আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বিশ্ব

মার্স মিশন: মঙ্গলগ্রহে মহাকাশযান পাঠাচ্ছে প্রথম কোন আরব দেশ

মঙ্গলগ্রহে মিশন পাঠাতে যাচ্ছে আরব আমিরাত।
মঙ্গলগ্রহে মিশন পাঠাতে যাচ্ছে আরব আমিরাত।

জ্বালানি তেলের ব্যবসা আর যথেষ্ট নয় সংযুক্ত আরব আমিরাতের জন্য। তাদের দৃষ্টি এখন মহাকাশে। পাঁচ বছরের মতো সময় নিয়ে একটি মহাকাশযান তৈরি করেছে দেশটি।

যাতে জ্বালানি তেল ভর্তি করা শুরু হবে আগামী সপ্তাহে। মানবহীন এই মহাকাশযানটির নাম দেয়া হয়েছে ‘আমাল’। আরবিতে যার অর্থ ‘আশা’।

সবকিছু ঠিকঠাক গেলে ৪৯৩ মিলিয়ন কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত মঙ্গলগ্রহে পৌঁছাতে মহাকাশযানটির সময় লাগবে আনুমানিক সাত মাস।

মঙ্গলগ্রহের এক বছর ৬৮৭ দিনে। এই পুরো সময় ধরে মহাকাশযানটি মঙ্গলগ্রহেরে কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করবে। মঙ্গলগ্রহেরে কক্ষপথ একবার ঘুরতে সময় লাগবে ৫৫ ঘণ্টা।

গ্রহের চারিদিকে ঘুরে ঘুরে গোলাপি রঙের এই গ্রহটি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করবে আমাল। এই প্রকল্পের পরিচালক সারাহ আল আমিরি এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন দেশটির তরুণ বিজ্ঞানীদের জন্য এই মিশন ‘স্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং’ পেশায় যুক্ত হওয়ার দ্বার উন্মুক্ত করবে।

আসছে ১৪ই জুলাই জাপানের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত দ্বিপ তানেগাশিমা থেকে মহাকাশযানটি উৎক্ষেপণ করার কথা রয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে প্রকল্পের সাথে যুক্ত প্রকৌশলীদের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হয়েছে তাই এই যাত্রা ইতিমধ্যেই একবার পিছিয়েছে।

মঙ্গলগ্রহকে দেখতে গোলাপি রঙের মনে হয়।
মঙ্গলগ্রহকে দেখতে গোলাপি রঙের মনে হয়।

জাপানিজ ‘রকেট’ দ্বারা চালিত মহাকাশযানটিতে তিন ধরনের ‘সেন্সর’ থাকবে। যার কাজ হবে মঙ্গলগ্রহের জটিল বায়ুমণ্ডল পরিমাপ করা। মহাকাশযানটিতে খুব শক্তিশালী ‘রেজুলুশন’ সম্বলিত একটি ‘মাল্টিব্যান্ড’ ক্যামেরা থাকবে।

যা সূক্ষ্ম বস্তুর ছবি তুলতে সক্ষম। গ্রহটির বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগ ও নিম্নভাগ পরিমাপ করার জন্য থাকবে একটি ‘ইনফ্রারেড স্পেকটোমিটার’। যা তৈরি করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটি। তৃতীয় আরেকটি সেন্সর গ্রহটির অক্সিজেন ও হাইড্রোজেনের মাত্রা পরিমাপ করবে।

সারাহ আল আমিরি বলেছেন এই মিশনের অন্যতম কাজ হল পানি তৈরিতে দরকার এই দুটি গুরুত্বপূর্ন উপাদান কেন মঙ্গলগ্রহের বায়ুমণ্ডলে থাকতে পারছে না তা বোঝার চেষ্টা করা।

যুক্তরাজ্যের সায়েন্স মিউজিয়াম গ্রুপের পরিচালক স্যার ইয়ান ব্ল্যাচফোর্ড বলেছেন, “এর আগে যত মহাকাশযান মঙ্গলগ্রহে পাঠানো হয়েছে সেগুলো ভূতত্ত্বের দিকে মনোযোগ দিয়ে কাজ করেছে। কিন্তু এবার মঙ্গলগ্রহের জলবায়ু সম্পর্কে একটি সামগ্রিক চিত্র পাওয়া যাবে।”

এর আগে পাঠানো মহাকাশযান তত্ত্বের দিকে মনোযোগ দিয়ে কাজ করেছে।
এর আগে পাঠানো মহাকাশযান তত্ত্বের দিকে মনোযোগ দিয়ে কাজ করেছে।

মহাকাশবিজ্ঞানে আরব আমিরাতের যোগসূত্র নতুন নয়। এর আগে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করার জন্য একটি রকেট পাঠিয়েছিল দেশটি। গত বছর রাশিয়ান একটি মহাকাশযানে করে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে গিয়েছিলেন আমিরাতের প্রথম কোন নাগরিক।

তবে প্রথম আরব হিসেবে মহাকাশে গেছেন সৌদি আরবের যুবরাজ সুলতান বিন সালমান আল-সদ। ১৯৮৫ সালে মার্কিন একটি মহাকাশযানে করে গিয়েছিলেন তিনি।

তবে আরব আমিরাতের মঙ্গলগ্রহে মহাকাশযান পাঠানোর এই চেষ্টা যেকোনো আরব দেশের মধ্যে সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী। ব্রিটেনের ওপেন ইউনিভার্সিটির মহাকাশ বিজ্ঞানের অধ্যাপক মনিকা গ্রেডি বলছেন, এই মিশন মহাকাশ যাত্রার ক্ষেত্রে একটি বিশাল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

প্রথম আরব হিসেবে মহাকাশে গেছেন সৌদি আরবের যুবরাজ সুলতান বিন সালমান আল-সদ।
প্রথম আরব হিসেবে মহাকাশে গেছেন সৌদি আরবের যুবরাজ সুলতান বিন সালমান আল-সদ।

এর আগে বিশ্বের বড় শক্তিশালী দেশগুলোই মহাকাশ বিজ্ঞানে প্রাধান্য বজায় রেখেছে।

তিনি বলছেন, “মঙ্গলগ্রহ সম্পর্কে একটি অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে এই মিশন একটি সত্যিকার সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ার মতো পদক্ষেপ। কারণ এতে বোঝা যায় ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি এবং মার্কিন নাসা ছাড়া অন্য কোন দেশও মঙ্গলগ্রহে যেতে পারে। আশা করি তারা যেন সেখানে পৌঁছাতে পারবে। মঙ্গলগ্রহে পাঠানো মিশন ব্যর্থ হওয়ার একটি লম্বা ইতিহাস রয়েছে।”

এই প্রকল্পের নেতৃবৃন্দ বিশ্বকে জানান দিচ্ছেন যে সেই আট শতাব্দী আগে, এখনকার সময়ের অনেক উন্নত দেশের চেয়েও আরব বিজ্ঞানীরা অনেক অগ্রসর ছিলেন।

সেসময় বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের দিক থেকে তারা ছিলেন সামনের সারিতে। আজকের দিনে দুবাইয়ের শাসক উচ্চাকাঙ্ক্ষী এই মিশনের মাধ্যমে সেই সাংস্কৃতিক অহংকারকে আবারও উদ্দীপ্ত করতে চান।

সেই সাথে জ্বালানি তেলের উপরে যে নির্ভরশীলতা তা থেকে নতুন কিছুতে সরে আসতে চান। যদি এই মিশন সফল হয় তবে দেশটি প্রতিষ্ঠার ঠিক ৫০ বছরে এসে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেবে।

  • প্রথম আরব হিসেবে মহাকাশে গেছেন সৌদি আরবের যুবরাজ সুলতান বিন সালমান আল-সদ।

    প্রথম আরব হিসেবে মহাকাশে গেছেন সৌদি আরবের যুবরাজ সুলতান বিন সালমান আল-সদ।

  • এর আগে পাঠানো মহাকাশযান তত্ত্বের দিকে মনোযোগ দিয়ে কাজ করেছে।

    এর আগে পাঠানো মহাকাশযান তত্ত্বের দিকে মনোযোগ দিয়ে কাজ করেছে।

  • মঙ্গলগ্রহকে দেখতে গোলাপি রঙের মনে হয়।

    মঙ্গলগ্রহকে দেখতে গোলাপি রঙের মনে হয়।

  • মঙ্গলগ্রহে মিশন পাঠাতে যাচ্ছে আরব আমিরাত।

    মঙ্গলগ্রহে মিশন পাঠাতে যাচ্ছে আরব আমিরাত।

  • প্রথম আরব হিসেবে মহাকাশে গেছেন সৌদি আরবের যুবরাজ সুলতান বিন সালমান আল-সদ।
  • এর আগে পাঠানো মহাকাশযান তত্ত্বের দিকে মনোযোগ দিয়ে কাজ করেছে।
  • মঙ্গলগ্রহকে দেখতে গোলাপি রঙের মনে হয়।
  • মঙ্গলগ্রহে মিশন পাঠাতে যাচ্ছে আরব আমিরাত।
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

বিশ্ব

চলতি সপ্তাহের কিছু ছবি যা নিয়ে আলোচনা চলছে বিশ্বজুড়ে

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

চীন

করোনা ভাইরাস: কোভিড-১৯ রোগের উৎস চীনের উহানকে ঘিরে যেসব প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে

উহানের উপকণ্ঠে এক গ্রামে ছোট্ট একটি ঘরের ভেতর বয়স্ক এক নারী নিচু গলায় বিড়বিড় করে কিছু বলছেন এবং টেবিল চাপড়াচ্ছেন। তার উল্টো দিকে আরেক নারী কাঁদছেন। ফেব্রুয়ারির গোড়ায় তার ৪৪ বছর বয়স্ক ভাই করোনাভাইরাসে মারা গেছেন। তিনি নিজেকে ক্ষমা করতে পারছেন না।

ভাইয়ের শেষকৃত্যের পর মিজ ওয়াং (যিনি তার পুরো নাম জানাতে চান না) বলেন, তার ভাই ওয়াং ফেই কবর থেকে তাকে বার্তা পাঠিয়েছে। “ফেইফেই বলেছে আমাকে সে দোষী করছে না।”

ছোটবেলা থেকেই ভাইকে তারা ফেইফেই বলে ডাকেন। “আমি জানি ও আমাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছে, মৃত্যুটা যাতে আমি মেনে নিতে পারি,” যোগ করলেন তিনি।

মিজ ওয়াং
মিজ ওয়াং

তার ভাই কোভিড ওয়ার্ডে মারা গেছে। কেউ তাকে শেষ দেখাও দেখতে যেতে পারেনি। তার জীবনের শেষ ক’টা দিনের সাক্ষী হয়ে আছে তার পাঠানো কাতর কিছু টেক্সট মেসেজ।”

