আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

রিকল্পিত সবুজায়নের ফলে দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠেছে মেঘনা নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় জেগে ওঠা ভাসানচর। সেখানে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সাময়িকভাবে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হলেও এর বনায়নের লক্ষ্য সুদূরপ্রসারী। এ জন্য সেখানে উপকূলীয় গাছ ছাড়াও দেশীয় নানা ফলের গাছ লাগানো হয়েছে এবং হচ্ছে। ঝড়-জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষার জন্য দ্বীপের চারদিকে বনায়নের মাধ্যমে উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী তৈরি করা হচ্ছে।

সম্প্রতি ভাসানচর গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে প্রশস্ত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল তৈরি করা হচ্ছে, যা ঘূর্ণিঝড়কালীন সমুদ্রের ঢেউয়ের প্রকোপ থেকে দ্বীপের ভূমি রক্ষা করবে। এ প্রকল্পটি সরকার প্রণীত ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। সেখানে প্রয়োজন ছাড়া কোনো গাছ কাটা হয়নি। ফলে এখনও বিস্তৃত বনাঞ্চল রয়েছে।

এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক কমোডর আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী জাগো নিউজকে জানান, ভাসানচর মোট ১৩ হাজার একরের হলেও মাত্র এক হাজার ৭০০ একর জমির চারদিকে বাঁধ দিয়ে ৪৩২ একরের ওপর আবাসন ও অন্যান্য স্থাপনা করা হয়েছে। ৩৫২ একর জমি নৌবাহিনীর ফরওয়ার্ড বেইজের জন্য নির্ধারিত রয়েছে। ৯৩২ একর ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের জন্য ফাঁকা রাখা হয়েছে। ফলে এখন এক লাখ রোহিঙ্গাকে এখানে স্থানান্তরের পর চাইলে পুরো ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে ধীরে ধীরে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা সম্ভব। এসব করা হয়েছে ভাসানচরের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষা করে। ঘূর্ণিঝড়ের জন্য তৈরি শেল্টারে ২৬০ কিলোমিটার গতির ঝড়েও অটুট থাকবে।

সেখানে বৃক্ষরোপণের জন্য একটি নার্সারিও গড়ে তোলা হয়েছে। নার্সারিতে আমলকী, পেয়ারা, মেহগনি, কলা, লেবু, আমড়া, রেইনট্রি, চিকরাশি, বেল, আম, জাম্বুরা, মালটা ও বহেরা গাছ রয়েছে। এছাড়া ড্রাগন ফলের বাগান। সেখানে ড্রাগনও ধরেছে। লাগানো হয়েছে প্রচুর নারিকেল গাছ। রোহিঙ্গাদের জন্য নির্মিত প্রতিটি আবাসিক ভবনের সামনে লেবুর গাছ লাগানো হয়েছে। রয়েছে তুলসী গাছও।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সেখানকার নার্সারিতে কর্মরত পিরোজপুরের আবদুল কাদের শেখ জাগো নিউজকে বলেন, এ পর্যন্ত ৭০ হাজার গাছ লাগিয়েছি। বেড়িবাঁধ রক্ষার জন্য গোলপাতা, কেওড়া লাগিয়েছি। বাঁধের ভেতর কমলা, মাল্টা, পেয়ারা, ড্রাগন লাগানো হয়েছে। প্রথম প্রথম এখানে গাছ হতো না। কিন্তু বাঁধ দেয়ার পর আর লবণাক্ত পানি ঢুকতে পারে না। ধীরে ধীরে মাটিতে থাকা লবণ বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে যাচ্ছে। এ জন্য তিন বছর ধরে ধান চাষও ভালো হচ্ছে।


সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য চলমান প্রকল্প শুধু সেপটিক ট্যাংক ও সোকঅয়েল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। দ্বীপটির ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় এবং মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে পরিবেশবান্ধব করার লক্ষ্যে সেপটিক ট্যাংক ও সোকঅয়েলকে সমন্বয় করে যুগোপযোগী বায়োগ্যাস প্লান্ট অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব বায়োগ্যাস প্লান্টে সীমিত পরিসরে রান্নার জন্য জ্বালানি গ্যাস এবং বাই-প্রোডাক্ট হিসেবে কমপোস্ট সার পাওয়া যাবে। এছাড়া পরিবেশবান্ধব গ্রিন ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ও কমপোস্ট প্রসেসিং ইউনিট নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেখানে আছে জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার মান মেনে ভূগর্ভস্থ পানি এবং পুকুর, হ্রদ ও খালের ব্যবস্থা।

প্রাথমিকভাবে সেখানে ৩০৬ জন রোহিঙ্গাকে রাখা হয়েছে। এরা প্রত্যেকে অবৈধপথে মালয়েশিয়া পাড়ি দিচ্ছিলেন। সাগরে ভাসতে ভাসতে তাদের অবস্থা খুবই খারাপ হয়েছিল। কিন্তু কোথাও ভিড়তে পারছিলেন না। পরে বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ সরকার তাদের আশ্রয় দেয়। এদের মধ্যে ৯৭ জন পুরুষ, নারী ১৭৬ জন এবং শিশু ৩৩। তাদের অনেক নারী ইতোমধ্যে সেলাই কাজে অংশ নিচ্ছেন।

উল্লেখ্য, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জন্য নির্মিত ভাসানচরের অস্থায়ী আবাসস্থল পুরোপুরি প্রস্তুত। মৌলিক সুবিধা নিয়ে এখানে প্রায় লাখ খানেক রোহিঙ্গাকে স্থানান্তর করা হবে। প্রকৃতির অকৃত্রিম দান জল ও সবুজ গাছগাছালি বেষ্টিত নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার আওতাধীন দ্বীপটি এখন পরিকল্পিত বাসস্থানের বাস্তব উদাহরণ, যা দৃষ্টিনন্দনও বটে। এখানে কাজের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের বিনোদনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। যাতে সেখানে তারা হতাশ না হয়।

কল্পটিতে যাতে এক লাখ এক হাজার ৩৬০ জন শরণার্থী বসবাস করতে পারেন সেই ব্যবস্থার আলোকে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি গৃহে, প্রতি পরিবারের চারজন করে মোট ১৬টি পরিবার বসবাস করতে পারবে। এছাড়া প্রতিটি ক্লাস্টারের জন্য দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে আশ্রয় নেয়ার জন্য তৈরি শেল্টার স্টেশনে স্বাভাবিক সময়ে ২৩টি পরিবার বসবাস করতে পারবে।

এ হিসাবে ক্লাস্টারের ১২টি হাউজে মোট ৭৬৮ জন এবং একটি শেল্টার স্টেশনে মোট ৯২ জনসহ মোট ৮৬০ জন সদস্য বসবাস করতে পারবেন। প্রতিটি হাউজের একপ্রান্তে বসবাসকারী পরিবারের নারী-পুরুষের জন্য আলাদা গোসলখানা, শৌচাগার ও রান্নাঘরও রয়েছে।

কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে স্থানান্তরিত বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা চাইলে অর্থনৈতিক নানা কাজে অংশ নিতে পারবেন। সেখানে বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অসহায় রোহিঙ্গারা যাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে হতাশা কাটিয়ে উঠতে পারেন এবং তারা যাতে দক্ষ কর্মী হয়ে মিয়ানমার ফিরে যেতে পারেন সে জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার।

ভাসানচরে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে বসবাসকারী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধ্যতামূলক নয়। তারা অন্য শরণার্থীদের মতো কার্ডের মাধ্যমে রেশন ও খাবার পাবেন। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক এবং রোহিঙ্গারা চাইলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আশ্রয়ণ-৩ এর প্রকল্প পরিচালক কমোডর আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, আমরা প্রকল্পে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা রেখেছি। মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। রোহিঙ্গাদেরও মতামত নেয়ার বিষয় আছে।

