আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বিশ্ব

সিরিয়ার যে শহরে মানুষের চেয়ে বিড়াল বেশি

 কাফর নাবলে এখন মানুষের চেয়ে বিড়াল অনেক বেশি
কাফর নাবলে এখন মানুষের চেয়ে বিড়াল অনেক বেশি

সিরিয়ার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত কাফর নাবল শহরে মাসের পর মাস সিরিয় এবং রুশ সৈন্যদের বোমাবর্ষণের পর সেখানে এখন মানুষের চেয়ে বিড়ালের সংখ্যা বেশি হয়ে গেছে।

বিবিসির মাইকেল টমসন গিয়েছিলেন ঐ প্রায় ভুতুড়ে শহরে। তিনি বলছেন, কাফর নাবলের অবশিষ্ট মানুষ এবং বিড়ালেরা কঠিন এই দুঃসময়ে এক অপরকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিচ্ছে।

সংবাদদাতা যেদিন সেখানে ছিলেন, সেদিন আরেক দফা বোমা হামলা শুরু হয় ঐ শহরে।

শহরের বাসিন্দা ৩২ বছরের সালাহ জার বাঁচার জন্য তার বাড়ির ইট-পাথরের টুকরো ভর্তি বেজমেন্টের কোনায় একটি টেবিলের নীচে আশ্রয় নেন ।

শুধু তিনিই নন, তার সাথে একই টেবিলের তলে তাকে ঘিরে ছিল ৬/৭টি বিড়াল। সালাহর মতো তারাও ছিল আতঙ্কিত, সন্ত্রস্ত।

সালাহ বললেন, “বিড়ালগুলো সাথে থাকলে কিছুটা ভরসা পাই। বোমা যখন শুরু হয় ভয় যেন একটু কম লাগে।”

সালাহর এই শহর কাফর নাবলে একসময় ৪০ হাজার লোকের বসবাস ছিল। এখন সেই সংখ্যা কমতে কমতে বড় জোর ১০০।

কিন্তু এই শহরে এখন বিড়ালের সংখ্যা মানুষের চেয়ে অনেকগুণ বেশি। সংখ্যা ধারনা করা কঠিন, তবে অবশ্যই তা কয়েকশ। কয়েক হাজারও হতে পারে।

কাফর নাবলে এপ্রিল থেকে ব্যাপক বোমাবর্ষণ হচ্ছে। পালিয়ে গেছে অধিকাংশ বাসিন্দা
কাফর নাবলে এপ্রিল থেকে ব্যাপক বোমাবর্ষণ হচ্ছে। পালিয়ে গেছে অধিকাংশ বাসিন্দা

সালাহ জানালেন এত মানুষ পালিয়ে গেছে যে শহরটি এখন প্রায় জনশূন্য।

“খুবই কম মানুষ এখন এই শহরে। বিড়ালগুলোকে দেখাশোনা করার জন্য তো কিছু মানুষ দরকার। তাদের খাবার দিতে হয়, পানি দিতে হয়। সুতরাং যে সব বাড়িতে এখনও মানুষ রয়েছে, বিড়ালগুলো যেসব বাড়িতে গিয়ে ভিড় করছে।”

সালাহ জানালেন মানুষ আছে এমন প্রতিটি বাড়িতে এখন কমপক্ষে ১৫টি করে বিড়াল রয়েছে।

ফ্রেশ এফএম নামে স্থানীয় একটি রেডিও স্টেশনের রিপোর্টার হিসাবে কাজ করেন সালাহ।

সম্প্রতি বোমায় রেডিও স্টেশনটির মূল স্টুডিওটি ধ্বংস হয়ে গেছে। কিন্তু ভাগ্যক্রমে ট্রান্সমিটারটি তার কদিন আগে কাছের একটি শহরে সরিয়ে নেওয়া হয়।

এই রেডিও স্টেশন থেকে খবর, শ্রোতাদের সাথে ফোন-ইন, কৌতুক অনুষ্ঠান প্রচারের পাশাপাশি বিমান হামলার আগাম বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

স্থানীয়দের কাছে এই রেডিও স্টেশনটি যেমন জনপ্রিয়, শহরের বিড়ালদের কাছেও তেমনই প্রিয়।

বেশ কিছুদিন ধরেই কয়েক ডজন বিড়াল স্টেশনটির ভবনটিকে তাদের ঘর বানিয়েছে।

সালাহ জার এবং তার বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া একটি বিড়াল
সালাহ জার এবং তার বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া একটি বিড়াল

রেডিও’র প্রতিষ্ঠাতা রায়েদ ফারেসকে ২০১৮ সালের নভেম্বরে ইসলামপন্থীরা হত্যা করে। কিন্তু মৃত্যুর আগে তিনি এই বিড়ালগুলোকে খাওয়ানোর জন্য কিছু পয়সা রেখে গিয়েছিলেন।

