আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বিশ্ব

মাত্র ১৪ মাসেই সম্পূর্ণ কোরআনের ক্যালিগ্রাফি

তিনি মনে করেন, সুযোগ থাকলে প্রতিটি মানুষেরই উচিত তিনি যে পেশা পছন্দ করেন তা বেছে নেওয়া এবং সেজন্য কঠোর পরিশ্রম করা

ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকা এবং ক্যালিগ্রাফির প্রতি বিশেষ ঝোঁক ছিল ভারতীয় তরুণী ফাতিমা সাহাবার। সেই ঝোঁককে তিনি পরিবর্তন করেছেন দক্ষতায়। মাত্র ১৪ মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ কোরআনের ক্যালিগ্রাফি করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ১৯ বছর বয়সী এই ভারতীয় তরুণী।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ কথা জানা যায়।

ক্যালিগ্রাফির মাধ্যমে ফাতিমার কোরআনের প্রতিলিপি তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল ২০২০ সালের আগস্টে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি এই কাজ শেষ করেন। ক্যালিগ্রাফিতে সম্পূর্ণ কোরআনের প্রতিলিপি তৈরিতে ফাতিমা মোট ৬০৪টি পাতা ব্যবহার করেছেন।

নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই লিপিবিদ্যা বা ক্যালিগ্রাফির দিকে বেশি মনোযোগ দিতে থাকেন ফাতিমা। ভালোবাসা থেকেই প্রায় প্রতিদিনই ক্যালিগ্রাফিতে হাত পাকাতেন তিনি।

ক্যালিগ্রাফির মাধ্যমে কোরআনের প্রতিলিপি তৈরির কারণ প্রসঙ্গে ফাতিমা জানান, কোরআন শরিফ এবং তার আয়াতগুলো তাকে বরাবরই মুগ্ধ করতো। তাই সেরা ক্যালিগ্রাফ লিপি দিয়ে তিনি কোরআনের প্রতিলিপি তৈরি করতে চেয়েছিলেন।

ফাতিমা বলেন, “আমার খুব শখ ছিল ক্যালিগ্রাফি ব্যবহার করে আমার প্রিয় কোরআনের প্রতিলিপি তৈরি করব। গত বছর কোরআনের একটি অধ্যায়ের প্রতিলিপি করে আমি আমার বাবা-মা, বন্ধু-বান্ধবদের দেখাই। তারা খুবই খুশি হয়। আমি তাদের বলেছিলাম ক্যালিগ্রাফি ব্যবহার করে আমি পুরো কোরআনের প্রতিলিপি করতে চাই। তারা আমাকে খুব উৎসাহ দেয়। তবে বলে যে কাজটা সহজ হবে না।”

কোরআনের ক্যালিগ্রাফির কাজে হাত দেয়ার আগে ফাতিমা সাহাবার বাবা একজন মাওলানার সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানতে চান, ফাতিমা কোরআনের প্রতিলিপি করতে পারেন কি-না। মাওলানা জানান, এ ব্যাপারে কোনো ধর্মীয় বিধিনিষেধ নেই।

ফাতিমা বলেন, “প্রথম দিকে একটা বা দুটো আয়াত নকল করতাম। মা-বাবা খুব প্রশংসা করতেন। আয়াতগুলো ফ্রেমে বাঁধিয়ে দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখতাম। কিছুদিন পর দেখা গেল আমার পরিচিতজনেরা সে সব ফ্রেম কিনে নিচ্ছেন। আর আমি মনের আনন্দে তাদের জন্য আঁকতে থাকলাম। এতে করে আমার মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়তে থাকে। আমিও যে কিছু একটা করতে পারি, কিছু একটা আমার জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এটা আমি বিশ্বাস করতে শুরু করি।”

ফাতিমা আরও বলেন, “আমি বাবাকে বললাম আমাকে কালো বল পয়েন্ট কলম আর ছবি আঁকার কাগজ কিনে দিতে। কাছের একটি দোকান থেকে বাবা সব জোগাড় করলেন। প্রতিদিন স্কুল থেকে ফিরে আমি একটু বিশ্রাম নিতাম। তারপর মাগরিবের নামাজ পড়ে আমি কোরআন নকলের কাজে হাত দিতাম।”

নিজের কাজটি যে কত বড় তা ফাতিমা জানতেন। তাই তাড়াহুড়ো করে যেনতেনভাবে তিনি কাজটি শেষ করতে চাননি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার ভয় ছিল যে আমি হয়তো কোরআন নকলের কাজে কোন একটা ভুল করে ফেলব। ছবি আঁকার সময় আমার মা তাই আমার পাশে বসে থাকতেন এবং কোথাও কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি দেখলে সেটা ধরিয়ে দিতেন।”

