আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

মৎস্য

মাছ উৎপাদন বেড়ে ৪৩ লাখ মেট্রিক টন

ঢাকা: এক বছরের ব্যবধানে দেশে মাছ, গরু ও ছাগলের উৎপাদন আরও বেড়েছে। দেশে বর্তমানে উৎপাদিত মাছের পরিমাণ ৪২.৭৭ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ মাছ মোট ৩৬.২২ লাখ মেট্রিক টন ও সামুদ্রিক মাছ ৬.৫৫ লাখ মেট্রিক টন। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ৪১.৩৪ লাখ মেট্রিক টন। 

দেশে মাছ উৎপাদনের পরিমাণ আরও বাড়াতে কয়েকটি ভ্যাসেল কেনার পরিকল্পনা করছে মৎস্য অধিদপ্তর। এর মাধ্যমে গভীর সমুদ্র থেকে বেশি পরিমাণে টুনা মাছ আহরণ করা হবে।

এ ব্যাপারে নতুন প্রকল্প হাতে নিতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর।

এ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ)  রমজান আলী বাংলানিউজকে বলেন, সামনে দেশে মাছের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি করা হবে। এ জন্য আমরা বেশকিছু প্রকল্প হাতে নিতে যাচ্ছি। বর্তমানে অভ্যন্তরীণ মাছ উৎপাদনের পরিমাণ বেশি।   সামুদ্রিক মাছ বলতে উপকূলীয় এলাকা থেকে উৎপাদিত মাছ।  আমরা এখন গভীর সমুদ্রে থেকে সরকারিভাবে টুনা মাছ আহ্রণের ব্যাপারে ভাবছি। এতে করে দেশে মোট মাছ উৎপাদনের পরিমাণ আরও বাড়বে। এ জন্য কয়েকটি ভ্যাসেলও কেনা হবে।                        

 মৎস্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এ দেশে মাছে-ভাতে বাঙালি প্রবাদটি এসেছিল মৎস্য সম্পদের প্রাচুর্য থাকার কারণে। বর্তমান বিশ্বে মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। বিশ্ব খাদ্য সংস্থা পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২২ সাল নাগাদ বিশ্বের যে চারটি দেশ মাছ চাষে বিপুল সাফল্য অর্জন করবে তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। জাটকা সংরক্ষণসহ সরকারের নানা উদ্যোগের ফলে দেশে বর্তমানে ইলিশ মাছের পরিমাণ বেড়েছে।  

সূত্র জানায়, দেশে মোট উৎপাদিত মাছের মধ্যে চাষকৃত মাছের পরিমাণ ২৪ লাখ মেট্রিক টন।  এর মধ্যে পুকুরে সব থেকে বেশি ১৯ লাখ মেট্রিক টন মাছ চাষ হয়। এরপরই রয়েছে প্লাবনভূমি থেকে উৎপাদিত মাছ রয়েছে সাড়ে ৭ লাখ মেট্রিক টন।   এছাড়া নদীর মোহনায় ৩.২১, সুন্দরবনে ০.১৮, বিলে ১, কাপ্তাই লেকে ০.১০,  মৌসুমি মাছ চাষ ২.১৬ ও চিংড়ি ঘেরে আড়াই লাখ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন করা হয়েছে। এর বাইরে উপকূলীয় এলাকায় ৫.২৯ মেট্রিক টন মাছ চাষ হয়েছে। এছাড়া বাওড়, হাওর, খাঁচা ও পেন কালচারে মাছ চাষ বাড়ছে।

এদিকে দেশে প্রচুর পরিমাণে গবাদি পশু ও হাস-মুরগির উৎপাদন বেড়েছে বলে জানিয়েছে  প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। গবাদি পশু থেকে মাংস ও দুধের চাহিদা পূরণ হয়।

প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, দেশে বর্তমানে মোট গবাদিপশুর সংখ্যা  (গরু ও ছাগল) ২ কোটি ৯২ লাখ ৬ হাজার।  ২০০৮ সালের শুমারিতে এ সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৬২ লাখ ১৯ হাজার। এছাড়া ১৯৯৬ সালে দেশে ২ কোটি ২২ লাখ, ১৯৮৪ সালে ২ কোটি ২০ লাখ ও ১৯৭৭ সালে ২ কোটি ৫ লাখ গবাদিপশু ছিল।  

সূত্র আরও জানায়, দেশে বর্তমানে ভেড়া ও ছাগলের সংখ্যা ২ কোটি ১ লাখ ৮০ হাজার। ২০০৮ সালের শুমারিতে এ সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৭৬ হাজার।

