আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

ভাগনা মাছের পোনা উৎপাদনে বাকৃবি গবেষকদের সফলতা

ভাগনা মাছের পোনা উৎপাদনে বাকৃবি গবেষকদের সফলতা

লাইন ব্রিডিং কৌশলের মাধ্যমে দেশীয় সুস্বাদু ভাগনা মাছের পোনা উৎপাদন ও জাত উন্নয়নে সফলতা পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্বদ্যিালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক। দীর্ঘ তিন বছরের গবেষণায় মাৎস্যজ্ঞিান অনুষদের বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এ.কে. শাকুর আহম্মদ এবং অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ গোলাম কাদের খান এ সফলতা অর্জন করেন।

কৃষি গবেষণা কাউন্সিল ও ন্যাশনাল এগ্রো টেকনোলজি ফেইজ-২ এর আর্থিক সহায়তায় গবেষণাটি সম্পন্ন হয়। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় অনুষদীয় চেম্বারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

লাইন ব্রিডিং এমন একটি পদ্ধতি যেখানে একটি মাছকে তার বংশধরদের সঙ্গে ক্রস করানো হয়। ঐতিহ্যগতভাবে একটি পুরুষ মাছকে অনেকগুলো মহিলা মাছের সঙ্গে প্রজনন ঘটানো হয়। লাইন ব্রিডিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে বিভিন্ন স্টকের মধ্য থেকে উচ্চ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ভাগনা মাছ আবিষ্কার করে পরবর্তী জেনারেশনে বংশধরদের মাঝে তাদের জিনগত অবদান বাড়ানো যায়। যা ভাগনা মাছের জাত উন্নয়নে সহায়ক। পাশাপাশি বিভিন্ন লাইনের মধ্যে প্রজনন ঘটিয়ে প্রজাতির মধ্যে জিনগত বৈচিত্রতা রক্ষা করা যায়। ভাগনা মাছের জাত উন্নয়নে লাইন ব্রিডিং একটি অতি প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ কৌশল।

ভাগনা মাছের বৈজ্ঞানিক নাম (Labeo ariza, Hamilton 1807)। ছোট কার্প জাতীয় মাছগুলোর মধ্যে ভাগনা একটি অন্যতম জনপ্রিয় মাছ। এটি বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত। বাংলাদেশের আত্রাই, যমুনা, কংস, ও ব্রহ্মপুত্র নদীতে এই মাছটি পাওয়া যায়।

ভাগনা মাছটি বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন নামে পরিচিত। যেমন ভাংগন বাটা, ভাগনা, ভাংগন, ভাগনা বাটা ইত্যাদি। মাছটি আকারে ৩০ সেমি এবং ওজনে প্রায় ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়। এরা পুকুরের তলার খাদক। কম বয়সে এরা জুওপ্ল্যাংটন এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সব খাবারই খায়। বর্তমান মাছটির বাজারমূল্য ৫০০টাকা কেজি।

ভাগনা মাছটি উচ্চ পুষ্টিগুণ সম্পন্ন। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট রয়েছে। তাই এরা খেতে অনেক সুস্বাদু। অতীতকাল থেকেই ভাগনা মাছটি বাংলার মানুষের কাছে একটি স্বাদের মাছ হিসেবেই পরিচিত।

বর্তমান সময়ে প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট কারণে ভাগনা মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। প্রাকৃতিক উৎস থেকে অধিক পরিমাণে আহরণ, বাসস্থান ধ্বংস এবং ইকোলজিক্যাল পরিবর্তনের কারণে এই মাছটি এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ভাগনা মাছ ৬০ দিন চাষের পর মাত্র ৩ গ্রাম ওজন লাভ করে। ভাগনার গ্রোথ প্যাটার্ন খুব ধীর প্রকৃতির। প্রাকৃতিক উৎসের ভাগনা মাছের গ্রোথ বদ্ধ উৎসের মাছের চেয়ে ভালো।

