আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

মাটি ছাড়া শাকসবজি চাষ

লোহার পাত দিয়ে তৈরি দুটি লম্বা কাঠামোর ওপর সারি সারি সবুজ লেটুসগাছ। এর পাশে টমেটো, ক্যাপসিকাম ও স্ট্রবেরির গাছও বেশ পরিপক্ব হয়েছে। কয় দিন পর ফল ধরবে। পরিচর্যায় নিয়োজিত একজন কর্মী সবুজ লেটুস পাতা মূলসহ তুলে নিচ্ছেন। কিন্তু মূলে কোনো মাটির চিহ্ন নেই। মাটি ছাড়া কেবল পানিতে জন্মাচ্ছে এই গাছ।

পানির পাশাপাশি অন্য সারিতে নারকেলের ছোবড়ার গুঁড়োতে চাষ হচ্ছে এসব সবজি। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম কেন্দ্র মাটি ছাড়া এই চাষাবাদে সাফল্য পেয়েছে, যা হাইড্রোপনিক পদ্ধতি নামে পরিচিত। কয়েক দিন আগে থেকে পানিতে তৈরি লেটুস পাতা তোলা শুরু হয়েছে। ক্যাপসিকাম, স্ট্রবেরি, টমেটোগাছও বেশ বড় হয়েছে। চট্টগ্রামে এই গবেষণার পুরো কাজ হচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট গাজীপুরের সবজি বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে।


বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম কেন্দ্র মাটি ছাড়া এই চাষাবাদে সাফল্য পেয়েছে, যা হাইড্রোপনিক পদ্ধতি নামে পরিচিত।

লোহার পাত দিয়ে তৈরি দুটি লম্বা কাঠামোর ওপর সারি সারি সবুজ লেটুসগাছ। এর পাশে টমেটো, ক্যাপসিকাম ও স্ট্রবেরির গাছও বেশ পরিপক্ব হয়েছে। কয় দিন পর ফল ধরবে। পরিচর্যায় নিয়োজিত একজন কর্মী সবুজ লেটুস পাতা মূলসহ তুলে নিচ্ছেন। কিন্তু মূলে কোনো মাটির চিহ্ন নেই। মাটি ছাড়া কেবল পানিতে জন্মাচ্ছে এই গাছ।

পানির পাশাপাশি অন্য সারিতে নারকেলের ছোবড়ার গুঁড়োতে চাষ হচ্ছে এসব সবজি। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম কেন্দ্র মাটি ছাড়া এই চাষাবাদে সাফল্য পেয়েছে, যা হাইড্রোপনিক পদ্ধতি নামে পরিচিত। কয়েক দিন আগে থেকে পানিতে তৈরি লেটুস পাতা তোলা শুরু হয়েছে। ক্যাপসিকাম, স্ট্রবেরি, টমেটোগাছও বেশ বড় হয়েছে। চট্টগ্রামে এই গবেষণার পুরো কাজ হচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট গাজীপুরের সবজি বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এস এম হারুনুর রশীদ প্রথম আলোকে বলেন, হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হচ্ছে। গাজীপুরেও একই পদ্ধতিতে চাষাবাদ হয়েছে। এই প্রথম চট্টগ্রাম গবেষণা ইনস্টিটিউটে এ পদ্ধতি অনুসরণ করে সফল হয়েছে। জনবহুল দেশে বাড়ির ছাদে কম জায়গার মধ্যে এই পদ্ধতি অনুসরণ করা যায়।

সরেজমিনে চট্টগ্রাম কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে দেখা যায়, একটি বাঁশ ও জালের ঘেরা দেওয়া জায়গায় দুটি লোহার কাঠামো করা টেবিলে পাশাপাশি মাটি ছাড়া চাষাবাদ চলছে। এক সারিতে পানির লম্বা পাত্রের ওপর কর্কশিট দিয়ে ভাসমান অবস্থায় বিভিন্ন গাছের চারা এবং বড় গাছ রাখা হয়েছে। স্বচ্ছ পানির মধ্যে গাছগুলোর মূল দেখা যাচ্ছে। একটি পানির পাম্প দিয়ে দিনে দুবার মাটির বিভিন্ন উপাদানমিশ্রিত পানি আদানপ্রদান (রিসাইকেল) করা হয়। অন্যদিকে আরেকটি সারিতে মাটির পরিবর্তে নারকেলের ছোবড়ার মধ্যে একই ধরনের সবজি চাষ করা হয়। নারকেলের ছোবড়ার সারিটির প্রতিটি গাছের পাশে পাম্প দিয়ে মাটির উপাদানমিশ্রিত পানি দেওয়া হয়।

ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. গোলাম আজম প্রথম আলোকে বলেন, মাটির বিভিন্ন উপাদান খনিজ, জৈব ইত্যাদি পানিতে মিশিয়ে তা পাত্রে রাখা হয়। এরপর সেখানে গাছের চারা পুঁতে দেওয়া হয়। কর্কশিট দিয়ে আটকানো থাকে, যাতে হেলে না পড়ে। মোটরের মাধ্যমে পানি রিসাইকেল করা হয়। উপাদানগুলোও ঘুরতে থাকে। আর নারকেলের ছোবড়ার মধ্যে গুঁজে দেওয়া চারায়ও মাটির উপাদানমিশ্রিত পানি দেওয়া হয়।

পোকামাকড়ের সংক্রমণ থেকে বাঁচাতে জাল দিয়ে ঢেকে দেওয়া যায় এই চাষের এলাকা। জাল থাকলে কীটনাশক দেওয়া লাগে না। ঘরের বারান্দা, বসার ঘরে পানির বালতিতেও এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা যায়। লেটুস পাতা ২৬ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে খাওয়ার উপযোগী হয়। এ ছাড়া টমেটো, স্ট্রবেরি ও ক্যাপসিকাম দুই–আড়াই মাসের মধ্যে ফল দেয়। একই পদ্ধতিতে গোলাপ, ফুলকপি, করলা, ব্রোকলি, শসা, শিম ইত্যাদি চাষ করা যায়।

তবে এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ কিছুটা ব্যয়সাপেক্ষ বলে জানান প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হারুনুর রশীদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘মাটির উপাদানগুলো কিনতে হয়। এ ছাড়া পাম্প কেনায় খরচ রয়েছে। তবু শহরের অনেক বাগানমালিক আমাদের কাছে এসে এই পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চায়। কারণ, শহরে জায়গা কম।’

নগরের অনেক ছাদবাগানি হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ ইতিমধ্যে শুরুও করেছেন। একই কাঠামোর মধ্যে দু–একটি তাক করেও এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা যায়। তবে সূর্যালোক লাগে। পলিথিন দিয়ে ঘেরা থাকলে পোকামাকড়ের সংক্রমণ থেকেও রক্ষা করা যায় বলে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা জানান।

পরিবেশ

বিরল প্রজাতির নেপালি ঈগল উদ্ধার

বিশ্বব্যাপী বিপন্ন ও বিরল প্রজাতির একটি নেপালি ঈগল নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার দূর্লভপুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে উপজেলা প্রশাসন, বিবিসিএফ ও সবুজ বাংলার স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তায় ঈগলটিকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর পাখিটিকে প্রথমে উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয় ও পরে রাজশাহী বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগে নেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ জীববৈচিত্র সংরক্ষণ ফেডারেশনের (বিবিসিএফ) দফতর ও সবুজ বাংলার সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী বলেন, বৃক্ষ নিধন, বন উজাড়সহ নানান কারণে প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে পাখিগুলো। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা খবর পাই নাটোরের নলডাঙ্গার দূর্লভপুরে ফারুক হোসেন নামে একজনের বাড়িতে আছে ঈগলটি। তিনি এটিকে অসুস্থ অবস্থায় পান। প্রসাশনকে সঙ্গে নিয়ে অনেক চেষ্টার পর ঈগলটিকে উদ্ধারে সক্ষম হয়েছি।

নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাকিব আল রাব্বী বলেন, পাখিসহ সকল বন্যপ্রানী নিধন বন্ধে উপজেলা প্রসাশনের পক্ষ থেকে প্রতিটি ইউনিয়নে মাইকিং করা হবে।

