আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

ভাগনা মাছের পোনা উৎপাদনে বাকৃবি গবেষকদের সফলতা

ভাগনা মাছের পোনা উৎপাদনে বাকৃবি গবেষকদের সফলতা

লাইন ব্রিডিং কৌশলের মাধ্যমে দেশীয় সুস্বাদু ভাগনা মাছের পোনা উৎপাদন ও জাত উন্নয়নে সফলতা পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্বদ্যিালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক। দীর্ঘ তিন বছরের গবেষণায় মাৎস্যজ্ঞিান অনুষদের বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এ.কে. শাকুর আহম্মদ এবং অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ গোলাম কাদের খান এ সফলতা অর্জন করেন।

কৃষি গবেষণা কাউন্সিল ও ন্যাশনাল এগ্রো টেকনোলজি ফেইজ-২ এর আর্থিক সহায়তায় গবেষণাটি সম্পন্ন হয়। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় অনুষদীয় চেম্বারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

লাইন ব্রিডিং এমন একটি পদ্ধতি যেখানে একটি মাছকে তার বংশধরদের সঙ্গে ক্রস করানো হয়। ঐতিহ্যগতভাবে একটি পুরুষ মাছকে অনেকগুলো মহিলা মাছের সঙ্গে প্রজনন ঘটানো হয়। লাইন ব্রিডিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে বিভিন্ন স্টকের মধ্য থেকে উচ্চ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ভাগনা মাছ আবিষ্কার করে পরবর্তী জেনারেশনে বংশধরদের মাঝে তাদের জিনগত অবদান বাড়ানো যায়। যা ভাগনা মাছের জাত উন্নয়নে সহায়ক। পাশাপাশি বিভিন্ন লাইনের মধ্যে প্রজনন ঘটিয়ে প্রজাতির মধ্যে জিনগত বৈচিত্রতা রক্ষা করা যায়। ভাগনা মাছের জাত উন্নয়নে লাইন ব্রিডিং একটি অতি প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ কৌশল।

ভাগনা মাছের বৈজ্ঞানিক নাম (Labeo ariza, Hamilton 1807)। ছোট কার্প জাতীয় মাছগুলোর মধ্যে ভাগনা একটি অন্যতম জনপ্রিয় মাছ। এটি বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত। বাংলাদেশের আত্রাই, যমুনা, কংস, ও ব্রহ্মপুত্র নদীতে এই মাছটি পাওয়া যায়।

ভাগনা মাছটি বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন নামে পরিচিত। যেমন ভাংগন বাটা, ভাগনা, ভাংগন, ভাগনা বাটা ইত্যাদি। মাছটি আকারে ৩০ সেমি এবং ওজনে প্রায় ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়। এরা পুকুরের তলার খাদক। কম বয়সে এরা জুওপ্ল্যাংটন এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সব খাবারই খায়। বর্তমান মাছটির বাজারমূল্য ৫০০টাকা কেজি।

ভাগনা মাছটি উচ্চ পুষ্টিগুণ সম্পন্ন। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট রয়েছে। তাই এরা খেতে অনেক সুস্বাদু। অতীতকাল থেকেই ভাগনা মাছটি বাংলার মানুষের কাছে একটি স্বাদের মাছ হিসেবেই পরিচিত।

বর্তমান সময়ে প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট কারণে ভাগনা মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। প্রাকৃতিক উৎস থেকে অধিক পরিমাণে আহরণ, বাসস্থান ধ্বংস এবং ইকোলজিক্যাল পরিবর্তনের কারণে এই মাছটি এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ভাগনা মাছ ৬০ দিন চাষের পর মাত্র ৩ গ্রাম ওজন লাভ করে। ভাগনার গ্রোথ প্যাটার্ন খুব ধীর প্রকৃতির। প্রাকৃতিক উৎসের ভাগনা মাছের গ্রোথ বদ্ধ উৎসের মাছের চেয়ে ভালো।

এই গবেষণায় বাংলাদেশের তিনটি নদী আত্রাই (দিনাজপুর), কংস (ময়মনসিংহ) এবং যমুনা (সিরাজগঞ্জ) থেকে প্রাকৃতিক ভাগনা মাছের পোনা জেলেদের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে তাদেরকে লালন পালন করে গোনাডাল ম্যাচুরেশনকে ত্বরান্বিত করা হয়। এরপর লাইন ব্রিডিংয়ের মাধ্যমে ভাগনা মাছের উচ্চ গুণাগুণ সম্পন্ন পোনা উৎপাদন করা হয়। গবেষণায় ৬টি লাইন তৈরি করা হয়। এরমধ্যে লাইন-৪ (কংস ও আত্রাই) এর দৈর্ঘ্য ও ওজন সবচেয়ে বেশি পাওযা যায়। বর্তমানে লাইন-৪ থেকেই উন্নতজাতের মা মাছ তৈরি করা হচ্ছে।

