আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে স্থানান্তরিত বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা চাইলে অর্থনৈতিক নানা কাজে অংশ নিতে পারবেন। সেখানে নানা ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অসহায় রোহিঙ্গারা যাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে হতাশা কাটিয়ে উঠতে পারেন এবং তারা যাতে দক্ষ কর্মী হয়ে মিয়ানমার ফিরে যেতে পারেন সে জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার।

সম্প্রতি ভাসানচরে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে বসবাসকারী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধ্যতামূলক নয়। তারা অন্য শরণার্থীদের মতো কার্ডের মাধ্যমে রেশন ও খাবার পাবেন। তবে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক এবং রোহিঙ্গারা চাইলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আশ্রয়ণ-৩ এর প্রকল্প পরিচালক কমডোর আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, আমরা প্রকল্পে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা রেখেছি। তবে মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। আর রোহিঙ্গাদেরও মতামত নেয়ার বিষয় আছে।

জানা যায়, ভাসানচরে নৌবাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য প্রশাসনিক সহায়তা প্রদানকারী সদস্যদের জন্য কিছু অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে শরণার্থীরা চলে গেলে সেখানে দেশের অন্যান্য দুস্থ পরিবার আশ্রয় নিলে তাদের জন্যও এ সব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রয়োজন হবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মধ্যে গবাদি পশুপালন, দুগ্ধজাত দ্রব্য উৎপাদন, মৎস্যচাষ এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উল্লেখযোগ্য।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দ্বীপে বর্তমানে প্রায় ছয় হাজার মহিষ রয়েছে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে এসব মহিষের খামার পরিচালনার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা কর্তৃক মহিষের দুধ ব্যবহার করত দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন কার্যক্রম গ্রহণ করা যেতে পারে।

এছাড়াও ছাগল ও ভেড়া পরীক্ষামূলকভাবে পালন করা হচ্ছে, যার বৃদ্ধির হার যথেষ্ট ভালো বলে প্রতীয়মান। প্রকল্পের অব্যবহৃত ১১৮ একর জমিতে এবং ক্লাস্টার হাউজের অভ্যন্তরে ফাঁকা স্থানে ভবিষ্যতে ফলদ ও বনজ বৃক্ষরোপণ করা হবে। প্রকল্পের জলাধার হিসেবে একটি বড় লেক করা হয়েছে যা সুপেয় পানির মৎস্য চাষে যথেষ্ট সহায়ক হবে। প্রকল্পের আরও দুটি লেক সংশোধনী প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আর ইতোমধ্যেই সেখানে মাছ চাষ হচ্ছে। এছাড়াও ছোটখাট আরও জলাশয় বিদ্যমান রয়েছে যা মৎস্য চাষের জন্য যথেষ্ট অনুকূল। অব্যবহৃত ১১৮ একর জমিতে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উদ্যোগসহ অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা চলমান।

পরীক্ষামূলকভাবে ধান চাষ করেও সফলতা মিলেছে। মূলত বরিশাল এলাকায় উৎপাদন হয় এমন ধান চাষ করা হচ্ছে। এছাড়া মিঠাপানিতে হয় এমন বিভিন্ন বনজ ও ফলদ বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি চাষ করা হচ্ছে।

সেখানকার ভেড়া লালন পালনকারী আমিরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, সাড়ে ৩০০ ভেড়া আছে। মাত্র ৫০টি ভেড়া দিয়ে শুরু করা হয়েছিল। সেখানকার ঘাস দিয়েই তাদের লালনপালন করা হয়। বাড়তি কোনো খাবার লাগে না।

সেখানে তিন বছর ধরে অটো চালাচ্ছিলেন মো. আলমগীর হোসেন। তিনি রংপুর থেকে সেখানে কাজ করতে গেছেন। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, এখানকার পরিবেশ খুব ভালো। কোনো যানজট নেই। রাস্তা খুবই ভালো ও প্রশস্ত।

