আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

১ মণ ভুট্টার দাম ৬০০ টাকা, চাষে আগ্রহ বেড়েছে

 ১ মণ ভুট্টার দাম ৬০০ টাকা, চাষে আগ্রহ বেড়েছে
১ মণ ভুট্টার দাম ৬০০ টাকা, চাষে আগ্রহ বেড়েছে

নওগাঁয় প্রতিবছর বাড়ছে ভুট্টার আবাদ। গত পাঁচ বছরে জেলায় প্রায় ৩ হাজার ৮৪৫ হেক্টর জমিতে বেড়েছে ভুট্টার আবাদ। ধান, গম ও অন্যান্য ফসলের তুলনায় খরচ ও পরিশ্রম কম এবং দাম ভালো পাওয়ায় চাষিরা ভুট্টা আবাদে ঝুঁকেছেন। এ ছাড়া সরকারি প্রণোদনা ও সহযোগিতা দেওয়ায় প্রতিবছরই বাড়ছে ভুট্টার আবাদ। আবহাওয়া ভালো থাকলে ভালো ফলন পাবেন এমনটাই আশা করছেন চাষিরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর জেলায় প্রায় ৭ হাজার ১৪৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। এ বছর ২৮৫ হেক্টর জমিতে বেশি পরিমাণ আবাদ করা হয়েছে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ২৫৫ হেক্টর, রানীনগরে ৪২০ হেক্টর, আত্রাইয়ে ৫ হাজার ১৫০ হেক্টর, বদলগাছীতে ৮০ হেক্টর, মহাদেবপুরে ১২০ হেক্টর, পত্নীতলায় ৩৫ হেক্টর, ধামইরহাটে ৩৯০ হেক্টর, সাপাহারে ২০ হেক্টর, পোরশায় ১৫ হেক্টর, মান্দায় ৬১৫ হেক্টর, নিয়ামতপুরে ৪৫ হেক্টর। এ ছাড়া প্রদর্শনী রয়েছে ৩০০টি। উন্নতমানের সুপার সাইন, মিরাক্কেল, ডন, ১১১ জাতের ভুট্টা আবাদ করা হয়েছে।

গতবছর ৬ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছিল। এ ছাড়া ২০১৮ সালে ৬ হাজার ২২০ হেক্টর, ২০১৭ সালে ৪ হাজার ৫০০ হেক্টর এবং ২০১৬ সালে ৩ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছিল। ২০১৬-২০২০ সাল পর্যন্ত জেলায় প্রায় ৩ হাজার ৮৪৫ হেক্টর জমিতে বেড়েছে ভুট্টার আবাদ।

১ মণ ভুট্টার দাম ৬০০ টাকা, চাষে আগ্রহ বেড়েছে
১ মণ ভুট্টার দাম ৬০০ টাকা, চাষে আগ্রহ বেড়েছে

জেলার বিভিন্ন মাঠে মাঠে লকলকে সবুজ পাতায় স্বপ্ন বুনছেন ভুট্টা চাষিরা। ইতোমধ্যে কোথাও কোথাও গাছে ফুল আসা শুরু করেছে। আবার কোথাও তরতাজা হয়ে গাছ বেরিয়ে আসছে। কোথাও মাঝারি ও বড় গাছ। আর এমন দৃশ্য উপজেলার মাঠজুড়ে। কম সময়ে ও ভূগর্ভস্তরের পানি কম ব্যবহার করতে রবিশস্য আবাদের জন্য কৃষকরা ভুট্টা চাষ করছেন। ভুট্টা চাষে প্রতি বিঘায় হাল, বীজ, সার, ওষুধ ও শ্রমিক দিয়ে প্রায় ৬-৭ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। এ ছাড়া আলুর জমিতে ভুট্টার আবাদ করলে খরচ একটু কম হয়। ভুট্টার পর ওই জমিতে পাটের আবাদও হয়ে থাকে।

প্রতি বিঘায় ভালো মানের ভুট্টা হলে ফলন আসে ৩৫-৪০ মণ। এ ছাড়া কমপক্ষে ২০-২৫ মণের মতো ফলন হয়ে থাকে। যেখানে নতুন ভুট্টা বাজারে দাম পাওয়া যায় ৫০০-৬০০ টাকা মণ। ভুট্টার আবাদে রোগবালাই তেমন নেই। গতবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ভুট্টা চাষিরা কিছুটা ক্ষতিতে পড়েছিলেন। এবার সে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বাড়তি আবাদ করেছেন। কোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে কৃষকরা ভালো ফলন পাবেন বলে আশাবাদী।

অপরদিকে বোরো আবাদ কিছুটা কমিয়ে দিয়ে ওইসব জমিতে ভুট্টা চাষ করা হচ্ছে। ধান লাগানো থেকে শুরু করে সার, ওষুধ, কাটা, মাড়াই পর্যন্ত ঘরে তুলতে উৎপাদন খরচ বড়েছে। এ ছাড়া বাজারে ধানের দাম তুলনামূলক কম। আবার পোকার আক্রমণ হলে নিয়ন্ত্রণ করা অনেকটা কষ্টকর হয়ে ওঠে কৃষকদের পক্ষে। যার কারণে কৃষকরা বিকল্প হিসেবে ভুট্টার আবাদের দিকে আগ্রহী হয়েছেন।

১ মণ ভুট্টার দাম ৬০০ টাকা, চাষে আগ্রহ বেড়েছে
১ মণ ভুট্টার দাম ৬০০ টাকা, চাষে আগ্রহ বেড়েছে

আত্রাই উপজেলার বিপ্রবোয়ালিয়া গ্রামের কৃষক রেজাউল করিম জানান, তিনি এ বছর ৩ বিঘা জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছেন। উপজেলার অধিকাংশ জমিতে মূলত দুটি ফসল হয়ে থাকে। ভুট্টার পর সে জমিতে পাটের আবাদ করা হয়। ধানের দাম কম পাওয়ায় বিকল্প হিসেবে ভুট্টার আবাদ করা হচ্ছে। গতবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ভুট্টার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

রানীনগর উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের সোনাতন প্রামাণিক জানান, দেড় বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন তিনি। অন্যান্য ফসলের তুলনায় ভুট্টা চাষে খরচ ও পরিশ্রম কম। দামও ভালো পাওয়া যায়। একটু দেরীতে বিক্রি করলে মণে ৯০০ থেকে হাজার টাকা দাম পাওয়া যায়। এ ছাড়া কৃষি অফিস থেকে সার্বিক পরামর্শ দিয়ে থাকে।

১ মণ ভুট্টার দাম ৬০০ টাকা, চাষে আগ্রহ বেড়েছে
১ মণ ভুট্টার দাম ৬০০ টাকা, চাষে আগ্রহ বেড়েছে

আত্রাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম কাওছার হোসেন বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ৪০ হেক্টর। সেখানে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে ৫ হাজার ১৫০ হেক্টর। যেখানে আদর্শ প্রকল্পের আওতায় প্রদর্শনী রয়েছে ৫০টি। এ ছাড়া ১ হাজার ৫০ জন কৃষককে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। কৃষকরা কিছু সময় দেরী করে বিক্রি করলে দামও ভালো পাবেন।’

নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমাতে কৃষকদের রবিশস্যসহ কম পানি দিয়ে কম সময়ে ফসল চাষের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। কৃষকদের ভুট্টা চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এ ছাড়া কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।

এগ্রোবিজ

গোলাপ চাষ এর সহজ পদ্ধতির মাধ্যমে বেশি ফুল পাওয়ার উপায়

গোলাপ
গোলাপ

পরিচিতি

সৌন্দর্য্য ও লাবন্যের প্রতীক গোলাপ। এটি একটি শীতকালীন মৌসুমী ফুল । তবে বর্তমানে গোলাপ সারা বছর ধরেই চাষ করা হচ্ছে। বর্ণ, গন্ধ, কমনিয়তা ও সৌন্দর্যের বিচারে গোলাপকে ফুলের রানী বলা হয়। পুষ্প প্রেমীদের সবচেয়ে প্রিয় ফুল গোলাপ। এটি বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন জলবায়ুতে খুব সহজেই মানিয়ে নিতে পারে বলে পৃথিবীর সব দেশেই সারাবছর কমবেশি গোলাপের চাষ হয়। গোলাপ সাধারণত কাট ফ্লাওয়ার হিসেবে বহুলভাবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে, বাগান, লন, কেয়ারী, বারান্দা সাজাতে গোলাপের জুড়ি নাই। আতর ও সুগন্ধি শিল্পেও গোলাপের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।

গোলাপ চাষ
গোলাপ চাষ

জলবায়ু ও মাটিঃ

গোলাপ শীত ও নাতিশীতোষ্ণ মন্ডলের ফুল। অধিক উষ্ণ ও আর্দ্রতায় গোলাপ ভাল হয়না। ২২-৩০ ডিগ্রী সে. তাপমাত্রা, ৮৫% আপেক্ষিক আর্দ্রতা এবং ১০০-১২৫ সেমি গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাত গোলাপ চাষের জন্য উপযোগী। গোলাপ চাষের জন্য ৬.০-৬.৫ pH মানযুক্ত  সুনিষ্কাশিত এবং উর্বর দোঁ-আশ মাটি  উত্তম।ফুলের গুনগতমান সূর্যালোকের উপস্থিতির উপর অনেকাংশে নির্ভর করে। এক্ষেত্রে বিকাল অপেক্ষা সকালের রোদ বেশি কার্যকর।

