আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

লাইভস্টক

মধু চাষে খরচ কম, বাড়তি আয়

মধু চাষে খরচ কম, বাড়তি আয়
মধু চাষে খরচ কম, বাড়তি আয়: বাড়ির পাশে সরিষাখেতে মধু চাষ করে বাড়তি টাকা আয় করছেন জর্ঝিনা চাকমা। পানছড়ি দক্ষিণ শান্তিপুর এলাকায়

বাড়ির পাশে সরিষাখেতে মধু চাষ করে বাড়তি টাকা আয় করছেন জর্ঝিনা চাকমা। পানছড়ি দক্ষিণ শান্তিপুর এলাকায়

পানছড়ির উল্টাছড়ি ইউনিয়নে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মধু চাষ। ঘরের কাজের পাশাপাশি বাড়তি খরচ ছাড়াই একবার পুঁজি খাঁটিয়ে বারবার আয় করতে পারায় মধু চাষে ঝুঁকছেন চাষিরা। এই ইউনিয়নের চারটি গ্রামেই মধু বিক্রি করে সংসারে বাড়তি আয় করছে ৪০টির বেশি পরিবার।

সম্প্রতি পানছড়ি বাজার থেকে চার কিলোমিটার দূরে শান্তিপুর, দক্ষিণ শান্তিপুর কর্মাপাড়া ও ঝাগুর নালা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে, দেয়ালের পাশে কিংবা সরিষাসহ বিভিন্ন সবজিখেতের মাঝে কাঠের বাক্স রাখা। সেই বাক্সে মৌমাছি রেখে মধু চাষ করছেন চাষিরা।

মৌচাষিরা জানান, এক একটি কাঠের বাক্স বা কলোনি বানাতে খরচ হয় তিন হাজার টাকা। তা ছাড়া রানি মৌমাছি সহজে পাওয়া যায় না। যাঁরা জঙ্গল থেকে রানি মৌমাছি সংগ্রহ করেন তাঁরাও চড়া দামে বিক্রি করে থাকেন। এমন অনেক নতুন চাষি আছেন প্রশিক্ষণ না থাকায় তাঁরা অনেক সময় রানি মৌমাছি হারিয়ে ফেলেন। তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে মধুর উৎপাদন আরও বাড়বে।

দক্ষিণ শান্তিপুর এলাকার গৃহিণী জর্ঝিনা চাকমা (৩৫) বলেন, ‘চার বছর আগে একটি রানি মৌমাছিকে পাঁচ শ টাকায় কিনে নিয়ে এসে বাড়িতে একটি কাঠের বাক্সে রেখে দিই। কয়েক দিনের মধ্যে সেই কাঠের বাক্সের চারপাশে মৌমাছি আসা শুরু করে। মৌমাছিরা সারা দিন বন-জঙ্গল ঘুরে মধু সংগ্রহ করে এই বাক্সে জমা করে রাখে। প্রথম বছর তিন লিটার মধু বিক্রি করে তিন হাজার ছয় শ টাকা পেয়েছি। পরের বছর আরও একটি বাক্স বাড়াই। বর্তমানে তিনটি বাক্স থেকে বছরে নয় কেজির বেশি মধু পেয়ে থাকি।’

শুধু নয় জর্ঝিনা চাকমা নয় দক্ষিণ শান্তিপুর এলাকার গৃহিণী সুচন্দা খীসাও মৌচাষ করছেন। তিনি বলেন, পাঁচ বছর আগে তিনি ঘরের উঠানে তিনটি বাক্সে মৌমাছি রেখে চাষ শুরু করেন। বাজারে নিয়ে গেলেই প্রতি কেজি মধু এক হাজার থেকে এক হাজার দু শ টাকায় বিক্রি করা যায়। আত্মীয়-স্বজনদের দিয়েও প্রতিবছর মধু বিক্রি করে আট থেকে দশ হাজার টাকা পান তিনি।