ভুল এড়াতে ফাতিমা প্রথমে পেন্সিল দিয়ে ক্যালিগ্রাফের নকশা তৈরি করতেন। কোথাও কোনোরকম ভুল না থাকার বিষয়ে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি কলম দিয়ে নকশাগুলোকে পাকা করতেন।

ফাতিমা বলেন, “আমার শুধু মনে হতো এত বড় এবং কঠিন একটা কাজ কি আমি শেষ করতে পারব? আমার নিজের ক্ষমতা নিয়েও মাঝে মধ্যে সন্দেহ তৈরি হতো। কিন্তু দেখা গেল প্রতিদিন কাজটি করতে গিয়ে আমি বেশ আনন্দই পাচ্ছি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় যে কোনদিক থেকে কেটে যেতো তা টেরই পেতাম না।”

তিনি আরও বলেন, “শুরুর দিকে কাজগুলো ভালোই ছিল। কিন্তু পরের দিকে কাজ আরও ভালো। করতে করতে হাতের কাজ আরও সুন্দর হতে থাকে।”

ফাতিমার মা নাদিয়া রউফ বলেন, “আল্লাহ্‌র রহমতে ফাতিমা তার সব কাজ শেষ করতে পেরেছে। আমরা সবাই খুবই গর্বিত তার জন্য। সে খুবই পরিশ্রমী এক মেয়ে। সে যাই করুক খুব মন দিয়ে তা করে।”

শুধু আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধবই নন, ফাতিমার এই সাফল্যের কথা শুনে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন অপরিচিতজনরাও।

দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার সময় ফাতিমা সাহাবা তার পরিবারের সঙ্গে ওমানে থাকতেন। বর্তমানে এক ছোট বোন এবং এক ছোট ভাই আর মা-বাবার সঙ্গে ভারতের কান্নুর জেলার কোডাপারমবা শহরে থাকেন তিনি।

স্কুলের গণ্ডি পেরোনোর পর ফাতিমার ইচ্ছে ছিল কলেজে ছবি আঁকা শেখার। তাই তিনি ইন্টিরিয়ার ডিজাইন পড়া শুরু করেন। এখন কান্নুরের কলেজেই তিনি ইন্টিরিয়ার ডিজাইন পড়ছেন। তার ইচ্ছা ক্যালিগ্রাফির শিক্ষক হওয়ার।

তিনি মনে করেন, সুযোগ থাকলে প্রতিটি মানুষেরই উচিত তিনি যে পেশা পছন্দ করেন তা বেছে নেওয়া এবং সেজন্য কঠোর পরিশ্রম করা।

জৈব

বিষমুক্ত ফসল উৎপাদনের একমাত্র পন্থা জৈব কৃষিকাজ

বর্তমান আধুনিক যুগে যেমন জনসংখ্যা বাড়ছে তেমন বাড়ছে খাদ্যের চাহিদা | এই ব্যাপক চাহিদাপূরণের জোগান বাড়াতে ফসল উৎপাদন হচ্ছে কৃত্রিম উপায়ে | কার্বাইডে পাকানো ফল, হাইব্রিড শাক-সব্জি, ব্রয়লার মুরগি ইত্যাদি | এই কোনো কিছুই আদতে আমাদের শরীরের জন্য ভালো নয় | অতিরিক্ত ফলন বাড়াতে দিনের পর দিন ক্ষতিকর পেস্টিসাইডসের বহুল ব্যবহার বাড়ছে। ফলত, খাবারের এই কৃত্রিমতায় পুষ্টিগুণ কমছে  যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর| তাই, কৃষিকাজে আবারও অগ্রগতি হয়ে দাঁড়াচ্ছে জৈব কৃষি বা অর্গ্যানিক ফার্মিং | এই জৈবিক কৃষিকাজে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকবন্ধুদের মধ্যে |

জৈব কৃষিকাজ কি (What is Organic Farming)?

কোনও রকম কৃত্রিম ও রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার না করে জৈব পন্থা অবলম্বন করে চাষবাস, ফলনই হল অর্গ্যানিক ফার্মিং। রোজকার আনাজপাতি, মাছ-মাংস, ডিম-দুধ সবই উৎপাদিত হতে পারে অর্গ্যানিক উপায়ে। সবচেয়ে বেশি চাহিদা অর্গ্যানিক উপায়ে চাষ করা ফল, আনাজ, হার্ব, মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, মধু ইত্যাদির।

