আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

দৈনন্দিন

প্রসব-পরবর্তী মানসিক সমস্যা

মাত্র এক মাস আগে সন্তানের জন্ম হয়েছে। পরিবারের সবাই খুব খুশি, সবাই সদ্যোজাত শিশুসন্তানটিকে নিয়ে ব্যতিব্যস্ত। কিন্তু প্রসূতি মায়ের কিছুই ভালো লাগে না, থেকে থেকে শুধু কান্না পায়। মুখে হাসি নেই, মনে আনন্দ নেই, কিছু খেতে ইচ্ছা করে না, রাত জেগে জেগে ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত। অন্যরা অবাক হয়, মাতৃত্ব নিয়ে কি তবে তিনি খুশি নন? কেউ বলে, ‘এগুলো কিছু না, সব ঠিক হয়ে যাবে।’

কিন্তু দিনে দিনে মনের অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে নতুন মায়ের। মাঝেমধ্যে তাঁর মনে হয়, এই ছোট্ট শিশুটিকে তিনি লালনপালন করতে পারবেন না, ইচ্ছা করে সন্তানটিকে কাউকে দিয়ে দিতে। পরমুহূর্তেই এমন চিন্তার জন্য নিজেকে ধিক্কার দিতে থাকেন, অপরাধবোধে ভুগতে থাকেন। প্রতি মুহূর্তে তাঁর মনে হয়, ‘আমি খুব খারাপ একজন মা।’

গল্পটা শুনে খুব অবাক লাগছে? অবাক হওয়ার কিছু নেই। আমাদের চারপাশে এমন প্রসব-পরবর্তী মানসিক জটিলতার রোগী অনেক। এমন অনেক মেয়েই এই নাজুক সময়টা ভীষণ খারাপভাবে পার করছেন। আমরা তার কোনো খবরই রাখি না।

সন্তান জন্মদানের পরপরই নারীদের বেশ কিছু মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। সন্তান প্রসবের পর এক মাসের মধ্যেই সাধারণত এই সমস্যাগুলো দেখা দেয়। এই সময় সবাই সদ্যোজাত শিশুসন্তানকে নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকেন, তাই মায়ের মানসিক স্বাস্থ্য খুব গুরুত্ব পায় না। তারপর দেখা যায়, মায়ের মানসিক রোগটি গুরুতর আকার ধারণ করছে।বিজ্ঞাপন

সন্তান প্রসবের পর তিন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে—

১. পোস্ট পার্টাম ব্লু: শিশুর জন্মদানের শারীরিক ও মানসিক ধকল এবং হরমোনের পরিবর্তনের ফলে সন্তান জন্মদানের ২-৩ দিন পরই প্রায় ৮৫ শতাংশ মা পোস্ট পার্টাম ব্লুতে আক্রান্ত হন। এই সময় অকারণে কান্নাকাটি, আবেগের ওঠানামা, খিটখিটে মেজাজ, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, ক্লান্তির লক্ষণগুলো দেখা দেয়। সাধারণত লক্ষণগুলো কয়েক দিন থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এই সমস্যার সমাধানে পরিবার এবং আপনজনদের সহায়তাই যথেষ্ট। তবে যদি লক্ষণগুলো দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে থাকে, সে ক্ষেত্রে পোস্ট পার্টাম ডিপ্রেশন আছে কি না, সেটা খতিয়ে দেখতে হবে।

২. পোস্ট পার্টাম ডিপ্রেশন: সন্তান জন্মদানের এক মাসের ভেতরেই বিষণ্নতার লক্ষণগুলো এদের মধ্যে দেখা দেয়। প্রাথমিকভাবে লক্ষণগুলো পোস্ট পার্টাম ব্লুয়ের মতো মনে হলেও এই রোগের লক্ষণগুলো অনেক বেশি দীর্ঘমেয়াদি এবং যন্ত্রণাদায়ক। এর ফলে আক্রান্তের দৈনন্দিন কাজকর্ম বাধাগ্রস্ত হতে থাকে।

দিনের বেশির ভাগ সময় মন খারাপ লাগা, কোনো কাজে আগ্রহ বা আনন্দ না পাওয়া, সদ্যোজাত সন্তানের প্রতি মায়া বা আকর্ষণ কমে যাওয়া, ঘুম ও ক্ষুধাহীনতা অথবা উল্টো অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, অকারণ অপরাধবোধ এবং প্রায়ই কান্নাকাটি করা এই রোগের লক্ষণ।