“অনেক বিড়ালের জন্ম হয়েছে এই ভবনে। সেগুলোর মধ্যে সাদা এবং বাদামি ছোপের একটি বিড়ালকে খুবই ভালবাসতেন রায়েদ। তিনি যেখানে যেতেন, বিড়ালটি তার সাথে থাকতো। বিড়ালটিকে পাশে নিয়ে ঘুমাতেন তিনি।”

তার বিধ্বস্ত বাড়িটি থেকে সালাহ যখন বাইরে এলেন, সাথে সাথে তাকে ঘিরে শুরু হয়ে যায় একগাদা বেড়ালের তারস্বরে মিয়াউ-মিয়াউ ডাক।

সবজায়গাতেই একই ঘটনা ঘটে।

“কখনো কখনো আমরা যখন রাস্তায় হাঁটি, ২০ থেকে ৩০টি বিড়াল আমাদের সাথে হাঁটতে থাকে। তাদের কোনো কোনোটি আমাদের সাথে বাড়িতে ঢুকে পড়ে।”

সন্ধ্যের পর এই শহরের নানা কোনা থেকে শোনা যায় কুকুরের ডাক। এরাও রাস্তাতেই থাকে। তাদের এখন আর ঘর নেই, ক্ষুধার্ত।

ফলে রাতের বেলা শোয়ার জায়গা এবং খাবার নিয়ে শুরু হয়ে যায় রাস্তার বিড়াল এবং কুকুরদের মধ্যে প্রতিযোগিতা, রেষারেষি।

সালাহ বললেন, আকৃতিতে ছোটো হলেও কুকুর ও বিড়ালদের ঐ লড়াইতে শেষ পর্যন্ত বিড়ালরাই জেতে।

“অবশ্যই বিড়ালরাই জেতে। তাদের সংখ্যাতো অনেক বেশি।”

এই বিড়ালগুলো একসময় গৃহপালিতই ছিল। বাড়িতে আয়েশে থাকতো । কিন্তু এপ্রিলে সরকারি সৈন্যরা শহরের দখল নেওয়ার চেষ্টায় বোমাবর্ষণ শুরু করলে মানুষজন পালাতে শুরু করে। পেছনে ফেলে যায় তাদের বিড়ালগুলো।

এখন নতুন প্রভু, নতুন আশ্রয় খুঁজতে হচ্ছে তাদের।

সালাহ নিজে যখনই যা খান, বিড়ালগুলোকে কিছু দিতে হয়।
সালাহ নিজে যখনই যা খান, বিড়ালগুলোকে কিছু দিতে হয়।

সালাহ যদিও জানেনা যে আগামিকাল তিনি বেঁচে থাকবেন কিনা। কাল তার খাবারের জোগাড় হবে কিনা, কিন্তু ঘরের বিড়ালগুলোর জন্য কিছু না কিছু তাকে জোগাড় করতেই হয়।

“আমি যখনই খাই, ওরাও খায়। সেটা সবজি হোক, নুডলস হোক বা শুকনো রুটি হোক। অমি মনে করি আমাদের উভয়ের জন্য সময়টা অত্যন্ত খারাপ, আমরা উভয়েই দুর্বল হয়ে পড়েছি, সুতরাং আমাদের উচিৎ পরস্পরকে সাহায্য করা।”

বোমায় মানুষের পাশাপাশি বিড়ালগুলোও মাঝে-মধ্যেই জখম হয়। লোকজন তাদের চিকিৎসার সবরকম চেষ্টা করে।

“আমার এক বন্ধুর বাড়িতে একদিন বোমায় একটি বিড়ালের সামনের পায়ের থাবার কিছু অংশ উড়ে যায়। আমরা দ্রুত তাকে ইদলিবে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা দিয়েছিলাম। এখন সে হাঁটতে পারে।”

কাফর নাবল শহরের বর্তমান হাল
কাফর নাবল শহরের বর্তমান হাল

প্রেসিডেন্ট আসাদের সৈন্যরা কাফর নাবল থেকে বেশিদূর নয়। যে কোনদিন হয়তো তারা এই শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেবে। তখন এই বিড়ালগুলোর কি হবে – তা নিয়ে সালাহ উদ্বেগের মধ্যে থাকেন।

“আমরা একসাথে আমাদের সু-সময়, দুঃসময় পার করছি। এক বিছানায় শুই। খাবার ভাগ করে খাচ্ছি। ওরা এখন আমাদের জীবনের অংশীদার হয়ে গেছে।”

