আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

মনুর দুঃখ লাঘবে হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

বর্ষায় বন্যা নিয়মমাফিক ঘটনা। পানির সঙ্গে বাড়ে দুই পারের লাখো মানুষের আতঙ্ক ও উদ্বেগ। বাদ যায় না জেলা শহরও। মনু নদের পারের বাসিন্দারা এ কষ্ট সহ্য করে দিন পার করছেন। বন্যার সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে তাঁরা আন্দোলনও কম করেননি। এবার মনু নদকে ঘিরে প্রায় হাজার কোটি টাকার এক প্রকল্প নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

পাউবো ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতের ত্রিপুরার পাহাড়ি উৎপত্তিস্থল থেকে প্রবাহিত খরস্রোতা মনু নদ মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার শরীফপুর ইউনিয়ন দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এরপর কুলাউড়া, রাজনগর ও মৌলভীবাজার সদরের ৭৪ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে কুশিয়ারা নদীর সঙ্গে মিশেছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে পলিমাটিতে নদীর তলদেশের অনেকটাই ভরাট হয়ে গেছে। অনেক স্থানে চর জেগে উঠেছে। শুকনা মৌসুমে পানির ক্ষীণধারা তলানিতে গিয়ে ঠেকে। আর বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে দ্রুতই নদটি টইটম্বুর হয়ে ওঠে। মনু নদের পাড় ভাঙা ও বন্যা নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৮৪ সালে মৌলভীবাজার শহরে ভয়াবহ বন্যায় অনেক প্রাণহানি ঘটে। সর্বশেষ ২০১৮ সালে মৌলভীবাজার শহরের বড়হাট এলাকায় বাঁধ ভেঙে যায়।

পাউবো ‘মনু নদের ভাঙন থেকে কুলাউড়া, রাজনগর ও মৌলভীবাজার সদর রক্ষা’ নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। ৯৯৬ কোটি ২৮ লাখ টাকার প্রকল্পটি ২০২০ সালের জুন মাসে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন লাভ করে। ২০২৩ সালের জুনে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা।বিজ্ঞাপন

পাউবো জানিয়েছে, ৭০টি প্যাকেজের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ হবে। এতে আছে নতুন করে আড়াই কিলোমিটার বন্যা প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ, ৭৬৬ মিটার পুরোনো বন্যা নিয়ন্ত্রণ দেয়াল পুনর্বাসন, ৮৬ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুনর্বাসন, ৩৫ স্থানের ১২ কিলোমিটার চর অপসারণ, নদের তীর সংরক্ষণকাজ ইত্যাদি। পাউবোর প্রধান কার্যালয়ের নকশা দপ্তরে ৫৫টি প্যাকেজের নকশা অনুমোদনের জন্য পাউবো জেলা কার্যালয় থেকে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে চারটি নকশার অনুমোদন পাওয়া গেছে। তার মধ্যে মৌলভীবাজার শহর অংশের আড়াই কিলোমিটার বন্যা প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণকাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ২০ জানুয়ারি দরপত্র উন্মুক্ত করা হবে।

স্বাধীনতার পর থেকে মনু নদে খনন হয়নি। চর কাটা হলে পানির স্বাভাবিক স্রোত ফিরে আসবে।
স্বাধীনতার পর থেকে মনু নদে খনন হয়নি। চর কাটা হলে পানির স্বাভাবিক স্রোত ফিরে আসবে।

সূত্রটি আরও জানায়, জমি অধিগ্রহণেরও মাঠপর্যায়ে জরিপ কাজ চলছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এক লাখ হেক্টর ফসলি জমি বন্যার কবল থেকে রক্ষা পাবে। প্রায় দেড় লাখ মানুষ সরাসরি নদীভাঙনের ঝুঁকিমুক্ত হবে। সাড়ে চার লাখ মানুষ বাঁধ ভেঙে বন্যাজনিত ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে।