এই গবেষণায় বাংলাদেশের তিনটি নদী আত্রাই (দিনাজপুর), কংস (ময়মনসিংহ) এবং যমুনা (সিরাজগঞ্জ) থেকে প্রাকৃতিক ভাগনা মাছের পোনা জেলেদের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে তাদেরকে লালন পালন করে গোনাডাল ম্যাচুরেশনকে ত্বরান্বিত করা হয়। এরপর লাইন ব্রিডিংয়ের মাধ্যমে ভাগনা মাছের উচ্চ গুণাগুণ সম্পন্ন পোনা উৎপাদন করা হয়। গবেষণায় ৬টি লাইন তৈরি করা হয়। এরমধ্যে লাইন-৪ (কংস ও আত্রাই) এর দৈর্ঘ্য ও ওজন সবচেয়ে বেশি পাওযা যায়। বর্তমানে লাইন-৪ থেকেই উন্নতজাতের মা মাছ তৈরি করা হচ্ছে।

প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. এ.কে. শাকুর আহম্মদ বলেন, লাইন ব্রিডিং কৌশলে ভাগনা মাছের পোনা উৎপাদন এটিই বাংলাদেশে প্রথম। এই পদ্ধতির মাধ্যমে ভাগনা মাছকে সংরক্ষণ ও বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে হলে উচ্চ গুণসম্পন্ন পোনা উৎপাদনের কোনো বিকল্প নেই। দেশে আমিষের চাহিদা পূরণ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই মাছটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ভবিষতে অধিক সংখ্যক পোনা উৎপাদন করে দেশের উন্মুক্ত জলাশয় বিশেষ করে হাওড় অঞ্চলে ছাড়ার পরিকল্পনা আছে। এছাড়া এই চলমান গবেষণা সম্পন্ন হলে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন মৎস্য হ্যাচারিতে এ মাছ পৌঁছে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এগ্রোবিজ

মৌসুমি ফল অনলাইনে বিক্রি

মৌসুমি ফল অনলাইনে বিক্রি
মৌসুমি ফল অনলাইনে বিক্রি

কৃষকের বাগান ও খেতে পেকে ওঠা আম–লিচু ও তরমুজ যাতে নষ্ট না হয়, ফলগুলো যাতে দ্রুত ভোক্তাদের কাছে পৌঁছায়, সে জন্য বিপণনের নতুন এক কৌশল নিচ্ছে কৃষি মন্ত্রণালয়। ভোক্তা ও চাষিদের মধ্যে সংযোগ স্থাপনে প্রথমত হাটবাজারগুলোকে কাজে লাগানো হবে। সেই সঙ্গে এবার এ কাজে অনলাইন পণ্য বিপণনের প্ল্যাটফর্ম ও সুপারশপগুলোকে কাজে লাগানো হবে।

সম্মিলিত এ উদ্যোগ নিয়ে গতকাল শনিবার এক ব্যতিক্রমী সভার আয়োজন করে কৃষি মন্ত্রণালয়। সভায় সরকারের চারজন মন্ত্রী, ১৭ জন সাংসদ, সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, দেশের শীর্ষস্থানীয় ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ কোম্পানি, পরিবহনমালিক ও শ্রমিকনেতারা উপস্থিত ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জুমে অনুষ্ঠিত ওই সভায় প্রত্যেকেই কৃষক ও ভোক্তার মধ্যে সংযোগ স্থাপনে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও তরুণদের উদ্যোগে তৈরি হওয়া পণ্য বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

সভার শুরুতে কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বর্তমানে বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রভাবে বাংলাদেশের শাকসবজি ও মৌসুমি ফলসহ কৃষিপণ্যের পরিবহন এবং বাজারজাতকরণে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। কৃষকেরা তাঁদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিক্রি করতে পারছেন না। বড় শহরের বাজারে ক্রেতার আগমন প্রায় না থাকায় ও জনগণের আয় কমে যাওয়ায় বাজারে কৃষিপণ্যের চাহিদা হ্রাস পেয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কৃষিপণ্যের বিপণন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পাঠাও, চালডালের মতো পণ্য বিপণন প্রতিষ্ঠান, স্বপ্ন ও আগোরার মতো সুপারশপগুলোকে কাজে লাগানো হবে।

সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, ট্রাকসহ অন্যান্য পরিবহনের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করার উদ্যোগ নিতে হবে। ট্রাকের জ্বালানির ক্ষেত্রে ভর্তুকি দেওয়া যেতে পারে, যাতে ট্রাকের ভাড়া কম হয়। পুলিশ ব্যারাক, সেনাবাহিনীর ব্যারাক, হাসপাতাল, জেলখানাসহ বিভিন্ন সরকারি অফিসে কৃষকের কাছ থেকে আম কিনে সরবরাহ করা গেলে আমের বাজারজাতকরণে কোনো সমস্যা হবে না বলেও মনে করেন তিনি।

আম–লিচু নিয়ে চাষি ও ভোক্তার মধ্যে সংযোগ ঘটাবে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম।
পাঠাও, চালডাল, স্বপ্ন ও আগোরাকে কাজে লাগানো হবে।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, বিদেশি ফল যেমন আপেল, আঙুর প্রভৃতি আমদানি কমানোর পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, গত কয়েক বছরে আমের ভালো দাম না পাওয়ায় রাজশাহীতে আম চাষ কমে যাচ্ছে। ব্যবসায়ী ও ফড়িয়াদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে পরিচয়পত্র ইস্যু, তাঁদের যাতায়াতে হয়রানি কমানো, ব্যাংকের লেনদেনের সময়সীমা বাড়াতে হবে।

সভায় জানানো হয়, এ বছর ১ লাখ ৮৯ হাজার হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে এবং প্রত্যাশিত উৎপাদন ২২ লাখ ৩২ হাজার মেট্রিক টন ধরা হয়েছে। লিচুর আবাদ হয়েছে প্রায় ৩২ হাজার হে

ক্টর জমিতে এবং প্রত্যাশিত উৎপাদন ২ লাখ ৩২ হাজার মেট্রিক টন।

সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংস্থাপ্রধান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, দিনাজপুর ও সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক, দেশের শাকসবজি ও ফলমূল রপ্তানিকারক সমিতি, সুপারশপ মালিক সমিতি, আম-লিচু চাষি, ব্যবসায়ী ও আড়তদার এবং সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা সংযুক্ত ছিলেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

একমাত্র কৃষিই দুর্ভিক্ষ থেকে বাঁচাতে পারে: শেখ হাসিনা

একমাত্র কৃষিই দুর্ভিক্ষ থেকে বাঁচাতে পারে: শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনাভাইরাসের পর বিশ্বব্যাপী দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে বলে আন্তর্জাতিক সংস্থগুলো বলছে। তাই দুর্ভিক্ষের মহামারি যেন আমরা মোকাবিলা করতে পারি। 

এজন্য নিজে উদ্যেক্তা হয়ে যে যতটুকু পারেন চাষাবাদ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ যেন একখণ্ড জমি ফেলে না রাখে। খাদ্য একমাত্র সমাধান, কৃষিই একমাত্র বাঁচাতে পারে।

আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে রাজশাহী বিভাগের জেলাগুলোর করোনা মোকাবিলার প্রস্তুতি ও সবশেষ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন তিনি। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের যেন কোনো খাদ্য সমস্যা না হয় এজন্য ধান কাটার পর আমরা কোনো ফসল ফলাতে পারি সেটা দেখতে হবে। কেউ যেন একখণ্ড জমিও ফেলে না রাখে। তরকারি ফলমূল যা হোক উৎপাদন করা ও বাড়ির আঙিনায় যেখানেই পারেন চাষ করবেন। এজন্য করোনা মহামারির পর যে দুর্ভিক্ষের মহামারি দেখা দেবে তা যেন আমরা মোকাবিলা করতে পারি।

তিনি বলেন, এখন সবাই ঘরে বসে আছি, কাজেই একটু বাগান করা ও গাছ লাগাতে পারেন সবাই। আর রোদে করোনাভাইরাস বেশিক্ষণ টিকতে পারে না, এজন্য এটা স্বাস্থ্য রক্ষাও করবে। শুধু এখানে না অন্য দেশেও খাদ্য চাহিদা থাকলে আমরা যেন সরবরাহ করতে পারি।

