আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

মাছ ধরার উৎসবে ফাঁদ বেচা-কেনার ধুম

মাছ ধরার উৎসবে ফাঁদ বেচা-কেনার ধুম
মাছ ধরার উৎসবে ফাঁদ বেচা-কেনার ধুম

বর্ষায় নদী-নালা, খাল-বিলে নতুন পানিতে টইটুম্বুর। যেন যৌবন ফিরে এসেছে। নতুন পানিতে ঘুরছে নানা প্রজাতির মাছ। এ সুযোগে গ্রামের মানুষ বিভিন্ন কৌশলে মাছ ধরার উৎসবে মেতে উঠেছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে মাছ ধরার ফাঁদ বেচা-কেনা।

বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ বর্ষায় খাল-বিল বা উন্মুক্ত জলাশয়ে ফাঁদ দিয়ে মাছ শিকার করে। মাছ ধরার সহজ কৌশল চলাচলের পথে পেতে রাখা ফাঁদ। তাই নওগাঁর বিভিন্ন হাট-বাজারে এখন ফাঁদ কেনা-বেচা হচ্ছে। বাঁশ দিয়ে তৈরি খৈলশুন (বৃত্তি), ভাঁইড় (চোকা), পলইসহ মাছ ধরার বিভিন্ন ফাঁদ তৈরি এবং কেনা-বেচা হচ্ছে।

বর্ষায় মাছ ধরার ফাঁদ তৈরি করতে কারিগরদের ব্যস্ততা একটু বেড়ে যায়। এসময় বাজারগুলোতে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা মাছ ধরার ফাঁদ কিনে থাকেন। এতে দাম তুলনামূলক একটু বেশি হয়। কারিগররা বিক্রি করেন স্থানীয় হাট-বাজারে। বাঁশ কাটা, শলাকা তৈরি ও ফাঁদ বোনার কাজে সকাল-সন্ধ্যা ব্যস্ত পরিবারগুলো। এ ফাঁদ দিয়ে চিংড়ি, পুঁটি, খৈলশা, গুচি, ট্যাংরা ও পোটকা মাছ শিকার করা হয়। এতে খাবারের জন্য বাজার থেকে মাছ কিনতে হয় না।

মাছ ধরার উৎসবে ফাঁদ বেচা-কেনার ধুম
মাছ ধরার উৎসবে ফাঁদ বেচা-কেনার ধুম

জেলার মহাদেবপু উপজেলার চেরাগপুর গ্রামের ফাঁদ তৈরির কারিগর অসিত কুমার জানান, একটি বাঁশের দাম ২০০-২৫০ টাকা। একটি বাঁশ থেকে কমপক্ষে ৬-৭টা খৈলশুন হয়। একটি তৈরি করতে দুই জনের চার দিনের মতো সময় লাগে। বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় শ্রমিক দিয়ে কাজ করাতে হচ্ছে। প্রতিটি খৈলশুন বড়টি ৩০০-৪০০ টাকা, ছোটটি ১৯০-২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সাপাহার উপজেলার করমুডাঙ্গা গ্রামের মৎস্যজীবী আব্দুল কাহার জানান, জলাশয়ে এখন প্রচুর মাছ। প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে মহাদেবপুর হাটে গিয়ে ২১টি খৈলশুন ১৯০ টাকা করে কিনেছেন তিনি। এ খৈলশুন দিয়ে প্রায় একমাসের মতো মাছ শিকার করা যাবে। এরপর খৈলশুন নষ্ট হয়ে যাবে।

এগ্রোবিজ

হালতি বিলে পানিতে তলিয়ে আছে ২৫০ হেক্টর জমি

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার হালতি বিলে বোরো ধান রোপণের কর্মযজ্ঞ চলছে। তবে এই বিলের পানি নামার পথ জিয়া খালে বাঁশের তৈরি বেড়া দিয়ে মাছ শিকার করায় ধীরগতিতে পানি নামছে। তাই পানিতে তলিয়ে থাকা বিলের প্রায় ২৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ ব্যাহত হচ্ছে।

কৃষকেরা বলছেন, দ্রুত পানি না নামলে তাঁরা প্রায় ২৫০ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করতে পারবেন না। অন্যদিকে শুকিয়ে যাওয়া জমিগুলোতে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে চাষিরা বোরো ধানের চারা রোপণ করা শুরু করেছেন। এবার বিলের সাড়ে আট হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।বিজ্ঞাপন

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানা যায়, ৪০ হাজার হেক্টর আয়তনের হালতি বিলে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে পানি কমতে শুরু করে। এরপর শুরু হয় বোরো ধান চাষের কর্মযজ্ঞ। এবার অধিকাংশ জমি চারা রোপণের জন্য প্রস্তুত করা হলেও এখনো প্রায় ২৫০ হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে আছে।