তিনি বলেন যদি তাকে এই শহর থেকে পালাতে হয়, তাহলে চেষ্টা করবেন সাথে করে যতগুলো সম্ভব বিড়াল সাথে নিয়ে যেতে।

যুদ্ধের এই ভয়াবহতা আর বর্বরতার মধ্যে সিরিয়ার এই শহরে মানুষ এবং এই পশুগুলোর মধ্যে যে গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, তা সহজে ভাঙ্গার নয়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ইসলাম

শয়তানের ফেতনা ও ধোঁকা থেকে বাঁচার ছোট্ট আমল

শয়তানের সবচেয়ে পছন্দনীয় কাজ হলো মানুষের মাঝে ফেতনা সৃষ্টি করা। কুরআনের ভাষায় ফেতনা হত্যার চেয়েও জঘন্য অপরাধ। আর এ কাজেই শয়তান সবচেয়ে বেশি খুশি হয়। তাহলে শয়তানের বেশি খুশি হওয়া কাজ ‘ফেতনা’ থেকে বাঁচার উপায় কী?

ছোট্ট একটি আমল তাউজ। ছোট্ট এ আমলেই শয়তানের সব বড় বড় ক্ষতি ও ধোঁকা থেকে মুক্তির সুসংবাদ দিয়েছেন স্বয়ং বিশ্বনবি। তাহলো-
أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ
উচ্চারণ : ‘আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বানির রাঝিম’
অর্থ : ‘বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।’

আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমের ৯টি সুরার ৯ স্থানে ঘোষণা করেছেন- ‘আর শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য দুশমন।’ আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতকে সতর্ক করতে শয়তানের সবচেয়ে খুশি হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন হাদিসের বর্ণনায়। যাতে মানুষ শয়তানের এ জঘন্য আক্রমণ ও ধোঁকা থেকে বেঁচে থাকতে পারে। তাহলো-

হজরত জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘শয়তান পানির ওপর তার সিংহাসন স্থাপন করে, তারপর (সারা দুনিয়াব্যাপী) তার বাহিনী পাঠিয়ে দেয়। আর (ওই শয়তান) সবচেয়ে বেশি নৈকট্যপ্রাপ্ত, যে (মানুষের মাঝে) সবচেয়ে বেশি ফেতনা সৃষ্টি করে। শয়তান সিংহাসনে বসে সবার ঘটানো ফেতনার বর্ণনা শোনে।

একজন এসে বলে আমি অমুক কাজ করেছি, শয়তান বলে তুমি তেমন কোনো কাজ করনি। এভাবে শয়তান তার পাঠানো অন্যদের (শয়তানের) মন্দ কাজের বিবরণ শুনতে থাকে।
অতঃপর একজন এসে বলে- ‘আমি অমুকের সঙ্গে ধোঁকার আচরণ করেছি, এমনকি স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করেছি। এ (ফেতনার) কথা শুনে শয়তান তাকে তার কাছাকাছি (বুকে) টেনে নেয়। আর বলে তুমিই বড় কাজ করেছ। হাদিস বর্ণনাকারী আমাশ বলেন, আমার মনে হয় তিনি বলেছেন, অতপর শয়তান তাকে তার বুকের সঙ্গে জড়িয়ে নেয়।’ (মুসলিম)

শয়তানের সব ফেতনা ও ধোঁকা থেকে বাঁচার উপায়
শয়তানের সব ফেতনা ও ধোঁকা থেকে বাঁচার কার্যকরী আমল ও দোয়া রয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শয়তানের সব ফেতনা থেকে ‍মুক্ত থাকতে ছোট ছোট আমলের কথা বলেছেন। তাহলো-
> তাউজ
أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ
উচ্চারণ : ‘আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বানির রাঝিম’
অর্থ : ‘বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।’
নিয়ম : ফেতনা বা অন্যায়ের সঙ্কল্প মনে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তাউজ (আউজুবিল্লাহ…) পড়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে শয়তানের ফেতনা ও ধোঁকা থেকে আশ্রয় চাওয়া।

> সবসময় ইসতেগফার পড়া-
১. أَستَغْفِرُ اللهَ
উচ্চারণ : ‘আস্তাগফিরুল্লাহ।’
অর্থ : আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

নিয়ম : প্রতি ওয়াক্ত ফরজ নামাজের সালাম ফেরানোর পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ইসতেগফারটি ৩ বার পড়তেন।’ (মিশকাত)
২.- أَسْتَغْفِرُ اللهَ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ : ‘আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি।‘
অর্থ : আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর দিকেই ফিরে আসছি।

নিয়ম : এ ইসতেগফারটি প্রতিদিন ৭০/১০০ বার পড়া। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতিদিন ৭০ বারের অধিক তাওবাহ ও ইসতেগফার করতেন।’ (বুখারি)