এই ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিমাই নাথও মৌ চাষ করছেন। তিনি বলেন, ‘এই এলাকায় দায়িত্ব নেওয়ার পর জানতে পারি অনেক পরিবার মধু চাষ করে বাড়তি টাকা লাভ করছেন। প্রথমে বাড়ির জন্য পরীক্ষামূলকভাবে একটা বাক্সে রানি মৌমাছি নিয়ে এসে মধু চাষ করি। বর্তমানে আমার ১১টা মৌ বাক্স আছে যেগুলো আমি এই এলাকার বিভিন্ন খেতে ও গাছের নিচে বসিয়ে দিয়েছি। গত বছর ৩০ লিটারের মতো মধু বিক্রি করেছি।’

তিনি আরও বলেন, মধু চাষে তেমন কোনো পরিচর্যা করতে হয় না। খরচ কম, লাভ বেশি। শুধু দরকার একটি রানি মৌমাছি ও একটি বাক্স। ঘরের কোণে কিংবা উঠানে মৌমাছির রানি নিয়ে বাক্স বসিয়ে দিলেই মৌমাছি চলে আসে। সে জন্য অসচ্ছল ব্যক্তিদের জন্য এই চাষ খুবই সুবিধাজনক।

উল্টাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিজয় বিকাশ চাকমা বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা নিজেদের প্রচেষ্টার মধু চাষ করছেন। সরকারিভাবে যদি মৌচাষিদের প্রশিক্ষণ ও ঋণ দেওয়া হয় তাহলে মৌ চাষে অনেকে এগিয়ে আসবে এবং মৌচাষিরা উপকৃত হবেন।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

মন্তব্য এর উত্তর দিন

এগ্রোবিজ

মধু চাষে সাড়ে চার লাখ কৃষক

মধু চাষে সাড়ে চার লাখ কৃষক
মধু চাষে সাড়ে চার লাখ কৃষক

মধু চাষের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে চার লাখ কৃষক জড়িত। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মধু চাষের কারণেই আজ এত কৃষকের কর্মসংস্থান হয়েছে, যা ১০ বছর আগেও ছিল না। এসব কৃষক বছরে গড়ে ৮০০ থেকে ৯০০ টন মধু উৎপাদন করেন। একসময় গ্রামে কৃষিকাজ করে যাদের সংসার চলত না তারা এখন মধু চাষ করছেন। মধু উৎপাদন করে তাদের সংসার ভালো চলছে। দেশের অনেক এলাকায় মধু চাষ গ্রামীণ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে  ও রাজধানীতে চলা জাতীয় মৌমেলায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ এগ্রিকালচার রিচার্স কাউন্সিল (বিএআরসি) প্রাঙ্গণে চলছে এই মেলা। সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) তিন দিনব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। চতুর্থবারের মতো এ মেলার আয়োজন করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে। মেলা চলবে ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

মঙ্গলবার মেলা ঘুরে দেখা গেছে, আদিল মৌ খামার, সুন্দরবন বি অ্যান্ড হানি ফার্ম, সজীব মৌ খামার, সোনারগাঁও মৌ খামার, মৌচাক এগ্রো ফুড, সলিড মধু, তাওহিদ মধু, আজাদ মোল্লার মধু, আল্লার দান মৌ খামারসহ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে মধু চাষিরা তাদের উৎপাদিত মধু নিয়ে মেলায় এসেছেন। শুধু চাষিরাই নন। দেশের নামিদামি ব্রান্ড এপি, ডাবর হানি, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, কৃষি তথ্য সার্ভিস ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরসহ মোট ৭৪ টি স্টল স্থান পেয়েছে এ মেলায়। মেলার দ্বিতীয় দিনে দর্শনার্থীদের সমাগম ছিল জোখে পড়ার মতো।