রোগ তীব্র আকার ধারণ করলে নিজেকে আঘাত করার চিন্তা এমনকি মৃত্যুচিন্তা পর্যন্ত আসতে পারে। তীব্র অবসাদে আক্রান্ত মা তাঁর শিশুসন্তানটিকেও আঘাত করতে পারেন এমনকি মেরেও ফেলতে পারেন। তাই পোস্ট পার্টাম ডিপ্রেশনের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে অতি দ্রুত মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। ওষুধ এবং সাইকোথেরাপির মাধ্যমে এই রোগ সম্পূর্ণ নিরাময় হয়।

৩. পোস্ট পার্টাম সাইকোসিস: এই সমস্যাটি আরও বেশি গুরুতর। এতে যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে তা হলো—অস্বাভাবিক আচরণ ও কথাবার্তা, ভ্রান্ত বিশ্বাস (যেমন অকারণে সন্দেহ), হ্যালুসিনেশন (অদৃশ্য ব্যক্তিদের কথা শোনা), অকারণে হাসা এবং বিড়বিড় করে কথা বলা, ঘুম না হওয়া, সদ্যোজাত শিশুর যত্ন নিতে না পারা ইত্যাদি। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে। নিয়মিত ওষুধ সেবনের মাধ্যমে রোগটি সম্পূর্ণ নিরাময় হয়।বিজ্ঞাপন

পরিবারের সদস্যদের করণীয়

প্রসবপ্রক্রিয়া (স্বাভাবিক অথবা সিজার) এবং সদ্যোজাত শিশুসন্তানের লালনপালন করতে গিয়ে একজন মায়ের ওপর সীমাহীন শারীরিক ও মানসিক চাপ পড়ে। এ সময় পরিবারের সদস্যদের সহায়ক ভূমিকা পালন করা দরকার। এতে প্রসব-পরবর্তী মানসিক জটিলতা কমে।

১. সন্তান পালনে নতুন মাকে সাহায্য করা। দিনের বেলা তাকে কিছুক্ষণ ঘুমানোর সুযোগ করে দেওয়া।

২. মায়ের শরীর ও মন কেমন আছে, তার কোনো সাহায্য দরকার কি না, আন্তরিকভাবে জিজ্ঞাসা করা ও খোঁজ নেওয়া।

৩. গৃহস্থালি কাজের (যেমন রান্না, ঘর গোছানো, কাপড় ধোয়া) ভার কমিয়ে নতুন মাকে কিছুটা বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া।

৪. সমস্যা বেশি মনে হলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া।

পরিবারের সদস্যরা যা করবেন না

১. সারাক্ষণ শিশু পালনের ব্যাপারে মায়ের ভুল ধরবেন না, সমালোচনা করবেন না।

২. অন্য মায়েদের সঙ্গে তুলনা করবেন না ।

৩. নতুন মা তাঁর মানসিক সমস্যার কথা জানালে সেটা তাচ্ছিল্য করে উড়িয়ে দেবেন না।

দৈনন্দিন

শিশুর হাড়ের রোগ রিকেটস

অনেক সময় বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে, কেন একটি শিশু অকারণ অস্বস্তিতে ভুগছে। অযথাই কান্নাকাটি করে, আগের মতো দৌড়াদৌড়ি করে না। একটু বড় শিশু হলে মাঝেমধ্যে পায়ের ব্যথার কথা বলে। তারপর আস্তে আস্তে দেখা গেল, তার পা দুটো বেঁকে গেছে, হাঁটাহাঁটিতে আগের চেয়ে আরও বেশি অনীহা। এভাবেই প্রকাশ পেতে পারে শিশুদের হাড়ের রোগ রিকেটস, যা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ক্যালসিয়াম বা ভিটামিন ডি–এর অভাবে হয়ে থাকে।