৩. رَبِّ اغْفِرْ لِيْ وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ (أنْتَ) التَّوَّابُ الرَّحِيْمُ
উচ্চারণ : ‘রাব্বিগ্ ফিরলি ওয়া তুব আলাইয়্যা ইন্নাকা (আংতাত) তাওয়্যাবুর রাহিম।’
অর্থ : ‘হে আমার প্রভু! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তাওবাহ কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি মহান তাওবা কবুলকারী করুণাময়।’

নিয়ম : রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে বসে এক বৈঠকেই এই দোয়া ১০০ বার পড়েছেন।’ (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, মিশকাত)

৪. أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ : ‘আস্‌তাগফিরুল্লা হাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলায়হি।’
অর্থ : ‘আমি ওই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, যিনি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোনো মাবুদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী এবং তাঁর কাছেই (তাওবাহ করে) ফিরে আসি।’

নামাজের শেষ বৈঠকে নিয়মিত এ দোয়া পড়া-
হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবাদেরকে এই দোয়াটি এভাবে শেখাতেন, যেভাবে কুরআনের সুরা শেখাতেন। তিনি বলতেন-
اَللَّهُمَّ اِنِّىْ أعُوْذُبِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّم- وَأعُوْذُبِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ- وَ أَعُوْذُبِكَ مِن فِتْنَةِ الْمَسِيْحِ الدَّجَّالِ – وَ أَعُوْذُبِكَ مِن فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَ فِتْنَةِ الْمَمَاتِ – اَللَّهُمَّ اِنِّىْ أعُوْذُبِكَ مِنْ الْمَأْثَمِ وَ الْمَغْرَم
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন আজাবি ঝাহান্নাম। ওয়া আউজুবিকা মিন আজাবিল ক্ববর। ওয়া আউজুবিকা মিন ফিতনাতিল মাসীহিদ দাঝ্‌ঝাল। ওয়া আউজুবিকা মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামাত। আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল্ মাছামি ওয়া মিনাল মাগরাম।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে জাহান্নামের আজাব থেকে আশ্রয় চাই, কবরের আজাব হতে আশ্রয় চাই। আশ্রয় চাই দাজ্জালের ফিতনার পরীক্ষা থেকে। তোমার কাছে আশ্রয় চাই জীবন ও মৃত্যুর পরীক্ষা থেকে এবং তোমার কাছে আশ্রয় চাই পাপ ও ঋণের বোঝা থেকে।’ (বুখারি, মুসলিম, মিশকাত)

বিশেষ করে হজরত মুসা আলাইহিস সালামের বিখ্যাত ইসতেগফার পড়া। যা কুরআনুল কারিমে মহান আল্লাহ তুলে ধরেছেন-
رَبِّ إِنِّى ظَلَمْتُ نَفْسِى فَٱغْفِرْ لِى
উচ্চারণ : ‘রাব্বি ইন্নি জলামতু নাফসি ফাগফিরলি’ (সুরা কাসাস : আয়াত ১৬)
অর্থ : হে আমার রব! নিশ্চয় আমি আমার নফসের উপর জুলুম করেছি। সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।’

মনে রাখা জরুরি
দুনিয়া হলো আখেরাতের কর্মক্ষেত্র। শয়তানের প্রতারণা ও ধোঁকা অতিক্রম করে কে বেশি সফল? নেক আমল করায় কে উত্তম?- তা জানার জন্য আল্লাহ তাআলা মানুষকে দুনিয়ার এ পরীক্ষাগারে পাঠিয়েছেন। আর মানুষের পেছনে পেছনে শয়তানও এ মর্মে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে, সে মানুষ সর্বনাশ করেই ছাড়বে।

মহান আল্লাহ বান্দার প্রতি এতই দয়াশীল ও ক্ষমাকারী যে, বান্দা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে কিংবা তাওবাহ করলেই তিনি বান্দাকে ক্ষমা করে দেবেন। আল্লাহর দরবারে উত্তম আমলকারী হিসেবে বিবেচিত হবেন। কুরআনের ঘোষণায় তা প্রমাণিত-
‘যিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু ও জীবন; যাতে তোমাদের পরীক্ষা করে দেখতে পারেন, উত্তম আমল বা কর্ম সম্পাদনে কে উত্তম? আর তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।’ (সুরা মুলক : আয়াত ২)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে শয়তানের যাবতীয় ফেতনা থেকে হেফাজত করুন। হাদিসে বর্ণিত ঘটনা স্মরণ করে অন্যায় ও ফেতনার সম্মুখীন হলে বেশি তাউজ পড়ে শয়তানের আক্রমণ থেকে হেফাজত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

অজুর পর দুই রাকাআত নামাজ পড়ার ফজিলত

নামাজসহ অনেক ইবাদত-বন্দেগির জন্য অজু করা শর্ত। অজু ছাড়া অনেক ইবাদত করা মারাত্মক গোনাহ। বিশেষ করে নামাজের জন্য ৪টি ফরজ নির্দেশনা মেনে অজু করতে হয়। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অজুর পর দুই রাকাআত নামাজ পড়ার কথা বলেছেন। অজুর পর দুই রাকাআত নামাজ পড়ার মর্যাদা কী? এ নামাজ সম্পর্কে হাদিসের নির্দেশনাই বা কী?

