আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বিশ্ব

সিরিয়ার যে শহরে মানুষের চেয়ে বিড়াল বেশি

 কাফর নাবলে এখন মানুষের চেয়ে বিড়াল অনেক বেশি
কাফর নাবলে এখন মানুষের চেয়ে বিড়াল অনেক বেশি

সিরিয়ার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত কাফর নাবল শহরে মাসের পর মাস সিরিয় এবং রুশ সৈন্যদের বোমাবর্ষণের পর সেখানে এখন মানুষের চেয়ে বিড়ালের সংখ্যা বেশি হয়ে গেছে।

বিবিসির মাইকেল টমসন গিয়েছিলেন ঐ প্রায় ভুতুড়ে শহরে। তিনি বলছেন, কাফর নাবলের অবশিষ্ট মানুষ এবং বিড়ালেরা কঠিন এই দুঃসময়ে এক অপরকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিচ্ছে।

সংবাদদাতা যেদিন সেখানে ছিলেন, সেদিন আরেক দফা বোমা হামলা শুরু হয় ঐ শহরে।

শহরের বাসিন্দা ৩২ বছরের সালাহ জার বাঁচার জন্য তার বাড়ির ইট-পাথরের টুকরো ভর্তি বেজমেন্টের কোনায় একটি টেবিলের নীচে আশ্রয় নেন ।

শুধু তিনিই নন, তার সাথে একই টেবিলের তলে তাকে ঘিরে ছিল ৬/৭টি বিড়াল। সালাহর মতো তারাও ছিল আতঙ্কিত, সন্ত্রস্ত।

সালাহ বললেন, “বিড়ালগুলো সাথে থাকলে কিছুটা ভরসা পাই। বোমা যখন শুরু হয় ভয় যেন একটু কম লাগে।”

সালাহর এই শহর কাফর নাবলে একসময় ৪০ হাজার লোকের বসবাস ছিল। এখন সেই সংখ্যা কমতে কমতে বড় জোর ১০০।

কিন্তু এই শহরে এখন বিড়ালের সংখ্যা মানুষের চেয়ে অনেকগুণ বেশি। সংখ্যা ধারনা করা কঠিন, তবে অবশ্যই তা কয়েকশ। কয়েক হাজারও হতে পারে।

কাফর নাবলে এপ্রিল থেকে ব্যাপক বোমাবর্ষণ হচ্ছে। পালিয়ে গেছে অধিকাংশ বাসিন্দা
কাফর নাবলে এপ্রিল থেকে ব্যাপক বোমাবর্ষণ হচ্ছে। পালিয়ে গেছে অধিকাংশ বাসিন্দা

সালাহ জানালেন এত মানুষ পালিয়ে গেছে যে শহরটি এখন প্রায় জনশূন্য।

“খুবই কম মানুষ এখন এই শহরে। বিড়ালগুলোকে দেখাশোনা করার জন্য তো কিছু মানুষ দরকার। তাদের খাবার দিতে হয়, পানি দিতে হয়। সুতরাং যে সব বাড়িতে এখনও মানুষ রয়েছে, বিড়ালগুলো যেসব বাড়িতে গিয়ে ভিড় করছে।”

সালাহ জানালেন মানুষ আছে এমন প্রতিটি বাড়িতে এখন কমপক্ষে ১৫টি করে বিড়াল রয়েছে।

ফ্রেশ এফএম নামে স্থানীয় একটি রেডিও স্টেশনের রিপোর্টার হিসাবে কাজ করেন সালাহ।

সম্প্রতি বোমায় রেডিও স্টেশনটির মূল স্টুডিওটি ধ্বংস হয়ে গেছে। কিন্তু ভাগ্যক্রমে ট্রান্সমিটারটি তার কদিন আগে কাছের একটি শহরে সরিয়ে নেওয়া হয়।

এই রেডিও স্টেশন থেকে খবর, শ্রোতাদের সাথে ফোন-ইন, কৌতুক অনুষ্ঠান প্রচারের পাশাপাশি বিমান হামলার আগাম বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

স্থানীয়দের কাছে এই রেডিও স্টেশনটি যেমন জনপ্রিয়, শহরের বিড়ালদের কাছেও তেমনই প্রিয়।

বেশ কিছুদিন ধরেই কয়েক ডজন বিড়াল স্টেশনটির ভবনটিকে তাদের ঘর বানিয়েছে।

সালাহ জার এবং তার বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া একটি বিড়াল
সালাহ জার এবং তার বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া একটি বিড়াল

রেডিও’র প্রতিষ্ঠাতা রায়েদ ফারেসকে ২০১৮ সালের নভেম্বরে ইসলামপন্থীরা হত্যা করে। কিন্তু মৃত্যুর আগে তিনি এই বিড়ালগুলোকে খাওয়ানোর জন্য কিছু পয়সা রেখে গিয়েছিলেন।