তিনি আরো বলেন, এজন্য একমাত্র খাদ্য মানুষকে বাঁচাতে পারবে। খাদ্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যারা পোল্ট্রি-ডায়েরির ব্যবসা করেন, তারা এখন এসব বিক্রি করতে পারছেন না। এজন্য কম দামে বিক্রি করুন, ফেলে না দিয়ে দান করুন।

কিছু ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ তোলার আভাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেহেতু এখন কিছু কিছু ফসল উঠছে, এরপর ফসল লাগাতে হবে। কিছু কিছু জীবন যাপন আমাদের আস্তে আস্তে উন্মুক্ত করতে হবে। সেখানেও সবাই নিজেকে সুরক্ষিত রেখেই কাজ করবেন, সেটাই আমরা অনুরোধ করব।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

বাজারে নতুন চাল

রাজধানীর পাইকারি বাজারগুলোতে বোরো মৌসুমের চাল আসতে শুরু করেছে। নতুন এই চালের দাম তুলনামূলক কম। ফলে পুরোনো চালের দামও কমেছে।

খুচরা দোকানে এখন পুরোনো সরু মিনিকেট চাল ৫৬–৫৮ টাকা এবং বিআর আটাশ চাল ৪৬–৪৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

দেশে গত ৮ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পরে মানুষ আতঙ্কে কেনাকাটা শুরু করে। ফলে সরু মিনিকেট চাল ৬০–৬৪ টাকা কেজি দরেও বিক্রি হয়েছে, যা গত নভেম্বরেও ৪৬ টাকার আশপাশে ছিল।

তখন মাঝারি বিআর আটাশ ও সমজাতীয় চালের দাম উঠেছিল ৫০–৫৪ টাকায়। ৩২-৩৪ টাকার মোটা চাল উঠে যায় ৪০–৪২ টাকায়।

এখন খুচরা বাজারের তুলনায় মিল পর্যায়ে ও পাইকারি বাজারে দাম বেশি কমেছে। ঢাকার বাবুবাজার-বাদামতলী, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের চালের আড়তে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, নতুন মিনিকেট চাল ৪৯–৫২ টাকা, পুরোনো মিনিকেট ৫৩–৫৫ টাকা ও বিআর আটাশ ৪০–৪১ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

জানতে চাইলে মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের চিশতিয়া রাইস এজেন্সির নুরুল ইসলাম বলেন, মানুষ আগে থেকেই অনেক চাল কিনে রেখেছে। নতুন চাল এসে গেছে। চাহিদাও তেমন নেই। তাই দাম কমছে।

বাজারে চাহিদা বেশি হওয়ায় এবং সরকারি-বেসরকারিভাবে ত্রাণ হিসেবে বিতরণ করায় মোটা চালের দাম অবশ্য কমেনি। পাইকারি বাজারে মোটা চালের কেজি ৩৯–৪০ টাকা।

জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের বরিশাল রাইস এজেন্সির বিক্রেতা মহিউদ্দিন রাজা বলেন, সপ্তাহখানেক পর থেকেই নতুন চালের সরবরাহ অনেকটা বাড়বে।

তি বছর বোরো মৌসুমে বিপুল চাল উৎপাদিত হয়। সেটা বাজারে আসতে শুরু করলে দামও কমতে থাকে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছর বোরোতে দুই কোটি টনের বেশি চাল উৎপাদিত হবে, যা মোট চাহিদার ৫৫ শতাংশের বেশি। আউস ও আমন মিলে দেশে সাড়ে তিন কোটি টনের বেশি চাল উৎপাদিত হয়। হাওরে নতুন মৌসুমের ধান কাটা এখন শেষের পথে। তবে উত্তরবঙ্গের কোনো কোনো জায়গায় ধান কাটা শুরু হয়েছে।

পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম অনেকটাই কমেছে
এখন আবার সবজির দাম চড়া

এদিকে বাজারে গত এক সপ্তাহে পেঁয়াজ, রসুন, আদা, ভোজ্যতেল, ছোলা ও চিনির দাম কমেছে। এর মধ্যে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫৫ থেকে ৪৫ টাকা, চীনা রসুন ১৮০ থেকে ১৪০-১৬০ টাকা ও চীনা আদা ২০০ থেকে ১৬০ টাকায় নেমেছে। গত ১৫ দিনে আদার দাম অবশ্য কেজিতে প্রায় ২০০ টাকা কমল।

