আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বিশ্ব

ভারতে কৃষকদের পাশে বিরোধী দল

কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলনরত কৃষকদের পাশে গিয়ে দাঁড়ালেন বিরোধী দলের নেতারা। সংসদ ভবনের অদূরে যন্তর মন্তরের ধরনাস্থলে শুক্রবার দুপুরে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধী নেতারা উপস্থিত হন। আন্দোলনরত কৃষকদের তাঁরা বলেন, ‘কালা কৃষি আইন’ প্রত্যাহারের দাবিতে তাঁরা কৃষকদের পাশে আছেন।বিজ্ঞাপনবিজ্ঞাপন

সংসদীয় অধিবেশন চলাকালে যন্তর মন্তরে প্রতিদিন ২০০ কৃষককে বিক্ষোভ সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে দিল্লি সরকার। কৃষকেরা সেখানে ‘কিষান সংসদ’ চালাচ্ছেন।

শুক্রবার তাঁদের সেই ‘সংসদে’ মোদি সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়। যন্তর মন্তরে কৃষকদের সমাবেশে রাহুল বলেন, ‘সংসদ কীভাবে সরকার অচল রেখেছে আপনারা জানেন। কৃষি আইন বা পেগাসাস-কাণ্ড কোনো আলোচনাতেই রাজি নয়। কালা আইন প্রত্যাহারে আমরা আপনাদের পাশে থাকার বার্তা নিয়ে এসেছি।’বিজ্ঞাপন

অন্য দিনের মতো আজও সংসদীয় অধিবেশনে অচলাবস্থা দেখা যায়। দুটি কক্ষের অধিবেশন দফায় দফায় মুলতবি হয়ে যায়। সেই অবসরে বেলা একটা নাগাদ বিরোধী নেতারা হাজির হন যন্তর মন্তরে।

সংসদে ঐক্যের কথা বললেও যন্তর মন্তরে যাওয়া নিয়ে বিরোধীদের মধ্যে অনৈক্যের সুর স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, অধীর চৌধুরীর সঙ্গে বিভিন্ন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা থাকলেও তৃণমূল কংগ্রেস, বহুজন সমাজ পার্টি ও আম আদমি পার্টির নেতারা উপস্থিত ছিলেন না। যদিও গতকাল সকালে ১৪ দলের সংসদীয় নেতাদের বৈঠকে তৃণমূল নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সেই বৈঠকেই দুপুরে কৃষক সমাবেশে যাওয়া ঠিক হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও তৃণমূলের তিন সাংসদ দোলা সেন, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় ও অপরূপা পোদ্দার আলাদাভাবে সকালেই যন্তর মন্তরে হাজির হয়ে কৃষকনেতাদের সঙ্গে কথা বলে চলে আসেন। কৃষকনেতাদের তাঁরা বলেন, তাঁদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেপ্টেম্বর মাসে আবার দিল্লি আসবেন। তখন তিনি দিল্লি সীমান্তে গিয়ে আন্দোলনকারী কৃষকনেতাদের সঙ্গে কথা বলবেন।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ইদানীং বিরোধী আন্দোলনের পুরোভাগে চলে এসেছেন। বিরোধী ঐক্য স্থাপনে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছেন। সম্প্রতি দিল্লি এসে সেই লক্ষ্যে সোনিয়া গান্ধী-রাহুলের সঙ্গে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠক করলেও এটা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে যে বিরোধী জোটের নেতৃত্ব রাহুলের হাতে ছেড়ে দিতে তাঁর অনীহা এখনো কাটেনি। সেই কারণেই রাহুলের বিভিন্ন উদ্যোগে তৃণমূল কংগ্রেসের বার্তা অন্য রকম।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

বিশ্ব

মহাকাশ গবেষণা: সৌরজগতের বাইরে জীবনের উপযোগী কিছু গ্রহের সন্ধান, সেসব গ্রহ সম্পর্কে কী জানা যায়