প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. এ.কে. শাকুর আহম্মদ বলেন, লাইন ব্রিডিং কৌশলে ভাগনা মাছের পোনা উৎপাদন এটিই বাংলাদেশে প্রথম। এই পদ্ধতির মাধ্যমে ভাগনা মাছকে সংরক্ষণ ও বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে হলে উচ্চ গুণসম্পন্ন পোনা উৎপাদনের কোনো বিকল্প নেই। দেশে আমিষের চাহিদা পূরণ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই মাছটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ভবিষতে অধিক সংখ্যক পোনা উৎপাদন করে দেশের উন্মুক্ত জলাশয় বিশেষ করে হাওড় অঞ্চলে ছাড়ার পরিকল্পনা আছে। এছাড়া এই চলমান গবেষণা সম্পন্ন হলে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন মৎস্য হ্যাচারিতে এ মাছ পৌঁছে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

পরিবেশ

৮০টি প্লাস্টিক ব্যাগ খেয়ে মারা গেল তিমি

৮০ টি প্লাস্টিক ব্যাগ খেয়ে অসুস্থ এক পাইলট তিমিকে উদ্ধার করা গেলেও বাঁচানো যায়নি। থাইল্যান্ডের উদ্ধারকর্মীরা দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের একটি কৃত্রিম জলাশয় থেকে ওই তিমিকে জীবিত উদ্ধার করে। এ সময় তিমিটি ৫টি ব্যাগ বমি করে উগড়ে দেয়। তবে চিকিৎসা দেয়ার আগেই মারা যায় তিমিটি।

দেশটির সামুদ্রিক ও উপকূলীয় সম্পদ বিষয়ক বিভাগের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান বলছে, গত সোমবার পুরুষ প্রজাতির এই বৃহদাকার স্তন্যপায়ী প্রাণীটি মালয়েশিয়া সীমান্তের একটি কৃত্রিম জলাশয় থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। পশু চিকিৎসকদের একটি দল তিমিটিকে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করে। শুক্রবার বিকেলে তিমিটি মারা যায়।

সামুদ্রিক ও উপকূলীয় সম্পদ বিভাগ বলছে, ময়নাতদন্তে তিমিটির পাকস্থলীতে ৮০টি প্লাস্টিক ব্যাগ পাওয়া যায়; যার আনুমানিক ওজন প্রায় ৮ কেজি। তিমিটিকে চিহ্নিত করার পর একটি বয়ার (এক শ্রেণির ভাসমান নৌকা) সাহায্যে পানিতে ভাসিয়ে রাখা হয় এবং সূর্যের তাপ থেকে তিমিটিকে রক্ষা করতে একটি ছাতার সাহায্যে ছায়ার ব্যবস্থা করা হয়।

উদ্ধারের সময় তিমিটি বমি করে ৫টি ব্যাগ বের করে দেয়। সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী ও ক্যাসেটসার্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক থন থামরংনয়াসায়াত বলেন, প্লাস্টিক ব্যাগ খাওয়ার কারণে তিমিটি আর কোনো পুষ্টিকর খাবার খেতে পারেনি।

এ সময় তিনি বলেন, ‘যদি আপনার পাকস্থলীতে ৮০টি প্লাস্টিক ব্যাগ থাকে, তাহলে আপনিও মারা যাবেন।’

থাইল্যান্ড বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্লাস্টিক ব্যবহারকারী দেশ। থন বলেন, থাইল্যান্ডের জলাশয়ে প্লাস্টিক খাওয়ার কারণে প্রতি বছর পাইলট তিমি, সামুদ্রিক কচ্ছপ, ডলফিনসহ অন্তত ৩০০ সামুদ্রিক প্রাণী মারা যায়। এটা একটা বিরাট সমস্যা। আমরা কত প্লাস্টিক ব্যবহার করি!- বলেন তিনি।