জাতঃ

পৃথিবীতে অনেক জাতের গোলাপ আছে। এর মধ্যে বাংলাদেশে চাষ হয় এমন কতকগুলো জাত হলোঃ মিরান্ডি, পাপা মেলান্ড, ডাবল ডিলাইট, তাজমহল, প্যারাডাইস, ব্লু-মুন, মন্টেজুমা, টাটা সেন্টার, সিটি অব বেলফাষ্ট ইত্যাদি

গোলাপ
গোলাপ

রোপণ সময়ঃ

বাংলাদেশে অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারী মাস পর্যন্ত গোলাপের চারা রোপণের উপযুক্ত সময়।

বংশবৃদ্ধিঃ

গোলাপ সাধারণতঃ বীজ, কাটিং, গুটি কলম এবং চোখ কলমের মাধ্যমে বংশ বৃদ্ধি করে। বীজের মাধ্যমে বংশ বি¯তার শুধুমাত্র প্রজনন বা ফসল উন্নয়ন কর্মসূচীতে ব্যবহৃত হয়। নতুন গাছ উৎপন্নের প্রধান পদ্ধতি বাডিং বা চোখ কলম, যার মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে কাটা ফুলের উৎপাদন করা হয়ে থাকে।যে জাতটির বংশবৃদ্ধি করা হয় তার চোখ অপর একটি সুবিধামত আদিজোড় বা (rootstock) এর উপর স্থাপন করা হয়। আদিজোড় গাছের সজীবতা, উৎপাদনশীলতা, ফুলের গুনাবলী, ঝোপের স্থায়ীত্ব, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং মাটি ও আবহাওয়ার সাথে খাপ খাইয়ে নেয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আদিজোড়ের কাটিং সমূহ (পেন্সিল আকৃতি) গ্রীষ্মের শেষে তৈরী করা হয়ে থাকে এবং নার্সারীতে সারি করে ২৫ -৩০ সেঃ মিঃ দুরত্বে রোপন করা হয়। প্রায় ৬ মাস পর এইসব কাটিংসমূহ বাডিং এর জন্য উপযুক্ত আকৃতির কান্ড তৈরী করে থাকে। গোলাপে প্রধানতঃ T-বাডিং করা হয়।

গোলাপ
গোলাপ

টবে গোলাপের চাষ

টবের স্থানঃ

খোলা-মেলা আলো বাতাসপূর্ণ এমন স্থানে টব রাখতে হবে যাতে সকালের সূর্য কিরণ পায় এবং অন্ততঃ ৬-৮ ঘন্টা রোদ পায়। বিকেলের রোদ (বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে) না লাগানোই ভাল, কেননা এতে ফুলের রং ফ্যাকাসে হয়ে যায়। গোলাপ গাছটিতে যাতে চারিদিক হতেই আলো পড়ে সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। তা না হলে গাছটি কেবল আলোর দিক দিয়েই বাড়বে। এজন্য টবসহ গাছটি মাঝে মাঝে ঘুরিয়ে নিতে হয়। গ্রীষ্মের প্রখর রোদ থেকে টবের গোলাপ গাছকে রক্ষা করার জন্য পর্যায়ক্রমে রোদ ও ছায়ায় ঘুরিয়ে ফিরিয়ে টব রাখলে গাছ ভাল থাকবে। ফুলও বেশি দিন ধরে পাওয়া যাবে।

মাটি তৈরিঃ

এঁটেল মাটি গোলাপ চাষের জন্য ভাল নয়। টবের জন্য সার মাটি এমনভাবে তৈরি করতে হবে যাতে মাটি বেশ ফাঁপা থাকে এবং পানি না দাঁড়ায়। ১ ভাগ দো-আঁশ মাটি, ৩ ভাগ গোবর সার বা কম্পোষ্ট, ১ ভাগ পাতা পচা সার, আধ ভাগ বালি (নদীর সাদা বালি হলে ভাল হয়) দিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে তাতে এক মুঠো সরিষার খৈল ও এক চামচ চুন মিশিয়ে ১টি ২০ সেঃমিঃ (৮ ইঞ্চি) টবে একমাস রেখে দিতে হবে। এই একমাস টবেপানি দিয়ে মাটি উল্টে পাল্টে দিতে হয়। এতে মাটির মিশ্রণ ভাল হবে। অনেকে মাটির মিশ্রণে ব্যবহৃত চা পাতা ব্যবহার করেও ভাল ফল পেয়েছেন। টবে নিচের কয়েক সেঃমিঃ পরিমাণ অংশে ইট বা মাটির হাড়ি পাতিলের ভাংগা টুকরা এমন ভাবে বিছিয়ে দিতে হয় যাতে টবের মাটি এগুলোর উপর থাকে। এতে বাড়তি পানি নিকাশের সুবিধা হবে।

গোলাপ চাষ
গোলাপ চাষ

টবের আকারঃ

টবের আকার নির্ভর করে যে গোলাপের চাষ করা হবে তার জাতের উপর। ছোট জাতের জন্য ২০ সেঃমিঃ (৮ ইঞ্চি) টব ভাল, বড় জাতের জন্য ৩০ সেঃমিঃ (১২ ইঞ্চি) বা আরো বড় টব ব্যবহার করতে হয়। তবে প্রথম বছর যে আকারের টবে গাছ বসানো হবে পরের বছর বড়- আকারের টবে গাছ স্থানান্তর করলে বড় আকারের বেশী ফুল পাওয়া যায়।

টবে চারা বসানোর সময়ঃ

বছরের যে কোন সময়ই টবে গোলাপের চারা বসানো যায়। তবে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ও জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাস চারা লাগানোর উত্তম সময়। এসময় চারা লাগালে বেশী দিন ধরে ফুল পাওয়া যায়, গাছের পরিচর্যা করতে সুবিধা হয, রোগ পোকার আক্রমণও কম থাকে।

চারা সংগ্রহঃ

চারা সংগ্রহের সময় সুস’-সুন্দর চারা সংগ্রহ করা উচিত। চারা সংগ্রহের সময় এর গোড়ার মাটির গোল্লাটি অবিকল আছে কিনা তা ভাল করে দেখে নিতে হবে। মাটির গোল্লাসহ চারার গোড়ার শিকড় বেরিয়ে থাকা অবস’ার চার গাছ না নেয়াই ভাল। বিশ্বস- এবং পরিচিত নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করা উচিত ।চারা সংগ্রহের ব্যাপারে অভিজ্ঞ লোকের পরামর্শ নেয়া যেতে পারে।

টবে গোলাপ
টবে গোলাপ

টবে চারা বসানোঃ

চারাগাছ বা কলমচারা মাটির গোল্লাসহ পলিথিন ব্যাগে অথবা ছোট মাটির টবে কিনতে পাওয়া যায়। চারাটি যদি টবের হয়, তাহলে টব থেকে পুরো মাটিসহ চারাটি এমনভাবে নিতে হবে যাতে ভেংগে না যায় বা শিকড়ের কোন ক্ষতি না হয়। ভেজা মাটির গোল্লাসহ চারা সংগ্রহ করলে তা একটু শুকিয়ে নিতে হয়। চারা বসাবার আগেই গাছের অপ্রয়োজনীয় পুরোনো বা মরা ডাল পালা হালকা ভাবে ছেঁটে দিতে হবে। এরপর চারাটি টবের মাঝখানে সোজা করে বসিয়ে টবের ওপরে কিছু কম্পোষ্ট সার দিয়ে গাছের গোড়ারমাটি হালকা চাপ দিয়ে বসিয়ে দিতে হবে। চারা এমনভাবে বসাতে হবে যাতে কুঁড়ি বের হবার গিট/ পর্ব টি মাটির ওপরেই থাকে।

সেচঃ

টবে বসানোর পর অন্তত ২/৩ বার পানি সেচ দিতে হবে। চারা অবস্থায় গাছ যাতে প্রখর রোদ বা বৃষ্টির ঝাপ্টা থেকে রক্ষা পায় সে দিকে খেয়াল রাখা দরকার। প্রথম অবস্থায় ৩/৪ ঘন্টা এবং ধীরে ধীরে বাড়াতে বাড়াতে ৭/৮ ঘন্টা রোদ পাওয়ার ব্যবস্থা করলে গোলাপ ভাল হবে। পানি সেচের সময়লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে গাছের গোড়ায় পানি দাঁড়িয়ে না যায়। কচি পাতা ও কুঁড়ি ছাড়ার সময় একটু বেশী পানি দরকার। এ সময় সকাল সন্ধ্যা সেচ দেয়া উচিত। ঝাঁঝরি দিয়ে ডাল-পালাসহ সমস্ত গাছটিই পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিতে হবে।