গত রোববার দুপুরে হালতি বিলে গিয়ে দেখা যায়, পাটুল ঘাটের নিচ থেকে পানি সরে যাওয়ায় চাষিরা ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করছেন। কেউ কেউ মহিষের হাল দিয়েও ধানের জমি তৈরি করছেন। একটু উঁচু জমিতে বীজতলা করে চারা তৈরি করা হয়েছে। যাঁদের জমি তৈরির কাজ শেষ হয়েছে, তাঁরা বীজতলা থেকে চারা তুলে এনে রোপণ করছেন।

হালতি বিলের মধ্যে একটি গ্রাম খোলাবাড়িয়া। সেখানকার চাষি সিরাজুল ইসলাম বলেন, মাছ শিকারের জন্য পাটুল-খোলাবাড়িয়া সড়কের পূর্ব পাশে কিছু লোক কয়েক কিলোমিটারজুড়ে বাঁশের বেড়া দিয়েছেন। এতে পানি নামতে দেরি হচ্ছে। তবে কৃষকেরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে ছোট ছোট নালা পরিষ্কার করে পানি অপসারণের চেষ্টা করছেন। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সব জমিতে ধান রোপণ শেষ হতে পারে।

হালতি বিলে হাত দিয়ে চারা রোপণের পাশাপাশি এবার যান্ত্রিক পদ্ধতিতেও চারা রোপণ করতে দেখা গেছে। স্থানীয় চাষিরা জানান, এতে স্বল্প সময়ের মধ্যে চারা রোপণ শেষ করা যাবে। চারা রোপণের কাজে নারীদের অংশগ্রহণও চোখে পড়ে।

বিলে স্থানীয় বাগচি সম্প্রদায়ের নারীরা দল বেঁধে ধানের চারা রোপণ করছিলেন। মলি বাগচি নামের একজন বলেন, বিলের ধারে বাড়ি হওয়ায় বর্ষার সময় তাঁদের তেমন কোনো কাজ থাকে না। তবে বোরো মৌসুমে চারা রোপণের জন্য তাঁদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। এই আয়ে সংসারের খরচে অবদান রাখেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফৌজিয়া ফেরদৌস বলেন, ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চারা রোপণ করা যায়। দেরি হলেও ধানের ফলন ব্যাহত হয় না। পানি নামতে কিছুটা বিলম্ব হলেও বোরো ধান চাষ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি আশা করছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

ধানের দাম কমলে চালের দাম বাড়ে?

আমনের ভরা মৌসুম চলছে। কৃষকদের ঘরে ঘরে নতুন ধান উঠেছে। এমন সময়ে ধান–চালের দাম কম থাকে। ফলন বেশি হলে ধানের দাম বেশ কমে যায়, কৃষকের লোকসান হয়, আমরা তাঁদের লোকসান কমানোর জন্য সরকারকে অনুরোধ করি বাজারদরের চেয়ে বেশি দরে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কিনতে। সরকার কী করে, সেই প্রসঙ্গে একটু পরে আসছি। আগে একটু চালের কথা বলে নিই।

ধানের দাম কমে গেলে স্বাভাবিকভাবে চালের দামও কমার কথা; কারণ, ধান থেকেই চাল হয়। কিন্তু বাংলাদেশি বিস্ময় হলো, ধানের কমলে চালের দাম কমে না। আরও ঠিকভাবে বললে, ধানের দাম যতটা কমে, চালের দাম ততটা কমে না।

এই বিস্ময়ের সর্বসাম্প্রতিক দৃষ্টান্ত আমাদের সামনে আছে। চালের দাম গত বছরের এই সময়ের তুলনায় ৪৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেলে সরকার ভাবল, বিদেশ থেকে চাল আমদানি করা হলে তার প্রভাবে দেশের বাজারে চালের দাম কমতে পারে। তাই বেসরকারি খাতের চাল আমদানিকারকদের উৎসাহিত করার জন্য চালের আমদানি শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নিল। গত মাসের শেষ সপ্তাহে এই সিদ্ধান্তের খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যা ঘটল, সেটাই বিস্ময়। এক দিনের মধ্যেই দেশের বাজারে ধানের দাম কমে গেল মণপ্রতি ১০০ টাকা।বিজ্ঞাপন

ধানচাষিদের দুর্দশা লাঘব করার আন্তরিক ও ফলপ্রসূ পদক্ষেপ যত দিন পর্যন্ত নেওয়া না হচ্ছে, তত দিন সরকারের কোনো কঠোর পদক্ষেপেই চালকলমালিকদের দৌরাত্ম্য থামবে না। ধানচাষিদের দুর্দশা লাঘবের উপায় সরকারের নির্ধারিত দামে সরাসরি তাদের কাছ থেকেই ধান কেনার চলমান অকার্যকর ব্যবস্থাটি কার্যকর করা

