আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

জামাল খাসোগজি: সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন ডিসিতে মামলা করলেন নিহত সাংবাদিকের প্রেমিকা

জামাল খাসোগজির হত্যার ঘটনা প্রকাশিত হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে
জামাল খাসোগজির হত্যার ঘটনা প্রকাশিত হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে

নিহত সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগজির প্রেমিকা সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে খাসোগজিকে হত্যার নির্দেশ দেয়ার অভিযোগ তুলে মামলা করেছেন।

অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, খাসোগজি এবং হাতিস চেঙ্গিসের প্রতিষ্ঠা করা মানবাধিকার সংস্থার ক্ষয়ক্ষতি করেছেন মি. বিন সালমান।

২০১৮ সালে তুরস্কের ইস্তান্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে একদল সৌদি এজেন্টদের হাতে নিহত হন জামাল খাসোগজি।

ঐ হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দিয়েছিলেন – এমন অভিযোগ তোলা হলেও এমবিএস বরাবরই ঐ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

জামাল খাসোগজি সৌদি যুবরাজ সৌদি সরকার এবং মোহাম্মদ বিন সালমানের একজন সমালোচক। বেশ কিছুকাল ধরে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছিলেন। সেখানে নিয়মিত ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার জন্য লিখতেন তিনি।

মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসিতে দায়ের করা নাগরিক মামলায় তুরস্কের নাগরিক হাতিস চেঙ্গিস ব্যক্তিগত আঘাতের অভিযোগ তুলেছেন এবং খাসোগজির মৃত্যুতে হওয়া আর্থিক ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।

খাসোগজির মানবাধিকার সংস্থা ডেমোক্রেসি ফর দ্য অ্যারাব ওয়ার্ল্ড নাও (ডন) অভিযোগ তুলেছে যে তাদের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।

জামাল খাসোগজির প্রেমিকা হাতিস চেঙ্গিজ
জামাল খাসোগজির প্রেমিকা হাতিস চেঙ্গিজ

মামলায় অভিযোগ তোলা হয়েছে যে জামাল খাসোগজিকে ‘মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশনায় তার অনুসারীরা’ হত্যা করেছে।

ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার খবর অনুযায়ী, মঙ্গলবার এক ভিডিও কনফারেন্সে হাতিস চেঙ্গিস ও ডন জানায় যে খাসোগজি হত্যায় দায়ী যুবরাজ মোহাম্মদকে যেন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আদালতে বিচারের আওতায় আনা হয়, সেই লক্ষ্যেই মামলাটি করেছেন তারা।

এক বিবৃতিতে মিজ চেঙ্গিজ বলেন, “জামাল বিশ্বাস করতো আমেরিকায় যে কোনো কিছু সম্ভব। তাই বিচার ও জবাবদিহিতার জন্য আমিও আমেরিকার নাগরিক আইনের ওপর আস্থা রাখছি।”

জামাল খাসোগজি কে ছিলেন?

সুপরিচিত সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগজি সৌদি আরবের বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার হয়ে আফগানিস্তানে সোভিয়েত অভিযান এবং আল কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের উত্থানসহ গুরুত্বপূর্ণ গটনা কাভার করেন।

৫৯ বছর বয়সী জামাল খাসোগজি বেশ কয়েক দশক সৌদি রাজ পরিবারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং সৌদি সরকারের উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন।

২০১৭ সাল থেকে তিনি আমেরিকায় স্বেচ্ছা নির্বাসনে যান।

সেসময় থেকেই তিনি ওয়াশিংটন পোস্টে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কার্যক্রম সমালোচনা করে প্রতি মাসে কলাম লিখতেন।

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে তার প্রথম কলামে তিনি যুবরাজের বিরোধিতা করার জন্য গ্রেফতার হতে পারেন বলে আশঙ্কাও প্রকাশ করেছিলেন।

খাসোগজি হত্যার ঘটনার সাথে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সবসময়ই অস্বীকার করে দেশটির কর্মকর্তারা।
খাসোগজি হত্যার ঘটনার সাথে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সবসময়ই অস্বীকার করে দেশটির কর্মকর্তারা।

জামাল খাসোগজি কীভাবে মারা গেলেন?