সার প্রয়োগঃ

টব বসাবার পর গাছ ধরে গেলে একমাস পর থেকে ১৫ দিন বা এক মাস পর পর সার দিতে হয়। শীতের ঠিক পরেই অর্থাৎ মার্চের শেষে বা এপ্রিলের প্রথম দিকে টবের উপরের ৮/১০ সেঃমিঃ মাটির স্তর তুলে দিয়ে খালি জায়গায় পচা গোবর সার ও নতুন ফাঁপা মাটি দিয়ে ভরে দিতে হয়। এর পর খড় বা পাতা দিয়ে ঢেকে গ্রীষ্মের প্রখর রোদ থেকে গাছের শিকড়কে রক্ষা করতে হয়। শীতকালে গাছ ছাটার পর, প্রতি টবে ৩ মুঠা গুঁড়া গোবর সার ও ১ মুঠা স্টিমড্ হাড়ের গুঁড়া বা স্টেরামিল প্রয়োগ করিতে হইবে। এরপর পুরো শীতকাল ধরে ১ মাস অন-র অন-র ১ মুঠা করে স্টিমড্ বোন মিল বা স্টেরামিল প্রয়োগ করতে হবে।

টবে গোলাপ
টবে গোলাপ

গোলাপের ভাল ফুল উৎপাদনের জন্য পাতার সার ও ফলিয়ার স্প্রের জনপ্রিয়তা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কয়েকটি রাসায়নিক সার মিশিয়ে এই সার প্রস্তুত করতে হয়। শীতকালে রৌদ্রোজ্জ্বল দিনের সকাল ৮টার মধ্যে ফলিয়ার স্প্রে করতে হয়। দুই প্রকারের পাতা সার গাছে ব্যবহার করা হয়, ১টি গাছের স্বাস্থ্য ও ফুল ভাল করার জন্য অপরটি ট্রেস এলিমেন্টের জোগান দেয়ার জন্য, যেমন- ইউরিয়া, ডাই-অ্যামোনিয়াম সালফেট ও ডাই-পটাশিয়াম ফসফেট প্রতিটি ১০ গ্রাম করে ১০ লিটার পানিতে গুলে স্প্রে দ্রবণ তৈরি করতে হবে। ট্রেস এলিমেন্টের জন্য ম্যাগনেশিয়াম সালফেট ২০ গ্রাম, ম্যাঙ্গানিজ সালফেট ১৫ গ্রাম, ফেরাস সালফেট ১০ গ্রাম, বোরাক্স ৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে প্রতি লিটার পানিতে উল্লেখিত মিশ্রণটির ২ গ্রাম করে গুলিয়ে স্প্রে করতে হবে। দুইটি পাতা সারের সাথেই কীটনাশক বা বালাইনাশক মিশিয়ে স্প্রে করা যায় কিন্তু দুটি সার এক সাথে মিশিয়ে স্প্রে করা যাবে না। পাতার সার টবের গোলাপের জন্য অপরিহার্য এবং জমির গোলাপের জন্য উপকারী। সেপ্র করার সময় যেন পাতার দু’দিকেই ভালভাবে লাগে সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। টবের গাছে সারা বছরই তরল সার প্রয়োগ করতে হবে। সঠিক মাত্রা বা প্রয়োগ বিধি না জেনে রাসায়নিক সার ব্যবহার না করাই ভাল। কেননা, মাত্রায় বা ব্যবহার-বিধিতে একটু ব্যতিক্রম হলে গাছের ক্ষতির আশংকা থাকে। রাসায়নিক তরল সারের পরিবর্তে গোবর ও সরষের খৈল ৪/৫ দিন পানিতে পচিয়ে তরল করে সপ্তাহে দু’দিন করে ব্যবহার করা যায়। গাছের নতুন ডাল-পালা বাড়াতেও ফুলের আকার বড় করতে এ ধরনের তরল সার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তরল সারের অভাবে ছোট মাছপঁচা পানি গাছের গোড়ায় দেয়া যায়। দুর্বল গাছে প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হিসারে ইউরিয়া মিশিয়ে সকাল বিকাল পাতায় স্প্রে করলে গাছ তাজা হয়।

চুন-পানি প্রয়োগঃ

প্রতি লিটার পানিতে ১ চামচ গুড়ো চুন পরিস্কার পািনতে ভাল করে গুলে পাতলা ন্যাকড়ায় ছেঁকে প্রতি ৩ মাস পর পর দিতে হয়। চুন-পানি দেবার ১৫ দিনের মধ্যে অন্য কোন সার না দিয়ে শুধু পানি দিতে হয়।

গোলাপ
গোলাপ

গাছ ছাঁটাইঃ

মৃত ও রোগগ্রস-ডাল অপসারনের জন্য, গাছের উপযুক্ত আকৃতি প্রদানের জন্য, প্রতিটি ডালে ফুল আসবার জন্য এবং প্রয়োজনীয় রোদ্র পাবার জন্য নিয়মিত গাছ ছাটাইয়ের প্রয়োজন হয়। গোলাপ প্রচুর শাখা বিস্তারকারী গুল্ম জাতীয় গাছ। গাছের ফুল দেয়া শেষ হলেই গাছ ছেঁটে দিতে হবে। নিয়মিতগাছ ছাঁটাই করলে বেশী ও বড় আকারের ফুল পাওয়া যায়। বর্ষার পর অক্টোবর-নভেম্বর মাস ছাঁটাইয়ের জন্য ভাল সময়। সাধারনত ২০-২৫ সেঃমিঃ (৮-১০ ইঞ্চি) বড় রেখে ডাল ছেঁটে দিতে হয়। ডাল এমনভাবে কাটতে হবে যাতে থেঁতলে বা ছিঁড়ে না যায়। এ জন্য ধারালো ছুরি ব্যবহার করতে হয়। সাদা, হলুদ, হালকা হলুদ ও দো-রঙা জাতের গোলাপ গাছ খুব হালকা ছাঁট আর লাল জাতের গোলাপ গাছে শক্ত ছাঁট দিতে হয়।

গাছ ছাঁটাইয়ের পর ডাইব্যাক রোগের আক্রমণ হতে পারে। সুতরাং গাছ ছাঁটাইয়ের আগে ও পরে কীটনাশক ও ছত্রাক নাশক দুইই  প্রয়োগ করা দরকার।

রোগ-পোকা দমনঃ

শুঁয়ো পোকা বা অনিষ্টকারী অন্য যে কোন পোকা দেখা মাত্র ধরে মেরে ফেলা উচিত। লাল মাকড়সার আক্রমণ ও ডাইব্যাক রোগই বেশ মারাত্মক।

সেচের সময় টবে জল জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করলে লোহার শিক দিয়ে টবের মাটি ছিদ্র করে পানি বের হবার পথ করে দিতে হবে। এ কাজটা একটু সাবধানে করা দরকার যাতে শিকড়ের কোন ক্ষতিনা হয়। পানি দেবার আগের দিন প্রতিবারই টবের ধারের কাছের মাটি বেশী করে এবং মাঝখানের মাটি কম করে খুঁচিয়ে দিতে হয়।

গ্রীষ্মকালীন পরিচর্যাঃ

টব ছাদে বা পাকা স্থানে রাখলে পুরু খড় বিছিয়ে তার উপর ইট বা কাঠের টুকরা রেখে সেগুলোর ওপর টব রাখা উচিত । গ্রীষ্মকালে প্রচন্ড তাপের সময় পানি না দিয়ে রাতের দিকে যখন তাপমাত্রা কমতে থাকে (রাত ৮ টার পর) ছাদের টবে তখন জল দেয়াই ভাল। এসময় পানির তাপমাত্রা আবহাওয়ার সঙ্গে মোটামুটি সামঞ্জস্য পূর্ণ থাকে।

গোলাপ চাষ
গোলাপ চাষ

বর্ষাকালীন পরিচর্যাঃ

টবের নিচের খড় কুটো, ইট এসব সরিয়ে টবগুলো কেবল ছাদ বা পাকা স্থানেই রাখতে হবে এবং ঝড় থেকে টব ও গাছকে রক্ষার প্রস্তুতি নিতে হবে। টবের মাটি মাঝখানের দিকে উচিয়ে কোণাকৃতি করে দিলে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করতে পারবে না। অতিরিক্ত মাটি বর্ষা শেষে সরিয়ে ফেলতে হয়।

