আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

মিয়ানমারের জঙ্গলে নতুন প্রজাতির বানর আবিষ্কার

মিয়ানমারের একটি প্রত্যন্ত জঙ্গলে নতুন একটি বানর পাওয়া গেছে, যার সম্পর্কে এতদিন বিজ্ঞানীদের কিছুই জানা ছিল না। পোপা পর্বতের নামানুসারে বানরটির নামকরণ করা হয়েছে পোপা লাঙ্গুর।

তবে এই প্রাণীটি এর মধ্যেই বিলুপ্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ এই প্রজাতির সদস্য রয়েছে মাত্র ২০০টির মত।লাঙ্গুর হচ্ছে গাছের পাতা খায়, এমন ধরনের বানর, দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় যে প্রজাতি দেখা যায়। এই প্রজাতির বানরটির বৈশিষ্ট্য হলো- এদের চোখে চশমাসদৃশ গাঢ় বর্ণের বৃত্তাকার রিং রয়েছে যা আলাদা করে চোখে পড়ে। আর এর গায়ের পশমের বর্ণ ধূসর।

জিন গবেষণায় দেখা গেছে, পৃথিবীতে ১০ লাখ বছর আগে যেসব বানর ছিল বলে গবেষণায় জানা গেছে, তাদের চেয়ে এই পোপা লাঙ্গুর বানরের প্রজাতি আলাদা।

আবাসস্থল ক্ষতি এবং শিকারের কারণে বানরের এই প্রজাতিটি বিলুপ্তির ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

বুনো বানরের মল-মূত্র থেকে পাওয়া ডিএনএ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা অনেকদিন ধরেই ধারণা করছিলেন যে, মিয়ানমারে বানরের নতুন প্রজাতি রয়েছে। তবে এতদিন ধরে কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ না পাওয়ায় তারা লন্ডন, লেইডেন, নিউইয়র্ক এবং সিঙ্গাপুরের প্রাকৃতিক ইতিহাসের জাদুঘরগুলোয় থাকা বানরের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করতে শুরু করেন।

মিয়ানমারে প্রথমদিকের অভিযাত্রীরা এসব নমুনা সংগ্রহ করেছিলেন, কিন্তু যেগুলো তেমনভাবে পরীক্ষানিরীক্ষা করা হয়নি।

সেই নমুনা থেকে পাওয়া ডিএনএ বুনো বানরের সঙ্গে যাচাই করে দেখার পর নতুন এই প্রজাতিটি শনাক্ত করেন বিজ্ঞানীরা।

মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলের জঙ্গলে পোপা লাঙ্গুরের এই প্রজাতিটি পাওয়া গেছে। পোপা পর্বতের তীর্থস্থানগুলোর কাছাকাছি অভয়ারণ্যে এদের বেশিরভাগ বসবাস করে।

সংরক্ষণবাদী গ্রুপ ফনা অ্যান্ড ফ্লোরা ইন্টারন্যাশনালের ফ্রাঙ্ক মোমবার্গ বলেছেন, বৈজ্ঞানিকভাবে এই বিশ্লেষণ বানরটির সুরক্ষায় কাজে আসবে।

তিনি বলেন, ”সদ্য আবিষ্কৃত পোপা লাঙ্গুর এর মধ্যেই চরম বিপন্ন এবং বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা একটি প্রাণী। সুতরাং তাদের মধ্যে যেগুলো এখনো বেঁচে আছে, সেগুলো রক্ষা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর নিরাপত্তায় স্থানীয় কমিউনিটির পাশাপাশি প্রাইভেট সেক্টরের সহায়তাও নিতে হবে।”

এখন এই প্রজাতির ২০০ থেকে ২৫০ প্রাণী বেঁচে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মিয়ানমার এক দশক আগে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীদের কাছে নিজেদের মেলে ধরতে শুরু করার পর নতুন ধরণের সরীসৃপ, উভচর নানা প্রাণীর আবিষ্কার হয়েছে। কিন্তু বানরের নতুন প্রজাতি আবিষ্কারের ঘটনা বিরল।