এছাড়া বর্তমানে দেশে মোরগ-মুরগী ও হাঁসের সংখ্যা ২৫ কোটি ৮২ লাখ ৩৮ হাজার। ২০০৮ সালের শুমারিতে এই সংখ্যা ছিল ১৩ কোটি ৭২ লাখ ৪৩ হাজার। খামারে গবাদিপশু, হাঁস, মুরগির চাষ ও উন্নত জাত উদ্ভাবন এ উৎপাদন বৃদ্ধির প্রধান কারণ বলে জানায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।  এর ফলে দেশে ডিম, দুধ, ও মাংস সহজলভ্য হয়েছে বলেও জানায় তারা।   

মৎস্য

চট্টগ্রামের হালদাতে নদীতে নমুনা ডিম ছেড়েছে মা মাছ

চট্টগ্রাম, ২৫ মে (ইউএনবি)- দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে মা মাছ নমুনা ডিম ছেড়েছে। শনিবার ভোর থেকে ডিম আহরণকারীরা ডিম সংগ্রহ শুরু করছেন। শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে বজ্রসহ প্রবল বর্ষণ শুরু হলে নদীর পাড়ে অবস্থান নেন ডিম আহরণকারীরা। ভারি বর্ষণের ফলে হালদার সঙ্গে সংযুক্ত খাল, ছরা ও নদীতে ঢলের সৃষ্টি হয় এবং রুইজাতীয় (রুই, মৃগেল, কাতল, কালবাউশ) মাছ নমুনা ডিম ছাড়ে। সাধারণত, চৈত্র ও বৈশাখ মাসে প্রবল বর্ষণ হলে মা মাছ ডিম ছাড়ে। কিন্তু এবার বৃষ্টির পরিমাণ কম থাকায় ঢলের প্রকোপ হয়নি। বৈশাখ মাসের মাঝামাঝিতে নদীতে মা মাছ নগন্য পরিমাণ ডিম ছেড়েছিল। মা মাছ সাধারণত অমাবস্যা, অষ্টমী ও পূর্ণিমা তিথিতে নদীতে ডিম ছাড়ে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মা মাছ সংরক্ষণ, ডিম থেকে রেণু তৈরির কুয়া সংস্কার, কুয়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থাসহ নানা উদ্যোগের কারণে হালদায় ডিম সংগ্রহের পরিমাণ এবার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। হালদা থেকে ২০১৮ সালে ২২ হাজার ৬৮০ কেজি, ২০১৭ সালে ১ হাজার ৬৮০ কেজি, ২০১৬ সালে ৭৩৫ (নমুনা ডিম) কেজি, ২০১৫ সালে ২ হাজার ৮০০ কেজি এবং ২০১৪ সালে ১৬ হাজার ৫০০ কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়। হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন জানান, দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা। এটি আমাদের জাতীয় সম্পদ। এ কারণে ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই হালদাকে গুরুত্ব দিয়ে নানা উদ্যোগ নিই। তিনি বলেন, ডিম সংগ্রহকারীরা যাতে ভালো ডিম সংগ্রহ করতে পারেন এ জন্য মা মাছ সংরক্ষণের উপর জোর দিই। ইঞ্জিনচালিত নৌকা জব্দ, নিষিদ্ধ জাল ধ্বংসসহ হালদার দূষণ কমাতে নিয়মিত অভিযান চালাই। ডিম থেকে রেণু তৈরির কুয়াগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নিই। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ব্যবস্থা করি। তিনি আরও বলেন, মাছুয়া ঝর্ণা, শাহ মাদারি এবং মদুনা ঘাটসহ ৩টি হ্যাচারির ১০৮টি কংক্রিট ও ১০টি প্লাস্টিকের কুয়ায় হালদার ডিম সংরক্ষণের ব্যবস্থা ছিলো। তবে প্রায় ৫ বছর ধরে সংস্কারের অভাবে এসব কুয়ার ৪৫টি নষ্ট হয়ে যায়। নষ্ট হওয়া কুয়াগুলো সংস্কার করেছি আমরা। প্রয়োজন হলে আরও কুয়া তৈরি করে দেবে উপজেলা প্রশাসন- এ কথা জেলেদের বলেছি। হালদায় জেলেদের ডিম সংগ্রহে সর্বোচ্চ সহায়তা দিতে চাই আমরা।

চট্টগ্রাম, ২৫ মে (ইউএনবি)- দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে মা মাছ নমুনা ডিম ছেড়েছে। শনিবার ভোর থেকে ডিম আহরণকারীরা ডিম সংগ্রহ শুরু করছেন।

শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে বজ্রসহ প্রবল বর্ষণ শুরু হলে নদীর পাড়ে অবস্থান নেন ডিম আহরণকারীরা। ভারি বর্ষণের ফলে হালদার সঙ্গে সংযুক্ত খাল, ছরা ও নদীতে ঢলের সৃষ্টি হয় এবং রুইজাতীয় (রুই, মৃগেল, কাতল, কালবাউশ) মাছ নমুনা ডিম ছাড়ে।


সাধারণত, চৈত্র ও বৈশাখ মাসে প্রবল বর্ষণ হলে মা মাছ ডিম ছাড়ে। কিন্তু এবার বৃষ্টির পরিমাণ কম থাকায় ঢলের প্রকোপ হয়নি। বৈশাখ মাসের মাঝামাঝিতে নদীতে মা মাছ নগন্য পরিমাণ ডিম ছেড়েছিল। মা মাছ সাধারণত অমাবস্যা, অষ্টমী ও পূর্ণিমা তিথিতে নদীতে ডিম ছাড়ে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মা মাছ সংরক্ষণ, ডিম থেকে রেণু তৈরির কুয়া সংস্কার, কুয়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থাসহ নানা উদ্যোগের কারণে হালদায় ডিম সংগ্রহের পরিমাণ এবার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।


হালদা থেকে ২০১৮ সালে ২২ হাজার ৬৮০ কেজি, ২০১৭ সালে ১ হাজার ৬৮০ কেজি, ২০১৬ সালে ৭৩৫ (নমুনা ডিম) কেজি, ২০১৫ সালে ২ হাজার ৮০০ কেজি এবং ২০১৪ সালে ১৬ হাজার ৫০০ কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়।


হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন জানান, দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা। এটি আমাদের জাতীয় সম্পদ। এ কারণে ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই হালদাকে গুরুত্ব দিয়ে নানা উদ্যোগ নিই।

তিনি বলেন, ডিম সংগ্রহকারীরা যাতে ভালো ডিম সংগ্রহ করতে পারেন এ জন্য মা মাছ সংরক্ষণের উপর জোর দিই। ইঞ্জিনচালিত নৌকা জব্দ, নিষিদ্ধ জাল ধ্বংসসহ হালদার দূষণ কমাতে নিয়মিত অভিযান চালাই। ডিম থেকে রেণু তৈরির কুয়াগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নিই। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ব্যবস্থা করি।

তিনি আরও বলেন, মাছুয়া ঝর্ণা, শাহ মাদারি এবং মদুনা ঘাটসহ ৩টি হ্যাচারির ১০৮টি কংক্রিট ও ১০টি প্লাস্টিকের কুয়ায় হালদার ডিম সংরক্ষণের ব্যবস্থা ছিলো। তবে প্রায় ৫ বছর ধরে সংস্কারের অভাবে এসব কুয়ার ৪৫টি নষ্ট হয়ে যায়। নষ্ট হওয়া কুয়াগুলো সংস্কার করেছি আমরা। প্রয়োজন হলে আরও কুয়া তৈরি করে দেবে উপজেলা প্রশাসন- এ কথা জেলেদের বলেছি। হালদায় জেলেদের ডিম সংগ্রহে সর্বোচ্চ সহায়তা দিতে চাই আমরা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

দাম কমলো ভোজ্য তেলের

লেখক

ভোজ্য তেলের দাম প্রতি লিটারে ৩ টাকা কমানো হয়েছে। আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশন দাম হ্রাস করেছে। সে অনুযায়ী বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারের ৩ টাকা কমে হবে ১৪১ টাকা।
সোমবার সংগঠনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রোজা এবং করোনার এই সংকটে ভোক্তা সাধারণের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় অ্যাসোসিয়েশন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুরোধে ঈদ পর্যন্ত ভোজ্য তেলের দাম লিটারে ৩ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।


বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশন গত ২৫ এপ্রিল লিটারে ৫ টাকা দাম বৃদ্ধি করে। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে আজ দাম লিটারে ৩ টাকা কমানো হলো। ফলে ১৪৪ টাকার তেল এখন ১৪১ টাকায় পাওয়া যাবে।


সংগঠনটি বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে এর প্রভাব স্থানীয় বাজারে পড়েছে। তবে বাজার যেন কোনভাবে অস্থিতিশীল না হয়, এজন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় উৎপাদন, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি ও স্থানীয় বাজার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য হ্রাস/বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় বাজারে এর সমন্বয় করা হবে বলে তারা জানিয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