প্রদর্শনী ফুলের জন্য করণীয়ঃ

প্রদর্শনীর জন্য বর্ষাকালে উন্নত জাতের গোলাপ গাছ নির্বাচন করে টবে রোপণ করতে হবে। নিয়মিত সেচ ও সার প্রয়োগের দ্বারা গাছটিকে এমন করে তুলতে হবে যেন গাছে প্রচুর ও সুন্দর পাতা জন্মায় এবং প্রস্ফুটিত ফুল বেশ বড় আকারের হয়। প্রদর্শনীর সময় থেকে অন্ততঃ আড়াই মাস আগে গাছটিকে বিবেচনারসহিত ছাঁটাই করা উচিত। নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি গাছ ছাঁটাই করলে ফেব্রুয়ারী মাসে গাছে ফুল ফোটে। মাঝে মাঝে কচি ডালগুলো এমনভাবে ছেঁটে দিতে হবে যেন গাছটি বেশ ঝোপালো হয়। গাছের প্রতিটি শাখায় দু’টো কুঁড়ি রেখে বাকি কুঁড়িগুলো ছিড়ে ফেলে দিতে হবে। যাতে বড় ফুল ফোটে সেদিকে যত্ন রেখে পরিচর্যার কাজ করতে হয়। যদি নির্দিষ্ট সময়ের আগেই কুঁড়ি জন্মায়,তাহলে কুঁড়িগুলো ছিঁড়ে ফেলতে হবে। ফুলের ঔজ্বল্য বড়াতে হলে ৪ লিটার পানিতে ২৫ গ্রাম আয়রন সালফেট গুলে ফুলে প্রয়োগ করতে হয়। প্রদর্শনী আরম্ভ হবার অন্ত ১ সপ্তাহ পূর্বে ছায়াযুক্ত স্থানে টব রাখলে ভাল হয়। এতে দুপুরের প্রখর রোদ্রে ফুলের পাপড়ি নষ্ট হয় না।

জমিতে গোলাপ চাষ

জমি, গর্ত ও বেড তৈরীঃ

প্রচুর রোদ ও খোলা বাতাসপূর্ণ উঁচু সমতল স্থানে গোলাপ চাষের জন্য নির্বাচন করা উচিত। জমিকে গভীরভাবে কুপিয়ে বা লাংগল দিয়ে এর মাটি ওলট-পালট করে দিতে হয়। জমি থেকে আগাছা, ইটের টুকরা ইত্যাদি বেছে ফেলে বার বার চাষ দিয়ে মাটিকে বেশ ঝুরঝুরা, নরম ও সমতল করে নিতে হয়। উন্নতমানের বড় বাগান করতে হলে বর্ষার ঠিক আগে মে-জুন মাসে বেড তৈরি করতে হয় যাতে বেডের খৈল ও অন্যান্য উপাদান ভালভাবে পচে অক্টোবর গাছ লাগানোর উপযোগী হয়। বেডের আশে পাশে যাতে পানি না জমে সে জন্য জল নিকাশের ব্যবস্থা রাখতে হয়।

গোলাপ
গোলাপ

ছোট বাগানের জন্য গাছ রোপণের অন্তত ৩ সপ্তাহ আগে বেড তৈরি করলেই চলে। আবহাওয়া শুকনো থাকলে বেড তৈরীর পর পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিলে খৈল ও জৈব সার পচে যাবে এবং বেড গাছ লাগানোর উপযোগী হবে।

বেড তৈরির পর চারা রোপণের জন্য বিভিন্ন জাতের জন্য বিভিন্ন দূরত্বে গর্ত করতে হয়, যেমন- ডোয়ার্ফ পলিয়েন্থা ০.৫ মিটার, ফ্লোরিবান্ডা ও চায়না ০.৬৫ মিটার, হাইব্রিড টি ১ মিটার, হাইব্রিড পারপেচুয়েল, মন ও দামাস্ক ও টি ১.৫০ মিটার, নয়সেট-২.০ মিটার ও লতা গোলাপ ২.৫০ মিটার।

বিভিন্ন জাতের গাছ সারিতে লাগাতে হয়, এতে সার প্রয়োগ, পানি সেচ ও অন্যান্য পরিচর্যার কাজের সুবিধা হয়। রোপণের জন্য ১ মিটার গভীর ও ০.৬৫ মিটার ব্যাস বিশিষ্ট গোলাকার গর্ত করতে হয়। গর্ত করার সময় উপরের ২০-২২ সেঃমিঃ মাটি আলগা করে রেখে বাকী মাটির সাথে মাটির পরিমানের এক তৃতীয়াংশ সমান পচা গোবর, আধা কেজি গুঁড়ো খৈল, ১৮ কেজি টি.এস.পি ভালভাবে মিশিয়ে দিয়ে গর্তটি ভরাট করতে হবে। তারপর আলাদা করে রাখা মাটির সাথে কম্পোস্ট, সবুজ সার ইত্যাদি জৈব সার মিশিয়ে গর্তে দিতে হবে এবং দেখতে হবে যাতে গর্তের স্থান পাশের জমি থেকে উঁচু হয়।

যদি বেড তৈরি দু’একদিনের মধ্যে গাছ লাগানো প্রয়োজন হয়, তাহলে কম্পোস্ট বা পচা গোবর সার বেশি করে দিয়ে গাছ লাগানো উচিত। গাছ লেগে যাবার পর খৈল ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হবে। গোবর সার বেশি ব্যবহার করলে ইউরিয়া সার না দিলেও চলবে। এ ক্ষেত্রে খৈল ৪/৫ দিন ভিজিয়ে জলের সাথে মিশিয়ে গোড়ার চারপাশে দিয়ে ৩/৪ দিন হালকা করে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।

চারা রোপণঃ

সাধারণত গোলাপের চারা পলিথিনের ব্যাগে থাকে বলে চারা রোপণের সময় ব্যাগটি ছিঁড়ে ফেলে দিতে হয়। তারপর গর্তের মধ্যে গাছটি এমনভাবে ঢুকাতে হবে যাতে চারাটির গোড়া আগে যতটুকু মাটির নীচে ছিল, গর্তে লাগানোর পরও যেন ঠিক ততটুকুই মাটির নীচে থাকে। চারা গাছ গর্তের মধ্যে বসানোর পর কিছু পচা গোবর ও ভিটির বালি বা দো-আঁশ মাটি ভাল করে মিশিয়ে শিকড়ের চারিপাশে ছিটিয়ে দিতে হয়। তারপর গাছের গোড়ায় মাটি দিয়ে ভাল করে চেপে দিয়ে পানি দিতে হয়। চারা লাগানোর পর প্রথম রোদ থেকে গাছকে রক্ষা করার জন্য ছায়ার ব্যবস্থা করতে হয়। গাছ লেগে গেলে মাটি বুঝে পানি দিতে হয়। বেলে মাটির বেলায় ঘন ঘন আর এঁটেল মাটি বা ভারি মাটির বেলায় ২/৩ দিন পর পর পানি দেয়া দরকার। তবে কোনক্রমেই যাতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

গোলাপ চাষ
গোলাপ চাষ

গোলাপের শিকড়ে যদি শক্ত মাটি থাকে, তাহলে গাছ লাগানোর আগে পানি দিয়ে ভিজিয়ে মাটি নরম করে নিতে হয় যাতে শিকড় ঠিকমত বাড়তে পারে।

যেসব চারার গোড়ায় মাটি থাকে না, সেসব চারা মাটিতে লাগানোর আগে ২/৩ ঘন্টা পানি ভিজিয়ে তারপর লাগাতে হয়।

পুরানো গাছ জায়গা বদল করে লাগাতে হলে প্রথমত কচি ডগা, মরা ডাল ইত্যাদি ধারালো ছুরি বা সিকেচার দিয়ে ভাল করে ছেঁটে নিতে হয়। তারপর শিকড়ের চারপাশে বেশ জায়গা নিয়ে খুঁড়ে গাছটিকে এমন ভাবে উঠাতে হবে যাতে খুব কম সংখ্যক শিকড় কাটে। গাছটিকে একই পদ্ধতিতে গর্তে লাগিয়ে প্রচুর পানি দিতে হবে এবং অন্তত ২/৩ দিন ছায়া দিতে হবে। শুকনো মৌসুমে গরমের দিনে পুরানো গাছের জায়গা বদল না করাই ভাল।

অন্তবর্তীকালীন  পরিচর্যাঃ

সার প্রয়োগঃ

গাছের প্রয়োজন অনুসারে সময় সময় সার দিতে হয়। তবে অক্টোবওে গাছ ছাঁটাইয়ের সময়ে একবার শীতের শেষে মার্চ মাসে আরেক বার সার দিতে হয়। ছাঁটাইয়ের সময় সার না দিয়ে ছাঁটাইয়ের ১০-১২ দিন পরে সার প্রয়োগ করলে ভাল ফল পাওয়া যায়।

ছাঁটাইয়ের আগে প্রতি ২/৩ কেজি শুকনো গোবর সার, ৫০ গ্রাম টি.এস.পি ও ৫০ গ্রাম পটাশ প্রয়োগ করতে হবে। বেডের উপরের ১০ সেঃমিঃ পরিমাণ মাটি সরিয়ে নিচের মাটি কিছুটা আলগা করে সার গুলো মাটির সাথে সাবধানে মিশিয়ে দিতে হবে যেন শিকড়ের কোন ক্ষতি না হয়। গোলাপের জন্য হাঁস-মুরগি বা কবুতরের বিষ্ঠা উত্তম সার।

