আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

শিগগিরই ভেনামি চিংড়ি চাষের সম্ভাব্যতা যাচাই

শিগগিরই ভেনামি চিংড়ি চাষের সম্ভাব্যতা যাচাই
শিগগিরই ভেনামি চিংড়ি চাষের সম্ভাব্যতা যাচাই

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ বলেছেন, শিগগিরই বিশ্বখ্যাত ভেনামি জাতের সাদা চিংড়ি দেশে চাষের সম্ভাব্যতা যাচাই করে পরীক্ষামূলক চাষের ব্যবস্থা করা হবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে বিএফএফইএ ও বিপিসির যৌথ উদ্যোগে ‘হিমায়িত চিংড়ি চাষ বৃদ্ধি এবং আনুষাঙ্গিক প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। 

মন্ত্রী বলেন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা বলতে আমরা চাল-ভাতকে বুঝালেও আসলে মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, শাকসবজিও খাদ্যেরই অংশ। তাই রফতানিযোগ্য চিংড়ি মাছেও আমাদের অগ্রগতি অর্জন করা জরুরি। আমরা ইতোমধ্যে দুধে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের কাছাকাছি রয়েছি, ডিমেও স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে। 

বক্তারা রফতানিযোগ্য চিংড়ি চাষে বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা, দুর্বলতাসহ নানা কারণে উৎপাদন হ্রাস পাওয়ার তথ্য তুলে ধরেন। বিষয়গুলোতে নজর না দিলে চিংড়ি রফতানির ক্ষেত্রে ধস নামতে পারে বলে আশঙ্কা করেন তারা।

বিগত চার বছরের হিমায়িত চিংড়ি রফতানির নিম্নমুখী চিত্র দিয়ে বলেন, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৫৫০ মিলিয়ন ডলারের ৪৭ হাজার ৬৩৫ মেট্রিক টন চিংড়ি রফতানি হলেও ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ সালে তা কমে দাঁড়ায় যথাক্রমে ৫১০ মি. ডলার মূল্যের ৪৪ হাজার ২৭৮ মে. টন, ৪৭২ মি. ডলারের ৪০ হাজার ২৭৬ হাজার মে. টন ও ৪৪৬ মি. ডলার মূল্যের ৩৯ হাজার ৭০৬ মে. টন।       

সেমিনারে চিংড়ি চাষের ওপর দুটি প্রবন্ধ পাঠ করে মৎস্য অধিদফতরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা চিত্তরঞ্জন বিশ্বাস ও সাবেক উপ-পরিচালক প্রফুল্ল কুমার সরকার। 

দেশি বালদা চিংড়ির চেয়ে ভেনামি চিংড়ির উৎপাদন খরচ ২০-৩০ শতাংশ কম থাকায় তারা অন্যান্য দেশের ন্যায় এটিকেও ব্যাপকভাবে চাষাবাদের ওপর জোর দেন। 

বিএফএফইএ এর সভাপতি আমিল উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনার মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক ও কক্সবাজার-২ আসনে সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক। অন্যান্যের মধ্যে নৌ পরিবহন সচিব আব্দুস সামাদ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতি. সচিব মুন্সী সফিউল হক প্রমুখ।   

ইরান

ভাষা বিতর্ক: খোদা হাফেজ-এর জায়গায় আল্লাহ হাফেজ-এর প্রচলন কখন, কীভাবে হলো? আরবদের মাঝে বিদায়ী সম্ভাষণের ভাষা কী?

উপমহাদেশে ও তার বাইরেও মুসলিম রীতিতে সম্ভাষণ জানানো হয় 'আসসালামু আলাইকুম' বলে
উপমহাদেশে ও তার বাইরেও মুসলিম রীতিতে সম্ভাষণ জানানো হয় ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলে

বাংলাদেশের এক টিভি অনুষ্ঠানে ‘আল্লাহ হাফেজ’ নিয়ে একজন অধ্যাপকের মন্তব্য নিয়ে অনলাইনে তুমুল আলোচনা-বিতর্ক চলছে।

টিভি চ্যানেল ডিবিসির এক আলোচনা অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জিয়া রহমান বলেন,”আগে আমরা ‘স্লামালেকুম’ বলতাম … এখন যেভাবে স্ট্রেস দিয়ে ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলে এটা এই পুরো বিএনপি-জামাত মাসলার মধ্যে শেখানো হয়েছে। কিংবা ‘আল্লাহ হাফেজ’ …. যে ‘খোদা হাফেজ’ আমরা বলতাম খুব সহজে, এটা আল্লাহ হাফেজ… এগুলো দিয়ে কিন্তু একটা ডিসকোর্স তৈরি করা হয়েছে।”