কী ব্যাপার? আমদানি শুল্ক কমানো হলো চালের, দাম কমলে চালের দামই আগে কমার কথা; তারপর সেই প্রভাবে ধানের দামও কিছুটা কমতে পারে। কিন্তু দেশের সব বাজার থেকে খবর এল, দাম কমেছে ধানের; চালের দাম একটি পয়সাও কমেনি।

এ কেমন কারবার? এর রহস্য কী?

এই প্রশ্নের উত্তর জটিল। এর জন্য গবেষণার দরকার হবে। তবে গবেষণা ছাড়াই, স্থূল চোখেই যে বিষয়টা ধরা পড়ে তা হলো, চালের উৎপাদন ও বিপণনের পুরো প্রক্রিয়াটি এখন আর কৃষকদের হাতে নেই। ধান কেটে ঘরে তোলার পরেই ধানচাষির ভূমিকা ফুরিয়ে যায়। এক মণ ধান ঘরে তুলতে তাঁর কত টাকা খরচ হয়েছে, কত ঘাম ঝরেছে—এসব প্রশ্ন অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে। তাঁকে ধান বিক্রি করতে হয় বাজারে প্রচলিত দরে, যে বাজার চলার কথা মুক্তবাজার অর্থনীতির স্বতঃস্ফূর্ত নিয়মে। কিন্তু বাংলাদেশের ধান–চালের বাজারে স্বতঃস্ফূর্ততা অসম্ভব; কারণ, তা কতিপয় গোষ্ঠীর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের শিকার। আসলে ধানের কোনো ভোক্তা নেই, ভোক্তা আছে চালের। ধানের ক্রেতা মূলত চালকলমালিকেরা। এ দেশের ধানচাষিদের হাত–পা বাঁধা পড়েছে তাঁদের হাতে। এই মালিকেরা একই সঙ্গে চালের ব্যবসায়ীও বটে।

তো খাদ্যমন্ত্রী যখন ঘোষণা করলেন যে চালের আমদানি শুল্ক ৬২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, তার এক দিন পরেই (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড শুল্ক কমানোর প্রজ্ঞাপন জারি করার আগেই) নওগাঁ, দিনাজপুর, বগুড়া ও রংপুরে প্রধান হাটগুলোতে চালকলের মালিকেরা ধান কেনা কমিয়ে দিলেন। ধানচাষিরা অসহায়; কারণ, চালকলগুলোর মালিকেরাই তাঁদের ধানের প্রধান ক্রেতা; তাঁরা ধান না কিনলে কিংবা কেনার পরিমাণ কমিয়ে দিলে ধানচাষিদের লোকসান গোনা আর হতাশায় ভোগা ছাড়া কিছুই করার থাকে না।

ধানের দাম কম অথচ চালের দাম বেশি—এর মানে ধানচাষিকে কম দামে ধান বিক্রি করে বেশি দামে চাল কিনে ভাত খেয়ে জীবন ধারণ করতে হয়; সেই জীবন ক্ষয় করে পরের মৌসুমে আবার ধান চাষ করতে হয়। ধানচাষির দুঃখ–কষ্টের এই গোলমেলে ব্যাপারটা সম্ভবত আমরা নগরবাসী ভদ্রলোকেরা বুঝতে পারব না। আমাদের মনে প্রশ্ন জাগবে: যে চাষি ধান ফলান, তাঁকে চাল কিনে খেতে হবে কেন? তিনি কি নিজের ফলানো ধান থেকে নিজেই চাল বানাতে পারেন না?

মোটা দাগে এই প্রশ্নের উত্তর, না। ধান থেকে চাল বানানোর জন্য ধান শুকানোর জায়গা দরকার, বিপুল পরিমাণ ধান সেদ্ধ করার বন্দোবস্ত দরকার, কলে ধান ভাঙানোর জন্য পয়সা দরকার। বাংলাদেশে এখন বড় কৃষকের সংখ্যা খুবই কম; বেশি জমির মালিকেরা নিজেরা ফসল ফলান না, ছোট চাষিদের জমি পত্তন বা লিজ দেন। ছোট চাষিদের নিজেদের জমি কম; তাঁদের ঘরবাড়ি ছোট, বাড়ির উঠান ছোট, চুলা ছোট, চুলার জ্বালানি সংগ্রহের সামর্থ্য কম। ফলে তাঁদের ধান ফলিয়ে বিক্রি করতে হয়। তাঁরা সরাসরি সরকারের কাছেই তা বিক্রি করতে চান। সরকারও ঢাকঢোল পিটিয়ে ‘সরাসরি’ তাঁদের কাছ থেকেই ধান কেনার ‘অভিযান’ শুরু করে।