“আমি অসম্ভব ক্লান্ত,” একটা মেসেজে সে লিখেছিল। “এই রোগে অনেকদিন ধরে ভুগছি।”

তার বোনের অপরাধবোধের মূল কারণটা হল অসু্স্থ ভাইয়ের পাশে থাকতে না পারা।

“হাসপাতালে ভাইয়ের পাশে থাকতে পারিনি। যখন শুনলাম ও আর নেই, তখন ওর মৃত্যুটা মেনে নিতে পারিনি। আমাদের পরিবারে সবার বুক ভেঙে গেছে।”

ভাইয়ের ঠিকমত চিকিৎসা হয়েছিল কি-না জানতে চান মিজ ওয়াং – জানতে চান তার যত্ন নেয়া হয়েছিল কি-না, তাকে বাঁচানোর সব রকম চেষ্টা করা হয়েছিল কি-না।

মিজ ওয়াং-এর ভাই ওয়াং ফেই
মিজ ওয়াং-এর ভাই ওয়াং ফেই

মিজ ওয়াংকে বলে দেয়া হয়েছে বিদেশি সংবাদ মাধ্যমের সাথে কথা না বলতে। সেই নিষেধ অমান্য করে বিবিসির সাথে কথা বলে একটা ঝুঁকি তিনি নিয়েছেন।

আরেক নারী সাক্ষাতকার দেওয়ার জন্য যখন আমাদের গাড়িতে উঠতে যাচ্ছিলেন, তখন সাদা পোশাকের পুলিশ আমাদের পথ রোধ করে প্রশ্ন করেছে।

উহানের পূর্ব লেকের তীরে রাতের অন্ধকারে বিবিসির সাথে কথা বলার সময় আরেক ব্যক্তি জানায় যে তার বাবার মৃত্যু নিয়ে কথা বলার জন্য পুলিশ দু’বার তাকে জেরা করেছে।

যারা করোনাভাইরাসের শিকার হয়েছেন তারা এবং সাংবাদিকরা যখন উহানে করোনাভাইরাসের সূত্রপাত কীভাবে হলো তা নিয়ে প্রশ্ন করেছেন কিংবা জানতে চেয়েছেন যে এই ভাইরাসের বিস্তার আরও কার্যকরভাবে ঠেকানো সম্ভব ছিল কি-না, তখন কাজটা তাদের জন্য সহজ হয়নি।

কিন্তু বিশ্ব জুড়ে এই যে বিপর্যয়, এই যে মহামারি, তার যে উৎপত্তিস্থল তাকে নিয়ে নানা প্রশ্ন এখনও রয়ে গেছে।

জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি ওয়াং ফেই যখন অসুস্থ বোধ করেন, তখন চীনে সরকারিভাবে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল মাত্র তিন। আজ পৃথিবী জুড়ে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এক কোটি ১০ লাখ। মৃতের সংখ্যা অন্তত পাঁচ লাখ।

এখন এই ভাইরাসের কারণে বিশ্বব্যাপী অর্থনীতি অবরুদ্ধ, অর্থনৈতিক ধস নেমেছে বিশ্ব জুড়ে।

ভাইরাসের উৎস

উহানেই প্রথম এই করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। আবার এই উহানই প্রথম এই ভাইরাস দমনে সচেষ্ট হয়। ফলে অনেকেই মনে করছেন এর উৎস খুঁজতে হবে এই উহানেই।

কীভাবে এবং কোথায় এই ভাইরাসের উৎপত্তি, সে প্রশ্ন এখন চীন ও আমেরিকার মধ্যে প্রচারণা যুদ্ধের একটা বড় হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

আর বারবার ঘুরে ফিরে আসছে যে প্রশ্ন, তা হলো এই ভাইরাসের উৎস কি প্রাকৃতিক – যেটা বেশিরভাগ বিজ্ঞানীই মনে করেন – নাকি কোন ল্যাব থেকে বাইরে বেরিয়ে এসেছে এই ভাইরাস?

মিজ ওয়াংয়ের ভাই গাড়ি চালাতেন। তিনি উহানের বাইরে কদাচিৎ গেছেন। তার ৪৪ বছরের জীবনে চীনের উহান শহরকে তিনি আমূল বদলে যেতে দেখেছেন। চীনের পশ্চাদপদ একটা শিল্পনগরী থেকে উহান আজ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের রমরমা একটা কেন্দ্র এবং পরিবহনের মূল একটা ঘাঁটি।

কিন্তু এই অসাধারণ উন্নতির শিখরে ওঠা শহর ওয়াং ফেই-এর প্রত্যাশা পূরণ করতে পারল না কেন?

জানুয়ারির শুরুতেই চিকিৎসকরা বুঝতে পেরেছিলেন যে এই ভাইরাস প্রচণ্ডরকম সংক্রামক। তারা তখন থেকেই তাদের হাসপাতালের ভেতর কোয়ারেন্টিন প্রক্রিয়া চালু করে দিয়েছিলেন।

কিন্তু মানুষজনকে এই ভাইরাসের ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করার বদলে কর্তৃপক্ষ তখন স্বাস্থ্যকর্মীদের মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করেছিল। চিকিৎসক লী ওয়েনলিয়াং যখন তার সহকর্মীদের এই সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সতর্কতা নেওয়ার জন্য হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, তখন তার মুখ বন্ধ করা হয়েছিল। পুলিশ তাকে দিয়ে স্বীকারোক্তি সই করিয়ে নিয়েছিল।

কর্তৃপক্ষ ১৮ই জানুয়ারি তারিখেও জোর দিয়ে বলেছিল, এই রোগ ছোঁয়াচে নয়।

ওয়াং ফেই যখন অসুস্থ বোধ করে হাসপাতালে যান, তাকে জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল। “ওরা বলছে এ রোগ মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না, কিন্তু দেখছি ডাক্তাররা সবাই মাস্ক পরে আছেন,” তিনি তার বোনকে বলেছিলেন।

তার বোন বলেন, “আমিও তখন বলেছিলাম ‘ভাল হয়ে যাবে’। পেছন ফিরে তাকালে এখন মনে হয়, সরকার তখন আসলেই মানুষকে যথেষ্ট সতর্ক করেনি। এখন মনে হয় আমার ভাইয়ের সঠিক চিকিৎসা সহায়তা দরকার ছিল। সে কারণেই আমার নিজেকে অপরাধী মনে হয়।”

মিজ ওয়াং
মিজ ওয়াং

মি. ওয়াং ওই সময়ে চীনা নতুন বছরের ছুটি কাটানোর সব পরিকল্পনা বাতিল করে দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দীর্ঘ লাইনে শামিল হন। কিন্তু ততদিনে রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে এবং রোগীর তুলনায় শয্যা কম। ফলে হাসপাতালের বাইরে লম্বা লাইনে সারা দিন কাটিয়ে ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরতেন ওয়াং ফেই।

“ফেই অন্তরের গভীরে বিশ্বাস করত দেশ ও সরকার তাকে ভালবাসে এবং সরকার তাকে রক্ষা করবে,” বলেন মিজ ওয়াং।

মি. ওয়াং-এর অবস্থার তখন অবনতি হচ্ছে। ৭ই ফেব্রুয়ারি ওই হাসপাতালেই মারা যান ডাক্তার লী ওয়েনলিং, যার বক্তব্য তখন পুলিশ চেপে দিয়েছে। ওয়াং ফেইয়ের মনোবল এ ঘটনায় ভেঙে পড়ে। “একজন চিকিৎসকই যদি বাঁচতে না পারেন, তাহলে আমার বাঁচার কী সম্ভাবনা?” – বোনকে পাঠানো টেক্সটে তিনি লেখেন।

উহানে স্বাস্থ্যকর্মীরা এখনও খোলাখুলি কথা বলতে পারছেন না।

কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসার অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি হাসপাতালের বাইরে একজন নার্সের সাথে কথা বলেছিলাম। আমাদের সাথে কথা বলে তিনি সাইকেল নিয়ে চলে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ দেখলাম পাশের রাস্তা থেকে সাদা পোশাকের দুজন পুলিশ তার পিছু নিল। দেখলাম তাকে থামিয়ে তার সাথে ওই দুজন লোক বেশ উত্তপ্তভাবে কথা বলছে।

আমি এগিয়ে যাবার পর ওরা ওই নার্সকে ছেড়ে দিল। এর কয়েক মিনিট পর তিনি আমাকে ফোন করে বলেন তার সাক্ষাৎকারটা মুছে ফেলতে। তার নিরাপত্তার স্বার্থে সেটা করা ছাড়া আমার কোন বিকল্প ছিল না।

চীনে প্রশাসনের বিরুদ্ধে একটা অভিযোগ অনেকদিনের – সেটা হলো তথ্য নিয়ন্ত্রণ করা।

হাসপাতালে ওয়াং ফেই
হাসপাতালে ওয়াং ফেই

উহান অবশ্য সফলভাবে লকডাউন দিয়ে অবশেষে এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু এরপর চীনকে আমেরিকাসহ বিভিন্ন মহলের এই অভিযোগের মুখে পড়তে হয় যে প্রাথমিক পর্যায়ে তথ্য গোপন এবং বিলম্বের কারণে এই রোগের প্রাদুর্ভাব বিশ্বজোড়া একটা সংকটে পরিণত হয়েছে।

একটি গবেষণায় বলা হয়, উহান কর্তৃপক্ষ আর এক সপ্তাহ আগে পদক্ষেপ নিলে চীনে আক্রান্তের সংখ্যা শতকরা ৬৬ ভাগ কমতো।

চীনা কর্তৃপক্ষ দেরি করার এবং তথ্য গোপন করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা জোর দিয়ে বলেছে যে অপরিচিত একটা রোগের মোকাবেলায় তাদের প্রতিক্রিয়া দ্রুতই ছিল এবং তারা এটাও জানায় যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাদের এই রোগ মোকাবেলার প্রশংসা করেছে।

চীনা সরকার এমন কথাও বলেছে যে পশ্চিমের সাথে তুলনা করলে তারা অনেক ভালভাবে এই রোগের মোকাবেলা করেছে। এমনকি পশ্চিমের দেশগুলো যেভাবে এই ভাইরাস মোকাবেলা করেছে, তাকে চীন বিশৃঙ্খল এবং বিভ্রান্তিপূর্ণ বলে ঠাট্টাও করেছে।

