আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

মাছ, মাংস, সবজির দামে অস্বস্তি

• গরুর মাংসের কেজি ৫৭০ টাকা
• দেশি মুরগির কেজি ৫৫০ টাকা
• ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৫৫-১৬০
• মাছের বাজারেও রয়েছে অস্বস্তি
• অস্বস্তিতে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের

রাতে সাহ্রি খেতে হবে। তাই রাজধানীর মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনের বাজারে গতকাল সোমবার ছিল মানুষের ব্যাপক ভিড়। বাজারে ঢুকতেই মাংসের দোকান। মাংস বিক্রেতারা আগের মতো ‘আসেন স্যার, আসেন স্যার’ বলে কদর করছেন না। জানতে চাইলে গরুর মাংসের দর হাঁকা হলো প্রতি কেজি ৫৭০ টাকা। এক মাস আগে একই বাজারে যা ছিল ৫০০ টাকা। যদিও পবিত্র রমজান উপলক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্ধারিত গরুর মাংসের দাম ৫২৫ টাকা।

মাংসের দোকানের উল্টো পাশে মুরগির দোকান। দেশি মুরগির প্রতি কেজি দর ৫৫০ টাকা চাইলেন বিক্রেতা। এটাও এক মাস আগের চেয়ে ১০০ টাকা বাড়তি। ফার্মের কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকা কেজি দরে, যা সাধারণত ২৩০ টাকার মধ্যে থাকে। ব্রয়লার মুরগির দর শবে বরাতের আগে প্রতি কেজি ৩০ টাকা বেড়ে ১৬৫ টাকায় উঠেছিল। এরপর তা কমে ১৪০–১৪৫ টাকায় নামে। গতকাল ব্রয়লার মুরগির দাম ১৫৫–১৬০ টাকায় উঠেছে।

স্বস্তি নেই মাছের বাজারেও। শাকসবজির বাড়তি দর। চিনির দাম সামান্য বেড়েছে। ডালের দামও কিছুটা বাড়তি। অবশ্য ছোলা, ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, রসুন, আদার দাম নিয়ে হইচই নেই। তবে সব মিলিয়ে রোজায় বাজারদর নিয়ে স্বস্তি নেই নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের।

মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনের কাঁচাবাজারে মাছের দোকানে তিন কেজি ওজনের পদ্মার বোয়ালের প্রতি কেজি দাম ১ হাজার ৪০০ টাকা। মাঝারি ইলিশের কেজি ১ হাজার ৪০০। নদীর কুঁচে চিংড়িও ১ হাজার টাকার নিচে বিক্রি করতে রাজি নন বিক্রেতারা। ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজির মাছের মধ্যে আছে বাইন, চাষের চিংড়ি, টাটকিনি, ফলি, সরপুঁটি ইত্যাদি।

রুই–কাতলা বরং সাশ্রয়ী। দুই কেজি আকারের জীবন্ত রুইয়ের দর ৫০ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি ৪০০ টাকায় উঠেছে। যে তেলাপিয়া ১৮০ টাকায় পাওয়া যেত, সেটা ২৫০ টাকা চাইছেন বিক্রেতারা। চাষের পাঙাশও এখন ১৮০ টাকা, দর বেড়েছে কেজিপ্রতি ৩০ টাকার মতো।

নদীর বেলে মাছগুলোর আকার মোটামুটি বড়। তাজা, যেন এইমাত্র ধরে আনা হয়েছে। মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনের কাঁচাবাজারে বিক্রেতারা দাম হাঁকছেন ১ হাজার ২০০ টাকা। বাজারে বোয়াল, বাছা, কাজলী, চিংড়ি, আইড়, বাতাসী ইত্যাদি মাছও রয়েছে। প্রতি কেজি দর ১ হাজার টাকা থেকে শুরু। কিন্তু দাম এত বেশি যে বেশির ভাগ ক্রেতাই সামনে হাঁটা দিচ্ছিলেন।

রোজার আগের দিন বলেই কি এত দাম? মাছ বিক্রেতা মো. মাসুম বললেন, তিন–চার দিন ধরেই এমন চলছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাছের দাম ২০ থেকে ৪০ শতাংশ বাড়তি।

