আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

দৈনন্দিন

মহামারিতেও পরিবর্তন হয়নি বাংলাদেশের ‘ভিআইপি সংস্কৃতি’

করোনাভাইরাস সংক্রমণের টেস্ট করাতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় সাধারণ মানুষকে।
করোনাভাইরাস সংক্রমণের টেস্ট করাতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় সাধারণ মানুষকে।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন বুশরা বিনতে বাতেন।

সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে তার শ্বশুর এবং শাশুড়ি দুজনই একদিনের ব্যবধানে মারা যান।

বাসায় অসুস্থ হবার পরে এ দু’জনকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে রীতিমতো বেগ পেতে হয়েছে মিস্‌ বাতেন এবং তার পরিবারকে।

একজন সাধারণ রোগী হিসেবে কোন হাসপাতালেই রোগী ভর্তি করানো সম্ভব হয়নি।

পরিচিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে যোগাযোগ করে এ কাজ সমাধান করতে হয়েছে।

“ওনাদের যে কয়েকটা হাসপাতালে ভর্তি করেছি, প্রতিটি জায়গায় রেফারেন্সের মাধ্যমে যেতে হয়েছে। কোন হাসপাতালে সরাসরি গিয়ে আমরা সেবা পাইনি,” বলেন মিস্‌ বাতেন।

“আমরা ১০ দিনের মধ্যে চারটা হাসপাতালে নিয়ে গেছি। প্রতিটি হাসপাতালে যাবার আগে আমাদের একটা রেফারেন্স লেগেছে।”

বাংলাদেশের সমাজে ক্ষমতাবান না হলে সাধারণ মানুষের পক্ষে যে কোন সেবা পাওয়া দুষ্কর।

মিস্ বাতেনের পরিবার এর একটি উদাহরণ মাত্র। এই ক্ষমতা বিভিন্ন ধরণের হতে পারে।

রাজনৈতিক ক্ষমতা, বিত্তশালী হবার ক্ষমতা এমনকি ঊর্ধ্বতন সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা হবার ক্ষমতা।

করোনাভাইরাস মহামারির এ সময়টিতে ক্ষমতার জোর আরো প্রকট ও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।

সব জায়গায় ‘ভিআইপি’ দাপট

ঢাকার আরেক বাসিন্দা ইয়াসমিন ইতি বলছিলেন, দেশের ভেতরে তথাকথিত ভিআইপি সংস্কৃতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

নিজের একটি অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে মিস ইতি বলেন, অতি নগণ্য বিষয় নিয়েও তথাকথিত ভিআইপি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করা হয়।

ইয়াসমিন ইতি
ইয়াসমিন ইতি

মিস্ ইতি একবার নওগাঁর আত্রাই এলাকায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি কাছারি বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি দর্শনার্থী হিসেবে টিকিট কেটে ঢুকে ঘুরছিলেন।

“এমন সময় সিকিউরিটি গার্ডরা দৌড়ে এসে বললো, অমুক সাংসদ এসেছে তার আত্মীয়-স্বজন নিয়ে, এখন সাধারণ যারা আছে তাদের বাইরে অপেক্ষা করতে হবে। সাংসদ ঘুরে চলে গেলে আপনারা আবার ঢুকতে পারবেন। খুব অপমানিত বোধ করেছি তখন,” বলেন মিস্ ইতি।

এয়ারপোর্ট, পাসপোর্ট অফিস, ট্রেন, বিমান, লঞ্চ – সবজায়গাতেই তথাকথিত ভিআইপি কালচারের চর্চা চোখে পড়ার মতো।

ভিআইপ সংস্কৃতি কেন টিকে আছে?

ক্ষমতার সাথে যারা নানাভাবে সম্পৃক্ত তারা নিজেদের সুবিধার জন্য আলাদাভাবে লিখিত কিংবা অলিখিত একটি সিস্টেম চালু করেছেন, যেটি সাধারণ মানুষের চেয়ে আলাদা।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থায় তথাকথিত এই ভিআইপি সংস্কৃতিকে সযত্নে লালন করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক ও বিশ্লেষক গোবিন্দ চক্রবর্তী ব্যাখ্যা করছিলেন এই সংস্কৃতি দিনকে দিন কেন শক্তিশালী হয়ে উঠছে?