২০১৮ সালের দোসরা অক্টোবরে বিবাহ বিচ্ছেদের একটি সনদ নেয়ার জন্য ইস্তান্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে ঢুকেছিলেন জামাল খাসোগজি। সেখানেই তাকে শেষবার দেখা যায়।

তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থার হাতে আসা কনস্যুলেটের ভেতরের অডিও রেকর্ডিং শুনে জাতিসংঘের বিশেষ দূত অ্যাগনেস কালামার্ড বলেছিলেন যে খাসোগজিকে সেদিন ‘নির্মমভাবে হত্যা’ করা হয়েছিল।

তবে সৌদি কৌঁসুলি সেসময় বলেছিলেন যে এই হত্যা পূর্ব পরিকল্পিত ছিল না।

সৌদি কর্মকর্তারা বলে আসছেন, সৌদি আরবের একটি দুর্বৃত্ত দলের হাতে এই সাংবাদিক খুন হয়েছিলেন। আর হত্যার নির্দেশও ঐ দলের প্রধানের কাছ থেকেই এসেছিল।

ঐ দলটিকে খাসোগজির সাথে ‘আলোচনা’ করে তাকে ‘বুঝিয়ে, বা সম্ভব না হলে জোর করে’ সৌদি আরবে ফিরিয়ে নিতে মানানোর জন্য পাঠানো হয়েছিল বলে বলেছিলেন তারা।

কিন্তু ঘটনার সাথে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সবসময়ই অস্বীকার করে দেশটির কর্মকর্তারা।

ইস্তান্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে জামাল খাসোগজিকে জোর করে ধরে রাখার পর তার দেহে বিপুল পরিমাণ চেতনানাশক ওষুধ প্রবেশ করানো হয় এবং অতিরিক্ত মাত্রায় ওষুধ প্রবেশ করানোর ফলে তার মৃত্যু হয় বলে দাবি করে সৌদি কৌঁসুলিরা।

এরপর তার দেহ টুকরো করা হয় এবং স্থানীয় একজন ‘সহযোগী’র কাছে হস্তান্তর করা হয়। তার দেহাবশেষ কখনোই পাওয়া যায়নি।

তুরস্কের কৌঁসুলিরা জানিয়েছিলেন যে, হত্যার দিন কনস্যুলেটে প্রবেশ করার সাথে সাথেই খাসোগজির শ্বাসরোধ করা হয় এবং তার দেহাবশেষ ধ্বংস করে ফেলা হয়।

২০১৯ এর ডিসেম্বরে রিয়াদের ফৌজদারি আদালত ‘হত্যায় সরাসরি অংশগ্রহণ এবং হত্যাকাণ্ড ঘটানোয়’ পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।

সৌদি আরবের গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক উপ প্রধান আহমেদ আসিরি-সহ তিনজন নির্দোষ প্রমাণিত হন। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সাবেক সিনিয়র উপদেষ্টা সৌদ আল-কাহতানির বিরুদ্ধে তদন্ত চললেও তার বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত অভিযোগ চূড়ান্ত হয়নি।

গত মাসে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার খবরে জানানো হয় যে, পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তিত হয় ২০ বছরের কারাদণ্ডের শাস্তি দেয়া হয়েছে।

  • খাসোগজি হত্যার ঘটনার সাথে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সবসময়ই অস্বীকার করে দেশটির কর্মকর্তারা।

    খাসোগজি হত্যার ঘটনার সাথে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সবসময়ই অস্বীকার করে দেশটির কর্মকর্তারা।

  • জামাল খাসোগজির প্রেমিকা হাতিস চেঙ্গিজ

    জামাল খাসোগজির প্রেমিকা হাতিস চেঙ্গিজ

  • জামাল খাসোগজির হত্যার ঘটনা প্রকাশিত হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে

    জামাল খাসোগজির হত্যার ঘটনা প্রকাশিত হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে

  • খাসোগজি হত্যার ঘটনার সাথে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সবসময়ই অস্বীকার করে দেশটির কর্মকর্তারা।
  • জামাল খাসোগজির প্রেমিকা হাতিস চেঙ্গিজ
  • জামাল খাসোগজির হত্যার ঘটনা প্রকাশিত হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে

পরিবেশ

পরিত্যক্ত ইলেকট্রনিক বর্জ্য

ই-বর্জ্য হচ্ছে ইলেকট্রনিক বর্জ্য। যেমন: পরিত্যক্ত টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ক্যামেরা, এয়ারকন্ডিশনার, মুঠোফোন, ইলেকট্রনিক খেলনাসামগ্রী ইত্যাদি। নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব জিনিস ব্যবহারের পরে যখন নষ্ট হয়ে যায়, তখনই এটি বর্জ্যে পরিণত হচ্ছে। সাধারণ দৃষ্টিতে এগুলোকে চিরাচরিত বর্জ্য মনে হলেও আসলে কিন্তু তা নয়। এগুলো পচনশীল নয়, তাই পরিবেশের যথেষ্ট ক্ষতি করে। এ কারণে মাটি, গাছপালা, ফসল ও জীববৈচিত্র্যের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়ে। আমরা দেখতে পাচ্ছি, পুরোনো ইলেকট্রনিকসামগ্রী যখন ভাঙারির দোকানে স্থান পায়, তখন দোকানিরা প্রয়োজনে এসব বর্জ্যকে রোদের তাপে শুকিয়ে নেন। অনেকে বর্জ্যগুলোকে দোকানে না রেখে রাস্তার পাশে ফেলে রাখেন। ছবিগুলো সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে তোলা। ছবি: সাবিনা ইয়াসমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

শীতের সকালে সদরঘাট

রাজধানীতে শুরু হয়ে গেছে শীতের আমেজ। গত কয়েক দিন ভোরের সদরঘাট ছিল কুয়াশার চাদরে ঢাকা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেঘ সরে গিয়ে রোদ–ঝলমলে হয়ে ওঠে চারদিক। রোদ-কুয়াশার এই খেলার মধ্যেই চলে বুড়িগঙ্গাপারের মানুষগুলোর জীবন। ছবিগুলো মঙ্গলবার ভোরে তোলা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

প্রেরণার উৎস বড় পীর আবদুল কাদের জিলানি (রহ.)

সমকালে মানুষের মুখে আজও উচ্চারিত হয় একটি নাম—বড় পীর আবদুল কাদের জিলানি (রহ.)। তাঁকে নিয়ে অনেক কথা, কিংবদন্তি বিদ্যমান সমাজে। গভীর শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় ভক্তরা তাঁকে স্মরণ করেন। প্রচলিত পীরের যে ধারণা, তার সঙ্গে প্রকৃতপক্ষে শায়খ আবদুল কাদের জিলানির মিল নেই। তিনি অত্যন্ত মেধাবী ও বুদ্ধিদীপ্ত এক আলোর সারথী। হজরত হাসান (রা.)–এর বংশের অত্যুজ্জ্বল এই মানুষটিকে নিয়ে এই লেখা।


হিজরি পঞ্চম শতকে এসে মুসলিম জাহান এক চরম দুর্বিপাকে পড়ে। কেন্দ্রীয় শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ায় খিলাফতের মধ্যে গড়ে ওঠে বহু স্বাধীন রাজ্য। এর মধ্যে আবার একদিকে চলতে থাকে গৃহযুদ্ধ ও প্রাসাদ ষড়যন্ত্র, অন্যদিকে চলতে থাকে খ্রিষ্টান শক্তি কর্তৃক বহিরাক্রমণ। এই নাজুক রাজনৈতিক অবস্থার পাশাপাশি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিপর্যয়ও নেমে এসেছিল চরমভাবে। গ্রিক ও অন্যান্য অমুসলিম দর্শন নির্বিচারে আমদানি ও তার ব্যাপক চর্চার কারণে মুসলিম মানসে ছড়িয়ে পড়েছিল এর মারাত্মক কুফল। তাঁদের চিন্তা ও বিশ্বাসে ইসলামবিরোধী ভাবধারার অনুপ্রবেশ ঘটে। ইসলামের নির্ভেজাল তৌহিদি দর্শন কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনৈসলামি দর্শনের সংমিশ্রণে হারিয়ে ফেলে তার স্বকীয়তা। এর ফল ছিল যেমন মারাত্মক, তেমনি সুদূরপ্রসারী। ‘আমাদের সূফীয়ায়ে কিরাম’ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতির এই চরম দুর্দিনে ইসলামের আঁধার আকাশে উদিত হয়েছিল এক রওশন আফতাব, যার বিমল জ্যোতিতে উদ্ভাসিত হয়েছিল দিগদিগন্ত। তিনি হচ্ছেন মুহিউদ্দীন আবদুল কাদের জিলানি (রহ.)।