রোজার জরুরি পণ্য শসা ও কাঁচা মরিচ। ফার্মগেটের ইন্দিরা রোডে হাইব্রিড শসা প্রতি কেজি ৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেল, কয়েক দিন আগেও যা ৩০ টাকা ছিল। সেখানে কাঁচা মরিচের দর কেজিতে ২০–৩০ টাকা বেড়ে ১০০–১২০ টাকায় উঠেছে। লম্বা বেগুনের দর প্রতি কেজি ৮০-১০০ টাকা। বাকি সবজির বেশির ভাগ ৬০–৮০ টাকা কেজি।

বেগুনবাড়ি থেকে কেনাকাটা করে ফিরছিলেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তোফায়েল আহমেদ। জানতে চাইলে তিনি বলেন, শাক রান্নার জন্য তাঁর স্ত্রী কুঁচে চিংড়ি নিতে বলেছিলেন। শাক, চিংড়ি—কোনোটাই কেনেননি। তিনি বলেন, লাউশাকের মুঠি ৫০ টাকা। কুঁচে চিংড়ি ৭০০ টাকা কেজি। অথচ ধানের মণ ৫০০ টাকা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) খানা আয়–ব্যয় জরিপের ২০১৬ প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে ধনীদের আয় বেড়েছে। বিপরীতে একেবারে দরিদ্র শ্রেণির মানুষের আয় কমেছে। এসব পরিসংখ্যানের বাস্তবতা বাজারে গেলে টের পাওয়া যায়। হাজার টাকা কেজির মাছ যেমন অবিক্রীত থাকে না, তেমনি মুরগির ফেলে দেওয়া পা, মাথা, কলিজা–গিলার বাজারও জমজমাট। কারওয়ান বাজারে এসবের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৮০ টাকায় উঠেছে।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি ও দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘একশ্রেণির ক্রেতা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। ওনারা সম্পদশালী মানুষ, সেটা বৈধ-অবৈধ যে উপায়েই অর্জিত হোক। দর–কষাকষি না করলে বিক্রেতারা দাম বাড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ পান।’ তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য বেড়ে গেলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হন নির্দিষ্ট আয়ের মানুষেরা।বিজ্ঞাপন

এগ্রোবিজ

রপ্তানি বন্ধ করায় বিপাকে ভারতের ব্যবসায়ীরাও

গত ১৪ সেপ্টেম্বর হঠাৎ করে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণায় বিপাকে পড়েছেন ভারতের ব্যবসায়ীরাও। পশ্চিমবঙ্গের ভারত-বাংলাদেশের ৪টি স্থলসীমান্তে পেঁয়াজ বোঝাই প্রায় এক হাজার ট্রাক আটকা পড়েছে। এ অবস্থায় ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানিকারকেরা অবিলম্বে এই পচনশীল পণ্য বাংলাদেশে রপ্তানির দাবি জানিয়েছেন । তারা বলছেন, ঋণপত্র খোলা এই সব পেঁয়াজের ট্রাক অবিলম্বে বাংলাদেশে পাঠানোর অনুমতি দিক ভারত সরকার।

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বেনাপোল-পেট্রাপোল, ঘোজাডাঙ্গা, মালদহের মহদিপুর এবং দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলি সীমান্তে এসব পেঁয়াজ বোঝাই ট্রাক আটকে আছে। ইতিমধ্যে ওই সব ট্রাকের পেঁয়াজ নষ্ট হতে শুরু হয়েছে। পেঁয়াজ চুরিও হচ্ছে—এমন অভিযোগ করছেন ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে মহদিপুর সীমান্তে ৩০০টি, ঘোজাডাঙ্গ সীমান্তে ১৫০টি এবং বেনাপোল-পেট্রাপোল ও হিলি সীমান্তে ৫০০টি পেঁয়াজ বোঝাই ট্রাক আটকে রয়েছে। এতে পেঁয়াজ রয়েছে ১৬ হাজার মেট্রিক টন । এই আটকে থাকার কারণে, এ দেশে পেঁয়াজ রপ্তানিকারকেরা প্রচণ্ড আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

বিশেষ করে সীমান্তে ট্রাক আটকে থাকায় তাঁরা প্রতিদিন ক্ষতির মুখে পড়ছে। অন্যদিকে ট্রাকের ড্রাইভার ও খালাসিকে খাওয়া খরচ দিতে হচ্ছে। তাই রপ্তানিকারকেরা চাইছেন অবিলম্বে সীমান্তে আসা পণ্যবাহী পেঁয়াজের ট্রাককে বাংলাদেশে প্রেরণ করে পেঁয়াজ খালাস করার অনুমতি দেওয়া হোক। নেপাল ও ভুটান সীমান্তেও সে দেশে যাওয়ার জন্য আটকে পড়েছে অন্তত ২০০ পেঁয়াজ বোঝাই ট্রাক। এসব পেঁয়াজ এসেছে ভারতের মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে।