মধু চাষে সাড়ে চার লাখ কৃষক
মধু চাষে সাড়ে চার লাখ কৃষক

দেশে মধু উৎপাদন প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক জাগো নিউজকে বলেন, ‘কৃষির আধুনিকায়ন ও বাণিজ্যিকীকরণে মধু একটি নতুন সংযোজন, যা আমাদের রফতানি বহুমুখীকরণে সহযোগিতা করবে। আগে মধু সীমিত আকারে উৎপাদন হলেও এখন বাণিজ্যিকভিত্তিতে উৎপাদন শুরু হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘পুষ্টিচাহিদা নিশ্চিত করতে মধু একটি অন্যন্য খাদ্য। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে মৌমাছি পালন, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের বিরাট সম্ভাবনা রয়েছে। মধু চাষ সম্প্রসারণ পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি পরাগায়ণের মাধ্যমে ফল ও ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সূত্র মতে, সারাদেশে মধু চাষ করেন চার লাখ, ২২ হাজার ৬৩৬ জন কৃষক। এ ছাড়া তালিকার বাইরেও অনেকে চাষ করছে। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ১০২২ দশমিক ৩০৬ টন, ১৬-১৭ তে ১০৫৬ দশমিক ৯৪৯, ১৭-১৮ তে ৭৪৩ দশমিক ৯৬৩ ও ১৮-১৯ অর্থবছরে ৮৯৬ দশমিক ৫৭১ টন মধু উৎপাদন হয়েছে।

মধু চাষে সাড়ে চার লাখ কৃষক
মধু চাষে সাড়ে চার লাখ কৃষক

মেলায় স্টল নিয়ে মধু বিক্রি করছে দামি ব্র্যান্ড এপি। এ স্টলে জাপানে মধু রফতানির বিষয়টি বিশাল ব্যানারে স্পষ্ট করে লেখা আছে। কথা হয় এপির কর্মকর্তা রিয়াজুল হাসানের সঙ্গে। জাপানে মধু রফতানি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা এবার জাপানে ৪০০ টন মধু রফতানির অর্ডার পেয়েছি। দেশের চাষিদের অধিকাংশ মধু আমরা কিনে নেই। এগুলো মেশিনের মাধ্যমে পিউরিফাইন করে রফতানি করতে হয়। যারা ভালো মধু উৎপাদন করেন, তাদের মধুই আমরা কিনি।’

তিনি বলেন, ‘এখনও ৫০০ টন মধু আমাদের মজুদ রয়েছে।’

আদিল মৌ খামারের মালিক আহসান হাবিব খোকন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমার প্রিন্টিংয়ের ব্যবসা আছে। তারপরও বিসিক থেকে ট্রেনিং নিয়ে মধু চাষ শুরু করি। ধীরে ধীরে এ ব্যবসা ভালো লাগতে শুরু করে। কারণ, মানুষকে একটা ভালো জিনিস খাওয়াতে পারছি। প্রিন্টিং ব্যবসার মধ্যে ভেজাল ও দুই নম্বরি আছে। ফলে ওই ব্যবসা করে শান্তি পাই না। কিন্তু মধু উৎপাদনের ব্যবসা করে আমি বেশ শান্তি পাই। কারণ, ভেজালের এই যুগে মানুষকে একটা ভালো খাবার দিতে পারছি।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

মৌ চাষে সহজে বাড়তি আয়

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের পাহাড়ি এলাকায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মৌ চাষ। বাড়তি খরচ ছাড়াই একবার পুঁজি খাটিয়ে আয় করা যায় এই খাত থেকে। মধু বিক্রি করে সংসারের বাড়তি আয় করছেন শতাধিক পরিবার।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

গরুর খাঁটি দুধ প্রতি কেজি ৬০ টাকা

গরুর খাঁটি দুধ প্রতি কেজি ৬০ টাকা
গরুর খাঁটি দুধ প্রতি কেজি ৬০ টাকা

সন্দ্বীপে প্রতিদিন সকালে বসে খাঁটি গরুর দুধের বাজার। প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন বাজারে দেখা যায় গোয়ালেদের। গরুর খামার এবং গৃহপালিত গরু-মহিষ থেকে দুধ সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করেন তারা। প্রতি কেজি গরুর দুধ বিক্রি হয় ৫০-৬০ টাকায়।

জানা যায়, খাঁটি দুধের এ বাজারগুলোতে ক্রেতাদের ভিড়ও লক্ষণীয়। সন্দ্বীপের শিবেরহাট, ধোপারহাট, আলীমিয়া বাজার, চৌধুরী বাজার, গুপ্তছড়া বাজার, সেনেরহাট, তালতলী বাজার, চৌমুহনী বাজার, আকবর হাটে সকালে এ দুধ পাওয়া যায়। পণ্ডিতের হাটে বিকেলেও পাওয়া যায়। সন্দ্বীপের অধিকাংশ বাড়িতেই দু-তিনটি করে গরু পালন করা হয়। ফলে দুধের বিশাল ঘাটতি পূরণে সহায়তা হচ্ছে। সন্দ্বীপের বিয়ে-শাদিতে দইয়ের রেওয়াজ বহুদিনের পুরোনো। প্রতিদিন পাইকারিভাবে দুধ কিনে দইয়ের ঘাটতি পূরণ করেন ব্যবসায়ীরা।