যেহেতু কোনও রাসায়নিক স্যারের ব্যবহার নেই,  তাই  সার বানাতে হবে প্রাকৃতিক উপায়ে। অর্গ্যানিক ফার্মিংয়ের ভিত কিন্তু সারের উপরেই। ফার্মের পশু-পাখির বিষ্ঠা শুকিয়ে তা দিয়েই মূলত তৈরি হয় জৈব সার। এ ছাড়াও কচুরিপানা খুব ভাল সারের কাজ করে। তাই গাছের গোড়ায় কচুরিপানাও দেওয়া হয়ে থাকে। মাটি ছাড়া শুধু কচুরিপানা জমিয়েও তাতে করে ফেলা যায় পেঁপে গাছ। এই জৈব সারই হলো গাছের ফলন বৃদ্ধির আসল চাবিকাঠি | মাটির উর্বরতা বাড়াতে ব্যবহার করা হয় কেঁচোকেও। গাছের গোড়ায় যাতে অক্সিজেন পৌঁছায়, তার জন্য খুরপি দিয়ে মাটি খুঁড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু কেঁচো নিজেই এই কাজটা করে দেয়। গাছে পোকা লাগলেও নষ্ট হয় আনাজপাতি। অর্গ্যানিকে কিন্তু পেস্টিসাইড চলবে না। তাই ব্যবহার করা হয় নিম তেল। গোমূত্রও ব্যবহার করা হয় কীটনাশক হিসেবে। ফলে পোকাও ধ্বংস হয়, আবার ফসলের ক্ষতির সম্ভাবনা নেই |

জৈব কৃষিকাজ পদ্ধতি (Types of Organic Farming):

এই জৈব কৃষির পন্থাকে কাজে লাগিয়ে শাক-সব্জি, আনাজ, মাছ, মাংস প্রায় সব উৎপাদিত হয় | যেমন,

শাক (Herbs):

কুলেখাড়া,ধনে, নটে, লাল নটে, ব্রাহ্মী, গুলঞ্চ, কালমেঘ, পুদিনাও চাষ করা যেতে পারে এই উপায়ে। একসঙ্গে একাধিক হার্ব চাষ করা হয় সারি হিসেবে। এতে হার্ব তুলতে সুবিধে হয়। ব্রাহ্মী, কুলেখাড়া চাষ করা যায় জলেই। প্রথমে ছোট পাত্রে এবং পরে গাছ বড় হলে তা তুলে বড় পাত্রে রাখা হয়। এই গাছ থেকে তৈরি করা হয় নানা ভেষজ ঔষধ |

সব্জি (Vegetables):

একই জমিতে বছরে ২ বার, তিন বার ভিন্ন ফসল চাষ করা হয়। ধান তোলা হয়ে গেলে সেই জমিতেই চাষ হয় তৈলবীজ যেমন সর্ষে, সূর্যমুখী, তিল ইত্যাদি। আবার সরষে তোলার পরে ও ধান গাছ লাগানোর আগে করা হয় তিল চাষ। বাঁধাকপি, ফুলকপি চাষের ক্ষেত্রে জায়গা বেশি লাগে। কারণ প্রত্যেকটি চারা বা বীজের মাঝে ব্যবধান হবে এক হাত। আবার মুলোর সঙ্গে চাষ করা হয় লাল নটে শাক। মাটিতে চাষের প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেনের জোগান বাড়ে। কুমড়ো, পেঁপে, লাউ, বেগুনের ক্ষেত্রে ধৈর্য ধরতে হবে আনাজ বড় হওয়া পর্যন্ত। সাধারণত, জৈবিক উপায়ে ফলনের বৃদ্ধি হতে একটু দেরি হওয়ায় ধৈর্য রাখতে হবে, তবে সম্পূর্ণ বিষমুক্ত সব্জি উৎপন্ন হয় |

পোল্ট্রি (Poultry):

কোয়েল, মুরগি থেকে শুরু করে গরু প্রতিপালনও করা যায় এখানে। মুরগি ২ টি ভাগে প্রতিপালন করা হয়। একটি ডিমের জন্য, অন্যটি মাংসের জন্য। কোয়েলের ক্ষেত্রেও তাই। অর্গ্যানিক দুধের চাহিদা প্রচুর। আবার গরুর দুধ থেকে ঘি, মাখন যেমন তৈরি করা যায়, তেমনই গোবর ব্যবহার করা হয় জৈব সার তৈরি করতে এবং গোমূত্র কীটনাশক হিসেবে।

মাছ (Fish farming):

পুকুরেই চাষ করা হয় তেলাপিয়া, রুই, কাতলা, কই ইত্যাদি মাছ। পানাও ছড়িয়ে থাকে পুকুরের উপরে যাতে তারা খাবার পায়। অন্য দিকে আলাদা পুকুরে চাষ করা হয় চিংড়ির। জিওল মাছ বা বড় মাছ ধরা হয় বেড় জালে।

জৈব কৃষিকাজে বর্জ্যের ব্যবহার (Waste management):