নাসিক ছাড়া ভারতের পাঞ্জাব, কর্ণাটক, অন্ধ্র প্রদেশ , মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, রাজস্থান, তামিলনাড়ু-তেও প্রচুর উৎপাদন হয়। তবে বাংলাদেশে রপ্তানিমুখী এসব ট্রাকের পেঁয়াজ মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে মালবাহী ট্রেনে করে পশ্চিমবঙ্গের ডানকুনি ও কলকাতার চিৎপুর রেল ইয়ার্ডে আসে। সেখান থেকে ট্রাকে করে পাঠানো হয় বাংলাদেশে।

মহদিপুর এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তা সমীর ঘোষ আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রথম আলোকে জানান, সরকার ইচ্ছে করলে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করতেই পারেন।

কিন্তু রপ্তানি বন্ধের আগে নোটিশ দেওয়া হলে এভাবে ট্রাকগুলি পেঁয়াজ নিয়ে সীমান্তে এসে আটকা পড়ত না। এতে করে ট্রাকে থাকা পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকছে। বলেন, আগাম খবর জানতে পারলে কোনো রপ্তানিকারকই পেঁয়াজ এভাবে লোড করে সীমান্তে পাঠাতেন না। তিনি সরকারকে অনুরোধ করেছেন, অন্তত যেসব ট্রাক সীমান্তে এসেছে তাদের পেঁয়াজ খালাস করার জন্য বাংলাদেশ সীমান্তে পাঠিয়ে দেওয়া হোক। পাশাপাশি তিনি পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করারও আবেদন জানিয়েছেন।

ওয়েস্ট বেঙ্গল এক্সপোর্টার্স কো-অর্ডিনেশন কমিটির সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল সাহা বলেন, ‘দেশের বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণে রপ্তানিতে রাশ টানার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি। তবে যেভাবে আচমকা নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে তাতে বহুমুখী সংকট তৈরি হয়েছে। লোকসানের সঙ্গে বিদেশি আমদানিকারকদের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি খেলাপের মতো ঘটনা ঘটেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রপ্তানির জন্য পাঠানো পেঁয়াজ আবার দেশের বাজারে ফেরত আনাও বৈদেশিক বাণিজ্যের নিয়মনীতি পেরিয়ে সম্ভব নয়। তাই ১৪ সেপ্টেম্বর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার আগে বিভিন্ন ব্যাংকে যাদের এলসি খোলা হয়ে গেছে এবং যেসব পেঁয়াজ বোঝাই ট্রাক সীমান্তে পৌঁছে গেছে অন্তত তাঁদের ওই পেঁয়াজ রপ্তানি করার সুযোগ দেওয়া হোক।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

খুচরা বিক্রেতারা কেজিপ্রতি বেশি নিচ্ছেন ২০–২৫ টাকা

  • পাইকারি বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম ৭০–৮০ টাকা, ভারতীয় ৫৫–৬০ টাকা।
  • খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ ৯০-১১০ টাকা, ভারতীয় ৮০ টাকা।

ঢাকার বাজারে গত দুই দিনে পেঁয়াজের পাইকারি দাম কমলেও খুচরায় কমেনি। গতকাল বিভিন্ন বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, দেশি পেঁয়াজে পাইকারি ও খুচরায় দামে পার্থক্য ২০ থেকে ২৫ টাকা। আর ভারতীয় পেঁয়াজের ক্ষেত্রে এই ফাঁরাক ২০ টাকা।

মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের পেঁয়াজের আড়ত বিক্রমপুর ট্রেডার্সে বিক্রেতা রাকিব হোসেন গতকাল বৃহস্পতিবার মানিকগঞ্জের ঝিটকা জাতের পেঁয়াজ বিক্রি করছিলেন প্রতি কেজি ৮২ টাকা দরে। বেশ বড় আকারের ওই পেঁয়াজকে বাজারের সেরাও বলা যায়। রাকিব বললেন, ৬০ কেজির এক বস্তা পেঁয়াজ কেনার পর খুচরা বিক্রেতাকে ১০ টাকা আড়তদারী ও ২০ টাকা শ্রমিকের মজুরি বাবদ দিতে হয়। এ হিসেবে বিক্রমপুর ট্রেডার্স থেকে কয়েক শ গজ দূরে পেঁয়াজ নিতে খুচরা বিক্রেতার খরচ দাঁড়ায় কেজিপ্রতি ৫০ পয়সা। ফলে কেজিতে মোট দাম পড়ে সাড়ে ৮২ টাকা।