গরুর খাঁটি দুধ হাত ও দল বদল হয়ে শহরে গিয়ে খাঁটি থাকে না। সন্দ্বীপের বাজারগুলো হচ্ছে খাঁটি দুধের বাজার। দুধের হাটে গিয়ে দেখা যায়, বোতল কিংবা জগে ভর্তি দুধ সাজিয়ে বসে আছেন অনেকে। ক্রেতারা এসে পরিমাণমতো দুধ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

গরুর খাঁটি দুধ প্রতি কেজি ৬০ টাকা
গরুর খাঁটি দুধ প্রতি কেজি ৬০ টাকা

ধোপারহাট বাজারে ফোরকান উদ্দিন নামে একজন দুধ কিনতে এসেছিলেন। তিনি জানান, তার নাতির জন্য প্রতিদিন দুধ লাগে। এখানে দাম একটু বেশি হলেও দুধ ভেজালমুক্ত। তাই তিনি এখান থেকেই কিনে নেন।

দুধ বিক্রতা মো. বেলাল বলেন, ‘আগে ব্যবসায়ীদের কাছে পাইকারি ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতাম। এখন খুচরাসহ বিভিন্ন হোটেলে পাইকারি দরে দুধ বিক্রি করি। হোটেল মালিকরা দুধ দিয়ে দই, রসগোল্লা, সন্দেশসহ বিভিন্ন মিষ্টি তৈরি করেন। আমার চারটি গাভি রয়েছে। প্রতিদিন ১০-১২ কেজি দুধ দেয়। তবে ভুষির দাম বেশি হওয়ায় খরচ একটু বেশি।’

সন্দ্বীপের এই দুধ আসলে খাঁটি কি-না, তা জানার কোনো উপায় নেই। ফলে স্যানেটারি কার্যক্রম না থাকার অভিযোগ অনেকের। যে কারণে দুধ কখনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় না। এ ব্যাপারে পল্লীচিকিৎসক ডা. নুরুল আনোয়ার হিরন বলেন, ‘বর্তমানে চারদিকে ভেজালের ছড়াছড়ি। মাঝে মাঝে দুধ পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

এক পাউন্ড মধু উৎপাদনে ২০ লাখ ফুলে যায় মৌমাছিরা

এক পাউন্ড মধু উৎপাদনে ২০ লাখ ফুলে যায় মৌমাছিরা
এক পাউন্ড মধু উৎপাদনে ২০ লাখ ফুলে যায় মৌমাছিরা

এক পাউন্ড মধু উৎপাদনে মৌমাছির প্রায় ২০ লাখ ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করতে হয়। এ জন্য মৌমাছিকে প্রায় ৮০ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। আর একটি মৌমাছি তার জীবনে এক চা চামচ পরিমাণ মধু সংগ্রহ করে। কানাডিয়ান হানি কাউন্সিল থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুল মুঈদ জানান, প্রতিদিন আমরা যে খাবার খাই তার তিন ভাগের এক ভাগ আসে মৌমাছির পরাগায়ন থেকে। পরিসংখ্যানের দিক থেকে কীটপতঙ্গের মাধ্যমে যেসব উদ্ভিদের পরাগায়ন হয় তাতে শুধু মৌমাছির অবদানে ৮০ ভাগ।

তিনি বলেন, বর্তমানে মানুষ খাবার হিসেবে যে ফলমূল-শাকসবজি ওপর বেশি নির্ভরশীল সেগুলোর ৭০ ভাগই উৎপন্ন হয় মৌমাছির পরাগায়নের মাধ্যমে। পৃথিবীতে প্রতি বছর মৌমাছির পরাগায়নের মাধ্যমে যে পরিমাণ খাদ্যের উৎপাদিত হয় সেগুলোর আর্থিক মূল্য আনুমানিক ২২ হাজার কোটি ডলার। এ অর্থনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জড়িয়ে আছে বিশ্বব্যাপী ১৪০ কোটি মানুষের জীবিকা।

