আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফল

মাল্টার রাজত্ব খাগড়াছড়িতে

খাগড়াছড়ির পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র থেকে সর্বপ্রথম বারি মাল্টা-১ অবমুক্ত করে। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কেন্দ্র থেকে অনুমোদন পায়। সুমিষ্ট উচ্চফলনদানকারী এ জাতের মাল্টা তিন পার্বত্য অঞ্চলসহ সমতল অঞ্চলের কৃষকরা চাষ করে দারুণ সফলতা পেয়েছেন। পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মাধ্যমে এ জাতের মাল্টা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। লাভজনক ও ভালো ফলন হওয়ায় পাহাড়ে বাড়ছে মাল্টার আবাদ। অন্যান্য ফলের তুলনায় খাগড়াছড়ির সমতল ও ঢালু জমিতে মাল্টার আবাদ বাড়ছে। মাল্টা চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন অনেক কৃষক। বাজারে প্রতি কেজি মাল্টা বিক্রি হয় ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। চলতি বছরে খাগড়াছড়িতে ৩০৫ হেক্টর জমিতে মাল্টার আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো পরিচর্যা নিলে প্রতি হেক্টরে প্রায় ১৫ টন মাল্টা উৎপাদন সম্ভব। চলতি বছরে মাল্টা উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৪ হাজার ৫৭৫ টন। প্রতি টন মাল্টার পাইকারি মূল্য প্রায় ৭০ হাজার টাকা। যার বাজার মূল্য প্রায় ৩২ কোটি ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

খাগড়াছড়ির জেলা সদরের কৃষি গবেষণা এলাকায় মাল্টার বাগান গড়ে তুলেছেন ঊষাতন চাকমা। প্রতি বছরই ভালো ফলন হচ্ছে। কৃষক ঊষাতন চাকমা জানান, ‘গবেষণা কেন্দ্র থেকে ২শ’ চারা নিয়ে মাল্টার বাগান করেছি। চারা লাগানোর ৩ বছরের মাথায় ফলন আসা শুরু হয়েছে। আমার চাষ করা অধিকাংশ মাল্টা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবসায়ী এসে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। চলতি মৌসুমে মাল্টা বিক্রি করে প্রায় দুই লাখ টাকা আয় করতে পারব।’ ঊষাতন চাকমার মতো জেলার হাজারও কৃষক মাল্টার বাগান গড়ে তুলেছেন। খাগড়াছড়ির বিভিন্ন বাগান থেকে মাল্টা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন পাইকারী ব্যবসায়ীরা। এছাড়া জেলা শহরের বিভিন্ন জায়গায় ভ্যানে করে বিক্রি হচ্ছে মাল্টা। খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের সূত্রে জানা যায়, ‘২০০৩ সালে খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র থেকে সর্বপ্রথম বারি মাল্টা-১ অবমুক্ত করা। বারি মাল্টা-১ নিয়মিত ফলদানকারী উচ্চশীল জাতের। মাল্টা গাছ ছোট হলেও বেশ ঝোপালো হওয়ায় ফলন বেশি হয়। সেচ ব্যবস্থায় সারা বছর মাল্টার চারা রোপণ করা গেলেও বর্ষাকালে এটি বপনের উত্তম সময়। মাল্টার কলম চারা, পাতা, ফুল ও ফল আসার পর চারার নিয়মিত যত্ন নিতে হয়। রোপণের তিন থেকে চার বছরের মধ্যে মাল্টার ফলন পাওয়া যায়। পরিপক্ব মাল্টার মিষ্টতার পরিমাণ থাকে প্রায় ১২ শতাংশ পর্যন্ত হয়।