কিন্তু মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের বাজারে ওই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১০০ টাকা দরে। ফলে সামান্য দূরত্বেই পাইকারি ও খুচরার পার্থক্য দাঁড়াচ্ছে ১৮ টাকা। আর মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের আড়ত থেকে শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া ও পীরেরবাগ এলাকায় গিয়ে একই পেঁয়াজ ১১০ টাকা কেজি হয়ে যাচ্ছে। কেজিতে পার্থক্য দাঁড়াচ্ছে ২৮ টাকা।

ঢাকার আরও দুটি পাইকারি ও খুচরা বাজারের দামের তুলনা করে দেখা গেছে, পেঁয়াজে পাইকারি ও খুচরায় দামে পার্থক্য মোটামুটিভাবে ২০ থেকে ২৫ টাকা। বাজারে এক মাস আগেও যখন প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ৪০ টাকার মধ্যে ছিল, তখন পাইকারি বাজারে দাম থাকত ২৮ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে। এখন যখন দাম অনেক বেড়ে গেছে, তখন পাইকারি ও খুচরার পার্থক্যও বাড়ছে।

পাইকারি বিক্রেতা রাকিব হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ৮২ টাকায় কিনে ৯০ থেকে ৯৫ টাকার মধ্যে বিক্রি করা উচিত। ১১০ টাকা তো অনেক বেশি। তিনি বলেন, ‘আমরা বিক্রির সময় রসিদ দিই। সেটা যাচাই করলেই কত দামে কেনে, আর কত দামে বিক্রি করে, তা বেরিয়ে আসবে।’

অবশ্য খুচরা বিক্রেতাদের নানা যুক্তি আছে। পীরেরবাগের ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা আবদুস সালাম বলেন, দাম বেড়ে যাওয়ায় পেঁয়াজের বিক্রি কমে গেছে। অথচ পরিবার চালাতে তাঁকে অন্তত ৫০০ টাকা আয় করতে হয়। তিনি বলেন, আগে ৩০ টাকা খাটিয়ে ৫ টাকা লাভ করলে এখন খাটাতে হচ্ছে ১০০ টাকা। ফলে লাভের পরিমাণও একটু বেশি হবে।

সব মিলিয়ে খুচরায় প্রভাব না পড়ায় পাইকারি বাজারে দাম কমার সুফল ক্রেতারা পাচ্ছেন না। পুরান ঢাকার শ্যামবাজারে গতকাল দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৭৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। গত মঙ্গলবারের তুলনায় তা ১৫ থেকে ২০ টাকা কম। আর ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৫২ থেকে ৫৫ টাকায়, যা কমেছে ১৫ টাকার মতো।

ঢাকার কারওয়ান বাজারেও পেঁয়াজের দাম কমেছে। গতকাল সেখানের আড়তের বিক্রেতারা পাঁচ কেজি করে দেশি কিং নামে পরিচিত পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৮০ টাকা, পাবনা ও রাজশাহীর দেশি পেঁয়াজ ৯০ থেকে ৯৫ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ৬০ টাকা দরে বিক্রি করেন। বস্তা নিলে দাম আরেকটু কম পড়ে।

বিক্রেতারা বলছেন, গত সোমবার ভারত রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার পর মানুষের মধ্যে কেনার যে হিড়িক পড়েছিল, তা এখন নেই। অন্যদিকে কৃষক ও ফড়িয়ারা বাড়তি পরিমাণে পেঁয়াজ বাজারে নিয়ে আসছেন। এতে সরবরাহ বাড়ায় দাম কমছে।

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) হিসাবে, দেশে বছরে ২৫ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে উৎপাদন হয়েছে সাড়ে ২৫ লাখ টন। তবে সংরক্ষণজনিত ক্ষতি বাদ দিলে সরবরাহ দাঁড়ায় ১৯ লাখ টনের কিছু বেশি। দেশে এখন পেঁয়াজের মজুত রয়েছে সোয়া পাঁচ লাখ টনের মতো।

