আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

দৈনন্দিন

মাংস যেভাবে সংরক্ষণ করলে ভালো থাকবে দীর্ঘদিন

আর মাত্র কয়েকদিন পরেই ঈদুল আজহা। এই ঈদকে কোরবানির ঈদ বলা হয়ে থাকে। এই ঈদে সবাই তাদের সাধ্যমতো পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন। কোরবানির মাংস গরীব-দুঃখীদের বিলিয়ে দেওয়ার পরেও নিজেদের খাওয়ার জন্য কিছু মাংস রেখে দেন কমবেশি সবাই। তবে টাটকা মাংস সংরক্ষণের ভুলে দীর্ঘদিন তা ভালো নাও থাকতে পারে।

মাংস সংরক্ষণের যদিও বিভিন্ন উপায় আছে। তবে বর্তমান কর্মব্যস্ত জীবনে সবাই রেফ্রিজারেটরেই মাংস সংরক্ষণ করতে পছন্দ করেন। অনেকেই মনে করেন, পলিথিন বা যেকেনো ব্যাগে ডিপ ফ্রিজে মাংস রেখে দিলেই তা মাসের পর মাস ভালো থাকে। আসলে সঠিক পদ্ধতিতে মাংস সংরক্ষণ করা না হলে, মাংসের পুষ্টিগুণ কমতে শুরু করে। যা হয়তো আপনি বুঝতে পারবেন না। এমনকি ভুল উপায়ে মাংস সংরক্ষণ করা হলে তা শরীরে বিষক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে।

রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রতি বছর ৪৮ মিলিয়ন মানুষ খাবার সংরক্ষণের ভুলে নিজ ঘরের খাবার খেয়েই খাদ্য বিষক্রিয়ার ফলে অসুস্থ হয়ে পড়েন। মূলত খাদ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা না হলে, পরবর্তীতে ওই খাবার খেয়ে আপনি যেকোনো সময় অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন।

jagonews24

মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) নির্দেশিকা অনুসারে, রেফ্রিজারেশন করা খাবারে দুই ধরনের ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি পেতে পারে। এক, রোগসৃষ্টিকারী জীবাণু। এই জীবাণুগুলো খুবই বিপজ্জনক। কারণ খাবারে বাসা বাঁধা এই জীবাণু খাদ্যজনিত অসুস্থতার কারণ। কাঁচা বা অপরিশোধিত খাবারে দ্রুত বৃদ্ধি পায় এই জীবাণু।

দুই, স্পাইলেজ ব্যাকটেরিয়া। এই ব্যাকটেরিয়া খাবার নষ্ট করে দেয়। এর ফলে খাবারের স্বাদ, চেহারা এবং গন্ধ পরিবর্তন হয়ে যায়। তবে এই ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আপনার অসুস্থ করার সম্ভাবনা অনেক কম। তাই নিয়ম অনুযায়ী খাবার বা মাছ-মাংস সংরক্ষণ করা না হলে ফ্রিজে রাখলেও তাতে জীবাণু বাসা বাঁধতে পারে।

jagonews24

কোরবানি ঈদ আসলে সবার কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে যায়, কীভাবে টাটকা মাংস দীর্ঘদিন ভালো রাখা যাবে? মাংস সংরক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হলো- মাংসকে জীবাণুমুক্ত রাখা, মাংসের স্বাদ ও গুণগত মান যতটা সম্ভব অক্ষুন্ন রাখা। এ ছাড়াও মাংসের পচন রোধ করা এবং মাংস দ্বারা খাদ্যবাহিত রোগ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করে আর্থিক ক্ষতি কমানো।

মাংস কীভাবে ফ্রিজে সংরক্ষণ করবেন?