“অনেক বিড়ালের জন্ম হয়েছে এই ভবনে। সেগুলোর মধ্যে সাদা এবং বাদামি ছোপের একটি বিড়ালকে খুবই ভালবাসতেন রায়েদ। তিনি যেখানে যেতেন, বিড়ালটি তার সাথে থাকতো। বিড়ালটিকে পাশে নিয়ে ঘুমাতেন তিনি।”

তার বিধ্বস্ত বাড়িটি থেকে সালাহ যখন বাইরে এলেন, সাথে সাথে তাকে ঘিরে শুরু হয়ে যায় একগাদা বেড়ালের তারস্বরে মিয়াউ-মিয়াউ ডাক।

সবজায়গাতেই একই ঘটনা ঘটে।

“কখনো কখনো আমরা যখন রাস্তায় হাঁটি, ২০ থেকে ৩০টি বিড়াল আমাদের সাথে হাঁটতে থাকে। তাদের কোনো কোনোটি আমাদের সাথে বাড়িতে ঢুকে পড়ে।”

সন্ধ্যের পর এই শহরের নানা কোনা থেকে শোনা যায় কুকুরের ডাক। এরাও রাস্তাতেই থাকে। তাদের এখন আর ঘর নেই, ক্ষুধার্ত।

ফলে রাতের বেলা শোয়ার জায়গা এবং খাবার নিয়ে শুরু হয়ে যায় রাস্তার বিড়াল এবং কুকুরদের মধ্যে প্রতিযোগিতা, রেষারেষি।

সালাহ বললেন, আকৃতিতে ছোটো হলেও কুকুর ও বিড়ালদের ঐ লড়াইতে শেষ পর্যন্ত বিড়ালরাই জেতে।

“অবশ্যই বিড়ালরাই জেতে। তাদের সংখ্যাতো অনেক বেশি।”

এই বিড়ালগুলো একসময় গৃহপালিতই ছিল। বাড়িতে আয়েশে থাকতো । কিন্তু এপ্রিলে সরকারি সৈন্যরা শহরের দখল নেওয়ার চেষ্টায় বোমাবর্ষণ শুরু করলে মানুষজন পালাতে শুরু করে। পেছনে ফেলে যায় তাদের বিড়ালগুলো।

এখন নতুন প্রভু, নতুন আশ্রয় খুঁজতে হচ্ছে তাদের।

সালাহ নিজে যখনই যা খান, বিড়ালগুলোকে কিছু দিতে হয়।
সালাহ নিজে যখনই যা খান, বিড়ালগুলোকে কিছু দিতে হয়।

সালাহ যদিও জানেনা যে আগামিকাল তিনি বেঁচে থাকবেন কিনা। কাল তার খাবারের জোগাড় হবে কিনা, কিন্তু ঘরের বিড়ালগুলোর জন্য কিছু না কিছু তাকে জোগাড় করতেই হয়।

“আমি যখনই খাই, ওরাও খায়। সেটা সবজি হোক, নুডলস হোক বা শুকনো রুটি হোক। অমি মনে করি আমাদের উভয়ের জন্য সময়টা অত্যন্ত খারাপ, আমরা উভয়েই দুর্বল হয়ে পড়েছি, সুতরাং আমাদের উচিৎ পরস্পরকে সাহায্য করা।”

বোমায় মানুষের পাশাপাশি বিড়ালগুলোও মাঝে-মধ্যেই জখম হয়। লোকজন তাদের চিকিৎসার সবরকম চেষ্টা করে।

“আমার এক বন্ধুর বাড়িতে একদিন বোমায় একটি বিড়ালের সামনের পায়ের থাবার কিছু অংশ উড়ে যায়। আমরা দ্রুত তাকে ইদলিবে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা দিয়েছিলাম। এখন সে হাঁটতে পারে।”

কাফর নাবল শহরের বর্তমান হাল
কাফর নাবল শহরের বর্তমান হাল

প্রেসিডেন্ট আসাদের সৈন্যরা কাফর নাবল থেকে বেশিদূর নয়। যে কোনদিন হয়তো তারা এই শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেবে। তখন এই বিড়ালগুলোর কি হবে – তা নিয়ে সালাহ উদ্বেগের মধ্যে থাকেন।

“আমরা একসাথে আমাদের সু-সময়, দুঃসময় পার করছি। এক বিছানায় শুই। খাবার ভাগ করে খাচ্ছি। ওরা এখন আমাদের জীবনের অংশীদার হয়ে গেছে।”

তিনি বলেন যদি তাকে এই শহর থেকে পালাতে হয়, তাহলে চেষ্টা করবেন সাথে করে যতগুলো সম্ভব বিড়াল সাথে নিয়ে যেতে।

