আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

মাশরুম চাষে সফল মাগুরার প্রতিবন্ধী বাবুল

মাগুরা: মাশরুম চাষে ব্যাপক সাফল্য দেখিয়ে মাগুরা সদর উপজেলার বড়খড়ি গ্রামের বাবুল আক্তার প্রতিবন্ধিতাকে জয় করে তিনি এখন স্বাবলম্বী। তার এ কাজে সার্বিক সহযোগিতা করছে জেলা কৃষি সম্পাসারণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসন।

মাগুরা সদর উপজেলার বড় খড়ি গ্রামের বাবুল আক্তারের ৫ বছর বয়সে অজ্ঞাত রোগে বাম পা পঙ্গু হয়ে যায়। তার সফল্যের পিছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের নিরলস পরিশ্রম । ২০০৭ সালে একটি ভাঙ্গা ঘরে তিনি শুরু করেছিলেন মাশরুম চাষ। দীর্ঘ পথচলার একপর্যায়ে জাতীয় মাশরুম উন্নয়ন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে মাশরুম চাষের পরিধি বাড়িয়েছেন । বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে ৫০ জন দুস্থ নারী নিয়ে গড়ে তুলেছেন মাশরুম নেটওয়ার্ক। বড়খড়ি গ্রামের ৫০ জন দুস্থ নারীই এখন মাশরুম চাষি। কৃষি কাজের পাশপাশি সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে এসব পরিবারের সদস্যরা মাশরুম বাড়তি কাজ হিসেবে বেছে নিয়েছেন। মাশরুম চাষে পরিবারের নারী সদস্যদের ভূমিকাই বেশি। এসব নারীদের ঘর গেরস্থালির কাজ ব্যতিরেকে অলসভাবে সময় কাটাতো । এ অলস সময়টাকেই তারা এখন ব্যয় করছেন মাশরুম চাষে। যা থেকে প্রতিমাসে তারা প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার বাড়তি উপার্জনের করছেন ওই সকল নারীরা।ফলে অস্বচ্ছল এসব পরিবারে বর্তমানে ফিরে আসছে আর্থিক স্বচ্ছলতা।

বাবুল আখতার জানান, নিজ বাড়িতে তার একাধিক মাশরুম উৎপাদন কেন্দ্রে মোট ৬০ জন কর্মী কাজ করে। গ্রামের যে ৫০ জন নারী এখন বাড়িতে মাশরুম চাষ করছে মাসিক ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা বেতনে তার মাশরুম কেন্দ্রে কাজ করতো। পরে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করে নিজেরাই নিজ বাড়িতে মাশরুম চাষ করছে।

তিনি আরো জানান, তিনি কখনোই চান না তার কারখানায় কেউ আজীবন কাজ করুক। তার লক্ষ্য প্রতিটি কর্মীকে দক্ষ করে গড়ে তুলে একজন সফল মাশরুম চাষি হিসাবে দাঁড় করানো। যাতে করে তারা স্বাবলম্বী হতে পারে। আর এভাবে সারা দেশে মাশরুম চাষ ছড়িয়ে পড়তে পারে। যেহেতু মাশরুম একটি অনন্য অর্থকরি ফসল। পাশাপাশি এটির ওষুধী গুণসহ সুষম খাদ্য উপাদান হিসেবে রয়েছে ব্যাপক গ্র্রহণযোগ্যতা।
ড্রিম মাশরুম সেন্টার নামে বাবুলের মাশরুম কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, গোটা বাড়ির প্রায় প্রতিটি কক্ষেই মাশরুমের চাষ। এছাড়া রয়েছে মাশরুম বীজ উৎপাদনের জন্য বড় আকারের একটি গবেষণাগার। পাশাপাশি মাশরুম প্রক্রিয়াজাত করন করে সষম খাদ্য রূপান্তর করার জন্য একটি কারখানা।

কথা প্রসঙ্গে বাবুল জানান, তার কারখানায় উৎপাদিত মাশরুম পাউডার ও মাশরুম শুটকি সারাদেশে সরবরাহ করা হচ্ছে। এ ছাড়া কয়েকটি ওষুধ কোম্পানীতে তার মাশরুম সরবরাহ হচ্ছে। সেখান থেকে প্রতি মাসে মোটা অংকের অর্থ তিনি উপার্জন করছেন।