শুধু গরু বা খাসি নয় মুরগির মাংসও আপনি রেফ্রিজারেটরে সংরক্ষণ করতে পারেন। হিমশীতল এবং খাদ্য সুরক্ষার বিষয়ে ইউএসডি’র নির্দেশিকা হলো, মাংস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে তা যেন, শূন্য ডিগ্রি ফারেনহাইট (-১৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড) এ জমাট বাঁধে। এর ফলে ব্যাকটেরিয়া, ইস্টসহ ক্ষতিকর জীবাণুগুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। পাশাপাশি খাবার নষ্ট করে যেসব এনজাইম, সেগুলোর কার্যক্রমও ধীর হয়ে যায়।

এফডিএ’র পরামর্শ অনুযায়ী, এভাবে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় মাংস সংরক্ষণ করে আপনি ৪-১২ মাস পর্যন্ত খেতে পারবেন। তবে মাংসের সাইজগুলো একটু বড় করে রাখতে হবে। অন্যদিকে কিমাজাতীয় গরু বা খাসির মাংস ৩-৪ মাসের বেশি হিমায়িত করা উচিত নয়। অন্যাদিকে রান্না করা মাংস আপনি হিমায়িত করে ২-৩ মাস পর্যন্ত খেতে পারবেন। এর বেশি হলে খাবারের পুষ্টিগুণ কমতে শুরু করবে।

jagonews24

মাংসে যতটা কম চর্বি থাকবে; তা বেশিদিন সংরক্ষণ করা যাবে। তাই মাংস সংরক্ষণের আগে অবশ্যই চর্বি সরিয়ে রাখতে হবে। আবার মাংস কাটার ধরন যেন বেশি মোটা না হয়, স্লাইস করে রাখলে বেশি ভালো থাকবে। মাংস সংরক্ষণ করতে অবশ্যই জিপলক ব্যাগ ব্যবহার করা উচিত। অবশ্যই মাংস ছোট ছোট প্যাকেটে সংরক্ষণ করবেন। অনেকেই বড় প্যাকেট করে থাকেন, বারবার সেই প্যাকেট ভিজিয়ে পরিমাণমতো মাংস রেখে আবারও ওই প্যাকেট ফ্রিজে রেখে দেন। এমনটি করলে মাংস নষ্ট হয়ে যাবে।

তবে সেই ব্যাগ যেন খাদ্য নিরাপত্তা দিতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। বিভিন্ন প্লাস্টিক ব্যাগ বা বক্স ব্যবহার করবেন না। সবচেয়ে ভালো হয় ভ্যাকিউম-সিল্ড ব্যাগ ব্যবহার করা। মাংসের পুষ্টিমান ও স্বাদ ভালো রাখতে চাইলে গরুর মাংস ৮-১২ মাস এবং যেকোনো ধরনের মুরগির মাংস ৩-৬ মাসের বেশি ফ্রিজে সংরক্ষণ করা উচিত নয়। মাংস সংরক্ষণের আগে প্রয়োজন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে মাংস কাটা, ধোয়া এবং সঠিক পাত্র ব্যবহার করা।

jagonews24

শুধু ফ্রিজে রেখে নয়, আরও যেসব উপায়ে মাংস সংরক্ষণ করতে পারবেন-

ড্রাইং পদ্ধতি: অতীতে যখন ফ্রিজের ব্যবহার ছিলো না; তখন পুরোনো এই পদ্ধতিতে মাংস রোদে বা চুলায় জ্বাল দিয়ে ৭০-৮০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় সম্পূর্ণ পানি শুকিয়ে নিতে হয়। এই পদ্ধতিতে মাংস সংরক্ষণ খুবই কম খরচে করা যায়। এক্ষেত্রে মাংসের চর্বি ফেলে দিয়ে পাতলা করে কেটে ভ্যাকিউম-সিল্ড করে ফ্রিজে ১ বছর পর্যন্ত রাখা যায়।

স্মোকিং পদ্ধতি: এটিও একটি পুরোনো পদ্ধতি। যেখানে হট স্মোকিং অর্থাৎ ৩০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় মাংস পোড়ানো হয়। আর কোল্ড স্মোকিং পদ্ধতিতে ১২-২৪ ঘণ্টা স্মোকিং আগুনে ৮৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় পোড়াতে হয়। এর ফলে তাপের ধোঁয়ায় মাংসের মাইক্রোবসগুলো নষ্ট হয়ে যায়। এই পদ্ধতি সাধারণত মাংস ব্যবসায়ীরা ব্যবহার করে থাকেন।

jagonews24

সল্টিং বা লবণ পদ্ধতি: এই পদ্ধতিতে লবণ, কিউরিং লবণ, মসলা এবং ব্রাউন চিনি অথবা খাবার লবণ, সোডিয়াম নাইট্রেট ও সোডিয়াম ল্যাকটেট দিয়ে মাংস মেখে ২৪ ঘণ্টা রেখে ফ্রিজে ১ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। এই পদ্ধতি টিএফডিএ অনুমোদিত। সল্টিং পদ্ধতিতে মাংস সবচেয়ে বেশি টাটকা এবং পুষ্টিগুণসম্পন্ন হয়ে থাকে। মাংসের অক্সিডেটিভ ও মাইক্রোবিয়াল পচন প্রতিরোধ এই পদ্ধতিতে সবচেয়ে ভালো হয়।