মি: চক্রবর্তী বলেন, রাষ্ট্র ক্ষমতার সাথে সম্পৃক্ত কিছু পকেটস আছে। এগুলো বিভিন্ন শাসনামলে শক্তিশালী হয়েছে।

“আমাদের এখানে নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে এলিটরা যেটা প্রেফার করে, শেষ পর্যন্ত সেটাই বাস্তবায়ন হয়। বাংলাদেশের নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ইন্টারেস্ট গ্রুপ বেশ শক্তিশালী। যারা নীতি প্রণয়ন করছেন, তারা এই গ্রুপগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বাজায় রাখার চেষ্টা করছেন,” বলেন মি: চক্রবর্তী।

বাংলাদেশে যে কোন সরকারি সেবা যথাসময়ে পাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে যখন সংগ্রাম করতে হয়, তখন ক্ষমতাবান এবং বিত্তবানদের জন্য সেটি বেশ অনায়াসে হয়ে যায়।

অনেকক্ষেত্রে তাদের সশরীরে উপস্থিতও হতে হয় না। রাজনীতিবিদ এবং বিত্তশালী ব্যবসায়ী ছাড়াও ক্ষমতার সাথে সম্পৃক্ত থাকেন সামরিক এবং বেসামরিক কর্মকর্তারা।

সাবেক সচিব শফিক আলম মেহেদির কাছে জানতে চেয়েছিলাম, বিভিন্ন ক্ষেত্রে কেন সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হয়?

মি: মেহেদি দাবি করেন, সরকারি কাজের প্রয়োজনে কিছু সুবিধা চালু করা হয়েছে। এর বাইরে অন্য কিছু দাবি করার সুযোগ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

“আমরা যখন জয়েন্ট সেক্রেটারি হলাম তখন বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে গেলে সেখানে একটা আসন সংরক্ষিত থাকতো। এছাড়া সচিব যখন হলাম তখন একটি ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্ট পেয়েছি। এটা সরকারি কাজে সুবিধার্থে,” বলেন মি: মেহেদি।

মহামারির সময় ভিআইপি সংস্কৃতি প্রকট হয়েছে

দেশের ভঙ্গুর চিকিৎসা ব্যবস্থাতে এমনিতেই বৈষম্য ছিল। কিন্তু এবার সেটি আরো প্রকট হয়েছে।

মহামারির এই সময়টিও বাংলাদেশের তথাকথিত ভিআইপি সংস্কৃতি বা বিশেষ সুবিধা পাওয়ার সংস্কৃতিতে কোন পরিবর্তন আনতে পারেনি।

ক্ষমতাসীন দলের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তি, বিত্তশালী ব্যবসায়ীরা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা পাচ্ছেন।

যেখানে সাধারণ মানুষের কোন প্রবেশাধিকার সীমিত। ক্ষমতাসীন দলের সাথে সম্পৃক্ত কাউকে-কাউকে ঢাকার বাইরে থেকে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ঢাকায় এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অবশ্য রোগীর চাপ এতোটাই বেশি যে ক্ষমতার সাতে সম্পৃক্ত সবাই সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারেননি।

করোনাভাইরাস মহামারির সময় হাসপাতালে সাধারণ মানুষের জায়গা পেতে বেশ সংগ্রাম করতে হয়েছে।
করোনাভাইরাস মহামারির সময় হাসপাতালে সাধারণ মানুষের জায়গা পেতে বেশ সংগ্রাম করতে হয়েছে।

মানবাধিকার কর্মী নীনা গোস্বামী বলেন, সুযোগ সুবিধা যেখানে খুবই অপ্রতুল সেখানে মহামারির সময় পরিস্থিতির কোন বদল আশা করা যায় না।