তার দেয়া তথ্যমতে, বর্তমানে তার অধীনে প্রায় ৬০ জন কর্মী কাজ করছে। এ কাজের মাধ্যমে উপার্জিত অর্থে চলছে তাদের সংসার। প্রতি কেজি কাচা মাশরুম তিনি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন। শুকনো মাশরুম ১৫০০ টাকা কেজি, পাউডার মাশরুম ২ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। এ ছাড়া গ্যানোডর্মা নামের একটি বাদামী মাশরুম আছে যেটি ওষুধ কোম্পানীতে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। প্রতিমাসে সে নিজ কেন্দ্রসহ তার নেটওয়ার্ক সদস্যদের মাধ্যমে ৫০০ কেজি মাশরুম ঢাকাসহ বিভিন্নস্থানে বিক্রি করে। যা থেকে একটি বড় অংকের মুনাফা অর্জিত হয়।

বাবুল জানান, বাম পায়ের পঙ্গুত্ব নিয়ে জীবন যাপন করছে সে। অর্থাভাবে লেখাপড়া করা সম্ভব হয় নি। দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখার পর চায়ের দোকান দেয়াসহ মানুষের বাড়িতে গৃহকর্ম করেছে সে। পরে এক বন্ধুর পরামর্শে মাশরুম চাষে হাত দেন। প্রতিবন্ধীত্বের কারণে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। যা তাকে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে ও আত্মপ্রত্যয়ী করেছে।

বাবুলের মাশরুম কেন্দ্রে কর্মরত লতা পারভীন নামে এক বিপনন কর্মকর্তা জানান, কৃষিতে ডিপ্লোমা অর্জন করে বর্তমানে বাবুলের সাথে বিপননের কাজ করছেন তিনি। তার সাথে স্নাতকসহ উচ্চশিক্ষিত আরো ২০ নারী উন্নয়ন কর্মী কাজ করে। তাদের প্রত্যেকের কাজ হচ্ছে বিভিন্ন বাজার এলাকায় গিয়ে সেমিনারের মাধ্যমে মাশরুমের ওষুধী গুণাগুন ও অন্যান্য উপকারিতা তুলে ধরা। বিশেষ করে ডায়বেটিক ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের মাঝে তারা মাশরুমের বার্তা পৌঁছে দেন। স্থানীয় একজন পল্লী চিকিৎসক এ কাজে মধ্যস্থতা করেন। যারা মাশরুম খেতে আগ্রহী হয় তারা ওই পল্লী চিকিৎসকের কাছ থেকে বাবুলের ড্রিম মাশরুম সেন্টারে উৎপদিত মাশরুম কিম্বা পাউডার ক্রয় করেন। এভাবে সারা দেশে বাবুলের মাশরুম ছড়িয়ে পড়ছে।

বড় খড়ি গ্রামে সুচিত্রা বসাক, মেনোকা শিকদার জয়ন্তি বিশ^াস, লাকি খাতুন, মহম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, তারা একসময় ৪ হাজার টাকা বেতনে বাবুলের মাশরুম কেন্দ্রে কাজ করতেন। পরে দক্ষতা অর্জন করায় বাবুল নিজে বীজ ও অন্যান্য সহযোগিতা দিয়ে তাদের বাড়িতে মাশরুম চাষ করিয়েছেন। এখন এ চাষ থেকে প্রতিমাসে পরিবার প্রতি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত আয় হয়। যার মধ্যেমে তাদের পরিবারগুলো এখন আগের চেয়ে বেশ স্বচ্ছল।

তারা আরো জানান, তাদের মত বড়খড়ি গ্রামের প্রায় ৫০টি পরিবার এখন মাশরুম চাষ করে সফল। যার মূল উদ্যোক্তা বাবুল। বাবুল শুধু তাদের মাশরুম চাষই শেখায় নি। উপরন্তু প্রতি বাড়িতে যে মাশরুম চাষ হয় তা তার মার্কেটিং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিক্রির ব্যবস্থা করেন। একারণে তারা কখনোই লোকসানে পড়েন না।
মাগুরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক পার্থ প্রতিম সাহা জানান, প্রতিবন্ধী বাবুল আক্তার মাশরুম চাষে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। মাশরুম চাষের সকল বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তাকে কারিগরি দিক ও অন্যান্য বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে।

