আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

মিলন মিয়া এখন নিজেই চাকরি দেন

* বেকার থেকে উদ্যোক্তা
* চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরেছিলেন, কিন্তু পাননি
* এখন গরু ও সমন্বিত কৃষি খামার করে ভাগ্য বদলে গেছে তাঁর

স্নাতকোত্তর পাস করার পর একটি চাকরি পাওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করেছিলেন। চাকরির জন্য অসংখ্য মানুষের কাছে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর আর চাকরি হয়নি। এতে হতাশ হননি। আয়ের পথ খুঁজতে থাকেন। অবশেষে পেয়েও যান। প্রথমে প্রশিক্ষণ নিয়ে গরুর খামার গড়ে তোলেন। পরে সমন্বিত কৃষি খাবার। এতে ভাগ্য বদলে গেছে তাঁর। তিনি এখন আর চাকরি খোঁজেন না; বরং বেকারদের চাকরি দেন।

এই পরিশ্রমী ও সাহসী ব্যক্তির নাম মিলন মিয়া। বয়স ৪০ পেরিয়েছে অনেক আগেই। বাড়ি রংপুরের পীরগাছা উপজেলার অনদানগর গ্রামে। দুই খামার থেকে মাসে তিনি সব খরচ বাদ দিয়ে ৫০ হাজার টাকা আয় করেন। নিজ বাড়ি পীরগাছায় হলেও তিনি খামারগুলো গড়ে তুলেছেন গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুরুটা একদমই ভালো ছিল না। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজকের এই শক্তিশালী অবস্থানে এসেছেন মিলন মিয়া। ২০০৫ সালে নিজ বাড়ি পীরগাছা উপজেলার অনদানগর গ্রামে গাভি পালন শুরু করেন। ছোট্ট আকারে গাভির খামার গড়ে তোলেন। কিন্তু মূলধনের অভাবে কয়েক বছর পর সেই খামার বন্ধ হয়ে যায়। পরে মামা গোলাম রব্বানীর সহায়তায় পুনরায় গাইবান্ধার উত্তর হাটবামুনি গ্রামে গরুর খামার দেন তিনি।

সম্প্রতি মিলন মিয়ার সঙ্গে তাঁর খামার শুরু করার বিষয়ে কথা হয়। তিনি তাঁর ব্যবসা শুরুর গল্পটা বললেন এভাবে: সাদুল্যাপুর উপজেলার কামারপাড়া ইউনিয়নের অন্তর্গত উত্তর হাটবামুনি গ্রাম। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাস। প্রথমে ছয়টি ফ্রিজিয়ান জাতের গাভি দিয়ে খামার শুরু করা হয়। খামারের জন্য উত্তর হাটবামুনি গ্রামে নয় বিঘা জমি বেছে নেন। এর মধ্যে প্রায় দুই বিঘায় গাভির শেড নির্মাণ করেন। খামারের নাম দেন ডিজনি ডেইরি ফার্ম। প্রথমে ছয়টি গাভি দিয়ে শুরু।

এই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তাঁর ব্যবসার খুঁটিনাটি সম্পর্কে জানালেন, বর্তমানে তাঁর ১৩টি গাভি ও ৯টি বাছুর রয়েছে। এর মধ্যে ৯টি গাভি দুধ দেয়। দৈনিক ১১২ লিটার দুধ উৎপাদন হয়। স্থানীয় বাজারে প্রতি লিটার দুধ ৩৮ টাকা। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে ৪ হাজার ৫০০ টাকার দুধ বিক্রি করেন। দৈনিক গাভির খাদ্য ও মজুরির জন্য ৩ হাজার ৬০০ টাকা ব্যয় হয়। দৈনিক দুধ বিক্রি করে আয় ৯০০ টাকা। মাসিক ২৭ হাজার টাকা আয় হচ্ছে। দৈনিক উৎপাদিত দুধের অর্ধেক স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়। অর্ধেক বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের ডেইরি প্রকল্প আড়ং দুধ নিয়ে যায়। এ ছাড়া প্রতিবছর একটি করে বাছুর বিক্রি করা হয়। এ থেকে বার্ষিক ৪০-৫০ হাজার টাকা আয় হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, খামারের গোবর থেকে উৎপাদন করা হচ্ছে বায়োগ্যাস। এই বায়োগ্যাস দিয়ে খামারের শ্রমিকসহ আশপাশের কয়েকটি বাড়িতে দৈনিক রান্নার কাজ হচ্ছে। বায়োগ্যাসের উচ্ছিষ্ট অংশ দিয়ে জৈব সার তৈরি হচ্ছে। এসব জৈব সার নিজের কৃষিজমিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত জৈব সার বিক্রি করে বেশ আয় হচ্ছে। এ ছাড়া তিনজন শ্রমিক খামারে চাকরি করছেন। এতে তাঁদের কর্মসংস্থান হয়েছে।