কিন্তু ধানচাষিরা ধোঁকা খান। খাদ্য বিভাগের লোকেরা তাঁদের বলেন, ‘তোমার ধান ভিজা’। সরকার বাহাদুর ‘ভেজা ধান’ কিনতে নারাজ। তাই ধানচাষিদের শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছে: ধানের আর্দ্রতার মাত্রা ১৪ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। কিন্তু ধানচাষির ধান শুকানোর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই; ধান রাখার জায়গাও কম। তাই তিনি ধান কাটার সঙ্গে সঙ্গেই তা বিক্রি করতে চান। এটা তাঁকে করতে হয় আরও এই কারণে যে ধান বিক্রি করেই সেচের পানির বকেয়া বিল শোধ করতে হবে, সার–কীটনাশকের দোকানির পাওনা শোধ করতে হবে; ধারকর্জ নেওয়া থাকলে তা–ও শোধ করতে হবে। সরকারের কাছে নির্ধারিত দামে বিক্রি করতে ব্যর্থ হলে চালকলমালিকদের কাছে কম দামে বিক্রি করা ছাড়া তঁাদের কোনো পথ থাকে না। চালকলের মালিকেরা সেই চাল নিজেদের চাতালে শুকিয়ে কিছু সরকারের কাছে বিক্রি করে বাকিটা চাল বানিয়ে বিক্রি করেন।বিজ্ঞাপন

এইভাবে তাঁদের দ্বারাই ধান–চালের বাজার নিয়ন্ত্রিত হয়। তাঁদের এই নিয়ন্ত্রণক্ষমতা এতই প্রবল যে সরকারকেও তা বেকায়দায় ফেলে দেয়। এবার সরকারের বেকায়দা অবস্থা স্পষ্ট হয়েছে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের সাম্প্রতিক বক্তব্যের মধ্য দিয়ে। তিনি বলেছেন, ধানের দাম কমলে চালের দামও কমানো উচিত। লক্ষ করুন, মন্ত্রী বলেননি ‘কমে যাওয়া উচিত’, বলেছেন ‘কমানো উচিত’। অর্থাৎ চালের দাম বাড়া কিংবা কমা বাজারের স্বতঃস্ফূর্ত আচরণের ওপর নির্ভরশীল নয়, চালকলমালিক ও চাল ব্যবসায়ীদের মর্জির ওপর নির্ভরশীল। মন্ত্রী তাঁদের হুমকি দিয়েছেন এই বলে, ‘এত দিন তাঁরা চাল বিক্রি করে অতিরিক্ত মুনাফা করেছেন। এখনো যদি তাঁরা চালের দাম না কমান, তাহলে সরকার এ ব্যাপারে কঠোর হবে।’

চালের দাম যে অস্বাভাবিক মাত্রায় বেড়েছে, তা যদি মন্ত্রীর এই হুমকির পরেও না কমে, তাহলে সরকার কীরূপে কঠোরতা প্রদর্শন করবে, সে ব্যাপারে আমরা কৌতূহলী। এই ফাঁকে বলি, ধানচাষিদের দুর্দশা লাঘব করার আন্তরিক ও ফলপ্রসূ পদক্ষেপ যত দিন পর্যন্ত নেওয়া না হচ্ছে, তত দিন সরকারের কোনো কঠোর পদক্ষেপেই চালকলমালিকদের দৌরাত্ম্য থামবে না। ধানচাষিদের দুর্দশা লাঘবের উপায় সরকারের নির্ধারিত দামে সরাসরি তাদের কাছ থেকেই ধান কেনার চলমান অকার্যকর ব্যবস্থাটি কার্যকর করা। সে জন্য ধানের ন্যূনতম আর্দ্রতার শর্ত তুলে নেওয়া এবং সরকারি খাদ্যগুদামগুলোতে পর্যাপ্তসংখ্যক ধান শুকানোর যন্ত্রের ব্যবস্থা করা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

খাতা-কলম ও মাঠের চিত্রে ‘মিলছে না’ চাল উৎপাদনের হিসাব

চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে আমদানি শুল্ক কমিয়ে দিয়েছে সরকার