যুদ্ধের এই ভয়াবহতা আর বর্বরতার মধ্যে সিরিয়ার এই শহরে মানুষ এবং এই পশুগুলোর মধ্যে যে গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, তা সহজে ভাঙ্গার নয়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

বিশ্ব

করোনার ১১ ভেরিয়েন্টে কার্যকর বঙ্গভ্যাক্স

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশে তৈরি বঙ্গভ্যাক্স টিকার অ্যানিমেল (বানরের শরীরে) ট্রায়াল আগামী বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) শেষ হচ্ছে। প্রাথমিক ফলাফলে এই টিকা ডেল্টাসহ বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের ১১টি ভেরিয়েন্টের বিরুদ্ধে শতভাগ কার্যকর বলে দাবি করেছে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির কোয়ালিটি অ্যান্ড রেগুলেটরি বিভাগের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গত ১ আগস্ট থেকে বানরের ওপর শুরু হওয়া এ ট্রায়াল আগামী বৃহস্পতিবার শেষ হবে। এরপর আগামী সপ্তাহের দিকে ট্রায়ালের বিস্তারিত প্রতিবেদন বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদের (বিএমআরসি) কাছে হস্তান্তর করতে পারব বলে আশা করছি।

ড. মহিউদ্দিন জানান, এখন পর্যন্ত বিশ্বে করোনা ভাইরাসের ডেল্টাসহ ১১টি ভেরিয়েন্ট বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় সক্রিয় ছিল। আমরা এ ১১টি ভেরিয়েন্টের সিকোয়েন্স অ্যানালাইসিস করে টিকার সিকোয়েন্স মিলিয়ে দেখেছি প্রতিটি ভেরিয়েন্টের ক্ষেত্রেই বঙ্গভ্যাক্স কার্যকর। ‍এর প্রমাণ মিলেছে বানরের শরীরে পরীক্ষার ক্ষেত্রেও। প্রাথমিক ফলাফলে আমাদের টিকা বানরের শরীরে নিরাপদ এবং কার্যকর অ্যান্টিবডি তৈরি করতে সক্ষম বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তিনি আরো জানান, আমরা ভ্যাকসিনেটেড বানরের শরীরে করোনা ভাইরাসের ডেল্টাসহ অন্যান্য ভেরিয়েন্ট প্রয়োগ করে চ্যালেঞ্জ স্টাডি করেছি। চূড়ান্ত ফলাফলে আমাদের টিকা ডেল্টাসহ অন্যান্য ভেরিয়েন্টের বিরুদ্ধে শতভাগ কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। তাই উন্নত বিশ্ব করোনা মোকাবেলায় যে নতু ভ্যাকসিনের কথা বলছে, আমরা মনে করি সেই নতুন ভ্যাকসিনটি হতে পারে বঙ্গভ্যাক্স। কারণ এক বছর আগে যখন প্রথম ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়েছিল তখন করোনার এত রূপ আবিষ্কৃত হয়নি। ফলে বর্তমানে প্রচলিত বেশিরভাগ ভ্যাকসিন ডেল্টা ভেরিয়েন্টের বিরুদ্ধে খুব একটা কার্যকরী ভূকা রাখতে পারছে না।

গ্লোব বায়োটেকের এই কর্মকর্তা বলেন, আমরা বিশ্বাস করি বঙ্গভ্যাক্স ভ্যাকসিন বিশ্বকে এ করোনা সংকট থেকে উদ্ধার করবে। আমরা আত্মবিশ্বাসী যে, বঙ্গভ্যাক্স মানবদেহেও একই ভাবে কাজ করবে। তাই আমরা যদি এ টিকা মানবদেহে পরীক্ষা শেষে বাজারে নিয়ে আসতে পারি তাহলে সারাবিশ্বে ডেল্টাসহ করোনার অন্যান্য ভেরিয়েন্টের যে মহামারী চলছে সেটা থেকে পরিত্রাণ মিলবে।

মোহাম্মদ মহিউদ্দিন জানান, আমাদের টিকার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর ১টি ডোজেই অ্যানিমেল ট্রায়ালে কার্যকর অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে। আশা করছি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালেও একই ভাবে ফল পাওয়া যাবে। এটি +৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ১ মাস এবং -২০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ৬ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যাবে।

তিনি জানান, এই টিকা সিন্থেটিক্যালি তৈরি হওয়ায় তা ভাইরাসমুক্ত এবং শতভাগ হালাল। আমরা যদি দ্রুত টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শেষ করে মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে দেশবাসীর সেবায় বঙ্গভ্যাক্সকে উৎসর্গ করতে পারি, তাহলে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্ব দরবারে আরো সুপ্রতিষ্ঠিত হবে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২ জুলাই ওষুধ প্রস্তুতকারী গ্লোব ফার্মার সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক ‘বঙ্গভ্যাক্স’ টিকা তৈরির কাজ শুরুর কথা জানায়। ওই টিকা খরগোশ ও ইঁদুরের ওপর প্রয়োগ করে ‘কার্যকর ও সম্পূর্ণ নিরাপদ’ প্রমাণিত হয়েছে বলেও তখন জানানো হয়।