অভিযান পরিচালনাকালে অন্যান্যদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, বিলহালতি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মো. ইসাহাক আলী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সঞ্চয় হোসেনসহ অনেকে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

জেলের জালে ধরা পড়লো ঘড়িয়াল ছানা

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে যমুনা নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির একটি ঘড়িয়াল ছানা। ঘড়িয়ালটির দৈর্ঘ্য সাড়ে তিন ফুট। প্রাণী সম্পদ অধিদফতরের মাধ্যমে ঘড়িয়ালটি মিরপুর চিড়িয়াখানায় পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে উপজেলার তেওতা এলাকায় যমুনা নদীতে মাছ ধরছিলেন স্থানীয় জেলে আবুল কালাম। হঠাৎ তার জালে ধরা পড়ে বিরল প্রজাতির একটি ঘড়িয়াল ছানা। পরে এটিকে তিনি এক হাজার টাকায় স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন।

এদিকে ঘড়িয়াল ধরা পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে নদী তীরে ভিড় জমায় শত শত মানুষ। খবর পেয়ে উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের এক কর্মচারী ঘড়িয়ালের ছানাটি উদ্ধার করেন। পরে প্রাণী সম্পদ বিভাগের মাধ্যমে ঘড়িয়ালটি মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় পাঠানো হয়।

মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানার জুনিয়র অফিসার ডা. সঞ্জিত কুমার বিশ্বাস জানান, এক সময় পদ্মা-যমুনায় এই প্রজাতির ঘড়িয়ালের বসবাস থাকলেও এখন প্রায় বিলুপ্ত। দেশের সকল চিড়িয়াখানা মিলিয়ে মাত্র ১১টি ঘড়িয়াল রয়েছে। উদ্ধারকৃত ঘড়িয়ালটি মিরপুর চিড়িয়াখানায় রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। পরে দর্শনার্থীদের দেখার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

বিলুপ্তির পথে বৈচিত্রময় প্রাণী ভোঁদড়

বৈচিত্রময় এক প্রাণী ভোঁদড়। এরা দেখতে অনেকটা বেজির মত। এরা আধাজলচর স্তন্যপায়ী প্রাণী। স্থান ভেদে এটি ধেড়ে, উদ, উদবিলাই, উদবিড়াল, মাছ নেউল ইত্যাদি নামেও পরিচিত। প্রায় শতবছর ধরে এই অঞ্চলে মাছ শিকারের জন্য শিকারিরা ভোঁদড় ব্যবহার করে আসছেন।

কিন্তু দিনে দিনে মানুষের অত্যাচারে এই প্রাণির সংখ্যা কমছে। তাই আগের মত এদের যেমন দেখা যায় না তেমনি এদের দিয়ে মাছ শিকার করতেও দেখা যায় না ।

বর্তমানে সব প্রাণিই বিলুপ্তির পথে। ভোঁদড়ও এর ব্যতিক্রম নয়। আমাদের দেশে মূলত নড়াইল, খুলনা, সিলেট এবং দেশের পূর্বাঞ্চলীয় পাহাড়ি এলাকার নদী, খাল, বিল, পুকুরের পাশে, প্লাবনভূমি ও খানাখন্দে এবং উপকূলীয় জেলায় ভোঁদড় দেখা যায়। বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, লাওস, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, ব্রুনাই ও সিঙ্গাপুরে ভোঁদরের দেখা মিলে।

এই উভচর প্রাণির প্রিয় খাবার মাছ। তাই এরা পুকুর বা বিলে মাছ শিকার করে। তবে মাছ ছাড়াও বিভিন্ন জলজ প্রাণী শিকারে পটু এই ভোঁদড়। এরা বসবাস করে জলাশয়ের পাশে বন-জঙ্গলে। এরা পানির নিচে ডুব দিয়ে একাধারে আধা কিলোমিটার যেতে পারে। সাঁতারের সময় কান ও নাকের ফুটো বন্ধ রাখে।