অধ্যাপক জিয়া রহমানের এই মন্তব্য প্রচার হবার পরই শুরু হয় সামাজিক মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা-বিতর্ক।

সামাজিক মাধ্যমে অনেকে বলছেন, স্পষ্ট করে আসসালামু আলাইকুম বলায় দোষের কিছুই নেই, শুদ্ধ উচ্চারণে ইংরেজি বলা দোষের না হলে শুদ্ধভাবে এই ঐতিহ্যগত সম্ভাষণ উচ্চারণ করা দোষের হবে কেন? তারা বলছেন, ‘আল্লাহ হাফেজ’ বলাটাও তাদের মতে ‘খোদা হাফেজ’ বলার চাইতে ধর্মীয় দিক থেকে অধিকতর সংগত।

অন্য অনেকের মত, বাঙালি মুসলিমদের সম্ভাষণ ও বিদায় জানানোর যে চিরাচরিত রীতি তা থেকে মানুষ বিচ্যুত হয়ে যাচ্ছে – এবং তার পেছনে আছে সৌদি-অনুপ্রাণিত ওয়াহাবি ভাবধারার ইসলামী মতাদর্শের উত্থান। এর সাথে কেউ কেউ উগ্রপন্থা বা জঙ্গিবাদের সম্পর্কও দেখছেন।

কিন্তু পরস্পরকে সম্ভাষণ ও বিদায় জানাবার এই মুসলিম রীতিগুলো আসলে কোন পটভূমিতে সৃষ্টি হয়েছে?

পৃথিবীর অন্য মুসলিম দেশে কি ‘আল্লাহ হাফেজ’ বা ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলা হয়?

মুসলমানরা কীভাবে পরস্পরকে সম্ভাষণ করেন

সাধারণভাবে বলা যায়, বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে মুসলমানদের মাতৃভাষা যাই হোক না কেন সাধারণত: তারা পরস্পরকে সম্ভাষণ করেন ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলে।

এটা ঠিক যে কথাটা আগে যেমন একটু সংক্ষেপ করে স্লামালেকুম বলা হতো, আজকাল অনেকে তা না করে পুরো কথাটা স্পষ্ট করে উচ্চারণ করেন।

আরব দেশগুলোতে সাধারণত সম্ভাষণ ও বিদায়ের সময় যথাক্রমে আসসালামু আলাইকুম ও মা'সালামা বলা হয়
আরব দেশগুলোতে সাধারণত সম্ভাষণ ও বিদায়ের সময় যথাক্রমে আসসালামু আলাইকুম ও মা’সালামা বলা হয়

তা ছাড়া অনেককে ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহে ওয়া বারাকাতাহু’ বলতেও শোনা যায়, তবে এটাকে একটু ‘আনুষ্ঠানিক’ বলা যেতে পারে – সাধারণ কথোপকথনের সময় এটা কমই বলতে শোনা যায়।

আর বিদায়ের সময় এ অঞ্চলে ‘খোদা হাফেজ’ বা ‘আল্লাহ হাফেজ’ বলা হয়।

মরক্কো থেকে ইরাক পর্যন্ত বিশ্বের যে বিস্তীর্ণ ভুখন্ডে আরবি ভাষাভাষীরা বাস করেন – তারা একে অপরের সাথে দেখা হলে ‘আসসালামু আলাইকুম’, এবং বিদায় নেবার সময় ‘মা’সালামা’ বলেন, তবে অঞ্চলভেদে কিছু স্থানীয় রীতিও আছে।

ফারসি-ভাষী ইরানে সাক্ষাতের সময় পরস্পরকে ‘সালাম’ এবং বিদায় নেবার সময় ‘খোদা হাফেজ’ বলা হয়।

আল্লাহ হাফেজ-এর উৎপত্তি কোথায়, কখন, কীভাবে?

বলা যেতে পারে, মুসলিমদের মধ্যে বিদায়ের সময় ‘আল্লাহ হাফেজ’ বলার রীতি শুধু ভারতীয় উপমহাদেশেই আছে। এখান থেকেই হয়তো তা এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে থাকতে পারে।

তাহলে প্রশ্ন, ‘আল্লাহ হাফেজের’ উৎপত্তি হলো কোথায়, কখন, কীভাবে?