কমিশনের সদস্য শাহ মো. আবু রায়হান আলবেরুনী প্রথম আলোকে বলেন, সামাজিক অনুষ্ঠানাদি বন্ধ থাকায় এখন মাসে ১ লাখ ৭০ হাজার টনের মতো পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে। মজুত দিয়ে আড়াই থেকে তিন মাসের মতো চলবে। এরপর নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করবে। এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারিভাবে আমদানি করা হচ্ছে। উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।

বন্দরে আটকা ট্রাক

ভারত রপ্তানি বন্ধ করার আগে যেসব পেঁয়াজের ট্রাক বাংলাদেশের পথে রওনা হয়েছিল, তা এখনো স্থলবন্দরে আটকে আছে। ভারত সরকার গত সোমবার সন্ধ্যায় পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করে। এর আগে ওই দিন সকাল থেকেই ট্রাক বাংলাদেশে ঢোকেনি।

শুল্কায়নসহ রপ্তানির অনুমতি নিয়ে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে (বেনাপোলের ওপাশ) পেঁয়াজবোঝাই অন্তত ১৫টি ট্রাক এবং সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরের বিপরীতে ঘোজাডাঙ্গা বন্দরে ১৭০টি ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে। হিলিতে রয়েছে প্রায় ২০০ ট্রাক। সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ঢোকার অপেক্ষায় প্রায় ৩০০ ট্রাক।

পেঁয়াজ আমদানিকারক ও বেনাপোলের ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়াডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্ট রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত ছাড়া শুল্ক বিভাগ ওই পেঁয়াজ ছাড় করতে পারছে না। পেঁয়াজ পচে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পেঁয়াজ ছাড় করাতে সরকারি আলোচনা দরকার।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

সীমান্তে অপেক্ষায় পেঁয়াজবাহী ৮০৩ ট্রাক, পচনের আশঙ্কা

পেঁয়াজ রপ্তানিতে হুট করে ভারতের নিষেধাজ্ঞার কারণে বড় বিপদে পড়েছেন খুলনার আমদানিকারক আবদুল হামিদ। তাঁর আমদানি করা ৭১ টন পেঁয়াজ যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরের বিপরীতে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে আটকে আছে। ট্রাকে করে এসব পেঁয়াজ গত মঙ্গলবার সীমান্ত পার হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এর আগের দিন সন্ধ্যায় ভারত পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে আবদুল হামিদ মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, আর এক-দুই দিনের মধ্যে ওই পেঁয়াজ ছাড় করতে না পারলে বেশির ভাগ পচে যাবে। ত্রিপল দিয়ে ট্রাকে ঢেকে রাখা পেঁয়াজ বড়জোর তিন-চার দিন ঠিক রাখা যায়। গরম তীব্র হলে ট্রাকে থাকা পেঁয়াজ দ্রুত পচে যায়। আবার বৃষ্টি হলেও নষ্ট হয়।

ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, যশোরের বেনাপোল, দিনাজপুরের হিলি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ ও সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজবাহী অন্তত ৮০৩টি ট্রাক দেশে ঢোকার অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে বেনাপোলে ৩টি, হিলিতে অন্তত ২০০টি, ভোমরায় অন্তত ৩০০টি এবং সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজবাহী ৩০০ ট্রাক ঢোকার অপেক্ষায় রয়েছে।

এদিকে ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো গত রাতে প্রথম আলোকে বলছে, বাংলাদেশের অনুরোধের কারণে ২৫ হাজার টন পেঁয়াজ পাঠানোর (রপ্তানি) সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। তবে ওই সিদ্ধান্তের আলোকে সীমান্তে আটকে থাকা ট্রাকগুলো ছাড়া হবে, নাকি নতুন করে ২৫ হাজার টন পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়।

পুরান ঢাকার শ্যামবাজারকেন্দ্রিক আমদানিকারক আবদুল মাজেদ প্রথম আলোকে বলেন, এক একটি ট্রাকে প্রায় ২০ টন করে পেঁয়াজ থাকে। গত চার দিনেও ট্রাক ঢুকতে না পারায় নতুন পেঁয়াজ পচন শুরু হয়েছে। বাধ্য হয়ে ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ নতুন পেঁয়াজবাহী ট্রাক সরিয়ে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় অল্প দামে বিক্রি করে ফেলেছেন। এতে ক্ষতি কিছুটা কমবে। তিনি বলেন, পুরোনো পেঁয়াজ এখনো ঢোকার অপেক্ষায় আছে। এগুলোও কিছু পচে যাবে। এই ট্রাকগুলো তাড়াতাড়ি ছাড়া দরকার।

দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ১০ হাজার টন পেঁয়াজ ঢোকার কথা রয়েছে। তিন দিন ধরে বৃষ্টির মধ্যে পেঁয়াজের গাড়িগুলো ভারতীয় অংশে আটকা পড়ে আছে। এতে পেঁয়াজের পচনের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হারুন উর রশিদ। একই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান।

দাম কিছুটা কমেছে

রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, ভারতীয় পেঁয়াজ আসা বন্ধ ঘোষণার পর দাম দ্বিগুণ বেড়ে যায়। তবে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে পেঁয়াজের দাম খানিকটা কমতে শুরু করেছে। তবে বাজারে পেঁয়াজের ক্রেতা এখন খুবই কম বলে জানান খুচরা ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বলছেন, মানভেদে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ থেকে ১৫ টাকা কমেছে। শনিবার (আজ) নাগাদ দাম আরও কমে আসবে বলে তাঁদের ধারণা। খুচরা বাজারে এক মাস আগে পেঁয়াজের দাম ছিল ৪০ টাকা কেজি। দুই সপ্তাহ আগে সেই দাম ওঠে ৬০ টাকায়। রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা আসার পর প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের দাম ওঠে ১০০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত।

গতকাল সকালে মালিবাগ বাজারে পেঁয়াজ কিনছিলেন চাকরিজীবী শামীমা আক্তার। বিক্রেতা দাম বলার পর চোখ কপালে তুললেন তিনি। দামে পোষায়নি বলে শেষে কিনলেন আধা কেজি পেঁয়াজ। তিনি বলেন, এক কেজি কেনার ইচ্ছা থাকলেও বাড়তি দামের কারণে আধা কেজি কিনেছেন।

মালিবাগ বাজার থেকেই গতকাল সকালে তিন কেজি পেঁয়াজ কিনেছেন ব্যবসায়ী কাজী শফিক। প্রতি কেজি ৯০ টাকা করে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, একটা ঘোষণা আসার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দেন। মাঝখান দিয়ে ক্ষতি হয় সাধারণ মানুষের।

মালিবাগ বাজারে গতকাল প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকায়। আর ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকা। এই বাজার থেকে ঠিক দুই কিলোমিটার দূরের খিলগাঁও রেলগেট বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ অবশ্য বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায়। আর ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকায়।

খুচরা ব্যবসায়ীরা জানালেন, দাম বেড়ে যাওয়ার পর পেঁয়াজ বিক্রিও কমে গেছে। ক্রেতারা খুবই কম পেঁয়াজ কিনছেন। মালিবাগ রেলগেট বাজারের খোরশেদ স্টোরে এক মাস আগেও দিনে প্রায় ৭০ কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হতো। দাম বাড়তি হওয়ার পর এই দোকানে গত দুই সপ্তাহে বিক্রি নেমে আসে দিনে ১৫ থেকে ২০ কেজিতে।

খোরশেদ স্টোরের দোকানি মো. শাহাবুদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, কোনো জিনিসের দাম বেড়ে গেলে মানুষ এখন আর বস্তা ভরে কিনে মজুত করে না। খুচরা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি একেবারেই কমে গেছে।

এদিকে পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধির ঘটনায় অসাধু চক্রকে দুষছেন ঢাকা মহানগর দোকান মালিকেরা। তাঁরা বলছেন, দেশে পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল ছিল। পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। অথচ আড়তে, পাইকারি ও খুচরা বাজারে পেঁয়াজের যথেষ্ট মজুত আছে। পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে গতকাল বিকেলে কারওয়ান বাজারের একটি হোটেলে সভা করে ঢাকা মহানগর দোকান মালিক সমিতি। এতে কারওয়ান বাজারের কাঁচামাল আড়ত বহুমুখী সমবায় সমিতি, আমদানিকারক ও খুচরা বিক্রেতারা অংশ নেন। ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল করতে মনিটরিং সেল গঠনের পরামর্শ দেন। তাঁরা বলছেন, শুধু ভারতের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে পেঁয়াজ আমদানি চীন, মিয়ানমার, পাকিস্তান ও মিসর থেকে নিয়মিত করা হোক।