পাউবো মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী এম আক্তারুজ্জামান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে মনু নদে খনন হয়নি। প্রতিবছর ছয় থেকে আট ইঞ্চি পলিমাটিতে ভরাট হচ্ছে। অন্তত ২০–২৫ ফুট ভরাট হয়ে গেছে। চর কাটা হলে পানির স্বাভাবিক স্রোত ফিরে আসবে। পাহাড়ি ঢল দ্রুত নেমে যাবে। বন্যার কবল থেকে মানুষ মুক্তি পাবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

পরিবেশ

বিকলাঙ্গ হয়েও পান না প্রতিবন্ধী ভাতা, থাকছেন ভাঙা ঘরে

বিকলাঙ্গ হয়েও পান না প্রতিবন্ধী ভাতা, থাকছেন ভাঙা ঘরে

আমার স্বামী একজন দিনমজুর। দিনমজুরি করে আমার চিকিৎসা খরচ চালান। এই দিনমজুরি টাকা দিয়ে ওষুধ কিনব, নাকি ঘর ঠিক করব, না সংসার চালাব? সরকারের কাছে আমার আবেদন যেন সরকার আমাকে একটা ঘর দেয়। এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে যেন ওই ঘরে সুখে-শান্তিতে দিন কাটাতে পারি। এভাবেই কষ্টের কথাগুলো বলছিলেন শারীরিক প্রতিবন্ধী নমিতা রানী (২৮)। তার স্বামীর নাম সাধন চন্দ্র (৩৫)।

নিজস্ব জমি না থাকায় পাঁচ বছর ধরে সরকারি খাসজমিতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এই প্রতিবন্ধী দম্পতি। নমিতা রানীর একটি হাত ও একটি পা বিকলাঙ্গ। তারপরও এখন পর্যন্ত ভাগ্যে জোটেনি প্রতিবন্ধী ভাতা, ভিজিডি কার্ড কিংবা মাথা গোঁজার মতো একটা সরকারি ঘর। অভাবের কারণে অনেক সময় অভুক্ত থাকতে হয়।

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্না ইউনিয়নের পূর্ব সিন্দুর্না গ্রামের খাসজমিতে বসবাস করেন দিনমজুর সাধন চন্দ্র ও তার শারীরিক প্রতিবন্ধী স্ত্রী নমিতা রানী (২৮)। এই দম্পতির এক ছেলে নয়ন চন্দ্র ও এক মেয়ে বৃষ্টিকে নিয়ে তাদের অভাবের সংসার। ছেলে নয়ন পঞ্চম শ্রেণিতে ও মেয়ে বৃষ্টি তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।

শুধু খাওয়ার কষ্টই নয়, নমিতা বুকের ভাল্ভ ও ছেলে নয়ন হার্টের সমস্যায় ভুগছে। প্রতি সপ্তহে তাদের জন্য ওষুধ কিনতে লাগে প্রায় সাড়ে ৭০০ টাকা। তাদের চিকিৎসা করতে সব শেষ করছেন সাধন চন্দ্র।

ভূমিহীন এই পরিবারে থাকার একটি ঘর গত ছয় মাস আগে ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে ভেঙে পড়ে। সেই থেকে ভাঙা টিনের ঘরে দুই সন্তানকে নিয়ে ঠান্ডায় বসবাস করছেন এই দম্পতি। চার মাস আগে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে দেখা করে ঢেউটিনের জন্য আবেদন দিয়েও আজ পর্যন্ত টিন পাননি।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, কনকনে শীত আর ঠান্ডা বাতাসে ভাঙা টিনের ঘরে প্লাস্টিক মুড়িয়ে ছেলেমেয়েকে নিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন এই দম্পতি। ঘরের সব টিন জং ধরে ভেঙে পড়েছে। ঘরে থাকার কোনো

সাধন চন্দ্র বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে এই খাসজমিতে বসবাস করছি। স্ত্রী ও ছেলের চিকিৎসা করে সব শেষ করছি। ঘর ভেঙে পড়েছে। ঘরটি তোলার কোনো উপায় নেই। আমি সরকারের কাছে একটি ঘর চাই। ইউএনওর কাছে টিনের জন্য দরখাস্ত দিয়েছি। ইউএনও বলেছেন, টিন এলে পাবেন। কিন্তু চার মাসেও টিন পাইনি। কেউ যদি আমার ঘরটি টিন দিয়ে ঠিক করে দিত, তাহলে ভগবানের কাছে আশীর্বাদ করতাম।’