গত বছরের ১৫ অক্টোবর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গ্লোব বায়োটেক কর্তৃক আবিষ্কৃত বঙ্গভ্যাক্স টিকাকে কোভিড-১৯ টিকার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। এরপর গত ডিসেম্বরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষজ্ঞ দল বঙ্গভ্যাক্সের গবেষণাগার পরিদর্শন করে সব তথ্য-উপাত্ত ও প্রি-ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের নথিপত্র পর্যালোচনা করে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অগ্রগতিতে সহযোগিতা করে। পরবর্তী সময়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর ওই গবেষণাগার ও উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন সাপেক্ষে গত ২৮ ডিসেম্বর ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য ‘বঙ্গভ্যাক্স’ উৎপাদনের অনুমতি দেয়।

এরপর ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমতি চেয়ে গত জানুয়ারিতে বিএমআরসিতে আবেদন জমা দেয় গ্লোব বায়োটেক। কিন্তু দীর্ঘ পাঁচ মাস পর গত ২২ জুন বিএমআরসি একটি চিঠি দিয়ে গ্লোব বায়োটেককে জানায়, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের আগে বানর বা শিম্পাঞ্জির শরীরে প্রয়োগ করে এ টিকা পরীক্ষা করতে হবে। তারপরই ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের নৈতিক অনুমোদন দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

তাড়াশে ড্রামের ভেলায় চড়ে মাছ চাষ

তাড়াশে প্লাস্টিকের ড্রাম দিয়ে ভেলা বানিয়ে পুকুরের মাছের খাবার দেওয়ার কাজে লাগাচ্ছেন চাষিরা। ডিঙ্গি নৌকার পরিবর্তে ড্রামের ভেলার প্রচলন দিনকে দিন বেড়েছে।

সরজমিনে দেখা যায়, আরঙ্গাইল গ্রামীণ সড়কের সঙ্গের একটি পুকুরে ড্রামের ভেলায় বসে মাছের খাবার দিচ্ছেন একজন মাছচাষি। নাসির উদ্দিন নামের ঐ মাছচাষি বলেন, ডিঙ্গি নৌকার কাঠ এক থেকে দুই বছরে নষ্ট হয়ে যায়। পুকুরে মাছ চাষের জন্য ড্রামের ভেলার ব্যবহার অতি সহজ ও দীর্ঘস্থায়ী একটি মাধ্যম। এ ভেলা টিকেও বহুদিন। বর্তমানে আমার মতো অধিকাংশ মাছচাষি পুকুরে ড্রামের ভেলা ব্যবহার করে মাছ চাষ করছেন।

জানা গেছে, চারটি প্লাস্টিকের ফাঁকা ড্রামের ওপর বাঁশের মাচা দিয়ে ড্রামের ভেলা বানানো হয়। এর পর সেই ভেলা পুকুরে ভাসিয়ে লাইলন সুতা ধরে মাছের খাবার দেওয়া হয়। যেমন করে গুণ টেনে নৌকা চালানো হয়। এ প্রসঙ্গে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মসগুল আজাদ বলেন, ডিঙ্গি নৌকার তুলনায় ড্রামের ভেলার ব্যবহার মাছচাষিদের জন্য সাশ্রয়ী।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বিশ্ব

সৌরজগতের রহস্য উদ্ধারে বৃহস্পতির পথে ‘লুসি’

জুপিটার বা বৃহস্পতিগ্রহের কাছে যেসব গ্রহাণু ঘুরে বেড়াচ্ছে, সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে একটি মহাকাশযান পাঠিয়েছে নাসা।

কীভাবে সৌরজগৎ তৈরি হয়েছে, এই অভিযান সেই রহস্য উম্মোচনে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। একে বলা হচ্ছে, সৌরজগতের ‘জীবাশ্ম’ খোঁজার অভিযান।

গতকাল শনিবার (১৬ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে ‘লুসি’ নামের এই মহাকাশযানটি উৎক্ষেপণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিগ্রহের কক্ষপথে গ্যাসের যে বিশাল আস্তরণ আছে, সেখানে গ্রহাণুর যে ঝাঁক বেধে ঘুরতে থাকে, সেই গ্রহাণুগুলো পর্যবেক্ষণ করবে মহাকাশ প্রোব লুসি।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার বিজ্ঞানীরা বলেন, গ্রহগুলোর গঠন হওয়ার সময় এসব বস্তু অবশিষ্টাংশ হিসাবে রয়ে গেছে। ফলে ট্রোজান নামে পরিচিত এসব গ্রহাণুর ভেতরে সৌরজগতের গঠন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র থাকতে পারে বলে মনে করা হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বিশ্ব

জলবায়ু পরিবর্তন: ক্লাইমেট চেঞ্জ কী? কীভাবে এবং কেন ঘটছে? বিষয়টির একটি সহজ-সরল ব্যাখ্যা

ইদানিং যে দুটো শব্দ প্রচুর শোনা যায় তা হলো – জলবায়ু পরিবর্তন। বিষয়টি আসলে কী?

