আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

লাইভস্টক

চ্যানেল আই অনলাইন মানুষের কাছে থাকতে পেরেছে

চ্যানেল আই অনলাইনের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রথমেই শুভেচ্ছা। দেখতে দেখতে চারটি বছর পূর্ণ করল দেশের এই অন্যতম অনলাইন সংবাদ পোর্টাল। চ্যানেল আই অনলাইন মানুষের কাছে থাকতে পেরেছে। নির্ভীক সাংবাদিকতা করেছে। টেক্সট জার্নালিজম-এ আমি বলবো বেশ কিছু নতুন নজির সৃষ্টি করেছে। যেমন, ‘সম্পাদকীয়’ বিভাগটির কথা বলতে চাই। আমরাই প্রথম অনলাইনে এমন একটি উদ্যোগ হাতে নিই যেখানে সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যরা লিখে থাকেন। কোনো রাজনৈতিক দল, পক্ষ, মত- এসব আমাদের প্রভাবিত করে না। কারণ আমরা গণমানুষের। আমরা গণমাধ্যম। আমরা সাংবাদিকতার জন্যই কাজ করছি। আমরা সত্য তুলে ধরব। এটাই আমাদের একমাত্র ব্রত। বাংলাদেশ আমাদের সকল শক্তির উৎস। একটি সংবাদকে কতোভাবে ভেঙ্গে আবার গড়া যায় সেটাও আমাদের মনোযোগের জায়গা। বিশেষ করে আমাদের স্পোর্টস, বিনোদন, অপরাধ, রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক বিভাগের নিয়মিত পাঠক রয়েছে। মতামত বিভাগেও লিখছেন অনেকে। এবং সেখানেও আমরা বেশ সাড়া পাচ্ছি। ফেসবুক, বিনোদন, সংবাদ, মাল্টিমিডিয়ার ইউটিউবে আমরা বেশ ভাল করছি।

মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বা ডিজিটাল জার্নালিজমের কথা যদি বলি, আমরা ভালো করছি। তবে, আরও ভালোর দিকে, আমরা যেতে চাই। খুব শীঘ্রই আমরা আমাদের ডিজিটাল অপারেশন আরও বড় করছি। যেখানে এন্টারটেইনমেন্ট এবং নিউজ একসঙ্গে কাজ করবে। আপনারা জেনে হয়তো খুশি হবেন বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলোর এন্টারটেইনমেন্ট ইউটিউব প্ল্যাটফর্মে চ্যানেল আইয়ের সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা এখন সর্বাধিক। এটা দারুণ আনন্দের এবং গর্বের বিষয়। চ্যানেল আই অনলাইনে যারা লিখতো তারা এখন লেখার পাশাপাশি নিয়মিত ছবি তুলছে, ভিডিও করছে এবং দিনের আলোচিত সংবাদ নিয়ে একটি সময়োপযোগী ভিডিওতে নিজে ক্যামেরায় এসে ব্রিফ করছে। সো আমি, সাগর বা আমরা বলছি আমাদের ডিজিটাল গোল অনেক বড়। যেখানে বিনোদন, স্পোর্টস, নিউজ খুব বেশি অগ্রাধিকার পাবে। আমরা একটা সমন্বয় আশা করছি। এখানে বিজনেস-ও বেশ বড় একটা রসদ। নইলে এতোগুলো ভিশন আমরা অ্যাচিভ করতে পারবো না।

টিভিতে যে লাইভে আমরা থাকতে পারছি না, ফেসবুকে থাকতে চাই। ব্যাকপ্যাকে এই কাজটি আমরা করতেই পারি। সেই লাইভ ভিডিও আমরা দ্রুত নিয়ে যেতে চাই আমাদের মনিটাইজড ইউটিউব প্ল্যাটফর্মে। ফিউচারে ওটিটি ও ভিওডি প্ল্যাটফর্মেও আমরা যেতে চাই।