কিছু ভ্রান্ত ধারণার ফলে মানুষ ভোঁদড় মারছে। এর একটি হচ্ছে- এরা পুকুরের সব মাছ খেয়ে ফেলে। আর কিছু মানুষ মনে করে ভোঁদড়ের তৈলাক্ত চামড়ার অনেক দাম, তাই তারা লোভে এদের নির্বিচারে হত্যা করছে। আবাসভূমি ধ্বংস ও পরিবর্তনই এদের কমে যাওয়ার আরও একটি বড় কারণ। এর বাইরে আরেকটি বড় কারণ হচ্ছে বন্যপ্রাণিকে হত্যা করতে সাধারণ মানুষ খুব উৎসাহী। বণ্যপ্রাণী দেখামাত্র সবাই লাঠিসোটা নিয়ে দৌড়ে আসে মারতে। এতে জীব-জগতের অন্যতম সুন্দর আর বৈচিত্রময় প্রাণী ভোঁদড় হারিয়ে যাচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক ভারসাম্য।

ভোঁদেরর ইংরেজী নাম- Smooth-coated Otter বৈজ্ঞানিক নাম- Lutrogale perspicillata

বিভিন্ন কুসংস্কার, অবৈধ শিকারের ফলে এরা যেমন দ্রুত কমছে তেমনি এখনও কিছু মানুষ ভালোবেসে তাদের ঠিকিয়ে রেখেছে। ভোঁদড় দিয়ে মাছ শিকারের ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রেখেছে , নড়াইল ও সুন্দরবন অঞ্চলের কিছু জেলে। তারা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে ভোঁদড় দিয়ে বিশেষ কায়দায় মাছ ধরতে অভ্যস্ত।

নড়াইলের চিত্রা নদীর পাড়ের গোবড়া গ্রামে গেলে ভোঁদড় দিয়ে মাছ শিকারের শত বছরের কৌশল দেখতে পাওয়া যায়। এই গ্রামের মৎসজীবীরা মাছ শিকারের পাশাপাশি ভোঁদড়কে টিকিয়ে রাখতে নিজেরা প্রজনন করে যাচ্ছেন।

চিত্রা নদীতে ভোঁদড় দিয়ে মাছ শিকার দেখে বন্যপ্রাণী গবেষক সীমান্ত দিপু জাগো নিউজকে বলেন, সত্যিই অসাধারণ। সাধারণত এই প্রজাতির ভোঁদড় প্রকৃতিক পরিবেশ ছাড়া প্রজননের ঘটনা খুবই বিরল। নড়াইলের গোবড়া গ্রামের ১৫-২০ জন মৎসজীবীর ঘরে কৃত্রিম পরিবেশে বাচ্চা দেয় ভোঁদড়। এই পরিবারগুলোর জীবিকা হয় মূলত ভোঁদড়কে কেন্দ্র করে। আমাদের দেশের জেলেরা অবৈধ জাল দিয়ে মাছ ধরার যে রণকৌশল শিখেছে তার বিপরীতে তাদের উদ্যোগকে সত্যিই সাধুবাদ জানাতে হয়।

ভোঁদড়ের শরীর কালচে বাদামি ঘন লোমে ঢাকা। মাথা ও শরীরের মাপ ৬৫-৭৫ সে.মি.। গলার দিকে সাদা । লেজ ৪০-৪৫ সে.মি. চ্যাপ্টা। ফলে সাঁতারে বেশ সুবিধা হয় । কান ছোট। পায়ের পাতা হাঁসের পায়ের মত চ্যাপ্টা । স্ত্রী ভোঁদর প্রতি বছরে একবার তিন থেকে চারটি বাচ্চা প্রসব করে। এরা বেঁচে থাকে প্রায় ২০ বছর।

ভোঁদড় নিয়ে গবেষণা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান। তিনি জাগো নিউজকে জানান, প্রাণিজগতের মধ্যে বৈচিত্রময় একটি প্রাণী হচ্ছে ভোঁদড়। সাধারণ মানুষের অসচেতনতায় এরা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এদের রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে। প্রতিটি প্রাণী পরিবেশের জন্য প্রয়োজন। পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হলে মানুষের অস্তিত্বও হুমকিতে পড়বে। তাই নিজেদের স্বার্থে হলেও প্রাণিদের নিরাপদ আবাসের সুযোগ দিতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