অর্গ্যানিক চাষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল বর্জ্যের ব্যবহার। জৈব বর্জ্য সহজেই প্রকৃতিতে মিশে যায়। ফলে তা দিয়ে সার তৈরিও সহজ। কিন্তু শহরাঞ্চলে বর্জ্যের অনেকটাই প্লাস্টিক, সে ক্ষেত্রে ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট জরুরি। এমন অনেক সংস্থা আছে, যারা প্রত্যেক দিন বর্জ্য সংগ্রহ করে। তার পরে তা থেকে কৃত্রিম এবং প্রাকৃতিক বর্জ্য পৃথক করা হয়। প্লাস্টিক জাতীয় বর্জ্য আলাদা করে তা হস্তশিল্পের কাজে লাগানো হয়। অন্য দিকে কিচেন ওয়েস্ট অর্থাৎ আনাজপাতির খোসা, মাংসের ছাঁট ইত্যাদি পচনশীল বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস এবং সার তৈরি করা হয়। আবার, এই সার চলে যায় বিভিন্ন অর্গ্যানিক ফার্মে।

বাড়িতে কিভাবে জৈবিক উপায়ে চাষ করা যায় (Organic farming at home):

বাড়িতেই খুব সময় উপায়ে অর্গ্যানিক চাষ করে সব্জি উৎপাদন  (Organic vegetables cultivation) করতে পারেন | এই চাষের জন্য স্বল্প জায়গা ও জলের ব্যবহার প্রয়োজন। বড় ড্রামের গায়ে সমান ব্যবধানে চৌকো করে চিরে নিন। প্রত্যেকটি চেরা জায়গায় একটি করে চারা লাগান। একটি ড্রামেই জন্মাবে একাধিক গাছ। আবার, উল্লম্ব ভাবে একের পর এক ট্রে বা টবে চাষ করতে পারেন থানকুনি, ধনেপাতা, পুদিনা পাতা | বাড়ির বর্জ্য থেকে সার তৈরি করে গাছের গোড়ায় দিতে পারেন। ফলে, আপনার বাড়ির বর্জ্য নষ্ট হবেনা আবার সব্জিও উৎপাদন হবে |

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

জেনে নিন তৈল উৎপাদনকারী সূর্যমুখী চাষের পদ্ধতি

সূর্যমুখী ফুলের নিষ্কাশিত তেল পুষ্টিগুণে ভরপুর। বহু চাষিভাই সূর্যমুখী চাষ করে উপকার পেয়েছেন। এই ফুলের চাষ করার পদ্ধতি যেমন সহজ, তেমনই এই ফুলের চাষের থেকে অর্থকরী লাভও কম নয়। আসুন জেনে নেওয়া যাক সূর্যমুখী চাষের পদ্ধতি। দেশের বিভিন্ন জায়গায় সূর্যমুখী ফুলের চাষ হয়ে থাকে। এর বীজ থেকে প্রস্তুত হওয়া তেল ভোজ্য তেল হিসাবে ব্যবহৃত হয়। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় এর চাষ লক্ষ্য করা যায়। 

সূর্যমুখী চাষের পদ্ধতি (Farming Procedure)

সূর্যমুখীর চাষ মধ্য-নভেম্বর থেকে মধ্য-ডিসেম্বর অর্থাৎ অগ্রহায়ণ মাসেই করাই ভালো। এর ফলে অধিক ফলনের লাভ থাকে। খরিপ-১ মৌসুমে অর্থাৎ মধ্য-এপ্রিল থেকে মধ্য-মে মাসও এই চাষের উপযুক্ত সময়। 

সূর্যমুখী বীজ বপন পদ্ধতি (Planting)

এই চাষের আদর্শ নিয়ম সারি করে সূর্যমুখীর বীজ বোনা। একটা সারি থেকে  আরেকটা সারির দূরত্ব কমপক্ষে ৫০ সেমি হওয়া উচিত। প্রতি সারিতে গাছের দূরত্ব ২৫ সেমি রাখলে ভালো। এই নিয়মানুযায়ী বীজ পোঁতা হলে প্রতি হেক্টর ৮-১০ কেজি বীজের দরকার পড়বে।

সার প্রয়োগ (Fertilizer)

হেক্টর প্রতি ইউরিয়া ১৮০-২০০ কেজি,

হেক্টর প্রতি টিএসপি ১৫০-২০০ কেজি,

হেক্টর প্রতি এমপি ১২০-১৫০ কেজি,

হেক্টর প্রতি জিপসাম ১২০-১৭০,

হেক্টর প্রতি জিংক সালফেট ৮-১০ কেজি,

হেক্টর প্রতি বরিক এসিড ১০-১২ কেজি,

হেক্টর প্রতি ম্যাগনেসিয়াম সালফেট ৮০-১০০ কেজি

অর্ধেক ইউরিয়া সার এবং বাদবাকি অন্যসব সার শেষবার চাষের সময় জমিতে ছিটিয়ে দিয়ে ভালো করে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে। বাদবাকি যে ইউরিয়া পড়ে রয়েছে তা দুই ভাগে, চারা গজানোর ২০-২৫ দিন পরে, বাকিটা  ৪০-৪৫ দিন পর অথবা ফুল ফোটার আগে ব্যবহার করতে হবে। 