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অজুর পর দুই রাকাআত নামাজ পড়ার বিশেষ ফজিলত বর্ণনা করেছেন। এ নামাজকি অজু করার সঙ্গে সঙ্গেই পড়তে হবে না বিলম্ব হলেও চলবে? অজুর পর এ নামাজ সম্পর্কে হাদিসের একাধিক বর্ণনা থেকে যা জানা যায়; তাহলো-

১. হজরত ওসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর মুক্ত করে দেওয়া গোলাম হজরত হুমরান রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, তিনি হজরত ওসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুকে দেখেছেন যে, ওসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু (অজুর জন্য) পানির পাত্র আনতে নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তিনি দুই কব্জির ওপর তিনবার পানি ঢেলে উভয়টি (হাত কব্জি পর্যন্ত) ধুয়ে নিলেন। তারপর তাঁর ডান হাত পাত্রের ভেতর প্রবেশ করিয়ে কুলি ও নাক পরিষ্কার করলেন। তারপর তাঁর মুখমণ্ডল তিনবার ধুয়ে নিলেন। দুই হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুয়ে নিলেন। তারপর মাথা মাসেহ করলেন। এরপর উভয় পা তিনবার ধুয়ে নিলেন। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

 مَنْ تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ لاَ يُحَدِّثُ فِيهِمَا نَفْسَهُ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ

যে ব্যাক্তি আমার মত অজু করে এমনভাবে দুই রাকাআত নামাজ আদায় করবে, সে যাতে মনে মনে ভিন্ন কোনও চিন্তা-ভাবনা না করবে; তার আগের সব গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (মুসলিম)

২. হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের নামাজের সময় বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন-

‏ يَا بِلاَلُ حَدِّثْنِي بِأَرْجَى عَمَلٍ عَمِلْتَهُ عِنْدَكَ فِي الإِسْلاَمِ مَنْفَعَةً فَإِنِّي سَمِعْتُ اللَّيْلَةَ خَشْفَ نَعْلَيْكَ بَيْنَ يَدَىَّ فِي الْجَنَّةِ

‘হে বেলাল! তুমি আমাকে বল, ইসলামের পর তুমি এমন কোনো আমল করেছ; যার উপকারের ব্যাপারে তুমি বেশি আশাবাদী? কেননা আজ রাতে (মেরাজের রাতে) আমি জান্নাতে আমার সামনে তোমার জুতার আওয়াজ শুনেছি। বর্ণনাকারী বলেন, বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন-

مَا عَمِلْتُ عَمَلاً فِي الإِسْلاَمِ أَرْجَى عِنْدِي مَنْفَعَةً مِنْ أَنِّي لاَ أَتَطَهَّرُ طُهُورًا تَامًّا فِي سَاعَةٍ مِنْ لَيْلٍ وَلاَ نَهَارٍ إِلاَّ صَلَّيْتُ بِذَلِكَ الطُّهُورِ مَا كَتَبَ اللَّهُ لِي أَنْ أُصَلِّيَ ‏

ইসলামের মধ্যে এর চেয়ে বেশি লাভের আশা আমি অন্য কোনো আমলে করতে পারি না যেআমি দিন-রাত যখনই পূর্ণ অজু করিতখনই আল্লাহ তাআলা আমার ভাগ্যে যতক্ষণ লিখেছেনততক্ষণ ওই অজু দিয়ে নামাজ আদায় করে থাকি।’ (মুসলিম)

প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসের আলোকে বুঝা যায়, অজুর পর ২ রাকাআত নামাজ পড়ার মর্যাদা ও ফজিলত অনেক বেশি। তবে হাদিস বিশারদ ও ইসলামিক স্কলারগণ এ ২ রাকাআত নামাজ পড়াকে মোস্তাহাব বলেছেন।

১. হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তাহিয়্যাতুল অজু সংক্রান্ত হাদিস উল্লেখ্য করার পর বলেন, ‘এই হাদিসে অজুর পরপরই দুই রাকাআত নামাজ আদায় করা মোস্তাহাব হওয়ার দলিল রয়েছে।’