” স্বাস্থ্যখাতের অব্যবস্থাপনা যখন সামনে চলে আসছে তখন তাদের মনে একটা ভয় কাজ করে। যারা ক্ষমতার সাথে সম্পৃক্ত থাকে তারা সর্বোচ্চ সুবিধাটা নিতে চায়। সেখানে ইকুয়ালিটির প্রশ্নই আসে না,” বলেন মিস্ গোম্বামী।

“এটা শুধু মহামারির সময় না, ক্ষমতার সাথে সম্পৃক্তরা সবসময় সুবিধা পেয়ে থাকে। আপনি সাধারণ সময়েও দেখবেন যে, কিছু মানুষ চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারের সুবিধা পায়। আবার বাইরে চলে যাবার জন্যও বিশেষ সুবিধা পায়।”

শুধু হাসপাতালে চিকিৎসা নয়, করোনাভাইরাসের টেস্ট করানোর ক্ষেত্রে বৈষম্য চোখে পড়ে।

অভিযোগ রয়েছে টেস্ট-এর ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তারা অগ্রাধিকার পায়।

এছাড়া সাংবাদিক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী গ্রুপ তাদের সংগঠনের সদস্যদের জন্য আলাদা টেস্ট করার ব্যবস্থা করিয়ে নিয়েছেন।

অন্যদিকে সাধারণ মানুষ করোনাভাইরাসের টেস্ট করানোর জন্য রীতিমতো গলদঘর্ম হচ্ছেন।

ঢাকার একজন বাসিন্দা প্রিয়াঙ্কা ভট্টাচার্য বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের সব উপসর্গ থাকা সত্ত্বেও টেস্ট করাতে তাকে দু’সপ্তাহ অপেক্ষা করাতে হয়েছে।

শেষ পর্যন্ত এক আত্মীয়ের পরিচয়ের মাধ্যমে সেটি করানো সম্ভব হয়েছে।

“পরিচিত না থাকলে মনে হয় সম্ভব হতো না,” বলেন মিস্ চক্রবর্তী।

ভিআইপি সংস্কৃতির মূলে রয়েছে রাজনীতি

সরকারি যে কোন সেবা পেতে সাধারণ মানুষকে বহু কষ্ট করতে হয়।
সরকারি যে কোন সেবা পেতে সাধারণ মানুষকে বহু কষ্ট করতে হয়।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, তথাকথিত এই ভিআইপি সংস্কৃতির পরিবর্তন করতে পারতো রাজনীতি এবং রাজনীতিবিদরা।

কিন্তু তারাও যেহেতু এই সুবিধা অংশ পায় সেজন্য এটি পরিবর্তনে তাদেরও কোন আগ্রহ নেই।

গত প্রায় ৪০ বছর যাবত রাজনীতির সাথে যুক্ত আছেন নূহ-উল-আলম লেনিন।

এক সময় কমিউনিস্ট পার্টি করলেও দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সাথে তিনি যুক্ত।

মি: লেলিন মনে করেন, তথাকথিত ভিআইপি সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের আগ্রহই সবচেয়ে বেশি।

তিনি মনে করেন, প্রায় সোয়া ২০০ বছর আগে এই অঞ্চলে ব্রিটিশদের চালু করা জমিদারি প্রথার ধারাবাহিকতায় বর্তমানের ভিআইপি কালচার চালু রয়েছে।

মি: লেনিন বলেন, ” ভিআইপি এবং ভিভিআইপি – এই সিস্টেম অফিসিয়ালি কে করেছে? এটা করেছে রাষ্ট্র। রাষ্ট্র যেহেতু চিরকালই অভিজাত শ্রেণীর হাতে ছিল, সে কারণেই এটা অতীতের ধারাবাহিকতায় চলে এসেছে।

তিনি মনে করেন, ক্ষমতাবানরা নিজেদেরকে অন্যদের চেয়ে আলাদা হিসেবে তুলে ধরতে চান। সেজন্যই ভিআইপি কালচার এখনো লালন করা হচ্ছে।

“ক্ষমতার একটা ক্যারেক্টার থাকে। ক্ষমতা যদি প্রয়োগ করা এবং সে যদি নিজেকে সাধারণ মানুষের চেয়ে আলাদা করতে না পারে, তাহলে সে কিসের ক্ষমতাবান হলো?”