বাবুলের মাশরুম চাষ বিষয়ে মাগুরা জেলা প্রশাসক আতিকুর রহমান বলেন, ‘আমি আমার প্রাশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে সম্প্রতি বাবুলের মাশরুম কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি। তার উন্নয়নে আমরা অভিভূত। মাগুরার জন্য সে উন্নয়নের মডেল হতে পারে। সে শুধু নিজে উন্নত হয়নি তার গ্রামকে সে জাগ্রত করেছে। এটি তার সবচেয়ে বড় সাফল্য। আমরা তাকে সব ধরেনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ফসল

রাজশাহীতে আখ চাষের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যত

রাজশাহীর দুর্গাপুরে বিগত পাঁচ বছর থেকে আখ চাষ করে ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছেন অনেক চাষি। এই উপজেলায় এক সময় আখ চাষের কোন ছোঁয়া ছিলো না। গত পাঁচ বছর থেকে চিবিয়ে খাওয়া আখ চাষ করতে দেখা গেছে চাষিদের। আখ চিনি ও গুড় তৈরির জন্য প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আমাদের দেশে মেশিনের সাহয্যে রস করে এবং চিবিয়ে খাওয়ার জন্য প্রচুর পরিমানে আখ ব্যবহার হয়ে থাকে।

দেশের প্রায় শতভাগ মানুষের কাছেই চিবিয়ে খাওয়ার অন্যতম প্রিয় হচ্ছে আখ। আখের রসে শর্করা, আমিষ, চর্বি, ক্যালশিয়াম, ফসফরাস, লৌহ, এবং রিবোফ্লাবিন ও ক্যাটরিন বিদ্যামান। এটি অধিক পুষ্টিকর ও উচ্চ ক্যালরি সম্পন্ন হওয়ায় ক্লান্তি বিমোচন এবং তাথক্ষনিক শক্তি যোগাতে আখের রসের কোন বিকল্প নেই।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে জানা গেছে, অন্যান্য ফসলের তুলনায় আখের চাষ অধিক পরিমাণে লাভজনক হওয়ায় গত পাঁচ বছর থেকে দুর্গাপুর উপজেলা জুড়ে দিন দিন আখের চাষ বেড়েই চলেছে। বর্তমানে দুর্গাপুর উপজেলার বাজারগুলোতে দেখা গেছে ব্যাপক হারে আখ বিক্রি। এই আখ হস্ত ও ইঞ্জিন চালিত মাড়াইকলে আখের রস ব্যাপক বিক্রি হচ্ছে। এর পাশাপাশি চিবিয়ে খাওয়া থেকেও পিছিয়ে নেই আখ প্রিয় মানুষ।

উপজেলা বিভিন্ন বাজারে প্রতিটি আখ বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৫০ টাকায়। যা গত বারের চেয়ে পিচ প্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা করে বেশি। এতে স্থানীয় আখ চাষিরা অনেক লাভবানও হচ্ছে এবং আখ চাষে বাড়ছে আগ্রহ। দুর্গাপুর উপজেলার চৌবাড়িয়া গ্রামের আখ চাষি আবদুর রহিমের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক বিঘা জমিতে সার, বীজতলা তৈরি, রোপন, পরিচর্যা থেকে শুরু করে আখ কাটা পর্যন্ত খরচ হয় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা।

আর একবিঘা জমি থেকে উৎপাদিত আখ বিক্রি করে পাওয়া যায় প্রায় ১লাখ ৩০ হাজার টাকা। তিনি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অফিসের পরামর্শ নিয়ে তার নিজস্ব জমি ও লিজকৃত প্রায় ৪ বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছেন। তিনি বলেন, সরকারি সহায়তা পেলে আরো বেশি জমিতে আখ চাষ করতে পারবেন।

দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মসিউর রহমান বলেন, চিনি ও গুড় উৎপাদনে ব্যবহৃত আখ থেকে চিবিয়ে খাওয়া আখ নরম, রসালো ও অধিক চিনিযুক্ত। আমাদের দেশে ১৬টি জাতের চিবিয়ে খাওয়া আখের জাত রয়েছে। এর মধ্যে গ্যান্ডারি, বাবুলাল, ঈশ্বরদী ১৮, আচা ফাম, সিও-২০৮,অসৃত, কাজলা, মিশ্রিমালা, ও সিও-৫২৭ জাতগুলো অন্যতম। তবে এই উপজেলায় গ্যান্ডারি, বাবুলাল, ঈশ্বরদী ১৮,জাতের আখ চাষ করতে দেখা গেছে।