২. ইমাম নববি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ‘একাধিক বিশুদ্ধ হাদিস থাকায় প্রমাণিত হয়, অজুর পরপরই দুই রাকাত নামাজ পড়া মোস্তাহাব।’ (আল মাজমু শারহিল মুহাযযাব)

৩. শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-

وَيُسْتَحَبُّ أَنْ يُصَلِّيَ رَكْعَتَيْنِ عَقِبَ الْوُضُوءِ وَلَوْ كَانَ وَقْتَ النَّهْيِ ، وَقَالَهُ الشَّافِعِيَّةُ ” انتهى . (الفتاوى الكبرى)

‘অজুর পরপরই দুই রাকাআত নামাজ পড়া মোস্তাহাব যদিও তা নিষিদ্ধ সময়ে হয়। শাফেয়ীগণও এমনটি বলেছেন।’ (আল ফাতাওয়া আল কুবরা)

৪. আল্লামা জাকারিয়া আল আনসারি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ‘যে ব্যক্তি অজু করবে তার জন্য অজুর পরপরই দুই রাকাআত নামাজ পড়া মোস্তাহাব; তা যে কোনও সময় হোক না কেন।’ (আসনাল মাতালিব)

৫. হজরত তানাজি শাফেঈ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ‘এই হাদিস থেকে অজু শেষ করার পর এবং দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান ও অমনোযোগী (অন্য কাজে ব্যস্ত) হওয়ার আগে অজুর দুই রাকাআত সুন্নাত নামাজ পড়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।’ (নেহায়তুয যায়ন)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, অজু করার পর মসজিদে প্রবেশ করে (দুখুলুল মসজিদ/তাহিয়াতুল মসজিদের) দুই রাকাআত নামাজের নিয়ত করলে আল্লাহ তাআলা উভয় নামাজের সাওয়াব দান করবেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে অজু করার পর দুই রাকাআত নামাজ পড়ে হাদিসে ঘোষিত ফজিলত পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

কোনো কঠিন বিষয়ের মুখোমুখি হলে যে দোয়া পড়বেন

মানুষ এখন মহামারি করোনার কঠিন পরিস্থিতি অতিক্রম করছে। একদিকে মহামারি করোনার ভয়াল থাবা অন্যদিকে মানুষ জীবন-জীবিকার টানে না বসে থাকতে পারছে, না কাজে যেতে পারছে। মানুষের জন্য সব দিক বিবেচনায় এটি এক কঠিন পরিস্থিতি।

হ্যাঁ, মানুষের এ রকম কঠিন বিপদের মুহূর্ত কিংবা পরিস্থিতি যে কোনো সময়ই আসতে পারে। কঠিন পরিস্থিতি যে শুধু ক্ষতিকর বিপদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে এমনটি নয়; বরং দুনিয়ার রোগ-ব্যাধি, মহামারি, ঝড়-তুফান, বন্যা-বজ্রপাত, চাকরি-বাকরি, পড়া-শোনা, পরীক্ষা-ইন্টারভিউ, ব্যক্তি-পরিবার-সমাজ কিংবা দেশ-বিদেশে যে কোনো বিষয়েই হতে পারে।

তাই যদি কেউ যে কোনো বিষয়ে কঠিন পরিস্থিতি বা বিপদে পড়ে যায়; তবে তার উচিত হাদিসের অনুসরণে এ দোয়াটি বেশি পড়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা। যা পড়তেন স্বয়ং বিশ্বনবি। কারণ তিনি নিজেও এ রকম অনেক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন। হাদিসে এসেছে-
হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-
اَللَّهُمَّ لَا سَهْلَ اِلَّا مَا جَعَلْتَهُ سَهُلَا وَ أَنْتَ تَجْعَلُ الْحُزْنَ اِذَا شِئْتَ سَهْلَا
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা লা সাহলা ইল্লা মা ঝাআলতাহু সাহলা ওয়া আংতা তাঝআলুল হাযনা ইজা শিতা সাহলা।’
অর্থ : হে আল্লাহ! কোনো কিছুই সহজ নয়; তুমি যেটিকে সহজ করে দাও; সেটি ছাড়া। তুমি যখন চাও, পেরেশানিকে সহজ করে দাও।’ (ইবনু হিব্বান)

সুতরাং পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক না কেন, মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করার বিকল্প নেই। মানুষ যত বড় ক্ষমতার অধিকারীই হোক না কেন; মহান আল্লাহর ক্ষমতার কাছে কিছুই নয়; আবার আল্লাহর সাহায্য ছাড়া বিকল্প কোনো ক্ষমতা বা সাহায্যও নেই।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সব কঠিন পরিস্থিতি ও বিষয়ে তাঁর কাছে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শেখানো ভাষায় সাহায্য প্রার্থনা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