আয়ের বিভিন্ন উৎস সৃষ্টির বিষয়ে মিলন মিয়া বলেন, সমন্বিত খামারে শুধু দুধ ও বাছুর থেকেই আয় হচ্ছে না। গাভির খাবারের জন্য খামারে প্রায় তিন বিঘা জমিতে নেপিয়ার ঘাস চাষ করা হয়েছে। ঘাস বিক্রি করেও আয় হচ্ছে। এ ছাড়া খামারের এক বিঘায় পেঁপে, এক বিঘায় মিষ্টিকুমড়া ও দুই বিঘায় লিচু ও আমবাগান করা হয়েছে। আমের মুকুল এসেছে। এবার আম বিক্রি করেও তাঁর অনেক টাকা আয় হবে। খামারের নেপিয়ার ঘাস, পেঁপে, মিষ্টিকুমড়া ও জৈব সার বিক্রি করেও মাসিক ১২ হাজার টাকা আয় হচ্ছে।

মিলন মিয়ার সমন্বিত কৃষি খামারের তদারকি করছেন কামারপাড়া ইউনিয়নের উত্তর হাটবামুনি ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহজাহান মিয়া। তিনি বলেন, সমন্বিত কৃষি খামার প্রতিষ্ঠায় মিলন মিয়াকে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। প্রতিদিন তাঁকে নতুন নতুন জাত ও প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা এবং বাস্তবায়ন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বেকার যুবকদের চাকরির পেছনে না ঘুরে উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মিলন মিয়া বলেন, ‘২০০১ সালে রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর পাস করেছি। দেশের সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়েও চাকরি পাইনি। কিন্তু আমি হতাশ হইনি। চাকরির পেছনে না ঘুরে পরিশ্রম করে এ অবস্থায় এসেছি।’ ভবিষ্যতে কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে বড় আকারে সমন্বিত কৃষি খামার গড়ে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি।

মিলনের মামা গোলাম রব্বানী বলেন, ‘চাকরি ছাড়াও নিজের প্রচেষ্টায় সমন্বিত খামার স্থাপন করে স্বাবলম্বী হওয়া যায়, তার প্রমাণ মিলন মিয়া। তাই তাঁকে সার্বিক সহযোগিতা দিচ্ছি।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

