আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

মিষ্টি কুমড়া চাষ করবেন যেভাবে

মিষ্টি কুমড়া চাষ করবেন যেভাবে
মিষ্টি কুমড়া চাষ করবেন যেভাবে

মিষ্টি কুমড়ার বীজ এক প্রকার আরোহী লতা জাতীয় গাছ। এর পাতাগুলো বড় এবং পাতা ও কাণ্ডে সাদা কোমল লোমাবৃত। ফল বড় গোলাকার এবং সাধারণত কমলা রঙের হয়ে থাকে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এটা সবজি হিসেবে চাষ করা হয়। আমাদের দেশে চাষযোগ্য জমিতে ও বাড়ির আঙিনায় মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়। শুধু সবজি হিসেবে নয় মিষ্টি কুমড়া ও বীজে রয়েছে প্রচুর পুষ্টি ও ওষুধি গুণ। সামান্য ভাজা অবস্থায় মিষ্টি কুমড়ার বীজ বাদামের মতো সামান্য মিষ্টি স্বাদযুক্ত নমনীয় ও চর্বনযোগ্য খাদ্য।

মিষ্টি কুমড়ার কাণ্ড: মিষ্টি কুমড়া এক ধরনের কোমল কাণ্ডবিশিষ্ট বর্ষজীবী লতানো উদ্ভিদ। কাণ্ড দৃঢ়, হালকা সবুজ, অগভীর খাদবিশিষ্ট এবং তীক্ষ্ম কোমল লোমে আবৃত। গাছের গোড়ার দিকে আইক থেকে কয়েকটি প্রধান শাখা বের হয়। এগুলো ক্রমশ প্রশাখায় বিভক্ত হয়। আমাদের দেশে কচি শাখা-প্রশাখাগুলো পুষ্টিসমৃদ্ধ সবজি হিসেবে খেয়ে থাকে। এখানে উল্লেখ্য যে, শাখা কেটে দিলে কাটাস্থলের কাছ থেকে আবার প্রশাখা বের হয়।

মিষ্টি কুমড়ার ফুল: মিষ্টি কুমড়া এক ধরনের একবাসী জাত। অর্থাৎ একই গাছে পুরুষ ও স্ত্রী ফুল আলাদাভাবে উৎপন্ন হয়। উভয় ধরনের ফুল সবসময় একাকী এবং ভিন্ন পত্রকক্ষে উৎপন্ন হয়। ফুল ভোরবেলা প্রস্ফুটিত হয়। স্ত্রী ফুলের তুলনায় পুরুষ ফুল বেশি হয়। কুমড়ার জাত ও পরিবেশ ভেদে কম-বেশি হয়ে থাকে। কুমড়ার ফুল হলুদ রঙের, আকারে বৃহৎ। ফুলে ৫টি করে বৃত্তাংশ ও পাঁপড়ি থাকে। পুরুষ ফুলে তিনটি পুংকেশর থাকে। স্ত্রী ফুল থেকেই ফলের উৎপত্তি। পুরুষ ফুল সবজি হিসেবে এবং ভাজি হিসেবে খাওয়া যায়।

মিষ্টি কুমড়া চাষ করবেন যেভাবে
মিষ্টি কুমড়া চাষ করবেন যেভাবে

জলবায়ু ও মাটি: কুমড়ার জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু প্রয়োজন। তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে চলে গেলে গাছের দৈহিক বৃদ্ধির হার কমে যায়।

জমি তৈরি ও বীজ বপন: পারিবারিক বাগানে কুমড়ার চাষ করতে হলে সুবিধাজনক স্থানে দু’একটি মাদায় বীজ বুনে গাছ মাচা, ঘরের চাল কিংবা কোন গাছের উপর তুলে দেয়া যেতে পারে। বাণ্যিজিক চাষের ক্ষেত্রে প্রথম ভালোভাবে জমি ৫-১০ সেমি করে কয়েকবার ক্রস চাষ দিয়ে মই দ্বারা সমান করতে হবে। তারপর ১৫-২০ সেমি উঁচু এবং ২.৫ মি বাই ৮মি প্লট তৈরি করে নিতে হবে। প্রতিটি প্লটে ২ মিটার পর পর ৪৫ বাই ৪৫ বাই ৪০ সেমি আকারের পিট তাতে বীজ বপন করতে হবে। এখানে উল্লেখ্য যে, প্রতিটি প্লটের মাঝে পানি নিষ্কাশনের জন্য সরু নালী এবং জমির চারপাশে অপেক্ষাকৃত মোটা নালী তৈরি করে রাখতে হবে। যাতে প্রয়োজনে পানি নিষ্কাশন করা যায়।