একটি কথা আমি বিশেষভাবে বলতে চাই। এখনকার সাংবাদিকতা মানে শুধুমাত্র একটি টিভি, রেডিও, বা অনলাইন টেক্সট রিপোর্ট নয়। একজন সাংবাদিককে মাল্টিডিমেনশনাল হতে হবে। সে টিভির জন্য যে রিপোর্টটা করবে, তার জন্য লংগার ভার্সনটা দেবে অনলাইনে। আর যেকোনো স্পটে ছবি তুলবে, ভিডিও করবে। কারণ ছবি খুব কার্যকরী। একইভাবে ফেসবুক লাইভে যাওয়ার জরুরিত্ব এখন অনেক বেশি। আমি বলতে চাইছি টিভি, অনলাইন, রেডিও সাংবাদিক একই জায়গায় সবসময় থাকতে পারে না। যে যেখানে আছে সেখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা যদি ঘটে তাহলে সেটা যেন কাভার হয়। সেদিকেই জোর দিতে হবে। তারপর বিবেচ্য হবে স্টোরিটা আসলে কোথায় ফিট করে। এভাবে অনলাইন শেয়ার করবে টিভিকে। টিভিও অনলাইনকে। টিভি এবং অনলাইন এন্ডে অ্যাসিস্ট্যান্ট এডিটরেরা এই সমন্বয়গুলো করে দেবে যাতে একজন সাংবাদিক স্পেসিফিকভাবে জানতে পারে তার কাজ কতটুকু। অনেক বেশি মানুষের কাছে দ্রুত রিচ করার জন্য সোশ্যাল এভিনিউগুলো খুবই উপযোগী। সংবাদ যদি হয় মানুষের জন্য, তাহলে তা মানুষের কাছে পৌঁছানোর দ্রুততম পথগুলো বের করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। যে সাংবাদিক রিপোর্টে বের হয়েছিল সে অফিসে ফিরে তার রিপোর্টিং ইস্যু নিয়ে সাক্ষাতকার দেবে। অনলাইন ফেসবুক লাইভে সেটা কাভার করবে। একই রিপোর্টার পুরো সংবাদটির অ্যানালিসিস লিখবে। এভাবেই একটা রিপোর্ট পূর্ণতা পাবে চারদিক থেকে। এটা মডার্ন জার্নালিজম আমি বলতে চাই না। আমি বলতে চাই, এটাই মূলত সাংবাদিকতা। অ্যাজ আ হোল। আর মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্টদের ওয়েল-ইকুইপড না রাখলে ঘটনাস্থল থেকে ঘটনা কাভার করা খুবই দুষ্কর হয়ে পড়ে। তাদের সবধরণের ফ্যাসিলিটি এনশিওর করতে হবে।

সবশেষে বলতে চাই, সংবাদের নীতি-নৈতিকতা মেনে, দ্রুততম সময়ে নির্ভুল সংবাদ পরিবেশন করতে পেরেছে এই অনলাইন পোর্টালটি। পাঁচ-এ ৫ যে স্লোগান নিয়ে আমরা এত দূর এসেছি, আমাদের ইচ্ছে এবং স্বপ্ন থাকবে আরও সামনে যাওয়ার। সবাইকে আবারও অনেক অনেক শুভেচ্ছা। পাঁচ-এ ৫!!!

লাইভস্টক

বেশি দুধ দেওয়া ও ভাল জাতের গাভী চেনার উপায়

যে সমস্ত খামারি ভায়েরা ডেইরি খামার করতে আগ্রহী তারা প্রয়িস প্রশ্ন করেন কোন জাতের গাভী সবচেয়ে বেশি দুধ দেয় বা যে কোন জাতের গাভী ভাল?

বাংলাদেশে পাওয়া যায় এমন ৫টি জাতের গাভীর দুধ দেওয়ার পরিমাণ।
ভাল দুধাল গাভী নির্বাচনের বৈশিষ্ট্য।
গাভী থেকে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে দুধ দোহন পদ্ধতি।

পৃথিবীতে উন্নত জাতের গাভীর অনেক জাত রয়েছে। এর মধ্যে যে সকল উন্নত জাতের দেশী ও ক্রস গাভী (সংকর জাতের গাভী) আমাদের দেশে পাওয়া যায় সে সকল গাভীর জাত পরিচিত খামারীদের সুবিধার জন্যে সংক্ষিপ্তাকারে নিচে দেয়া হলো:-

দেশী গাভী।
ফ্রিজিয়ান ক্রস গাভী।

শাহীওয়াল ক্রস গাভী।
জার্সী ক্রস গাভী।
সিন্ধি ক্রস গাভী।

1. উন্নত দেশী গাভীঃ

জন্ম ওজন: ১৬-১৮ (কেজি)

বয়ঃপ্রাপ্তি কাল: ৯৮০-১১২৬ (দিন)

দুধ উৎপাদন: ২.০-২.৫ (লি./দিন)

দুধ উৎপাদন কাল: ১৭০-২২৭ (দিন)

বাচ্চা প্রসবের পর ১ম গরম হওয়া: ১২১-১৬ (দিন)

প্রতি গর্ভধারণে পাল সংখ্যা: ১.৮-২.০।

কোন জাতের গাভী সবচেয়ে বেশি দুধ দেয় কোন জাতের গাভী ভাল গাভীর উন্নত জাত উন্নত জাতের গাভী গাভী চেনার উপায় ভালো গাভী চেনার উপায় গাভী পালন পদ্ধতি

2. ফ্রিজিয়ান ক্রস গাভীঃ
জন্ম ওজন: ১৯-২৪ (কেজি)

বয়ঃপ্রাপ্তি কাল: ৯২০-১০২২ (দিন)

দুধ উৎপাদন: ৩.৫-১২.০ (লি./দিন)

দুধ উৎপাদন কাল: ২৯৫-৩৩০ (দিন)

বাচ্চা প্রসবের পর ১ম গরম হওয়া: ৮৫-১৫৫ (দিন)