জার্মান প্রাইমেট সেন্টারের প্রাইমেট জেনেটিক্স ল্যাবরেটরির ক্রিস্টিয়ানা রোস বলেছেন, আবাসস্থানের ক্ষতি এবং শিকারের কারণে প্রাণীটি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

”শিকার একটি বড় সমস্যা। কিন্তু তার চেয়েও বড় সমস্যা হলো তাদের আবাসস্থান প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে সেটা কমে যাওয়া, বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে।” তিনি বলেছেন।

জুলজিক্যাল রিসার্চ জার্নালে এই আবিষ্কারের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

পরিবেশ

তামিলনাড়ু-পুদুচেরি উপকূলে আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় নিভার

ভারতের উপকূলে আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় নিভার। বুধবার তামিলনাড়ুর মারাক্কানম ও পুদুচেরির মধ্যবর্তী অঞ্চলে রাত এগারোটার দিকে তাণ্ডব শুরু করে শক্তিশালী এই ঝড়।

আবহাওয়া দফতর এর আগে জানিয়েছে, প্রায় তিন ঘণ্টায় এর কেন্দ্র পুদুচেরি অতিক্রম করে যাবে। সে সময় বাতাসের গতিবেগ সর্বোচ্চ ১৪৫ কিলোমিটার হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার আগে থেকেই চেন্নাইসহ রাজ্যের একাধিক জেলায় শুরু হয় তীব্র বৃষ্টি। রাস্তাঘাট পানিতে ভরে গেছে। যানবাহনের সংখ্যাও খুবই কম। রাতের দিকে ঝড়ের তাণ্ডব বাড়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।

এখন পর্যন্ত রাজ্যের কয়েক লাখ মানুষকে উপকূলবর্তী এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়েছে তামিলনাড়ু সরকার। রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের মন্ত্রী আর বি উদয়কুমার জানিয়েছেন, বেশিরভাগ মানুষকে চেন্নাইয়ের দক্ষিণের নাগাপট্টিনম ও কাড্ডালোর জেলা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় তামিলনাড়ু উপকূলে রণতরী আইএনএস জ্যোতি মোতায়েন করেছে নৌবাহিনী। খাবারসহ উদ্ধারকাজের বিভিন্ন সরঞ্জাম রাখা হয়েছে ওই জাহাজে।

ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় চেন্নাই বিমানবন্দর সন্ধ্যা ৭টা থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া চেন্নাইয়ের অধিকাংশ বড় সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তামিলনাড়ু সরকারের পক্ষ জানানো হয়েছে, রাজ্যে ইতোমধ্যেই ১৫০টি ত্রাণ শিবিরকে তৈরি রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রবল বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। তামিলনাড়ুর বাস পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। কেন্দ্র থেকে সব রকমের সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে পুদুচেরিতে। এ সময়ে সব দোকান বন্ধ থাকবে। তবে দুধের দোকান, পেট্রোল পাম্প খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে বিমানের ৪৯টি ফ্লাইট।

ঘূর্ণিঝড়ের আগাম সতর্কতা হিসেবে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী কে পালানিস্বামী বৃহস্পতিবার ১৩ টি জেলায় সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছেন। পুদুচেরিতেও সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার পর্যন্ত সব স্কুল বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

যমুনার চরে মিলল সাড়ে ১০ ফুট লম্বা অজগর

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার সোহাগপুর যমুনার চর থেকে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় সাড়ে ১০ ফুট লম্বা একটি অজগর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (২৩ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ‘দ্য বার্ড সেফটি হাউস’ নামে একটি সংগঠনের সদস্যরা সোহাগপুর যমুনার চর থেকে অজগর সাপটি উদ্ধার করেন।