কৃষি বিভাগের দাবি, চাল উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ, চাহিদার চেয়ে বেশি উৎপাদন হচ্ছে। কিন্তু মাঝে মাঝেই অস্থির হয়ে উঠছে চালের বাজার। লাগামহীন চালের দাম দুর্ভোগে ফেলছে সাধারণ মানুষকে। তাই চাল উৎপাদনের তথ্য নিয়ে ‘প্রশ্ন’ উঠেছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, চাহিদার চেয়ে উৎপাদন বেশি হলে কেন চাল আমদানিতে যেতে হচ্ছে? মাঠ পর্যায় থেকে ফসল উৎপাদনের সঠিক চিত্র আসছে না বলে সম্প্রতি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কৃষি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাঠ পর্যায় থেকে নমুনা নিয়ে তারা উৎপাদনের তথ্য দেন। যদিও লোকবলের সংকট আছে। করোনাভাইরাসের কারণে তারা এবার মাঠ পর্যায়ে সেভাবে যেতে পারেননি। চালের চাহিদার তথ্য সঠিক না হলে প্রকৃত উৎপাদনের তথ্য দিয়েও সঠিক চিত্র পাওয়া যাবে না বলেও জানিয়েছেন তারা।

গত বছরের আগস্টে চালের মজুত নিয়ে এক সেমিনারে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) পূর্বাভাস দিয়েছিল, চাহিদা মেটানোর পরও সাড়ে ৫৫ লাখ টন চাল উদ্বৃত্ত থাকবে। নভেম্বরের (২০২০ সালের) মধ্যে আউশ ও আমনের উৎপাদন যুক্ত হলে খাদ্য ঘাটতির কোনো আশঙ্কায় থাকবে না।

পরে ডিসেম্বরে ব্রি এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানায়, দেশের অভ্যন্তরীণ খাদ্য চাহিদা পূরণ করেও আগামী বছরের (২০২১) জুন পর্যন্ত  কমপক্ষে ৩০ লাখ টন চাল উদ্বৃত্ত থাকবে। একই সঙ্গে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোও (বিবিএস) উৎপাদনের তথ্য দেয়।

চলতি মৌসুমে এক কোটি ৫৬ লাখ টন আমন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার কথা জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। কিন্তু এবার আমনের ভর মৌসুমে মোটা চালের কেজিপ্রতি দাম ৫০ টাকায় পৌঁছেছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে চাল আমদানি শুল্ক কমিয়ে দেয়া হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারিভাবে চাল আমদানি করা হচ্ছে ।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার জাগো নিউজকে বলেন, ‘কৃষি মন্ত্রণালয় বলেন আর বিসিএস-ই বলেন, তারা প্রতি জেলায় ৫ কাঠা, ১০ কাঠার ডেমোনেস্ট্রেশন (প্রদর্শন) ফার্ম করেন, প্লট করেন। সেই প্লটে যে প্রোডাকশন হয়, এর ওপরই তারা হিসাব দিয়ে দেয়। এই হিসাবে তো আমাদের চলবে না।’

উৎপাদনের যে হিসাব আসছে তা সঠিক কি-না, এ বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি তা জোর গলায় বলব না। সেটা এগ্রিকালচার ও বিসিএসই বলুক।’

মাঠ প্রশাসন থেকে চাল উৎপাদনের সঠিক তথ্য না দেয়ার অভিযোগ

গত ৭ জানুয়ারি কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মাঠ প্রশাসন থেকে চাল উৎপাদনের বিষয়ে সরকারকে সঠিক তথ্য না দেয়ার অভিযোগ ওঠে। অসম্পূর্ণ বা ত্রুটিপূর্ণ তথ্যের কারণে সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে বলে জানান স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ময়মনসিংহ-৯ আসনের সাংসদ আনোয়ারুল আবেদীন খান জাগো নিউজকে বলেন, ‘গত মিটিংয়ে এটা (উৎপাদনের ত্রুটিপূর্ণ তথ্য) নিয়ে কথা হয়েছে। মাঠ থেকে যে তথ্য আসে সেই তথ্যের সাথে বাস্তবের অমিল খুঁজে পেয়েছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এ কারণে কমিটির সভাপতি (মতিয়া চৌধুরী) ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বাস্তব ও মাঠের চিত্রের মধ্যে অনেক অমিল, এটা ঠিক রাখার চেষ্টা করুন। এত চাল উদ্বৃত্তের কথা যদি আপনারা বলেন, তবে সরকারকে চাল আমদানি করতে হবে কেন? পরবর্তী সময় এটা যাতে আর না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য বলেছেন তিনি (সভাপতি)।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমিও মনে করি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরসহ যারা আছে তারা আসলে উৎপাদনের বিষয়ে সঠিক তথ্য দেয়নি। উদ্বৃত্তের কথা বলা হচ্ছে আবার কিনতে হচ্ছে, কথা তো দিনরাত তফাৎ হয়ে গেল! এ বিষয়টি এবার ধরা পড়ল।’