বর্তমান জনসংখ্যার জন্য খাবারের জোগান দিতে প্রয়োজন বাড়তি উৎপাদন। আর মৌমাছির সহায়তা ছাড়া এ উৎপাদন এক প্রকার অসম্ভব। তাই মৌমাছির জীবন হুমকির মুখে পড়লে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও হুমকির মুখে পড়বে। একটি মৌচাকে যত মৌমাছি বাস করে তার চারপাশে চার বর্গ কিলোমিটারের মধ্যে যত ফুল ফোটে মৌমাছি একদিনে সেগুলোতে ঘুরে মধু সংগ্রহ ও পরাগায়ন করতে সাহায্য করে।

শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাখাওয়াত হোসেনের মতে, গবেষণা থেকে প্রাপ্ত মৌমাছিরা ফুলের পরাগায়ন ঘটিয়ে কৃষিজ ফসলের উৎপাদন ২৫ থেকে ৩০ ভাগ বাড়িয়ে দেয়।

মৌমাছিকে তাদের প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে এনে মৌচাকের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করে আধুনিক এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পালন করায় মূলত মৌমাছি পালন। একটি মৌচাকে গড়ে প্রায় ২০ হাজার মৌমাছি থাকে। একটি মৌচাকে সাধারণত তিন শ্রেণির মৌমাছি থাকে। রানী মৌমাছি, যা প্রজননে অংশ নেয়। এছাড়া ড্রোন বা পুরুষ এবং কর্মী মোৗমাছি থাকে।

২০১৯ সালে জাপানে রফতানি হয়েছে ৬৪ দশমিক ৫ ভাগ মধু। আর বিশ্বের মোট রফতানিকৃত মধু থেকে আয় ১ কোটি ৫৩ লাখ ৪২ হাজার মার্কিন ডলার এবং আমদানিতে মোট ব্যয় ১১৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে শিল্পায়নে ও কারুশিল্পে মমের চাহিদা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এক প্যাকেট (৬০০ গ্রাম) পরাগরেণুর খুচরা বাজারে মূল্য তিন থেকে চার হাজার টাকা। তবে রাজকীয় জেলি ও মৌবিষের বাজার আমাদের দেশে এখনও তৈরি হয়ে উঠেনি। বিশ্ববাজারে এর গুরুত্ব অনেক বেশি। বাংলাদেশের মাঠ ফসল, শস্য চক্র ও সময় বিবেচনা করে ৪০ থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন মধু উৎপাদন সম্ভব।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কোয়েলেই কোটিপতি শামীম

কোয়েলেই কোটিপতি শামীম
কোয়েলেই কোটিপতি শামীম

‘ছেলেবেলায় বই পড়ে কোয়েল পাখির কথা জেনেছি। তখন থেকেই কোয়েল পাখি পোষার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু জীবনের প্রয়োজনে বেছে নিতে হয় প্রবাস জীবন। এমন সময় বিদেশে বসেই টেলিভিশনে কোয়েল পাখি চাষ করে সফল হয়েছে এমন কয়েকটি প্রতিবেদন দেখে আমার উৎসাহ আরো বেড়ে যায়।’ এভাবেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের গল্প বলছিলেন টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কচুয়া গ্রামের সফল কোয়েল চাষি শামীম আল মামুন।

তিনি বলেন, ‘৩০ শতক জমির ওপর গড়ে তুলি কোয়েলের খামার। ৫শ’ কোয়েলের বাচ্চা দিয়ে শুরু হয় সেই স্বপ্নের যাত্রা। এখন আমার খামারে কোয়েলের সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার। গড়ে তুলেছি কোয়েলের একটি হ্যাচারি।’

সম্প্রতি শামীমের কোয়েলের খামারে গিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি জানান, উপজেলার প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারেন বগুড়ায় কোয়েল পাখির বাচ্চা পাওয়া যায়। তাই ছুটে যান সেখানে। ২০ হাজার টাকা দিয়ে ৫০০ কোয়েলের বাচ্চা নিয়ে আসেন। নিজেই যত্ন নিতে থাকেন। আস্তে আস্তে কোয়েল পাখির সঙ্গে গড়ে ওঠে সখ্য। সেখান থেকে প্রতিমাসে ভালো একটা আয়ও হতে থাকে। তাই কোয়েলের সংখ্যাও বাড়াতে থাকেন তিনি।