ওই গ্রামের প্রতিবেশী আবু সাঈদ জানান, সাধান চন্দ্র একজন দিনমজুর, গরিব। তার স্ত্রী নমিতা শারীরিক প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ। টাকা-পয়সা না থাকায় ভাঙা ঘরটিতে ছেলেমেয়ে নিয়ে রাতযাপন করছেন। মুজিববর্ষ উপলক্ষে তার একটি সরকারি ঘর পাওয়া উচিত বলে মনে করি।’

সিন্দুর্না ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) আমিনুর রহমান জানান, সাধন চন্দ্র একজন হতদরিদ্র ব্যক্তি। তিনি সরকারি ঘর পাওয়ার যোগ্য। তবে সরকারি ঘর পাওয়ার তালিকা থেকে তিনি কেন বাদ পড়েছেন তা আমার জানা নেই।’

সিন্দুর্না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরল আমিন বলেন, ওই পরিবারটির বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে সরকারি ঘরের জন্য আবেদন দিলে বিষয়টি দেখা যাবে।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সামিউল আমিন বলেন, তিনি ভূমিহীন হলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে সরকারি ঘর পাওয়ার যোগ্য হলে ঘরের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আরও বলেন, টিনের জন্য আবেদনপত্র জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

ফেসবুকে স্ট্যাটাস : খাট-লেপ-তোশক-খাবার পেলেন বৃদ্ধা

জামালপুরের বকশীগঞ্জে ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখে ৭৬ বছর বয়সী অসহায় এক বৃদ্ধার পাশে দাঁড়িয়েছেন তরুণ বস্ত্র প্রকৌশলী আল ইমরান।

বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে বৃদ্ধা তুলো বেওয়ার দুর্দশার কাহিনী ফেসবুকে পোস্ট করেন স্থানীয় আবদুর রাজ্জাক মাহমুদ নামের এসডিজি জেলা নেটওয়ার্কের এক সদস্য।

শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) আল ইমরান তার প্রতিনিধির মাধ্যমে খাট, শীত নিবারণের জন্য লেপ, তোশক, বালিশ, খাবারের জন্য চাল ও নলকূপ ওই বৃদ্ধার বাড়িতে পাঠান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বকশীগঞ্জের মেরুরচর ইউনিয়নের পূর্ব কলকিহারা গ্রামের মৃত জমুর শেখের বিধবা স্ত্রী তুলো বেওয়া একটি একচালা ছাপরা ঘরে বসবাস করেন। তার দুই ছেলেও অভাব ও দরিদ্রতার কারণে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

দুই ছেলে কাছে না থাকায় অনেক কষ্টে ও অন্যের কাছে খাবার চেয়ে কোনো রকমে দিন কাটান এই বৃদ্ধা। বিশেষ করে ছাপরা ঘরে অন্ধকার রাতে একা থাকেন তিনি। বিদ্যুৎ সংযোগও নেয়া সম্ভব হয়নি অর্থের অভাবে।

খুবই স্বল্প সময়ের মধ্যে বৃদ্ধাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দেয়ারও আশ্বাস দেন তরুণ সমাজসেবক আল ইমরান।

প্রকৌশলী আল ইমরান বলেন, বৃদ্ধার দুর্দশার কথা জানতে পেরে আমি এগিয়ে এসেছি। যতদিন বেঁচে থাকব অসহায়-দুস্থ মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাবো।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

তিন মেয়েকে নিয়ে ভাঙা ঘরে রাত কাটে ফাতেমার

মোর আড়াই শতক ভুই (জমি)। ভালো একনা ঘর নাই। একনা ভাঙা টিনের চালা। ওকনা চালায় তিন কোনা বেটি (মেয়ে) নিয়া থাকোং (থাকি)’ বলেন ফাতেমা।