গর্ভবতী মায়ের শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি না থাকলে জন্মের পর শিশুর শরীরে ভিটামিন ডি–এর অভাব দেখা দেয়। এর থেকে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হয় এবং শিশু খিঁচুনিসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়। দীর্ঘ মেয়াদে শিশু ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়ামের অভাব থেকে রিকেটস রোগে আক্রান্ত হয়। যেকোনো কারণে শিশুর শরীরে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের মাত্রার তারতম্যের ফলে প্রথমে হাড় নরম হয়ে যায়, যার থেকে পা বেঁকে যায়। কোথাও কোথাও হাড় বেড়ে চওড়াও হয়ে যায়, মাংসপেশি দুর্বল হয়ে যায়। শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, হাঁটা শুরু করতে দেরি হয়। প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে অনেকের দাঁত উঠতে দেরি হয়, মাথা বড় দেখায়, বুকের খাঁচা অস্বাভাবিক রূপ নেয়, পরবর্তী সময়ে যা ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। জটিলতা বৃদ্ধির আগেই সঠিক চিকিৎসা না করলে হাড় ভেঙে যেতে পারে, শিশু পঙ্গু হয়ে যেতে পারে। এমনকি শিশুর অকালমৃত্যুও ঘটতে পারে।বিজ্ঞাপনবিজ্ঞাপন

রিকেটস রোগ প্রতিরোধে গর্ভবতী মা ও শিশুদের পর্যাপ্ত ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার (যেমন দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, সবুজ শাকসবজি, মটরশুঁটি, ছোট মাছ) খাওয়াতে হবে। পাশাপাশি ভিটামিন ডি–এর জোগান নিশ্চিত করা আবশ্যক। কারণ, ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ হতে সহায়তা করে।

শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি জোগান দিতে দরকার নিয়মিত উন্মুক্ত ত্বকে সূর্যালোক লাগানো, বাইরে খেলাধুলা। কারণ ডিমের কুসুম, মাশরুম ও বিশেষ কিছু তৈলাক্ত মাছ ছাড়া আমাদের দৈনন্দিন খাবারে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি থাকে না বললেই চলে।

সচেতনতার সঙ্গে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণের পরও যদি শিশুর শরীরে রিকেটসের কোনো লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রাথমিক অবস্থায় সঠিক চিকিৎসা নিলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ওষুধের মাধ্যমে রিকেটস সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

জরায়ুমুখ ক্যানসার থেকে বাঁচুন

বাংলাদেশে নারীর প্রজননতন্ত্রের ক্যানসারগুলোর মধ্যে ৭০ শতাংশই জরায়ুমুখ ক্যানসার (সার্ভিক্যাল ক্যানসার)। কিন্তু এটি এমন এক রোগ, যা প্রতিরোধের জন্য রয়েছে কার্যকর টিকা। আছে ক্যানসারপূর্ব অবস্থা শনাক্তকরণের পরীক্ষাও। এই দুটি প্রতিরোধব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব।

হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস নামক একটি গোত্রের ভাইরাস জরায়ুমুখ ক্যানসারের জন্য দায়ী। বাল্যবিবাহ, কম বয়সে সহবাস, অধিক সন্তান ধারণ এবং ঘন ঘন সন্তান প্রসব, বহুগামিতা, ধূমপান, দীর্ঘদিন একনাগাড়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবন, প্রজননতন্ত্রের সংক্রমণ ও এইচআইভি/এইডস রোগে আক্রান্ত হলে এই ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। সাধারণত ৩৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সী নারীরা বেশি আক্রান্ত হন।বিজ্ঞাপনবিজ্ঞাপন

উপসর্গ

প্রাথমিক অবস্থায় এই রোগের কোনো লক্ষণ না–ও দেখা দিতে পারে। সহবাসের পর রক্তক্ষরণ, মাসিক পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় রক্তপাত, অনিয়মিত বা অতিরিক্ত রক্তস্রাব, সাদা স্রাব, তলপেটে ব্যথা, কোমরে ব্যথা, হাড়ে ব্যথা, যোনিপথ দিয়ে প্রস্রাব বা পায়খানা নির্গত হওয়া, প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত পড়া ইত্যাদি।বিজ্ঞাপন

করণীয়

● সাধারণত ৯ থেকে ২৬ বছর বয়সী মেয়েদের জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়। তবে ৪৫ বছর বয়স পর্যন্ত নারীদেরও এই টিকা দেওয়া যাবে। সহবাসের আগে টিকা দেওয়া হলে তা সবচেয়ে বেশি কার্যকর।