এ ছাড়া বাজারে প্রতি কেজি ছোলা ৫ টাকা কমে ৭০ ও ৭৫ টাকা হয়েছে। ৭০ টাকা কেজির চিনি বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা। খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৩–৫ টাকা কমে ৯০ টাকার আশপাশে বিক্রি হচ্ছে। দুটি কোম্পানির বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা কমেছে। তাদের এক লিটারের বোতলের দাম এখন ১০৫ টাকা।

এ সপ্তাহে আবার সবজির দাম বেশ চড়া। মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের পাইকারি বাজারে ভালো মানের লম্বা বেগুন ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কাজীপাড়া, মিরপুর ১০ নম্বর সেকশন ও সেনপাড়া এলাকার ছোট বাজার এবং ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের ভ্যানে বিভিন্ন সবজি ৪০–৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে দেখা যায়।

মুরগির দামও বেশ কম। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১২০ টাকার আশপাশে ও কক মুরগি ২২০ টাকায় বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। অবশ্য দেশি মুরগি ও গরুর মাংসের দাম চড়া। প্রতি কেজি দেশি মুরগি ৫০০ টাকা ও গরুর মাংস ৫৮০ টাকা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

মুরগির সরবরাহে টান, দাম লাফাচ্ছে

মুরগির সরবরাহে টান, দাম লাফাচ্ছে

রাজধানীর বাজারে যে ব্রয়লার মুরগির কেজি ১১০ টাকায় নেমেছিল, সেটা এখন ১৬০ টাকায় উঠেছে। হঠাৎ করে লাফিয়ে লাফিয়ে মূল্যবৃদ্ধির কারণ সরবরাহ–সংকট।

সাধারণ ছুটির শুরুর দিকে, অর্থাৎ মার্চ মাসের শেষ ও এপ্রিলের শুরুর দিকে খামারের মালিকেরা চাহিদা না থাকায় মুরগি ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি করেছিলেন। হ্যাচারির মালিকেরা এক দিনের বাচ্চা বিক্রি করতে না পেরে মেরে ফেলেছিলেন। এখন তৈরি হয়েছে ঘাটতি।

গাজীপুর এলাকার খামার পর্যায়েই ব্রয়লার মুরগির কেজিপ্রতি দর ১৩০ টাকা। এটা হাতবদল হয়ে ভোক্তার কাছে পৌঁছাচ্ছে ১৬০ টাকা কেজি দরে।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে বাজারে এখন ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা। এক মাসে দাম বেড়েছে ৪৩ শতাংশ।

পোলট্রি খামার রক্ষা জাতীয় পরিষদের সভাপতি ও গাজীপুরের শ্রীপুরের খামারি খন্দকার মো. মহসিন প্রথম আলোকে বলেন, খামারিরা লোকসান ও মুরগি বিক্রি করতে না পারায় নতুন বাচ্চা ওঠাতে পারেননি। সে কারণেই এখন ঘাটতি। এটা সাময়িক।

বাজারে কক মুরগির দাম কেজিপ্রতি ২২০ টাকা। এ ক্ষেত্রে দামের তেমন কোনো হেরফের হয়নি। আর দেশি মুরগির কেজিপ্রতি দর ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা। এ দামটি অনেক দিন ধরেই চড়া।

গরুর মাংসের দামও আর কমেনি। বাজারে এখন গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৫৭০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ব্যবসায়ীরা পাইকারি পর্যায়ে গরমমসলার সর্বোচ্চ দর নির্ধারণ করে দিয়েছে। পাইকারি পর্যায়ে জিরা (ভারত) প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৩৪০ টাকা, দারুচিনি (চীন) কেজি ৩১০ থেকে ৩৩০ টাকা, দারুচিনি (ভিয়েতনাম) কেজি ৩৫০ থেকে ৩৭০ টাকা, লবঙ্গ কেজি ৬৮০ থেকে ৭২০ টাকা, এলাচি কেজি ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা, গোলমরিচ (সাদা) ৫৫০ থেকে ৫৮০ টাকা এবং গোলমরিচ (কালো) ৩৬০ থেকে ৩৮০ টাকা দরে কেনাবেচা হবে।