অনেক ব্যবসায়ী লাভের আশায় ধান ধরে রাখছেন

উৎপাদনের তথ্যের বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের জনবল সঙ্কট রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে আমরা সঠিক হিসাব দেয়ার চেষ্টা করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমনের উৎপাদনের হিসাব এখনও আমরা চূড়ান্ত করিনি। ফসল কাটা এখনও শেষ হয়নি। এবার উৎপাদন তো কম হবেই, বন্যায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে– এটা তো আমরা বলেছি। এক লাখ ৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এবার আমনে এক কোটি ৪০ থেকে ৪২ লাখ টন চাল উৎপাদন হতে পারে বলে আমরা মনে করছি। আমাদের হিসাবের পর আবার বিসিএসের সঙ্গে মিলিয়ে থাকি।’

মহাপরিচালক বলেন, ‘আমরা একভাবে রিপোর্ট তৈরি করি, বিবিএস আরেকভাবে করে। আমাদের স্যাম্পল (নমুনা) নেয়ার পরিমাণ বেশি, কারণ আমাদের মাঠ পর্যায়ে লোক আছে। স্যাম্পল বেশি নেয়ার কারণে আমাদের হিসাবটা যুক্তিসঙ্গত মনে করি।’

আসাদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা এই (উৎপাদনের হিসাব) প্রক্রিয়াটায় আরও কাজ করব। যাতে আরও বেশি স্যাম্পল নিয়ে অ্যাভারেজ (গড়) করে উৎপাদনের হিসাবটা দিতে পারি।’

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘উৎপাদন বেশি হলেই যে চালের দাম বাড়বে না, এমন তো কোনো কথা নেই। মজুত করেও তো দাম বাড়ানো যায়। মজুতের মাধ্যমে বাজারে চালের সরবরাহ কমে গেলে দাম বেড়ে যাবে। অনেকে লাভের আশায় ধান ধরে রাখছেন। এটা তো একটা ফ্যাক্ট।’

চাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ায় আমদানি নিয়ে প্রশ্ন

ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের উৎপাদনের হিসাবের প্রক্রিয়া তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘নমুনা হিসেবে কিছু কৃষকের সঙ্গে কথা বলি– এক বিঘা জমিতে কত মণ ধান হয়েছে। আমরা ১০-১২ জন মানুষ আমাদের পক্ষে তো সারাদেশে যাওয়া সম্ভব নয়। যাদের কাছ থেকে তথ্য নিচ্ছি তারা যদি ভুল তথ্য দেয় সেটা ধরা তো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ও পরিসংখ্যান ব্যুরো থেকে তথ্য নেই। কোথাও ফোনে কথা বলি। আমরা কোনো কোনো স্থানে ধান কেটে মেপে, ময়েশ্চার অ্যাডজাস্ট করে হিসাব করি। এবার করোনার কারণে তো মাঠ পর্যায়ে যাওয়া যায়নি, অনলাইনে কাজ করতে হয়েছে।’

সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘জনসংখ্যা যেটা ধরে হিসাব করি, প্রকৃত সংখ্যা সেটার থেকে বেশি হলেও সমস্যা থাকবে, হিসাব মেলানো যাবে না। এবার আমনের উৎপাদন কম হয়েছে এটা সরকার স্বীকৃত। ১০ শতাংশ কম হলেও ১৫ লাখ টন কম হবে। যেটুকু নষ্ট হয় তা বাদ দিলেও তো খাদ্যের অভাব হওয়ার কথা নয়।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন প্রতিজন ৩৬৭ গ্রাম চাল খায়। করোনার কারণে অনেক মানুষ বিদেশ থেকে এসেছে। তারা খাচ্ছে। জনসংখ্যার হিসাব অনেক দিন আগের। হিসাব ঠিকঠাক থাকলে ২০ থেকে ২৫ লাখ টন খাবার উদ্বৃত্ত থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

রাবার তৈরি হয় যেভাবে

শেখ আনোয়ার
রাবারের ব্যাপারে মানুষ শুরু থেকেই উৎসুক ছিল। কারণ রাবার হলো ওয়াটার প্রুফ। পানি চোয়ায় না। টেনে লম্বা করা যায়। তাপে গলিয়ে যে কোনো আকৃতিতে পরিণত করা সম্ভব। প্রথমদিকে রাবার ব্যবহারে কতগুলো মৌলিক অসুবিধা ছিল। যেমন- ঠান্ডা আবহাওয়ায় রাবার শক্ত হয়ে সংকুচিত হয়। আবার গরমে গলে নরম আঠালো হয়ে যায়।