সার ব্যবহার: ভালো ফলন পেতে মাটির উর্বরতার উপর ভিত্তি করে জমিতে বিভিন্ন সার ব্যবহার করা দরকার। এক্ষেত্রে মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। আমাদের দেশের পেক্ষাপটে প্রতিটি পিটে সার ব্যবহার করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। বীজ বপনের প্রায় ১০-১৫ দিন আগে প্রতিটি প্লটে ১০-১৫ কেজি গোবর সার এবং প্রতিটি পিটে ৫০ গ্রাম টিএসপি, ৪০ গ্রাম এমপি, ৪০ গ্রাম জিপসাম মাটির সাথে ভালোভাবে মিশ্রিত করে পিট তৈরি করলে ভালো হয়। বীজ অঙ্কুরিত হলে ১৫-২০ দিন পর প্রতিটি পিটে ২০ গ্রাম ইউরিয়া সার মাটিতে মিশিয়ে দিতে হবে।

মিষ্টি কুমড়া চাষ করবেন যেভাবে
মিষ্টি কুমড়া চাষ করবেন যেভাবে

সেচ প্রদান: কুমড়া গাছের বৃদ্ধি, ফুল ও ফল ধারনের জন্য মাটিতে রস থাকার প্রয়োজন। শুষ্ক আবহাওয়া থাকলে ৫-৬ দিন পর পর হালকা সেচ দিতে হবে। তবে ফল তোলার তিন সপ্তাহ আগেই সেচ দেওয়া বন্ধ করে দিতে হবে। অপরদিকে বর্ষা বা বৃষ্টির পানি যাতে বেশি দিন গাছের গোড়ায় জমে না থাকে।

ফসল সংগ্রহ: বীজ বপণের দু’মাসের মধ্যে কুমড়ার গাছ ফল ধরতে শুরু করে এবং রোগাক্রান্ত না হলে আড়াই মাস ব্যাপি ফল দিয়ে থাকে। পরাগায়নের ১০-১৫ দিনের মধ্যে ফল সবজি হিসেবে খাওয়ার উপযোগী হয়। কুমড়ার ফল সংগ্রহের সুনির্দিষ্ট কোন পর্যায় নেই। ব্যবহারের উদ্দেশ্য অনুযায়ী অপক্ক ও পরিপক্ক ফল পাড়া হয়। ফল যত বেশি পাড়া হয় ফলন তত বেশি হয়। সবজি হিসেবে ব্যবহার করতে হলে ওজন আধা কেজি হলেও ফল পাড়া যায়। ফল পরিপক্ক হলে হালকা হলুদ রং ধারণ করে। ফল পাকাতে চাইলে শেষের দিকে গাছে দিতে হবে। ফল পাকালে হেক্টর প্রতি ফলন কমে যায়। তবে সবজি হিসেবে ফল সংগ্রহ করলে হেক্টর প্রতি ২০ টন ফলন পাওয়া যায়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

এগ্রোবিজ

পেঁয়াজ-চিনি আমদানিতে শুল্ক কমল

বাজারে পেঁয়াজ ও চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে শুল্ক কমিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। পেঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। চিনির নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক (আরডি) ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠির পর এ শুল্ক কমান হলো। 

বৃহস্পতিবার এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের স্বাক্ষর করা এ সংক্রান্ত দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।


বাজারে পেঁয়াজ ও চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে শুল্ক কমিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। পেঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। চিনির নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক (আরডি) ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠির পর এ শুল্ক কমানো হলো। 

বৃহস্পতিবার এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের স্বাক্ষর করা এ সংক্রান্ত দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

চিনির নতুন শুল্কহার কার্যকর থাকবে আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। পেঁয়াজের নতুন শুল্কহার কার্যকর থাকবে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

এর আগে গত ১১ অক্টোবর পেঁয়াজের শুল্ক প্রত্যাহার, অপরিশোধিত সয়াবিন তেল, পাম তেল ও চিনির শুল্ক কমাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে অনুরোধ জানায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

‘করোনাভাইরাস সংকট সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতি বিস্ময়কর গতিতে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে’

এই গতি এখন আরও বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান

ভয়াবহ করোনাভাইরাস পরিস্থিতি জয় করেই বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত গতিতে তার ছন্দে ফিরে আসছে। বিশ্ব মোড়লরা সহজে টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে না পারায় অর্থনেতিক পুনরুদ্ধারের এই প্রক্রিয়া আরও গতি অর্জন করে উঠতে পারেনি। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশের মাথা পিছু আয়ের প্রবৃদ্ধি গতো দু’বছরে এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল। এই গতি এখন আরও বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান।