ক্যানিং পদ্ধতি: মাংস সংরক্ষণের আরও এক পদ্ধতিকে থার্মাল স্টেরিলাইজেশন বলে। এক্ষেত্রে মাংস প্রায় ২৫০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় ড্রাই করে ঠান্ডা করা হয়। এরপর কাচের জার বা বয়ামের মুখ আটকে তাতে এই মাংস প্রায় এক বছর রাখা যায়। এই পদ্ধতিতে মাংস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে মাংস কাটা, রান্নার আগে সিমিং, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, ঠান্ডা করা ইত্যাদি বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে।

দৈনন্দিন

হেপাটাইটিস কি মারাত্মক ব্যাধি? জেনে নিন এর ধরন ও লক্ষণ

হেপাটাইটিস লিভারের একটি প্রদাহ। যা হেপাটাইটিসের বিভিন্ন ভাইরাসের মাধ্যমে ঘটে। দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে হেপাটাইটিসের বিভিন্ন ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে। যা প্রাথমিক অবস্থায় শরীরে কোনো উপসর্গ প্রকাশ না করলে ধীরে ধীরে মারাত্মক হয়ে ওঠে।

হেপাটাইটিস লিভারের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কময়ে দিতে শুরু করে। জানেন কি, প্রতি বছর লিভারের এই রোগে বিশ্বব্যাপী এক কোটি ৩০ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। তবে এই রোগ ছোঁয়াচে নয়।

আজ বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস। এ বছরের হেপাটাইটিস দিবসের প্রতিপাদ্র হলো ‘হেপাটাইটিস অপেক্ষা করে না’। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ভাইরাল হেপাটাইটিসকে নির্মূল করার জন্য সব দেশকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে।

বর্ষার এ সময় ডেঙ্গুসহ নানা রোগের পাশাপাশি করোনা সংক্রমণও ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত। তবে এই সময় হেপাটাইটিস রোগেরও প্রাদুর্ভাবও ঘটে থাকে। তাই সতর্ক থাকা জরুরি। সাধারণত দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে এই রোগ শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

শরীরে রোগের বিস্তার না ঘটলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট লক্ষণ ধরা পরে না। তবে দীর্ঘদিন শরীরে হেপাটাইটিস বাসা বাঁধলে যখন তা লিভারে আক্রমণ করে; তখন নানা লক্ষণ প্রকাশ পায়।

বর্ষার এ সময় ডেঙ্গুসহ নানা রোগের পাশাপাশি করোনা সংক্রমণও ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত। তবে এই সময় হেপাটাইটিস রোগেরও প্রাদুর্ভাবও ঘটে থাকে। তাই সতর্ক থাকা জরুরি। সাধারণত দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে এই রোগ শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

শরীরে রোগের বিস্তার না ঘটলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট লক্ষণ ধরা পরে না। তবে দীর্ঘদিন শরীরে হেপাটাইটিস বাসা বাঁধলে যখন তা লিভারে আক্রমণ করে; তখন নানা লক্ষণ প্রকাশ পায়।

যেমন- শরীর দুর্বল, বমি বমি ভাব, পেটব্যথা, শরীর হলুদ বর্ণ ধারণ করা এবং হলুদ প্রস্রাবের মতো উপসর্গ ইত্যাদি। শরীরে এই রোগের বিস্তার ঘটলে পেটে জল আসা, রক্ত পায়খানা ও রক্তবমি হতে পারে।