তিনি আরো বলেন, আখ চাষ লাভজন ফসল হওয়ায় চাষিরা দিন দিন আখ চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছে । তবে আখ চাষের পাশাপাশি চাষিরা সাথী ফসল হিসেবে মুগ, মশুর বা সবজি চাষ করলে আরো বেশি লাভবান হবেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

খাগড়াছড়িতে পলিথিন শেড পদ্ধতিতে আগাম মূলা চাষে সফল শাহ জালাল

পলিথিন শেড পদ্ধতিতে শীতকালে মূলার আগাম চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের বেলছড়ি এলাকার মো. শাহ জালাল (২৫)।

মো. শাহ জালাল বলেন, অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করতে পেরেছিল। তারপর বেকার ঘুরছিল, মাঝে মধ্যে অন্যার জামিতে কাজ করত। বর্গা জমি নিয়ে মাঝে মধ্যে সবজি চাষ করত শাহ জালাল। সবসময় মাথায় চিন্তা ভাবনা থাকত নতুন কিছু চাষ করার।

সবজি খেতে গিয়ে দেখা যায়, সবজি চাষে পদ্ধতি জমিতে উঁচু বেড তৈরি করে, পলিথিনের চাল দিয়ে বেডে বীজ বপন করেছে। অতিবৃষ্টি থেকে চারা বাঁচানোর জন্য পলিথিনের চালা দেয়া হয়েছে। আগাম চাষের জন্য চালা দেয়া হয়েছে যাতে করে ফসলে ক্ষয়ক্ষতি কম হয়।

তিনি আরও বলেন, অনেক কষ্ট করে আগাম জাতের মূলার বীজ সংগ্রহ করে পলিথিন শেডে করে বপন করি এতে অনেক ফলন ভালো হয়েছে। ৩০ শতক জমিতে আগস্ট মাসের মাঝামাঝিতে ইউনাইটেড কোম্পানির ট্রাপিআনা জাতে মূলা বীজ বপন করি।

বপনের ৪৫ দিনের মধ্যে ফল আসতে শুরু করে প্রতি কেজি মূলা ৫০ টাকা ধরে বিক্রি করছি। ৫০ হাজার টাকার মতো মূলা বিক্রি করতে পাবর। আগাম চাষ পদ্ধতি কীভাবে শিখলেন? জবাবে তিনি বলেন, ফেসবুকের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গা উপজেলার কৃষি অফিসারের পেজ থেতে আমি এই পদ্ধতি জানতে পারি এবং চুয়াডাঙ্গা কৃষি অফিসারের সাথে যোগাযোগ করে তারপর চাষ শুরু করি। এ ছাড়াও ফসলি অ্যাপ ও ইউটিব থেকেও ভিডিও দেখে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান জানতে পেরেছি। তবে আমাদের দীঘিনালা উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তেমন কোনো পরামর্শ পাইনি।

সবশেষে তিনি আরও বলেন, আমাদের কৃষি অফিস থেকে নতুন নতুন ফসল চাষ পদ্ধতি ও বীজ পেলে এলাকার অনেকে লোক তামাক চাষ ছেড়ে দেবে। তামাক চাষ করা ক্ষতি জেনেও চাষ করার কারণ, তামাক পাতা বেঁচার নিশ্চয়তা আছে। সবজি চাষ করলে অনেক সময় পুঁজিও উঠে না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

দেওধান বা মিগারু চাষ পদ্ধতি ও সম্ভাবনা

দেওধান নতুন ফসল। এটি চাল জাতীয় একটি ফসল, এই চাল দিয়ে খই হয়। সাধারনত বালি ও ধান দিয়ে যেভাবে খই ভাজা হয় সেইভাবেই সামান্য বালি পাত্রে রেখে তাপ দিলে দেওধান খই হয়ে যায়। এছাড়া এই চাল দিয়ে রুটি এবং নানান স্বাদের পিঠা তৈরি করে খাওয়া হয়। চালকে ময়দার মত গুড়া করে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করেও রাখা যায়।