প্লাস্টিক খেয়ে পাইলট তিমি মারা যাওয়ার ঘটনায় সহানুভূতি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইন্টারনট ব্যবহারকারীরা। একজন টুইটে লিখেছেন, প্রাণীটির জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি, যে প্রাণীটি কোনো ভুল করেনি। তারপরও তাকে মানুষের কর্মের ফল ভোগ করতে হল।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

ধ্বংস হচ্ছে লাউয়াছড়া বন ও বন্যপ্রাণী

নানা জাতের উদ্ভিদ আর জীববৈচিত্রে ভরপুর ১২শ ৫০ হেক্টর সংরক্ষিত বন নিয়ে ১৯৯৬ সালে মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। দেশের ১৬টি উদ্যানের মধ্যে অন্যতম এই লাউয়াছড়া উদ্যান। কিন্তু এ বন থেকে পাচার হচ্ছে কোটি কোটি টাকার মূল্যবান গাছ। উজাড় হচ্ছে বন। আর এতে হুমকির মুখে পড়ছে বন্যপ্রাণী। লোকবল আর প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে অসহায় কর্তৃপক্ষও।

খাসিয়া সম্প্রদায়সহ স্থানীয়দের মতে, ১৯৯৬ সালে জাতীয় উদ্যান ঘোষণার পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বনের প্রায় ৩০ শতাংশ গাছ পাচার হয়েছে। ফলে কমেছে বনের ঘনত্ব। গত সপ্তাহেও গভীর রাতে লাউয়াছড়া বন থেকে মূল্যবান আগর গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে পাহাড়ে বসবাসরত খাসিয়া সম্প্রদায়ের লোকজনের ধাওয়ায় টুকরো করে রাখা মূল্যবান গাছগুলো ফেলে পালিয়ে যায় চোরচক্র। পরে খাসিয়া সম্প্রদায়ের লোকজনের সহায়তায় মূল্যবান এসব গাছ উদ্ধার করে বন বিভাগ।

সরেজমিনে দেখা যায়, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের শুধু গাড়িভাঙ্গা এলাকা থেকে তিনটি বৃহদাকার সেগুন গাছ কেটে পাচার করেছে দুর্বৃত্তরা। কেবল সাক্ষী হয়ে আছে গাছের গুড়িগুলো। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে গাছ পাচারের ফলে লাউয়াছড়া উদ্যান অনেকটাই ফাঁকা হয়ে গেছে। ফলে বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণীসহ উদ্যানে বসবাসরত প্রাণীর বাসস্থান সঙ্কট প্রকট হচ্ছে। খাবার ও আবাসস্থল সঙ্কটে হুমকির মুখে পড়েছে বন্যপ্রাণী।

বিভাগীয় বন কার্যলায় সূত্রে জানা যায়, এই বনে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ শনাক্ত করা হয়েছে। সমৃদ্ধ প্রাণী বৈচিত্র্যেরও আঁধার এই বন। বিভিন্ন বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে এই বন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশেষভাবে পরিচিতি লাভ করেছে।

কিন্তু প্রতিনিয়তই দ্রুতগামী গাড়ির ধাক্কায় কিংবা চাকায় পিষ্ট হয়ে কোনো না কোনো বন্যপ্রাণীর মৃত্যু হচ্ছে। ফলে লাউয়াছড়ার অভ্যন্তরে অবস্থিত সড়ক ও রেলপথসমূহ বন্যপ্রাণীকূলের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও ছুটির সময় মাত্রাতিরিক্ত পর্যটক বন্যপ্রাণীদের বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যানবাহনের হুড়োহুড়ি, শুষ্ক মৌসুমে পানি, খাবার ও নিরাপদ বাসস্থান সঙ্কট এসব মিলিয়ে উদ্যানের জীব-বৈচিত্র্য ও প্রকৃতি সুরক্ষা নিয়ে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। খাদ্য সঙ্কঠের কারণে প্রায়ই বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে আসছে। ধরা পড়ছে মানুষের হাতে।

এদিকে উদ্যানের গাঁ ঘেষে বনজঙ্গল ও মাটি কেটে স্থাপিত হচ্ছে বিভিন্ন কটেজ। ফলে বনের ভেতরে দল বেধে মানুষের অবাধ বিচরণ বন্যপ্রাণীর জন্য খাবার সংগ্রহ ও চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ফলে বন্যপ্রাণীর খাবার ও আবাসস্থল বিনষ্ট হচ্ছে। যে কারণে খাবারের সন্ধানে জঙ্গলের দুর্লভ প্রাণীগুলো জনপদে ছুটে এসে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানুষের হাতে ধরা পড়ে অথবা গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা যাচ্ছে।