এগ্রোবিজ

আম, লিচু বাজারজাত করতে নানা উদ্যোগ

বর্তমানে বৈশ্বিক মহামারী করোনার প্রভাবে বাংলাদেশের শাকসবজি ও মৌসুমি ফলসহ কৃষিপণ্যের পরিবহন এবং বাজারজাতকরণে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিক্রি করতে পারছে না। বড় শহরের বাজারে ক্রেতার আগমন প্রায় না থাকায় ও জনগণের আয় হ্রাস পাওয়ার কারণে বাজারে কৃষিপণ্যের চাহিদা হ্রাস পেয়েছে, ফলে পাইকার ও আড়তদাররা কৃষিপণ্য ক্রয়ে আগ্রহ হারাচ্ছে।

কৃষিপণ্য পরিবহন শেষে ট্রাক খালি ফেরার আশঙ্কায় ভাড়া দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। এ সকল কারণে ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে বেশির ভাগ উৎপাদিত ফল ও সবজি। এমন পরিস্থিতিতে আম লিচু বাজারজাত করতে নানান উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, করোনা পরিস্থিতিতে কৃষিপণ্যের বিপণন এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

কৃষিমন্ত্রী শনিবার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে করোনা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আম, লিচুসহ মৌসুমি ফল এবং কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে অনলাইনে (জুম প্ল্যাটফর্মে) মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।

এ সভায় কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, খাদ্য মন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহ্‌মুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোঃ শাহ্‌রিয়ার আলম, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনা‌ইদ আহ্‌মেদ পলক, জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. আ ফ ম রুহুল হক, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, চাঁপাই নবাবগঞ্জের সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহম্মেদ শিমুল, কৃষি ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ এবং জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট সিম্পসন অনলাইনে সংযুক্ত ছিলেন। সভাটি সঞ্চালনা করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: নাসিরুজ্জামান।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, করোনার কারণে তরমুজ চাষিরা উৎপাদিত তরমুজের অধিকাংশই বিক্রি করতে পারেনি। যা বিক্রি করেছে তার ভালো দামও পায়নি। ইতোমধ্যে আম, লিচু, আনারস, কাঁঠালসহ মৌসুমি ফল বাজারে আসতে শুরু করেছে। এসব মৌসুমি ফল সঠিকভাবে বাজারজাত না করা গেলে চাষিরা আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আবার, দেশের অধিকাংশ মানুষ সুস্বাদু ও পুষ্টিকর মৌসুমি ফল খাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে। অথচ এই সময়ে করোনা মোকাবেলায় দৈহিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে মৌসুমি পুষ্টিকর ফল গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।

সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, ট্রাকসহ অন্যান্য পরিবহনের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করার উদ্যোগ নিতে হবে। ট্রাকের জ্বালানির ক্ষেত্রে ভর্তুকি দেয়া যেতে পারে যাতে ট্রাকের ভাড়া কম হয়। পুলিশ ব্যারাক, সেনাবাহিনীর ব্যারাক, হাসপাতাল, জেলখানাসহ বিভিন্ন সরকারি অফিসে কৃষকের কাছ থেকে আম কিনে সরবরাহ করা গেলে আমের বাজারজাতকরণে কোন সমস্যা হবে না বলেও তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, এই সংকটের সময়ে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে।

খাদ্য মন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ব্যবসায়ী, আড়তদার ও ফড়িয়ারাদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে পরিচয় পত্র ইস্যু এবং ব্যাংকের লেনদেনের সময়সীমা বাড়াতে হবে। এই মধু মাসে বিদেশি ফল যেমন আপেল, আঙ্গুর প্রভৃতি আমদানি কমানোর পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে।