রোহিঙ্গাদের আবাস্থল সম্পর্কে তিনি বলেন, এখানে যে শেল্টার আছে সেখানে ক্লাস্টার করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে সেখানে ৩০৬ জন রোহিঙ্গাকে রাখা হয়েছে। এরা প্রত্যেকে অবৈধপথে মালয়েশিয়া পাড়ি দিচ্ছিলেন। সাগরে ভাসতে ভাসতে তাদের অবস্থা খুবই খারাপ হয়েছিল। কিন্তু কোথাও ভিড়তে পারছিলেন না। পরে বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ সরকার তাদের আশ্রয় দেয়। এদের মধ্যে ৯৭ জন পুরুষ, নারী ১৭৬ জন এবং শিশু ৩৩। তাদের অনেক নারী ইতোমধ্যে সেলাই কাজে অংশ নিচ্ছেন।

উল্লেখ্য, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জন্য নির্মিত ভাসানচরের অস্থায়ী আবাসস্থল পুরোপুরি প্রস্তুত হয়েছে। মৌলিক সুবিধা নিয়ে এখানে প্রায় লাখ খানেক রোহিঙ্গাকে স্থানান্তর করা হবে। প্রকৃতির অকৃত্রিম দান জল ও সবুজ গাছগাছালি বেষ্টিত নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার আওতাধীন দ্বীপটি এখন পরিকল্পিত বাসস্থানের বাস্তব উদাহরণ, যা দৃষ্টিনন্দনও বটে। এখানে কাজের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের বিনোদনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। যাতে সেখানে তারা হতাশ না হয়।

প্রকল্পটিতে যাতে এক লাখ এক হাজার ৩৬০ জন শরণার্থী বসবাস করতে পারেন সেই ব্যবস্থার আলোকে সেখানে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি গৃহে, প্রতি পরিবারের চারজন করে মোট ১৬টি পরিবার বসবাস করতে পারবে। এছাড়া প্রতিটি ক্লাস্টারের জন্য দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে আশ্রয় নেয়ার জন্য তৈরি শেল্টার স্টেশনে স্বাভাবিক সময়ে ২৩টি পরিবার বসবাস করতে পারবে।

এ হিসাবে ক্লাস্টারের ১২টি হাউজে মোট ৭৬৮ জন এবং একটি শেল্টার স্টেশনে মোট ৯২ জনসহ মোট ৮৬০ জন সদস্য বসবাস করতে পারবেন। প্রতিটি হাউজের একপ্রান্তে বসবাসকারী পরিবারের নারী-পুরুষের জন্য আলাদা গোসলখানা, শৌচাগার ও রান্নাঘরও রয়েছে।

  • ভাসানচরে ফসল-মাছচাষ-পশুপালন করতে পারবেন রোহিঙ্গারা

    ভাসানচরে ফসল-মাছচাষ-পশুপালন করতে পারবেন রোহিঙ্গারা

  • ভাসানচরে ফসল-মাছচাষ-পশুপালন করতে পারবেন রোহিঙ্গারা

    ভাসানচরে ফসল-মাছচাষ-পশুপালন করতে পারবেন রোহিঙ্গারা

  • ভাসানচরে ফসল-মাছচাষ-পশুপালন করতে পারবেন রোহিঙ্গারা

    ভাসানচরে ফসল-মাছচাষ-পশুপালন করতে পারবেন রোহিঙ্গারা

  • ভাসানচরে ফসল-মাছচাষ-পশুপালন করতে পারবেন রোহিঙ্গারা

    ভাসানচরে ফসল-মাছচাষ-পশুপালন করতে পারবেন রোহিঙ্গারা

  • ভাসানচরে ফসল-মাছচাষ-পশুপালন করতে পারবেন রোহিঙ্গারা

    ভাসানচরে ফসল-মাছচাষ-পশুপালন করতে পারবেন রোহিঙ্গারা

  • ভাসানচরে ফসল-মাছচাষ-পশুপালন করতে পারবেন রোহিঙ্গারা

    ভাসানচরে ফসল-মাছচাষ-পশুপালন করতে পারবেন রোহিঙ্গারা

  • ভাসানচরে ফসল-মাছচাষ-পশুপালন করতে পারবেন রোহিঙ্গারা
  • ভাসানচরে ফসল-মাছচাষ-পশুপালন করতে পারবেন রোহিঙ্গারা
  • ভাসানচরে ফসল-মাছচাষ-পশুপালন করতে পারবেন রোহিঙ্গারা
  • ভাসানচরে ফসল-মাছচাষ-পশুপালন করতে পারবেন রোহিঙ্গারা
  • ভাসানচরে ফসল-মাছচাষ-পশুপালন করতে পারবেন রোহিঙ্গারা
  • ভাসানচরে ফসল-মাছচাষ-পশুপালন করতে পারবেন রোহিঙ্গারা
সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