প্রতি ১০ হাজারে জন্ম নেয় একটি সাদা বাঘ

সাদা বাঘের জন্ম খুবই বিরল। ১০ হাজার বাঘের বাচ্চা জন্ম নিলে সেখান থেকে একটি হতে পারে সাদা বাঘ। এতদিন সাদা বাঘের দেখা পেতে যেতে হত দেশের বাইরের বিভিন্ন চিড়িয়াখানায়। কিন্তু স্বপ্নের সেই বাঘের দেখা মিলছে এখন বাংলাদেশে, তাও একটি নয় আছে ২টা। দেশের ইতিহাসে চলতি বছরই প্রথম সাদা বাঘের দেখা মিলেছে।

কিন্তু কিভাবে এলো এই সাদা বাঘ? সাদা বাঘ কি আসলেই কোনো বিশেষ প্রজাতি? এসব নিয়ে নানা কৌতূহল থাকলেও বাস্তবতা হচ্ছে সাদা বাঘ আসলে কোনো আলাদা প্রজাতি নয়, এরা অন্য ৮/১০টা রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মতোই। জিনগত ও শ্বেত রোগের কারণে এসব বাঘের রঙ সাদা হয়।

সাধারণ বাঘ থেকেই এদের জন্ম হয় তবে তা সচরাচর হয় না। প্রতি ১০ হাজার বাঘের বাচ্চা জন্ম নিলে সেখান থেকে একটি সাদা বাঘ পাওয়া যেতে পারে।

চট্টগ্রাম চিরিয়াখানায় এবছরের ১৯ জুলাই ‘রাজ’ ও ‘পরী’ দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় একটি সাদা বাঘ। রাজ ও পরীকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে কিনে আনা হয় চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায়। এই সাদা বাঘটিই দেশের ইতিহাসে প্রথম সাদা বাঘ। এর কিছুদিন পর চলতি বছরের ৮ আগস্ট গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে জন্ম নেয় আরও একটি সাদা বাঘ।

কোনো প্রাণী ভিন্ন রঙের হলে সেটি প্রাণীবিজ্ঞানের ভাষায় পরিচিত হয় ‘এলবিনো’ হিসেবে। সাদা বাঘও এলবিনো হিসেবেই হতে পারে আবার জিনগত কারণে হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে বাংলাদেশে যে ২টি সাদা বাঘ জন্ম নিয়েছে তা জিনগত কারণেই সাদা হয়েছে। যদিও অনেকের ধারণা মেলানিনের অভাবে মানুষের শরীরে যেমন শ্বেতী রোগ হয়ে সারা শরীর সাদা হয়ে যায় বাংলাদেশের সাদা বাঘের ক্ষেত্রেও হয়ত তাই। কিন্তু এ ধারণা ঠিক নয়। এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ শ্বেত রোগ হলে বাংলাদেশের সাদা বাঘের গায়ে যে ডোরাকাটা কালো দাগ আছে তা থাকার কথা নয় এবং চোখের মণি নীল না হয়ে ফ্যাকাশে থাকার কথা।

সাদা বাঘের জন্ম খুবই বিরল ঘটনা। সর্বশেষ অন্তত ৫০ বছর আগে মধ্যভারতে একটি সাদা বাঘ বুনো পরিবেশে জন্ম নেয়। তবে খাঁচাবন্দি অবস্থায় সাদা বাঘ বেশি হয় এর কারণ খাঁচায় জিনগত ত্রুটি সম্পন্ন নিকট আত্মীয়দের মধ্যে ক্রসিং ঘটে। যেমন বাপ-মেয়ে, ভাই-বোন।

তবে প্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে বরফ যুগের সময় বাঘের পূর্ব-পুরুষরা সাদা ছিল। যে কারণে তাদের জিনগত সে বৈশিষ্ট্য সুপ্ত অবস্থায় রয়ে গেছে যা মাঝে মাঝে প্রকাশ পাচ্ছে।