● স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে জরায়ুমুখ ক্যানসার আগেভাগেই শনাক্ত করা সম্ভব। ফলে চিকিৎসার মাধ্যমে ক্যানসার থেকে পুরোপুরি সেরে ওঠা যেতে পারে। এইচপিভি ডিএনএ টেস্ট, প্যাপ স্মিয়ার, ভায়া টেস্ট ইত্যাদি এ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। এগুলোর মধ্যে এইচপিভি ডিএনএ টেস্ট সবচেয়ে কার্যকর। টিকা দিলেও স্ক্রিনিং টেস্ট করতে হবে। ৩ থেকে ৫ বছর পরপর এটা করা হয়ে থাকে।

● অস্ত্রোপচার, রেডিওথেরাপি ও কেমোথেরাপির মাধ্যমে এই ক্যানসারের চিকিৎসা করা হয়। অন্যান্য ক্যানসারের সঙ্গে এই ক্যানসারের পার্থক্য হলো এটি প্রাথমিক অবস্থায়ই শনাক্ত করা সম্ভব এবং যথাযথ সময়ে চিকিৎসা নিলে পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব। তাই সচেতনতাই পারে রোগটিকে রুখতে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

চিনির মোহ কাটবে যেভাবে

অনেকের চিনির প্রতি রয়েছে তীব্র মোহ। এই কারণে স্বাভাবিক মাত্রার থেকে অনেক বেশি চিনি খেতেও ভালো লাগে। এ ছাড়া চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়ার সঙ্গে মানসিক বিষয়েরও কিছুটা সম্পর্ক রয়েছে। যদিও সাদা চিনির ক্ষতিকর দিক অনেক।

একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ দিনে চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার খেতে পারবেন ৯ চা-চামচ। মেয়েদের ক্ষেত্রে সেটি ৬ চা-চামচ। চিনি খাওয়ার মোহ বেশি থাকলে হঠাৎকমিয়ে ফেলা সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে কৌশলে পরিবর্তন আনতে পারেন, পরামর্শ দিলেন পারসোনা হেলথের প্রধান পুষ্টিবিদ শওকত আরা সাঈদা।

খাবারে চিনি ব্যবহারের আগে মেপে নিন
খাবারে চিনি ব্যবহারের আগে মেপে নিন

যে ধরনের খাবার খাবেন

চিনির বিকল্প হতে পারে মধু
চিনির বিকল্প হতে পারে মধু

চিনির প্রতি তীব্র মোহ কমাতে চিনির বিকল্প বেছে নিতে হবে। সাদা চিনি খাওয়া একেবারেই বাদ দিন। লাল চিনি সাদা চিনির থেকে কম ক্ষতিকর। এ ছাড়া মিষ্টি ফল, ফলের সালাদ বা কাস্টার্ড ভালো সমাধান। খেজুর, মধু, গুড়, কিশমিশ খেয়েও কিন্তু মিষ্টির মোহ কমাতে পারেন, যা ততটা ক্ষতিকরও নয়।

তবে কৃত্রিম চিনি কোনোভাবেই খাওয়া যাবে না। সে ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক চিনি, যেমন স্টিভা নামের একধরনের পাতা খেতে পারেন, যা চিনির স্বাদ দেবে কিন্তু চিনির মতো ক্ষতিকর নয়।

অনেক সময়ে গর্ভকালে বা মানসিক অবস্থার কারণে চিনির প্রতি ভালো লাগা তৈরি হয়।

মন খারাপ হলে অনেকেই চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়া শুরু করেন। মন ভালো রাখতে এটি অনেকের কাছে প্রচলিত উপায়। কিন্তু ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট এ্যানি বাড়ৈ বলেন, মন খারাপ হলে মিষ্টি খাওয়া কোনো সমাধান নয়। মিষ্টি আমাদের শারীরিক শক্তি এনে দেয়, অনেক ক্ষেত্রে মনে হয় তা মন ভালো করছে। এটি খুবই অস্থায়ী অনুভূতি, যা সাময়িক ভালো লাগা দিতে পারে। উল্টো এতে শারীরিক ক্ষতি হয় মারাত্মক। মনের স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো নয়। তাই চিনির প্রতি মোহ কমাতে বেশ কিছু বিষয় চর্চা করা যেতে পারে। এতে মনও অনেক ক্ষেত্রে ভালো হয়। তবে ব্যক্তিবিশেষে উপায়গুলো আলাদা হতে পারে।