বাংলাদেশ

বেগুনের গুণে চাষির মুখে হাসি

লালমনিরহাট: এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুনের প্রায় দ্বিগুণ দাম পাচ্ছেন লালমনিরহাটের বেগুনচাষিরা। প্রতি মণ বেগুন ক্ষেতেই এক হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি করতে পেরে ভীষণ খুশি তারা। 

কৃষকরা জানান, গত দুই বছর টানা বৃষ্টিতে অকালে গাছ মরে যাওয়ায় বেগুনে কিছুটা লোকসান গুণতে হলেও এ বছর তা পুষিয়ে লাভবান হচ্ছেন তারা।

গত সপ্তাহে তারা প্রতি মণ বেগুন বিক্রি করেছেন ৮০০ টাকা থেকে এক হাজার টাকায়।

এক সপ্তাহেই তা বেড়ে গেছে ৭০০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা।  

কৃষি বিভাগও বলছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলনের পাশাপাশি চাহিদা ও দাম বাড়ায় বেশ লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। গত দুই বছরের ক্ষতি এবার পুষিয়েও নিতে পারছেন।  

লালমনিরহাটের সবজি এলাকা খ্যাত আদিতমারী উপজেলার বড় কমলাবাড়ি গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে মাঠের পর মাঠ সবজি ক্ষেত দেখা গেছে। এর মধ্যে বেগুনই বেশি। এ বছর চাহিদা বেশি থাকায় বিক্রিতে যেমন ঝামেলা নেই, মুনাফাও তেমনি অনেক বেশি। বেগুনের গুণে তাই হাসি ফুটেছে চাষিদের মুখে। তাদের পাশাপাশি কাজে ব্যস্ত দিনমজুর কৃষিশ্রমিকরাও।

বেগুনের গুণে চাষির মুখে হাসি

এলাকার ব্যবসায়ীরা ক্ষেত থেকেই কিনে সারা দেশে বিক্রি করছেন। সারা দিন গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেগুন কিনে ট্রাকে ভরে রাতেই বিভিন্ন জেলায় পাঠিয়ে দিচ্ছেন। পরদিন সকালে টাটকা বিক্রি করে ওই ট্রাকেই টাকা পাঠাচ্ছেন  সেসব জায়গার ব্যবসায়ীরা।

এদিকে বেগুন চাষে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি এ জনপদের মানুষের আয়ও বেড়েছে। ভাগ্যের পরিবর্তনও করে নিয়েছেন অনেকেই। কিছুদিন আগেও যাদের পেটের ভাত জোটানো নিয়ে চিন্তা ছিল, তারাও এখন সচ্ছল। পাল্টে গেছে জীবন-যাত্রার মানও।  

বড় কমলাবাড়ি গ্রামের বেগুনচাষি আব্দুল গনি বাংলানিউজকে বলেন, ‘গত বছর দুই একর  জমিতে চাষ করেছিলাম। কিন্ত ঘনবৃষ্টিতে গাছ মরে যাওয়ায় তেমন লাভবান হতে পারিনি। এ বছর ৪০/৪৫ হাজার টাকা খরচে এক একর  জমিতে চাষ করেছি। বর্তমানে ক্ষেতেই বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ১৫০০-১৭০০ টাকা দরে। প্রতি সপ্তাহে ২০/২৫ মণ বেগুন বিক্রি করে ২৫/৩০ হাজার টাকা আয় হচ্ছে’।  

আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষাধিক টাকার বেগুন বিক্রির আশাও তার।