অন্যান্য বাঘ থেকে সাদা বাঘের কিছু আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে। যেমন তুলনামূলক ভাবে সাদা বাঘ জন্মের সময় সাইজে বড় থাকে, জন্মের পর দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং তাদের ওজনও হয় বেশি। ২-৩ বছর বয়সে সাদা বাঘ প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে থাকে। সাদা পুরুষ বাঘ সাধারণত ওজনে ২০০ থেকে ২৬০ কেজি এবং দৈর্ঘ্যে ৩ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।

চীনের পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী সু-জিন লুয়ো ও তার সতীর্থরা ‘কারেন্ট বায়োলজি’ নামক একটি জার্নালে সাদা বাঘ নিয়ে তাদের একটা গবেষণা পত্র প্রকাশ করেন। সেটা থেকে জানা যায়, জিনের একটি বিশেষ রঞ্জক পদার্থের পরিবর্তনই এই সাদা রঙের জন্য দায়ী। বিজ্ঞানীদের মতে কোনো প্রাণীর কোষের স্বাভাবিক রঞ্জক পদার্থই দেহবর্ণ নিয়ন্ত্রণ করে।

বিজ্ঞানীরা সাদা বাঘের দেহকোষের জিন পরীক্ষা করে দেখেছেন কোষের মধ্যে বিশেষ রঞ্জক জিন ‘এসএলসি ৪৫এ২’ আছে। বিশেষত মানুষসহ ঘোড়া, মুরগি ও মাছের দেহের হাল্কা রঙের জন্যও এই রঞ্জক পদার্থটি দায়ী। এই বিশেষ রঞ্জকটি কালো-হলুদ রং তৈরিতে বাধা দেয়। কিন্তু সাদা বাঘের গায়ে হাল্কা কালো ডোরার কারণ ‘এসএলসি৪৫এ’ জিনের মধ্যে ‘এ৪৭৭ভি’ নামক অ্যামাইনো অ্যাসিডের পরিবর্তন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক প্রাণী বিশেষজ্ঞ মনিরুল এইচ খান জাগো নিউজকে জানান, দুটি কারণে যেকোনো প্রাণী সাদা রঙের হতে পারে। একটি হচ্ছে শ্বেতী রোগ, অন্যটি জিনগত কারণ। বাংলাদেশের সাদা বাঘগুলোর জন্ম জিনগত কারণেই হয়েছে।

ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার ও গবেষক আদনান আজাদ জানান, বিশ্বের অন্যান্য দেশের চিড়িয়াখানায় সাদা বাঘ থাকলেও বাংলাদেশে ছিল না। কিন্তু এখন আর এই বাঘ দেখতে বিদেশ যেতে হবে না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

যে সাপের ভয়ে পালিয়ে যায় অন্য সাপ

বৈচিত্র্যময় প্রাণীজগৎ নিয়ে মানুষের আগ্রহ যেমন আছে তেমনি নির্বিচারে বন্যপ্রাণী হত্যাও অনেক মানুষের কাছে বেশ আনন্দের। আর এসবের মধ্যে সাপ মারতে একটু বেশিই উৎসাহ পায় সাধারণ মানুষ।

কোথাও সাপ দেখা গেলে মানুষ লাঠিসোটা নিয়ে ছুটে যায়। রীতিমত প্রতিযোগিতা শুরু হয় আগে কে পিটিয়ে মারবে সাপটিকে। এ যেন জন্ম জন্মান্তরের শত্রুতা। এর ফলে দ্রুত বিলুপ্ত হচ্ছে সাপ। সঠিক জ্ঞানের অভাবে নির্বিচারে সাপ মারা এবং এদের আবাসস্থল নষ্ট করায় অনেক প্রজাতির সাপই আজ বিলুপ্তির পথে।

বাংলাদেশের পরিবেশ উপযোগী অন্যতম সুন্দর একটি সাপ হচ্ছে শঙ্খিনী সাপ। এর শান্ত স্বভাবের কারণে যারা সাপ সম্পর্কে ধারণা রাখেন তাদের কাছে এটি বেশ প্রিয়। অতি সুন্দর ও চমৎকার রঙে সজ্জিত এই সাপের মাথা আকারে বেশ বড়, সারা শরীরজুড়ে কালো ও হলুদ ডোরা। খুব বিষধর হলেও দেশের ইতিহাসে শঙ্খিনী সাপের দংশনে মানুষ মারা যাওয়ার ইতিহাস নেই।