কোয়েলেই কোটিপতি শামীম
কোয়েলেই কোটিপতি শামীম

শামীম জানান, বর্তমানে কোয়েলের সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার। প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার কোয়েল ডিম দিচ্ছে। এতে প্রতিমাসে ২ লক্ষাধিক টাকা আয় হচ্ছে।

শামীম আরো জানান, কোয়েলের খামারে কোনো দুর্গন্ধ নেই। তাই এটি পরিবেশবান্ধব। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে খামার দেখার জন্য লোকজন আসে। তারা জানতে চান কোয়েল চাষের কলাকৌশল। অনেকেই কোয়েল পালনের আগ্রহ দেখানোয় তিনি বাচ্চা উৎপাদনের জন্য গড়ে তুলেছেন একটি হ্যাচারি। তার হ্যাচারি থেকে বাচ্চা নিয়ে অনেক বেকার যুবক সাবলম্বী হচ্ছেন।

তিনি জানান, কোয়েলের নিজস্ব কোনো খাবার না থাকলেও বাজারে যে মুরগির খাবার পাওয়া যায়; তা দিয়েই কোয়েল পালন করা যায়। বাজারে দুই জাতের কোয়েল পাওয়া যায়। একটি লেয়ার জাতের কোয়েল ৪২-৪৫ দিনের মধ্যেই ডিম দেয় এবং টানা ১৮ মাস ডিম দিয়ে থাকে। অন্যদিকে একটি ব্রয়লার জাতের কোয়েল ২৮ দিনের মধ্যে বিক্রির উপযোগী হয়। কোয়েলের মাংস ও ডিম খুব সুস্বাদু ও পুষ্টিকর।

কোয়েল পাখিতে দারিদ্র জয় করা শামীম গর্ব করে বলেন, ‘যারা আমার খামারে আসেন আমি তাদের কোয়েল চাষ করার পরামর্শ দিয়ে আনন্দ পাই। কোয়েল চাষ কম পুঁজিতে একটি লাভজনক ব্যবসা। যেকোনো ছোট পরিবার কোয়েল চাষ করে সচ্ছলভাবে চলতে পারে।

কোয়েলেই কোটিপতি শামীম
কোয়েলেই কোটিপতি শামীম

কোয়েল পালনের উদ্যোক্তা শামীম জানান, ২০১২ সাল থেকে কোয়েল পালন শুরু করে গত ৫ বছরে সে জেলার শ্রেষ্ঠ খামারি হিসেবে বেশ কয়েকটি পুরস্কার পেয়েছেন। এখন তার খামারে প্রতিদিন ৮ জন শ্রমিক কাজ করছে। শ্রমিকদের মাসিক বেতন দিচ্ছেন ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে।

ভবিষ্যতে খামারের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি জানান, কোয়েলের ডিম, হ্যাচারি থেকে উৎপাদিত বাচ্চা বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার লোকজন কিনে নিচ্ছেন। অন্যদিকে ব্রয়লার জাতের কোয়েলের জন্য সিলেট, ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, শেরপুর জেলার হোটেল ব্যবসায়ীরা অগ্রীম বুকিং দেন।

এছাড়াও ঢাকার অভিজাত শপিং মলগুলোতে মাংসের জাতের কোয়েল সরবরাহ করে থাকেন। এ জন্য তার রয়েছে নিজস্ব পরিবহন। চাহিদামতো ডিম, বাচ্চা ও মাংসের কোয়েল পাখি পৌঁছে দেন। আর বিকাশে টাকাও চলে আসে দ্রুত।

এব্যাপারে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এসএম উকিল উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘কোয়েলের ডিম ও মাংসে কোলেস্টেরল কম থাকায় স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এমনকি রোগীর পথ্য হিসেবেও কোয়েলের মাংস ও ডিম খুব উপযোগী। কোয়েল চাষে কোনো ঝুঁকি নেই। মুরগির ভ্যাকসিন দিয়েই এর চিকিৎসা হয়।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com