বেগুনের গুণে চাষির মুখে হাসি

ভেলাবাড়ি হাজিগঞ্জ এলাকার চাষি দেলোয়ার মাস্টার বাংলানিউজকে জানান, পানি জমে না- এমন উঁচু জমিতে বেগুনের  চারা রোপণ করতে হয়। এরপর সার-কীটনাশক প্রয়োগ ও পরিচর্যা করলে আগাম জাতের বেগুনে লাভবান হওয়া যায়। বাজারে চাহিদা থাকায় বেশ মুনাফা আসছে এ বছর।

স্থানীয় ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন বলেন, ‘সারাদিন ক্ষেত থেকে বেগুন কিনে ট্রাকে ভরে রাতে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন বাজারে পাঠাই। পরদিন সকালে বেগুন বিক্রি হয়ে ট্রাকচালকের মাধ্যমেই টাকা চলে আসে। কোনো ঝামেলা ছাড়াই কয়েক বছর ধরে এ ব্যবসা করছি’।

লালমনিরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, এ বছর ১১০ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের বেগুনের চাষ হয়েছে। মৌসুম চলমান থাকায় রোপণ চলবে আগামী বছরের এপ্রিল পর্যন্ত। গত বছর এ জেলার এক হাজার ৪৭০ হেক্টর জমিতে চাষ করে  ২৬ হাজার ৪৬০ মেট্রিকটন বেগুন উৎপাদিত হয়েছে।

অধিদফতরের উপ-পরিচালক বিধূ ভুষণ রায় বাংলানিউজকে জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর আগাম জাতের বেগুনের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে চাহিদা থাকায় বেশ মুনাফা পাচ্ছেন জেলার বেগুনচাষিরা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

৬০ দিনেই ফলন, লাভবান হবেন আলুচাষিরা

Die EuropŠische Kommission hat Amflora, die gentechnisch optimierte StŠrkekartoffel der BASF, fŸr die kommerzielle Nutzung in Europa genehmigt. Damit kann die Kartoffel fŸr die Erzeugung industrieller StŠrke eingesetzt werden. Amflora, BASF’s genetically optimized starch potato, has been approved by the European Commission for commercial application in Europe. The potato can now be used for the production of industrial starch.

নীলফামারী: শীতের সকালে সূর্যের আলো ফোটার আগেই কৃষকরা ছুটছেন ক্ষেতে। অনেকের হাতে লাঙ্গল আর বগলে আলুবীজের ডালি। মাঠে গিয়ে ষাইটা আলু লাগাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন নারী-পুরুষ-কিশোররা।

বপনের মাত্র ৬০ দিনের মাথায় উঠানো যায় বলে এলাকার মানুষ এ আলুকে ষাইটা বলে চেনেন ও জানেন।

নীলফামারীর ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ, সদর ও সৈয়দপুরের সর্বত্র এখন ষাইটা আলু লাগানোর ধুম পড়েছে।

আমন ধান কাটা-মাড়াই শেষ হতে আরও কয়েকদিন বাকি আছে। এই ফাঁকে উ‍ঁচু ও পরিত্যক্ত জমিতে এ জাতের আলু লাগাচ্ছেন কৃষকেরা।  

আলুটি দেখতে দেশি আলুর মতো, তবে রং লাল। স্বাদ দেশি আলুর মতো হলেও একটু শক্ত। তবে চামড়া খুব নরম।  

সরেজমিনে দেখা গেছে, হাট-বাজার ও গৃহস্থ বাড়ি থেকে এ আলুর বীজ সংগ্রহ করে জমিতে লাগানো ও পরিচর্যার কাজ করছেন কৃষকেরা। বপনের মাত্র ৬০ দিনের মাথায় আলু তুলে বাজারে বিক্রি ও ভালো দাম পেয়ে লাভবান হবেন- এমনটিই আশা তাদের।

নীলফামারী সদর উপজেলার অচিনার ডাঙ্গার কৃষকরা বিঘার পর বিঘা জমিতে ষাইটা আলু লাগাচ্ছেন। পুরুষ কৃষিশ্রমিকরা ৩০০ টাকা, নারীরা ১৭০ টাকা ও কিশোররা ১০০ টাকা দিন হাজিরায় কাজ করছেন।  