কোনও একটি জায়গায় বছরের পর বছর ধরে আবহাওয়ার যে গড়-পড়তা ধরন, তাকেই বলা হয় জলবায়ু। আবহাওয়ার সেই চেনাজানা ধরন বদলে যাওয়াকেই বলা হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন।

পৃথিবী গরম হয়ে পড়ছে এবং তার ফলে দ্রুত বদলে যাচ্ছে আবহাওয়ার বহুদিনের চেনাজানা আচরণ।

জলবায়ু পরিবর্তনের পরিণতি কী?

মানুষ – প্রথমে মানুষ অর্থাৎ আমাদের জন্য এই পরিবর্তনের অর্থ কী? বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ুর এই পরিবর্তনে বদলে যাবে আমাদের জীবন যাপন। পানির সঙ্কট তৈরি হবে। খাদ্য উৎপাদন কঠিন হয়ে পড়বে।

কোনো কোনো অঞ্চল বিপজ্জনক মাত্রায় গরম হয়ে পড়বে, এবং সেই সাথে সমুদ্রের পানি বেড়ে বহু এলাকা প্লাবিত হবে। ফলে সে সব জায়গা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।

পৃথিবীর উষ্ণতা ক্রমেই বাড়ছে

চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়া – অতিরিক্ত গরমের পাশাপাশি ভারি বৃষ্টি এবং ঝড়ের প্রকোপ অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকবে। ফলে জীবন এবং জীবিকা হুমকিতে পড়বে। গরীব দেশগুলোতে এসব বিপদ মোকাবেলার সক্ষমতা কম বলে তাদের ওপর এই চরম আবহাওয়ার ধাক্কা পড়বে সবচেয়ে বেশি।

পরিবেশ – তাপমাত্রা বাড়ায় উত্তর মেরুর জমাট বাধা বরফ এবং হিমবাহগুলো দ্রুত গলে যাচ্ছে। ফলে সাগরের উচ্চতা বেড়ে উপকুলের নিচু এলাকাগুলো ডুবে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।

এছাড়া সাইবেরিয়ার মত অঞ্চলে মাটিতে জমে থাকা বরফ গলতে থাকায় বরফের নিচে আটকে থাকা মিথেন গ্যাস বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়বে। ফলে, মিথেনের মত আরেকটি গ্রিনহাউজ গ্যাস জলবায়ু পরিবর্তনের মাত্রা বাড়িয়ে দেবে। পৃথিবীর উষ্ণতা তাতে আরো বাড়বে, এবং বন-জঙ্গলে আগুন লাগার ঝুঁকি বাড়বে।

ভূমি ও মহাসাগরের তাপমাত্রা বাড়ছে

প্রকৃতি– তাদের চির চেনা বসতির আবহাওয়া বদলের জেরে অনেক প্রাণী নতুন জায়গায় চলে যাবে বা যাওয়ার চেষ্টা করবে।

কিন্তু জলবায়ুর এই পরিবর্তন এত দ্রুত হারে এখন ঘটছে যে অনেক প্রজাতি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। যেমন, বরফ গলতে থাকায় পোলার বিয়ার বা উত্তর মেরুর শ্বেত ভালুকের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়ছে।

পাশাপাশি, আটলান্টিক মহাসাগরের স্যামন মাছ বিপন্ন হবে, কারণ যেসব নদীতে ঢুকে তারা ডিম পেড়ে বাচ্চার জন্ম দেয়, সেগুলোর পানি গরম হয়ে যাচ্ছে।

ট্রপিক্যাল অঞ্চলের কোরাল রিফ বা প্রবাল-প্রাচীর উধাও হয়ে যেতে পারে, কারণ বায়ুমণ্ডলের অতিরিক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড সাগরের পানিতে মিশে পানির অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে।

কোরাল রিফ
ছবির ক্যাপশান,ট্রপিক্যাল অঞ্চলের কোরাল রিফ বা প্রবাল-প্রাচীর উধাও হয়ে যেতে পারে কারণ বায়ুমণ্ডলের অতিরিক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড সাগরের পানিতে মিশে পানির অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে

কেন এই জলবায়ু পরিবর্তন

প্রাকৃতিক কারণে জলবায়ুতে স্বাভাবিকভাবেই কিছু পরিবর্তন হয়। কিন্তু যে মাত্রায় এখন তাপমাত্রা বাড়ছে তার মানুষের কর্মকাণ্ডেই প্রধানত দায়ী।