ঢাকা মহানগর দোকান মালিক সমিতির সভাপতি তৌফিক এহসান প্রথম আলোকে বলেন, পেঁয়াজ আমদানিতে শুধু ভারতের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে। পাশাপাশি দেশি পেঁয়াজ যখন বাজারে আসে, তখন আমদানি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এতে কৃষক লাভবান হবেন, দেশি পেঁয়াজও বাজারে সহজলভ্য হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

ছোটরা মাঠে, বড়রাও নামছেন

  • ভারত রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পরদিন থেকেই বিকল্প বাজার থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন দেশের ছোট ব্যবসায়ীরা।
  • ভারত সরকার পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার পরদিন থেকেই বিশ্ববাজারে খোঁজখবর নিয়ে রপ্তানিকারকদের সঙ্গে চুক্তি করতে শুরু করেন ছোট ব্যবসায়ীরা।
  • এদিকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নিলেও শঙ্কায় আছেন ব্যবসায়ীরা। ভারত যদি রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে তাহলে তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।

ভারত রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পরদিন থেকেই বিকল্প বাজার থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন দেশের ছোট ব্যবসায়ীরা। এক চালানে ১০০, ২০০, ৫০০ টন বা ১ হাজার টন করে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতিও সংগ্রহ করেছেন এ রকম চার শতাধিক ব্যবসায়ী। তাঁরা প্রতিদিনই ঋণপত্র খুলে চলেছেন।

কিন্তু ছোটরা সরব হলেও পেঁয়াজ আমদানিতে বড় শিল্প গ্রুপগুলো এখনো সেভাবে এগিয়ে আসেনি। অবশেষে চারটি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, সরকারের অনুরোধে তারা আমদানির উদ্যোগ নিচ্ছে। আগামী সপ্তাহেই তারা আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে। এসব প্রতিষ্ঠান গত বছরে সংকটের সময় পেঁয়াজ আমদানি করেছিল।
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি গত বুধবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের জানান, গতবারের মতো এবারও বড় বড় শিল্প গ্রুপকে পেঁয়াজ আমদানির অনুরোধ জানানো হয়েছে। তারা সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

ভারত সরকার হঠাৎ করে গত সোমবার পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করে। পরদিন থেকেই বিশ্ববাজারে খোঁজখবর নিয়ে রপ্তানিকারকদের সঙ্গে চুক্তি করতে শুরু করেন ছোট ব্যবসায়ীরা। গত বছর ভারতের বিকল্প বাজারের খোঁজ নিয়ে চুক্তি করতে সময় লাগলেও এবার তাৎক্ষণিকভাবেই যোগাযোগ করা গেছে। কারণ, দুই পক্ষই এখন পরিচিত। ফলে খুব দ্রুতই আমদানির উদ্যোগ নেওয়া গেছে। ফলে ভারতের রপ্তানি বন্ধে গতবার যেমন সংকট হয়েছিল, এবার তা হবে না বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা।

ছোটরা এগিয়ে
পেঁয়াজ আমদানির ঋণপত্র খোলার আগে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্র থেকে আমদানির অনুমতি (আইপি) নিতে হয়। ভারত রপ্তানি বন্ধের পরের দুই দিন মঙ্গল ও বুধবার চট্টগ্রাম ও ঢাকার উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্র থেকে ১ লাখ ৩৩ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি সংগ্রহ করেছেন ছোট ২০০ ব্যবসায়ী। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় ২০০টি প্রতিষ্ঠান পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি পেতে আবেদন করেছে। বিকেল পর্যন্ত প্রায় এক লাখ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামেও বৃহস্পতিবার প্রায় ২২ হাজার টন আমদানির অনুমতি নিয়েছেন ছোট ব্যবসায়ীরা।

পেঁয়াজ আমদানিকারক ছোট প্রতিষ্ঠান খাতুনগঞ্জ ট্রেডিংয়ের কর্ণধার খায়রুল বাশার গতকাল প্রথম আলোকে জানান, গত বছরের অভিজ্ঞতায় বিকল্প বাজারে জানাশোনা ছিল। এ কারণে ভারত রপ্তানি বন্ধের পরই আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করতে দেরি হয়নি। বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ আসবে।