বিশ্লেষকরা বলেন, যেখানে জনসংখ্যার তুলনায় সুযোগ-সুবিধা খুবই অপ্রতুল সেখানে দ্রুত সেবা পেতে তথাকথিত ভিআইপি সংস্কৃতি টিকে থাকবে।

আবার অনেকে মনে করেন, ক্ষমতার সাথে সম্পৃক্তরা যেহেতু আলাদা সুবিধা পান, সেজন্য সিস্টেমের পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে তাদের তেমন একটা মনোযোগও দেখা যায়না।

  • সরকারি যে কোন সেবা পেতে সাধারণ মানুষকে বহু কষ্ট করতে হয়।

    সরকারি যে কোন সেবা পেতে সাধারণ মানুষকে বহু কষ্ট করতে হয়।

  • করোনাভাইরাস মহামারির সময় হাসপাতালে সাধারণ মানুষের জায়গা পেতে বেশ সংগ্রাম করতে হয়েছে।

    করোনাভাইরাস মহামারির সময় হাসপাতালে সাধারণ মানুষের জায়গা পেতে বেশ সংগ্রাম করতে হয়েছে।

  • ইয়াসমিন ইতি

    ইয়াসমিন ইতি

  • করোনাভাইরাস সংক্রমণের টেস্ট করাতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় সাধারণ মানুষকে।

    করোনাভাইরাস সংক্রমণের টেস্ট করাতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় সাধারণ মানুষকে।

  • সরকারি যে কোন সেবা পেতে সাধারণ মানুষকে বহু কষ্ট করতে হয়।
  • করোনাভাইরাস মহামারির সময় হাসপাতালে সাধারণ মানুষের জায়গা পেতে বেশ সংগ্রাম করতে হয়েছে।
  • ইয়াসমিন ইতি
  • করোনাভাইরাস সংক্রমণের টেস্ট করাতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় সাধারণ মানুষকে।
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

দৈনন্দিন

নিপাহ্‌ ভাইরাসঃ খেজুরের রস খাওয়ার আগে সতর্ক থাকতে যা করণীয়

নিপাহ্‌ ভাইরাস খেজুরের রস খাওয়ার আগে সতর্ক থাকতে যা করণীয়
নিপাহ্‌ ভাইরাস খেজুরের রস খাওয়ার আগে সতর্ক থাকতে যা করণীয়
খেজুরের রস সংগ্রহের প্রক্রিয়া।

শীতকাল এলেই বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে খেজুরের রস খাওয়ার চল বেড়ে যায়। অনেকে গাছ থেকে খেজুরের কলসি নামিয়ে সরাসরি কাঁচা রস খেয়ে থাকেন।

আবার অনেকে এই রস চুলায় ফুটিয়ে সিরাপ, পায়েস বা ক্ষীর বানিয়ে খান। এছাড়া রসের তৈরি ঝোলা গুড়, পাটালি গুড়, নলেন গুড়, ভেলি গুড়, বালুয়া গুড়, মিছরি গুড়সহ নানা ধরণের পিঠার বেশ সুখ্যাতি রয়েছে।

নিপাহ্‌ ভাইরাস আতঙ্ক

খেজুর আরব দেশের প্রচলিত ফল হলেও ওইসব দেশে খেজুর, মূলত ফল উৎপাদননির্ভর, যেখানে কিনা বাংলাদেশের খেজুর গাছ রস উৎপাদননির্ভর।

কৃষি তথ্য সার্ভিসের মতে, বাংলাদেশে সাধারণত কার্তিক থেকে মাঘ অর্থাৎ অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত খেজুরের রস সংগ্রহ হয়ে থাকে।