বাইরে থেকে এই ঘন বনের সৌন্দর্য্য মন কাড়ে দর্শনাথীদের। কিন্তু বনের ভেতরে গেলে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। দাঁড়ানো মূল্যবান গাছের ফাঁকে ফাঁকে পড়ে আছে গুড়ি। প্রতিদিন দিন-দুপুরে জ্বালানি হিসেবে গাছ কেটে কাঠ নিয়ে যাচ্ছেন অনেকে। রাতের আধাঁরে গাছ উধাও হচ্ছে বন থেকে। ধ্বংস হচ্ছে প্রাকৃতিক এই ঘন বন।

গাছ চুরি বন্ধে পরিবেশবাদী সংগঠনসহ সচেতন মহল সোচ্চার থাকলেও টনক নড়ছে না কর্তৃপক্ষের। আর লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের সহব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্বে যারা আছে তারাও উদাসীন এই বনের প্রতি। ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বলছে, গহীন এই বন রক্ষায় স্থানীয় মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধিসহ বনের উপর নির্ভরশীলদের কর্মসংস্থান প্রয়োজন। তবে মানুষ আগের চেয়ে অনেক সচেতন হয়েছে। জনবল সংকটের কারণে বন বিভাগ ঠিকমতো কাজ করতে পারছে না।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন কর্মকর্তা আবু মুছা শামসুল মোহিত চৌধুরী বলেন, লোকবল কম থাকায় অনেক সময় আমরা সামাল দিতে পারি না। তবে এখন থেকে নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে পর্যটকদের যেতে দেয়া হবে না। ভবিষ্যতে নিয়ন্ত্রিত ট্যুরিজমের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি। এর জন্য সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কৃষিপণ্য উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশ ২১তম

কৃষিপণ্য উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশ ২১তম
কৃষিপণ্য উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশ ২১তম

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয় কোন দেশে? উত্তরটা বেশ সহজ—চীনে। দেশটি অনেক বড়, জনসংখ্যার দিক দিয়েও তারা শীর্ষে। খুব স্বাভাবিক কারণেই বিপুলসংখ্যক মানুষের খাদ্যের সংস্থান করতে হয় দেশটিকে। আর তাই কৃষিপণ্য উৎপাদনের দিক দিয়ে চীন বিশ্বের শীর্ষ কৃষিপণ্য উৎপাদনকারী দেশ। চীনের উৎপাদিত কৃষিপণ্যের মূল্য প্রায় ৯৬ হাজার ৯০০ কোটি ডলার।

জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় বড় দেশ ভারত। কৃষিপণ্য উৎপাদনেও ভারত আছে দ্বিতীয় স্থানে। দেশটি উৎপাদন করে অবশ্য চীনের অর্ধেক, ৪১৪ বিলিয়ন ডলার বা ৪১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের পণ্য। তালিকার পরের নামটিও সহজে অনুমেয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তাদের উৎপাদন ভারতের অর্ধেকের কম, ১৮৯ বিলিয়ন ডলার।

লন্ডন থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় ম্যাগাজিন দ্য ইকোনমিস্ট–এর প্রতিষ্ঠান ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইইইউ) নানা বিষয় নিয়ে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন ধরনের তথ্য প্রকাশ করে থাকে। কৃষি উৎপাদনের এসব তথ্য তাদেরই। ২০১৭ সালের সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে এই তালিকা করা হয়েছে। সব দেশের তথ্য এর পরে আর এখনো পায়নি সংস্থাটি।

এবার দেখা যাক তালিকায় আর কারা কারা আছে। শীর্ষ দশে ইন্দোনেশিয়া বা ব্রাজিলের নামটি বিস্ময়ের উদ্রেক করবে না। রাশিয়াও কৃষি উৎপাদনে বড় দেশ, তারাও আছে নবম স্থানে। অনেকে হয়তো অবাক হবেন পাকিস্তানের নামটি দেখে। তালিকা অনুযায়ী, পাকিস্তান বিশ্বের সপ্তম শীর্ষ কৃষিপণ্য উৎপাদক। তাদের উৎপাদন আর্থিক মূল্যে ৭০ বিলিয়ন ডলার বা ৭ হাজার কোটি ডলার।