মানুষ যখন থেকে কল-কারখানা এবং যানবাহন চালাতে বা শীতে ঘর গরম রাখতে তেল, গ্যাস এবং কয়লা পোড়াতে শুরু করলো সেই সময়ের তুলনায় পৃথিবীর তাপমাত্রা এখন ১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে গেছে।

বায়ুমণ্ডলে অন্যতম একটি গ্রিন হাউজ গ্যাস কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ উনবিংশ শতকের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে।। গত দুই দশকে বেড়েছে ১২ শতাংশ।

বনাঞ্চল ধ্বংসের কারণেও বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউজ গ্যাসের নির্গমন বাড়ছে। গাছপালা কার্বন ধরে রাখে। ফলে, সেই গাছ যখন কাটা হয় বা পোড়ানো হয়, সঞ্চিত সেই কার্বন বায়ুমণ্ডলে নিঃসরিত হয়।

কী ঘটবে ভবিষ্যতে?

বিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিল্প বিপ্লব শুরুর আগে বিশ্বের যে তাপমাত্রা ছিল তার থেকে বৃদ্ধির মাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখা গেলে বড় ধরণের বিপদ এড়ানো যাবে। তা না পারলে বিপজ্জনক হয়ে পড়বে প্রকৃতি, পরিবেশ এবং মানুষের জীবন।

অনেক বিজ্ঞানীর আশঙ্কা যে ভয়ঙ্কর এই পরিণতি ঠেকানোর আর কোনো উপায় নেই এবং চলতি শতকের শেষে গিয়ে বিশ্বের তাপমাত্রা তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যাবে। তা হলে এর প্রভাব বিশ্বের একেক জায়গায় একেক রকম হবে:

  • ব্রিটেনে বৃষ্টিপাতের মাত্রা প্রচণ্ডভাবে বেড়ে গিয়ে ঘনঘন বন্যা হবে।
  • সাগরের উচ্চতা বেড়ে প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলের ছোট অনেক দ্বীপ বা দ্বীপরাষ্ট্র বিলীন হয়ে যেতে পারে।
  • আফ্রিকার অনেক দেশে খরার প্রকোপ বাড়তে পারে এবং পরিণতিতে খাদ্য সঙ্কট দেখা দিতে পারে।
  • অস্ট্রেলিয়ায় অতিরিক্ত গরম পড়তে পারে এবং খরার প্রকোপ দেখা দিতে পারে।

সরকারগুলো কী করছে?

দেশগুলোকে বলা হচ্ছে তারা যেন বর্তমান শতকের মাঝামাঝি অর্থাৎ ২০৫০ সাল নাগাদ গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমন শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনে। অর্থাৎ যেটুকু গ্যাস নিঃসরিত হবে তা অতিরিক্ত গাছ লাগানোর মত ব্যবস্থা নিয়ে ভারসাম্য রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

দেশগুলো যদি তা করতে পারে তাহলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির দ্রুত গতি কমিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের বিপর্যয়কর পরিণতি এড়ানো যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা কী করছেন?

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে অনেক গবেষণা হচ্ছে এবং বিষয়টি সম্পর্কে জ্ঞান বাড়ছে।

কোনও একটি জায়গায় আবহাওয়ার চরম আচরণ যেমন অতিবৃষ্টি বা অতিরিক্ত গরমের সাথে জলবায়ু পরিবর্তনের যোগাযোগ খুঁজে পেতে বিজ্ঞানীরা এখন সমর্থ হচ্ছেন। ফলে, এধরনের চরম আবহাওয়ার পূর্বাভাস ভবিষ্যতে সহজতর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মানুষ কী করতে পারে?

  • গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সাইকেল বা জনপরিবহনের ব্যবহার বাড়াতে পারে।
  • বাড়িতে যাতে গরম বা ঠাণ্ডা কম ঢোকে তার ব্যবস্থা নিতে পারে।
  • মাংস এবং দুগ্ধজাত খাবার কমাতে পারে।
  • বিমান ভ্রমণ কমাতে পারে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বিশ্ব

বিশ্ব খাদ্য দিবস: খাদ্যের উচ্চ মূল্যের সাথেই সবাই খাপ খাইয়ে নিতে হবে?

খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নজিরবিহীন বিপর্যয় আসতে পারে জাতিসংঘের এমন সতর্কতা আর বৈশ্বিক ক্ষেত্রে খাদ্য পণ্যের ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কার মধ্য দিয়েই চলতি বছর বিশ্ব খাদ্য দিবস (১৬ই অক্টোবর) পালিত হচ্ছে।

“ইথিওপিয়া, মাদাগাস্কার, দক্ষিণ সুদান এবং ইয়েমেনে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতিতে আছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বুরকিনা ফাসো এবং নাইজেরিয়ার ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীও প্রায় একই পরিস্থিতিতে পড়েছে,” এক বিবৃতিতে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

এমন দুর্ভিক্ষময় পরিস্থিতিতে থাকা অন্তত ৪ কোটি মানুষকে সহায়তার জন্য দ্রুত তহবিল গঠনের আহবান জানিয়েছে সংস্থাটি।

যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক চ্যারিটি সংস্থা দা হাঙ্গার প্রজেক্টের তথ্য অনুসারে, প্রায় ৬৯ কোটি মানুষ বিশ্বব্যাপী ভয়াবহ দরিদ্রতার সাথে বাস করছে, আর ৮৫ কোটি মানুষ দরিদ্রতার ঝুঁকিতে আছে কোভিডের কারণে। আবার এর মধ্যে ৬০ শতাংশই নারী।

এখানে আমরা দেখছি যে খাবারের উচ্চমূল্য বিশ্বব্যাপী এসব মানুষের জন্য কী অর্থ বহন করে এবং খাদ্য দরিদ্রতা কমাতে বিকল্প আর কী আছে। কিন্তু শুরুতেই আমরা দেখবো – খাদ্য মূল্য বাড়ছে কেন।

খাদ্য মূল্য
ছবির ক্যাপশান,মহামারির কারণে দাম বাড়ছে

কেন দাম বাড়ছে

খাদ্যের আন্তর্জাতিক বড় প্রতিষ্ঠান ক্রাফট হেইনজ সতর্ক করে বলেছে যে মহামারি-পরবর্তী পরিস্থিতি আর মুদ্রাস্ফীতির কারণে “খাদ্যের উচ্চমূল্যের সাথেই খাপ খাইয়ে নিতে হবে”।

ভারতের মুম্বাইয়ের রাহ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ড. সারিকা কুলকার্নি ক্রাফট হেইনজের প্রধান মিগুয়েল প্যাট্রিসিওর সাথে একমত যে খাদ্যমূল্য বেশিই থাকবে।

ড. কুলকার্নি ও রাহ ফাউন্ডেশন ভারতের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য একযোগে কাজ করছে।

মহামারির কারণে অনেকে দেশেই শস্য থেকে আরম্ভ করে ভোজ্যতেলসহ কাঁচামালের উৎপাদন কমেছে। মূলত করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে নেয়া পদক্ষেপের পাশাপাশি অসুস্থতা, স্বল্প উৎপাদন ও বিতরণের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

যেহেতু অর্থনীতিতে এমন পণ্যের সরবরাহ পুনরায় শুরু হয়েছে, অনেকেই হয়তো ক্রমবর্ধমান চাহিদা অনুযায়ী তা করতে পারছে না, যা দাম বাড়াতে অবদান রাখছে।

পাশাপাশি উচ্চ বেতন আর জ্বালানি মূল্যও উৎপাদনকারীদের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

“দামের সাথে সরাসরি সম্পর্ক আছে চাহিদা ও সরবরাহের। যেখানে জনসংখ্যা আর খাদ্য চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে আবার পানির স্বল্পতা, মাটির গুনাগুণ কমে যাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন, নতুন প্রজন্মের কৃষিকাজে অনিহাসহ নানা কারণে চাষের জমি কমে যাচ্ছে,” বলছিলেন দারিদ্র দূরীকরণ বিশেষজ্ঞ ড. কুলকার্নি।

দাম বাড়ছে
ছবির ক্যাপশান,জাতিসংঘ বলছে দাম বাড়ার কারণে ঝুঁকিতে আছে নারী ও কন্যা শিশুরা

খাদ্যের জন্য যৌনতা

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মার্টিন গ্রিফিতের মতে, “যখন দুর্ভীক্ষ দরজায় আসে, তখন এটি ভাইরাল হয়ে ওঠে”।

আর ক্রমবর্ধমান দরিদ্রতা আর খাদ্যের উচ্চ মূল্যে ঝুঁকিতে পড়ে মূলত নারী ও কন্যা শিশুরাই বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে।

“পরিবারের সদস্যদের খাদ্যের যোগান দিতে নারীদের মরিয়া চেষ্টা চালাতে হয়। এর মধ্যে খাদ্যের জন্য যৌনতা যেমন আছে, তেমনি অনেককে বাল্যবিবাহের শিকার হতে হচ্ছে-যা আমি সম্প্রতি সিরিয়ায় থাকার সময় শুনেছি,” বলছিলেন তিনি।

ফার্ম রেডিও ইন্টারন্যাশনালের প্রোগ্রাম ডেভেলপমেন্টের সিনিয়র ম্যানেজার কারেন হ্যাম্পসন বলছেন, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে আছে ছোট মাপের কৃষকরাও।