‘আইতে (রাতে) ঘুমির পাং না, বৃষ্টির দিনোত চালা দিয়ে পানি পড়ে। শীতের দিনোত বাতাস ঢোকে ঘরের ভেতরোত। স্বামী মরছে দেড় বছর হয় বিধবা ভাতার কার্ডও পাং নাই। মুই তো মোর কষ্টের কতা (কথা) চেয়ারম্যান-মেম্বারের কতবার কছুং ৷ কাও মোর ভাতা করে দেয় নাই৷ সরকার থেকে যদি একনা ঘর পানুং হয় তাইলে বাকি জীবনটা ভালো করে কাটনুং (কাটিল) হয়’।

এভাবেই নিজের কষ্টের কথাগুলো বলছিলেন লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের ৪নং দলগ্রাম ইউনিয়নের দক্ষিণ দলগ্রাম (হাজীপাড়া) এলাকার ৬নং ওয়ার্ডের মৃত্যু সামছুল হকের স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৩৭)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দশ বছর ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। দেড় বছর ধরে স্বামীহারা হলেও এখন পর্যন্ত ভাগ্যে জোটেনি বিধবাভাতা, ভিজিডি কার্ড কিংবা মাথা গোঁজার মতো একটা সরকারি ঘর। তবে সরকারি কাজের বিনিময় খাদ্য কর্মসূচিতে নাম রয়েছে তার।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি টিন দিয়ে তৈরি একটি টিনের ঘরে বৃষ্টি ও কনকনে ঠান্ডায় তিন কন্যাসন্তানকে নিয়ে কোনোমতে কষ্টে বসবাস করছেন ফাতেমা।

অভাবের তাড়নায় এক মেয়েকে অন্য বাড়িতে রেখে ঝিয়ের কাজ করতে হচ্ছে। আর দুই মেয়ে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে।

সারাদিন পরিশ্রম করে রাতে একটু ভালোভাবে ঘুমাতেও পারেন না তারা। ঘন কুয়াশায় ভিজে যায় বিছানাপত্র। তবুও বেঁচে থাকার তাগিদে জরাজীর্ণ ভাঙা টিনের চালায় রাতভর ছটফট করে তিন সন্তানকে নিয়ে থাকতে হয় ফাতেমাকে। মুজিববর্ষে সরকারি একটি ঘর পাওয়ার আকুতি জানান ফাতেমা বেগম।

এ বিষয়ে দলগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান রবিদ্রনাথ বর্মণ জানান, মাত্র দুই মাস হলো দায়িত্ব নিয়েছি। তবে এ অসহায় বিধবা সরকারি ঘর পাওয়ার যোগ্য বলেই মনে করি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

ছাগলের দৌড় প্রতিযোগিতা, প্রথম পুরস্কার মোবাইল

ছাগলের দৌড় প্রতিযোগিতা, প্রথম পুরস্কার মোবাইল

ষাঁড়ের লড়াই, মোরগ লড়াই, ঘৌড়দৌড়। এমনকি হালের বলদের দৌড় প্রতিযোগিতার কথা সবাই জানেন, দেখেছেন। তবে পোষা ছাগলের দৌড় প্রতিযোগিতার বিষয়টি একেবারেই নতুন। তাই তো ছাগলের দৌড় দেখতে ভিড় জমান এলাকার ছেলে-বুড়ো সবাই। করোনাকালীন একটু বিনোদনের ব্যবস্থা করতেই এমন আয়োজন আয়োজকদের।

বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার আব্দুল্লাহপুরে ছাগল দৌড়ের এমন ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

জানা গেছে, কুলিয়ারচর উপজেলার ‘পশ্চিম মোজরাই শান্তি সংগঠন’ নামের একটি সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এ দিন বিকেলে স্থানীয় ফেনাবাড়ি বন্দে অনুষ্ঠিত ছাগল দৌড় প্রতিযোগিতায় পালিত ১৬টি ছাগলসহ এর মালিকরা অংশ নেন। চারটি ধাপের ব্যতিক্রমী এ প্রতিযোগিতায় ছাগলের সঙ্গে দৌড়ান এর মালিকরাও।