বছর দেরেক আগে সপরিবারে ভারতে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান আন্দ্রিয় রেমা (৫১)। পেশায় সে একজন পুরোদস্তুর কৃষক। আত্মীয়ের বাসায় গিয়ে প্রথম দেওধান দেখতে পান। খই হিসেবে খাওয়ার জন্য সেখান থেকে তিনি কিছু দেওধান নিয়ে আসেন। খই ভেজে খাওয়ার পরে কিছু বীজ তিনি রোপনের উদ্দেশ্যে রেখে দেন। নিজে লাগানোর পাশাপাশি আরো দুজন কৃষককে লাগানোর জন্য দেন এই ধান। সে হিসেবে তিনিই প্রথমবারের মত দেশে দেওধান চাষ শুরু করেন। নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের বাসিন্দা আন্দ্রিয় রেমা।

কৃষক রেমা বলেন, “ভারতে এই ফসল পাহাড়ে জুমারা চাষ করে থাকে। আমাদের দেশের এই অঞ্চলে বেশীর ভাগ জমিতে বালুর আধিক্য থাকায় এটি কেউ চাষ করেনা। কারন বেলে মাটিতে এটি ভালো জন্মে না। বেলে মাটিতে পরীক্ষামূলকভাবে আমিই প্রথম চাষ করে দেখলাম। দেওধান চাল চাষে তেমন যত্নে প্রয়োজন হয়না। শুধুমাত্র আগাছা পরিস্কার করে দিলেই চলে। সেভাবে পানিরও প্রয়োজন হয় না। মার্চ-এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তহের মধ্যে বীজ বপন করতে হয়।

বপন পদ্ধতি হচ্ছে ১ ইঞ্চি পরিমাণ মাটি গর্ত করে প্রতিটি গর্তে ২-৩টি বীজ পুতে দিতে হয়। ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে চারা গজায়। গাছ দ্রুত বাড়ে। গাছটি বড় হলে বেশ জায়গা দখল করে তাই ২-৩ ফুট দূরত্ব বজায় রেখে বীজ পুতে দিতে হয়। ছোট বেলায় গাছটি দেখতে ভুট্টা গাছের মত হলেও পরিপূর্ণ এক একটি গাছ ঠিক আখ গাছের মত। এর উচ্চতা প্রায় ৯-১০ ফিট। এর পাতা, গাছের ধরণ, আকার, আকৃতি হুবহু আখ গাছের মত। অক্টোবর-নভেম্বর মাসে সাদা রঙের ফুল ফোটে।

ফুল ফোটার ১০-১২ দিনের মধ্যেই দানাদার বীজ হতে শুরু করে। এর পর ১-২ মাসের মধ্যে বীজ পরিপক্ক হতে শুরু করে। ফুল হতে যখন ফল বা বীজ হতে শুরু করে তখন এর খোসার রং সবুজ ও খয়েরী রঙের হয়ে থাকে। তার পর এর রং সাদা হয়ে যায়। পরিপক্ক দেওধানের রং ধবধবে সাদা হয়। ফুল হতে ফল বা বীজগুলো শক্ত হতে শুরু করলেই খোসাগুলো বীজের চারপাশ ছড়িয়ে পড়ে।

ধানের মতই অনেকগুলো শীষের সমন্বয়ে গোছা আকারে ফলন হয়। এক গোছা হতে ফলন হয় প্রায় ২০০-৩০০ গ্রামের মত। কার্তিক মাসের শেষের দিকে হঠাৎ ঝড় বৃষ্টি হওয়ায় গাছের অনেক ক্ষতি হয়ে যায়। তখন কেবল গাছে ফুল আসতে শুরু করেছে। ঝড় বৃষ্টিতে অধিকাংশ ফুল ঝরে গিয়েছিল। অনেক লম্বা হওয়ায় কিছু গাছ ভেঙ্গে পড়েছিলো। বিপত্তি সত্তেও কিছু কিছু গাছ টিকে গিয়েছিল। সেখান থেকেই বীজ সংগ্রহ করতে সক্ষম হন তিনি। দেওধানে সাদা জাব পোকা ও গান্ধি পোকার আক্রমন বেশী দেখা দেয়। তবে পোকাঁ দমনের জন্য তিনি কোনো কিটনাশক ব্যবহার করেননি, শুধুমাত্র ছাই দিয়েই কাজ চালিয়ে গেছেন।