সার পানি দিয়ে গুলে ব্যবহার করলে ভেজা মাটিতে দিতে হয়। রাসায়নিক সার গাছ খুব তাড়াতাড়ি গ্রহন করে। শুকনো মাটিতে তরল সার দিলে অতিরিক্ত কড়া হবার দরুন গাছের ক্ষতি হতে পারে। তাই তরল সার দিতে হবে মাটি ভেজা অবস্থায়। তরল সার দেবার পর পানি সেচ দিতে হয়। অনেক সময় দেখা যায় মাটিতে পর্যাপ্ত সার থাকা সত্ত্বেও ছাঁটাইয়ের পর গাছের পাতা সতেজ হচ্ছে না বা গাছ ঠিকমত বাড়ছে না। এ ক্ষেত্রে পাতার মাধ্যমে সার প্রয়োগ করে ভাল ফল পাওয়া যায়।

গোলাপ চাষ
গোলাপ চাষ

অঙ্গ ছাঁটাইকরণঃ

গোলাপ গাছের পুরানো ডাল বেশি দিন ফুল দিতে চায় না। প্রতি বছরই গাছের গোড়া থেকে বা পুরানো ডাল থেকে নতুন ডাল বের হয়। গাছের অঙ্গ ছাঁটাই করে এসব নতুন ডালকে সুষ্টুমত বাড়তে দিতে হয়। ফুলের মৌসুমের আগেই অর্থাৎ অক্টোবর  মাসেই অঙ্গ ছাটাই করার ভাল সময়। ফুলের আকার বড় করতে, নতুন শাখাকে ভাল করে বিস্তৃত করতে সাহায্য করার জন্য এবং ক্ষত ও রোগাক্রান্ত ডাল কেটে বাদ দেবার জন্য অঙ্গ ছাঁটাইয়ের প্রয়োজন। ধারালো সিকেচার বা বিশেষ এক প্রকার ছুরি দিয়ে অঙ্গ ছাঁটাই করতে হয়। ডাল কাটার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন থেঁৎলে না যায়। এতে গাছে ছত্রাক রোগের আক্রমণ হতে পারে।

সাধারনত তিন রকমের ছাঁটাই করা হয়, হালকা ছাঁটাই, মাঝারি ছাঁটাই ও কঠোর ছাঁটাই। লম্বা ডালের এক তৃতীয়াংশ কাটা বা মরা ও অসুস্থ ডাল কেটে ছেঁটে ফেলাকে হালকা ছাঁটাই, মাটির উপরে ৩০-৩৫ সেঃমিঃ রেখে ছাঁটাই করাকে মাঝারি ছাঁটাই ও মাটির উপরে ডালের উচ্চতা ১৪-২০ সেঃমিঃ রেখে ছাঁটাই করাকে শক্ত ছাটাই বলা হয়। কোন ধরনের ছাঁটাই হবে তা নির্ভর করে পারিপার্শ্বিকতা, গাছ ও মাটির রকম ভেদের উপর। বালি প্রধান মাটিতে ক্রমাগত কঠোর ছাঁটাই করলে গাছ মারা যেতে পারে। তবে মাটি যদি ভাল হয় এবং প্রদর্শনীর জন্য বড় ফুল ফোটাতে হয় তাহলে কঠোর ছাঁটাই প্রযোজ্য। অন্য ক্ষেত্রে মাঝারি ছাঁটাই করতে হয়। মাঝারি ছাঁটাইয়ের ফুল খুব বড় হয় না বটে, তবে বেশী ফুল পাওয়া যায়। ছাঁটাইয়ের পর কাটা অংশে ‘প্রুনিং পেইন্ট’ লাগাতে হবে, নতুবা কাটা অংশ দিয়ে পোকার আক্রমন ও তৎপরে ছত্রাকের আক্রমন ঘটতে পারে। দেশীয় গোলাপে কাটা স্থানে অবশ্য গোবর লাগানোই উত্তম। প্রুনিং পেইন্ট তৈরির ফরমূলাঃ পাইরিফস বা পাইরিবান ১ ভাগ, কপার কার্বনেট ৪ ভাগ, লাল লেড ৪ ভাগ এবং তিষির তেল ৫ ভাগ।

গোলাপ
গোলাপ

পোকা-মাকড় দমনঃ

যেসব উল্লেখ যোগ্য পোকা-মাকড় গোলাপ গাছকে আক্রমণ করে তা নিন্মে আলোচনা করা হলো।

উইপোকাঃ কাটিং লাগাবার পর নতুন শিকড় বের হবার আগেই পুরান শিকড়গুলোকে নষ্ট করে দেয়।

দমন ব্যবস্থাঃ মাটিতে উই পোকা থাকার সম্ভাবনা থাকলে পাইরিফস বা উপযুক্ত কীটনাশক দিয়ে মাটি শোধন করে নিলে উই পোকার আক্রমণ প্রতিহত করা যায়।

লাল ক্ষুদে মাকড়সাঃ এ পোকা পাতার নিচের পিঠে থেকে পাতার রস চুষে খায় বলে গাছ নিস্তেজ হয়ে পড়ে। পাতর উপরের পিঠে পিন ফোটানো দাগ এবং আক্রান্ত পাতা ও ডালে সুক্ষ্ম জাল দেখা গেলে এদের আক্রমণ সনাক্ত করা যায়। আক্রমণ বেশী হলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং পাতা কুঁকড়িয়ে যায়। অনেক সময় গাছ মারাও যায়।

দমন ব্যবস্থাঃ সংখ্যায় কম থাকতেই লাল খুদে মাকড়সা দমন করতে হয়, নতুবা পরে নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যায়। কেলথেন-৪২, থিওভিট-৮০, ইথিওন-৪৬.৫ ইসি প্রভৃতি কীটনাশকের যে কোন একটি পানির সংগে নির্দিষ্ট পরিমাণ মিশিয়ে পাতার উল্টো পিঠে স্প্রে করে এদের দমন করতে হয়। শুধুমাত্র ঠান্ডা পানি জোরে সেপ্র করেও এদের দমন করা যায়।

গোলাপ চাষ
গোলাপ চাষ

শ্যাফার বিটলঃ এ পোকা বড় ও লালচে রং এর। রাতের বেলা গাছের পাতা খেয়ে ঝাঁঝরা করে দেয়, ফুলের পাপড়ি ও রেনু খায় এবং চারা গাছের বৃদ্ধিতে বিশেষ ক্ষতি করে। বর্ষাকালেই এ পোকার আক্রমন বেশী হয়। এ পোকা মাটিতে ডিম পাড়ে এবং ক্রীড়া গোলাপের শিকড় খেয়ে ক্ষতি করে।

দমন ব্যবস্থাঃ পাইরিফস, পাইরিবান বা উপযুক্ত কীটনাশক দিয়ে কীটনাশক দিয়ে মাটি শোধন করলে কীড়া মারা যায়। রাতের বেলা হাতে বেছে পোকা ধরে মেরেও এ পোকা দমন করা যায়।

শুঁয়ো পোকাঃ এরা গাছের পাতা খেয়ে ক্ষতি করে।

দমন ব্যবস্থাঃ পোকা অল্প ও বড় আকারের হলে ধরে মেরে ফেলা সহজ। কিন্তু আকারে ছোট ও সংখ্যায় বেশি হলে রিপকর্ড ১০ ইসি প্রতি লিটার পানিতে ১.১ মিলি বা যেকোন স্পর্শ বিষ স্প্রে করতে হয়। একবারে দমন না হলে ২/৩ দিন পর আবার স্প্রে করার সময় আশে পাশের গাছ ও ঘাসে স্প্রে করতে হয়।

ডিগার বোলতাঃ ছাঁটাইয়ের পর অনেক সময় এরা ডালের কাটা অংশ দিয়ে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে ভিতরে গিয়ে বাসা বাঁধে। এই ক্ষত দিয়ে গাছ ছত্রাক দ্বারা আক্রান্ত হয় এবং পরে ডাইব্যাক রোগের লক্ষণ দেখা দেয়।

দমন ব্যবস্থাঃ ডাল ছাঁটাইয়ের পর কাঁটা অংশে প্রুনিং পেইন্ট লাগিয়ে এ পোকা প্রতিরোধ করা যায়।

গোলাপ চাষ
গোলাপ চাষ

থ্রিপসঃ মার্চ হতে এপ্রিল পর্যন্ত গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ায় থ্রিপসের আক্রমণ হয়। এরা ঝাঁক ধরে এসে আক্রমণ করে এবং অল্প সময়েই ফুলের কুঁড়ি ও অপরিণত ডগার রস চুষে খেয়ে গাছের বিশেষ ক্ষতি করে। ফলে ফুর কুঁচকানো অবস্থায় ফোটে বা ফুটতেই পারে না। কচি ডগার পাতা কুঁকড়ে যায়। আক্রান্ত ডগা ও ফুল পরীক্ষা করলে পরিণত ও অপরিণত থ্রিপস দেখা যায়।

দমন ব্যবস্থাঃ আক্রান্ত ডগা এবং ফুল কেটে পুড়িয়ে ফেলে এবং মিপসিন ৭৫ ডব্লিউপি নামক কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে ২.০ গ্রাম হারে পানিতে মিশিয়ে সপ্তাহে একবার করে ২/৩ বার পরে দু সপ্তাহ পর একবার করে নিয়মিত স্প্রে করতে হয়।