সৌরজগতের বাইরে নতুন কিছু গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা যেখানে জীবনের উপযোগী পরিবেশ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা খুব সম্প্রতি পৃথিবী থেকে বহু আলোক-বর্ষ দূরের এসব গ্রহের খোঁজ পেয়েছেন।

সদ্য আবিষ্কৃত এসব গ্রহকে বলা হয় ‘হাইসিয়ান এক্সোপ্ল্যানেট’।

সৌরজগতের বাইরে অন্যান্য নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে যেসব গ্রহ আবর্তিত হচ্ছে সেগুলোকে বলা হয় এক্সোপ্ল্যানেট।

আর হাইসিয়ান কথাটি এসেছে হাইড্রোজেন এবং ওশান- এই শব্দ দুটোর সংমিশ্রণে। অর্থাৎ যেসব গ্রহে হাইড্রোজেন ও সমুদ্র আছে সেসব গ্রহকে বলা হয় হাইসিয়ান প্ল্যানেট।

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার হিসেব অনুসারে এখনও পর্যন্ত চার হাজারের মতো এক্সোপ্ল্যানেটের সন্ধান পাওয়া গেছে।

নাসার বিজ্ঞানী ড. অমিতাভ ঘোষ বলেন, “প্রত্যেকটা সৌরমণ্ডলে প্রায় এক ট্রিলিয়ন সূর্য আছে। আর এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে সৌরজগৎ আছে প্রায় এক ট্রিলিয়ন। ফলে এই মহাবিশ্বে এক ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়নের মতো সূর্য আছে। অংকের হিসেবে এটা লিখতে গেলে ১ লিখে তার পাশে ২৪টি শূন্য বসাতে হবে। ফলে এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড কতো বৃহৎ সেটা সহজেই অনুমান করা যাচ্ছে।”

এসব সূর্যকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে আরো অগণিত গ্রহ। এগুলোকে বলা হয় এক্সোপ্ল্যানেট।

রাতের আকাশে মিল্কি ওয়ে।
ছবির ক্যাপশান,রাতের আকাশে মিল্কি ওয়ে।

সৌরজগতের বাইরের এসব গ্রহ সম্পর্কে এখনও খুব বেশি কিছু জানা সম্ভব হয়নি। হাবল টেলিস্কোপ দিয়ে কিছু কিছু এক্সোপ্ল্যানেট শুধু দেখা যায়।

কোনো গ্রহ যখন সূর্যের সামনে দিয়ে যায় তখনই সেগুলোর অস্তিত্ব সম্পর্কে জানা যায়। আরো হয়তো জানা যায় যে এসব গ্রহ কতো দূরে অবস্থান করছে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানে এধরনের গ্রহ নিয়ে ১৯৯০-এর দশক থেকে গবেষণা শুরু হয়েছে।

ড. ঘোষ বলেন, “আমাদের সৌরজগতে যেসব গ্রহ আছে সেগুলোতে হয় মিশন পাঠানো হয়েছে, কিম্বা সেগুলোর পাশ দিয়ে আমরা উড়ে গেছি। তাই এগুলো সম্পর্কে কিছুটা হলেও জানা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে খুব কমই জানা যায়। তবে এসব গ্রহ কী দিয়ে তৈরি, সেখানে কী ধরনের উপাদান আছে – এসব বিষয়ে ধারণা করা যেতে পারে।”

“তা না হলে শুধু ভিজ্যুয়ালি দেখা যাবে যে একটা কিছু আছে।”

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, তাদের খোঁজ পাওয়া এসব গ্রহ হচ্ছে হাইসিয়ান প্ল্যানেট অর্থাৎ এসব গ্রহ সমুদ্র দিয়ে পরিবেষ্টিত এবং সেখানকার বায়ুমণ্ডলে প্রচুর পরিমাণে হাইড্রোজেনের উপস্থিতি রয়েছে।

যেহেতু এসব গ্রহে সমুদ্র আছে সেকারণে কি সেখানে জীবনের সম্ভাবনা আছে?