রোগবালাই  প্রতিকার (Disease Control)

সূর্যমুখী চাষে পাতা ঝলসানো রোগটি ভীষণ ভাবে ক্ষতিকর। অলটারনারিয়া হেলিয়াস্থি নামক ছত্রাকের আক্রমণে প্রথমে সূর্যমুখীর পাতায় গাঢ় বাদামি রঙের দাগ পড়ে। পরে ওই দাগ বড় দাগের সৃষ্টি করে। অবশেষে পাতা পুরোপুরি ঝলসে যায়।

শিকড় পচা রোগ সূর্যমুখী চাষের আরও এক অন্তরায়। স্কেলেরোশিয়াম রলফসি নামক ছত্রাকের আক্রমণে এই রোগ হয়ে থাকে। এর ফলে  গাছের গোড়া আক্রান্ত হয়ে পড়ে এবং সাদা তুলার মত ছত্রাকের মাইসেলিয়াম এবং গোলাকার দানার মত স্কেলেরোশিয়াম ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে দিকে গাছ নেতিয়ে পড়ে এবং কিছুদিনের মধ্যে সব গাছ শুকিয়ে মারা যায়।

তাই এই রোগ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রোভরাল-৫০ ডবি্লউ পি (২%) জলে মিশিয়ে ১০ দিন পর পর ২-৩ বার জমিতে স্প্রে করলে এই রোগ মুক্ত হয়। ফসল কেটে নেওয়ার পর গাছের পড়ে থাকা অংশ পুড়িয়ে ফেললে এই রোগ চলে যায়। 

প্রতিকার

ভিটাভেক্স-২০০ দিয়ে মাঠ শোধন করলে এই রোগের বিস্তার আটকানো যায়।  জমিতে জল থাকলে এই জাতীয় ছত্রাক বেঁচে থাকতে পারে না। রোগ আক্রমণ করলে জমিতে প্লাবন সেচ দিলে এই প্রকোপ কমে।

বীজ সংগ্রহের নিয়ম (Harvest)

বীজ পোঁতার থেকে পরিপক্ক হওয়া পর্যন্ত ৯০-১১০ দিনের মাথায় সূর্যমুখীর বীজ সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে আদর্শ সময়। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

মাশরুম চাষ করে বাঁকুড়া জেলায় প্রত্যন্ত গ্রামের ছেলে প্রণব পাত্র আজ পেয়েছেন অসামান্য সাফল্য

বাঁকুড়ার প্রত্যন্ত গ্রামের ছেলে প্রণব পাত্র। কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি করতেন। করোনার প্রথম ঢেউয়ে টিকতে পারলেও দ্বিতীয় ঢেউ আসার আগেই চাকরি হারিয়ে বেকার হলেন। বাবা-মা, দুই ভাইয়ের সংসারে প্রণবের একার রোজগার’ই ভরসা। শেষমেশ, অভাবের সংসারে রোজগারের পথ দেখালো মাশরুম। আজ এই যুবক মাশরুম চাষ থেকে শুধু যে  অর্থ উপার্জন করছে তাই নয়, বরং আয় করছেন প্রচুর অর্থ সাথে অন্যদেরও উতসাহিত করছেন (Mushroom farming) মাশরুম চাষে।

script data-ad-client=”ca-pub-3140114751019908″ async=”” src=”https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js”>

মাশরুমের চাহিদা – 

মাশরুম হচ্ছে মূলত এক ধরনের ছত্রাক। এটি খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু। আমাদের দেশের বড় বড় শহরগুলোর বিভিন্ন হোটেল ও চাইনিজ হোটেলগুলোতে মাশরুমের চাহিদা আছে। তাই আপাত দৃষ্টিতে মাশরুমের বাজার মূলত শহরে গড়ে উঠেছে। এছাড়া বিদেশে এর চাহিদা রয়েছে। মাশরুম শুকিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব।

script data-ad-client=”ca-pub-3140114751019908″ async=”” src=”https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js”>

ঔষধি গুণসংবলিত সবজি হিসেবে গোটা পৃথিবীতেই এর আলাদা কদর রয়েছে। ভারতবর্ষের মতো দেশে যেখানে প্রতিনিয়ত কৃষিজমির পরিমাণ কমে চলেছে, সেখানে কৃষি সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে অন্যতম একটি মাধ্যম হতে পারে মাশরুম চাষ। কারণ এটি উৎপাদনে অতিরিক্ত জমির প্রয়োজন হয় না। ঘরের মধ্যে ছোট জায়গায় স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত সস্তা উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমেই এটি উৎপাদন করা যায়।