হেপাটাইটিসের বিভিন্ন ধরন ও লক্ষণসমূহ

হেপাটাইটিসের ৫টি ভাইরাস হলো এ, বি, সি, ডি এবং ই। এর মধ্যে টাইপ-বি এবং সি মারাত্মক রূপ নেয় এবং লিভার সিরোসিস এবং ক্যান্সারের মতো মারাত্মক আকার ধারণ করে। প্রাথমিক অবস্থায় তা চিকিত্সা না করলে গুরুতর হয়ে ওঠে এবং লিভার সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।

হেপাটাইটিস এ

দূষিত খাবার এবং জলের মাধ্যমে শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এই ভাইরাস। এ রোগের ক্ষেত্রে, লিভার ফুলে যাওয়া, ক্ষিদে কমে যাওয়া, জ্বর, বমি এবং জয়েন্টে ব্যথা মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এসব লক্ষণ দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের শরনাপন্ন হতে হবে।

হেপাটাইটিস বি

এই ভাইরাসটি রক্ত, ঘাম, লালা, বীর্যসহ বিভিন্ন দেহনিঃসৃত তরলের মাধ্যমে ছড়ায়। সাধারণত রক্তে অবস্থিত ভাইরাস এবং এর বিরুদ্ধে অবস্থিত অ্যান্টিবডি থেকে এ রোগ নির্ণয় করা হয়।

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস লিভারে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। এ কারণে রোগীর বমি বমি ভাব, ক্লান্তি, কোলিক, ত্বকের হলুদ রঙের মতো সমস্যা দেখা দেয়।

এটি সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী লিভার রোগ যা লিভার সিরোসিস এবং ক্যান্সারের রূপ নেয়। যদি কোনো গর্ভবতী নারী এতে আক্রান্ত হন; তবে তার গর্ভস্থ শিশুও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

হেপাটাইটিস সি

হেপাটাইটিস এ এবং বি এর চেয়েও বেশি বিপজ্জনক এই ভাইরাসটি। রক্ত দেওয়া-নেওয়া, শিরায় ইনজেকশনের মাধ্যমে বিভিন্ন ওষুধ প্রয়োগের সময় যদি জীবাণুযুক্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়, সেখান থেকে হেপাটাইটিস সি এর সংক্রমণ হয়। পৃথিবী জুড়ে আনুমানিক ১৩০-১৭০ মিলিয়ন লোক হেপাটাইটিস সি রোগে আক্রান্ত।

হেপাটাইটিস সি আক্রান্ত ব্যক্তির তেমন কোনো উপসর্গ থাকে না। তবে দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণের ফলে লিভারের ক্ষত এবং বেশ কয়েক বছর পর সিরোসিস সৃষ্টি করে।

আবার অনেক সময় সিরোসিস আক্রান্ত ব্যক্তির লিভার অকার্যকর, যকৃতের ক্যান্সার, বা খাদ্যনালী ও পাকস্থলীর শিরা স্ফীত হতে পারে। যার ফলে রক্তক্ষরণে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এ ছাড়াও ত্বকে চর্মরোগ দেখা দিতে পারে।

হেপাটাইটিস ডি

হেপাটাইটিস বি এবং সি রোগীদের ঝুঁকি থেকে বেশি থাকে এই ভাইরাসে। এটি দূষিত রক্তের সংক্রমণ, সংক্রামিত সূঁচ ব্যবহার বা শেভিংয়ের অন্যান্য কিটগুলির ব্যবহারের মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। লিভারের সংক্রমণের ফলে বমি ও হালকা জ্বর হয়।

হেপাটাইটিস ই

এই ভাইরাস দূষিত খাবার দ্বারা ছড়িয়ে পড়ে। এই রোগে আক্রান্ত হলে রোগী ক্লান্তি, ওজন হ্রাস, ত্বকের হলুদ হওয়া এবং হালকা জ্বর অনুভব করে। এ সংক্রমণের ফলে রোগী ক্লান্তি, ওজন হ্রাস, ফ্যাকাশে ত্বক ও চেহারা এবং জ্বরের মতো লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়।

হেপাটাইটিসের বিভিন্ন ধরণ ও লক্ষণ যদি আপনার শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে মিলে যায়; তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের শরনাপন্ন হতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