মহাকাশ বিজ্ঞানী অমিতাভ ঘোষ বলছেন, “জীবনের জন্য জলের প্রয়োজন, জল ছাড়া জীবন হয় না- এটা আমাদের একটা হাইপোথেসিস। কিন্তু এই হাইপোথেসিস ভুলও হতে পারে। কারণ আমরা একটা জীবনের বাইরে অন্য কোনো জীবন দেখিনি।”

“যেহেতু ওসব গ্রহে জল আছে, আমরা বলতে পারি যে সেখানে বসবাসের উপযোগী পরিবেশ আছে। অর্থাৎ যদি জীবন থাকে সেটা বাঁচতে পারবে। মারা যাবে না,” বলেন তিনি।

মেসিয়ের নামের একটি গ্যালাক্সি।
ছবির ক্যাপশান,মেসিয়ের নামের একটি গ্যালাক্সি।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীতে জীবনের বেশিরভাগই ছিল সমুদ্রে। ৪০০ মিলিয়ন বছর আগে সমুদ্র থেকে এই জীবন ডাঙায় উঠে আসে।

“সমুদ্রের তলদেশে যেখানে সূর্যের আলো গিয়ে পৌঁছায় না সেখানেও জীবন থাকতে পারে। সেখানে ফটো-সিনথেটিক জীবনের উপযোগী পরিবেশ নেই। কিন্তু আরেক রকমের জীবন থাকতে পারে যারা রাসায়নিক বিক্রিয়া থেকে জীবনের শক্তি অর্জন করতে পারে।”

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, তাদের আবিষ্কৃত বেশিরভাগ গ্রহই আকারে পৃথিবীর চেয়ে বড় এবং আরো বেশি উষ্ণ।

এই বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এসব গ্রহের কোনো কোনোটির একপাশে স্থায়ীভাবে অন্ধকার। সেখানে কখনো দিন হয় না। কিন্তু অন্যপাশে স্থায়ীভাবে আলোকিত। অর্থাৎ গ্রহটির ওই অংশে কখনো রাত হয় না। এর পেছনে কারণ হচ্ছে- এসব গ্রহ পৃথিবী যেমন নিজেই নিজের চারদিকে ঘোরে, সেরকম ঘোরে না।

কিন্তু এই দুটো অংশ বাদে যে অংশটি ছায়া ছায়া, অর্থাৎ যেখানে আলো এবং অন্ধকার দুটোই আছে, সেখানে জীবনের সন্ধান পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। কারণ, এগুলো তাদের যে নক্ষত্রের চার পাশে আবর্তিত হয়, তার খুব কাছাকাছি।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানী ড. নিক্কু মধুসুধান। তিনি বলেছেন, তাদের এই আবিষ্কারের ফলে মহাকাশের অন্যত্রও যে জীবন থাকতে পারে সেবিষয়ে নতুন এক সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে।

এর আগে সৌরজগতের বাইরে আরো যেসব গ্রহ বা এক্সোপ্ল্যানেটের সন্ধান পাওয়া গেছে সেগুলোতে হাইড্রোজেন-সমৃদ্ধ বায়ুমণ্ডলে চাপ এবং তাপমাত্রা খুব বেশি বলে ধারণা করা হয়। ফলে সেখানে প্রাণের অস্তিত্ব থাকা কঠিন। কিন্তু সম্প্রতি যেসব গ্রহের সন্ধান পাওয়া গেছে, বিজ্ঞানীরা বলছেন, সেগুলোতে যে ধরনের পরিবেশ রয়েছে সেটা জীবনের উপযোগী।

গবেষকরা বলছেন, এসব গ্রহ পৃথিবীর চেয়ে আড়াই গুণ বড় এবং এসবের তাপমাত্রা ২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো। তবে সেসব গ্রহে যেসব সমুদ্র আছে তার পরিবেশ অনেকটা পৃথিবীর সমুদ্রের মতোই। তাই যেসব এক্সোপ্ল্যানেটে সমুদ্র আছে সেগুলোতে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা অস্বীকার করা যাবে না।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এসব এক্সোপ্ল্যানেট কতো দূরে?