তিনি মুসলিম মিল্লাতের, ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধঃপতন দূর করে তাদের সিরাতুল মুস্তাকিমে পুনঃস্থাপনের জন্য চালিয়েছিলেন বিরামহীন সংগ্রাম। বিভ্রান্তির বেড়াজাল থেকে ইসলামি দর্শনকে মুক্ত করার জন্য করেছিলেন আমরণ সাধনা। প্রমাণ করেছিলেন এর শ্রেষ্ঠত্ব। গ্রিক ও ভারতীয় অনৈসলামি পরিবেশ থেকে ইসলামি তাসাউফকে উদ্ধার করে ভাস্বর করে তুলেছিলেন স্বকীয় মহিমায়। শরিয়তকে তিনি পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন। তরিকত, হাকিকত ও মারেফাতের সহিহ পথের সন্ধান দিয়েছিলেন। শতধাবিচ্ছিন্ন জাতির মধ্যে জাগিয়ে তুলেছিলেন ঐক্যের চেতনা। আসলে তিনি মুসলিম মিল্লাতের একজন অনিবার্য পুরুষ ছিলেন। তিনি বিপর্যস্ত, বিপন্ন মুসলিম উম্মাহকে নতুন পথ দেখিয়েছেন, আশার আলো জ্বালিয়েছেন।বিজ্ঞাপন


প্রতিবছর এই মনীষীর মৃত্যুর দিনটি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। দিনটি ফাতেহা ই ইয়াজ দাহম হিসেবে পালিত হয়।
শামসুল আলম তাঁর ‘ABDUL QUADER GHILANI’ গ্রন্থে বলেন, আবদুল কাদের জিলানি (রহ.) জিলান শহরের নাইফে ৪৭০ হিজরির রমজানে/১০৭৭ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। জিলান শহর হচ্ছে কাস্পিয়ান সাগরের দক্ষিণ তীরবর্তী পর্বতঘেরা অঞ্চল।
তাঁর পিতার নাম ছিল সৈয়দ আবু সালেহ মুসা জেঙ্গি এবং মাতার নাম ছিল সৈয়দা উম্মুল খায়ের ফাতিমা। পিতার দিক দিয়ে তিনি ছিলেন হজরত ইমাম হাসান (রা.)–এর বংশধর আর মায়ের দিক থেকে ছিলেন হজরত ইমাম হুসাইন (রা.)–এর বংশধর। হাসানি ও হুসাইনি দুই পবিত্র রক্তধারার সম্মিলন ঘটেছিল তাঁর মধ্যে।


তাঁকে নিয়ে অনেক কথা বইপুস্তকে পাওয়া যায়। এখানে তাঁর প্রতিভাদীপ্ত সৃজনশীল কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোকপাত করা যাক। সাইয়েদ আবুল হাসান আলি নাদভি লিখেছেন, ইমাম গাজালি (রহ.)–এর ইহয়াউল উলুমুদ্দিন-এর পরে এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গিবিশিষ্ট রচনারীতির প্রতিকৃতি হিসেবে এবং যথাযথভাবে যুগের চাহিদা পূরণে সফল ও বরকতময় প্রচেষ্টা হিসেবে যে গ্রন্থটির উল্লেখ করতে হয়, সেটি হলো শায়খ আবদুল কাদের জিলানির ‘গুনইয়াতুত তালিবিন’। যারা নিজেকে সংশোধন করতে আগ্রহী, তাদের জন্য বিশেষ করে মুরিদদের পথপ্রদর্শনের মূল্যবান দিকদর্শন রয়েছে এটিতে।