ফসল

ফসল রক্ষা বাঁধে ইউএনওর অভিযান, দুটি নিষিদ্ধ জাল জব্দ

সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলার চন্দ্র সোনার থাল হাওরের হুলাসখালী ফসল রক্ষা বাঁধে অভিযান চালিয়ে বাঁধটির কেটে দেওয়া স্থান থেকে দুটি নিষিদ্ধ ভিম জাল জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল শনিবার রাত পৌনে আটটার দিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মুনতাসির হাসান।

উপজেলা প্রশাসন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চন্দ্র সোনার থাল হাওরের হুলাসখালী ফসল রক্ষা বাঁধটি সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীনে আছে। প্রায় চার সপ্তাহ আগে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে রাতের আঁধারে এই ফসল রক্ষা বাঁধটির ১৫ থেকে ২০ ফুট স্থান কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা। এর সপ্তাহখানেক পর থেকে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল বাঁধের কাটা স্থানে লোকজন নিয়োজিত করে ভিম জাল পেতে সেখান থেকে লাখ লাখ টাকার মাছ শিকার করে আসছিল।বিজ্ঞাপন

অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ কেটে ফেলার কারণে আসন্ন বোরো মৌসুমে জমিতে সেচকাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকেরা। এ অবস্থায় গতকাল রাত পৌনে আটটার দিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, থানা-পুলিশ ও পাউবোর এক উপসহকারী প্রকৌশলীকে নিয়ে ওই বাঁধে অভিযানে যান ইউএনও মো. মুনতাসির হাসান। অভিযানে গিয়ে সেখান থেকে তিনি দুটি ভিম জাল জব্দ করেন। এ ছাড়া ওই ফসল রক্ষা বাঁধের অন্য কোনো স্থান মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে যাতে কেউ কেটে না দিতে পারে, সে জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) পক্ষ থেকে গ্রাম পুলিশ দিয়ে বাঁধ রক্ষায় পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ওই বাঁধ থেকে জব্দ করা দুটি ভিম জাল উপজেলার মহদীপুর লঞ্চঘাটে এনে ওই দিন রাত সাড়ে আটটার দিকে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এ সময় ইউএনও ছাড়া অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউপির চেয়ারম্যান আমানুর রাজা চৌধুরী, সুনামগঞ্জ পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী ও উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যসচিব মো. ইমরান হোসেন, ধরমপাশা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোহেল মাহমুদ প্রমুখ।

সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউপির চেয়ারম্যান আমানুর রাজা চৌধুরী বলেন, ‘মাছ শিকারের জন্য এই বাঁধের অন্য কোনো স্থান যাতে কেউ কেটে দিতে না পারে, সে জন্য আমি শনিবার রাত থেকে পালাক্রমে গ্রাম পুলিশ দিয়ে বাঁধ রক্ষায় পাহারার ব্যবস্থা করেছি।’

উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্যসচিব এবং সুনামগঞ্জ পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ইমরান হোসেন বলেন, ‘স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর কাছ থেকে বাঁধ কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করছি। এ নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ইউএনও মো. মুনতাসির হাসান প্রথম আলোকে বলেন, এখানকার অধিকাংশ মানুষই হাওরের একমাত্র বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল। ফসল রক্ষা বাঁধ কেটে সরকারি সম্পদ বিনষ্ট করার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

ধান কাটা উৎসব

অগ্রহায়ণ মাস। দেশজুড়ে চলছে নবান্ন উৎসব। ধান কেটে বাড়ি নিতে কৃষিশ্রমিকেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। বাড়ির উঠানে চলছে মাড়াইয়ের কাজ। করোনার এই মহামারিতে আশানুরূপ ধান পেয়ে কৃষকেরা দারুণ খুশি। ঘরে ঘরে এখন নবান্নের আনন্দ। সাজ সাজ রব পাড়াগাঁয়ে। সারা দেশ থেকে ফটোসাংবাদিকদের ক্যামেরায় তারই চিত্র।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

হাওরে পানি কমছে ধীরে, বীজতলা তৈরি নিয়ে শঙ্কা

ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে পানি। সম্প্রতি খালিয়াজুরি উপজেলার গোবিন্দডুবি হাওরে
ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে পানি। সম্প্রতি খালিয়াজুরি উপজেলার গোবিন্দডুবি হাওরে

নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে ধীরগতিতে পানি কমার কারণে বীজতলা তৈরি করতে পারছেন না কৃষকেরা। এতে বোরো আবাদের চাষ দেরিতে শুরু হতে পারে। এ কারণে ফলন কমে যাবে। আবার আগাম বন্যায় ফসলহানিও হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।

কৃষকেরা জানান, হাওরপারের মানুষের একমাত্র ফসল বোরো। এর ওপর কৃষকদের সারা বছরের সংসার খরচ, চিকিৎসা, আচার-অনুষ্ঠান ও সন্তানদের পড়ালেখা নির্ভর করে। কিন্তু এবার পানি নিষ্কাশনের ধীরগতির কারণে এখনো বীজতলা তৈরি করা যাচ্ছে না। অন্য বছর নভেম্বরের শেষ দিকে বীজতলা তৈরি করে বপন করা হয়। ডিসেম্বরের শেষের দিকে খেতে চারা রোপণ শুরু হয়। কিন্তু এ বছর দেরি হতে পারে। সঠিক সময়ে বীজ বপন ও চারা রোপণ করতে না পারলে আগাম বন্যায় ফসলহানির আশঙ্কা থাকে।বিজ্ঞাপন

খালিয়াজুরীর বোয়ালি গ্রামের বিধান সরকার বলেন, দেরিতে বীজ বপন করলে জমিতে চারা লাগাতেও সময় লাগবে। এ সময় শীত চলে আসবে। ভালো চারা না হলে ভালো ফসলও হয় না। আবার ফসল পাকতে দেরি হওয়ায় আগাম বন্যায় ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, হাওরে ২৭১ দশমিক ৮৪ কিলোমিটার ডুবন্ত (অস্থায়ী) বাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে খালিয়াজুরীতে রয়েছে ১৮১ কিলোমিটার। এসব বাঁধের ওপরও কৃষকদের প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল নির্ভর করে। এই ফসল রক্ষা বাঁধগুলো উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) মেরামত করে থাকে। এবার পানি না কমায় বাঁধের জরিপকাজ শুরুতে দেরি হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কুড়িগ্রামে কৃষকের স্বপ্ন দেখাচ্ছে ভাসমান বীজতলা

কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে তিন দফা বন্যায় আমন বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নতুন উদ্যোমে মাঠে নেমেছে বন্যাকবলিত এলাকার কৃষকরা। পানি নামার পর জমি চাষ, বীজ সংগ্রহ ও বপনে বাড়তি অর্থ যোগানে কৃষক যখন দিশেহারা, তখন পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার।

সরকারি উদ্যোগ ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় বন্যাপ্লাবিত এলাকাসহ ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিউনিটি বীজতলা, ভাসমান বীজতলা ও বাড়ির ভিতর প্লেট পদ্ধতিতে বিকল্প আমন বীজতলা কৃষকদের ক্ষতি পোষাতে স্বপ্ন দেখাচ্ছে।  

কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় কুড়িগ্রামে ১৭ হাজার হেক্টর জমির ফসল বিনষ্ট হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার কৃষক। সরকারিভাবে কৃষিতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪০ কোটি টাকা। এরমধ্যে ২৫ হাজার ৮১০ জন কৃষকের আমন বীজতলার ক্ষতি হয়েছে ১ হাজার ৪০৯ হেক্টর জমির।  

আমন বীজতলার ঘাটতি মোকাবিলায় সরকারিভাবে ১০৫টি কমিউনিটি বীজতলা, ১১২টি ট্রে বীজতলা এবং শতাধিক ভাসমান বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। যার মাধ্যমে ২১ হাজার কৃষক বিনামূল্যে ২০ হাজার ৯২২ বিঘা জমিতে আমন চাষ করার সুযোগ পাচ্ছে।  

এদিকে জেলায় এবার আমনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে। এখন পর্যন্ত অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা ৯৪ হাজার ৫৩৫ হেক্টর। আমন বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা ৬ হাজার ৩ হেক্টর হলেও বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়ে আমন বীজতলা তৈরি করায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে ৭ হাজার ৪৭৫ হেক্টর জমিতে।  