কৃষক যতীন চন্দ্র জানান, তিনি দুই বিঘা  জমিতে এ আলুর চাষ করছেন। এ জাতের আলুতে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কম হয়, মোটামুটি ফলনও ভালো হয়। দুই মাস বা তার আগে আলু ওঠায় ভালো দাম পাওয়া যায় বলেও জানান তিনি।

সৈয়দপুর উপজেলার দলুয়া চৌধুরীপাড়ার কৃষক আমিনুল হাসান বলেন, ‘নতুন আলু না ওঠা পর্যন্ত কোল্ডস্টোরেজের আলু খেতে হয়। যা অনেকটা মিষ্টি লাগে, স্বাদও কম। এ কারণে বাড়িতে খাওয়ার জন্য ১০ কাঠা জমিতে ষাইটা আলু লাগিয়েছি। এ আলু আবাদে তুলনামূলকভাবে খরচ অনেক কম। তাই প্রতি বছর ১০ কাঠা থেকে এক বিঘা জমিতে আবাদ করি’।  

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

সবজি চাষে ফিরেছে সচ্ছলতা

বরগুনা: সবজি চাষে সচ্ছল ও স্বাবলম্বী হচ্ছেন সাগর উপকূলীয় জেলা বরগুনার কৃষকেরা। প্রতিনিয়ত দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকা মানুষগুলো এখন প্রায় সারা বছরই নানা জাতের সবজির চাষ করছেন। 

ভরা মৌসুম চলায় ছোট-বড় বাজারগুলো বর্তমানে সবজিতে সয়লাব। জেলার চাহিদা মিটিয়েও পাশের জেলাগুলোতে সবজি বাজারজাত করছেন কৃষকেরা।

গত কয়েক বছর ধরে সদর, আমতলী, বামনা, বেতাগী, পাথরঘাটা ও তালতলী উপজেলার চাষিরা ধানের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ করছেন। সেসব সবজি বিক্রির আয়েই ওইসব এলাকার কৃষকদের সংসারে সচ্ছলতা ফিরে এসেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বরগুনা সদর উপজেলার প্রত্যন্ত ছোট বদরখালী গ্রামের দুই শতাধিক পরিবার ১২ মাস সবজি চাষ করে সচ্ছল ও স্বাবলম্বী হয়েছে।

কৃষকরা জানান, এক একর জমিতে সবজি চাষ করতে ৩০-৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়। ওই জমিতে উৎপাদিত সবজি বাজারজাত করে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ হয়।

সবজি চাষে ফিরেছে সচ্ছলতা

বরগুনা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. তৌহিদ বাংলানিউজকে বলেন, চলতি মৌসুমে জেলার প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ হয়েছে। কৃষি অফিসের তথ্য ও পরামর্শে পতিত জমিতে লাউ, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গাসহ বিভিন্ন মৌসুমী সবজি চাষ করেছেন নারী-পুরুষেরা। এতে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে কৃষক পরিবারগুলো।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

শীতের সবজি ক্ষেতে ঢলের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার স্বপ্ন

ফেনী: সকাল সাড়ে ৭টা। কুয়াশার চাদর ভেদ করে সূর্য সবে উকি দিতে শুরু করেছে। গ্রামের মেঠো পথ প্রায় জনমানবশূন্য। অন্যকোথাও গ্রামের বাসিন্দাদের দেখা না গেলেও, কাকডাকা ভোরেই সবজি ক্ষেতে কৃষকের সরব উপস্থিতি। আগাছা পরিষ্কার, নিড়ানি, চারা গাছের পরিচর্যা ও কীটনাশক প্রয়োগসহ যাবতীয় কাজে কোদাল হাতে বেশ খাটুনি দিয়েই শুরু হয়েছে প্রান্তিক কৃষকদের আজকের দিনটি।

বুধবার (৮ নভেম্বর) সকালে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার আমবাড়ীয়া এলাকায় ফসলের মাঠে কৃষকদের শীতের সবজি চাষের ব্যস্ততার চিত্র এমনই।