এলাকাবাসী জানায়, রোববার (২২ নভেম্বর) বিকেলে গ্রামের জমির মধ্য একটি অজগর সাপ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে কিছু লোক ভয় পেয়ে সাপটির মাথায় টেঁটা দিয়ে আঘাত করে। রাত ৮টার দিকে দ্য বার্ড সেফটি হাউসের চেয়ারম্যান মামুন বিশ্বাস বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি ফোনে স্থানীয়দের বন্যপ্রাণী আইনের বিষয়ে জানালে তারা সাপটি তাদের হেফাজতে রাখেন। সোমবার বেলা ১১টার দিকে মামুন বিশ্বাস ও জুবায়ের হোসেন চর থেকে আহত অবস্থায় সাপটি উদ্ধার করেন।

এ বিষয়ে দ্য বার্ড সেফটি হাউসের চেয়ারম্যান মামুন বিশ্বাস বলেন, খবর পেয়ে আমি ও জুবায়ের অজগর সাপটি উদ্ধার করার জন্য সোহাগপুর চরে যাই। সেখানে গিয়ে সাপের অবস্থা মারাত্মক হওয়ায় কিছু ছবি তুলে রাজশাহী বিভাগীয় বন্যপ্রাণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবিরের কাছে পাঠিয়ে দেই। পরে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা অজগর সাপটি সামাজিক বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হৃষীকেস চন্দ্র রায়, এম এল এস নবুয়াত, শাহজাদপুর পি এম রশিদুল হাসানের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সাপটি বেশি আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় উপযুক্ত চিকিৎসা ও পরিচর্যার জন্য রাজশাহী বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগে পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

বন্যহাতি হত্যা প্রতিরোধে ব্যর্থদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেছেন, বর্তমান সরকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে নিরলসভাবে কাজ করছে। কিন্তু সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ দেশের কিছু এলাকায় বিভিন্ন কারণে বন্যহাতি হত্যা করা হচ্ছে। এসব বন্যহাতি নিধন প্রতিরোধে ব্যর্থ এবং দায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বন্যহাতি হত্যায় জড়িতদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

বুধবার (২৫ নভেম্বর) মন্ত্রণালয়ের ২০২০-২১ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনায় আয়োজিত মাসিক সভায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী। রাজধানীর সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে এতে সভাপতিত্ব করেন তিনি।

সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার, সচিব জিয়াউল হাসান এনডিসি, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) ড. মো. বিল্লাল হোসেন, অতিরিক্ত সচিব (পরিবেশ) মাহমুদ হাসান, অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) আহমদ শামীম আল রাজ, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. এ, কে, এম রফিক আহাম্মদ, বন অধিদফতরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমির হোসেন চৌধুরীসহ দফতর প্রধান ও বিভিন্ন প্রকল্পের পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

বনমন্ত্রী জনসাধারণকে বন্য হাতি নিধন থেকে বিরত রাখতে সচেতনতামূলক কর্মসূচি জোরদারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, বন্য হাতির কারণে ক্ষতির সম্মুখীন মানুষদের সরকারের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়টি সবাইকে জানাতে হবে। হাতিসহ অন্য বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে।

প্রধান বন সংরক্ষক আমীর হোসাইন চৌধুরী জানান, রোহিঙ্গাদের আবাসস্থল তৈরি এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে হাতির আবাসস্থল বিনষ্ট ও বিভক্ত হয়েছে। তাদের দীর্ঘকালীন পরিচিত চলাচলের পথও নষ্ট হয়েছে। ফলে বন্য হাতিরা পথভ্রষ্ট হয়ে অথবা খাবারের খোঁজে মানুষের ধানক্ষেতে ঢোকার চেষ্টা করে। ফলে স্থানীয় মানুষের পাতানো বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে বা নানাবিধ আক্রমণে তারা মারা যাচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