বাংলাদেশে ১৯৮০র দশকে প্রথম ‘আল্লাহ হাফেজ’ কথাটি শোনা যেতে থাকে। এর আগে বাঙালি মুসলমানরা প্রায় সার্বজনীনভাবেই বিদায়ের সময় খোদা হাফেজ বলতেন।

‘আল্লাহ হাফেজ’ কথাটির উৎপত্তি নিয়ে অনেক লেখক-গবেষকই বিভিন্ন সময় লিখেছেন।

পাকিস্তান ও মধ্য এশিয়া বিষয়ে একজন বিশেষজ্ঞ ও সাংবাদিক সৈয়দ হামাদ আলি ২০১২ সালে ব্রিটিশ দৈনিক দি গার্ডিয়ানে এক নিবন্ধে লিখেছেন, পাকিস্তানে ১৯৯০এর দশকেও অধিকাংশ লোকই বিদায় নেবার সময় ‘খুদা হাফিজ’ বলতেন, কিন্তু এখন সবাই – ধর্মীয় নেতা থেকে শুরু করে ফ্যাশন মডেল বা টিভির উপস্থাপক পর্যন্ত – সবাই ‘আল্লাহ হাফিজ’ বলছেন।

তিনি মন্তব্য করেন, এ পরিবর্তন পাকিস্তানের উদারপন্থীদের অস্বস্তির কারণ হয়েছে, তাদের মতে এটা পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে একটা পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে।

সৈয়দ হামাদ আলি বলছেন, ‘আল্লাহ হাফিজ’ কথাটা প্রথম ব্যবহার শুরু হয় পাকিস্তানে ১৯৮০র দশকে প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হকের শাসনকালে।

জিয়া-উল-হক ১৯৭৭ থেকে ১৯৮৮ পর্যন্ত পাকিস্তানের শাসক ছিলেন
জিয়া-উল-হক ১৯৭৭ থেকে ১৯৮৮ পর্যন্ত পাকিস্তানের শাসক ছিলেন

তার মতে, ১৯৮৫ সালে রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেল পিটিভিতে একজন সুপরিচিত উপস্থাপক প্রথম ‘আল্লাহ হাফিজ’ কথাটা ব্যবহার করেন। তবে জনসাধারণের মধ্যে এর ব্যবহার ছড়িয়ে পড়ে আরো অনেক পরে।

মি. আলি লিখেছেন, এর পেছনে যুক্তি হিসেবে বলা হয়, ফারসি শব্দ ‘খোদা’র অর্থ ‘ঈশ্বর’ যা যেকোন ধর্মের ঈশ্বর বোঝাতে পারে, তাই আল্লাহ শব্দটি ব্যবহার করা উচিত যা শুধুমাত্র মুসলিমদের ধর্মগ্রন্থ কোরআনে উক্ত সৃষ্টিকর্তার নাম।

তবে তিনি আরো লেখেন, মধ্যপ্রাচ্যের এক কোটি আরবি-ভাষী খ্রিস্টানও ঈশ্বর বোঝাতে ‘আল্লাহ’ শব্দটিই ব্যবহার করেন এবং আরবরা কখনোই পরস্পরকে বিদায় জানানোর সময় ‘আল্লাহ হাফেজ’ বলেন না।

আরবরা সম্ভাষণের সময় কি বলেন?

এ নিয়ে কথা হয় বিবিসির আরবি বিভাগের সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ আল-কাসিরের সাথে।

তিনি বলছিলেন, মরক্কো থেকে শুরু করে ইরাক পর্যন্ত এক বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে অনেকগুলো দেশের অভিন্ন ভাষা আরবি, কিন্তু প্রতিটি দেশেই আরবি ভাষা কিছুটা আঞ্চলিক রূপ নিয়েছে। সেটা উচ্চারণের টান এবং শব্দ-বাক্য ব্যবহারের ভিন্নতা থেকেও বোঝা যায়।

কিন্তু সাধারণভাবে সব আরবের মধ্যেই পরস্পরকে প্রথম সম্ভাষণের রীতি হলো ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলা এবং বিদায় জানাবার সময় ‘মা’সালামা’ বলা।

মোহাম্মদ আল-কাসির নিজে মিশরের লোক।

তিনি বলছিলেন, মিশরে এমনকি আরব খ্রিস্টানরাও পরস্পরের সাথে দেখা হলে ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলেন। সে হিসেবে হয়তো এটাকে কোন বিশেষ ধর্মীয় রীতি না বলে ‘আরব রীতি’ বলা যায়।

আরব বিশ্বের কোথাও কোথাও অন্যভাবেও স্থানীয় রীতিতে সম্ভাষণ বা বিদায় জানানো হয়।

বিদায় নেবার সময় ‘মা’সালামা’ বলা মোটামুটি সব আরব দেশেই প্রচলিত।

আরবরা কেউই বিদায় নেবার সময় 'আল্লাহ হাফেজ' ব্যবহার করেন না।
আরবরা কেউই বিদায় নেবার সময় ‘আল্লাহ হাফেজ’ ব্যবহার করেন না।