হজরত শায়খ জিলানির শিষ্যমণ্ডলীভুক্ত ব্যক্তিগণ এবং যাঁরা কোরআন, সুন্নাহ এবং সালফে সালিহীন ও সুমহান পূর্বসূরিদের অনুসৃত আকিদা ও প্রত্যয়ের আলোকে নিজেদের জীবনকে সুগঠিত করতে অভিলাষী, যাঁরা নিজের চরিত্র শোধন ও অভ্যন্তরীণ পরিশুদ্ধি লাভে আগ্রহী, তাঁদের সবার কাছেই এই মহান গ্রন্থটি নীতিমালা হিসেবে গৃহীত হয়েছে। এশিয়া ও আফ্রিকা—উভয় মহাদেশে এই গ্রন্থটির মাধ্যমে উপকৃত লোকদের সংখ্যা হাজার হাজার নয়, লাখ লাখ।


স্বভাব–চরিত্র
তিনি ছিলেন রাসুলে করিম (সা.)–এর পূর্ণ অনুসারী। মানুষে মানুষে তিনি কোনো পার্থক্য করতেন না। বাদশাহ-ফকিরকে দেখতেন একই নজরে। এমনকি গরিবকে দিতেন তিনি প্রাধান্য। আমির লোকদের হাদিয়া তিনি গ্রহণ করতেন না। তবে গরিবের হাদিয়া গ্রহণ করতেন সন্তুষ্টচিত্তে। জীবনে শাহি–দরবারে কখনো গমন করেননি। তাঁর দরবারে যত হাদিয়া উপস্থিত, হতো তিনি দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত লোকদের মধ্যে তা বিলিয়ে দিতেন। মানুষের দুঃখ সহ্য করতে পারতেন না। তা দূর করার জন্য ব্যাকুল ছিলেন। তিনি বন্ধুবৎসল, বিনয়ী, মিষ্টভাষী ও অমায়িক ব্যক্তিত্বসম্পন্ন। অপরের সালামের অপেক্ষা তিনি করতেন না। আগেই সালাম দিতেন, মুসাফাহার জন্য আগেই হাত বাড়িয়ে দিতেন।

উপদেশ
গাউসুল আজম বড় পীর আবদুল কাদের জিলানি (রহ.) উপদেশের এমন সব মণি-মুক্তা ছড়িয়ে রেখে গেছেন, যার ঔজ্জ্বল্য কোনো দিনই হারাবে না। যেমন:
তিনি বলেন, মুমিনের কাজ তিনটি: আল্লাহর হুকুম পালন করা, তাঁর নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকা এবং তাঁর ইচ্ছা–সিন্ধুতে নিজেকে বিলীন করে দেওয়া।
প্রথমে ফরজ, পরে সুন্নত ও তারপরে নফল। ফরজ ছেড়ে সুন্নত–নফল নিয়ে মশগুল থাকা আহম্মকি। সুন্নত আদায় বাকি রেখে নফল আদায়ের চেষ্টারও কোনো মূল্য নেই। ফরজ ছেড়ে দিয়ে সুন্নত ও নফল নিয়ে থাকা বাদশাহকে পরিত্যাগ করে গোলামের খিদমতে আত্মনিয়োগের শামিল। শুধু প্রতিমাপূজার নামই শিরক নয়, প্রবৃত্তির দাসত্ব করাও শিরকের শামিল।


শায়খের ইন্তেকাল
হিজরি ৬৬২ সালের ১১ রবিউস সানি তাঁর মাশুকে আলার নিকট গমন করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। তাঁর চার স্ত্রীর গর্ভে ২৭ পুত্র ও ২২ কন্যা জন্মগ্রহণ করেন।
ইসলামের খিদমতের জন্য তিনি যেসব কাজ করেছেন, সারা দুনিয়ার মুসলমানদের জন্য অনাগতকাল ধরে প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তাঁর ইন্তেকালের দিনকেই ফাতেহা ই ইয়াজ দাহম বলা হয়।
একটা কথা মনে রাখতে হবে, শায়খ জিলানি দুনিয়াতে বৈরাগ্যসাধনের শিক্ষা দেননি। তিনি জগৎকে ব্যবহার ও পরিমাণমতো উপভোগ করতে নিষেধ করেননি। তবে এর উপাসনা ও দাসত্ব এবং আন্তরিক সম্পর্ক ও ভালোবাসা স্থাপন করতে নিষেধ করেছেন। তাঁর উপদেশাবলি ও মূলতত্ত্ব রাসুলের হাদিস দ্বারা প্রমাণ করেছেন। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, অবশ্যই জগৎ তোমাদের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে আর তোমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে পরকালের জন্য।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