গতিময় আধুনিক কৃষি, প্রবাসী আয় এবং রপ্তানির ওপর ভর করেই বাংলাদেশের অর্থনীতি এই শক্তিমত্তা দেখাচ্ছে বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।

শনিবার (৯ অক্টোবর) বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি) আয়োজিত “কোভিড পরবর্তী কৃষির ভূমিকা” বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন করার সময় প্রধান অতিথি হিসেবে এসব কথা বলেন তিনি।

 তিনি আরও বলেন, “গত পাঁচ বছর ধরেই মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির বিচারে এশিয়ার সবচেয়ে গতিময় দেশটির নাম বাংলাদেশ।করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় বেড়েছে ৭.৮%। চীনে এই বৃদ্ধির হার ৬.৯%, ভারতে ৩.১% এবং ভিয়েতনামে ৪%।”

কৃষির অসামান্য সমর্থন ছাড়াও রপ্তানি ও প্রবাসী আয় ধারাবাহিকভাবে বাড়ার কারণে প্রচুর টাকা গ্রামে যাচ্ছে। তাই গ্রামের অর্থনীতিতে ভোগ বেড়ে চলেছে। গ্রামে কৃষি মজুরিও বাড়ন্ত। আর সেখানে মোট আয়ের ৬০%আসছে কৃষি সংশ্লিষ্ট অকৃষি খাত থেকে। গ্রামের অর্থনীতি আধুনিক ও বহুমুখি হবার পেছনে এই অকৃষি আয়ের ভূমিকা অসামান্য বলেও জানান তিনি ।

বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় বাড়ার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে গ্রামের মানুষের এই বাড়ন্ত ভোগ প্রবণতা। তবে করোনাভাইরাস না এলে  গ্রামে বিনিয়োগ আরও বাড়ত। 

আর্থিক খাতের ডিজিটাল রূপান্তর, বিশেষ করে মোবাইল ভিত্তিক আর্থিক সেবা, বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনীতির এই গতিময়তাকে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি সমর্থন জুগিয়েছে।

বিশ্ব ব্যাংকের বরাত দিয়ে তিনি জানান, এ অর্থবছরে আমাদের প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৪%। কয়েক মাস আগেও এর চেয়ে ঢের কম বলেছিল। এডিবি বলেছে, আমাদের প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৮%। স্টান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংক কয়েকদিন আগে বলেছে এই হার হবে ৭.২%।

অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান বলেন, “আমি মনে করি প্রবৃদ্ধির হার সাত শতাংশের বেশিই হবে।এই প্রবৃদ্ধি যেন অন্তর্ভুক্তিমূলক হয় সেজন্য কৃষি, এমএসএমই এবং সবুজ উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়ক হয় সেদিকে খেয়াল রাখা বেশ জরুরি।”

চলতি অর্থ বছরে প্রবৃদ্ধি সাত শতাংশের বেশি হবে আশাবাদ জানিয়ে ড. রহমান বলেন, “ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগ যাতে আরও বাড়ে সেদিকে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বাড়তি মনোযোগ দিতে হবে। এক কোটি তিরিশ লক্ষ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের যে সমর্থন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দিয়েছিলেন তার ইতিবাচক প্রভাব আমাদের অর্থনীতিতে পড়েছে।”

তবে সামাজিক পাটাতনের নীচের দিকের মানুষগুলোর কাছে সরকার সামাজিক সুরক্ষা দিলেও এদিকে আরও সমর্থনের প্রয়োজন রয়েছে। নতুন করে প্রণোদনার রোডম্যাপ গ্রহণ করার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

রাজশাহীর স্থানীয় বাজারে সবজির সমারোহ

রাজশাহীর পবা মোহনপুর উপজেলার এলাকাগুলোতে সব ধরনের সবজির ফলন ভালো হয়েছে। আজ উপজেলার বিধিরপুর হাট বারে উঠেছে বিভিন্ন ধরনের সবজি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে সকল প্রকার আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। 

বুধবার (২০ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানি গ্রুপের সভাপতি হারুন-উর রশিদ। 

হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানি গ্রুপের সভাপতি হারুন-উর রশিদ জানান, সরকারি নির্দেশনায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আজ হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম যথারীতি চালু হবে। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