করোনার সময়ে সকল ধরনের কার্গো লঞ্চ চালু আছে জানিয়ে নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহ্‌মুদ চৌধুরী বলেন, শুধু আম-লিচু নয়, সব মৌসুমি ফলের বাজারজাতকরণে ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে সম্পৃক্ত করে আন্তর্জাতিক বাজার ধরতে হবে, তা নাহলে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোঃ শাহ্‌রিয়ার আলম বলেন, গত কয়েক বছরে আমের ভালো দাম না পাওয়ায় রাজশাহীতে আম চাষ কমে যাচ্ছে। ব্যবসায়ী ও ফড়িয়ারাদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে পরিচয়পত্র ইস্যু, তাদের যাতায়াতে হয়রানি কমানো, ব্যাংকের লেনদেনের সময়সীমা বাড়ানো, এবং বিশেষ করে আমে ফরমালিন বা ক্ষতিকর কিছু নেই মর্মে জনগণকে সচেতন ও আশ্বস্ত করতে হবে বলে তিনি জানান। ভিডিও ক্লিপের মাধ্যমে সকল গণমাধ্যমে প্রচারণা চালানোর পরামর্শও প্রদান করেন তিনি।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক বলেন, আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে প্রযুক্তি নির্ভর ‘এক শপ’ অ্যাপস চালু করা হবে যার মাধ্যমে সারা দেশের চাষিরা পণ্য বেচাকেনা করতে পারবে। এর মাধ্যমে চাষিদের পণ্য এনে মেগাশপের পাশাপাশি ডোর টু ডোর গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেয়া যাবে।

ড. আতিউর রহমান বলেন, স্থানীয় মার্কেটে আমের চাহিদা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। কৃষিখাতে অতিরিক্ত বাজেটের প্রয়োজন হলে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে।
বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি তাজুল ইসলাম বলেন, এই সংকটের সময় তারা পাশে থেকে কাজ করবে। আম-লিচু পরিবহণের কোন সংকট হবে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

কৃষিমন্ত্রী জানান, আজকের সভায় পাওয়া সুপারিশ অনুযায়ী:

১. হাওরে ধান কাটা শ্রমিকদের যেভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠানো হয়েছে, তেমনি অন্যান্য জেলা হতে ব্যবসায়ী, আড়তদার ও ফড়িয়ারাদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করা, প্রয়োজনে তাদেরকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রত্যয়নপত্র প্রদান ও নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা নেয়া।
২. মৌসুমি ফল এবং কৃষিপণ্য পরিবহণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ট্রাক ও অন্যান্য পরিবহনের অবাধে যাতায়াত নির্বিঘ্ন করা, পরিবহণের সময় যাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী মাধ্যমে কোনরূপ হয়রানির শিকার না হয় সে ব্যবস্থা করা।
৩. বিআরটিসির ট্রাক ব্যবহারে উদ্যোগ নেয়া।
৪. স্থানীয়ভাবে ব্যাংকের লেনদেনের সময়সীমা বাড়ানো,
৫. পার্সেল ট্রেনে মৌসুমি ফল এবং কৃষিপণ্য পরিবহণের আওতা বাড়ানো, হিমায়িত ওয়াগন ব্যবহার করা যায় কিনা সেদিকে নজর দেয়া
৬. ফিরতি ট্রাকের বঙ্গবন্ধু সেতুতে টোল হ্রাস করা
৭. ত্রাণ হিসেবে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীতে আম, লিচুসহ মৌসুমি ফল অন্তর্ভূক্ত করার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের নিকট অনুরোধ জানানো।
৮. অনলাইনে এবং ভ্যানযোগে ছোট ছোট পরিসরে কেনাবেচার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা
৯. প্রাণ, একমি,  ব্র্যাকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠান যারা কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত করে জুস, ম্যাঙ্গোবার, আচার, চাটনি প্রভৃতি তৈরি করে, তাদেরকে এবছর বেশি বেশি আম-লিচু কেনার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তারা এ বছর বেশি করে আম কিনবেন বলে জানিয়েছেন।
১০. মৌসুমি ফলে যেন কেমিক্যাল ব্যবহার করা না হয় সেজন্য জেলা প্রশাসন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং কৃষি বিপণন অধিদপ্তর সমন্বিতভাবে মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করাসহ‌ সুপারিশগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

সভায় জানানো হয়, এ বছর ১ লাখ ৮৯ হাজার হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে এবং প্রত্যাশিত উৎপাদন ২২ লক্ষ ৩২ হাজার মেট্রিকটন। রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সাতক্ষীরা, নাটোর, গাজীপুর এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলাগুলোতে অধিকাংশ আমের ফলন হয়।