প্রতি গর্ভধারণে পাল সংখ্যা: ১.৬-২.৪৪

কোন জাতের গাভী সবচেয়ে বেশি দুধ দেয় কোন জাতের গাভী ভাল গাভীর উন্নত জাত উন্নত জাতের গাভী গাভী চেনার উপায় ভালো গাভী চেনার উপায় গাভী পালন পদ্ধতি

3. শাহীওয়াল ক্রস গাভীঃ
জন্ম ওজন: ১৬-১৮ (কেজি)

বয়ঃপ্রাপ্তি কাল: ৯৮০-১১২৬ (দিন)

দুধ উৎপাদন: ২.০-২.৫ (লি./দিন)

দুধ উৎপাদন কাল: ১৭০-২২৭ (দিন)

বাচ্চা প্রসবের পর ১ম গরম হওয়া: ১২১-১৬২ (দিন)

প্রতি গর্ভধারণে পাল সংখ্যা: ১.৮-২.০

কোন জাতের গাভী সবচেয়ে বেশি দুধ দেয় কোন জাতের গাভী ভাল গাভীর উন্নত জাত উন্নত জাতের গাভী গাভী চেনার উপায় ভালো গাভী চেনার উপায় গাভী পালন পদ্ধতি

4. জার্সী ক্রস গাভীঃ
জন্ম ওজন: ১৭-২০ (কেজি)

বয়ঃপ্রাপ্তি কাল: ৮৫৫-১১০১ (দিন)

দুধ উৎপাদন: ২.৫-৫.০ (লি./দিন)

দুধ উৎপাদন কাল: ২৮০-৩০৫ (দিন)

বাচ্চা প্রসবের পর ১ম গরম হওয়া: ১২০-২৩৮ (দিন)

প্রতি গর্ভধারণে পাল সংখ্যা: ১.৫-২.০

কোন জাতের গাভী সবচেয়ে বেশি দুধ দেয় কোন জাতের গাভী ভাল গাভীর উন্নত জাত উন্নত জাতের গাভী গাভী চেনার উপায় ভালো গাভী চেনার উপায় গাভী পালন পদ্ধতি

5. সিন্ধি ক্রসঃ

জন্ম ওজন: ১৬-২২ (কেজি)

বয়ঃপ্রাপ্তি কাল: ১০৫৮-১১২৪ (দিন)

দুধ উৎপাদন: ৩.৫-৭.০ (লি./দিন)

দুধ উৎপাদন কাল: ২৫৮-২৮০ (দিন)

বাচ্চা প্রসবের পর ১ম গরম হওয়া: ১২৭-২০৩ (দিন)

প্রতি গর্ভধারণে পাল সংখ্যা: ১.৪৮-২.০

কোন জাতের গাভী সবচেয়ে বেশি দুধ দেয় কোন জাতের গাভী ভাল গাভীর উন্নত জাত উন্নত জাতের গাভী গাভী চেনার উপায় ভালো গাভী চেনার উপায় গাভী পালন পদ্ধতি

ভাল দুধাল গাভী নির্বাচনের বৈশিষ্ট্যঃ যেসব গাভী সন্তোষজনক পরিমাণ দুধ দেয় তাদের ভাল দুগ্ধবতী গাভী বলা হয়।

সাধারণত দুগ্ধবতী গাভীর দুধের পরিমাণ দেখে দুগ্ধবতী গাভীর মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে। এছাড়া শুষ্ক গাভী, গর্ভবতী গাভী যখন দুধ দেয় না এবং বকনা অবস্থায়ও কতিপয় বৈশিষ্ট্য দেখে এরা দুগ্ধবতী হবে কিনা তা বোঝা যায়।

⇒ দৈহিক গঠনঃ বৃহৎ দেহ, ঝুড়িশিথিল পা, চওড়া কপাল, ছোট মাথা, চামড়া পাতলা, বুক বেশ গভীর ও প্রশস্ত এবং দেহ অতিরিক্ত মাংসল ও চর্বি বহুল হবে না।

⇒ গোজ আকৃতির দেহঃ ভাল জাতের গাভীকে পিছনের দিক থেকে গোঁজাকৃতির ন্যায় দেখা যাবে । প্রশস্ত চওড়া পাছা ও পিছনের পা দুটোর মধ্যে যথেষ্ট ফাঁক থাকবে যার ফলে ওলান বড় হওয়ার সুযোগ থাকে।

⇒ ওলান ও বাটঃ ওলান বেশ বড়, চওড়া, মেদহীন ও কক্ষগুলো সামাঞ্জস্যপূর্ণ হবে। বাটগুলো প্রায় একইমাপের এবং পরস্পর থেকে সমান দূরে হবে।

⇒ দুধের শিরাঃ গাভীর পেটের নিচে ওলানের সাথে সংযুক্ত শাখা প্রশাখাযুক্ত দুধের শিরা থাকবে।