প্রতিযোগিতায় পূর্ব আব্দুল্লাপুর গ্রামের সাকিব মিয়ার ছাগল প্রথম, মোজরাই গ্রামের মো. শফিক মিয়ার ছাগল দ্বিতীয় ও পূর্ব আব্দুল্লাপুর গ্রামের হিরু মিয়া ছাগল তৃতীয় স্থান অধিকার করে।

বিজয়ী ছাগলের মালিকদের যথাক্রমে একটি মোবাইল ফোন, একটি সাউন্ড বক্স এবং একটি হিটার জগ উপহার দেয়া হয়।

পশ্চিম মোজরাই শান্তি সংঘের ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান মাছুম বলেন, করোনাকালীন শহরের মতো গ্রামে কোনো বিনোদনের ব্যবস্থা নেই। তাই এলাকার মানুষকে নির্মল আনন্দ দিতেই এমন আয়োজন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

হাট-বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে বন্যপাখি

হাট-বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে বন্যপাখি

পাখি শিকার দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও তা তোয়াক্কা না করে ফাঁদ পেতে বন্যপাখি শিকার করছে ঠাকুরগাঁওয়ের একশ্রেণীর পাখি শিকারি।

শিকার করা সেসব পাখিকে বন্দী করা হচ্ছে খাঁচার ভেতরে। তারপর খাঁচাবন্দি পাখিগুলো প্রকাশ্যেই স্থানীয় হাট-বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এ পাখিগুলো কিনছেন মধ্যবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্তরা।

শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) জেলার বালিয়াডাঙ্গীর চাড়োল ইউনিয়নের হাটে এ দৃশ্য দেখা যায়।

চাড়োল ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ‘লাহিড়ী হাটে’ গড়ে উঠেছে বন্যপাখি বিক্রির এ হাট। প্রত্যেক সপ্তাহের সোমবার ও শুক্রবার এখানে বসে বন্যপাখির হাট। অথচ হাটটি ইজারার মাধ্যমে সরকার রাজস্ব আদায় করছে। শুধু এ হাটেই নয়, জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রকাশ্যে বন্যপাখি বিক্রি হচ্ছে।

২০১২ সালের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে বলা হয়েছে, পাখি নিধনের সর্বোচ্চ শাস্তি এক লাখ টাকা জরিমানা, এক বছরের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ড। একই অপরাধ পুনরায় করলে দুই লাখ টাকা জরিমানা, দুই বছরের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

এই আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রকাশ্যে হাট-বাজারে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বিক্রি করা হচ্ছে। এদের মধ্যে রয়েছে- টিয়া, গাড়োল টিয়া, ঘুঘু, শালিক, বক, পানকৌড়ি ও ওয়াক্কাসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। এগুলোর মধ্যে প্রতি জোড়া টিয়া ৮০০ টাকা, ঘুঘু ৪৫০ টাকা, বক জোড়া ৩০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়াও ছোট আকৃতির বিভিন্ন পাখি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা জোড়া করে।

জানা গেছে, স্থানীয়রা বাধা দিলেও পাখি শিকারিদের পক্ষ নিয়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা স্থানীয় মানুষদের হুমকি দিয়ে আসছেন।

স্থানীয়রা জানান, পাখি বিক্রি ও কিনতে আসাদের বাধা দিলেও তারা শোনেন না। দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে কঠোরভাবে বন্যপ্রাণি নিধন দমন করা উচিত।

পাখি বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন চাড়োল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দিলীপ কুমার চ্যাটার্জী।

তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে। পরিষদ ও গ্রাম পুলিশ পাখি নিধনরোধের চেষ্টা করছে।

এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা হরিপদ দেবনাথ বলেন, যখনই জানতে পারি কোথাও পাখি শিকার হচ্ছে, তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করছি।

প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় বন্যপাখি শিকার বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন- এমনটাই আশা প্রকৃতিপ্রেমী সচেতন মানুষদের।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com