নিউরো টক্সিন বিষ সংবলিত শঙ্খিনী সাপকে এলাকা বিশেষে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়। যেমন শাখামুটি, সানি সাপ (খুলনা অঞ্চলে), দুইমাথা সাপ ইত্যাদি। এর ইংরেজীত নাম Banded Krait, বৈজ্ঞানিক নাম Bungarus fasciatus। এই সাপদের সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য হতে পারে ৬ থেকে ৭ ফুট।

এই সাপকে বাংলাদেশের আবাসিক সাপও বলা হয়। সারাদেশেই এদের দেখা যায় তবে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় এদের অবস্থান বেশি। দেশের বাইরে ভারত, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, চীন, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, কম্বোডিয়া, লাওস, ম্যাকাও, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং ব্রুনেই অংশেও এদের দেখা যায়।

গ্রাম এলাকায় এদের দু’মুখো সাপও বলে তবে সেটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। এ সাপের লেজের অংশটি ভোঁতা থাকে বলে অনেকেই একে দু’মুখো সাপ বলে ভুল করে। এরা নিশাচর। ইঁদুরের গর্ত, ইটের স্তূপ এবং উইয়ের ঢিবিতে এরা থাকতে পছন্দ করে। অন্যান্য সাপ এদের ভয়ে পালিয়ে যায়। আইইউসিএন এই সাপকে বাংলাদেশে বিপন্ন হিসেবে ঘোষণা করেছে।

এই সাপ যে এলকায় থাকে অন্যান্য সাপ সাধারণত সে এলাকায় থাকে না কারণ অন্য প্রজাতির সাপ এদের প্রিয় খাদ্য। নিশাচর শঙ্খিনী সাপ কেউটে, গোখরা, কালাচসহ অন্যান্য বিষাক্ত সাপকে খেয়ে ফেলে। এদের ভয়ে অন্য সাপ পালিয়ে যায়।

শঙ্খিনী বর্ষায় ডিম দেয় ও বাচ্চা তোলে। স্ত্রী সাপ এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে ৪ থেকে ১৪টি ডিম দেয় এবং ডিমের পরিস্ফুটনকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করে। ডিমের পরিস্ফুটনের জন্য ৬১ দিন সময় লাগে। শঙ্খিনীর বিষ খুব দামি এবং এর চামড়ার বাজার দর অন্য সাপ থেকে খুব চড়া।

রাজশাহী সাপের খামারের পরিচালক বোরহান বিশ্বাস রোমন বলেন, প্রতিটি সাপের জীবন হুমকির মুখে, এখনই প্রজননের ব্যবস্থা না করলে এরা বিপন্ন হয়ে যাবে। প্রজনননের জন্য খামার হতে পারে সবচেয়ে ভালো মাধ্যম। এতে সাপ যেমন বৃদ্ধি পাবে তেমনি দামি এই সাপের মাধ্যমে অর্জন করা যাবে বৈদেশিক মুদ্রা।

সাপ নিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতার কাজ করছেন কামরুজ্জামান বাবু। তিনি জানান, সাধারণ মানুষকে আমরা সেভাবে সচেতন করতে পারিনি তাই তাদের কাছে সাপ মারা যেন উৎসবের কাজ। তবে সাধারণ মানুষকে যার যার অবস্থান থেকে সচেতন করতে পারলে এখনো এই সাপকে বাঁচিয়ে রাখা যাবে। তা না হলে অচিরেই এরা হারিয়ে যাবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও প্রানী বিশেষজ্ঞ ড. মনিরুল এইচ খান জাগো নিউজকে জানান, অনান্য সাপের মতো এই সাপও কমছে মূলত দুটি কারণে। মানুষ নির্বিচারে সাপ হত্যা করছে আর অন্য কারণ হচ্ছে মানুষের কারণে সাপের বাসস্থান বিপন্ন হচ্ছে দ্রুত। যেহেতু এই সাপ অন্য সাপকে খেয়ে ফেলে তাই প্রাকৃতিকভাবেই এই সাপ পরিবেশে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা রাখে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com