বাছুরটির দুই মাথা, দুই মুখ

সদ্য জন্ম নেওয়া বাছুর‌টির মাথা দুটি, মুখও দুটি, আর চোখ চার‌টি। জন্মের পর দুই মুখ দি‌য়েই মা গাভির দুধ পান করেছে বাছুরটি। এমন আকৃতির বাছুর‌টি দেখ‌তে আশপাশের মানুষ ভিড় করছেন গরুর মালিকের বাড়িতে।

শ‌নিবার সন্ধ্যায় দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার শিবরামপুর ইউনিয়নের আরাজি মিলনপুর গ্রা‌মে বাছুরটির জন্ম হয়। গরুর মা‌লিক মিলনপুর বাজারের পশ্চিমে জসিম উদ্দিনের ছেলে মোসলেম উদ্দিন। তিনি বলেন, তাঁর বা‌ড়ি‌তে মোট ১৫টি গরু আছে। এর ম‌ধ্যে ১০টি দেশি ও ফ্রি‌জিয়ান জা‌তের পাঁচটি। ফ্রি‌জিয়ান জা‌তের একটি গাভির বাছুর হয়েছে। সেই বাছুরের দুটি মাথা, মুখ দুটি ও চোখ চার‌টি।বিজ্ঞাপন

মোসলেম উদ্দিন আরও বলেন, ‘এপ্রিল মা‌সের শে‌ষে গরু‌টি ডাক দি‌লে ডাক্তার দেখাই। সাধারণত গাভিন হওয়ার ৯ মাস প‌রে বাচ্চা হয়। কিন্তু সাত মা‌সের ম‌ধ্যেই বাচ্চা হ‌য়ে গেল। গরুর এমন বাছুর জন্মাতে পারে, তা স্বপ্নেও ভাবিনি। ফ্রিজিয়ান জাতের বাছুরটির জন্মের পর থেকে কিছুটা দুর্বল। ত‌বে বাছুরটি এখন পর্যন্ত জীবিত আছে।’

স্থানীয় বাসিন্দারা বল‌ছেন, এটি বিরল ঘটনা। এ ধর‌নের ঘটনা আগে কখনো দেখেননি তাঁরা। আসল মাথা কোনটি, কোন মুখ দি‌য়ে ঘাস খা‌বে বাছুর‌টি এই নিয়ে চল‌ছে নানা জল্পনাকল্পনা।

এ বিষয়ে জান‌তে চাইলে বীরগঞ্জ উপ‌জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জন ইউনুস আলী ব‌লেন, ‘এটা একটা জন্মগত সমস্যা; যা কনজেনিটাল অ্যাবনরমালিস (congenital abnormalis) এবং টেরাটোজেনিক ইফেক্টের (teratogenic effect) কারণে হয়ে থাকে। এতে সাত মাসে গাভির গর্ভপাত হয়।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

দাম না বাড়ালে চাল নয়

আমনে নির্ধারিত দামের চেয়ে কেজিপ্রতি ৪ টাকা বেশি চান চালকলের মালিকেরা। খাদ্য মন্ত্রণালয় রাজি নয়।

  • আমদানি করে মজুত বাড়াবে সরকার।
  • এক লাখ টনের আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান।
  • মজুত কমে ৫ লাখ ৭৭ হাজার টনে নেমেছে।

বোরো মৌসুমের পর আমনেও ধান-চাল সংগ্রহ নিয়ে বিপত্তি দেখা দিয়েছে। সরকারি গুদামে চাল দিতে কেজিপ্রতি চার টাকা বেশি চান চালকলের মালিকেরা। বাড়তি দাম না পেলে তাঁরা সরকারকে চাল দিতে পারবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন।

অবশ্য সরকার আগের মতোই অনঢ়। খাদ্য মন্ত্রণালয় চালের দাম বাড়াবে না। প্রয়োজনে আমদানি করে চালের মজুত বাড়াবে তারা। এরই মধ্যে চলতি মাসে খাদ্য অধিদপ্তর এক লাখ টন চাল আমদানির দুটি দরপত্র আহ্বান করেছে। প্রয়োজনে আরও কয়েক লাখ টন চাল আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েও রেখেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।বিজ্ঞাপন