পানি পান

চিনির প্রতি মোহ হতে থাকলে সঙ্গে সঙ্গে এক গ্লাস পানি পান করতে পারেন। এই উপায় অনেক ক্ষেত্রে সাহায্য করে।

পানি পান চিনি খাওয়ার প্রবণতা কমিয়ে আনতে পারে
পানি পান চিনি খাওয়ার প্রবণতা কমিয়ে আনতে পারে

ফল খাওয়া

চিনির বদলে ফল খেয়ে চিনির মোহ কমাতে পারেন। এতে ধীরে ধীরে মোহ কাটবে।বিজ্ঞাপন

আমিষ খাওয়া

চিনি যেহেতু শক্তি দেয়, তাই এর বিপরীতে আমিষ খেতে পারেন। চিনি খাওয়ার পর যে অনুভূতি হয়, তার অনেকটাই পাওয়া যায় আমিষ খাওয়ার পর।

ঘুম

পর্যাপ্ত ঘুম রোধ করবে চিনি খাওয়ার প্রবণতা
পর্যাপ্ত ঘুম রোধ করবে চিনি খাওয়ার প্রবণতা

মন ভালো রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। চিনি না খেয়ে মন যেন ভালো থাকে, সে চেষ্টাই প্রথমে করতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

ত্বকের যত্নে যেভাবে কাজ করে আনারস

ধীরে ধীরে আপনার ত্বক রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে লাবণ্য হারাচ্ছে? এমন হলে হতাশ হবেন না। কারণ সমাধান আপনার হাতের নাগালেই আছে। শুনতে অবাক মনে হলেও স্কিনের যেকোনো সমস্যায় দারুণ কাজ করে আনারস। আর স্কিনের যত্নে এই ফলের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।  আপনি যদি প্রাকৃতিক উপায়ে আপনার ত্বকের যত্ন নিতে চান তাহলে চলুন আনারসের ব্যবহার জেনে নেওয়া যাক।

চিকিৎসকদের মতে, আনারস ত্বক, চুল ও হাড়ের জন্য ভালো। কেউ যদি স্ক্রিনে ব্রণ, র‌্যাশ হওয়ার মতো সমস্যায় ভোগেন, তাহলে স্কিনের লাবণ্য ফিরিয়ে দ্রুত কাজ করে আনারস।  আনারসের রসে ভিটামিন ‘সি’ ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে, যা স্কিন হাইড্রেট ও সুস্থ রাখে। সেই সঙ্গে চেহারায় বয়সের ছাপ কমায় আনারস।

ত্বকের যত্নে আনারসের ব্যবহার : ত্বকের যত্নে আনারসের ভিন্ন ভিন্ন ব্যবহার আছে।

আনারসের জুসের ব্যবহার :

তুলা দিয়ে সারা মুখে আনারসের রস লাগান। তারপর ৫ মিনিট রেখে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। খেয়াল রাখবেন, খুব বেশিক্ষণ যেন না থাকে। কারণ আনারসে থাকা এসিডের কারণে মুখ পুড়ে যেতে পারে।

স্ক্রাব হিসেবে ব্যবহার :

আনারস প্রাকৃতিক স্ক্রাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা ত্বকের ডেড সেলগুলো তুলে ফেলতে সাহায্য করে।  আনারস স্লাইস করে কেটে চার ভাগ করে নিন। তারপর মুখসহ পুরো শরীরে স্ক্রাবার হিসেবে ব্যবহার করুন। কিছুক্ষণ স্ক্রাবিং করার পর ধুয়ে ফেলুন। আনারস আপনার স্কিনকে এক্সফলিয়েট করার সঙ্গে সঙ্গে  স্কিনকে কোমল করে তোলে।  অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি হিসেবে কাজ করে আনারস, যা ত্বকের ব্রণ সারাতেও সাহায্য করে।

ফেস মাস্ক হিসেবে :