দেশটির সবচেয়ে বেশি রস সংগ্রহ হয় যশোর, কুষ্টিয়া ও ফরিদপুর অঞ্চল থেকে।

মূলত খেজুর গাছের ডালপালা পরিষ্কার করে, ডগার দিকের কাণ্ড চেঁছে তাতে একটা বাঁশের কঞ্চি দিয়ে তৈরি চোঙ বসিয়ে দেয়া হয়। চোঙের শেষ প্রান্তে ঝুলিয়ে দেয়া হয় একটি মাটির হাড়ি বা কলসি।

সেই চোঙ দিয়ে ফোঁটা ফোঁটা রস এসে জমা হতে থাকে মাটির হাড়ি বা কলসিতে। এভাবে একটি গাছ থেকে দৈনিক গড়ে পাঁচ থেকে ছয় লিটার রস সংগ্রহ করা যায় বলে কৃষি তথ্য সার্ভিস সূত্রে জানা গিয়েছে।

কিন্তু গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই খেজুরের রস খাওয়ার ক্ষেত্রে নিপাহ্‌ ভাইরাস আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

কই মাছে বাঁধাকপির ছেঁচকি – দা এগ্রো নিউজ

কই মাছে বাঁধাকপির ছেঁচকি
কই মাছে বাঁধাকপির ছেঁচকি

উপকরণ: বাঁধাকপির কুচি ৪ কাপ, কই মাছের টুকরো ৬টি, তেজপাতা ১টি, শুকনো মরিচ ২টি, মেথি অল্প পরিমাণ, মরিচবাটা ১ চা-চামচ, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, লবণ পরিমাণমতো, নারকেল কোরানো স্বল্প পরিমাণে, হলুদ পরিমাণমতো ও সরিষার তেল পরিমাণমতো।

প্রণালি: তেলে শুকনো মরিচ ও মেথি ফোড়ন দিতে হবে। ফোড়ন হয়ে এলে হালকা করে ভেজে উঠিয়ে রাখতে হবে। ওই তেলেই বাঁধাকপির কুচি ও পেঁয়াজ কুচি দিয়ে ভালো করে কষে নিতে হবে। তারপর লবণ, মরিচ ও হলুদবাটা দিয়ে আরও কিছুক্ষণ বসাতে হবে। সেদ্ধ হয়ে এলে অল্প পরিমাণে পানি দিতে হবে। পানি ফুটে উঠলে ভাজা মাছগুলো দিয়ে ঢাকা দিতে হবে। পানি শুকিয়ে গেলে এবং মাছ সেদ্ধ হয়ে এলে অল্প পরিমাণ নারকেল কোরানো দিয়ে নামিয়ে ফেলতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

ধনেপাতা ও টমেটোয় শোল মাছ – দা এগ্রো নিউজ

ধনেপাতা ও টমেটোয় শোল মাছ
ধনেপাতা ও টমেটোয় শোল মাছ

উপকরণ: বড় শোল মাছ ৫০০ গ্রাম, টমেটো টুকরো আধা কাপ, সরিষার তেল ৩ টেবিল চামচ, টমেটোবাটা আধা কাপ, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, আদাবাটা ১ চা-চামচ, রসুনবাটা ১ চা-চামচ, হলুদ গুঁড়া ১ চা-চামচ, ধনেপাতা আধা কাপ, শুকনো মরিচের গুঁড়া ১ চা-চামচ, লবণ স্বাদ অনুসারে ও কাঁচা মরিচ ৭-৮টি (চেরা)।