লিচুর আবাদ হয়েছে প্রায় ৩২ হাজার হেক্টর জমিতে এবং প্রত্যাশিত উৎপাদন ২ লাখ ৩২ হাজার মেট্রিক টন। অধিকাংশ লিচুর ফলন হয় রাজশাহী, দিনাজপুর, পাবনা, গাজীপুর এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলায়। কাঁঠালের আবাদ হয়েছে ৭১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে ও সম্ভাব্য উৎপাদন ১৮ লাখ ৮৯ হাজার মেট্রিক টন। টাঙ্গাইল, গাজীপুর ও রাঙ্গামাটিতে সবচেয়ে বেশি কাঁঠাল উৎপাদন হয়। অন্যদিকে, আনারসের আবাদ হয়েছে ২০ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে ও সম্ভাব্য উৎপাদন ৪ লাখ ৯৭ হাজার মেট্রিক টন। আনারসের সিংহভাগ উৎপাদন হয় টাঙ্গাইলে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

পাকা আম দিয়ে তৈরি করুন সুস্বাদু লাচ্ছি

পাকা আম দিয়ে তৈরি করুন সুস্বাদু লাচ্ছি
পাকা আম দিয়ে তৈরি করুন সুস্বাদু লাচ্ছি

এসেছে আমের মৌসুম। উপকারী এই ফলটি স্বাদে এবং গন্ধে অতুলনীয়। পাকা আম দিয়ে তৈরি করা যায় নানা পদের খাবার। লাচ্ছি হলো তার একটি। চলুন জেনে নেয়া যাক পাকা আম দিয়ে লাচ্ছি তৈরির রেসিপি-

উপকরণ:
পাকা আম ১টি
চিনি ১ টেবিল চামচ
মিষ্টি দই ১ কাপ
পেস্তা বাদাম ২/৩টা (কুচি করা)
এলাচ গুঁড়া ১ চিমটি।

পাকা আম দিয়ে তৈরি করুন সুস্বাদু লাচ্ছি
পাকা আম দিয়ে তৈরি করুন সুস্বাদু লাচ্ছি

প্রণালি:
প্রথমে আম ভালো করে ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে আঁটি বের করে নিতে হবে। এরপর ব্লেন্ডারে আম ব্লেন্ড করে নিয়ে তা কাঁচের বাটিতে ঢেলে রাখুন। এবার দই, চিনি আর বরফ কুচি একসঙ্গে ব্লেন্ড করে নিন।

এবার দইয়ের মিশ্রণে আম ঢেলে আরও একবার ব্লেন্ড করে নিন। গ্লাসে নিয়ে এলাচ গুঁড়া ও পেস্তা বাদাম ছড়িয়ে দিন। তৈরি হয়ে গেল মজাদার পাকা আমের লাচ্ছি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

কলার দামে চাষিরা খুশি, ক্ষুব্ধ ক্রেতারা

কলার দামে চাষিরা খুশি, ক্ষুব্ধ ক্রেতারা
কলার দামে চাষিরা খুশি, ক্ষুব্ধ ক্রেতারা

কলার আঁতুড় ঘর খ্যাত কুষ্টিয়া এবং ঝিনাইদহ জেলা। দুই জেলাসহ পার্শ্ববর্তী চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর মিলে চার জেলায় উৎপন্ন হয় দেশের সর্বমোট চাহিদার এক তৃতীয়াংশ কলা। তাই বলে দাম কম নয় এ অঞ্চলে। রমজানে প্রতি হালি কলা বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা।

স্থানীয় বিক্রেতারা বলেন, ‘রমজানে সরবারহ কম থাকায় এবং অতিরিক্ত চাহিদার কারণে অধিকাংশ কলাই পাইকারি হাটে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে চড়া দামে। সেগুলো ট্রাকে করে চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। ফলে এলাকায় পাকা কলার দাম যে কোন বছরের তুলনায় অনেক বেশি।