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের লালদীঘির পাড়ের কৃষক মতিয়ার রহমান বাংলানিউজকে জানান, বাড়ির পাশের বীজতলা বন্যার পানিতে ডুবে যায়। সেসময় কৃষি বিভাগের পরামর্শে তাদের কাছ থেকে ৬ কেজি বিআর-২২ নাভিজাত বীজ ও ৫২টি ট্রে বাড়িতে নিয়ে আসেন। তখন চারদিকে থৈ থৈ পানি, বীজ বপনের কোনো জায়গা নেই। বাড়ির ভিতরের উঠোনে ট্রে-তে বীজতলা স্থাপন করেন। ১৫ দিন বয়সী চারা দুই বিঘা জমিতে বপন করেন। কৃষি বিভাগ থেকে রাইচ ট্রান্সপ্ল্যান্টার মেশিন দিয়ে শতকে ১০ টাকা হারে ২ বিঘা জমিতে মাত্র ৩৩০ টাকা খরচেই রোপণ শেষ।

শুধু মতিয়ারই নন, বন্যাকবলিত এলাকার অনেক কৃষকই এখন কমিউনিটি বীজতলা, ভাসমান বীজতলা ও বাড়ির ভিতর প্লেট পদ্ধতিতে বিকল্প আমন বীজতলা থেকে চারা সংগ্রহ করে রাইচ ট্রান্সপ্ল্যান্টার মেশিনের মাধ্যমে রোপণ করে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছে।

কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান প্রধান বাংলানিউজকে বলেন, আমন আবাদ যাতে বিঘ্নিত না হয় এজন্য বন্যা পরবর্তী কৃষি পুনর্বাসন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। চলতি বছর জেলায় আমন চারার ঘাটতি মোকাবিলায় ১০৫টি কমিউনিটি বীজতলা, ১১২টি ট্রে বীজতলা এবং শতাধিক ভাসমান বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। যা বিনামূল্যে কৃষকের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। ফলে বীজতলার ঘাটতি পূরণ করতে পারবে কৃষক।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

করোনায় কপাল খুলেছে নওগাঁর লেবু চাষিদের

নওগাঁ: এখনও পর্যন্ত করোনার কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি। ভিটামিন সি শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। আর সে কারণে লেবু খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। বলছেন শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি খেতে হবে। আর তাই করোনা সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে লেবুর চাহিদা।

শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে ভিটামিন সি যুক্ত লেবুর চাহিদা বাড়ায় দামও বেড়েছে অনেকগুন।  

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বৈকুণ্ঠপুর গ্রামের শরিফুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, ৭ বিঘা জমিতে ১২ মাস জাতের লেবু চাষ করেছি।

করোনাকালের পরিস্থিততে গেলো দুই মাসেই বাগান থেকে লেবু বিক্রি করেছি প্রায় ১৪ লাখ টাকার।  

তিনি বলেন, লেবু চাষে তুলনামূলক পানি সেচ তেমন একটা লাগে না। সারসহ পরিচর্যা আর শ্রমিক খরচ খুবই কম। তাই বরেন্দ্র ভূমিতে ক্রমেই বাড়ছে লেবুর বাগান। এ বছর লেবু বিক্রিতে চাষিদের কোনো সমস্যা হয়নি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকারি ব্যবসায়ীরা জমিতে এসেই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন লেবু। এখন প্রতিটি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে সর্বচ্চ ৭ টাকা পিস পর্যন্ত।  

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে এ মৌসুমে সবচেয়ে ভালো ফলন ও দাম পাচ্ছেন নওগাঁর লেবু চাষিরা। জেলাজুড়ে এ বছর ৩ জাতের লেবু চাষ হয়েছে। প্রায় দেড়শ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে লেবু। লেবুর আবাদ বাড়াতে এ বছর থেকে আলাদা প্রকল্প হাতে নিয়েছে জেলা কৃষিবিভাগ। দেওয়া হচ্ছে প্রশিক্ষণ ও অর্থিক সহযোগিতা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com