কথা হয় মাঠে কর্মরত কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে।

তারা জানান, দফায় দফায় বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে পুরো বছরই লোকসান গুনতে হয়েছে তাদের। তাই এখন মৌসুমের শীতের সবজির উপরেই ভরসা।
সিম ক্ষেত পরির্চযায় ব্যস্ত ষাটোর্ধ এক কৃষক/ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কমআইয়ুব খান নামে এক কৃষক জানান, তিনি মোট ১৫ শতক জমিতে শসা চাষ করেছেন। চাষের শুরু থেকে ফসল ওঠার আগ পর্যন্ত তার খরচ প্রায় ১০ হাজার টাকা। ঠিকমতো ফসল উঠলে ও দাম পেলে এ ক্ষেত থেকেই প্রায় ৫০ হাজার টাকার শসা বিক্রির আশা করছেন তিনি।


ফুলকপি ক্ষেতে কোদাল হাতে কৃষক/ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কমএর কিছু দূর গিয়ে কথা হয় কৃষক সবির হোসেনের সঙ্গে। দুই ছেলেসহ মাঠে কাজ করছেন তিনি। মোট ২৪ শতক জমিতে ফুল কপি চাষ করেছেন। তিনি জানান, গত ১০ অক্টোবর চারা রোপণ করেছেন, প্রতি ১৫ দিন পরপরই নিড়ানি দিয়ে আগাছা পরিষ্কার করে দিতে হয়, নিয়মিত প্রয়োগ করতে হয় কীটনাশক। সবমিলিয়ে তার প্রায় ৩০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। এখান থেকে লাখ টাকা আয়ের আশা প্রকাশ করে সবির হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, কোনো ধরনের দুর্যোগ না হলে ডিসেম্বরের শেষ বা জানুয়ারির শুরুতেই ফসল তোলা সম্ভব হবে।
মাচায় ঝুলছে লাউ/ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কমপুরো এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, এখানে ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, শিম, বেগুন, মূলা, করলা, পটোল, পালং ও লাল শাক, টমেটোসহ রকমারি শীতকালীন সবজি চাষ হচ্ছে। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজ আর সবুজ। যেন সবুজে সবুজে ভরে উঠেছে প্রান্তর। আর এ সবুজের মাঝেই দিন কাটছে কৃষকদের। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দিনমান ব্যস্ততা ফসলের মাঠেই।


মাচায় ঝুলছে শীতের সবজি চিচিঙ্গা/ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কমসবজি চাষ নিয়ে কথা হয় মিরসরাই উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদের সঙ্গে। বাংলানিউজকে তিনি বলেন, এবারের শীত মৌসুমে মিরসরাই উপজেলায় মোট ২ হাজার হেক্টর জমিতে মৌসুমী সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। ইতোমধ্যেই প্রায় ১২শ’ হেক্টর জমিতে সবজি চাষাবাদ শুরু হয়েছে।
বরবটি সিমের ফুল/ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কমবুলবুল আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, সবজি উৎপাদনের জন্য খুবই সম্ভাবনাময় জনপদ মিরসরাই। এ এলাকার সবজি ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যায়। উপজেলার করের হাট, হিঙ্গুলী, জোরারগঞ্জ, দুর্গাপুর, মিরসরাই সদর, খইয়াছড়া ও ওয়াহেদ পুরে বেশি সবজি চাষ হয়।
বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে ফুল কপির চাষ/ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কমতিনি আরো জানান, দফায় দফায় বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ধান চাষে তেমন সুবিধা করতে না পারায় সবজি চাষের দিকেই আগ্রহী কৃষকরা। সবজি চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করে তিনি বলেন, সবজি চাষের জন্য খুব বেশি জমি প্রয়োজন হয় না। মূলধন ও পরিশ্রমও তুলনামূলক কম। একটু সেবা-যত্ন করতে পারলেই সবজি চাষাবাদ করে যেকোনো কৃষক ভাগ্য ফেরাতে পারেন।
জমির আইলেই চাষাবাদ হচ্ছে কলা/ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কমমাঠ পর্যায়ের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সবজি চাষে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে তাদের। তবে এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের অবহেলার কথাও তুলে ধরেছেন তারা। কৃষকদের অভিযোগ, কোনো ধরনের সহযোগিতা করে না উপজেলা কৃষি অফিস।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

বেগুনে ভাগ্যবদল কৃষকের!