শেখপাড়া বাজারে কলা কিনতে আসা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘রমজানের আগে কলার হালি ছিল ১০ থেকে সর্বোচ্চ ২০ টাকা। কিন্তু রোজা শুরু হতেই একলাফে ৪০-৫০ টাকা হয়ে গেছে। অথচ প্রচুর কলা উৎপন্ন হয় এখানে।

কলার দামে চাষিরা খুশি, ক্ষুব্ধ ক্রেতারা
কলার দামে চাষিরা খুশি, ক্ষুব্ধ ক্রেতারা

এদিকে দক্ষিণবঙ্গের সর্ববৃহৎ কলার বাজার কুষ্টিয়া জেলার মধুপুরে। খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা এ বাজার বসছে গত ২৫ বছর ধরে। সূর্য ওঠার সাথে সাথে কুষ্টিয়াসহ পাশের জেলাগুলো থেকে এখানে ভ্যানে করে কলা আসতে থাকে। বেলা ১২টার মধ্যেই ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাইকাররা কলা কেনা শেষে ট্রাকে লোড করা শুরু করে।

মধুপুর বাজারের আবদুস সাত্তার জানান, প্রতিদিন ৭০-১০০ ট্রাক কলা কেনা-বেচা হয় এখানে। তবে এবারে রমজানের শুরু থেকেই দাম খুব চড়া। প্রতি কাদি কলা বিক্রি হচ্ছে ৬শ’ থেকে ১২শ’ টাকা।’

কলার দামে চাষিরা খুশি, ক্ষুব্ধ ক্রেতারা
কলার দামে চাষিরা খুশি, ক্ষুব্ধ ক্রেতারা

ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা থানার বসন্তপুর গ্রামের কলা চাষি মতিন বলেন, ‘কলার দাম বেশি হওয়ায় পাইকারি বাজারে আমরা কলা বিক্রি করছি। এতে এলাকার মানুষ কলা পাচ্ছে না। পাড়ার দোকান থেকে শুরু করে বাজারে অনেক বেশি দামে কলা বিক্রি হচ্ছে। এবার কলার দাম নিয়ে চাষিরা অনেক খুশি।’

মধুপুর বাজারে চট্টগ্রাম থেকে কলা কিনতে আসা নিজাম নামের এক পাইকারি ব্যবসায়ী জানান, এবারের রমজানের শুরু থেকে তেমন কোন ফল নেই বাজারে। তাই কলার চাহিদা অনেক বেশি। ফলে বেশি দাম দিয়ে হলেও ব্যবসার খাতিরে কিনতে হচ্ছে।

কলার দামে চাষিরা খুশি, ক্ষুব্ধ ক্রেতারা
কলার দামে চাষিরা খুশি, ক্ষুব্ধ ক্রেতারা

কুষ্টিয়ার মধুপুর ছাড়াও ঝিনাইদ জেলার বাস টার্মিনালের উত্তর পাশে বসে বিশাল কলার হাট। এছাড়াও জেলার শৈলকূপা উপজেলা শহরেও কলার হাট রয়েছে। এসব হাট থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রাক কলা চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। অথচ এ এলাকার মানুষ কলা কিনছে চড়া দামে।

ঝিনাইদহ শহরের বাসিন্দা আলী আজগর বলেন, ‘আমরা নিজ দেশে বৈরাগী। রাস্তার দুই ধারে মাঠের পর মাঠ শুধু কলা। অথচ বাজারে কিনতে গেলে কলা নাই, দাম বেশি। আগে তো নিজেদের চাহিদা মেটাতে হবে, তারপর না হয় অন্য জেলায় যাবে। কিন্তু কোন নিয়ম-নীতি নাই। জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

করোনা আম্ফান আর কালবৈশাখীতে দিশেহারা লিচুচাষিরা

 করোনা আম্ফান আর কালবৈশাখীতে দিশেহারা লিচুচাষিরা
করোনা আম্ফান আর কালবৈশাখীতে দিশেহারা লিচুচাষিরা