জাব পোকাঃ জাব পোকা জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে পাতা, কচি ডগা ও ফুলের রস চুষে খেয়ে ক্ষতি করে।

দমন ব্যবস্থাঃ এ পোকা দমনের জন্য ২মিলি লিটার ম্যালাথিয়ন প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ৭-১০ দিন অন্তর স্প্রে করতে হবে।

পাউডারী মিলডিউ
পাউডারী মিলডিউ

রোগঃ

গোলাপ গাছে ছত্রাকজনিত ও খাদ্যের অভাবজনিত রোগ দেখা যায়। ছত্রাকজনিত রোগ ও প্রতিকার নিন্মরূপঃ

ডাইব্যাকঃ রোগাক্রান্ত গাছের ডাল বা কান্ড মাথা থেকে কালো হয়ে মরতে শুরু করে। এ লক্ষণ ক্রমেই কান্ডের মধ্য দিয়ে শিকড় পর্যন্ত পৌঁছে এবং সম্পূর্ণ গাছ মারা যায়।

দমন ব্যবস্থাঃ ডাইব্যাক শুরু হলে রোগাক্রান্ত বেশ নিচ পর্যন্ত কেটে ফেলে দিয়ে কাটা মাথায় প্রুনিং পেইন্ট লাগিয়ে দিতে হয়, আক্রান্ত অংশ কেটে পুড়িয়ে দিতে হয় এবং  যে সিকেটিয়ার বা ছুরি দিয়ে আক্রান্ত গাছ কাটা হয় তা স্পিরিট দিয়ে মুচে দিয়ে অন্য গাছ কাটতে হয়।

পাউডারী মিলডিউঃ শীতের শেষের দিকে পাতায় সাদা সাদা পাওডারের মত দেখা যায়। এগুলো ছত্রাকের অনুজীব। রোগ বেশী হলে আক্রান্ত গাছের কচি পাতা ও ডগা এসব অনুজীব দ্বারা একেবারে ঢেকে যায়। কুঁড়ি ফোটে না, নষ্ট হয়ে যায়।

দমন ব্যবস্থাঃ রোগাক্রান্ত ডগা ও পাতা তুলে পুড়িয়ে দিতে হবে এবং হেকোনাজল ৫ ইসি বা ডাইথেন এম-৪৫ অথবা ইন্ডোফিল এম-৪৫ দিয়ে স্প্রে করতে হবে।

গোলাপ চাষ

ফুল সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনাঃ

সদ্য ব্যবহারের জন্য আধফোটা গোলাপ ফুলের কুড়ি কাটা উচিত। কিন্তু কয়েক দিন পর ব্যবহারের লক্ষ্যে গোলাপ ফুলের কুঁড়ির পর্যায়ে আসার পর কাটা উচিত। কাটা ফ্লাওয়ার হিসাবে ফুল লম্বা পুষ্প দন্ড কয়েকটি পাতা সহ ধারালো ছুরি দিয়ে কাটতে হয়। ফুল কাটার কাজটি খুব সকালে অথবা শেষ বিকেলে করা উচিত। ফুলদানীর পানিতে ৩%  চিনি ও ৬০০ পিপি এম ৮- HQC এর দ্ররণে ফুল রেখে আয়ুষ্কাল বৃদ্ধি করা সম্ভব। বাজারের চাহিদার উপর ফুলের প্যাকেজিং নির্ভরশীল। অনেক উৎপাদনকারী নিকটস্থ স্থানীয় বাজারের জন্য প্যাকেজিং ছাড়াই ফুলের আঁটি বা গোছা বাজারে সরবরাহ করে থাকে।কিছু কিছু ক্ষেত্রে আঁটিসমূহ খবরের কাগজ দ্বারা আবৃত থাকে।

গোলাপ চাষ

ফলনঃ

গোলাপের ফলন প্রধানতঃ আবহাওয়া ও জাতের উপর নির্ভরশীল। আদর্শ উৎপাদন পরিবেশে লম্বা কান্ডযুক্ত জাত প্রতি বছর গাছ প্রতি প্রায় ১৫ থেকে ৩০ টি ফুল উৎপন্ন করে। গ্রীষ্মকালীন সময়ে বিশেষ করে যখন ফুলের মান এবং বাজার দর কমে যায়, তখন কুঁড়ি ছাঁটাই করে গাছের দৈহিক গঠন ও বৃদ্ধি  ঠিক রাখতে হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

সিলেটে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষের সম্ভাবনা

সিলেট বিভাগের উচ্চমাত্রার অ্যাসিডিক জমিতে গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধাসহ বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষে ব্যাপক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কৃষি বিজ্ঞানিরা মৌলভীবাজারের আকবরপুরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে পরীক্ষামূলকভাবে ফুল চাষ করে সফল হয়েছেন। এ ফুল চাষ মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে ১০০ চাষিকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে কৃষি গবেষণা কেন্দ্র।

কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের তথ্যমতে, যশোরে বাণিজ্যিকভাবে গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধাসহ বিভিন্ন ধরনের ফুল চাষ হয়। যার বাজার দর প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। যশোরের ফুল সারাদেশের পাশাপাশি সিলেটেও আসে প্রচুর। সিলেটে ফুলের বাজার শত কোটি টাকার উপরে। কিন্তু সিলেটে ফুলের চাষ বাণিজ্যিকভাবে হয় না।

সিলেট বিভাগের মাটি অ্যাসিডিক হওয়ায় ফুল চাষ করা যাবে না, সেটাই ছিল প্রচলিক ধারণা। কিন্তু এ ধারণাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যদিয়ে ভুল প্রমাণ করেছেন মৌলভীবাজার আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের একদল গবেষক। মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এস এম শরিফুজ্জামানের নেতৃত্বে উচ্চমাত্রার অ্যাসিডিটিক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে ফুল চাষ করে সফল হয়েছেন তারা। এ পরীক্ষামূলক চাষে ফলনও হয়েছে ভালো। তাই সিলেট অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট অঞ্চলে অনেক জায়গা অনাবাদি ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। প্রবাসীরা দেশের বাইরে অবস্থান করায় তাদের অনেক জমি পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকে। এ জমিকে আবাদের আওতায় আনতে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষের উদ্যোগ নিয়ে আগ্রহী ১০০ চাষিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে আমন ধান কাটার পর এ অঞ্চলের অনেক জমি পতিত থাকে। ফলে ফুল চাষ করে অনাবাদি জমি থেকে কোটি টাকা উপার্জন সম্ভব।

বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মিরানা আক্তার সুমি জানান, চাষিরা প্রশিক্ষণ শেষে অনেক কিছু শিখেছেন। কী পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে হয়, তা জেনেছেন। ধানের চেয়ে যেহেতু ফুলের দাম বেশি, তাই ফুল চাষে তাদের আগ্রহ বাড়ছে।

ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. সরফ উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘ভালোভাবে জমি চাষ করে নির্দেশিত মাত্রায় জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হয়। অন্য ফসলের মতোই এর চাষ পদ্ধতি সহজ। বেড তৈরি করে ফুল চাষ করতে হয়। প্রতিটি বেডের দৈর্ঘ যে কোন মাপের হতে পারে। তবে প্রস্থে ১.২-১.৫ মিটার হলে ভালো।’

তিনি বলেন, ‘কলম (বীজ) লাগানো থেকে তিন মাস পর স্টিক সংগ্রহ শুরু হয়। সংগ্রহ করা যাবে পরবর্তী ২৫ দিন। গ্লাডিওলাস ৫টি জাতসহ মোট ১২টি প্রজাতির ফুলের পরীক্ষা করে আমরা সফল হয়েছি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

জারবেরা চাষে কোটিপতি আনোয়ার

জারবেরা চাষে কোটিপতি আনোয়ার
জারবেরা চাষে কোটিপতি আনোয়ার

ফরিদপুরে বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে পৃথিবীর জনপ্রিয় কাট ফ্লাওয়ার জারবেরার চাষ। অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই যে কোন ফুলের দোকানে গেলে সহজেই নজর কাড়ে বাহারি রঙের জারবেরা। কৃষি বিভাগ বলছে, উচ্চমূল্যের এই ফুল চাষে কৃষকদের প্রশিক্ষণসহ সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাণিজ্যিকভাবে জারবেরার চাষ শুরু করেছেন ফরিদপুর সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গধাধর ডাঙ্গীর কৃষক আনোয়ার হোসেন। টিস্যু কালচারের মাধ্যমে তৈরি করা ৭ হাজার চারা ভারতের পুনে থেকে আমদানি করে চাষ শুরু করেছেন তিনি। পলি সেড, জমি তৈরি ও আমদানিকৃত চারাসহ সব মিলে খরচ হয়েছে ২১ লাখ টাকা। বর্তমানে ৫০ শতাংশ জমিতে লাল, সাদা, হলুদ, পিংক, ম্যাজেন্টা, কমলা, গোলাপি রঙের জারবেরা ফুল শোভা পাচ্ছে। চারা রোপণের তিন মাসের মধ্যেই সফলতা পেয়েছেন এই চাষি। দুই দিন পরপর ফুল তুলে ঢাকার শাহবাগে বিক্রি করছেন তিনি। বাজারে ফুলের ব্যাপক চাহিদা থাকায় কৃষক আনোয়ার এখন কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