প্রণালি: শোল মাছ লবণ, হলুদ ও সরিষার তেল মাখিয়ে ভেজে তুলে রাখতে হবে। আর ওই তেলেই পেঁয়াজ কুচি দিতে হবে। পেঁয়াজ বাদামি রং হলে রসুন, আদা, মরিচের গুঁড়া, হলুদ ও লবণ দিয়ে ভালোভাবে কষাতে হবে। টমেটোবাটা দিতে হবে, কিছুক্ষণ কষানোর পর প্রয়োজনমতো গরম পানি দিতে হবে। পানি ফুটে উঠলে ভেজে রাখা মাছগুলো দিতে হবে। ঝোল মাখা-মাখা হলে টমেটোর টুকরো আর ধনেপাতা দিয়ে কিছুক্ষণ পর নামিয়ে ফেলতে হবে। নামানোর আগে কাঁচা মরিচ দিতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

লাউ টাকি – দা এগ্রো নিউজ

লাউ-টাকি
লাউ-টাকি

উপকরণ: ছোট টুকরো করে কাটা টাকি মাছ ২ কাপ, ডুমো ডুমো করে কাটা লাউ ৪ কাপ, হলুদ সিকি চা-চামচ, লবণ পরিমাণমতো, পেঁয়াজ ১ কাপ, ধনেপাতা কুচি পরিমাণমতো, রসুনবাটা ১ চা-চামচ, কাঁচা মরিচ ১০-১২টি, আদাবাটা আধা চা-চামচ ও রাঁধুনি বাটা সিকি চা-চামচ।

প্রণালি: তেলে পেঁয়াজ দিয়ে হালকা করে ভেজে নিতে হবে। তারপর একে একে রসুনবাটা, আদাবাটা ও রাধুনি (গুঁড়া সজ) বাটা ও হলুদের গুঁড়া দিয়ে ভালো করে কষাতে হবে। কষানো হলে লাউ দিতে হবে। লাউ দিয়ে কিছুক্ষণ কষিয়ে অল্প পরিমাণে পানি দিতে হবে। পানি ফুটে উঠলে আগে থেকে হালকা করে ভেজে রাখা টাকি মাছ দিতে হবে। পানি শুকিয়ে এলে কাঁচা মরিচের ফালি ও সবশেষে ধনেপাতা দিয়ে নামিয়ে ফেলতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

বাঁধাকপির পাতায় চিংড়ি – দা এগ্রো নিউজ

বাঁধাকপির পাতায় চিংড়ি
বাঁধাকপির পাতায় চিংড়ি

উপকরণ: চিংড়ি মাছ ২০০ গ্রাম, সয়াবিন তেল পরিমাণমতো, বাঁধাকপি কুচি ১ কাপ, ক্যাপসিকাম কুচি ১ কাপ, টমেটো কুচি আধা কাপ, পেঁয়াজপাতা কুচি ১ কাপ, কাঁচা মরিচবাটা ১ চা-চামচ, ধনেপাতাবাটা ১ চা-চামচ, হলুদের গুঁড়া পরিমাণমতো, চিলি সস ২ চা-চামচ, টমেটো সস ২ চা-চামচ, বাঁধাকপির ভেতরের পাতা ৪টি, ভিনেগার ২ চা-চামচ, রসুন ১ চা-চামচ ও লবণ স্বাদমতো।

প্রণালি: বাঁধাকপির শক্ত অংশ ফেলে দিন। পাতার ভেতরের অংশ একটু ভাপিয়ে রাখুন। মাছ ধুয়ে ভিনেগার মাখিয়ে রাখুন। এবার কড়াইয়ে সয়াবিন তেল গরম হলে তাতে রসুন কুচি দিয়ে মাছগুলো দিন। একে একে কোঁচানো বাঁধাকপি, ক্যাপসিকাম, টমেটো ও পেঁয়াজপাতা দিয়ে নেড়েচেড়ে নিন। এরপর কাঁচা মরিচবাটা, ধনেপাতাবাটা, চিলি সস ও টমেটো সস দিয়ে নেড়ে নিন। পানি শুকিয়ে এলে নামিয়ে বাঁধাকপির পাতায় অল্প করে চিংড়ি মাছ সুতা দিয়ে বেঁধে স্টিমারে ভাপিয়ে নিন। সুতো কেটে পাতা খুলে পরিবেশন করুন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com