বগুড়া: বগুড়া জেলার ১২ উপজেলার সবজিখ্যাত গ্রামগুলোর সিংহভাগ কৃষক আগামজাতের সবজি চাষে আবাদ তালিকার শীর্ষে রেখেছেন বিভিন্ন জাতের বেগুন।

বেগুন চাষে অনেক কৃষকের ভাগ্য বদল হচ্ছে। শুরু থেকেই উৎপাদিত বেগুনের দাম বাজারে ভাল পাচ্ছেন চাষিরা।

সবুজের সমারোহ চারদিকে। মাঠে মাঠে বইছে মৃদু বাতাস।

বাতাসের ভাড়ে ক্ষেতের গাছগুলো একে অপরের গায়ে আঁচড়ে পড়তে চায়। কিন্তু সেটা হয়েও যেন হয় না। কারণ কোদাল, পাচুনসহ আনুষাঙ্গিক কৃষি সামগ্রী নিয়ে কৃষক রয়েছেন মাঠে। ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত সবজির ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকেন কৃষকরা। বেগুনে ভাগ্যবদল কৃষকের, ছবি: আরিফ জাহানসবজিখ্যাত বগুড়া সদর, নন্দীগ্রাম, শাজাহানপুর, শিবগঞ্জ, শেরপুর, গাবতলী উপজেলার কৃষকদের সঙ্গে কথা হলে এমন তথ্য ওঠে আসে।

কৃষক আব্দুল মতিন। নন্দীগ্রাম উপজেলার কাথম বেতগাড়ী গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় জাত কৃষক তিনি।

এ কৃষক বাংলানিউজকে জানান, অন্যের জমি বর্গা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সবজি চাষ করে আসছেন তিনি। সেই ধারাবাহিকতায় এবারো তিনি সাড়ে তিন বিঘা জমিতে ছাপা জাতের বেগুন লাগিয়েছেন।

সবমিলে তার ব্যয় হয়েছে দুই লাখ টাকার মতো। ইতোমধ্যেই তিনি দুই লাখ টাকার অধিক বেগুন বিক্রি করেছেন। আরো অনেক টাকার বেগুন বিক্রি করা যাবে যোগ করেন কৃষক আব্দুল মতিন।

সদর উপজেলার কৃষক রমজান আলী, শেরপুর উপজেলার কৃষক সামছুল আলম বাংলানিউজকে জানান, শীতকালীন সবজি হিসেবে অন্য সবজির পাশাপাশি তারা এবার বেশির ভাগ জমিতে বেগুন চাষ করেছেন। ফলনও ভাল হয়েছে। দামও ভাল পাচ্ছেন। এছাড়া সবজি চাষে ব্যয় অন্যান্য ফসলের চেয়ে কম হয়।

তারা আরো জানান, ক্ষেতের বেগুন উঠানোর শুরুর দিকে পাইকারি বাজারে প্রতিকেজি বেগুন ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি করছেন। বর্তমানে একই বেগুন ৪০-৪৫ টাকা কেজি হিসেবে পাইকারী দরে বিক্রি করছেন। এতে বেগুন চাষিরা এবার ভাল লাভবান হবেন। বেগুন তাদের ভাগ্যের চাকা অনেকটা ঘুরিয়ে দিয়েছে বলেও জানান এসব কৃষকরা। বেগুনে ভাগ্যবদল কৃষকের, ছবি: আরিফ জাহানজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ওবায়দুর রহমান মণ্ডল বাংলানিউজকে জানান, শীতকালীন হিসেবে এ জেলায় বিপুল পরিমাণ জমিতে সবজি চাষ করা হয়েছে। এরমধ্যে বেগুন ও মরিচের জমির পরিমান বেশি। এ দু’টো সবজির দাম কৃষক ভাল পেয়েছেন বা পাচ্ছেন। বেগুন ও মরিচ চাষিরা ব্যাপকভাবে লাভবান হচ্ছেন বলেও জানান কৃষি বিভাগের । ঊর্ধ্বতন এই কর্মকর্তা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com