একের পর এক দুর্যোগে দিনাজপুরের লিচুচাষি ও ব্যবসায়ীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। করোনার মাঝেই সুপার সাইক্লোন আম্ফান ও সর্বশেষ দফায় দফায় কালবৈশাখী ঝড়ে দিনাজপুরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন লিচুচাষি ও ব্যবসায়ীরা। লিচুসহ নানা মৌসুমী ফল গাছ থেকে পাড়ার আগেই প্রাকৃতিক দুর্যোগে গাছেই নষ্ট হয়েছে বেশি। ফলে ক্ষতির মুখে আম, কাঁঠাল, লিচু, ধান, পাট, ভুট্টা, শাকসবজি ও গ্রীষ্মকালীন তরিতরকারি চাষিরা। ফসল নষ্ট হওয়ায় সর্বশান্ত হওয়ার পথে দিনাজপুরের অধিকাংশ কৃষক।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. তৌহিদুল ইকবাল জানান, করোনা, আম্ফান আর দফায় দফায় কাল বৈশাখী ঝড়ে সাড়ে ৭ কোটি টাকা শুধু লিচুতেই ক্ষতি হয়েছে।

 করোনা আম্ফান আর কালবৈশাখীতে দিশেহারা লিচুচাষিরা
করোনা আম্ফান আর কালবৈশাখীতে দিশেহারা লিচুচাষিরা

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের দেয়া তথ্যে জানা যায়, দিনাজপুরে এবার সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়েছে। আম্ফান আর দফায় দফায় কালবৈশাখী ঝড়ে প্রায় সাড়ে ৩শ হেক্টর জমির লিচু নষ্ট হয়েছে। দিনাজপুর সদর, বিরল ও চিরিরবন্দর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি লিচুর ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য ফল ও ফসলের ক্ষতি নিরুপণে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

আম ও লিচু চাষিদের পথে বসাচ্ছে সর্বনাশা আম্ফান

 আম ও লিচু চাষিদের পথে বসাচ্ছে সর্বনাশা আম্ফান
আম ও লিচু চাষিদের পথে বসাচ্ছে সর্বনাশা আম্ফান

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডবে সমুদ্র তীরবর্তী এলাকাসহ সারাদেশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঈশ্বরদীতে লিচু ও আমের ক্ষতিতে উৎপাদনকারীদের এখন মাথায় হাত। ঝড়ে আম ও লিচু বাগানের যে অবস্থা হয়েছে তাতে পুঁজি হারিয়ে চাষিদের পথে বসার দশা। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করতে বৃহস্পতিবার সারাদিন লেগে যাবে বলে মুঠোফোনে জানিয়েছেন ঈশ্বরদী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ।

উপজেলার প্রায় সবগুলো গ্রামেই ঝড়ের তাণ্ডবের চিহ্ন রয়েছে। অনেক জায়গায় পাকা লিচুর ডাল ভেঙে পড়েছে। আম ছিঁড়ে গেছে। অনেকের কাঁচা ঘরের চাল বাতাসে উড়ে গেছে।

 আম ও লিচু চাষিদের পথে বসাচ্ছে সর্বনাশা আম্ফান
আম ও লিচু চাষিদের পথে বসাচ্ছে সর্বনাশা আম্ফান

এদিকে বুধবার রাত থেকে ঈশ্বরদীতে বিদ্যুত বন্ধ রয়েছে। ঝড়ে তার ছিঁড়ে গেছে অনেক জায়গায়। বৈদ্যুতিক খুঁটি কাত হয়ে পড়েছে কয়েকটি। উপড়ে পড়েছে বড় বড় গাছ-গাছালি।

ঈশ্বরদীর ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য পেতে দেরি হলেও ইউনিয়ন পর্যায়ে মোবাইলে খোঁজ নিয়ে প্রাথমিক অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেছে। এমনিতেই করোনার প্রভাবে কর্মহীন রয়েছেন বহু মানুষ। এর উপর আম্ফানের তাণ্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে গ্রামীন জনজীবন। এতে দিশেহারা অসহায় এসব মানুষ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com