বিদায় নেবার সময় ‘মা’সালামা’ বলা ছাড়াও আরবি ভাষাতে ভিন্নভাবে বিদায় জানানোর রীতিও আছে।

মোহাম্মদ আল-কাসির বলছিলেন, বিদায় নেবার সময় আরবরা কখনো কখনো “আল্লাহ ইয়া’আতিক আল’আসিয়া” – এটাও বলে থাকেন।

তবে তারা কেউই বিদায় নেবার সময় ‘আল্লাহ হাফেজ’ ব্যবহার করেন না।

কিন্তু ‘আল্লাহ আপনার হেফাজত করুন’ এরকম বাক্য কথাবার্তার মধ্যে প্রাসঙ্গিক জায়গায় ব্যবহার করা হয়।

আরবদের মধ্যে সম্ভাষণ হিসেবে ‘আহ্লান’ বা ‘আহ্লান ওয়া সাহ্লান’ (অনেকটা ইংরেজি হ্যালো’র মত), বা সাবাহ্ আল-খায়ের (সুপ্রভাত), বা মাসা আল-খায়ের (শুভ সন্ধ্যা) – এগুলোও বলা হয়ে থাকে।

বিদায় নেবার সময় মা’সালামা ছাড়াও আরবে ইলা’লিকা-ও বলা হয় – যার অর্থ খানিকটা ‘আবার দেখা হবে’-র মতো।

ফারসি ভাষীরা কি বলেন?

এ নিয়ে কথা হয় বিবিসি ফারসি বিভাগের সিনিয়র সাংবাদিক আলি কাদিমির সাথে।

তিনি বলছিলেন, ইরানের সর্বত্রই দুজন ব্যক্তির দেখা হলে সম্ভাষণ হিসেবে একে অপরকে বলেন ‘সালাম’, আর বিদায় নেবার সময় বলেন ‘খোদা হাফেজ’।

তবে তিনি বলছিলেন, ইরানে খুব কমসংখ্যক কিছু লোক আছেন – যাদের তিনি বিদায় জানানোর সময় আল্লাহ শব্দটি ব্যবহার করতে শুনেছেন। তারা ফারসি ভাষায় ‘আল্লাহ আপনাকে সুস্থ ও শান্তিতে রাখুন’ এমন একটা বাক্য বলে বিদায় জানিয়ে থাকেন।

তেহরানের একটি বাজার: ইরানীরা বিদায়ের সময় বলেন খোদা হাফেজ
তেহরানের একটি বাজার: ইরানীরা বিদায়ের সময় বলেন খোদা হাফেজ

ইরানে এবং ফারসি ভাষায় ‘খোদা’ এমন একটি শব্দ – যা সৃষ্টিকর্তা বা ঈশ্বর বোঝাতে ব্যবহৃত হয় এবং তা যে কোন ধর্মের ঈশ্বরকে বোঝাতেই ব্যবহৃত হতে পারে।

মধ্য এশিয়ার যেসব দেশে ফারসি বা তার কাছাকাছি ভাষাগুলো বলা হয়, যেমন আফগানিস্তান, তাজিকিস্তান, আজারবাইজান ইত্যাদি দেশেও বিদায়ের সময় ‘খোদা হাফেজ’ বলার প্রচলন আছে।

ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম শাসন কায়েম হবার পর থেকে ১৮৩০-এর দশক পর্যন্ত রাজদরবার ও আইন-আদালতের ভাষা ছিল প্রধানত ফারসি।

তাই ফারসি আদব-কায়দার প্রভাবেই হয়তো উপমহাদেশের মুসলিমদের মধ্যে বিদায়ী শুভেচ্ছা হিসেবে ‘খোদা হাফেজ’ বলার’ প্রথা চালু হয়।

১৯৮০র দশকে ‘আল্লাহ হাফেজ’ চালু?

প্রশ্ন হলো, ১৯৮০র দশকে পাকিস্তানে ‘আল্লাহ হাফেজ’ চালু হবার কথাই বা কতটা সঠিক?

পাকিস্তানের করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং উর্দু ভাষাবিদ ড. রউফ পারেখের মতে, ১৮০ বছর আগেও উর্দু ভাষায় ‘আল্লাহ হাফিজ’ কথাটি ছিল ।

মুসলিমদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন দেশে আচার আচরণের বেশ কিচু পার্থক্য আছে
মুসলিমদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন দেশে আচার আচরণের বেশ কিচু পার্থক্য আছে

সম্প্রতি ডন পত্রিকায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি লেখেন, উর্দু ভাষার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অভিধান উর্দু লুঘাতে বলা হচ্ছে, বিদায়ী শুভেচ্ছা অর্থে ‘আল্লাহ হাফিজ’ কথাটি প্রথম ব্যবহারের নজির পাওয়া যায় ১৯০১ সালে।