তিনি আরো জানান, দেওধান চাষে বড় সমস্যা পোকা বা রোগ নয়। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো পাখি। আর এই পাখির উপদ্রব থেকে ফসল রক্ষা করা কঠিন হয়ে যায়। তার ক্ষেতে দেওধান পরিক্ক হওয়ার পূর্বেই বাবুই পাখির উপদ্রব দেখা দেয়। যা সামাল দিতে তার নাভিশ্বাস উঠেছিলো। দেওধান উৎপাদন হওয়ায় এলাকায় মানুষের ভিড় পরেছিলো কারন ফসলটি কারোরই তেমন পরিচিত ছিলো না। তিনি ছাড়াও পাতলাবন গ্রামের সবিতা মানখিন ও চন্দ্রডিঙ্গা গ্রামের বেনুকা ম্রং দেওধান চাষ করেছিলেন।

সবতিা মানখিনের জমিটি পাথুরে ঝুরঝুরে বালি হওয়ায় সেখানে কোন বীজ অংকুরোদগম হয়নি। তবে চন্দ্রডিঙ্গা গ্রামের কৃষক বেনুকা ম্রং এর জমিতে গাছ হয়েছিল, ফলনও হয়েছিল। কিন্তু বাবুই পাখির উপদ্রবের কারনে খুব কম পরিমাণ বীজ সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন এই কৃষক। তাদের আশা এই বছর আরো বেশী পরিমানে চাষ করবেন এবং অন্যান্য কৃষকের মাঝেও তারা এটি ছড়িয়ে দিবেন। দেওধান চাল জাতীয় একটি ফসল, এই চাল দিয়ে খই হয়। সাধারনত বালি ও ধান দিয়ে যেভাবে খই ভাজা হয় সেইভাবেই সামান্য বালি পাত্রে রেখে তাপ দিলে দেওধান খই হয়ে যায়। এছাড়া এই চাল দিয়ে রুটি এবং নানান স্বাদের পিঠা তৈরি করে খাওয়া হয়। চালকে ময়দার মত গুড়া করে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করেও রাখা যায়।

বছর দেরেক আগে সপরিবারে ভারতে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান আন্দ্রিয় রেমা (৫১)। পেশায় সে একজন পুরোদস্তুর কৃষক। আত্মীয়ের বাসায় গিয়ে প্রথম দেওধান দেখতে পান। খই হিসেবে খাওয়ার জন্য সেখান থেকে তিনি কিছু দেওধান নিয়ে আসেন। খই ভেজে খাওয়ার পরে কিছু বীজ তিনি রোপনের উদ্দেশ্যে রেখে দেন। নিজে লাগানোর পাশাপাশি আরো দুজন কৃষককে লাগানোর জন্য দেন এই ধান। সে হিসেবে তিনিই প্রথমবারের মত দেশে দেওধান চাষ শুরু করেন। নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের বাসিন্দা আন্দ্রিয় রেমা।

কৃষক রেমা বলেন, “ভারতে এই ফসল পাহাড়ে জুমারা চাষ করে থাকে। আমাদের দেশের এই অঞ্চলে বেশীর ভাগ জমিতে বালুর আধিক্য থাকায় এটি কেউ চাষ করেনা। কারন বেলে মাটিতে এটি ভালো জন্মে না। বেলে মাটিতে পরীক্ষামূলকভাবে আমিই প্রথম চাষ করে দেখলাম।

তিনি বলেন, দেওধান চাল চাষে তেমন যত্নে প্রয়োজন হয়না। শুধুমাত্র আগাছা পরিস্কার করে দিলেই চলে। সেভাবে পানিরও প্রয়োজন হয় না।