দেয়ালের ড্যাম্প দূর করার সহজ উপায়

বর্ষায় ঘরের দেয়ালের পঁলেস্তার খসে পড়ে। দেয়ালে ড্যাম্প ধরার কারণে এটি হয়ে থাকে। এর ফলে দেয়ালে দেখা দেয় বিশ্রী কালচে ছোপ। সেইসঙ্গে দেয়ালের রংও চটে যায়।

ভেজা দেয়াল শুকিয়ে গেলে আবার পঁলেস্তার ফুলে ওঠে এবং ধীরে ধীরে ঝরে পড়ে। বর্ষা মৌসুমে অনেকের ঘরেই এ সমস্যা দেখা দেয়। তবে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখলে খুব সহজেই দেয়ালের ড্যাম্প দূর করা সম্ভব। জেনে নিন উপায়-

প্রথমে ঘরের দেয়ালের যেসব স্থানে ড্যাম্প ধরেছে তা চিহ্নিত করুন। অনেক সময় দেখা যায়, কোনো এক স্থান থেকে ক্রমাগত পানি চুঁইয়ে পড়ার কারণে ওই ভেজা অংশ থেকেই ড্যাম্প ছড়াতে থাকে।

ঘরের ভেন্টিলেশনের দিকে নজর রাখুন। অনেক সময় সেখান থেকেও পানি চুঁইয়ে দেয়াল নষ্ট হতে পারে। তাই বর্ষার আগেই ব্যবস্থা নিন।

অনেক সময় বাড়ির ছাদে বা দেয়ালে ফাটল ধরে পানি চুঁইয়ে পড়ার কারণে ঘরের ভিতরে ছাদের অংশে বা দেয়ালে ড্যাম্প ধরে। এক্ষেত্রে দ্রুত ওই ফাটল মেরামত করা প্রয়োজন।

দীর্ঘদিন যদি কোনো ওয়ালমেট বা আসবাব দেয়ালের সঙ্গে লাগানো অবস্থায় থাকে; ওই স্থানে ড্যাম্প ধরে। তাই কিছুদিন পরপর আসবাবপত্রের জায়গা পরিবর্তন করুন।

চেষ্টা করুন ঘর খেলামেলা রাখতে। দিনের বেশিরভাগ সময় ঘরে যদি আলো-বাতাস খেলা করে; তাহলে দেয়ালে ড্যাম্প ধরবে না। অন্যদিকে বদ্ধ ঘরে অতিরিক্ত জলীয়বাষ্প বা আর্দ্রতা জমে দেয়ালে ড্যাম্প পড়ার আশঙ্কা থাকে।

দেওয়ালের যে স্থানে ড্যাম্প ধরেছে সেখানে জিপসাম প্লাস্টার ব্যবহার করতে পারেন। বর্তমানে বাজারে উপলব্ধ ‘মোল্ড রেজিস্ট’ রং বা জিপসাম প্লাস্টার পাওয়া যায়। এগুলো ঘরের দেয়ালকে ড্যাম্প পড়ার হাত থেকে দীর্ঘদিন রক্ষা করে।

ঘরের কোনো দেয়ালে বা মেঝেতে যদি শেওলা হয়, তাহলে স্থানটিতে সাদা ভিনেগার স্প্রে করে কিছুক্ষণ রেখে শুকনো কাপড় দিয়ে নিয়মিত মুছে ফেলতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

কলিজার বারবিকিউ কাবাব তৈরির রেসিপি

গরু বা খাসির কলিজা খেতে অনেকেই পছন্দ করেন। সবাই নিশ্চয়ই কলিজার ভুনা বা দোঁপেয়াজা খেয়েছেন। তবে কলিজার বারবিকিউ কাবাবও কিন্তু খেতে খুবেই মজাদার।

কোরবানি ঈদের পর এ সময় অনেকেই হয়তো কলিজার বিভিন্ন পদ রান্না করতে পারেন। চাইলে কলিজার বারবিকিউ কাবাব তৈরি করতে পারেন খুব সহজেই। জেনে নিন রেসিপি-

১. এক কাপ সেদ্ধ কলিজা
২. পেঁয়াজ কুচি ৩ টেবিল চামচ
৩. কাঁচা মরিচ কুচি ২ চা চামচ
৪. গোল মরিচের গুঁড়ো আধা চা চামচ
৫. ধনেপাতা কুচি ২ টেবিল চামচ
৬. লবণ স্বাদমতো