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এগুলোর অবস্থান আমাদের এই পৃথিবী থেকে ৩৫ থেকে ১৫০ আলোক-বর্ষ দূরে।

হাবল টেলিস্কোপ দিয়ে সৌরজগতের বাইরের গ্রহগুলোকে দেখা যায়।
ছবির ক্যাপশান,হাবল টেলিস্কোপ দিয়ে সৌরজগতের বাইরের গ্রহগুলোকে দেখা যায়।

শত শত বছর ধরে মানুষ যে প্রশ্নটির উত্তর খুঁজছে তা হলো- এই মহাবিশ্বে আমরাই কি একমাত্র মানুষ, নাকি অন্য কোনো গ্রহে আমাদের মতো আরো কেউ আছে!

থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যদি কেউ না থাকে তাহলে বলতে হবে এই পৃথিবীতে মানুষের আবির্ভাব হচ্ছে মহাজাগতিক এক দুর্ঘটনা। কিন্তু যদি কেউ থাকে তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে তাদের সঙ্গে আমাদের কখনও দেখা হয়নি কেন!

নাসার বিজ্ঞানী ড. অমিতাভ ঘোষ বলছেন, মহাকাশ যানের সীমাবদ্ধতা এবং মানুষের আয়ু এর একটা বড় কারণ।

“আমরা যেসব মহাকাশ যান তৈরি করেছি সেগুলো এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের আকারের তুলনায় খুবই ধীর গতির। ১৯৭৬ সালে ভয়েজারের যাত্রা শুরু হয়। এটি এখন সৌরজগতের কিছুটা বাইরে যেতে পেরেছে। তবে সৌরজগতের শেষ কোথায় তার সংজ্ঞা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। গত ৪৫ বছরে সেখানে যেতে আমাদের সময় লেগেছে এক আলোক-দিবস। কিন্তু সবচেয়ে কাছের সূর্য হচ্ছে চার আলোক-বর্ষ দূরে।”

“তাহলে ভেবে দেখুন যে সেখানে যেতে আমাদের লাখ লাখ বছর লাগবে। এটা আমাদের মিল্কি ওয়ের ভেতরেই। কিন্তু আপনি যদি অন্য কোনো সৌরজগতে যেতে চান সেটি তো কোটি কোটি আলোক-বর্ষ দূরে। আমরা কি এতো বছর বেঁচে থাকবো?” ড. ঘোষের প্রশ্ন।

তিনি বলেন, “সৌরজগতের বাইরের কোনো গ্রহে যেতে হয়তো দু’কোটি বছর লাগবে। এতো লম্বা সময় তো মানবজাতি নাও বাঁচতে পারে।”

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বিশ্ব

আফগানিস্তানে ছেলে ও মেয়েদের আলাদা শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করছে তালেবান

আফগানিস্তানে তালেবান বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থীরা আলাদাভাবে শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করা হবে এবং ইসলামসম্মত পোশাকের নিয়মকানুনও চালু করা হবে।

উচ্চশিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল বাকি হাক্কানি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে মেয়েদের লেখাপড়া করতে দেয়া হবে, তবে পুরুষের পাশাপাশি নয়।

তিনি ঘোষণা করেন, কী কী বিষয় পড়ানো হবে তা-ও পুনর্বিবেচনা করা হবে।

এর আগে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তালেবান যখন ক্ষমতায় ছিল তখন স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

আফগানিস্তানে গত মাসে ক্ষমতায় ফিরে আসার পর তালেবান বলছিল, তারা নারীদের শিক্ষা বা চাকরিবাকরি করায় বাধা দেবে না। কিন্তু পরবর্তীকালে তারা জনস্বাস্থ্য ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে কর্মরত মহিলাদের – নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত না হওয়া পর্যন্ত – কাজে না আসার আদেশ দেয়।

এক দিন আগে কাবুলের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে তালেবান পতাকা ওড়ানোর পর শিক্ষা সংক্রান্ত নীতি ঘোষণা করা হলো।

তালেবানের দখলের আগে আফগান বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সহশিক্ষা চালু ছিল। নারী ও পুরুষ শিক্ষার্থীরা পাশাপাশি বসতেন এবং ছাত্রীদের কোন পোশাক সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলতে হতো না।