ড. পারেখ বলছেন, তারও আগে ১৮৮০ এবং ১৮৪৫ সালের পুরোনো উর্দু অভিধানেও ‘আল্লাহ আপনাকে সুরক্ষা দিন’ অর্থে ‘আল্লাহ হাফিজ’ বাক্যবন্ধটির উল্লেখ আছে, এবং উর্দু কবি হাজিম ১৮৬৮ সালে তার কবিতায় ‘আল্লাহ হাফিজ’ ব্যবহার করেছেন।

ড. পারেখের সাথে আমার যোগাযোগ হয় ইমেইলে।

তিনি জানালেন, উনিশশ’ আশির দশকে ‘আল্লাহ হাফিজ’ কথাটা প্রথম ব্যবহার হয় এমন কথা ভুল, কারণ লোকের মুখে কথাটা ব্যবহৃত না হলে উনবিংশ শতাব্দীর কবি এটা ব্যবহার করতেন না, অভিধানেও তা থাকতো না।

ড. পারেখের কথায় মনে হয়, ‘আল্লাহ হাফেজ’ কথাটার উৎপত্তি সম্ভবত পাকিস্তানেই – উর্দু ভাষার পরিমণ্ডলের মধ্যে।

তবে এর ব্যবহার ব্যাপকভাবে শুরু হয় সেদেশে প্রেসিডেন্ট জিয়া-উল-হকের সময় থেকে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

সরকারের নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে আলু বিক্রি করতে দোকানিদের কৌশল

সরকারের নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে আলু বিক্রি করতে দোকানিদের কৌশল
সরকারের নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে আলু বিক্রি করতে দোকানিদের কৌশল

বাংলাদেশে বেশ কয়েক দিন ধরেই দফায় দফায় আলুর দাম বাড়ার পর সেটি এখন দাঁড়িয়েছে কেজি প্রতি ৫০ টাকায়। তবে সরকার থেকে আলুর দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে আরো কম। যার কারণে খুচরা বাজারগুলোতে আলুর মতো সবজিও বিক্রি হচ্ছে নানা কৌশলে।

অনেক দোকানি বলছেন, দাম বাড়ায় আলু বিক্রি বন্ধ করেছেন তারা। তবে অনেকে আবার ঝুড়িতে আলু না রাখলেও ক্রেতা চাইলে বিক্রি করছেন বাড়তি দামে।

রাজধানী ঢাকার মহাখালী কাঁচাবাজারে গেলে সবজির দোকানগুলোতে থরে থরে কাচা সবজি সাজিয়ে রাখাটা চোখে পড়ে। শুরুর দিকের কয়েকটি দোকান ঘুরে অন্যসব সবজি চোখে পড়লেও দেখা যায় না আলুর কোন পসরা।

আলু দেখতে না পেয়ে এক দোকানিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম আলু আছে কিনা? তিনি কোন উত্তর না দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন কয় কেজি লাগবে? তিনি বললেন, আলু সাজানো না থাকলেও দেয়া যাবে। দাম কত জানতে চাইলে বললেন ৪৮-৫০ টাকা প্রতি কেজি।

খুচরা বাজারে আলুর দাম ৩৫ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার।
খুচরা বাজারে আলুর দাম ৩৫ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার।

সাংবাদিক পরিচয় জানার পর তিনি আবার তার বক্তব্য পাল্টে ফেলেন, এবং আলু বিক্রি করতে অসম্মতি জানান। বলেন, দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে আলু বিক্রি করছেন না তিনি।

“আলু সরকার রেট দেয়ার আগে বিক্রি করছি ৪৫-৫০ টাকা কেজি। সরকার যে রেট দিছে তার পর থেকে আলু বিক্রি করতে হয় লস দিয়ে ৩০ টাকা কেজিতে। মার্কেটে কেনা পরে আরো বেশি, ৪০-৪২ টাকা। তাই আপাতত আলু বিক্রি বন্ধ রাখছি,” বলেন ওই দোকানি।

তিনি অভিযোগ করেন, আলুর দাম বাড়িয়েছে আড়ৎদার আর পাইকারি দোকানদাররা। তিনি বলেন, হিমাগারে আলুর পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও মজুদদারেরা সেগুলো বের করছে না। ফলে আলুর দাম বাড়ছে।

বাজারের একটু ভেতরের গেলে কয়েকটি দোকানে আলু সাজিয়ে রাখতে দেখা যায়। তবে পরিমাণে খুবই কম। দাম জিজ্ঞেস করলে তারা জানান, ৪৫-৫০ টাকায় আলু বিক্রি করছেন তারা।