মাশরুম চাষ (Mushroom cultivation) – 

মাশরুম চাষে খুব একটা বাড়তি মূলধনের প্রয়োজন হয় না। উৎপাদনে সময় লাগে অনেক কম। এর জন্য বিশেষ কোনো প্রযুক্তিরও প্রয়োজন নেই। এমনকি কোনো ধরনের রাসায়নিকেরও প্রয়োজন হয় না। সে হিসেবে বলা যায়, গ্রাম ও নগরের প্রান্তিক ও স্বল্প আয়ের দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য বিকল্প আয়ের উৎস্য হয়ে উঠতে পারে মাশরুম চাষ। একই সঙ্গে তা হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত লাভজনক ও আকর্ষণীয় কৃষিনির্ভর ক্ষুদ্র উদ্যোগ। 

মুর্শিদাবাদের নিতান্ত গৃহবধূ হাফিজা বিবি। স্বামী কাজ করতেন কেরালায় রাজমিস্ত্রির, লকডাউন পরবর্তীতে আর কাজে ফিরতে পারেননি। ছেলে-মেয়ে-স্বামী নিয়ে অভাবের সংসারে রোজগারের আশা দেখিয়েছে সেই মাশরুম। এ’রকম ভাবেই সমাজের আর্থ-সামাজিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া মানুষদের বিকল্প রোজগারের পথ দেখাচ্ছে মাশরুম চাষ।

script data-ad-client=”ca-pub-3140114751019908″ async=”” src=”https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js”>

ইতিহাস বলছে, প্রায় সাড়ে ৪ হাজার বছর আগে প্রাচীন মিশরীয়রা মাশরুমকে মনে করতো অমরত্বের উৎস্য। সে সময় এক রাজকীয় অধ্যাদেশের মাধ্যমে জনসাধারণের জন্য মাশরুম উৎপাদন ও গ্রহণ নিষিদ্ধ করেছিল ফারাওরা। প্রাচীন আমলে ইউরোপে বেশ জনপ্রিয় ছিল মাশরুম। রোমানদের কাছে এটি ছিল দেবতার খাবার। চীন ও জাপানে ঔষধি হিসেবে মাশরুম ব্যবহার হয়ে আসছে কয়েক হাজার বছর ধরে। শুধু ইউরোপ বা এশিয়া নয়, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকায়ও মাশরুম খাওয়ার চল ছিল। সেখানে বিশেষ ধরনের রহস্যময় গুণসংবলিত খাবার হিসেবে ছত্রাকটির বেশ জনপ্রিয়তা ছিল। প্রাচীন বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় কৃত্যে ব্যবহার হতো মাশরুম।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

অ্যারোপোনিক্স উপায়ে সব্জি চাষে দারুন লাভ

হাইড্রোপনিক্স উপায়ে (Hydroponic Method) সব্জি চাষ প্রায় অনেকেই জানেন | কিন্তু, আপনি কি জানেন অ্যারোপোনিক্স পদ্ধতিতে চাষাবাদ কি? অনেকেই ভেবে থাকেন এই দুই পদ্ধতি এক | আপাত দৃষ্টিতে এক লাগলেও, আছে সামান্য পার্থক্য | এই দুটি উপায়েই মাটি ছাড়া সব্জি চাষ সম্ভব | হাইড্রোপনিক্স উপায়ে মাটি ছাড়া জলের সাহায্যে বেড়ে ওঠে উদ্ভিদ এবং অ্যারোপোনিক্স পদ্ধতিতে জলের পরিমান কম থাকে ও বাতাসের মাধ্যম উদ্ভিদের বৃদ্ধি ঘটে | এই দুর্দান্ত কৌশলে সবজি চাষ করে আর্থিক দিক থেকেও লাভবান হওয়া যায় | যেখানে মাটির ঝামেলাও নেই আবার স্বল্প জল ব্যবহৃত হয়|

তবে, জেনে নিন অ্যারোপোনিক্স পদ্ধতির খুঁটিনাটি;

অ্যারোপোনিক্স পদ্ধতি কি (What is Aeroponics method)?-

প্রধানত, এটি হলো উদ্ভিদের শিকড়কে বাতাসে প্রকাশ করে উদ্ভিদের চাষাবাদ প্রক্রিয়া | এই পদ্ধতিতে  একটি উচ্চ-চাপযুক্ত, পুষ্টিকর সমৃদ্ধ কুয়াশা গাছগুলিকে খাওয়ানোর জন্য ব্যবহার করা হয় এবং শিকড়কে আরও সুষম জল, পুষ্টি এবং অক্সিজেন পরিপূরক সরবরাহ করে। উদ্ভিদগুলি কোনোরকম স্তর ব্যবহার না করেই জন্মায় |

অ্যারোপোনিক্স পদ্ধতি কিভাবে কাজ করে?