শুভলং ঝরনা ও পাহাড়ি জীবনের খোঁজে

আবু আফজাল সালেহ

ভোরেই পৌঁছলাম রাঙ্গামাটির রিজার্ভবাজারের বাস স্টেশনে। এরপর ঝটপট নাস্তা সেরে নিলাম। সিএনজি ভাড়া করে গেলাম তবলছড়ি পর্যটন মোটেলের শেষ প্রান্তে, ঝুলন্ত ব্রিজের ঠিক মুখে। ২০ টাকার টিকিট কেটে ঢুকতে হবে। এ ঝুলন্ত ব্রিজই রাঙ্গামাটির প্রতীক। কাপ্তাই হ্রদের দুপাশের পাহাড়ের সঙ্গে সেতুবন্ধন করেছে ছোট্ট ব্রিজটি। ব্রিজটি ঘিরেই রয়েছে বিভিন্ন রাইড। নৌকা ভ্রমণের ব্যবস্থা।

এখান থেকে দরদাম করে ট্রলার বা স্পিডবোট ভাড়া করে ঘুরতে পারেন শুভলং ঝরনা, আর্মি ও আনসার ক্যাম্প। বিভিন্ন ভাসমান হোটেলেও যেতে পারবেন। ঘণ্টাখানেক এখানে অবস্থান করে মূল শহরে গেলাম। রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রামের সড়কপথ ধরে উপজাতিদের ছোট ছোট বাজার। বিভিন্ন ফল-মূল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটা করছে বাঙালি ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠী। দারুণ সম্প্রীতির বাংলাদেশ!

কাছাকাছি রাজবাড়ি দেখলাম। ভেতরে প্রবেশ করায় নিষেধাজ্ঞা আছে। প্রায় বেলা ১১টার দিকে রিজার্ভ বাজারের লঞ্চঘাটের দিকে রওনা দিলাম সিএনজিতে। ১২ টাকা ভাড়া। নেমেই ৫০০ গজের মতো হেঁটে লঞ্চঘাট। লঞ্চঘাট থেকে ১৬০০ টাকায় ছোট্ট একটি ট্রলার ৬-৭ ঘণ্টার জন্য চুক্তি করলাম। শুরু হলো সবচেয়ে রোমাঞ্চকর কাপ্তাই হ্রদে বোট ট্যুর। দেশের বৃহত্তম ও বিশ্বের অন্যতম বড় কৃত্রিম হ্রদ ভ্রমণ! রোমাঞ্চের ডালপালা মেলে দিলো। চার জনই রোমাঞ্চিত।

লঞ্চঘাট থেকে কয়েক মিনিট যেতেই মনে হয় বিশাল সাগরে এসে পড়লাম। চারিদিকে অথৈ পানি। একটু দূরে ছোট ছোট দ্বীপ। কিছুদূর যেতেই পাহাড় দেয়াল। পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে ছোট ছোট বাসা। সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে আমরা চার জন ছোট্ট ট্রলার নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। জেলেদের মাছধরার দৃশ্য আর মাথার ওপর বিভিন্ন পাখিদের ওড়াউড়ি, কী মনোরম! আহা, কী দৃষ্টিসুখ! আর কিছুদূর যেতেই সোনা রঙের মূর্তি দেখতে পেলাম। মাঝি বললেন, এটিই স্বর্ণমন্দির। নেমেই গেলাম। দেখলাম। উপজাতিদের সাথে কথাও বললাম।

আবার উঠলাম ট্রলারে। এবার কাপ্তাই হ্রদের পানিরাশি সবুজ। চারিদিকের সবুজ পাহাড়ের প্রতিচ্ছায়ায় এমন। পেরিয়ে যাচ্ছি করমজল উপজেলা। সবুজ পাহাড়ের মোহনা! কী নান্দনিক! এমন মোহনা প্রায়ই দেখা যাচ্ছে। চোখ টেনে নিচ্ছে; মনও। প্রায় ৪৫ মিনিট পানিভ্রমণ শেষে নান্দনিক জায়গা। হ্রদের অংশ ঢুকে পড়েছে পাহাড়ের ভেতর। মাঝি বললেন, এটিই শুভলং ঝরনা; মায়াবী ঝরনা। তবে শীতকালে পানি একেবারেই কম। বর্ষাকালে কী যে পাহাড়ি রূপ! একটু চোখ বুলিয়ে নিলাম। নামলাম। ২০ টাকার টিকিট কেটে ঝরনায় প্রবেশ করতে হয়। এখানে ক্যান্টিন আছে। যে কেউ হালকা চা-নাস্তা করে নিতে পারেন।