খুচরা সবজি ব্যবসায়ী মীর ফয়েজ জানান, আগে কয়েক ধরণের আলু বিক্রি করলেও এখন মাত্র এক ধরণের আলু বিক্রি করছেন আর সেটিও খুব কম পরিমাণে।

“আলুর দাম যদি ২৫-৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৪৫-৫০ টাকা হয়, তাহলে সেটা বেশি না? কাস্টোমাররা মন খারাপ করে বেশি দাম রাখলে। তাই আলু বেচা কমিয়ে দিছি,” বলেন মীর ফয়েজ।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ১ কোটি ৯ লাখ টন আলু উৎপাদিত হয়েছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ১ কোটি ৯ লাখ টন আলু উৎপাদিত হয়েছে।

বাজারে ঘুরতে ঘুরতে কথা হয় সাইদুর রহমান নামে এক ক্রেতার সাথে। আলু কিনেছেন তিনি। তবে ৩০ কিংবা ৫০ টাকায় নয়। বরং প্রতি কেজি আলু ৬০ টাকা দরে কিনতে হয়েছে তাকে।

“৬০ টাকায় কিনেছি কারণ বাজারে তেমন যোগান নেই। আর কম দামে কেউ দেয় না।”

আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে এর আগে এক দফা দাম নির্ধারণ করেছিল কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। তখন হিমাগারে থাকা আলু ২৩ টাকা, পাইকারি ২৮ টাকা এবং খুচরা বাজারে ৩০ টাকা দাম নির্ধারিত হয়েছিল।

কিন্তু সেটি নিয়ে ব্যবসায়ীদের আপত্তির মুখে মঙ্গলবার আরেক দফা বৈঠক করে সংস্থাটি। যেখানে কৃষক, ব্যবসায়ী, আড়ৎদার এবং কৃষি অর্থনীতিবিদদের সাথে আলোচনার পর, দাম বাড়িয়ে নতুন করে আরেক দফা আলুর দাম নির্ধারণের ঘোষণা দেয়া হয়।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, আলু উৎপাদন ও ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্ট কারো যাতে ক্ষতি না হয় সেটি মাথায় রেখে খুচরা বাজারে আলুর দাম ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া হিমাগারের আলু ২৫ টাকা এবং পাইকারি বাজারে ৩০ টাকা দরে দাম নির্ধারণ করা হয়।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, আলু উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের সাথে যারা জড়িত তাদের যাতে ক্ষতি না হয় সে বিষয়টি মাথায় রেখে এবার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই দাম মঙ্গলবার থেকেই কার্যকর করা হবে।

খুচরা বিক্রেতারা বলছে, দাম বাড়ানোর জন্য পাইকারি বিক্রেতারা দায়ী।
খুচরা বিক্রেতারা বলছে, দাম বাড়ানোর জন্য পাইকারি বিক্রেতারা দায়ী।

কেউ এই নির্ধারিত দামে আলু বিক্রি না করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আলুর মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় সাধারণ একটি সবজির দাম হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়া এবং সেটি বিক্রি নিয়ে নানা ধরণের কৌশল ব্যবহারের মতো পরিস্থিতি কেন সৃষ্টি হলো এমন প্রশ্নের জবাবে কৃষি অর্থনীতিবিদরা বলছেন, একদিকে যেমন যোগানের একটি ঘাটতি তৈরি হয়েছে, ঠিক তেমনি অন্যদিকে, সরকার যে দাম নির্ধারণ করছে তা অনেক ক্ষেত্রে বাস্তব সম্মত হয়নি।

যার কারণে এমন পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

আলুর মূল্য নির্ধারণের যে প্রক্রিয়া বা যেভাবে মূল্য নির্ধারিত হয়েছে সেটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বাজারে মূল্যের সাথে সমন্বয় করা বা কোল্ড স্টোরেজে রাখার খরচ এবং কৃষকের কাছ থেকে কি মূল্যে কেনা হয়েছিল সে বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া দরকার ছিল বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, বাজারে পণ্যের সরবরাহের ক্ষেত্রে যেহেতু সরকারের নিয়ন্ত্রণ কম, সুতরাং মূল্য নির্ধারণ করে দিলেই যে আসলে সেই মূল্যে পণ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা যাবে সেরকমটা নয়। যার কারণে এ ধরণের একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

কৃষি অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, ভবিষ্যতে এ ধরণের পরিস্থিতি এড়াতে হলে জরুরি খাদ্য পণ্যের সাপ্লাই চেইনের সাথে যারা জড়িত অর্থাৎ উৎপাদক, ব্যবসায়ী, আড়ৎদার- এদের সবাইকে একটি রেজিস্টার ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে। যাতে করে পণ্যের উৎপাদন ও মজুদ সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য থাকে এবং সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