সাধারণত, এখানে বায়ুবিদ্যার নীতিকে কাজে লাগিয়ে চাষ করা হয় | তাই. বায়ুবিদ্যার মৌলিক নীতিটি হলো ঝুলন্ত উদ্ভিদ প্রজাতির বর্ধিত বা অর্ধ-উন্মুক্ত উদ্ভিদের ঝুলন্ত শিকড় ও তার কাণ্ডের নিচের অংশ জলের দ্রবণে নিমজ্জিত থাকে | এটি সম্পূর্ণ একটি স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া | বৃহত্তর উদ্ভিদের জন্য, আপনি গাছপালা এবং ফলের ওজনকে সমর্থন করতে কিছু ধরণের ট্রেলিস বা অন্য ধরণের উল্লম্ব সমর্থনও ব্যবহার করতে পারেন।

অ্যারোপোনিক্স পদ্ধতিতে সব্জি চাষ (Vegetables farming by Aeroponics method):

এই পদ্ধতিতে আপনি আপনার ছাদ-বাগানে খুব সহজেই শাক-সব্জি, ফল-মূল চাষ করতে পারেন | সম্পূর্ণ বিষমুক্ত সব্জি উৎপাদন হয় | এখানে কোনো রাসায়নিক স্যারের ব্যবহার হয়না | মাটির পরিবর্তে নুড়ি, পাথর নেওয়া হয় | লাউ, কুমড়ো, টমেটো প্রায় সব সব্জি চাষ করা হয় এই পদ্ধতি অবলম্বনে | মাছের চাষের সময় যে বর্জ্য উৎপাদিত হয় তা পাইপের মাধ্যমে চলে আসে সব্জি চাষের মধ্যে | এটাই সব্জির খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয় |

এই পদ্ধতিতে কোনো কিছুই নষ্ট হয়না | অনেক কৃষকরাই এই পদ্ধতিতে চাষ করে অনেক লাভবান হয়েছেন | একই সময়ে, বায়বীয় যন্ত্রপাতি নিজেই একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য এটি মাটি বিহীন এবং শুধুমাত্র সংক্ষিপ্ত সমর্থন কাঠামো অন্তর্ভুক্ত। উদ্ভিদ এবং সহায়তার মধ্যে একটি ন্যূনতম মিথস্ক্রিয়া ফলে গাছের 100% বায়ুর সংস্পর্শে আসতে দেয়। তদতিরিক্ত, হ্রাস করা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা শিকড়গুলির প্রাকৃতিক প্রসারণ বা বিশুদ্ধ জলে তাদের প্রবেশে বাধা দেয় না।

অ্যারোপোনিক্স পদ্ধতিতে উদ্ভিদের রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব:

এই পদ্ধতিতে উৎপাদিত শাক-সব্জি সম্পূর্ণ জৈব | প্রধানত, এই পদ্ধতিতে চাষ রোগজীবাণু অনেকটাই কম হয় |উদ্ভিদ থেকে উদ্ভিদ যোগাযোগের পদ্ধতি প্রকৃতির দ্বারা মারাত্মকভাবে সীমাবদ্ধ থাকে যার থেকে রোগজীবাণু সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা খুব সহজ। এ্যারোপোনিক্সের কোনও সমস্যা নয় কারণ অন্যের স্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে আগে সংক্রামিত উদ্ভিদটি সমর্থন কাঠামো থেকে দ্রুত সরিয়ে ফেলা যায়। তার উপরে, প্রয়োজনে বাষ্পীকরণের প্রতিটি নাড়ি জীবাণুমুক্ত হতে পারে |অ্যারোপোনিকস এক নতুন ধরণের জৈব চাষের জন্ম দেয় যা সম্ভবত ভবিষ্যতের প্রজন্মের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ |

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

আঙিনা কৃষি

টবে লাগান মিষ্টি তেঁতুল গাছ

পৃথিবীতে জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, হারিয়ে যাচ্ছে বহু প্রাণী ও উদ্ভিদ বৈচিত্র। চাষবাসের জমিরও সংকুলান ঘটছে সভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে। গগনচুম্বী বাড়ি ঘিরে ফেলছে সমস্ত ফাঁকা জমিন। শখ করে মানুষ খোলা জায়গায় যে গাছ লাগবে অথবা ফল-ফুলের চারা সেই উপায়ও আর নেই। গাছ লাগানোর জন্য সামান্য জায়গাও ফাঁকা থাকছে না আর। তবে আমাদের করণীয় কী? বৃক্ষরোপন কি তবে অচিরেই বন্ধ হয়ে যাবে। বেঁচে থাকার জন্য তো গাছ লাগাতে হবেই। বাড়ির একটুকরো বারান্দা অথবা ব্যালকনিতেও সুন্দর ভাবে ইচ্ছা করলে গাছ লাগানো যায়। বাড়ির ছাদেও বানানো যায় সুন্দর বাগিচা। শহরের মানুষদের জন্য ছাদ বাগানের কোনও বিকল্পও নেই। বাড়ির মধ্যেকার ব্যালকনি অথবা ছাদের একটুকরো জমিতেও, ইচ্ছা করলে টবে চাষ করা যায় বিভিন্ন ফুলের ও ফলের গাছ।