যে কারণে এ লেখা তৈরি, এবার সেটা বলা যাক। বাংলাদেশ আয়তনে অনেক ছোট, কিন্তু জনসংখ্যায় বিশ্বে অষ্টম। একসময় দেশটি ছিল বিপুল খাদ্যঘাটতির দেশ। এখন বাংলাদেশ খাদ্যে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। কেবল খাদ্যপণ্যেই নয়, সামগ্রিকভাবে কৃষিপণ্য উৎপাদনেও এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তালিকা অনুযায়ী, কৃষিপণ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ আছে ২১তম স্থানে। আর্থিক মূল্যে ৩৩ বিলিয়ন ডলার বা ৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। আশা করা যায়, তালিকা হালনাগাদ হলে বাংলাদেশ আরও কয়েক ধাপ এগোবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

তিস্তায় জেলেদের জালে ৫ মণ ওজনের ডলফিন

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী এলাকায় তিস্তা নদীতে বিশাল আকারের একটি ডলফিন জেলেদের জালে ধরা পড়েছে। ডলফিনটি দেখতে ভোটমারী ইউনিয়ন পরিষদে ভিড় করেছে শত শত মানুষ।

সোমবার বিকেলে তিস্তা নদীতে বিশাল আকারের ডলফিনটি ভাসতে দেখে ৫-৬ জন জেলে জাল পেতে ধরে ফেলেন। ধরা পড়া ডলফিনের ওজন ২০০ কেজি (৫ মণ)। এর দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে ৮ ফুট।

স্থানীয়রা জানান, তিস্তা নদীর পাড়ে ভুট্টাখেতে যান কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে রাশেদুল ইসলাম। নদীতে পানি কম থাকায় ডলফিনটি ভাসছিল।

এ সময় রাশেদুল ইসলাম ৫-৬ জন জেলে নিয়ে জাল পেতে ডলফিনটি ধরে ফেলেন। পরে ডলফিনটি ভ্যানে করে বাজারে নিয়ে এলে উৎসুক জনতা ভিড় জমান।

শোইলমারী গ্রামের স্থানীয় জেলে রসিদুল ইসলাম বলেন, নদীতে বড় মাছ মনে করে কয়েকজন মিলে জাল পেতে সেটিকে ধরি। পরে দেখি, এটি বিশাল আকারের ডলফিন।

ভোটমারী ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন বলেন, ডলফিনটি ইউনিয়ন পরিষদে রয়েছে। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান না আসা পর্যন্ত এখানে থাকবে ডলফিনটি।

কালীগঞ্জ উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা মোরছালিন বলেন, ডলফিন এক ধরনের জলজপ্রাণি। এরা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। তাই ডলফিন ধরা বা মারা সরকারিভাবে নিষেধ রয়েছে। কয়েকজন জেলে ডলফিনটি ধরেছে। আমরা খোঁজ-খবর নিয়ে প্রাণিটি উদ্ধারের চেষ্টা করছি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

হাতির অভিমান!

মৌলভীবাজারে একটি মালিকানাধীন হাতি অভিমান করে ঝড় বৃষ্টির মধ্যে ৬ ঘণ্টা ধরে খরস্রোতা মনু নদীতে সাঁতার কাটছে।

হাতির মাহুত আব্দুল্লা জাগো নিউজকে জানান, হাতিটি রাগ করে পানিতে নেমে পড়েছে। হয়তো বেশি হাঁটার কারণে বা অন্য কোনো কারণে বিরক্ত হয়ে রেগে গেছে। তাই ইচ্ছে করেই পানি থেকে উঠছে না।

তিনি আরও জানান, সিলেট থেকে হাতিটিকে নিয়ে মৌলভীবাজারের জুড়ি যাচ্ছিলেন। বেলা ১১টার দিকে হাতিটিকে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নতুন ব্রিজ এলাকায় কলা গাছ খেতে দেন। হাতিটি কলা গাছ খাওয়া অবস্থায় দুপুর ১২টার দিকে হঠাৎ মনু নদীতে নেমে যায়। শত চেষ্টা করেও পাড়ে নিয়ে আসা যাচ্ছে না। কাল বৈশাখী ঝড়, বজ্রপাতের মধ্যেও সে পানি থেকে উঠতে নারাজ। মাঝে মধ্যে পাড়ের খুব কাছে আসলেও আবার নদীতে সাঁতার কাটছে। কখনওবা তীর ঘেঁষে হাটছে।

হাতিটি অভিমান করে প্রথমে নতুন ব্রিজ এলাকায় নামলেও সন্ধ্যা ৬টার দিকে নতুন ব্রিজ এলাকা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে মিরপুরে অবস্থান করছিল।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com