বাংলাদেশে ভাত ও রুটির বিকল্প হিসেবে অনেকে আলু খেয়ে থাকেন।
বাংলাদেশে ভাত ও রুটির বিকল্প হিসেবে অনেকে আলু খেয়ে থাকেন।

সিপিডি’র গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, চালের দামের ক্ষেত্রে সরকারের একটি কমিটি রয়েছে। সেরকম কমিটি জরুরি প্রয়োজনীয় আরো ১৭টি পণ্যের ক্ষেত্রেও থাকতে হবে। যারা বাজার বিশ্লেষণ করবে, উৎপাদন বিশ্লেষণ করবে, সেই সাথে ভোক্তাদের চাহিদা বিশ্লেষণ করবে, যেসব দেশ থেকে আমদানি করা হয় সেসব দেশে উৎপাদনের কি অবস্থা সে বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

“এই সিদ্ধান্ত হবে যে, আমদানি কমাতে হবে নাকি বাড়াতে হবে, শুল্ক কমাতে হবে নাকি বাড়াতে হবে- এ বিষয়গুলোতে আগাম তথ্য সংগ্রহ করে তারা সিদ্ধান্ত নেবে যে বাজারে পণ্যের সরবরাহ পর্যাপ্ত রাখতে হলে কি উদ্যোগ নিতে হবে।”

আলু ছাড়াও বাজারে অন্যান্য সবজির দামও বেশ চড়া। বাজার ঘুরে দেখা যায়, কোন সবজির দামই ৫০ টাকার নিচে নয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে সবজি

নতুন করে দাম না বাড়লেও আগের মত চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি। অবশ্য গত সপ্তাহে একশ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া বরবটি ও শসার দাম কমে এসেছে। বাজারে এখন ৫টি সবজির কেজি একশ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর পেঁপে বাদে বাকি সবজিগুলোর কেজি ৫০ টাকার উপরে।

এদিকে দুই দফায় আলুর দাম বেঁধে দেয়া হয়েছে। এরপরও দাম নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। সরকার খুচরায় আলুর কেজি ৩৫ টাকা নির্ধারণ করলেও ৪৫ টাকার নিচে মিলছে না কোথাও। এমনকি কোনো কোনো ব্যবসায়ী এখনও আলুর কেজি ৫০ টাকা বিক্রি করছেন। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

খিলগাঁওয়ে ৫০ টাকা কেজি আলু বিক্রি করা আশরাফ আলী বলেন, আমাদের আলু দুই দিন আগে কেনা। এই আলু গড়ে ৪২ টাকা কেজি কিনে আনা। সেই আলু বাছাই করে ৫০ টাকা বিক্রি করেছি। এতে কোনো রকমে আসল উঠে আসবে। এর নিচে বিক্রি করলে লোকসান গুনতে হবে। তবে পাইকারি থেকে নতুন করে কম দামে আলু কিনতে পারলে আমরাও কম দামে বিক্রি করবো।

হাজীপাড়ায় ৪৫ টাকা কেজি আলু বিক্রি করা ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর বলেন, আলুর দাম কমার তথ্য শুধু খবরে দেখি। বাজারে তো দাম কমতে দেখি না। আমি প্রতিদিন শ্যামবাজার যায়, পাইকারিতে আলুর দাম দুই দিন আগে যা ছিল আজও তাই। পাইকারিতে না কমলে আমরা কীভাবে কম দামে বিক্রি করবো?

এদিকে গত সপ্তাহের মতো এখনো শিম, পাকা টমেটো, গাজর, বেগুন ও উস্তার কেজি একশ টাকার ঘরে রয়েছে। এর মধ্যে পাকা টমেটো গত কয়েক মাসের মতো এখনো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং গাজর ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

তবে শিমের দাম কিছুটা কমে ৮০ থেকে ১১০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। আর শসার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৯০ থেকে ১০০ টাকা।

বরবটির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৮০ থেকে ১২০ টাকা। বেগুন গত সপ্তাহের মতো ৮০ থেকে ১১০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। দাম অপরিবর্তিত রয়েছে উস্তারও। এক কেজি উস্তা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়।

এই সবজিগুলোর পাশাপাশি বাজারে অন্য সবজিগুলোও স্বস্তি দিচ্ছে না। পটলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, গত সপ্তাহের মতো ঢেঁড়সের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়।

দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ঝিঙা, কাঁকরোল, ধুন্দুল, কচুর লতি। ঝিঙার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁকরোল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, একই দামে বিক্রি হচ্ছে কচুর লতি।