শাকসবজি, পেয়ারা, লেবু প্রভৃতি দেশীয় গাছ টবে বাড়তে দেওয়া থেকে শুরু করে বর্তমানে বহু বিদেশী গাছের চারাও মানুষ ব্যালকনি অথবা ছাদে চাষ করছেন। তার মধ্যে থাই মিষ্টি তেঁতুল টবের চাষ পদ্ধতি হিসাবে অত্যন্ত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। প্রথমত মিষ্টি তেঁতুলের চাষ করতে গেলে, নার্সারি থেকে এই বিশেষ তেঁতুলের সঠিক বীজ নিয়ে আনতে হবে। তবে থাই মিষ্টি তেঁতুলের কলম পাওয়া একটু দুষ্কর কাজ। বুঝে সঠিক চারা নিয়ে আসা বাগান মালিকের উপরেই বর্তায়।

থাই মিষ্টি তেঁতুলের ফুল থেকে ফল ধরতে প্রায় ৭ মাস সময় লাগে। বছরে দু’বার থাই মিষ্টি তেঁতুলের গাছে ফল ধরে। প্রথমবার বর্ষাকালে এবং দ্বিতীয়বার শীতকালে। এই গাছের পরিচর্যা আলাদা করে করার কোনও দরকার পড়ে না। গাছের যত্নআত্তি নিতে হয় ঠিকই, কিন্তু তা বলে, আলাদা করে কোনও বিশেষ যত্ন নিতে হয় না।

গাছ লাগানোর পদ্ধতি (Planting):

থাই মিষ্টি তেঁতুল চাষের জন্য আদর্শ মাটি হল, দো-আঁশ বা বেলে দো-আঁশ মাটি। এই দু’টি মৃত্তিকার মধ্যে যে কোনও একটি বেছে নিন। তারপর বেছে নেওয়া মাটির দুই ভাগ অংশের সাথে গোবর, ১০০ গ্রাম, টিএসপি ১০০ গ্রাম, পটাশ, ২৫০ গ্রাম, হাড়ের গুঁড়ো এবং ৫০ গ্রাম সরিষার খোল একসঙ্গে মিশিয়ে ২০ ইঞ্চি মাপের বড় টবে জল মিশিয়ে রেখে দিতে হবে। ১০ থেকে ১২ দিন পর টবের মাটি ভালো করে খুঁচিয়ে দিয়ে আরও ৪-৫ দিন রেখে দিতে হবে। ৪ থেকে ৫ দিন বাদে মিষ্টি তেঁতুলের একটি ভালো চারা ওই টবে লাগান।

পরিচর্যা(Caring):

চারা লাগানোর প্রথম কয়েক মাস তেমন যত্নের দরকার পড়বে না। অবশ্যই গাছে এই সময়টুকু পর্যাপ্ত জলের যোগান, এবং আগাছা পরিষ্কারের কাজ করতে হবে।  ছয় মাস চারা লাগানোর সময়সীমা ফুরোলেই ১ মাস বাদে বাদে গাছে সরষের খোল মিশ্রিত পচা জল দিতে হবে। মনে রাখতে  হবে খোল দেওয়ার আগে গাছের মাটি খুঁচিয়ে নিতে হবে।

রোগ দমন (Disease management):

সাধারণত থাই মিষ্টি তেঁতুল গাছে পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা যায় না। কিন্তু বর্ষাকালে অনেক সময় তেঁতুল গাছে ছত্রাক হানা দেয়। এর ফলে তেঁতুল ফেটে যায়। এই অসুবিধার থেকে গাছকে বাঁচাতে হলে, বর্ষাকাল আসার আগেই ভালো ছত্রাকনাশক ওষুধ ১০ দিন অন্তর গাছে স্প্রে করে ছড়িয়ে দিতে হবে।

বাংলার বেজায় টক তেঁতুলের সঙ্গে থাই মিষ্টি তেঁতুলের কোনও তুলনাই চলে না। অত্যন্ত মিষ্টি খেতে এই তেঁতুল থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়ায় চাষ প্রভূত পরিমাণে হলেও, আমাদের রাজ্য এই ফলের চাষ এখনও ততটা গতি পায়নি। কিন্তু আপনি আপনার ব্যালকনি অথবা ছাদে সহজেই এই থাই তেঁতুলের গাছ লাগাতে পারেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com