  • সাধারণ ছুটির শুরুর দিকে মুরগির দাম তলানিতে নেমেছিল
  • ক্রেতা না থাকায় বাচ্চা ফেলে দিতে হয়

ঢাকার কাজীপাড়া, পীরেরবাগ ও মিরপুর-১ নম্বর সেকশন বাজার এবং দুটি জনপ্রিয় অনলাইন পণ্য বিক্রির প্রতিষ্ঠানে দেখা গেছে, বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে বেশি দামেই মসলাজাতীয় পণ্য বিক্রি হচ্ছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ পাইকারি গরমমসলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এনায়েত উল্লাহ বলেন, ‘যে দরটি নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটা আগে থেকেই কার্যকর। আগে থেকেই আমরা এ দামে বিক্রি করছি।’

খুচরা বাজারে দাম এত বেশি কেন, জানতে চাইলে এনায়েত উল্লাহ বলেন, খুচরা দোকানে মসলা বিক্রি হয় অল্প অল্প করে। পাইকারি বাজার থেকে কিনে নিতেও পরিবহন খরচ আছে।

পেঁয়াজের দাম আরও কিছুটা কমেছে। কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা দরে। দেশি রসুনের কেজি ১০০ থেকে ১১০ টাকা। আর চীনা রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজিতে। এক মাস আগে যে আদা ৩০০ টাকা কেজির বেশি ছিল, সেটা ১৫০ থেকে ১৬০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে।

বাজারে বেশির ভাগ পণ্যের দাম কমতির দিকে। কিন্তু সমস্যা হলো চাহিদা ও মানুষের আয় কমে গেছে। কাজীপাড়া বাজারে কেনাকাটা করতে যাওয়া শামসুজ্জামান  বলেন, ‘ব্যবসা-বাণিজ্য নেই। বেশির ভাগ মানুষের হাতে টাকা নেই। অনেকে বোনাস পাবেন না। এ সময় দাম কমলেও কিনবে কতজন।’ 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কাতলের কেজি ৯৮০ টাকা!

কাতলের কেজি ৯৮০ টাকা!
কাতলের কেজি ৯৮০ টাকা!

রাজশাহী নগরীর সাহেববাজারে একটি ৩০ কেজি ওজনের বিশাল কাতল মাছ বিক্রি হয়েছে। শনিবার রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা সংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে মাছটি ধরেন স্থানীয় জেলেরা। মাছটি ৯৮০ টাকা কেজি দরে ২৯ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়।

মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, অনেক দিন পরে এত বড় কাতল মাছ বাজারে উঠেছে। ৩০ কেজি ওজনের কাতল মাছ বাজারে নিয়ে আসেন তাজিম নামে এক মাছ ব্যবসায়ী। তিনি কেজিতে এক হাজার টাকা করে দরে হাঁকান। ওই সময় মাছটি ঘিরে ক্রেতাসহ আশপাশের জনতার ভিড় জমে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে ৬ জন ক্রেতা ৯০০ টাকা কেজি দরে মাছটি কিনতে চান। পরে একজন ক্রেতা ৯৮০ টাকা কেজি দরে ২৯ হাজার ৪০০ টাকায় মাছটি কিনে নেন।

কাতলের কেজি ৯৮০ টাকা!
কাতলের কেজি ৯৮০ টাকা!

সাহেববাজারের মাছ ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানান, গত বছর ২৫ কেজি ওজনের একটি মাছ পাওয়া গিয়েছিল। প্রতি বছর আমাদের কাছে এমন বড় ওজনের মাছ আসে। এমন বড় মাছ পাওয়া গেলে সাধারণত ঢাকায় চলে যায়। তবে মাঝে মাঝে আমাদের এখানেও বোয়াল, বাগাড়সহ কার্প জাতীয় মাছ নিয়ে আসেন বিক্রেতারা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com