মার্চ-এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তহের মধ্যে বীজ বপন করতে হয়। বপন পদ্ধতি হচ্ছে ১ ইঞ্চি পরিমাণ মাটি গর্ত করে প্রতিটি গর্তে ২-৩টি বীজ পুতে দিতে হয়। ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে চারা গজায়। গাছ দ্রুত বাড়ে। গাছটি বড় হলে বেশ জায়গা দখল করে তাই ২-৩ ফুট দূরত্ব বজায় রেখে বীজ পুতে দিতে হয়। ছোট বেলায় গাছটি দেখতে ভুট্টা গাছের মত হলেও পরিপূর্ণ এক একটি গাছ ঠিক আখ গাছের মত। এর উচ্চতা প্রায় ৯-১০ ফিট। এর পাতা, গাছের ধরণ, আকার, আকৃতি হুবহু আখ গাছের মত।

অক্টোবর-নভেম্বর মাসে সাদা রঙের ফুল ফোটে। ফুল ফোটার ১০-১২ দিনের মধ্যেই দানাদার বীজ হতে শুরু করে। এর পর ১-২ মাসের মধ্যে বীজ পরিপক্ক হতে শুরু করে। ফুল হতে যখন ফল বা বীজ হতে শুরু করে তখন এর খোসার রং সবুজ ও খয়েরী রঙের হয়ে থাকে। তার পর এর রং সাদা হয়ে যায়।

পরিপক্ক দেওধানের রং ধবধবে সাদা হয়। ফুল হতে ফল বা বীজগুলো শক্ত হতে শুরু করলেই খোসাগুলো বীজের চারপাশ ছড়িয়ে পড়ে। ধানের মতই অনেকগুলো শীষের সমন্বয়ে গোছা আকারে ফলন হয়। এক গোছা হতে ফলন হয় প্রায় ২০০-৩০০ গ্রামের মত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

প্রযুক্তির আধিপত্যে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামীণ কৃষি যন্ত্রপাতি

প্রযুক্তি শুধু আমাদের ঘরেই সীমাবদ্ধ নেই, মাঠেও পৌছে গেছে। এর ফলে যেমন আমাদের কাজ হয়ে উঠেছে অনেক সহজ তেমনি দিনে দিনে হারিয়ে যেতে বসেছে অনেক কিছু। যেমন ফলে হারিয়ে যেতে বসেছে কাঠের লাঙ্গল, বাঁশের মই ও জোয়াল।

কৃষি কাজে এক টুকরো লোহার ফাল আর কাঠমিস্ত্রির হাতে তৈরী কাঠের লাঙ্গল, বাঁশের জোয়াল, মই ও শক্ত দড়ি দিয়ে বেঁধে গরু, ঘোড়া, মহিষ দিয়ে জমি চাষ করতেন গ্রামের কৃষকরা। কৃষি কাজে ব্যবহৃত এসময় স্বল্পমূল্যের কৃষি উপকরণ ও গরু দিয়ে হাল চাষ করে যুগের পর যুগ মানুষ ফসল উৎপাদন করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এতে করে একদিকে পরিবেশ রক্ষা অন্যদিকে কৃষকের অর্থ ব্যয় কম হত। গরুর বর্জ্য পদার্থ জমিতে প্রাকৃতিক সার হিসেবে ব্যবহার করা হতো।

এতে করে জমির উর্বরা শক্তি ও ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পেত। কয়েকবছর আগে এসব গরুর হালে লাঙ্গল জোয়াল আর মই উপজেলা বিভিন্ন গ্রামের জমিতে ব্যবহার হতে দেখা যেত। চাষীরা অনেক সময় নিজের জমির হালচাষ শেষে অন্যের জমি চাষ করে কিছু অর্থ উপার্জন করতেন। কিন্তু এখন সমস্ত এলাকা ঘুরে এমন হাতে গোনা কয়েকজন কৃষক পাওয়া যেতে পারে যারা এখনো সেসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে চাষাবাদ করে।

পরিবর্তনের সাথে সাথে এসব গরুর হাল, কৃষি উপকরণ, কাঠের লাঙ্গল,বাঁশের মুই জোয়াল, গরু মহিষ হারিয়ে যেতে বসেছে। উপজেলার বেশ কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা বলে বিলুপ্তির কারণ জানতে চাইলে তারা জানান বর্তমান যুগে হাল চাষের জন্য লোহার লাঙ্গল, ট্রাক্টর, বীজ বপন, ফসল কাটা, ধান মাড়াই, ঝারাই সব কিছুই আধুনিক যন্ত্রপাতি দ্বারা হচ্ছে।