⇒ প্রকৃতিঃ দুগ্ধবতী গাভী শান্ত, ধীর স্থির মাতৃভাবাপন্ন প্রকৃতির হবে।

⇒ বয়সঃ সাধারণত একটি গাভী প্রায় ১০ বছর পর্যন্ত বাচ্চা ও দুধ উৎপাদন করে। সুতরাং গাভীর বয়স জানা আবশ্যক।

⇒ দুধ উৎপাদনঃ পর্যাপ্ত দুধ উৎপাদনকারী গাভী উৎকৃষ্ট হিসাবে বিবেচিত হয়। দুধে চর্বির পরিমাণ যাচাই কওে গাভীর উৎকৃষ্টতা বিচার করা প্রয়ােজন।

গাভী থেকে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে দুধ দোহন পদ্ধতিঃ

(১) স্বাস্থ্যসম্মত দুধ মানুষের শরীরের জন্যে যতটা প্রয়ােজনীয় তেমনী অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও গাভী থেকে সংগৃহিত দুধ মানুষের শরীরের জন্যে ততটা ক্ষতিকর। এ ধরনের দুধ মানুষের শরীরের জন্যে বিভিন্ন ধরনের দুধ বাহিত রোগ যেমন: ডায়রিয়া, ডিপথেরিয়া, টিউবারকিউলোসিস ইত্যাদি ছড়িয়ে থাকে।

(২) এ জন্যে গাভী থেকে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে দুধ দোহন অত্যন্ত জরুরী। স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে গাভী থেকে দুধ উৎপাদনের জন্যে নিলিখিত বিষয়গুলো অনুসরণ করা প্রয়ােজনঃ

(৩) গাভীকে শান্ত অবস্থায় আরামদায়ক পরিবেশে রেখে দুধ দোহন করতে হবে ।

(৪) পরিষ্কার স্থানে গাভীকে রেখে পরিষ্কার পাত্রে দুধ দোহন করতে হবে।

(৫) দুধ দোহনের পূর্বে গাভীকে কিছু পরিমান দানাদার খাদ্য প্রদান করা ভালো।

(৬) দুধ দোহনের পূর্বে গাভীকে গোসল করানো উচিত। গোসল করানো সম্ভব না হলে গাভীর ওলান পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালভাবে ধুয়ে নিতে হবে ।

(৭) ওলান ধুয়ে নেয়ার পর পরিষ্কার জীবানুমুক্ত কাপড় দিয়ে মুছে দিলে ভাল হয়।

(৮) দুধ দোহনের পূর্বে দোহনকারীর হাত ভাল করে সাবান দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে ।

(৯) দুধ দোহনকারীর হাত চুলকানী বা ঘা মুক্ত হতে হবে।

(১০) দুধ দোহনের সময় শরীরের কোন অংশ হাত দিয়ে চুলকানো যাবে না।

(১১) দুধ রাখার পাত্র পরিষ্কার করে ধুয়ে নিতে হবে ।

(১২) প্রতিবার দুধ দোহনের পর পাত্র ভালোভাবে পরিষ্কার করে রোদে ভালোভাবে শুকাতে হবে ।

(১৩) ছোট মুখওয়ালা পাত্রে দুধ দোহন করা ভাল যাতে করে দুধ ছিটকে না পড়ে।

(১৪) সকাল ৮ টার মধ্যে এবং বিকেল ৫ টার মধ্যে দুধ দোহন করা ভাল।

(১৫) বাছুরের জন্য পর্যাপ্ত পরিমান দুধ রেখে দোহন সম্পন্ন করলে সুস্থ সবল বাছুর পাওয়া যায়।

“গোলাভরা ধান, পুকুর ভরা মাছ এবং গোয়ালভরা গরু” এ হলো বাঙালী জাতির ঐতিহ্য। আমাদের দেশে গৃহপালিত প্রাণীর মধ্যে গরুই প্রধান। দেশের প্রায় প্রতিটি কৃষক পরিবার সুদূর অতীত থেকে তাদের কৃষিকাজে হালচাষ সহ পারিবারিক দুধের চাহিদা পূরণের উদ্দেশ্যে দু’চারটি করে গরু পালন করে আসছে।

বর্তমানে গাভী পালন কৃষিকাজের হাতিয়ার এবং পারিবারিক দুধের চাহিদা পূরণের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক ব্যবসার একটি অন্যতম হাতিয়ারে পরিনত হয়েছে। ফলে দিনে দিনে দেশী গাভী উন্নত হচ্ছে পাশাপাশি উন্নত জাতের গাভীও পালন করা হচ্ছে। গ্রামের পাশাপাশি আজকাল শহর ও শহরতলীতেও গাভী পালন করা হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