আবার যাত্রা শুরু পাহাড় উপত্যকার জলপথ দিয়ে। আরও ১০ মিনিট যেতেই ছোট্ট বাজার, আর্মি ক্যাম্প। বলে রাখি, এরপর যেতে হলে সেনাবাহিনীর অনুমতি লাগবে। এখানকার সবকিছুই সেনাসদস্যরা নিয়ন্ত্রণ করেন। অনুমতি নিয়ে বারবার মোহনা ও দ্বীপ পাশ কাটিয়ে প্রায় ২০ মিনিট পরে বড় স্থাপনা দেখতে পাচ্ছি। মাঝি বললেন, এটা শুভলং আনসার ক্যাম্প। পাহাড়ের গায়ে জল-পাহাড় বেষ্টিত ক্যাম্পটি দেখতে সুন্দর।

এবার ফেরার পালা। বিকাল ও গোধূলিবেলায় আধো-আধো আলোতে কাপ্তাই হ্রদের কী যে দৃশ্য! ভুলে যাওয়ার নয়। মাঝপথেই সন্ধ্যা হয়ে গেল। জেলেরা আলো জ্বালিয়ে মাছ ধরছে। দ্বীপগুলোয় আলো জ্বলছে। মাথার ওপর রাতজাগা পাখিদের ওড়াউড়ি। দ্বীপগুলো ও হ্রদের পার্শ্ববর্তী রাঙ্গামাটি শহর যেন আমেরিকান কবির নিউইয়র্ক কবিতার মতো বিল্ডিংগুলো যেন made of glass and lights দিয়ে তৈরি। প্রায় ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিটি রোমাঞ্চকর জলভ্রমণ শেষে রিজার্ভ বাজারের লঞ্চঘাটে এসে পৌঁছলাম।

যাতায়াত: রাঙ্গামাটি শহরের রিজার্ভ বাজার সংলগ্ন লঞ্চঘাট থেকে লঞ্চ ভাড়া করতে হবে। ছোট-বড়ভেদে ১২০০ টাকা থেকে শুরু। ১০-২০ জন ভ্রমণ করা যাবে। কোন কোন স্পটে যাবেন, তা আগেই ঠিক করে নিতে হবে। স্পিডবোটেও যেতে পারবেন। ৫-৬ জনের ভাড়া ২০০০ টাকা থেকে শুরু। তার আগে ট্রেন বা বাসে চট্টগ্রাম যেতে হবে। অক্সিজেন মোড় থেকে পাহাড়িকা বা শান্তি পরিবহনে ১২০ টাকা ভাড়া। পাহাড়ের মধ্যদিয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টায় পৌঁছে যাবেন রাঙ্গামাটির রিজার্ভ বাজারে। একটু এগিয়ে গিয়ে লঞ্চঘাটে দরদাম করে লঞ্চ বা স্পিড বোট ভাড়া করে কাপ্তাই ভ্রমণ করুন। এ ছাড়া ঢাকা থেকে কিছু পরিবহন ৯-১০ ঘণ্টা সময়ে রাঙ্গামাটি পৌঁছে দেবে। এসি-নন এসি ভেদে ভাড়া ৬৫০ টাকা থেকে শুরু।

থাকা ও খাওয়া: রিজার্ভ বাজারসহ শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন বাজেটের আবাসিক ও খাওয়ার হোটেল পাবেন। এছাড়া উপজাতিদের বাড়িতে থাকতে ও খেতে পারবেন। পর্যটন কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রিত মোটেল বা আবাসনে থাকতে ও খাওয়া-দাওয়া করতে পারবেন। খরচ তুলনামূলক একটু বেশি হতে পারে।