লাউয়ের পিস গত সপ্তাহের মতো বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। এক হালি কাঁচা কলা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। বাজারে আসা শীতের আগাম সবজি ফুলকপি ও বাঁধাকপির পিস বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা।

স্বস্তি মিলছে না কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দামেও। এক কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়।

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী মিলন মিয়া বলেন, গত সপ্তাহে একশ টাকা কেজি বিক্রি করা শিম আজ ৬০ টাকায় বিক্রি করেছি। এভাবে গত সপ্তাহের তুলনায় বেশকিছু সবজির দাম কমেছে। তবে যেভাবে বৃষ্টি শুরু হয়েছে, তাতে সবজির দাম আর বেড়ে যেতে পারে।

রামপুরার ব্যবসায়ী বলেন, সবজির দাম বেশি হলেও গত সপ্তাহের তুলনায় আজ বেশিরভাগ সবজি কম দামে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এক কেজি শসা একশ টাকা বিক্রি করেছি, আজ ৬০ টাকা বিক্রি করেছি। ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পটল ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ১০০ টাকার গাজর ৮০ টাকায় বিক্রি করেছি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

মিল্কভিটার খামারিদের স্বল্পসুদে ঋণ দেবে রূপালী ব্যাংক

প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত কৃষি প্রণোদনার সুফল প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে পৌঁছে দেয়া, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দুগ্ধ খামারিদের সহায়তায় সহজশর্তে চার শতাংশ হারে ঋণ দিতে মিল্কভিটার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে রূপালী ব্যাংক। বৃহস্পতিবার ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়।

রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মনজুর হোসেন, এমপি এবং মিল্কভিটার চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন লিপুর উপস্থিতিতে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ এবং মিল্কভিটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও যুগ্ম সচিব অমর চান বণিক নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে মিল্কভিটার চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন লিপু বলেন, করোনা পরিস্থিতি শুরু হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশে কৃষকদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ করে গুঁড়াদুধ প্রস্তুত করেছে মিল্কভিটা। এসব গুঁড়াদুধ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ত্রাণ মন্ত্রণালয় কিনে নিয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকরা এই দুর্যোগময় পরিস্থিতিতেও বেঁচে গেছেন।

শেখ নাদির বলেন, করোনা মহামারি শুরু হলে রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমাকে ফোন দিয়ে বলেন- আমরা আপনাদের পাশে থাকতে চাই। মিল্কভিটার মাধ্যমে রূপালী ব্যাংক খামারিদের টাকা দিতে চায় যাতে তারা দুধ ফেলে না দিয়ে তা দিয়ে ঘি বানাতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সমবায় ছাড়া এই বিশাল জাতির অর্থনৈতিক মুক্তি সম্ভব ছিল না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু মিল্কভিটা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দেশের অসহায় মানুষের জন্য। এই প্রতিষ্ঠানটি সরকারি সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে। কখনো ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হয়নি।

রূপালী ব্যাংকের পরিচালক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি আসার পর দুগ্ধ খামারিরা সমস্যায় পড়েন। তাদের এই সমস্যা থেকে উত্তরণে রূপালী ব্যাংক এগিয়ে আসে। দেশকে দুগ্ধখাতে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে রূপালী ব্যাংক সবসময় পাশে থাকবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মিল্কভিটার ঢাকা দুগ্ধ কারখানা, বাঘাবাড়ী দুগ্ধ কারখানা ও টেকেরহাট দুগ্ধ কারখানার তালিকাভুক্ত সমিতির সদস্যদের মধ্য থেকে এক হাজার জনের মাঝে ১০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করছে রূপালী ব্যাংক।

মাত্র চার শতাংশ সুদে প্রত্যেক সদস্যকে এক লাখ টাকা ঋণ দিচ্ছে। এসব ঋণের করপোরেট গ্যারান্টার মিল্কভিটা। মিল্কভিটা খামারিদের কাছ থেকে কিস্তির অর্থ সংগ্রহ করে ব্যাংকে জমা দেবে।

অনুষ্ঠানে টুঙ্গীপাড়ার মুন্সি রফিকুল ইসলাম, খুলনার ইউনুস গাজী ও সিরাজগঞ্জের জিন্নাহ সরকারের মাঝে ঋণের চেক বিতরণ করা হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

খুব সহজে রান্নাঘর থেকে তেলাপোকা দূর করবেন যেভাবে

তেলাপোকার যন্ত্রণায় অনেকেই অতিষ্ট। অনেক চেষ্টা করেও দূর করতে পারছেন না। এবার জেনে এক মিনিটের মধ্যে রান্নাঘর থেকে যেভাবে তেলাপোকা দূর করনে। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com