তবে পশ্চিমের দেশগুলোর বক্তব্য, যেসব দেশের সরকার গণতান্ত্রিক, সেসব দেশে ভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের ব্যর্থতা উঠে আসে মুক্ত সংবাদমাধ্যমে, কিন্তু চীনে সংবাদমাধ্যমের সেই স্বাধীনতা নেই। তাই সেখানে সরকারি ভাষ্যের বাইরে কথা বললে রাষ্ট্র তাকে থামিয়ে দিতে পারে।

চীনে সংসদীয় প্রতিনিধি , ঊর্ধ্বতন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ এবং চিকিৎসক – সব মিলিয়ে ২০ জনের বেশি ব্যক্তির কাছে সাক্ষাৎকার চেয়েছিলাম, প্রশ্নও পাঠিয়েছিলাম পররাষ্ট্র এবং বিজ্ঞান মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য কমিশনের কাছে । কিন্তু আমাদের অনুরোধে সাড়া পাওয়া যায়নি।

জন সাডওয়ার্থ চীনা নিরাপত্তা কর্মকর্তার মুখোমুখি
জন সাডওয়ার্থ চীনা নিরাপত্তা কর্মকর্তার মুখোমুখি

প্রাণী থেকে মানুষে সংক্রমণ

ওয়াং ফেই থাকতেন খুব বড় একটা বাজারের খুবই কাছে। হুয়ানান সিফুড মার্কেট বলে পরিচিত এই বাজার নামে সামুদ্রিক খাবারের বাজার হলেও, এখানে কখনও-সখনও বন্যপ্রাণী বেচা হতো বলেও জানা যায় – বিশেষ করে যেসব প্রাণী চীনে শৌখিন খাবারের তালিকায় আছে। এই বাজার এখন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

প্রথমদিকে সন্দেহ করা হয়, এই বাজার থেকেই ভাইরাসের শুরু – যেখানে পশু থেকে মানুষের শরীরে এই ভাইরাসের সংক্রমণ হয়েছে।

এই ভাইরাস, পরে যার নামকরণ হয় সার্স-কোভ-২, সেই ধরনের একটি করোনাভাইরাস, যার উপরের অংশ খোঁচা খোঁচা মুকুটের মত। এ ধরনের ব্যাপক সংখ্যক ভাইরাস দেখা গেছে বাদুড়ের শরীরে।

ধারণা করা হয়, এ ধরনের ভাইরাস মানুষকে সংক্রমিত করতে পারে, বাদুড় থেকে সরাসরি অথবা অন্য কোন পশুর মাধ্যমে – যেখানে দ্বিতীয় প্রাণীটি অন্তর্বর্তীকালীন বাহক হয়।

বাজার
বাজার

নভেম্বর ২০০২-এ চীনে এই ধরনের একটি করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল।

ওই করোনাভাইরাসটির নাম ছিল সার্স কোভ-১, সেটিও দক্ষিণ চীনের একটি বাজার থেকে ছড়ায়।। বাদুড় থেকে বনবিড়ালের হয়ে মানুষের শরীরে ঢোকে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ওই ভাইরাসে মারা যায় ৭৭৪ জন। তখনও চীনা কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকমাস পর্যন্ত স্বীকার করেনি যে এটা ছড়াচ্ছে।

এবারের করোনাভাইরাস থেকে প্রথম সংক্রমিত হয় মি. ওয়াং যে পাড়ায় থাকতেন সেই পাড়ার কিছু মানুষ। একটি জরিপে দেখা যায়, এদের অর্ধেকই ওই সিফুড বাজারের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন।

স্বভাবতই ধরে নেয়া হয়, এবারে ভাইরাসের অন্তর্বর্তীকালীন বাহক ওই বাজারে বিক্রির জন্য নেয়া কোন পশু।

তবে ওই বাজারের ভেতরে বিভিন্ন জায়গা থেকে নেয়া নমুনা পরীক্ষার পর চীন এখন এই তত্ত্ব নাকচ করে দিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। সেখান থেকে নেয়া যেসব প্রাণীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে তাতে এই ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

চীনা কর্মকর্তারা তাই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, এই প্রাদুর্ভাবের শুরু সম্ভবত অন্যত্র। ওই জনাকীর্ণ বাজার শুধু এই রোগ একজন মানুষ থেকে আরেকজন মানুষে ছড়াতে সাহায্য করেছে।

বেশিরভাগ বিজ্ঞানীই বেশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, এই সার্স-কোভ-২ ভাইরাস ওই বাজার বা অন্য কোন জায়গা – যেখানে থেকেই শুরু হোক না কেন, তা পশুর মাধ্যমেই মানুষের শরীরে ঢুকেছে। তারা বলছেন, বেশি জনসংখ্যা এবং পশুপাখির স্বাভাবিক বাসস্থানে মানুষের উপস্থিতি বাড়ার কারণে পশুর শরীর থেকে মানুষের শরীরে ভাইরাস ঢোকার ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে।

হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজিস্ট ড. ইয়ুয়েন কোওক-ইয়াং জানুয়ারি মাসে চীনের স্বাস্থ্য কমিশনের তথ্য অনুসন্ধানী একটি দলের সাথে উহানে যান। তিনি এই তত্ত্ব সমর্থন করে বলছেন যে এই ভাইরাসের সূত্রপাত হয়েছে প্রাণী থেকে মানুষের সংক্রমণের মধ্যে দিয়ে।

“আমাকে যদি জিজ্ঞেস করেন, আমি বলব বাজার থেকে এবং যেসব বাজারে বন্যপ্রাণী বিক্রি হয়, সেখান থেকেই এটা আসার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি,” তিনি আমাকে বলেন।

তিনি বলেন, এ কারণেই এধরনের ভাইরাস মহামারি ভবিষ্যতে এড়াতে হলে এই বন্যপ্রাণীর বাজারগুলোকে নজরদারিতে রাখতে হবে। “সংস্কৃতি পাল্টানো সহজ নয়, কিন্তু আমাদের সেটা করতেই হবে।”

মে মাসের মাঝামাঝি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একটি প্রস্তাব পাশ ক’রে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আহ্বান জানায়, এই ভাইরাসের সম্ভাব্য অন্তর্বর্তীকালীন বাহক কোন্ পশু, তা খুঁজে বের করার জন্য। সম্প্রতি ঘোষণা দেয়া হয়েছে যে এ জন্য তদন্তকারী একটি দল চীনে পাঠানোর জন্য সংস্থাটিকে অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন এই খুঁজে বের করার কাজটা খুব সহজ হবে না।

চীনা কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোন কাজ ইতোমধ্যেই শুরু করেছে কি-না এবং করলে তার অগ্রগতি কতটুকু, এ সম্পর্কে বিবিসি জানতে চাইলে চীনা কর্তৃপক্ষ সে বিষয়ে কোন তথ্য দেয়নি।

ভাইরাসের গঠন ও প্রকৃতি

ওয়াং ফেই যখন হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন, তখন হুয়ানান সিফুড মার্কেট থেকে মাত্র ৪০ মিনিট গাড়ির দূরত্বে অন্য আরেকটি তত্ত্ব নিয়ে চর্চ্চা শুরু হয়েছিল।

উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি এখন ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটা বড় কেন্দ্রবিন্দু। এই ল্যাবরেটরি থেকে ভাইরাসটি বেরিয়ে গিয়েছিল কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ আর অভিযোগের ঝড় এখনও থামেনি।

সংস্থাটির কংক্রিট আর কাঁচে মোড়া আধুনিক ভবন, গাছপালা আর ছোট্ট এক হ্রদ দিয়ে সাজানো চত্বরটি পাশের রাস্তা থেকে বেশ স্পষ্ট দেখা যায়।

উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি
উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি

কঠোর নিরাপত্তার বেড়াজালে ঘেরা চত্বরে আমরা পৌঁছন মাত্র নিরাপত্তা কর্মীরা জানিয়ে দেন এটা খুবই স্পর্শকাতর এলাকা এবং দ্রুত সেখানে পুলিশ পৌঁছে যায়।

বাদুড়ের শরীর থেকে করোনাভাইরাস সংগ্রহ, মজুত রাখা এবং সেগুলো নিয়ে গবেষণার কাজে এই সংস্থা বিশ্বে শীর্ষ স্থানে।

এখানে গবেষকদের প্রধান হলেন তারকা বিজ্ঞানী অধ্যাপক শি ঝেংগলি। করোনাভাইরাস নিয়ে তার জ্ঞানের কারণে এই বিজ্ঞানী তার সহকর্মীদের কাছে পরিচিত “বাদুড় নারী” (ব্যাট ওম্যান) নামে।

এই গবেষকরা বহু বছর ধরে চীনের বিভিন্ন প্রত্যন্ত গুহা থেকে জ্যান্ত বাদুড়ের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে গবেষণা চালাচ্ছেন।

তাদের গবেষণাপত্রে কয়েকশো’ করোনাভাইরাসের উল্লেখ আছে। এসব ভাইরাসের জেনেটিক গঠনের পরিবর্তন, কীভাবে তার থেকে মিশ্র ভাইরাসের জন্ম হয় এবং এসব ভাইরাসের মানুষকে সংক্রমিত করার ও মহামারি ঘটানোর ক্ষমতা – এইসব গবেষণার অংশ।

সার্স কোভ-১ ভাইরাসের জেনেটিক তথ্য উদঘাটন করেছিলেন এই অধ্যাপক শি। ওই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর থেকে উহানের বিজ্ঞানীরা তার থেকেও আরও মারাত্মক এবং আরও ছোঁয়াচে ভাইরাস ছড়ানোর আশংকা নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

উহানে এই নতুন ভাইরাস ছড়ানোর বিষয়টা জানার মাত্র তিনদিন পর দোসরা জানুয়ারি তিনিই প্রথম এই সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের জিনের গঠন উদঘাটন করেন।

দুভার্গ্যজনকভাবে এই সার্স-কোভ-২-এর জেনেটিক গঠন প্রকাশ পাওয়ার পরই ল্যাব থেকে এই ভাইরাস বের হয়ে যাবার তত্ত্ব ছড়াতে শুরু করে।

অধ্যাপক শি-র গবেষণা এবং তারপর আরও কয়েকটি গবেষণা থেকে জানা যায় যে, নতুন ভাইরাসের জিনোমে এমন কিছু একটা আছে যা একই ধরনের জানা অন্যান্য করোনাভাইরাস থেকে আলাদা।

শি ঝেংগলি
শি ঝেংগলি

এই ভাইরাসের প্রোটিনে যে স্পাইক বা চূড়ার মত জিনিস আছে – যেগুলো দেখতে অনেকটা মুকুটের মত – সেগুলো সংক্রমিত বাহকের শরীরের কোষে গিয়ে আটকে যায়। শুধু তাই নয়, শুরু থেকেই এই সার্স-কোভ-২ ব্যাপকভাবে ছোঁয়াচে হয়ে উঠতে পারে।