নৌকা বা স্পিড বোট ভাড়া: রাঙ্গামাটি শহরের রিজার্ভ বাজারের লঞ্চঘাটে নৌকা পাওয়া যাবে। দরদাম করতে হবে। স্পিড বোটে ৩-৪ হাজার টাকা।

পাহাড়ি বাজার: সকালের দিকে শহরের রাস্তায় ছোট ছোট ভাগ করে পাহাড়িরা ফল-মূল ও কাঁচাবাজার নিয়ে বসে। এ দৃশ্য মনোরম। শহরের বিভিন্ন দোকান, উপজাতি অনেক বাড়ি থেকে পোশাক ও হস্তশিল্প সামগ্রী কেনাকাটা দারুণ ও উপভোগ্য হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর প্যারিস, হংকং ও জুরিখ

লেখক

বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরের তালিকার শীর্ষে যৌথভাবে রয়েছে ফ্রান্সের প্যারিস, হংকং ও সুইজারল্যান্ডের জুরিখ। এরপরেই তালিকায় সিঙ্গাপুরের অবস্থান।

জীবনযাপনে খরচের হিসাবের ভিত্তিতে তৈরি করা লন্ডনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা দ্য ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের বার্ষিক জরিপে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংস্থাটি ১৩৩টি শহরের ওপর জরিপ করেছে। 

তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে যৌথভাবে জাপানের ওসাকা ও ইসরায়েলের তেল আবিব। 

দ্য ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের করা ওই বার্ষিক জরিপে বলা হয়েছে, সিঙ্গাপুরে জীবনযাপনের ব্যয় কমেছে। করোনার কারণে দেশটিতে বিদেশি কর্মীর সংখ্যা কমেছে। ১৭ বছরের মধ্যে শহরটির জনসংখ্যা এবারে সবচেয়ে কমেছে। 

ব্যয়বহুল শীর্ষ ১০ শহরের তালিকায় জেনেভার অবস্থান ৭ম আর ৯ম অবস্থানে রয়েছে কোপেনহেগেন। নিউইয়র্ক সিটি ও লস অ্যাঞ্জেলেসের অবস্থান যথাক্রমে ৮ম ও ১০ম স্থানে।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, করোনার কারণে বিশ্বব্যাপী ইলেকট্রনিক্সের দাম বেড়েছে। তবে কমেছে পোশাকের দাম। প্রধান খাদ্য আইটেমগুলির দাম একই রয়েছে। তবে প্রসাধনী, তামাক এবং অ্যালকোহলের দাম বেড়েছে।  

জীবনযাপনে ব্যয়বহুল শহরের তালিকায় গতবছর থেকেই অবস্থান হারাচ্ছে আমেরিকা, আফ্রিকা, পূর্ব ইউরোপ। তবে, পশ্চিম ইউরোপের শহরগুলো ক্রমেই ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে।

এবারের তালিকায় ২০ ধাপ নিচে নেমে গেছে ব্যাংকক। এই শহরের বর্তমান অবস্থান ৪৬তম। তালিকায় সিডনির অবস্থান ১৫ নম্বরে। লন্ডন ২০ তম, মস্কো আছে ১০৬ নম্বরে ও দিল্লির অবস্থান ১২১-এ। 

দ্য ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের বিশ্বব্যাপী কস্ট অব লিভিং বিভাগের প্রধান উপাসনা দত্ত জানান, কয়েক বছর ধরে এই তালিকায় এশিয়ার দেশগুলো শীর্ষে থাকলেও এবার করোনার ধাক্কায় কিছুটা ওঠানামা হয়েছে দেশগুলোর অবস্থানের। 

তিনি বলেন, করোনা মহামারি ভোক্তাদের আচরণকে বদলে দিয়েছে। কারণ বাড়ি থেকে কাজ করার জন্য ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসের দাম বেড়েছে। আবার লকডাউনের কারণে রেস্তোরাঁয় না যাওয়ায় খাবারের দাম একই রয়েছে।  

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com