জেনে নিন পুকুরে সহজ উপায়ে হাঁস পালন পদ্ধতি

গ্রামীণ অর্থনীতিতে হাঁস পালন একটি লাভজনক ব্যবসা | প্রথম দিকে ছোট আকারের খামার করা ভালো। পরবর্তীতে বাণিজ্যিক আকারে খামার করা যেতে পারে। ডিম পাড়ার জন্য লেয়ার হাঁস পালন করতে হয়। এগুলোর মধ্যে খাকি ক্যাম্বল, ইন্ডিয়ান রানার, দেশি পাতি হাঁস উল্লেখযোগ্য। মাংসের জন্য অন্যান্য প্রজাতির হাঁস পালন করতে হয়।

ছোট হাঁসের বাচ্চা দিনে কমপক্ষে এক ঘণ্টা করে দুই বার পানিতে ছাড়তে হবে। হাঁসের প্রাকৃতিক খাদ্যের প্রতি লোভ বেশি থাকায় সব সময় পানিতে থাকতে চায়। বাচ্চা হাঁসকে বেশি সময় পানিতে রাখা যাবে না সে ক্ষেত্রে ঠান্ডা লাগার সম্ভাবনা থাকে। পূর্ণবয়স্ক হাঁস দিনে ৮-১০ ঘণ্টা পানিতে সাতার কাটাতে পারে |

খাদ্য

খাবার শুকনো অবস্থায় খাওয়ালে অবশ্যই সঙ্গে পানির পাত্র রাখতে হবে। বাচ্চা হাঁস খাবার মুখে পুরেই পানির সাহায্যে গিলে ফেলে। এ সময় বাচ্চা হাঁস সাবলীলভাবে বেড়ে উঠবে। পরবর্তীতে নিজেদের তৈরি করা খাদ্য খাওয়ানো যাবে। তৈরিকৃত খাদ্যে উপাদান সঠিকভাবে থাকায় বাচ্চার বৃদ্ধি ঠিক মতো হয়। নিজেদের তৈরিকৃত হাঁসের খাদ্য তালিকায় যেসব উপাদান থাকা আবশ্যক তা হলো ধান, চাউলের কুড়া, চাউলের খুদ, গম ভাঙা, গমের ভুষি ইত্যাদি।

এসব দ্রব্য ভালোভাবে মিশিয়ে হাঁসকে খেতে দিতে হবে। তাছাড়া শামুক, ঝিনুক ভেঙে খাওয়ানো যায়। ছোট বাচ্চাকে শামুক-ঝিনুক খুবই অল্প পরিমাণে খাওয়ানো যেতে পারে। উন্নত জাতের হাঁসের খাদ্য চাহিদা কম। এরা সাধারণত ১৬০-১৮০ গ্রাম খাদ্য প্রতিদিন খেয়ে থাকে। হাঁসের দিনের খাবার তিন ভাগে ভাগ করে সকাল, দুপুর ও বিকেল বেলা দিতে হবে। গৃহপালিত হাঁসকে নির্দিষ্ট সংকেতে ডাক দিলে তারা খাবার খেতে চলে আসে। আবার প্রত্যেক দিন নির্দিষ্ট সময় খাবার দিলে ঠিক ওই সময় তারা খাবার খেতে চলে আসবে। হাঁসের বাচ্চা পরিপূর্ণ হয়ে গেলে সে ক্ষেত্রে মাছের পোনা ছাড়তে হলে একটু সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। ছোট মাছের পোনা হাঁস ধরে ফেলে বা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। এ ক্ষেত্রে ১৫ দিনের মতো পূর্ণবয়স্ক হাঁসকে বদ্ধ অবস্থায় পালন করা যেতে পারে।

ডিম সংগ্রহ :

সব জাতের হাঁসি সাধারণত ২২-২৩ সপ্তাহের মধ্যে ডিম পাড়া আরম্ভ করে। ডিম পাড়া শুরুর পূর্বে হাঁসিকে সঠিকভাবে খাদ্য দিতে হবে। যদিও ডিম পাড়ার ১৫ দিন আগে থেকে তাদের খাদ্য চাহিদা কমে যায়। ডিম পাড়া অবস্থায় তাদের খাদ্য চাহিদা বৃদ্ধি পায়। ডিম পাড়া অবস্থায় হাঁসিকে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবারের জোগান দিতে পারলে দীর্ঘদিন ধরে ডিম পাওয়া যায়। হাঁসি সাধারণত খুব সকাল বা সকালের দিকে ডিম পাড়ে। এজন্য হাঁসিকে খুব সকালে ঘর থেকে ছাড়া যাবে না। একটু দেরি করে ছাড়তে হবে নতুবা পানির মধ্যে ডিম পাড়ার প্রবণতা দেখা যাবে।

প্রথম অবস্থায় হাঁসির ডিম একটু ছোট আকারের হলেও পরবর্তীতে তা স্বাভাবিক আকারের হয়ে যায়। হাঁসের ডিম মুরগির ডিমের চেয়ে আকারে বড় ও ওজন বেশি হয়। সকালের ডিম সংগ্রহ করার সময় খাদ্য খেতে দিতে হবে। ডিম সংগ্রহের পর ওই ডিমে বিষ্ঠা লেগে থাকলে তা পানি দ্বারা ধুয়ে ফেলতে হবে। যদি কোন হাঁসি ডিম না পাড়ে সে ক্ষেত্রে ওই হাঁসিটি চিহ্নিত করে ঝাঁক থেকে বাদ দিতে হবে।