৭. সয়া সস ২ চা চামচ
৮. টমেটো সস ২ টেবিল চামচ
৯. বারবিকিউ সস ৩ টেবিল চামচ
১০. গরম মসলার গুঁড়ো ৩ টেবিল চামচ
১১. কাবাব মসলার গুঁড়ো ২ টেবিল চামচ
১২. চিনি পরিমাণমতো
১৩. ডিম একটি
১৪. পাউরুটি ২ টুকরো
১৫. পরিমাণমতো তেল

পদ্ধতি

প্রথমে বাটিতে সেদ্ধ কলিজার সঙ্গে সব উপকরণ মিশিয়ে ভালো করে মাখিয়ে নিন। এরপর ফ্রাইপ্যানে তেল দিন। এবার মসলায় মাখানো সেদ্ধ কলিজা বড়া আকার তৈরি করুন।

এরপর গরম তেলে কলিজার কাবাবগুলো ছেড়ে দিন। উল্টে পাল্টে ভালো করে ভেজে নিন। ভাজা হলে নামিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন গরম গরম কলিজার বারবিকিউ কাবাব।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

মগজের শাহি কোরমা রান্নার সহজ রেসিপি

গরু বা খাসির মগজ খেতে অনেকেই পছন্দ করেন। কোরবানি ঈদের পরের এ সময়ে অনেকের ঘরেই কোরবানি পশুর মগজ আছে নিশ্চয়ই!

তবে কীভাবে আরও সুস্বাদু করে এটি রান্না করা যায় তা হয়তো অনেকেই জানেন না। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক মগজের শাহি কোরমা রান্নার সহজ রেসিপি-

উপকরণ

১. একটি মগজ (গরু বা খাসি)
২. পরিমাণমতো পানি
৩. স্বাদমতো লবণ
৪. দুই টেবিল চামচ ঘি
৫. একটি তেজপাতা
৬. দুই চা চামচ পেঁয়াজ বাটা
৭. তিন চা চামচ রসুন বাটা
৮. দুই টেবিল চামচ আদা বাটা
৯. আধা কাপ মিশ্রিত টক দই ও তরল দুধ
১০. দুই চা চামচ কাজু বাদাম বাটা
১১. দুই টেবিল চামচ গরম মসলার গুঁড়ো
১২. দুই টেবিল চামচ গোলমরিচের গুঁড়ো
১৩. সামান্য পরিমাণ চিনি
১৪. তিন টেবিল চামচ ক্রিম
১৫. তিন-চারটি কাঁচামরিচ

পদ্ধতি

প্রথমে সসপ্যানে পানি, লবণ ও মগজ দিয়ে সেদ্ধ করে নিন। তারপর প্যান গরম করে ঘি দিন। এতে একে একে তেজপাতা ও পেঁয়াজ বাটা দিয়ে ভেজে নিন।

এরপর টকদইয়ের মধ্যে রসুন বাটা, আদা বাটা, তরল দুধ, কাজু বাদাম বাটা, গরম মসলার গুঁড়ো, সাদা গোলমরিচের গুঁড়ো ও চিনি মিশিয়ে নিন।

তারপর প্যানে সব মিশ্রণ ঢেলে দিন। মশলা কষানো হলে সেদ্ধ মগজ দিয়ে কষিয়ে নিন। এ সময় ঢেকে রান্না করতে পারেন। খেয়াল রাখবেন যাতে নিচে লেগে না যায়।

তারপর রান্না শেষে সবশেষে ক্রিম ও কাঁচা মরিচ দিয়ে নামিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন দারুণ স্বাদের মগজের শাহি কোরমা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

রাঙামাটিতে কর্মহীন অর্ধলাখ মৎস্যজীবী

রাঙামাটি শহরের পাশে কাপ্তাই হ্রদের একটি দ্বীপের নাম জালিয়া পাড়া। এ দ্বীপে বসবাস করে প্রায় ২৮০ জেলে পরিবার। একটা সময় হ্রদে জাল ফেলে নৌকা ভাসিয়ে শুরু হতো তাদের দিন। আর সন্ধ্যা বেলা নৌকা ভরে মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরতো তারা। সে মাছ বাজারাজাত করে আনন্দ কেটে যেত তাদের সংসার। কিন্তু এখন পুরাই ভিন্ন চিত্র। অভাব যেন তাদের পিছু ছাড়ে না। ছেলে-মেয়েদের মলিন মুখের দিকে তাকিয়ে হ্রদ পাড়ে বসে কাটে দিন।