এই ভাইরাসের যে স্পাইক প্রোটিন, বা চূড়ার মত দেখতে প্রোটিনগুলো, তাতে খুবই আলাদা আরেকটা জিনিস আছে যেটার নাম “ফুরিন ক্লিভেজ সাইট”। এর কারণে এই ভাইরাস মানুষের দেহকোষে খুবই ক্ষিপ্রতার সঙ্গে ঢুকতে পারে, তার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে এবং মানুষের কোষে দ্রুত বাড়তে পারে। অন্য কোন সার্স জাতীয় করোনাভাইরাসের এই ক্ষমতা নেই।

বিভিন্ন কারণে এই ভাইরাসের মারাত্মক ক্ষমতা, তার অস্বাভাবিক ধরন – আর উহানের গবেষণা কেন্দ্র, যার আসল কাজ ভাইরাস গবেষণা, তার কাছে এর প্রথম আত্মপ্রকাশ ঘটায় জন্ম নেয় একটা বিতর্কিত ষড়যন্ত্র তত্ত্ব।

ফেব্রুয়ারির গোড়ায় ল্যাব থেকে দুর্ঘটনাক্রমে ভাইরাস বেরিয়ে যাওয়ার দাবি প্রথম ছড়ায় চীনের ইন্টারনেট সাইটে।

ভিত্তিহীন গুজব ছড়াতে থাকে যে এই করোনাভাইরাস গবেষণাগারে সংক্রমিত প্রাণী থেকে স্থানীয় মানুষের মধ্যে হয়তো ছড়িয়েছে। এমন গুজবও ওঠে যে বন্যপ্রাণী থেকে সংগ্রহ করা কোন প্রাকৃতিক ভাইরাস বা ল্যাবে তৈরি ভাইরাস থেকে হয়তো দুর্ঘটনাবশত সংক্রমিত হয়েছেন উহান গবেষণা কেন্দ্রের কোন বিজ্ঞানী – এবং সেখান থেকেই এর শুরু।

ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়ে চীনের বাইরেও। বিদেশি সংবাদপত্র এবং ওয়েবসাইটে দাবি করা হয় “জীবাণুঅস্ত্র” হিসাবে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে এই ভাইরাস।

কিন্তু ল্যাব থেকে ভাইরাস ছাড়ার তত্ত্ব – পশু দেহের ভাইরাস বা মানুষের তৈরি ভাইরাস, ইচ্ছাকৃতভাবে ছাড়া বা দুর্ঘটনাবশত বের হয়ে পড়া ভাইরাস – কোনটার স্বপক্ষেই নির্ভরযোগ্য কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ভারতীয় একদল গবেষক এই ভাইরাসের জিনগত গঠন ব্যবহার করে প্রথম একটা ইঙ্গিত দিয়ে বসেন যে ল্যাবে সম্ভবত এই ভাইরাসের জিনের কাঠামোতে বদল ঘটানো হয়েছে।

কিন্তু ভারতীয় ওই গবেষণাপত্র দ্রুত ভুয়া প্রমাণিত হয় এবং তা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।

ফেব্রুয়ারির গোড়ায় শি ঝিংগলি নিজে সামাজিক মাধ্যমে এর উত্তর দিতে বাধ্য হন।

“আমি, শি ঝিংগলি, আমার জীবনের নামে শপথ করে বলছি, আমাদের গবেষণাগারের সাথে এই ভাইরাসের কোন সম্পর্ক নেই,” তিনি লেখেন। তিনি আরও বলেন, যারা এই গুজব ছড়াচ্ছে, তাদের উচিত “তাদের দুর্গন্ধময় মুখ বন্ধ করা”।

সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের বেশ কিছু প্রোটিন স্পাইক বা চূড়া আছে যা অনেকটা খোঁচার মত, যার কারণে এই ভাইরাস ‘করোনা’ বা মুকুটের মত দেখতে।

প্রতিটা প্রোটিন স্পাইকে থাকে বেশ কয়েকটি রিসেপটার বাইন্ডিং ডোমেইন (আরবিডি) অর্থাৎ এক সাথে সংযুক্ত গ্রাহকগুচ্ছ।
প্রতিটা প্রোটিন স্পাইকে থাকে বেশ কয়েকটি রিসেপটার বাইন্ডিং ডোমেইন (আরবিডি) অর্থাৎ এক সাথে সংযুক্ত গ্রাহকগুচ্ছ।
আরবিডি মানুষের দেহকোষের যে গ্রাহক এসিই-২, তার গায়ে সেঁটে বসে এবং সংক্রমণ ঘটায়।
আরবিডি মানুষের দেহকোষের যে গ্রাহক এসিই-২, তার গায়ে সেঁটে বসে এবং সংক্রমণ ঘটায়।
সার্স-কোভ-২ প্রোটিন স্পাইকে ফুরিন ক্লিভেজ সাইট নামে একটা অংশ থাকে, যা সংক্রমিত করার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।
সার্স-কোভ-২ প্রোটিন স্পাইকে ফুরিন ক্লিভেজ সাইট নামে একটা অংশ থাকে, যা সংক্রমিত করার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।
এই মারাত্মক ভাইরাসের শিকার হয়ে হাসপাতালে মি. ওয়াং-এর অবস্থার যখন ক্রমশ অবনতি হচ্ছে - যা এখন বিশ্বের সর্বত্র ডাক্তারদের অতি পরিচিত হয়ে উঠেছে - তখন বোনের কাছে কাতরভাবে টেক্সট করতেন ওয়াং ফেই।
এই মারাত্মক ভাইরাসের শিকার হয়ে হাসপাতালে মি. ওয়াং-এর অবস্থার যখন ক্রমশ অবনতি হচ্ছে – যা এখন বিশ্বের সর্বত্র ডাক্তারদের অতি পরিচিত হয়ে উঠেছে – তখন বোনের কাছে কাতরভাবে টেক্সট করতেন ওয়াং ফেই।
ওয়াং ফেই-এর ফুসফুস জীবাণুর আক্রমণ
ওয়াং ফেই-এর ফুসফুস জীবাণুর আক্রমণ

তখন ওয়াং ফেই-এর ফুসফুস জীবাণুর আক্রমণে ঝাঁঝরা – রক্ত কোষ ও জলীয় পদার্থে ভরে উঠেছে তার ফুসফুস। রক্তে অক্সিজেন ক্রমশ কমছে।

“আমার হৃদস্পন্দন এখন প্রতি মিনিটে ১৬০। আমার রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ মাত্র ৭০। আমি মারা যাচ্ছি।”

"আমার হৃদস্পন্দন এখন প্রতি মিনিটে ১৬০। আমার রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ মাত্র ৭০। আমি মারা যাচ্ছি।"
“আমার হৃদস্পন্দন এখন প্রতি মিনিটে ১৬০। আমার রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ মাত্র ৭০। আমি মারা যাচ্ছি।”
পরদিন তিনি শেষ মেসেজ পাঠান - "প্লিজ আমাকে বাঁচাও, আমি চোখে তারা দেখছি।" এর কয়েক ঘন্টা পর তিনি মারা যান।
পরদিন তিনি শেষ মেসেজ পাঠান – “প্লিজ আমাকে বাঁচাও, আমি চোখে তারা দেখছি।” এর কয়েক ঘন্টা পর তিনি মারা যান।

ভাইরাস নিয়ে বিতণ্ডা

এই ভাইরাস নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট।

একজন সাংবাদিক ৩০শে এপ্রিল তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: “আপনি কি এখনও পর্যন্ত কোন প্রমাণ দেখেছেন যাতে আপনি নিশ্চিত যে উহানের ইন্সটিটিউট অব ভাইরোলজিই এই ভাইরাসের উৎস?”

“হ্যাঁ আমি দেখেছি। হ্যাঁ, আমি দেখেছি,” উত্তর দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্প

ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যরাও তার সাথে গলা মেলান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও চীনের বিরুদ্ধে দোষারোপ করে বলেন, “চীনে ল্যাবরেটরিগুলো ঐতিহাসিকভাবে নিচু মানের”।

তবে ল্যাব থেকে ভাইরাস বেরুনোর ব্যাপারে “ব্যাপক তথ্যপ্রমাণ ” হাতে পাবার কথা আমেরিকা বললেও কোন কিছুই তারা দেখাতে পারেনি।

এই ইস্যু নিয়ে আমেরিকা ও চীনের মধ্যে বিতণ্ডাকে প্রেসিডেন্টের আমেরিকান সমালোচকরা দেখেছেন দেশের অভ্যন্তরে তার ব্যর্থতাকে ঢাকার একটা চেষ্টা হিসাবে।

তবে অনেকে আবার এমন কথাও বলেছেন যে ল্যাব থেকে ভাইরাস বেরুনোর তত্ত্বটা একেবারে উড়িয়ে দেবার মত নয়। এই তত্ত্ব শুধু চীনের বেলাতেই নয়, এটা আমেরিকান সরকারের বেলাতেও প্রযোজ্য হতে পারে।

উহানের যে গবেষণাগারে বাদুড়ের করোনাভাইরাস নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা হচ্ছিল, সেটা শুধু চীনা প্রকল্প ছিল না। এই গবেষণা হচ্ছিল আন্তর্জাতিক পরিসরে। এবং নতুন কোন ভাইরাস থেকে মহামারি ছড়ানোর ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি খতিয়ে দেখার জন্য বিশ্বের বিজ্ঞানীরা একযোগে সেখানে কাজ করছিলেন।

কী ধরনের হুমকির মুখে মানুষ পড়তে পারে, তার প্রতিকার কী হতে পারে, কী ধরনের টিকা কার্যকর হতে পারে – এসব নিয়ে গবেষণার অনেক ঝুঁকির দিক থাকতে পারে।

ল্যাবে কাজ করতে গিয়ে গবেষকদের নিজেদের অজ্ঞাতে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকিও থাকে।

সার্স-কোভ-১ জীবাণু নিয়ে কাজ করার সময় দু’টি এ রকম ঘটনার নজির আছে। ওই গবেষণাগারে ২০০৪ সালে একজন গবেষক কাজ করতে গিয়ে সংক্রমিত হন, তার থেকে সংক্রমিত হয়ে তার মা মারা যান। একজন নার্সও ওই সময় আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং তার সংস্পর্শে আসা কয়েকজনকে তিনি সংক্রমিত করেছিলেন।

ডিসেম্বরের শেষে নতুন ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়ানোর পর অধ্যাপক শি মন্তব্য করেছিলেন, তার মনে প্রথমেই যেটা এসেছিল সেটা হল ‘এই ভাইরাস আমাদের গবেষণাগার থেকে ছড়ালো না তো?’