এজন্য হাঁসির সংখ্যা ও ডিম উৎপাদন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। হাঁসি ডিম পাড়বে কি পাড়বে না তা হাত দিয়ে ডিমের থলি পরীক্ষা করে বোঝা যায়। শুধু ডিমের জন্য হাঁস পালন করলে ওই হাঁসের সঙ্গে কোন পুরুষ হাঁস রাখার দরকার নেই। কিন্তু ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর প্রয়োজন হলে ৭-৮টি হাঁসির জন্য ১টি হাঁসা (পুরুষ হাঁস) পালন করতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

গরুর শীতকালীন পরিচর্যা করবেন যেভাবে

আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে প্রাণীর অভ্যন্তরীণ বিপাকীয় এবং অভ্যাসগত পরিবর্তন হয়। বাংলাদেশে সংকরায়ণের ফলে তৈরি জাত শীত সহ্য করতে পারে না। গরুর শীতকালীন পরিচর্যা করবেন যেভাবে।

খাদ্য অভ্যাস : শীতকালে প্রাণী শরীরে হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, ফলে দুধের উৎপাদন ও বৃদ্ধি পায়। কিন্তু বাড়তি উৎপাদনের জন্য চাই বাড়তি শক্তি। তাই শীতকালে গরুকে অধিক খাবার দেয়া জরুরি। তবে একই সাথে এটাও মনে রাখতে হবে শীতকালে গরুর শরীরে কোষ্ঠ্যকাঠিন্যের প্রবলতা দেখা যায়। কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে থেকে রক্ষা করতে গরুকে অধিক আশযুক্ত খাবার যেমন ঘাস খড় দেয়া আবশ্যক।

পানি : শরীরবৃত্তীয় কাজে কম পানি দরকার হওয়ায় এবং অধিক ঠান্ডা হওয়ায় শীতকালে সকল প্রাণী পানি পানের পরিমান কমিয়ে দেয়। এই সমস্যা উত্তরণের জন্য গরুকে ট্যাংকে সংরক্ষিত বাসি ঠান্ডা পরিবেশন থেকে বিরত থাকতে হবে। গরুর জন্য বিশুদ্ধ ফ্রেশ পানির ব্যবস্থা করতে হবে।

বাসস্থান : শীতকালে ঠান্ডা বাতাস যেন সরাসরি গরুর গায়ে না লাগে এইজন্য ঠান্ডা বাতাস প্রবেশের রাস্তা গুলো চটের বস্তা অথবা পলিথিন বা অন্য কোন উপায়ে বন্ধ করে দিতে হবে। ঠান্ডা বাতাসে গরুর নিউমোনিয়া সহ ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হতে পারে। প্রয়োজনে গরুকে পুরান কম্বল বা পাটের বস্তা এই জাতীয় জিনিস দিয়ে রাতে জড়িয়ে রাখতে হবে।

পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা: ঠান্ডায় গরুর শেডে যেন পানি জমে না থাকে অথবা গরুর প্রস্রাব জমে না থাকে এবং ফ্লোর যেন অধিক শুষ্ক থাকে সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। দরকার হলে ফ্লোর ম্যাট ব্যবহার করতে হবে।

রোগ ব্যাধি : শীতকালে গরু নিউমোনিয়া, কাশি সহ ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই এই রোগের বিষয়ে বিশেষ সচেতন থাকতে হবে। ঠান্ডা জনিত কোনো সমস্যার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা করতে হবে। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হাতের কাছে বিশুদ্ধ মধু এবং তুলসী গাছ রাখতে হবে।

বাছুরের যত্ন : ঠান্ডায় সবচে বেশি আক্রান্ত হয় নবজাতক বাছুর। যেহেতু বাছুরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে তাই ঠাণ্ডাজনিত রোগের শিকার ও সবচে বেশি হয়। তাই শীতকালে অবশ্যই বাছুরকে গরম কাপড় দিয়ে জড়িয়ে রাখতে হবে এবং গরম এবং শুষ্ক জায়গা রাখতে হবে। কোনো প্রকার ঠান্ডা জনিত সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
শীতে আপনার বিশেষ যত্নই আপনার খামারকে শীতকালীন সমস্যা থেকে মুক্ত রাখতে সাহায্য করবে। আর এজন্য আপনার সচেতনতা সবচে বেশি জরুরি।

গরুর শীতকালীন পরিচর্যা করবেন যেভাবে সংবাদের তথ্য বাংলাদেশ গবাদি পশু ও পাখি খামারি উন্নয়ন সংগঠন নামক কমিউনিটি সংস্থা থেকে নেওয়া হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

