন্নাত নামাজ পড়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।’ (নেহায়তুয যায়ন)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, অজু করার পর মসজিদে প্রবেশ করে (দুখুলুল মসজিদ/তাহিয়াতুল মসজিদের) দুই রাকাআত নামাজের নিয়ত করলে আল্লাহ তাআলা উভয় নামাজের সাওয়াব দান করবেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে অজু করার পর দুই রাকাআত নামাজ পড়ে হাদিসে ঘোষিত ফজিলত পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com