এর অবসান ঘটানোর কথা ঘোষণা করে মি. হাক্কানি বলেন, সহশিক্ষা বন্ধ করায় তারা কোন সমস্যা দেখেন না। তিনি বলেন, “এখানকার মানুষ মুসলিম এবং তারা তা মেনে নেবে।”

তালেবান এর আগে কঠোর শরিয়া আইন জারি করেছিল।
ছবির ক্যাপশান,তালেবান এর আগে আফগানিস্তানে কঠোর শরিয়া আইন জারি করেছিল

মি হাক্কানি বলেন, যেখানে মহিলা শিক্ষক নেই সেখানে বিকল্প খোঁজা হবে। “পুরুষ শিক্ষকরা একটি পর্দার পেছন থেকে শিক্ষাদান করতে পারেন, অথবা কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারেন” – বলেন তিনি।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলগুলোতে ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থীদের পৃথক করা হবে। – অবশ্য আফগানিস্তানে অনেক জায়গাতেই এটা আগে থেকেই চালু আছে।

মি. হাক্কানি জানান, নারীদের হিজাব পরতে হবে, তবে বাড়তি কোন মুখ ঢাকার কাপড় বাধ্যতামূলক করা হবে কিনা তা তিনি বলেননি।

নতুন পদে আসীন এই মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব বিষয় পড়ানো হয় – তা পুনর্বিবেচনা করে দেখা হবে এবং তালেবান একটি যৌক্তিক এবং ইসলামিক পাঠ্যসূচি চালু করতে চায় – যা ইসলামী, জাতীয় এবং ঐতিহাসিক মূল্যবোধের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হবে, পাশাপাশি তা যেন অন্য দেশের সাথে প্রতিযোগিতা করতে পারে।

এর আগে গতকাল কাবুলে তালেবান-সমর্থক নারীদের একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় শহিদ রব্বানি এডুকেশিন ইউনিভার্সিটিতে । এতে কালো নিকাব পরা শত শত মহিলা তালেবান পতাকা হাতে নতুন প্রশাসনের প্রশংসাসূচক বক্তৃতা শোনেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

ভুট্টা আমদানিতে শীর্ষস্থান ধরে রাখবে চীন

অনুকূল উৎপাদন মৌসুম এবং সরকারের নানামুখী নীতির কারণে চলতি বছর চীনে রেকর্ড পরিমাণ ভুট্টা উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে উৎপাদন বৃদ্ধি সত্ত্বেও দেশটি দ্বিতীয় বছরের মতো বিশ্বের শীর্ষ ভুট্টা আমদানিকারক দেশের তকমা ধরে রাখবে। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ওয়ার্ল্ড এগ্রিকালচারাল প্রডাকশন শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

চীনে জমি থেকে চলতি মৌসুমের ভুট্টা সংগ্রহ চলছে। দেশটির বার্ষিক উৎপাদন ২৭ কোটি ৩০ লাখ টনে পৌঁছবে বলে মনে করছে ইউএসডিএ। গত মৌসুমের তুলনায় উৎপাদন বাড়বে ৫ শতাংশ। এছাড়া দেশটি চলতি মৌসুমে ২ কোটি ৬০ লাখ টন ভুট্টা আমদানি করবে। বিদায়ী মৌসুমেও সমপরিমাণ ভুট্টা আমদানি করেছিল চীন। ওয়ার্ল্ড এগ্রিকালচারাল ডিমান্ড অ্যান্ড সাপ্লাই প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় ইউএসডিএ।

চীনের স্থানীয় বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দামের তারতম্যের কারণে দেশটির ভুট্টা আমদানি অপরিবর্তিত রয়েছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে গবাদি পশু খাদ্যের ঘাটতি দেখা দেয়ায় এ তারতম্য দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। চীনে তিন-চতুর্থাংশ ভুট্টাই গবাদি পশু খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়।