এগ্রোবিজ

জ্বালানিসহ নিত্যপণ্যের দামে আগুন

বিশ্বব্যাপী পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি হারে বেড়েছে জ্বালানিসহ নিত্যপণ্যের দাম। গত বছরের তুলনায় জ্বালানির দাম গড়ে ৮০ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে খাদ্যপণ্যের দাম গড়ে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল। এখন কিছুটা কমে এলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে। বিশ্বব্যাংকের ‘কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ত্রৈ-মাসিক প্রতিবেদনটি বৃহস্পতিবার প্রকাশ করে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর ব্যারেলপ্রতি অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দর গড়ে ৭০ ডলার থাকলেও আগামী বছর গড়ে ৭৪ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। আগামী বছর নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল হয়ে আসবে বলে প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ আয়হান কোস বলেন, জ্বালানির এই দাম বৃদ্ধির ফলে শিগিগরই বিশ্বে মূল্যস্ফীতির উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি তৈরি হবে। যদি দাম বাড়তেই থাকে সে ক্ষেত্রে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে চাপ বাড়বে। করোনার কারণে নিত্যপণ্যের দাম যে হারে কমেছিল এখন সেটি খুব দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। দ্রব্যমূল্য অস্থিতিশীল থাকলে দেশগুলোর নীতি নির্ধারণে চাপ বাড়বে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছর কিছু নিত্যপণ্যের দাম ২০১১ সালের তুলনায় বেশি লক্ষ করা গেছে। উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় প্রাকৃতিক গ্যাস এবং কয়লার দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। তাছাড়া বিদ্যুতের চাহিদা এখন করোনার আগের পর্যায়ে ফিরেছে, তাই জ্বালানির চাহিদাও বেড়েছে। আগামী বছর অর্থাৎ ২০২২ সালে চাহিদা স্বাভাবিক হলে দাম স্থিতিশীল হয়ে আসবে। তবে প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত কমে আসা এবং সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে জ্বালানির দাম আরও বেড়ে যেতে পারে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দর (ব্রেন্ট, ডব্লিউটিআই এবং দুবাই) এ বছর গড়ে ৭০ ডলার (প্রায় ৬ হাজার টাকা) পর্যন্ত থাকতে পারে। আগামী বছর এই দাম গড়ে ৭৪ ডলার (প্রায় ছয় হাজার ৩০০ টাকা) থাকতে পারে। উল্লেখ্য, করোনার প্রকোপ শুরুর পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম তরতর করে নামতে থাকে। চাহিদা না থাকায় এক পর্যায়ে ঋণাত্মক পর্যন্ত হয়ে যায়। গত বছর গড়ে যে দামে বিক্রি হয় এ বছর সেটি ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ফিরে এসেছে।

বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জন বাফেস বলেন, জ্বালানির উচ্চমূল্য মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ায়। তা ছাড়া জ্বালানির দাম বাড়লে সার উৎপাদনের খরচও বেড়ে যায়। ফলে ফসল উৎপাদনে খরচও বাড়ে। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতোমধ্যে এলুমিনিয়াম এবং জিংকের উৎপাদন কমে গেছে। প্রতিবেদনে কৃষিপণ্যের বাজার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এ বছরের শুরুর দিকে বিশ্ববাজারে আগের বছরের তুলনায় দাম বেড়েছে প্রায় ৩০ ভাগ। করোনার প্রকোপে গত বছর একেবারেই কমে গিয়েছিল নিত্যপণ্যের দাম। গত দুই প্রান্তিকে মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে কৃষিপণ্যের বাজার। এখন স্থিতিশীল থাকলেও কৃষিপণ্যের দাম গত বছরের চেয়ে গড়ে ২৫ শতাংশ বেশি রয়েছে। করোনার আগের অবস্থায় ফিরে আসছে কৃষিপণ্যের বাজার। আট বছরের মধ্যে এখন খাদ্য মূল্যসূচক সবচেয়ে বেশি। ভুট্টার দাম অতি সম্প্রতি কিছুটা কম হলেও গত বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ দাম বেড়েছে। গত মে মাসে প্রতি মেট্রিক টন ভুট্টা ৩০০ ডলার পর্যন্ত চড়েছিল। মূলত উৎপাদন কম হওয়া, পশুখাদ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ভুট্টার দর বেড়েছিল। এখন সেপ্টেম্বরে ২৩০ ডলারে নেমে এসেছে ভুট্টার দর। সরবরাহ সংকটে চালের দাম এ বছরের শুরুর দিকে সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়ে গিয়েছিল। গত ত্রৈ-মাসিক হিসাবে এটি ১৮ শতাংশ কমে এসেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে গড়ে প্রতি মেট্রিক টন চাল এখন ৪০৬ ডলারে নেমেছে।

ভোজ্যতেলের দাম কিছুটা কমে এলেও এখনো গত বছরের চেয়ে ৪০ শতাংশ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে পাম ও সয়াবিন তেলের দাম গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। মূলত দক্ষিণ আমেরিকার সয়াবিন ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে পাম উৎপাদন কমে যাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছিল। তা ছাড়া চীন সয়াবিনের আমদানি বাড়িয়েছে ব্যাপক হারে। পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

বাম্পার ফলনেও দামে হতাশ প্রান্তিক পান চাষিরা!