শি ঝেংগলি

বিতর্ক

তবে আমেরিকার রাজনৈতিক মহল এই ষড়যন্ত্র তত্ত্বকে যতই উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করুক না কেন, এই তত্ত্ব খারিজ করে দিয়েছেন অধিকাংশ বিজ্ঞানী।

বৈজ্ঞানিক মহল একমত যে এই ভাইরাসের উৎস প্রাকৃতিক। সার্স-কোভ-২ ভাইরাস এসেছে প্রাণী থেকে এবং প্রাণী দেহ থেকে তা ঢুকেছে মানুষের দেহে ।

এমন ঘটনা আগেও ঘটেছে।

এছাড়াও অধ্যাপক শি ঝেংগলির নিজস্ব গবেষণায় এর পক্ষে একটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ রয়েছে।

সায়েন্টিফিক অ্যামেরিকান রিভিউ নামে এক জার্নালে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, এই মহামারির সাথে তার গবেষণাগারের কোন রকম সংশ্লিষ্টতা যে নেই, তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তার ল্যাবে ইতোমধ্যেই সংরক্ষিত সব নমুনা এবং পরীক্ষার সব রেকর্ড তিনি “পাগলের মত” ঘাঁটতে শুরু করেন।

একটি মাত্র ভাইরাসের সাথে তিনি নতুন ভাইরাস সার্স-কোভ-২-এর ৯৬ শতাংশ মিল পান, যার নাম তিনি দিয়েছিলেন RaTG13 – যেটি তিনি একটি বাদুড়ের শরীর থেকে সংগ্রহ করেছিলেন ২০১৩ সালে।

তারপরেও দু’টি ভাইরাসের মধ্যে জিনগত অনেকগুলো তফাত ছিল – প্রাকৃতিক বিবর্তনের মাধ্যমে যে পার্থক্যগুলো কাটিয়ে দু’টোর ভাইরাসের একেবারে এক রকম হয়ে উঠতে অন্তত বিশ বছর সময় লাগার কথা।

তিনি বলেন, তার গবেষণাগার থেকে এই ভাইরাস বের হতে হলে, সেখানে হয় খোদ সার্স-কোভ-২ ভাইরাসটি, না হয় একেবারে কাছাকাছি জিনের গঠন আছে এমন ভাইরাস থাকতে হতো।

“সেটা আমার গবেষণাগারে ছিল না – এটা প্রমাণ হবার পর আমার মাথা থেকে বিরাট দুশ্চিন্তা নেমে যায়। আমি কয়েক রাত ঘুমাতে পারিনি, জেগে কাটিয়েছি,” সায়েন্টিফিক অ্যামেরিকানকে বলেন তিনি।

তবে এই ভাইরাস যে ল্যাব থেকে বেরোয়নি, তার পক্ষে সন্দেহাতীত প্রমাণ ছাপা হয় মার্চ মাসে নেচার মেডিসিন নামে চিকিৎসাবিজ্ঞান সাময়িকীতে।

সেখানে উন্নত ধরনের কম্পিউটার পরীক্ষার ফলাফল ও তথ্যপ্রমাণ দিয়ে দেখানো হয় যে এই ভাইরাসের গঠন ও আচরণ এমনই নজিরবিহীন এবং এর কার্যক্ষমতা এতটাই নিখুঁত ও অসাধারণ যে কোন বিজ্ঞানীর পক্ষে ল্যাবে এই ভাইরাস তৈরি করা অসম্ভব।

উহানের গবেষণাগারে এমন কোন ভাইরাস যদি সংরক্ষিত থাকত, যার জিনের গঠন সার্স-কোভ-২-এর খুবই কাছাকাছি, তাহলে হয়ত বা বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করলে তার থেকে এই ভাইরাস ল্যাবে তৈরি করতে পারতেন। কিন্তু যে ভাইরাসের অস্তিত্বই নেই, তা তৈরি করা অবাস্তব ও অসম্ভব বলে নেচার মেডিসিনের বিজ্ঞানীরা বলেছেন।

তবে এখনও মুষ্টিমেয় কিছু বিজ্ঞানী মনে করেন এটা একেবারে অসম্ভব নয়। বিজ্ঞানে অনেক কিছুই হঠাৎ করে আবিষ্কার হবার নজিরও আছে বলে তারা মনে করেন।

অন্যদিকে, চীনের ভেতর অনেকে মনে করে এই ভাইরাসের পেছনে আমেরিকার হাত রয়েছে।

“আমার মনে হয় এই ভাইরাস আমেরিকা থেকে এসেছে,” উহানে এক নারী আমাকে বলছিলেন, “রোগের প্রাদুর্ভাব যখন শুরু হয়, তখন আমেরিকান সৈন্যরা উহানে ছিল। তারা চাটার্ড বিমানে প্রথমদিকেই ফিরে গেছে”।

এই ভাইরাস নিয়ে আমেরিকা আর চীনের মধ্যে প্রচারণা যুদ্ধ এবং ভিত্তিহীন অভিযোগ এখনও রমরমা।

আমেরিকার রাটগার্স ইউনিভার্সিটির মাইক্রোবায়োলজিস্ট এবং জীবাণু নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ রিচার্ড এবরাইট বলছেন, ল্যাব থেকে এই ভাইরাস কোনভাবে বেরিয়েছিল কি-না, তা নিশ্চিতভাবে বলার একটাই পথ আছে।

আর তা হলো “একটা গ্রহণযোগ্য তদন্তের জন্য চীনের গবেষণাগার, সেখানকার সংরক্ষিত সব নমুনা, পরীক্ষার সব নথিপত্র, ল্যাবের কর্মী এবং নমুনা সংগ্রহের পদ্ধতি সবকিছু অবাধে পরীক্ষার সুযোগ করে দেয়া।

চীনা কর্তৃপক্ষ কূটনৈতিক চাপের মুখে এই ভাইরাস নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তে রাজি হয়েছে। তবে এই তদন্তের পরিধি কতটা হবে, কারা এতে অংশ নেবে এবং কখন তা হবে, সেটা এখনও স্পষ্ট নয়।

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং জোর দিয়ে বলেছেন মহামারির প্রকোপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই তদন্ত চালানো যাবে না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বিশ্ব

করোনা ভাইরাস: করোনাভাইরাস ঠেকাতে নিউজিল্যান্ড কীভাবে এত সফল হলো?

নিউজিল্যান্ডে লকডাউন ছিল অত্যন্ত কঠোর
নিউজিল্যান্ডে লকডাউন ছিল অত্যন্ত কঠোর

পৃথিবীর অনেক দেশে যখন প্রতিদিন হাজার হাজার করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ছে, তখন জুন মাসের শেষ দিকে নিউজিল্যান্ডে মাত্র করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছিল দুই জনের।

শুধু তাই নয়, তার আগের ২৪ দিন নিউজিল্যান্ডে একজনেরও করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়েনি।

ফলে, দুজনের সংক্রমণ ধরা পড়ার যখন জানা গেল যে কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম ভঙ্গের জন্যই এটা ঘটেছে – তখন স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হলো।

প্রশ্ন হচ্ছে, নিউজিল্যান্ড কোভিড-১৯ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে এত সফল হলো কীভাবে?

নিউজিল্যান্ড কখন সীমান্ত বন্ধ করেছিল?

ফেব্রুয়ারি মাসের দুই তারিখ চীনের বাইরে প্রথম করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ে ফিলিপাইনে।

সে সময় নিউজিল্যান্ডে তখন কোন কোভিড সংক্রমণের খবরই ছিল না।

কিন্তু তার পর দিন থেকেই চীন থেকে বা চীন হয়ে আসা সব বিদেশীর প্রবেশ নিষিদ্ধ করে নিউজিল্যান্ড।

পাশাপাশি নিউজিল্যান্ডের কোন নাগরিক চীন থেকে দেশে ফিরলেই তাকে ১৪ দিন আইসোলেশনে থাকতে হতো।

যখন সারা দুনিয়া জুড়ে ভাইরাস ছড়াতে লাগলো – তখন ইরানের সাথেও বিমান চলাচল নিষিদ্ধ করা হলো। কারণ ইরানই ছিল নিউজিল্যান্ডের প্রথম করোনাভাইরাস কেসের উৎস।

এর পর একে একে উত্তর ইতালি ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আসা যাত্রী এবং সংক্রমণ লক্ষণ দেখা যাচ্ছে এমন যে কারো ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি হলো।

জাসিন্ডা আরডার্ন
জাসিন্ডা আরডার্ন

এর পর মার্চের ১৬ তারিখ থেকে নিউজিল্যান্ডে আগমনকারী নাগরিক-অনাগরিক নির্বিশেষে সবার জন্য দেশটিতে অবতরণের পর আইসোলেশন বাধ্যতামূলক করা হলো।

এর ব্যতিক্রম ছিল শুধু প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর লোকেরা – যেখানে করোনাভাইরাস প্রায় ছড়ায়নি বলা যায়।

প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন বলেছিলেন, এটা ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে কঠোর বিধিনিষেধ – যে জন্য তিনি কারো কাছে দু:খ প্রকাশ করবেন না।

এরও কয়েকদিন পর মিজ আরডার্ন এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিলেন । তিনি নিউজিল্যান্ডের নাগরিক নন, বা বাসিন্দা নন – এরকম প্রায় সবার জন্যই দেশটির সীমান্ত বন্ধ করে দিলেন।

“যখন সারা বিশ্বে সংক্রমণ ছিল মাত্র কয়েক হাজার – সে সময়ই এমন পদক্ষেপ নেবার ফলে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে দেশের জনগণের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকিয়ে দেয়া সম্ভব হয়েছিল” – বিবিসিকে বলছিলেন অধ্যাপক মার্টিন বেরকা, নিউজিল্যান্ডের ম্যাসি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অর্থনীতিবিদ।

আগেভাগে লকডাউন, এবং ভাইরাস নির্মূলের পরিকল্পনা

মার্চ মাসের মাঝামাঝি এটা স্পষ্ট হয়ে গেল যে সাধারণ ফ্লু মহামারির কর্মপরিকল্পনা দিয়ে এই নতুন করোনাভাইরাস ঠেকানো যাবে না – বলছিলেন নিউজিল্যান্ডে শীর্ষস্থানীয় সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মাইকেল বেকার।

চীনের উহান শহরের লকডাউনের সাফল্যের ব্যাপারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক রিপোর্টে এটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে নিউজিল্যান্ডকে শুরু থেকেই সর্বাত্মক পদক্ষেপ নিতে হবে এবং তার উদ্দেশ্য হতে হবে ভাইরাসটি একেবারে উচ্ছেদ করা – বলেন অধ্যাপক বেকার।