জারবেরা চাষে কোটিপতি আনোয়ার
জারবেরা চাষে কোটিপতি আনোয়ার

ফরিদপুর সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আবুল বাশার জারবেরা সম্পর্কে জানান, জারবেরা ফুল গাছ থেকে তোলার ১০-১৫ দিন এবং গাছে ফোটা অবস্থায় ৩০-৪৫ দিন সতেজ থাকে। ফলে এর চাহিদা অনেক। সারা বছরই ফুল ফোটে। তবে এপ্রিল-মে হলো ভরা মৌসুম। সব ধরনের জলবায়ুতেই এরা বেঁচে থাকে। তবে উজ্জ্বল রোদের সাথেই সখ্য বেশি। বাংলাদেশে শীত ও শীতের শেষভাগে জরবেরা ভালো হয়। পলি সেড করে চাষ করলে সারা বছরই ভালো ফলন হয় বলে জানান এই কর্মকর্তা।

চাষি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এই বাগান থেকে ৩ বছরের বেশি সময় ফুল পাবো। সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে ২০-২১ লাখ টাকা। ৭ হাজার চারা রোপণ করেছি। প্রতিটি গাছ থেকে বছরে ৫০-৬০টি জারবেরা ফুল হবে বলে কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।’

জারবেরা চাষে কোটিপতি আনোয়ার
জারবেরা চাষে কোটিপতি আনোয়ার

এই চাষি আশা করছেন, বছরে ৩০-৪০ লাখ টাকার ফুল বিক্রি করতে পারবেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ৩ বছরে ১ কোটি টাকার উপরে ফুল বিক্রি করতে পারবেন।

আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গধাধর ডাঙ্গী এলাকার একাধিক যুবক বলেন, ‘ফুল চাষে এতো লাভ বিশ্বাস করতে পারছি না। ইতোমধ্যে আনোয়ারের মতো অনেকেই এই ফুলের চাষ শুরু করেছে। আমরাও কৃষি বিভাগের সঙ্গে কথা বলে জারবেরা চাষ করবো।’

জারবেরা চাষে কোটিপতি আনোয়ার
জারবেরা চাষে কোটিপতি আনোয়ার

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ কার্তিক চন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, ‘জারবেরা ফুলের চাষ গত বছর থেকে শুরু হয়েছে। জারবেরা উচ্চমূল্যের ফুল। এটি রফতানিযোগ্য। মূলত টিস্যু কালচার থেকে আনোয়ারের এই বাগানটি গড়ে তোলা। অন্য উপজেলাতেও জারবেরা চাষ শুরু হয়েছে। এ ফুল চাষ করে কৃষকরা বেশি লাভবান হচ্ছে। জারবেরা চাষে কেউ এগিয়ে এলে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সহযোগিতা দেওয়া হয়।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

ঔষধি গাছ শ্বেত চন্দন চাষ করে হতে পারেন কোটিপতি

শ্বেত চন্দন চাষ
শ্বেত চন্দন চাষ

দেশের কৃষকদের আর্থিক উন্নতির একটাই উপায় আর তা হল স্বল্প ব্যয়ে আরও বেশি মুনাফা অর্জন। ক্ষুদ্র থেকে বড় প্রতিটি কৃষকের লক্ষ্য কৃষি কাজ করে উপার্জনের সাথে সাথে নিজেদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি। দেশের বেশিরভাগ কৃষক এখনও ঐতিহ্যবাহী কৃষিকাজের সাথে যুক্ত। আবার এমন কিছু কৃষক আছেন যারা ঐতিহ্যবাহী চাষ থেকে দূরে সরে যেতে চান এমন কিছু জিনিস চাষ করার জন্য যা তাদের ভাল লাভ দিতে পারে। এ জন্য দেশের কৃষকরা প্রতিদিন কৃষিতে নতুন নতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চলেছেন। মূল ফসলের সাথে তারা সাথী ফসল চাষ করেন অতিরিক্ত উপার্জনের জন্য।

তেমনই এক গাছের নাম শ্বেত চন্দন (White sandalwood) । কম পানি সেচ, কম পরিচর্যা ছাড়াও বাঁচতে পারে এই গাছ। তাই খরা প্রবণ এলাকাতেও শ্বেত চন্দনের চাষ হতে পারে। যেহেতু শ্বেত চন্দনের ঔষধি গুণ অসাধারণ তাই এই কাঠের দামও বেশি। বর্তমানে এই কাঠ প্রায় ১৫ হাজার টাকা কেজি।

শ্বেত চন্দন চাষ
শ্বেত চন্দন চাষ

চন্দন গাছের প্রকারভেদ

সাধারণত তিন প্রকারের চন্দনের কথা শোনা গেলেও বাস্তবে দুই প্রকারের চন্দনের অস্তিত্ব¡ পাওয়া যায়। তিন প্রকার চন্দন হল সাদা চন্দন বা শ্বেতচন্দন, রক্ত চন্দন বা লাল চন্দন, পিত চন্দন। তবে পিত চন্দনের কথা শোনা গেলেও এর কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায় না।

শ্বেত এবং রক্ত চন্দন দুটিই ঔষধ ও প্রসাধনী শিল্পে ব্যবহার হয়। এর মধ্যে শ্বেত চন্দন এর মূল্য বেশী। শ্বেত চন্দন এর বোটানিকাল নাম সান্টালুম এ্যালবাম (Santalum album)। জানুয়ারী থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত কাটিং পদ্ধতিতে চারা করার উপযুক্ত সময়। তবে পরিপক্ক চারা বছরের যে কোন সময় রোপন করা যায়। চারা রোপনের ক্ষেত্রে একটু উচু জায়গা নির্ধারন করতে হবে। চন্দন সাধারনত একটু সৌখিন ও ক্ষড়াসহিষ্ণু গাছ। আমাদের দেশের সব এলাকাতে এর চাষ করা সম্ভব। শ্বেতচন্দন গাছের তেমন কোন রোগবালাই নেই। চন্দন কাঠের সুগন্ধ মানুষের কাছে আকর্ষনীয় হলেও পোকামাকড়ের কাছে আকর্ষনীয় নয়। শীতের শুরুতে শ্বেতচন্দন গাছের পাতা ঝড়ে যায়।

শ্বেত চন্দন
শ্বেত চন্দন

চন্দন কাঠের চাষ সম্ভাবনা

চন্দন কাঠের চাষ বেশ লাভজনক, উল্লেখযোগ্য বিষয়টি হ’ল আমাদের দেশের পাশাপাশি বিদেশেও এর চাহিদা ভালোই রয়েছে। সেই প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে আজও এর চাহিদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। চন্দন কাঠের চাষে আপনাকে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হবে, তার বহুগুণ বেশি অর্থ আপনি উপার্জন করতে পারবেন। অর্থাৎ এটি বেশ লাভজনক। তবে এর জন্য আপনাকে কমপক্ষে ১৫-২০ বছর দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হবে। এতে ব্যয় হয় প্রায় এক লাখ টাকা এবং এতে মুনাফা হয় ৬০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত। শ্বেত চন্দন গাছগুলিকে চিরসবুজ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এর থেকে উত্পাদিত তেল এবং কাঠ ঔষধ তৈরি করতেও ব্যবহৃত হয়। শ্বেত চন্দন কাঠের তেল সাবান, প্রসাধনী এবং আতর সুগন্ধ হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

ঔষধি গাছ শ্বেত চন্দন
ঔষধি গাছ শ্বেত চন্দন

কত দিনের মধ্যে চন্দন গাছ প্রস্তুত হয়

চন্দন গাছ দুটি উপায়ে প্রস্তুত করা যায়- প্রথমটি জৈব চাষ এবং দ্বিতীয়টি ঐতিহ্যবাহী উপায়ে চাষ। জৈব পদ্ধতিতে এবং প্রচলিত উপায়ে চন্দন গাছ প্রস্তুত হতে ১০ থেকে ১৫ বছর সময় লাগে। অন্যান্য গাছের তুলনায় চন্দন গাছ বেশ ব্যয়বহুল। তবে আপনি যদি একবারে অনেকগুলি গাছ কিনে থাকেন তবে এটি গড়ে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায় পাবেন। শ্বেতচন্দন গাছ চাষ করা যেমন সহজসাধ্য, তেমনি অত্যন্ত লাভজনকও। এই গাছ চাষে তেমনভাবে কোনও খরচও নেই। সেচও লাগে কম। প্রথম দুই বছর গাছের সামান্য যত্ন নিতে পারলেই আর কোনও অসুবিধা নেই।