বরগুনার আমতলীতে পানের বাম্পার ফলনেও হাসি নেই প্রান্তিক চাষিদের। ভরা মৌসুমেও পানের দাম না পেয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। পানের ব্যাপক আমদানি হলেও পর্যাপ্ত বিক্রি না হওয়ায় পান চালান নিয়েও বিপাকে পড়েছে চাষিরা। ফলে তারা চরমভাবে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। অথচ গ্রাম থেকে যাওয়া এ পান নগরীতে এখনো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। এ জন্যই আমতলীর হাট-বাজারে পানির দামে পান বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আমতলী উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে প্রায় দেড় হাজারের বেশি পান চাষি রয়েছে। শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি, অতিরিক্ত দামে খৈল ও বাঁশের শলা ক্রয়সহ প্রয়োজনীয় উপকরণের বাজার ঊর্ধ্বমুখী হওয়া সত্ত্বেও উপজেলার হাট- বাজারগুলোতে পানির দামে পান বিক্রি করতে হচ্ছে। বর্তমানে ১০০০ টাকা ১ পাই (২৪ চল্লি) মূল্যের পান এখন ১০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।

প্রান্তিক কৃষকরা জানায় করোনায় পরিবহন সংকটের সুযোগে সিন্ডিকেট করে পাইকাররা পানের দাম কমিয়ে দিয়েছেন। আর পাইকাররা বলছেন বর্তমানে বাজারে পানের চাহিদা আগের তুলনায় অনেক কম। এ কারনে পানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ চাষিরা। গ্রামীণ জনপদের খেটে খাওয়া ওই মানুষগুলো বিশ্বাস করে সরকার যদি ওই সিন্ডিকেট ভেঙে পান চাষিদের সহয়তা করে তাহলে জীবিকার তাগিতে আবারও প্রান্তিক চাষিরা ঘুরে দাঁড়াবে।

কুকুয়া ও চাওড়া  ইউনিয়নের পানচাষি বাদল দফাদার ও রহিম ব্যাপারি বলেন, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ভরা মৌসুমেও চাষিরা পানের ন্যায্য মূল্য পায়নি। পানের দাম না বাড়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন প্রান্তিক চাষিরা। এবছর পান বিক্রি করে লাভ তো দূরের কথা, পান চাষের খরচ ওঠে কি না সন্দেহ আছে। অনেক চাষি লোকসানের মুখে পড়বেন। যে পান বাজারে ১০০০ টাকা ১ পাই (২৪ চল্লি) মূল্যের পান এখন ১০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছেু। এতে দিনমজুরি দিতেও তাদের হিমসিম খেতে হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিএম রেজাউল করিম মুঠোফোনে বলেন, আমাদের চেষ্টা থাকে যাতে পানের ফলনে কোনো সমস্যা না হয়। পানের চাহিদা সারা দেশেই রয়েছে। বাম্পার ফলন হলেও গত বছরের তুলনায় এবছর পানের দাম খুবই কম। এখান থেকে যদি অন্যত্র পান রপ্তানি করা যায় তাহলে পান চাষিরা বেশি মূল্য পেতো।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

অস্থির পেঁয়াজের বাজার, কমেছে চাল-সবজির দাম

শাহীন খন্দকার: [২] বাজারে বেড়েই চলেছে পেঁয়াজের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। ফলে ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যের বাজার। পেঁয়াজের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন ক্রেতারা। ভারত থেকে বাড়তি দামে পেঁয়াজ আনা এবং চাহিদার তুলনায় কম আমদানির কারণে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে।

[৩] মোহম্মদপুর কৃষিবাজারের আমদানিকারক সলিম উল্লাহ বলেন, বন্দর থেকে খুচরা পর্যায়ে চার হাত বদল ও ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফা লাভের চেষ্টাও দাম বাড়ার কারণ। সেই সঙ্গে বাজারে দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ কম থাকায় আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম বাড়ছে বলে দাবি করেন অন্যান্য আমদানিকারকদের।

[৪] রাজধানীর মোহম্মদপুর কৃষিবাজার, টাউনহল বাজার ও কারওয়ানবাজার ঘুরে এসব চিত্র উঠে এসেছে। বাজারে বেশিরভাগ সবজির দাম কমেছে। এসব বাজারে প্রতি কেজি শীতের পাতা কপি ও ফুল কপি ছোট সাইজের প্রতি পিস ৫০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, ইন্ডিয়ান টমেটো ১৪০ থেকে ১৭০ টাকা, সিম ৮০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, চাল কুমড়া পিস ৪০ টাকা, প্রতি পিস লাউ আকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, লতি ৬০ টাকা ও কাকরোল ৬০ টাকা। সবজি বিক্রেতা কৈলাস ও শেখর বলেন, বাজারে সবজি বিশেষে দাম কেজিতে ৭-৫ টাকা কমলেও বেড়েছে ৫-১০টাকা। তবে শীতের মৌসুম শুরু হলেই বাজারে কমতে শুরু করবে শাক-সবজির দাম।