রাবার থেকে তৈরি জিনিস ২৪ ঘণ্টার বেশি ব্যবহার করা যেত না। হাজার হাজার বছর ধরে মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার মানুষ বিভিন্ন আকারের রাবারের জিনিস তৈরি করতো। এর মধ্যে ছিল জুতা, বল, পানি ধারক পিপাসা নিবারনী আলখাল্লা ইত্যাদি।

রাবার পাওয়া যায়, রাবার গাছের রস থেকে। এ রস দেখতে সাদা। একদম দুধের মতো। রাবার গাছের সাদা কষ রাবারের মূল উপাদান। রাবারের এ কষকে বলা হয় সাদা সোনা। রাবার গাছ জন্মে পৃথিবীর নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের দেশগুলোতে।

বাংলাদেশের মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের ভাটেরা, সাতগাঁও শাহজীবাজার ও রূপাইছড়া রাবার বাগান রয়েছে। রাবার গাছের কাণ্ড চেছে কাঠের অংশটি ছিলে দেয়া হয়। সেই চাছা অংশ থেকে রস টপ টপ করে পড়তে থাকে। দেখা যায় যে, চাছা অংশে যদি একটি কাঠি পুতে দেয়া হয়, তবে রস ফোঁটায় ফোঁটায় পরতে থাকে। রস এভাবে সংগ্রহ করাটিই উত্তম।

রাবার আবিষ্কার হওয়ার পর এবং তরল রাবারকে শক্ত করার পদ্ধতিও বের করে মানুষ। এদিকে শক্ত রাবারকে ইউরোপীয়রা পুনরায় তরলে পরিণত করার একটি উপায়ের কথা ভাবতে শুরু করে। ক’দিন আগেও ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট আলোকিত করার জন্য ব্যবহার করা হতো কয়লা গ্যাস। এর প্রধান উপজাত হলো ন্যাফথা।

ন্যাফতা শক্ত রাবারকে গলে দেয় এবং রাবারকে তরল করে। চার্লস স্যাকিনটোল দু’টুকরো কাপড়ের মাঝখানে তরল রাবারের দ্রবণ সেটে সে সময় সুন্দর রেইনকোট বানান। যদিও এই রেইনকোট খুব ভারি এবং শক্ত ছিলো। তবে এটিই হলো পৃথিবীর প্রথম রেইনকোট বা বর্ষাতি।

এই সময় লন্ডনে, টমাস হ্যানকক দক্ষিণ আমেরিকা থেকে কিছু রাবার সংগ্রহ করেন। সে রাবার দিয়ে তিনি রাবার ব্যান্ড, দস্তানা, বুট জুতা ইত্যদির সম্প্রসারণ (ইলাস্টিক) অংশগুলো তৈরি করেন। তবে রাবার তাপে গরম করলে বা পুনরায় তরল করলে আগের যে শক্তি তা নষ্ট হয়ে যেতো এবং বিকৃত হতো তাড়াতাড়ি।

তাই রাবারকে অনেককাল পর্যন্ত নানাভাবে রদবদল করলেও কি করে শক্ত, মজবুত, মসৃণ, সম্প্রসারণশীল, আঠালো, অর্থাৎ এর স্বাভাবিক গুণাবলী অক্ষুণ্ন রাখা যায় এ নিয়ে ভাবনা-চিন্তা শুরু হলো।

আমেরিকায় ওভারশু প্রচলন হবার পর আমাজানের ভারতীয়রা ওইসব ওভারশু তৈরি করে রফতানি করতো। খুব শিগগিরই পানি নিরোধী কোট, জীবন রক্ষাকারী টিউব, ওয়াগনের ঢাকনা, হোস পাইপ ইত্যাদিও রাবার দিয়ে তৈরি শুরু হলো। বাজার ছেয়ে গেলো রাবারের জিনিসে। তবে রাবার শক্ত হওয়া, আঠালো, চটচটে, বিশ্রী গন্ধ ইত্যাদি সমস্যা কিন্তু তখনো ছিলো।

গরম ঠান্ডায় রাবারের দোষগুলো কাটিয়ে নেয়ার উপায় বের করার চেষ্টা বিভিন্ন সময়ে নানানজন করেছেন। চার্লস গুডইয়ার হলেন এদের মধ্যে সবচে সার্থক। গুডইয়ারের কথা বলবার আগে অন্যান্যদের কথা কিছু বলে নেয়া উচিত।

চার্লস গুডইয়ার নিউইয়র্কের এক দোকানে একদিন রাবারের তৈরি লাইফ প্রিজারভার দেখেন। জিনিসটি তার খুব ভালো লাগলো। এটি আরো উন্নত করার জন্য উন্নতমানের একটি ভাল্ব তৈরি করে দোকানদারকে দেন। গুডইয়ারের আর্থিক অবস্থা তখন খুব খারাপ। ভেবেছিলেন এ থেকে কিছু পয়সা পাবেন। কিন্তু দোকানদার গুডইয়ারকে বললো, রাবারই ভালো নয়, তো ভালো ভাল্ব দিয়ে কি হবে?