সৈয়দপুরে অর্গানিক কৈ মাছ বাজারজাত শুরু

লেখক

জেলার সৈয়দপুরে বাজারজাত শুরু হয়েছে অর্গানিকভাবে চাষকরা কৈ মাছ। রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়া কালচার (রাস) পদ্ধতিতে বানিজ্যিক চাষ করে ওই মাছ বাজারজাত করছে উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের মছে হাজীপাড়া গ্রামের জামান অ্যাকুয়া ফিশ ফার্ম। গতকাল বুধবার আনুষ্ঠানিক ওই বিক্রয় কার্যক্রম শুরু করে ফার্মটি।


ওই ফার্মের স্বত্ত্বাধিকারী মো. কামরুজ্জামান কনক জানান, রাস পদ্ধতিতে উৎপাদিত মাছ ট্যাঙ্কে চাষ করা হয়। এ মাছ চাষে কোন রকম রাসায়নিক প্রয়োগ করা হয় না। এর ফলে উৎপাদিত মাছ খেতে খুব সুস্বাদু ও দুর্গন্ধমুক্ত হয়।
তিনি বলেন, “চলতি বছরে আমরা বানিজ্যিক আকারে রাস পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু করেছি। গতকাল বুধবার থেকে উৎপাদিত ভিয়েতনামী জাতের কৈ মাছ আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্রি শুরু হয়েছে। সৈয়দপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সানী খান মজলিস বিক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন। এখন প্রতিদিন ফার্মে ও হোম ডেলিভারীর মাধ্যমে কৈ মাছের বিক্রি কার্যক্রম চলছে।


সৈয়দপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সানী খান মজলিস বলেন, “বর্তমানে দেশের মানুষের প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে রাস পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ পদ্ধতিতে অধিক ঘনত্বে মাছ চাষ করা যায়। পানি বার বার পরিশোধিত হয়ে মাছের জন্য উপযোগী করা হয়। এর ফলে পানি অপচয় হওয়ার সুযোগ নেই।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

পানিতে ব্যাকটেরিয়া: চিংড়ি হ্যাচারিতে শতকোটি টাকার লোকসান

বঙ্গোপসাগরের পানিতে হঠাত্ ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি দেখা দিয়েছে। এতে সাগরের পানি ব্যবহার করা কক্সবাজার ও সাতক্ষীরার পোনা উত্পাদনকারী চিংড়ি হ্যাচারিগুলোতেও শুরু হয়েছে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ। এতে গত দুই মাসে ব্যাকটেরিয়ায় মড়কের কবলে পড়ে ৫৯টি হ্যাচারিতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় শত কোটি টাকা মূল্যের পোনা। হ্যাচারি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংশ্লিষ্ট রিসার্চ সেন্টারগুলো আগেভাগেই সতর্ক করলে হয়তো এ ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হতো না।

লোকসানের কারণে এই মুহূর্তে পোনা উত্পাদনে যাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন হ্যাচারি মালিকরা। আবার ঘের চাষিদের কাছ থেকে পোনার চাহিদা থাকা সত্ত্বেও পোনা দিতে না পারায় রপ্তানিতেও প্রভাব পড়বে বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের।

কক্সবাজার সোনারপাড়ার ‘রাইসা ও মেরিগোল্ড হ্যাচারি’র ভাড়াটিয়া এবং সাতক্ষীরার ‘কক্সবাজার হ্যাচারি’র মালিক ও প্রধান টেকনেশিয়ান হারুন-অর-রশীদ বলেন, কক্সবাজার উপকূলে ৩২টি এবং সাতক্ষীরায় রয়েছে ২৭টি চিংড়ি পোনা হ্যাচারি। পোনা উত্পাদনে হ্যাচারিগুলোতে প্রবেশ করানো হয় সাগরের পানি, যা প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে মাদার চিংড়ি থেকে উত্পাদন করা হয় লাখ লাখ চিংড়ি পোনা। একবার প্রোডাকসনে গেলে ১ থেকে আড়াই কোটি টাকা ইনভেস্ট করতে হয় একেকটি হ্যাচারিকে। গত দুটি চালানেই উত্পাদিত চিংড়ি পোনায় মড়কের ‘খড়গ’ পড়েছে। এতে কোনো কোনো হ্যাচারি পুরো এবং কোনো হ্যাচারি অর্ধেক ক্ষতির মুখে পড়ে। সে হিসেবে হ্যাচারিগুলো গত দুই চালানে প্রায় শত কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়েছে।