খাদ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, ৫০ হাজার টন চাল সরবরাহে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমাও দিয়েছে। অন্যদিকে ভারত, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার ও ভিয়েতনামের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে বাংলাদেশকে চাল সরবরাহের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

ধান-চালের সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয়কে বিবেচনায় নিয়ে। মাত্র আমন ধান ওঠা শুরু হয়েছে। ধানের দাম আরও কমবে। তখন সরকার–নির্ধারিত দরে চাল সরবরাহ করলে মিলের মালিকেরা লাভবান হবেন।

সারওয়ার মাহমুদ , খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক

মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ভারত থেকে আমদানি করলে দেশে আসার পর শুল্কসহ প্রতি কেজি চালের দাম পড়বে ৩৪ টাকা। থাইল্যান্ড থেকে আমদানিতে পড়বে কেজিপ্রতি ৪৫ টাকা।

এ বিষয়ে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সারওয়ার মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, ধান-চালের সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয়কে বিবেচনায় নিয়ে। মাত্র আমন ধান ওঠা শুরু হয়েছে। ধানের দাম আরও কমবে। তখন সরকার–নির্ধারিত দরে চাল সরবরাহ করলে মিলের মালিকেরা লাভবান হবেন।

এ বছর খাদ্য মন্ত্রণালয় অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ২৬ টাকা কেজি দরে ২ লাখ মেট্রিক টন ধান, ৩৭ টাকা কেজি দরে ৬ লাখ টন সেদ্ধ চাল এবং ৩৬ টাকা কেজি দরে ৫০ হাজার টন আতপ চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। চালকলের মালিকেরা চান, সরকার সেদ্ধ চালের দাম প্রতি কেজি ৪১ টাকা নির্ধারণ করুক। গত মঙ্গলবার নওগাঁয় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন চালকলের মালিকেরা। সূত্র জানায়, বৈঠকে দাম বাড়ানোর দাবি ওঠে। অবশ্য সরকার জানিয়ে দেয়, দাম বাড়ানো সম্ভব নয়। পরদিন (গত বুধবার) বগুড়ায় চালকলের মালিকেরা কেন্দ্রীয়ভাবে আরেকটি বৈঠক করেন। সেখানে বেশির ভাগ মালিক সরকারকে চাল না দেওয়ার পক্ষে মত দেন।

বাংলাদেশ অটো, মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর রশিদ প্রথম আলোকে, ‘২৬ টাকা কেজি দরে ধান কিনলে প্রতি কেজি চালে খরচ পড়ে ৪১ টাকা। আমরা সরকারের কাছে শুধু খরচই চেয়েছি, লাভ চাইনি। তারপরও সরকার রাজি নাহলে আমরা কীভাবে চাল দেব?’

বাংলাদেশ অটো, মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর রশিদ প্রথম আলোকে, ‘২৬ টাকা কেজি দরে ধান কিনলে প্রতি কেজি চালে খরচ পড়ে ৪১ টাকা। আমরা সরকারের কাছে শুধু খরচই চেয়েছি, লাভ চাইনি। তারপরও সরকার রাজি নাহলে আমরা কীভাবে চাল দেব?’

এদিকে সরকারি চালের মজুতও কমতির দিকে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দুই মাসের মধ্যে চালের মজুত ১০ লাখ টন থেকে কমে ৫ লাখ ৭৭ হাজার টনে নেমেছে। গত বছর এ সময়ে সরকারের গুদামে প্রায় ১১ লাখ টন চাল ছিল।

সরকার গত বোরোতে ১৮ লাখ টন ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিল। যদিও মিলমালিকেরা সরকারকে চুক্তি অনুযায়ী চাল দেননি। ফলে শেষ পর্যন্ত সংগ্রহের সময় এক দফা বাড়িয়েও ১০ লাখ টনের বেশি চাল সংগ্রহ করা যায়নি। খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সারওয়ার মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, কেউ চাল না দিলে আমদানি করে মজুত বাড়ানোর সুযোগ তো রয়েছেই।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com