সেই থেকে শুরু। গুডইয়ার রাবার স্বাভাবিক গুণাবলি অক্ষুণ্ন রাখার কৌশল আবিষ্কারে মনোনিবেশ করলেন। রসায়নের কোনো জ্ঞান তার নেই। যন্ত্রপাতি সমন্ধেও কোনো ধারণা নেই। সবচে বেশি যা দরকার- টাকা। তাও নেই তার। তবু চললো গবেষণা।

পরবর্তী পাঁচ বছরে বিস্তর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলেন। নানা রকম বাঁধা বিপত্তির পর নিজের একক প্রচেষ্টায় রাবার সমস্যার সমাধান করলেন। নিজের আবিষ্কারকে বললেন, মেটালিক গাম ইলাস্টিক। এটিই পরবর্তীকালে ভলকানাইজেশন নামে পরিচিত হয়। অগ্নিদেবতার নাম ভলকান। তার থেকেই এই নামের উৎপত্তি।

ভলকানাইজিং আবিষ্কার হবার পর রাবার থেকে বুট জুতা, কাপড়, ডাক্তারি যন্ত্রপাতি, প্রকৌশল যন্ত্রপাতি ইত্যাদিসহ গাড়ির টায়ার সবই তৈরি সহজ হয়ে গেলো। সেই থেকে শুরু। এখনো গুডইয়ারের ভলকানইজড রাবার সেরা রাবার হিসেবে বিখ্যাত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

সাব-লিজ দেয়া যাবে না সরকারি জমি

সরকারের কাছ থেকে নেয়া লিজের জমি সাব-লিজ দেয়া যাবে না। একইসঙ্গে জমির শ্রেণি, আকার, প্রকারেও কোনো ধরনের পরিবর্তন আনা যাবে না।

এমন নিয়ম রেখে গত ৬ জানুয়ারি সংশোধিত ‘অর্পিত সম্পত্তির অস্থায়ী ইজারার সালামির হার পুনঃনির্ধারণ’ বিষয়ক পরিপত্র জারি করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

সংশোধিত পরিপত্রে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে ইজারাকৃত প্রত্যর্পণযোগ্য অর্পিত সম্পত্তি মেরামতের ক্ষেত্রে ইজারা গ্রহীতা জেলা প্রশাসক/উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতিক্রমে অবকাঠামোর কোনোরূপ পরিবর্তন না করে অথবা কোনো নতুন স্থাপনা নির্মাণ না করে নিজ ব্যয়ে বর্তমান স্থাপনার প্রয়োজনীয় মেরামত কাজ করতে পারবেন। তবে মেরামত বাবদ সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির বার্ষিক ইজারার টাকার সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ ব্যয় করা যাবে।

‘অর্পিত বাড়ি-ঘরের সালামি বর্গফুট নির্ধারণের হার বহাল থাকবে। তবে বাড়ি ঘরের অবস্থা ও অবস্থান বিবেচনা করে নির্ধারিত ভাড়ার সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ কম-বেশি করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের সুনির্দিষ্ট যৌক্তিকতা, ব্যাখ্যাসহ সুপারিশ বিভাগীয় কমিশনারের অনুমোদিত হতে হবে এবং ভূমি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে হবে।’

এতে আরও বলা হয়, খালি জমি ইজারা নেয়ার পর জেলা প্রশাসকের অনুমোদন নিয়ে নিজ খরচে ঘর উঠালে সেক্ষেত্রে ওই খালি জমির নির্ধারিত ইজারা মূল্যের সঙ্গে অবকাঠামোর জন্য নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত হিসেবে আরও ২০ শতাংশ ইজারা গ্রহীতাকে পরিশোধ করতে হবে।

লিজ-গ্রহীতা ও জেলা প্রশাসকদের মতামতের ভিত্তিতে সালামির অর্থ আদায়যোগ্য এবং জনবান্ধব করতে ভূমি মন্ত্রণালয় অর্পিত সম্পত্তি বিষয়ে কতিপয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এর ভিত্তিতে ভূমি মন্ত্রণালয় ২০১৯ সালের ৩ ডিসেম্বর ‘অর্পিত সম্পত্তির অস্থায়ী ভিত্তিতে ইজারার সালামির হার পুনঃনির্ধারণ’ বিষয়ক পরিপত্র জারি করে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com