[৫] এসব বাজারে দেশি হাইব্রিড পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকা। ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকায়। কাঁচামরিচের দাম কমে বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা কেজি। চায়না আদার কেজি ১৬০ টাকা। হলুদের কেজি ১৬০ টাকা থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইন্ডিয়ান ডাল কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়। দেশি ডাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। চিনি ৯০ থেকে ১০০ টাকায় আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে ভোজ্যতেল।

[৬] মিনিকেট চাল প্রতি কেজি ৬৫ টাকা, আটাশ চালের কেজি ৫০ টাকা, নাজিরশাইল চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৮ টাকায়। লাল ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। হাঁসের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ টাকা। সোনালী (কক) মুরগির ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ টাকায়। বাজারে আবারও ব্রয়লার কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ টাকা। সোনালি মুরগি (কক) কেজিতে ৩০ টাকা দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকায়। গত সপ্তাহে সোনালি মুরগির কেজিপ্রতি বিক্রি হয়েছে ২৯০ টাকা। লেয়ার মুরগি আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। কেজি ২৩০ টাকা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কফির অস্থিতিশীল বাজারে উত্তাপ বাড়াচ্ছে কলম্বিয়া

কফি উৎপাদনে শীর্ষ দেশ ব্রাজিলে তীব্র সংকট আন্তর্জাতিক বাজারকে দীর্ঘদিন ধরেই অস্থিতিশীল করে রেখেছে। সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় জনপ্রিয় পানীয় পণ্যটির দাম দিন দিন বেড়েই চলেছে। এর মধ্যেই বাজারকে আরো উত্তপ্ত করে তুলেছে কলম্বিয়া। চাহিদা ও সরবরাহে ভারসাম্যহীনতার সুযোগ নিচ্ছেন দেশটির কৃষকরা। বেশি দাম পাওয়ার আশায় তারা রফতানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী কফি সরবরাহ করেননি। ফলে শীর্ষ ক্রেতাদের পড়তে হয়েছে বড় ধরনের লোকসানে। আন্তর্জাতিক বাজারে আরো এক ধাপ দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ কফি উৎপাদক কলম্বিয়া। অ্যারাবিকা উৎপাদনে দেশটির অবস্থান দ্বিতীয়। প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার পরিবারের জীবিকা কফির ওপর নির্ভরশীল। দেশটির কৃষকরা চলতি বছর স্থানীয় উৎপাদনের প্রায় ১০ শতাংশ বা ১০ লাখ ব্যাগ (প্রতি ব্যাগে ৬০ কেজি) কফি সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন রফতানিকারক, ব্যবসায়ী ও রোস্টাররা। কফি শিল্পসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।

এ বছর আন্তর্জাতিক বাজারে কফির মূল্য ৫৫ শতাংশ বেড়েছে। প্রধানত শীর্ষ উৎপাদক দেশ ব্রাজিলে বৈরী আবহাওয়ার কারণে উৎপাদনে ধস নামে। দেখা দেয় সরবরাহ সংকট। দেশটিতে সৃষ্ট সংকটের সুযোগ নিয়েছেন কলম্বিয়ার কৃষকরা। তারা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যখন সরবরাহ চুক্তি করেছেন তখন দাম ছিল অনেক কম। কিন্তু বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় কৃষকরা সরবরাহ আটকে দিয়েছেন। উদ্দেশ্য বেশি দামে পুনরায় বিক্রি করা।