তিন টেবিল চামচ আনারসের জুসের সঙ্গে  একটি ডিমের কুসুম ও দুই টেবিল চামচ দুধ ভালোভাবে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। প্যাক মুখে লাগানোর আগে ভালোভাবে মুখ পরিষ্কার করে নিন। এরপর তিন থেকে পাঁচ মিনিট ম্যাসাজ করুন। তারপর ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এ সময় সাবান ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

ভালো ফলাফল পেতে সপ্তাহে অন্তত দুই দিন এই ফেসপ্যাক ব্যবহার করুন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

বন্ধ নাক খোলার ৫টি ঘরোয়া উপায়

করোনাকালে সাধারণ ফ্লুর পরিমাণ কিছুটা হলেও কমেছে। সেন্টার কন্ট্রোল ও প্রিভেনশনের দেওয়া তথ্য মতে, ২০২০-২০২১ সালে ফ্লুর পরিমাণ স্বাভাবিকভাবে অনেক কমেছে।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক পরা, লকডাউনের ফ্লু কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

 সাধারণ কিছু ফ্লুতে মানুষ কমবেশি এখনো ভুগছে। হালকা জ্বর, কফ, গলা ব্যথা, নাকে পানি আসা, শরীরে ব্যথা ও পেটে ব্যথার মতো সমস্যায় ভুগছে মানুষ। তবে বাড়িতে কিছু বিষয় মেনে চললে এই ঠাণ্ডার সমস্যা থেকে সহজে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

গরম পানি ও তরলজাতীয় খাবার খাওয়া :

গরম পানি ঠাণ্ডার অন্যতম ওষুধ। বিশেষ করে নাক বন্ধ হয়ে থাকলে নাক খুলতে দারুণ কাজ করে গরম পানি। গরম পানি, আদা দিয়ে পানি, গ্রি টি শরীর হাইড্রেট রাখার পাশাপাশি নাক খোলা রাখতে সাহায্য করে। আবার যে মিউকাসের কারণে নাকে ও গলায় সংক্রমণ হয়, সেই মিউকাসকে পাতলা করতে সাহায্য করে।

গরম পানির ভাপ :

নাক বন্ধ হলে সব সময় খুব অস্বস্তি লাগে। সাইনাসের প্রদাহের কারণে এটি ঘটে। এ জন্য গরম পানির ভাপ নেওয়া উপযুক্ত একটি সমাধান হতে পারে। পানির উঞ্চতা শ্লেষ্মাকে পাতলা করতে পারে। এর ফলে সহজে নাক পরিষ্কার হয়ে যায়।

যেভাবে করবেন : স্টিম নেওয়ার জন্য প্রথমে একটি বাটিতে গরম পানি নিতে হবে। মুখ বাটির কাছে নিয়ে পাঁচ থেকে দশ মিনিট নিঃশ্বাস নিতে হবে। তবে এমন দূরত্বে আপনার মুখ রাখুন, যাতে করে পুড়ে না যায়।

ন্যাজাল স্প্রে :

ঠাণ্ডায় নাক বন্ধ হয়ে গেলে তা পরিষ্কারের অন্যতম উপায় হলো ন্যাজাল স্প্রে। আপনি চাইলে বাজার থেকে কিনেও এই স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন, আবার বাড়িতেও তৈরি করতে পারেন। লবণ পানি নাক খোলা রাখতে সাহায্য করবে। তবে ভালো ফলাফল পেতে অবশ্যই কিছুক্ষণ পরপর ব্যবহার করতে হবে।

ঝালজাতীয় খাবার :

আপনি যদি আপনার বন্ধ নাকের চিকিৎসা করাতে চান, তাহলে ঝালজাতীয় খাবার খেতে পারেন। কাঁচা মরিচে ক্যাপসাইসিন নামক উপাদান থাকে, যার তাপ উৎপাদনের ক্ষমতা রয়েছে। এতে করে প্রদাহও কমে।  

উষ্ণ প্রবাহ :

আপনার যদি ঠাণ্ডা লেগে নাক বন্ধ থাকে, তবে নাকের ওপর গরম কিছু রাখুন। সে ক্ষেত্রে একটি তোয়ালে গরম পানিতে ভেজাতে পারেন। তারপর পানি ঝরিয়ে তোয়ালেটি নাকের ওপর দিয়ে রাখুন। উষ্ণতা বন্ধ নাকের দ্রুত চিকিৎসা করবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com