গাভীর দুধ জ্বর হলে যেভাবে সারাবেন

গাভীর দুগ্ধ জ্বরের শিকার হয়ে অনেক খামারিই ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ সময়ে কী করবেন অনেকেই বুঝতে পারেন না। এ অসুখ হলে লক্ষণ কী তাও অনেকে শুরুতে টের পান না। পাঠক আজ গাভী দুধ জ্বর বা মিল্ক ফিভারের লক্ষণ ও চিকিৎসা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য ও চিকিৎসা পরামর্শ তুলে ধরা হলো।

গাভীর দুগ্ধ জ্বর প্রসবের সাথে সম্পর্কিত একটি বিপাকীয় রোগ। সাধারণত, অধিক দুগ্ধ দানকারী গাভী প্রসবের পর পরই এ রোগে আক্রান্ত হয়। এছাড়া লক্ষণগুলোও চেক করে দেখতে হবে।

লক্ষণ: আক্রান্ত পশু কিছু খেতে চায় না মাথা স্থির রাখতে পারে না। জিহ্বা বের হয়ে আসে। পরবর্তিতে গাভী বুকে ভর দিয়ে শুয়ে পড়ে। মাথা একপাশে কাঁধের উপর ফেলে রাখে। গাভী চৈতন্য হারিয়ে ফেলে এবং অবশেষে মারা যায়।

করণীয়: গর্ভবতী গাভীকে সুষম খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। প্রসবকালীন শেষ মাস থেকে গাভীর খাদ্যে পরিমিত অনুপাতে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ভিটামিন-ডি এর সরবরাহ করতে হবে। অভিজ্ঞ চিকিৎসকের চিকিৎসায় তাৎক্ষনিকভাবে রোগ নিরাময় হয়।

চিকিৎসা: ক্যালসিয়াম ইনজেকশন রোগের তীব্রতা ও পশুর ওজন অনুযায়ী শিরায় প্রযোগ করতে হবে। তবে উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে গাভীর পরিচর্যা করলে দ্রুত সুফল পাওয়া যাবে।

এছাড়া আপনার আশপাশের অভিজ্ঞ খামারির কাছ থেকে পরামর্শ নিতে পারেন। হতাশ না হয়ে ঠিক মতো চিকিৎসা করতে পারলেই সুফল মিলবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

বেকারত্ব দূর করতে ডেইরি ফার্ম

সমাজে এমন অনেক ব্যতিক্রমী পেশা রয়েছে যেখানে একটু পরিশ্রম ও চিন্তাভাবনা নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করলে সফলতা দরজায় এসে কড়া নাড়বে। আমরা চেষ্টা করি কিছু গঠনমূলক প্রজেক্টের ধারণা দিতে। আজ এ ধরনের একটি প্রজেক্ট নিয়ে আলোচনা করা হলো েপড়াশোনা শেষ করে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী গতানুগতিক চাকরি বা ব্যবসার আশায় বসে থাকেন। এসব চাকরি বা ব্যবসার আশায় না থেকে আমরা যদি নিজেরাই আত্মকর্মসংস্থানের জন্য কিছু গঠনমূলক কাজ করি, তাহলে আমাদের ভাগ্যের সঙ্গে সঙ্গে সমাজকেও আমরা কিছু উপহার দিতে পারব। এজন্য দরকার আত্মবিশ্বাস এবং কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠা। সমাজে এমন অনেক ব্যতিক্রমী পেশা রয়েছে যেখানে একটু পরিশ্রম ও চিন্তাভাবনা নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করলে সফলতা দরজায় এসে কড়া নাড়বে। আমরা চেষ্টা করি কিছু গঠনমূলক প্রজেক্টের ধারণা দিতে। আজ এ ধরনের একটি প্রজেক্ট নিয়ে আলোচনা করা হলো।

বাংলাদেশে এখন সফল ডেইরি ফার্মের সংখ্যা অনেক। দিন দিন এর চাহিদা ও বাজার বাড়ছে। একদিকে যেমন এ থেকে আদর্শ খাবার হিসেবে দুধ, আমিষের চাহিদা মেটাতে মাংস এবং জ্বালানি হিসেবে গোবর ও জৈব সার পাওয়া যাবে, তেমনি অন্যদিকে এ খাত থেকে বেশ ভালো আয় করাও সম্ভব। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার অল্পবিস্তর জ্ঞান থাকতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে স্বল্প বা দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ নিলে।