আগে বৈশ্বিক ভুট্টা আমদানিতে প্রথম ছিল মেক্সিকো। ২০২০-২১ বিপণন মৌসুমে দেশটিকে পেছনে ফেলে শীর্ষে উঠে আসে চীন। এ বছরও সর্বোচ্চ আমদানিকারকের মুকুট ধরে রাখবে বৃহৎ অর্থনীতির দেশটি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

চাঁদে জমি কিনলেন বাংলাদেশি ২ তরুণ

ছেলেবেলায় আমাদের কল্পরাজ্যে চাঁদের বুড়ির অবয়ব তৈরি করে দেওয়া হয়। শিশুমন ধরেই নেয়- চাঁদের মালিক হলো সেই বুড়ি। সেখানে বসে চরকায় সুতা কাটা তার একমাত্র কাজ। এবার কল্পনার সেই চাঁদের দেশেই জমি কিনে বসলেন বাংলাদেশি দুই তরুণ।

সম্প্রতি চাঁদের জমি বিক্রি করা মার্কিন নাগরিক ডেনিস হোপের ‘লুনার অ্যাম্বাসি’ থেকে এক একর জমি কিনেছেন দুই বন্ধু এসএম শাহিন আলম ও শেখ শাকিল হোসেন। মাত্র ৫৫ ডলার দিয়ে জমি কেনার দাবি তাদের। বুধবার সেই জমির দলিলও পেয়েছেন তারা। চাঁদের ম্যাপেও উল্লেখ রয়েছে কোথায় তাদের জমি।

যে প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদে এর আগে জমি কিনেছেন সাবেক তিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ, জিমি কার্টার ও রোলান্ড রিগ্যান, সেই প্রতিষ্ঠানের মালিক ডেনিস হোপের কাছ থেকেই জমি কিনেছেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পাতাখালি গ্রামের গ্রামের এসএম শাহিন আলম ও সদর উপজেলার জোড়দিয়া গ্রামের শেখ শাকিল হোসেন।

এ বিষয়ে এসএম শাহিন আলম বলেন, ‘আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে প্রতিবেশী দেশ ভারতের অনেক তারকা চাঁদে জমি কিনেছেন। চাঁদে আমাদের জমি থাকবে, এমন শখ থেকেই খোঁজখবর নিতে শুরু করি এবং সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করি।’ শেখ শাকিল হোসেন জানান, ‘কল্পরাজ্যের চাঁদের দেশে এক টুকরো জমি কিনতে পেরে আমরা দারুণ উচ্ছ্বসিত। খুব সম্ভবত, আমরাই প্রথম বাংলাদেশি যারা চাঁদে জমি কিনেছি।’

চাঁদে জমি কেনার জন্য মার্কিন নাগরিক ডেনিস হোপের ‘লুনার অ্যাম্বাসি’-ই হলো সবচেয়ে জনপ্রিয় কোম্পানি। যার বাংলা অর্থ ‘চন্দ্র দূতাবাস’। তাদের তথ্যানুযায়ী, চাঁদে জমির দাম একর প্রতি ২৪.৯৯ ডলার থেকে সর্বোচ্চ ৪৯৯ মার্কিন ডলার৷ বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ২১২৫ টাকা থেকে ৪২৪৩৭ টাকা।

জানা গেছে, জমি কেনার পর ক্রেতাকে একটি বিক্রয় চুক্তি, কেনা জমির একটি স্যাটালাইট ছবি এবং জমিটির ভৌগলিক অবস্থান ও মৌজা-পরচার মতো আইনি নথিও পাঠিয়ে থাকে সংস্থাটি৷ এছাড়া, কেউ যদি আরো একটু ব্যয় করতে রাজি থাকে, তাহলে তাদের জন্য চাঁদের সম্পূর্ণ মানচিত্র এবং অন্যান্য তথ্যও সরবরাহ করা হয়।

এসএম শাহিন আলম সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ ও শেখ শাকিল হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