শ্বেত চন্দন চাষে কত লাভ হতে পারে

গাছের বয়স ২০ হলেই প্রায় পরিণত এই গাছ ৩০০ থেকে ৩৫০ কেজি কাঠ দেবে। মাটির উপরের ভাগের কাঠের দাম বর্তমান বাজারে যা ১৫ হাজার টাকা প্রতি কেজি৷ তবে ২০ বছর পর আরও দাম বাড়ার সম্ভাবনা। এমনকি মাটির ভিতর শিকড় ইত্যাদি কাঠও পাওয়া যেতে পারে নয় নয় করেও প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার। অর্থাৎ বর্তমানে কোনও গাছ রোপণ করলে ২০ বছর পর অনায়াসেই আপনি গাছের সংখ্যা অনুযায়ী ৬০ লক্ষ থেকে কোটি টাকার মালিক হয়ে যেতে পারেন।

ঔষধি গাছ শ্বেত চন্দন
ঔষধি গাছ শ্বেত চন্দন

শ্বেত চন্দনের ঔষধি গুনাগুন

সব চন্দন কাঠই উপকারী তবে শ্বেত চন্দন যেমন দামী তেমনী মানব স্বাস্থের জন্যও উপকারি অসাধারন একটি দুর্লভ ভেষজ। সাদা চন্দনের গাছ থেকে পাতন ব্যবস্থায় তেল নিস্কাশন করে প্রসাধনী, ঔষধ ও দামী আতর শিল্পে ব্যবহার করা হয়। শ্বেতচন্দন আমাদের কাছে সুগন্ধি কাঠ হিসেবে পরিচিত হলেও চন্দন কাঠের নির্যাস সাবান, পাউডার, আতর, ক্রিম, দাত মাজার পেষ্ট তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। আধুনিক ভেষজ শাস্ত্রে শ্বেতচন্দন বহু রোগের জন্য ব্যবহার করা হয়। যেমন অতিরিক্ত রক্তচাঁপ, ব্রঙ্কাইটিস এছাড়া পেনিসিলিন আবিস্কারের বহু আগেই ভেষজ চিকিৎসকরা গনোরিয়া রোগের জন্য শ্বেতচন্দন ব্যবহার করেছেন। তখন চন্দনের তেলের সংগে অন্য দু’একটি ভেষজ মিশিয়ে ঔষধ বানানো হত। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সর্বত্রই এটি গনোরিয়ার ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হত। এছাড়া খাদ্য হজম, ডায়রীয়া, আমাশয়, ঘামাচি, বসন্ত, হিক্কা সহ বিভিন্ন রোগের ঔষধ হিসেবে চন্দনের বিভিন্ন ব্যবহার হয়েছে বর্তমানেও হইতেছে। রুপচর্চায় শ্বেত চন্দন ব্যবহারে যাদুকরি উপকার পাওয়া যায়।

তাই একজন মানুষ এক একটি চন্দন গাছ রোপন করলে ১০-১৫ বছর পরে তিনি পেনশনের মত করে এই গাছ থেকে আর্থিক সুবিধা পেতে পারেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

ফুল চাষ করে বছরে আয় ৫ লাখ টাকা

ফুল চাষ করে বছরে আয় ৫ লাখ টাকা
ফুল চাষ করে বছরে আয় ৫ লাখ টাকা

সাতক্ষীরা সদরের আলীপুর এলাকার আকরাম আলীর ভাগ্য বদলে দিয়েছে ফুল। অন্যের জমি ইজারা নিয়ে ফুল চাষ করেন তিনি। সেই ফুল বাগান থেকে বছরে আয় করছেন ৫ লাখ টাকা। মৃত আহাদুল্লাহ্ সরদারের ছেলে আকরাম আলী (৬০) বর্তমানে ৭ বিঘা ৮ কাঠা জমিতে রজনীগন্ধা, গোলাপ, গাঁধা ও গাজরা ফুল চাষ করছেন। বাড়ির পাশে ২ বিঘা জমিতে রয়েছে গাজরা ফুল। এছাড়া পাটকেলঘাটা থানার নগরঘাটা ইউনিয়নের মিঠাবাড়ি এলাকায় ৫ বিঘা ৮ কাঠা জমিতে রয়েছে গোলাপ, রজনীগন্ধা ও গাঁধা ফুল। ফুল ব্যবসার লাভের টাকায় ১৫ বিঘা মাছের ঘেরও করেছেন। বসত ভিটার ১৫ শতক জমি ছাড়া তার কোনো জমি নেই।

ফুল চাষ করে বছরে আয় ৫ লাখ টাকা
ফুল চাষ করে বছরে আয় ৫ লাখ টাকা

আকরাম আলী বলেন, ‘১৯৮০ সালে ৮ শতক জমি নিয়ে ফুল চাষ শুরু করি। ফুল চাষে লোকসানের সম্ভাবনা নেই। ঠিকমত পরিচর্যা ও চাষ করতে পারলে প্রচুর লাভ হয়। বর্তমানে ৭ বিঘা ৮ কাঠা জমিতে ফুল চাষ করছি। এরমধ্যে বাড়ির পাশে ২ বিঘা জমিতে রয়েছে গাজরা ফুল। ২৫ হাজার টাকায় ২ বিঘা জমি ইজারা নিয়েছি। গাজরা ফুল চাষ করতে খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। এ বাগান থেকে কমপক্ষে ২ লাখ টাকার ফুল বিক্রি করতে পারবো। এ ফুল চাষে বাড়তি কোনো খরচ নেই। এ বছর আরও ৩ বিঘা জমিতে গাজরা ফুলের চাষ করবো।’

পাটকেলঘাটার মিঠাবাড়ি এলাকার বাগান সম্পর্কে আকরাম আলী জানান, পৌনে ২ বিঘা জমিতে রয়েছে রজনীগন্ধার চাষ। যা চাষ করতে তার খরচ হয়েছে ২ লাখ টাকা। বিক্রি হবে ৪ লাখ টাকার বেশি। ১২ কাঠা জমিতে রয়েছে গোলাপের চাষ। খরচ হয়েছে ১ লাখ টাকা। বিক্রি হবে ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা। এছাড়া ২ বিঘা ১৫ কাঠা জমিতে রয়েছে গাঁধা ফুলের চাষ। যা চাষ করতে খরচ হয়েছে ১ লাখ টাকা। বিক্রি হবে ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা। মোট ৫ বিঘা ৮ কাঠা জমিতে বছরে ইজারা দিতে হয় ৮৫ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে ফুল চাষ করে বছরে তার খরচ বাদ দিয়ে ৪-৫ লাখ টাকা লাভ হয়।

ফুল চাষ করে বছরে আয় ৫ লাখ টাকা
ফুল চাষ করে বছরে আয় ৫ লাখ টাকা

সফলতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ফুল ব্যবসার লাভের টাকা দিয়ে ১৫ বিঘা জমি ইজারা নিয়ে মাছের ঘের করেছি। এসব ফুল সাতক্ষীরা জেলার সব উপজেলাসহ যশোরের কেশবপুরে সরবরাহ করি। জেলায় আমি একমাত্র ফুল চাষি। ফলে ফুল চাষের কোনো পরামর্শমূলক সহযোগিতা নেওয়া সম্ভব হয় না। কৃষি বিভাগও কোনো সহযোগিতা করে না। ১৯৮০ সাল থেকে অল্প জমিতে ফুল চাষ শুরু করলেও ২০০০ সালে আলীপুর এলাকায় ১২ বিঘা জমিতে চাষ করেছিলাম। সেই থেকে বড় পরিসরে ফুল চাষের যাত্রা শুরু হয়। ২০১৮ সালে নগরঘাটার মিঠাবাড়ি এলাকায় চাষ শুরু করেছি। আমার একার পক্ষে জেলায় ফুলের চাহিদা মেটানো সম্ভব হয় না। ফলে ফুল ব্যবসায়ীদের অন্য জেলা থেকে ফুল আমদানি করতে হয়।’

ফুলের বাজার দর কম-বেশি হয় জানিয়ে আকরাম আলী বলেন, ‘প্রতি পিচ গোলাপ বিক্রি করি ৫ টাকা, রজনীগন্ধা ৬ টাকা ও গাঁধা ফুল ১ হাজার ১৫০ টাকা। প্রতিদিন বিক্রি করা দামের তারতম্য ঘটে। বিশেষ দিনগুলোতে ফুলের দাম বেশি হয়।’

ফুল চাষ করে বছরে আয় ৫ লাখ টাকা
ফুল চাষ করে বছরে আয় ৫ লাখ টাকা

স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহাদত হোসেন বলেন, ‘তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। তবে ফুলের ব্যবসা করে বর্তমানে অবস্থা ভালো। বর্তমানে পাটকেলঘাটা থানার নগরঘাটা এলাকায় গড়ে তুলেছেন ফুলের বাগান।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক অরবিন্দ বিশ্বাস বলেন, ‘জেলায় আকরাম আলী ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো ফুল চাষি নেই। ফুল চাষি না থাকায় আমাদের কোনো জরিপ কার্যক্রমও নেই। তবে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com