গ্লোবাল এগ্রিকালচারাল কমোডিটিস ট্রেড হাউজের এক ডিলার জানান, ব্যবসায়ীরা চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ পাননি। বিষয়টি বাজারকে বিশৃঙ্খল করে তুলেছে। যদি ব্রাজিলে খরা অব্যাহত থাকে, তাহলে প্রতি পাউন্ড কফির দাম ৩০০ সেন্টের গণ্ডি ছাড়াতে পারে। বর্তমানে বাজার চরম অস্থিতিশীলতার দিকে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কফি রোস্টাররা ‘সিঙ্গেল অরিজিন কলম্বিয়া’ শীর্ষক প্রচারণায় পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছেন। মূলত সরবরাহ উৎসসংক্রান্ত জটিলতার কারণেই এমন চিন্তাভাবনা করছেন তারা।

কলম্বিয়ার মতো শীর্ষস্থানীয় উৎপাদক দেশের সরবরাহ চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যর্থতা বিশ্ববাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে জানান বাজার বিশ্লেষকরা। বিষয়টি কফির ঊর্ধ্বমুখী দামকে আরো উত্তেজিত করে তুলতে পারে। যদিও এ প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন তারা।

কলম্বিয়ান কৃষকরা জানান, তারা এ বছরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছর কফি সরবরাহ করবেন। কিন্তু ক্রেতারা এতে সন্তুষ্ট নয়। অন্য একটি গ্লোবাল ট্রেড হাউজের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী জানান, অনেক ক্রেতাই লোকসানের সম্মুখীন হয়েছেন। তারা বিকল্প সরবরাহ উৎস খুঁজছেন। যদি কৃষকরা আগামী বছরও সরবরাহ না করেন এবং দাম বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে ঝুঁকি আরো বড় আকার ধারণ করতে পারে।

তিনি বলেন, সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বেশ কয়েকটি গ্লোবাল ট্রেড হাউজের প্রত্যেকটি ৮০ থেকে ১ কোটি ডলার লোকসানের সম্মুখীন হয়েছে। এর মধ্যে কলম্বিয়ার কফি উৎপাদন ফেডারেশন এফএনসি সবচেয়ে বড় লোকসানে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানটি কলম্বিয়ান কৃষকদের প্রতিনিধিত্ব করে। দেশীয় রফতানির ২০ শতাংশই আসে এফএনসি থেকে।

এফএনসির প্রধান রবার্টো ভ্যালেজ বলেন, কলম্বিয়ার খুব কম রফতানিকারকই ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেয়েছেন। শীর্ষ রফতানিকারক এফএনসিসহ সব শীর্ষ ট্রেড হাউজই লোকসানে রয়েছে। যদি একজন চাষীও সরবরাহ থেকে বিরত থাকে, তবে পুরো চক্রকেই আর্থিক ক্ষতির মধ্যে পড়তে হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

নিম্নমুখী প্রবণতায় চীনের সয়াবিন আমদানি

চীনে সয়াবিন আমদানিতে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গিয়েছে। সেপ্টেম্বরে দেশটির আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩০ শতাংশ কমেছে। মাড়াইস্বল্পতার কারণে চাহিদায় ভাটা পড়েছে। এ কারণেই আমদানিতে মন্দাভাব দেখা দেয়। জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস এ তথ্য জানিয়েছে।

চীন বিশ্বের শীর্ষ সয়াবিন ক্রেতা দেশ। সেপ্টেম্বরে দেশটি ৬৮ লাখ ৮০ হাজার টন সয়াবিন আমদানি করে। গত বছরের একই মাসে আমদানি করা হয়েছিল ৯৭ লাখ ৯০ হাজার টন। সে হিসাবে আমদানি ২৯ লাখ ১০ হাজার টন কমেছে।

শুল্ক বিভাগের তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম নয় মাস চীন ৭ কোটি ৩৯ লাখ ৭০ হাজার টন সয়াবিন আমদানি করে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানি কমেছে দশমিক ৭ শতাংশ। চলতি মাসেও আমদানি কমতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। এদিকে গত মাসে দেশটিতে সয়াবিন ও সয়ামিলের মজুদও কমেছে।

তথ্য বলছে, চলতি বছরের শুরুতে দ্রুত পুনরুজ্জীবিত হতে থাকা শূকর পালন খাতে সয়াবিনের শক্তিশালী চাহিদা তৈরি হয়। ফলে মাড়াইকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কৃষিপণ্যটির ক্রয় বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু বছরের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে চাহিদা রেকর্ড সর্বনিম্নে নেমে যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com