ঢাকার উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের পরিচালক মো. আজহার আলী প্রথম আলোকে বলেন, ব্যবসায়ীরা যে হারে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতিপত্র নিচ্ছেন, তা আগে কখনো দেখা যায়নি। অনুমতি অনুযায়ী পেঁয়াজ বাজারে এলে সংকট থাকবে না।

চট্টগ্রাম উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক আসাদুজ্জামান বুলবুল জানান, চীন, মিয়ানমার, পাকিস্তান, মিসর, তুরস্ক, নিউজিল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে ব্যাপক আমদানির খবরে বাজারও পড়তির দিকে। খাতুনগঞ্জে তিন দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কমে প্রতি কেজি ৬৫ থেকে ৫৫ টাকায় নেমেছে। খুচরায় ৮০ টাকা থেকে কমে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

উদ্যোগ নিচ্ছে বড় শিল্প গ্রুপ
গত বছর সংকটের সময় সবচেয়ে সক্রিয় ছিল বড় শিল্প গ্রুপগুলো। সরকারের অনুরোধে মেঘনা, এস আলম, সিটি ও বিএসএম গ্রুপ দ্রুত পেঁয়াজ আমদানির প্রক্রিয়ায় নেমে পড়ে।

জানতে চাইলে মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল বুধবার রাতে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বিকল্প দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। এখন আমদানির উদ্যোগ নেব। বিদেশের দূতাবাসগুলো যদি এ ক্ষেত্রে সহায়তা করে তাহলে দ্রুত আমদানি করা যাবে। প্রসঙ্গত, গ্রুপটি গত বছর সব পেঁয়াজ কেনা দরে সরকারকে হস্তান্তর করেছে।

গত বছর সিটি গ্রুপ ও এস আলম গ্রুপ পেঁয়াজ আমদানি করে সরকারি সংস্থার কাছে হস্তান্তর করেছে। সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহাও পেঁয়াজ আমদানিতে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এস আলম গ্রুপের বাণিজ্যিক বিভাগের প্রধান মহাব্যবস্থাপক আখতার হাসান জানান, পেঁয়াজ আমদানির বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন তাঁরা। আগামী সপ্তাহে ঋণপত্র খোলার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে তিনি জানান।

ব্যবসায়ীদের শঙ্কা
এদিকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নিলেও শঙ্কায় আছেন ব্যবসায়ীরা। ভারত যদি রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে তাহলে তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন। কারণ, ভারতের চেয়ে বিশ্ববাজারে পেঁয়াজের দাম এবং আনার খরচ বেশি পড়ে।
সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করেছে, তা খুবই ইতিবাচক। এতে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে। সরবরাহও বাড়বে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

সীমান্তে আটকে থাকা পেঁয়াজের ট্রাক ছাড়ার অনুমতি দিল ভারত

অবশেষে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সীমান্তে আটকে থাকা পেঁয়াজবোঝাই ট্রাক বাংলাদেশে রপ্তানির জন্য শুল্ক বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকার। গতকাল সন্ধ্যায় এ নির্দেশ দেওয়া হয়।  
ভারতে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি এবং উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় গত সোমবার এক নির্দেশে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারত সরকারের বাণিজ্য বিভাগের বৈদেশিক বাণিজ্য শাখা। নিষেধাজ্ঞার ফলে পশ্চিমবঙ্গের বেনাপোল-পেট্রাপোল, ঘোজাডাঙ্গা, মহদিপুর, হিলিসহ বিভিন্ন স্থল সীমান্তে আটকে পড়ে প্রায় এক হাজার পেঁয়াজবোঝাই ট্রাক।

পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় ক্ষুব্ধ হন ভারতের রপ্তানিকারক ও বাংলাদেশের আমদানিকারকেরা। উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান। বাংলাদেশ থেকেও পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অনুরোধ আসে।

এদিকে দিল্লিতে গতকাল ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সীমান্তে যেসব পেঁয়াজবোঝাই ট্রাক বাংলাদেশে রপ্তানির পথে আটকে পড়েছে, সেসব ট্রাক অবিলম্বে ছেড়ে দেওয়ার। এ–সংক্রান্ত নির্দেশও দেওয়া হয় ভারতের শুল্ক বিভাগকে।
নির্দেশনায় বলা হয়, ভারত সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে দৃঢ় রাখার জন্য ২৫ হাজার টন পেঁয়াজ বাংলাদেশে রপ্তানির বিশেষ অনুমতি দিয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com