নিউজিল্যান্ডে এখন দোকান ও ক্যাফে খুলে দেয়া হয়েছে।
নিউজিল্যান্ডে এখন দোকান ও ক্যাফে খুলে দেয়া হয়েছে।

মার্চের শেষ দিকে জনগণকে দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত করতে আরো কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়। নিউজিল্যান্ডে জারি করা হয় চার-স্তর বিশিষ্ট এক সতর্কতা ব্যবস্থা।

মার্চ মাসের ২৫ তারিখ এই হুঁশিয়ারি চতুর্থ স্তরে উন্নীত করা হয়। এর আওতায় জারি করা হয় দেশব্যাপি এক সার্বিক লকডাউন, সবাইকে বাড়িতে থাকতে বলা হয়। চালু থাকে শুধুমাত্র জরুরি সেবাসমূহ।

“অন্যদের জন্য দৃষ্টান্ত”

ওই সময় নিউজিল্যান্ডে মাত্র ১০২ জনের সংক্রমণ রেকর্ড করা হয়েছিল। তখনো কেউ মারা যায়নি।

তুলনামূলকভাবে ওই সময় যুক্তরাজ্যে ৬,৫০০ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন, এবং মারা গিয়েছিলেন ৩৩০ জন।

যুক্তরাজ্য কখনো তার সীমান্ত বন্ধ করে নি। তবে জুন মাসের প্রথম দিকে সকল আগমনকারী যাত্রীকে বাধ্যতামূলক আইসোলেশনে থাকতে হবে বলে নিয়ম করেছিল। জুলাই মাসের প্রথম দিকে কিছু দেশের জন্য সেই নিয়ম আবার তুরে নেয়া হয়।

যুক্তরাজ্য সরকারের বক্তব্য ছিল যে তারা “বৈজ্ঞানিক পরামর্শের ভিত্তিতে সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ” নিচ্ছিল। তা ছাড়া যেহেতু যুক্তরাজ্যে জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংক্রমণ ততদিনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল তাই সীমান্তে বিধিনিষেধ আরোপ করলে তার প্রভাব হতো খুবই সীমিত।

নিউজিল্যান্ড প্রতিদিন ১০ হাজার কনট্যাক্ট ট্রেসিং করাতে পারছে
নিউজিল্যান্ড প্রতিদিন ১০ হাজার কনট্যাক্ট ট্রেসিং করাতে পারছে

অধ্যাপক বেরকা বলছিলেন, “ব্রিটিশদের মত আমরা যদি বেশি সময় অপেক্ষা করতাম এবং দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সবকিছু খোলা রাখতাম – তাহলেএটা বিরাট সমস্যার পরিণত হতো। আমাদের অর্থনৈতিক সমস্যা হয়তো অন্য কিছু দেশের তুলনায় সামান্য বেশি হয়েছে কিন্তু এর ফল হয়েছে এই যে আমরা বিচ্ছিন্ন হলেও মুক্ত এবং স্বাস্থ্যসম্মতভাবে চলতে পারছি।

“অধ্যাপক বেকার বলছেন, লকডাউন কার্যকর করার ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ড দারুণ কাজ করেছে। সংক্রমণ যখন শীর্ষে তখনও নিউজিল্যান্ডে দৈনিক সংক্রমিতের সংখ্যা ছিল মাত্র ৮৯ জন।

তারা দেশবাসীকে তাদের আহ্বানে মনপ্রাণ দিয়ে সাড়া দেয়াতে পেরেছে – বলছিলেন তিনি।

টেস্ট আর কনট্যাক্ট ট্রেসিং

লকডাউনের সময় ব্যাপকভাবে টেস্ট ও কনট্যাক্ট ট্রেসিংএর এক কর্মসূচি কার্যকর করা হয়।

নিউজিল্যান্ড এখন প্রতিদিন ১০,০০০ টেস্ট করাতে পারছে, এবং কোন সংক্রমিত ব্যক্তি চিহ্নিত হবার সাথে সাথে তার সংস্পর্শে আসা লোকদের আইসোলেশনে যাবার নির্দেশ দিচ্ছে।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা নিউজিল্যান্ডের প্রশংসা করে তাদেরকে অন্য দেশের জন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেছে।

নিউজিল্যান্ডের যে সমালোচনা হয়নি তা অবশ্য নয়।

লকডাউন চলতে থাকার ফলে প্রথমদিকে যে রাজনৈতিক ঐকমত্য ছিল তাতে চিড় ধরতে শুরু করে।

তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা সাইমন ব্রিজেস লকডাউনের ফলে অর্থনীতি এবং মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতির কথা তুলে ধরে বলেন, এ ক্ষতি লকডাউন না থাকলে যে ক্ষতি হতো তার চেয়ে বেশি।

লকডাউনের অর্থনৈতিক ক্ষতি নিয়ে মানুষের মধ্যে থেকেও প্রশ্ন উঠেছে।

তবে লকডাউন ভাঙার জন্য পুলিশ যে শত শত লোককে অভিযুক্ত করে – তা প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ৮০ শতাংশ লোকই।

এ সাফল্য কি ধরে রাখা যাবে?

জুন মাসের ৮ তারিখ জাসিন্ডা আরডার্ন ঘোষণা করলেন, ১৭ দিন ধরে জনগোষ্ঠীর মধ্যে কোন সংক্রমণ হয় নি এবং আক্রান্ত সবাই পুরোপুরি সেরে উঠেছেন – ফলে আপাতত নিউজিল্যান্ড ভাইরাস ছড়ানো থামাতে পেরেছে।

লকডাউন তুলে নেয়া হলো। প্রাত্যহিক জীবন এখন প্রায় স্বাভাবিক হয়ে এসেছে, যদিও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কিছু নিয়ম এখনও বলবৎ আছে।

নিউজিল্যান্ডে জীবন এখন প্রায় স্বাভাবিক
নিউজিল্যান্ডে জীবন এখন প্রায় স্বাভাবিক

কিন্তু বিদেশীদের জন্য সীমান্ত এখনো বন্ধ। কবে খোলা হবে তারও কোন ইঙ্গিত নেই। কর্মকর্তারা বলছেন, এ ক্ষেত্রে আত্মসন্তুষ্টি বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

এক সপ্তাহ পরই এর সত্যতা বোঝা গেল।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্য থেকে আসা দুজন মহিলা করোনাভাইরাস পজিটিভ বলে চিহ্নিত হলেন। তাদের পরীক্ষা না করেই কোয়ারেন্টিন থেকে আগে আগে বাইরে বেরুনোর অনুমতি দেয়া হয়েছিল, এবং তারা অসুস্থ হবর আগে পর্যন্ত গাড়ি চালিয়ে সারা দেশ ঘুরেছিলেন।

এর পর জানা যায়, বেশ কিছু লোককে উপযুক্ত পরীক্ষা ছাড়াই কোয়ারেন্টিন থেকে বেরুনোর অনুমতি দেয়া হয়েছিল – যা সরকারের ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার শামিল।

যদিও এর ফলে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়েনি, কিন্তু ব্যাপক জনরোষের মুখে স্বাস্থ্য মন্ত্রী ডেভিড ক্লার্ককে পদত্যাগ করতে হয়।

অধ্যাপক বেকার বলেন, নিউজিল্যান্ড একটি প্রত্যন্ত এবং ছোট দেশ বলে অর্থনৈতিক মূল্য স্বাভাবিকভাবেই হবে অত্যন্ত চড়া। কারণ সরকারি ভর্তুকি একসময় শেষ হযে যাবে এবং দেশটির বিদেশী পর্যটক ও কর্মী দরকার।

নিউজিল্যান্ড ছোট দেশ বলেই তারা সফল হতে পেরেছে, তাই নয় কি?

অধ্যাপক বেকার বলছেন, নিউজিল্যান্ডের বিচ্ছিন্নতা আর কম ঘনত্বের জনসংখ্যা তাদের জন্য সহায়ক হয়েছে ঠিকই, কিন্তু কার্যকর সরকার ও অবকাঠামো থাকলে এটা সব দেশেই করা সম্ভব – যেমন ভিয়েতনাম, তাইওয়ান ও চীন।

“বরং যে দেশগুলোর অবস্থা আমাকে অবাক করেছে তারা হলো যুক্তরাজ্য, ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকা। সাধারণত: জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে আমরা তাদেরকেই নেতৃত্বে ভুমিকায় দেখি।“

তবে যুক্তরাজ্য সরকার সবসময়ই বলেছে যে করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে তাদের কৌশল বৈজ্ঞানিক নির্দেশনাই অনুসরণ করেছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

‘কাজাখস্তানের “অজানা নিউমোনিয়া” করোনাভাইরাসের চেয়েও প্রাণঘাতী’

কাজাখস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট নুরসুলতান নাজারবায়েভের জন্মদিন পালন করা হয় ধুমধাম করে।
কাজাখস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট নুরসুলতান নাজারবায়েভের জন্মদিন পালন করা হয় ধুমধাম করে।

কাজাখস্তানে ছড়িয়ে পড়া এক ‘অজানা নিউমোনিয়া’ রোগের ব্যাপারে সেখানকার চীনা দূতাবাস হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এটি কোভিড-১৯ এর চেয়েও বেশি ভয়ংকর।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স চীনা দূতাবাসের একটি বিবৃতি উদ্ধৃত করে বলছে, কাজাখস্তানের আটিরাউ, আকটোবে এবং শাইমকেন্ট শহরে জুন মাসের মাঝামাঝি থেকে এই ‘অজানা নিউমোনিয়া’ ছড়াতে শুরু করে।

চীনা দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়, এ বছরের প্রথম ছয় মাসে কাজাখস্তানে নিউমোনিয়ায় মারা গেছে ১,৭৭২ জন। এর মধ্যে কেবল জুন মাসেই মারা গেছে ৬২৮ জন।

এতে বলা হয়, “এই নিউমোনিয়ায় মৃত্যুর হার করোনাভাইরাসের কারণে হওয়া নিউমোনিয়ার চেয়ে অনেক বেশি।”

রয়টার্স জানাচ্ছে, এই নিউমোনিয়া কি করোনাভাইরাসেরই কারণেই হচ্ছে নাকি এটি একেবারে ভিন্ন ধরণের কোন করোনাভাইরাস, সেটা ঠিক পরিস্কার নয়।

কাজাখস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এখন একটি তুলনামূলক সমীক্ষা চালাচ্ছে, কিন্তু কোন উপসংহারে তারা এখনো পৌঁছায়নি।