ফলে কাঠের লাঙ্গল, বাঁশের মই, জোয়াল, গরু মহিষ, ঘোড়া হারিয়ে যেতে বসেছে। আর এ সমস্ত যন্ত্র চালাতে ২/১ জন লোকের প্রয়োজন।ফলে বিত্তবান কৃষকরা ওই আধুনিক যন্ত্রপাতি কিনে দিন মজুরের ভূমিকায় কাজ করলেও গ্রামের অধিকাংশ মধ্যবিত্ত ও নিবিত্ত দিনমুজরের জীবন থেকে এ সমস্ত স্মরনীয় দিন চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

ধান চাষে জলের অপচয় রুখতে ব্যবহার করুন শ্রী পদ্ধতি

ধান চাষে জলের অপচয় একটা প্রধান কারণ | ধান চাষে জলের অপচয় রোধ করতে প্রয়োজন কৃষি পদ্ধতির পরিবর্তন | কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, শ্রী পদ্ধতির সাহায্যে কম জলে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন সম্ভব |  এই আধুনিক পদ্ধতির সাহায্যে জলের ব্যবহার অর্ধেক করা যেতে পারে | এই পদ্ধতিতে প্রতি একরে যেমন বীজ কম লাগবে, তেমনি কম ব্যবহার করতে হবে রাসায়নিক 

বেশিরভাগ কৃষক ধান হিসাবে মূলত আমনকেই বোঝেন। এই আমন ধানের চাষ (Paddy Cultivation) বর্ষা নির্ভর | বোরো চাষের মতো আমন চাষও সেচ নির্ভর হয়ে অনেক সময় মাটির নিচে জল ভাণ্ডারে টান পড়ে | অনেক সময়, কৃষকরা বীজতলা তৈরী করতে পারেননা | এক কেজি ধান উৎপাদন করতে প্রয়োজন হয় ১৪০০-১৮০০ লিটার জলের। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকাজে জলের অপচয় কমিয়ে ফেলা সম্ভব জলসেচের সামান্য পরিবর্তন ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে।

সাধারণত এ রাজ্যে চাষীরা জমি কাদা করে ধান ছাড়া রোপণ করে থাকেন | বীজতলা তৈরি, জমি কাদা করে চারা রোপণ ও চাষের জন্য প্রচুর জলের প্রয়োজন হয় | ধানের ছাড়া রোপণ থেকে ধান কাটার আগে পর্যন্ত এক থেকে দুই ইঞ্চি জল ধরে রাখা হয় জমিতে | কিন্তু, বিশেষজ্ঞদের মতে জল ধরে রাখার প্রয়োজন নেই | প্রয়োজন শুধু আধুনিক ও পদ্ধতিগত পরিবর্তন | এতে শুধু চাষের খরচ কমবেনা, পাশাপাশি জলের সাশ্রয়ের সাথে ফলনও বেশি হবে |

সাশ্রয়কারী শ্রী পদ্ধতি(Sri Method):

সবথেকে জল সাশ্রয়কারী প্রযুক্তি হলো শ্রী পদ্ধতিতে ধান চাষ | এই পদ্ধতির সাহায্যে উঁচু বা মাঝারি উচ্চতার জমি, যেখানে জল নিকাশি ব্যবস্থা আছে, সেখানে এই পদ্ধতিতে ধান চাষ সম্ভব। কিন্তু, শ্রী পদ্ধতিতে প্রায় ৫০ শতাংশ কম জল লাগে | এই পদ্ধতি অবলম্বনে ফলন যেমন বেশি হয়, তেমনি রোগ পোকার আক্রমণও কম হয় | যেখানে সাধারণ পদ্ধতিতে একর প্রতি ২০ কেজি ধানের বীজ লাগে সেখানে এই পদ্ধতিতে মাত্র ২ কেজি বীজ লাগে |

প্রধানত, শ্রী পদ্ধতিতে ১০-১২ দিন বয়সের একটি করে চারা নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনে জমিতে রোপণ করা হয় | যেহেতু শিকড় মাটির অনেক গভীরে থাকে তাই নিচের থেকে খাদ্য সংগ্রহ করে | ফলত, ২০-২৫ শতাংশ রাসায়নিকও কম লাগে | সর্বোপরি, দানা পুষ্ট হওয়ায় ফলনও হয় বেশি। অপরদিকে,

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com