হেপাটাইটিস কি মারাত্মক ব্যাধি? জেনে নিন এর ধরন ও লক্ষণ

হেপাটাইটিস লিভারের একটি প্রদাহ। যা হেপাটাইটিসের বিভিন্ন ভাইরাসের মাধ্যমে ঘটে। দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে হেপাটাইটিসের বিভিন্ন ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে। যা প্রাথমিক অবস্থায় শরীরে কোনো উপসর্গ প্রকাশ না করলে ধীরে ধীরে মারাত্মক হয়ে ওঠে।

হেপাটাইটিস লিভারের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কময়ে দিতে শুরু করে। জানেন কি, প্রতি বছর লিভারের এই রোগে বিশ্বব্যাপী এক কোটি ৩০ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। তবে এই রোগ ছোঁয়াচে নয়।

আজ বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস। এ বছরের হেপাটাইটিস দিবসের প্রতিপাদ্র হলো ‘হেপাটাইটিস অপেক্ষা করে না’। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ভাইরাল হেপাটাইটিসকে নির্মূল করার জন্য সব দেশকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে।

বর্ষার এ সময় ডেঙ্গুসহ নানা রোগের পাশাপাশি করোনা সংক্রমণও ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত। তবে এই সময় হেপাটাইটিস রোগেরও প্রাদুর্ভাবও ঘটে থাকে। তাই সতর্ক থাকা জরুরি। সাধারণত দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে এই রোগ শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

শরীরে রোগের বিস্তার না ঘটলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট লক্ষণ ধরা পরে না। তবে দীর্ঘদিন শরীরে হেপাটাইটিস বাসা বাঁধলে যখন তা লিভারে আক্রমণ করে; তখন নানা লক্ষণ প্রকাশ পায়।

বর্ষার এ সময় ডেঙ্গুসহ নানা রোগের পাশাপাশি করোনা সংক্রমণও ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত। তবে এই সময় হেপাটাইটিস রোগেরও প্রাদুর্ভাবও ঘটে থাকে। তাই সতর্ক থাকা জরুরি। সাধারণত দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে এই রোগ শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

শরীরে রোগের বিস্তার না ঘটলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট লক্ষণ ধরা পরে না। তবে দীর্ঘদিন শরীরে হেপাটাইটিস বাসা বাঁধলে যখন তা লিভারে আক্রমণ করে; তখন নানা লক্ষণ প্রকাশ পায়।

যেমন- শরীর দুর্বল, বমি বমি ভাব, পেটব্যথা, শরীর হলুদ বর্ণ ধারণ করা এবং হলুদ প্রস্রাবের মতো উপসর্গ ইত্যাদি। শরীরে এই রোগের বিস্তার ঘটলে পেটে জল আসা, রক্ত পায়খানা ও রক্তবমি হতে পারে।

হেপাটাইটিসের বিভিন্ন ধরন ও লক্ষণসমূহ

হেপাটাইটিসের ৫টি ভাইরাস হলো এ, বি, সি, ডি এবং ই। এর মধ্যে টাইপ-বি এবং সি মারাত্মক রূপ নেয় এবং লিভার সিরোসিস এবং ক্যান্সারের মতো মারাত্মক আকার ধারণ করে। প্রাথমিক অবস্থায় তা চিকিত্সা না করলে গুরুতর হয়ে ওঠে এবং লিভার সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।

হেপাটাইটিস এ

দূষিত খাবার এবং জলের মাধ্যমে শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এই ভাইরাস। এ রোগের ক্ষেত্রে, লিভার ফুলে যাওয়া, ক্ষিদে কমে যাওয়া, জ্বর, বমি এবং জয়েন্টে ব্যথা মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এসব লক্ষণ দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের শরনাপন্ন হতে হবে।

হেপাটাইটিস বি

এই ভাইরাসটি রক্ত, ঘাম, লালা, বীর্যসহ বিভিন্ন দেহনিঃসৃত তরলের মাধ্যমে ছড়ায়। সাধারণত রক্তে অবস্থিত ভাইরাস এবং এর বিরুদ্ধে অবস্থিত অ্যান্টিবডি থেকে এ রোগ নির্ণয় করা হয়।

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস লিভারে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। এ কারণে রোগীর বমি বমি ভাব, ক্লান্তি, কোলিক, ত্বকের হলুদ রঙের মতো সমস্যা দেখা দেয়।

এটি সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী লিভার রোগ যা লিভার সিরোসিস এবং ক্যান্সারের রূপ নেয়। যদি কোনো গর্ভবতী নারী এতে আক্রান্ত হন; তবে তার গর্ভস্থ শিশুও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