সাবেক প্রেসিডেন্টের নামে রাজধানীর নতুন নাম রাখা হয়েছে নুর-সুলতান
সাবেক প্রেসিডেন্টের নামে রাজধানীর নতুন নাম রাখা হয়েছে নুর-সুলতান

কাজাখস্তানের একটি সরকারি বার্তা সংস্থা কাজ-ইনফর্মে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, জুন মাসে সেখানে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২.২ শতাংশ বেশি।

কাজাখস্তানে এ পর্যন্ত ৫০ হাজারের বেশি কোভিড-১৯ সংক্রমণ ধরা পড়েছে। সরকারি হিসেবে মারা গেছে ২৬৪ জন।

বৃহস্পতিবার সেখানে এক দিনে সর্বোচ্চ ১,৯৬২ জনের সংক্রমণ ধরা পড়ে।

এই রহস্যজনক প্রাণঘাতী নিউমোনিয়া নিয়ে চীনের সরকারি গ্লোবাল টাইমস পত্রিকাতেও খবর বেরিয়েছে।

এতে বলা হয়, কাজাখস্তানের চীনা দূতাবাস সেখানে অবস্থানরত চীনা নাগরিকদের এই নিউমোনিয়ার ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর উল্লেখ করে চীনা দূতাবাস বলেছে, এই নিউমোনিয়ায় মৃত্যুর হার কোভিড-১৯ এর তুলনায় অনেক বেশি। গ্লোবাল টাইমস লিখেছে, চীনা দূতাবাসের এই হুঁশিয়ারির ব্যাপারে কাজাখাস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো কোন জবাব দেয়নি।

কিছু চীনা বিশেষজ্ঞ এই নিউমোনিয়া যাতে চীনে ছড়াতে না পারে সেজন্যে এখনই ব্যবস্থা নিতে বলছেন। চীনের উত্তর-পশ্চিমের শিনজিয়াং প্রদেশের সঙ্গে কাজাখাস্তানের সীমান্ত রয়েছে।

প্রেসিডেন্ট কাসিম জমার্ট টোকায়েভ ১৩ জুলাই জাতীয় শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট কাসিম জমার্ট টোকায়েভ ১৩ জুলাই জাতীয় শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছেন।

কাজাখস্তানের সরকারি বার্তা সংস্থা কাজ-ইনফর্মে সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, এই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা কোভিড-১৯ এ আক্রান্তদের চেয়ে দুই হতে তিনগুন বেশি।

কাজাখাস্তানের এই ‘রহস্যজনক নিউমোনিয়া’ নিয়ে চীনের সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা চলছে।

‘কাজাখাস্তানে অজানা নিউমোনিয়া’ হ্যাশট্যাগের পোস্টগুলো চীনর সাইনা-ওয়েইবু সাইটে ৩৭ কোটি বারের বেশি পড়া হয়েছে।

সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

কাজাখস্তানের সরকার যেভাবে করোনাভাইরাস মোকাবেলার চেষ্টা করছে, তা নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে।

ক্রমবর্ধমান জন অসন্তোষের মুখে সরকার গতকাল ঘোষণা করেছে যে, আগামী ১৩ই জুলাই কাজাখস্তানে সরকারিভাবে ‍‘শোক দিবস’ পালন করা হবে কোভিড-১৯ রোগে মারা যাওয়া মানুষদের স্মরণে।

প্রেসিডেন্ট কাসিম জমার্ট টোকায়েভ গতকাল টেলিভিশনে জাতির সামনে দেয়া ভাষণে একথা ঘোষণা করেন।

সরকারি পত্রিকা আস্টানা টাইমস জানাচ্ছে, প্রেসিডেন্ট তার ভাষণে স্বীকার করেছেন যে, কাজাখস্তানে শুরুতে লকডাউনের কারণে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার কমে আসলেও দ্বিতীয় দফায় আবার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। এজন্যে তিনি দোষারোপ করেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তাদের এবং বিভিন্ন শহরের মেয়রদের।

এই করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেই গত ৬ই জুলাই রাজধানী নুর-সুলতানে যেভাবে আতশবাজি পুড়িয়ে উ‌ৎসব করা হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

কাজাখস্তানের রাজধানীর নতুন নামকরণ করা হয় সাবেক প্রেসিডেন্ট নুরসুলতান নাজারবায়েভের নামে। ৬ই জুলাই তার জন্মবার্ষিকী প্রতিবছর ধুমধাম করে পালন করা হয়। এ বছর ছিল তার ৮০ তম জন্মদিন।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে এর আগে খবর বেরিয়েছিল যে নুরসুলতান নাজারবায়েভ নিজেও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

এরকম ধুমধামের সঙ্গে তার জন্মদিন পালন সম্পর্কে প্রশ্ন তুলে কায়রাত জোলডিবায়ুলাই নামে একজন ফেসবুকে লিখেছেন, “মানুষ যখন মৃত্যুশোক করছে, তখন এরকম আতশবাজি পোড়ানো জনগণের সঙ্গে নির্মম পরিহাস ছাড়া আর কিছু নয়। একটা পুরো জাতির দুঃখের চেয়ে যেন একজন ব্যক্তির মনভালো রাখা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

করোনা ভাইরাস: ভারত কি বিশ্ব মানচিত্রে পরবর্তী হটস্পট?

ভারতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হয়েছে ধীর গতিতে। কিন্তু প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হবার ছয় মাস পর, ভারত এখন রাশিয়াকে টপকে বিশ্বে সবচেয়ে সংক্রমিত দেশগুলোর তালিকায় তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে।

বিশ্বের দ্বিতীয় সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারত। দেশটির জনসংখ্যার বিশাল অংশ বাস করে জনাকীর্ণ শহরগুলোতে।

ভারত করোনাভাইরাসের বিশ্বের একটা হটস্পট হয়ে উঠবে এটা প্রথম থেকেই আশংকা করা হচ্ছিল।

কিন্তু দেশটিতে করোনাভাইরাসের পরিসংখ্যান নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে, কারণ ভারতে যথেষ্ট পরীক্ষা হচ্ছে না, এবং দেশটিতে অস্বাভাবিক কম মৃত্যু হারে বিজ্ঞানীরা বিভ্রান্ত।

ভারতে করোনাভাইরাসের বিস্তার নিয়ে যে পাঁচটি বিষয় জানা যাচ্ছে।

১. ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে

ভারতে সম্প্রতি পরপর বেশ কয়েকদিন আক্রান্তের সংখ্যা চূড়ায় পৌঁছনর রেকর্ড হয়েছে। ভারতে শনাক্ত রোগীর সবোর্চ্চ সংখ্যা ছিল জুন মাসে। কঠোর লকডাউনের পর সবকিছু খুলে দেবার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই উচ্চ হার দেখা যায়।

৮ই জুলাই পর্যন্ত ভারতে নিশ্চিত কোভিড শনাক্তের সংখ্যা ছিল ৭ লাখ ৪২ হাজার ৪১৭।

কিন্তু দেশের জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংক্রমণের হারের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট নয়, বলছেন ভাইরোলজিস্ট শাহীদ জামিল।

মে মাসে ভারত সরকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ২৬ হাজার নমুনা নেয়, যার মধ্যে ০.৭৩ শতাংশ নমুনায় ভাইরাস পাওয়া যায়। কিছু বিশেষজ্ঞ নমুনার সংখ্যা নিয়ে সন্তুষ্ট নন। কিন্তু ড. জামিলের মত অন্য কিছু বিশেষজ্ঞ বলছেন, সারা দেশ থেকে সংগ্রহ করা এই নমুনাগুলোই দেশব্যাপী একটা সার্বিক চিত্র তৈরি করার একমাত্র ভিত্তি।

“এই নমুনার ফলাফল যদি সারা দেশের জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়, তাহলে বলতে হবে মে মাসের মাঝামাঝি ভারতে মোট সংক্রমিতের সংখ্যা ছিল এক কোটি,” ড. জামিল বলেন।

ভারতে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা যেহেতু প্রতি বিশ দিনে বেড়ে দ্বিগুণ হচ্ছে, সেই হিসাব ধরলে এই মুহূর্তে আক্রান্তের সংখ্যা দেশটিতে দাঁড়ায় তিন থেকে চার কোটির মধ্যে।

নিশ্চিত বলে শনাক্ত এবং সত্যিকার সংক্রমিতের মধ্যে হিসাবের যে ফারাক তা প্রত্যেক দেশেই আছে- তবে তা বেশি-কম। এর ফারাক কমানোর একমাত্র পথ হল টেস্টিং। “আপনি যত বেশি টেস্ট করবেন, তত বেশি লোক শনাক্ত হবে।”

ভারতে সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে সেটাই হয়েছে- সরকার টেস্ট বাড়িয়ে দিয়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যাও হঠাৎ লাফিয়ে বেড়েছে।

ভারতে ১৩ই মার্চ থেকে মোট টেস্ট হয়েছে এক কোটির বেশি। কিন্তু এর অর্ধেকের বেশি হয়েছে পয়লা জুনের পর।

২.ভারত যথেষ্ট টেস্ট করছে না

ভারতে আক্রান্ত রোগী সংখ্যার হিসাবে খুবই বেশি, কিন্তু মাথা পিছু হিসাবে দেখলে তা অপেক্ষাকৃত কমই। বিশ্বে আক্রান্তের যে সংখ্যা তা মাথা পিছু হিসাবে ভারতের চেয়ে গড়ে তিন গুণ বেশি।

তবে ড. জামিল বলছেন ভারতে আক্রান্তের মাথা পিছু হিসাব কম তার কারণ ভারতে টেস্টের সংখ্যা খুবই কম। অন্য যেসব দেশে মাথা পিছু শনাক্তের হার বেশি, ভারতের সাথে তুলনা করলে দেখা যাবে তারা পরীক্ষা করছে অনেক বেশি।

উপরের চার্টে তুলনামূলক হিসাবে দেখানো হয়েছে যেসব দেশে মাথা পিছু হিসাবে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি সেখানে টেস্টিংএর হারও মাথা পিছু হিসাবে বেশি।

ভারতের ক্ষেত্রে মাপের হিসাবে এই আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় চোখেই পড়ে না কারণ টেস্টিংয়ের হার সেখানে এতই কম।

এখানে আরেকটা জিনিস গুরুত্বপূর্ণ, সেটা হল কত টেস্ট হচ্ছে শুধু সেটা নয়, কাদের টেস্ট করা হচ্ছে।

প্রথম দিকে ভারত জোর দিয়েছিল শুধু তাদেরই মধ্যে টেস্ট সীমিত রাখতে, যাদের আক্রান্ত হবার ঝুঁকি বেশি এবং তাদের সংস্পর্শে যারা এসেছে। এর বাইরের জনগোষ্ঠীকে তারা টেস্টের আওতায় আনেনি।