মৎস্যজীবি জগদীস দাস দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকার করে চালাচ্ছেন জীবন ও জীবিকা। মাছ বিক্রি করে চলে তার সংসার। তবে বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি থাকার কারণে বেকার সময় কাটছে দিন। একই অভিযোগ কমলা দাস ও বিফলা দাসের। তারাও জানান, কর্ম নেই। তাই টাকাও নেই। নুন আনতে পান্তা ফুরাচ্ছে। কখনো খেয়ে, আবার কখনো না খেয়ে কাটছে দিন। খেতে না পেয়ে মানুষের বাসা বাড়িতে যে ঝিয়ের কাজ করবো সে সুযোগও নেই। করোনার কারণে মানুষ এখন আগের মতো বাসা-বাড়িতে কাজের লোক রাখে না। শুধু রাঙামাটির জালিয়া পাড়া নয়, এমন দুর্দশার চিত্র এখন রাঙামাটি জেলার প্রায় ৮টি উপজেলায়।জানা গেছে, বর্তমানে রাঙামাটিতে কর্মহীন রয়েছে অর্ধ লাখ মৎস্যজীবী পরিবার।

গত ১ মে কাপ্তাই হ্রদে মাছের সুষ্ঠু প্রজনন ও বংশ বিস্তারে লক্ষ্যে সব ধরনের মাছ শিকার ও আহরণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পর বেকার হয়ে পড়ে তারা। বিকল্প কোনো পেশা বা কর্মসংস্থান না থাকায় জেলে ও শ্রমিকসহ মাছের ওপর নির্ভরশীল মানুষগুলো মধ্যে চরম আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারি হিসেবে রাঙামাটিতে ২৫ হাজার ২৯টি মৎস্যজীবী পরিবারের কথা উল্লেখ থাকলেও অনিবন্ধিত রয়েছে প্রায় অর্ধ লাখ জেলে পরিবার। এমনটা দাবি সংশ্লিষ্টদের। নিবন্ধিত মৎস্যজীবী পরিবারগুলোকে সরকারিভাবে ভিজিএফ কার্ডে মাধ্যমে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হলেও, সুবিধাবঞ্চিত রয়েছে অনিবন্ধিত জেলে পরিবারগুলো।  ফলে অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে তারা। অনিশ্চত হয়ে পড়েছে ছেলে-মেয়েদের ভবিষৎ। টানাপড়েনের মধ্যে কাটছে তাদের জীবন।

অন্যদিকে রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদে ১ আগস্ট থেকে মাছ শিকার শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তার আর হচ্ছে না। হ্রদে পানি কম থাকায় মাছ শিকার বন্ধ থাকবে আগামি ১০ আগস্ট পর্যন্ত। বুধবার রাঙামাটি জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে বিএফডিসির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেন জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান ।

তবে বিএফডিসি সূত্রে জানা গেছে, তিন মাস বন্ধকালীন রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য আহরণের সাথে জড়িত দরিদ্র জেলে পরিবাগুলোকে খাদ্যশস্য বরাদ্ধ দিয়েছে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের রাঙামাটি জেলা ব্যবস্থাপক লে. কমান্ডার এম. তৌহিদুল ইসলাম (ট্যাজ) জানান, সাধারণত  তিন মাসের  মাথায় খুলে দেওয়া হয় কাপ্তাই হ্রদ। কিন্তু এবার কাপ্তাই হ্রদে পানি কম থাকায় মাছ শিকার করা সম্ভব না। কারণ কম পানিতে মাছ শিকার করলে প্রজনন নষ্ট হয়ে যাবে। তাই বন্ধকালীন সময়টা বাড়িয়ে আগামি ১০ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়েছে। তবে এর মধ্যে পানি না বাড়লে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে বন্ধকালীন সময় আরও দীর্ঘ করা হবে। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com