“দাম বাড়ার এখনকার পরিস্থিতি তাদের দু মুখো তলোয়ারের মতো- একদিকে কৃষক পরিবারগুলোকে তারা যা উৎপাদন করে না, সেসব খাবার কিনতে হয় এবং সে কারণে তাদের ব্যয় অনেক বেড়েছে যাচ্ছে। এটি তাদের ক্ষুধা ও অপুষ্টির দিকে ঠেলে দিচ্ছে,” হ্যাম্পসন বলছিলেন বিবিসিকে।

“অন্যদিকে তাত্ত্বিকভাবেই খাদ্যমূল্যবৃদ্ধির অর্থ হলো তারা যা বিক্রি করে, সেখান থেকে তারা ভালো আয় করবে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে খাদ্যমূল্য বৃদ্ধি মানেই কৃষকদের হাতে বেশি অর্থ আসছে- এমনটি হচ্ছে না। বিশেষ করে আফ্রিকার ক্ষুদ্র মাপের কৃষকদের ক্ষেত্রে।”

ড. কুলকার্নি বলছেন, দরিদ্রতা সরাসরি দামের সাথে জড়িত- যেমন দরিদ্রতা বাড়ছে এবং একই সাথে দামও বাড়ছে।

তানজানিয়ার কৃষক
ছবির ক্যাপশান,কৃষকদের সহায়তা এগয়ে আসতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা

কী করা যেতে পারে

উন্নত বিশ্বের মানুষ হয়তো বিলাসদ্রব্য কমাতে পারে বা বিদেশে ছুটিতে যাওয়া কমাতে পারে বা তাদের বাজেটও কাটছাঁট করতে পারে। কিন্তু এর সুফল সরাসরি অনুন্নত বিশ্বের মানুষ পায় না, বিশেষ করে যারা খাদ্যের জন্য যৌনতাকেও বেছে নিতে বাধ্য হয়।

বৈশ্বিক খাদ্যমূল্য বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জাতিসংঘ, আঞ্চলিক সংস্থা ও সরকারগুলো মানুষকে দরিদ্রতা থেকে বের করে আনতে প্রচলিত উপায়গুলো দেখতে পারে। আর বহু সাহায্য সংস্থা বিশ্বব্যাপী জোর দিয়েছে সৃষ্টিশীল ধারণার ওপর।

খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) মহাপরিচালক বলছেন, কৃষি খাদ্য পদ্ধতিতে সহায়তা, দীর্ঘমেয়াদী সহায়তার মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে এবং নষ্ট করার মতো কোন সময়ই এখন নেই।

ড. কুলকার্নি বলছেন, জলবায়ু সহনশীল কৃষির ব্যবস্থা করা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে পানির স্বল্পতা দূর করা, বীজ ও অন্য দরকারি কাঁচামালের দাম কমানো এবং নিজের জন্য শস্য রাখতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার ব্যবস্থা নিতে হবে।

তারা এজন্য তরুণদের সার্বক্ষণিক কৃষিকাজে জড়িত হতেও উদ্বুদ্ধ করছেন বলে জানান।

হ্যাম্পসনের মতে, গ্রামীণ জনপদে খাদ্য দরিদ্রতার আরেকটি বড় কারণ হলো – দরকারি তথ্য না জানা- বিশেষ করে বিভিন্ন বাজারে পণ্যের দাম বা আবহাওয়া বিষয়ে।

এর ফলে তারা দরকষাকষি করতে পারে না যা পরিবর্তন করতে পারে ফার্ম-রেডিও।

কৃষক
ছবির ক্যাপশান,তথ্য নিশ্চিত করাও কৃষকদের জন্য সহায়তা হতে পারে

এখন কী হবে

বিশ্বব্যাপী সবাই হয়তো চিন্তা করছে যে কীভাবে পণ্যের ক্রমবর্ধমান মূল্য তারা সামলাবে, তখন অধিকারকর্মীরা আশা করছে একটি সংকট হয়তো বিশ্ব এড়াতে পারবে যদি বিশ্ব নেতারা দ্রুত কোন পদক্ষেপ নেয়।

“আমি আশাবাদী,” বলছেন হ্যাম্পসন কিন্তু সেটি করা সম্ভব হবে যদি “আমরা নারী, পুরুষ ও তরুণ কৃষকদের কথা শুনি। আমরা যদি তাদের সংলাপে অন্তর্ভুক্ত করি এবং সমবায়ের মতো পদক্ষেপ বা সৃষ্টিশীল উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের পাশে দাড়াই । জলবায়ু পরিস্থিতিতে ফোকাস করে ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে সহায়তার মাধ্যমে বাজারে সবার জন্য সমতা তৈরি ও তথ্য নিশ্চিত” করতে পারি।

ড. কুলকার্নি বলছেন যে এখন সমস্যা চিহ্নিত করে পদক্ষেপ নেয়ার সময় আছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com