জ্বালানিসহ নিত্যপণ্যের দামে আগুন

বিশ্বব্যাপী পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি হারে বেড়েছে জ্বালানিসহ নিত্যপণ্যের দাম। গত বছরের তুলনায় জ্বালানির দাম গড়ে ৮০ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে খাদ্যপণ্যের দাম গড়ে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল। এখন কিছুটা কমে এলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে। বিশ্বব্যাংকের ‘কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ত্রৈ-মাসিক প্রতিবেদনটি বৃহস্পতিবার প্রকাশ করে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর ব্যারেলপ্রতি অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দর গড়ে ৭০ ডলার থাকলেও আগামী বছর গড়ে ৭৪ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। আগামী বছর নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল হয়ে আসবে বলে প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ আয়হান কোস বলেন, জ্বালানির এই দাম বৃদ্ধির ফলে শিগিগরই বিশ্বে মূল্যস্ফীতির উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি তৈরি হবে। যদি দাম বাড়তেই থাকে সে ক্ষেত্রে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে চাপ বাড়বে। করোনার কারণে নিত্যপণ্যের দাম যে হারে কমেছিল এখন সেটি খুব দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। দ্রব্যমূল্য অস্থিতিশীল থাকলে দেশগুলোর নীতি নির্ধারণে চাপ বাড়বে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছর কিছু নিত্যপণ্যের দাম ২০১১ সালের তুলনায় বেশি লক্ষ করা গেছে। উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় প্রাকৃতিক গ্যাস এবং কয়লার দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। তাছাড়া বিদ্যুতের চাহিদা এখন করোনার আগের পর্যায়ে ফিরেছে, তাই জ্বালানির চাহিদাও বেড়েছে। আগামী বছর অর্থাৎ ২০২২ সালে চাহিদা স্বাভাবিক হলে দাম স্থিতিশীল হয়ে আসবে। তবে প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত কমে আসা এবং সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে জ্বালানির দাম আরও বেড়ে যেতে পারে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দর (ব্রেন্ট, ডব্লিউটিআই এবং দুবাই) এ বছর গড়ে ৭০ ডলার (প্রায় ৬ হাজার টাকা) পর্যন্ত থাকতে পারে। আগামী বছর এই দাম গড়ে ৭৪ ডলার (প্রায় ছয় হাজার ৩০০ টাকা) থাকতে পারে। উল্লেখ্য, করোনার প্রকোপ শুরুর পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম তরতর করে নামতে থাকে। চাহিদা না থাকায় এক পর্যায়ে ঋণাত্মক পর্যন্ত হয়ে যায়। গত বছর গড়ে যে দামে বিক্রি হয় এ বছর সেটি ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ফিরে এসেছে।

বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জন বাফেস বলেন, জ্বালানির উচ্চমূল্য মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ায়। তা ছাড়া জ্বালানির দাম বাড়লে সার উৎপাদনের খরচও বেড়ে যায়। ফলে ফসল উৎপাদনে খরচও বাড়ে। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতোমধ্যে এলুমিনিয়াম এবং জিংকের উৎপাদন কমে গেছে। প্রতিবেদনে কৃষিপণ্যের বাজার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এ বছরের শুরুর দিকে বিশ্ববাজারে আগের বছরের তুলনায় দাম বেড়েছে প্রায় ৩০ ভাগ। করোনার প্রকোপে গত বছর একেবারেই কমে গিয়েছিল নিত্যপণ্যের দাম। গত দুই প্রান্তিকে মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে কৃষিপণ্যের বাজার। এখন স্থিতিশীল থাকলেও কৃষিপণ্যের দাম গত বছরের চেয়ে গড়ে ২৫ শতাংশ বেশি রয়েছে। করোনার আগের অবস্থায় ফিরে আসছে কৃষিপণ্যের বাজার। আট বছরের মধ্যে এখন খাদ্য মূল্যসূচক সবচেয়ে বেশি। ভুট্টার দাম অতি সম্প্রতি কিছুটা কম হলেও গত বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ দাম বেড়েছে। গত মে মাসে প্রতি মেট্রিক টন ভুট্টা ৩০০ ডলার পর্যন্ত চড়েছিল। মূলত উৎপাদন কম হওয়া, পশুখাদ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ভুট্টার দর বেড়েছিল। এখন সেপ্টেম্বরে ২৩০ ডলারে নেমে এসেছে ভুট্টার দর। সরবরাহ সংকটে চালের দাম এ বছরের শুরুর দিকে সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়ে গিয়েছিল। গত ত্রৈ-মাসিক হিসাবে এটি ১৮ শতাংশ কমে এসেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে গড়ে প্রতি মেট্রিক টন চাল এখন ৪০৬ ডলারে নেমেছে।

ভোজ্যতেলের দাম কিছুটা কমে এলেও এখনো গত বছরের চেয়ে ৪০ শতাংশ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে পাম ও সয়াবিন তেলের দাম গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। মূলত দক্ষিণ আমেরিকার সয়াবিন ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে পাম উৎপাদন কমে যাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছিল। তা ছাড়া চীন সয়াবিনের আমদানি বাড়িয়েছে ব্যাপক হারে। পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com