প্রাথমিক প্রয়োজন: যে কোনো কিছু গড়তে সবার আগে প্রয়োজন প্রাথমিক প্রস্তুতি। এ প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করে যে কোনো কাজের সফলতা ও ব্যর্থতা। ডেইরি ফার্ম গড়ে তুলতে প্রয়োজন আর্থিক সংগতি, অভিজ্ঞতা ও গরুর নিরাপদ আশ্রয়। প্রথমেই বিশাল ফার্ম তৈরিতে হাত না দিয়ে ছোট পরিসরে কাজে হাত দেয়া ভালো। ৫ থেকে ৬টি গরু নিয়ে যাত্রা করে আস্তে আস্তে ফার্মকে সম্প্রসারণ করাই উত্তম। দুইটি গরুর জন্য একজন দক্ষ লোক নিয়োগ করা গেলে ভালো। তবে খেয়াল রাখতে হবে লোকটির গরুর যতœ নেয়ার পূর্বঅভিজ্ঞতা আছে কিনা।

বাছাই প্রক্রিয়া: নিজ এলাকায় বিশেষ করে মফস্বলে গরুর ফার্ম গড়ে তোলাই শ্রেয়। এক্ষেত্রে প্রয়োজন গরুর উন্নত জাত বাছাই। উন্নত জাতের গরু বাছাই না করলে সারা বছর ফার্মে রোগবালাই লেগে থাকবে। ভালো জাতের গরুর পাশাপাশি ফার্মে পর্যাপ্ত ঘাস, খৈল বিচালির ব্যবস্থা রাখতে হবে। ফার্ম গড়ে তোলার পরপরই দুধ বিক্রির জন্য প্রচারণা চালাতে হবে।

স্থান নির্বাচন: যেখানে যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো এবং দুধ বিক্রির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে এসব এলাকার আশপাশেই ডেইরি ফার্ম গড়ে তোলা প্রয়োজন। চারপাশে উঁচু দেয়াল, পরিবেশসম্মত আবাসন, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস এবং গরুর বিশ্রাম ও হাঁটাচলার জন্য জায়গা থাকতে হবে। গরুর ওষুধের দোকান, কাঁচা ঘাসের খামার আশপাশে থাকলে ভালো।

খাবার সরবরাহ: ডেইরি ফার্মের জন্য সর্বাগ্রে গুরুত্ব দিতে হবে গরুর খাবারের প্রতি। পর্যাপ্ত ও মানসম্পন্ন খাবার না পেলে সঠিক পরিমাণ দুধ পাওয়া যায় না। ধানের কুঁড়া, গমের ভুসি, ছোলা, খেসারির খোসা, লবণ,তিলের খৈল, সয়াবিন খৈল নারিকেলের খৈল, ঘাস-বিচালির পর্যাপ্ত সংগ্রহ রাখতে হবে। অনেক সময় বাসি ও পচা খাবার গরুকে সরবরাহ করা হয়। যা কখনোই ঠিক নয়। এতে গরু বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারে। সব সময়ই খেয়াল রাখতে হবে গরুর খাদ্য যেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও পুষ্টিমানসম্পন্ন হয়, এজন্য পচা বা দীর্ঘদিন রাখা এসব পণ্য গরুকে খাওয়ানো উচিত নয়। গাভির গর্ভধারণ ও গর্ভকালীন আলাদাভাবে পরিচর্যা করতে হবে। এ সময় স্থানীয় পশুচিকিৎসকের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করতে হবে।

আয়-ব্যয়: ডেইরি ফার্ম একটি দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম। সঙ্গে সঙ্গেই লাভের আশা করা ভুল। বরং ধীরেসুস্থে এগোলেই ভালো ফল পাওয়া যাবে। গড়ে একেকটি গরু কিনতে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হবে। এছাড়া যত বেশি গরুর সংখ্যা বাড়বে, খরচের খাতও তত কমবে। বর্তমানে শহরের বিভিন্ন মিষ্টির দোকান ও কনফেকশনারির লোকজন সরাসরি ফার্মে এসে দুধ সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। গড়ে একেকটি গরু থেকে মাসে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকার দুধ বিক্রি করা সম্ভব। খরচ বাদে এ লাভ একটি পরিবারের জন্য কম নয়।

পরিচর্যা: উন্নত জাতের গাভী ডেইরি ফার্মের জন্য সহায়ক। এক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ান গাভীর জাত বেছে নেয়া যেতে পারে। এজন্য পশু খামারি এবং পশু কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করে নিলে ভালো হয়। প্রতিটি গরুর জন্য আলাদা মশারি, ফ্যান, ময়লা পরিষ্কারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। আলোর জন্য লাইটিং এবং পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারেও নজর দেয়া জরুরি।

পশুর স্বাস্থ্য পরিচর্যা :দেশের প্রায় প্রতিটি উপজেলায় পশু চিকিৎসা কেন্দ্র রয়েছে। এছাড়া সরকারিভাবেও খামারিদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে সাহায্য ছাড়াও ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার সুযোগ রয়েছে। যুব উন্নয়ন, কৃষি ব্যাংক, গ্রামীণ ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকেও প্রশিক্ষিত তরুণরা বিনা জামানতে বেশ মোটা অঙ্কের ঋণ সহায়তা পেতে পারেন। বেকার শিক্ষিত তরুণদের জন্য এটি হতে পারে একটি চমৎকার পেশা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com