হেপাটাইটিস সি

হেপাটাইটিস এ এবং বি এর চেয়েও বেশি বিপজ্জনক এই ভাইরাসটি। রক্ত দেওয়া-নেওয়া, শিরায় ইনজেকশনের মাধ্যমে বিভিন্ন ওষুধ প্রয়োগের সময় যদি জীবাণুযুক্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়, সেখান থেকে হেপাটাইটিস সি এর সংক্রমণ হয়। পৃথিবী জুড়ে আনুমানিক ১৩০-১৭০ মিলিয়ন লোক হেপাটাইটিস সি রোগে আক্রান্ত।

হেপাটাইটিস সি আক্রান্ত ব্যক্তির তেমন কোনো উপসর্গ থাকে না। তবে দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণের ফলে লিভারের ক্ষত এবং বেশ কয়েক বছর পর সিরোসিস সৃষ্টি করে।

আবার অনেক সময় সিরোসিস আক্রান্ত ব্যক্তির লিভার অকার্যকর, যকৃতের ক্যান্সার, বা খাদ্যনালী ও পাকস্থলীর শিরা স্ফীত হতে পারে। যার ফলে রক্তক্ষরণে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এ ছাড়াও ত্বকে চর্মরোগ দেখা দিতে পারে।

হেপাটাইটিস ডি

হেপাটাইটিস বি এবং সি রোগীদের ঝুঁকি থেকে বেশি থাকে এই ভাইরাসে। এটি দূষিত রক্তের সংক্রমণ, সংক্রামিত সূঁচ ব্যবহার বা শেভিংয়ের অন্যান্য কিটগুলির ব্যবহারের মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। লিভারের সংক্রমণের ফলে বমি ও হালকা জ্বর হয়।

হেপাটাইটিস ই

এই ভাইরাস দূষিত খাবার দ্বারা ছড়িয়ে পড়ে। এই রোগে আক্রান্ত হলে রোগী ক্লান্তি, ওজন হ্রাস, ত্বকের হলুদ হওয়া এবং হালকা জ্বর অনুভব করে। এ সংক্রমণের ফলে রোগী ক্লান্তি, ওজন হ্রাস, ফ্যাকাশে ত্বক ও চেহারা এবং জ্বরের মতো লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়।

হেপাটাইটিসের বিভিন্ন ধরণ ও লক্ষণ যদি আপনার শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে মিলে যায়; তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের শরনাপন্ন হতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

কলিজার বারবিকিউ কাবাব তৈরির রেসিপি

গরু বা খাসির কলিজা খেতে অনেকেই পছন্দ করেন। সবাই নিশ্চয়ই কলিজার ভুনা বা দোঁপেয়াজা খেয়েছেন। তবে কলিজার বারবিকিউ কাবাবও কিন্তু খেতে খুবেই মজাদার।

কোরবানি ঈদের পর এ সময় অনেকেই হয়তো কলিজার বিভিন্ন পদ রান্না করতে পারেন। চাইলে কলিজার বারবিকিউ কাবাব তৈরি করতে পারেন খুব সহজেই। জেনে নিন রেসিপি-

১. এক কাপ সেদ্ধ কলিজা
২. পেঁয়াজ কুচি ৩ টেবিল চামচ
৩. কাঁচা মরিচ কুচি ২ চা চামচ
৪. গোল মরিচের গুঁড়ো আধা চা চামচ
৫. ধনেপাতা কুচি ২ টেবিল চামচ
৬. লবণ স্বাদমতো

৭. সয়া সস ২ চা চামচ
৮. টমেটো সস ২ টেবিল চামচ
৯. বারবিকিউ সস ৩ টেবিল চামচ
১০. গরম মসলার গুঁড়ো ৩ টেবিল চামচ
১১. কাবাব মসলার গুঁড়ো ২ টেবিল চামচ
১২. চিনি পরিমাণমতো
১৩. ডিম একটি
১৪. পাউরুটি ২ টুকরো
১৫. পরিমাণমতো তেল

পদ্ধতি

প্রথমে বাটিতে সেদ্ধ কলিজার সঙ্গে সব উপকরণ মিশিয়ে ভালো করে মাখিয়ে নিন। এরপর ফ্রাইপ্যানে তেল দিন। এবার মসলায় মাখানো সেদ্ধ কলিজা বড়া আকার তৈরি করুন।

এরপর গরম তেলে কলিজার কাবাবগুলো ছেড়ে দিন। উল্টে পাল্টে ভালো করে ভেজে নিন। ভাজা হলে নামিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন গরম গরম কলিজার বারবিকিউ কাবাব।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com