তিনি আরো বলেন, জানুয়ারি থেকে হ্যাচারিগুলোতে চিংড়ি পোনা উত্পাদনের মৌসুম শুরু হয়েছে। প্রথম সার্কেল ভালোভাবে পোনা উত্পাদনের পর সাতক্ষীরা, যশোর ও খুলনা অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু হঠাত্ দ্বিতীয় ও তৃতীয় সার্কেলে প্রোডাকশনের জন্য সংগ্রহ করা সাগরের পানিতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি মিলেছে। এতে হ্যাচারিগুলোতে উত্পাদিত চিংড়ি পোনা মড়কের কবলে পড়েছে। প্রতিদিনই মারা যাচ্ছে লাখ লাখ পোনা।

টেকনেশিয়ান হারুনের মতে, হ্যাচারি শিল্পকে ভোগানো অণুজীবটি হলো ‘লুমিনাচ ব্যাকটেরিয়া’। একে ‘এলবি’ হিসেবে চেনে হ্যাচারি সংশ্লিষ্টরা। এই ব্যাকটেরিয়া খুবই মারাত্মক। এর প্রাদুর্ভাব হ্যাচারিতে হানা দিলে শতভাগ পোনা নষ্ট হয়ে যায়। দীর্ঘ বৃষ্টিহীনতায় সাগরের পানিতে লবণের মাত্রা বেশি হলে এ ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি বাড়ে। তখন শত চেষ্টা করেও পোনা টেকানো যায় না। যদি ভারী বৃষ্টিপাত হয়, আর সাগরের পানিতে লবণাক্ততা স্বাভাবিক হয়ে আসে তবে—এ ব্যাকটেরিয়া আপনা-আপনি চলে যাবে।

সোনারপাড়ায় বলাকা হ্যাচারির কর্মজীবী ইমাম হাসান বলেন, তৃতীয় সার্কেলে পোনা উত্পাদন করতে গিয়ে খরচ হয়েছে ২ কোটি টাকা। কিন্তু ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে সব পোনা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ইনভেস্টের সম্পূর্ণ টাকা লোকসান হয়েছে।

শ্রিম্প হ্যাচারি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (সেব) এর মহাসচিব মোহাম্মদ নজিবুল ইসলাম বলেন, লুমিনাচ ব্যাকটেরিয়া থেকে বাঁচতে অনেক পদক্ষেপ নিয়ে থাকে হ্যাচারিগুলো। কিন্তু ব্যাপকহারে ছড়িয়ে গেলে তখন কোনো পদক্ষেপ আর কাজে আসে না। তিনি বলেন, এফআরআই ও মেরিন রিসার্চ ইনস্টিটিউট নামে সরকারের দুটি রিসার্চ সেন্টার আছে। উপকূলে কী ধরনের ব্যাকটেরিয়া আছে, কখন কী ধরনের ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করে, তা হ্যাচারিগুলোকে আগেভাগেই জানিয়ে দিলে তখন হ্যাচারিগুলোর পদক্ষেপ নিতে সহজ হয়। কোনো ধরনের তথ্য না পাওয়ায় ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে চিংড়ি পোনা মড়কে পড়েছে। এতে হ্যাচারি শিল্পটা ধুঁকছে। এ কারণে চিংড়ি উত্পাদনে জাতীয়ভাবে ঘাটতি ও রপ্তানিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

কাপ্তাই হ্রদে তিন মাস মাছ ধরা বন্ধ

লেখক

রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে  শনিবার থেকে তিন মাসের জন্য মাছ ধরা ও বিপণন বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করতে এবং কার্প জাতীয় মাছ বাড়াতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) রাঙামাটি কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক কমান্ডার তৌহিদুল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসনের আদেশের মাধ্যমে তিন মাসের জন্য কাপ্তাই হ্রদের মাছ শিকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। হ্রদে অবৈধ ব্যবসায়ী ও জেলেরা যাতে মাছ শিকার করতে না পারে, এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বিএফডিসি। 

তিনি আরও জানান, হ্রদে কার্প জাতীয় মাছের বংশবৃদ্ধি, অবমুক্ত করা মাছের পোনার সুষ্ঠু বৃদ্ধি, মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিতকরণসহ হ্রদের প্রাকৃতিক পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বরাবরের মতো এ বছরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান জানান, ১ মে থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এ ছাড়া মাছ শিকার বন্ধকালীন হ্রদের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ২২ হাজার জেলের জন্য ভিজিএফ কার্ডের চাল বিতরণ কার্যক্রম নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com