রাজশাহীতে আখ চাষের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যত

রাজশাহীর দুর্গাপুরে বিগত পাঁচ বছর থেকে আখ চাষ করে ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছেন অনেক চাষি। এই উপজেলায় এক সময় আখ চাষের কোন ছোঁয়া ছিলো না। গত পাঁচ বছর থেকে চিবিয়ে খাওয়া আখ চাষ করতে দেখা গেছে চাষিদের। আখ চিনি ও গুড় তৈরির জন্য প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আমাদের দেশে মেশিনের সাহয্যে রস করে এবং চিবিয়ে খাওয়ার জন্য প্রচুর পরিমানে আখ ব্যবহার হয়ে থাকে।

দেশের প্রায় শতভাগ মানুষের কাছেই চিবিয়ে খাওয়ার অন্যতম প্রিয় হচ্ছে আখ। আখের রসে শর্করা, আমিষ, চর্বি, ক্যালশিয়াম, ফসফরাস, লৌহ, এবং রিবোফ্লাবিন ও ক্যাটরিন বিদ্যামান। এটি অধিক পুষ্টিকর ও উচ্চ ক্যালরি সম্পন্ন হওয়ায় ক্লান্তি বিমোচন এবং তাথক্ষনিক শক্তি যোগাতে আখের রসের কোন বিকল্প নেই।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে জানা গেছে, অন্যান্য ফসলের তুলনায় আখের চাষ অধিক পরিমাণে লাভজনক হওয়ায় গত পাঁচ বছর থেকে দুর্গাপুর উপজেলা জুড়ে দিন দিন আখের চাষ বেড়েই চলেছে। বর্তমানে দুর্গাপুর উপজেলার বাজারগুলোতে দেখা গেছে ব্যাপক হারে আখ বিক্রি। এই আখ হস্ত ও ইঞ্জিন চালিত মাড়াইকলে আখের রস ব্যাপক বিক্রি হচ্ছে। এর পাশাপাশি চিবিয়ে খাওয়া থেকেও পিছিয়ে নেই আখ প্রিয় মানুষ।

উপজেলা বিভিন্ন বাজারে প্রতিটি আখ বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৫০ টাকায়। যা গত বারের চেয়ে পিচ প্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা করে বেশি। এতে স্থানীয় আখ চাষিরা অনেক লাভবানও হচ্ছে এবং আখ চাষে বাড়ছে আগ্রহ। দুর্গাপুর উপজেলার চৌবাড়িয়া গ্রামের আখ চাষি আবদুর রহিমের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক বিঘা জমিতে সার, বীজতলা তৈরি, রোপন, পরিচর্যা থেকে শুরু করে আখ কাটা পর্যন্ত খরচ হয় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা।

আর একবিঘা জমি থেকে উৎপাদিত আখ বিক্রি করে পাওয়া যায় প্রায় ১লাখ ৩০ হাজার টাকা। তিনি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অফিসের পরামর্শ নিয়ে তার নিজস্ব জমি ও লিজকৃত প্রায় ৪ বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছেন। তিনি বলেন, সরকারি সহায়তা পেলে আরো বেশি জমিতে আখ চাষ করতে পারবেন।

দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মসিউর রহমান বলেন, চিনি ও গুড় উৎপাদনে ব্যবহৃত আখ থেকে চিবিয়ে খাওয়া আখ নরম, রসালো ও অধিক চিনিযুক্ত। আমাদের দেশে ১৬টি জাতের চিবিয়ে খাওয়া আখের জাত রয়েছে। এর মধ্যে গ্যান্ডারি, বাবুলাল, ঈশ্বরদী ১৮, আচা ফাম, সিও-২০৮,অসৃত, কাজলা, মিশ্রিমালা, ও সিও-৫২৭ জাতগুলো অন্যতম। তবে এই উপজেলায় গ্যান্ডারি, বাবুলাল, ঈশ্বরদী ১৮,জাতের আখ চাষ করতে দেখা গেছে।

তিনি আরো বলেন, আখ চাষ লাভজন ফসল হওয়ায় চাষিরা দিন দিন আখ চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছে । তবে আখ চাষের পাশাপাশি চাষিরা সাথী ফসল হিসেবে মুগ, মশুর বা সবজি চাষ করলে আরো বেশি লাভবান হবেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com