সংক্রমণ যখন দ্রুত ছড়াতে শুরু করে তখন টেস্ট এবং ট্রেস আর কাজ করে না, বলছেন হিমাংশু তেয়াগি এবং আদিত্য গোপালন, যারা কোভিড-১৯ এর পরীক্ষা কৌশল নিয়ে কাজ করেছেন। তারা বলছেন এই পর্যায়ে টেস্টিং, ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সাহায্য করে, কিন্তু যাদের মধ্যে ভাইরাস থাকলেও শনাক্ত হয়নি, তাদের আর খুঁজে বের করা যায় না।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে ভারতে কাদের পরীক্ষা করা হচ্ছে? বিভিন্ন দেশের মধ্যে তুলনা করার ক্ষেত্রে একটা বড় সমস্যা আছে। কোন কোন দেশ কত লোককে পরীক্ষা করা হচ্ছে সেটার হিসাব দেয়। আবার কোন দেশ হিসাব দেয় তাদের মোট পরীক্ষার সংখ্যা কত। ভারতের হিসাবে থাকে মোট পরীক্ষার সংখ্যা। সেখানে ভারতের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা বেশি আসে। কারণ বেশিরভাগ লোককে ভারতে পরীক্ষা করা হয় একাধিকবার।

বিজ্ঞানীরা একজন শনাক্ত ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে কত টেস্ট করা হয়েছে সেটার হিসাবের ওপর জোর দিতে চান।

টেস্টের পরিসর যত ব্যাপক করা যাবে, তত পজিটিভ শনাক্তের হার কমবে। সে কারণে নিউজিল্যান্ড এবং তাইওয়ানে এই হার ১%এর অনেক কম।

ভারতের পজিটিভ রোগীর হার এপ্রিলে ছিল ৩.৮% এখন জুলাইয়ে সেই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬.৪%। এটা ক্রমশ বাড়ছে। এর কারণ টেস্ট এখন ব্যাপক পরিসরে হচ্ছে না। টেস্ট হচ্ছে শুধু সীমিত পরিসরে উচ্চ ঝুঁকিরএকটা জনগোষ্ঠীর এবং তাদের কন্ট্যাক্টে আসা কিছু লোকের।

৩. ভারতে সুস্থ হয়ে ওঠার হার সন্তোষজনক

তথ্য উপাত্তে দেখা যাচ্ছে যে ভারতে যাদের ভাইরাসের শনাক্ত হচ্ছে তারা সেরে উঠছে দ্রুত। সুস্থ হবার হার মৃত্যু হারের থেকে বেশি।

এটা গুরুত্বপূর্ণ বলছেন ড. জামিল, কারণ এতে বোঝা যায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর কতটা চাপ পড়ছে।

বর্তমানে সেরে ওঠার হার শনাক্ত ও মৃত্যু হারের থেকে অনেক উপরে। আর বেশি মানুষের সেরে ওঠার অর্থ স্বাস্থ্য পরিষেবার ওপর বেশি চাপ।

টেস্টিং কম হওয়ার একটা অর্থ হল নতুন সংক্রমণ নথিভুক্ত হচ্ছে কম এবং ধীরে। আর নতুন সংক্রমণ নথিভুক্ত কম হলে স্বভাবতই সুস্থ হওয়ার হার বেড়ে যাবে।

বিশ্বের যেসব দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি সেসব দেশের তুলনায় ভারতে সুস্থ হয়ে ওঠার গ্রাফের ঊর্ধ্বমুখী চিত্র অনেক ইতিবাচক। এটা ধারণা দেয় যে আমেরিকা ও ব্রাজিলের তুলনায় ভারতে কোভিড রোগীরা সুস্থ হচ্ছে সংখ্যায় বেশি এবং দ্রুত। আমেরিকায় যেখানে এই হার ২৭%, ভারতের ক্ষেত্রে সেই হার ৬০%।

তবে এখানেও তুলনা করার ক্ষেত্রে একটা সমস্যা হল তথ্য সংকলন পদ্ধতি এবং সেরে ওঠার সংজ্ঞা নিয়ে।

ভারতে সুস্থ হয়ে ওঠার তথ্য দেখা হয় যখন কেউ পরীক্ষায় কোভিড শনাক্ত হচ্ছে এবং তার কয়েক সপ্তাহ পর আবার পরীক্ষা করে সে নেগেটিভ হচ্ছে। কিন্তু কোন কোন দেশে যেসব শনাক্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে এবং পুরো সুস্থ হচ্ছে শুধু তাদেরই এই পরিসংখ্যানে ধরা হয়।

আরও বলা হচ্ছে ভারতে সুস্থ হয়ে ওঠার পরিসংখ্যান ভাল তার একটা কারণ ভারত মৃত্যুর যে সংখ্যা দিচ্ছে তা অনেক কম।

৪. ভারতে মৃত্যু হার খুবই নিচু

ভারতে কোভিড-১৯এ এ পর্যন্ত মারা গেছে প্রায় ২০,১৬০। সংখ্যা দিয়ে হিসেব করলে ভারতের স্থান আসবে বিশ্ব মানচিত্রে আট নম্বরে। কিন্তু জনসংখ্যার প্রতি দশলাখের হিসাবে এই হার আসলে কম।

“এটা পশ্চিম ইউরোপে মৃত্যুর হারের তুলনায় খুবই নগণ্য,” বলছেন ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের অর্থনীতিবিদ শামিকা রাভি।

তবে ভারতে মৃত্যুর হার নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ মনে করেন ভারত এই সংখ্যা সম্ভবত কমিয়ে বলছে ।

তবে ড. রাভি মনে করেন সেটা সম্ভব নয়।

“ভারতে মৃত্যুর হার যদি বেশি হতো, কোন তথ্য দিয়ে তা গোপন রাখা সম্ভব হতো না। কারণ ইউরোপ আর ভারতের মধ্যে মৃত্যুর হারের তফাৎটা ব্যাপক।”

ভারতে মৃত্যুর হার ওই এলাকার অন্যান্য দেশের সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেমন পাকিস্তান বা ইন্দোনেশিয়া।

এর পেছনে নানা তত্ত্ব আছে। যার মধ্যে একটা হল পশ্চিমে যেসব দেশ বেশিরকম আক্রান্ত, সেসব দেশের সাথে তুলনা করলে দেখা যাবে, ওই এলাকার দেশগুলোতে এর থেকে কম শক্তির ভাইরাসে মানুষ আগে আক্রান্ত হয়েছে- ফলে তাদের হয়ত কিছুটা ইমিউনিটি থাকতেও পারে, এবং এসব দেশে জনসংখ্যার একটা বড় অংশ অপেক্ষাকৃত তরুণ।

ড. জামিল বলছেন, “এসব দেশে নানাধরনের জীবাণু এত বেশি যে মানুষের শরীরে যে কোন ভাইরাস প্রতিরোধের শক্তি হয়ত পশ্চিমের মানুষের চেয়ে স্বাভাবিকভাবে বেশি। তবে ভারতে মৃত্যু হার কেন কম তার আসল কারণ আমাদের জানা নেই।”

৫. ভারতের প্রত্যেক রাজ্য আলাদা

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতই করোনাভাইরাসের পরিসংখ্যান ভারতের একেক রাজ্যে একেক রকম।

ভারতের শনাক্ত রোগীর ৬০ শতাংশই দিল্লি, মহারাষ্ট্র এবং তামিল নাডুতে।

ভারতের এক রাজ্যে আক্রান্তের হার যখন কমে, তখন আবার দেখা যায় অন্য রাজ্যে তা ঊর্ধ্বমুখী। দক্ষিণে কর্নাটক এবং তেলেঙ্গানায় আক্রান্ত সম্প্রতি বেড়েছে। দক্ষিণেরই অন্ধ্র প্রদেশে আক্রান্তের সংখ্যা বরাবরই উপরের দিকে

ভারত সরকার এ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ভাইরাস মোকাবেলা করেছে এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন সেই কৌশল এখন বদলানো দরকার।

ড. জামিল বলছেন ভারতের উচিত হবে “রাজ্য ভিত্তিক মোকাবেলা কৌশল” নির্ধারণ করা। তিনি মনে করেন প্রতিটা রাজ্যে স্থানীয় ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে, এবং স্থানীয় বাস্তবতার নিরীখে ভাইরাস মোকাবেলায় পদক্ষেপ নিতে হবে।

তার মতে, আবার দেশ জুড়ে আরেকটা লকডাউন দিলে তা আরও কম ফল দেবে। ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
নিউইয়র্কে ঝড়ের সময় হাডসন নদীর ওপর বজ্রপাতের দৃশ্য। মাঝখানের সবচেয়ে উঁচু দালানটি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার।

চলতি সপ্তাহের কিছু ছবি যা নিয়ে আলোচনা চলছে বিশ্বজুড়ে

করোনা ভাইরাস: কোভিড-১৯ রোগের উৎস চীনের উহানকে ঘিরে যেসব প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে

বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টাতেই আইসোলেশনে যুক্ত হয়েছেন ৭৯২জন।

করোনা ভাইরাস: আইসোলেশনে থাকলে যে সাতটি কাজ করবেন

জাসিন্ডা আরডার্ন

করোনা ভাইরাস: করোনাভাইরাস ঠেকাতে নিউজিল্যান্ড কীভাবে এত সফল হলো?

সাবেক প্রেসিডেন্টের নামে রাজধানীর নতুন নাম রাখা হয়েছে নুর-সুলতান

‘কাজাখস্তানের “অজানা নিউমোনিয়া” করোনাভাইরাসের চেয়েও প্রাণঘাতী’

করোনা ভাইরাস: ভারত কি বিশ্ব মানচিত্রে পরবর্তী হটস্পট?

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা নিয়ে বড় দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে র‍্যাব।

করোনা ভাইরাস পরীক্ষায় অনিয়ম: বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্নতার আশংকা বাংলাদেশের সামনে?

অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে নানা আকারের ও দামের গরু

অনলাইনে কোরবানির গরু ক্রয়ে ঝুঁকি কতটা?

হাইয়া সোফিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে।

৮৬ বছর পর ইস্তাম্বুলের হাইয়া সোফিয়ায় শোনা গেল আজান ধ্বনি

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট যে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়ছে, তারা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মেনে নেয়নি

অস্ত্র ব্যবসা: ব্রিটেন সৌদি আরবের কাছে কী পরিমাণ অস্ত্র বিক্রি করে? কেন এই ব্যবসা নিয়ে বিতর্ক?

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com